অর্থ ও বাণিজ্য

  • এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

    এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

    বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অংশ ছাড় করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশ হিসেবে থাকা ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার ঋণ ছাড় এবং প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি নির্দিষ্ট বিধান কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্কুলার লেটার পাঠানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার ছাড় করা যাবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।

    তবে এ অনুমতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনও দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক এ ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনও ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ বিধানের আওতায় এ অনুমতি দেওয়ার ফলে রূপালী ব্যাংক এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে আগে অনুমোদিত সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় এলসি খোলার সুযোগ তৈরি হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের জারি করা সার্কুলার লেটারে বলা হয়েছে, ১৯ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ক্ষমতার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের যে অংশ এখনো ছাড় হয়নি, তা ছাড় করার পথ খুলেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রমের জন্য এলসি খোলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    তবে ঋণ সুবিধাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনও আর্থিক দায় থাকবে না— এ বিষয়টি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঋণটির ঝুঁকি ও দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে।

  • বাংলাদেশের সরকার কী বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়াতে চায়?

    বাংলাদেশের সরকার কী বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়াতে চায়?

    বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে এক ধরনের লম্বা ঘাস দেখা যায়। বাংলায় যার নাম বিন্না ঘাস। পতিত জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই ঘাসকে ব্যাপকহারে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার।

    মূলত বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস বন্ধে পার্শ্বঢালে এই বিন্না ঘাস লাগানো হয়ে থাকে।

    যে কারণে বিন্না ঘাস কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় তা পর্যালোচনার জন্য সোমবার সরকার একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে এই ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন।

    যে কারণে সরকার এই ঘাসের উপযোগিতা যাচাই করতে যে কমিটি গঠন করেছে সেখানেও যুক্ত করা হয়েছে অধ্যাপক ইসলামকে।

    মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘাসের লম্বা মূল বা শেকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে ঢুকে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। যে কারণে প্রকৌশল বিদ্যায় এই ঘাস ব্যবহার করে রাস্তা ঘাট, পাহাড় ধ্বস, নদীর ভাঙনও রক্ষা করা হয়।’

    যে কারণে বর্তমান সরকারও এই ঘাসটি কোন কোন খাতে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য একটি গাইডলাইন তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার বাংলাদেশজুড়ে খাল খননের কার্যক্রম শুরু করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির সময় এই খালগুলো ভরাট হয়ে যাবে। যে কারণে বাঁধ রক্ষা ও খাল ভরাট রোধে এই বিন্না ঘাসই সাশ্রয়ী এবং টেকসই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

    এছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাহাড় ধস রক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে এই ঘাসকে ব্যবহারের কথা বলছেন তারা।

    তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পথে ঘাটে পতিত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাস দামি সুগন্ধিসহ নানা কাজেই ব্যবহার হয়ে থাকে এই ঘাসের শেকড় বা অন্যান্য অংশ।

    বিন্না ঘাস বা ভেটিভার কী?
    বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে পথে ধারে, পরিত্যক্ত জমি কিংবা চর এলাকায় গুল্মজাতীয় এই ঘাসটি দেখা যায়। এর ইংরেজি নাম ভেটিভার, তবে বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নামেও পরিচিত।

    গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও এই ঘাসটি বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এই ঘাস একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদও।

    ভেটিভার বা বিন্না ঘাস দেখতে লম্বা সরু পাতা, ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে। এটি সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কিন্তু এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর শিকড়।

    প্রায় দুই দশকের গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘাসের শেকড়গুলো অত্যন্ত লম্বা ও শক্তিশালী হয়। শেকড় দুই থেকে তিন মিটার কখনো কখনো চার মিটার পর্যন্ত মাটির ভেতর ভেদ করতে পারে।

    লম্বা ও সরু এই ঘাসের পাতাগুলো লম্বা সরু হয়ে থাকে। পথে ঘাটে কিংবা পতিত জমিতে ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এই ঘাসটি।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রিন্সিপাল এক্সপেরিমেন্টাল অফিসার মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, ‘এই ঘাস দেখতে সাধারণ হলেও এর ক্ষমতা অসাধারণ। এর শিকড় শুধু মাটিকে আঁকড়ে ধরেই রাখে না, বরং ভূমির স্তরগুলোকে একটি প্রাকৃতিক জালের মতো ধরে রাখে।’

    গবেষকদের মতে, এর শেকড়গুলো মাটির ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে থাকার কারণে মাটি, পাহাড় কিংবা ভূমির ক্ষয়রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে কারণে বাংলাদেশের অন্য ঘাস থেকে এই বিন্না ঘাসকে একেবারেই আলাদা মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    গবেষকরা বলছিলেন, শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রাকৃতিক ওষুধি গুণও রয়েছে এই বিন্না ঘাসের। বিশেষ করে এর শিকড় থেকে পাওয়া যায় সুগন্ধযুক্ত তেল। সুগন্ধি, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্যেও এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই বিন্না ঘাস।

    ভূমির ক্ষয়রোধে ঘাস যখন প্রযুক্তি
    গবেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেটিভার বা বিন্না ঘাস ভূমির ক্ষয়রোধ, পাহাড় ধস কিংবা নদীর ভাঙন রোধে কাজ করে।

    থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকান দেশগুলোতে এই ঘাস ভূমিধ্বস রোধ, রাস্তার বাঁধ স্লোপ সুরক্ষা, নদীতীর সংরক্ষণ ও কৃষি জমি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    গবেষকরা বলছেন, এই ঘাসটি জন্মের চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে এর শেকড় মাটির গভীরে পৌঁছে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই এই ঘাস ঢাল, বাঁধ কিংবা মাটির ক্ষয়রোধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

    এই হিম ঠাণ্ডা কিংবা খরতাপ-সব পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে বলেও মনে করেন গবেষক ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

    গবেষকদের মতে, বৃষ্টির সময় পানির স্রোত যখন ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে নামে তখন সেখানে এই জাতীয় ঘাস বা গুল্ম থাকলে সেটি মাটির ক্ষয়রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম নিজেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকল্পে এই ঘাসটির ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় রড, সিমেন্ট, জিও ব্যাগ কিংবা বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল দিয়ে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হয়েছে থাকে। কিন্তু এই ঘাসের শেকড় এতটাই শক্তিশালী যে এটিই বাঁধ রক্ষায় আরো কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।’

    তবে তার মতে, সব ধরনের পরিস্থিতি বা সব জায়গায় আবার এই ঘাস ব্যবহার করে মাটির ক্ষয়রোধ বা বাঁধ রক্ষা সম্ভব হবে না।

    কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘ধরেন একটা খরস্রোতা নদীর বাঁধ রক্ষা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে যদি আপনি এই ঘাস রোপন করেন সেটি কোনো কাজে লাগবে না। তবে এটি পাহাড়ের ক্ষয়রোধ কিংবা সড়ক ও জনপথের রাস্তার পাশে এই ঘাসগুলো লাগালে তা মাটির ক্ষয়রোধে বেশ ভালো কাজে দিবে।’

    এই ঘাসের সবচেয়ে বড় দুইটি উপকারিতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন গবেষকরা। তার প্রথমটি হলো সাশ্রয়ী আর দ্বিতীয়টি পরিবেশবান্ধব।

    একটি উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ‘ধরেন আপনি একটা বাঁধরক্ষায় রড সিমেন্ট বা কনক্রিটের ব্যবহার করলেন। সেখানে যদি আপনার খরচ হয় ১০০ টাকা। তার বিপরীতে আপনি যদি এই বিন্না ঘাসের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন তাহলে সেটি করতে পারবেন মাত্র দশ টাকায়।’

    তবে, তার মতে সব জায়গায় যে এই ঘাস ব্যবহার করেই ক্ষয়রোধ বা ভুমি ধস ঠেকানো যাবে না। সে সব জায়গায় জিও ব্যাগ, কিংবা সিমেন্টের ব্লক বা রড দিয়েই বাঁধ রক্ষা করতে হবে।

    হঠাৎ বাংলাদেশে আলোচনা যে কারণে
    বাংলাদেশে বিশেষত চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চল এবং পদ্মা, যমুনা, মেঘনা নদীতীরবর্তী এলাকা ধস ও ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে বছরজুড়েই।

    গত ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই নির্বাচনে জিতলে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিশ্রুতি ছিল খাল খনন।

    যে কারণে নির্বাচনের পরই এই খাল খননের কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প খরচে ও পরিবেশ বান্ধব উপায়ে এই বাঁধ ও খালের নাব্যতা রক্ষায় কি করা যায় সেটি নিয়ে নানা আলোচনাও হয়।

    বিশেষ করে নদী ও খালের তীর, বাঁধ, পাহাড়ি ঢল ও হাওর অঞ্চলে বিন্না ঘাসের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে সেটি নিয়ে কয়েকটি বৈঠকে এই বিন্না ঘাসের ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় সরকার।

    গত সপ্তাহে ঢাকায় এ নিয়ে একটি বৈঠক হয়। যেখানে বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছে, নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও মাটির ক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস একটি কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পব্যয়ী প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।

    পরে গত সোমবার সচিবালয়ে এ নিয়ে একটি বৈঠকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে এই বিন্না ঘাস ব্যবহার করা যায় তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে টেকনিক্যাল কমিটি হয়েছে।

    ওই কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বেশ কয়েকটি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছে কোন কোন খাতে বা কোন কোন জায়গায় এই বিন্না ঘাসের ব্যবহার করা যায় সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করা।’

    তার মতে, খালের পাড়, বড় বড় রাস্তার পাশের মাটির ক্ষয়রোধ কিংবা পাহাড়ি এলাকায় যে সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে তা রক্ষায় এই ঘাসের ব্যবহার করা যেতে পারে।

    অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘কোন কোন সেক্টরে আমরা এটা ব্যবহার করতে পারি, কতখানি ব্যবহার করতে পারবো সেটা নির্ধারিত হবে সবার সাথে আলোচনার পর। বিশেষ করে এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কিংবা সরকারের কৃষি এগুলোতে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আপাতত এসব জায়গায় ব্যবহার হবে এই ঘাস।

  • বিধিমালা অনুমোদনে জটিলতা, সংকটে এফআরসি

    বিধিমালা অনুমোদনে জটিলতা, সংকটে এফআরসি

    মামলাজনিত কারণে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে যাওয়া ও আইন অনুযায়ী প্রণীত বিধিমালার অনুমোদন না পাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংকটের মুখে পড়েছে ফাইন্যান্সিয়াল ‍রিপোরর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এফআরসি গঠিত হওয়ার এক দশকের বেশি সময় পার হলেও এখনো স্থায়ী জনবল নিয়োগ হয়নি। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু হয় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিরীক্ষকদের নিয়ন্ত্রণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো স্থায়ী জনবল নিয়োগ হয়নি। ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্ন হিসেবে এফআরসিতে কাজ করছে। বছরের পর বছর ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নানাভাবেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    অপরদিকে এফআরসির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ৪টি বিধিমালা প্রণয়ন করে তা অনুমোদনে অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অর্থ বিভাগে পাঠানো হলেও সেগুলো প্রায় এক বছর ধরেই ঝুলে রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ প্রশাসনিক জরিমানা বিধিমালা, আর্থিক বিবরণী দাখিল সংক্রান্ত বিধিমালা, হিসাবরক্ষণ ও আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা এবং চার্টার্ড অব লিগ্যাল ফিস বিধিমালা। এসব বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না এফআরসি।

    এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে গত সোমবার নিয়োগ পেয়েছেন। গতকাল তিনি পদত্যাগও করেছেন। ফলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও সংস্থাটির কার্যক্রমে নতুন করে ধীরতা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত এফআরসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিধিমালাগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ রাশেদুল হোসেন দৈনিক আমার দেশ-কে জানান যে, প্রশাসনিক জরিমানা বিধিমালার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি এখন ভ্যাটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, আর্থিক বিবরণী দাখিল সংক্রান্ত বিধিমালা, আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা এবং চার্টার্ড অব লিগ্যাল ফিস বিধিমালা সংশোধনের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

    জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে এফআরসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক কর কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর নতুন করে এফআরসিতে স্থায়ী জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেন তিনি। ১৫০ জন জনবল নিয়োগে অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রথম দফায় ৫৭ জন নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যায়। নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এফআরসি এবং ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞিপ্তি প্রকাশের পর স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের ঘটনা ঘটে। স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ নিয়মিত শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটি প্রেরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে নিয়মিত বেঞ্চে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনবল নিয়োগে এফআরসির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে ৫৭ জনকে বাদ দিয়ে ১৫০ জনবলের বাকি ৯৩ জনবল নিয়োগের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। নতুন জনবল অনুমোদনে এফআরসির যুক্তি, ৫৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। সে ব্যাপারে আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই পরিপালন করবে এফআরসি। ওই ৫৭টি শূন্য পদ বাদ দিয়ে নতুন করে জনবল নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেলে এ সংক্রান্ত সংকটের একটা সমাধান হবে। তবে নতুন এ প্রস্তাবনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি।

    এফআরসির সদ্য বিদায়ি চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া আমার দেশকে বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এফআরসিকে শক্তিশালী করতে হবে। স্থায়ী জনবল ছাড়াই এফআরসি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। আইনগত জটিলতার কারণে সেটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করছি বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, এফআরসির কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ৪টি বিধিমালা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এগুলোর দ্রুত অনুমোদন হবে বলে আশা করছি। তখন এফআরসি আরো বেশি কার্যকর ও কার্যক্ষম হবে। এদিকে হিসাবরক্ষণ ও আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা অনুমোদিত না হওয়ায় আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন করতে পারছে না এফআরসি। এ কারণে এফআরসির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষের কোনো ধরনের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ মিলছে না। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট এফআরসি কাউন্সিলের কাছে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিউ আবেদন করতে পারবেÑ এ ধরনের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এফআরসি। আপিল কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ অনুযায়ী এফআরসি গঠিত হলেও এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক আইনে। বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন, অডিট রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নীরিক্ষক ও নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের গুনগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব এফআরসির।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিক প্রতিবেদন সঠিক হলে তার ভিত্তিতে সরকার সঠিক রাজস্ব যেমন পাবে তেমনী বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। পুঁজিবাজারে বিদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যথার্থ হতে হবে।

    খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের যথার্থতা নিশ্চিতে এফআরসিকে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই। জটিলতা নিরসন করে দ্রুত জনবল নিয়োগে ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় বিধিমালার অনুমোদন দেওয়া উচিত।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন আমার দেশকে বলেন, এফআরসিকে কার্যকর করতে হলে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ইন্টার্ন দিয়ে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর চলতে পারে না। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চারশো থেকে সাড়ে চারশো প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার মান নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) উদ্বিগ্ন। কিন্তু রেজিস্টার্ড অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত সাড়ে তিন লাখের মতো প্রতিষ্ঠানের নীরিক্ষার বিষয়টি যে প্রতিষ্ঠানের (এফআরসি) অধিক্ষেত্র সেটিকে শক্তিশালী করার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। এফআরসিতে জনবল নিয়োগে আইনী জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে রিভিউ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। জনবল নিয়োগে আইনী জটিলতা নিরসনে রিভিউ কমিটি করণীয় নির্ধারণে কাজ করবে।

  • বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

    বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

    পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের ৫ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ২৩ জুলাই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছিল।

    বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ, যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম, উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান, সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ।

    অন্যদিকে, বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম, মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বিএসইসি।

  • চুলা জ্বলে না, ডিম-পরোটার দোকানে ভিড়

    চুলা জ্বলে না, ডিম-পরোটার দোকানে ভিড়

    রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে ইলেকট্রিক ও লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। আবার সকালের নাস্তার জন্য অনেকেই হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছেন। এতে বাড়ছে খাবারের খরচ, পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বনশ্রীর এফ ব্লকের একটি হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, সকালের নাস্তার জন্য ভিড়। কেউ খাচ্ছেন, কেউ পার্সেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কথা হয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে।

    হোটেলে নাস্তার অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলিম বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে সকালের খাওয়া-দাওয়া হোটেলেই হচ্ছে। এরপর ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করে দুপুর ও রাতের খাবার সারছি। এভাবে হোটেলে খাবারের অভ্যাস না থাকলেও এখন বাধ্য হয়ে হোটেলে খেতে হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের যা অবস্থা, তাতে বিকল্প উপায় ছাড়া কোনো উপায় নেই। গ্যাসে কোনো প্রকার রান্নাই করা যায় না। যে কারণে আমরা সকালে হোটেলের ওপর নির্ভরশীল। এতে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমন পেটেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    হোটেলে খেতে আসা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সকালে বাসায় নাস্তা হতো। কিন্তু এখন আর হয় না। কারণ বাসায় গ্যাস নেই। আমরা ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছি। কিন্তু সকালে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতেও অনীহা আছে। বাধ্য হয়ে এখন হোটেলে আসছি।’

    আকবর জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন। আগে সকালে উঠে রান্না করে খেয়ে আবার দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু এখন আর সেটি হয় না। গ্যাস সংকটের কারণে চুলা একেবারেই জ্বলে না। এ কারণে সকালে হোটেল থেকে নাস্তা নিয়ে তা খেয়ে অফিসে যান। আর রাতে এসে বাসায় ইলেকট্রিক চুলায় রান্না হয়।

    তিনি বলেন, ‘এতে করে আমাদের এখন খরচও বেড়েছে। চারটি পরোটা, ডিম, সঙ্গে ডাল ভাজি নিলে ১২০ টাকা খরচ। আর সঙ্গে অন্য কিছু নিলে ২০০ টাকার মতো হয়ে যায়। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত কি না, সেটাও দেখার বিষয়। অথচ বাসায় সবকিছু স্বাস্থ্যসম্মত হতো। খরচও কম হতো। মানুষ এখন উভয় সংকটে পড়েছে।

    হোটেলে আসা মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘আমার বাসায় স্বামী, স্ত্রী, সন্তানসহ মোট পাঁচজন। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সকালে আমরা বাসায় রান্না করা নাস্তা খেতে পারি না। হোটেলে নিয়মিত খেতে পেটেরও সমস্যা হচ্ছে। আর বাচ্চারাও খেতে চায় না। কিন্তু কোনো উপায় নেই।’

    তিনি বলেন, ‘গ্যাসের এই সংকট নিয়ে সরকারও কোনো কথা বলে না। আমরা আর কতদিন এই ভোগান্তিতে থাকবো?’

    শুধু বনশ্রী নয়, রাজধানীজুড়েই একই অবস্থা। গ্যাসের তীব্র সংকটে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা জ্বলছে না। বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন গৃহিণীরা। সকালের নাস্তার জন্য হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছেন অনেকে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরাসহ সব এলাকায় তিতাস গ্যাস ব্যবহারকারীদের ভয়াবহ সংকট চলছে। যারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন, তারা এ সংকটের বাইরে রয়েছেন। অনেকেই বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। আবার নিম্ন আয়ের মানুষ লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন।

    বনশ্রীর গৃহবধূ আসমা খানম বলেন, ‘আমরা এখন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করি। গ্যাস টোটালি বন্ধ রয়েছে। বারবার ফায়ার মারলেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এই দুর্ভোগ রয়েছে। এখন এমন একটা অবস্থা, গ্যাসই নেই হয়ে গেছে।’

    রামপুরার গৃহবধূ সেলিনা আকতার বলেন, ‘গ্যাসই জ্বলে না, কী আর রান্না করবো। আগে রাতে একটু করে আসতো। কিন্তু এখন রাত-দিন সমান হয়ে গেছে। ইলেকট্রিক চুলা ছাড়া আর রান্না করা যাচ্ছে না।

    বাড্ডার গৃহবধূ আরিফা আক্তার বলেন, ‘লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছি আমরা। গ্যাস না থাকায় এভাবে রান্না করতে হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষ ইলেকট্রিক চুলা কিনতে পারে না। তারা এখন এভাবেই রান্না করছে।’

    বনশ্রী এলাকার ‘মেহরিন হোটেল’-এর ম্যানেজার আবু বকর বলেন, ‘সকালে আগের চেয়ে একটু চাপ বেড়েছে।’

    পাশের ‘পিঠামেলা’ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের চেয়ে সকালে লোকজন বেশি হচ্ছে। বেচাকেনাও ভালো।’

    কেন সকালে ভিড় বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাস সংকট। বাসাবাড়িতে অনেকেই নাস্তা বানাতে পারছেন না। তাই অনেকেই হোটেল-রেস্তোরাঁমুখী।’

    ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সুমন বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সকালে আমাদের কাস্টমার বেশি। বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণে সকালে অনেকে ঝামেলা করে নাস্তা বানাতে চান না। তারাই হোটেলমুখী হয়েছেন।’

    প্রসঙ্গত, গ্যাস সংকটের অন্যতম বড় কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি সমস্যা এবং বৈরী আবহাওয়া। দুটি এফএসআরইউয়ের ওপর দেশের এলএনজি সরবরাহ নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির পর সরবরাহ কমে যায়। পরে গতকাল বিকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অন্য টার্মিনালও স্বাভাবিকভাবে এলএনজি সরবরাহ করতে পারছে না। এতে গ্যাস সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে।

  • রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

    রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

    আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দিতে অগ্রিম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান এলেই নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছয়টি পণ্যের চাহিদা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতি বছর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাড়তি চাপের মুখে পড়েন রোজাদাররা। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে একশ্রেণির সিন্ডিকেটের তৎপরতা দেখা যায়। এ জন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।

    অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামী রমজান উপলক্ষে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা ও ৩,৩০০ টন খেজুর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কিনতে চায় টিসিবি। সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

    জানা গেছে, আগামী রমজান উপলক্ষে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮ কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী রজমান মাসে ৮৫ লাখ সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কার্ডধারী পরিবারের কাছে এক কেজি ছোলা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের মাঝে এক কেজি খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে এক কেজি করে খোলা ও আধা কেজি করে খেজুর ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

    প্রসঙ্গত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার কথা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর রোজার আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। দেশে পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও রমজান এলেই দাম বাড়তে শুরু করে, আর ভোক্তারা পড়েন ভোগান্তিতে। পরে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও কোনো বছরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট চক্র। এবার যাতে সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই কার্যকর মনিটরিং এবং অনিয়ম পেলেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি আমার দেশকে বলেন, রমজানের পণ্যে দেশে কোনো সরবরাহ সংকট যাতে না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী রমজানে মানুষ যাতে স্বস্তি রমজানে রোজা পালন করতে পালেন করতে পারেন এবং ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি কোনো সংকট হবে না।

    জানা গেছে, আগামী বছরের ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসে চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ টন। মসুর ডালের ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে প্রয়োজন হয় ৮০ হাজার টন। এরই মধ্যে স্থানীয় উৎপাদন হয় প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০-২১ লাখ টন। রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় তিন লাখ টন। ছোলার ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা সর্বোচ্চ দুই লাখ টন, যার বড় অংশই রমজানে প্রয়োজন খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। রমজানে প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো বলা হবে—‘রমজানে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না’। কিন্তু সরকারের সে আশ্বাসে ভোক্তারা কতটুকু আশ্বস্ত হবে, সেটাই এখন বড় বিষয়। কারণ, সরকারের সব প্রস্তুতি যদি আগের সনাতনী ছকেই হয়, তবে মাঠপর্যায় থেকে হয়তো বলা হবে ‘সব ঠিক আছে’, অথচ এর মধ্যেই বড় বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে। আর মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি আরো বলেন, আমরা ক্যাব থেকে বারবার বলে আসছি—আমদানি ও চাহিদার বিষয়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি ও মজুতকৃত পণ্য দেশের সর্বত্র সরবরাহে যেকোনো বাধাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং চাহিদা ও জোগান বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

  • ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

    ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

    আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

    তার দেওয়া তথ্য মতে, সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

  • বিদেশি কর্মীদের ব্যাংক হিসাব খোলায় নতুন নির্দেশনা

    বিদেশি কর্মীদের ব্যাংক হিসাব খোলায় নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ‘এ-৩’ ভিসাসহ বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিট থাকলে প্রচলিত গ্রাহক পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি বিধি পরিপালন সাপেক্ষে তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

    বাংলাদেশে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে আগত বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করতে হয়। এ ওয়ার্ক পারমিটে ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা গ্রহণের শর্তও আরোপ করা থাকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, শুধু ‘এ-৩’ ভিসাধারী বিদেশি নাগরিক নন, অন্যান্য এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কর্মরত ‘এ-৩’ ক্যাটাগরিসহ অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরির বিদেশি নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট হালনাগাদ থাকলে তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে প্রচলিত কেওয়াইসি বিধি পরিপালন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের চুক্তি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের চুক্তি

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি।

    আলমগীর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি এবং একেএম সাইদুজ্জামান, পরিচালক, কৃষি ঋণ বিভাগ-২, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটিজেনস ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল লতিফ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এসএমআর ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিজয় চন্দ্র দাস; বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর অতিরিক্ত পরিচালক রাফিয়া সুলতানাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এই চুক্তির আওতায় সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের অধীনে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিটিজেনস ব্যাংক দেশের কৃষি খাতকে শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    চুক্তির আওতায় সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে সাশ্রয়ী সুদহারে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তা ও গ্রামীণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। অর্থায়নে সহজতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ সুবিধা কৃষি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • উট পালন করতে চান? টাকা দেবে ব্যাংক

    উট পালন করতে চান? টাকা দেবে ব্যাংক

    উট পালন করতে চান; এমন উদ্যোক্তাদের জন্যও এবার কৃষিঋণের দরজা খুলে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় উট পালনকে কৃষিঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে উট পালনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কৃষক ও খামারিরা।

    একই সঙ্গে হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের মতো কার্যক্রমও কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার তা প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নতুন ‘কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উট পালনেও ব্যাংকের ঋণ

    বাংলাদেশে প্রচলিত কৃষিঋণের বাইরে নতুন কিছু সম্ভাবনাময় খাতকে এবার কর্মসূচির আওতায় এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে উট পালন। অর্থাৎ কেউ বাণিজ্যিকভাবে উট পালন করতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    শুধু উট পালন নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারিদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনও নতুন করে কৃষিঋণের আওতায় এসেছে।

    এর ফলে কৃষিঋণের পরিধি শুধু ধান, গম, সবজি বা প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও নতুন ধরনের কৃষিভিত্তিক উদ্যোগেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।

    কৃষকের ঋণ পাওয়া সহজ হবে

    প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দিতে এবার বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষক কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    শস্য ও ফসল উৎপাদনসহ আয় সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে যুক্ত কৃষকদের পল্লি ঋণ দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমাও শিথিল করা হয়েছে।

    কৃষিঋণ নিতে বাধ্যতামূলক পাস বই থাকা বা ইস্যু করার বিষয়টিও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে।

    পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে নারী ও প্রান্তিক কৃষক অগ্রাধিকার

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এসব কৃষকের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখার পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে যেসব কৃষক বা খামারির জমি-জমা কম, কিন্তু কৃষিভিত্তিক ব্যবসা করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের ব্যাংক ঋণের আওতায় আনার সুযোগ বাড়বে।

    ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কৃষি ও পল্লি খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে এই ঋণ কর্মসূচি।

    এ জন্য চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

    থাকছে পুনঃঅর্থায়ন ও বিমা সুবিধা

    নতুন নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা ও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিঋণ গ্রহীতাদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টিও নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে। ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সারা বছর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচুর মতো ফল চাষে ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও ফসল সংগ্রহের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে কৃষি ও পল্লি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করা। আর সেই উদ্যোগে এবার প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি উট পালন থেকে শুরু করে মাছের পোনা ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের মতো নতুন উদ্যোগেও ব্যাংকের ঋণের সুযোগ তৈরি হলো।