রাজনীতি

  • কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপে যোগ দিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


    বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।


    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে দুই দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা জানান তারা।


    কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের কপ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এবারের সম্মেলনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।


    আঙ্কারার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুরস্ক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওদিকে সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গেও তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

    বৈঠক হলে সেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


    প্রসঙ্গত, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া শহরে কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ জলবায়ু সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

  • সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

    সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

    পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আংশিক সংস্কারের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন পর্ব থেকে বিরোধী দল ওয়াকআউট করেন।

    সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।পরে তিনি বৃহস্পতিবার উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন পরে অংশ নেবেন না উল্লেখ করে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দল রাত ৮টা ৬ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল। নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই–বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা বলেছিল সরকার। এর একটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।

    অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনঃপ্রচলনে এই সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল পাস করা হয়েছিল। তখন অধিকতর যাচাই–বাছাই করে মানবাধিকার কমিশন আইন আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছিল সরকার। এর মধ্যে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয় ১০ আগস্ট। এই দুটি আইনের খসড়া অনুমোদন করার পর থেকে মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খসড়ার কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

  • রোববার সংসদ অভিমুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পদযাত্রা

    রোববার সংসদ অভিমুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পদযাত্রা

    তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের প্রতিবাদ এবং গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে আগামী রোববার জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হবে।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের পর নতুন করে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নতুন আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের হাতে দেওয়া হচ্ছে। অথচ গুমের অধিকাংশ অভিযোগই পুলিশের বিরুদ্ধে। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই তদন্তের দায়িত্ব থাকলে তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করছে তারা।

    বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের সংকটসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ চলছে। সরকারের ব্যর্থতা সর্বত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুরো জাতি একাধিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

    তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে, কিন্তু জুলাই সনদ ও গণরায়ের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গুমের শিকার পরিবারগুলোও এখনো জানে না, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন। অতীতে বিচারবহির্ভূতভাবে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার বিচারও এখন পর্যন্ত হয়নি।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এসব বিষয় সামনে রেখে আগামী ৩০ আগস্ট বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

    বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • দুষ্টু লোকেরা বলে টুকু আসে-টুকু যায়, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারাহানা

    দুষ্টু লোকেরা বলে টুকু আসে-টুকু যায়, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারাহানা

    জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে- দুষ্টু লোকে বলে, ভালো লোকে বলে না— টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যখন তেলের দাম বাড়ছে, যখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, যখন গ্যাস পাওয়া যায় না। তখন ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি যে সরকার দিয়েছিল নির্বাচনে। সে সরকার ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে ৬২ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। ৯০০ এর উপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে? যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে আল্লাহ মাবুদ জানেন।

    তিনি বলেন, এ সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে তিনটি কাজের একটি হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা। আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়, আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আছেন— তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাক চাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হত না। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত ভালো অবস্থা।

    বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে টিসিবির পণ্যের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইনের কথাও উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্যের প্রশ্ন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্যের প্রশ্ন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, না কি ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ এ প্রশ্ন করেন। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা—বুঝতে পারিনি।’

    সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’

    তিনি বলেন, ‘সেই জেলায় গান-বাজনা, সিনেমা নাকি বন্ধের মতোই। এই ছয় মাসে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না? এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না? নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।’

    হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কীসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন—সেই স্ট্যাটিস্টিক্সটা আমি জানি না।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব ঘটনায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করলে ৩০০ বিধিতে সে বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারবেন।’

    সামাজিক চাহিদার ভিত্তিতে আলোচিত ও অনালোচিত বিভিন্ন অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সহযোগিতা করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রামিসা থেকে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘এখানে কোথায় কী ব্যর্থতা আছে, বলতে হবে। আইন রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বা এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি—এগুলো বক্তব্যে চলে। এটা সংসদ। সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলে সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক করা যাবে।

  • ১৭ বছর স্বৈরশাসন চলেছে, জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে: নজরুল ইসলাম খান

    ১৭ বছর স্বৈরশাসন চলেছে, জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে: নজরুল ইসলাম খান

    ১৭ বছরে দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন চলেছে। ১৭ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে৷ তাই জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    যারা ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে, সরকার তাদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বিরোধীদলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, সরকার যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যথাসময়েই বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার তার নিজস্ব নিয়মে দেশ পরিচালনা করছে, জনগণের কোনো পরামর্শ থাকলে সরকারকে তা দেওয়ার আহবান জানান তিনি৷

  • সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সারের জন্য কৃষক ভোগান্তিতে থাকলেও, সরকার এসব অভিযোগ এড়াতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ আরও জানান, দুর্বল গুম প্রতিরোধ আইনের প্রতিবাদে ৩০ আগস্ট রাজধানীতে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    বিদ্যুৎ-জ্বালানি-সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জোটের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকে বসেন বিরোধী জোটের নেতারা। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত আইনের খসড়া আনছে সরকার। এর প্রতিবাদে আগামী রোববার শাহবাগ থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৩০ তারিখ গুম প্রতিরোধ দিবস, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়, সেটাতে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিব এবং আমরা বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) অধিবেশনে সংসদেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কায়দায় কথা বলব।

  • দিনাজপুরে শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও : যান চলাচল বন্ধ, সংঘর্ষ

    দিনাজপুরে শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও : যান চলাচল বন্ধ, সংঘর্ষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানকারী শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানাসহ সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

    এতে গোটা শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। কোতোয়ালি থানা অবরোধের সময় শ্রমিকদের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৬ শ্রমিক আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকেই দিনাজপুরের সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    দিনাজপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, বালুয়াডাঙ্গা টেম্পু স্ট্যান্ডসহ শহরের সবকটি প্রবেশপথ যানবাহন দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুরের দিকে কোতোয়ালি থানার সামনে একটি বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়।

    বুধবার রাত ৯টার দিকে ৫ আগস্টের একটি মামলায় শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

    এছাড়া বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় বড় বাস ও নাইট কোচ রেখে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে গোটা শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে আইন অনুসরণ করেই ধরা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে।’

    এদিকে শ্রমিকরা জানান, ‘শেখ বাদশাকে না ছাড়লে আমরা সড়ক অবরোধ তুলে নেব না। আমরা দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তাকে না ছাড়লে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ অচল করে দেয়া হবে।’

  • ১১ দলীয় জোটে আছি ও থাকব: সারজিস আলম

    ১১ দলীয় জোটে আছি ও থাকব: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ১১ দলীয় জোট থেকে বের হওয়ার বিষয়ে আমাদের দলে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা জোটে আছি এবং থাকব।

    তিনি বলেন, আমাদের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিছুদিন আগে জোট প্রধান জামায়াত আমির আমাদের অফিসে গিয়েছিলেন। আমরা যোগ্য বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম জানান, ১১ দলীয় জোটে থাকলেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সংগঠনের ভিত্তি গড়ার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সংগঠকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন; যার মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ভালো ফলাফল করবে। এ জন্য আমরা জেলা, উপজেলা, সিটি, পৌরসভা ও ইউনিয়নের সব স্তরে প্রার্থী দেব। হয়তো আমরা সব জায়গায় জিতব না; কিছু জায়গায় ফল ভালো হবে, আবার কিছু জায়গায় হবে না। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে আমরা জেতার জন্যই লড়ব। আর এর জন্য ১১ দলীয় জোটে কোনো সমস্যা হবে না।

  • ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা এবং নিজেকে শিক্ষক মনে করার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন—এমন দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই।’

    বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আজ নতুন করে এসব শব্দ উচ্চারণ করেননি; বরং সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে আসছেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

  • প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোট, নভেম্বরে তফসিল

    প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোট, নভেম্বরে তফসিল

    স্থানীয় নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

    বৃহস্পতিবারে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    সিইসি বলেন, সবাইর আগে হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়নে ভোট হবে।

    তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বরে ভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বরে তফসিল এবং ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ। আগামী সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইসির সভা হবে আর্থিক বিষয় নিয়ে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এ এম নাসির উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    এ সময় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    তবে রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’

    মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।

    নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।

    উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।

    উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায়। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

  • দলের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

    দলের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।

    সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

    চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে রুহুল কবির রিজভী সুস্পষ্টভাবে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত হয় এবং তদন্তে যদি সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে সমতার পরিচয় দিয়েছে এবং অঙ্গীকার রক্ষার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার অত্যন্ত সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।

    সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়নে বিরোধী দলের আনা ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের একটি ঢালাও মন্তব্য।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের কাজের ডাটা প্রসেস করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিচ্ছে।

    এছাড়া বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল কবে হবে-সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, কাউন্সিলের বিষয়টি নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে। তবে দিন, তারিখ ও মাস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ সময় সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান রিজভী। সামগ্রিক পরিস্থিতি খারাপ না হলেও এখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আসন্ন ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথসভা আহ্বান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় করণীয় নির্ধারণের জন্যই মূলত এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • মোদির নামে মাছের বাজার: বিতর্ক তুঙ্গে

    মোদির নামে মাছের বাজার: বিতর্ক তুঙ্গে

    ভারতের গুজরাটের সুরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি পাইকারি মাছের বাজারের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাজারটির নাম ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ রাখার প্রস্তাবে মৎস্য ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আপত্তি জানালে উদ্বোধনের পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও নামসংবলিত ব্যানার সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

    সোমবার সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাজারটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ লেখা ব্যানার টানানো হয় এবং তাতে নরেন্দ্র মোদির ছবি ছিল। তবে সংগঠনের একাংশের বিরোধিতার পর মঙ্গলবার ব্যানারটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

    সুরাটের এই বাজারটি শহরের প্রথম পৌর করপোরেশন পরিচালিত পাইকারি মাছের বাজার। এতে ৮০টি মাছ বিক্রির দোকান বা আউটলেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

    বাজারটির নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র ও গুজরাট সরকার বাজারটির জন্য ৩ কোটি রুপি করে এবং সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন দেড় কোটি রুপি দিয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাজারের নামকরণ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়। বাজারে একটি প্লটের মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র লাশকারি নামকরণের বিরোধিতা করেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিরামিষভোজী হওয়ায় তার নামে মাছের বাজারের নামকরণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও পরিচয়ের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে নামটি সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানান।

    তবে সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালপেশ নাভসারিওয়ালা নামকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অর্থায়নে বাজারটি নির্মিত হয়েছে এবং ‘ব্লু রেভল্যুশন’ বা নীল বিপ্লবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের মৎস্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাই তার নামে বাজারটির নামকরণ করা গর্বের বিষয়। নাম প্রস্তাবের আগে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

    ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ ভারতের মৎস্য খাতের টেকসই ও দায়িত্বশীল উন্নয়নের মাধ্যমে ‘ব্লু রেভল্যুশন’ ঘটানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এর আওতায় আধুনিক পাইকারি মাছের বাজার, সুপারমার্কেট, খুচরা মাছের বাজার, মোবাইল ও জীবন্ত মাছের বাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে পাঁচ বছরে এ প্রকল্পে আনুমানিক ২০ হাজার ৫০ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

    এদিকে, বাজারটির নাম চূড়ান্ত করার ক্ষমতা এখনো পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজেশ গাঞ্জাওয়ালা জানান, উদ্বোধনের কয়েক দিন আগে ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাজারটির নাম প্রধানমন্ত্রী মোদির নামে রাখার প্রস্তাব পৌর করপোরেশনের কাছে পাঠায়। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সাংস্কৃতিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    পৌর করপোরেশনের সাংস্কৃতিক কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া একাধিক কমিটির একটি। তাদের সিদ্ধান্ত প্রথমে স্থায়ী কমিটির অনুমোদন পেতে হয়। এরপর তা পৌর করপোরেশনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সাধারণ বোর্ডে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া রয়েছে।

    ফলে উদ্বোধনের পর বাজারটির নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আপাতত প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকা ব্যানারটি ঢেকে রাখাই হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআনের সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সাইফুল কবির।

    আয়াতের অর্থ: হে নবী যারা তোমার হাতে বাইয়াত করছিলো প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করছিলো। তাদের হাতের ওপর ছিল আল্লাহর হাত। যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার অশুভ পরিণাম তার নিজের ওপরেই বর্তাবে। আর যে আল্লাহর সাথে কৃত এ প্রতিশ্রুতি পালন করবে, আল্লাহ অচিরেই তাকে বড় পুরস্কার দান করবেন।

    রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন শপথ নিয়েছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

  • শিগগিরই জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ

    শিগগিরই জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা এরইমধ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

    সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ তথ্য দেন।

    মতবিনিময় শেষে আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন এবং জানান যে তারা ইতোমধ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। বর্তমানে প্রশিক্ষণ চলছে।’

    আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের সব বিষয়ে কথা বলার একটি সাধারণ অভ্যাস থাকলেও শ্যাডো ক্যাবিনেট থাকলে নির্দিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিরা কথা বলবেন। এটি একদিকে যেমন সরকারের ওপর সার্বক্ষণিক গঠনমূলক চাপ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে বিরোধী দলের জন্য ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার ভালো একটি প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ করবে।’তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। সম্পাদকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গণমাধ্যম কোনো দলের দিকে হেলে পড়বে না, বরং তারা পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।’

  • ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বার্তা

    ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বার্তা

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলন ভারত সরকারের মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না এমন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়া, শেখ হাসিনাকে সেখানে আশ্রয় না দেওয়া, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকারের শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে দলটির পলিসি ও রিসার্চ–বিষয়ক উপকমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশইন না হয় এবং সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ হয়—এসব শর্তের ভিত্তিতেই ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।

    তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে শেখ হাসিনা যেখানে অবস্থান করছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসীই বা একে কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটি শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি অবমাননাকর ঘটনা হবে। এতে এই বার্তাই যাবে যে, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।’সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা’ শীর্ষক একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। এতে বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস–সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ–সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন–পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি এবং নতুন মোড়কে র‍্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় ও সেগুলোর বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

  • প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ওয়াদার শফিকুল আলম, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, মানবকণ্ঠের শহিদুল ইসলাম, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, এদিন নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, ভোরের ডাকের কে, এম, বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, দেশ রূপান্তরের সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, করতোয়ার মোজাম্মেল হক, জনতার ওবায়দুর রহমান শাহীন, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজের আহসান হাবীব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, গ্রিন ওয়াচের মোস্তফা কামাল মজুমদার, দ্যা ইভিনিং নিউজের এ বি এম সেলিম আহমেদ, ডেইলি সানের আল আমিন, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাজ্জাদুর রহমান, সংগ্রামের শামসুল আরেফীন, সোনার বাংলার ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

    মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আমন্ত্রণে সিনিয়র সম্পাদকরা এখানে এসেছিলেন। এ সময় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সংসদে ও বাইরে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে সে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আমরা ভালো কজে সরকারকে সহযোগিতা করব, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব—এই পলিসির ওপরই জামায়াত আছে। এই বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সম্পাদকদের অবহিত করেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। এই বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক। বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক—এগুলো নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সম্পাদকদের প্রশ্নোত্তর এবং মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াত আমির জানিয়েছেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের পলিসির বিষয়টি রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সেটিই আমাদের পলিসি।

    তিনি জানান, সম্পাদকদের পক্ষ থেকে জামায়াতের পার্লমেন্টের পলিসি তারা এপ্রিশিয়েট করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এই প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, দলের নেতা ও পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে খোলামেলা মতবিনিময়ে মিলিত হয়েছেন বলে সম্পাদকরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন যে, এরকম সুযোগ পেলে তারা মাঝে মাঝে তাদের মতামত জানাবেন । এছাড়া, সংসদে বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধীদলের এমপিদের মধ্যে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দে, বিলিবণ্টনে, এমনকি পার্লামেন্টের ফ্লোরে কথা বলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়ার তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে । বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের রায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং স্পিকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইনসাফপূর্ণ আচরণ না পেয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে ।

    জামায়াত আমির গণতন্ত্র উত্তরণে দায়িত্ব পালনে বিরোধীদলকে সহযোগিতা করার জন্য সম্পাদকদের সাহায্য কামনা করেছেন। একইসঙ্গে যাতে লেখনির মধ্য দিয়ে জাতির কাছে সম্পাদকরা সত্য তুলে ধরেন সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এসময় সম্পাদকরা অতীতের বিরোধীদলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ইতিহাস স্মরণ করে জামায়াতের ব্যতিক্রমী ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশকে স্থিতিশীল রেখে বিরোধিতার জায়গায় গঠনমূলক বিরোধিতা করা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করা—এটা তারা প্রথম দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত সংসদকে কার্যকর রাখতে একটি ‘কনস্ট্রাক্টিভ এবং রেসপন্সিবল’ অপজিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে; শুধু বিরোধীদল একা দায়িত্বশীল হতে পারে না, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।

    সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন, আপনারা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন। জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথেও ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আগের বিরোধীদলের মত অসহিষ্ণু ও সহিংসতার পথে গিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। এ ব্যাপারে কয়েকজন সম্পাদক জামায়াত আমিরের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য তথা জামায়াতে ইসলামী তিল পরিমাণ ছাড় দেবে না। জনগণের রায়ের সঙ্গে আমরা আছি। পার্লামেন্টে যদি নিষ্পত্তি হয় আলহামদুলিল্লাহ, না হলে ৭০ ভাগ জনগণ যেখানে আছে আমরা সেখানেই চলে যাব। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ তারিখ সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লং মার্চের বিশাল গাড়িবহর যাত্রা করবে এবং সারাদেশে এই লং মার্চ সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রধান ইস্যু হচ্ছে এখন গণভোটের রায়, এর চেয়ে বড় পলিটিক্যাল ইস্যু আর হতে পারে না । যিনি এটার কোনো ভিত্তি নেই বলেন, তিনি হয়তো সরকারের চাটুকারকে খুশি করার জন্য তা বলেছেন। সম্পাদকরা জামায়াতের এই ধরনের আন্দোলনকে প্রশংসিত করেছেন যা রাজপথে এবং পার্লামেন্ট উভয় জায়গাতেই করা সম্ভব।

    মতবিনিময় শেষে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিরোধীদলীয় নেতা মিডিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। সেই সঙ্গে তারা কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের মনোকষ্টের কথা জানিয়েছেন। যেমন তারা জ্বালানি সংকট নিয়ে একটা বিশেষ অধিবেশন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সাড়া পাননি। তারপরেও তারা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং পার্লামেন্টের সকল কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা করতে চান। এজন্য সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তাদের ভুল হলে যেন আমরা ধরিয়ে দিই এবং পরামর্শ দিই। তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়মতি বসতে চান। আজকে তো সবাই মিলে বসা হয়েছে, এরপরে হয়তো আরো সিনিয়র সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন।

    তিনি বলেন, আমরা সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলেছি যে, জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে, মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরে এসছে। আমরা বলেছি যে, আমাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না, আমরা প্রথমসারির মিডিয়াগুলো প্রফেশনালি দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।

    মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, বিরোধীদলের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা হলো—সবাই সব বিষয়ে কথা না বলে একটা জায়গা থাকলে ভাল হয়। এজন্য আমি ছায়া ক্যাবিনেট করার কথা বলেছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন, তারা এটা করেছেন, সেটার প্রশিক্ষণ চলছে।

    তিনি বলেন, আমি বলেছি, আগে দেখা গেছে, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে। আশাকরি বর্তমান সরকার তা হবে না। কিন্তু সরকার যদি আগের মতো কোন মিডিয়ার প্রতি ফ্যাসিবাদী আচরণ করে, তাহলে বিরোধীদল যেন তার প্রতিবাদ করে।

    প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমরা ভারতের কাছ থেকে প্রতিবেশিসূলভ আচরণ প্রত্যাশা করি। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিতে চাই না, নিতেও চাই না। এসময় বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেছেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মতবিনিময়ের জন্য সম্পাদকদের দাওয়াত দেওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকে আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার আমার আসার সুযোগ হলো। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ । ১৯৯৬ সালের পর এবার বৃহত্তম বিরোধীদল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম সবসময় প্রফেশনাল ও বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করে। জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ এসেছে। তবে সব সরকারই বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    মিডিয়ার ওপর ফ্যাসিবাদের সর্বপ্রথম আক্রমণ হিসেবে আমার দেশ বন্ধ ও আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিরোধীদলকে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান জানান।

    এ সময় প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি যে, ফ্যাসিবাদ এবং বিরোধীদলের নামে নৈরাজ্য অতিক্রম করে এসেছি। তাই গণতন্ত্রকে টেকসই করতে ফ্যাসিবাদ ও বিরোধীদলের নৈরাজ্য যেন আর ফিরে না আসতে পারে।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৩০ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি এবং সফর শেষে ৩১ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গভবনের প্রটোকল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন এবং যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

    নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফরগুলোর একটি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সফর হতে যাচ্ছে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ সোমবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া বিচার বিভাগের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

    গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবনে ওঠেন রাষ্ট্রপতি।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিল পরিমাণ ছাড় নয়: জামায়াত

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিল পরিমাণ ছাড় নয়: জামায়াত

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-তে পড়েছে। এই রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াত কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। এই মুহূর্তে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে বড় কোনো ইস্যু নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ ব্যর্থ হলে জামায়াত জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।

    সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ছয় মাসের সংসদীয় পথচলায় এই প্রথম দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে দলটির অনড় অবস্থান এই মতবিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে চায়। সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে লক্ষ্য করা গেছে, দলটি প্রথাগত সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনীতির বিপরীতে ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় মনোনিবেশ করছে।

    সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার জামায়াতের ‘গঠনমূলক রাজনীতি’ র বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিরোধী দল মানেই কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের মূল নীতি হলো— সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী ও মন্দ কাজের গঠনমূলক প্রতিবাদ করা। অতীতে দেশের বিরোধী রাজনীতির যে নেতিবাচক ও ব্যর্থ প্রথা ছিল, তা ভেঙে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র উত্তরণে জামায়াত বদ্ধপরিকর। এই কৌশলগত অবস্থান দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    মতবিনিময় সভায় সম্পাদকদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের কার্যকর মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য। এদিনের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সভায় জামায়াতের আমিরের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও স্বনামধন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিরোধী দলকে ‘ভালো কাজে সমর্থন ও মন্দের প্রতিবাদ’ এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখে সম্পাদকরা এটিকে রাজনীতির এক ইতিবাচক বিবর্তন হিসেবে সভায় অভিহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, উপস্থিত সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি প্রয়োজন হলেও তা যেন কোনোভাবেই পূর্বের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না যায়। তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াতকে শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় অটল থাকার আহ্বান জানান। দীর্ঘ ছয় মাস পর সম্পাদকদের সাথে এমন আনুষ্ঠানিক ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানান এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন জামায়াতে ইসলামীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।

    অতীতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের অভাব এবং জনগণের কন্ঠস্বর রোধ হওয়া একটি গভীর জাতীয় সংকট। সেই জায়গায় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর তথা ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ এবং বিলি-বণ্টনে বিরোধী দলীয় সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট ফ্লোরে কথা বলার সুযোগ সীমিত করা, আইন প্রণয়ন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ট্রেজারি বেঞ্চের আচরণ ‘ইনসাফপূর্ণ’ নয় বলে সভায় সম্পাদকদের অবগত করেছে জামায়াত।

    এ ছাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁতে ভোট দিয়ে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। আইনমন্ত্রী গণভোটের ৪টি বিষয়ের মধ্যে সাড়ে ৩টিতে একমত হলেও বাকি অর্ধেক ইস্যুতে অমত পোষণ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত স্পষ্ট করেছে যে, জনগণের এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে তারা ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেবে না। এসব সংকট সমাধানে এবং জনগণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে জামায়াত সম্পাদকদের কলম ও লেখনীর মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করেছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, সম্পাদকদের একাংশের অনুপস্থিতির মধ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে আমাদের দূরত্বের কোনো বিষয় নেই। অনেক সম্পাদক এসেছেন, যারা আসতে পারেননি, তারা টেলিফোনে কারণ জানিয়েছেন। এই মতবিনিময়ই সুসম্পর্কের প্রমাণ।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আপনাদের লং মার্চ, সভা, সমাবেশসহ আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই। এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এ কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষমতা নেই। তারা কেবল সরকারকে খুশি করতে ‘চাটুকারিতা’ করছেন। বর্তমানে ‘গণভোটের রায়’ দেশের প্রধান ইস্যু।

    জনমত গঠন ও রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৫ তারিখ সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এক বিশাল লং মার্চ ও গাড়িবহর যাত্রা করবে।

    কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির রুট বরাবর সাধারণ মানুষকে এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করতে জামায়াত গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের দৃঢ় সহযোগিতা কামনা করেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।

    এর আগে, সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ছাড়াও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। সভায় আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রূপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের মধ্যে হয়তো দুই-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন, তাদেরকে বলবো, ৫ই আগস্টের পর থেকে দেখেছেন- যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ছিলেন- আমাদের চেয়ারম্যান কত শক্ত হাতে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুতরাং কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। যাতে নেতাকর্মীরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই চেষ্টাই আপনারা করবেন।

    তিনি বলেন, আমাদের যে কর্তব্য হবে, সেটি দলকে সুশৃঙ্খল এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যান নির্দেশিত যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান আছে, সেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুসম্পন্ন করা যায়, সংগঠিত করা যায় এবং সুন্দরভাবে এই প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন করা যায়, সেই দিকেই আমি নিয়ে যেতে চেষ্টা করব, নিয়ে যাবো।

    রিজভী বলেন, আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিচালকের আসনে বসেছে। সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তার যে ঘোষিত কর্মসূচি—প্রত্যেকটি কর্মসূচি জনগণের স্বার্থে, মানব কল্যাণে এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামোগত যে উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই পদক্ষেপ যাতে সুচারুভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়টি এবং জনকল্যাণে তার একটার পর একটা যে পদক্ষেপ, সেই পদক্ষেপগুলো জনগণকে অবহিত করবেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।

    তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মী যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে কেউ যদি অনৈতিক চিন্তা করে, তারা তা করতে পারবে না। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড, সরকারের প্রত্যেকটি কর্মসূচি যেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন।

    জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আজকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় কেন? কারণ এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারা যে জনকল্যাণে কাজ করেছেন, তারা নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য যে কাজগুলো করেছেন, সেই কাজগুলোই আজকে জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। এখন তাদের সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিক কাজ এবং তার নতুন এমন কিছু কর্মসূচি, যেটি জনগণের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করছেন।

    আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সেই বাস্তবায়নকে সহযোগিতা করব, জনগণের কাছে তুলে ধরব এবং এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে দলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, ইউনিয়ন, উপজেলার বা জেলার নেতারা-তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকে সমর্থন দেবেন। কারণ দলীয় প্রতীকে এখন তো নির্বাচন হবে না। একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবে।

    রিজভী বলেন, আজকে এত অপপ্রচার, চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারপরেও জরিপে দেখা গেছে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। প্রায় ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশ। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি ৬৫-৬৬ শতাংশ। সুতরাং জনগণের পক্ষে এবং স্বার্থে কাজ করলে, সেই সরকার কোনোদিনই ব্যর্থ হবে না, সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

    এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিএনপিসহ এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনে নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক

    সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক

    প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করবে এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ জানাবে। তবে সেই বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, অতীতের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না গিয়ে সংসদকে কার্যকর রাখা এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় জামায়াত।

    সোমবার বেলা ১২টায় প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে দেশের প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি সংকট, সংসদে জামায়াত ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের ভূমিকা এবং বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সংসদে জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে নীতি, তা আমাদের আমীর সংসদের ভেতরে-বাইরে বলে আসছেন। আমরা একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। প্রচলিত প্রথাগত বিরোধী দলের রাজনীতিতে যে খারাপ ঐতিহ্য ছিল, তা ভেঙে দেশের স্থিতিশীলতা, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের উত্তরণে ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করব। আর সব মন্দ ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ করব।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই নীতি সম্পাদকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সম্পাদকদের মধ্য থেকেও জামায়াতের এই পার্লামেন্টারি পলিসিকে প্রশংসা করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, গঠনমূলকভাবে দেশকে স্থিতিশীল রেখে সরকারকে বিরোধিতার জায়গায় বিরোধিতা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করে একটি বিরোধী দল যে বৃহৎ ভূমিকা পালন করতে পারে, এটি আমরা প্রথম দেখতে পাচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমাদের আমীর সম্পাদকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সব অন্যায়, গণবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা সবসময় প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। তবে আমাদের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সম্পাদকদের সঙ্গে আমিরে জামায়াতের প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াতের বিভিন্ন নীতি ও অবস্থান, যা আমীর বিভিন্ন সময়ে জনসভা ও সংসদে তুলে ধরেছেন এবং গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বলেছেন, সেগুলোও আলোচনায় এসেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন—আপনারা বিরোধিতা করবেন গঠনমূলকভাবে, আলোচনা করবেন এবং জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজন হলে রাজপথেও থাকবেন। তবে আগের বিরোধী দলের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস কোনো পথে গিয়ে দেশকে আর অস্থিতিশীল করবেন না।

    তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের নেতা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা প্রথমবারের মতো জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ও খোলামেলাভাবে মতবিনিময় করেছেন। সম্পাদকরা এতে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন, এ ধরনের সুযোগ পেলে মাঝে মাঝে তারা নিজেদের মতামত দিতে পারবেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্য, উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ও বণ্টন, সংসদের ফ্লোরে কথা বলার সুযোগ, আইন প্রণয়ন ও বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য, প্রবাসীদের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াত সংসদে কী ভূমিকা পালন করেছে, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমীর।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংসদে স্পিকার অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা অনেক ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ আচরণ পাইনি। বরং বিভিন্ন জায়গায় আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিক ও সম্পাদকরা তাদের লেখনী ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে জাতির কাছে সত্য তথ্য তুলে ধরেন। গণতন্ত্রের উত্তরণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের আমীর সম্পাদকদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে অতীতে বিরোধী দল কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল ও সংসদকে অকার্যকর করেছে, সম্মানিত সম্পাদকরা সেই ইতিহাস স্মরণ করেছেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান যে ব্যতিক্রম, সেটিও তারা প্রশংসা করেছেন। আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। তবে একটি কনস্ট্রাক্টিভ ও রেসপন্সিবল অপজিশন হিসেবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে চাই।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরাও বলেছি, সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু বিরোধী দল একা সব দায়িত্ব নিয়ে দায়িত্বশীল হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য। এসব বিষয় নিয়েই আজকের মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয়েছে।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রুপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, মানবকন্ঠের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার।

  • তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং পরিকল্পনাহীনতা থেকেই সরকার ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতেই ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।’

    সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। একটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবারহ। আমরা দেখতে পারলাম, এই ছয় মাসে যে তিনটি বিষয়কে যারা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    সরকার ক্ষমতায় বসে পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই দেশ পরিচালনা করছে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অপরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থা করার কারণে আপনারা দেখছেন, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন করা লাগছে এবং সরকার বলেছিল তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যান রয়েছে। এখন সরকার দুই দিনের কাছে প্ল্যান চাচ্ছে মন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে প্রতিমন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে। আমরা জানিনা কখন পরিবর্তন করতে করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু তিন মাসের সময় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। ক্ষমা প্রার্থনা করা যে, গ্যাসের সংকটে সারাদেশে মানুষ ভুগছে সে প্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা যে তারা বলেছিল যে যে কনফিডেন্স আত্মবিশ্বাস তারা দেখেছিল যে তারা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আনবে এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ করবে। কোন কিছু কিন্তু তারা পারেনি।’

    সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস অতিবাহিত হলে কিন্তু এই সরকার আর বলতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়। এটা কিন্তু জনগণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    তিনি বলেন, সরকার যদি সংকটগুলা সুরাহা না করে পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তারা পড়বে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও ছয় মাস অতিবাহিত হলে এই সরকার আর বলতে পারবে না যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা আগের সরকারের দায়। জনগণের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার, ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

  • মেয়েদের উপবৃত্তি ফের চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ

    মেয়েদের উপবৃত্তি ফের চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাইয়ে দুটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে সরকারপ্রধানকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়।

    ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে।
    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    পাশাপাশি, ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদেরও উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মান নিয়ে আপস করা যাবে না।

    মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাইয়ের লক্ষ্যে পৃথক দুটি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি। তিনি একইসঙ্গে প্রেম, মানবতা, ধর্ম ও দ্রোহের কবি। নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তারেক রহমান।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

    নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।

    তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। আমাদের যে নজরুলকে আমরা পেয়েছি, তাকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

    চিফ হুইপ বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তিনি মানুষের কথা বলেছেন, নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। তাই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।

    তিনি বলেন, নজরুল শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন; তিনি সকল মানুষের কবি। তার লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    চিফ হুইপ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তার অবদান স্মরণীয়। আজকের বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। আলোচনা সভায় সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও ভালো করতে চাই স্থানীয় নির্বাচন: সিইসি

    জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও ভালো করতে চাই স্থানীয় নির্বাচন: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তার চেয়ে ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। ”
    সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সিইসি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কিছুটা বেশি হয়—এ বিষয়টি মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয়ভাবে মোতায়েন করা হবে। ”
    সিইসি বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে কমিশনের অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই।

    জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করা হয়েছে, তার চেয়ে ভালো নির্বাচন করার চেষ্টা করা হবে। আমরা আবার কমিটমেন্টে অটল। এখানে আমাদের কমিটমেন্টের কোনো ঘাটতি নেই। আমরা ঠিক জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, তার চাইতে বেটার করার চেষ্টা করব, খারাপ হবে না।আমরাই সেট করেছি, এর নিচে তো আমরা যেতে পারি না। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড তো থাকবেই, যদি পারি তার চাইতেও বেটার (ভালো) করব। ”

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই বলা সম্ভব নয় জানিয়ে সিইসি বলেন, “নির্বাচনের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আইন ও বিধি-বিধান সংশোধনের কাজ চলছে।

    তিনি বলেন, “কমিশনের পক্ষ থেকে আইন ও বিধি-বিধানের সংশোধনী প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকিউরমেন্টসহ অন্যান্য আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে। ”

    সিইসি বলেন, “সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচন পরিচালনায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন হওয়ায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটু ভায়োলেন্স বেশি হয়, এটা আপনারা এবং আমরা সবাই জানি। সেই দিকটা আমাদের মাথায় আছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবে মোবিলাইজ করার চেষ্টা করব। ”

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কেও আলোচনা শুরু করেছে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময় পুলিশ কী পরিমাণ সদস্য দিতে পারবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় মাঠ পর্যবেক্ষণে ব্যবহারের জন্য চাওয়া হয়েছে। ”

    নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে বলে জানান সিইসি। দুর্গাপূজা, বর্ষাকাল, বন্যার সম্ভাবনা এবং বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হবে।

    তিনি বলেন, “নির্বাচনে স্কুলের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচিও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ”

    তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেন সিইসি।

    ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কমিশন কাজ করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। ”

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পছন্দ করেন কেন?

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পছন্দ করেন কেন?

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সরকারি বাসভবন থেকেই বেশি কাজ করছেন। কাজের সময় ও দক্ষতা বাড়াতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের সরকারি বাসভবনকে নিয়মিত কর্মস্থল হিসেবেও ব্যবহার করছেন।

    তাকাইচি গত ডিসেম্বরে সরকারি বাসভবনে ওঠেন। ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ভবনটি একসময় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে যাতায়াতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারেন বলে জানান তাকাইচি।

    তিনি জানান, সরকারি বাসভবনে অফিসের বিভিন্ন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি ও অনলাইনে বৈঠক করা যায়। অফিস সময়ের পরও প্রয়োজন হলে তিনি সেখান থেকেই কাজ করেন। বিভিন্ন নথিও বাসায় নিয়ে পড়েন। তার ভাষায়, সরকারি বাসভবনও তার কাছে একটি কর্মস্থল।

    তবে দীর্ঘ সময় কাজ করার এই অভ্যাস নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। তাকাইচি সম্প্রতি জানিয়েছেন, কাজের চাপ ও ঘরের দায়িত্ব সামলাতে কোনো কোনো রাতে তিনি মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমান। এ নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এমন কর্মপদ্ধতি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে ভুল বার্তা দিতে পারে।

    এদিকে তাকাইচির জনপ্রিয়তাও কমেছে। পুরুষ উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে রাজপরিবার-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় তার সরকারের সমালোচনা হচ্ছে।

    রাতে ও ছুটির দিনে তাকাইচি সরকারি বাসভবনেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। ফলে আগের প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ কমেছে। তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ নিজের বক্তব্য ও নীতির কথা বেশি তুলে ধরছেন।

    সরকারি বাসভবনটি জাপানের ইতিহাসেও আলোচিত। ১৯৩০-এর দশকে সেখানে দুটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল। ভবনটি নিয়ে ভূতের গল্পও প্রচলিত রয়েছে। তবে তাকাইচি জানিয়েছেন, ভূত দেখেননি; বরং সেখানে তেলাপোকার মুখোমুখি হয়েই বেশি ভয় পেয়েছেন।

  • স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না।’ তার মতে, এটা নির্ভর করবে—দুর্গাপূজা, বন্যা, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ওপর।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা ঠিক যে নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) করেছি, যেভাবে করেছি, তার চেয়ে খারাপ হবে না। বরং আমরা তার চেয়ে আরও ভালো করতে চাইব। ওই নির্বাচনে যে স্ট্যান্ডার্ড আমরা সেট করেছি, তার নিচে তো আমরা যেতে পারি না। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড থাকবেই। যদি পারি, তার চেয়েও আরও ভালো করবো। আশা করি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা পারবো। কোনও অসুবিধা হবে না।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে না, আমরাই নেব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করবো। এটা এমন নয় যে সরকার একটি তারিখ দেবে আর আমরা তা ঘোষণা করে দেব। আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতি চলমান আছে।’

    এ সময় অনুষ্ঠানে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনের এই মতবিনিময় শুরু হয়।এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ওয়াদার শফিকুল আলম,খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডেইলি ইভিনিং নিউজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, দৈনিক এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন।এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি 

    এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি 

    বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদ মর্যাদার ২ কর্মকর্তাকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ নুর-এ আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তিনি এ সই করেন।

    বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদেরকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হলো।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহ নগরে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ওই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

    শুক্রবার নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসকের নাম আশিকুর রহমান। এ ঘটনায় শনিবার সদ্য বহিষ্কৃত মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিব নামের তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিকুর রহমান।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তার চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। তার স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

    আশিকুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তাকে, তার কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

    শনিবার মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তালহাজুর চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন।

    সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে আশিকুর রহমান চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি (আশিকুর) সেগুলো করছেন—এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    রংপুরের একটি বাসা থেকে স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারকে শ্বাসরোধে হত্যার মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে বলেও আখ্যায়িত করেন।

    পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘গতরাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন—জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

    গোটা পরিবারকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক।

    সম্প্রতি দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে তার ওপর হামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছেও অনুরূপভাবে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়েছে।

    আর সর্বশেষ রংপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

    দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, এই তিনটি ঘটনাসহ অসংখ্য ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণ এর সুরাহা চায়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে রংপুরের এ ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আদালতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণকে দারুণভাবে হতাশ করছে। এই হতাশা থেকে জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

    তাই সরকারের ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে তার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বাধ্য করা দরকার।

    আসুন, সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অপরাধের হাত থেকে আমাদের দেশের প্রিয় জনগণকে রক্ষা করি।
    আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে এসব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।’

  • সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ

    সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ

    দেশজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ পরিদর্শনে দেয়া অনুশাসনের অগ্রগতি সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে দেওয়া অনুশাসনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত ১৬ আগস্ট (রোববার) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন চালু ও সচল রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিও চালু করতে হবে।

    নির্দেশনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বিল দিতে বলা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেতন বিল দেওয়া করা যাবে না। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ই-হাজিরা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

  • সংকটের মধ্যেও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার: রিজভী

    সংকটের মধ্যেও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার: রিজভী

    দেশের নানা সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    রোববার (২৩ আগষ্ট) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, বর্তমান সংকটের বড় একটি কারণ প্রাকৃতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

    এর প্রভাব পড়েছে দেশের গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলকারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মহেশখালীতে ভাসমান যে টার্মিনালে যে ত্রুটি হয়েছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে ঠিক হয়ে গেছে এবং এলএনজি ভর্তি কার্গো ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ চলছে।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের যে চাপ কমে গিয়েছিল সেই চাপ আবার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লোডশেডিং অনেকটা কমে গেছে।

    রিজভী আরও বলেন, সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের সামাজিক সুরক্ষা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের মাধ্যমেও সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

  • ২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

    ২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া। ২০২৪ সালের আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ রয়েছেন যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায়।

    রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে।

    এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল। ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

    জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি।

    এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

    জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

    তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • বঙ্গভবনে সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি

    বঙ্গভবনে সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি

    সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে অশ্বারোহী দলের এসকর্টে রাষ্ট্রপতির গাড়ি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে পৌঁছায়।

    সেখানে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল। এরপর বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।

    আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে নিজ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।

    এর আগে শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী হিসেবে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস করতেন।

  • কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণেরও বিকল্প নেই।রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘অ্যা ন্যাশনাল ডায়ালগ অন টিভিইটি ফর অ্যা স্কিল্ড অ্যান্ড প্রোডাক্টিভ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদেরকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি।

    এসময় তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদেরকে যদি আমরা দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করতে যাচ্ছি। এছাড়াও, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আমরা একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আলাদা একটা প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

  • সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন।

    এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

    রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

    দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

    প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময়, তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

    এছাড়া তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসি’র ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানকে বাধা প্রদান ও চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ অবলোকন করেন।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

    এসময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টার এর উড্ডয়ন অবলোকন করেন।

    নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

    এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

    গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু

    বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মত বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতি আজ রবিবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটক-২ এ বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর একটি সু-সজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

    বঙ্গভবনে অফিস শুরুর প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি তার অফিস কক্ষে অবস্থান করে দাপ্তরিক নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। বাসস

  • জ্বালানিসংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, প্রাকৃতিক: রিজভী

    জ্বালানিসংকটের জন্য সরকার দায়ী নয়, প্রাকৃতিক: রিজভী

    বিরাজমান জ্বালানিসংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে সংকট (জ্বালানিসংকট) তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকার বা কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। এটি একধরনের প্রাকৃতিক সংকট। যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে।

    আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে নিয়ে সমাধি প্রাঙ্গণে যান রিজভী।

    জ্বালানিসংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এ ছাড়া মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে বিগত কয়েক দিন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসাবাড়ির রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

    জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, ‘মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। এলএনজির কার্গোও এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আবার বেড়েছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এই সমস্যা দ্রুত নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না, দেশবাসী তা দেখেছে। তবে এর মধ্যেও অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সরকার এসব চক্রান্ত শনাক্ত করে তা প্রতিহত করেছে এবং একই সঙ্গে জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

    বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে মনোনিবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

    রিজভী বলেন, অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সরকার তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা বাস্তবায়নে নিরন্তর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান।

    বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি থাকবে। এই জবাবদিহি সংসদে হতে পারে, দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও হতে পারে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও হতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। অতীতে, বিশেষ করে, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’, মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সরকার এখন প্রকৃত উন্নয়ন করছে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তাঁর কাছে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে—এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ ও দৃঢ় করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে—এমন ত্রুটিবিচ্যুতি কীভাবে দূর করা যায়, তা দেখভাল করা।’

    রিজভী বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে দলের সহকর্মীরা সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং যথাসময়ে কমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, কেউ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি পুরোপুরি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। বরং, তাঁর ‘ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি’ হবে এবং তাঁকে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে উচ্চতর পদ ও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    সাংবিধানিক নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

    রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর প্রধান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

    এ সময়ে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্যান্টনমেন্টের দল বলা হয়, অথচ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছেন।

    তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে রকম নির্বাচন এ গণতান্ত্রিক সরকার করবে না।

    দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেবে না। যারা করবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আইনিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

  • কোটচাঁদপুরে ভাইপোর হাতে চাচা নিহত

    কোটচাঁদপুরে ভাইপোর হাতে চাচা নিহত

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের দা-এর কোপে মো. তবিবর রহমান (৪৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
    রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তবিবর রহমান ওই গ্রামের নবী ছদ্দীন মণ্ডলের ছেলে।
    স্থানীয়রা জানান, সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তবিবর রহমান তার চাচি হাসিনা বেগমকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসিনা বেগমের স্বামী উজির মণ্ডল (৫৫) ও তার আত্মীয় শাকিল (৩২) তবিবর রহমানকে দা দিয়ে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
    খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
    অভিযুক্ত উজির মণ্ডল মল্লিকপুর গ্রামের মেরেজ মণ্ডলের ছেলে এবং শাকিল একই গ্রামের গফুর মণ্ডলের ছেলে।
    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

  • জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই। আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়ে এ সফরে যাবেন তিনি।’

    আজ শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলার রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি বিষয়।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। তবে ভারতসহ কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।’

    ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামীকালও যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তাহলে আগামী সপ্তাহে সফর হতে পারে। আবার পরের সপ্তাহেও হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’

  • গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আবেগঘন পরিবেশে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং সাংবাদিক ফারুক আহমেদ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও জনবান্ধব আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে তিনি গাংনী ছাড়লেও তাঁর কর্মময় সময়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

    বক্তারা তাঁর নতুন কর্মস্থলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ সময় গাংনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

  • ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে, বোনের অভিযোগ

    ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে, বোনের অভিযোগ

    পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে বারবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তার বোনকে জানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তার বোন উজমা খান এ দাবি করেন। এর এক দিন আগে চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

    ইমরান খানের মেডিকেল টেস্টের সময় তার বোন উজমা খান ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, শারীরিকভাবে ইমরান খান সুস্থ আছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার কাছে কারাগারে বারবার নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

    উজমা খান সাংবাদিকদের বলেন, “ইমরান আমাকে বলেছেন, কারাগারে তাকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে।”

    তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    আদালতের নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক

    শুক্রবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়।

    পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

    এদিকে, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে শনিবার সরকারের বিরুদ্ধে অবমাননার আবেদন করেছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলের আইন উপদেষ্টা নাইম পাঞ্জুথা জানান, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের দাবি, আদালত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ইমরান খানকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

    সরকারের ব্যাখ্যা

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশে উল্লেখ করা বেসরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছিল।

    তিনি জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা করে। পরে তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ইমরানের আইনজীবীরা এর আগে দাবি করেছিলেন, কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, চিকিৎসা প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন এমন কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি।

    হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমর্থকদের জমায়েত

    ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে তার সমর্থকেরা জড়ো হন। ইমরানকে বহনকারী বলে ধারণা করা একটি গাড়ির দিকে তারা ফুল ছুড়ে দেন।

    পাকিস্তানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যমে ইমরান খানের নাম উল্লেখ করাও অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হতো।

    পিটিআই নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন করে বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

    খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, “গতকাল যা ঘটেছে, তার পর কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দ্বিগুণ হবে।” তিনি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিলের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

  • গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    শনিবার (২২ আগস্ট) গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং সাংবাদিক ফারুক আহমেদ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও জনবান্ধব আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে তিনি গাংনী ছাড়লেও তাঁর কর্মময় সময়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

    বক্তারা তাঁর নতুন কর্মস্থলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ সময় গাংনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শনিবার সকাল সোয়া ১০টার পর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

    এসময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

    শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন করেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

  • দ্বীপ জেলা ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
    আজ শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটটি বেছে নেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক ও তিনটি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। দ্রুত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হবে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



  • প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমানো এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ লাখের বেশি স্কুল ড্রেস তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউনিফর্মের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফ প্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের সুবিধার জন্য ফিতাবিহীন সাদা জুতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব স্কুল ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি উদ্যোগে স্কুল ড্রেস তৈরিতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল মিলও সহযোগিতা করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে ১ লাখ শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও এ উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ে কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ১৬ আগস্ট করা হয়। এরপর আবারও সময় পরিবর্তন করে চলতি মাসের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কমতে পারে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের পোশাক ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক অবস্থার পার্থক্যও কিছুটা কম দৃশ্যমান হবে। তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পোশাক বা ব্যাগের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি পর্যায়ে বড় পরিসরে পোশাক বিতরণে কাপড়ের মান, সঠিক মাপ, সময়মতো সরবরাহ এবং অনিয়মের মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)’-এর আওতায় স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তবে ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহে আলাদাভাবে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনোয়ারা ইসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো দাম ঠিক করিনি। প্রকল্প শুরু হলে বুঝতে পারব ড্রেসপ্রতি কত টাকা ব্যয় হয়।প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে।

    প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ১ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য কমন রুম, স্বাস্থ্য উপকরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্যও বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের জন্য নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বুধবার বিভাগীয় উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো এক জরুরি অফিস আদেশে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন নতুন চার সদস্য। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪ জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজে’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়া কারাবন্দী ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি। পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল।

    দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত।’

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পান নি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল – এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল।

    চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি। এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনু্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি। ।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, ‘এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায় নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুলের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন’।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই। কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন’।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী। মির্জা ফখরুলের বাবা আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারু। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দি

    য়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র। ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।