অর্থ ও বাণিজ্য

  • কোম্পানি নিবন্ধনে আসছে ‘ইবিআরএস’, কয়েক ঘণ্টায় মিলবে নিবন্ধন

    কোম্পানি নিবন্ধনে আসছে ‘ইবিআরএস’, কয়েক ঘণ্টায় মিলবে নিবন্ধন

    কোম্পানি নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক নির্ভরতা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (ইবিআরএস)।

    নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাই সাপেক্ষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় নতুন ব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য গ্রাহককে আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি অটোমেটেড করা হবে।

    নতুন EBRS ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা যেকোনো সময় অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত ও জালিয়াতি প্রতিরোধে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ই-টিন (ETIN) এবং মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইমে প্রাক-যাচাইয়ের (Pre-verification) ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ফলে আবেদনে ভুল বা অসংগত তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

    কোম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংঘস্মারক (MOA) ও সংঘবিধির (AOA) ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের জন্য তিনটি বিকল্প রাখা হচ্ছে। এগুলো হলো—স্ট্যান্ডার্ড ‘মডেল MOA ও AOA’, ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব ধারা সংযোজনের সুযোগসহ ‘কাস্টমাইজড MOA ও AOA’ এবং পূর্বানুমোদিত মানসম্মত ‘প্রি-অ্যাপ্রুভড MOA ও AOA’। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিশেষ করে মডেল ও প্রি-অ্যাপ্রুভড ডকুমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে যাচাই ও অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

    EBRS-এর কারিগরি নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও মান নিশ্চিতে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল সফটওয়্যার উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

    ইতোমধ্যে সফটওয়্যারটির নিবন্ধন মডিউলের ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (UAT) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি ডাটাবেজের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজের সঙ্গে EBRS-এর ইন্টিগ্রেশন করা হচ্ছে। ভোটার ও এনআইডি তথ্য যাচাইয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC), উদ্যোক্তার মোবাইল সিম যাচাইয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এবং তথ্যের ক্লাউড নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (BDCCL) সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড (DSI) আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর সম্পন্ন করবে। প্রথম ছয় মাস কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধনের লক্ষ্য

    শতভাগ স্বয়ংক্রিয় নাম ছাড়পত্র বা ‘অটো নেম ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা আরো নির্ভুল করতে ব্যাক-এন্ড অ্যালগরিদম উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কারণে পুরো অটোমেশন চালুর অপেক্ষায় উদ্যোক্তাদের সেবা যেন আটকে না থাকে, সেজন্য অন্তর্বর্তী কৌশল নিয়েছে আরজেএসসি।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ছয় মাস আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে নাম ছাড়পত্র পুনঃযাচাই করবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে মডেল MOA ও AOA ব্যবহারে উৎসাহ সৃষ্টি এবং অটো নেম ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আপডেট চলবে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কোম্পানি গঠনে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে। সরকারি দপ্তরে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমার পাশাপাশি আবেদনের বিভিন্ন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ায় সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে।

    বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে। সরকার মনে করছে, আরজেএসসির এ ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ও যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এর নিবন্ধক (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু, উঠছে নবম পে-স্কেল

    মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু, উঠছে নবম পে-স্কেল

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর আগে সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে এবং এর ফলে বাজেট ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।

    সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রটি জানায়, পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো এখন প্রায় চূড়ান্ত। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি প্রয়োজন অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের (যাচাই ও পর্যালোচনা) জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলেই প্রজ্ঞাপন জারির পথ খুলে যাবে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

    এ বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, গত দুদিন ধরে নবম পে-স্কেল নিয়ে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত। এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকটি সংসদে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

  • হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল, কারা পাবেন

    হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল, কারা পাবেন

    রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য ও মৎস্য খাতের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দুই হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রাক্‌-অর্থায়ন (প্রি-ফাইন্যান্সিং) তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, উচ্চ মজুত ব্যয়, কোল্ড-চেইন পরিচালনার বিপুল খরচ এবং স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের ঘাটতি মেটাতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন বছর মেয়াদি এই তহবিল গঠন করেছে।

    এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ গতকাল রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।

    সুদ কত, কারা পাবে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘোষিত তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। এর বিপরীতে অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে প্রাক্‌-অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

    তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানির উদ্দেশ্যে হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য এবং রেডি-টু-কুক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ঋণসুবিধা পাবে। তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুসারে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ঋণগ্রহীতা বা প্রতিষ্ঠানকে এই তহবিলের আওতায় কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইডিএফ, ইএফপিএফ কিংবা কৃষিভিত্তিক প্রাক্‌-অর্থায়নের মতো সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিল থেকে সুবিধা চলমান থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো একই খাতের জন্য এ তহবিল থেকে আবারও অর্থায়ন পাবে না।

    নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিলের ঋণপ্রবাহকে মূলত একাধিক খাতে ভাগ করা হয়েছে। হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে। অন্যদিকে বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য মেয়াদি ঋণ হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে সাত বছর। আর সংস্কার বা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পরিশোধের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।

    এ ছাড়া কাঁচামাল ক্রয়, চুক্তিভিত্তিক চাষিদের কাছ থেকে সংগ্রহ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো চলতি মূলধন মেটাতে প্রতিষ্ঠানের টার্নওভারের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। চলতি মূলধনের মেয়াদ এক বছর হলেও ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে তা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য হবে।

    সৌরবিদ্যুতে আরও ঋণ মিলবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব শিল্প গঠন ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো কারখানা যদি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে চায়, সে ক্ষেত্রে মূল প্রকল্পের ঋণের বাইরে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা (বা মূল ঋণের ৩০ শতাংশ) ঋণসুবিধা পাবে। তবে শর্ত হিসেবে তহবিল গ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের মধ্যে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • সোনার দাম কমল ভরিতে ৪,৪৭৪ টাকা

    সোনার দাম কমল ভরিতে ৪,৪৭৪ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমেছে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    আজ সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। তারা বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমায় নতুন করে দাম ঠিক করা হয়েছে। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

    সর্বশেষ গত শনিবার ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ১১৫ টাকা। তার আগে ২০, ২২ ও ২৫ আগস্ট তিন দফায় সোনার দাম বেড়েছে মোট ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা। আজ দাম কমানোর ফলে দুই দফায় প্রতি ভরি সোনার দাম কমল সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪৮৯ টাকা।

    আজকে দাম সমন্বয়ের ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার গয়নার দামও কমেছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা।

  • রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন পাঁচ খাতের খোঁজে সরকার

    রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন পাঁচ খাতের খোঁজে সরকার

    দীর্ঘদিন ধরে গুটি কয়েক পণ্যে আটকে আছে রপ্তানি বাজার। পণ্য রপ্তানিতে আসেনি বৈচিত্র্য। পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতায় ঝুঁকিতে রপ্তানি খাত। ৮০-৮৫ শতাংশ রপ্তানি আয় হয় তৈরি পোশাক খাত থেকে। বাকি পাঁচ থেকে ছয়টি পণ্য থেকে আসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানি আয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত দ্বিতীয় মতবিনিময় সভায় দেশের সম্ভাবনাময় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা থেকে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মতবিনিময় সভার কার্যপত্র থেকে জানা যায়, সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রথম সভার বিভিন্ন অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

    সভায় অর্থমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রপ্তানি নীতি ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে পণ্য রপ্তানি বছর বছর আরো কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এমন সময়ে সরকার রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে যেসব উদ্যোগের কথা বলছে সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই, উৎপাদনমুখী ও ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে এই কর্মপরিকল্পনা ভূমিকা রাখবে।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ইতোমধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইবিপি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একটি বৈঠক করেছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে।

    জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানির ঝুড়ি সমৃদ্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের যেসব খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা সরকারের।

    সভায় বলা হয়েছে, শুধু জাতীয় পর্যায় নয়, বরং দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়িয়ে জেলাভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলার স্থানীয় পণ্য উৎপাদন, বিদ্যমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ রপ্তানির সম্ভাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরূপণ করার জন্য একটি বিশেষ গবেষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি অঞ্চলের ক্লাস্টারভিত্তিক পণ্যের বিকাশ ঘটানো সহজ হবে।

    এছাড়া গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করতে ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট (এক গ্রাম এক পণ্য) কনসেপ্টটি আরো জোরালোভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়ে সরাসরি রপ্তানির সুযোগ লাভ করবে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনেও বড় ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, যেকোনো নীতি সহায়তাই রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক দিন ধরেই এমন দাবি আমরা করে আসছি। আর ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট শক্তিশালী করতে পারলে রপ্তানির বাজার এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আসবে।

  • ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

    ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন

    ব্যাটারি উৎপাদনকারী জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামে এক কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করেছে ঢাকা বিভাগের মূল্য সংযোজন করের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ব্যাটরি উৎপাদন ও বিক্রয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যাট ফাঁকির এ ঘটনা উদঘাটন করা হয়।

    রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    এতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ আগস্ট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি নিবারক দল জিউঝু ইন্ডাস্ট্রিতে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, নথিপত্র ও হিসাব-সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

    পরবর্তীতে জব্দ করা নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

    সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কারখানা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি এবং ব্যাটারি-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও বিপণনের সাথে যুক্ত। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষমতার আইপিএস, ইউপিএস, সোলার সিস্টেম এবং ভেইকেল বা মোটরচালিত যানের ব্যাটারি প্রধান। এই ধরনের ব্যাটারি কারখানায় সাধারণত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি, ভিআরএলএ ব্যাটারি কিংবা আধুনিক এনার্জি স্টোরেজ ব্যাটারি তৈরির জন্য লিড প্লেট, ইলেক্ট্রোলাইট, কেমিক্যাল এবং প্লাস্টিক কেইসিং বা কেস ব্যবহার করে অ্যাসেম্বলিং ও প্রসেসিং করা হয়। মূলত চীন থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি (যেমন—ব্যাটারি তৈরির উপাদান বা ওভেনের যন্ত্রাংশ) আমদানি করে বাংলাদেশে কারখানা পরিচালনা করছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপুল মুনাফা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক নিট বা প্রকৃত ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর তুলনায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে গত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুমোদন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংস্থাটির পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মূল বেতনের ছয় গুণ প্রণোদনা বোনাস অনুমোদন দেয় পরিচালনা পর্ষদ।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর মূল দায়িত্ব। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।

    জানা গেছে, অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ধার করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার রিজার্ভের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা থাকায় সেখান থেকেও ভালো মুনাফা হয়েছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকৃত মুনাফা করেছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা দেবে এইচএসবিসি

    চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা দেবে এইচএসবিসি

    চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। সাত মাসব্যাপী এই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    এইচএসবিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ, পাহাড়ধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাজার হাজার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির উৎস ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে ব্র্যাক সাত মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে ছয় মাস মাঠপর্যায়ে কাজ এবং এক মাস চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য রাখা হয়েছে। কর্মসূচিতে মূলত তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই তিনটি খাত হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও জীবিকা।

    কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করা হবে।

    এইচএসবিসি জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল মেরামত ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ল্যাট্রিন মেরামত ও স্থাপন ও ৩০টি টিউবওয়েল সংস্কার করা হবে।

    এ ছাড়া জীবিকা পুনর্গঠনে ৩০০টি অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬০০ কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের দায়িত্ব শুধু ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যাংক কাজ করে, ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নেও ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে বাসস্থান, জীবিকা ও জরুরি সেবায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

    ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠন জরুরি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

    কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য আছে, এমন পরিবার ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকেও সহায়তার আওতায় আনা হবে।

    এইচএসবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়ানো ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

  • গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে কমছে নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন

    গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে কমছে নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন

    এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটের কারণে রড, সিমেন্ট, সিরামিক টাইলস ও ইট, কাচসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কিছু কোম্পানি বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না।

    নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে নির্মাণ খাতের ব্যবসায় একধরনের মন্দা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস–বিদ্যুতের তীব্র সংকট। এতে অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। কিছু কারখানার উৎপাদন বন্ধও রাখতে হয়েছে। সংকট দীর্ঘ হওয়ার কারণে কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

    গত ২১ জুলাই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে নিয়োজিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল অগ্নিদুর্ঘটনায় বন্ধ হয়ে যায়। তার পর থেকে দেশের শিল্পকারখানা তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। মাঝে গ্যাস–সংকটে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট আংশিকভাবে ও সামিট পুরোদমে চালু হয়। তবে সংকট পুরোপুরি কাটার আগেই আবার পরিস্থিতি খারাপ হয়। কার্গো সংকটের কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার বন্ধ হয়। তিন দিন বন্ধ থাকার পর ২২ আগস্ট টার্মিনালটি চালু হয়। তার পর থেকে কিছু এলাকার শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।

    জানা যায়, গ্যাস–সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টাইলস ও কাচশিল্প। তারপরেই রয়েছে রড ও সিমেন্ট। অন্যান্য নির্মাণ খাতেও কমবেশি প্রভাব পড়েছে মূলত লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণে।

    বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) হিসাবে, দেশে ইস্পাত খাতে স্বয়ংক্রিয় কারখানা প্রায় ৪০টি। তার মধ্যে বড় ৪-৫টি। কারখানাগুলোয় বছরে এক কোটি টনের বেশি রড উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। যদিও বার্ষিক চাহিদা ৬৫ থেকে ৭৫ লাখ টন। ফলে কারখানাগুলোর সক্ষমতার একটা অংশই এখনো অব্যবহৃত।

    ঢাকার কোনাপাড়া এলাকার শাহরিয়ার স্টিল মিলসে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টন রড উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। তবে গ্যাস–সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নেমে গেছে।

    জানতে চাইলে শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম গত শুক্রবার বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই বছর ধরে সরকারি উন্নয়ন কাজ থেমে যাওয়ায় রডের চাহিদা অর্ধেকে নেমেছিল। পরে সেটি আরও কমে যায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটের পর শুল্ক–কর পরিবর্তন করায় রডের দাম বাড়ার আশঙ্কা ছিল। তবে বিক্রি কমে যাওয়ায় মালিকেরা দাম বাড়াননি। সামনে নির্মাণের মৌসুম আসছে। তখন চাহিদা কিছুটা বাড়বে। তার আগে কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব না হলে দাম বাড়তে পারে।

    দেশের সিরামিক কারখানাগুলো গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ভোলায় গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ভোলা ও হবিগঞ্জের ৭–৮টি ছাড়া অন্য এলাকার কমবেশি সব সিরামিক কারখানা গ্যাস–সংকটে ভুগছে।

    আকিজ সিরামিকস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, জ্বালানিসংকটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানির চাপ কমে গেলে তখন পণ্যের মান ধরে রাখা কঠিন হয়। উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় থাকা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

    গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত মীর সিরামিকসের কারখানার ৪টির মধ্যে ৩টি ইউনিটের উৎপাদন ১৭ দিন বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে একটি ইউনিট চালু হয়েছে। কারখানাটিতে দিনে তিন লাখ বর্গফুট টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

    জানতে চাইলে মীর সিরামিকসের কারখানার কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান গত রোববার বলেন, গ্যাসের যে চাপ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে একটির বেশি ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। এতে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী টাইলস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার রাতে তিনি জানালেন, ‘গ্যাসের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আরেকটি ইউনিট চালু করেছি। এতে উৎপাদন বেড়েছে।’

    সিরামিক খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা জানালেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় কারখানার সব ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। ফলে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কারখানাগুলো ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে। আমদানিও বাড়তে পারে। তখন বাড়তি দামে টাইলস কিনতে হবে। সেটি হলে বাড়ি নির্মাণে খরচ বাড়বে।

    রড ও সিরামিকের মতো সিমেন্ট উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট। বর্তমানে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনে রয়েছে ৩৫ থেকে ৪০টি কোম্পানি। বছরে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে চার কোটি টনের। তবে উৎপাদনে থাকা সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে আট কোটি টনের, অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় দেশে সিমেন্টের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি। দেশে সিমেন্টের বাজার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন এখন বেশ ব্যাহত হচ্ছে। কারখানা চালু রাখতে বিকল্প উপায়ে বাড়তি ব্যয়ে জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। সিমেন্ট কারখানায় গ্যাসের চাপ হঠাৎ কমায় যন্ত্রপাতি ক্ষতি হচ্ছে। বারবার জেনারেটর ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সরকারের উন্নয়নকাজ কম হওয়ায় আগের চেয়ে সিমেন্ট, রড, সিরামিক গ্লাসসহ নির্মাণ উপকরণের চাহিদা কমেছে। এ কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো। কেবল প্রবাসী আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিবাচক অবস্থার কারণে বেচাকেনা কিছুটা হওয়ায় টিকে আছে নির্মাণ খাত—এমন তথ্য দিয়ে আমিরুল হক বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়ে আলোচনা করছেন। অথচ প্রশাসনের দায়িত্বে যাঁরা, তাঁরা কথা বলছেন না। গ্যাস–বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রেশনিং পদ্ধিতে দিলে সব পর্যায়ে উৎপাদন সম্ভব হবে।

  • ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

    ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল একটি মাইলফলক হবে। এটি শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশেরই নয়; পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বসেরা টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস্ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে প্রায়ই কথা উঠে। আসলে বাণিজ্যিক রাজধানী তো করার বিষয় নয়, হওয়ার বিষয়। চট্টগ্রামে এই ধরনের আরো অনেক প্রকল্প হবে, বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। এই ধরনের কার্যপরিধি বাড়তে বাড়তে চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে রূপ নেবে।’

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার। যার আছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি। তবে আমরা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।’

    ডেনমার্কের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এসপিএম বিশ্বের শীর্ষ বন্দরে অনেক টার্মিনাল পরিচালনা করছে। তারা চট্টগ্রামের এই টার্মিনাল নির্মাণে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং যতটুকু জানি, তা পর্যায়ক্রমে আরো বাড়তে থাকবে। এপিএম মুলারের বাংলাদেশে আসাটা একটা মাইলস্টোন। তারা লালদিয়ায় আধুনিক বন্দরও নির্মাণ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মিত হয়ে গেলে এটার সুবিধা শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ পাবে তা নয়; এই টার্মিনালটির সুবিধা ভোগ করতে পারবে পুরো অঞ্চল। আঞ্চলিক বন্দরগুলোও তাদের প্রয়োজনে লালদিয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। সেটা হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।’

    তিনি বলেন, আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন দেখি, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় দেখা যায়। কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগের এখন যে গতি শুরু হয়েছে, বেসরকারি খাতও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই এই দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই দেশের অর্থনীতিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই, এই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন ঘটাতে চাই। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের, অংশীদারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব রয়েছে, সেটি আরো প্রসারিত হচ্ছে। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। আজ নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আমাদের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। এখানে অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, যা জাতির জন্য সুসংবাদ।’

    স্বাগত বক্তব্যে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘টার্মিনালে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। টার্মিনালে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেনার হ্যান্ডেলিংয়ের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।’

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। এ বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ১০ বছরে আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হবে। আমরা বিদেশী বিনিয়োগ পার্টনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, এপিএম টার্মিনালসের বিভি’র গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জ্যাক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।

    অনুষ্ঠানের শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে এসে লালদিয়া কন্টেইনাল টার্মিনাল ভিত্তিস্থাপন ও আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।