অর্থ ও বাণিজ্য

  • একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম সিনহা।

    কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ডিএসই জানিয়েছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাসনিম সিনহাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    কোম্পানি কর্তৃপক্ষের আশা, তাসনিম সিনহার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবসার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, গুণগত মানের মানোন্নয়ন আর দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। শেয়ারবাজারে আজ একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ৮৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে।

    গত বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১১ টাকা ৪৮ পয়সা।

    বর্তমানে শেয়ারবাজারে একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ২১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৭০০। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে, ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী আর শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

    অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

    অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে ৬টিতে

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে ৬টিতে

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গতকাল ছয়টিতে নেমে এসেছে। তবে গত ১০ দিনের গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১১টি জাহাজ এ জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কমে আসার মধ্যেই জাহাজ চলাচলে এ পতন দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, আজ গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল খালি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার। অন্যদিকে, দুটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এর একটি ছিল এলপিজি বহনকারী ছোট ট্যাংকার এবং অন্যটি পরিশোধনের পর থাকা অবশিষ্ট ভারি জ্বালানি তেল (রেসিডুয়াল ফুয়েল) বহন করছিল।

    এদিকে সোমবার লোহিত সাগরের বাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ২৪টি জাহাজের তুলনায় এই সংখ্যা মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে কেপলারের তথ্যে দেখা গেছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শান্তিচুক্তির বিষয়ে ইরানের দেয়া শর্তের জবাবে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    সম্প্রতি আবারো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেলে তেহরান। এর পর ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। ইরানের দাবিগুলো জুনে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির শর্তের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ওই চুক্তি পরে ভেঙে যায়।

    ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। কখনো তিনি সংঘাত আরো বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন, শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

  • বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালার খসড়া করছে সরকার

    বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালার খসড়া করছে সরকার

    দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ করতে বেসরকারি খাতে আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’ নামে প্রস্তাবিত নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

    তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জরুরি বা সংকটকালীন সময়ে শুধু সরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকেও কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

    তবে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ।

    বিভাগটি জানিয়েছে, নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। তাদের মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে।

  • সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দফতরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা পরিপত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বাস্তবায়ন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাফতরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দফতরে পর্যায়ক্রমে সৌর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কমিশন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

  • মিল্কভিটা দুধের দাম কেন বাড়ালো

    মিল্কভিটা দুধের দাম কেন বাড়ালো

    মিল্কভিটা দুধের দাম লিটার প্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর করা হয়। এতে করে ক্রেতাদের মনে ক্ষোভও আছে। তবে মিল্কভিটা দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের মতে, ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম সমন্বয় করার প্রয়োজন হয়েছে। স্থানীয় দোকানে নতুন দামেই বিক্রি হচ্ছে মিল্কভিটার দুধ।

    বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াজাত করার খরচ দুটিই বেড়েছে। খামারি পর্যায়ে দুধ সংগ্রহের খরচ ১ আগস্ট থেকে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে মিল্কভিটার দুধের দাম বৃদ্ধি করা হলেও বাজারে অন্য কোনও দুধের দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

    দুধের দাম বৃদ্ধি করার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্যাকেজিং সামগ্রী, গোখাদ্যসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। খামারিরাও দীর্ঘদিন ধরে দাম বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়ে আসছিল। সব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল।

    তিনি বলেন, ‘‘প্রতি লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা বেড়েছে। আমরা সেই খরচ হিসাব করে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক কিংবা অন্তত ব্যালেন্স রাখার স্বার্থে দুধের দাম বাড়িয়েছি।’’

    তার মতে, কারখানার বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজি ব্যবহারে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাছাড়া খামারিদের স্বার্থরক্ষার বিষয় আছে। কারণ বেসরকারি কোম্পানি বেশি দাম দিয়ে দুধ কিনে নিচ্ছিল, তাতে করে মিল্কভিটার সংগ্রহ কমে যাচ্ছিলো। সেটা ধরে রাখতে খামারি পর্যায়ে দুধের দাম লিটারে তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে।

  • সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি সংক্রান্ত খাতভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় ২৭ সদস্যের ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

    রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বাণিজ্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সদস্য করা হয়েছে।

    এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রতিনিধিদের কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।

    উদ্যোক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেলকে সেক্টর স্পেশালিস্ট হিসেবে সদস্য করা হয়েছে। আরো একজন সেক্টর স্পেশালিস্ট সদস্য হিসেবে এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের রোডম্যাপ অনুমোদন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। একইসাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।

    বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির কার্যক্রমও পর্যালোচনা করবে এ কমিটি। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির প্রয়োজন অনুসারে সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

  • ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বাসাবাড়িতে জ্বলে না চুলা

    ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বাসাবাড়িতে জ্বলে না চুলা

    রাজধানীর মেরুল বাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশন। গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইন দাঁড়িয়ে গাড়ি। লাইন হাতিরঝিলের ভেতরে প্রায় কিলোমিটার ছড়িয়ে গেছে। রাস্তার একপাশে গাড়ির লাইনে তৈরি করেছে দীর্ঘ জ্যাম। কিন্তু তখনও গ্যাস নেই।

    রবিবার রাতে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস আসার অপেক্ষাতেই গাড়ির এই দীর্ঘ সারি। সারাদিন গ্যাস ছিল না। রাতে আসবে দেখে গাড়ির এই সিরিয়াল।

    কথা হয় গ্যাস বিক্রয়কর্মী আসাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখনো গ্যাস আসেনি। গ্যাস আসলে তারপর দেওয়া শুরু করবো। কখন আসবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, শুনেছি ১২টার দিকে আসবে।

    শুক্রবার বিকাল ও শনিবার গ্যাস সরবরাহ ঠিক হলেও রবিবার আগের মতোই যথারিতি গ্যাস নেই। গ্যাস নেওয়ার জন্য সেই দীর্ঘ সারি।

    রবিবার রাতে সিএনজিচালক আব্দুল মালেক বলেন, শনিবার ভালো গ্যাস পেলেও এখন আবারও সংকট শুরু হয়েছে। রবিবার সারাদিনই এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এখন রাত ১০টা পার হয়ে গেছে তারপরও গ্যাসের কোনও খবর নেই। কখন গ্যাস পাবো বলতেও পারি না।

    সেখানে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, রবিবার সকালে ডেমরাতে ৩০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এখন গ্যাসের লালবাতি। এখানে গ্যাস নেওয়ার জন্য এসেছি। দেখি কখন গ্যাস পাই। তিনি বলেন, শনিবার একটু গ্যাস পেয়েছিলাম। আমার সিলিন্ডারে গ্যাসের প্রেসার ভালো থাকলে ৬০০ টাকার ওপরে গ্যাস ঢোকে। কিন্তু এখন অবস্থা ভালো না। দেখি কত টাকার গ্যাস পাই। সেই অপেক্ষায় আছি।

    খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু জামান ফিলিং স্টেশন নয়, রাজধানীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই অবস্থা। মালিবাগের সিএনজি স্টেশনের গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইন রামপুরা বাজার পর্যন্ত চলে এসেছে। তেজগাঁওয়ের আকিজের অবস্থাও একই রকম। খিলক্ষেত ও বিমানবন্দরের সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনের খবর পাওয়া যায়।

    আকিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মী তারেক জানান, রাত ১২টার পর গ্যাস আসে। তবে প্রেসার ভালো ছিল না। আমরা যতদূর পেরেছি দিয়েছি। আজ সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ নেই।

    এদিকে গ্যাসের সরবরাহের এমন অবস্থায় সিএনজিচালিত প্রাইভেটকার ও অটো চালকদের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।

    অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে গ্যাসের আবারও সংকট শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার গ্যাসের সরবরাহ থাকলেও রবিবার সকাল থেকে গ্যাস নেই। গ্যাসের চুলা জ্বললেও তা দিয়ে রান্না সম্ভব না।

    বনশ্রী এলাকার গৃহিনী কানিজ ফাতেমা বলেন, এই দুই দিন গ্যাসের অবস্থা টেস্ট করা হলো। এখন আবারও আগের মতো অবস্থা। চুলায় যে গ্যাস আছে তা দিয়ে রান্না সম্ভব না। তিনি বলেন, ইনডাকশন চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।

    বাসা বাড়ির গ্যাসের সংকটে রাজধানীর হাজার হাজার পরিবার এখন বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন।

    মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে সংকট তৈরি হয়েছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিকের গ্রাহক, সিএনজিচালক ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • পোশাকের বাইরে নিউজিল্যান্ডে ওষুধ ও আইটি পণ্যের বাজার চায় বাংলাদেশ

    পোশাকের বাইরে নিউজিল্যান্ডে ওষুধ ও আইটি পণ্যের বাজার চায় বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি এখনও মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। এই নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, পাট, চামড়া ও টেকসই বস্ত্রসহ অ-পোশাক পণ্যের বাজার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবুজ জ্বালানি ও কোল্ড-চেইন খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

    এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি সংযোগ, ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠক এবং সরকারি পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বিজনেস কাউন্সিল গঠন এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    সোমবার (১১ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠকে এনজেডটিই-এর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

    বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের রফতানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ মূলত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য আমদানি করে।

    এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে অ-পোশাক পণ্যের রফতানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরিতে এনজেডটিই-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    ওষুধ ও ভ্যাকসিন রফতানিতে আগ্রহ

    বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান ও সনদ অনুসরণ করে উৎপাদন করছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য ও ওষুধের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ বাড়ানোর আগ্রহ জানানো হয়।

    আইটি খাতেও বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেও সম্ভাবনাময় রফতানি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, দেশে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক এবং ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

    শুধু রফতানি নয়, বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকা সুযোগ-সুবিধাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু স্থানীয় বাজার নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ নিতে পারে।

    আলোচনাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এনজেডটিই-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রফতানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন।

    তৃতীয়ত, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এম এফ এ টি) সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা।

    এ ছাড়া দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একটি দ্বিপাক্ষিক বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য মেলা আয়োজন এবং একে অপরের দেশে অনুষ্ঠিত মেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বড় বাজারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি, কৃষি ও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দক্ষতাকে যুক্ত করে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

  • বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার টিউশন ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউশন ফি এবং অনলাইনে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থী অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ভর্তি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চাহিদা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধের জন্য কার্ডে লেনদেন করা অর্থ প্রচলিত ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। অর্থাৎ বিদেশে শিক্ষার জন্য অনুমোদিত এই ব্যয় বিদ্যমান ভ্রমণসুবিধার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে।

    তবে কার্ডটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে অন্য কোনো কাজে কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

    এছাড়া শিক্ষাব্যয় পরিশোধের সব লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত পারপাস কোড ব্যবহার করে এসব লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন ফি পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কাজে আসবে।