অর্থ ও বাণিজ্য

  • জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৬৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫০ শতাংশ কম। এছাড়া শুধু জুলাই মাসেই দেশটিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। বাংলাদেশের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির এই পরিসংখ্যান পোশাকশিল্পের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি মূল্য ছিল ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ২০ শতাংশের বেশি।

    মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্যমতে, বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৪১.৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে দেশটির আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ০.৮৪ শতাংশ।

    ওটেক্সার তথ্যমতে, বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা গত বছরে ছিল ৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ যেখানে ১.৫৯ বিলিয়ন এসএমই (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট) পোশাক রপ্তানি করেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে সেটি ৪.৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫২ বিলিয়ন এসএমইতে। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় দাম ছিল ৩.১২ মার্কিন ডলার, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে ২.২৬ শতাংশ কমে ৩.০৫ মার্কিন ডলারে নেমেছে।

    এই সময়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫.৭৭ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের যথাক্রমে ৫.৬০ শতাংশ ও ১.০৩ শতাংশ কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২.৭৬ শতাংশ ও ১০.৪৮ শতাংশ।

    এই সময়ে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে পোশাকের ইউনিট মূল্যে। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে ইউনিট মূল্য কমারও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা। চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির গতি কেমন থাকবে সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতাদের অর্ডার, পণ্যের মূল্য এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সরবরাহ সক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, রপ্তানি কম হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারেই এখন অর্ডার কম, রপ্তানিও কমেছে। বিশেষ করে আমেরিকার বাজারটা আমাদের জন্য প্রায় এক বছর ধরেই একটা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ছিল। এর অন্যতম কারণ, ট্রাম্পের ট্যারিফ এবং এরপর নতুন করে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে সেগুলো। এসব কারণে একটা অননুমেয় ও অনিশ্চিত সময় যাচ্ছিল। এ কারণেই ইউএস মার্কেটে মোট রপ্তানি কমেছে।

    মোহাম্মদ হাতেম আরো বলেন, তবে সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি নিয়ে আশার জায়গা হলোÑযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে নতুন চুক্তির সেখানে একটা ক্লজ আছেÑইউএসের মেটারিয়াল দ্বারা তৈরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘ডিউটি ফ্রি এক্সেস’ পাবে। এই সুযোগটা যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে সেখানে আমাদের রপ্তানিটা বেড়ে যাবে।

  • অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    অর্থের অভাবে দেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রাথমিকভাবে ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং পরবর্তী সময়ে চাহিদা ও প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনায় এর আকার ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিইজেডএবি)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই বিশেষ তহবিল চালুর দাবি জানান পিইজেডএবির প্রেসিডেন্ট এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে শুরুতেই বিশাল অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, অথচ কারখানা চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে নগদ প্রবাহ তৈরি হয়। উচ্চ সুদের স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করায় অবকাঠামোর ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যোগ্য ডেভেলপারদের জন্য ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ৪.৫০ শতাংশে সীমিত রাখা এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর (বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত বিবেচনাযোগ্য) এবং রেয়াতকাল ৪ বছর ধরা হয়েছে।

    পিইজেডএবি জানিয়েছে, সরকারি প্রকল্পগুলো নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও বাজেট বরাদ্দ পেলেও বেসরকারি উদ্যোক্তারা মূলত নিজস্ব মূলধন ও বাণিজ্যিক ঋণের ওপর ভর করে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ঋণ এবং কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ডেভেলপারের নিজস্ব মূলধন রাখার কথা বলা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত তহবিল থেকে ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এসটিপি, সিইটিপি, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অগ্নিনিরাপত্তা এবং আইটি লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা যাবে।

    তহবিলের অপব্যবহার রোধে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কঠোর মূল্যায়ন, তদারকি এবং ভৌত অগ্রগতির ভিত্তিতে কিস্তিতে অর্থ ছাড় করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    পিইজেডএবি আশাবাদী, এই উদ্যোগ সরকারের ওপর কোনো বাড়তি বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি করবে না, বরং এটি দ্রুত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে দ্রুত একটি বৈঠকের আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

    প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইজেডএবি) উপদেষ্টা মো. আব্দুল কাদের খান আমার দেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল লাইসেন্স পেয়েছে এবং আরো কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। আগামীতে আরো প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত শিল্প ও অবকাঠামো পুরোপুরি চালু হলে ৭ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, বর্তমানে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল, বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন এবং হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চালু রয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড, কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড এবং পূর্বগাঁও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নাধীন রয়েছে। আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ চালু থাকা কয়েকটি অঞ্চলেও পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সিটিগ্রুপসহ বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ বেসরকারি ইকোনমিক জোনে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে এখন অর্থ সংকটে পড়েছে।

    সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) ও হাই-টেক পার্কগুলোর মূল লক্ষ্য এক হলেও অর্থায়ন মডেলে রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। সরকারি প্রকল্পগুলো রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, বাজেট বরাদ্দ ও সহজ শর্তের ঋণ সুবিধা পেলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় নিজস্ব মূলধন ও চড়া সুদের বাণিজ্যিক ঋণের মাধ্যমে। ফলে একই জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কাজ করেও বেসরকারি ডেভেলপাররা কাঠামোগত অর্থায়নে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইজেডএবি) প্রেসিডেন্ট এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম। এজন্য এই তহবিলের আবেদন করেছে সংগঠনটি।

  • আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজন ইস্যুতে আন্দোলনের কারণে সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার।

    গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এসব প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

    শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ছাড়া অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। এর মাধ্যমে তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ চাকরির শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০৩ বিধির লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    বিভাগীয় মামলায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও বেতন কয়েক ধাপ এবং কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল।

    এতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের মূল বেতনে অবনমিতকরণ সূচক লঘুদণ্ড বাতিল করে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি তুলে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

    ২০২৫ সালে এনবিআরকে দুই ভাগ করে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ওই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের সব কার্যক্রম চলবে।

    এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

    এরপর নতুন সরকার গঠনের আগেই একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। এর মধ্যে অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

  • বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে পারবেন।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ কোটার সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।

    এদিকে নগদ মার্কিন ডলার নোট নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভ্রমণ কোটার আওতায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ নিতে পারবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে বাড়তি সুযোগ তৈরি হলো।

  • প্রতি বছর বিষাক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক কৃষক, ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ

    প্রতি বছর বিষাক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক কৃষক, ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ

    মাঠে মাঠে সোনালী ফসল ফলাতে গিয়ে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন যে কৃষকরা, তারাই আজ বিষাক্ত কীটনাশকের সবচেয়ে বড় শিকার। মাঠে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক বিষের যে বেপরোয়া ব্যবহার চলছে, তাতে প্রাণটাই যেন ওষ্ঠাগত কৃষকের। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সুরক্ষার যোগান দিতে গিয়ে তারা নিজের অজান্তেই প্রতিদিন গিলে খাচ্ছেন বিষাক্ত রাসায়নিক।

    ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আঁতকে ওঠার মতো ভয়াবহ তথ্য। গবেষণাধর্মী সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বে আনুমানিক ৪০ কোটি ২০ লাখ থেকে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ কৃষক ও কৃষি শ্রমিক মারাত্মক কীটনাশক বিষক্রিয়ার শিকার হন। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। সেই হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৪৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক কৃষকই প্রতি বছর জমিতে স্প্রে করা বিষে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন!

    বুরকিনা ফাসো থেকে ভারত: বিষের নীল দংশন

    কীটনাশকের এই মারাত্মক ছোবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এরপরই রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকা। তবে দেশের ভিত্তিতে সবচেয়ে করুণ দশা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর। সেখানে তুলার মাঠে কিংবা ফসলের জমিতে কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৮৪ শতাংশ কৃষক ও কৃষি শ্রমিক কোনো না কোনোভাবে বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছেন।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় প্রায় ১১ হাজার মানুষের। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই ১১ হাজার মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ঘটছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে! আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও কীটনাশক বিরোধী সংস্থা ‘পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইন্ডিয়া’-র নির্বাহী পরিচালক জয়কুমার চেল্লাটন বিষয়টিকে একটি চরম সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘কৃষকদের এই মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটকে আর কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার বা চোখ বন্ধ করে রাখার সুযোগ নেই।’

    বাণিজ্যের জাঁতাকলে কৃষকের জীবন

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ব্যবহার কমানোর নানা প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাস্তবে রাসায়নিক বিষের বাজার ও ব্যবহার কেবল বেড়েই চলেছে। বহুজাতিক রাসায়নিক সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী ইসরাইলি এগ্রোকেমিক্যাল কর্পোরেটগুলোর অতি মুনাফালোভী বাণিজ্যের কারণে ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বিশ্বে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কেবল ২০২৩ সালেই বিশ্বজুড়ে ফসলের মাঠে ঢালা হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন বিষাক্ত কীটনাশক!

    পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইউকের আন্তর্জাতিক কর্মসূচি প্রধান ড. শীলা উইলিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেহেতু কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগের চিত্র এখন স্পষ্ট, তাই অবিলম্বে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবারের সুরক্ষায় ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পথ সহজ করে দেওয়া উচিত।’

    উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণায় কৃষি খাতে কাজ করা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ শিশু শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে শরীরে দানা বাঁধা কঠিন ব্যাধিগুলোর হিসাবও এখানে আনা হয়নি। ফলে প্রকৃত ধ্বংসের মাত্রা যে কত গভীরে, তা সহজেই অনুমেয়। জাতিসংঘ অবিলম্বে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সুপারিশ করলেও মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের দাপটে তা থমকে আছে।

  • দেশে বড় ঋণ খেলাপিরা  শাস্তি পায় না

    দেশে বড় ঋণ খেলাপিরা শাস্তি পায় না

    ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিস্তি দিতে দেরি হলেই মোবাইল ফোনে এসএমএস, বাড়িতে নোটিশ, শেষে মামলা; অন্যদিকে হাজার কোটি টাকা নিয়ে বছরের পর বছর ফেরত না দেয়া অনেক ঋণ খেলাপিকে দেয়া হয় নীতি সুবিধা- বাংলাদেশে এমন অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায় অহরহই।

    ধাপে ধাপে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিশাল আকার ধারণ করেছে, যা ক্রমশই আরো বড় হচ্ছে।

    ২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে তা দাঁড়ায় দুই লাখ এক হাজার কোটিতে।

    এই সংখ্যা ২০২৬ সালের মার্চে গিয়ে ঠেকেছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটিতে। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের বোঝা সাড়ে পাঁচ লাখ কোটির বেশি বেড়েছে।

    পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তাসহ নানা পদক্ষেপের পরও খেলাপি ঋণের সবশেষ তথ্য আরো ভয়াবহ।

    ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপির স্থিতি ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বলেই দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যমে।

    তবে খেলাপি ঋণের সমাধান হিসেবে কঠোর বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বদলে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আবারো ‘ছাড়’ দেয়ার নীতিতেই হাটছে।

    মূলত, ছাড় দিয়েই খেলাপি ঋণগ্রস্তদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এই যুক্তি কতটা কাজে আসবে?

    অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলছেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতের যে ভঙ্গুর অবস্থা তাতে খেলাপি ঋণের টাকা উদ্ধারে, খুব বেশি বিকল্প কৌশল নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে।

    কিন্তু যে কৌশল বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তার সফলতা এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা।

    ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেই মনে করেন তারা।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বাঁচাতে নীতি সহায়তার পাশাপাশি কঠোর হওয়ার দৃষ্টান্তও জরুরি, নইলে ছয় লাখ কোটি আগামী বছর আট লাখ কোটি হতে সময় লাগবে না।

    শাস্তি কেন হয় না?

    ২০২৪ সালে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    সরকার পরিবর্তনের পর খাতাকলমে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমার পরিবর্তে বরং এখনো বেড়েই চলেছে।

    খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

    তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অপরিণামদর্শী ঋণ, তদারকির অভাব এবং ব্যাংক পরিচালকদের নামে-বেনামে ঋণ।

    গত দুই দশকে দেশের কয়েকটি শিল্প গোষ্ঠী এবং ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারি খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে বলেই অভিযোগ।

    পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, খেলাপির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ প্রভিশন আকারে জমা রাখার যে নিয়ম রয়েছে, সেটিও রাখতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে তারল্য সঙ্কট আরো গভীর হচ্ছে।

    পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঋণ খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নানা কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার রীতি রয়েছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় খেলাপিদের ক্রেডিট স্কোর শূন্য হয়ে যায়, ফলে তারা নতুন কোনো ঋণ পায় না। চীনেও খেলাপিদের ‘সামাজিক ক্রেডিট ব্ল্যাকলিস্ট’-এ ফেলা হয়।

    আর প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপ্টসি কোড’-এর মাধ্যমে বড় খেলাপি কোম্পানির সম্পদ নিলাম করা হয়।

    কিন্তু বাংলাদেশে অর্থঋণ আদালত এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে আইন থাকলেও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়ার উদাহরণ কম।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবীব বলছেন, ‘বিদ্যমান আইনে আমরা উইলফুল ডিফল্টারের (স্বেচ্ছায় যারা ঋণ পরিশোধ করে না) ক্ষেত্রে কঠিন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নিতে পারিনি, এটা একদম পরিষ্কার।’

    এছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

    তারা বলছেন, অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে পাঁচ থেকে সাত বছরের দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে ব্যাংকগুলো নিজেরাই মামলা করতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। আর মামলা করলে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন খারাপ দেখানোর বিষয়টিও রয়েছে।

    এছাড়া বড় খেলাপিরা বেশিভাগই শিল্প গ্রুপ। তাদের কারখানায় লাখো শ্রমিক, রফতানিতে বড় অবদান। সরকার ও ব্যাংক মনে করে, এদের চাপ দিলে কারখানা বন্ধ হবে, বেকারত্ব বাড়বে।

    ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বা ঋণগ্রহীতা শিল্পগোষ্ঠীকে ‘বাঁচিয়ে রাখার’ নীতিই বারবার নেয়া হয়। মামলা করলেও তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এর মধ্যে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনঃতফসিল বা অবলোপনের সুযোগ তৈরি হয়।

    ঋণ খেলাপি দেওয়ানি বিষয় হওয়ায় ব্যাংককে মামলা করে টাকা আদায় করতে হয়। যেখানে বড় খেলাপিরা সেরা আইনজীবী দিয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে।

    বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো, রক্ষকেরই ভক্ষক হওয়ার প্রবণতা। অর্থাৎ অনেক সময় ব্যাংকের পরিচালক নিজেই আত্মীয়দের কোম্পানির নামে ঋণ নেন, যেখানে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়।

    ছাড় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক

    গত ৩১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নীতি সহায়তা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    যেখানে এক হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণগ্রস্তকে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের পর পরিশোধের জন্য ১৫ বছর সময় দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া প্রথম দুই বছর কোনো কিস্তি দেয়া লাগবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    যারা এই সুযোগ নিতে চান তাদের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই আবেদন করতে বলা হয়েছে। যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিষ্পত্তি করবে ব্যাংকগুলো।

    এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরও একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে ব্যাংকার ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে দুই শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    ঋণ নিয়মিত হলে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধে বিরতি) তা পরিশোধে ১০ বছর সময় দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।

    একই সাথে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তুকি সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

    বড় ঋণ খেলাপিদের এসব সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

    এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়ে, সম্প্রতি একটি বিবৃতিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে তিনটি বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রথমত, বৈশ্বিক প্রভাব- বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কটে রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমেছে।

    দ্বিতীয়ত, সুদের চাপ- বাজারভিত্তিক সুদহারে ব্যবসায়ীদের সুদ ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু বিক্রি কমায় পরিশোধ কঠিন হয়েছে।

    এবং তৃতীয়ত, ১৮ মাসের রোডম্যাপ- খেলাপি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তার অংশ হিসেবেই বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের অতিরিক্ত সময় দেয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, মামলা করে ১০ বছরে যে টাকা আসবে না, আলোচনার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ এখনই আদায় হলে ব্যাংকের তারল্য বাড়বে। এছাড়া, কারখানা চালু থাকলে কর্মসংস্থানও বাঁচবে।

    সমালোচনা ও বাস্তবতা

    বড় ঋণ খেলাপিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছে তা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, ঋণ পুনঃতফসিল করা হলে কাগজেকলমে খেলাপি কমলেও ব্যাংকের লকারে কত টাকা ফেরত আসতে পারে এ নিয়ে সংশয় আছে।

    এছাড়া, ভালো ঋণ গ্রহীতাদের সাথে বৈষম্যের পাশাপাশি এর ফলে ‘অপরাধ করে পার পাওয়ার’ সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, ‘এগুলোর সুযোগ নিয়ে ডিফল্টাররা আরো ডিফল্টের দিকে চলে যেতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়টিকে ব্যাংক ক্লায়েন্ট রিলেশনের ওপর দিয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকেরও একটা বড় দায়িত্ব থাকবে।’

    এক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিশন, অর্থঋণ আদালতে দ্রুত বিচার, খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবীব বলছেন, ‘আমাদের উইলফুল ডিফল্টারের যে কালচার সেটা ভাঙা খুব সহজ না। খুবই শক্ত হাতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন। কিন্তু এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেরকম শক্ত জায়গায় যায়নি।’

    তিনি বলেন, ‘এই বেনিফিটগুলো যেন উইলফুল ডিফল্টাররা অপব্যবহার করতে না পারে। আর এটা যে স্বল্প সময়ের জন্যই দেয়া হয়, লংটার্ম নয়।’

    এই সব পদক্ষেপের পরও যারা ঋণের অর্থ ফেরত দেবে না তাদের ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটিও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঠিক করতে হবে বলেই মনে করে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

    তবে এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

    তিনি বলছেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত পলিটিক্যালি ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হয়ত এসব পদক্ষেপ একটা সুস্থ ধারায় ফেরার ক্ষেত্রে কিছুটা সহযোগিতা করবে।’

    তার কথায়, ‘কিছু কিছু রিস্কি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, খুব শিগগিরই এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন লোনগুলো রেগুলারাইজ করার চেষ্টা করছে। মূলত ব্যালেন্সশিটগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছে।’

    কিন্তু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বাভাবিক প্রবণতা আনতে আরো সময় লাগবে বলেই মনে করেন তিনি।

  • সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

    কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠক সুপারিশ করে।

    বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, মো: শাহাদাত হোসেন, মো: সাইফুল আলম ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশগ্রহণ করেন।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • পোশাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

    পোশাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

    বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে এ সভা হয়। এ সময় পোশাক খাতের শ্রমিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পেনশন স্কিমে অর্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন বক্তারা। পাশাপাশি পেনশন স্কিমটি শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারা।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

    স্বাগত বক্তব্যে শেখ কামরুল হাসান বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধ বয়সে যে আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না বিধায় উন্নত দেশের ন‍্যায় বাংলাদেশেও বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন‍্যই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে।

    আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষার একটি বড় অবলম্বন হয়ে উঠবে। স্কিমে জমা দেওয়া অর্থ গ্রাহকদেরই যথাসময়ে ফেরত দেওয়া হবে এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সে উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, পেনশন স্কিমের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য সরকার এডিবির অর্থায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা ছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনীতে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক আছে এমন সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের এই স্কিমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিজিএমইকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কমের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ এ পেনশন তহবিল গঠনের কথা বলেছেন, যেটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার কাজ করছেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সার্বিক কল্যাণ, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। সে ক্ষেত্রে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই স্কিমকে শ্রমিকদের মাঝে অধিকতর জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম ২ বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই সংস্কারসমূহ বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কিমে যুক্ত হতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরবর্তীতে এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের এই স্কিম চালুর উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয়।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আকর্ষণীয় মুনাফার হার বিবেচনা করলে এটি আমাদের শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। তাই পোশাক খাতের সব শ্রমিককে এই যুগান্তকারী স্কিমের আওতায় নিয়ে আসতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

    সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় তুলে ধরলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করেন। বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যেই সরকারের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এবং পোশাক খাতের মতো বৃহৎ কর্মসংস্থানমুখী খাতের সম্পৃক্ততা এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সদস্য, বিভিন্ন পোশাকশিল্পের মালিক, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।শাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

  • ফক্সভাগেন আরও ৫০ হাজার কর্মী কেন ছাঁটাই করবে

    ফক্সভাগেন আরও ৫০ হাজার কর্মী কেন ছাঁটাই করবে

    জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সভাগেনের পরিচালনা পর্ষদ আরও ৫০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ব্যবসা ঘুরে দাঁড় করানোর ব্যাপক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১ লাখ কর্মী কমানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলো।

    ফক্সভাগেন গ্রুপের অধীনে অডি, পোর্শে, স্কোডাসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এই দশকের শেষ নাগাদ ৫০ হাজার কর্মী কমানো হবে।

    গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফক্সভাগেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অলিভার ব্লুম বলেন, এ সিদ্ধান্ত কোম্পানির ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘শক্তিশালী বার্তা’। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পুরো কর্মিবাহিনীর প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। গত জুলাইয়ে ব্লুম জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি আরও কর্মী কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    চীনা গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ফক্সভাগেনের মুনাফা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    ফক্সভাগেন জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা উৎপাদিত গাড়ির মডেলের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমাবে। পাশাপাশি গাড়ির মডেল ও বিভিন্ন সংস্করণের জটিলতা ৭৫ শতাংশ কমানো হবে।

    প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চাহিদাসম্পন্ন গাড়িগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে এবং প্রতিটি মডেলের উৎপাদন বাড়াবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

    ফক্সভাগেনের ভাষ্য, বাজারের চাহিদার পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বিশ্বজুড়ে কর্মী কাঠামোয় ‘মৌলিক সমন্বয়’ প্রয়োজন। এ কারণে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের পদসহ গ্রুপজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার পদ কমাতে হবে।

    এদিকে জার্মানির এমডেন, জুইকাউ, হ্যানোভার ও নেকারজুলমে ফক্সভাগেনের কারখানাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমান চাহিদার তুলনায় বেশি। তাই কারখানাগুলো বিকল্প কী কাজে ব্যবহার করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ফক্সভাগেনের প্রায় ৯০ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন কর্মসূচি। ২০২৫ সালের হিসাবে বিশ্বজুড়ে ফক্সভাগেন গ্রুপে ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি কর্মী ছিল। অডি, পোর্শে ও স্কোডা ছাড়াও সিয়াট, বেন্টলি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে গ্রুপটির।

    ইউরোপের বৃহত্তম শিল্প ইউনিয়ন আইজি মেটালের সভাপতি ও ফক্সভাগেনের তদারকি পর্ষদের উপপ্রধান ক্রিস্টিয়ানে বেনার বলেন, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভালো সমাধান বের করতে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি কঠোর পরিশ্রম করেছে।

    চীনে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফক্সভাগেনের মুনাফা বেশ কমেছে। একসময় চীন ছিল প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় বাজার। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ফক্সভাগেনের গাড়ি বিক্রি কমেছে। এর অন্যতম কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা গাড়ি আমদানির শুল্ক।

    অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত বাজারে আনার পাশাপাশি তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে চীনা গাড়ি নির্মাতারা দ্রুত বিশ্ববাজার দখল করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিওয়াইডির মতো চীনা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে গাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

  • শাহজালালে সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার জব্দ

    শাহজালালে সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার ৮০ সোনার বার জব্দ

    রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের সিটের নিচ থেকে ৮০টি সোনার বার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মালিকহীন অবস্থায় এসব সোনা জব্দ করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ৯টার দিকে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটে সোনা চোরাচালান হচ্ছে।

    খবর পাওয়ার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালাতে যান। তখন সেটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে ১৯-এ নম্বর সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট পাওয়া যায়।

    পরে প্যাকেটগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে খোলা হয়। সেখানে ৮০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে সোনার ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।

    কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সোনার বারগুলো অত্যন্ত কৌশলে সিটের নিচে লুকানো অবস্থায় ছিল। উদ্ধার করা সোনার চালানটি মালিকবিহীন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জব্দ করা সোনার বারগুলো বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় সন্দেহজনক কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।