ইসলামী বিশ্ব

  • ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই।

    তিনি বলেন, এটা করতে পারছে কারণ, সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকেও আওয়াজ আসা উচিত। ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাহাড়ের সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করব। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে, সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি- এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

    এনসিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।

  • সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। জামায়াত একটা রাজনৈতিক দল। দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক এতে রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি কৃষ্ণ নন্দিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    আমার দেশ অনলাইনে ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    রোববার আমার দেশকে মুফতি উসামা বলেন, ‘আকিদা যার যার, দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না, আমরা মওদুদির আকিদা পোষণ করি। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়; বরং রাজনৈতিক। তারা এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করে।’

    তিনি বলেন, ‘কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।’

    মুফতি উসামা বলেন, ‘সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে?’

    উসামা আরো বলেন, ‘দেওবান্দিয়াত কোনো দলের নাম নয়। তাওহিদ, সুন্নাহ ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর নাম দেওবান্দিয়াত। আমি দেওবন্দি ছিলাম, আছি এবং চিরকাল থাকব ইনশাআল্লাহ। আমি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলাম। সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছি। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে। যার কারণে কেউ জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এই ঠিকাদারিও কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা কওমির নাম বেচে ঠিকাদার সেজে বিএনপিকে বাংলাদেশের কংগ্রেস ভেবে পদলেহন করে এবং এর মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের ধান্ধা করে, বর্তমান সচেতন তরুণ প্রজন্ম তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’

    আমার দেশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কওমি ঘরানার কয়েকজন সুপরিচিত আলেম এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শোনা যাচ্ছে, একই পথে হাঁটছেন বিভিন্ন কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।’

    ‘বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে স্বীকার করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আমাদের বৈঠকের এজেন্ডায় এটা ছিল না। কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের সাথে আমাদের আলেমদের জোট থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। এ জন্যই হেফাজতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কেননা অনেক আলেম এখনো জামায়াতে ইসলামীকে হকপন্থিদের ইসলামী দল মনে করেন না।’

    ‘তিনি আরো বলেন, কওমি তরুণদের একটা অংশ বিএনপির দিকেও ঝুঁকে পড়ছেন। সেই দলে যোগও দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই বিষয়ে অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।’

  • শুভেন্দু প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন

    শুভেন্দু প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন

    ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন। তারা শরণার্থী।’ এ আইনে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মুসলিমদের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কিত সিএএ-তে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুসহ ৬টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে মুসলিমদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে থাকা ‘আইনের চোখে সমতা’ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী।

    শনিবার পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।

    তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’

    এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।’

  • প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আব্দুল আজিজ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবক মথুরাপুর দর্গাতলা এলাকায় খিলাফত আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ভিজিএফ’র (দুঃস্থ ভাতা) কার্ডের আবেদন করা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মথুরাপুর কলেজপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পলাশের (২৮) সঙ্গে আকরামের ছেলে বিজয় ও তার বন্ধু আজিজের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই সূত্র ধরে দুই বন্ধু বিজয় ও আজিজ মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষ পলাশ সশস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    এ সময় পলাশ ছুরি দিয়ে আজিজের পেটে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া পথে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    দৌলতপুর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, অনলাইনে ভাতার কার্ড করা নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই কবরস্থানে জড়ো হন।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী মারা যান। পরে স্বামীর কবরের পাশে তার কবর খননের সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

    কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    এলাকাবাসী বলছেন, ঈমানের শক্তি যে এতটা প্রখর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মরহুম রমজান আলী। আল্লাহর এমন নজির আমাদের জন্য আসলে শিক্ষনীয়।

    উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

    তবে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • শিক্ষকের নাম ভুল করায় ‘৩০০ বার লিখিয়ে শাস্তি’

    শিক্ষকের নাম ভুল করায় ‘৩০০ বার লিখিয়ে শাস্তি’

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষকের নামের বানান ভুল করায় তাকে ৩০০ বার লিখে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করলে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাইদ অ্যাসাইনমেন্টে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনার নামের বানান ভুল করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ৩০০ বার ঐ শিক্ষকের নাম লিখে জমা দিতে বলা হয়।

    এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম সাইদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, “গত রাতটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। একটি শব্দের বানানে মাত্র একটি অক্ষর Morioum’-এর পরিবর্তে ‘ Morium’ লেখার কারণে আমাকে পুরো লেখাটি ৩০০ বার সংশোধন করতে হয়েছে।”পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ শাস্তির ধরনকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ শিক্ষার্থীর অসাবধানতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। এছাড়াও বিভাগটির বিরুদ্ধে এমন নানান আজগুবি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার অভিযোগও তুলছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা ।

    ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেদোয়ান সরকার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “কত কত অযাচিত অ্যাসাইনমেন্ট করেছি তার হিসাব নেই। ক্রিয়েটিভিটির নামে দেখে দেখে অ্যাসাইনমেন্ট করানোই যেন নিয়ম। শিক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের র্যাগিংয়ের মুখোমুখি হওয়া এই বিভাগে খুবই সাধারণ বিষয়।”অন্যদিকে, ইসরাত জাহান নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “তৃতীয় বর্ষে পড়ে একজন ফ্যাকাল্টি মেম্বারের নাম ভুল করেন, আবার তা নিয়ে পোস্টও করেন। ন্যূনতম বিবেচনাবোধ থাকা উচিত।”

    এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইচ্ছায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার ভার আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। পরিচালক নিয়োগের মাত্র দুই দিনের মাথায় বাধ্য হয়ে দুজনকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

    নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে কেডিএস গ্রুপ আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বেও ছিল। এই দুই ব্যাংকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ।

    এদিকে পর্ষদ পুনর্গঠনের পরপরই নিযুক্ত পরিচালকদের কয়েকজন নানা অনিয়মে আগে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি নবগঠিত পর্ষদের প্রথম সভাতেও এসব বিতর্কিত কর্মকর্তার কয়েকজনকে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

    জানতে চাইলে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ব্যাংকে ফিরে এসেছি। এখন আমার মূল দায়িত্ব ব্যাংকটিকে পেশাদারির সঙ্গে পরিচালিত করা, যাতে নতুন করে কোনো অনিয়ম না হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। নতুন করে অনিয়ম হলে ব্যাংকটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান কাজ।’

    যেভাবে গঠন হলো নতুন পর্ষদ

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এস আলমের (সাইফুল আলম) ভাই আবদুস সামাদ লাবু। এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে সক্রিয় ছিল কেডিএস গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গঠন করা হয় স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ। তাতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান লংকাবাংলা ফিন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ার। এ ছাড়া পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। পর্ষদ পুনর্গঠনের আগপর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকটি পরিচালনা করে আসছিলেন। স্বতন্ত্র পরিচালকদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে নিরীক্ষা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুটি পক্ষ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির মালিকানা ফেরত চায়। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে। এই পক্ষে ছিলেন সাবেক পরিচালক ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)। সরকারের একটি পর্যায় থেকে দুই পক্ষ থেকে ২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা যাদের হাতে ছিল, তাদের হাতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালককেও বহাল রাখা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে যে ১৪ জনকে পর্ষদে নিয়োগ দেয়, তাঁদের মধ্যে ৬ জনই কেডিএস গ্রুপ ও গ্রুপটির শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়স্বজন। তাঁরা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, খলিলুর রহমানের ভাই আহমেদুল হক, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম। এ ছাড়া কেডিএস মালিকদের আত্মীয়রাও নিয়োগ পেয়েছেন।

    পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া অন্য পরিচালকদের মধ্যে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমানও কেডিএস পরিবার–সংশ্লিষ্ট। অন্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়াত উল্লা, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম ও লিয়াকত আলী চৌধুরী।

    এ বিষয়ে মো. এনায়াত উল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বহুদিন পর ব্যাংকের পরিচালক পদ ফিরে পেয়েছি। নতুন করে আর কাউকে অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

    এদিকে কেডিএস গ্রুপ থেকে পাঁচ পরিচালক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম পদ গ্রহণ করেননি। কারণ, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এক পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার সুযোগ নেই। তাই কেডিএসের দুজন প্রতিনিধি বাদ যাওয়ার পর ব্যাংকটিতে নতুন করে খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে চলছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। তাই আমরাও চেয়েছিলাম ব্যাংকগুলো ভালো ও প্রকৃত শেয়ারধারীদের হাতে ফিরুক, তবে শুরুটা ভালো হলো না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে একটি গ্রুপের হাতে আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংকটি তুলে দিতে হয়েছে।’

    পর্ষদের সভার চিত্র

    ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন হয়। এর পরদিনই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএসের সেলিম রহমান।

    সভায় উপস্থিত দুজন পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, পর্ষদের সভায় ব্যাংকটি থেকে চাকরিচ্যুত শাহেদ সিদ্দিকীসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যোগ দেন। ১৯ পরিচালকের সভাটি সর্বোচ্চ ২৫ জনের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল, তবে সভায় উপস্থিত ছিলেন ৪০ জনের বেশি। সভায় কেডিএসের প্রতিনিধিরা ফিরে আসায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় স্বতন্ত্র পরিচালকেরা চুপচাপ ছিলেন।

    ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ব্যাংকে ফিরে আসতে নানাভাবে চাপ তৈরি করেছেন। এ ছাড়া গত দুই বছরে ব্যাংকে নতুন করে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। তাঁদের নির্দেশে চাকরি ছেড়েছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন।

    এ বিষয়ে ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের সম্মতিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি। পর্ষদ সভার দিন অনেকে দেখা করতে এসেছেন। এ জন্য পরিবেশটা ভালো ছিল না। ডিএমডি নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন। আমরা কোনো নির্দেশনা দিইনি।’

    কেডিএস পরিবারের যত অনিয়ম

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনার তথ্য উঠে আসে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে। তার মধ্যে একজন হলেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান, বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। অপর সাবেক চেয়ারম্যান হলেন আবদুস সামাদ লাবু, তিনি এস আলমের ভাই।

    প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ জুন ব্যাংকের ৩৭৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সেলিম রহমানের জন্য এক কোটি টাকা সীমার মধ্যে একটি গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পর্ষদের অনুমোদন তোয়াক্কা না করে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি গাড়ি কেনা হয়, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি।

    একইভাবে ২০২৩ সালের আগস্টে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অপর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদের জন্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একই মডেলের আরেকটি মার্সিডিজ কেনা হয়। হিসাব গোপন ও অর্থের গতিবিধি আড়াল করতে গাড়ি দুটি ব্যাংকের নিজস্ব নামে নিবন্ধন না করে দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের (এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড) নামে কেনা হয়। টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাধারণ ‘সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’, ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘ক্ষতিপূরণ আদায়কৃত হিসাব’ ব্যবহার করা হয়। গাড়ি দুটি কেনার পর মূল ব্যাংক কিংবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ফিক্সড অ্যাসেট (স্থায়ী সম্পদ) রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এদের কোনো অবচয়ও হিসাবভুক্ত করা হয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে গাড়ি দুটি ইতিমধ্যে ব্যাংকের হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া জড়িত নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি এবং অননুমোদিত অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এস আলম গ্রুপ যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করে, তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগের পতনের পর তাঁকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন তাঁকেই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য একাধিক মামলার আসামি হন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন তিনি।

    একনজরে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক

    ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের আমানত গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। তখন ব্যাংকটির ঋণ বা বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ঋণের ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ খেলাপি। গত বছর ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছে ৮৫ কোটি টাকা। উচ্চ খেলাপির কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। এতে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। সারা দেশে ব্যাংকটির রয়েছে ২২৬টি শাখা। ব্যাংকটিতে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ জন কর্মী।

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো শেয়ারধারী পরিচালকেরা পরিচালনা করবেন, এটা স্বাভাবিক। তবে তারা এত দিন কী করেছে, তা জাতি দেখেছে। এ জন্য অনেক আমানতকারী এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তাই নতুন করে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না, যাঁরা ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কারও প্রভাবে ব্যবহৃত হলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

  • বিজেপির মুখপাত্রের পদত্যাগ

    বিজেপির মুখপাত্রের পদত্যাগ

    ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পরিচিত মুখ এবং জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালার আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেহজাদ পুনেওয়ালা নিজেই। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন তিনি। সেখানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পরিচয়টি সরিয়ে দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজীবন অনুসারী হিসেবে নিজের পরিচয় বহাল রাখেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ধর্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আদর্শের কথাও উল্লেখ করেন।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন শেহজাদ। সরকারের নীতি এবং দলের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি নিয়মিত সেখানে অংশ নিতেন। তীক্ষ্ণ বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।

    শেহজাদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। আইনজীবী পেশার পাশাপাশি তিনি দলের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিরপেক্ষ ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়েছে।

    এরপর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শেহজাদ। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেই তাকে দেখা গেছে।

    সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের অংশ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন শেহজাদ। সেখানে তার বক্তব্যে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই জল্পনার মধ্যেই এলো তার পদত্যাগের ঘোষণা। শেহজাদ পুনেওয়ালা পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালার ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেহজাদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের মধ্যে মতাদর্শিক দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সরাসরি আলোচনায় দুই ভাইকে একে অপরের কঠোর সমালোচনা করতেও দেখা গেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

    এদিকে শেহজাদের পদত্যাগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দলও ব্যক্তিগত কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় উল্লেখ করেনি। ফলে তার এই সিদ্ধান্ত শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে- তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন মুখপাত্রের আকস্মিক পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিজেপি বিরোধীদের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে রয়েছে।

    শেহজাদ ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো ভূমিকায় নিজেকে যুক্ত করবেন- সে বিষয়েও এখনো কিছু জানাননি। ফলে তার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • যারা ৭১ ভুলে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

    যারা ৭১ ভুলে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

    বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ হাজার বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে, তাই এখানে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চায় কিংবা ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।’

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মূল দুর্বলতা হলো আমরা এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। বিগত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তবে আমরা অতীতের সেই ক্ষত কাটিয়ে এখন নতুন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’

    একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে অনেক সমস্যা ও বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তবে যারা ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে ফাটল ধরাতে চায়, তাদের যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।

    যে কোনো উপায়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা বিধান এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

  • সৌদি আরবে চালু হলো নওমুসলিম কার্ড

    সৌদি আরবে চালু হলো নওমুসলিম কার্ড

    সৌদি আরব এবার ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য নওমুসলিম কার্ড সেবা চালু করেছে। ইসলাম, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক চালু করা এই সেবার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে এবং সবগুলো ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।

    ইসলাম, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ আল শায়খ মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ‘নবমুসলিম’ কার্ড সেবা চালু করেন। তিনি বলেন, সরকারি সেবাগুলোকে আরও ডিজিটাল করার প্রচষ্টোর অংশ হিসেবে এ সেবা চালু করা হলো।

    কার্ডটি তাওয়াক্কালনা (Tawakkalna) অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্ডটি অ্যাপে দেখা যাবে। সোদি ডেটা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি (SDAIA)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই কার্ডটি দেখতে ও এর সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।

    কার্ডে একটি কিউআর কোডও থাকবে। যার মাধ্যমে কার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে এবং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্যু করেছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্যের মানও উন্নত হবে এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত সদ্ধিান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য আরো নির্ভুল প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব হবে।

  • এনসিপির ওপর হামলা; যা বললেন নাহিদ ইসলাম

    এনসিপির ওপর হামলা; যা বললেন নাহিদ ইসলাম

    খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না। দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও সরকার চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

    এর আগে গোলাপগঞ্জে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ সময় দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।

    এর আগে জেলার গোলাপগঞ্জে দলটির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়।

    ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

  • মুমিনের সফলতার পথে ১০ প্রতিবন্ধকতা

    মুমিনের সফলতার পথে ১০ প্রতিবন্ধকতা

    ইসলাম চায়- একজন মুমিন শুধু শারীরিক শক্তিতে নয়; ঈমান, চরিত্র, অধ্যবসায় ও কর্মে শক্তিশালী হয়ে উঠুন। তিনি আল্লাহকে ভয় করেন, বিপদে সবর করেন, পৃথিবীকে সুন্দর করার জন্য কাজ করেন, অহংকার ও হিংসা থেকে দূরে থাকেন এবং সর্বদা আল্লাহর এই বাণীকে সামনে রাখেন- ‘যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে, সে পুরুষ হোক বা নারী আর সে যদি মুমিন হয়, তাহলে অবশ্যই আমি তাকে পবিত্র ও সুন্দর জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের সর্বোত্তম প্রতিদান প্রদান করব।’ (সুরা : আন-নাহল, আয়াত : ৯৭)।

    সফলতা হলো পরিশ্রমীদের প্রাপ্য, যা আল্লাহ কর্মঠ মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি দৃঢ় ঈমান, মহান লক্ষ্য এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে চেষ্টা করে, সে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার বেশি উপযুক্ত। তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত- উভয় জগতেই আছে মহাপুরস্কার। সফল মানুষের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁরা সাধারণত অধিক ঈমানদার, সুশৃঙ্খল, নমনীয় ও অনেক নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকেন।

    নিচে সফলতার পথে প্রধান ১০টি বাধা তুলে ধরা হলো-

    ১. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে দুর্বলতা : কখনো মানুষ নিজের দক্ষতা, জ্ঞান বা সামর্থ্যের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে অহংকারে আক্রান্ত হয়। এর ফলে হয় সে ভণ্ড সফলতার ফাঁদে পড়ে, নয়তো আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্যর্থ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন যেমন পাখিদের দেন; তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪৪)।

    ২. দৈনিক পরিকল্পনার অভাব : সফল মানুষের লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয়ই। তাঁরা প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং অগ্রাধিকার ঠিক করেন। পাশাপাশি প্রতিটি কাজ সুন্দরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালোবাসেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজ করে, তখন তা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ১৮৮০)।

    ৩. নেতিবাচক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা : নৈরাশ্যবাদী ও নেতিবাচক মানুষের প্রভাব ধীরে ধীরে নিজের মনেও পড়ে। তাই সফল মানুষ এমন সঙ্গ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন এবং ইতিবাচক, সৎ ও আশাবাদী মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম ও চরিত্রের ওপর থাকে। তাই তোমাদের প্রত্যেকে যেন দেখে, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)।

    ৪. ব্যর্থতার কারণে হতাশ হয়ে পড়া : সফল মানুষ জানেন, ব্যর্থতা সফলতারই একটি অংশ। তাঁরা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেন এবং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘‘যদি কোনো বিপদ আসে, তবে বোলো না- ‘যদি আমি এমন করতাম…’ বরং বলো, ‘এটি আল্লাহর তাকদির, তিনি যা চান তাই করেন।’ কারণ ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়।’’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)।

    ৫. অন্যের মূল্যায়ন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা : সফল মানুষ নিজের মূল্য অন্যের প্রশংসা বা সমালোচনার ওপর নির্ভর করান না। তাঁদের নিজস্ব আদর্শ, লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাস থাকে। তাই তাঁরা অযথা মানুষের কথায় ভেঙে পড়েন না।

    ৬. অতিরিক্ত অজুহাত দেওয়া : সফল মানুষ ব্যর্থতা স্বীকার করতে পারেন, কিন্তু অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান না। তাঁরা নিজের কাজের দায়িত্ব নিজেরাই নেন এবং সমস্যার সমাধান খোঁজেন।

    ৭. অন্যের সফলতায় হিংসা করা : সফল মানুষ প্রতিযোগিতা করেন, কিন্তু হিংসা করেন না। অন্যের সফলতাকে তাঁরা অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং আরো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেন। হিংসুক ব্যক্তি অন্যকে ক্ষতি করার আগে সে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেননা শুরুতেই সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। হিংসা দূর না হওয়া পর্যন্ত এটাই তার জন্য স্থায়ী দুনিয়াবি শাস্তি। তার চেহারা সব সময় মলিন থাকে। তার সঙ্গে তার পরিবারে হাসি ও আনন্দ থাকে না। অন্যের ক্ষতি করার চক্রান্তে ও ষড়যন্ত্রে সে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সে সর্বদা ত্রস্ত ও ভীত থাকে। ফলে সৎ সংসর্গ থেকে সে বঞ্চিত হয়। ঘুণ পোকা যেমন কাঁচা বাঁশকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খায়, হিংসুক ব্যক্তির অন্তর তেমনি হিংসার আগুন কুরে কুরে খায়। একসময় সে ধ্বংস হয়ে যায়, যেমন ঘুণে ধরা বাঁশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে যায়। এভাবে দুনিয়ায় সে এসি ঘরে শুয়ে থেকেও হিংসার আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ কোরো না, হিংসা কোরো না, ষড়যন্ত্র কোরো না ও সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না। তোমরা পরস্পরে আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৭৬)।

    ৮. স্বাস্থ্য ও বিশ্রামকে অবহেলা করা : শরীর ও মনের সুস্থতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সফলতা সম্ভব নয়। তাই সফল মানুষ পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তির যত্ন নেন। সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই। যাঁরা কর্মব্যস্ততায় শরীরচর্চার সুযোগ পান না, চিকিৎসকরা তাঁদের প্রতিদিন নিয়ম করে দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নবীজি (সা.) সাহাবাদের সঙ্গে কুস্তি লড়েছেন। মাঝেমধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গেও এক রাতে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন।

    তিনি সব সময় স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে দ্রুতগতিতে হাঁটতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, ‘আমি নবীজি (সা.)-এর চেয়ে দ্রুতগতিতে কাউকে হাঁটতে দেখিনি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৮)।

    ৯. অস্পষ্ট লক্ষ্য ও দুর্বল সিদ্ধান্ত : সফল মানুষের লক্ষ্য পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট থাকে। তাঁরা জানেন তাঁরা কী অর্জন করতে চান। ফলে তাঁরা সহজেই নিজেদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত দৃঢ় হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়নে দেরি করেন না। এভাবেই তাঁদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

    ১০. বাধা এলে ভয় পেয়ে থেমে যাওয়া : জীবনের পথে বাধা আসবেই; কিন্তু সফল মানুষ প্রয়োজনে পরিকল্পনা ও কৌশল পরিবর্তন করতে দ্বিধা করেন না। তাঁদের লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকে, তবে লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন করতে তাঁরা প্রস্তুত থাকেন। পৃথিবীতে যত মানুষ স্মরণীয়-বরণীয় হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সফলতা অর্জনের জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে গেছেন। একসময় মহান আল্লাহ তাঁদের চেষ্টার সফল উপহার দিয়েছেন। মানুষ কোনো বিষয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে সাধনা করলে মহান আল্লাহ তাদের তা দিয়ে দেন।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ তা-ই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : আন নাজম, আয়াত : ৩৯)।

    আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

  • হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার নিন্দা জানাল ছাত্রশিবির

    হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার নিন্দা জানাল ছাত্রশিবির

    হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলটির শীর্ষ নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের উগ্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    ছাত্রশিবিরের দাবি, হামলায় এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি এবং জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া সাভারে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও উল্লেখ করেন তারা। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন ছাত্রশিবির নেতারা।

    তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বেপরোয়া আচরণ, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, হামলা, নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রচলিত আইনের আওতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান ছাত্রশিবিরের দুই শীর্ষ নেতা।

  • সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

    সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

    তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মসমর্পণ করার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

    তিনি বলেছিলেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির অন্যতম হোতা ও ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

    সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তার পেছনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সহযোগিতা ছিল। তারা দাবি করেন, ব্যাংক খাত ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিক্ষোভকারীরা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তার, ব্যাংক লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করেন।

  • জান্নাতে যেসব জিনিস থাকবে না!

    জান্নাতে যেসব জিনিস থাকবে না!

    জান্নাত। যেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, কষ্ট বা মৃত্যুর ছোঁয়া। জান্নাত এমন এক চিরস্থায়ী আবাস, যেখানে নেই কোনো দুঃখ, কষ্ট, ভয়, রোগ, মৃত্যু কিংবা অপূর্ণতা। সেখানে প্রতিটি নিয়ামত হবে পরিপূর্ণ, প্রতিটি মুহূর্ত হবে আনন্দময় এবং প্রতিটি বাসিন্দা থাকবে চিরস্থায়ী শান্তি ও প্রশান্তিতে। মহান আল্লাহ কুরআনে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) সহিহ হাদিসে জান্নাতের অসংখ্য নিয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন, যা একজন মুমিনকে নেক আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।

    জান্নাতে যেসব জিনিস থাকবে না

    ১. দুঃখ, ভয় ও চিন্তা থাকবে না

    মহান আল্লাহ বলেন—

    بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُۥٓ أَجْرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

    ‘যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে এবং সৎকর্মশীল হয়, তার জন্য তার রবের কাছে রয়েছে প্রতিদান। তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১১২)

    ২. রোগ, ক্লান্তি ও অবসাদ থাকবে না

    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ

    ‘সেখানে কোনো ক্লান্তি তাদের স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে তাদের কখনো বের করা হবে না।’ (সুরা আল-হিজর: আয়াত ৪৮)

    অন্য হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীদের ঘুমেরও প্রয়োজন হবে না; কারণ ঘুম ক্লান্তির ফল, আর জান্নাতে কোনো ক্লান্তিই থাকবে না।

    ৩. হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা থাকবে না

    জান্নাতবাসীদের হৃদয় হবে সম্পূর্ণ পবিত্র। সেখানে কেউ কারও প্রতি হিংসা, ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করবে না। মহান আল্লাহ বলেন—

    وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ

    ‘আমি তাদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেব।’ (সুরা আল-আরাফ: আয়াত ৪৩)

    ৪. গুনাহ, অশ্লীলতা ও অনর্থক কথা থাকবে না

    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    ﴿لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا ۝ إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا﴾

    ‘সেখানে তারা কোনো অসার বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না। তারা কেবল শুনবে— সালাম, সালাম।’ (সুরা আল-ওয়াকিআহ: আয়াত ২৫–২৬)

    ৫. শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থাকবে না

    জান্নাত হলো সম্পূর্ণ পবিত্র আবাস। সেখানে শয়তানের কোনো প্রবেশাধিকার থাকবে না এবং তার কোনো প্ররোচনাও থাকবে না। ফলে জান্নাতবাসীরা চিরকাল নিরাপদ ও প্রশান্তিতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    اُدۡخُلُوۡهَا بِسَلٰمٍ اٰمِنِیۡنَ وَ نَزَعۡنَا مَا فِیۡ صُدُوۡرِهِمۡ مِّنۡ غِلٍّ اِخۡوَانًا عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ لَا یَمَسُّهُمۡ فِیۡهَا نَصَبٌ وَّ مَا هُمۡ مِّنۡهَا بِمُخۡرَجِیۡنَ

    ‘(তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা থাকবে তা দূর করে দেব; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেখানে তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃতও হবে না।’ (সুরা আল-হিজর: আয়াত ৪৬–৪৮)

    ৬. বার্ধক্য ও মৃত্যু থাকবে না

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا

    ‘হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যু হবে না; তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না; তোমরা সর্বদা যুবক থাকবে, কখনো বার্ধক্যে উপনীত হবে না।’ (মুসলিম ২৮৩৭)

    ৭. ক্ষুধা, তৃষ্ণা, অভাব ও দারিদ্র্য থাকবে না

    মহান আল্লাহ বলেন—

    إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى ۝ وَأَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا فِيهَا وَلَا تَضْحَى

    ‘নিশ্চয়ই সেখানে তোমার ক্ষুধার্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, নগ্ন থাকারও নয়। সেখানে তোমার তৃষ্ণার্ত হতে হবে না এবং রৌদ্রের কষ্টও ভোগ করতে হবে না।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ১১৮–১১৯)

    জান্নাত— চিরস্থায়ী শান্তি ও পরিপূর্ণ সুখের নিবাস

    জান্নাত এমন এক আবাস, যেখানে প্রতিটি নিয়ামত হবে সীমাহীন ও চিরস্থায়ী। সেখানে থাকবে না কোনো অশান্তি, কষ্ট, বিচ্ছেদ বা অপূর্ণতা। জান্নাতবাসীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে এবং তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান ও অনন্ত সুখ লাভ করবে। পৃথিবীর সকল দুঃখ-কষ্ট তখন তাদের কাছে অতীতের একটি ক্ষণিক স্মৃতি মাত্র হয়ে থাকবে।

    দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। তাই আমাদের উচিত ঈমান, তাকওয়া, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, সৎকর্ম এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে জান্নাতের উপযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ আমাদের অন্তরকে পবিত্র করুন, নেক আমলের তৌফিক দান করুন এবং তার অসীম রহমতে আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে কবুল করুন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন—

    اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ الْفِرْدَوْسَ الْأَعْلَى مِنَ الْجَنَّةِ

    উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল ফিরদাউসাল আ’লা মিনাল জান্নাহ।’

    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনা করছি।’ আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গীর্জা কিনেছে মুসলিম সংগঠন ‘সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি’ (এসএএফএ)। আইনি মামলার জটিলতা সমাধানের পর তারা এই বিশালাকার চার্চ প্রাঙ্গণটিকে একটি ইসলামিক স্কুল, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    এসএএফএ একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো ‘জ্ঞানকে ইসলামিক রূপদান’—যার মাধ্যমে কমন কোর কারিকুলামের পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বিত করা হবে।

    জায়গাটি তারা ক্রয় করেছে ‘কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড মিশন ব্যাপটিস্ট চার্চ’-এর কাছ থেকে, যা ১৯৯২ সাল থেকে এই সম্পত্তির মালিক ছিল। এই খ্রিষ্টান ধর্মীয় কেন্দ্রটির মূল লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্মের বার্তা প্রচার করা এবং যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী তৈরি করা।

    সম্পত্তিটিতে সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমির পাশাপাশি ‘অথেনটিক ইলম মিশন’ (এআইএম) যৌথভাবে ‘দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি’ চালু করতে যাচ্ছে। এটিকে আমেরিকার প্রথম কোনো জাতীয় আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স করানো হবে।

    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা এমন একদল যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যারা প্রজ্ঞার সাথে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সত্যের সমর্থনে প্রামাণিক অবস্থান তুলে ধরবে।

    চার্চ হস্তান্তর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় এআইএম-এর এক বক্তা মন্তব্য করেন—যে চার্চটি একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রশিক্ষণ দিত, আজ সেটিই একটি মুসলিম সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

    টেক্সাসভিত্তিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস এক্সপ্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই চার্চের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সাফা । অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের অক্টোবরে ৩৮ লাখ (৩.৮ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে সম্পত্তিটি কেনার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয় এবং তারা ৩৮ হাজার ডলার অগ্রিম পরিশোধ করে। চলতি মে মাসে হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চার্চ দাবি করে—তাদের যাজক (পাস্টর) বিষয়টি ভুল বুঝে সই করেছিলেন; তিনি ভেবেছিলেন এটি জায়গা বিক্রির কোনো বিজ্ঞাপন বা লিস্টিং চুক্তি।

    এর প্রেক্ষিতে চুক্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয় সাফা। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হয় এবং ক্রয়ের পথ সুগম হয়।

    চার্চটি হাতবদলের এমন ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে স্থানভেদে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলাম অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

  • ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী নীলদলের শিক্ষকদের বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেন তারা।

    এসময় তারা ২৩১ জন নীলদলের শিক্ষকদের তালিকা জমা দেন। তারা হলেন-

    ১. অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ ২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৩. অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার — ফার্মেসি ৪. অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৫. অধ্যাপক ড. জীনাত হুদা — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৬. অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৭. অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৮. অধ্যাপক ড. এম. ওয়াহিদুজ্জামান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯. অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১০. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মহিত — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ১৩. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাহবুব হাসান — বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ১৪. অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ১৫. অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ আলী — ইতিহাস বিভাগ ১৭. অধ্যাপক আবু হোসাইন মুহাম্মদ আহসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ১৮. অধ্যাপক ড. খালেদ মাহমুদ — আইবিএ ১৯. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. গোলাম রব্বানী — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২০. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২১. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল কবির — আইবিএ ২২. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আখতার — ইংরেজি বিভাগ ২৩. অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া — টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ ২৪. অধ্যাপক ড. শবনম জাহান — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৫. অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৬. অধ্যাপক ড. এম. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৭. অধ্যাপক ড. তাওহিদা রশিদ — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ২৮. অধ্যাপক ড. আবু শারা শামসুর রউফ — ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ ২৯. অধ্যাপক ড. এম. মাকসুদুর রহমান — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৩০. অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক খান — আইবিএ ৩১.

    অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৩২. অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ — মার্কেটিং বিভাগ ৩৩. অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩৪. অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৬. অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আখতার — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৭. অধ্যাপক ড. সবিতা রেজওয়ানা রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৯. অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাউদ্দিন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৪০. অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

    ৪১. অধ্যাপক ড. বিমান কুমার বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ৪২. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসিফ হোসেন খান — কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৪৩. অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার — গণিত বিভাগ ৪৪. অধ্যাপক ড. অসীম সরকার — সংস্কৃত বিভাগ ৪৫. অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ — সংস্কৃত বিভাগ ৪৬. অধ্যাপক ড. লিটন কুমার সাহা — ফলিত গণিত বিভাগ ৪৭. অধ্যাপক ড. আব্দুল বশির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৪৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৪৯. সহযোগী অধ্যাপক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৫০. অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ

    ৫১. সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহেল রানা — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ৫২. অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ — রসায়ন বিভাগ ৫৩. অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৫৪. অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার) — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ৫৫. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৬. অধ্যাপক ড. মো. জাভিদ ইকবাল বাঙালী — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৭. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ — আরবি বিভাগ ৫৮. অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ৫৯. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ৬০. অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম — সিরামিক বিভাগ

    ৬১. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ মিরান — রসায়ন বিভাগ ৬২. অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুজন — রসায়ন বিভাগ ৬৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান — রসায়ন বিভাগ ৬৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইকা আহমেদ — রসায়ন বিভাগ ৬৫. অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রহমান — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ৬৬. অধ্যাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু — কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ ৬৭. সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন — ক্রাফট বিভাগ ৬৮. সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া ইকবাল — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ৬৯. সহকারী অধ্যাপক সোনাম সাহা — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ৭০. অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ

    ৭১. অধ্যাপক নিসার হোসেন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭২. অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র গাইন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৩. ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৪. অধ্যাপক ড. জেড. এম. পারভেজ সাজ্জাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ৭৫. অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন — ফিন্যান্স বিভাগ ৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সিমা ইসলাম — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৭. ড. সিদ্ধার্থ দে — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৮. অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম — ইতিহাস বিভাগ ৭৯. সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. কে. মামুন মোস্তফা — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ

    ৮১. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মনিরুজ্জামান খান — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮২. অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮৩. অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৮৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. নাসিফ শামস — জ্বালানি ইনস্টিটিউট ৮৫. সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ৮৬. সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল আজিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৭. সহকারী অধ্যাপক ফারিহা কাদির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৮. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইহসান-উল-কবির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. শওল নাফি শিমুল — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৯০. প্রভাষক মো. আরাফাত হোসেন — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট

    ৯১. অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমান — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯২. সহকারী অধ্যাপক ড. শাহজাদী ইমা — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯৩. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯৪. অধ্যাপক ড. সুবর্ণা বড়ুয়া — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৫. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৭. সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম সানা — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. লোপা মুদ্রা মালেক — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১০০. অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ — আইন বিভাগ

    ১০১. অধ্যাপক ড. শিমা জামান — আইন বিভাগ ১০২. প্রভাষক মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া — আইন বিভাগ ১০৩. অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান — আইন বিভাগ ১০৪. অধ্যাপক ড. জামিলা এ. চৌধুরী — আইন বিভাগ ১০৫. অধ্যাপক ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৬. অধ্যাপক ড. সুমন দাস — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৭. অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৮. অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৯. অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১০. ইমেরিটাস অধ্যাপক

    মো. আবুল হাশেম — ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগ

    ১১১. প্রভাষক মো. রাকিবুল হাসান — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ১১২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৩. অধ্যাপক ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৪. ড. মো. মুমিত আল রশিদ — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৫. অধ্যাপক ড. ইমরান কবির চৌধুরী — জনস্বাস্থ্য বিভাগ ১১৬. অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ — ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ ১১৭. অধ্যাপক এমএসটি. রেবেকা সুলতানা — দর্শন বিভাগ ১১৮. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১১৯. অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক এম. সৈয়দ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ১২০. অধ্যাপক ড. রতন চন্দ্র ঘোষ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ১২১. অধ্যাপক ড. নীলোফার পারভীন — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ১২২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন — পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ ১২৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. নাজির হোসেন খান — প্রিন্টমেকিং বিভাগ ১২৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্লাইডাস ভক্ত — সংস্কৃত বিভাগ ১২৫. সহযোগী অধ্যাপক নাসিমুল খবির — ভাস্কর্য বিভাগ ১২৬. অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরী — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৭. ড. দেবাশীষ কুমার কুণ্ডু — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমান — পরিসংখ্যান বিভাগ ১২৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা দে — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ১৩০. সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল হোসেন ঢালী — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ

    ১৩১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ ১৩২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৩. অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৪. অধ্যাপক ড. মো. মুশফিকুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৬. অধ্যাপক ড. মো. জামিল শরীফ — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৭. অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল আলম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৮. অধ্যাপক ড. মো. রফিউল ইসলাম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৯. অধ্যাপক ড. মো. সৈয়দ শামসুদ্দিন — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১৪০. অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল করিম — ফলিত রসায়ন বিভাগ

    ১৪১. অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম — ফলিত গণিত বিভাগ ১৪২. অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারুফ — আরবি বিভাগ ১৪৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন — আরবি বিভাগ ১৪৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন — আরবি বিভাগ ১৪৫. অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দে — বাংলা বিভাগ ১৪৬. অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী — বাংলা বিভাগ ১৪৭. সহকারী অধ্যাপক মো. খালেদ বিন আমির — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৮. অধ্যাপক ড. রাদ মুজিব লালন — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৯. অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫০. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

    ১৫১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫২. অধ্যাপক ড. জিএম গুলজার হোসেন — রসায়ন বিভাগ ১৫৩. অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ ১৫৪. অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন — রসায়ন বিভাগ ১৫৫. এ. বি. এম. নজমুস সাকিব — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ১৫৬. সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ১৫৭. শিশির ভট্টাচার্য (খণ্ডকালীন শিক্ষক) — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ১৫৮. অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী — অর্থনীতি বিভাগ ১৫৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. এল. পলাশ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ১৬০. অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ

    ১৬১. সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তানজিলা দীপ্তী — ফিন্যান্স বিভাগ ১৬২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান — মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ ১৬৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ১৬৪. অধ্যাপক ড. শারমিন আখতার — ইতিহাস বিভাগ ১৬৫. অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন মুন্সী — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৬৬. অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন — আইবিএ বিভাগ ১৬৭. অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবীন — আইবিএ বিভাগ ১৬৮. অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হক — আইবিএ বিভাগ ১৬৯. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭০. অধ্যাপক ড. তামান্না সুলতানা — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭১. ড. তপশ কুমার বিশ্বাস — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭২. অধ্যাপক ড. আবু তোরাব মো. আব্দুর রহিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৩. অধ্যাপক ড. শারমিন রুমি আলিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস এম. কুরশেদ — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৫. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজানা করিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ১৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমন আহমেদ — তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ১৭৭. অধ্যাপক ড. সবুর আহমেদ — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. অমল কান্তি দেব — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৯. সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমার রায় — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৮১. অধ্যাপক ড. সুবোধ দেবনাথ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮২. সহকারী অধ্যাপক মৌরি মেহতাজ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮৩. অধ্যাপক ড. লায়লুফার ইয়াসমিন — আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ১৮৪. সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১৮৫. সহকারী অধ্যাপক এম. ইমামুল হক সরকার (তিতু) — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৭. সহকারী অধ্যাপক ড. কোয়াজি ফারজানা আফরিন — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৮. ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১৮৯. অধ্যাপক ড. রুমানা ইসলাম — আইন বিভাগ ১৯০. সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ রেজা — আইন বিভাগ

    ১৯১. প্রভাষক শাহরিমা তানজিন আরনি — আইন বিভাগ ১৯২. অধ্যাপক ড. সিকদার মনোয়ারে মুর্শেদ — ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৩. অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১৯৪. অধ্যাপক মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন ভূঁইয়া — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ১৯৫. অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৬. অধ্যাপক ড. মুবিনা খন্দকার — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১৯৮. সহকারী অধ্যাপক মো. মোমিন ইসলাম — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৯. অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২০০. সহযোগী অধ্যাপক ইঞ্জি. এম. মনজুর হোসেন খান — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

    ২০১. অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মঈন — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০২. সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমান — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীরু বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ২০৪. অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৫. সহযোগী অধ্যাপক মারিয়া হোসেন — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৬. সহযোগী অধ্যাপক মন্দিরা চৌধুরী — দর্শন বিভাগ ২০৭. অধ্যাপক ড. কাজী হানিয়াম মারিয়া — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ রকি — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২১০.

    অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ২১১. সহযোগী অধ্যাপক এম. রাশেদ আলম ভূঁইয়া — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২১২. অধ্যাপক ড. সাদিক হাসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ২১৩. অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল — রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২১৪. অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৫. অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৬. অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ খান — মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ ২১৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. জেড. এম. শফিউল্লাহ — পরিসংখ্যান বিভাগ ২১৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২১৯. অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২২০. সহযোগী অধ্যাপক ড. সৌদ আহমেদ — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

    ২২১. সহযোগী অধ্যাপক ড. সামশাদ নাওরীন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২২২. অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল ইসলাম — উর্দু বিভাগ ২২৩. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম — উর্দু বিভাগ ২২৪. সহকারী অধ্যাপক অমিও সৃজন সাম্য — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ২২৫. অধ্যাপক ড. ফাজরিন হুদা — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৬. প্রভাষক ইনজামাম মাহবুব মজুমদার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৭. সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া আফরিন — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৮. প্রভাষক দেবাশীষ দাস — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৯. প্রভাষক নিলয় রায় —বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩০. প্রভাষক রহিমা আখতার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩১. অধ্যাপক ড. শারমিন মুসা — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ

  • বিনিয়োগ সেবা সহজ করতে ৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প সরকারের

    বিনিয়োগ সেবা সহজ করতে ৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প সরকারের

    ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বিদ্যমান সব ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালকে এক ছাতার নিচে এনে ‘বাংলাবিজ’ নামের একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    ইতোমধ্যে ৬৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পপের কাজ শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সেবাসমূহকে একত্রিত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

    উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক ব্যবসা নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণমূলক অন্যান্য অনুমোদন পেতে আর দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে না। বরং মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

    প্রকল্পের আওতায় বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে একটি ‘সিঙ্গেল সাইন-অন’ (এসএসও) ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা একটিমাত্র অ্যাকাউন্ট দিয়েই একাধিক সংস্থার সেবা নিতে পারবেন।

    এতে আরো থাকছে ‘নো ইউর অ্যাপ্রুভালস’ নামের একটি ড্যাশবোর্ড, যার মাধ্যমে লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ইউনিক বিজনেস আইডি’ (ইউবিআইডি) বা অনন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর চালু করা।

    আজীবন মেয়াদি এই ইউনিক আইডি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে, বারবার একই কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা দূর করবে এবং সেবার মান উন্নত করবে।

    প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রাথমিক ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাক’ নিয়ে শুরু হয়েছে। আর আগামী ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব ধরনের সেবাকে শতভাগ ডিজিটালে রূপান্তর করা।

    এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং এর আইনগত দিক নিয়ে কাজ করছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অ্যাক্ট’।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাবিজ প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা ব্যবস্থা নতুন রূপ পাবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সহজ পরিবেশ তৈরি ও দেশি-বিদেশি ব্যাপক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

    আজ ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যে আগামী বছর হজে গমনেচ্ছুদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে করতে হবে প্রাক-নিবন্ধন। আর এ বছরই ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিতদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    নিবন্ধন করা যাবে যেখানে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছুদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    হজে যেতে পারবেন না যারা

    ১৫ বছরের কম বয়সি কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন-হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়বিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমেনশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো নারী হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না।

    প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ভূমিকা স্মরণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা যখন জুলাই আন্দোলন করতাম, তখন অপেক্ষা করতাম কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল আসবে।

    সোমবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের। আমরা জুলাইয়ের সকল শহীদ এবং যাদের সামান্য আত্মত্যাগও রয়েছে, তাদের সবাইকে স্মরণ করছি।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানটি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনেও তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন দেশ গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রেখেছে, তেমনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানও ইতিহাসে সমানভাবে স্মরণীয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত আন্দোলনের সামনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। সকলের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে সুনজর দিতে।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনার সুযোগ পান। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

    সভায় জুলাইয়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নিহত শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি নিয়ে এখনো ঘুমাই। আমি এখনো জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছি। আমি শহীদের মা হিসেবে এখানে এসেছি।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ প্রত্যাশা করি, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

    জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। জুলাই যেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং বৈষম্য দূর করার প্রেরণা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সাজিদের মতো মৃত্যু কারও ভাগ্যে যেন না জোটে। জগন্নাথ থেকে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা কখনো দ্বিতীয় হব না, আমরা প্রথম হব।

    জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, জগন্নাথবাসী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে ফিরতে দেবে না। তিনি শিক্ষাঙ্গনে সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ যোদ্ধা মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন আন্দোলনের সময়কার স্মৃতিচারণ করে বলেন, যাত্রাবাড়ীতে তার একটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের পানি দিয়ে সহযোগিতা করতেন। পরে তার ছেলে মাহাদীর মাথায় গুলি লাগার পর পরিবারের জীবন আমূল বদলে যায়।

    জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্বৈরাচারের পতন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং বেকারত্ব দূর করা ছিল আন্দোলনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও সমালোচনা করেন।

    জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, জুলাইয়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন। তিনি বলেন, অতীতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অন্যায় বা জুলুম করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম দিক থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তবে বিভিন্ন কারণে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান পর্যাপ্ত গণমাধ্যম কাভারেজ পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

    আলোচনা সভাই বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • চৌগাছায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে স্বপর্রাজপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগদীশপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ড. মাহবুবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ।

    এসময় বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি ও সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা রওশন জামিল, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম এবং মাওলানা আবুল হাসেম।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী উপজেলার সব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) পদে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

  • বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল নাকি হারাম—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ইসলাম যে বস্তু খাওয়া, পান করা বা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করেছে, সেই বস্তুর বেচাকেনাও বৈধ নয়।

    সম্প্রতি এক অনুসারীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি নিজে ধূমপান না করলেও বা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললেও কেবল এ কারণে বিড়ি-সিগারেট বিক্রির অর্থ হালাল হয়ে যায় না। তার ভাষায়, কেউ নামাজি, হাজি বা দাড়িওয়ালা হলেও যদি বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করেন, তাহলে ওই বিক্রি থেকে অর্জিত আয় বৈধ হবে না।

    তবে তিনি বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি দোকানে যদি হালাল ও হারাম—উভয় ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়, তাহলে পুরো ব্যবসার আয় হারাম হয়ে যায় না। যে পণ্য ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ, সেগুলোর বিক্রি থেকে অর্জিত লাভ হালাল থাকবে। আর যে পণ্যের বেচাকেনা বৈধ নয়, কেবল সেই অংশের আয়ই হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

    উদাহরণ দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, চাল, ডাল বা অন্যান্য বৈধ পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হালাল। তবে প্রতারণা বা ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করলে সেই উপার্জনও বৈধ থাকবে না।

    তিনি বলেন, দেশি ডালের সঙ্গে নিম্নমানের অন্য ডাল মিশিয়ে বিক্রি করা প্রতারণার শামিল। এ ধরনের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

    শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইসলামে শুধু পণ্যের বৈধতা নয়, ব্যবসায় সততা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণও হালাল উপার্জনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

  • গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধান করে আগামী সপ্তাহ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে যদি তারা (এক্সিলারেট এনার্জি) যেটা এক্সপেক্টেড, যদি ৫০ শতাংশ সাপ্লাই রিস্টোর করতে পারে, তারপরের সপ্তাহে শতভাগ রিস্টোর করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং। তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি, তাদের তথ্যের ওপর কিন্তু দিন-তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে আমরা বলছি না। কারণ এর আগেও যে দিন-তারিখ দিয়েছে, বিভিন্ন কারণে সেটা তারা পালন করতে পারেনি।

    সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের একটি কারিগরি দল এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিনে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হতে পারে।

    গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরুর বিষয়টি এক্সিলারেটের তথ্যের ভিত্তিতে বলছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিন-তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট করে সময় বললেও নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি কারিগরি বিষয়। তাই আগাম সময় বলা কঠিন।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করার বিষয় আছে। আমদানি খালাসের বিষয় আছে। তারা উড়োজাহাজে করে এগুলো নিয়ে আসবে। এটি দ্রুত খালাসে সরকার দায়িত্ব নেবে। সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

    এই সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মা-বোনেরা প্রতিদিন সংসারের রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনজি স্টেশনে চাপ না থাকায় গণপরিবহনে প্রভাব পড়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, যদিও তারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না, বিষয়টি এমন নয়।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে আগুন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এর চেয়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। পাশেই একটি এলএনজি–ভর্তি জাহাজ ছিল, যা দ্রুত দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    তবে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো সংকট নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি মজুত করে রাখা হয় না; বরং এলএনজি নিয়ে নিয়মিত জাহাজ আসে। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ আসার সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

    কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

    ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ভাঙা কিংবা মসজিদের মধ্যে মন্দিরের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিয়তই বিদ্বেষ বাড়ছে। দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে। সম্প্রতি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদীরা তাদের দাবিকে আরো তীব্র করেছে। তাদের দাবি আদিনা মসজিদ নাকি আদিনাথের প্রাচীন শিবমন্দির—আর এই দাবিকে কেন্দ্র করে মসজিদটির কাছাকাছি এলাকায় শিবপূজা ও রুদ্রাভিষেকের আয়োজন করা হয়েছে।

    সোমবার প্রায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে আদিনাথের রুদ্রাভিষেকের (হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের পবিত্র মন্ত্রপাঠ সহকারে জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করানোর একটি বিশেষ পূজা) আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির হিসেবে দাবি করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

    প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে শিবসহ হিন্দু দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে—এমন দাবি তুলে একাংশের মানুষ এটিকে প্রাচীন আদিনাথ শিবমন্দির বলে দাবি করে আসছেন।

    এ নিয়ে বর্তমানে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় শিবপূজার আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

    আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামীর দাবি, স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে আদিনাথ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিবমন্দির, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের দাবি করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। তাই তারা স্থাপনাটিকে মন্দির হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

    আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে শিবলিঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর অধীনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে, স্তম্ভটিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একটি অন্যতম বিষয় হলো এর কিছু ব্যাসল্ট পাথরের দেয়াল ও দরজায় খোদাই করা হিন্দু চিত্রকলার উপস্থিতি।

    স্থাপত্য ইতিহাসবিদরা সাধারণত এই খোদাইগুলোকে পূর্ববর্তী কাঠামোর উপকরণ পুনঃব্যবহারের ফল বলে মনে করেন—যা মধ্যযুগীয় নির্মাণে একটি সাধারণ রীতি ছিল—অন্যদিকে পণ্ডিতরা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ইসলামি ও দেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংশ্লেষণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

    তবে, পুনঃব্যবহৃত উপকরণগুলোর সঠিক উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

    নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ায় জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    যদিও হিন্দু সংগঠনটি জানিয়েছে যে এ বছরের আচার-অনুষ্ঠান নিকটবর্তী মন্দিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং স্মৃতিস্তম্ভটির ওপর ভবিষ্যতের যেকোনো দাবি শুধুমাত্র বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই উত্থাপন করা হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও শতবর্ষী আদিনা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে, তাই এই বিবাদটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান জনমতকে প্রভাবিত করে চলেছে।

    ওই স্থানে প্রস্তাবিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মালদা জেলা পুলিশও একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনের অধীনে সুরক্ষিত। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনুমতিবিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ আয়োজন বা এই সুরক্ষিত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে আদিনাথ শিবমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তবে আদিনা মসজিদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

  • আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

    আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

    ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী, এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্ত সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে।

    রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়, তারা জামায়াতি (ইসলামপন্থি) মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

    গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

    এ ঘটনার পর সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

    এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।

    এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ উলফের মেন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দলটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং তাদের অন্যান্য দাবির প্রতি সরকারের সম্মতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ধারাবাহিক নাটকে তটিনী

    ধারাবাহিক নাটকে তটিনী

    অল্প সময়েই ছোট পর্দার নির্মাতাদের ভরসা হয়ে উঠেছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী। বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী তিনি। নিয়মিত টিভি ও ইউটিউবে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত নাটক। মাঝে মাঝে ওটিটিতেও দেখা যায় তাঁকে। ২০২১ সালে ‘হাউজ নং ৯৬’ নামের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তটিনি। পাঁচ বছর পর আবারও যুক্ত হলেন ধারাবাহিক নাটকে। ‘ফিরে আসার গল্প’ নামের ধারাবাহিকটি নির্মাণ করছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

    গতকাল ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকে তটিনীর লুক প্রকাশ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট। এতে তাঁর অভিনীত চরিত্রের নাম নূরজাহান। ধারাবাহিকটিতে আরও অভিনয় করবেন খায়রুল বাসার, শহীদুজ্জামান সেলিম, সুমাইয়া শিমু, ফাইজুল ইয়ামিন, মনিরা মিঠু, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, দীপা খন্দকার, এজাজুল ইসলাম, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ। এই নাটক দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিকে ফিরছেন সুমাইয়া শিমু।

    মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের বানানো সবশেষ ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। পাকিস্তানি সিরিয়ালের অনুপ্রেরণায় পারিবারিক গল্পে নির্মিত হয়েছিল এটি। প্রচারের শুরু থেকেই সাড়া ফেলেছিল দর্শকদের মাঝে। নির্মাতা জানিয়েছেন, নতুন ধারাবাহিকেও দেখা যাবে পরিবারের গল্প। এখন শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী মাসে শুরু হবে শুটিং। তখনই নাটকটি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

    এর আগে মোস্তফা কামাল রাজের একাধিক নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আছে তটিনীর। নির্মাতার ‘তোমাদের গল্প’, ‘তোমাদের গল্প ২’, ‘সম্পর্কের গল্প’ নাটকগুলোতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তটিনী। এ ছাড়া সম্প্রতি শেষ করেছেন রাজের ‘পথহারা’ নাটকের শুটিং। এতে আরও অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, খায়রুল বাসার, দীপা খন্দকার প্রমুখ।

    তটিনীকে সবশেষ দেখা গেছে জাকারিয়া সৌখিনের ‘কাজল চোখের মেয়ে’ নাটকে। এতে তাঁর সহশিল্পী ফারহান আহমেদ জোভান। ইউটিউবে প্রকাশের পর থেকে প্রশংসিত হচ্ছে নাটকটি। মাত্র ৮ দিনে ১৩ মিলিয়নের বেশি ভিউ হয়েছে। এদিকে আজ সিএমভি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাচ্ছে তটিনীর আরেক নাটক ‘অমর প্রেম’। পরিচালনা করেছেন জাহিদুল ইসলাম সুজন। এতে তটিনীর বিপরীতে আছেন পার্থ শেখ।

    নাটকের পাশাপাশি তটিনীকে নিয়ে সিনেমা বানানোর কথাও ভাবছেন নির্মাতারা। মাঝে মাঝেই খবর প্রকাশ পায় সিনেমায় নাম লেখাচ্ছেন তিনি। তবে তটিনী জানালেন, একাধিক প্রস্তাব পেলেও সিনেমা নিয়ে এখনই ভাবতে চান না তিনি। নাটকেই এখন পুরো মনোযোগ তাঁর। নিজেকে আরও প্রস্তুত করে বড় পর্দায় নাম লেখাতে চান তটিনী।

  • বদলে যাচ্ছেন বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ত্রাওরে

    বদলে যাচ্ছেন বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ত্রাওরে

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে দেশটির মুসলিম আলেমদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উগ্র ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ‘লড়াই শুরু হয়েছে’।

    সম্প্রতি এক বক্তব্যে ত্রাওরে বলেন, ইসলামকে চরমপন্থার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। যদি এটিই আপনাদের ইসলাম হয়, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রপন্থীদের পরিবর্তন হতে হবে। তা না হলে লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

    তিনি সরকারের বিতর্কিত ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের পক্ষেও অবস্থান নেন। তার দাবি, নতুন আইনটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে যেসব ইমাম খুতবায় উগ্রবাদ ছড়াবেন, তাদের সাময়িক বরখাস্ত করারও সতর্কবার্তা দেন। তবে শান্তিপূর্ণ ইসলামের প্রচার করেন এমন আলেমদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    গত মে মাসে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের খসড়ার সমালোচনা করায় দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে রাজধানী ওয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তার প্রায় ১০০ সমর্থককে ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’-এর নামে একটি সামরিক শিবিরে পাঠানো হয়। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ইমাম মাহমুদ বারোকেও আটক করা হয়েছিল।

    ২০ জুন অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাস করে। এতে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা এবং কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কিছু ধর্মীয় অনিয়মের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার বলছে, আইনটি ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক কাঠামো শক্তিশালী করবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ শুধু একটি আইনকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ২০২২ সালে ক্ষমতা দখলের পর সামরিক সরকারের সঙ্গে মুসলিম আলেমদের যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা গড়ে উঠেছিল, সেটি ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জঙ্গি সংকট মোকাবিলাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    এদিকে ত্রাওরে বিদেশে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা যাবে না এবং বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

    একই সময়ে বুরকিনা ফাসো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। সম্প্রতি দেশটিতে ইসরাইলের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • আত্তাহিয়াতু: নামাজের হৃদয়স্পর্শী দোয়া ও ইমানের ঘোষণা

    আত্তাহিয়াতু: নামাজের হৃদয়স্পর্শী দোয়া ও ইমানের ঘোষণা

    আত্তাহিয়াতু— সুন্দর একটি গল্প! যার প্রতিটি শব্দে রয়েছে তাওহিদ, সম্মান ও ইমানের ঘোষণা। নামাজ যেমন একজন মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর নামাজের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো তাশাহহুদ, যা আমরা ‘আত্তাহিয়াতু’ নামে জানি। এই দোয়ার প্রতিটি বাক্যে রয়েছে মহান আল্লাহর প্রশংসা, প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি সালাম, নেককার বান্দাদের জন্য দোয়া এবং ইমানের সর্বোচ্চ ঘোষণা।

    সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, আত্তাহিয়াতুর বাক্যগুলো মিরাজের রাতে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর কথোপকথনের অংশ। তবে নির্ভরযোগ্য হাদিসে এ বিষয়ে কোনো সহিহ বর্ণনা নেই। তাই একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত সহিহ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি জানা এবং অন্যদের কাছেও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

    আত্তাহিয়াতুর আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ

    التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

    উচ্চারণ: ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’

    অর্থ: ‘সমস্ত সম্মান, সকল ইবাদত এবং সব পবিত্র কথা ও কাজ একমাত্র আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।’

    কুরআনের আলোকে

    ১. সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য

    قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

    ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু— সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।’ (সুরা আল-আনআম: আয়াত ১৬২)

    ২. নবী (সা.)-এর প্রতি সালাম ও দরুদ

    إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও পূর্ণ সালাম পাঠাও।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৫৬)

    সহিহ হাদিসের আলোকে

    ১. রাসুল (সা.) সাহাবিদের আত্তাহিয়াতু শিক্ষা দিয়েছেন

    হজরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের তাশাহহুদ এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমাদের কুরআনের একটি সূরা শিক্ষা দিতেন। এরপর তিনি এই আত্তাহিয়াতুর দোয়া শিক্ষা দেন। (বুখারি ৮৩১, মুসলিম ৪০২)

    ২. ‘আসসালামু আলাইনা…’-এর ফজিলত

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা বলো—

    السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ

    তখন এই দোয়া আসমান ও জমিনের প্রত্যেক নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়।’ (বুখারি ৮৩১)

    আত্তাহিয়াতুর শিক্ষণীয় বিষয়

    • সকল সম্মান ও ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত।
    • নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও সালাম প্রকাশ করা।
    • নিজের জন্য এবং সকল নেককার মুসলিমের জন্য দোয়া করা।
    • তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য পুনর্নবায়ন করা।
    • প্রতিটি নামাজে ইমানকে আরও দৃঢ় করা।

    আত্তাহিয়াতু শুধু নামাজের একটি দোয়া নয়; এটি একজন মুমিনের আকিদা, ইবাদত, ভালোবাসা এবং ইমানের এক অনন্য ঘোষণা। তাই এর অর্থ বুঝে, মনোযোগ ও খুশু-খুজুর সঙ্গে পড়া উচিত। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, আত্তাহিয়াতু মিরাজের রাতে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর কথোপকথন ছিল—এ কথা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। ইসলামের সৌন্দর্য হলো, আমরা যে বিষয় প্রচার করি তা যেন কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহ ইলম অর্জন ও তার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মসজিদ, গাড়ি ও কৃষিজমিতে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতকারীরা

    মসজিদ, গাড়ি ও কৃষিজমিতে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতকারীরা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদ, বেশ কিছু গাড়ি ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতকারীরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় অঞ্চলটিতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পশ্চিমতীরের তাল গ্রামের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটল ইসরায়েলি বসতকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার মাত্র দুদিন পর।

    রোববার (২৬ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইসরায়েল সরকারের উগ্র ডানপন্থী অংশের সমর্থনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অধিকৃত পশ্চিমতীরের দুটি গ্রামে রাতভর হামলা চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুট এবং বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি লেখা হয়।

    কুসরা গ্রামের মেয়র জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বসতকারীরা নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি বলেন, মসজিদের দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেওয়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুসরায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করবে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৃথক একটি ঘটনায় কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। হামলাকারীরা এই মসজিদের দেয়ালেও বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।

    গত শুক্রবার তাল গ্রামের কাছে সংঘর্ষে হতাহতের পর পশ্চিমতীরের বিভিন্ন গ্রামে ইসরায়েলি বসতকারীদের একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পশ্চিমতীরে অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    তাল গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনির বাড়ি ধ্বংস করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ দেখা দিলেও সহিংসতা কমার লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমতীরে ১ হাজার ১১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত। এর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বসতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

    ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে ইসরায়েল শত শত বসতি গড়ে তুলেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। আর এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।

    নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ

    সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এ ছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।

    তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না

    ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।

    এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।

    উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • ল্যাপটপ ব্যবহারে মানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    ল্যাপটপ ব্যবহারে মানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    ফিচার

    কাজ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন ল্যাপটপের ব্যবহার বাড়ছে। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অনেকের কাছেই এটি প্রথম পছন্দ। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন না নিলে ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস।

    প্রথমত, ল্যাপটপ সব সময় চার্জারে সংযুক্ত রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় চার্জে থাকলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ দিয়ে ব্যাটারির স্বাস্থ্য বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও ফাইল নিয়মিত মুছে ফেলা প্রয়োজন। এগুলো স্টোরেজের জায়গা দখল করার পাশাপাশি ল্যাপটপের গতি কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ডিভাইস দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে।

    তৃতীয়ত, অপারেটিং সিস্টেম এবং ইনস্টল করা সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। নতুন আপডেট শুধু নতুন সুবিধাই যোগ করে না, নিরাপত্তা দুর্বলতাও দূর করে এবং ডিভাইসের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

    এ ছাড়া চার্জ দেওয়ার সময় ল্যাপটপ সব সময় শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখা উচিত। বিছানা বা নরম পৃষ্ঠে রাখলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে ডিভাইসের ক্ষতি হতে পারে।

    সবশেষে, অজানা ইউএসবি ডিভাইস বা অনিরাপদ চার্জিং কেবল ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। এতে তথ্য চুরি বা ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ দিয়ে নিয়মিত মোবাইল ফোন বা পাওয়ার ব্যাংক চার্জ না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ল্যাপটপের ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে এর কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    যশোরের চৌগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এবার বিআর-৫১, বিআর-৮৭, বিআর-৭৫, প্রতীক, লাল স্বর্ণ, কাশ্মিরী স্বর্ণ, ইন্ডিয়ান মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হবে।

    উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম, সিংহঝুলি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাবের আলী সরদার, স্বরূপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাগর খান, সামছুল হুদা দফাদার, ইছাহাক আলী দফাদার এবং মিজানুর রহমান কাটু বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, মাঠে এখন আমন ধান রোপণের ব্যস্ত সময় চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ধান চাষ করেও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, আগে নিজের সব জমিতেই ধান চাষ করতাম; কিন্তু লোকসানের কারণে এবার মাত্র এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছি। গরীবপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন মুজাম বলেন, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। এবারো ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমনের চাষ করবেন; কিন্তু উৎপাদন ব্যয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, উপজেলার প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে আদিনা মসজিদের সামনে পূজা, শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা বিজেপির

    পশ্চিমবঙ্গে আদিনা মসজিদের সামনে পূজা, শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা বিজেপির

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় প্রায় ৬৫০ বছর পুরোনো আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে মন্দির–মসজিদ বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির এক নেতার নেতৃত্বাধীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন মসজিদের বাইরে পূজা–অর্চনা শুরু করায় এ বিতর্কের সূত্রপাত। আগামী সোমবার সেখানে একটি বড় শিবলিঙ্গ স্থাপনেরও পরিকল্পনা করছে তারা।

    ১৩৭৩ সালে সুলতান সিকান্দার শাহ নির্মিত আদিনা মসজিদকে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) মধ্যযুগে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে উগ্রবাদী কয়েকটি হিন্দু সংগঠন ও বিজেপির দাবি, এটি শিবের উদ্দেশে নির্মিত প্রাচীন ‘আদিনাথ মন্দিরের’ স্থানে গড়ে তোলা হয়েছিল।

    ‘আদিনাথ পুরাতন শিবমন্দির’ সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং বিজেপির উত্তরবঙ্গ ‘গুড গভর্ন্যান্স উইং’-এর আহ্বায়ক কাজল গোস্বামী বলেন, ‘এই মসজিদে হিন্দু ও বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। আদিনাথ মন্দির ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।’

    সংগঠনটির দাবি, মসজিদটিতে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের নানা প্রতীক রয়েছে। এমনকি একটি শিবলিঙ্গও রয়েছে। এ বিষয়ে এএসআইয়ের প্রতিবেদন চেয়ে তারা শিগগিরই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করবে।

    কাজল গোস্বামী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো মন্দিরটি পুনরুদ্ধার করা এবং শিবলিঙ্গটি সেখানে স্থাপন করা।’ এ উদ্দেশ্যে প্রায় ২৮৯ কিলোমিটার দূরের পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বর থেকে ৩ দশমিক ৬ ফুট উঁচু ও প্রায় দেড় টন ওজনের একটি শিবলিঙ্গ আনা হচ্ছে।

    তবে কাজল গোস্বামী বলেন, ‘আমরা আইন মেনেই কাজ করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চাই না। এএসআই ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, মসজিদের সীমানার বাইরে পূজা করতে।’

    আদিনা মসজিদকে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ উল্লেখ করে এএসআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, সংগঠকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্মৃতিস্তম্ভের ভেতরে কোনো কিছুই করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরাও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করছি।’ বর্তমানে মসজিদটির ভেতরে কোনো নামাজ হয় না।

    সম্প্রতি মালদহ জেলা পুলিশ এক সতর্কবার্তায় জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পোস্টের খবর তারা পেয়েছে, যেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আদিনা স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

    পুলিশ জানায়, আদিনা কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রত্নস্থল আইন অনুযায়ী এটি সংরক্ষিত। তাই এর ভেতরে কোনো ধর্মীয় আচার বা অননুমোদিত কার্যক্রমের অনুমতি নেই। আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় রাজ্যসভার সদস্য ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বিষয়টি সংসদে তোলেন।

    সংসদে সমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৩৭৩ সালে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি সেখানে আগে থেকে থাকা হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপনার উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, এখানে আগে শিব ও বিষ্ণুর উদ্দেশে নির্মিত আদিনাথ মন্দির ছিল। মসজিদের ভেতরে থাকা হিন্দু প্রতীক ও স্থাপত্যও সেই দাবিকে সমর্থন করে।’

    সমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘ভারতে হাজারো মন্দির দখলদারদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল। আদিনাথ মন্দিরও সেগুলোর একটি। এটি যেকোনো মূল্যে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আশা করি, ভারত সরকার ও এএসআই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।’

    বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি রাহুল সিনহা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, আদিনা বিতর্কের সঙ্গে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ–রামমন্দির বিরোধের মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রামমন্দিরের মতো এখানেও একটি মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এ মন্দিরকে ঘিরে মানুষের ধর্মীয় আবেগ রয়েছে। সেই আবেগ উপেক্ষা করা উচিত নয়। সত্য সামনে আসা প্রয়োজন।’

    রাহুল সিনহার দাবি, এখনো আদিনা মসজিদে উল্টো করে বসানো হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে পর্যন্ত সেখানে পূজা হতো। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। মন্দিরের জমিও দখল করা হয়েছে।’

    অন্যদিকে সিপিআই (এম)-এর রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এটি বিজেপির পুরোনো রাজনৈতিক কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। তিনি বলেন, ‘বিজেপি বা আরএসএস কোথাও ভিত্তি তৈরি করতে পারলেই প্রথমে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড শুরু করে। এরপর সংঘাত ও বিভাজন সৃষ্টি করে। আদিনা মসজিদ তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

    সেলিমের দাবি, আদিনাতেই বিষয়টি থেমে থাকবে না। হুগলি, বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা হবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, ‘আন্দোলনের কাজ মানুষকে এক করা, বিভক্ত করা নয়।’

    এএসআইয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আদিনা মসজিদ শুধু বাংলার নয়, মধ্যযুগে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল। মসজিদের পেছনের দেয়ালে থাকা শিলালিপি অনুযায়ী, এটি ১৩৭৩ সালে ইলিয়াস শাহী বংশের দ্বিতীয় সুলতান সিকান্দার শাহ নির্মাণ করেন।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পরই কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন অঞ্চলে ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখায়, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

    দলের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাঁকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াতের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।

    নেতাদের সাবধান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ ভাসে বেশি। সাবধান, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।
    প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশি সংবিধান কচলাবেন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।

    ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

  • রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে’: জামায়াত আমির

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে’: জামায়াত আমির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেরিতে হলেও জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    একইসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষতা, সততা ও সংবিধানসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন না। তিনি একসময় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেয়া শপথের লঙ্ঘন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ছায়া সরে গেল।

    তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ দায়িত্ব পালনে জামায়াতে ইসলামী তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা চাই, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এমন কেউ হোন, যিনি কোনো তোষামোদকারী নন।

    এসময় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যায় তিনি নীরব সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।

  • আরেক মুসলিম দেশে হামলার ‘পরিকল্পনা’ ট্রাম্পের

    আরেক মুসলিম দেশে হামলার ‘পরিকল্পনা’ ট্রাম্পের

    এবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সামরিক অভিযান চালানো কথা ভাবছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটি মালিতে আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের (জেএনআইএম) বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    রিপোর্ট, এই পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি হবে অষ্টম দেশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাবে।

    মালি পশ্চিম আফ্রিকার একটি মুসলিম প্রধান দেশ। দেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন। এই দেশের রাজধানী বামাকো এবং ঐতিহাসিক শহর টিম্বাকতু ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক প্রাচীন কেন্দ্র।

    জেএনআইএম ২০১৭ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। আল-কায়েদার মিত্র সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে হামলা বাড়িয়েছে।

    গত মাসে তারা নাইজারের রাজধানীর একটি বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এছাড়া মালির অভ্যন্তরে জ্বালানি অবরোধ, বিভিন্ন এলাকা অবরুদ্ধ করা এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরা এবং ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির কথা বললেও ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেই মালিতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

    হামলার এই অনুমোদন মিললে ২০২৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালিত দেশগুলোর তালিকায় মালিও যুক্ত হবে।

    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনে হামলার নির্দেশ দিয়েছে।

    এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে অভিযান চালিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ মালি?

    মালি আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। এছাড়া দেশটিতে বিপুল লিথিয়াম মজুত রয়েছে, যা বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্র।

    মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার বর্তমানে সামরিক শাসিত দেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটসের সদস্য।

    সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।

    কারা সামরিক হামলার পক্ষে?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালিতে জেএনআইএমের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অবস্থান নেয়া ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও প্রেসিডেন্টের ডেপুটি সহকারী সেবাস্টিয়ান গোরকা।

    তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদনের কথা ভাবছেন।

    হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ইন্ডিপেনডেন্ট’কে বলেছেন, সাহেল অঞ্চলের দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সফল হোক, সেটিই যুক্তরাষ্ট্র চায়। তবে মালির অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য তিনি রাশিয়াকে দায়ী করে বলেন, নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে রাশিয়া কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
    তিনি আরও বলেন, আফ্রিকার অন্যান্য দেশও যেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়ার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

    ট্রাম্প প্রশাসন সাহেল জোটভুক্ত দেশ এবং পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য উপকূলীয় দেশগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা কেনার আহ্বান জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে মালিকে সহায়তা করতে ন্যাটো এবং আঞ্চলিক মিত্রদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনের প্রশাসন।

    এদিকে রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছর জেএনআইএম বামাকোসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে। আত্মঘাতী হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ মাসে মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পস বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে জেএনআইএমের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সংগঠনটি একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে এবং একটি গ্রামের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়।

    গত সপ্তাহে জেএনআইএম একটি যৌথ সামরিক বহরে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আফ্রিকা কর্পসের সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন এবং বহু মালি সেনাকে ফেলে যান। পরে জঙ্গিরা তাদের অনেককে আটক করে হত্যা করে।

    মানবাধিকার পরিস্থিতি

    আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটার (এসিএলইডি)তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেএনআইএম ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ২৩২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। অন্যদিকে একই সময়ে মালির সেনাবাহিনী ও রুশ ভাড়াটে বাহিনীর অভিযানে ৯২৫ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে এসিএলইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

    গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য ছিল, আফ্রিকার খনিজসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা।
    তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    সুফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওয়াসিম নাসর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে বলেন, আরও একবার সামরিক সমাধানের পথ বেছে নিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ফ্রান্স ১০ বছর এই কৌশল অনুসরণ করেছে, রাশিয়া পাঁচ বছর ধরে একই চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিস্থিতি শুধু আরও খারাপ হয়েছে।

  • মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে সকালের নাস্তা খেয়ে এক প্রবাসীর পরিবারের পাঁচ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েছেন। অচেতন ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরনাংলা গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০), ছেলে রিপন ইসলাম (২৩) ও রিমন (১৭), মেয়ে সাথী আক্তার এবং তিন বছরের নাতনি হুমাইরা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের সবাইকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাঁধের মাথা বাজারে প্রবাসী শাহ আলমের বড় ছেলে রিপন ইসলামের একটি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও দোকান খোলার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান বন্ধ দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। রাত ৯টার দিকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    পরে জ্ঞান ফিরলে রিনা আক্তার বলেন, সকালে খাবার ও টিউবওয়েলের পানি পানের পর থেকেই সবার মাথা ব্যথাসহ গভীর ঘুম আসে। এরপর কী হয়েছিল বলতে পারি না।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা: জাকিয়া জানান, বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার বা পানির সাথে চেতনানাশক কিছু মেশানো ছিল।

    এ,আর

  • মতপার্থক্য ও ভিন্নমতের আদব

    মতপার্থক্য ও ভিন্নমতের আদব

    মানুষের চিন্তা, উপলব্ধি ও বিচারশক্তির ভিন্নতার কারণে মতের পার্থক্য হওয়া একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা। ইসলাম এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি; বরং এর জন্য একটি সুন্দর নীতিমালা ও শিষ্টাচার নির্ধারণ করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং পরবর্তী যুগের মুজতাহিদ ইমামদের মধ্যেও বহু বিষয়ে মতভেদ ছিল। কিন্তু সেই মতভেদ কখনো তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও ভ্রাতৃত্বকে বিনষ্ট করেনি। আজকের দিনে যখন সামান্য মতপার্থক্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জনপরিসরে তীব্র বিতর্ক, বিদ্বেষ ও বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন ইসলামের শেখানো মতভেদের আদব নতুন করে স্মরণ করা জরুরি।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সুরা আলে ইমরান : ১০৩) এই আয়াত আমাদের শেখায়, উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করা একটি মৌলিক দায়িত্ব। তবে ঐক্য মানে সব বিষয়ে একই মত পোষণ করা নয়। বরং কোরআন-সুন্নাহর মৌলিক নীতির ওপর ঐক্যবদ্ধ থেকে ইজতিহাদি বিষয়ে মতভেদকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করাই ইসলামের শিক্ষা।মতভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেই আমরা মতভেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। বনু কুরাইজার অভিযানের সময় তিনি সাহাবাদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় পৌঁছানোর আগে আসরের সালাত আদায় না করে।’ একদল সাহাবি নির্দেশের আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করে গন্তব্যে পৌঁছে সালাত আদায় করেন। অন্য দল বুঝেছিলেন, রাসুল (সা.)-এর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত পৌঁছানো; তাই তারা পথেই সময়মতো সালাত আদায় করেন। পরে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি কোনো পক্ষকেই দোষারোপ করেননি। এই ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তরিক ইজতিহাদের ভিত্তিতে মতভেদ হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

    চার মাজহাবের ইমামদের জীবনও মতভেদের আদবের উজ্জ্বল উদাহরণ অনেক। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রহ.) বহু মাসআলায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন। কিন্তু তারা কখনো একে অন্যকে অপমান করেননি বা শত্রু মনে করেননি। বরং তারা পরস্পরের জ্ঞান, তাকওয়া ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর একটি প্রসিদ্ধ উক্তি হলো, ‘আমার মত সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে ভুলও হতে পারে; আর অন্যের মত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে সঠিকও হতে পারে।’ এই বক্তব্য একজন আলিমের বিনয়, উদারতা ও সত্যের প্রতি নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত।সুন্দর ভাষা ও উত্তম আচরণ

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে উত্তম কথা বলো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৮৩) মতভেদ থাকলেও কটূক্তি, বিদ্রুপ, অপবাদ বা গালাগাল একজন মুসলিমের চরিত্র হতে পারে না। ইসলামে যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রমণ দিয়ে নয়।

    সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা

    কোনো ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে মতভেদ থাকলেও তাদের প্রতি সুবিচার করতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। ন্যায়বিচার কর; এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা আল-মায়িদা : ৮) তাই প্রতিপক্ষের বক্তব্য বিকৃত করা, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অযথা সন্দেহ করা বা ভালো দিকগুলো গোপন করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

    ইলম ও দলিলের অনুসরণ

    কোরআন-সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য আলিমদের ব্যাখ্যার আলোকে মতপ্রকাশ করতে হবে। অল্প জ্ঞান নিয়ে শরয়ি বিষয়ে মন্তব্য করা বা অন্যকে পথভ্রষ্ট বলে ঘোষণা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া মতামত প্রচার করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, ইসলামের মৌলিক আকিদা ও ফরজ বিধান এক বিষয় আর ইজতিহাদি ফিকহি মতপার্থক্য আরেক বিষয়। এ দুটিকে এক করে দেখলে অযথা বিভেদ সৃষ্টি হয়।

    বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ব। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতভেদ যেন বিদ্বেষ, অপবাদ বা বিভক্তির কারণ না হয়। বরং তা যেন জ্ঞানের বিকাশ, সত্যের অনুসন্ধান এবং পারস্পরিক শিক্ষালাভের মাধ্যম হয়।

    ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, মতপার্থক্য যদি কোরআন-সুন্নাহর সীমার মধ্য থেকে আদব, ন্যায়বোধ ও তাকওয়ার সঙ্গে পরিচালিত হয়, তবে তা দুর্বলতার নয়; বরং বুদ্ধিবৃত্তিক সমৃদ্ধির পরিচয়। তাই ব্যক্তি বা দলের অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং দলিলের প্রতি আনুগত্য, বিনয়, সহনশীলতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে মতভেদ পরিচালনা করাই একজন সচেতন মুসলিমের কর্তব্য। এ পথেই উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং ইসলামের সৌন্দর্য আরো উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পাবে।

  • ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল পাঁচটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    স্পিকার আজ শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবেন না করবেন, তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।’

    সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। আর গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’

    রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ট্র্যাডিশনাল বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের পজিশন।’

    ১৯ জুলাই স্পিকার ঢাকা থেকে ব্যাংককে যান চিকিৎসার জন্য। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফিরলেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

    কয় দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায়। তিনি আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়। আমরা মানুষ, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়। আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের রুকন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, আমরা দাবি করি না যে আমাদের কোনো ভুল হয় না। বরং আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আমরা তা সংশোধনের চেষ্টা করব। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত কোনো ছাড় দেয় না।

    দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সাদা কাপড়ে যেমন সামান্য দাগও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি একটি আদর্শিক দলের কর্মীদের সামান্য বিচ্যুতিও মানুষের নজরে আসে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কিন্তু অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দল পিছপা হবে না।

    তিনি বলেন, শয়তান সবসময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই নেতাকর্মীদের সব বিষয়ে সৎ ও নৈতিক হতে হবে। নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত হলে সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, প্রত্যেক যুগেই কিছু অপরাধপ্রবণ মানুষ ছিল। সে কারণেই যুগে যুগে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করি। তারপরও ধানের মধ্যে যেমন চিটা থাকতে পারে, তেমনি সমাজ বা সংগঠনের মধ্যেও ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণ-আন্দোলনের চেতনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রভাব ফেলছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। একটি গণরায়ের ফল মেনে নিয়ে আরেকটি অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    তিনি বলেন, যদি সংসদে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে জনগণ রাজপথেই সমাধান খুঁজে নেবে—যেমনটি ২০২৪ সালে হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংবিধানকে অতিরিক্ত টানাটানি করবেন না। আমরা দেখতে চাই সরকার জনগণের রায়কে সম্মান জানায়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে খুন, সন্ত্রাস ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যদের বিষয়ে যতটা সক্রিয়, নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে ততটা মনোযোগী নন। তিনি যেন নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গুরুত্ব দেন এবং দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

  • তাকওয়া ও আত্মসংযমের অনুশীলন

    তাকওয়া ও আত্মসংযমের অনুশীলন

    বান্দার সঙ্গে রবের নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম হলো ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের অত্যন্ত কাছে চলে যায়। ইবাদতের মধ্যে রয়েছে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রভৃতি। নামাজ বান্দার জন্য নিত্যদিনের ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত, তথা ফরজ। আর রোজার জন্য নির্ধারিত মাস রমজান। নামাজ যেমন ফরজ ব্যতীত সুন্নাহ ও নফল রয়েছে, তেমনি রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল ও সুন্নাহর বিধান রয়েছে। আর আইয়ামে বিজের রোজা এমনই একটি সুন্নাহ।

    আরবিতে ‘আইয়ামে বিজ’ অর্থ উজ্জ্বল বা শুভ্র দিবস। প্রতি মাসের এই দিনগুলোয় চাঁদ পূর্ণিমার পূর্ণ আলো দেয়, যার কারণে এই দিনগুলোকে আইয়ামে বিজ নামে অবহিত করা হয়। মূলত, হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখই আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বল দিবস। প্রত্যেক হিজরি (আরবি) চন্দ্র মাসের ১৩‚ ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখতে হয় এই রোজা। রাসুল (সা.) এই রোজার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হাদিসে নববিতে উল্লেখ আছে, আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ (তিরমিজি : ৭৬১)আইয়ামে বিজের রোজা রাখার নিয়ম

    প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রাখতে হয়। এই রোজার নিয়ম ফরজ রোজার মতোই। রোজার জন্য নিয়ত করা অপরিহার্য। নিয়ত মনে মনে করতে হয়। নিয়ত রাতে বা ফজরের আগে করা উত্তম। (মুসলিম : ১১৫১)

    আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত

    আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী নবী করিম (সা.) আইয়ামে বিজের রোজা রাখতে সাহাবিদের নির্দেশনা করেছেন। হাদিসে এই রোজাকে সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আবু হুরায়য়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তার জন্য তা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।’ (বুখারি : ১৯৭৯)

    আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।’ (বুখারি : ১৫৬৬; মুসলিম : ১৪০০)

    রোজা আমাদের মাঝে তাকওয়া ও আত্মসংযম সৃষ্টি করে। এটি আমাদের চোখ, কান, জিহ্বা এমনকি নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সব পাপের বিরুদ্ধে ঢালস্বরূপ ভূমিকা রাখে। আমাদের উদ্বুদ্ধ করে নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, মানুষের প্রতি উদার ও মহানুভব হতে এবং প্রস্তুত করে রবের হুকুম আঁকড়ে ধরতে।

    রোজা এমন ইবাদত, যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা দান করবেন। এটি মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে, কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্তরে ঈমানের আলো প্রসারিত করে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তার ইবাদতে শামিল হওয়ার তৌফিক দিন এবং ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদত করার তৌফিক দান করুক, আমাদের প্রতিটি আমলের বিনিময়ে দান করুন তার নৈকট্য। আমিন।

  • শ্রেণিকক্ষ থেকে কবরস্থানে ১২০ শিশু

    শ্রেণিকক্ষ থেকে কবরস্থানে ১২০ শিশু

    ইরানের স্কুলে ভয়াবহ মার্কিন হামলার হৃদয়বিদারক গল্প

    দক্ষিণ ইরানের ছোট শহর মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক মাস পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সেদিনের বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না শিক্ষক আমিনেহ নাদেমি।
    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এই হামলায় ১২০ শিশুসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। মিনাব প্রসিকিউটরের কার্যালয় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

    মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় স্কুল
    ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষক আমিনেহ নাদেমি বলেন, সেদিনও অন্য দিনের মতোই ক্লাস শুরু হয়েছিল। রমজান মাস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে নামাজকক্ষে কোরআন তিলাওয়াত করে। এরপর তিনি প্রথম শ্রেণির ছাত্রীদের ফারসি বর্ণমালার নতুন একটি অক্ষর শেখাতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধের প্রথম হামলা শুরু হয়।
    স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে এবং অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়ে যেতে বলা হয়। আমিনেহ জানান, তার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তখন মাত্র পাঁচজন শ্রেণিকক্ষে ছিল। হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তিনি শিশুদের নিতে ফিরে যান।

    তিনি বলেন, আমি বের হওয়ার ঠিক মুহূর্তেই একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলে আঘাত হানে। আমার মাথায় এবং শিশুদের মাথায় আঘাত লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি।
    এরপর পুরো শ্রেণিকক্ষ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শ্বাস নেয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পুরো ভবন ধসে পড়ে। আমার আর শিশুদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল, বলেন তিনি।
    ধোঁয়া কিছুটা সরে গেলে আহত শিশুদের নিচে থাকা লোকজনের কাছে নামিয়ে দেন তিনি। পরে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে স্কুলের ফটকে গিয়ে দেখেন, অসংখ্য অভিভাবক খালি পায়ে ছুটে এসেছেন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি যে অধিকাংশ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

    নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও বহু শিক্ষার্থী
    ছয় বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা আমিনেহ জানান, হামলায় তার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আদ্রিনা, দ্বিতীয় শ্রেণির ফাতেমেহ, ষষ্ঠ শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এবং কোরআনের শিক্ষক নিহত হন।

    উদ্ধারকর্মীদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা
    ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মী রেজা বাশারাতি বলেন, হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাউকেই জীবিত পাইনি।

    রেজার ভাষ্য, অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত ছিল যে শুধু হাত, পা বা শরীরের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। অনেক পরিবার সন্তানদের জুতা বা পোশাক দেখে তাদের শনাক্ত করেছে।
    তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় বারবার বলছিলেন, আমার ছেলেকে খুঁজে দাও। কিন্তু আমি বলতে পারিনি যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমরা সবাই কাঁদছিলাম।

    তদন্তে কী উঠে এলো
    হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রথমে এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং মার্কিন বাহিনী কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না।

    তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পুরোনো তথ্যের কারণে স্কুলটিকে আইআরজিসির সামরিক স্থাপনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
    বিশেষজ্ঞদের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলের পাশের আইআরজিসি কমপ্লেক্সে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট চিত্রে স্কুল এবং পাশের কয়েকটি ভবনেও হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
    অন্যদিকে, ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ২০১৬ সাল থেকে স্কুলটি আইআরজিসি কমপ্লেক্স থেকে আলাদা দেয়াল দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং এর নিজস্ব প্রবেশপথ ও খেলার মাঠ ছিল। এছাড়া এটি একটি স্কুল- এ তথ্যও হামলার আগেই অনলাইনে প্রকাশ্যে ছিল।
    মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, তদন্ত এখনও চলমান এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    মোজা দেখে শনাক্ত করা হয় ৯ বছরের শিশুকে
    ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই বিদ্যালয় থেকে অল্প দূরেই রয়েছে কবরস্থান, যেখানে নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেককে দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে যান মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি। তার নয় বছরের মেয়ে সেতায়েশ ওই হামলায় নিহত হয়।
    তিনি বলেন, স্কুল বলে কিছুই আর ছিল না। চারদিকে শুধু ধোঁয়া, শিশুদের চুল, একদিকে হাত, অন্যদিকে পা পড়ে ছিল। সবাই টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।

    মাসুমেহ জানান, পরদিন ভোর পর্যন্ত মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে মেয়ের ক্রিম রঙের মোজা দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, সেতায়েশ বড় হয়ে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। সে ঘরে পুতুল সাজিয়ে বলত- ‘আমি তোমাদের শিক্ষক।’

    শোকের সঙ্গে ক্ষোভ
    এই হামলাকে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বারবার তুলে ধরছে। এমনকি আলোচক বহনকারী একটি বিমানের নামও রাখা হয়েছিল ‘মিনাব-১৬৮’, যা নিহতের আগের সরকারি সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত।
    স্থানীয়দের মতে, এ হামলা ইরানের মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি।
    মেয়ের কবরের পাশে বসে মাসুমেহ বলেন, এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল? তাদের হাতে কি অস্ত্র ছিল? তাদের হাতে ছিল শুধু পেন্সিল, বই, খাতা আর স্কুলব্যাগ। তারা যুদ্ধ করতে যায়নি, তারা শুধু শিখতে গিয়েছিল।

  • গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহদ শুহাদা ওথমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গলফকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আন্তরিকতা ও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    এ সময় বিপিজিএর সেক্রেটারি জেনারেল সিফাত আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • আল-আকসায় বেন-গভিরসহ শত শত ইহুদি, জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    আল-আকসায় বেন-গভিরসহ শত শত ইহুদি, জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ‘তিশা বি’আভ’ শুরু হওয়ার পর থেকেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত বসতি স্থাপনকারী অবৈধভাবে প্রবেশ করতে শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যায় ইহুদিদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিজেও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

    জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা ২,৩০০ ছাড়িয়েছে। তারা ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার অধীনে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে; ফলে বহুসংখ্যক ফিলিস্তিনি মুসুল্লিকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মুসুল্লির ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন বেন-গভিরের আল-আকসায় প্রবেশকে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা জানায়, এটি প্রমাণ করে অতীতে চরমপন্থী ডানপন্থীদের করা এসব কাজের পেছনে এখন ইসরাইল সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে।

    জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    এদিকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরাইলিদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান ও ফিলিস্তিনের গাজার সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস।

    জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ মাজালি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ও আইনি ‘স্ট্যাটাস কো’ (বিদ্যমান অবস্থা) লঙ্ঘন করে। জেরুজালেমে অবস্থিত ইসলামিক ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের এমন ধারাবাহিক লঙ্ঘন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আম্মান।

    একইভাবে নিন্দা জানিয়ে হামাস বলেছে যে, এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দখলদার বাহিনী ও তার বসতি স্থাপনকারীদের ওপরেই গিয়ে পড়বে।

    এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, আমাদের দেশের মানুষ এবং প্রতিরোধ বাহিনী আমাদের পবিত্র স্থানগুলোর এই অবমাননার মুখে নিশ্চুপ বসে থাকবে না।

  • ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার নতুন নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

    তিনি বলেন, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস অ্যাডমিরাল মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে গত ১৬ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

    তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

    চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    সাবেক এই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুকসেদুর রহমান আবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    এর আগে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    ধর্ম ও জীবন

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। একে অনেকে তরবারির শক্তির ওপর ভর করে ইসলামের আগমন বলে মনে করেন। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

    তাদের মতে, ভারতে ইসলামের আগমন কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিণাম।

    ভারতে ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাণিজ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত গোলমরিচের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। আরব সাগর শান্ত থাকায় এই সমুদ্রপথে আরব বণিকদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তারা বর্ষার সময়ে ভারতে আসতেন এবং ব্যবসা শেষে আরবে ফিরে যেতেন।

    বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ আরবদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে দক্ষিণ ভারতে ‘মাপ্পিলা মুসলিম’ নামে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে।

    রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর প্রায়ই উল্লেখ করেন যে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত আরব বণিকদের হাত ধরেই মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছিল। কোনো তলোয়ারের জোরে কেরালায় ইসলাম পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ভারতে ইসলামের আগমন সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

    প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই প্রাচীন মুজিরিস বন্দর দিয়ে কেরালায় ইসলাম এসেছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত ‘চেরামন জামা মসজিদ’ এই দাবির পক্ষে বড় প্রমাণ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কেরালার হিন্দু রাজা চেরামন পেরুমলের ইসলাম গ্রহণের গল্পও জড়িয়ে আছে।

    প্রফেসর ইলিয়াসের মতে, আরবরা এখানে মূলত গোলমরিচের ব্যবসা করতে এসেছিলেন। তারা বাণিজ্যের পাশাপাশি হিসাব করার পদ্ধতি, ওজন মাপার কৌশল এবং ভালো নৌকা তৈরির প্রযুক্তিও শিখিয়েছিলেন।

    ঐতিহাসিকদের একাংশ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ ও মুলতান দখল এবং পরবর্তীতে দিল্লির সালতানাত প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন।

    তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এই জয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, জোর করে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা নয়।

    ভারতে ইসলামের প্রসারে সুফি আন্দোলনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকের পর চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার সুফি-সন্তরা ভারতের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের খানকাহ ও দরগাহগুলো আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজমেরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসেন। ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটনের মতো পণ্ডিতরা আরেকটি নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলা ও পাঞ্জাবের মতো অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার মূলত কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মুসলিম শাসকরা সুফি খানকাহ ও মসজিদগুলোকে অনুর্বর জমি দান করতেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কৃষি বসতি স্থাপন করলে স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও সামাজিক সুযোগের এক দীর্ঘ মিশ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

    বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

    ধর্ম ও জীবন

    ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্ব এবং আমানত। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও ইসলাম এটিকে কোনো শর্তহীন অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং ন্যায়বিচার, আর্থিক সামর্থ্য, দায়িত্বশীলতা এবং আল্লাহভীতিকে একাধিক বিয়ের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিয়ে গোপন রাখার অনুমোদন নেই। বরং বিয়ের পর তা সমাজে ঘোষণা করা বা প্রচার করা আবশ্যক।

    বিয়ের ঘোষণা (ই’লান): রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা বিয়ে প্রকাশ্যে সম্পন্ন করো। বিয়ে যে সম্পন্ন হয়েছে, তা যেন সমাজের মানুষ জানতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সাক্ষী ও অভিভাবক: বিয়ের আকদ বা চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুইজন মুসলিম পুরুষ (অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) সাক্ষী এবং কনের অভিভাবকের (ওয়ালী) উপস্থিতি থাকতে হবে। হাদিসে এসেছে, অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

    ওলিমা: বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম এবং সুন্নাতসম্মত মাধ্যম হলো ‘ওলিমা’ বা বিয়ের খাবার আয়োজন করা। সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের দাওয়াত খাইয়ে বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং জানান দেওয়া ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর

    তিন দিন যাবৎ ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নম্বর-৩৮৩৪)

    ঢোল বাজানো ও আনন্দ করা: ইসলামে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার জন্য মেয়েদের দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করবে। আর এ উপলক্ষে দফ বাজাবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৮৯)

  • বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

    বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

    ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্ব এবং আমানত। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও ইসলাম এটিকে কোনো শর্তহীন অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং ন্যায়বিচার, আর্থিক সামর্থ্য, দায়িত্বশীলতা এবং আল্লাহভীতিকে একাধিক বিয়ের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিয়ে গোপন রাখার অনুমোদন নেই। বরং বিয়ের পর তা সমাজে ঘোষণা করা বা প্রচার করা আবশ্যক।

    বিয়ের ঘোষণা (ই’লান): রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা বিয়ে প্রকাশ্যে সম্পন্ন করো। বিয়ে যে সম্পন্ন হয়েছে, তা যেন সমাজের মানুষ জানতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সাক্ষী ও অভিভাবক: বিয়ের আকদ বা চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুইজন মুসলিম পুরুষ (অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) সাক্ষী এবং কনের অভিভাবকের (ওয়ালী) উপস্থিতি থাকতে হবে। হাদিসে এসেছে, অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

    ওলিমা: বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম এবং সুন্নাতসম্মত মাধ্যম হলো ‘ওলিমা’ বা বিয়ের খাবার আয়োজন করা। সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের দাওয়াত খাইয়ে বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং জানান দেওয়া ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর তিন দিন যাবৎ ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নম্বর-৩৮৩৪)

    ঢোল বাজানো ও আনন্দ করা: ইসলামে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার জন্য মেয়েদের দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করবে। আর এ উপলক্ষে দফ বাজাবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৮৯)

  • পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে যেসব ভোটার ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি। এ কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাদ পড়া ভোটারের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সম্প্রতি এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট।

    এসআইআরে বাদ যাওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশ মুসলিম এবং মোট ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের অধিকাংশকেই তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই যৌক্তিক অসংগতির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চালু করা হয়েছিল, যার জেরে এত মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

    এই ২৭ লাখ মানুষ ছাড়াও আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত (ডুপ্লিকেট) ভোটার বলে তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই ৬৪ লাখ ভোটারের তথ্যও নতুন করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

    গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সবর ইনস্টিটিউট একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার বা ‘ওপেন ডেটাবেজ’ প্রকাশের কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই ডেটাবেজে ধর্ম ও লিঙ্গ অনুযায়ী সব তথ্য সাজানো থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক ও গবেষকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায় কীভাবে সমস্যায় পড়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত মুসলিম সমাজের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, এই তদন্ত জরুরি। কারণ, ২৭ লাখের বেশি মানুষকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।

    পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    যেমন কোনো দম্পতির ছয়জন বা এর বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের নাম সাধারণভাবে বাদ পড়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলে বা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো অদ্ভুত কারণ দেখিয়েও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে সবর ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে।

    পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় একেবারে গোড়াতেই প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে। এর ফলে গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ।

    নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র ছিল অন্য রকম। বহু প্রকৃত ও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু হয়।

    নির্বাচন শুরুর আগে এবং হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে, বিশেষত মুসলিম সমাজের মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদের হারানো হয়েছে।

    অবশ্য বিজেপির তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা বানিয়ে এবং তাতে অসংখ্য ভুয়া ভোটারের নাম ঢুকিয়ে গত নির্বাচনে জিতেছিল। এবার তারা সেটা করতে না পারায় হেরে গেছে।

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। ১০ এপ্রিল ২০২৬

    নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এরপর বাতিল হওয়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন সেখানে জমা পড়ে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষের আবেদন বিবেচনা করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কারও কাছেই কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

    দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেছে বেছে ভোটারদের নাম বেশি কাটা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণের অভাবে এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সবর ইনস্টিটিউটের এ প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, নির্দিষ্টভাবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল থেকেই ভোটারদের নাম অন্তত এ নির্বাচনে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

    কারণ হচ্ছে, মুসলিম ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দিন ভোট দিয়েছে এসেছে। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ভোট না পাওয়ার কারণেই হেরেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল। এই ভোটাররা কবে ভোটার তালিকায় ফিরবেন এবং ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায্য চাইলো পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায্য চাইলো পাকিস্তান

    বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি’ বা ‘বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। খবর রয়টার্সের।
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাক সরকারের এই অনুরোধ অনুমোদিত হলে নগদ অর্থের সংকটে থাকা ইসলামাবাদের অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন অংশীদারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে ইসলামাবাদ।
    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো অনুরোধে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
    এই সহায়তা অনুমোদিত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় পাক সরকার যে কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে, তা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
    তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। অন্যদিকে,

    আইএমএফের শর্তে চলছে পাকিস্তান
    বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারকে কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে বেশ অজনপ্রিয়।
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত মার্কিন এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ডলার, কারেন্সি সোয়াপ বা আর্থিক গ্যারান্টি দেয়া হয়। এগুলো ফেডারেল রিজার্ভের স্থায়ী ডলার সোয়াপ ব্যবস্থার থেকে আলাদা এবং সংকটকালে সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
    ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের একটি সুবিধা পেয়েছিল। এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকো এ ধরনের মার্কিন সহায়তার আওতায় রয়েছে।

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পাকিস্তানের অনুরোধ অনুমোদন করে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করবে। এতে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আইএমএফের কিস্তি কিংবা জরুরি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
    তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে।
    দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। নীতিগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতীতের মুনাফা প্রত্যাবাসনে বিধিনিষেধ এবং সীমিত রপ্তানি সক্ষমতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
    এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, রিয়েল এস্টেট ও খনিজ সম্পদ খাতে দুই

    পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সীমান্তপারের অর্থ লেনদেনের জন্য স্টেবলকয়েন চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের প্রধান ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
    এছাড়া নিউইয়র্কে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন রুজভেল্ট হোটেল পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেকো ডিক খনি প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।
    ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক এ প্রকল্পে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

  • কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসিজদে কিং চার্লস, মুগ্ধতা প্রকাশ

    কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসিজদে কিং চার্লস, মুগ্ধতা প্রকাশ

    ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তীব্র গরমের মধ্যেও ভবনটি শীতল রাখার পরিবেশবান্ধব নকশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদটির ভূমিকা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি।

    সোমবার (২০ জুলাই) কেমব্রিজের মিল রোডে অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান ধর্মীয় নেতা, মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বাগান ও ভবনের স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর জুতা খুলে নামাজের মূল কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সাথেও কথা বলেন রাজা চার্লস।

    মসজিদটির নকশা ও নির্মাণে দেয়া যত্নের প্রশংসা করে রাজা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সাথে কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত করার উদ্যোগ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    পরিদর্শনের সময় রাজা চার্লস সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেন। পরে তিনি কেমব্রিজকে শহরের মর্যাদা দেয়ার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কেমব্রিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের মর্যাদা দিয়েছিলেন।

    মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদকে ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভবনের ছাদে বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নিচতলায় থাকা উচ্চদক্ষ হিট পাম্প গরম ও ঠান্ডার সময় ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের কারণে তাপপ্রবাহের মধ্যেও মসজিদের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে।

    প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদটিতে ২০১৯ সালে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। নামাজের স্থানের পাশাপাশি এতে নারীদের জন্য পৃথক সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও সভাকক্ষ, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার এবং ইসলামী নকশার বাগান রয়েছে।

    পরিদর্শন শেষে রাজা চার্লস মসজিদটির আন্তধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরিতে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মে বড় ধরনের সহজীকরণ এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার-সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে নমনীয়তা। ফলে প্রচলিত কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনা সহজ হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে-ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রচলিত রপ্তানি নথি বা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থ দেশে আনতে আর আগের মতো জটিলতার মুখে পড়তে হবে না।

    লেনদেন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সহজ ও আধুনিক সেবা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন, সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লেনদেন সহজ করবে না; বরং বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহিত হতে আরও উৎসাহিত করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, সেবা রপ্তানির স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

  • গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

    গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
    বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্ট রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    দলটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’

    ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এবিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

  • আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছার (৯১) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে।

    জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের অফিস সম্পাদক মানাজির আহসান এবং রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।

    জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা প্রচার সম্পাদক ও সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরক, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ও সাবেক শিবির সভাপতি প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ।

    এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, জিএ আমির আব্বাস আলী, আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, কামরুল হাসান সোহেল, ইসলামী ছাত্রশিবির আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বাইজিদ মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তেব্যে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ আইয়ুব আলীর হাত ধরে অনেকেই দ্বীনের এই উত্তপ্ত ময়দানে এসেছেন, আর সন্তানের এই ত্যাগের পেছনে এই মহীয়সী মায়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহীদ আইয়ুব আলীর মা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।

  • বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না, পুকুরে মিলল ৩ শিশুর মরদেহ

    বগুড়ার কাহালুতে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো—ভালতা গুচ্ছ গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৯) এবং ফারুক মণ্ডলের ছেলে ফাহিম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাদের খোঁজ করতে থাকেন। দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা সালমা খাতুন পুকুরের পানিতে জাকিরুলের মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ফাহিম ও সুরাইয়াকে খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে মিন্টু প্রামাণিক পানিতে নেমে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরাইয়ার সন্ধান না পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।