অর্থ ও বাণিজ্য

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অতীত থেকে পাওয়া। এ সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই বছর সময় লাগবে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানে সরকার কোনো সময় নষ্ট করছে না।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

    সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি এনার্জি মিক্স তৈরি করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারও আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

    একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দশম সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একীভূত হওয়া এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান। ব্যাংকটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, পরিচালক মো. খান সুবায়েল বিন রফিক, আসমা আখতার, কে এম জাকারিয়া, মোহাম্মদ আহসান হাবিব চৌধুরী ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাসেম, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং কোম্পানি সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. মনিরুল ইসলাম।

    সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং ব্যাংককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রস্তাবনাও পাস করা হয়।

  • চীনের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ: হোয়াইট হাউস

    চীনের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ: হোয়াইট হাউস

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে চীনকে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ। এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্য ছিল, তুলনামূলক কম হারে আমদানি শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য বিক্রি করা। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

    যেসব দেশ চীনকে সহায়তা করেছে, সেই তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ আছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীন কয়েক হাজার কোটি ডলারের মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, এর ফলে যেমন ‘মার্কিন কর্মসংস্থানে’ প্রভাব পড়েছে, তেমনি হাজার হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

    তবে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো নিয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ বা চুক্তি যেন অন্য দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন ওই মুখপাত্র।

    এদিকে বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত আছে। এর মধ্যে কয়েক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

    হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই প্রক্রিয়া ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ নামে পরিচিত। এর অর্থ হলো, পণ্য চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার পথে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাঠানো। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশগুলোকে ব্যবহার করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের দাবি, চীন তৃতীয় দেশকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেই সঙ্গে পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন করে প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করেছে। ফলে এসব পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকেছে। প্রতিবেদনে এ প্রক্রিয়াকে ‘কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

    সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লির মতে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    লি বিবিসিকে বলেন, চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ ধরে রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই যুক্তি দিতে পারে। ভবিষ্যতে বড় বাণিজ্য চুক্তি হলে সরাসরি চীনা রপ্তানির পাশাপাশি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    তবে চ্যাং বলেন, বাণিজ্যপ্রবাহের এই পরিবর্তনের কিছু অংশ বৈধও হতে পারে। উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া বা সরবরাহব্যবস্থার পুনর্গঠনের কারণে এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে। ফলে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যেসব দেশ গভীরভাবে যুক্ত, সেই দেশগুলো ঝুঁকি ও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের আলোচনার পর বেশির ভাগ শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ অব্যাহত আছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাকৃতির রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার জেরে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

    ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ১৫৭টি দেশের পণ্যে পাইকারি হারে শুল্ক আরোপ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সম্ভব, তেমনি অর্থনীতিও শক্তিশালী করা সম্ভব। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিলেও বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প।

  • ইলন মাস্কের বার্ষিক আয় টেসলার কর্মীদের চেয়ে ২৫ লাখ গুণ বেশি

    ইলন মাস্কের বার্ষিক আয় টেসলার কর্মীদের চেয়ে ২৫ লাখ গুণ বেশি

    ২০২৫ সালে টেসলার সিইওর পারিশ্রমিক হিসেবে ইলন মাস্ক ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয় করেন। টেসলার গড় কর্মীর আয়ের চেয়ে তা ২৫ লাখ গুণ বেশি।

    গত বছর টেসলার মোট রাজস্ব ছিল ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ মাস্কের পারিশ্রমিক তার চেয়ে বেশি।

    বাস্তবতা হলো, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও কর্মীদের বেতন ব্যবধান আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালে সিইওরা গড়ে তাঁদের কোম্পানির মধ্যম সারির কর্মীর চেয়ে ৩১২ গুণ আয় করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোট এএফএল-সিআইও বেতনবৈষম্য নিয়ে এই হিসাব দিয়েছে। সিইও ও কর্মীদের বেতন ব্যবধান কীভাবে বাড়ছে, প্রতিবেদনে সেই বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

    এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি কোম্পানির একজন গড় কর্মীর চেয়ে ৫১ গুণ বেশি আয় করেছেন। ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও ক্রিস কেম্পচিনস্কির আয় প্রতিষ্ঠানটির গড় কর্মীর চেয়ে ১ হাজার ৮২ গুণ বেশি।

    ২০২৪ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সিইওদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ছিল ২৮৫ গুণ।

    শ্রমিক সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, বেতনবৈষম্য এতটা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সিইওরা যদি নিজেদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন, তাহলে কোম্পানির স্থিতিশীলতা বা সামগ্রিক অর্থনীতির বিষয়ে তাঁদের মনোযোগ কমে যেতে পারে।

    এএফএল-সিআইও প্রতিবেদনে বলেছে, সিইওদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সিইওরা নিজেদের বেতন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেবেন—এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমনকি তাতে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও; অর্থাৎ ব্যক্তিগত মুনাফার বিষয়টি মুখ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    হিসাবের মধ্যে মাস্কের প্রভাব

    সিইও হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বেতন–ভাতা অন্য সবার চেয়ে বেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে ইলন মাস্ক বিপুল পারিশ্রমিক পেলেও গত বছর টেসলার রাজস্ব ৩ শতাংশ কমেছে। গাড়ি বিক্রি কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে মাস্কের অংশগ্রহণের কারণে অনেক ভোক্তা টেসলা বর্জন করায় বিক্রি কমে যায়।

    গত বছর টেসলার ১১টি গাড়ি প্রত্যাহার করতে হয়েছে। মোট প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার গাড়ি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়। টেসলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স, রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সসহ আরও বিভিন্ন কোম্পানিতে মাস্কের বিনিয়োগ আছে।

    গত জুন মাসে যখন শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়া হয়, তখন অল্প সময়ের জন্য ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।

    এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন অনুসারে, সিইওদের গড় আয় ৩১০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর সিইওদের গড় বার্ষিক পারিশ্রমিক ১ হাজার ৭০০ শতাংশ বেড়ে ৩১০ কোটি ডলারে উঠে যায়।

    তবে ইলন মাস্ককে বাদ দিলে চিত্রটি অনেকটাই বদলে যায়। ২০২৪ সালে সিইওদের বার্ষিক গড় পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালে তা ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। এক দশক আগে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কোম্পানির সিইওদের গড় পারিশ্রমিকের তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুণ।

    শিল্পভেদে বেতন ব্যবধানেও বড় পার্থক্য

    শিল্পভেদে সিইও ও কর্মীদের আয়ে বড় পার্থক্য আছে। দেখা গেছে, উৎপাদন খাতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। এ খাতের একজন সিইও গড়ে বার্ষিক ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। বিপরীতে একজন কর্মীর গড় আয় ছিল ৯৩ হাজার ডলারের কিছু বেশি; অর্থাৎ তাঁদের আয়ের ব্যবধান ১১ হাজার শতাংশের বেশি। এ খাতে টেসলায় যে বড় ব্যবধান আছে, বেতন ব্যবধানের অনুপাত বৃদ্ধিতে তার বড় ভূমিকা আছে।

    দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধান ছিল শিল্প, বিনোদন ও অবসর খাতে। এই খাতের সিইওদের বার্ষিক গড় আয় ২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যেখানে মধ্যম সারির কর্মীর আয় প্রায় ২৫ হাজার ডলার। এএফএল-সিআইওর হিসাবে, সিইও ও কর্মীর পারিশ্রমিকের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৫৭ অনুপাত ১।

    কফি চেইন স্টারবাকসেও বড় ধরনের বেতন ব্যবধান আছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মীর গড় আয় ছিল ১৭ হাজার ২৭৯ ডলার।

    অন্যদিকে স্টারবাকসের সিইও ব্রায়ান নিকল গত বছর ৩ কোটি ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। স্টারবাকসের সিইও ও মধ্যম সারির কর্মীর আয়ের ব্যবধান ১ হাজার ৭৯৪ অনুপাত ১।

    এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি কোম্পানির একজন গড় কর্মীর চেয়ে ৫১ গুণ বেশি আয় করেছেন। ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও ক্রিস কেম্পচিনস্কির আয় প্রতিষ্ঠানটির গড় কর্মীর চেয়ে ১ হাজার ৮২ গুণ বেশি।

    ট্রাম্পের আয় বেড়েছে ২৫৪ শতাংশ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে যে আয় করেছেন, এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় আগের বছরের তুলনায় ২৫৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার।

    এর বড় অংশ এসেছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ও মিমে কয়েন বিক্রি থেকে।

    এএফএল-সিআইওর হিসাবে, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম সারির কর্মীর আয়ের প্রায় ৪৩ হাজার ১৫৪ গুণ বেশি।

  • গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১২। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ৩টি স্মার্টফোন, ৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ১০ হাজার ২শত ৮০ টাকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১২ এর সিপিসি-৩, মেহেরপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী থানাধীন রায়পুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মৃত রবিউল হকের ছেলে আনোয়ার (৩৫) এবং একই এলাকার ষোলটাকা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের ছেলে মো: হাসান (১৯)।

    র‍্যাব জানায়, আনোয়ারের নিজস্ব গরুর খামারের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে 1XBET প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

    এ ঘটনায় গাংনী থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ এর ১৬, ১৭, ১৯(১) ও ২৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, পিপিএম স্বাক্ষরিত রাত সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ

    ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ

    এক্সচেঞ্জটিতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৯৯৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমলেও এ সময়ে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। এছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তা‌হে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৯২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৮১ পয়েন্ট।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬২টির, কমেছে ২০৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও এনআরবিসির শেয়ার।

    খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ১ শতাংশ করে দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ শতাংশ।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া সেবা খাতে ৪ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, বিবিধ খা‌তে ২ দশ‌মিক ৯ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভ্রমণ খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশ‌মিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৮০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৭২৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশ‌মিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৬২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৫৮১ পয়েন্ট।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে ২০২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৫টির, কমেছে ১৬২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির শেয়ারদর।

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • টানা তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

    টানা তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে টানা তিন দফা বাড়ার পর এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।

    শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দাম

    নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা করা হয়েছে।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

    এক দিন আগেই বেড়েছিল দাম

    এর আগে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।

    সেদিন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। ওই দামও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    ১০৩ বার সমন্বয় এ বছর

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে। সমানসংখ্যক ৫১ দফা দাম কমানো হয়েছে। আর এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়। কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা

    গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা

    গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাক শিল্পের জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধে ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটি ওই দুই মাসের বিল আগামী ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

    এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে চিঠি দিয়েছেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। গত ৯ আগস্ট দেওয়া চিঠিতে তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারেনি।

    উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে রফতানি আদেশ, শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক কারখানা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। এ জন্য ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি নগদ অর্থে কিনতে হয়েছে। এসব অতিরিক্ত ব্যয় কারখানাগুলোর নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে ছিল না।

    বিকেএমইএ বলছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একদিকে উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে একই সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ বিল এককালীন পরিশোধ করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

    সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতিতে বিল পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা আর্থিক চাপ সামাল দিতে পারবে। এতে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

    চিঠিতে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রফতানি কার্যক্রম সচল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    এ জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

    চিঠির অনুলিপি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে যদি বাড়তি বিলের আর্থিক চাপও যুক্ত হয়, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই সংকটকালীন সময়ে বিল পরিশোধে কিস্তির সুযোগ দিলে শিল্পকারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং রফতানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে বিকেএমইএ।

  • মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

    মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

    দীর্ঘদিনের গ্যাস সঙ্কটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দু’টিই একসাথে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। সেই সাথে ভাসমান টার্মিনাল দু’টি থেকে আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    আজ শনিবার ভোর ৪টায় সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। ফলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।

    পরে গত ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।

    বর্তমানে এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

    অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

    সূত্র বলছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

    স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

    বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

    আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।