অর্থ ও বাণিজ্য

  • আগামী ৫ বছরে মাথাপিছু আয় ৪৫০০ ডলার ও প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ, সংস্কার অগ্রাধিকার

    আগামী ৫ বছরে মাথাপিছু আয় ৪৫০০ ডলার ও প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ, সংস্কার অগ্রাধিকার

    আগামী পাঁচ বছরে দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় সাড়ে চার হাজার ডলারে উন্নীত করতে চায় সরকার। ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯১ ডলার।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি শীর্ষক প্রতিবেদনে মাথাপিছু আয়ের এ লক্ষ্য আছে। বিদায়ী অর্থবছরে মাথাপিছু গড় আয় ২ হাজার ৯৫৮ ডলার।

    জিইডির ওই প্রতিবেদনে আগামী পাঁচ বছরে সরকার যেসব খাতে সংস্কার ও উন্নয়ন করতে চায়, সেই পরিকল্পনা আছে। গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়।

    মাথাপিছু আয় ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়সহ যত আয় হয়, তা একটি দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে এই হিসাব করা হয়। এটি দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয়।

    কয়েক বছর ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। পরিকল্পনা অনুসারে ২০৩০–৩১ অর্থবছর নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

    এদিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আগামী পাঁচ বছরে রেকর্ড পর্যায়ে নিতে চায় সরকার। চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঠিক করা হয়েছে। জিইডির প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছরেই প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ২০৩০–৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৮ শতাংশে পৌঁছাবে।

    জিইডির পরিকল্পনা অনুসারে, অর্থনীতির রূপান্তরে আগামী পাঁচ বছরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম বছরে বিনিময় হার স্থিতিশীল করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা হবে। প্রথম বছরকে বলা হয়েছে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতার বছর।

    প্রথম থেকে তৃতীয় বছরকে বলা হচ্ছে পুনঃস্থাপনের বছর। এই সময়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, কার্যকর সরকারি ব্যয় নিশ্চিত করা, চাপে থাকা ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরকে বলা হচ্ছে পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বছর। এ সময়ে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘টেক–অফ’ করা হবে।

    অর্থনীতির এসব রূপান্তরে ব্যাংক, রাজস্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন খাতের সংস্কার পরিকল্পনা জিইডির ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, এই পরিকল্পনাটি সরকারের একটি ভবিষ্যৎ ভাবনা। এতে উন্নয়নের স্পৃহা আছে। মোটাদাগে কিছু দিকনির্দেশনা আছে। কিন্তু কর্মসংস্থান, কর, ব্যাংক, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মতো বিভিন্ন খাতে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়সীমা ধরে কর্মপরিকল্পনা দরকার।

    এম মাসরুর রিয়াজ আরও বলেন, অর্থনীতিতে একধরনের সংকট বা সমস্যা আছে। যেমন তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি খাত, বিনিয়োগ মন্দা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি। অর্থনীতিতে চালিকা শক্তি কম। অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ কাটাতে কার্যকর ও বাস্তকবায়নযোগ্য কর্মকৌশল দরকার। এই জিইডির পরিকল্পনায় তা নেই।

    ব্যাংক

    ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আদায়, তদারকি জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    দেশের ব্যাংক খাতে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এতে অনেক ব্যাংকের মূলধন ও মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

    সরকার তিনটি ধাপে এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। প্রথম বছরে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, পরবর্তী দুই বছরে ব্যাংক পুনর্গঠন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরে গভীর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    প্রথম বছরে ব্যাংক খাতের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক, খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পরবর্তী দুই বছরে ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সংস্কারের শেষ ধাপে ব্যাংকগুলোকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    ব্যাংকের সুশাসন ও স্বচ্ছতা বাড়ানো, তথ্য ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আনা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনাগত স্বাধীনতা বাড়াতে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

    রাজস্ব

    জিইডির পরিকল্পনা অনুসারে, রাজস্ব খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও আদায় বিভাগ আলাদা করা হবে। অবশ্য এই উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছে।

    রাজস্ব খাতের অন্য সংস্কারগুলোর মধ্যে আছে—একক ভ্যাট হার প্রবর্তন; করছাড় কমিয়ে আনা; ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যূনতম কর নির্ধারণ করে অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতা আনা; ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ করা।

    ২০৩০–৩১ অর্থবছরে কর–জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কম কর–জিডিপি অনুপাতের দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ।

    যোগাযোগ ও পরিবহন

    যোগাযোগ খাতের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বেশ কিছু বড় প্রকল্প নিতে চায়। যেমন নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা–লাকসাম–ফেনী কর্ডলাইন (রেলপথ)। এ ছাড়া রেলের ঢাকা–চট্টগ্রাম ডাবল লাইনে বিদ্যুতায়ন করতে চায় সরকার। পাশাপাশি ঢাকা–পঞ্চগড় ডাবল লাইন; ঢাকা–চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডাবল লাইন করার পরিকল্পনাও আছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রেল সংযোগের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই পরিকল্পনায়।

    এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরের জন্য মেট্রোরেল, এলিভেটেড রেল, কমিউটার রেললাইন, মনোরেল করার পরিকল্পনা আছে।

    তরুণদের কর্মসংস্থান

    বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার সবচেয়ে বেশি। সরকার তরুণদের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। যেমন ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫৬০ জন তরুণকে স্টার্টআপ ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া হবে। প্রতিবছর ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।

    সুশাসন

    জিইডির প্রতিবেদনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুশাসন সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের ফলাফল নির্ধারণের একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এর আওতায় রয়েছে সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, আইনের শাসন মেনে চলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুশাসন কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করলে এমন একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে কার্যকর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় থাকে।

  • পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

    পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

    দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এতে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত এক সেমিনারে এই সমীক্ষার তথ্য জানানো হয়। ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অংশীজনেরা অংশ নেন।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের পোশাক কারখানায় চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে। এটি ১৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

    খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ৫০০ কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে। নানা সুবিধা দিয়ে আরও শিগগিরই ১ হাজার ৩০০ কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। বাকি ১ হাজার ৫০০–এর মতো কারখানায় নীতিসহায়তাসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উপযোগী করা যাবে। তিনি মনে করেন, সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমানো প্রয়োজন।

    শুল্কায়নে জটিলতার অভিযোগ

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্কসুবিধা দেওয়া হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে সাড়ে ১৩ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হলেও প্রতি কেজিতে তিন ডলার করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে শুল্ক ভার ২৭ শতাংশের বেশি পড়ে। এতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ব্যবহারকারীদের ওপর খরচের বোঝা বাড়ে।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বললেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি কম।

  • জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

    জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

    ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন পর্ব শেষে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রপ্তানিকে গতিশীল করা। সেই পরীক্ষায় দেশের রপ্তানি খাতের চিত্রে যেমন ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে, তেমনি জ্বালানি সংকটে প্রবৃদ্ধির দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকটে রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৬,৩৪০ কোটি (৬৩.৪ বিলিয়ন) ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫,৫২০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮২০ কোটি ডলার আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সম্প্রতি এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্জিত রপ্তানি আয়ের তুলনায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশি ও বৈশ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ উচ্চাভিলাষী।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রায় পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে তৈরি পোশাক খাতের। এ খাত থেকে ৪,৪৫০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩,৮৭০ কোটি ডলার।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানি থেকে ৫,৫০০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ওই অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬,৩৫০ কোটি (৬৩.৫ বিলিয়ন) ডলার। তবে বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি আয় কম হওয়ায় তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। দেশে ইতোমধ্যে গ্যাসের সংকট নতুন করে আবার তীব্র হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে চাহিদা কমায় পণ্যের মূল্য বাড়ছে না। এ অবস্থার মধ্যে সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি খাত স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বরং মাসভেদে ক্রয়াদেশ, বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা ও শিপমেন্টের ওপর নির্ভর করেই রপ্তানি আয় ওঠানামা করছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-জুলাই ছয় মাসে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ২৪.০৮ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ২০২৬ সালের একই সময় আয় হয়েছে ২৪.৩০ বিলিয়ন ডলার। ফলে ছয় মাস শেষে প্রবৃদ্ধি খুবই সামান্য—প্রায় ০.৯ শতাংশ। অথচ এ সময়ের মধ্যে দুই দফা বড় পতন এবং দুই দফা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয় ৩.৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম। দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় মাসটিতে বড় ধাক্কা খায় রপ্তানি। ফেব্রুয়ারিতে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক ১৩ শতাংশের বেশি কমার চিত্র উঠে আসে।

    মার্চে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। ওই মাসে রপ্তানি আয় নেমে আসে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের মার্চে আয় হয়েছিল প্রায় ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। রমজান, দীর্ঘ ঈদের ছুটি এবং উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্নের পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এ সময়ে রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি করে।

    এরপর এপ্রিলে বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটে। রপ্তানি আয় ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের একই মাসের প্রায় ৩.০২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩২.৯২ শতাংশ বেশি। মার্চের ছুটিজনিত উৎপাদন ও শিপমেন্টের ব্যাকলগ এপ্রিলে পাঠানো এবং তৈরি পোশাকের চালান বাড়ার কারণে এ প্রবৃদ্ধি আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    তবে এ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা মে মাসে ধরে রাখা যায়নি। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয় ৪.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭.০৭ শতাংশ কম। ঈদের দীর্ঘ ছুটি ও বৈশ্বিক চাহিদার মন্থরতা এ পতনের অন্যতম কারণ ছিল।

    জুনে আবার রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। মাসটিতে আয় হয়েছে ৪.২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ২৫.৯১ শতাংশ বেশি। তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর শক্তিশালী পারফরম্যান্সে মাসটি অর্থবছরের শেষদিকে রপ্তানিতে স্বস্তি আনে।

    নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় আরো বেড়ে ৪.৭২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। জুনের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয় ১২.৪৯ শতাংশ। তবে আগের বছরের জুলাইয়ের ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় আয় ০.৯ শতাংশ কম। তৈরি পোশাক রপ্তানিও এ মাসে ১.৯২ শতাংশ কমেছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, কোনো সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। তারপরও ব্যবসা পরিচালনাকে সহজতর করে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করার জন্য এবং অর্থনীতির গতিধারা ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এটি আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য অনেক সহায়ক হবে এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করবে। করনীতিতেও ভালো কিছু পরিবর্তন এনে ব‍্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। এর মধ্যে ব‍্যাংক খাতের সমস‍্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি। এ সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আশা করি তারা দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।

    সামগ্রিক চিত্র বলছে, রপ্তানি খাত এখনো স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বরং মাসভেদে ক্রয়াদেশ, বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা ও শিপমেন্টের ওপর নির্ভর করেই রপ্তানি আয় ওঠানামা করছে। গত অর্থবছরেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ০.৫৮ শতাংশ কম ছিল।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

    এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।

    নতুন এই বৃদ্ধির ফলে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৬৩ বার। এর মধ্যে ৩৩ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩০ দফা কমেছে।

  • ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

    ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

    ফেডারেল ইনস্যুরেন্স পিএলসির ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোম্পানির ২০২৫ সালের বার্ষিক হিসাব ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।

    কোম্পানির চেয়ারম্যান এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস সিদ্দিকী; নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল; অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন; বিনিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান আবেদা আক্তার; মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি এবং গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ প্রতিকার কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান; সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালক মোরশেদুল শফি, খাদিজাতুল আনোয়ার, তাহরির নাওয়াজ, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, তৌহিদুল আলম, মমতাজ বেগম, রাকিবুল হক, হাসিনা বানু, আবরারুল হক ও জিয়া উদ্দিন; বিকল্প পরিচালক সৈয়দ আমজাদ হোসেন ও রাশেদা বেগম; মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সিএফও মাসুদ হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেডারেল ইনস্যুরেন্সের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ক্রেডিট রেটিং ‘এএএ’ অর্জনে শেয়ারহোল্ডাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া ও ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব সত্ত্বেও কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

  • চীনের রোবট কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রথম দিনেই বাড়ল ৬০০%

    চীনের রোবট কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রথম দিনেই বাড়ল ৬০০%

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাকৃতি রোবট নির্মাণ কোম্পানি ইউনিট্রি রোবোটিকস আজ বুধবার সাংহাইয়ের শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করেছে। লেনদেনের শুরুতেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬০০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

    বহুল প্রত্যাশিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে চীনা কোম্পানিটির শেয়ার ১ হাজার ১০০ ইউয়ানে (১২০.৬০ পাউন্ড বা ১৬৩.১২ ডলার) লেনদেন শুরু হয়। পরে কিছুটা কমে শেয়ারটির দাম প্রায় ৯০০ ইউয়ানে নেমে আসে।

    বলা হচ্ছে, চীনের রোবটশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, সে ক্ষেত্রে এই তালিকাভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্টার মার্কেটকে অনেক সময় চীনের ‘ন্যাসডাক’ বলা হয়।

    বিশ্বের রোবট ও রোবট পরিচালনাকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেলের বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যখন মুখোমুখি, ঠিক তখনই শেয়ারবাজারে ইউনিট্রির অভিষেক হলো।

    এটা অবশ্য চীনের মানবাকৃতি রোবট নির্মাণকারী কোম্পানির শেয়ারবাজারে প্রথম তালিকাভুক্তি নয়। তবে মূল ভূখণ্ড চীনে এ ধরনের কোম্পানির এটাই প্রথম তালিকাভুক্তি।

    শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে ঘরে স্মার্ট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার—বিভিন্ন ধরনের রোবট ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার মানুষের মতো দেখতে ও দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম—এমন রোবট নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ আসছে। টেসলা, বিওয়াইডি ও অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানিও এমন রোবট তৈরি করছে। এসব রোবট মানুষের মতো অনেক কাজ করতে পারে।

    দেখা যাচ্ছে, একসময় যে রোবটের কথা সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে লেখা হতো বা সেই ঘরানার চলচ্চিত্রে দেখা যেত, সেই রোবট এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ফলে এমন দিন হয়তো দূরে নেই, যখন মানুষের ঘরে সাহায্যকারী হিসেবে মানুষ নয়, রোবটই কাজ করবে। এআইয়ের যুগে এ কল্পনা ভিত্তিহীন নয় বলেই ধারণা করা যায়।

    রোবটশিল্পের জন্য নতুন মানদণ্ড

    শেয়ারবাজারে ইউনিট্রির অভিষেকের বিশেষ তাৎপর্য আছে। এ শিল্পের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। সেই সঙ্গে রোবটশিল্পে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যে বাড়ছে, এই তালিকাভুক্তি তার বড় নজির।

    বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রোবোস্ট্র্যাটেজির জ্যাক পিয়ারসনের মতে, ইউনিট্রির তালিকাভুক্তি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মানবাকৃতি রোবট নির্মাণকারী কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি অন্যদের জন্য মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে।

    পিয়ারসন বলেন, ইউনিট্রির সাফল্যের মধ্য দিয়ে চীনের রোবটশিল্প ‘পরিবর্তনের পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে তৈরি রোবট আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর করছে।

    ইউনিট্রির আইপিওর প্রায় তিন বছর আগে অপেক্ষাকৃত ছোট চীনা কোম্পানি ইউবিটেক রোবোটিকস হংকংয়ের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

    এ বছরের জুলাইয়ে ইউবিটেক বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। কোম্পানিটি এমন কিছু রোবট উন্মোচন করে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষায়, সেগুলো ‘অত্যন্ত বাস্তবসম্মত’। এসব রোবট মানুষের সঙ্গে আবেগপ্রবণ সহায়তা ও দৈনন্দিন যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    ইউবিটেক ও ইউনিট্রির পথ ধরে লেজু রোবোটিকস, এজিবটসহ আরও কয়েকটি রোবট নির্মাণকারী কোম্পানি আগামী কয়েক মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

    তবে শিল্পটি নিয়ে এ আশাবাদের মধ্যেই শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বাইরে রোবটের চাহিদা নিয়ে সংশয় আছে।

    হ্যারল্ড সো বলেন, ঘরের কাজে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়—এমন পর্যায়ে যেতে রোবটের এখনো কয়েক বছর সময় লাগবে। এর জন্য ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানো, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়ের সমাধান করতে হবে।

    হ্যারল্ডের মতে, শুরুতে কারখানা ও হাসপাতালের মতো জায়গায় রোবটের সবচেয়ে বড় বাজার তৈরি হবে।

    চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা

    রোবট ও এআই এখন চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ক্ষেত্র। দুই দেশই এ শিল্পকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত জুলাই মাসে জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন উৎপাদন খাত সুরক্ষার স্বার্থে চীনে নির্মিত নতুন মানবাকৃতি ও চার পায়ের রোবট আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    বেইজিং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। চীনের অভিযোগ, ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক বিষয়কে ‘রাজনৈতিকীকরণ’ করছে। এআই মডেল, বৈদ্যুতিক গাড়িসহ অন্যান্য চীনা প্রযুক্তিতেও যুক্তরাষ্ট্র কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

    পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের ক্রিস্টিন ওয়ানের মতে, রোবটশিল্পে চীনের আধিপত্যের কারণে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। সেটা হলো, চীনা কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছে।

    এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটন যতই চেষ্টা করুক না কেন, চীনকে এগিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সহজ হবে না।

    ওয়ান আরও বলেন, চীনা সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে গিয়ে অনেক দেশের উৎপাদনব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি আছে। ফলে তারাও হয়তো সহজে চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইবে না।

    এখন পর্যন্ত কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা কিংবা ভোক্তা বাজারে পশ্চিমাদের তৈরি রোবট চীনা রোবটের মতো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রোবট কোম্পানি বোস্টন ডায়নামিকস জানিয়েছে, দুই বছরের মধ্যে গাড়ি কোম্পানি হুন্দাইয়ের কারখানায় মানবাকৃতি রোবট ব্যবহার শুরু হবে। বোস্টন ডায়নামিকসের সিংহভাগ মালিকানা দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাইয়ের হাতে।

    অ্যামাজন ও টেসলার মতো আরও কয়েকটি মার্কিন কোম্পানিও মানবাকৃতি রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছে।

    এ বছরের শুরুতে ইলন মাস্কের টেসলা জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ায় মডেল এস ও মডেল এক্স গাড়ি তৈরির কারখানায় অপ্টিমাস নামের মানবাকৃতি রোবট তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

    অ্যামাজন ২০২৩ সালে তাদের গুদামে মানবাকৃতি রোবট ব্যবহারের পরীক্ষা চালিয়েছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের রোবটপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

    রোবট–গবেষক ডেভিড সু বলেন, বিষয়টি এখন পরিষ্কার—রোবটপ্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব হারিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রোবট কোম্পানিগুলোর খবর এখন আর তেমন শোনা যায় না। খবরের শিরোনামে এখন চীনের রোবট কোম্পানিগুলোরই আধিপত্য।

    ডেভিড সুর ভাষায়, ‘প্রযুক্তির দুনিয়ায় তারাই এখন আমেরিকার জায়গা দখল করেছে।

  • মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ৫ বছরে ৬৬ হাজার অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি সেবার মান নিয়ে

    মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ৫ বছরে ৬৬ হাজার অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি সেবার মান নিয়ে

    • নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৬৫ হাজার অভিযোগ।
    • অভিযোগ করার প্রক্রিয়া সবার জানা থাকলে অভিযোগের সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়াত: মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
    • কিছু অভিযোগ রাতারাতি নিষ্পন্ন করা সম্ভব হয় না: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

    মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগের তালিকা দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। সেবার মান, ইন্টারনেটের গতি (ডেটা স্পিড), মূল্য সংযোজন পরিষেবা (ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস-ভ্যাস), রিচার্জ/বিলিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে গত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশের চার মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে বিটিআরসিতে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) জমা পড়েছে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সেবার মান নিয়ে। অভিযোগের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে রবি। এরপর যথাক্রমে গ্রামীণফোন, টেলিটক ও বাংলালিংক।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, কমিশনে আসা অভিযোগগুলো মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযোগ। কোনো সেবা নিয়ে সমস্যা হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে অভিযোগ জানাতে হয়। অপারেটরের কাছ থেকে সমাধান না পেলে গ্রাহক বিটিআরসির দ্বারস্থ হন।

    কোন অপারেটরের বিরুদ্ধে কত অভিযোগ

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তারা মোট ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে বিটিআরসি। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে রবির বিরুদ্ধে- ২৪ হাজার ৮৭৪টি। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৮৩৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ নিষ্পত্তির বাইরে রয়েছে ৩৫টি অভিযোগ।

    অভিযোগের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন। অপারেটরটির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২১ হাজার ৫২৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৮৯৫টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৩১টি অভিযোগ।

    টেলিটকের বিরুদ্ধে গত সাড়ে ৫ বছরে অভিযোগ এসেছে মোট ১১ হাজার ৫৯৪টি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৪৪৭টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৪৭টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়েছে। আর বাংলালিংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে ৮ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৬৭৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে, অনিষ্পন্ন রয়েছে ৩৬টি।

    মোট অভিযোগের সংখ্যায় রবি শীর্ষে থাকলেও গ্রাহকসংখ্যার অনুপাতে টেলিটকের অভিযোগের হার সবচেয়ে বেশি। টেলিটকের মোট গ্রাহকসংখ্যার বিপরীতে প্রায় শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ অভিযোগ এসেছে। রবির ক্ষেত্রে এ হার শূন্য দশমিক শূন্য ৪২ শতাংশ, গ্রামীণফোনের শূন্য দশমিক শূন্য ২৫ এবং বাংলালিংকের শূন্য দশমিক শূন্য ২৩ শতাংশ।

    সেবার মান নিয়ে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি

    বিটিআরসি বলছে, গ্রাহকেরা সেবার মান (কিউওএস) নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করে থাকেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিআরসির প্রতিবেদনে এই প্রবণতা দেখা গেছে। ওই অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১১ হাজার ৪২৭টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে সেবার মান-সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫২৯টি। ডেটা স্পিড নিয়ে ৯২৬টি, বিবিধ বিষয়ে ১ হাজার ৩৩১টি, ভ্যাস নিয়ে ৮১১টি, লাইসেন্স-সংক্রান্ত ৭৯৮টি, রিচার্জ/বিলিং নিয়ে ৪৬৭টি, প্যাকেজ মাইগ্রেশন নিয়ে ৬৪৭টি এবং ডেটা ভলিউম-সংক্রান্ত ৪৮১টি অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি), কল-এসএমএস, সিম নিবন্ধন ও মালিকানা, ট্যারিফসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ এসেছে।

    বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন বলছে, মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় থাকা ‘সেবার মান’, ‘ডেটা স্পিড’, ‘ডেটা ভলিউম’ বা ‘কল ও এসএমএস-সংক্রান্ত’ বিষয়গুলো মূলত গ্রাহকের দৈনন্দিন ভোগান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নেটওয়ার্ক না পাওয়া, কথা বলার সময় কল কেটে যাওয়া, ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, প্যাকেজের ডেটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সেবা চালু হয়ে টাকা কেটে নেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা।

    মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মাশরিক আহমেদ বলেন, ‘বাসায় মোবাইলে কথা বলতে গেলে শুধু এক রুম থেকে আরেক রুমে ছুটতে হয়। কোনো রুমে একেবারেই নেটওয়ার্ক থাকে না। কোনো রুমে কিছুটা পাওয়া যায়। ঢাকা শহরেই যদি নেটওয়ার্কের এই অবস্থা হয়, তাহলে দেশের অন্যান্য এলাকার অবস্থা তো আরও খারাপ।’

    অপারেটরদের বক্তব্য

    গ্রাহকদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় বলে দাবি করেছে মোবাইল অপারেটরগুলো। গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের সকল প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছেন আমাদের গ্রাহক। আমরা গ্রাহকদের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তা সমাধানের চেষ্টা করি।’

    শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরবর্তী করণীয় জানানো হয়। গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষের আস্থাভাজন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মানের সেবা দিতে নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, বিটিআরসি থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিকে রবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি সেবার মান, ডেটা স্পিড ও ভ্যাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নিয়মিত নেটওয়ার্ক ও সেবা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিটিআরসিতে রবির বিষয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলোর ৪০ শতাংশের বেশি অনুসন্ধানমূলক বা ইনকোয়ারি বলে দাবি করেন সাহেদ আলম।

    তবে বিটিআরসি বলছে ভিন্ন কথা। বিটিআরসির পরিচালক (সেবা) লে. কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন বলেন, যেসব গ্রাহক অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে প্রতিকার পান না, সাধারণত বিটিআরসিতে কেবল তাঁরাই অভিযোগ করতে পারেন। যদি শুধুমাত্র অনুসন্ধানমূলক বিষয় বা ইনকোয়ারি হয়ে থাকে, সেটা বিটিআরসিতে আসার কথা নয়। সেটা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রেই সমাধান হয়ে যায়।

    বিটিআরসিতে অভিযোগ জানাবার প্রক্রিয়া

    নির্ধারিত অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিটিআরসিতে অভিযোগ জানাতে পারেন। এর মধ্যে ‘১০০’ শর্টকোডে কল, ওয়েববক্স বা ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ নথিভুক্ত করানো যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিটিআরসি।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আগে মাসে রাফলি ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অভিযোগ আমরা নিষ্পত্তি করতে পারতাম। গত মাসে এটা ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পেরেছি।’ তবে সব অভিযোগ রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে নেটওয়ার্ক কাভারেজ বা অবকাঠামো সংক্রান্ত অভিযোগ সমাধানে সময় লাগে। তিনি বলেন, ‘অনেক অভিযোগ আছে, যেগুলো মাস কেন, বছর দিয়েও করা যায় না। যেমন, একজন বলছেন তাঁর এলাকায় কাভারেজ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এই অভিযোগ ওভারনাইট কোনোভাবেই সমাধান করা সম্ভব নয়।’

    এদিকে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে বিটিআরসিতে আসা অভিযোগের সংখ্যা গ্রাহকদের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অভিযোগ করার পদ্ধতিই জানেন না। জেলা পর্যায়ে বিটিআরসির অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের বড় অংশ অভিযোগ করতে পারেন না। যদি সক্রিয়ভাবে অভিযোগ করতে পারতেন, তাহলে এই অভিযোগ নিশ্চয়ই ৬৬ হাজার হতো না, কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যেত।

    মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, অভিযোগ গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ করা এবং জেলা পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিটিআরসির কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একটি নম্বরে কল করে যে অভিযোগ জানানো যায়, এটা নিয়ে আরও প্রচারণা চালানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

  • একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল অয়েল ট্যাংকার কেনা

    একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল অয়েল ট্যাংকার কেনা

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন ও চারটি সংশোধিত।

    আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।

    প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাংকার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, সেটা দেখে এই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে তুরাগ নদ রক্ষার বদলে তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্পের চিন্তা করা হচ্ছে। আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কী

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করা, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন), ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) ও রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

    ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণ করেছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি। এ লক্ষ্যে ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকের মধ্যে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    তিন বছর মেয়াদি এ রিভলভিং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষি ও পল্লী খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতিসহ পল্লীভিত্তিক আয়বর্ধক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    স্কিমের আওতায় কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দেয়ার বিধান রয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।

    যমুনা ব্যাংকের পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিআরও মো. শাহিদুল ইসলাম এবং হেড অব এগ্রিকালচারাল লোন ইউনিট মো. আবু বক্কর সিদ্দিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি ক্রেডিট বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক-২ মো. সাখাওয়াত হোসেন ও অতিরিক্ত পরিচালক রাফিয়া সুলতানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজতর অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় যমুনা ব্যাংক।

  • চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই

    চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই

    বর্তমানে দেশে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাসের তেলের মজুত বাড়িয়ে ছয় মাসে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেড় মাসের যে মজুত রয়েছে, তা দ্রুত তিন মাসে এবং পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ছয় মাসে উন্নীত করা হবে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মহেশখালীর ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যা এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার স্থানীয়ভাবে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি সাময়িক উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যমান সমস্যা দূর করতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বিদেশ থেকে নিয়মিত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গ্যাস আমদানি করলেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না, বরং এর জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি স্টেশন স্থাপন করতে হবে। নতুন এলএনজি স্টেশন বসাতে কিছুটা সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে শিগগিরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।