অর্থ ও বাণিজ্য

  • আমদানি নীতিতে বড় ছাড়, বাড়ছে বাণিজ্য অর্থায়নের সুযোগও

    আমদানি নীতিতে বড় ছাড়, বাড়ছে বাণিজ্য অর্থায়নের সুযোগও

    আমদানি-সংক্রান্ত আগের বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত ও হালনাগাদ করে জারি করা নতুন সংকলিত প্রজ্ঞাপনে এলসি ছাড়াই আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি বাকিতে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল বাণিজ্য নথি এবং ফ্রি ট্রেড জোনে (এফটিজেড) আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সুদহার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ফরওয়ার্ড রেট এগ্রিমেন্টের (এফআরএ) সুযোগও দেয়া হয়েছে।

    গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্টের আমদানি-সংক্রান্ত সংকলিত প্রজ্ঞাপন এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আগের সংকলিত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের গাইডলাইনস ভলিউম-২-এর রিপোর্টিং-সংক্রান্ত নির্দেশনা বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপনটি এক বছর কার্যকর থাকবে।

    নতুন নীতিমালার অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো এলসি-নির্ভরতার বাইরে আমদানি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো। নির্ধারিত শর্তে ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় ডকুমেন্টস এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্টস এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ) পদ্ধতিতে আমদানি করা যাবে। ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তির আওতায় এলসি ছাড়াও আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক আমদানিতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের ইউজেন্স বা বিলম্বিত পরিশোধের সুবিধাও দেয়া হয়েছে।

    শিল্প খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এসেছে কাঁচামাল আমদানিতে। নিজস্ব ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ইউজেন্স সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ক্যাশ কনভার্সন সাইকেল এর চেয়ে কম হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক সার আমদানিতেও ২৭০ দিনের ইউজেন্স সুবিধা রাখা হয়েছে। স্পেয়ার পার্টস, জাহাজ স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য জাহাজ, এপিআই ও ল্যাবরেটরি রিএজেন্টসহ কয়েকটি পণ্যে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও কিছু মেডিকেল সরঞ্জামে ১৮০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আমদানির সুযোগ রয়েছে।

    মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মূলধনি পণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ইউজেন্স সুবিধা দেয়া হয়েছে। ইপিজেড, প্রাইভেট ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কসহ সরকারি ঘোষিত বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানও এ সুবিধা পাবে। এতে আমদানির সময় এককালীন অর্থ পরিশোধের চাপ কমার পাশাপাশি শিল্পের কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনাও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    আমদানির আগাম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যাংক গ্যারান্টি থাকলে নির্ধারিত শর্তে আগাম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আগাম পরিশোধে রিপেমেন্ট গ্যারান্টির প্রয়োজন হবে না। জরুরি ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার বেশি আগাম অর্থ পরিশোধের অনুমোদনের আবেদনও করা যাবে।

    সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বায়ার্স ক্রেডিট, সাপ্লায়ার্স ফাইন্যান্সিং ও পে-এবলস ফাইন্যান্সিংয়ের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি অর্থায়নের বিকল্প বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকের পাশাপাশি বিদেশী সরবরাহকারীরও দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হবে।

    এদিকে এফটিজেডে আমদানি বাণিজ্যের জন্য পৃথক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এফটিজেডের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনুমোদিত ট্রেডার ও লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারীরাও আমদানি করতে পারবে। কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য নির্দিষ্ট শর্তে ৪৮-৬০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তরেও নতুন নীতিমালায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে ইনভয়েস, পরিবহন নথি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিল ইলেকট্রনিকভাবে গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরে ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্টের পাইলট কার্যক্রম চালুর সুযোগও দেয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিং, বাণিজ্যিক ইনভয়েস ও বিল অব এক্সচেঞ্জ এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

  • ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা স্থলবন্দরে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য কমেছে। পণ্যবাহী ট্রাক আসা–যাওয়া কমেছে। কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। আমদানি–রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ।

    সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর। বন্দরের ওপারেই ভারতের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর।

    গত রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক একে একে বন্দরে ঢুকছে। পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    ভোমরা বন্দর সড়কের পাশে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের কার্যালয়ের সামনে বসে ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। কাজের অপেক্ষায় তাঁরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অপেক্ষায় থাকা আজিজুল ইসলাম বলেন ‘এখন কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর মজুরিও কম। সংসার চলে না। অনেক শ্রমিক কাজের খোঁজে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। আগে যেভাবে আমদানি-রপ্তানি হতো, এখন আর তা হয় না।’

    শুধু হ্যান্ডলিং শ্রমিক নন, বন্দরের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদেরও একই সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, কিছুদিন আগেও বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এতে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েন।

    আবু মুসার মতে, ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

    বাণিজ্য কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্য বেড়েছে

    ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এ বন্দরের জন্য ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। এ ধারা চলতে থাকলে বছর শেষ লক্ষ্যের ৫০ শতাংশও পূরণ হবে না।

    ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টনে। এক বছরে কমেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন।

    রপ্তানিতে পতন আরও বড় হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভোমরা দিয়ে ভারতে ১৯ হাজার ৮৯টি ট্রাকে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

    এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৮ লাখ ৬ হাজার টন পণ্য। আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন। রপ্তানি আয় কমেছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা।

    কারণ কী

    এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শুল্ক কর্মকর্তা, আমদানি–রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত অবকাঠামোসংক্রান্ত অসুবিধার কারণেই ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি–রপ্তানি কমেছে।

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কিছু কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বন্দরে ভারী ক্রেন, পর্যাপ্ত ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদাম সুবিধার ঘাটতিও বাণিজ্যের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নাসিম ফারুক খান আরও বলেন, অবকাঠামোগত দিক থেকে ভোমরা বন্দরের তুলনায় ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দরের অবস্থা অনেক দুর্বল। কিন্তু দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। এ জন্য অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

    কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমানের মতে, ব্যবসায়ীদের সেবার মান উন্নয়ন, হয়রানি কমানো এবং দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে কাস্টমস কাজ করছে।

    সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথাও জানান মুশফিকুর রহমান। সেখানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • দিন গোনা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    দিন গোনা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মেরামত না হওয়া পর্যন্ত আপাতত দিন গোনা ও লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এফএসআরইউর ত্রুটি সারানোর জন্য কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া, আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু (করার) নাই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যেন কম লোডশেডিং হয়, আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা। এছাড়া আপনিই বলেন আমার হাতে আর কী থাকতে পারে।’

    এসময় তিনি আরও জানান, ২০২৯ সাল নাগাদ বাংলাদেশে তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।

  • ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪২ দশমিক দুই শতাংশ।

    গতকাল ১২ আগস্ট এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির

    ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের সাথে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ আশ্বাস দেয়া হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে এডিবির সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

    এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় এডিবির সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশে আরো শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো: হাবিবুর রহমান ও ড. মো: কবির আহমেদ ও ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমদানি বিধিবিধান একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

    আমদানি বিধিবিধান একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

    আমদানি লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরো সহজ ও সুসংহত করতে গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জারি করা এ সার্কুলারের মাধ্যমে আমদানি-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

    নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৩ হালনাগাদ করা হয়েছে। গত এক বছরে জারি হওয়া পরবর্তী নির্দেশনাগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকার, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পৃথক পৃথক সার্কুলার অনুসরণের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। নতুন সার্কুলার কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা বহাল থাকবে।

    নতুন কাঠামোয় আমদানি বাণিজ্য ও অনলাইন রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ এবং বিল অব এন্ট্রি দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সংক্রান্ত নিয়মও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি-সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি ব্যবহারের বিধানও নতুন কাঠামোয় রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, স্বর্ণ, রুপা, গহনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে। এর নির্দেশনা আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এ সময়ে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা নতুন সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে।

    ব্যবসায়ী মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ডিজিটাল নথি প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি আমদানি বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর সুফল পেতে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

  • সুগন্ধি চালের রফতানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

    সুগন্ধি চালের রফতানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

    দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রফতানিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আগে অনুমোদন দেয়া রফতানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে রফতানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রফতানি করেছে, সে তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারিকৃত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

    মন্ত্রণালয়ের স্মারকে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগে দেয়া রফতানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রফতানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

    মূলত যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রফতানি করেছে, মূলত তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগে, ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রফতানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি সহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    গত ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রফতানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রফতানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রফতানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রফতানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে মন্ত্রণালয়।

    ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছেড়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের।

    সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একইসাথে রফতানির অনুমতি পেয়েও যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রফতানি পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করবে সরকার। এজন্যই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত রফতানির তথ্য চাওয়া হয়েছে।

    এসব তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদিত রফতানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর মাধ্যমে একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে প্রকৃত সক্ষম রফতানিকারকদের সুযোগ অব্যাহত রাখার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে সরকার।

  • আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    চলতি আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। যার মোট পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ তিন ধরনের উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে।

    মিজানুর রহমান আরো জানান, আগস্ট মাসে মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে চার কার্গো দেশে পৌঁছেছে। বাকিগুলো এ মাসেই চলে আসবে। আমদানি করা নয় কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ রয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

    পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এক, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় পাঁচ এবং স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের দেশে পৌঁছাবে।

    এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

    এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

    উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সকাল সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত সময়ে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সিনিয়র সভাপতি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

  • টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, ছাড়াল ৮৫ হাজার কোটি

    টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, ছাড়াল ৮৫ হাজার কোটি

    দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন মাসে নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এসব ব্যাংককে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ধার ছাড়িয়েছে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর চরম তারল্য সংকট সামাল দিতে এই অর্থ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও বড় অঙ্কের এই ধার পরিশোধ করতে পারেনি।

    জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডজনখানেকের বেশি ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছিল। এসব লুটপাটে এস আলমসহ কয়েকটি গ্রুপ জড়িত ছিল। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি গ্রাহকের আমানতের অর্থও ফেরত দিতে পারছে না।

    এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে টাকা ছাপিয়ে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকগুলোর সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠলে তখনও তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও বিএনপি সরকারের সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আবারও তারল্য সহায়তা দিতে হয়।

    সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত ১৩টি ব্যাংককে টাকা ছাপিয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে দেওয়া হয় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, অন্তর্বর্তী সরকারের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সময়ে দেওয়া হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সময়ে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকগুলো লুটপাটের কারণে সংকটে পড়েছে—এটি সত্য। তবে যেভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। এভাবে টাকা ছাপিয়ে দিয়ে কতদিন ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ব্যাংক একীভূত করা হলেও এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি খুবই কম।

    সংকটের নেপথ্যে

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের ক্ষত লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের শেষদিকে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে। তখন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন। এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর এবং সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতেও ব্যর্থ হয়। এরপরও ব্যাংকগুলোকে নানা অবৈধ সুবিধা দিয়ে টিকিয়ে রাখেন তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের একটি চলতি হিসাব থাকে। এই হিসাব থেকে ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর ও সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতে হয়। আবার আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া পুনঃঅর্থায়নসহ যাবতীয় লেনদেনও হয় এ হিসাব থেকে।

    সাধারণভাবে সিআরআর ও এসএলআরে ঘাটতি হলেও চলতি হিসাবে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। তবে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোতে ঋণযোগ্য তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ বেআইনিভাবে লেনদেনের সুযোগ দেন। ২০২২ সালের শেষদিকে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের চলতি হিসাব ঋণাত্মক করে লেনদেনের এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো বাধা ছাড়াই লেনদেন চালিয়ে যায় ব্যাংকগুলো।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বেআইনি এসব সুবিধা বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে আগের মতো টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তে বেশিদিন অটল থাকতে পারেননি তিনি। কারণ, চলতি হিসাবে ঘাটতি এবং টাকা ছাপিয়ে ধার দেওয়া বন্ধ করায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খেতে থাকে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের শাখায় শাখায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হলে আবারও নতুন করে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কোন ব্যাংকের কত ধার

    টাকা ছাপিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ধার দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে। ব্যাংকটিকে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এরপর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এছাড়া এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংককে ৫ হাজার ৪২০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংককে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে।

    এর বাইরে এবি ব্যাংককে ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে ৩ হাজার ৩ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে ৬২৪ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা এবং পদ্মা ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া আর ঠিক হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একপ্রকার বাধ্য হয়ে এসব সহায়তা দিচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা অর্থ ফেরত না পেলে ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। এতে সংকট আরো গভীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’