অর্থ ও বাণিজ্য

  • বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

    বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

    দেশের বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব হলো আমদানি-রফতানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।

    তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন তিনি । এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

    অস্থায়ী ওয়্যারহাউজের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে জায়গা নিতে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করা।

    সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন অগ্রাধিকার। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমাতে অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বিমান বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি অস্থায়ী ওয়‍্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়‍্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    ‘কারসাজিতে’ অস্থির ডিমের বাজার

    আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে।


    যশোরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে ফার্মের ডিমের দাম একলাফে আড়াই টাকা বেড়েছে। ফলে, সস্তার আমিষের উৎস হিসেবে পরিচিত এই পণ্যটিতে দামের কশাঘাত নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ে বাড়তি চাপ ফেলছে।
    সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা উৎপাদন ব্যয়ের একটি হিসাব তুলে ধরে দাম বৃদ্ধিকে সংগতিপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা দিলেও, অপর একটি সরকারি দপ্তর প্রধান ও প্রান্তিক খামারিরা এ মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন।
    তাঁদের অভিযোগ, ফার্মের ডিম উৎপাদনকারী করপোরেট গোষ্ঠী কারসাজি করে দাম বাড়ায়। এ ছাড়া ‘মিডিয়া’ অর্থাৎ খামার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তদের ‘সিন্ডিকেট তৎপরতায়’ ডিমের দাম ওঠানামা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।


    ডিম বিপণন ব্যবস্থার ভাষায় মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটকে ‘মিডিয়া’ বলে। ডিম বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ‘মিডিয়া’ ছাড়া বাজারে সরাসরি ডিম বিক্রি করতে পারেন না খামারির। ফলে পুঁজি-শ্রম বিনিয়োগ ও কষ্ট করে ডিম উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিরা কখনই নিজেরা দাম নির্ধারণ করতে পারেন না।
    এদিকে ক্রেতারা বলছেন, দামের উত্তাপে অনেকদিন ধরেই গরু-খাসির মাংসের পদ পাতে উঠছে না। একসময়ের সাশ্রয়ী পাঙাশ-তেলাপিয়ার দাম বাড়ায় প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস মাছও চলে গেছে নাগালের বাইরে। এবার কম দামে সহজলভ্য আমিষের উৎস ডিমেও লেগেছে দামের কশাঘাত।


    খামারিরা বলছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলসহ উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধপত্রের দাম কিছুটা বাড়ায় অন্যান্য খাতের মতো পোল্ট্রি শিল্পেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছুটা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তারপরও এত চাপের মধ্যে খামার সচল রাখতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে স্বল্প মুনাফা যোগ করে ডিম বিক্রি করছেন।
    কিন্তু বাজারে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ‘মিডিয়া’ এক্ষেত্রে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে। এতে খামারিরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। আবার খুচরা ভোক্তার ওপরও চাপ পড়ছে।


    খাতটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনগুলোর মতো আবারও বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক প্রভাবের বাইরে খুচরা বাজারে ডিমের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের খামারি বিসমিল্লাহ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী সাব্বির হোসেন জানান, লেয়ার ফিড বা পোল্ট্রি ফিডের দাম কেজিতে ২ টাকা ও বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রতিদিন জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় এখন বেশি হচ্ছে।
    সাব্বির হোসেন দাবি করেন, বাজারে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া মিডিয়া (মধ্যস্বত্বভোগী) ডিমপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভ করে। এতে খুচরা পর্যায়ে কয়েক হাত বদল হয়ে ডিমের দাম বেড়ে যায়। এই খামারির ভাষ্য, মিডিয়া ছাড়া বিক্রি করা যায় না। কয়েক হাজার ডিম যানবাহনে বয়ে নিয়ে বাজারে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নেই বলে এমনটি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে আরও যোগ করেন তিনি।
    এই খামারি আরও জানান, তাঁর খামার থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে ডিম কিনে যাচ্ছেন ফড়িয়ারা। আর সেই ডিম বাজারে ১৩-১৪ টাকায় বিক্রি হলে সেটি অযৌক্তিক দাম বলে মনে করেন তিনি।
    সরেজমিনে যশোর শহরের নিত্যপণ্যের দোকান ঘুরে জানা গেছে, প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সা দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামীণ বাজারগুলোয় প্রতি পিস ফার্মের ডিম ১৪ টাকাও নেওয়া হচ্ছে বলে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে। এদিকে, শহরের জেল রোডের আড়তগুলোতে ডিমের পাইকারি দাম আকারভেদে ১২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত।
    ডিমের আড়ত ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, আফিল গ্রুপের ডিম ১১ টাকা ৭০ পয়সা, কাজী গ্রুপের ১১ টাকা ২১ পয়সা ও পাবনা গ্রুপের ডিমের দাম পিসপ্রতি ১১ টাকা ৩০ পয়সা। এর সঙ্গে পিসপ্রতি ৫০ থেকে ৯০ পয়সা যোগ করে বিক্রি করছেন।


    বিসমিল্লাহ ডিম হাউজের মালিক আকরাম হোসেন পাপ্পু ও মায়ের দোয়া ডিম স্টোরের কর্ণধার শেখ কুদ্দুস আলী জানান, সিরাজগঞ্জ গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা, চাঁদ গ্রুপ ১১ টাকা ৭০ পয়সা, মেগা গ্রুপ ১১ টাকা ৯০ পয়সা ও সিপি বাংলাদেশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা দামে পিস প্রতি ডিম সরবরাহ করছে। এই দামের সঙ্গে লভ্যাংশ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করবেন।
    জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ডিমের বার্ষিক চাহিদা ৫১ কোটির ওপর। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫৩ কোটি ডিম। এ জেলায় বর্তমানে ১৩০টি লেয়ার মুরগির খামার চালু রয়েছে।
    তবে জেলায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও তার সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। বরং উৎপাদন ও খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধানের বিষয়টি সামনে এসেছে।
    যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ডিম উৎপাদনকারী একটি মুরগির খাবারের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হয় ৯ টাকা ৮০ পয়সা। খামারের শতভাগ মুরগি ডিম দেয় না। গড়ে ৮০ শতাংশ ডিম দেয়। এছাড়া বাচ্চা কেনা, ওষুধ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও শ্রমিকের খরচ মিলে আরও ১ টাকা ৮৪ পয়সা যোগ হয়। ফলে প্রতিটি ডিমের মোট উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।


    দামের চাপ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন :
    স্বল্পদামের অন্যান্য প্রাণিজ আমিষের মতো ডিমের দাম বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা। শহরের বড় বাজারে ডিম ক্রেতা উপশহরের সাজ্জাদ হোসেন জানান, সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। সস্তার পাঙাশ-তেলাপিয়াও নাগালের বাইরে। এবার বাড়ছে ডিমের দর। এতে প্রতিদিনের খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জীবনধারণ করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

    এদিকে, শহরের রেলবাজার এলাকায় আলাপচারিতায় আরেক ক্রেতা গৃহকর্মী জরিনা বেগম বলেন, বাচ্চাদের মাংস-মাছ খাওয়াতে পারি না। ঝোল ভাত খেতে চাইলে আগে ডিম সিদ্ধ করে আলু-ডিমের ঝোল করে দিতাম। সেটা না হলেও একটা ডিম ভাজা দিলে ভাত খেত। দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই ডিমও কেনা কঠিন হয়ে গেল।
    তবে এ ব্যাপারে সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা জানান, ডিমের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবগত করেছেন; যাতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়।


    তিনি আরও জানান, ডিম উৎপাদনকারী যশোরের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবপত্র যাচাই করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। এটা করা গেলে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় ও তাদের নির্ধারিত দামের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা যাবে। ১০ টাকার ডিম হঠাৎ সাড়ে বারো টাকা কেন হলো, সেটি উদঘাটিত হবে। ডিম উৎপাদনে নিয়োজিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ডিমের বাজার বেসামাল হচ্ছে বলে আরও যোগ করেন তিনি।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

    আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’

    বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’

    উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

    মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

  • আদমজী ইপিজেড থেকে বিয়ের গাউন, খনিশ্রমিকের জুতাসহ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    আদমজী ইপিজেড থেকে বিয়ের গাউন, খনিশ্রমিকের জুতাসহ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা আসতে থাকেন আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (এইপিজেড)। কারও হাতে টিফিন বক্স, কারও হাতে ব্যাগ। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে একসময়ের আদমজী জুট মিল এলাকা।

    এই ইপিজেডের ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাঁরা। আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত ভূমিতে গড়ে ওঠা ইপিজেড এখন দেশের অন্যতম বড় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিকের হাতের নৈপুণ্যে এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে সেফটি জ্যাকেট, ব্লেজার, ইউরোপের নবদম্পতিদের ব্রাইডাল গাউন।

    এ ছাড়া গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, লেজার প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের অপিসি ড্রাম এবং গাড়ির সিট কভারের মতো নতুন নতুন পণ্য, যার মাধ্যমে এখান থেকে বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

    শুধু রপ্তানি আয় নয়, বদলে যাচ্ছে এখানকার শ্রমিকদের জীবনমানও। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে আদমজী ইপিজেডের নানা চিত্র পাওয়া গেছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এই ইপিজেডে কাজ করতে এসেছেন ফারজানা আক্তার। এই তরুণীর মাসিক বেতন এখন ১৯ হাজার টাকা। যদিও প্রথম দিকে বেতন ছিল ৮ হাজার ২০০ টাকা। কদমতলীতে থাকা এ নারী মা-বাবার জন্য মাসে চার হাজার টাকা পাঠান। কাজের পরিবেশ ভালো হওয়ায় সাত বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলে তিনি প্রথম আলোকে জানান।

    নতুন আরও ১০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে আসছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্যমতে, এ বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করায় বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা হচ্ছে।’

    বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    আদমজী ইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, নদীতীরবর্তী ২৯২ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে আদমজী ইপিজেড। যেখানে রয়েছে ২৭৬টি শিল্প প্লট। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর রপ্তানি হয়েছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

    আদমজী ইপিজেডেই রয়েছে দেশের একমাত্র ব্রাইডাল পোশাক তৈরির কারখানা। টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল কর্স ও ভ্যান হিউসেনের মতো ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় এই ইপিজেডে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের অর্থবছরেও রপ্তানির পরিমাণ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

    বিনিয়োগ কোন কোন দেশের

    এখানকার ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৬টি। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর দেশীয় বিনিয়োগ রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে কানাডার একটি, চীন–হংকংয়ের ৯টি, জার্মানির একটি, দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি ও ভারতের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচটি করে প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। একটি করে কারখানা রয়েছে মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, শ্রীলঙ্কা ও ইউক্রেনের।

    নতুন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে চায়। ইউক্রেনের সুপার প্রটেকটিভ শু কোম্পানি এখানে সেফটি জুতা তৈরি করে, যা নির্মাণ, কেমিক্যাল ও খনিশ্রমিকেরা ব্যবহার করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন।

    প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. আসলাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নতুন বিনিয়োগের জন্য জায়গা খুঁজছি। ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এখানে না হলে অন্য কোথাও হয়তো জমি নিতে হবে।’

    এখানকার উন্নত কর্মপরিবেশের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বাচ্চার জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

    জাপানি প্রতিষ্ঠান টিএস টেক গাড়ির সিট কভার তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন প্রায় ৪০০ শ্রমিক। প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১৯ জন বাচ্চার জন্য সাজানো একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। তাদের দেখাশোনার জন্য রয়েছেন চারজন প্রশিক্ষিত নারী কর্মী।

    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের দুধ সরবরাহ করা হয়। তাঁদের কাজের সহায়তা করতে সার্বক্ষণিক চেয়ার দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁদের মাথায় আলাদা সবুজ ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যাতে সহজে সেবা দেওয়া যায়।’

  • শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চীনা পণ্যের প্রবেশে ৪০টির বেশি দেশকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

    শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চীনা পণ্যের প্রবেশে ৪০টির বেশি দেশকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

    এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য ঘুরিয়ে বা নতুন পরিচয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করে। এতে অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পায় দেশটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

    হোয়াইট হাউজের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনের নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’। এতে বলা হয়, চীনা পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়ার কারণে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য শুল্ক ফাঁকির ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্য মার্কিন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে হোয়াইট হাউজ জানায়, এ ধরনের পণ্যের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি থেকে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রে এভাবে পণ্য স্থানান্তরকে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ বলছেন অনেকে। সহজভাবে বললে, চীন থেকে কোনো পণ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠিয়ে আগে অন্য একটি দেশে নেয়া হয়। পরে সে দেশ থেকে পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এতে পণ্যের উৎস বা উৎপাদনস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ফলে চীনের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানো সম্ভব হয়।

    প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য ও উৎপাদন নীতি দপ্তর। দপ্তরটির প্রধান পিটার নাভারোর ভাষ্য, ‘২০১৮ সালে চীনের ওপর প্রথম শুল্ক আরোপের পর থেকেই বেইজিং অত্যন্ত জটিল পদ্ধতিতে এ ধরনের পণ্য স্থানান্তর করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পর এ প্রবণতা আরো বেড়েছে।’

    নাভারোর দাবি, বিভিন্ন দেশের শুল্ক হারে বড় পার্থক্য তৈরি হওয়ায় পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। এতে চীনের পণ্য কম শুল্কের দেশে পাঠিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হচ্ছে।

    হোয়াইট হাউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পাশাপাশি বেশি শুল্কের মুখে পড়া অন্য দেশগুলোও একই কৌশল অনুসরণ করতে পারে। নাভারো বিশেষভাবে ভারত ও ভিয়েতনামের কথা উল্লেখ করেছেন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর শুল্ক বাড়ালে তারাও একই ধরনের পণ্য স্থানান্তরের পথ বেছে নিতে পারে।

    প্রতিবেদনটি প্রকাশের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মে মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন শি জিনপিং। ফলে নতুন অভিযোগটি দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

    সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থের রফতানি নিয়ে উদ্বেগ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন এসব গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানি কমিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ঠিকমতো পালন করছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। নাভারো জানান, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন সংস্থা ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করছে। এর মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের গঠন ও প্রকৃতি আরো ভালোভাবে শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে শুল্কের জন্য পণ্যের সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

  • ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড, তবুও ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

    ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড, তবুও ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

    ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, কিন্তু সেই অর্থ ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ হচ্ছে না। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে জমছে অতিরিক্ত তারল্য। গত জুন শেষে এই অলস বা উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। মে শেষে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসেই উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    অন্যদিকে জুনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। অর্থাৎ ব্যাংকে যে হারে টাকা জমা হচ্ছে, সেই তুলনায় ঋণ হিসেবে অর্থ বের হচ্ছে অনেক কম।

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত টাকা জমে থাকার বিষয় নয়; বরং এটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির দুর্বলতারও বড় একটি সংকেত। উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে চাইছেন না, আবার ব্যাংকগুলোও অতীতের ঋণ অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের অভিজ্ঞতায় নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক। ফলে ঋণের চাহিদা ও সরবরাহ— দুই দিক থেকেই বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে।

    কেন ঋণ নিতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা?

    ব্যাংকারদের মতে, নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ। একটি শিল্পকারখানা স্থাপন করে নিয়মিত উৎপাদন করা না গেলে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ করাই উদ্যোক্তার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    এর সঙ্গে রয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যবসা পরিচালনার বাড়তি খরচ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কর ও নীতির অনিশ্চয়তা। এসব কারণে নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেক উদ্যোক্তা।

    ব্যাংকাররা জানান, বর্তমানে যে ঋণ বিতরণ হচ্ছে, তার বড় অংশই যাচ্ছে চলতি মূলধন, কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবসার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে। নতুন শিল্প স্থাপন বা বড় ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।

    ব্যাংকেও বাড়ছে সতর্কতা

    উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। অতীতে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এর একটি বড় অংশ প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যবহার হয়নি। পরে এসব ঋণের অনেকটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

    বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ অনেক বেশি। ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার আগে উদ্যোক্তার ব্যবসা, জামানত, নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ে ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে ভালো ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থ থাকলেও তারা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি বিল ও বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ করছে।

    টাকা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের জায়গা নেই

    ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই সব টাকা নগদ অবস্থায় পড়ে আছে– বিষয়টি এমন নয়। এই অর্থের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল, বন্ড, কলমানি মার্কেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা থাকে। প্রয়োজন হলে এসব বিনিয়োগ নগদায়ন করা যায়। তবে ব্যাংকের দৃষ্টিতে মূল সমস্যা হলো, উৎপাদনশীল খাতে ঋণের চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। ফলে আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত হারে ঋণ বিতরণ করা যাচ্ছে না।

    ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফান আলী বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন ঋণ নিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একইসঙ্গে উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের কাছে রয়েছে। এসব ব্যাংক ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি বিল ও বন্ডে অর্থ খাটানোকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে না। ঋণের সুদহার কমলেও বিনিয়োগের পরিবেশ ঠিক না হলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হবে না।

    আমানত বাড়ছে, ঋণ বাড়ছে না

    ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির তুলনা করলে।

    জুনে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখছেন, কিন্তু উদ্যোক্তারা সেই অর্থ ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করছেন না।

    এই ব্যবধান যত বাড়ছে, ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্যও তত বাড়ছে।

    দুই বছর আগেও ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জুনে এসে তা ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

    সুদ কমলেই কি বিনিয়োগ বাড়বে?

    বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়েছে। রেপো হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

    এছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগে ঋণের সুদ কমে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটানো সম্ভব নয়।

    একজন উদ্যোক্তার কাছে ঋণের সুদহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ঋণ নিয়ে উৎপাদন চালানোর পরিবেশ। গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে, পণ্য পরিবহনে সমস্যা হলে, ব্যবসার খরচ বাড়লে কিংবা নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে কম সুদের ঋণও বিনিয়োগে উৎসাহ তৈরি করবে না।

    গ্যাস-বিদ্যুৎই বড় বাধা

    অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান অতিরিক্ত তারল্য স্থায়ী নয়। বাজেট পাস হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে। তবে এসব অর্থ আমানতকারীদের, তাই ব্যাংকগুলোকে তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রো, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপাতত কিছুটা সতর্ক থাকা উচিত।

    বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো দরকার। এসব ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    শিল্পায়ন না হলে অলস টাকা আরও বাড়তে পারে

    ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা আপাতদৃষ্টিতে ব্যাংকগুলোর তারল্য সক্ষমতার ভালো দিক মনে হতে পারে। কিন্তু অর্থনীতির জন্য এটি সবসময় সুখবর নয়।

    কারণ ব্যাংকের টাকা যদি শিল্প, ব্যবসা ও উৎপাদনে না যায়, তাহলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। উৎপাদন বাড়বে না। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টি হবে না। এর ফলে ব্যাংকেও নতুন ঋণের চাহিদা তৈরি হবে না।

    বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখানে একদিকে ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ কমছে। ফলে ব্যাংকের অর্থ সরকারি ঋণ বা নিরাপদ বিনিয়োগে আটকে থাকছে। এতে বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    সমাধান কোথায়?

    ব্যাংকে জমে থাকা ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ অর্থনীতির উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে হলে প্রথমে বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্থিতিশীল করনীতি, উন্নত অবকাঠামো, নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ব্যবসার খরচ কমানো– এসব বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন।

    একইসঙ্গে ব্যাংক খাতেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকে টাকা থাকলেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় না। সেই টাকা যখন কারখানার মেশিন কেনা, নতুন ব্যবসা শুরু, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তখনই তা অর্থনীতির জন্য কার্যকর হয়।

    তাই ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড আসলে শুধু ব্যাংক খাতের সমস্যা নয়; এটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও একটি বড় সতর্কবার্তা। উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে ব্যাংকে জমে থাকা এই বিপুল অর্থ অর্থনীতির গতি বাড়ানোর বদলে আরও দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

  • কাটছে না গ্যাস সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

    কাটছে না গ্যাস সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

    রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট এখনও কাটেনি। অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যে দু-একটি স্টেশনে সরবরাহ মিলছে, সেখানেও চাপ এত কম যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস নিতে পারছেন না চালকরা। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনের সামনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।

    অপরদিকে, বাসাবাড়িতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও স্বস্তি ফেরেনি। শুক্রবার ও শনিবার অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস না এলেও রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল থেকে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস এসেছে। তবে চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বললেও তাতে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না।

    সিএনজি স্টেশনের কর্মী, চালক ও গৃহিণীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

    সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, দীর্ঘ অপেক্ষা

    প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহ বলেন, মালিবাগ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ সিএনজি স্টেশনেই গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটিও জানাতে পারছেন না স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

    গ্যাস নেওয়ার আশায় দুপুর ১২টা থেকে মালিবাগে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

    সানাউল্লাহ বলেন, গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে না পারায় গাড়ি চালাতেও পারছেন না। মাসে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে রেন্ট-এ-কার হিসেবে গাড়ি চালান তিনি। কিন্তু গ্যাসের সংকটে নিয়মিত ট্রিপ দিতে না পারায় চলতি মাসের চুক্তির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

    হাজীপাড়া পাম্পের কর্মী আসাদ বলেন, গ্যাস কখন আসবে বলতে পারব না। সরবরাহ পেলেই গ্যাস দেওয়া শুরু হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড্ডা, মালিবাগ ও কমলাপুর এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলো প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। তেজগাঁও ও মহাখালীর অনেক স্টেশনেও একই অবস্থা। খিলক্ষেত এলাকায় কোথাও কোথাও গ্যাস দেওয়া হলেও চাপ খুবই কম।

    প্রাইভেটকার চালক ইউনুস আলী বলেন, খিলক্ষেতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তিনি বলেন, এটা আসলে হাওয়া। নাইনটি সিলিন্ডারে সাধারণত এক হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত গ্যাস ঢোকে। সেখানে ১২০ টাকার গ্যাস দিয়ে কী হবে?

    তিনি বলেন, রাতে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকে। তবে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কম।

    আকিজের পাম্পকর্মী তারেক বলেন, এখন আমরা বন্ধ রেখেছি। রাতে সরবরাহ পেলে গ্যাস দিতে পারব। গত রাতেও দিয়েছি। মিরপুর ও গাবতলী এলাকার পাম্পগুলোর অবস্থাও একই।

    উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরেও দীর্ঘ সারি

    উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরের পূর্ব পাশের খন্দকার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক বাস ও মোটরসাইকেল চালক ডিজেল ও অকটেন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

    মেসার্স মাসুদ হাসান স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, পরিবহনের বড় একটি অংশ সিএনজিনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে এবং স্টেশনের সামনে গাড়ির লাইন বাড়ছে।

    তিনি বলেন, আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। তিতাস আমাদের ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। আমাদের কাছে না থাকলে আমরা কোথা থেকে দেব? আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকের গাড়িই গ্যাসে চলে। গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ।

    ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর অংশের পশ্চিম পাশের আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।

    সিএনজি চালক মানিক বলেন, সকাল ৫টায় গ্যাসের জন্য আসছি। এখনো গ্যাস পাইনি। গাড়ির মালিককে জমা দেব কোথা থেকে? সংসার চালাব কীভাবে? সামনে মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে হবে। এখন কী করব জানি না।

    চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকটে তাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে। প্রতিদিনের গাড়ির জমা পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    আরেক চালক জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন মহাজনকে ১২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। এর বাইরে দৈনিক আরও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ থাকে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু গ্যাস না পাওয়ায় গত সাত দিন ধরে তার আয় বন্ধ।

    মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাকিব হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ নেই। আশপাশের সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ। বিদ্যুৎ খরচ করে পাম্প চালালেও গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই।

    চুলা জ্বলছে, রান্না হচ্ছে না

    এদিকে রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে কিছুটা গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাপ এত কম যে চুলা জ্বললেও স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।

    বনশ্রীর গৃহিণী কানিজ ফাতেমা বলেন, লাইনে যে গ্যাস আসছে, তাতে পানি গরম করে চাও খাওয়া যাবে না। পানি গরম করতেই ২০ মিনিট লাগছে।

    গ্যাসের চাপ কম থাকায় তিনি ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। সকালে রুটিও ইলেকট্রিক চুলায় তৈরি করেছেন বলে জানান তিনি।

    বাড্ডার গৃহিণী আনোয়ারা বেগম বলেন, সকালে চুলা জ্বলেছে। কিন্তু সেই চুলায় রান্না বসালে কতক্ষণ লাগবে, বলা যায় না। চুলা জ্বললেও রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। শুক্রবার-শনিবার তো চুলাই জ্বলেনি।

    মিরপুরের গৃহিণী আফরোচা বেগম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছি।

    রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও গ্যাস সংকটের একই চিত্র পাওয়া গেছে।

    অর্থাৎ কোথাও চুলা পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও আবার চুলা জ্বলছে নামমাত্র—কিন্তু সেই আগুনে রান্নার হাঁড়ি বসানোর মতো চাপ নেই।

  • বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ঋণ ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই ঋণ আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে ডাকা হয়েছে। গত শুক্রবার এই নিলাম বিজ্ঞপ্তির কথা জানানো হয়। রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে রূপালী ব্যাংকের সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ আদায়ের জন্য তফসিলে বর্ণিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস এবং বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের এই নিলামের কথা আমি জানি না। তবে কোম্পানি বন্ধ করে দিলে আমরা ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমরা কোনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। এরপর ড. ইউনূস সরকার আমাদের কোম্পানি বন্ধ করে দেয়। তার মতে, ‘কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসা না করতে পারলে টাকা আসবে কীভাবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। এখন কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি হলে আমরা ব্যাংকের টাকা কীভাবে দেব।’

    নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফসিলের জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির মধ্যে কোথাও একরের হিসাবে, আবার কোথাও শতাংশের হিসাবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, আরেকটিতে ৪৮ শতাংশ এবং অন্য এক তফসিলে ৩.৬৬ একর জমির উল্লেখ রয়েছে। আরো কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসাবে জমি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮.৫৫ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজাতেও বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেক তফসিলে ৯.২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু এ তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে ১৭.৪১ একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ তফসিলে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

    জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওইদিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ওপর নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে এর ওপর ২০ শতাংশ; ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ; ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

    বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে, সেটিই এ নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক পাওনা। সার্বিকভাবে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির সঠিক মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় গ্রাহক ও ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

  • বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান আইসিটি খাত, দক্ষ তরুণ জনশক্তি এবং ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। দেশে বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার (Repatriation) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।

    লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, লিথুয়ানিয়া বিশ্বমানের লেজার প্রযুক্তি, গভটেক (GovTech) এবং ফিনটেক সেবায় অন্যতম অগ্রগামী দেশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে লিথুয়ানিয়া অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময়ে আগ্রহী।

    তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে বড় বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স গ্রুপ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে চীনভিত্তিক সৌর ফটোতিল্টাইক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোনার্জি আয়োজিত ‘অ্যাস্ট্রোনার্জি ও ওয়ার্ল্ড ফিউচার ২০২৬–বাংলাদেশ রোডশো’ অনুষ্ঠানে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিন্তাভাবনা করছে। দেশজুড়ে সোলার ছাদ এবং সোলার সেচের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের এই বিশাল বাজারে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হতে ২০ কোটি টাকার সরঞ্জাম অর্ডার করেছে ম্যাক্স গ্রুপ, যা খুব শীঘ্রই দেশে এসে পৌঁছাবে।

    তিনি আরো বলেন, ম্যাক্স গ্রুপ এবং আন্তর্জাতিক সোলার খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু কার্বন’ যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বাংলাদেশের সোলার মার্কেটে ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। পাওয়ার সেক্টরে ম্যাক্স গ্রুপের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের একটি ১৬৫ মেগাওয়াটের গ্যাস-ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু রয়েছে এবং আমরা ইপিসি ঠিকাদার হিসেবেও কাজ করছি। এছাড়া ম্যাক্সের নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কোনো স্টোরেজ বা ব্যাটারি ছাড়াই সফলভাবে প্রায় ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

    চীনা প্রযুক্তি ও গুণগত মান প্রসঙ্গে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ভালো মানের চীনা পণ্য কিনলে ক্রেতার অভিজ্ঞতা কখনোই খারাপ হয় না। রেলওয়ে ও সড়কপথের বড় বড় ইপিসি চুক্তি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাতে চীনা অংশীদারদের সাথে কাজ করার দীর্ঘ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভালো চীনা কোম্পানি নির্বাচন করা হলে কাজের মান সবসময়ই চমৎকার হয়। সৌরবিদ্যুৎ খাতে যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদের তিনি অ্যাস্ট্রোনার্জি এবং ভবিষ্যতে বাজারে আসতে যাওয়া ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’-এর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশের শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে অ্যাস্ট্রোনার্জির নতুন সোলার মডিউল ‘এন৭ প্রো’ উন্মোচন করা হয়।

    এছাড়া অ্যাস্ট্রোনার্জির এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সেরা পরিবেশক, কৌশলগত অংশীদার এবং সেরা সৌর প্রকল্প বিভাগগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান এবং বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করতে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।