অর্থ ও বাণিজ্য

  • আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ১৪৮ কোটি টাকার লেনদেন

    আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ১৪৮ কোটি টাকার লেনদেন

    এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেন তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে কোম্পানিটি। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ৩৩ টাকা ৮০ পয়সা। ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সায়।

    ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭৩ পয়সায়।

    ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৩ পয়সায়।

    আইপিডিসির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

    ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১।

  • এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা

    এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা

    এসবিএসি ব্যাংক পিএলসিতে ‘ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এস. এম. মঈনুল কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি পলিসি অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-৫-এর অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

    কর্মশালায় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, বিভাগীয় প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপক এবং উপশাখার ইনচার্জরা সশরীরে ও অনলাইনে উপস্থিত করেন।

  • বাণিজ্যিক জাহাজে মাছ আহরণ কিছুটা বাড়লেও ইলিশে ধস

    বাণিজ্যিক জাহাজে মাছ আহরণ কিছুটা বাড়লেও ইলিশে ধস

    অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ইলিশ আহরণে বড় ধরনের ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোট আহরণ কিছুটা বাড়লেও ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে আহরণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, মাছের মজুদ কমে যাওয়া, সরকারি নিষেধাজ্ঞা, ঝড়, সমুদ্রদূষণ, জেলিফিশের আধিক্য এবং নতুন বিনিয়োগের অভাব এ খাতের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭ টন সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়। পরের অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৪ টনে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আহরণ হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ টন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৩২৫ টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আহরণ বেড়েছে ১৩ হাজার ২৮ টন বা ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের রেকর্ড আহরণের তুলনায় সর্বশেষ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৫৮ দশমিক ৬৭৫ টনে বা ১১ দশমিক ২০ শতাংশ।

    অন্যদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্যিক জাহাজে ৮ হাজার ১৩৮ টন সামুদ্রিক ইলিশ আহরণ হলেও বিদায়ী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ হাজার ৮২৩ টনে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে আহরণ কমেছে ৬ হাজার ৩১৫ টন বা ৭৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৩৬৮ টন ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৯০ টন ইলিশ আহরণ হয়েছিল।

    জানা যায়, দুই-তিন দশক আগেও দেশের সমুদ্র থেকে প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ আহরণ করা হতো, বর্তমানে তা ৫০টিতে নেমে এসেছে। ফলে সামুদ্রিক জলসীমা বড় হলেও মাছের বৈচিত্র্য ও প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য প্রজাতির আহরণেও রয়েছে ওঠানামা। সর্বশেষ অর্থবছরে ৪০ হাজার ১৩৫ টনের বেশি সার্ডিন আহরণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় এ আহরণ বেড়েছে ১১ হাজার ৫৭১ টন বা ৪০ দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সার্ডিন আহরণ হয়েছিল রেকর্ড ৫০ হাজার ৭৮৩ টন।

    চিংড়ির আহরণও গত তিন অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টাইগার বা বাগদা, হোয়াইট বা চাদা/সাদা এবং ব্রাউন বা হরিণা জাতের চিংড়ি আহরণ হয় ৩ হাজার ৪৭৭ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২২ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চিংড়ির আহরণ বেড়েছে ৪৫৫ টন বা ১৫ শতাংশ। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ হাজার ৬৪৬ টন ক্যাটফিশ আহরিত হলেও সর্বশেষ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ৩ হাজার ৫০৪ টন।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চইক্যা ও বড় চইক্যা মাছ আহরিত হয়েছে ১৭ হাজার ৩৭৮ টন। এছাড়া পোয়া বা ভোলা ৪ হাজার ১৪০ টন, ছুরি ৬ হাজার ৩৩৮, দাতিনা ৪৬, আইলা ৫ হাজার ৩৩০, ষোল ২২৯, লাল কোরাল ২৬০, রূপচাঁদা ৮৪২, রূপবান ৫ হাজার ৮৯৪, বাইন ৩৩৮ ও হাঙর ১৪৭ টন আহরিত হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের টুনা, নারকেলী, স্কুইডসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও বাণিজ্যিক জাহাজে আহরণ করা হয়।

    মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসাইন সাগর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ সর্বশেষ অর্থবছরে কিছুটা বেড়েছে। তবে যারা সমুদ্রে মাছ আহরণে যাবেন, তাদের মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মাছের মজুদ বাড়াতে সব মাছ আহরণ করা ঠিক নয়। মাছ আহরণ হঠাৎ কমে বা বেড়ে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। তাই মাছ আহরণ স্থিতিশীল রাখা উচিত। মাছের মজুদের পরিমাণ জানা গেলে কতটুকু মাছ ধরা যাবে, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব।’

    সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ মাছ ধরার অনুমতি পেলেও নিয়মিত মাছ আহরণে যাচ্ছে ২৩২টি। বাকি ৩৮টি জাহাজ মালিকানা জটিলতা, অপারেশনাল ও আর্থিক সংকট, লোকবলসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সমুদ্রে যেতে পারছে না। নিয়মিত যাওয়া ২৩২টি জাহাজের মধ্যে স্টিলের ১৭০টি ও কাঠের ৬২টি।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি জাহাজ এক বা দুই ট্রিপ যাওয়ার পর আর্থিক সংকটের কারণে আর সমুদ্রে যেতে পারছে না। মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ৩০ হাজার ২২১টি বোটের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ ২৭০টি এবং ছোট নৌযান বা আর্টিশনাল বোট ২৯ হাজার ৯৫১টি। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ২৬৯টি নৌযানের নিবন্ধন হয়েছে। এসব নৌযানে মোট ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১৯ জন মানুষ কাজ করেন। তবে সমুদ্রে মাছ আহরণে ব্যবহৃত আর্টিশনাল বোটের প্রকৃত সংখ্যা ৬৮-৭০ হাজার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    বাণিজ্যিক জাহাজসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামুদ্রিক এলাকা বড় হলেও সব জায়গায় মাছ আহরণ করা যায় না। মাছের প্রজাতিও অনেক কমে গেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা, সমুদ্রে অস্থিরতা, ঝড়, জাহাজ মেরামত ও সমুদ্রদূষণের কারণে জেলিফিশের আধিক্য—সব মিলিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ১৭০-১৮০ দিন মাছ আহরণ করা সম্ভব হয়।

    তাদের ভাষ্য, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে মাছ আহরণ করে। এর বাইরে আরো গভীরে গিয়ে মাছ ধরার সক্ষমতা নেই। ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের অধিকার থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

    দেশে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মাছ ধরার জাহাজের দৈর্ঘ্য ৪৭ মিটার। একটি জাহাজ একবার মাছ ধরতে গেলে জ্বালানি, খাবার, বেতনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ২৫ দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু সমুদ্রে গিয়ে এখন আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। নতুন জাহাজ নির্মাণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি এ খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও তা হচ্ছে না।

    বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সমুদ্রে সর্বশেষ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত দুই থেকে আড়াই মাসে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মাত্র ১৪ দিন মাছ ধরতে পেরেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে জেলিফিশের আধিক্যের কারণে মাছ ধরা যায় না।’

    তিনি বলেন, ‘বছরে বিভিন্ন কারণে তিন মাস সরকারি নিষেধাজ্ঞা, প্রায় দুই মাস ঝড় এবং অন্যান্য সমস্যা মিলিয়ে প্রায় ছয় মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এর ওপর গত কয়েক বছরে সমুদ্রদূষণের কারণে জেলিফিশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাছের প্রাপ্যতাও কমেছে।’

    একটি বাণিজ্যিক জাহাজ একবার মাছ ধরতে গেলে প্রায় এক মাসের প্রস্তুতি নিতে হয় এবং এতে বড় অংকের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু সমুদ্রে যাওয়ার পর নানা সংকটের কারণে জাহাজগুলোকে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে মাছ আহরণ যে বেড়েছে, সেটি খুবই সামান্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এনাম চৌধুরী আরো বলেন, ‘এত বড় সমুদ্রের গভীরে গিয়ে মাছ আহরণের সক্ষমতা এখনো দেশের তৈরি হয়নি। তবে সমুদ্রে মাছ আহরণ বেড়ে যাওয়াও সব সময় ভালো নয়। সমুদ্রের মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এজন্য সমুদ্রদূষণ কমাতে কাজ করতে হবে, যাতে মাছের অভয়াশ্রমের কোনো ক্ষতি না হয়। অতিরিক্ত মাছ আহরণ করা যাবে না। পাশাপাশি অবৈধ নৌযানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। মাছের প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সময়সীমা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়েও সরকারকে কাজ করতে হবে।

  • তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: এনগেজিং অ্যান্ড ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ইন ব্যাংকিং’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। এতে তরুণদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা, স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাইম ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হবে।’ এ ধরনের আয়োজনের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এমএম মাহবুব হাসান মূল বক্তব্যে আর্থিক সাক্ষরতা ও স্মার্ট মানি ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের স্বাস্থ্যকর আর্থিক অভ্যাস গড়ে তোলা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়মিত সঞ্চয়, সচেতন আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ এ সময় তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ‘গ্র্যান্ডফাদার কনসেপ্ট অব পারসোনাল মানি ম্যানেজমেন্ট’ ধারণাটিও তুলে ধরেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ব্যাংক খাতে আরো কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও আর্থিক খাত সম্পর্কে ধারণা দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন মনোয়ারা খাতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মক ইন্টারভিউ পরিচালনা করেন। ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিজিওনাল হেড (সাউথ) মোস্তফা মাহমুদ উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

    সেমিনারে মক ইন্টারভিউ, ক্যারিয়ার আড্ডা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব পর্বে সেরা অংশগ্রহণকারীদের প্রাইম ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন মুন্না।

  • ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দেড় শতাংশের বেশি

    ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দেড় শতাংশের বেশি

    এসময় সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দেড় শতাংশের বেশি। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির অন্যান্য সূচকেও নিম্নমুখীতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তা‌হে সূচকের নিম্নমুখীতা দেখা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহ ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্ট।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ৩১৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। আর লেনদেন হয়নি ২৭টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ, ইসলামী ব্যাংক ও এলএইচবির শেয়ার।

    খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

    ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া কাগজ খাতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, সিরামিক খা‌তে ৩ দশ‌মিক ৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে একমাত্র ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা খাতে, দশমিক ২ শতাংশ।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৮০৩ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশ‌মিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৪৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৬২৮ পয়েন্ট।

    সিএসইতে গত সপ্তাহে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ২৪১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির শেয়ারদর।

  • ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    এ ক্যাম্পেইনের আওতায় বাংলা কিউআর ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধকারী ৫০ জন গ্রাহক এবং ৫০ জন মার্চেন্ট স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ পাবেন। ২৩ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে।

    ২০ আগস্ট রাজধানীতে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলতাফ হুসাইন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম।

    অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআর ও কিউআরভিত্তিক সিকিউরড স্টেটমেন্ট বিষয়ে আলোচনা করেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনজুজ্জামান। এ সময় ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন জোন ও শাখাপ্রধান এবং উপশাখার ইনচার্জরা জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা কিউআর একটি নতুন সংযোজন। এটি দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রবাসীদের দ্রুত, সহজ ও নিরাপদে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ তৈরিতেও ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা কিউআর ব্যবহারের বিস্তারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নিতে পারবেন। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরো বিস্তৃত হবে এবং একটি আধুনিক, ক্যাশলেস ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলা কিউআরকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা হিসেবে নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ অধিকসংখ্যক মার্চেন্টকে বাংলা কিউআরের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

  • এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়ল

    এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়ল

    অবশেষে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে সুখবর মিলেছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের জন্য এলএনজিবাহী একটি জাহাজ পৌঁছেছে।

    আজ শনিবার দুপুর দেড়টায় ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে ভিড়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজিবাহী জাহাজটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন পোর্ট থেকে।রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে এলএনজি সংকট আপাতত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আশা করছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

    দুপুর দেড়টা থেকেই এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল দিয়ে ১শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। টার্মিনালে আগে জমা থাকা কিছু এলএনজি দিয়ে সরবরাহ শুরু হয়।

    এতে দুপুর থেকেই গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারণ পাশে থাকা দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল দিয়েই ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি টার্মিনাল দিয়ে ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলছে।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতে রবিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    এলএনজি সরবরাহে বিপত্তি ঘটে ২১ এপ্রিল থেকেই। প্রথমে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে আগুন লেগেই তৈরি হয় বিপত্তি। দুসপ্তাহ সচলের পর টার্মিনালটি পড়ে এলএনজি সংকটে। এরই মধ্যে দেশীয় সামিটের টার্মিনালও বন্ধ থাকে এলএনজি সংকটে।

    রোববার থেকে পুরোদমে দুটি টার্মিনাল ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। কিন্তু কতদিন এই সরবরাহ একইরকম থাকবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ মাসের চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি জাহাজ আসা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

  • ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানার ফটকে এখন দুই ধরনের নোটিশ দেখা যাচ্ছে। একটিতে লেখা— স্থায়ীভাবে বন্ধ। অন্যটিতে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি। বাইরে থেকে দুটি সিদ্ধান্তকে একই রকম মনে হলেও এর অর্থ এক নয়। প্রথমটির অর্থ চাকরি হারানো; দ্বিতীয়টির অর্থ অনিশ্চয়তার মধ্যে চাকরি টিকে থাকা। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের দীর্ঘ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, শ্রম অসন্তোষ এবং বকেয়া ঋণের চাপে শিল্প খাতে এখন এই দুই বাস্তবতাই পাশাপাশি চলছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) পর্যন্ত শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে একদিকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে শত শত কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এর সঙ্গে চলছে শ্রমিক ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান সংকোচন। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এ পর্যন্ত আসলে কতগুলো কারখানা বন্ধ হয়েছে?

    এর একক কোনও উত্তর নেই। কারণ সরকারি ও শিল্পসংগঠনের তথ্যভাণ্ডারে স্থায়ী বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শ্রম আইনের বিশেষ ধারায় বন্ধ, সাময়িক উৎপাদন স্থগিত এবং শ্রমিক ছাঁটাই—এসব তথ্য সব সময় একই তালিকায় রাখা হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে অন্তত চারটি আলাদা হিসাব দেখতে হয়।

    ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজিএমইএ’র সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় প্রায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

    এটি পোশাক খাতের জন্য উদ্বেগজনক একটি সংখ্যা। কারণ একই সময়ে রফতানি খাতের বড় কারখানাগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কারখানাও টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে। কোথাও ক্রয়াদেশ নেই, কোথাও ব্যাংকঋণ ও নগদ অর্থের সংকট, কোথাও শ্রমিকের বকেয়া মজুরি নিয়ে বিরোধ, আবার কোথাও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে।

    তবে ২৭টি কারখানা বন্ধের তথ্য পাওয়া গেলেও এই ২৭টির পূর্ণ নামভিত্তিক তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

    শুধু সাত মাসেই তিন শিল্পাঞ্চলে বন্ধ ৯৫ কারখানা

    এর চেয়েও বড় চিত্র উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চলভিত্তিক তথ্যে। গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে গত সাত মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৯৫টি কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করতেন প্রায় ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক-কর্মচারী। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে— গাজীপুরে বন্ধ হয়েছে ৫৪টি কারখানা; নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে ২৩টি; সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

    গাজীপুরের বন্ধ হওয়া ৫৪টি কারখানার প্রায় সবই তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্ট। শুধু এই জেলাতেই বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৩২ শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

    এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ— ২৭টি কারখানা বন্ধের ছয় মাসের হিসাব এবং ৯৫টি কারখানা বন্ধের সাত মাসের শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হিসাব— একই উৎস ও একই পরিধির নয়। তাই দুটি সংখ্যা যোগ করে “১২২টি কারখানা বন্ধ” বলা সঠিক নয়। বরং এগুলো বাংলাদেশের শিল্প খাতের সংকটের দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান।

    নাম পাওয়া যাচ্ছে যেসব বন্ধ কারখানার

    প্রকাশ্য তথ্য ও শিল্প পুলিশের উদ্ধৃতি থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া বেশ কয়েকটি কারখানার নাম পাওয়া গেছে।

    গাজীপুর: গাজীপুরে বন্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য কারখানার মধ্যে রয়েছে— টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, মাহমুদ জিন্স অ্যাপারেলস, টিআরজেড, দ্য ডেল্টা নিট। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে গাজীপুরে মোট ৫৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

    সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই: এই অঞ্চলে গত সাত মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বেস্ট ওয়ান সোয়েটার, এমএস সোয়েটার, সাভার স্পোর্টসওয়্যার, বার্ডা গ্রুপ, র‍্যামস ফ্যাশন অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশন এবং জাভান টেক্স নিটওয়্যার। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে এ অঞ্চলে অন্তত ১০ হাজার ১২৭ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়েছেন।

    নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী: এই অঞ্চলে বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— গ্রিন বাংলা হোম টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান ফ্যালকন গার্মেন্টস, জিএল ফ্যাশন, মাস্টার টেক্সটাইল, ওয়েস্ট বেস্ট অ্যাটায়ার্স, এবং স্টার কাটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

    শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, এই অঞ্চলে বন্ধ হওয়া বেশির ভাগ কারখানাই ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আর্থিক সংকট ও পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গাজীপুরে স্থায়ীভাবে বন্ধ দুই কারখানা

    সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে স্পষ্ট ও যাচাইকৃত স্থায়ী বন্ধের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে। ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড এবং ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড গত ১৬ জুন থেকে বন্ধ থাকার পর স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক সংকট ও অন্যান্য সমস্যার কারণে কারখানা দুটি বন্ধ করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে।

    দুটি কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় পড়েন। পরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হয়।

    আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দুই কারখানা

    গত ১ এপ্রিল আশুলিয়ার দুটি পোশাক কারখানা— ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড ও জেএ অ্যাপারেলস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের পর কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিশ টানানো হয় এবং তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। দুটি কারখানা মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। তবে এগুলো পরে পুনরায় চালু হয়েছে কিনা, সেই তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় এগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।

    লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা একসঙ্গে বন্ধ

    জুলাইয়ের শুরুতে গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। এই ঘটনা দেখিয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষ বা আর্থিক সংকট শুধু একটি কারখানার সমস্যা নয়; একটি শিল্পগোষ্ঠীর একাধিক কারখানাও একইসঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে এসব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর পুনরায় চালু হয়েছে কিনা, সেটিও স্থায়ী বন্ধের হিসাব থেকে আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।

    ইসলাম গার্মেন্টসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

    গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ইসলাম গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ধরনের ঘটনা পোশাকশিল্পের আরেকটি দুর্বলতা তুলে ধরে— বেতন, সার্ভিস বেনিফিট বা অন্যান্য শ্রমসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা উৎপাদন বন্ধের দিকে গড়াতে পারে।

    দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট

    গত দুই বছরের আরও বড় একটি হিসাব শিল্প খাতের গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরে। আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ছিল— ১০৮টি বিজিএমইএ সদস্য কারখানা, ৩৫টি বিকেএমইএ সদস্য কারখানা, ৮টি বিটিএমএ সদস্য কারখানা এবং ১৯টি বেপজা-সংশ্লিষ্ট কারখানা। অর্থাৎ পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই বন্ধের তালিকায় রয়েছে। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।

    এই হিসাবে কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, মালিকের আর্থিক সংকট, শ্রম অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা ব্যাংকঋণের জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, কারখানা স্থানান্তর, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথাও বলছেন।

    নতুন সংকট:গ্যাস নেই, তাই উৎপাদন নেই

    স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকার বাইরেও এখন শিল্প খাতে নতুন একটি সংকট তৈরি হয়েছে—গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করা। আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা তিন থেকে চার দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করে। বিভিন্ন সূত্রে কারখানার সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত বলা হয়েছে।

    সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করে অনেক কারখানা কার্যত উৎপাদন বন্ধ রাখে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কারখানার এই ছুটিকে স্থায়ী বন্ধ বলা যাবে না, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকট চললে এটি উৎপাদন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ছুটি এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    সর্বশেষ ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের ছুটি দেওয়া হয়।

    শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, ‘‘সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। ভালুকা পৌর এলাকা ও তিতাস কার্যালয়ের আশপাশে গ্যাসের কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে প্রায় গ্যাস নেই।’’

    শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় সব গ্যাসচালিত কারখানাই সংকটে পড়েছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সীমিত উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে শিল্পাঞ্চলজুড়ে উৎপাদনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কারখানা বন্ধের প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে স্থায়ী বন্ধ, সাময়িক ছুটি এবং উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কারখানা কয়েক দিনের জন্য ছুটি দিলেও এটিকে স্থায়ী বন্ধ বলা ঠিক হবে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, কারখানার আর্থিক চাপ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমে যাওয়ার পরও শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি, গ্যাস-বিদ্যুতের বিলসহ অন্যান্য স্থায়ী খরচ বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল, এলপিজি বা সিএনজি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আগেই নির্ধারিত দামের কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় সব সময় পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’’

    মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘‘কারখানা টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি সংকট দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অনেক দুর্বল ও আর্থিক সংকটে থাকা কারখানা আরও বেশি চাপে পড়বে। তাই শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটে থাকা, আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।’’

    ছুটি কি শুধুই ছুটি, নাকি কর্মসংস্থান সংকোচনের শুরু?

    শিল্প-মালিকদের একটি অংশের যুক্তি হলো— গ্যাস না থাকলে কারখানা খোলা রাখার অর্থই হয় না। শ্রমিক বসে থাকলেও বেতন দিতে হয়, কিন্তু উৎপাদন না হলে বিক্রি ও রফতানি আয় আসে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিকল্প উৎপাদনে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে অনেক কারখানা বাধ্য হচ্ছে উৎপাদন কমাতে। কোথাও অতিরিক্ত শিফট বাতিল হচ্ছে, কোথাও শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, আবার কোথাও নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাময়িক ছুটি ধীরে ধীরে শ্রমিক ছাঁটাইয়ে রূপ নিতে পারে— এমন আশঙ্কা রয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

    চার ধরনের বন্ধ, চার রকম প্রভাব

    বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে কারখানাগুলোকে অন্তত চারটি ভাগে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা। এখানে শ্রমিকের চাকরি শেষ হয়ে যায়। বকেয়া মজুরি, সার্ভিস বেনিফিট ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন সংকট শুরু হয়।

    দ্বিতীয়ত, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানা। এখানে শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন কিনা, তা সব সময় পরিষ্কার নয়। কারখানা পুনরায় খুলতে পারে, আবার দীর্ঘ বন্ধের পর স্থায়ীভাবেও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    তৃতীয়ত, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি। গ্যাস, বিদ্যুৎ, কাঁচামাল বা ক্রয়াদেশের সংকটে কারখানা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ রাখতে পারে। এই সময়ে শ্রমিকের চাকরি টিকে থাকলেও আয় ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

    চতুর্থত, শ্রমিক ছাঁটাই। কারখানা চালু থেকেও উৎপাদন কমিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। ফলে শুধু বন্ধ কারখানার সংখ্যা দেখলে কর্মসংস্থান সংকটের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

    বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটকে শুধু সাময়িক জ্বালানি সমস্যা হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রফতানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের জন্য কাঠামোগত হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘যেসব কারখানা ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, তাদের সংকটের পেছনে কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, ব্যাংকঋণের চাপ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো একাধিক কারণ রয়েছে। এখন নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় চালু কারখানাগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অনেক কারখানা উৎপাদনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয় করেছে কিংবা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাচ্ছে। ফলে এগুলোকে এখনই স্থায়ী বন্ধ বলা না গেলেও দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘কারখানা কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা এবং একটি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হলে এই সাময়িক বন্ধও একসময় আর্থিক সংকটে রূপ নিতে পারে। উৎপাদন না হলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, কারখানা রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য স্থায়ী খরচ বন্ধ থাকে না। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতার আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশও কমে যেতে পারে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন শুধু নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করলেই হবে না; চলমান শিল্প ও বিদ্যমান কর্মসংস্থান রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ছোট ও মাঝারি আর্থিক সক্ষমতার কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। আর একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাওয়া নয়—এর সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের রফতানি সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

    কারখানা বন্ধের অর্থ শুধু একটি তালা নয়

    একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু মালিকের ব্যবসা বন্ধ হওয়া নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, ব্যাংক ও এনজিও ঋণ, স্থানীয় দোকানপাট এবং আশপাশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি। গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে একটি কারখানা বন্ধ হলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাসা, দোকান, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারে। আর সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় যখন শ্রমিক চাকরি হারানোর পরও তাঁর বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ হতে পারে আলোচনাধীন কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোর। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই সম্ভাবনা সামনে রেখেই ইউনানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

    ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্স-এ আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড এনভায়রনমেন্ট প্রোমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

    অনুষ্ঠানে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।

    বিশেষ করে কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাণিজ্যপথ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সরাসরি সংযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ইউনানভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।

    রিদওয়ানুর রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধাও দেওয়া হয়। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে।

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়।

    সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে জানান রিদওয়ানুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, ইউনানের পাশাপাশি সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে তারা।

  • মূল্যস্ফীতি, ঋণসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতায় উদ্বেগ বেসরকারি খাতের

    মূল্যস্ফীতি, ঋণসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতায় উদ্বেগ বেসরকারি খাতের

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে রেকর্ড নিম্নগতি, উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন চাপে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানো কঠিন হবে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকা, ঋণের উচ্চ সুদ এবং জ্বালানি সংকট ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশ্ব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ। বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথাগত জামানতভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল মূল্যায়নের মাধ্যমে নগদ প্রবাহভিত্তিক ঋণ সুবিধা বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

    আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না।

    তিনি বলেন, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারের চাপ এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, রফতানি সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

    অনুষ্ঠানে ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সীমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

    তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন কমছে। এ অবস্থায় বন্দর, কাস্টমস ও লজিস্টিক সেবার দক্ষতা বাড়াতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে কাঠামোগত সমন্বয়ের দুর্বলতা রয়েছে। কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

    তিনি বলেন, জ্বালানি প্রাপ্তিসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু সুদের হার কমিয়ে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে না।

    সেমিনারে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকা উদ্বেগের বিষয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ানো এবং সার্বিকভাবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।