অর্থ ও বাণিজ্য

  • শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ২৩.১১ পয়েন্ট

    শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ২৩.১১ পয়েন্ট

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একইসাথে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

    ডিএসইতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ৩৮৮টি কোম্পানির ২৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ২৬৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩১ কোটি সাত লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৯২টির কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৬০ দশমিক ৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক তিন দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৫ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক চার দশমিক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৩৫ দশমিক ১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সায়হাম কটন, এআইএনএনআইএনসি, সায়হাম নিটিং, শাইনপুকুর সিরামিকস, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, একমি ল্যাবরেটরিজ, আরএকে সিরামিকস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রাইম ব্যাংক।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০-এ ছিল এআইএনএফ ফার্স্ট ইকোনমিক মিউচুয়াল ফান্ড, সায়হাম কটন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম নিটিং, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড, এনএফএস এবং প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল ফাস্ট ফাইন্যান্স, এপেক্স স্পিনিং, বৌফিকা ফুডস, ডেল্টা লাইফ, শরিয়াহ লাইফ, ফার্স্ট বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, আরামিট সিমেন্ট, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

    বিশ্ববাজারে দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমেছে। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমেছে। আজ সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

    দাম কমার পর আজ থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।

    আজ মূল্যবৃদ্ধির আগে স্বর্ণের দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।

    এর আগে ৩১ আগস্ট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমানো হয়। দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে।

  • তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। এইগুলো হলো অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক, ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে থেকে পৃথক তিনটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে এ বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের কামরুজ্জামান খান এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী আনোয়ারুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানাল সরকার

    অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানাল সরকার

    চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য চীনের বিকল্পটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে কেনা সম্ভব।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকটের বোঝা এবার চাপছে সোনালী ব্যাংকের ওপর। সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিনেও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে সোনালী ব্যাংক।

    এ পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটি। একইসঙ্গে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের ওপর চাপ কমাতে বকেয়া ঋণের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা নতুন করে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    গত ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সচিবকে লেখা এক চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বিপুল পরিমাণে বাড়বে। একইসঙ্গে ব্যাংকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং এর অধীন ৯টি চিনিকলকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩,১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। শুধু বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ২,৭৬২ কোটি টাকা।

    দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪,০৮৬ কোটি টাকা। ফলে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭,১৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫৩ কোটি টাকা পরিশোধের পর নিট বকেয়া রয়েছে ৬,৯৩৮ কোটি টাকা।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১,০০০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ছিল। তবে ওই গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে বিএসএফআইসি ও চিনিশিল্পের ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা মোট ৬টি সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণগুলো নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    চিনিকলগুলোর ঋণের একটি অংশ বিএসএফআইসি, সংশ্লিষ্ট চিনিকল এবং সোনালী ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। সরকারি গ্যারান্টি ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি থাকায় এতদিন হিসাবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অশ্রেণিকৃত রাখা হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকে এসব ঋণ আবার শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সোনালী ব্যাংক।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি হওয়া ঠেকাতে এবং ব্যাংকের পাওনা সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছে সোনালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকটি বিএসএফআইসি ও এর আওতাধীন চিনিকলগুলোর ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে অবশিষ্ট আদায়যোগ্য অর্থের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানায়।

    একই বছরের ১৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসএফআইসি ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে ওই সভায় কী সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছিল- সে বিষয়ে পরে সোনালী ব্যাংককে কিছু জানানো হয়নি।

    চলতি বছরের শুরুতে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবার আবেদন জানায় সোনালী ব্যাংক। বকেয়া অর্থ পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়ে সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সব শেষে গত ১৯ আগস্ট একই দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় ব্যাংকটি।

    সোনালী ব্যাংক বলেছে, চিনিকলগুলোর ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হওয়া ঠেকাতে এবং বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    এদিকে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির (অ্যালকো) সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় চিনিশিল্প খাতের অসমন্বিত ঋণ হিসাব সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এসব ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংককে একক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রমকারী ঋণগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়া হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৫টি চিনিকল। ২০২০ সালে সরকার ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে রয়েছে।

    বিএসএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্যের কারণে ট্রেড গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেড গ্যাপের কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে- এমনটা মনে হতে পারে। ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের কাছে বিএসএফআইসির পাওনা ৮,০৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়া গেলে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো না বলে তারা জানান।

    এ বিষয়ে জানতে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে তার অফিসে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • টার্নওভারে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত

    টার্নওভারে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত

    টার্নওভারে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

    সিগারেট, বিড়ি, চিবিয়ে খাওয়ার তামাক, ধোঁয়াবিহীন তামাক, গুল বা অন্য কোনো তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী; কার্বোনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি পানীয় প্রস্তুতকারী এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ও এনটিটিএন ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য নতুন িই করহার প্রযোজ্য হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্যান্য খাতে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কোনো টার্নওভার কর প্রযোজ্য হবে না। দুই কোটি টাকার বেশি কিন্তু চার কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম টার্নওভার করহার হবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। চার কোটি টাকার বেশি হলে করহার হবে ১ শতাংশ।

    এর আগে অর্থ আইন, ২০২৬-এ টার্নওভার করহার ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর ফলে বড় ধরনের করের বোঝা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টার্নওভার করহারের বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার।

    টার্নওভার কর হলো ব্যবসার মোট বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেনের ওপর নির্ধারিত হারে প্রদেয় একটি কর, যা মুনাফা না থাকলেও পরিশোধ করতে হয়।

  • সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

    সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি। পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।

    ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরো পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছার কথা ছিল।

    ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বারবার বাড়ানো হচ্ছে।

    মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

    জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেক্কায়াত হামলার শিকার হয়। কাতার ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    আইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

    এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার।

  • কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

    কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

    সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে সাধারণ ভোক্তার স্বস্তি ফেরাতে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর আমদানিতে বড় ধরনের শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে।

    দুটি পণ্যের আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমদানির উপর আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।

    শুল্ক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই দ্বিমুখী শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানি পর্যায়ে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্য দুটির খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    গত ১৭ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সকল পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এরইপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

    এদিকে প্রজ্ঞাপনের সংযুক্ত শুল্ক টেবিল অনুযায়ী, কাস্টমস শুল্কায়নের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট পণ্য দুটির বিবরণ ও এইচ.এস. কোড নিম্নরূপভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কাঁচা মরিচের কাস্টমস শুল্কায়নের জন্য হেডিং ০৭.০৯ এর অধীনে এইচ.এস. কোড ০৭০৯.৬০.১৯ নির্ধারণ করা হয়েছে টমেটোর কাস্টমস শুল্কায়নের জন্য হেডিং ০৭.০২ এর অধীনে এইচ.এস. কোড ০৭০২.০০.১৯ নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • দরপতনে ধুঁকছে শেয়ারবাজার

    দরপতনে ধুঁকছে শেয়ারবাজার

    দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার বড় পতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমেছে।

    বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে দেশের শিল্প খাত এক মাসের বেশি সময় ধরে ধুঁকছে। তাতে শিল্প খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প খাতের উৎপাদন ও ব্যবসায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার আশু কোনো সমাধান নেই। ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্ভূত এ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ভুগছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানিও। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তাতে গতকাল ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষকরা জানান, দেশে বর্তমানে গ্যাস-বিদ্যুতের যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে সমস্যা তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যার আশু সমাধানের কোনো আশার কথাও বলা হচ্ছে না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, রাতারাতি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েক বছর সময় লাগবে। এ অবস্থায় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। যার তাৎক্ষণিক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমতে থাকে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের। দিন শেষে সূচকের বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২,১২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১,১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৪৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা।

    এই লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন।

    এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।

    অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১২টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

    ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, বাজারে নানা ধরনের নেতিবাচক কথার প্রভাব পড়েছে। চলমান গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সহসাই কাটছে না। এর প্রভাব উৎপাদনে পড়বে। তবে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষায় পরামর্শ দেন তিনি।

    ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমার দেশকে বলেন, বাজারে উত্থান-পতন থাকবে। এটা স্বাভাবিক। তবে জ্বালানি সংকটে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

  • আ.লীগ আমলে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী

    আ.লীগ আমলে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম ৬ মাসে প্রায় ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় ১৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজারে যুক্ত হয়েছেন। অপরদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর যুক্ত হওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের মতো। এ হিসাবে প্রথম ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বিএনপি সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কম।

    শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আবশ্যকীয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ও শেয়ারের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি পার্টিসিপেন্ট অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)।

    সিডিবিএলের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৮ জন। প্রথম ছয় মাস শেষে ৬ জুলাই এ সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৩৮-তে। এ হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৬৮০ জন বিনিয়োগকারী। এ সময়ে নতুন বিও হিসাব খোলার সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৮টি। পক্ষান্তরে বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮টি।

    অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ও ভারতে পলায়নের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম ৬ মাসে ১৬ হাজার ৯৬০ জন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের দিন শেয়ারবাজারে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৫ জন। প্রথম ৬ মাস শেষে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিও হিসাবধারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৫-তে। এ সময় নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছে ৩৯ হাজার ১৭২টি এবং বন্ধ হয়েছে ২২ হাজার ২১২টি। এ হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬০-এ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি সরকার। সরকার গঠনের দিন দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৬ জন। ৬ মাসের ব্যবধানে ১৬ আগস্ট এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬তে। এ সময়ে নতুন বিও হিসাব খোলার পরিমাণ ৫৫ হাজার ৮১৪টি। বিপরীতে হিসাব বন্ধ হয়েছে ৪৭ হাজার ২৪৪টি। এ হিসাবে বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাসে নতুন করে শেয়ারবাজারে যুক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৫৭০ জন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় বিএনপি সরকারের একই সময়ে বিও হিসাবের বৃদ্ধির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ।

    বাজার-সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার গঠনের সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিও হিসাব খোলার মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এটি এককভাবে সরকার গঠনের উপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের আর্থিক নীতি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি, নতুন আইপিও অনুমোদন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে কারা রয়েছেনÑএসব কিছু ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। আবার প্রতি বছর জুন মাসে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়। এজন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ফি পরিশোধ না করলে বিও হিসাব স্থগিত করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস সময়কালে জুন-ক্লোজিংয়ের ইস্যু জড়িত রয়েছে। ফলে জুন ক্লোজিংয়ের কারণেও বিও অ্যাকাউন্ট একটা প্রভাব থাকতে পারে।

    এদিকে বিএনপি সরকার গঠন করলেও বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে প্রায় চার মাস পর। করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তিন কমিশনারকেও নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকার গঠনের পর বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে সময় ক্ষেপনেরও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট বিভাগের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সের সাবেক সদস্য অধ্যাপক আল-আমিন আমার দেশকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আসা-যাওয়ার চেয়ে মার্কেট কতটা স্ট্যাবল সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আইপিওতে লটারি পদ্ধতির কারণে বিও হিসাবের সংখ্যা বাড়ে। যত বেশি আবেদন আইপিওর লটারি জেতার সম্ভাবনা তত বেশিÑএমন প্রত্যাশায়ও অনেকে বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণে কিংবা অন্য আরো অনেক কারণে যেমন অনেকে বাজার ছেড়ে গেছেন আবার নতুন প্রত্যাশায় অনেকেই শেয়ারবাজারে আসছেন।

    ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে দেশের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন কেলেংকারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। কিন্তু কারসাজি চক্রের হোতাদের কোনো ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর শেয়ারবাজারে সেই দুঃসহ স্মৃতি ফিরে আসে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মানসপটে। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী আমলে শেয়ারবাজারে কেলেংকারির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২০০৯ সালের প্রথম দিকে বাজার ছেড়ে চলে যান প্রায় ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী।

    প্রথম ৬ মাসে বিও হিসাবের সংখ্যা কমলেও এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করে। ব্যাংকের সুদের হার কমানো, ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি, ১৯৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি না ঘটার আশ্বাসসহ নানাভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩২ লাখ ৮০ হাজারে। বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর আগমনের সুযোগে কারসাজির চক্রের হোতারা শেয়ারবাজারকে অর্থ লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ১৯৯৬ সালের চেয়ে আরো বড় ধরনের কেলেংকারি ও বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে। ধসের কারণে পুঁজি হারিয়ে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যাও করেছেন। এখনো সেই বিপর্যয়ের ধকল থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না বাজার। বিশেষ করে মার্জিন লোনের কারণে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীই নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    শেয়ারবাজার থেকে আওয়ামী লীগের আমলে এক লাখ কোটি টাকা লুটপাট বা আত্মসাত হওয়ার তথ্য অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কিত শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও পূর্ববর্তী সরকারের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরার জন্য ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল।