অর্থ ও বাণিজ্য

  • দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী

    দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী

    খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে নির্ধারিত নিরাপত্তা মজুদের তুলনায় বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো: মশিউর রহমান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    খাদ্যমন্ত্রী জানান, ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল।

    তিনি বলেন, গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় স্বাভাবিক সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং সঙ্কট সময়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং দেশে খাদ্য (চাল ও গম/আটা) ঘাটতির কোনো সুযোগ নেই।

    জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘ফুড আউটলুক’-এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল চার কোটি ২৩ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল চার কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন।

    তিনি জানান, মোট চাল সরবরাহের মধ্যে চার কোটি ২৪ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে এবং ১২ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন এসেছে আমদানির মাধ্যমে।

    খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একই অর্থবছরে দেশে গমের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৮২ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন।

    তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এফএও’র ‘ফুড আউটলুক’ অনুযায়ী দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ চার কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন এবং গমের চাহিদা ৮৩ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে।

    খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি উভয় খাতই চাল ও গম আমদানি করে থাকে।

  • বিশ্বের পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট’ শুরু

    বিশ্বের পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট’ শুরু

    বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্কিং এবং বিশ্ববাজারে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (বিটিএম) ২০২৬’।

    দেশী-বিদেশী পর্যটন ব্যবসায়ীদের মেলবন্ধনে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে তিন দিনব্যাপী চলবে এ মেলা।

    রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া) আয়োজিত প্রথমবারের মতো এই মেলায় দেশ-বিদেশের ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল অ্যাজেন্সি, এয়ারলাইনস, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), পর্যটন সংস্থাসহ বিভিন্ন ভ্রমণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটসহ সরকারি কর্মকর্তা, পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আয়োজক সংগঠন বোটোয়া জানায়, এবারের মেলায় প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান এবং ৬০ জন বাণিজ্যিক ক্রেতা অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনের এই আয়োজনে প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করছেন তারা।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ট্রাভেল মার্টের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে আরো কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা এবং দেশী ও বিদেশী পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা।

    উদ্বোধনের দিন সরেজমিনে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তারা বিভিন্ন দেশের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ট্যুর প্যাকেজ, বিমানের ভাড়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা ও ভিসা সংক্রান্ত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করছেন।

    মেলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বোটোয়া’র সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টকে কেবল একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখছি না। এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসার সাথে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।’

    তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশী-বিদেশী ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পর্যটন সেবা প্রদানকারীদের এক ছাদের নিচে এনে ব্যবসার প্রকৃত সুযোগ তৈরি করা।

    সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, এই মেলাকে আমরা আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি বাণিজ্যক প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে চাই, যেখানে প্রদর্শনীর পাশাপাশি গঠনমূলক ব্যবসায়িক আলোচনা ও বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) বৈঠকের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সাধারণ ভ্রমণকারীরাও মেলায় এসে সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানির সাথে কথা বলে অফার যাচাই-বাছাই করার সুযোগ পাবেন।

    এবারের মেলায় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদাভাবে বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) এবং বিটুসি (বিজনেস-টু-কনজিউমার) কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিটুবি পর্বে পেশাদার পর্যটন ব্যবসায়ীরা দেশী-বিদেশী ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে বৈঠক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে পারবেন। অন্যদিকে, বিটুসি পর্বে সাধারণ দর্শনার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ, বিমানের টিকিট এবং ভিসা সেবা সম্পর্কে সরাসরি তথ্য নিতে ও যাচাই করতে পারবেন।

    মেলায় দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ, বিমানের টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সেবাসহ ভ্রমণের আকর্ষণীয় সব অফার দেয়া হচ্ছে। পর্যটনপ্রেমী ও ব্যবসায়ীদের জন্য আকর্ষণীয় এ মেলা চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • হাইটেক পার্কের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অর্থ পরিশোধে ছাড়

    হাইটেক পার্কের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অর্থ পরিশোধে ছাড়

    হাইটেক পার্কে (এইচটিপি) পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও কারিগরি সহায়তা ফি বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান তাদের টাকা হিসাব থেকে বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও কারিগরি সহায়তা ফি পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) পূর্বানুমোদন ছাড়াই বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ব্যবস্থা করতে পারবে।

    এ ক্ষেত্রে টাকা হিসাব থেকে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ব্যবহারের ব্যবস্থাও বহাল থাকবে। তবে রেমিট্যান্সের আগে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সহজ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তবে নির্ধারিত সীমার বেশি রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও কারিগরি সহায়তা ফি বিদেশে পাঠাতে হলে বিএইচটিপিএর পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক বিএইচটিপিএর নির্দিষ্ট অনুমোদন নিতে হবে।

    নতুন এ ব্যবস্থার ফলে হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি চুক্তি ও পরিচালনাগত ব্যয় পরিশোধে আগের তুলনায় বেশি সুবিধা ও শিথিলতা পাবে।

  • জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ—উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর অর্ধেক হবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। ঋণ নিতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘উদ্যোগ’ প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এ কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করবে। এরপর তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

    ঋণের অর্ধেক অনুদান

    নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তা তার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ। বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।

    গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হবে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন করে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাও হারাবেন।

    আবেদন করতে পারবেন যারা

    আবেদনের শেষ তারিখে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের বয়স ২৮ বছরের বেশি নয় এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা, তারা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদনকারীর আগে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।

    আবেদনের জন্য কোনো টাকা লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

    আবেদন শুরু সেপ্টেম্বরে

    কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন দাখিলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    প্রথম ধাপে ৬৪০ উদ্যোক্তা

    প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলা—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার—৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু করা হবে।

    প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

    অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়নের মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ মেন্টরের কাছ থেকে তারা ধারাবাহিক পরামর্শও পাবেন।

    এ ছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ বিবেচনায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • দুই মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    দুই মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭১৩ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটির আয় বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার বা ৫.১২ শতাংশ। জুলাইয়ে রপ্তানি কমলেও আগস্টে নিট ও ওভেন—উভয় ধরনের পোশাকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হওয়ায় দুই মাসের হিসাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে খাতটি।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭১৩ কোটি ছয় লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৫.১২ শতাংশ।

    দুই মাসের হিসাবে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, নিট পোশাক থেকে বাড়তি আয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

    অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। দুই মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩১৮ কোটি আট লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩.৮১ শতাংশ বা প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে অবশ্য পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক চিত্র দেখা যায়। ওই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। আগের বছরের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে মাসটিতে রপ্তানি কমেছে ১.৯২ শতাংশ।

    জুলাইয়ে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ খাতে আয় হয়েছিল ২১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এতে নিট পোশাকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৯০ শতাংশ।

    একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ আয় ছিল ১৭৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে ওভেন পোশাকে রপ্তানি কমেছে ৩.১৬ শতাংশ। জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবণতার পর আগস্টে পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মাসটিতে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত বছরের আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে আয় বেড়েছে ১৩.৯২ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

    আগস্টের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে নিটওয়্যার। মাসটিতে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৭৭ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসে এ খাত থেকে বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

    ওভেন পোশাকেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আগের বছরের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আয় বেড়েছে ১২.৭০ শতাংশ বা প্রায় ১৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

    ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিটওয়্যার এবং ওভেন—দুই খাতই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে নিটওয়্যারের প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি আয়ের পরিমাণ উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে। জুলাই-আগস্টে মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার থেকে এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আর ওভেন থেকে পাওয়া গেছে ৩৩০ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ফলে মোট রপ্তানিতে নিট পোশাকের অবদান তুলনামূলক বেশি।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরে মোট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫.১২ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি ৬.১৭ শতাংশ এবং ওভেনে ৩.৮১ শতাংশ। আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবকে ইতিবাচক রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

  • দাম কমায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দাম কমায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে দাম কমতে থাকায় প্রায় তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে চারটি ব্যাংক থেকে এই ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডলার কেনার এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান, মঙ্গলবার সকালে ডলারের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। ওই সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স হাউজ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা দরে কিনছিল। আর আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে।

    সরবরাহ বাড়ায় কমছিল ডলারের দাম

    ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও আগের তুলনায় কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকায় আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কম রয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দর কমছিল।

    এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আরও নেমে যাওয়া ঠেকাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় হওয়ায় ডলারের চাহিদা আবার কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন একজন ব্যাংকার।

    মঙ্গলবার সকালে বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার কোনো পূর্বাভাস ছিল না। দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানানো হয়। সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে জানানো হয়। ফলে মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে। একইভাবে রেমিট্যান্সের ডলারও কম দরে কেনা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর বিকেলে বাজারে দর কিছুটা বাড়ে। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তখন রেমিট্যান্সের ডলার কেনার পাশাপাশি এলসি নিষ্পত্তিতেও প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দর নির্ধারণ করে।

    ১৫ দিনে ডলারের দরে বড় ওঠানামা

    ব্যাংকারদের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে দর নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ডলারের দরে প্রায় দেড় টাকার ওঠানামায় ব্যাংকার থেকে শুরু করে আমদানিকারক ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক গ্রাহক ঝুঁকি কমাতে ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের মাধ্যমে আগাম ডলার সংগ্রহের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

    এক ব্যাংকার জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনার তথ্য আগে জানালে সকালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এত কম দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনত না কিংবা এলসি নিষ্পত্তিও করত না। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন বাজারে হস্তক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ডলার কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলারের একটি সম্ভাব্য নিম্নসীমার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

  • টিসিবির জন্য ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

    টিসিবির জন্য ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

    টিসিবির কার্ডধারী এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব পণ্য কিনতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হবে।

    প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দরে এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত তেল সরবরাহ করবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ কোটি লিটার। এরই মধ্যে ৮৪ লাখ ১ হাজার ৮০২ লিটার ভোজ্যতেল কেনা হয়েছে।

    অন্যদিকে, একই বৈঠকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে এ ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    চলতি অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

    সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুত আরও বাড়বে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা

    বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা

    ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব বিষয়ে আগে আলাদা সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।
    নতুন নির্দেশনাটি আগামী এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

    একইসঙ্গে এ বিষয়ে আগে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো রহিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশি গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যারান্টি দেওয়

    দ্বিতীয় অংশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরা হয়েছে।

    তৃতীয় অংশে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ গ্রহণ এবং সেই ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্যারান্টি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

    তবে বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৫ জুলাইয়ের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা বহাল থাকবে।

    নতুন সার্কুলারে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের (এসবিএলসি) বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ব্যবহার করে দেশীয় অর্থায়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে।

    এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি কোনো কোম্পানিকে দেওয়া চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও একই বিষয়ে এক বছরের জন্য নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এক বছরের জন্য সমন্বিত নির্দেশনা দেওয়া হলো।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম এক জায়গায় আনার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। বিশেষ করে বিদেশি মালিকানাধীন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার মাধ্যমে সুবিধা পাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধান সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।