অর্থ ও বাণিজ্য

  • রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বাড়ছে। গত অর্থবছর রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আয় করেছে, যা গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফাও বেড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষামূলক সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও আমানতে বিনিয়োগ করা থাকে। বৈশ্বিক বাজারে কুপন রেট ও সুদের হার বেশি থাকায় বৈদেশিক রিজার্ভের এই বিনিয়োগ থেকে আয় ও রিটার্নের পরিমাণ বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ থেকে মোট সুদ আয় হয়েছে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক বন্ড ও ইউএস ট্রেজারি নোট থেকে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকার সুদ আয় হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ঋণ ও আমানত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে সুদ আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে এসেছে আরো প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক সম্পদ থেকে মোট আয় ছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ আয়ই ছিল প্রায় ৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪-এ এ খাতের মোট আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

    বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ রয়েছে ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু মুনাফা করে না, সরকার ও দেশের ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিয়েও আয় করে। গত দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ সুদহার বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছে। পাশাপাশি সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোও বিপুল পরিমাণ তারল্য সহায়তা নিয়েছে। ফলে গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। যদিও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয়ের পরিমাণ আরো বেশি ছিল। ওই অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

    গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সুদ আয় খাত থেকে। তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আয় করেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। কমিশন ও ডিসকাউন্ট আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি টাকা। লভ্যাংশ পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আয় হয়েছে ৪৭৫ কোটি টাকা।

    সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় বা মোট মুনাফা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ওই সময় মোট মুনাফা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪০ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। এর মধ্যে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট আয়ের ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এখন বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গত অর্থবছর পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে মোট ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা খরচ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় দুই বছর ধরে নীতিসুদহার ১০ শতাংশে ছিল। গত অর্থবছরের পুরো সময় তা বহাল ছিল। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে উচ্চ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করতে হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর মূল দায়িত্ব। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।

    জানা গেছে, অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ধার করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার রিজার্ভের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা থাকায় সেখান থেকেও ভালো মুনাফা হয়েছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

  • সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

    সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

    সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

    কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    শর্তগুলো হলো— ১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। ২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। ৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। ৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না। ৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না। ৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। ১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    এর আগে দুই দফায় ২৭৮ টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শত ৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১২৯ টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

    সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।

  • উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্সের (পিএমআই) আগস্ট মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের পিএমআই জুলাই মাসের তুলনায় ৭.৯ পয়েন্ট কমে ৪৯.৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য সংকোচনকে নির্দেশ করে। এই পতনের প্রধান কারণ ছিল—উৎপাদন ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ডে মন্থরতা। উভয় খাতেই সামান্য সংকোচন দেখা গেছে। তবে এই সময়ে উৎপাদন খাতে তীব্র পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে এসেছে।

    মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পিএমআই প্রকাশের লক্ষ্য হলো—দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতি-নির্ধারকেরা অবহিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে কৃষি খাত টানা দ্বাদশ মাসে সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং খাতটির পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬.৫-এ উন্নীত হয়েছে। এর কারণ, নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ধারায় ছিল। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। উপকরণ ব্যয় শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও বৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে। অন্যদিকে, অর্ডার ব্যাকলগস বা অসম্পন্ন অর্ডারের সূচক সংকোচনের ধারায় রয়ে গেছে।

    উৎপাদন খাত ১৮.০ পয়েন্টের তীব্র পতনের মাধ্যমে ৪৭.৪-এ নেমে সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়ের মজুত, আমদানি এবং কর্মসংস্থান—সবগুলো সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, উপকরণের দাম দ্রুততর হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। অর্ডার ব্যাকলগস সংকোচনের ধারায় থাকলেও এর সংকোচনের হার কমেছে এবং সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময় অপরিবর্তিত ছিল।

    নির্মাণ খাত আগস্ট মাসে ৫২.৪-এ উন্নীত হয়ে পুনরায় সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে সংকোচনের হার কমেছে। একই সময়ে উপকরণ ব্যয় দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের পর্যায়ে চলে গেছে।

    সেবা খাত ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করে আগস্টে ৪৯.২-এ নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৬.৮ পয়েন্ট কম। নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের হার কমেছে। কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এর হার কিছুটা কমেছে এবং অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের হারও কমেছে।

    প্রতিবেদনকালীন উত্তরদাতাদের মতামতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক হলেও ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে, ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

    উৎপাদন খাতের উত্তরদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসার গতি মন্থর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেবা খাতের উত্তরদাতারা আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়কর ও অন্যান্য করের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের উত্তরদাতারাও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

    সামগ্রিকভাবে, উত্তরদাতাদের মতামত ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি, সহজতর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাবান্ধব কর ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়বে।

    ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী, সব খাতেই ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের মাত্রায় সামান্য পতন ঘটেছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আগস্টের পিএমআই ৪৯.৯-এ অবস্থান করায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল, যদিও উৎপাদন ও সেবা খাতে সাময়িক চাপ বিদ্যমান ছিল। কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে, যা অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়।’

    মাশরুরু রিয়াজ বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রতিফলন। সামনে, জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য পরিবেশ আরও সহজ করার প্রত্যয় নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

    সোমবার রাজধানীতে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতের অংশীদারত্ব এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো উদ্যোগে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা গেলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

    জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে এফএসআরইউ সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। স্বল্প সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা উপস্থাপন তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আমদানি নীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করা সম্ভব। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কৌশলগত সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পথ তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।

    জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গানভর’-এর সঙ্গে চুক্তিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।

    বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।

    উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নিয়মিত এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

  • আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ

    আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ

    দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

    সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।

    জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। জুলাইয়ে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ থাকা এ হার আগস্টে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    আগস্ট মাসে জাতীয় গড় মজুরির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। আগের মাস জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য গত ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ ৩,৯২৫ কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের জন্য গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের আজ সোমবার থেকে টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

    ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

    গত ২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রাহকদের আবেদন নেন।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের করেই তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাওয়া গেছে।

    মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না।

    কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে ওই গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

    যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে না। আংশিক টাকা তুললে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়মে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যেন অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যাদের তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই যদি একই সময়ে টাকা তুলতে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন, তাহলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে টাকা উত্তোলনের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুনের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

    সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব জানতে চান।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

    ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক পিএলসিতে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসিতেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত, ২০২৬ সালে কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’

    জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

    সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ হাজার টাকা।

    এ বিষয়ে গত ৩০ জুনের হিসাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিএর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ হাজার কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ হাজার টাকা।

  • শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, লেনদেন ৫৪৫ কোটি টাকা

    শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, লেনদেন ৫৪৫ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। একই সাথে লেনদেনের পরিমাণ কমে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    আজ রোববার ডিএসইতে ১ লাখ ৭৮ হাজার ১০৩টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৮৯টি কোম্পানির মোট ২০ কোটি ৪৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৬৯টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৪৮টির কমেছে এবং ২১টি কোম্পানির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডোমেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, টেক্সম্যাকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডরিন পাওয়ার, এভয় টেক্সটাইলস, তৌফিকা ফুডস এবং জেনেক্স ইন্স্যুরেন্স।

    শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, এক্সেল ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং এভয় টেক্সটাইলস।

    অন্যদিকে, শেয়ারদর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ডরিন পাওয়ার, সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিকদার পলিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ টেকনোলজিস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরো সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একইসাথে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে।

    এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু’টি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরো বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।