অর্থ ও বাণিজ্য

  • বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

    বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

    দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সম্ভব নয়। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা কার্যকর করা ততটাই কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সরাসরি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার একটি বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়; এর জন্য সময় প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। এর আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকার পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

    কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ছাড়া সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই।

    একইসঙ্গে ব্যাংকঋণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। এ জন্য দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন বন্ড চালুর বিষয়ও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে প্রাথমিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    সেমিনারে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারাও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    গত মাসের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় কয়েক ধরনের সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৌরভ আমান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজির দাম এখনও অনেক বেশি। সেগুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। বাকি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা এখন তুলনামূলক ঠিক আছে। গত মাসের তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কিছুটা কম।’

    ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে এসব সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে সবজির দাম এমনই থাকবে।’

    এদিকে মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

    মুরগি বিক্রেতা জিকরুল আযম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (২১ আগস্ট) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’

    মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নারিন্দা বাজারের ক্রেতা মাক্কী বলেন, ‘বাজারে মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে কোনও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।’

    মাছ বিক্রেতা শফিক মিয়া বলেন, ‘মাছের দামে বড় কোনও পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার বেড়ে যাচ্ছে।’

    ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। একটির দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।

    নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

  • সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

    সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

    গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গণমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি নিজেদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে এ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তার লক্ষ্যে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন উদ্যোগের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অর্থায়নে এ প্যাকেজ গঠন করা হয়েছে।

    এ অর্থায়নের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি, রফতানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ১০ হাজার কোটি টাকা আর দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র তৈরিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রাখবে এ স্কিম। স্কিমের আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ ও পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ নেয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শস্য ও ফসল উৎপাদনের জন্য একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে এ সীমা ২০ লাখ টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লী ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়ার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে এসব কৃষক কোনো জামানত ছাড়াই এককভাবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এ ঋণের বিপরীতে শুধু উৎপাদিত শস্য ও ফসল দায়বদ্ধকরণ হিসেবে থাকবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ তহবিলটির গুরুত্ব ও বহুমুখী ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’

  • নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

    গত মাসের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় কয়েক ধরনের সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৌরভ আমান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজির দাম এখনও অনেক বেশি। সেগুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। বাকি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা এখন তুলনামূলক ঠিক আছে। গত মাসের তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কিছুটা কম।’

    ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে এসব সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে সবজির দাম এমনই থাকবে।’

    এদিকে মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

    মুরগি বিক্রেতা জিকরুল আযম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (২১ আগস্ট) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’

    মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    নারিন্দা বাজারের ক্রেতা মাক্কী বলেন, ‘বাজারে মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে কোনও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।’

    মাছ বিক্রেতা শফিক মিয়া বলেন, ‘মাছের দামে বড় কোনও পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার বেড়ে যাচ্ছে।’

    ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। একটির দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।

    নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

  • টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ কিংবা সাগরে থাকা মানুষকে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা চালু করেছিল বাংলালিংক। এ কার্যক্রম সফল হয়েছে দাবি করে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবা এবার বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে চায় অপারেটরটি। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলালিংক।

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি।

    যেভাবে কাজ করে ডিটুসি

    সাধারণ মুঠোফোনের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত ভূমিতে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল। ফোন থেকে পাঠানো সংকেত প্রথমে কাছের মোবাইল টাওয়ারে যায়। কিন্তু কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায়। এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বার্তা বা ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। এ প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, সেবা পেতে আলাদা স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

    প্রযুক্তিগতভাবে উপযোগী সাধারণ ফোর–জি মুঠোফোন ব্যবহার করেই সেবা নেওয়া সম্ভব। মোবাইল টাওয়ারের কভারেজের বাইরে গেলে ফোনটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে।

    কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    কেন দরকার

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট মুঠোফোন গ্রাহক ১৯ কোটির কাছাকাছি। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার রয়েছে ২১ হাজার ৩৬৯টি। এর বাইরে সাত হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে কম জনসংখ্যার বা দুর্গম এলাকায় টাওয়ার স্থাপনে অপারেটরদের আগ্রহ কম থাকে।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেখানে টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে সীমিত যোগাযোগসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে।

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। গত মে মাসে সরকার দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট (পিওসি) পরীক্ষার অনুমতি দেয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে মোবাইল সংযোগ দেওয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সময় বান্দরবান, সন্দ্বীপসহ নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সেখানে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং, ওটিটি ভয়েস কলসহ বিভিন্ন কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।

    সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে

    বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান

    বাণিজ্যিক অনুমোদন চেয়ে চিঠি

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলালিংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত এলটিই-সক্ষম মুঠোফোন কোনো বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি ডিটুসি সেবায় যুক্ত হতে পারে—পিওসিতে তা প্রমাণিত হয়েছে। এই ভিত্তিতে বিদ্যমান সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস অপারেটর লাইসেন্সের আওতায় প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি চেয়েছে তারা।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও অন্য সামুদ্রিক পেশাজীবীরা, যাঁরা বর্তমানে স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের বাইরে থাকেন, তাঁরাও এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলালিংক আরও জানিয়েছে, সেবা চালুর ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত সব শর্ত ও নির্দেশনা মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    জানতে চাইলে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।’

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    শুরুতে যে সেবা মিলবে

    বাংলালিংক সূত্র বলছে, বাণিজ্যিক অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতেই সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিরেক্ট-টু-সেলের বর্তমান ব্যবহারে মূল সুবিধা হলো, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায়ও সীমিত ব্যান্ডউইথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

    নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে প্রশ্ন

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পরও বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসি বাংলালিংককে যে অনুমতি দিয়েছিল, তা ছিল শুধু পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য। সেই অনুমোদনকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না—এমন শর্তও ছিল।

    এর বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার জন্য ব্যবহৃত স্পেকট্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আওতায় মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি ব্যান্ড স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক কাঠামোতেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিটিআরসির এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) স্যাটেলাইট সার্ভিসের গাইডলাইনে এই লাইসেন্সের আওতায় ‘স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইএমটি বলতে মূলত মুঠোফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও স্পেকট্রামকে বোঝায়।

    যদিও বিটিআরসির একটি সূত্র বলছে, ডিটুসি প্রযুক্তির বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখনো কমিশনের হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান কী?

    বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান কী?

    কারেন্ট যেমন যাইতেছে, আবার টাকাও বেশি কাটতেছে। বিদ্যুতের কার্ড ভরেই সারতে পারি না। অনেক টাকা নিতেছে।’

    সাভারে পল্লী বিদ্যুতের একজন গ্রাহক রোজিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানান। রোজিনার মতো আরো বেশ কয়েকজন ভোক্তার অভিযোগ, দিনে-রাতে বিদ্যুৎ সঙ্কট অনেক বেশি।

    লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিল দুটোই বেড়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুতের গ্রাহকদের।

    বিশেষ করে গ্রামে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কিছু এলাকায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে বা এখনো হচ্ছে।

    বাংলাদেশে বিদ্যুতের মোট পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা তিন কোটি ৭১ লাখ। সেই হিসেবে লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামে-গঞ্জে-মফস্বলের সাধারণ গ্রাহকরাই বিদ্যুতের বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

    বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতেও সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

    শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানা চালু রাখে, যেটি ক্যাভটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে পরিচিত। গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পকারাখানায় বিদ্যুতের ঘাটতিও এবছর তুলনামূলক বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

    গাজীপুরের একজন কারখানা মালিক বলেন, আমরা ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাচ্ছি। সেটার কারণে আমাদের প্রোডাকশন কস্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে। বিদ্যুতের কারণে প্রোডাকশন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অনেকের ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণে এখানে খরচ অনেক বেশি।

    তিনি জানান, বিদ্যুতের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের থেকে অর্ডার পেলেও সঠিক সময় কাজ শেষ করতে পারছে না অনেকে, তারফলে চাপ বাড়ছে। বায়ার এয়ার শিপমেন্টের কথা বলছে। অথবা বলছে- যদি তোমরা সময়মত শিপমেন্ট না দিতে পারো আমরা অন্যত্র অর্ডারটা নিয়ে যাবো।

    এদিকে, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে এ মাসে দেশের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যে কারণে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

    এছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাছে পৃথক আবেদন করেছে গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিস।

    বিদ্যুৎ সক্ষমতা এবং সঙ্কট
    বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ ৩৩ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য হলো নেপাল ও ভারত থেকে আমদানিসহ গ্রিড পর্যায়ে সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।

    বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে চলতি বছর মে মাসে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

    তবে উৎপাদনে রেকর্ড করার সাথে এবছর লোডশেডিং বা ঘাটতির দিক থেকেও গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

    পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ বা পিজিসিবি’র তথ্যে গত ১০ই অগাস্ট একদিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।

    বিদ্যুৎ বিভাগের হিসেবে এ বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

    সরকার বলছে, প্রাথমিক জ্বালানির সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এবছর এলএনজি আমদানিতে সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়েছে।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির পরিস্থিতির উন্নতি করতে তাদের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। বিদ্যুৎ খাতের দশ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

    বাংলাদেশে মারাত্মক বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বিগত সরকার জরুরি ভিত্তিতে তেলভিত্তিক, আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ আইন প্রণয়ন করে বিনা দরপত্রে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেয় তারা।

    দেশে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয় ওই সরকারের সময়। স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নে নানা প্রচারও তারা করে গেছে।

    বাস্তবতা হলো– উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলেও গ্যাস উত্তোলন বাড়েনি; কয়লা উত্তোলন করা হয়নি, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে। বড় সমস্যা তৈরি হয় ব্যয়বহুল প্রাথমিক জ্বালানি এবং আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে।

    এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসেনি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

    এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা থাকা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ খরচ বেড়েছে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুতের সঙ্কট ক্রমাগত জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।’

    বিগত সরকারের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত নির্মাণ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন পরিকল্পনা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারেনি। শেষ দিকে এসে ডলার ও জ্বালানি সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মোটামুটি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে গেলেও দায়দেনা ও ভর্তুকি বেড়েছে। নতুন সরকার এসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি অবকাঠামোর যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

    কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা, নীতি ও দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।

    তার বিশ্লেষণ হলো– বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকার ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারেনি, গ্যাসের আমদানি বেড়েছে এবং নবায়নযোগ্য খাত থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারেনি।

    অতীতে একদিকে ব্যয়বহুল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ওদিকে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে। আর সেটা করতে গিয়ে আইন পরিবর্তন করেছে, প্রতিযোগিতা শূন্য করে ফেলেছে। খুব কস্টলি বিনিয়োগ আনা হয়েছে। ব্যাপকহারে লুটপাটের ক্ষেত্র কাঠামোগতভাবে তৈরি হয়েছে, যে কাঠামো এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়নি এবং ভাঙার কথা সরকারের মাথায় আছে কি না তা কোনোভাবেই দেখা যাচ্ছে না।

    শামসুল আলমের বিশ্লেষণে কাঠামোগত দিক থেকেও বিদ্যুৎ খাত সরকারের সেবাখাতের জায়গা থেকে সরে মুনাফাভিত্তিক একটা খাতে পরিণত হয়েছে, যা সঙ্কট বৃদ্ধি করেছে।

    তার মতে, সরকার জনগণকে সেবা দেবে সেটা কস্ট প্রাইসে, বিদ্যুৎখাতে সরকারকে মুনাফা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    মুনাফা সব জায়গা হচ্ছে। বিতরণে হচ্ছে, সঞ্চালনে হচ্ছে, উৎপাদনে হচ্ছে, ফুয়েল সাপ্লাইয়ে হচ্ছে। সরকার সব জায়গা থেকে মুনাফা খাচ্ছে। সরকার যেখানে যা কাজ করছে সমস্ত জায়গা থেকে ন্যায্য ব্যয় এবং প্রকৃত ব্যয় অপেক্ষা কস্ট প্লাস রেভিনিউ আর্ন করে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে এ খাতটাকে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যে পরিমাণ জ্বালানি দরকার বিদ্যুতের জন্য সে পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করার মতো পরিস্থিতি আমাদের নেই। যে বিকল্প উৎসগুলো রয়েছে সেটার ব্যাপারে তড়িৎ উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রেও সরকার বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ছে।

    নতুন সরকার বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিয়ম করছে জানিয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোক্তাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সমস্যা মোকাবিলায় কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমাদের কয়লাভিত্তিক যে ক্ষমতা আছে সেটা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। সেটা বাড়াতে হবে। আমরা তেলটা বাতিল করতে দিতে বলেছি। আমরা পারমাণবিক থেকে বিদ্যুৎ আনতে বলেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিশ পার্সেন্টের কথা বলেছি এবং এফিসিয়েন্সি বাড়াতে বলেছি। এভাবে পুরো জিনিসটাকে মোকাবিলা করতে বলেছি। আর বলেছি যে, প্রয়োজনে আরো বেশি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাড়ানো হোক। বাড়িয়ে এই যে জ্বালানি নিরাপত্তার নামে যে ফাঁদ তৈরি করে আমাদেরকে লুন্ঠন করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরকম কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন সরকারকে আনতে হবে।’

    সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমাদের আসলে গ্যাস ভিত্তিক সিস্টেম থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ইলেকট্রিসিটি বেইজ সিস্টেমের দিকে যাওয়া-সেটা একটা সমাধান। যেমন গ্যাস ভিত্তিক বয়লারের যায়গায় ইলেকট্রিক বয়লারে শিফট করা প্রয়োজন। একইভাবে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে ইলেকট্রিক ভিইকেলে যাওয়া। একইভাবে সোলার বেজ ইরিগেশনে গিয়ে ডিজেল সেচ থেকে সরে আসা। বাসাবাড়িতে রান্না হচ্ছে, সেটাতে গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক চুলায় রান্নায় যাওয়া।’

    বিদ্যুৎ আমদানি
    বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকরা।

    সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা যেটা আমদানি করি সেটা মোট বিদ্যুৎ চাহিদার নয় শতাংশের মতো। সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যদি এই মুহূর্তে রিজিওনাল গ্রিডটি সক্রিয় থাকতো এবং আরো বেশি পরিমাণে ক্যাপাসিটি সম্পন্ন হতো, তাহলে কিন্তু আমরা ভারতে আরো যেসমস্ত উদ্বৃত্ব বিদ্যুৎ অন্যান্য যায়গায় রয়েছে, সেটা এই ঘাটতি পূরণের জন্য কিন্তু আমরা জরুরি ভিত্তিতে নিতে পারতাম। সুতরাং রিজিওনাল এই গ্রিডটি আগামীতে আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে এম শামসুল আলম আদানি চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, ‘এই চুক্তি সংশোধন করে ট্যারিফ কমাতে হবে।’

    তবে গ্রিড ব্যবহার করে আমদানির পক্ষে তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আদানির সাথে নেগোসিয়েশন করে যদি ট্যারিফ না কমায় তাহলে ওই চুক্তি বাতিল করে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে না। কিন্তু জিটুজি চুক্তির আওতায় সরকার যেটা আমদানি করছে এবং নেপাল বা ভুটান থেকে জলবিদ্যুতের সুযোগ আছে সরকার সে উদ্যোগ নিয়েছে কিছু এরই মধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আনার সুযোগ আছে গ্যাস বা বিদ্যৎ । এমনকি তেলও আনার সুযোগ আছে কয়লাও আনার সুযোগ আছে ইন্ডিয়া থেকে। যদি কমপিটিটিভ প্রাইসে সেখান থেকে আনার সুযোগ থাকে, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণের স্বার্থে তা আনার বিষয়টি অবশ্যই জ্বালানি মিক্সের যে বৈচিত্রের কথা বলছি সে প্রশ্নে অবশ্যই সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।’

  • বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন এই বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা কার্যক্রম শুরু করল।

    বৃহস্পতিবার সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করেছে সরকার।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

    নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি।

    তিনি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামে পরিচালিত হবে। নতুন টিম ও উইং গঠনসহ বাকি কাজ ধাপে ধাপে শুরু হবে।

    নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমের পর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করায় তারা আনন্দিত। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্ক দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবি থেকেই এই উদ্যোগের সূত্রপাত।

    তিনি বলেন, ইনভেস্ট বাংলাদেশকে সেই একক পয়েন্টে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য। এতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো সুসংহত, নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন।

    যেসব দায়িত্ব থাকবে

    নতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

    নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।

    নতুন সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।

    সম্পদ ও জনবলও হস্তান্তর

    একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করবেন।

    নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরো সমন্বিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

  • নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা

    নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা

    রাজধানীর বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। একই সঙ্গে ডিমের দাম বেড়ে ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার খরচ বেড়েই চলেছে। হিমশিম খাচ্ছেন সংসার চালাতে গিয়ে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র। বাজার ও এলাকাভেদে পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্যও দেখা যায়।

    মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

    মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মিলছে। দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি।

    ইলিশের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

    ক্রেতারা বলছেন, ২৫০ টাকার নিচে এখন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তেলাপিয়াও কেজিপ্রতি আড়াইশ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিক্রেতারা জানান, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যায়। যেদিন যেমন আসে সেদিন তেমন দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই এখন বড় অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। এক পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।

  • গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলা, কাতারের সার রপ্তানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি না করা এবং গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহ সংকটে দেশে সারের মজুতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চাহিদা অনুযায়ী কারখানায় গ্যাস না পাওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এতে নিরাপদ সার মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন থেকে বর্তমান মজুত ক্রমেই তলানিতে নামছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানিতেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে মিসরের ইয়ানবু বন্দর হয়ে প্রায় ১২০০ মাইল ঘুরে সার আনতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় ও সময় দুই-ই বাড়ছে। এর সঙ্গে কাতার চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় তিন দেশের পরিবর্তে এখন দুই দেশনির্ভর আমদানিতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ করতে হয়। উৎপাদনে ঘাটতি ও বিলম্বে জাহাজ পৌঁছানো এবং কাতারের পিঠটান—এই তিন কারণে সার সরবরাহ চাহিদায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কমানোর লক্ষ্যে বিকল্প দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই থেকে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সার আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হলে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তখন কিন্তু আমন মৌসুমও শেষ হয়ে যাবে।

    সূত্র জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে বীজতলা ও চারা রোপণে আমনের এই ভরা মৌসুমে সার সংকটে ফসল উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এসব সংকটের মধ্যে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নিয়োগ করা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এর বিপরীতে নতুন নীতিমালার আলোকে সরকার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।

    পুরাতনদের বাদ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণ নিয়ে একধরনের জট তৈরি হয়েছে। কৃষির মাঠ অফিসের কর্মকর্তাদের দাবি, পুরোনো ডিলাররা বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া দুই ক্ষেত্রেই দাম বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে কৃষকের ওপর নতুন করে আর্থিক খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।

    দাম বৃদ্ধির কারণে শুধু সাতক্ষীরাতেই গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩ অসাধু সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সময় শেরপুর জেলায় ১৫ ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশেই একই চিত্র দেখা গেছে।

    এদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকা এবং ডিএপি ১০৫০ টাকা সরকার নির্ধারণ করেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তারা খোলাবাজার থেকে টিএসপি কিনছেন ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়। আর ডিএপির জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কৃষক ওয়ালিউল্লাহর অভিযোগ, দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক আবির আহম্মেদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের একাংশের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিলে অনেক ক্ষেত্রে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম বৃহস্পতিবার আমার দেশকে বলেন, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। কোনো এলাকায় চাহিদা কম থাকলে কিছু ডিলার সেই সার অন্য এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো ডিলার সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে নিজস্ব গোডাউন খালি রেখে খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রির চেষ্টা করছেন। এতে কৃষক ডিলারের দোকানে সার না পেলেও খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে পাচ্ছেন।

    এর আগে গত রোববার কৃষি সচিব সেলিম খান রংপুরে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা) যুগ্ম সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম গত রোববার আমার দেশকে বলেন, আমন মৌসুমে সারের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে সরকারি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নতুন নীতিমালার আলোকে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর থেকেই একটি অসাধু গোষ্ঠী ও কিছু ডিলার অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

    এদিকে রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, আগামী দুবছরেও দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না। বিসিআইসির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি বিকল্প হিসেবে দেশের বন্ধ তিনটি সার কারখানা চালু করা না যায়, তাহলে আমনের পাশাপাশি আগামী বোরো মৌসুমে সারের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। যার প্রভাবে কৃষিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ ২০ হাজার টন। এর সঙ্গে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে ৫ লাখ টন রাখতে হয়। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ৩১ লাখ ২০ হাজার টন। বর্তমানে দেশে ইউরিয়া মজুত রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩২৯ টন, যা নিরাপদ মজুতের চেয়ে মাত্র ৩২৯ টন বেশি।

    কদিন আগে এ মজুত ছিল প্রায় ৮৫ হাজার টন বেশি। কারণ, আগে যেখানে ১০ শতাংশ উৎপাদন ঘাটতি ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

    জানা যায়, বিদেশ থেকে মোট ১০ লাখ ২৯ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ৬০ হাজার টন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

    বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ঘোড়াশালের পলাশ ও শাহজালাল সার কারখানা প্রায় ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। দুটি কারখানা প্রতিদিন এক লাখ টনের ওপরে উৎপাদন করছে।

    বিসিআইসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুর রেজা আমার দেশকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আরো কয়েকটি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া আশুগঞ্জসহ কয়েকটি কারখানা চালু করা সম্ভব হলে দেশে সার উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর চাপ কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

    তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরিয়ার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মজুত নিরাপদসীমার নিচে রয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ডিএপি মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৫৩ টন। নিরাপদ মজুতের জন্য প্রয়োজন ৫ লাখ টন। অর্থাৎ, ঘাটতি ১ লাখ ৯৭ হাজার টন। টিএসপির মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৪৭৯ টন। নিরাপদ মজুত প্রয়োজন ৪ লাখ টন। ঘাটতি ৯৬ হাজার টন।

    অন্যদিকে এমওপির মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬২৩ টন। নিরাপদ সীমা ৩ লাখ টন হওয়ায় ঘাটতি ১ লাখ ৩৯ হাজার টন। এ ঘাটতি দিন দিন বাড়বে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬২ হেক্টরে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০,৫৭৬ টন।

    বিসিআইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সার উত্তোলন করেন। এরপর জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির তত্ত্বাবধানে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করার কথা। ফলে কোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ ও পরিবহন ঝুঁকি থাকায় একাধিক উৎস থেকে সার সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে কোনো একটি দেশ বা সরবরাহ রুটে সমস্যা হলেও বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি করা সম্ভব হবে।

    তবে ইউরিয়া সরবরাহে আমদানিনির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন তারা।

  • সংকটাপন্ন বেসিক ব্যাংক রক্ষায় সরকারের রোডম্যাপ

    সংকটাপন্ন বেসিক ব্যাংক রক্ষায় সরকারের রোডম্যাপ

    রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংককে নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংকের পর্ষদকে একটি সিএমএসএমই বিশেষায়িত, সুশাসিত এবং আর্থিকভাবে টেকসই রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে বলা হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ধকল কাটিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংককে পুনরায় একটি শক্তিশালী ও লাভজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে বেশকিছু নীতিগত নির্দেশনাও দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। একই সঙ্গে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগোতে বলা হয়েছে, যাতে ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর পথে নতুন ঋণ সমস্যা তৈরি না করে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে ব্যাংকের একটি বিশেষ বৈঠক হয়। সেখানেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি ও নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে অর্থ বিতরণের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেসিক ব্যাংক। বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ঘাটতি এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকটের কারণে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বড় ঋণ কার্যক্রমও।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসিক ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি বা অবস্থান এখনো দুর্বল, ঘাটতি রয়েছে। মুনাফা অর্জনের সক্ষমতাও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার শক্তি ফিরে পায়নি। ব্যাংকটির হিসাব বলছে, এখনো পরিচালন ও নিট লোকসানে রয়েছে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কিছু সতর্কতা ও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, নতুন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে তাই বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন; বড় ঋণের প্রস্তাব অনুমোদনের আগে ঋণগ্রহীতার প্রকৃত ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা (রিপেমেন্ট ক্যাপাসিটি), ব্যবসার ক্যাশ-ফ্লো, গ্রুপ এক্সপোজার, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা এবং জামানতের বাস্তব মূল্য কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে; ঋণের একক কেন্দ্রীকরণ এড়াতে অতিরিক্ত কনসেন্ট্রেশন রিস্ক পরিহার করে পোর্টফোলিও বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। সিএমএসএমই ঋণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও যথাযথ মূল্যায়ন, ক্যাশ-ফ্লো বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ঋণের মানের সাথে আপস না করা হয়; ব্যাংকের এই ঘুরে দাঁড়ানো যেন নতুন ঋণ সমস্যা তৈরি হয়ে ব্যাহত না হয়।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও ছিলেন। বৈঠকে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে ১২টি করণীয় ঠিক করে দেওয়া হয়। এগুলো হলো, বড় খেলাপি অ্যাকাউন্ট ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান; ক্লাসিফাইড ও রাইট অফ লোন থেকে ক্যাশ রিকভারি বাড়ানো, নতুন খেলাপি কঠোরভাবে প্রতিরোধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধার যথাযথ ব্যবহার, সিএমএসএমই মেন্টেটকে কেন্দ্র করে কোয়ালিটি ঋণ বৃদ্ধি, আমানত প্রবৃদ্ধিকে লাভজনক সম্পদে রূপান্তর, পরিচালন লোকসান কমিয়ে আনা, মূলধন ঘাটতি কমানো, ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো, দক্ষ জনবলকে সর্বোচ্চ ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং গ্রাহক আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম পুনর্গঠন করা। এসব ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতেও বলা হয়।

    বর্তমানে বেসিক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা হলো এর উচ্চ খেলাপি ঋণ বা এনপিএল। ডিসেম্বর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির এনপিএল রেশিও ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। বৈঠকে ব্যাংকটিকে নগদ পুনরুদ্ধারকে (ক্যাশ রিকভারি) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বেসিক ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নগদ অর্থ পুনরুদ্ধার। এজন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, শুধু পুনঃতফসিল নয়, সরাসরি আদায়। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য কেবল ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ, পুনর্গঠন বা রাইট-অফ -এর মতো হিসাবগত সমন্বয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি ক্যাশ রিকভারি বা নগদ অর্থ আদায়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় বেসিক ব্যাংক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও শিল্প অর্থায়নে একটি স্বতন্ত্র ও সফল পরিচিতি বজায় রেখেছিল। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ বিজনেস মডেলকে পুনরায় সেই আদি ও ঐতিহাসিক মূল পরিচিতি অর্থাৎ সিএমএসএমই, ক্ষুদ্রশিল্প, উৎপাদনশীল খাত, নারী উদ্যোক্তা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এমন খাতে অর্থায়নের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া নিজস্ব সক্ষমতায় মূলধন ঘাটতি পূরণ, একটি গ্রহণযোগ্য ক্যাপিটাল রিস্টোরেশন প্ল্যান তৈরি, প্রভিশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন, অ-কোর সম্পদ বিক্রি, নিজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে মূলধন শক্তিশালীকরণে রোডম্যাপ তৈরি, দক্ষ জনবলের সঠিক ব্যবহার, মেধার ভিত্তিতে পোস্টিং ও প্রমোশন, যোগ্য কর্মকর্তাদের ক্রেডিট ও রিস্ক ম্যানেজমেন্টে নিয়োজিত করা এবং একটি শক্তিশালী সিএমএসএমই ও রিকভারি টিম গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বেসিক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান খান আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে আগামী দিনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।