অর্থ ও বাণিজ্য

  • তিন বন্ধ পাটকল ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান, চুক্তি সই

    তিন বন্ধ পাটকল ইজারা নিয়ে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান, চুক্তি সই

    বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ–সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

    চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানির সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিল ৩টি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন করে গ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাটসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশজুড়ে লোডশেডিং; হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইল পল্লী বিদ্যুৎ

    দেশজুড়ে লোডশেডিং; হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইল পল্লী বিদ্যুৎ

    জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।

    এসব সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

    সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি বুধবার পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপির কাছে পাঠানো হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনরোষ বাড়ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিস হামলার শিকার হচ্ছে।

    বাপবিএ জানায়, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

    এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন। ফলে উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

    এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আইজিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাপবিএ।

    চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশি কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    বাংলাদেশি কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দল। আজ বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন, ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক ও শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন উপস্থিত ছিলেন।

    থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্টি হওয়া কর্মী সংকট কাটাতে পঞ্চম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা মেয়াদ শেষের পর অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা এমন ব্যবস্থা চাই যেখানে নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করবেন, স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মীদের কল্যাণ, ন্যায্য মজুরি, আবাসন ও চিকিৎসা বীমার জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকবে।’

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। থাইল্যান্ডের উদ্বেগের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে দ্রুতই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, আর বাংলাদেশের রয়েছে জনশক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডার। থাইল্যান্ড সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিতে পারে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ জবের পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ জবের জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট স্থান। তবে এক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

    সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক প্রযুক্তির হৃৎপিণ্ড। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জাম—সবকিছুই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান বিশ্বে মাইক্রোচিপকে নতুন যুগের ‘জ্বালানি’ বা কৌশলগত সম্পদ বলা হয়, যার বৈশ্বিক বাজার শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সেমি কন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী শিল্প হলো এমন একটি প্রযুক্তি খাত, যেখানে সিলিকন বা অন্যান্য পদার্থ দিয়ে তৈরি মাইক্রোচিপ বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইনও প্রস্তুত করা হয়। এটি আধুনিক ইলেকট্রনিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত অগণিত ডিভাইসকে শক্তি জোগায়। এর বহুমুখিতা ও অভিযোজন ক্ষমতা বিভিন্ন শিল্প এবং প্রয়োগ ক্ষেত্রে একে অপরিহার্য করে তুলেছে। এআই, রোবোটিকস, ফাইভজি ও মহাকাশ গবেষণার মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তিগুলো এর ওপর পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। প্রতিটি দেশ এ শিল্পের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

    তাইওয়ান উন্নত চিপ ও চুক্তিতে উৎপাদন বা ফাউন্ড্রিতে বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকারী দেশ, যেখানে টিএসএমসির মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র চিপ ডিজাইন, এআই প্রসেসর ও উচ্চপ্রযুক্তির গবেষণায় বিশ্ববাজারে প্রধান ভূমিকা পালন করে। দক্ষিণ কোরিয়া মেমোরি চিপ উৎপাদনে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মাধ্যমে শীর্ষে রয়েছে। চীন পরিপক্ক প্রযুক্তির চিপ উৎপাদন ও প্যাকেজিং বাড়াচ্ছে, আর জাপান চিপ তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে এগিয়ে আছে।

    প্রতিবেশী দেশ ভারত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বর্তমানে একটি দ্রুতবর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যা মূলত চিপ ডিজাইন এবং উদীয়মান উৎপাদন (ফ্যাব্রিকেশন ও প্যাকেজিং) খাতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। ভারতে ২০২১ সালে চালু হওয়া ৯ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির হাত ধরে দেশে চিপ উৎপাদন ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। টাটা গ্রুপ ও তাইওয়ানের পিএসএমসির যৌথ উদ্যোগে গুজরাটের ঢোলেরায় ১ হাজার ৯০ কোটি ডলারের একটি ফ্যাব্রিকেশন প্লান্ট নির্মাণাধীন। এছাড়া মাইক্রন টেকনোলজি, কেইন্স সেমিকন ও সিজি পাওয়ারের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিক ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভারতের বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও নয়ডার মতো প্রযুক্তি শহরগুলোয় ইন্টেল ও কোয়ালকমের মতো বহুজাতিক কোম্পানির হাত ধরে ভারত বিশ্বমানের চিপ ডিজাইন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

    বাংলাদেশে মূলত ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন, ভেরিফিকেশন ও এমবেডেড সিস্টেম নিয়ে কাজ বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রধান কাঁচামাল যেমন সিলিকন ওয়েফার বা রাসায়নিক পদার্থ, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয় না বললেই চলে এবং এর জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। সিলিকন ও অন্যান্য মৌলিক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এ শিল্প বিকাশে দক্ষ ও শিল্প উপযোগী জনবলের অভাব, আধুনিক গবেষণাগার ও টেস্টিং অবকাঠামোর স্বল্পতা এবং চিপ তৈরির (ফ্যাব্রিকেশন) জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল মূলধন বা বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর হাজারো গ্র্যাজুয়েট বের হলেও তারা সরাসরি শিল্পমুখী বা ‘টেপ-আউট রেডি’ প্রকৌশলী নন। মাইক্রোইলেকট্রনিকস, এমবেডেড সিস্টেম ও ভিএলএসআই (ভিএলএসআই) ডিজাইন নিয়ে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সীমিত। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক ও বিশেষায়িত সার্টিফিকেশন ইনস্টিটিউটের অভাব রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ক্লিন-রুম ফ্যাসিলিটি ও অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং বা টেস্টিং ল্যাবের অভাব। হাই-টেক পার্কগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও বিশেষায়িত পরিবেশের ঘাটতি। কাঁচামাল আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি কাস্টমস জটিলতা ও সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা রয়েছে। তদুপরি বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতাও আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। ফ্যাব্রিকেশন প্লান্ট স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বর্তমান বাস্তবতায় বড় চ্যালেঞ্জ। তাইওয়ান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ নীতি সহায়তার ধারাবাহিকতার অভাব।

    অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে পরবর্তী বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চলতি বছর জুলাইয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬-এর আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‌সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকাশক্তি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এ চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার এরই মধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এ বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুযোগ আছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ শিল্পের বিকাশে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রফতানি আয়ের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রফতানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব আশাবাদ উদ্যোক্তা, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের ব্যাপক উৎসাহিত করে।

    চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এ যুগে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যাক্ত করা হয়েছে। সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে। তবে এ খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সমন্বিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

    সেমিনারে আগত আমেরিকার প্রাডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তুফা হোসেইন জানান, ‌বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে ২১টি কোম্পানিতে ১ হাজার ২০০ ইঞ্জিনিয়ার এ সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে ডিজাইনে কাজ করছেন, কিছু প্যাকেজিংয়ে ও কিছু এমবেডেড সিস্টেমে কাজ হচ্ছে। আমেরিকায় তিন হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী এ সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে কাজ করছেন। প্রতি বছর ‘সেমিকন্ডাক্টর কনজিউমার ইলেকট্রনিক শো’ হয় আমেরিকার লাস ভেগাসে এবং এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শোতে ১১৭ দেশ নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আগামী বছর জানুয়ারিতে আমেরিকার লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিতব্য এ শোতে বাংলাদেশ থেকে ১০ জন বিনিয়োগকারী ‘বাংলাদেশ ইনোভেক্স’ নামে যুক্ত হবে। বাংলাদেশ সরকার এ খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশ করাতে তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং এ খাতের গবেষণায় শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব রাখেন সরকারের কাছে।

    আশার কথা হলো সরকার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছেন এবারের বাজেটে। বিদেশী ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা ও বিশেষায়িত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ দেশের মানুষের মেধা, দক্ষ তারুণ্য ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই বাংলাদেশের এ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এখন নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা উদ্যোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস! 

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস! 

    রাজধানীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর গ্যাস সংকট। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় উন্মুক্ত থাকা দু-একটি স্টেশনে কিলোমিটারজুড়ে দেখা দিয়েছে গাড়ি ও সিএনজি অটোরিক্শার দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস। ফলে সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার চালক কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়ার আশায় চালকদের দৌড়াঝাঁপ ও চরম ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা যায়।

    সরেজমিনে জানা যায়, মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশন এবং মধ্য বাড্ডার সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের পাম্পগুলোর মধ্যে কেবল খিলক্ষেতের পাম্পটি চালু রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও এলাকার আকিজ সিএনজিসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

    তবে মালিবাগ, কারওয়ান বাজার এফডিসি গেট, পরিবাগ ও মগবাজারের পাম্পগুলোতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে হাজিপাড়া ও মগবাজার পাম্পে গ্যাস নেওয়ার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত গাড়ির লাইন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশের মূল সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। পরিবাগ পাম্পে তুলনামূলক কিছুটা কম ভিড় দেখা গেছে।

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস

    চালকরা অভিযোগ করেন, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে প্রেশার না থাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ১৫০০ সিসির প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং সিএনজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকছে না। এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও অনেক সিএনজিতে মাত্র ২০ টাকার গ্যাস ঢুকছে।

    সিএনজি চালক ইব্রাহিম বলেন, “অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। কোথায় গ্যাস দিচ্ছে তা জানতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌড়াদৌড়ি করছি। মেরুল বাড্ডায় গ্যাস নাই শুনে হাজিপাড়া পাম্পে আসছি, কিন্তু এখানে এক কিলোমিটারের দীর্ঘ লাইন। বাধ্য হয়ে এই লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি।”

    আনোয়ার নামের এক চালক জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় এফডিসি গেটের পাম্প থেকে মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৬০ টাকার গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চলবে? শুনছি সামনে নাকি আরও কঠিন পরিস্থিতি আসছে, পাম্পে গ্যাসই পাওয়া যাবে না। সরকারই বলে দিক আমাদের এখন কী করার আছে।”

    প্রাইভেটকার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ১০০ টাকার গ্যাস পেলাম। ১০০ টাকার গ্যাসে ১৫০০ সিসির গাড়ি কতক্ষণ চলবে?”

    অন্য এক চালক ইউনুস বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে চুক্তি বা দৈনিক জমার ভিত্তিতে যারা গাড়ি চালাই, তাদের না খেয়ে মরতে হবে। দেশে এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সবকিছুর হাহাকার চলছে।”

    লাইনে প্রেশার নেই, নিরুপায় পাম্প কর্মীরা

    পাম্পের কর্মীরা জানান, মূল লাইনেই তীব্র প্রেশার সংকট থাকায় তারা চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না।

    তেজগাঁওয়ের আকিজ পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, “জাতীয় লাইনে গ্যাস না থাকলে আমরা কীভাবে দেবো? হঠাৎ হঠাৎ সামান্য প্রেশার এলে আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের তো করার কিছু নেই, আমরা নিরুপায়।”

    জামান পাম্পের বিক্রয়কর্মী আরমান ইসলাম জানান, লাইনে গ্যাস এলেই কেবল তারা বিক্রি চালু রাখেন, নতুবা পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।

    দ্রুত এই সংকটের নিরসন না হলে চালকদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা থেকে ভুক্তভগীদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করে।

  • ১২ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    ১২ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের সঙ্গে ১২টি দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ ১২টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।

    তিনি বলেন, রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। একইসঙ্গে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগসহ ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের হালাল পণ্যের বাজারে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও এ বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ নীতিমালা, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও অর্থায়নের অভাবে বাংলাদেশ এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

    বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে মাননিয়ন্ত্রণ, সনদ প্রদান, রফতানি ও বিপণন– সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে দেশে হালাল সনদ প্রদানের বর্তমান ব্যবস্থার জটিলতার কথাও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন– দুটি প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ দেওয়ায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান বক্তারা।

    হালাল সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করতে একটি স্বাধীন হালাল সার্টিফিকেশন এজেন্সি গঠনের প্রস্তাবও দেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং রফতানি আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

  • ডিএসইতে আজ লেনদেন ১০৭৩ কোটি টাকা

    ডিএসইতে আজ লেনদেন ১০৭৩ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আজ সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্যে ৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৫টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।

    বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি ইস্যুর মধ্যে ১১৯টির দাম বেড়েছে, ২৩১টির কমেছে এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৩টি ইস্যুর মধ্যে ৬০টির দর বেড়েছে, ১১৮টির কমেছে এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি ইস্যুর মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, ৪৭টির কমেছে এবং দু’টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১১৮টি ইস্যুর মধ্যে ৩৪টির দর বেড়েছে, ৬৬টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আজ কোনো ইস্যু লেনদেন হয়নি।

    এদিকে মিউচুয়াল ফান্ডের ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে মাত্র একটির দর বেড়েছে, ৩২টির কমেছে এবং একটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডের দু’টি ইস্যুর দু’টিরই দর কমেছে।

  • দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ দর ঘোষণা করে বাজুস। একই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত দাম কার্যকর করা হয়।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এর আগে গত ৮ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ৫০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫০ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

    হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে তিনি আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর শুধু খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

    তিনি বলেন, “রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রথমে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান শর্ত। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকনির্ভর হলেও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। হালাল অর্থনীতি হতে পারে সেই নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু খাদ্য নয়, বরং ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্যেও হালাল মানের গুরুত্ব বাড়ছে। এই বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা।

    আলোচনায় উঠে আসে, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেম বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। দেশটি হালালকে শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেখেনি; বরং উৎপাদন থেকে শুরু করে গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, শক্তিশালী কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত, ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প এবং পোশাক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

    সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়—

    ১. আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি করা।

    ২. আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা।

    ৩. বিদ্যমান উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা।

    ৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা।

    ৫. অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করা।

    বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

    প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন (লাইভস্টক) বিভাগের উপপরিচালক আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এস এম আবু সাঈদ।

    বক্তারা বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পণ্যের মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা নিশ্চিত করতে পারলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রপ্তানির নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

    এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিকারক নয়, বরং বৈশ্বিক হালাল বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

  • ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

    ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

    ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ১০২ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ব্রাহ্মন্দী-৩৭ মৌজায় ১০২ শতাংশ জমি কেনা হবে। জমিটির মোট ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    ডিএসইর ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোম্পানির নামে এই জমি কেনা হবে। জমির মালিক জামান মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া ও অন্যদের কাছ থেকে এই জমি কেনা হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে এ জমি ব্যবহার করা হবে।

    ডিএসইর ঘোষণায় আরও জানানো হয়, জমি নিবন্ধনের ভ্যাট, করসহ অন্য সব খরচ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বহন করবে।

    চলতি বছর নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুরে সোয়া ১৯ শতাংশ জমি কিনেছে কোম্পানিটি। এই জমির মোট ক্রয়মূল্য ছিল পৌনে ৫৮ লাখ টাকা।

    ব্যবসা সম্প্রসারণের এই ঘোষণার জেরে আজ ডিএসইতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম বেড়েছে। আজ দিনের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৪ টাকা, সর্বনিম্ন দাম ১৫২ টাকা ৯০ পয়সা। কোম্পানিটি ২০২৫ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ ও ২০২৩ সালে ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে এ শ্রেণিভুক্ত। দেশের বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের বাজারের বড় হিস্যা আছে এই কোম্পানির। বাজারে এই কোম্পানির যেসব পণ্যের পরিচিতি আছে, সেগুলো হলো এনার্জি, নাটি, টিপ, লেক্সাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ও ব্যাটারি।

    গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা।

    বর্তমানে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া কোম্পানির ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে।