অর্থ ও বাণিজ্য

  • বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

    হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আশা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আজ শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৯.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ২২ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৩.৩১ ডলারে নেমে আসে।

      সপ্তাহজুড়ে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫.৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪.৩ শতাংশ কমেছে।

      আগের দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শুক্রবার আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল।

      এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্ত দিয়েছে দেশটি।

      ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

      রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

    • সবজির দাম কমলেও চিনি-তেল-আটা-ডিমে বাড়ছে বাজারের চাপ

      সবজির দাম কমলেও চিনি-তেল-আটা-ডিমে বাড়ছে বাজারের চাপ

      রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের। চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে চিনি ও বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহও কমে গেছে। ফলে বাড়তি দামের পাশাপাশি পণ্য পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

      শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

      বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে একই ময়দার দাম ছিল ৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

      চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। প্যাকেটজাত চিনির গায়েও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

      মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা ফজলু জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিলাররা ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পরও অনেক দোকানে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।

      বিক্রেতাদের দাবি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। পাশাপাশি মিলগেট থেকে চিনির সরবরাহও আগের তুলনায় কমেছে।

      ভোজ্যতেলের বাজারেও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা হয়েছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা লিটার। সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

      খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

      অন্যদিকে, সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ সংকটে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

      কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী খন্দকার আজিজুল বলেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দাম কমেছে।

      পেঁয়াজের দামে গত কয়েক সপ্তাহে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুও ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

      তবে ডিমের দাম এখনো বেশি। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো পাড়া-মহল্লার দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

      এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কয়েকটি সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

    • এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যের দিকে

      এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যের দিকে

      যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের আগে শুক্রবার এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা তার বক্তব্য থেকে সুদের হার নিয়ে ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

      বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের অবসানের কোনো লক্ষণ না থাকায় সুদের হার নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

      এনভিডিয়ার শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর আবার অর্থনীতির দিকে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কখন বাড়াবে, আদৌ বাড়াবে কি না—এ নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

      গত মাসের ফেড বৈঠকে কর্মকর্তারা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখেন। তবে তিনজন কর্মকর্তা সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও তা এখনো ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।

      দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার আশঙ্কা এবং ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বাড়ছে। এর ফলে সরকারের জন্য ঋণ নেয়ার খরচও বাড়ছে।

      বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ও অর্থনীতিবিদদের বার্ষিক সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য থেকে নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।

      তবে জুলাইয়ের ফেড বৈঠকের পর তার সর্বশেষ বড় বক্তব্যটি ছিল বেশ অস্পষ্ট। এ কারণে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এবারো ওয়ারশ যদি ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে সরাসরি কোনো দিকনির্দেশনা না দেন, তাহলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো প্রত্যাশিত উত্তর পাবেন না।

      কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস বলেন, ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ওয়ারশের এটিই প্রথম বক্তব্য। তার মতে, এ বক্তব্যটি এ বছরের বাকি সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হতে পারে। কারণ, এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে।

      তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য আপাতত সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমিয়েছে। ফলে ওয়ারশ এখনই সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা না দিয়েও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ফেডের কঠোর অবস্থান আবারো স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

      ইনেস আরো বলেন, ‘একটি কঠিন নীতিগত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়ারশ এই বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। টানা ষষ্ঠ বছর মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এদিকে, ফেডের কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রয়োজন এখনো রয়েছে কি না এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

      শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগের দিনের বড় উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক পূর্বাভাসের কারণে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছিল। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অতিরিক্ত উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছিল।

      এদিন টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, জাকার্তা ও তাইপের শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। অন্যদিকে সিউল, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার বাজারে সূচক কমেছে।

      এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও তিনটি প্রধান শেয়ারসূচকই বেড়েছিল। তবে এই উত্থান মূলত প্রযুক্তি খাতনির্ভর ছিল। ১১টি প্রধান খাতের মধ্যে শুধু প্রযুক্তি খাতই সেদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

      আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার তেলের দাম সামান্য কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় ভবিষ্যতে তেলের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

      ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

      বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই সেখানে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা এখনো কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আনতে পারেনি।

    • কর ফাঁকি রোধে স্বয়ংক্রিয় ইন্টিগ্রেটেড প্রোফাইল চালু করবে এনবিআর

      কর ফাঁকি রোধে স্বয়ংক্রিয় ইন্টিগ্রেটেড প্রোফাইল চালু করবে এনবিআর

      করদাতার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তাদের প্রকৃত আয়-ব্যয় এবং অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্যহীনতা খুঁজে বের করতে এক ডেটাভিত্তিক বা উপাত্তনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এনবিআর। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি করদাতার একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড’ বা সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয় ও ব্যয়ের গরমিল চিহ্নিত করবে।

      এই ব্যবস্থার অধীনে, প্রতিটি করদাতার একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড’ বা সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এতে করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে খরচ, বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক লেনদেন, গাড়ি ক্রয়, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ এবং অন্যান্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয় বা ব্যবহারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে।

      করফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এমন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

      অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম, মীর শাহে আলম, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, আবুল হাসনাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।

      বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই প্রযুক্তি করদাতার আয়, ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে সংগতি রয়েছে কি না—তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যায়ন করবে। যদি এতে বড় ধরনের কোনো গরমিল পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (হাই-রিস্ক) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

      এনবিআর আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে করদাতাদের এই সমন্বিত প্রোফাইল সম্পন্ন করা এবং একটি শক্তিশালী ‘ইনকাম ট্যাক্স ডেটা ওয়্যারহাউস’ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ সম্পদসম্পন্ন ব্যক্তির (হাই নেট ওয়ার্থ ইন্ডিভিজুয়াল) অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে তাদের কর প্রদানের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তাদের পৃথক প্রোফাইল তৈরি করা হবে।

      জানা গেছে, বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত খুবই কম। সেটি বাড়াতে নানামুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ। সেখান থেকে স্বল্পমেয়াদে আরো ২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো, মধ্যমেয়াদে এটি ১০ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

      এছাড়া বাণিজ্যিক জালিয়াতি, রাজস্ব ফাঁকি এবং বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার (ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং) রুখতে প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ‘কাস্টমস অ্যাটাশে’ পদ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর।

      এনবিআর জানিয়েছে, কেবল দেশীয় উপাত্ত দিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে প্রস্তাবিত কাস্টমস অ্যাটাশেরা আমদানিকৃত পণ্যের উৎস, রপ্তানিকারকের বিস্তারিত পরিচয়, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ভূমিকা রাখবেন।

      করপোরেট আয়কর ফাঁকি বন্ধ করতে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক সূচক সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি সিস্টেমভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে কোম্পানির টার্নওভার বনাম ঘোষিত মুনাফা, গ্রস প্রফিট রেশিও, রিলেটেড-পার্টি ট্রান্সজেকশনস, সুদের খরচ, ব্যবস্থাপক ফি, রয়্যালটি, কমিশন, অবচয়, মন্দঋণ, রিলেটেড-পার্টি লোন, পরিচালকদের সম্মানী, আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের বিপরীতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি, ভ্যাট টার্নওভার বনাম আয়কর টার্নওভার। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোয় সম্পত্তিভিত্তিক আয়কর কমপ্ল্যায়েন্স প্রোগ্রাম চালু করবে এনবিআর। ফলে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি থেকে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

      বকেয়া কর আদায়ে ইনকাম ট্যাক্স ডেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে এনবিআর জানিয়েছে। এছাড়া করদাতার সঙ্গে কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনতে, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট ও ফেসলেস অডিট কার্যক্রম ধাপে ধাপে গ্রহণ করবে এনবিআর। কর কর্মকর্তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অ্যাসেসমেন্ট বা পর্যালোচনা সম্পন্ন করবেন।

      জানা গেছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এনবিআর তাদের টিআইএন ডেটাবেস পরিচ্ছন্ন ও শ্রেণিবদ্ধ করবে, শীর্ষ বকেয়া আয়কর তালিকা তৈরি এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি ও উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তিবর্গকে শনাক্ত করবে।

      আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে, ‘হাই নেট ওয়ার্থ ইন্ডিভিজুয়াল ইউনিট’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে এবং কেন্দ্রীয় ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা পাইলটিং বা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে করদাতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি, যানবাহন ও কোম্পানির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করা হবে এবং স্বয়ংক্রিয় আয়-সম্পদ প্রোফাইলিংয়ের পাইলটিং শুরু করা হবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক অডিট সিলেকশন ও অটোমেটেড উইথহোল্ডিং লেজার ব্যবস্থাও এই সময়ে প্রস্তুত করা হবে।

      এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রি-ফিল্ড (পূর্বেই পূরণকৃত) আয়কর রিটার্ন, দেশব্যাপী ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত বা রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে মাঝারি স্তরের করদাতাদের বিভাগ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক কর নির্ধারণ ব্যবস্থার (ট্রান্সফার প্রাইসিং) সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

      এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আমার দেশকে বলেন, এ ধরনের যুগোপযোগী প্রস্তাব ও কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজস্ব সংস্কার কমিটির সুপারিশগুলো এবার বাস্তবে রূপ নিলে রাজস্ব খাতে নিশ্চিতভাবেই একটি ইতিবাচক ও দূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে।

    • নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

      নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

      সরকার সারা দেশে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং একটি কার্যকর সোলার সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

      গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

      এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

      বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে পারবে।

      এতে আরো বলা হয়, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেও আবেদন ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, যা স্থানীয় ও নতুন উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

      উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রুফটপ সোলার খাতকে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ ও সেবা প্যাকেজ তৈরির পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।

      এছাড়া সরকার রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও কাজ করছে। বিশেষভাবে গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

      জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

      এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে সারা দেশে দক্ষ জনবল, স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

      সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান এই বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

    • পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আনা হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার গাড়ি

      পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আনা হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার গাড়ি

      আমদানিকারক ঘোষণা দিয়েছিলেন, চালানে আছে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল, স্টিয়ারিং হুইল—গাড়ির এসব যন্ত্রাংশ। গাড়ির ব্যবহার করা এসব যন্ত্রাংশের পরিবর্তে আনা হয়েছে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটার বিলাসবহুল গাড়ি। এই চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কয়েকটি অংশে ভাগ করে (সিকেডি) এনে পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

      কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক গোয়েন্দা অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব গাড়ির প্রতিটির মূল্য কোটি টাকার ওপরে। মোংলা বন্দরে এ ঘটনা ঘটে।

      আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আমদানি করা একটি চালান থেকে ওই চারটি বিলাসবহুল গাড়ির শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা হয়।

      এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এসব গাড়ির শুল্কায়নযোগ্য দাম কত, তা নির্ধারণ করে শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপর আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

      কোন মডেলের গাড়ি ও দাম কত

      এনবিআর জানিয়েছে, ওই চারটি গাড়ির মডেল হলো রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এসব গাড়ির সম্ভাব্য মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

      কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্ত অনুসারে, যুক্তরাজ্যের তৈরি রেঞ্জ রোভার ভোগ গাড়িটি ২০১৭ সালের মডেল। বাংলাদেশে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

      জাপানে তৈরি লেক্সাস এলএক্স৫৭০ গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এর মডেল বছর ২০১৬।

      জার্মানির তৈরি বিএমডব্লিউ ৬৫আই মডেলের গাড়ি ২০১০ সালের মডেল। বাংলাদেশে এর মূল্য ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা। টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট গাড়িটি তৈরি হয়েছে জাপানে। এর দাম ৩০-৪০ লাখ টাকা।

      কীভাবে ধরা পড়ল

      গত জুলাই মাসে গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর পেয়ে ওই চারটি গাড়ির চালান স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়।

      পরে ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমের কারিগরি সহায়তা, পণ্যের বিভিন্ন স্থানে লাগানো বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং এআইয়ের সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

      তদন্তে দেখা গেছে, এসব চালানে পুরোনো গাড়ির সাধারণ যন্ত্রাংশ আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যেমন হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল, স্টিয়ারিং হুইল ইত্যাদি।

      কিন্তু সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র তিন-চারটি বড় অংশে কেটে সেমি নকড ডাউন বা সিকেডি অবস্থায় আমদানি করা হয়েছে। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় মাত্র ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা।

      ঘটনাটিকে বড় অঙ্কের সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চূড়ান্ত রাজস্ব ফাঁকির অঙ্ক যথাযথ শুল্কায়ন শেষে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চূড়ান্ত তদন্ত শেষে মোংলা কাস্টম হাউসকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।

      গাড়ির ওপর আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম কর, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক—এসব নানা ধরনের শুল্ক-কর বসে। তবে দামি ও বেশি সিসির ইঞ্জিনক্ষমতাবিশিষ্ট গাড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক বেশি বসে। সিসিভেদে গাড়ির ওপর ৩০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক বসে। এই শুল্ক ফাঁকি দিতেই নানা কৌশল ব্যবহার করেন আমদানিকারকেরা।

    • প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

      প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

      আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) ইস্যুর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

      নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও এসবিএলসি ইস্যু করতে পারবে স্থানীয় ব্যাংকগুলো। এর মাধ্যমে ওই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি ইস্যুসংক্রান্ত বিধান আংশিক সংশোধন করা হলো।

      বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদার, স্থানীয় এজেন্ট বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিড বন্ড, পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা এসবিএলসির সংস্থান করতে পারবে।

      এ সুযোগ পেতে কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে মূল চুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি গ্রহণের স্পষ্ট সুযোগ থাকতে হবে। দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য চুক্তি বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং এর সপক্ষে বৈধ দলিলাদি থাকতে হবে। গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যুর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও দায়ের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত জামানত বা কাউন্টার–সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।

      জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকির মাত্রা এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে। গ্যারান্টির কারণে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়, দায় ও অন্যান্য খরচ কীভাবে পরিশোধ করা হবে এবং গ্যারান্টি কার্যকর (ক্যাশ) হলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কীভাবে অর্থ ফেরত দেবে, তা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

      ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

    • খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

      খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

      খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা করেছে একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।

      ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

      সভায় পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

      সভায় জানানো হয়, খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশনের (এডিআর) মতো সমঝোতাভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

      এছাড়া ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

      বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

      এ ছাড়া প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৫টি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএসহ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে। তাছাড়া আমানতকারীরা যাতে ৫ ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে তাঁদের আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

      বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকটির শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক ইউনিটের একীভূতকরণ, পুনর্বিন্যাস ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার কাজ চলমান রয়েছে।

      বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বিআরডি।

      কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।

    • প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

      প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

      বন্ধ কলকারখানা চালু ও স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দিতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

      প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ১৭টি ব্যাংক হলো—সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

      গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার এ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্যাকেজে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকা।

      প্যাকেজের সবচেয়ে বড় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ তহবিল থেকে বেসরকারি খাত গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে।

    • সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা 

      সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা 

      ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) ২২ আগস্ট শনিবার তার ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। রাজধানীর আইসিসিবিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংস্থার প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

      বিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সুবর্ণজয়ন্তী উদ্ যাপন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিজের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম রবিন। তাঁকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

      বিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুল কাদের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজের নির্বাহী পরিচালক ইকবাল আহাম্মদ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়রা আজম, ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) চেয়ারম্যান মুরশেদ আলম সরকার, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিএমডি ও সিবিও মো. জাহিদ হোসেন এবং বিজের মাইক্রোফাইন্যান্স পরিচালক ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।