রাজনীতি

  • আগামী বছর ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি সানাউল্লাহ

    আগামী বছর ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি সানাউল্লাহ

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছর ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা শেষে এমনটা জানিয়েছেন তিনি।

  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

    স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

    বুধবার বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

    মির্জা আব্বাসের সঙ্গে মহিলা দলের সভানেত্রী ও স্ত্রী আফরোজা আব্বাস গেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের মতো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস।

    দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে দলীয় কিছু কর্মসূচিতেও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

  • আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    আওয়ামী আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ আমলের ১৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। মঙ্গলবার ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ছবি ও উদ্ধৃতি প্রদর্শন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দেওয়া বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এ ধরনের ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি দেখেননি। প্রশাসন যেন কোনো একটি দলের দলীয় পোস্ট কপি করে তাদের পেজে দিয়ে দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালায় একটি ছবি এবং ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করতে গিয়ে জিন্নাহর সে সময়ের যে বক্তব্য—উর্দুর পক্ষে এবং বাংলা ভাষার বিপক্ষে, সে বক্তব্যকে আমরা কোট করেছিলাম। কোট করে ছবি দিয়েছিলাম। আজকে ভিসি স্যার বলছেন, আজকে প্রো-ভিসি স্যার বলছেন, সে অপরাধের কারণে নাকি তারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

    জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে রয়েছে উল্লেখ করে জিএস ফরহাদ বলেন, জিন্নাহর এ বক্তব্য চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে আপনি একটা বিবৃতি দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রতিহত করা হবে। অথবা আপনি একটা ব্যবস্থা নেন, যে শিক্ষকরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটা লেখার পেছনে শ্রম দিয়েছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুত করেন।’

    উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুইবার সেখানে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু তা না করে একটি দলের কথার প্রেক্ষিতে দলীয় বিবৃতি হুবহু কপি করে পেজে দিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান অবস্থানকে অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বা আর্মি ও বিএনপির আমল কিংবা আওয়ামী আমলের ১৫ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘কঠোরভাবে প্রতিহত করবে’—এমন ভাষায় তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেয়নি। বর্তমান প্রশাসন সেই নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    এ সময় তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা ও সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

  • ছাত্রলীগ নেত্রীর পরিচয় গায়েব, মিডিয়ায় ‘আবেগী’ খবর

    ছাত্রলীগ নেত্রীর পরিচয় গায়েব, মিডিয়ায় ‘আবেগী’ খবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বর্তমানে ছাত্রলীগ বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক পলাতক নেত্রীর ফেসবুক পোস্টের বরাতে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এসব সংবাদকে ‘আবেগী সংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়ে এসব ‘আবেগী’ সংবাদ প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় গায়েব করে তাকে ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক পোস্টের দাবি যাচাই না করেই তাকে ‘মবের শিকার’ বা ‘মৌলবাদী মবের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানতে পেরেছে, ওই ছাত্রলীগ নেত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিদেশ পালিয়ে যান এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অনার্সের ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নেন। তার ওপর কোনো ধরনের মব হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছেন বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

    কী দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেত্রী তাহসিন

    ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন এ আর তাহসিন জাহান। সেই পোস্টে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন।

    পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোনো পুরস্কারের মর্যাদা আমার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। এই পুরস্কার গ্রহণ করার অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিজেদের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি।’

    মবের শিকার হওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে শুধুমাত্র আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হুমকির মুখে পড়েছিলাম। আমাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য একটা সময়ের পর ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারিনি।’

    প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী মব’কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মতো ১০,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। প্রশাসন নীরব থেকেছে এবং মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের রক্তের দায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেও রয়েছে।’

    বর্তমান পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না? এখন অজুহাতটা কী? ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়। আর দয়া করে আমাদের বলবেন না, ‘আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন।’ কারণ অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।’

    ‘মবের কোনো প্রমাণ নেই, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন’

    তাহসিন জাহান তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন , তিনি ক্যাম্পাসে ‘মব’ এর শিকার হয়েছেন এবং তাকে থিসিস জমা ও ভাইভা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের বক্তব্য তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    শিক্ষকরা বলছেন, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন তাহসিন দেশেই ছিলেন না।

    দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মবের শিকার হওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন।

    তিনি বলেন, ‘উনি তো ঐ সময়ে ছিলই না। আমরা যখন ভাইভা নিচ্ছি তখন তো দেশেই ছিল না। কানাডাতে ছিল। আমরা ডিপার্টমেন্টে কখনোই দেখি নাই তাকে। ও তো এখানে এভেইল্যাবলও ছিল না। মানে ঐ সময় যখন হয়েছিল ঐ সময় তো সে নেই। দেশেই তো নেই। আমরা এওয়্যার না আরকি। মানে আমরা ডিপার্টমেন্টের কোন কিছু দেখি নাই। বরং ডিপার্টমেন্ট যতটুকু করেছে হি শুড বি গ্রেটফুল অ্যাবাউট দ্যাট। ইউনিভার্সিটি থেকে তো এটা ভাইস চ্যান্সেলরের ওখান থেকে অ্যাপ্রুভ করা হয়েছে যে তাকে অনলাইন মানে পরীক্ষা নেয়া হবে। ডিপার্টমেন্টের রেসপন্স ঐরকম কোনো কিছু হয় নাই। আমরা জানি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ও আমাদের খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল। আমরা চাই যে ও ওখান থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়ে আসুক। কিন্তু ও এই জিনিসটা এখানে আনলো আমরা ভাবতেও পারি নাই। তো আমার মনে হয় দিস ইজ ইরেলেভেন্ট। বরং ডিপার্টমেন্ট তাকে সাপোর্ট দিয়েছে এবং ইউনিভার্সিটি তাকে সাপোর্ট দিয়েছে।’

    ডেভলাপমেন্ট স্টাডিজের বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাঈম সুলতানা বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে কোনো ধরনের প্রবলেম আমি দেখি নাই। ওনার সাথে মব হওয়ার কথা আমরা জানি না উনি কানাডা থেকে আমাদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, তিনি পরীক্ষা দিতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশাল পারমিশনে ওনাকে অনলাইনে পরীক্ষা নিয়েছি। ভিসি এবং কন্ট্রোলার স্যারের স্পেশাল পারমিশন নিয়ে ওনার অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উনি তো ডিপার্টমেন্টে ছিলেন না, ক্যাম্পাসেও ছিলেন না। উনি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন যে, আসতে ভয় পাচ্ছে আমরা ডিপার্টমেন্ট থেকে ওনাকে সাপোর্ট দিয়েছি।’

    তাহসিনের অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মবের শিকার হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নাঈম সুলতানা বলেন, ‘না, আমি এগুলো দেখি নাই। এমন কিছু ঘটেছে শুনিও নাই।’

    শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি কানাডা থেকে অনলাইনে ভাইভা পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করলে সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়।

    ছাত্রলীগের পদধারী হওয়ায় সহপাঠীরা বয়কট করেছিল

    ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যায়নরত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতানেত্রীদেরকে একাডেমিকভাবে বৈঠকের ডাক ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। মূলত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলা ও হল থেকে বের করে দেয়ার একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সংগঠনটির নেতাদের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। তাহসীন জাহান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যেক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক।

    তাহসীনের অন্তত দুইজন সহপাঠী দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের নেত্রী হওয়ার কারণে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয় তার সাথে বসে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেবে না। এটা বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরপর তাহসীন তার পরিবারসহ কানাডায় চলে যান বলে এসব শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

    দ্য ডিসেন্টকে তাহসিনের একজন সহপাঠী বলেন, ‘ওরে যেহেতু সামাজিকভাবে বয়কট করা হইছে, তো আমাদের ব্যাচ থেকে একটা ডিসিশন আসলো যে ওর ভাইভা হচ্ছে আলাদাভাবে নিবে। এমন না যে আমরা বা ডিপার্টমেন্ট তার কোনো কিছু আটকায় দিছে। জাস্ট এইটুকুই ঘটনা।’

    অপর এক জুনিয়র শিক্ষার্থীও দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টে কোনো মব হয়নি। উনার পদের জন্য উনাকে বয়কট করা হইছে।’

    তাহসিনের সহপাঠী পদ্ম আলম (Poddo Alam) একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তাদের ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছাত্রলীগের পদপ্রাপ্ত নেত্রী হওয়ায় তাহসিনের সঙ্গে তারা পরীক্ষায় বসবেন না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে ঠিক কী মব তৈরি করেছি? কোথায়? কখন? কীভাবে? আমি এ আর তাহসিন জাহানের কাছে এর একটি নির্দিষ্ট প্রমাণ চাই।’

    ক্যাথলিন ধর আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তাহসিন যে মব হামলার কথা বলছেন, তা কখনোই ঘটেনি, কারণ তিনি তখন কানাডায় অবস্থান করছিলেন।’

    আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সিআরআই (CRI) এর সাথে সম্পৃক্ততা

    তাহসিন জাহানের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ, দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

    তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের বায়োতে তিনি লিখেছেন, ‘I also serve as a student politician of the former ruling party of Bangladesh (comprised of 5 million youth activists) where I’ve advised policymakers and contributed to both domestic and international government initiatives.’

    অর্থাৎ, তিনি সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র-রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন এবং নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

    কালবেলার প্রতিবেদনে তাকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিডিনিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআরআই আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন।

    ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাহসিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে তাঁকে সিআরআই-এর লোগো সম্বলিত ব্যাকড্রপে এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যায়।

    ক্যাপশনে তিনি লেখেন, Had a wonderful evening at Let’s Talk with Sheikh Hasina organized by CRI!

    নিজের ওয়েবসাইটে তাহসীন তাকে ‘দ্য কনফ্লুয়েন্স’ নামক পলিসি ব্লগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।

    ২০২৩ সালের ২৯ মার্চে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রকাশক ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

    শাহ আলী ফরহাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য এবং সিআরআইএর দীর্ঘদিনের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ও কনসালটেন্ট ছিলেন।

    ৭ নভেম্বর তাহসিন ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন: “The Confluence team had an amazing evening with the policymakers from Bangladesh Government, National Parliament, and CRI.”

    ছবিতে সিআরআই এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

    মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তাহসিনের ছাত্রলীগ পরিচয় গায়েব

    তাহসিন জাহানের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি নিয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত ১৩টি জাতীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

    কিন্তু এসব প্রতিবেদনের শিরোনামে বা ভেতরের লেখায় তার ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

    এই প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা ও ইংরেজি), বিডিনিউজ (বাংলা ও ইংরেজি), কালের কণ্ঠ, জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এশিয়া পোস্ট, আগামীর সময়, সিটিজেনস ভয়েস বিডি, রোকেয়া কালেকটিভ এবং কালবেলা।

    দ্য ডেইলি স্টার শিরোনামে লিখেছে, ‘Thousands of students’ lives were ruined’: DU topper refuses Dean’s Award’ এবং ‘হাজারো শিক্ষার্থী কেন ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না,’ প্রশ্ন তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীর’।

    বিডিনিউজ শিরোনামে লিখেছে, ‘DU student rejects Dean’s Award protesting administration’s ‘support for fundamentalist mob’ এবং ‘মৌলবাদী মবে ঢাবি প্রশাসনের সমর্থন’, প্রতিবাদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড নিলেন না শিক্ষার্থী’।

    কালের কণ্ঠ: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন’।

    জাগো নিউজ ২৪: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান’।

    এশিয়া পোস্ট: ‘ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন তাহসিন’।

    আগামীর সময়: ‘ঢাবি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান মবের শিকার তাহসিনের’।

    রোকেয়া কালেকটিভ: ‘যে কারণে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাবির প্রথম শ্রেণিতে প্রথম তাহসিন জাহান’।

    দৈনিক ইত্তেফাক: ‘প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ঢাবি শিক্ষার্থীর’।

    ১৩টি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালবেলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবেদনের ভেতরেও তাহসিনের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা সিআরআই এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    তাহসিন তার পোস্টে নিজের যে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ এর কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, সেই পরিচয়টি আসলে কী তা নিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমই সামান্যতম অনুসন্ধান চালায়নি। তারা কেবল তাহসিনের বক্তব্যটি হুবহু কপি-পেস্ট করে তাকে একজন সাধারণ ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

    শুধুমাত্র কালবেলা তাদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী, বললেন আমার ওপর মব করা হয়েছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে তাহসিনকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    তাহসিনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি

    তাহসিন জাহানের ‘মব হামলা’, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ থেকে বাধা এবং তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে তার বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ জানতে দ্য ডিসেন্ট-এর পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে তিনি কোন সময়, কোথায় এবং কীভাবে মব হামলার শিকার হয়েছিলেন এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাহসিন জাহানের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

    সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে থেকে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

    আটক খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুর বয়স ৬৯ বছর। তিনি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার নাটিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ওসি জানান, আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে আজিজুল হক আরজু সামান্য আহত হন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • ইউপি তফসিল নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেনি ইসি

    ইউপি তফসিল নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেনি ইসি

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।’ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।’ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। কিন্তু তফসিল নিয়ে সরকার কিছুই জানে না, পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনো ভাবে নির্বাচন কমিশন কোনো আলোচনা করেনি। আজকে আমি এতটুকুই বললো, প্রশ্ন নিবো না, প্রশ্ন নিলে প্যাচ লাগে।’

  • স্থানীয় নির্বাচন : ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইসির বৈঠক

    স্থানীয় নির্বাচন : ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইসির বৈঠক

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে রেখে ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    সোমবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে। ইতোমধ্যে চিঠিটি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।

    যে ২৬ মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা বিভাগের সঙ্গে সভা

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর পরিচালক বা উপযুক্ত কর্মকর্তাকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

    এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন, মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ/কোস্টগার্ড/আনসার ও ভিডিপি/ডিজিএফআই/এনএসআই/এনটিমসি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, হেড অব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংককেও বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে।

    ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মাঝামাঝি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরে অন্য নির্বাচন করবে ইসি। এ ছাড়া ঠাকারগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন হবে ২৯ অক্টোবর।

  • ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত: স্পিকার

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায়, তবে এখন পর্যন্ত ভারতও একই ধরনের সম্পর্ক চায় এমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    তিনি বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে এখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। একই সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার।

    হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো তারা এখনো ইনভাইট করেনি।”

    ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এটি সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়।

    স্পিকার বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায় তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। কেবলমাত্র দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে।”

    বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।

    অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ককে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটা সার্বভৌম দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে যে সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্কই চাই।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

    এদিকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস হলেও গত ১৭ বছরের বিভিন্ন সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সময় লাগবে।

    সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সংসদে ঐকমত্য হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হবে।

  • ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন

    ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    সোমবার দলটির পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

    ঘোষণায় দলটি জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের জামায়াতের প্রার্থী হবেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, যদি…

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, যদি…

    ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ওই সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করেনি সরকার।

    কমিশন মনে করছে, প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে না। ফলে শিগগিরই এ আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হচ্ছে না। অপরদিকে সংসদ কার্যকর এবং শক্তিশালী বিরোধী দল মাঠে থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ আকারে এ সংশোধনী সরকার পাশ করবে কিনা-তা নিয়েও সন্দিহান কমিশন।

    এই অবস্থায় প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে ইসির প্রস্তাবিত আইনের সংশোধনী পাশ করা না হলে সরকারকে চিঠি দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। ওই চিঠিতে বাকি ধাপের ভোট শেষ হওয়ার আগে সংশোধনী পাশ না করার অনুরোধ করা হতে পারে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়েছে।

    ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের সংশোধনী পাশ না হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার আইনগত সুযোগ নেই। কারণ হিসাবে তারা বলেন, স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা/কর্মচারীর পদকে লাভজনক পদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১১.১৭(ক) ও (খ) এর মতে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। লাভজনক পদ বলতে যেসব পদকে বোঝানো হয়েছে সেসব পদে স্থানীয় সরকারের কোনো পদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    এছাড়া রিট পিটিশন নং ৬৩৬৬/২০০৯-এর মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ পৌরসভার মেয়র পদকে লাভজনক পদ হিসাবে ব্যাখ্যা করেনি। এমনকি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্থানীয় সরকারের অন্যান্য পদকে লাভজনক পদ হিসাবে ব্যাখ্যা করা এখতিয়ারবহির্ভূত হিসাবে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

    জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা সব নির্বাচনের জন্য একই আইন চাই। এক নির্বাচনে এক ধরনের আইন, আরেক নির্বাচনে অন্য ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে বৈষম্য তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হবে।’

    জানা গেছে, নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই করে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা তৈরি করেছে ইসি সচিবালয়। দেশের চার হাজার ৫৮০টির মধ্যে চার হাজার দুইশর বেশি ইউপি নির্বাচন উপযোগী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ভোট আয়োজনের উপযোগী ইউপির সংখ্যা তিন হাজার নয়শর বেশি।

    প্রায় পাঁচশ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট করার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এবার কমিশন এক উপজেলার নির্বাচন উপযোগী সবকটি ইউপিতে একইদিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। প্রথম ধাপে পাঁচ থেকে সাতশ ও দ্বিতীয় ধাপে নয়শ থেকে এক হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। শেষের দিকের ধাপগুলোতে তুলনামূলক কম সংখ্যক ইউপি রাখা হচ্ছে।

  • ছাত্রদল জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছে, তারা চায় তাকে দায়মুক্তি দিতে: জিএস ফরহাদ

    ছাত্রদল জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছে, তারা চায় তাকে দায়মুক্তি দিতে: জিএস ফরহাদ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • আধুনিক ও সমৃদ্ধ রূপে উন্মোচিত হলো ডাকসু সংগ্রহশালা

    আধুনিক ও সমৃদ্ধ রূপে উন্মোচিত হলো ডাকসু সংগ্রহশালা

    দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গৌরবময় কর্মকাণ্ড—বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ শেষে ডাকসু সংগ্রহশালা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ফিতা কেটে এই সংগ্রহশালার সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। সংগ্রহশালাটির সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস. এম. ফরহাদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি মরহুম বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের হাজারো সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব গৌরবের বহু স্মৃতি ও নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের সংগ্রহশালাটি এতদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি, যার সফল বাস্তবায়ন আজ সম্পন্ন হলো।’

    তিনি আরও জানান, সংগ্রহশালাটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে আগামী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঐতিহাসিক দলিল ও তথ্য সংযোজন করা হবে। শুধু ঢাবি নয়, বরং এতে সমগ্র দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাবেক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের সংগ্রহে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার ও স্মারক সংগ্রহ করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক আর্কাইভে রূপান্তর করা হবে।

    ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের (১৯৫৭-৫৮ সেশন) কন্যা ফারজানা আলম বলেন, ‘কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের পূর্বসূরিদের ডাকসুর সঙ্গে সম্পৃক্ততা, কাজ ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে। সত্য ইতিহাস তুলে ধরার এই সুন্দর উদ্যোগের জন্য আমি ডাকসুকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

    ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ‘১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ অবহেলা ও একরকম ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালাটিকে আমরা নতুন রূপ দিয়েছি। এতে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ক্রোনোলজিক্যাল (কালানুক্রমিক) আকারে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু ভিপির ছবিসহ এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে, তাই আগামী এক সপ্তাহ সংশোধনের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য বা পরামর্শ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘দীর্ঘকাল অবহেলা ও ফ্যাসিবাদের দখলে অকার্যকর থাকা ডাকসু সংগ্রহশালাটিকে সংস্কার করে ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ফ্যাসিবাদ আমলের বিভিন্ন গণহত্যা এবং জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ দলিল, চিত্র ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের নামসংবলিত অনার বোর্ড এখানে যুক্ত করা হয়েছে।’ সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ চিত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • ফ্যাসিবাদের আমলে আমাদের ৭০০ ভাইকে গুম করা হয়েছিল: শিবির সভাপতি

    ফ্যাসিবাদের আমলে আমাদের ৭০০ ভাইকে গুম করা হয়েছিল: শিবির সভাপতি

    বিগত ১৭ বছরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাচার চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে প্রায় সাতশ ভাইকে গুম করা হয়েছিল, ১০৮ জনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে এবং এক হাজারের অধিক ভাইকে জখম করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৫ হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। এত নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম থেমে থাকেনি, বরং এ সময়ে সংগঠনের কলেবর তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সোমবার দুপুরে রংপুর কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ইসলামী ছাত্রশিবির কারমাইকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গুমের যে ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে একক ছাত্র সংগঠন হিসেবে ৩১ শতাংশ গুমের ঘটনা শুধু ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে ঘটেছে। সরকারের কাছে আমরা এই অভিযোগ দায়ের করতে পেরেছি। আমাদের যে সকল ভাইয়েরা দেশে আসতে পারে নাই, বিদেশে অবস্থান করছে এখনো পর্যন্ত, যারা এই গুমের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন কিন্তু অভিযোগ দায়ের করতে পারে নাই। সেই সংখ্যাটা অনেক।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ নিহতদের স্মরণ করেন তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের কথা স্মরণ করছি, যার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা টোটাল বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বকাপন এই বিপ্লবের কথা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ স্মরণ করছে। আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সফরে যাই, আমাদের কাছে ওই দেশের ওই ভাষাভাষী মানুষগুলো বাংলাদেশের এই অভ্যুত্থানের কথা জানতে চায়। এই গল্পের কথা তারা জানতে চায়। কারণ একটা মনস্টার, একটা দৈত্য দানব আমাদের ঘাড় থেকে বিতাড়িত হয়েছে। নতুন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, যে বাংলাদেশ ইনসাফ আর ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত হবে। কিন্তু সেই বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু একটা ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো পরিবর্তন আমাদের দেশে এখনো ঘটে নাই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।

    বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গেই তারা বলেছিল যে আপনারা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে রায় দিন, দয়া করে। এমন ভিক্ষা তারা চেয়েছিল। এই ভিক্ষুকের জাতি ক্ষমতায় আসার পরে নিজেদেরকে এখন মুনিব মনে করা শুরু করেছে। এখন তারা বলে যে আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছিল। হ্যাঁ ভোট যদি না মানতাম তাহলে ভোটই দিত না। এই ভয়ে আমরা হ্যাঁ ভোট মেনে নিছি। ক্ষমতায় যাওয়া তাদের একমাত্র দরকার ছিল।

    গণভোটে দেওয়া ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গঠনমূলক সংস্কার হলে কোনো পক্ষের পক্ষে স্থায়ীভাবে ক্ষমতার বন্দোবস্ত করা সম্ভব হবে না। এ কারণেই সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে অনীহা দেখানো হচ্ছে। গণভোটে ৩০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর এসব বিষয়ে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া হয়নি।

    পিএসসি সংস্কারের দাবি তুলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইভার নম্বর কমানো প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁরা এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

    নুরুল ইসলাম সাদ্দামের অভিযোগ, ভাইভায় স্বজন ও পরিচিতজনের সুপারিশের সুযোগ থাকায় মেধাবীরা বৈষম্যের শিকার হন। তিনি বলেন, ভাই, চাচা, মামা-খালুর রেফারেন্স দেওয়া হয়। সেই রেফারেন্সের মাধ্যমে কাউকে ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৯০ নম্বর দেওয়া হয়। আবার অনেকে ভালো করলেও তাকে ৪০ নম্বর না দিয়ে নন-ক্যাডার করা হয় অথবা ফেল দেখিয়ে দেওয়া হয়। ভাইভার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ৫০ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে পিএসসিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি।

    কারমাইকেল কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হক মাসুমের সভাপতিত্বে দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর জামায়াতের আমীর এটিএম আজম খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আনিসুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ। নবীর ২ হাজার ৫শত শিক্ষার্থী ও কৃতি ২শত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেন তারা।

  • সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার

    সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার

    বর্তমান সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    সোমবার বেলা ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি।

    আইনমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার। প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ডারের ওপারে বসে ইয়াবা চোরা কারবারিরা পরিকল্পনা করছে। ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাদক এখন আর শুধু খুলনার সমস্যা নয়। সে কারণে সারা দেশে ডোপ টেস্টের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

    মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, কেসিসি ও জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ৮০ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের ভোট ১২ নভেম্বর

    ৮০ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের ভোট ১২ নভেম্বর

    ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৭ ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ নভেম্বর করার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার কমিশন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এগুলোতে ৭ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হতে পারে। তবে এগুলো এখনও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে।

  • ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।এদিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে এনসিপি কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

    এসময় তিনি সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ড ভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ততা, পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের এনসিপি সমর্থিত সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

  • এমপিও শিক্ষকরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, সিদ্ধান্ত ইসির

    এমপিও শিক্ষকরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, সিদ্ধান্ত ইসির

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে। তাই আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

    এর আগে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে, তিনি (প্রার্থী) প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে যদি অধিষ্ঠিত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা হচ্ছে নির্বাচনি আইন।’

    তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে যে এই পদটি লাভজনক। মানে শিক্ষকদের পদটি লাভজনক। তাহলে আইনের সঙ্গে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাটা কাছাকাছি মিলে যাচ্ছে।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ওই সংজ্ঞা অনুযায়ী আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন-ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে দেওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানীকে বোঝায়।

    মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

    তবে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত মতামত, বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আইন করছে বলে জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালাতেও শিক্ষকদের আর্থিক লাভজনক পদের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইন তো করাই আছে যে লাভজনক পদে থাকলে উনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় কি আছে আমি ওটাও আপনাদের কাছে পরিষ্কার করেছি আজ। বাকিটা তখন নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে বিধিমালা এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতা। এখন জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপায়, এটা চাপালে তো হবে না। কারণ এই বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করার সময় তারা তো সংসদে উপস্থিত ছিল। আমরা সবাই মিলেই তো বিলগুলো পাস করেছি।’

    Advertisement

  • দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে: রিজভী

    দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে: রিজভী

    দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সেদিকে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের লোকজন নিয়ে রক্তের হোলি খেলেছে।

    ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারকে দলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন তিনি।

    রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম-খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারে এখনো অপেক্ষার শেষ নেই। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।

    ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।

    মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে নিহত হারুনের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তার পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।

    স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।

    সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।

    অনুষ্ঠান শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী ।

  • শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    বগুড়ায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত ও শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান । পরে তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

    শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় অবস্থান করছেন শফিকুর রহমান।

    শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সফরকালে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

    ছাত্রনেতা শহীদ আব্দুল মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পাকিস্তানে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে দুই দলের মধ্যে চলা সংঘর্ষে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ও ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার হত্যাকাণ্ডের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছরের ১৫ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।

  • বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে: বিরোধীদলীয় হুইপ

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে: বিরোধীদলীয় হুইপ

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের হুইপ ও সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু বাস্তবে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি কর্মকমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে।

    গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সেই রায় মানে না। এখন তারা বলছে, নির্বাচন আদায়ের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম; গণভোট দেওয়া তাদের পরিকল্পনায় ছিল না।’

    তিনি দাবি করেন, গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সেব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গণভোটের রায় না মানা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গুম ও খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর একটি ছিল গুম ও খুন কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। তিনি অভিযোগ করেন, আইন পরিবর্তন করে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পুলিশই তদন্ত করবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। এতে মানুষ অভিযোগ করতেই ভয় পাবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবার স্বৈরশাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এই সময়ে বাংলাদেশ ইসলাম ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষকদের একটা বড় অংশ শুধু রাজনীতি করে বেড়ায়, কোন ছাত্র কোথায় কি করে এবং ভবিষ্যতে কি করবে বা তাকে কোনো বিষয়ে কাউন্সিলিং করা দরকার কি না এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষদের খুব একটা ভাবতে দেখা যায় না।’

    চাকরির ১১-২০ গ্রেডের ভাইভার নাম্বার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে যখন দুইশত নম্বরের ভাইবা দিতে গিয়েছে তখন একটা ছাত্র লিখিততে অনেক কম নাম্বার পাওয়ার পরেও ভাইবাতে তাকে ১৯০ নাম্বার দিয়ে প্রশাসন বা পুলিশ ক্যাডারে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু একজন ছাত্র লিখিততে অনেক ভালো নাম্বার পাওয়ার পরেও ভাইবাতে তাকে উল্টো পাল্টা প্রশ্ন করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে যে ছেলেটার প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার কথা সে ভাইবাতে কম নাম্বার পাওয়ার ফলে চলে গেছে শিক্ষা ক্যাডারে অথবা নন-ক্যাডারে। আজকে আমি এই প্রোগ্রাম থেকে বলতে চাই, পিএসসির সকল পরীক্ষায় ভাইবাতে ৫০ নাম্বারের অধিক থাকাই যাবে না, পিএসসির গঠনমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। বর্তমান সরকার যে আন্দোলনের কারণে ক্ষমতায় এসেছে সেই আন্দোলনের সনদ যদি তারা সংস্কার করতে না পারে তাহলে এই সরকারের কোনো দরকার নাই।’

    সমাপনী বক্তব্যে শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আমরা বর্তমানে দুইটি ষড়যন্ত্র ও নীলনকশা দেখছি। একটি হলো ৫০ তম বিসিএস সার্কুলার যেটি দেওয়া হয়েছে সেটি পূর্বের মতো অপরিবর্তিত রেখে সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। আরেকটি হলো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে ভাইবার মার্ক বেশি করা হয়েছে। এটির মধ্য দিয়ে পুরাতন সময়ে যেভাবে সরকার দলীয় লোকদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ দেওয়ার নীলনকশা করতো ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকার তা করতে চাচ্ছে। আমরা আজকের প্রোগ্রাম থেকে বলতে চাই, ২৪ পরবর্তী প্রজন্ম এটি কখনোই মেনে নিবে না। আজকে প্রয়োজনে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দুই হাজার শহিদের রক্তের বিনিময়ে যে কোটা প্রথার কবর রচিত হয়েছে তা নতুন করে ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।’

  • ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন বাকের, সম্পাদক তাহমীদ

    ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন বাকের, সম্পাদক তাহমীদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বছরে প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ শনিবার। এতে বাকের-তাহমীদের হাতে উঠতে পারে ছাত্রশক্তির দায়িত্ব। বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    আবু বাকের মজুমদার ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাবেক নাম বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) আহ্বায়ক ছিলেন। তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রশক্তির শীর্ষ দুই পদে তারা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং তাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে ছাত্রশক্তির নির্বাচন কমিশন গত ৯ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু বাকের মজুমদার ও মাহফুজ খান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, লিমন হাছান ও মাহফুজুর রহমান। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, শ্যামলী সুলতানা জেদনী ও জহিরুল ইসলাম।

    ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন হাসিব আল ইসলাম ও সাকিবুল ইসলাম; সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সাকিব ও রায়হান ফেরদৌস। ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার প্রথম কাউন্সিল ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

    ছাত্রশক্তির প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক যাবের বিন নূর জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বিভিন্ন পর্বে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যালি এবং অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে আজ। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখারও প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া এনসিপির সব সংসদ সদস্য ও শীর্ষনেতারা উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে।

    অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। দুই কমিটির কাউন্সিলে দুই শতাধিক ডেলিগেট ভোটের মাধ্যমে নিজ নিজ শাখার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর দুপুর ২টার দিকে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৫টায় র‍্যালি এবং সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দল এনসিপির ছাত্র সংগঠনটি প্রথমে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) নামে যাত্রা শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের একটি অংশের উদ্যোগে গঠিত সংগঠনটি প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় তাদের। এরপর সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    আট মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি করা হয়, সভাপতি করা হয় জাহিদ আহসানকে। গত ২ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলে সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবীবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    দিনব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া সফরে এসে তিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

    শিল্প খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত হচ্ছে গার্মেন্টস। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমলে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক বায়ারদের অর্ডার ক্যানসেল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যাবে।

    আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনের ক্রাইসিস ৬ মাস পার হলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞ আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে, যা আমরা বিনামূল্যে সরকারকে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁতারা করছে।

    সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের প্রস্তাব ও সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদের ভেতরে কাজ না হওয়ায় আমরা গণতন্ত্রের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের সার সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো ৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম ধাপের সফলতা শেষে আমরা এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় ধাপের লংমার্চ কর্মসূচি পরিচালনা করছি।

    বিগত সরকারের আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরাচারের কবলে থেকে দেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু নেতৃত্ব হারিয়েছি, গুম হওয়া মানুষের পরিবারের কান্না আজও থামেনি। চব্বিশের বিপ্লব সফল হওয়ার পর শাসনতন্ত্রের বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ওয়াদা বরখেলাপ করা হয়েছে, যা সত্তরের আমলের মতো জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল।

    উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় প্রধান জানান, বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি এবং সাতটি সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় এটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন হাব থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪-৫৫ বছরে এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিন দফায় দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ বগুড়াকে অবহেলিত রেখেছে, এমনকি সাধারণ সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রেও চরম বাস্তবতা দেখা গেছে। প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অংশ থেকে আমি বগুড়ার ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের জন্য সংসদে জোরালো আওয়াজ তুলব।

    কর্মসূচির শুরুতেই জামায়াতের আমির সকাল ৬টায় ধুনট উপজেলায় ১৯৬৯ সালে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি দুপুর ১২টায় টিএমএসএস মমইন কনভেনশন সেন্টার ও স্থানীয় টিটু মিলনায়তনে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াতের বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ রয়েছে। সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগির স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।’

    শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, ‘একর পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এটা কেন হচ্ছে? মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো ঘটনা, কোনো রহস্য, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না—সেটিও ভাবতে হবে।’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় তাদের পাওনাও দেওয়া হচ্ছে। এর পরও কেন একের পর এক সমস্যা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন মানুষের মনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

  • জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকট-চারিত্রিক মূলধনের সংকটে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই, তা হচ্ছে-নবী করিমের (সা.) নকশা কদম অনুসরণ করা। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই প্রিয় নবীকে বিশ্ব মানবতার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত রহমত এবং অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশু, কিশোর, যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রাসূল (সা.)। এই সব বয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ামত ভরা আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছিলেন।

    তিনি বলেন, আজকে মুসলিম বিশ্ব আল্লাহ ও তার রাসূলের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি ভোগ করছে। এই সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে বলে মনে করি। তারা মানবজাতির জন্য রাসুল (সা.) কত বড় নেয়ামত-তা জানার সুযোগ পেয়েছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক ট্যালেন্ট আছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ‘ইভিল ট্যালেন্টস’। আল্লাহর দেওয়া মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে এই স্বার্থপর-সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ-অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়। এতে সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষকে ঠকায়। পরিণতিতে তাদের অবস্থান ভালো জায়গায় হয় না, খাল-বিল নদীতে হয়। আর আল্লাহর কাছে ফিরে গেলে তার পাওনা বুঝে নেবে। সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। কিছু মানুষ সম্মানিত হয়ে হাজির হবে, আর কিছু মানুষকে অপদস্ত হয়ে হাটুগাড়া করে বেধে আল্লাহর সামনে ফেলে দেয়া হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলের (সা.) ওপর যখন ওহি নাজিল হলো-তখন যারা তার আশ্চর্যজনক বৈশিষ্টের কারণে তাকে আল-আমিন, আস- সাদিক উপাধি দিয়েছিলেন, এসব জানের বন্ধুরাই তখন প্রাণের শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়। শুধু সত্যবাহক হিসেবে তার বিরোধিতায় অন্ধভাবে নেমে পড়ে। তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ইনসানিয়াতে কামেলাহ দান করেছিলেন। এজন্য দুনিয়ায় একজন মানুষেরই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় নিখূতভাবে-বিশুদ্ধভাবে লেখা আছে, এতে দ্বিতীয় কোনো মানুষের সন্তান দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই মানুষ হচ্ছেন-মুহাম্মদ রাসুল্লাহ (সা.)। এমনকি তার জীবনের গোপনীয় বিষয়গুলোও ইন্তেকালের আগে স্ত্রীদেরকে অসিয়ত করে গেছেন যে, এগুলো জনগণকে জানিয়ে দিবে।

    কারণ নবীদের প্রকাশ্য ও গোপন সব আমলের উত্তরাধিকারী আমরা উম্মতরা। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম চরিত্রে বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছেন বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এটা বিশ্ব মানবতার জন্য নেয়ামত। পৃথিবীর যে অংশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই নিয়ামতকে আঁকড়ে ধরেছে, তারা নিজেরা উপকৃত ও গৌরবান্বিত হয়েছে, নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তারা ভোগ করেছে। আর যখন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নত থেকে মানুষ সরে গেছে, তখনই তারা বিপথগামী, পরাজিত, লাঞ্ছিত এবং নিজ ভূমিতে এসে পরবাসী হয়েছে।

    শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম, শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ। এ সময় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ওমরাহ সুযোগসহ বিজয়ীদের নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

  • গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    গুলশানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার

    রাজধানীর গুলশানে শুক্রবার দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল বের করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
    গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান- ১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের করার চেষ্টা হয়। তখন পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট ছুড়তেও দেখা গেছে।
    ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

  • শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন হলেও শুধু সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জে দলটির উপজেলা শাখার আয়োজনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না। অমুসলিমদের জানমাল ও ইবাদতখানার নিরাপত্তা দেওয়া ইসলামের অন্যতম বিধান।

    একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। দেশবাসীকে এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘তারা ক্ষমতার লোভ থেকে আকস্মিক নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা কী দেখলাম—তারা রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে। আবার সংসদে বলেছে, তেল-গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়নি, আগের সরকারের সৃষ্টি।’

    লংমার্চের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে লাখ লাখ টাকার তেল-গ্যাস পুড়িয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আপনারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’

    মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মদানের কথা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। যে কারণে দেশে বারবার অভ্যুত্থান হয়েছে।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পীরগঞ্জ উপজেলার সন্তান শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানে অনেকে মা, স্ত্রী, স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন।

    সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফাসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে অন্য কোনো সম্মানজনক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়। সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরকে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের পদবির আগে আর ‘মহামান্য’ কিংবা ‘মাননীয়’ লেখা যাবে না।

    বুধবার থেকেই এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি

    জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

    বুধবার বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

    দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে জুলাই জাদুঘরে প্রবেশ করে লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসির (দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রা) ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন রাষ্ট্রপতি। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়াও জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। সবশেষ জুলাই জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখে রাষ্ট্রপতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।

    তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

    এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

  • বাঁধনের ওপর আ.লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ঘৃণ্য অপরাধ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

    বাঁধনের ওপর আ.লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ঘৃণ্য অপরাধ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ করে তারা কাপুরুষ। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা একটি ঘৃণ্য অপরাধ।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, লাঞ্ছিত ও অপমানের শিকার হয়েছেন।

    সেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিবাদ করেছে।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে যে সব নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেন, তাদেরও নিপীড়ন করা হয়েছে।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকট আন্তর্জাতিক বিষয়, এককভাবে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে তা সমাধান করা সম্ভব নয়। গ্যাসের সংকট ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসবে।

    বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে যুগান্তরকারী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ খুনি, স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে, সুতরাং এই চ্যাপ্টার ক্লোজ। তাই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো তুলনা করা যাবে না।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির ভোলা জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম বলেন, বিএনপিকে নিয়ে আমাদের কঠোর আলোচনা ও সমালোচনা থাকবে। তারা চাঁদাবাজি বা জমি দখল করলে আমরা সেটাও বলব, কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করব না।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা মোটেও সন্তুষ্ট না। আমরা মনে করি তারা আস্তে আস্তে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে।তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, আমরা দেখতেছি প্রত্যেকটা জায়গায় তারা দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি করছে, চাকরিতে কেউ রিটেনের টিকলে তাদের কোঠায় চাকরি দেয়া শুরু করেছে। আমরা মনে করি এটা হচ্ছে তাদের পুরনো কায়দা, এখান থেকে তাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা এটা যৌক্তিক সমালোচনা করবো যদি তারা এই জায়গা থেকে বের হয়ে না আসে তাহলে আমরা রাজপথে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি পালন করবো। পাশাপাশি তারা গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে তাহলে পাঁচ বছর তাদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

    এর আগে তিনি, সমন্বয় সভায় তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দল পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি করার আহ্বান জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী সালমান, কেন্দ্রীয় সদস্য রায়হানুল ইসলাম ও ভোলা জেলা সভাপতি মাকসুদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

  • দেশের সব মুজিব কর্নারকে ‘জুলাই কর্নারে’ রূপান্তরের প্রস্তাব এমপি মারদিয়ার

    দেশের সব মুজিব কর্নারকে ‘জুলাই কর্নারে’ রূপান্তরের প্রস্তাব এমপি মারদিয়ার

    দেশের সব সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’গুলোকে সংস্কার করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার’-এ রূপান্তর করার প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত রূপরেখা ও লাইব্রেরির তালিকা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একটি প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব কর্নারের নোটিশ বা হেডিংগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও পাঠাগারগুলো বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের বরাতে জামায়াত দলীয় এ সংরক্ষিত এমপি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৬৫ হাজার ৭০০ কপি বই সরবরাহ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খাবার’সহ মাত্র আটটি নির্দিষ্ট বিষয়ের বই রয়েছে।

    মারদিয়া মমতাজ সংস্কৃতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রস্তাব দেন, এই লাইব্রেরি ও কর্নারগুলোকে যদি সংস্কারের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংবলিত ‘জুলাই কর্নার’-এ রূপান্তরিত করা হয়, তবে তা দেশের মানুষের জন্য সুদূরপ্রসারী কল্যাণের কাজ হবে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা চিন্তা রয়েছে কিনা তা তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

    সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবের জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি এমপি মারদিয়া মমতাজকে এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরিগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে সরাসরি চিঠির মাধ্যমে তার কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

    সংস্কৃতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের গ্রন্থাগারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সারা দেশে বিস্তৃত সরকারি গণগ্রন্থাগার ও পাবলিক লাইব্রেরিগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করছে। অন্যদিকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অধীনে থাকা বেসরকারি লাইব্রেরিগুলো একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

    সংসদ সদস্যের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, লিখিত প্রস্তাব ও তালিকা হাতে পেলে দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার নামে শরিয়াহকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই: মামুনুল হক

    বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার নামে শরিয়াহকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই: মামুনুল হক

    সম্পদ হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে দ্রুত পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার কথা বলে শরিয়াহ ফরজ বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই বলে, উল্লেখ করেন তিনি। মামুনুল হক, আইনটির ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম-উলামা, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

    সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনটি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে পাস হয়েছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধানটি শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

    মামুনুল হক বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে সেই নিরাপত্তার নামে এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নির্ধারিত হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের বিধান পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষায়, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী উত্তরাধিকার—দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। নতুন আইন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ইসলামে হেবা কেবল কাগজে-কলমে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার বিষয় নয়; এর একটি নির্দিষ্ট শরয়ী কাঠামো রয়েছে। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ইজাব, কবুল ও কবয হেবার মৌলিক বিষয়। বিশেষ করে গ্রহীতার বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নতুন আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি দাতার জীবদ্দশা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার তাঁর কাছেই রাখার সুযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত হস্তান্তর ও কবয কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    মামুনুল হক হেবা বণ্টনে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচারের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত নু‘মান ইবনে বশীর (রা.)-এর হাদিসের উল্লেখ করে বলেন, তার পিতা তাকে বিশেষ একটি দান করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চান, অন্য সন্তানদেরও অনুরূপ দেওয়া হয়েছে কি না। নেতিবাচক উত্তর পেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। পরে তার পিতা ওই দান ফিরিয়ে নেন।

    এ ছাড়া হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর তা ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর সতর্কতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির আরেকটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মামুনুল হক বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার হেবা ফিরিয়ে নেয়, সে ওই কুকুরের মতো, যে নিজের বমি পুনরায় খায়।’

    তিনি বলেন, হেবা ইসলামী শরিয়াহর একটি স্বতন্ত্র বিধান। এর মালিকানা, কবয, দখল ও প্রত্যাহার সম্পর্কে শরিয়াহতে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তার অভিযোগ, নতুন আইনটিতে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের বিধানের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।

    আইনটির পক্ষে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, এতে ইসলামী বিধান সম্পর্কে তার অজ্ঞতা কিংবা অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মৌলিক পার্থক্য যথাযথভাবে অনুধাবন না করে মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বিধান সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাস্তবে এই আইন হেবার শরয়ী কাঠামো পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে তা হস্তান্তর করলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা ও হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে শরয়ী প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    মামুনুল হক আরো বলেন, হেবার মাধ্যমে যেন আল্লাহ নির্ধারিত ফারায়েজকে পাশ কাটিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ওয়ারিশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পথ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি এমনভাবে নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে, যাতে তাঁর মৃত্যুর পর অন্য ওয়ারিশরা কার্যত বঞ্চিত হন, তাহলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সংসদে বিলটি পাসের আগে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি ওঠার পরও এটি দ্রুত পাস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।

    বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, দলটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    মামুনুল হক ‘সম্পদ হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এর নামে হেবার শরয়ী বিধান ও আল্লাহ নির্ধারিত ফারায়েজকে দুর্বল করা যাবে না।

    মানুষের তৈরি কোনো আইনকে আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ধর্মপ্রাণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • অনিয়ম আর দুর্নীতি দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার

    অনিয়ম আর দুর্নীতি দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে।

    সোমবার দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বের হতে না পারার কারণে সুন্দর এই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। কারণ নেতারা ওয়াদা করে তা রাখছেন না এবং দেশের মানুষের কথা কেউ চিন্তা করছেন না। সমন্বয়হীনতা এবং জনগণকে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখার কারণে দেশে অরাজকতা বেড়েই চলছে।

    ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, ১১ দলীয় জোট গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে লংমার্চ করেছে। ১১ দলীয় জোট যে দাবিগুলো নিয়ে পথে নেমেছে, তা জনগণের দাবি; জোটের কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তেল নিয়ে তেলেসমাতির পাশাপাশি দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সময়মতো গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার সার সরবরাহ করতে না পারায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং বেশি দাম দিলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    তাদের এই অব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতি সবার কাছে পরিস্ফুটিত হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে ধারণ করে নির্বাচনের সময় আমাদের ভোট হয়েছিল দুটি। কিন্তু সরকার বারবার কথা দিয়েও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সংসদে নানা কথা বললেও বাস্তবে উল্টো কাজ করছে। সংসদে তিন-তিনটি অধিবেশন হয়ে গেছে। দাবি না মানায় ১১ দলীয় জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পরও তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কয়েকটি বিল পাস করেছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের অপকৌশল এবং কার্যকলাপ বুঝতে পেরে বিরোধীদের মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।

    এটিএম আজহার বলেন, লংমার্চে ১১ দলীয় জোট জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে তাদের দাবির পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন এবং আন্দোলনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে আমরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছি।

    তিনি বলেন, তবে মাঠে নামার আগে এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আমাদের দলের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে আলোচনা করে সমাধানের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে দাবিদাওয়াগুলো নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি এবং আমাদের কথাগুলো শোনেননি। এ কারণে জনগণের সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নে এবং মানুষের চাওয়াগুলো পরিপূর্ণ করতে আমরা মাঠে নেমে পড়েছি।

    তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল। একটি হচ্ছে মার্কায় দেওয়া ভোট, যা নির্ধারণ করে কে ক্ষমতায় যাবে আর কে যাবে না। আরেকটি ছিল জুলাই আন্দোলনের সপক্ষে ভোট। ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে জুলাইয়ের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তারা সেই রায় ভুলে গেছে। অথচ এর আগে তারা ঐক্যমত কমিশনে জুলাইয়ের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিল।

    সংবিধানের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের রায়ে সংবিধান তৈরি হয়, তাই সংবিধানের আগে জনগণ। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধানের কথা যদি বলেন, তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, তা কি সংবিধানসম্মত হয়েছে? তাই এ ধরনের কথা বলে সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট এবং জুলাইয়ের দাবিগুলো অবজ্ঞা করা, জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তামাশা করা—যা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

    তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট লংমার্চ শুরু করেছে। এর পরে আমরা ১৯ তারিখে ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ করব। এর পরেও সরকার জনগণের দাবিগুলো মেনে না নিলে সব বিভাগীয় শহরে লংমার্চ শেষে ঢাকায় একটি সমাবেশ করে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।

    এর আগে সকালে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বদরগঞ্জ উপজেলা চত্বরের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য চাষিদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিমল চক্রবর্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনজুমান সুলতানা, উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির রুস্তম আলী, টিএইচও ডা. আরেফিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু মুসাসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

  • ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

    বর্তমান সরকারের একটি বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এবার কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।ওইদিন একই সঙ্গে ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সারাদেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    কৃষক কার্ড কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।এর আগে প্রি-পাইলটিংয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনার হচ্ছে।

    এসব পর্যায়ে ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে জানা গেছে, মূল পর্বে কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের শনাক্ত করতে ও তাদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কার্ড স্ক্যান করলেই কার্ডধারী কৃষককে সহজে শনাক্ত করা যাবে।

    এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা পান।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত।

    পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য চাষ করেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লবণচাষি রয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

    জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ। ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

    এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

  • আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোটবোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’

    ভারতকেও খেসারত দিতে হবে

    তার অভিযোগ, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি এও বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার কথায়, কোনও সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। (আমি তো) বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

    দেশটা আমার

    সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কি বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সেজন্যই বলেছি, আমি চলে যাব। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন? দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কী করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে অনুকূল অবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, এটা ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন। তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলেন।

    আমি দেশের মানুষের কাছে যাব

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

    ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে

    ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব। আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।

    তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেয়া হয়েছে। যত জঙ্গী, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। আমার সময় তো একটামাত্র (সন্ত্রাসী) ঘটনা ঘটেছিল। ৪৬০টি থানা লুট হলো। পোড়ালো। পা বেঁধে বেঁধে ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

    তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছি

    ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস। তাছাড়া এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬শ’ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, বই এবং শিক্ষা উপকরণাদি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নোমান হোসেন নয়নসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, যোগ্য মানুষ তৈরীর কারিগর শিবির। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য তাদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিবির শিক্ষার্থীদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। শিবিরের এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

    সূত্র: দ্য ওয়্যার

  • রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের গেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

    দুদিনের সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

    নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীরকে ঠাকুরগাঁওয়ে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার পর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।

    বিকালে তিনি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

    ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটি জেলা স্কুল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এসএসএফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারসহ বর্ণিল সাজে সেজেছে ঠাকুরগাঁও।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহিন জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা প্রশাসক রফিকুল হক জানান, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফার আন্দোলন

    ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফার আন্দোলন

    গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান ও প্রতারিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবর রচনা করে সংসদের ভেতরেই সবকিছুর ফয়সালা করতে। আমরা রাজপথে আসতে চাইনি; কিন্তু আপনারাই আমাদের বাধ্য করেছেন এখানে আসতে। তিনি বলেন, জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এটা আমরা আদায় করেই ছাড়ব।

    গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশ ঘিরে লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনস্রোত দেখা যায়।

    এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

    অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি মানতে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবি না মানলে আরো তিন বিভাগে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।

    গতকাল রাতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে লালদীঘির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ছয় দফা ১১ দলের কোনো ব্যক্তিগত দফা নয়, এগুলো দেশের জনগণের দফা। অনির্বাচিত সরকার তাদের জান্নাতে পাঠায়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সে সময় যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন, নেই?

    তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকেরা এখন চুরি-চামারি ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়েছে। যখন তাদের ধরা হয়, তখন তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দেয়। এরা গুপ্ত হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, বিভিন্ন জায়গায় চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। আমাদের এই আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়; এটি জনগণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার রাস্তায় হাঁটে, তাহলে তারা কী দোয়া পড়বেন—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগের সরকার যে রাস্তায় বিদায় নিয়েছে, বিএনপিও সেই রাস্তায় হাঁটতে চায় কি না, তা দেখতে হবে।

    চট্টগ্রামের মেয়র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ। এর নাম কী? এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। তিনি বলেন, বিএনপি ওয়াদা করেছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই দেশ চালাবেন। এখন যাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা কি নির্বাচিত?

    শফিকুর রহমান বলেন, আজকের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। পরেরগুলো এরকম হবে না। কতগুলো মানুষ মারা গেছে, গুম হয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা নেই—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বিরোধী দলকে লোভ বা টোপ দিয়ে কেনা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে ফ্যাসিবাদ, অপরাধী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং আধিপত্যবাদীরা নিশ্চিতভাবে হেরে যাবে।

    বিগত আন্দোলনের শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত আন্দোলনে বিপুল মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই গুম হয়েছেন এবং আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পর নিজেদের শিশু সরকার বলে দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয়নি, বরং প্রাপ্তবয়স্ক বিবেচনা করে তাদের ওয়াদা শুনে ভোট দিয়েছে।

    সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার একের পর এক উল্টাপাল্টা কাজ করবে আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে—তা হতে দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত তাদের আঙুল সোজা রয়েছে, তবে প্রয়োজনে তা বাঁকা করতে দ্বিধা করা হবে না।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই দায়ী। তিনি যদি সংসদকে কার্যকর করতেন; তাহলে আমরা সেখানেই থাকতাম। তিনি যদি সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ নিতেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেন; তাহলে আমাদেরকে রাজপথে নামতে হতো না। তিনি সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।

    তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান আপনিতো কথা বলা বন্ধ রেখেছেন। মাঝেমধ্যে বললেও আপনি ভুল বলে ফেলেন। তাই সালাহউদ্দিন সাহেবকে কথা বলার জন্য রেখেছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তার কথা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাকে দেশের জনগণ বয়কট করেছে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই সংসদে সালাহউদ্দিন সাহেব একাই সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে পেরেছেন, যিনি একাই সব দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিশ্চয়ই বিরোধী দলের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। তাই আপনারা সংসদে থাকুন, আমরা জনগণের সঙ্গে রাজপথে থাকি।

    দেশের মানুষ ভালো নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। সরকার সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। আমি সরকারকে বলতে চাই; সময় থাকতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন সেই উদ্যোগ নেন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করুন। নয়তো শেখ হাসিনার দুঃশাসন থামাতে মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে, আমরা আপনার জন্য পাঁচ বছরও অপেক্ষা করব না।

    সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিএনপি সরকারের পরিবর্তন চান দেশের মানুষ। এই সরকার পরিবর্তন হয়ে চিরদিনের জন্য চলে যাক। সব জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে বাকশালের কোনো পার্থক্য নেই।

    তিনি বলেন, তারা বলেছিল ক্ষমতায় গেলে এক লাখ লোকের চাকরি দেবে। এখন এক লাখ লোকের চাকরি গেছে। মৌলবাদী মানে যারা মূল মন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা তো উগ্রবাদী নই।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামনুল হল বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের মুখ থেকে শুনতে হচ্ছে তারা নাকি নির্বাচন হওয়ার জন্য এসব কথা বলেছিল। এতেই বুঝা যায়, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এখন আত্মস্বীকৃত মুনাফেক দল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে, সংবিধান সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, জহিরুল ইসলাম এমপি, মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুছা বিন ইজহার, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

    এর আগে গতকাল দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা লালদীঘির ময়দানে আসতে থাকেন। বিকাল তিনটার আগেই সমাস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। সমাবেশে নেতাকর্মীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে নানারকম প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমাবেশকে ঘিরে লালদীঘি ও আশেপাশে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় সমাবেশটি শেষ হয়।

    এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ যাত্রা শুরে করে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। যাত্রাপথে বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এসব পথসভা জনসভায় রূপ নেয়।

    এসব জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতারা বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তারা গত ছয় মাসে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গণহত্যার বিচারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের এসব সমস্যার সমাধানে বিরোধী দল সংসদে ও রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

    এদিকে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহর চট্টগ্রামের লালদীঘিতে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে শুভেচ্ছা জানান জোটভুক্ত দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। কর্মসূচি ঘিরে জোটের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ উৎসুক জনতার মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহরে যুক্ত হন। সমাবেশে বক্তব্য ছাড়াও নানা ধরনের সংগীত পরিবেশন করে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠী।

    বর্তমান বিরোধী দলের প্রথম সর্ববৃহৎ কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ বাস্তবায়নে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নেয় ১১ দল। লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে পথে পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি শেষ হলেও পথে বহরের দুয়েকটি গাড়ি ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বলে জানা গেছে।

    এর আগে গত ৬ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম এই লংমার্চের পর ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

    শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ

    ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সমান্তরালভাবে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চলতে থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, ছয় দফার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে—কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে; বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আছে। অতিষ্ঠ হয়ে, সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, যে বিষয়ে সিফাত প্রতিবাদ করেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। ভালোয় ভালোয় ওকে ছেড়ে দিন। যদি না ছাড়েন তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডা. মিলন অনেকের গদি একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কর্মসূচির কৌশল ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, গণভোটের রায়সহ ছয় দফা দাবি পূরণ না করলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা আসলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে আন্দোলন দুর্বার গতিতে শুরু হবে।

    এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, চাঁদাবাজ-মস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালো চলবে না, তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মিনিট না যেতেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালনের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চাচ্ছি, সরকার যদি সেটি বুঝতে না পারে তবে পরিণতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে কিন্তু সরকার সেটি করেনি। সেই ট্রেন সরকার মিস করে ফেলেছে। ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ট্রেনও সেপ্টেম্বরের পর মিস হয়ে যাবে। তাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, সরকারের অবস্থা এমন হয়েছে তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়েছে। সংসদে টু-থার্ডের ক্ষমতা দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। জনগণ ভোট দিতে পারে আবার ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে।

    এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার বন্ধু ও শত্রু চিনতে পারে না বলেই তাল হারিয়ে ফেলছে। গত ছয় মাসে সরকারের ১৫০ টাকা লাঞ্চ আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ডের গল্প ছাড়া আর কোনো গল্প নেই, কোনো অর্জন নেই।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। সমাবেশ শেষে সাড়ে ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

    বৃষ্টিমুখর নারায়ণগঞ্জে পথসভা

    লংমার্চ শুরু হওয়ার পর প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায়। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সফল হব। আজকের লংমার্চ শেষ নয়, শুরু।

    জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা আবদুল জাব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতারা। এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চ বহরকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    নিমসারে অনির্ধারিত পথসভা

    নারায়ণগঞ্জের পর অনির্ধারিত পথসভা হয় কুমিল্লার নিমসার এলাকায়। সেখানে ব্যাপক লোকজনের উপস্থিতিতে রাস্তায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের জন্য রাস্তায় নেমেছি, আপনাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

    পদুয়ার বাজারে পথসভায় জনতার ঢল

    লংমার্চের অন্যতম বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড বিশ্ব রোড এলাকায়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি সমাবেশে রূপ নেয়। আধাঘণ্টা স্থায়ী এ পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান ছয় দফার পাশাপাশি আরো বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের উদ্দেশে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ চাঁদাবাজি, খুন রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

    চৌদ্দগ্রামে পথসভা

    চৌদ্দগ্রামে পথসভাতেও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া পথসভায় আরো বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।

    ফেনীর পথসভা জনসমাবেশে পরিণত

    লংমার্চের গাড়িবহর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী মহিপালে পৌঁছায়। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে। তিনি বলেন, সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণ করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব। চূড়ান্ত ডাক এলে জনগণকে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টোপথে চলছে।

    জুলাই গণহত্যার বিচার পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

    মিরসরাইয়ে শেষ পথসভা বিকালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পথসভা। সেখানে অনেক আগেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু নেতাকর্মী জমায়েত হন। এতে জামায়াত আমিরসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। লংমার্চ সফলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি দফায় দফায় বৈঠকসহ নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ৯টি শাখার নেতারা যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জোটটি। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিটি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

  • সরকার জনগণের সঙ্গে  বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির,

    সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির,

    বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের মতো বিএনপিও ওয়াদা করেছিল জনগণের জনরায় মেনে নেওয়ার। অথচ ক্ষমতায় আসার পর দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের চরম সংকট থাকলেও সরকার দলের মন্ত্রী ও এমপিরা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন।

    ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পরিচালিত লংমার্চের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে ফেনীর মহিপালে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, আমাদের কোনো পিসির বাড়ি নেই। যারা সামান্য কালো মেঘ দেখলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়—তারা কারা, তা আপনারা সবাই চেনেন। এখন যারা আমাদের চোখ রাঙায়, বিগত সাড়ে ১৫ বছর কোথায় ছিল তাদের ক্ষমতা? কেবল কালো মেঘ নয়, বজ্রপাত আসলেও ১১ দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই থাকবে।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, দ্রুত ৬ দফা দাবি মেনে নিয়ে সোজা পথে আসুন। গণভোটের জনরায় মেনে নিন এবং দ্রুত জুলাই গণহত্যা ও পিলখানায় ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তা হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।

    দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, এখনও সংশোধনের সময় আছে। সময় পার হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ইনশাআল্লাহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আমাদের লংমার্চ যাবে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই মহাসমাবেশ কি কেবল চিড়া-মুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি দাবি আদায়ের জন্য হবে? ফেনীসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে বলব—আপনারা প্রয়োজনে চিড়া-মুড়ি সঙ্গে নিয়েই সে সমাবেশে যোগ দেবেন।

    উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত ডাক যখন আসবে, তখন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরতে হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন; আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

    জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপি নেতা আকতার হোসেন এমপি, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

  • দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী

    দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে একটি দল দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে।

    শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি সংকটে ভুক্তভোগী সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রথমে জাতীয় সংগীত এবং পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

  • দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, `আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

    আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশের সব বিভাগীয় শহরে যাবে। ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

    কুমিল্লাবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা কুমিল্লা বিভাগ চান। ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একই সময়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, সিলেট বিভাগ হয়েছে। তাহলে কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তাঁরাও দাবিদার। তাঁদেরও বিভাগ দিন। তবে কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কি আপা কুমিল্লার প্রতি বিরাগ দেখিয়েছিলেন? কুমিল্লার নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। কোনো জেলার নামকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করা হলে তা ওই জেলা ও বিভাগের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করার শামিল। বর্তমান সরকার বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে দিচ্ছে না কেন? কুমিল্লা বিভাগ দিন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিমানবন্দর করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কুমিল্লায় একটি ইপিজেডও রয়েছে। বিমানবন্দরটি যাচাই-বাছাই করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন। মানুষকে প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রামে যেতে অনেক দূর যেতে হয়। বিভাগ হলে কুমিল্লার মানুষ এখানেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবে।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি চান? সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কি রক্ষা করছে? করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না রেখে এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে একসঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকতে চান, তাহলে অন্য সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আগে নিজের মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি ঠিক করুন। আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করুন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।’

    কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্ঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

  • কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

    শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

    লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

    উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

  • পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।

    আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।

    মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।

    পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’

  • লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ বিরোধী দলের লংমার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

    তবে সরকারি দল সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।

    আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।

    সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

    যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পথে মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখাগুলো এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না। শুধু যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তাঁরাই নামবেন।

    পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’, সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।

    দেশে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আগের সরকারের তুলনায় কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা’ এখন যে আস্ফালন করছে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে, তা ছয় মাসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল না।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে।

    তবে ন্যূনতম কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন ঘটনার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

    ইতালির ডানপন্থি সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার ইতালির প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান হয়েছেন।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত মেলোনির সরকার এ পর্যন্ত ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছে।

    এর মধ্য দিয়ে তিনি ধনকুবের ও মিডিয়া ব্যবসায়ী সিলভিও বারলুসকোনির একটি রেকর্ড ভেঙেছেন। তবে বিভিন্ন সরকারের অধীনে মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি সময়—প্রায় নয় বছর—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এখনো বারলুসকোনির দখলে।

    যুদ্ধের পর প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮০ বছরে ইতালিতে ৬৮টি সরকার গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি সরকার প্রায় ১৩ মাস করে ক্ষমতায় ছিল।

    মেলোনির রেকর্ড উদযাপন

    মেলোনি ও তার কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই) শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় পুগলিয়া অঞ্চলের বন্দরনগরী বারিতে এই রেকর্ড উদযাপনের আয়োজন করেছে।

    প্রায় ৮০টি কোচে করে সমর্থকদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যায় সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মেলোনির।

    উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানিও ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কার্যত ২০২৭ সালের ইতালির নির্বাচনের আগে এটি প্রচারণার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    মেলোনি সরকার ও সমর্থকদের দাবি

    মেলোনি সরকার দাবি করছে, চার বছরের শাসনামলে দেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১০ লাখ। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমেছে এবং ব্যক্তিগত আয়কর ২১০০ কোটি ইউরো (২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) কমানো হয়েছে।

    অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে সরকার।

    নব্য-ফ্যাসিবাদী শিকড় থাকা দলটির এই প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিশ্বমঞ্চে ইতালির প্রভাব বেড়েছে।

    দেশের ভেতরেও একাধিকবার মেলোনির জাতীয়তাবাদী অবস্থানের প্রশংসা করা হয়েছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির শুরুতে অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

    ট্রাম্পের এই দাবির জবাবে মেলোনি বলেছিলেন, ‘ইতালি কারও কাছে অনুনয় করে না।’ তার এই মন্তব্যে অনেক ইতালীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

    মেলোনির সমালোচকেরা

    ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এবং তার নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকারকে সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, পরিসংখ্যান তুলে ধরলেও দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে।

    তাদের তালিকায় রয়েছে দুর্বল উৎপাদনশীলতা, জনসংখ্যাগত সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াও বড় ধরনের সমালোচনার বিষয়।

    মেলোনির সরকারের সমর্থনে আয়োজিত উদযাপনের আগে ইতালির CGIL ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মাউরিজিও লান্দিনি বলেন, ‘মজুরি কি বেড়েছে? না। পেট্রলের দাম বেড়েছে, চাকরির অনিশ্চয়তা বেড়েছে, মানুষ কম অবসরে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগের চেয়ে কম কার্যকরভাবে চলছে।’

    বারিতে মেলোনির দলের সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধীরাও শহরের অন্য অংশে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করছে। আয়োজকেরা মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ও অস্ত্রের অর্থনীতি’ এবং ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ তৈরি করার অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের পরিবেশ উসকে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।

    এদিকে, অন্যদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার অবস্থান থেকে সরে এসে মেলোনি অতিরিক্ত মধ্যপন্থি হয়ে উঠেছেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও এমন মত রয়েছে।

    অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চি এমনই একজন। তার দল মেলোনির দলের চেয়েও আরও কট্টর ডানপন্থি। অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে ভান্নাচ্চি কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত।

    জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার দল মেলোনির জোটের দুই শরিক—অভিবাসনবিরোধী লিগ ও ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে।

  • সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

    সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

    আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে থাকা দলটির সিলেট মহানগর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে কেন্দ্র।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী সিলেট মহানগরীর থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করা হয়।

    একই সঙ্গে জামায়াতের দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নগরীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনি মাঠে নামার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সিলেট সিটিকে একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য মডেল নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্র থেকে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    সততা ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীক হিসেবে প্রার্থীর বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সমাবেশ থেকেই অতিসত্বর সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় সাংগঠনিক গণসংযোগ জোরদার করার প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের পদত্যাগ

    ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের পদত্যাগ

    এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, জাতীয় ছাত্রশক্তির পঞ্চম সাধারণ সভায় কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

    সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যদের মতামত ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবিবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জাহিদ আহসানের পদত্যাগের পর আহসান লাবিব ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।

  • ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ–নদীর দখল–দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা ও দখল হয়ে যাওয়া নদ–নদী পুনরুদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার।

    গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সেল গঠনের কথা জানানো হয়।

    ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় এ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এ সেলের অধীনে থাকবে তিনটি সাব–কমিটি। প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় সেল ও এসব সাব–কমিটির কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, ধলেশ্বরীসহ খাল, নালার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদ-নদী পুনরুদ্ধারে এ সেল কাজ করবে।

    কেন্দ্রীয় এ সেলের উপদেষ্টা করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এ সেলের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে নৌবাহিনী।

    ৩৭ সদস্যের এ সেলের সদস্য করা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সচিব, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি (রিয়ার এডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তা), পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান, ঢাকার বিভাগী কমিশনার, নৌপুলিশের এআইজি, ঢাকা ওয়াসার এমডি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধি, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্যানারি মালিক সমিতি ও ডক ইয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, এনজিও (পরিবেশ অধিদপ্তর মনোনীত)

    দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা অপসারণ, নদ-নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতে তিনটি সাব কমিটি গঠন করে তাদের কাজ পরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব–কমিটি ১ শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ, সাব–কমিটি ২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির প্রবাহ সচল রাখা এবং সাব–কমিটি ৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ করবে।

    প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সেল তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত চলমান প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে কেন্দ্রীয় সেল।

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • হয়রানি-মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশ বাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

    হয়রানি-মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশ বাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

    এ সময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দেন।

    সাক্ষাৎকালে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর ও শিষ্টের পালনে ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

    তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া অপ তথ্য, মিথ্যা তথ্য, গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশপ্রধানকে নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখতে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

  • সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে: প্রধানমন্ত্রী

    সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজবিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন,আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।’

    একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’ । সুতরাং, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। তিনি বলেন, আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।

    বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে।’

    তিনি বলেন, ‘এভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব ও আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড,সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।’

    সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও দুষ্টপ্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর ‘কংসে’র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

    হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার আমার আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’।

    ‘ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারো জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

    জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুস্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সূবর্ণা শিকদার ঠাকুর।

    অনুষ্ঠানে মন্দিরের নয় জন পুরোহিত ও সেবাইতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশে পুরোহিত ও সেবাইতগণের ব্যাংক একাউন্টে এফটিএ’র মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন শুক্রবার। দিবসটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।

    হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলা পত্রিকার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, সহ-সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

    বার্তায় তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে তাকে শুভকামনা জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার শপথ গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশায় রয়েছে বলে জানানো হয়।

  • মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে, দুই মামলা, ছয় হাজার টাকা জরিমানা

    মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে, দুই মামলা, ছয় হাজার টাকা জরিমানা

    উল্টোপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সার্কিট হাউজ রোডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    তিনি বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর গাড়ি সকাল ৯টা ৮ মিনিটে সার্কিট হাউজ সড়কের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাফিক পুলিশ পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়।’

    ‘চালককে বলা হয়, এভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। দুটি মামলা হয়েছে এবং তিন হাজার, তিন হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

    ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এই ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাচ্ছিল। ঘটনার সময় গাড়িতে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত ছিলেন।

    এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটা নজিরবিহীন।’

    ‘অতীতেও মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত যাওয়ার জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টো পথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে এলেও মামলার ঘটনা এটিই প্রথম।’

  • শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ ৩০ জনকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

    এদিন সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় হাজির করা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।

    এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। প্রসিকিউশন বলছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

  • দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ করার ও বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান জানান। যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন। তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জনান।

    রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্য প্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে অসাম্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।

    সাক্ষাতকালে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশী প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

    জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিমানবন্দরে হয়রানি, প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবা ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী কার্ড চালু করেছে।

    রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে দেশে বিনিয়োগের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের তা গ্রহণ করার আহ্বান জনান। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিনিধিদলটি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    আরও পড়ুন: এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, গুম প্রতিরোধ দিবসে রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: আখতার হোসেন

    বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: আখতার হোসেন

    বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ((এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    দেশের সব জায়গায় দলীয়করণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংকট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ না হতে পারলে দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে।’

    তিনি বলেন, ‘জনভোগান্তি নিরসনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ ৬ দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ করবে এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট।’

    এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল নানাভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধীদলের যারা অংশগ্রহণ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানি করছে।’

    ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করলে তার ফল ভালো হবে না বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

  • প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও শ্রমিক সমস্যা নিয়ে মালয়েশিয়া হাইকমিশনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

    প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও শ্রমিক সমস্যা নিয়ে মালয়েশিয়া হাইকমিশনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে পাসপোর্ট জটিলতা, শ্রমিক নিয়োগ, অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন দেশটিতে সফররত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

    গত বুধবার তিনি হাইকমিশনে পৌঁছলে কমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

    বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি হাইকমিশনের কার্যক্রম ও প্রবাসীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।

    আলোচনায় হাইকমিশনার জনাব মঞ্জরুল করিম খান চৌধুরী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ৮ থেকে ১৫ লাখ অভিবাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ সময় হাইকমিশনার অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে আরো জানান, মালয়েশিয়ায় মোট ৩৭টি কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে বিভিন্ন দেশের আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশটিতে ১৭টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখানে প্রায় এক হাজার ৯০০ জনের মতো বাংলদেশি বন্দি আছে। তাদের আইনি সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বলা হয়।

    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

    আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ফ্রি ট্ট্রেড নিয়েও কথা হয়। হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্রি ট্রেড -সংক্রান্ত একটি চুক্তি বা সমঝোতা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এটিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটা ভালো উদ্যোগ বলে বর্ণনা করা হয়।

    শ্রমবাজার প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি আলোচনা করা হয় না; বরং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে।

    তিনি আরো জানান, মালয়েশিয়ায় প্রায় আড়াই হাজার রিক্রটমেন্ট এজেন্সি রয়েছে। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সেখানকার বাংলাদেশী নারী শ্রমিক ও তাদের আত্বসম্মান নিয়ে জানতে চাইলে হাইকমিশনার জানান, নারীদের জন্য দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মসংস্থানের ভিসা বর্তমানে সীমিত বা অনুপস্থিত রয়েছে।

    বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার বর্তমান সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে আরো কার্যকরভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, আপনারা এখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সুতরাং এখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের মানুষের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আপনাদের যে কোনো সহযোগিতা লাগবে আমরা করতে প্রস্তুত। মালয়েশিয়া সংক্রান্ত একটা নির্ভুল তথ্য বাংলাদেশ সরকার এবং বিরোধী দলকে সরবরাহ করার জন্য বলেন তিনি।

    দালালদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য এবং টাকা-পয়সার সংক্রান্ত ঝামেলা যেন না হয় আর শ্রমিকদের মালয়েশিয়াতে আসার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ সেবা দেওয়ার জন্য হাইকমিশনকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বলা হয়।

    অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার মঞ্জরুল করিম খান চৌধুরী, ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাদ শাহানারা মনিকা এবং প্রধান চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া শাখার সেক্রেটারি জেনারেল ড. খাইরুল ইসলাম, ড. ইউসুফ আলী এবং সাইফুদ্দিন ইয়াহহিয়া উপস্থিত ছিলেন।

  • র্দীঘ পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরে আসায় আব্বাসকে স্পিকারের ধন্যবাদ

    র্দীঘ পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরে আসায় আব্বাসকে স্পিকারের ধন্যবাদ

    র্দীঘ পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরে আসায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

    প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে নিজ অফিসে দাফতরিক কাজ শুরু করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

    উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে চিকিৎসা শেষে প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করলেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করলেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তারা। এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফায়েয বিন মোহাম্মদ মোখতার এবং হাজওয়ান বিন হাসনল উপস্থিত ছিলেন।

    দলীয় সূত্র জানায়, সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক ও খোলামেলা মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে হাইকমিশনার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    মতবিনিময়কালে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার এবং সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।