অর্থ ও বাণিজ্য

  • উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী অর্জনের স্বীকৃতি প্রদান কেবল বিআইআরডিআই’র আওতাভুক্ত গবেষক ও উদ্যোক্তাদেরই নয়, বরং দেশজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে নিয়োজিত বৃহত্তর গবেষক ও উদ্ভাবক সমাজকেও ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

    তিনি বলেন, শিল্প খাতে উদ্ভাবন ও উন্নয়নে অবদান রাখা গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।

    সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (বিআইআরডিআই) উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দেশের শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিচালিত সিসিপের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্প উন্নয়নে উদ্ভাবনী অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব এবং সিসিপের জাতীয় প্রোগ্রাম পরিচালক ড. মো: খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

    তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় অর্থ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন বিআইআরডিআই উদ্যোগটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবমুখী ও শিল্পবান্ধব সমাধানের বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সুসংহতকরণ এবং দক্ষ জনশক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিআইআরডিআই উদ্যোগটি সিসিপের মূল লক্ষ্য ‘দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আলোকিত করা’- এর সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বক্তব্য রাখেন। তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের সাথে এডিবি’র দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে সিসিপের অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থকভাবে আয়োজনের জন্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিআইআরডিআই উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বিআইআরডিআই উদ্যোগ শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

  • সেপ্টেম্বরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

    সেপ্টেম্বরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

    সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ২৪ ডলারের বেশি দরে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৪.৬২৫ ডলারে কেনা হবে।

    এছাড়া ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ ডলার দরে আরো এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান (আরএফকিউ) প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক)-এর আওতায় প্রস্তাবটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। ক্রয়প্রক্রিয়া ও সুপারিশ করা দরদাতাদের প্রস্তাব বিবেচনার পর কমিটি তা অনুমোদন করে।

    বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরের জন্য আরো দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিলো সরকার।

  • জনতা ব্যাংকের সংকট কাটাতে রূপরেখা তৈরির নির্দেশ

    জনতা ব্যাংকের সংকট কাটাতে রূপরেখা তৈরির নির্দেশ

    মারাত্মকভাবে আর্থিক সংকট ও অনিয়মে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসিকে ঘুরে দাঁড়াতে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সভায় জানানো হয়, ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি (এনপিএল) হয়ে পড়েছে, যা সামগ্রিক ব্যাংক খাতের জন্য এক বিরাট উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং চরম নেতিবাচক নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন বা নেতিবাচক এনআইএমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভোগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাও ছিলেন। বৈঠকে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বড় শ্রেণিকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দ্রুত সুরাহা করা; খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা; নতুন বড় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা; এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে গুণগত ঋণ বিতরণ বাড়ানো; অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কালচার আরো শক্তিশালী করা।

    সভা সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ অল্পসংখ্যক প্রভাবশালী গ্রাহকের কাছে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এসব বড় অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে সময়াবদ্ধ ও আলাদা রেজুলুশন প্ল্যান তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুধু ঋণ পুনঃতফসিল বা মওকুফ নয়, ব্যাংকের তারল্য ও আয় বাড়াতে নগদ অর্থ আদায়কে আলাদা কেপিআই হিসেবে যুক্ত করতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া ওভারডিউ এক্সপোর্ট বিল এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং ঝুঁকি এড়াতে আরো কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুবাই বা ইউএই অপারেশন টিকিয়ে রাখা কিংবা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বন্ধ করার বিষয়ে দ্রুত পর্ষদকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।

    উচ্চ ব্যয়ের আমানতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কম খরচে স্থিতিশীল আমানত ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব বাড়াতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যমেয়াদি মূলধন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। আটকে থাকা বড় মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা এবং প্যানেল আইনজীবীদের পারফরম্যান্স রিকভারির ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে জনতা ব্যাংককে দ্রুততম সময়ে ‘কৃষক কার্ড’ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’প্রস্তুত এবং বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুবছরের জন্য জনতা ব্যাংককে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় শ্রেণিকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দ্রুত সুরাহা করা, খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, নতুন বড় ঋণ এড়িয়ে এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে গুণগত ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কালচার আরো শক্তিশালী করা।

    এছাড়া বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে এমন একটি বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য রূপরেখা তৈরি করতে হবে, যেখানে স্পষ্ট থাকবে কী করা হবে, কে করবে, কতদিনের মধ্যে করবে এবং এর ফলাফল কী হবে।

    জনতা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এম ফজলুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করি আগামীতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    সাক্ষাৎ শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি জানান, বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ও উঠে আসে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারি নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।

    বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত নগরায়নের ফলে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানানো হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়লে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    নতুন করে আস্থার সংকট ও আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২.১৪ শতাংশ। দেশের ব্যাংক খাতে এটিই এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

    এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ ও তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া, প্রকৃত ঋণচিত্র গোপন রাখা এবং পরে এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বিপুল খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। প্রকৃত হিসাবে মূলধন ঘাটতিও প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। একইসঙ্গে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩১৬ কোটি টাকা। তারল্য সংকট, ব্যবসা কমে যাওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে সামনে ব্যাংকটির আর্থিক চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ব্যাংকের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৭,৭২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪.৪২ শতাংশ। কিন্তু ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির প্রকৃত ঋণচিত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭,৭৫২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ১০,৮৩ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা আরো বেড়ে ৩২,৮১৭ কোটি টাকা বা ২১ শতাংশ হয়।

    ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪৭,৬১৮ কোটি টাকা বা ২৭.৩৮ শতাংশ। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে জুন শেষে তা এক লাফে বেড়ে ১ লাখ ২,৭৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তখন ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬.৫৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ে।

    পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬.২৭৫ কোটি টাকা বা ৫৮.২৪ শতাংশ। পরে বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধায় ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে ৯২,১১৫ কোটি টাকায় নামে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ আদায়ে বিশেষ জোর দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নীতি সুবিধা ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। এর ফলে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে আসে।

    তবে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে আবারও বাড়তে শুরু করে খেলাপি ঋণ। মার্চ শেষে তা দাঁড়ায় ৯৫.৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষে আরো ৩.২৮৬ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৮.৯১৫ কোটি টাকায়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে দেওয়া বড় অঙ্কের বিতর্কিত ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা, পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়া এবং ঋণ আদায়ে ধীরগতির কারণেই খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন করে তারল্য ও আস্থার সংকট যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, মূলত ঋণগ্রহীতাদের পেমেন্ট বিহেভিয়ারের কারণেই এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে যেভাবে কিস্তি পরিশোধ করার কথা, সেভাবে করতে পারছেন না। একটি বা একাধিক কিস্তি বকেয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী ওই ঋণকে শ্রেণিকৃত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আগে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল বা অন্য ব্যবস্থায় নিয়মিত করা হয়েছিল, সেসব ঋণেও নির্ধারিত কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হলে আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তায় অনেক ঋণের খেলাপি অবস্থা কমেছে। তবে কিছু ঋণগ্রহীতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এখনো নিম্নমুখী

    পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এখনো নিম্নমুখী

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১৩ মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মোট ৪ হাজার ৭০৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ৬৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হলেও মে মাসে তা নেমে আসে মাত্র ৭৪ কোটি টাকায়।

    পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মাসভিত্তিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিদেশীদের লেনদেন ছিল ৪৯১ কোটি টাকা। আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বরে কিছুটা বেড়ে ৪৪০ কোটি টাকা হলেও অক্টোবরে আবার কমে হয় ৩৬৮ কোটি টাকা। এরপর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাজার কার্যক্রম আরো কমে যায়। নভেম্বরে তারা ২৬৭ কোটি ও ডিসেম্বরে মাত্র ১৪৬ কোটি টাকার লেনদেন করেন।

    ২০২৬ সালের শুরুতে অবশ্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে কিছুটা গতি ফেরে। জানুয়ারিতে তাদের লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭৭ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে এক লাফে তা বেড়ে ৬৬৩ কোটি টাকায় ওঠে, যা আলোচ্য ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে মার্চে আবার কমে ২৭২ কোটি ও এপ্রিলে ১৭৫ কোটি টাকায় নেমে আসে।

    মে মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে সবচেয়ে বড় ধস দেখা যায়। এ মাসে তাদের মোট লেনদেন ছিল মাত্র ৭৪ কোটি টাকা। তবে পরের দুই মাসে বাজারে তাদের কার্যক্রম আবার বাড়ে। জুনে বিদেশীদের লেনদেন বেড়ে ৫৪০ কোটি ও জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

    শুধু মাসভিত্তিক লেনদেনেই নয়, দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের নিট অবস্থানও কয়েক বছর ধরে নেতিবাচক। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে দেশীয় ঋণ সিকিউরিটিজে বিদেশী বিনিয়োগের নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ওই অর্থবছরে নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ ছিল ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ হাজার ৬০ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪০ কোটি ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকায় পৌঁছে।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট পোর্টফোলিও বহিঃপ্রবাহ কিছুটা কমে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকায় নেমে এলেও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে কয়েক বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিট অবস্থান ধারাবাহিকভাবেই বহিঃপ্রবাহের দিকে রয়েছে।

    এদিকে দীর্ঘমেয়াদেও দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৬ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা ওই বছর এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে বিদেশীদের লেনদেন বেড়ে ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা হলেও মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

    ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ডিএসইতে যথাক্রমে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেন। এ দুই বছরে মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৮ ও ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    কভিডের বছর ২০২০ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, যা এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর থেকেই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। ২০২১ সালে মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার নেমে আসে ১ দশমিক ১০ শতাংশে এবং টাকার অংকে লেনদেন দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকায়।

    ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিদেশীদের লেনদেন আরো তলানিতে নেমে যায়। এ দুই বছরে ডিএসইর মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৮৯ ও দশমিক ৭৭ শতাংশ। টাকার অংকে তাদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে বিদেশীদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়ালেও মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ।

    বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে এমন ওঠানামার পেছনে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি, শেয়ারদরের প্রবণতা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশী বিনিয়োগের নিট বহিঃপ্রবাহ এবং ডিএসইর মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এখনো আগের অবস্থানে ফেরেনি।

  • সামিটের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে, কাটছে না সংকট

    সামিটের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে, কাটছে না সংকট

    আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সংকট কাটছে না। নতুন একটি জাহাজ পৌঁছানোর পর গতকাল শনিবার থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালটি চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমেছে। ফলে দুই টার্মিনাল থেকে আজ রবিবার সকাল থেকে মোট ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

    এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্প-কারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের। কিন্তু দুটি টার্মিনাল সচল হওয়ার পরও সরবরাহ বেড়েছে সামান্য। এতে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

    পেট্রোবাংলার ক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সক্ষমতা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ দিতে হলে প্রতি মাসে ১১ জাহাজ এলএনজি দরকার। এখন আসছে মাত্র ৫টি জাহাজ। সরবরাহ অর্ধেক নেমেছে। সব এলোমেলো। কবে নাগাদ এলএনজি সরবরাহ পুরোদমে হবে তা বলা মুশকিল।

    আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহ করে সরকার।টার্মিনালগুলো নিজেরা এলএনজি কিনতে পারে না। ভাসমান টার্মিনালের মূল কাজ হলো আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা। আগে টার্মিনালে ত্রুটি থাকলেও পরে তা ঠিক হয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে এখন এলএনজি সরবরাহে বিপত্তি ঘটেছে।

    এক্সিলারেট টার্মিনাল যখন এলএনজি সংকটে ভুগছিল, তখনো সামিটের টার্মিনাল তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছিল। এখন টার্মিনালটি নিজেই কার্গো সংকটে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনায় সরবরাহ কমানো হয়েছে।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ১০টায় এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সময়ে সামিট টার্মিনালের সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামানো হয়েছে। সামিট টার্মিনাল সচল কিন্তু সাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ নেই। বাধ্য হয়েই সরবরাহ কমাতে হয়েছে। নতুন জাহাজ সাগরে না আসা পর্যন্ত এভাবেই চলবে।

    অভিযোগ উঠেছে, উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে এলএনজি না কিনে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কিনতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। ডিপিএম পদ্ধতিতে অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজও দেশে পৌঁছেনি। এ অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে চড়াদামে কিনতে চাইছে, কিন্তু সাড়া মিলছে না। এ সংকটের মধ্যে সরকার সরবরাহ কীভাবে সামাল দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার ও কয়লাতেও জোর দিচ্ছি।’

    রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে গতকাল এক সেমিনারে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজক ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে মজুদকৃত কয়লা উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই সেদিকে যেতে হবে। সেখানেও ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

    স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক না কেন, সেগুলো নিরসন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, সরবরাহ চেইন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য বজায় থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে নিম্নমুখী ঋণপ্রবাহ অর্থনীতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এ পরিপ্রেক্ষিতে রফতানিতে লিডটাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলগুলোর সব ধরনের সেবার নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি পরিলক্ষিত হবে না।’

    অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় নেমে আসেনি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতার পাশাপাশি শিল্প খাতও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।’

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বেশ ফারাক রয়েছে। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্তের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাই না আমরা। রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে ততটাই কঠিন নীতিমালা। এর ফলে আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার বজায় থাকছে এবং স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্যও বাড়ছে।’

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিপ্লব ঘটাতে হবে বলে মনে করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ভালো কিছু উদ্যোগ রয়েছে, কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেটির প্রতিফলন নেই। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।’

    নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা বেশ কঠিন। তাই ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।’

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। এজন্য নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি লজিস্টিকস খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।’

    ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সীমিন রহমান বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসাসহায়ক নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এজন্য উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অধিক হারে ঋণ গ্রহণই প্রধানত দায়ী।’

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান, বেনজীর আহমেদ, রিজওয়ান রাহমান প্রমুখ।

  • পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিমালা সংস্কার, আমদানি সহজীকরণ এবং আধুনিক কারখানা ও ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

    ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’-এ অনুষ্ঠানে গতকাল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাজুস দেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    বাজুস জানায়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রফতানি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শিল্পটির অন্যতম বাধা হিসেবে নীতিমালার অস্পষ্টতাকে চিহ্নিত করে বলা হয়, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম দামে অলংকার বিক্রি করা সম্ভব।

    ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে বাজুস। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার ৫০০-৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশের মোট স্বর্ণের মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

    দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বাজুস। এসব কারখানায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও এক লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

    এ ছাড়া ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রফতানি সম্ভব হবে বলে জানায় বাজুস।

    বাজুসের বক্তব্যে বলা হয়, যুগোপযোগী নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।

    বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সুধীজন এবং কার্নিভাল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আজাদ আহমেদসহ বিভিন্ন উপকমিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

  • দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

    দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

    গভীর সঙ্কট থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনে তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর আওতায় এই তিন ধাপ হলো রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনঃস্থাপন এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন বা ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিতুমীর বলেন, ‘এই তিন ধাপ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে এনে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া হবে।’

    প্রথম ধাপ ‘রিকভারি’ বা পুনরুদ্ধারের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দীর্ঘদিনের জমে থাকা অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করা। এর মধ্যে রয়েছে ঋণের চাপ, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, তারল্যসঙ্কট, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং অর্থনীতির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

    এ লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিতুমীর বলেন, ‘গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয় ১২ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ।’ এটিকে রাজস্ব খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তিনি।

    সরকার বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, টাকার মূল্যমান শক্তিশালী হওয়া, প্রবাসী আয় বাড়া এবং সুদের হার কমে আসাকেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।

    তিন ধাপের দ্বিতীয় পর্যায় ‘রেস্টোরেশন’ বা পুনঃস্থাপনের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে শুধু স্থিতিশীল করা নয়, বরং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া।

    তিতুমীর বলেন, ‘এ পর্যায়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।’

    বিধিনিষেধ ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং প্রস্তাবিত ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একইসাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    তিনি বলেন, ‘উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়া থেকে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসব বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’

    সরকার এমন বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, যা উৎপাদন বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং রফতানি সক্ষমতা শক্তিশালী করবে। বিপরীতে ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর প্রকল্পে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হবে না।

    অগ্রাধিকার খাত হিসেবে কৃষি ও কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুনঃস্থাপন পর্যায়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামাজিক উন্নয়নকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

    তৃতীয় ধাপ ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ বা দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করা এবং অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা।

    তিতুমীর বলেন, ‘পুনরুদ্ধার ও পুনঃস্থাপন পর্যায়ে অর্জিত অগ্রগতিকে টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পুনর্গঠন অপরিহার্য।’

    এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কৌশল অনুযায়ী প্রথমে জ্বালানি খাতের তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর অর্থনীতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

    পরবর্তী পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    তিতুমীর বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আর শুধু গ্রাহক নন, তিনি একজন উৎপাদকও।’

    তার মতে, এই তিন ধাপকে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর উৎপাদন সক্ষমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং সবশেষে দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।

    বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অতীত অর্থনৈতিক রূপান্তর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিতুমীর।

    তিনি বলেন, ‘সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পরবর্তী সময়ে নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক খাতের বিকাশও দেখিয়েছে, কীভাবে কৌশলগত নীতিগত সিদ্ধান্ত কাঠামোগত দুর্বলতাকে অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।’

    বর্তমান কৌশলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তিগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদচিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সঙ্কট ব্যবস্থাপনার পর্যায় থেকে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ এই তিন ধাপের কাঠামো মূলত হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার, অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার একটি রূপরেখা।