ইসলামী বিশ্ব

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

    সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

    হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার।

    এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

    হজ প্যাকেজ-১: এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে।

    সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন।

    উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

    হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী): এটি হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী হতে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

    হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

  • মন্দিরের জমি নিলামে কিনল মুসলিমরা, মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা

    মন্দিরের জমি নিলামে কিনল মুসলিমরা, মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা

    যুক্তরাজ্যের পিটারবরো শহরে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল একটি মুসলিম সংস্থার কাছে এক খণ্ড জমি বিক্রি করে দিয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম ইসলামিক মিশন নামে ওই মুসলিম সংস্থা সেখানে একটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করতে চাইছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়। কারণ ওই জমিতে তাদের মন্দির ছিল বলে দাবি করছে তারা।

    তবে যে জমির ওপর মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত, তার মালিক পিটারবোরো সিটি কাউন্সিল। কাউন্সিল দাবি করেছে যে তারা তাদের স্বাভাবিক জমি নিষ্পত্তির নিয়ম অনুসরণ করেছে, তাদের আইনি ক্ষমতার মধ্যে থেকেই কাজ করেছে এবং ধর্মীয় পছন্দেপিটারবরো সিটি কাউন্সিল তাদের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে সম্পত্তিটি উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মসজিদ গ্রুপকে জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    জমিটি নিয়ে আইনি লড়াই করছে হিন্দু সম্প্রদায়। তবে কাউন্সিলের আইনজীবী ক্যাথরিন রোল্যান্ডস আদালতে বলেন, জমি বিক্রির প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ, ন্যায্য ও আইনসম্মত।

    দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বিক্রি প্রক্রিয়ার ওপর একটি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

    মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বর্তমান জায়গা পর্যাপ্ত নয়। তারা নতুন স্থানে একটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নামাজের স্থান ছাড়াও শ্রেণিকক্ষ ও খেলাধুলার সুবিধা থাকবে।র পরিবর্তে পরিকল্পনা, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে দরপত্র যাচাই করেছে।

  • যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত

    যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত

    সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর শরিক দল ও সমমনা জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তবে এই নৈশভোজে অংশ নিচ্ছে না বিএনপির দীর্ঘদিনের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইতোমধ্যে বিএনপির শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাছে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না দাওয়াত পাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা।

    দলটির প্রচার সম্পাদক ইমরানুল বারী সিরাজী আমার দেশকে বলেন, আমরা বিএনপির প্রধান শরিক ছিলাম। দলটি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। এখন শুধু খাওয়ার জন্য গিয়ে কী লাভ হবে?

    দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের সম্পর্ক আগের মতো নেই। নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেও কোনো আসনে জয় পায়নি দলটি। এরপর সরকার গঠনের পর শরিক দল হিসেবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মনে করছেন জমিয়তের নেতারা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের পর আমাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ নেই। কুশল বিনিময়ও হয়নি, কোনো বৈঠকও হয়নি। জোটের অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হলেও আমাদের ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা রহস্যজনক।

  • নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দিদারুলের নামে সড়কের নামকরণ

    নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দিদারুলের নামে সড়কের নামকরণ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে নামে সড়কটির নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে।

    দিদারুল ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।

    ওই দিন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে ঢুকে বন্দুকের এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন এক তরুণ। সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন দিদারুল। এ জন্য তাঁকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে দিদারুলের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে সড়কের নামকরণের উদ্যোগ নেয়।

    গতকাল বৃষ্টির মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা, দিদারুলের পরিবারের সদস্যসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিসও উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও কর্মজীবনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন টিস। বলেন, এই সড়ক এখন থেকে এমন একজন মানুষের নাম বহন করবে, যিনি নিউইয়র্ককে নিজের ঘর বানিয়েছিলেন এবং এ শহরকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    জেসিকা টিস আরও বলেন, দিদারুল ইসলাম ছিলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁর মতো সহকর্মী পাওয়ার আশা প্রত্যেক কমান্ডিং অফিসার করে থাকেন। দিদারুল ইসলামের ছোট বোনের স্বামী এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তা কামরুল হাসান নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে তিনি (দিদারুল) প্রতিটা মুহূর্ত মানুষের উপকার করার মানসিকতা পোষণ করতেন। এ জন্যই তিনি এমন বিরল সম্মান পেয়েছেন। এ জন্য আমরা নিজেরাও গর্ববোধ করতে পারি।’

    অনুষ্ঠানে দিদারুলের স্ত্রী জামিলা ইসলাম তাঁদের তিন সন্তান—আহিয়ান, আজহান ও আরহামকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। দিদারুল পরিবার নিয়ে ব্রঙ্কসে বসবাস করতেন।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • শতবর্ষে প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ

    শতবর্ষে প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ

    ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের এক জীবন্ত দলিল

    প্যারিসের লাতিন কোয়ার্টারের ঐতিহাসিক এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা গ্র্যান্ড মসজিদ ২০২৬ সালে শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। একশ বছরের এ পথচলায় এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে নয়, ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিমদের অবদান, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) পর গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই যুদ্ধে ফ্রান্সের হয়ে লড়াই করেছিলেন বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম সৈনিকরা। উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব সৈনিক ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেন। তাদের অনেকেই যুদ্ধে প্রাণ হারান। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি ও স্মৃতি ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই প্যারিসে একটি বড় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।

    ১৯২০ সালে ফরাসি পার্লামেন্ট গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন দেয়। কয়েক বছর নির্মাণকাজ চলার পর ১৯২৬ সালের ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ। উদ্বোধন করেন তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট গাস্তোঁ দুমের্গ। মসজিদের প্রথম রেক্তর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সি কাদ্দুর বেংগাব্রিত।

    প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্র্যান্ড মসজিদ ফ্রান্সের মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এটি ফ্রান্সে মুসলিম ঐতিহ্য ও উপস্থিতির একটি পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়।

    প্যারিসের এ মসজিদের স্থাপত্যও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর নকশায় আন্দালুসীয় ও মুরিশ স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব রয়েছে। ৩৩ মিটার উঁচু মিনার, খিলানযুক্ত প্রবেশপথ, আরবি ক্যালিগ্রাফি, মোজাইক নকশা এবং বাগানের সমন্বয়ে তৈরি এই স্থাপনা প্যারিসের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন।

    একশ বছর পরও গ্র্যান্ড মসজিদের মূল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। পাশাপাশি আরবি ভাষা শিক্ষা, ইসলামি শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শুক্রবারের জুমার নামাজ, রমজান ও ঈদের সময় মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

    গ্র্যান্ড মসজিদের পরিচালনা ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ফরাসি সরকার কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ করে না। গ্র্যান্ড মসজিদও সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়; এটি একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে এর রেক্তর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেমস এদ্দিন হাফিজ।

    ২০২৬ সালে শতবর্ষ উপলক্ষে গ্র্যান্ড মসজিদে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রদর্শনী, পুরোনো ছবি ও দলিল উপস্থাপন, ইসলামি শিল্প ও সংস্কৃতির আয়োজন এবং আলোচনা সভা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে একশ বছরের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

    শতবর্ষের এ আয়োজনে ফ্রান্সের সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, কূটনীতিক, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ, মন্ত্রী অরোর বেরজে, প্যারিস পুলিশের প্রিফেক্ট পাত্রিস ফোর, প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার, ইল দ্য ফ্রঁস অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ভালেরি পেক্রেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

    গ্র্যান্ড মসজিদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি মানবিক অধ্যায়ও আলোচিত। বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নাৎসি দখলদারিত্বের সময় তৎকালীন রেক্তর সি কাদ্দুর বেংগাব্রিতের নেতৃত্বে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্যাতিত মানুষকে সহায়তা করেছিলেন। তবে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে।

    ফরাসি ইতিহাসবিদ বেনজামিন স্তোরা গ্র্যান্ড মসজিদকে ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিমদের অবদান এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখেন।

    একশ বছর আগে যুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য যে মসজিদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা ফ্রান্সের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই গ্র্যান্ড মসজিদ এখন ফ্রান্সের একটি ঐতিহাসিক দলিল, যেখানে সংরক্ষিত আছে আত্মত্যাগ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহাবস্থানের এক দীর্ঘ ইতিহাস।

  • জুমার দিনের আমল

    জুমার দিনের আমল

    জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন। এই দিনের অনেক গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য রয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

    এ দিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে। যেমন- এই দিনে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। এই দিনে তাঁকে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়, আবার এই দিনেই বেহেশত থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই দিনে তাঁকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়, তাঁর তওবা কবুল করা হয়, তাঁর মৃত্যু হয়। এই দিনেই শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে। এই দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। এই দিনেই সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে। প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পর্বত ও সমুদ্র এই দিনটিকে ভয় করে।

    শুক্রবার মসজিদে জোহরের চার রাকাতের পরিবের্ত জামায়াতের সঙ্গে যে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, এটিই জুমার নামাজ। নির্ভরযোগ্য হাদিসের কিতাবগুলোতে এই দিনের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে একাধিক হাদিস আছে। এখানে কয়েকটি আমলের উল্লেখ করা হলো—

    আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)

    গোসল করা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে জুমার দিন গোসল করে আতর ব্যবহারের পর ভালো জামা পরে নামাজের উদ্দেশে বের হয়, (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুজনের মাঝে গিয়ে না বসে মনোযোগের সঙ্গে ইমামের খুতবা শোনে, ওই ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)

    উত্তম পোশাক পরিধান

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরে তার কাছে থাকা সুগন্ধি ব্যবহার করে জুমার নামাজে আসে। অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না গিয়ে নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। এরপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গোনাহের জন্য কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৩)

    সুগন্ধি ব্যবহার

    আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

    দ্রুত মসজিদে যাওয়া

    জুমার দিন দ্রুত মসজিদে যাওয়া নৈতিক দায়িত্ব। এতে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি গাভি কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর মতো…। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯২৯)

    মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা

    জুমার দিন মনোযোগসহকারে খুতবা শোনা গুরুত্বপূর্ণ আমল। এতে আল্লাহর দয়া লাভ করা যায়। আল্লাহ বলেন, যখন কোরআন পড়া হবে, গভীর মনোযোগে শোনো ও চুপ থাকো, যেন তোমাদের ওপর দয়া করা হয়। (সুরা আরাফ, আয়াত: ২০৪)

    গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায়

    কোরআনের একাধিক জায়গায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আল্লাহ। জুমার নামাজের বিষয়ে তিনি আলাদা করে তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। বেচাকেনা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে! (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

    সুরা কাহাফ তেলাওয়াত

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাকে সব ধরনের ফেতনা থেকে পুরো সপ্তাহ নিরাপদ রাখবনে। যদি দাজ্জালও বের হয়, তবু আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখবেন। (আল-আহাদিসুল মুখতারা: ৪২৯)

    রাসুল (সা.) বলেছেন, যে জুমার দিন সুরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে, দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ তারগিব, হাদিস: ১৪৭৩

    বেশি বেশি দরুদ পাঠ

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা ইমানের অংশ। তার নাম শুনে দরুদ পড়া ওয়াজিব। জীবনে একবার দরুদ পড়া ফরজ। জুমার দিন দরুদ পড়ার বিশেষ সওয়াব আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ো। কারণ, আমার উম্মতের দরুদ আমার কাছে প্রতি শুক্রবারে পেশ করা হয়। যে আমার বেশি বেশি দরুদ পড়বে, সে কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে। (আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস: ৬২০৮)

    দোয়া করা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)। হাদিস বিশারদরা এ সময়টিকে আসরের পরের সময় বলে উল্লেখ করেছেন।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম   

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম   

    সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে আমরা বাধ্য হবো। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এখানো কোনো কঠোর কর্মসূচি দেই নাই। আমরা হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেই নাই। কিন্তু যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতি কে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। কারণ আমরা দেখলাম যেই গণভোটের পক্ষে, যেই জুলাই সনদের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পরে ৭০ শতাংশ জনগন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অন্যদিকে মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। গণঅভুত্থানের সময় আমাদের একটা স্লোগান ছিল নাটক কম করো পিও। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন পিও। বাংলাদেশের জনগন আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয়, আপনি যা খুশি করবেন, যেরকম খুশি ছলনা, প্রতারণা এদেশের জনগণের সাথে করবেন।

    বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসলকথা বিএনপি কখনই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলনা । তারা লড়াই করেছে ক্ষমতার জন্য। তারা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সাথে কাধ মিলিয়েছিল ক্ষমতার জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে এখন তারা সংস্কারের কথা বলে না।

  • বেথলেহেমে ফজরের নামাজে বাধা, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার

    বেথলেহেমে ফজরের নামাজে বাধা, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের হুসান গ্রামে ফজরের নামাজে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, সৈন্যরা একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে নামাজের আজান ও নামাজ আদায়ে বাধা দেয়। পরে মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের করে দেয় দখলদার বাহিনী।

    এরপর তাদের ওপর স্টান গ্রেনেড ও বিষাক্ত কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থাটি আরো জানায়, ইসরাইলি বাহিনী বেথলেহেমের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-আরকুব গ্রামের সব প্রবেশপথ ও ফটকও বন্ধ করে দিয়েছে।

    নাহালিন শহরকে গভর্নরেটের বাকি অংশ থেকে পৃথককারী প্রধান ফটকটি পার হওয়ার সময় তারা শহরটির এক বাসিন্দাকে আক্রমণ করে।

  • ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করলো-আইআরআই

    ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করলো-আইআরআই

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি ডলার ঘোষণা করেছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। বর্তমান দর অনুযায়ী (১ ডলার সমান ১২৩.১২ টাকা) এ পুরস্কার প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান।

    ইরানপন্থী সংগঠনটি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে তাঁকে পুরস্কার হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পকে অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থে এক কোটি ডলার পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। অপরাধী ট্রাম্পকে যে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী হত্যা করবে—তিনি বা তাঁরা এ পুরস্কার পাবেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ শিশু ও বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তি পাবে না। সম্মানিত মানুষের ক্ষোভ থেকে ওই অপরাধী (ট্রাম্প) নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।’

    যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। বলা হয়েছে, ‘শহীদদের রক্ত অভিশাপ হয়ে অহংকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে; যতক্ষণ না আগ্রাসনকারীরা পরাজিত হয় এবং স্বৈরাচারের দুর্গগুলো ধসে পড়ে।’

    এদিকে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, ২০২০ সালে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিস হত্যায় তাঁর ভূমিকা ছিল।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ভালোভাবে নেয়নি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। মূলত এর পরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাম্পের মাথার এ দাম ঘোষণা করা হলো।

  • কওমিপন্থি সাত দলের নতুন জোট গঠন নিয়ে নানা আলোচনা

    কওমিপন্থি সাত দলের নতুন জোট গঠন নিয়ে নানা আলোচনা

    কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে এ বিষয়ে প্রথম বৈঠকেই ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে দলগুলোর। এখন নতুন জোট গঠনের বিষয়ে রূপরেখা প্রস্তাব করবে সংশ্লিষ্টরা। সে অনুযায়ী শিগগির পরবর্তী প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    এদিকে কওমিপন্থিদের হঠাৎ নতুন জোট গঠনের এ উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াত জোটে বিভক্ত হওয়া দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বকীয় অবস্থান গড়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা নিয়ে শরিক ইসলামি দলগুলোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে একসঙ্গে নির্বাচন করলেও আনুষ্ঠানিক জোট না হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা বা না করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইসলামি দলগুলোর তেমন কোনো বাধা দেখছেন না কেউ কেউ।

    সূত্রমতে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি নিবন্ধিত ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হন। সেখানে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসব দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নেয়।অন্যদিকে ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়া বাকি পাঁচটি দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক ছিল। তবে নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন ওই ঐক্য থেকে বেরিয়ে যায়। আর অঘোষিতভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় খেলাফত আন্দোলন (নির্বাচনের পর ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দেয়)।

    ওই বৈঠক শেষে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উপস্থিত সাত দলের নেতারা আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী গতকাল শুক্রবার আমার দেশকে বলেন, জোট গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে এটি বাস্তবে রূপ নিতে সময় লাগবে। হঠাৎ এ উদ্যোগ কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই এ ধরনের উদ্যোগ ছিল। তবে দুটি জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। এখন ইসলামি দলগুলোর স্বকীয়তা রক্ষা করে আলাদা শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে অন্য কোনো জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

    বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা বলেন, নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ৩ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানসহ সাত সদস্যের একটি কমিটি এসব প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠক ডাকবে। দ্রুত এ কাজ করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, এ জোটের মূল লক্ষ্য কওমি ঘরানার নিবন্ধিত সাতটি দলকে স্বতন্ত্র ধারায় ঐক্যবদ্ধ করা। তবে এ জোট হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য কোনো জোটে থাকার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    নতুন এ উদ্যোগের কারণে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকের উদ্দেশ্য কওমি ধারার দলগুলোর দূরত্ব ঘুচিয়ে কাছাকাছি হওয়া। ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলার বিষয়েও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এই চলার পথ কী হবে, তা সামনে ঠিক হবে। বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মসজিদ আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের প্রাণভোমরা

    মসজিদ আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের প্রাণভোমরা

    পবিত্র জুমার দিন কিংবা পাঁচওয়াক্ত নামাজের সময় যখন পাড়ার মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজান ভেসে আসে, তখন চারপাশের ব্যস্ত কোলাহল নিমেষেই শান্ত হয়ে যায়। মসজিদে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যখন ধনী-দরিদ্র, মনিব-ভৃত্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, তখন এক পরম সাম্যের ছবি ফুটে ওঠে। কিন্তু আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এই চেনা দৃশ্যটির আড়ালে এক বিশাল ঐতিহাসিক ও সামাজিক সত্য লুকিয়ে আছে, যা আমরা আজ প্রায় ভুলতে বসেছি। মসজিদ শুধুই চার দেওয়ালের মাঝে আবদ্ধ কোনো উপাসনালয় নয়; বরং এটি ছিল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র, যার পুনরুজ্জীবন বর্তমানের অবক্ষয়িত সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    মদিনার মসজিদের সোনালি অতীত : ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর প্রথম যে কাজটি করেছিলেন, তা হলো ‘মসজিদে নববী’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান ছিল না, বরং এটিই ছিল ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও বিচারিক সদর দপ্তর। মদিনার সেই সমাজব্যবস্থায় মসজিদ ছিল একাধারে, সংসদ ভবন ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যুদ্ধ-বিগ্রহের কৌশল এবং কূটনৈতিক আলোচনাস্থল, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার আঁতুড়ঘর। মসজিদের এক কোণে গড়ে উঠেছিল ‘আসহাবে সুফফা’, যা ছিল ইসলামের প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। যে কোনো সামাজিক বিরোধের মীমাংসা, অভাবী মানুষের পুনর্বাসন এবং বায়তুল মালের (রাষ্ট্রীয় তহবিল) বণ্টন হতো মসজিদ থেকেই।

    পরবর্তীকালে খোলাফায়ে রাশেদা, উমাইয়া, আব্বাসীয় কিংবা অটোমান-যে কোনো মুসলিম সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের দিকে তাকালে দেখা যাবে, প্রতিটি নগরের প্রাণকেন্দ্রে থাকত একটি মহিমান্বিত মসজিদ। আর সেই মসজিদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠত বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার, বাজার, চিকিৎসালয় এবং বিচারালয়। বাগদাদ, কর্ডোভা বা দামেস্কের ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থা ছিল মূলত মসজিদকেন্দ্রিক।

    বাংলার সমাজ ও মসজিদ : আমাদের এই পলল দ্বীপে-বাংলাদেশেও কিন্তু ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে মসজিদকে কেন্দ্র করেই সমাজ গড়ে উঠেছিল। গ্রামীণ সমাজে ‘পঞ্চায়েত’ ব্যবস্থা পরিচালিত হতো মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় মুরুব্বিদের সমন্বয়ে। পাড়ার যে কোনো বিরোধ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা উৎসব-আয়োজন, সবকিছুর সিদ্ধান্ত হতো নামাজের পর মসজিদের বারান্দায় বসে। মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি সুশৃঙ্খল ‘পাড়া’ বা ‘মহল্লা’র ধারণা গড়ে উঠেছিল, যেখানে একে অপরের খোঁজ রাখা এবং বিপদে এগিয়ে আসা ছিল বাধ্যতামূলক সামাজিক দায়িত্ব।

    বর্তমানের রূঢ় বাস্তবতা : আজ আমাদের দেশে পাড়ায় পাড়ায় সুদৃশ্য, বহুতল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের অভাব নেই। মার্বেল পাথর আর আধুনিক লাইটিংয়ে মসজিদগুলো চকচক করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই অনুপাতে কি আমাদের সামাজিক বন্ধন উন্নত হয়েছে?

    আজকের বাস্তবতায় মসজিদগুলো যেন শুধু ‘পার্ট-টাইম’ বা খণ্ডকালীন ইবাদতখানায় পরিণত হয়েছে। আজানের পর মানুষ আসে, নামাজ পড়ে এবং মোনাজাত শেষ করেই দ্রুত জুতো জোড়া পায়ে দিয়ে যে যার পথে চলে যায়। নামাজের বাইরে মসজিদের ফটকগুলো সাধারণত তালাই ঝুলানো থাকে।

    ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। সমাজ থেকে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব কমে যাওয়ার কারণে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহ, প্রবীণদের একাকিত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের ভেতরে চরম নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। যে তরুণ সমাজকে আলোর পথ দেখানোর কথা ছিল, তারা আজ ভার্চুয়াল জগতের গোলকধাঁধায় কিংবা মাদকের মরণনেশায় বুঁদ হয়ে আছে। কারণ, তাদের হাত ধরে রাখার মতো কোনো প্রাণবন্ত সামাজিক কেন্দ্র আজ আর সচল নেই।

    সময়ের দাবি : বর্তমান যুগের জটিল সামাজিক মনস্তত্ত্ব এবং অবক্ষয় রুখতে হলে মসজিদকে তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এটি কোনো পেছনের দিকে হাঁটা নয়, বরং শিকড়ের শক্তিতে ভর করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। কেন এটি আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করলেই স্পষ্ট হয়-

    নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়তে : আজকের কিশোর ও যুবসমাজকে শুধু আইনের ভয় দেখিয়ে সোজা পথে রাখা সম্ভব নয়। তাদের প্রয়োজন আত্মিক ও নৈতিক পরিশুদ্ধি। মসজিদ যদি শুধু নামাজের স্থান না হয়ে একটি ‘কালচারাল হাব’ বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে ওঠে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে বা মাসে তরুণদের নিয়ে সমসাময়িক বিষয়ে কাউন্সেলিং করা হবে, তবে তারা অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসবে।

    মাদক ও কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির অবসান : পাড়ার মসজিদ কমিটি যদি মহল্লার প্রতিটি তরুণের খোঁজ রাখে, তাদের সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করে, তবে কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার সুযোগই থাকবে না। মসজিদে যদি একটি ছোট পাঠাগার থাকে, ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা থাকে (যা শরিয়তসম্মত), তবে তরুণরা অবসর সময়ে সেখানে গিয়ে সুস্থ আড্ডায় মাতবে, মাদকের আড্ডায় নয়।

    সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক নেটওয়ার্ক : একটি মসজিদকেন্দ্রিক সমাজে কেউ না খেয়ে ঘুমাতে পারে না। মহল্লার কার ঘরে চাল নেই, কার সন্তান টাকার অভাবে পরীক্ষা দিতে পারছে না, কার চিকিৎসা আটকে আছে, এই তথ্যগুলো মসজিদের ইমাম বা কমিটির কাছে থাকা উচিত। জুমার খুতবায় পরকালের আলোচনার পাশাপাশি মহল্লার অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তবমুখী তাগিদ দেওয়া হলে সামাজিক বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।

    ঘরোয়া সমাধান : আজ সামান্য কারণে মানুষ আদালতে দৌড়াচ্ছে, বছরের পর বছর মামলা লড়ছে এবং সর্বস্বান্ত হচ্ছে। অথচ মসজিদের ইমাম এবং সমাজের বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি যদি সালিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাড়ার ছোটখাটো বিরোধ বা পারিবারিক কলহ মিটিয়ে ফেলে, তবে তা সমাজের শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং আদালতের ওপর চাপ কমাবে।

    রূপরেখা : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশে বেশ কিছু মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদের প্রতিটি সাধারণ মসজিদকেই একেকটি সামাজিক জিয়নকাঠি হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন :

    মসজিদভিত্তিক পাঠাগার : প্রতিটি মসজিদে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থাকবে, যেখানে ধর্মীয় বইয়ের পাশাপাশি ইতিহাস, বিজ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার বই থাকবে।

    বিনামূল্যে চিকিৎসাকেন্দ্র ও রক্তদান ব্যাংক : মসজিদের একটা অংশে সপ্তাহে অন্তত একদিন পাড়ার ডাক্তাররা বিনামূল্যে গরিবদের চিকিৎসা দেবেন। একটি ব্লাড ডোনার গ্রুপ থাকবে মসজিদের তত্ত্বাবধানে।

    কর্মসংস্থান ও জাকাত ফান্ড : প্রতিবছর মসজিদের জাকাত ফান্ড দিয়ে মহল্লার অন্তত ৩-৪ জন বেকার যুবককে রিকশা, সেলাই মেশিন বা ছোট দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করা যেতে পারে।

    নারীদের অংশগ্রহণ : মদিনার মসজিদে নববীতে নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা ছিল। আজ আমাদের সমাজেও নারীদের নৈতিক শিক্ষার জন্য মসজিদে নিরাপদ ও পর্দার সঙ্গে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা উচিত।

    দায়বদ্ধতা : মসজিদকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রধান কারিগর হলেন মসজিদের ইমাম সাহেবরা। তাদের শুধু ‘নামাজ পড়ানোর চাকরিজীবী’ হিসাবে দেখলে চলবে না; তাদের হতে হবে সমাজের পথপ্রদর্শক। ইমামদের সমসাময়িক জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং সামাজিক মনস্তত্ত্বে দক্ষ হতে হবে, যেন তারা তরুণ প্রজন্মের যুক্তির জবাব পরম মমতায় দিতে পারেন। একইসঙ্গে মসজিদ কমিটিতে শুধু সম্পদশালীদের না রেখে সৎ, শিক্ষিত ও উদ্যমী যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    মসজিদের মিনার থেকে যে ঐক্যের ডাক আসে, সেই ডাককে শুধু নামাজের কাতারেই নয়, জীবনের প্রতিটি কাতারে ছড়িয়ে দিতে হবে। আসুন, আমাদের মসজিদগুলোকে শুধু পাথরের সৌন্দর্যে নয়, মানবিকতা, শিক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণের আলোয় উজ্জ্বল করে তুলি। তবেই গড়ে উঠবে একটি শান্তিময়, অপরাধমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ।

  • ইমামকে ঘিরে দ্বন্দ্ব: মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের নামাজ আদায়

    ইমামকে ঘিরে দ্বন্দ্ব: মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের নামাজ আদায়

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধের জেরে একই সময়ে পৃথক দুই ইমামের নেতৃত্বে আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন দুই পক্ষের মুসল্লিরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আছর ও মাগরিব এবং শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফজরের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান ইমামকে অপসারণ ও বহাল রাখার দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ নতুন ইমাম নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিলে অপর পক্ষ বর্তমান ইমামকে দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি জানায়।

    বিরোধের একপর্যায়ে একদল মুসল্লি বর্তমান ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের ভেতরে এবং অপর দল নতুন ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের বারান্দায় একই সময়ে পৃথকভাবে নামাজ আদায় করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

    ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, বর্তমান ইমাম মোশাররফ হোসেনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে নতুন ইমাম নিয়োগের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।

    এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নেতার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ বর্তমান ইমামকে নতুন মসজিদ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে।

  • ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে ধানমন্ডিতে জামায়াতের র‍্যালি

    ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে ধানমন্ডিতে জামায়াতের র‍্যালি

    জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে জুলাই র‍্যালি করেছে জামায়াতে ইসলামী। র‌্যালিটি আবাহনী মাঠের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা, সিটি কলেজ, কলাবাগান ও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আবাহনী মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

    র‌্যালিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী জনসাধারণের ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

    র‌্যালি শেষে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের আমির মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিক।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই চেতনাকে ধারণ করেই দেশ থেকে শোষণ ও ফ্যাসিবাদ দূর করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে।

    তারা আরো বলেন, শহীদদের রক্ত, বীর জনতা ও ছাত্রদের আত্মত্যাগ এ দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কোনো ষড়যন্ত্রই জুলাইয়ের অর্জনকে মুছে দিতে পারবে না।

  • তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। একে অনেকে তরবারির শক্তির ওপর ভর করে ইসলামের আগমন বলে মনে করেন। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

    তাদের মতে, ভারতে ইসলামের আগমন কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিণাম।ভারতে ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাণিজ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত গোলমরিচের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। আরব সাগর শান্ত থাকায় এই সমুদ্রপথে আরব বণিকদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তারা বর্ষার সময়ে ভারতে আসতেন এবং ব্যবসা শেষে আরবে ফিরে যেতেন।

    বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ আরবদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে দক্ষিণ ভারতে ‘মাপ্পিলা মুসলিম’ নামে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে।

    রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর প্রায়ই উল্লেখ করেন যে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত আরব বণিকদের হাত ধরেই মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছিল। কোনো তলোয়ারের জোরে কেরালায় ইসলাম পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ভারতে ইসলামের আগমন সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

    প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই প্রাচীন মুজিরিস বন্দর দিয়ে কেরালায় ইসলাম এসেছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত ‘চেরামন জামা মসজিদ’ এই দাবির পক্ষে বড় প্রমাণ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কেরালার হিন্দু রাজা চেরামন পেরুমলের ইসলাম গ্রহণের গল্পও জড়িয়ে আছে।

    প্রফেসর ইলিয়াসের মতে, আরবরা এখানে মূলত গোলমরিচের ব্যবসা করতে এসেছিলেন। তারা বাণিজ্যের পাশাপাশি হিসাব করার পদ্ধতি, ওজন মাপার কৌশল এবং ভালো নৌকা তৈরির প্রযুক্তিও শিখিয়েছিলেন।

    ঐতিহাসিকদের একাংশ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ ও মুলতান দখল এবং পরবর্তীতে দিল্লির সালতানাত প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন।

    তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এই জয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, জোর করে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা নয়।

    ভারতে ইসলামের প্রসারে সুফি আন্দোলনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকের পর চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার সুফি-সন্তরা ভারতের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের খানকাহ ও দরগাহগুলো আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজমেরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসেন। ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটনের মতো পণ্ডিতরা আরেকটি নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলা ও পাঞ্জাবের মতো অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার মূলত কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মুসলিম শাসকরা সুফি খানকাহ ও মসজিদগুলোকে অনুর্বর জমি দান করতেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কৃষি বসতি স্থাপন করলে স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও সামাজিক সুযোগের এক দীর্ঘ মিশ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল।

  • দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

    প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে নানা ধরনের দুর্যোগ আসে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো ভূমিকম্প, কখনো অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনো অতিবৃষ্টি বা খরায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, লাখো পরিবার গৃহহীন হয়, কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অসংখ্য মানুষ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে বটে, কিন্তু প্রকৃতির প্রবল শক্তির সামনে মানুষ আজও অসহায়। এমন বাস্তবতায় ইসলাম দুর্যোগকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখে না; বরং এটি ঈমান, আত্মসমালোচনা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধের আলোকে মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি ইসলাম দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রদান করেছে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই প্রাসঙ্গিক।

    ১. ইসলাম শিক্ষা দেয়—দুর্যোগের সময় একজন মুমিন আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আল-বাকারা : ১৫৫) এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, বিপদ-মসিবত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্যোগে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের প্রথম পরিচয়।২. দুর্যোগের সময় তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিপদ মানুষকে তার অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, সালাত আদায় করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৫) একজন মুমিন জানেন, প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

    ৩. ইসলাম শুধু দোয়ার শিক্ষা দেয় না; বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে বলেছিলেন, ‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি) এই হাদিস আমাদের শেখায়, সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; বরং তারই অংশ। তাই দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে চলা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, উদ্ধার-প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা ইসলামি দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৪. দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ : ২) বন্যার্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া—এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে মহৎ ইবাদত।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯) আবার তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (মুসলিম) এসব হাদিস প্রমাণ করে, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    ৫. ইসলাম গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। দুর্যোগের সময় যাচাইহীন তথ্য, অতিরঞ্জিত সংবাদ বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রচারণা মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ৬) বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই নির্দেশনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

    ৬. ইসলাম দুর্যোগকে কেন্দ্র করে অন্যায় লাভের সব পথ বন্ধ করতে চায়। ত্রাণ আত্মসাৎ, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। একজন মুসলমান সংকটকে ব্যবসার সুযোগ নয়, বরং সেবার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

    ৭. দুর্যোগের সময় ইখলাস বা একনিষ্ঠতার গুরুত্ব অপরিসীম। দান-সদকা কিংবা মানবসেবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৬৪) তাই সাহায্য এমনভাবে করতে হবে, যাতে বিপদগ্রস্ত মানুষের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

    ৮. ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেয়। শুধু ত্রাণ বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা ফিরিয়ে আনা, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও ইসলামি দায়িত্বের অংশ। মানবকল্যাণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

    সবশেষে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে ‘এটি আল্লাহর গজব’ বলে ঘোষণা দেওয়া আমাদের কাজ নয়, যদি সে বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহতে স্পষ্ট দলিল না থাকে। একজন মুমিনের কাজ হলো বিপদ থেকে শিক্ষা নেওয়া, নিজের আমল পর্যালোচনা করা, তাওবা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    আজ আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ইসলামের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—দুর্যোগ শুধু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্র—সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।

    শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণসভাটির আয়োজন করে প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে’। অথচ জুলাই সনদে আমরা একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো আন্দোলন করেছি, সবাই মিলেই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব।

    গণভোটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সেখানেই এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সংস্কার কমিশন আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন বিষয়গুলো যেভাবে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদের বইটা পড়লে দেখবেন, সেখানে বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে। এখানে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে যে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।

    বিরোধীদল সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন বিরোধী দলের অনেকে বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। ওই জায়গায় কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু জুলাই মাসেরই আন্দোলন নয়। জুলাই আন্দোলন হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা লড়াইয়ের পরিণতি।

    স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাবি উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।

  • কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে ১৬৩ ধারা জারি: জুমা পড়তে পারেনি মুসল্লিরা

    কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে ১৬৩ ধারা জারি: জুমা পড়তে পারেনি মুসল্লিরা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের প্রাচীরসংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দিয়েও সেখানে যেতে পারেননি মুসল্লিরাসহ মসজিদ কমিটির নেতারা।

    আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করায় সেখানে জমায়েত ও কর্মসূচি পালন সম্ভব হয়নি। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনের ১৬৩ ধারা আগের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা।

    আজ বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় এবং শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    তবে আজ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে সিদ্দিকুল্লাহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পরে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কাছের আরেকটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে কলকাতার কয়েকটি এলাকায় কিছু মুসল্লিকে নামাজের সময় হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে।

    আজ সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ও জলকামান। বিধাননগর পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে।

    বিমানবন্দরসংলগ্ন বাঁকড়া মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে সেখানে যাতায়াত ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, ১১ জুলাই থেকে মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিমানবন্দরসংলগ্ন ওই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।

    মসজিদ কমিটির দাবি, ১৩৬ বছরের পুরোনো এই মসজিদে নামাজ বন্ধের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি।

    মসজিদ কমিটির ভাষ্য, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে একসময় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতেন। অবিভক্ত ভারতের সময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য যেতেন।

    মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার দাবিতে আজ সেখানে জমায়েতের চেষ্টা করেছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ১৬৩ ধারা জারির কারণে তাঁদের সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ওই অঞ্চলটিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়ার গুরুত্ব

    জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়ার গুরুত্ব

    ইসলামে জুমাবারকে মুসলমানদের ঈদের দিন বলা হয়। এই দিনে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয়। জুমার দিনে কিছু বিশেষ আমলের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এর মধ্যে অন্যতম হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।

    হাদিসে এসেছে, পৃথিবীতে সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

    আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো জুমার দিন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

    ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্য জুমার দিনের এই বিশেষ মর্যাদা নির্ধারিত ছিল না। মহান আল্লাহ শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতকে এই বিশেষ দিন উপহার হিসেবে দান করেছেন।

    সুরা কাহাফ পাঠের বিশেষ ফজিলত

    পবিত্র কোরআনের ১৮তম সুরা হলো সুরা কাহাফ। এতে মোট ১১০টি আয়াত রয়েছে। হাদিসে জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াতের অসংখ্য ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর (আলো) বিচ্ছুরিত হবে।”

    (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস: ৫৯৯৬; মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ২১৭৫)

    হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরনের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আর যদি দাজ্জাল বের হয়, তবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে।”

    (হাদিসুজ জুহরি, হাদিস: ১২৭; আল-আহাদিসুল মুখতারাহ, হাদিস: ৪৩০)

    দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষার আমল

    হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

    “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”

    (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯)

    কিয়ামতের দিন নূরের সুসংবাদ

    হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

    “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ যেভাবে নাজিল হয়েছে সেভাবে তিলাওয়াত করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর হবে।”

    (শুআবুল ঈমান, হাদিস: ২২২১)

    কোরআন তিলাওয়াতে নাজিল হয় রহমত

    হযরত বারা ইবনে আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাতে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করছিলেন। এ সময় একটি মেঘ এসে তাকে ঢেকে ফেলে এবং তার ঘোড়া অস্থির হয়ে ওঠে। পরদিন তিনি ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানালে তিনি বলেন,

    “ওটি ছিল সাকিনা (আল্লাহর রহমত), যা কোরআন তিলাওয়াতের কারণে নাজিল হয়েছিল।”

    (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৯৫)

    মুমিনের করণীয়

    জুমার দিন শুধু নামাজ আদায় করাই নয়, বরং বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, দোয়া, জিকির ও বিশেষভাবে সুরা কাহাফ পাঠ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হাদিসে বর্ণিত এই আমলগুলো একজন মুমিনের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, নূর, রহমত এবং নানা ফিতনা থেকে নিরাপত্তার সুসংবাদ বহন করে।

  • চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ , মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পিপিএম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশীদ, চৌগাছা পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল হালিম চঞ্চল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা আহবায়ক রাশিদুল ইসলাম রিতম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের শেষে চৌগাছার জুলাই শহীদ আল্ আমীনের পিতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীেদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভার শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আহদের জন্য এবং দেশ ও জাতীর উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শাহজান আলী।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয় জানার পরই ভারতীয় যুবকের ওপর হামলা

    যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয় জানার পরই ভারতীয় যুবকের ওপর হামলা

    যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রবাসী ভারতীয় মুসলিম যুবকের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত হামলার অভিযোগ উঠেছে। উটাহ অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের সামনে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সোহেল নামে ওই যুবক।

    বুধবার (১৫ জুলাই) ভারতীয় একটি পত্রিকা জানিয়েছে, হামলার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক পুলিশের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত ৪৮ বছর বয়সী পিটার মাইকেল লারসেন প্রথমে সোহেলের সাথে কথোপকথন শুরু করেন। তিনি সোহেলের দেশের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দেন। এরপর ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে মুসলিম বলে জানান।

    অভিযোগ অনুযায়ী, এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে পিটার ধারালো ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। হামলায় সোহেলকে অন্তত ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি দেখে মলের কর্মী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন এবং গুরুতর আহত সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

    মলের এক কর্মী জানান, হামলাকারী অত্যন্ত নির্মমভাবে সোহেলকে হত্যা করার চেষ্টা করছিল। হাসপাতালে নেয়ার পর তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনো সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত পিটার মাইকেল লারসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি হামলার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মুসলিমদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানোর কথা বলেছেন বলে অভিযোগ।

    এ ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয় ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ হামলার পেছনে বিদ্বেষমূলক অপরাধের (হেট ক্রাইম) বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

  • জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কখনো বলিনি আগের অংশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, গণভোট সংবিধানে নেই। আবার কেউ বলেছেন, চারটি প্রশ্ন এত জটিল ছিল যে বুঝতেই চার ঘণ্টা লাগে। তাহলে জনগণ কীভাবে ভোট দিল? আমি বলি, এই চারটি প্রশ্ন তো আগেই প্রচার করা হয়েছিল, সব গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান, বুদ্ধি শুধু আপনাদের আছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেই? এটা জাতিকে অপমান করার শামিল। আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।

    তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্ন যদি মানুষ বুঝতে না পারে, তাহলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এগুলো সব গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি। ইতোমধ্যে একজন বলেছেন, ভোটটা হয়ে যাক, তাই সবকিছু আগে মেনে নিয়েছিলাম। আরেকজন বলেছেন, টোল মওকুফের কথা বলা হয়েছিল ভোট পাওয়ার জন্য। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে দেশের মানুষ যাবে কোথায়? যারা দেশ চালাবেন, আইন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।

    বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন। জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। এখন বলা হচ্ছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে। সময়মতো ইতিহাস সবকিছুর বিচার করবে।

    সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও বলা হচ্ছে, আপনারাও আসুন, এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শরিক হোন। সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। আমি জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। জনগণের রায়কে অপমান করতে চাইলে করুন, জনগণই তার বিচার করবে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের রায়ের পক্ষে আছি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বৃথা যাবে না, তা বাস্তবায়িত হবেই।

    তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, আসুন সামনে তাকাই। ২০২৪ এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ। আমাদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।

  • মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ববিতার

    মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ববিতার

    জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সমাজের জন্য কল্যাণকর কাজ করে যেতে চান বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা। সেই ভাবনা থেকেই গ্রামের বাড়ি যশোরের পৈতৃক ভিটায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে জন্মভিটা যশোরের বিজয়নগর সফরে গিয়ে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি চূড়ান্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন।গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এবার দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। এতে আমার খুব শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’

    জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার সবচেয়ে বড় চাওয়া একটি মসজিদ নির্মাণ করা। আল্লাহ যেন তাকে এই মহৎ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন, সেই প্রার্থনাও করেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

    ববিতা বলেন, ‘একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম হয়েছে, মৃত্যু একদিন হবেই। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগির মসজিদের নকশা করব। তারপর ধীরে ধীরে কাজ শুরু করব। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

    ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রুপালি পর্দার এই অভিনেত্রী। এছাড়াও ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা ও ২০২৬ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

  • ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর  শাখার গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর শাখার গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, গাজীপুর সদর শাখার উদ্যোগে গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা এবং গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে এক গ্রাহক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) গাজীপুর সদর শাখা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শাখার ব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মামুনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ঢাকা ইস্ট জোন প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ সোলাইমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা ইস্ট জোনের এফএভিপি হুমায়ূন কবীর এবং ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর চৌরাস্তা শাখার ব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মোসলেহ উদ্দিন।

    গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. ছাদেকুজ্জামান খান, আব্দুল খালেক সরকার, গেলমান হোসেন, আব্দুস সালাম, কণিকা দাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গ্রাহকরাই ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আস্থার জায়গা। তাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সহযোগিতার কারণেই নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ইসলামী ব্যাংক আজও দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের এক হাজার শীর্ষ ব্যাংকের তালিকায় স্থান পাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং হালাল বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প, বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত এবং বৈধ বিনিয়োগে ইসলামী ব্যাংকের অবদান উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স আহরণেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অতীতে কিছু সংকটের সময় অনেক প্রবাসী গ্রাহক সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তারা আবারও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেছেন, যা ব্যাংকের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

    ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে গ্রাহকদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার কারণে কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই ইসলামী ব্যাংকের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশে আরও ঘোষণা দেন, সম্প্রতি যারা বিভিন্ন কারণে তাদের আমানত উত্তোলন করেছেন, তারা যদি আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুনরায় সেই অর্থ ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখেন, তাহলে ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পূর্ণ মুনাফা (প্রফিট) প্রদান করা হবে।

    অনুষ্ঠানে গ্রাহকরা ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা, বিনিয়োগ, আমানত, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন এবং ভবিষ্যতেও উন্নত, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শাখা প্রধান মামুনুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টিই ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি। গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণে আধুনিক, নিরাপদ ও শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং সেবা প্রদানে গাজীপুর সদর শাখা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

    অনুষ্ঠান শেষে ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় গ্রাহকদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

  • আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিলো ইসরাইল

    আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিলো ইসরাইল

    সামরিক মহড়ার অজুহাতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের একটি ফটক মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাময়িকভাবে বন্ধ দেয় ইসরাইলি বাহিনী। এ ঘটনায় মুসল্লিদের প্রবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলি বাহিনী আল-

    যদিও শুধু কিং ফয়সাল গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে মসজিদের অন্যান্য প্রবেশপথেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এর ফলে মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে মসজিদে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
    সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরাইল নজিরবিহীনভাবে ৪০ দিনের জন্য আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয়।
    সে সময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জুমার নামাজ, রমজানের রাতের তারাবির নামাজ এবং ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নেয়ার জন্য মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ওই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন নয়; বরং আল-আকসা মসজিদের ইসলামী পরিচয় ক্ষুণ্ন করে সেখানে “ইহুদিকরণ” এগিয়ে নেয়ার একটি প্রচেষ্টা।
    ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, জুন মাসে ইসরাইলি বাহিনী ২৬ বার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অভিযান চালায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ৪ হাজার ২১২ জন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আল-আকসা মসজিদ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “স্ট্যাটাস কো” ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থায় পুরো ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অধীনে। এর মধ্যে রয়েছে ডোম অব দ্য রক, কিবলি মসজিদ, আশপাশের প্রাঙ্গণ, ফটক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো।

    এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ে অমুসলিমরা স্থানটি পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে নামাজ আদায়ের অধিকার শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসন ও ধর্মীয় বিষয়গুলোও ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে।
    ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরাইল ধীরে ধীরে ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে আসছে।

    তাদের দাবি, মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরাইলি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াকফের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করা, কর্মীদের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও খর্ব করা হয়েছে।

    গত মে মাসে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে দাবি করে, আল-আকসা মসজিদের ওপর জর্ডানের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্ব (কাস্টডিয়ানশিপ) বাতিলের লক্ষ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে ওয়াশিংটন এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

  • মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণের চামচসহ পৌনে ১৩ লাখ টাকা

    মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণের চামচসহ পৌনে ১৩ লাখ টাকা

    নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহি মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এ দানবাক্স খোলা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। ৫ টাকার নোটে মুদ্রিত এ ঐতিহ্যবাহী মসজিদে এসে অনেকেই নিজেদের মানত ও দান করে থাকেন।

    নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর এ দানবাক্স খোলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দানবাক্স খোলার পর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মসজিদের ইমাম, খাদেম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    এবার দানবাক্সে জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি মানত করা বিভিন্ন স্বর্ণের গহনা, একটি স্বর্ণের চামচসহ ভারত ও মালয়েশিয়ার মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

    মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা আঞ্জুমান বানু জানান, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার স্বচ্ছতার সঙ্গে হিসাব করে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়নমূলক কাজ এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। ঐতিহাসিক এ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।

  • পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পূর্বের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক যুক্ত করা হয়েছে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক পর্ষদে বহাল থাকবেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক হলেন- বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লা, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে, ওয়াই স্টীল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

  • স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র স্টিকার লাগিয়েও ধরা, ইয়াবাসহ আটক ৩

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিরপুর ডিওএইচএসের স্টিকার লাগানো একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকারে করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    কক্সবাজারের রামুতে অভিযান চালিয়ে গাড়ি থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবক ও দুই তরুণীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

    বুধবার সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রাবার বাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাউ এলাকার মরহুম শহীদুল ইসলাম সবুজের মেয়ে সিমা ইসলাম এবং ঢাকার দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকার উর্মি আক্তার উষা (১৯)।

    ডিএনসি কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু রাবার বাগান এলাকায় একটি বিশেষ টিম অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেটকার থামানোর সঙ্কেত দেয়া হয়। গাড়িটি থামানোর পর এর উইন্ডশিল্ডে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ ও ‘মিরপুর ডিওএইচএস’-এর স্টিকার দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিত বলে দাবি করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে ডিএনসি কর্মকর্তারা গাড়িটি তল্লাশি করে ড্যাশবোর্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্কচটেপ ও টিস্যু পেপারে মোড়ানো তিনটি পোটলা থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

    এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, চারটি স্মার্টফোন এবং গাড়ির বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

    ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি কিংবা ব্যবহৃত স্টিকারের সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতেই এসব স্টিকার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রামু থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানায় ডিএনসি।

  • যে পাপের বিচার স্রষ্টা ছেড়েছেন মানুষের হাতে

    যে পাপের বিচার স্রষ্টা ছেড়েছেন মানুষের হাতে

    মহান আল্লাহ অসীম দয়াময়, পরম করুণাময় ও ক্ষমার আধার। বান্দা যদি নিজের অজান্তে বা শয়তানের প্ররোচনায় কোনো পাপ করে ফেলে এবং পরে আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে চোখের জল ফেলে ক্ষমা চায়, তবে আল্লাহতায়ালা তার পাহাড় সমান গুনাহও মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু ইসলামের একটি অমোঘ ও অলঙ্ঘনীয় বিধান হলো, আল্লাহতায়ালা মানুষের সব পাপ ক্ষমা করলেও একটি বিশেষ শ্রেণির পাপ তিনি নিজে চাইলেও সরাসরি ক্ষমা করবেন না। আর তা হলো ‘হাক্কুল ইবাদ’ বা মানুষের অধিকার ও হক। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন— ‘হে মুমিনরা, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা আন-নিসা : ২৯)

    আমাদের সমাজ ও প্রাত্যহিক জীবনে ‘বান্দার হক’ বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক ও সংবেদনশীল। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ইবাদতগুলো নিয়মিত পালন করলেও, অবহেলায় এবং অসচেতনতায় প্রতিনিয়ত অন্যের হক নষ্ট করে চলেছি। অথচ এই একটি মাত্র ভুলের কারণে কিয়ামতের দিন জীবনের সব নেক আমল ধুলায় মিশে যেতে পারে।নিত্যজীবনে নানা উপায়ে আমরা অন্যের হক বা প্রাপ্য হরণ করছি, যা আমরা অনেক সময় পাপ বলেই গণ্য করি না। ব্যবসা-বাণিজ্যে ওজনে কম দেওয়া, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, চড়া সুদে টাকা খাটানো কিংবা পাওনাদারের টাকা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সময়মতো পরিশোধ না করে ঘোরানো—বান্দার হক নষ্ট করার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তবে সব থেকে ভয়ংকর দিক হলো উত্তরাধিকারের হক পরিশোধ না করা। বোন, স্ত্রী বা কন্যাদের শরিয়তসম্মত মিরাস বা উত্তরাধিকারের সম্পত্তি থেকে কৌশলে বঞ্চিত করা এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ পরিশোধ করলেও তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে যথাযথ থাকে না। আবার কারো পেছনে তার অনুপস্থিতিতে পরনিন্দা (গিবত) করা, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কারো সম্মানহানি করা অথবা কথা ও আচরণের মাধ্যমে কাউকে মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়াও ‘হাক্কুল ইবাদে’র অন্তর্ভুক্ত।

    আর কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আমরা কখনোই ভাবি না; রাস্তায় জ্যাম তৈরি করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো, সরকারি সম্পত্তি বা জনকল্যাণের অর্থ আত্মসাৎ করা, কিংবা কর্মক্ষেত্রে ফাঁকি দিয়ে বেতন নেওয়া—এগুলো সবই কোটি কোটি মানুষের হক নষ্ট করার শামিল। পবিত্র কোরআনে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎকারীদের তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে— ‘নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং শিগগিরই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সুরা আন-নিসা : ১০)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমরা কি জানো নিঃস্ব বা দেউলিয়া কে?’ সাহাবিরা উত্তর দিলেন, যার ধন-সম্পদ বা টাকাপয়সা নেই। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) উম্মতকে সতর্ক করে বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সেই ব্যক্তিই প্রকৃত দেউলিয়া, যে কিয়ামতের দিন অনেক নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে হাজির হবে; কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছিল, কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করেছিল, অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ গ্রাস করেছিল, কারো রক্তপাত করেছিল এবং কাউকে আঘাত করেছিল। ফলে (বিচারের মাঠে) তার নেক আমলগুলো থেকে একে একে ভুক্তভোগীদের পাওনা চুকানো হবে। একপর্যায়ে যদি তার নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তবে পাওনাদারদের পাপগুলো তার ঘাড়ে চাপানো হবে এবং পরিশেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম : ২৫৮১)

    এই হাদিসটি প্রমাণ করে, মানুষের হক কতখানি স্পর্শকাতর। আল্লাহর ইবাদতে ঘাটতি থাকলে তিনি চাইলে মাফ করতে পারেন, কিন্তু কোনো মানুষের অধিকার খর্ব করা হলে, যতক্ষণ না সেই মানুষটি মন থেকে ক্ষমা করবেন, ততক্ষণ স্রষ্টা নিজেও সেই পাপ মোচন করবেন না। আজ আমরা অনেকেই বাহ্যিক ইবাদত নিয়ে অহংকার করি, কিন্তু পর্দার আড়ালে কত মানুষের চোখের জল ও দীর্ঘশ্বাসের কারণ হচ্ছি, তার খবর রাখি না। দুনিয়ার আদালতে টাকা বা ক্ষমতার জোরে পার পাওয়া গেলেও, কিয়ামতের সেই মহাবিচারের দিনে কিন্তু রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেদিন নিজের অতি কষ্টের নেক আমলগুলো অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।

    আসুন, আজই আমরা নিজেকে একটু হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। সচেতন বা অবচেতন মনে আমরা কি কারো জমি দখল করেছি? কোনো শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি আটকে রেখেছি? কোনো ভাই, বোন বা আত্মীয়ের মন ভেঙেছি? দায়িত্ব পালনে মানুষের অধিকার নষ্ট করেছি? যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে অহংকার ও লোকলজ্জা ভুলে আজই তাদের কাছে ছুটে যাই। জীবিত থাকলে তাদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিই, তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিই। আর যদি তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়ে থাকেন, তবে তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকাহ করি এবং আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করি। খাঁটি মুসলমান হতে হলে শুধু আল্লাহর হক নয়, মানুষের হকের প্রতিও সর্বোচ্চ যত্নশীল হই।

  • সাহাবিদের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য

    সাহাবিদের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য

    সাহাবায়ে কিরাম হেদায়াতের নক্ষত্র, তাকওয়া ও ঈমানের দীপ্তিমান তারকা, সুদীপ্ত পূর্ণিমা। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই বহন করেছেন ইসলামের ঝান্ডা এবং উড্ডীন করেছেন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ কারণেই আমরা চিরকাল তাদের কাছে ঋণী। তারাই যুগশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম প্রজন্ম। আল্লাহতায়ালা তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তিটি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায় তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন সম্প্রদায় আল্লাহ যাদের আপন নবী (সা.)-এর সংস্পর্শধন্য হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। (মিশকাত : ১৯৩)ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তির মর্ম হলো, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য কেউ থাকলে তারা হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন। আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

    সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষের নেক আমল এক করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে। আর যে তাদের কষ্ট দেবে, সে আমাকেই কষ্ট দেবে। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেবে, অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।’ (তিরমিজি :

    সাহাবায়ে কিরাম হেদায়াতের নক্ষত্র, তাকওয়া ও ঈমানের দীপ্তিমান তারকা, সুদীপ্ত পূর্ণিমা। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই বহন করেছেন ইসলামের ঝান্ডা এবং উড্ডীন করেছেন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ কারণেই আমরা চিরকাল তাদের কাছে ঋণী। তারাই যুগশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম প্রজন্ম। আল্লাহতায়ালা তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তিটি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায় তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন সম্প্রদায় আল্লাহ যাদের আপন নবী (সা.)-এর সংস্পর্শধন্য হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। (মিশকাত :

    ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তির মর্ম হলো, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য কেউ থাকলে তারা হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন। আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

    সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষের নেক আমল এক করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)

    আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে। আর যে তাদের কষ্ট দেবে, সে আমাকেই কষ্ট দেবে। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেবে, অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।’ (তিরমিজি : ৩৮৬২)

    মুসলমান দাবি করে যদি কেউ তাদের গালমন্দ করে, তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে, তার এই আচরণ কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে মিলে যায়। পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে, একমাত্র কাফিররাই সাহাবাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। মুসলিম হয়েও যারা সাহাবায়ে কিরামের সমালোচনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, নিশ্চিত বলা যায়, তারা কাফের মুশরিকদের সাথি-সঙ্গী। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে সাহাবাদের ঈমানের মতো ঈমান আনতে বলেছেন। এখন যারা সাড়ে চৌদ্দশ বছর পরে এসে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের মুসলমান বলার সুযোগ আছে কি!?

    মুসলমান তো তারা যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।’ (সুরা হাশর : ১০)

    সুরা ফাতাহ ২৯ আয়াতে ‘লি ইয়াগিজা বিহিমুল কুফফার’। অর্থ— ‘কাফেরদের অন্তর্দাহ সৃষ্টি হয়’ এর ব্যাখ্যায় ইমাম মালেক (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সেও এই হুকুমের আওতায় পড়বে।’

    ইমাম আবু জুর‘আ আর রাজি (রহ.) বলেন, ‘যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে সাহাবাদের কোনো একজনের মর্যাদাহানি করতে দেখবেন, তখন বুঝে নেবেন যে, ধর্মদ্রোহী নাস্তিক। কারণ হলো, রাসুল (সা.) সত্য, কোরআনও সত্য। আর কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন সাহাবায়ে কিরাম। নিশ্চয় তারা চায় আমাদের প্রমাণগুলোয় আঘাত করতে। যাতে তারা কোরআন-সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে। এরাই ধর্মদ্রোহী-নাস্তিক। এদের খতম করে দেওয়া শ্রেয়।’ (মিনহাজুস সুন্নাহ : ১/১৮)

    সাহাবাবিদ্বেষী শ্রেণি সম্পর্কে নবীজি ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, ‘শিগগিরই একদল বের হবে, যারা আমার সাহাবাদের দোষারোপ করবে, অভিযুক্ত করবে এবং গালি দেবে। সাবধান! সাবধান! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সঙ্গে পানাহার করবে না, তাদের সঙ্গে নামাজ পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়াও করবে না।’ (আল জামে’ লি আখলাকির রাবি ওয়া আদাবিস সামে : ১৩৫৩)

    আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে আমার সাহাবিকে গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা সব মানুষের অভিশাপ। আল্লাহ তার নফল বা ফরজ কিছুই কবুল করবেন না।’ (তাবারানি : ২১০৮)

  • জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

    জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন—

    ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন।

    ২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন।

    ৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন।

    ৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে।

    ৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

  • আবারও রাজের নাটকে জাহিদ হাসান

    আবারও রাজের নাটকে জাহিদ হাসান

    দীর্ঘদিন পর নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। তাঁদের নতুন এই নাটকের নাম ‘পথহারা মন’। প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত এ নাটকে আরও অভিনয় করছেন খাইরুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, দীপা খন্দকার, ডা. এজাজুল ইসলাম ও মনিরা মিঠু।

    নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা রাজ জানান, ‘পথহারা মন’ মূলত ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের চিরায়ত আবেগের গল্প। দর্শক যেন খুব সহজে নিজেদের জীবনের কিছু মুহূর্ত এই নাটকে খুঁজে পান, সেভাবেই গল্পটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

    জাহিদ হাসানকে নিয়ে সবশেষ ২০১৮ সালে ‘ছেলেমানুষি’ নামে সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেছিলেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, যা বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। তাঁর সহজাত অভিনয় দক্ষতা নাটকটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রজন্মের একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পীর সমন্বয়ে দারুণ একটি টিম পেয়েছি।’

    অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘রাজের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা সব সময়ই চমৎকার। অনেক দিন পর আবারও তাঁর নির্দেশনায় কাজ করছি, এটা সত্যি আনন্দের। নাটকের গল্প খুব ভালো। শুটিংয়ের পরিবেশও দারুণ উপভোগ করছি।’

    ঢাকার উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে ১০ জুলাই থেকে পথহারা মন নাটকের শুটিং চলছে। আজ মঙ্গলবার এর চিত্রায়ণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নাটকটির গল্প লিখেছেন জাকিয়া হোসেন তৃষা, যৌথভাবে পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন আসাদ জামান ও নির্মাতা রাজ। সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

  • বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। অসংখ্য উপজেলা ও শহরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যা পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশকে বিনষ্ট করেছে। এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। তাই চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

    শিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চরম প্রতিকূলতা ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের এই অনমনীয় অবস্থান শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব বা মানবিক হতে পারে না।

    শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, এই দুর্যোগের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথেও। চলমান পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, সুযোগ ও মেধা বিকাশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো সংকটে শিক্ষার্থীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ও সংগঠনটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ৯ নেতা।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    সাদিক কায়েম ছাড়া বিদায় নেওয়া অন্যরা হলেন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • ইমাম খতিবদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের

    ইমাম খতিবদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের

    সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নজরে এসেছে।

    শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতারক চক্রটি কখনো টেলিফোন, কখনো মোবাইল, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় কিংবা এর কোনো জেলা বা উপজেলা কার্যালয় কখনোই অননুমোদিত ব্যক্তি বা নম্বরের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে না। কোনো আর্থিক সুবিধা, সম্মানী, ভাতা, অনুদান বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধার নামে যদি কেউ ব্যাংক হিসাব নম্বর, ওটিপি, পিন নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য অথবা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য জানতে চায়, তবে তা প্রতারণার অংশ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

    এমতাবস্থায় দেশের সব ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ফোনকলের মাধ্যমে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেবেন না। ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য, ওটিপি, পিন নম্বর কিংবা অন্য কোনো গোপন তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো তথ্য বা অর্থ দাবি করলে তা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে নেবেন। প্রতারণার কোনো প্রচেষ্টা বা সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

  • আইআরজিসি’কে নিষিদ্ধ করছে বৃটেন

    আইআরজিসি’কে নিষিদ্ধ করছে বৃটেন

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বৃটেন সরকার। এই সিদ্ধান্তকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এনিয়ে বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা আইআরজিসির প্রতি যেকোনো ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করা হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতবিরোধের পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি দিক থেকে এটি সরাসরি ‘প্রস্ক্রিপশন’ (সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধকরণ) না হলেও কার্যত একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে।


    আইআরজিসির পাশাপাশি ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়নস অব দ্য রাইট (আইএমসিআর) এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আন্তর্জাতিক শাখা রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পস (জিআরইউ)-কেও নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

    বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানায়, সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সংগঠনগুলো বিদেশি শক্তির পক্ষে বৃটেনের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তাই বৃটেনের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এসব সংগঠনকে তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন।


    বৃটিশ সরকারের দাবি, বৃটেনের মাটিতে সংঘটিত একাধিক হুমকি ও ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশনের দুই সাংবাদিককে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ এবং বৃটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার ঘটনাও রয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের কনজারভেটিভ সরকারের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বর্তমান সরকার। পূর্ববর্তী সরকার আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আইআরজিসিকে যেকোনোভাবে সমর্থন করা বৃটেনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ তেহরান-লন্ডন সম্পর্ককে আরও শীতল করে তুলতে পারে। বৃটিশ কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন, আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ করা হলে ইরান তেহরানে নিযুক্ত বৃটেনের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করতে পারে।

  • রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি খোঁজখবর নেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

    এদিকে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ৫০০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    রাকিবুল ইসলাম রাকিবে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সব সময় মানুষের পাশে ছিলো, ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থাকবে।

    ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ইমরান ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি জাবেদ ইকবালসহ, রামু উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

  • কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে আর নামাজ পড়া যাবেনা

    কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে আর নামাজ পড়া যাবেনা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা বিমানবন্দর অঞ্চলে ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার এই মসজিদে নামাজ পড়া হলেও গত শনিবার মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ফটক হলো বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পথ, যা দিয়ে মসজিদে ঢুকতে হয়।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে মসজিদটি স্থানান্তর করতে মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মসজিদটির জন্য আরও প্রশস্ত একটি জায়গা দেওয়া হবে বলেও অতীতে জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।

    বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যে অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, মসজিদটি তার ভেতরে অবস্থিত। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) নামে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে অঞ্চলটি। ভারতে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সিআইএসএফ। তারাও এই স্থাপন নিয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছে। তবে এখনো পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের কোনো মসজিদ বন্ধ করা হয়নি বা সেখানে নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হয়নি। এই প্রথম শনিবার বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

    সমস্যা হলো, কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হয়েছে ১৯২৪ সালে আর মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে ১৮৯০ সালে। অর্থাৎ বিমানবন্দর তৈরির ৩৪ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ অঞ্চল সে সময় অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল এবং গ্রামের মানুষের টাকায় মসজিদটি বানানো হয়।

    আজ যেখানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, একসময় সেখানকার গ্রাম থেকেও মানুষ এসে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, যেমন আসতেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর মহকুমার মানুষও। আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে রচিত প্রবন্ধে মসজিদটির যে উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ওই সময় মসজিদটির নাম ছিল ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ এবং বর্তমানে এটির নাম ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’। বাংলাদেশ–লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করেন।

    এ ঘটনায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে মসজিদ কমিটিসহ স্থানীয় সব সামাজিক সংগঠনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু এ নিয়ে কেউ রাস্তায় নামবেন না। আমরা বিজেপির সঙ্গে ঝগড়া চাই না। আমরা চাই যেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক কাজ হয়নি।’

    বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন যেমন দারুল উলুম দেওবন্দ, মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

  • বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

    বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সদ্যবিদায়ী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ছাত্রশিবিরের ষাণ্মাসিক এক সেটআপে সাদিক কায়েমসহ ৯ জন কেন্দ্রীয় সম্পাদকের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কথা জানিয়েছেন প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

    এরপর ব্যক্তিগত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কথা জানান সাদিক কায়েম। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সাথে।

    তিনি আরো লিখেন, এই প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলিকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা দিয়েছে।

    ‘পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী চিত্র। পুরোটা সময় জুড়ে নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল ও জনশক্তিদের যে সোহবত ও সান্নিধ্য পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।’

    সাদিক কায়েম আরও লিখেন, দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের পবিত্র সম্পর্কগুলোকে কবুল করুন। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলের মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পথ চলার তাওফিক দিন এবং এই আন্দোলনকে বিজয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন, আমীন।ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়া ৯ সম্পাদকদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, কেন্দ্রীয় প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • ফ্যাসিস্ট আমলের  দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি থেকে বের হচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

    ফ্যাসিস্ট আমলের দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি থেকে বের হচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

    রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছিল। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সব খাতেই পরিবর্তন আনতে হবে, সেই ধারাবাহিকতায় নতুন ভিসা নীতিও তৈরি করা হচ্ছে। একটি দেশের ভিসা নীতিই বলে দেয় দেশটি কতটা সহজগম্য, নাকি সেখানে ঢুকতে অনেক প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে। আধুনিক ভিসা নীতির দরকার আছে, সে কারণে রিভাইজ করা হচ্ছে। এর ফলে পর্যটন, বিনিয়োগ বাড়াতে ভিসা নীতির বড় ভূমিকা আছে।’

    আইএমএফের চলমান কর্মসূচি থেকে বের হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগ আমলের প্রোগ্রাম দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল, না হলে আমরা সেখান থেকে বের হলাম কেন! আগের প্রোগ্রামের অনেকগুলো শর্ত ছিল, যেগুলো একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা মনে করি দেশের জনগণের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আগের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসে আমরা নতুন প্রোগ্রামে যাচ্ছি।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য, জনগণে স্বার্থে যে ধরনের প্রোগ্রাম প্রয়োজন সেটি নেওয়া হবে। কিস্তির টাকা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই, যে প্রোগ্রামে যাবো সেটিতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটিই চিন্তা। কিস্তির টাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রোগ্রামে যাব সেটি দেশ ও মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

  • আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। আজানরত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম গোপিনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন।

    স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিশেষ সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    নিহতের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

  • ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

    গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

    যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।

  • দুর্নীতির মামলায় কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা কারাগারে

    দুর্নীতির মামলায় কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা কারাগারে

    সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।আসামিরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দিয়েছেন।

    কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, রাজস্ব কর্মকর্তা এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।

    এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমির বলেন, ‘এই ১১ আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়ে গত ১৬ এপ্রিল তারা আত্মসমর্পণ করেন। ওইদিন আদালত তাদের ১২ জুলাই পর্যন্ত জামিন দেন। সে অনুযায়ী রোববার তারা স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করে। দুদকের পক্ষে আমরা বিরোধিতা করি। শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

    পাঁচ দেশে রপ্তানির নামে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এই মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়— আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রফতানি দেখিয়ে দো এম্পেক্স লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যাংক জমা হয়। শুধু তাই নয় ৩৪টি রফতানি চালানের মূল্যবাবদ প্রণোদনা হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো রফতানি হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দো এম্পেক্স লিমিটেডের মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে।

    যার মধ্যে ৭ বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কৃষি জাতীয় পণ্য রপ্তানির সত্যতা পাওয়া গেলেও ৩৪টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কোনো পণ্যই বিদেশে রফতানি হয়নি। অথচ পণ্য রফতানির বিপরীতে অগ্রিম হিসাবে পুরো অর্থ ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭.৪৪ মার্কিন ডলার অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবাসন হয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা। রপ্তানি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

  • গোরক্ষকদের সাজা দেওয়ায় পর মুসলিম বিচারককে হত্যার হুমকি

    গোরক্ষকদের সাজা দেওয়ায় পর মুসলিম বিচারককে হত্যার হুমকি

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৪ জন স্বঘোষিত ‘গোরক্ষককে’যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর মুসলিম বিচারক তাবাসসুম খান অনলাইনে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন।

    গত ১২ জুন মধ্যপ্রদেশের একটি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান ১৪ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা ও অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। ওই সময় ৫০ বছর বয়সি নজির আহমদ রাতে গরু পরিবহণ করছিলেন। পথে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে একদল স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ তার গাড়ির গতিরোধ করে। গরু পাচারের সন্দেহে নজির আহমদ ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত নজির আহমদ পরে মারা যান। তার দুই সঙ্গী বেঁচে যান এবং আদালতে ঘটনার সাক্ষ্য দেন।

    রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান এটিকে ‘স্পষ্ট গণপিটুনির ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।

    রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তারা দাবি করেন, ‘গরু রক্ষা করার’ কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারককে নিয়ে একের পর এক বিদ্বেষমূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

    বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচারককে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন। একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন, ১০ দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে দেশে ‘রক্তপাত’ ঘটবে।

    এদিকে ডানপন্থী হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সুদর্শন নিউজের এক উপস্থাপক দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দর্শকদের ‘গোরক্ষকদের পক্ষে লড়াইয়ে’ নামার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন গোরক্ষা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পাঞ্জাবে ‘গৌ রক্ষা পরিষদ’-এর বিক্ষোভে বিচারক তাবাসসুম খানের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে উত্তরপ্রদেশেও ‘রাষ্ট্রীয় বজরং দল’ দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

    ভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মার্কণ্ডে কাটজু বলেন, এই হামলাগুলো শুধু রায়ের সমালোচনা নয়; বরং বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তার বিচারিক কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা। তার ভাষায়, বিচারকের ধর্ম নয়, রায়ের আইনগত ভিত্তির আলোকে সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

    এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)। সংগঠন দুটির দাবি, হুমকিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

    এসসিবিএর সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, বিচারকদের ভয়ভীতি দেখানো গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিচারক যদি নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক ভিডিওগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। একই সঙ্গে তার জন্য দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

  • খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    প্রোটিনের উপকারিতা শুধু পেশি গঠন এবং শক্তি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং শরীরকে মেরামত ও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও অনেকেই মনে করেন, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার ব্যয়বহুল বা খাধ্যাভ্যাস অনুসরণ করা কঠিন, তবে প্রতিদিনের রান্না করা খাবারে কয়েকটি সাধারণ পরিবর্তন এনে সহজেই প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

    ভারতীয় নিউট্রিশনিস্ট প্রবালিকা লোনডে দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায় জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    ১. আপনার নিয়মিত খাবারে ডাল, অঙ্কুরিত ছোলা বা ভাজা ছোলা যোগ করুন। অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য সালাদ,স্যান্ডউইচে অঙ্কুরিত ছোলা মেশাতে পারেন। দুপুরের বা রাতের খাবারের সাথে এক বাটি অতিরিক্ত ডাল যোগ করাও প্রোটিন বাড়ানোর একটি সহজ উপায়।

    ২. সঠিক পরিমাণে পনির, দই বা দুধ আপনার দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন। পনির পরোটা, সবজি, পোলাও বা স্যান্ডউইচে যোগ করা যেতে পারে। দই প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ এবং এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এক কাপ দই বা দুধও দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

    ৩. আরেকটি ভালো উপায় হলো প্রোটিন-সমৃদ্ধ আটা ব্যবহার করে খাবারটিকে মাল্টিগ্রেইন করে তোলা। রুটি বানানোর সময় গমের আটার সাথে বেসন, রাগি, সয়াবিনের আটা বা ছাতু যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় এবং স্বাদেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।

    ৪. সকাল এবং বিকালের নাশতায় বাদাম ও বীজ যোগ করুন। চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, তিল, তিসি এবং কুমড়োর বীজ দই, স্মুদি, ওটস বা সালাদের উপর ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। খাবারের সাথে চিনাবাদামের চাটনি বা চিনাবাদামের গুঁড়োও একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

    ৫. খাবারে ডিম, মুরগির মাংস, মাছ বা সয়া পণ্য আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করুন। সিদ্ধ ডিম বিকালের নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে তরকারি, বা ফ্রাইড রাইসে সয়া যোগ করা যায়। এই খাবারগুলো সাশ্রয়ী এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ।

    লোন্ডে বলেন , দৈনন্দিন কিছু সাধারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বাড়ির খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও আরও সুষম করে তোলা যায়। তিনি জানান, প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার শক্তি বাড়াতে, শরীর সেরে উঠতে সাহায্য করে। এই সব দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে যেগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জুলাই নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ফান্ড না দেয়, তাহলে আমি নিজের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই ফান্ডে টাকা দেব।’ যোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফান্ডের জন্য প্রয়োজনে আমার রক্ত বিক্রি করতেও দ্বিধা করব না।’

    শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বা ‘সিডিআই’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে সঠিক ইতিহাসের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই জরুরি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

    জুলাই বিপ্লবকে একটি মহাকাব্যিক বিপ্লব এবং অসম মহাযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একপক্ষ অস্ত্র এবং অন্যপক্ষ বুককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ তিনি হাসপাতালে আহতদের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, যার ফলে আহতদের অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং ড্রেসিংয়ের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

  • তুরস্কে আজানের ধ্বনিতে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    তুরস্কে আজানের ধ্বনিতে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রোস্তাদোত্তির।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তুরস্কের মুসলিমদের সহনশীলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে; এর মধ্যে এক ধরনের গভীর ও হৃদয়স্পর্শী সুর রয়েছে।

    তুরস্কে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি খুব শিগগিরই আবার তুরস্ক সফর করব।

  • কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের পাশে অবস্থান করা শতাব্দী প্রাচীন গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। মসজিদ কমিটি, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বজনমতের ভিত্তিতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ও নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মনে করা হচ্ছে শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই এই মসজিদ স্থানান্তরের কাজ শুরু হতে পারে। কারণ বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে শনিবার থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।

    ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ যা অনেকের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হয়। এর কারণ মসজিদটির অবস্থান।

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকায় প্রবল বর্ষণ বা ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সময় পাইলটের পক্ষে রানওয়ে থেকে সামান্য দূরত্বে এই মসজিদ ভিজ্যুয়াল ইলিউশন তৈরি করে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া কিছু সেফটি নর্মস বা সুরক্ষাবিধি রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, বাঁকড়া মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি বা সহকারী রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিকভাবেই এই আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে বেশ কিছুটা কম দূরত্বে রয়েছে মসজিদটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানওয়ের এত কাছাকাছি এই কাঠামোটি থাকার কারণে সেখানে আধুনিক ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ (আইএলএস) বসানো যাচ্ছিল না। আর এর ফলেই বিমানবন্দরের উড়ান পরিচালনার সামগ্রিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

    বর্তমান এই কাঠামোগত বিন্যাসের কারণে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। মসজিদটির অবস্থানের দরুন সেকেন্ডারি রানওয়ের ‘টাচডাউন পয়েন্ট’ বা বিমান ছোঁয়ার নির্দিষ্ট স্থানটিকে বাধ্য হয়ে কিছুটা এগিয়ে এনে ছোট করতে হয়েছিল। আর রানওয়ের এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় বিমানগুলো এই রানওয়েটি ব্যবহার করতে পারছিল না। মসজিদটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেলে এই সমস্ত বাধা-বিপত্তি এক ঝটকায় দূর হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণের রাস্তা সাফ হওয়ায় বিমান চলাচল ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হবে।

    কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, চলতি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই ২০১৩ সালের আগে কলকাতা বিমানবন্দর যে পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ব্যবহার করত, সেটিও এবার ভেঙে ফেলা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ভেঙে ফেলার পর নতুন টার্মিনাল তৈরি এবং মসজিদ স্থানান্তরের পর দ্বিতীয় রানওয়ে পুরোদমে চালু করা গেলে কলকাতা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন করার ক্ষমতা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন)।

    এই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে আছে প্রায় ৩০ বছর। সূত্র বলছে, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি।

    তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় ফের মসজিদ সরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঈদের নামাজ ওই মসজিদে পড়েন বহু মানুষ। তাদের ভাবাবেগকেও প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মনে করা হচ্ছে শনিবার থেকেই এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।

    মসজিদ কমিটির তরফে আগেই এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।’

    স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন ‘যারা নামাজ পড়তে যান তাদের কোনো পাশ ইস্যু করা হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা রেখে তাদের রানওযের পাশে থাকা ওই মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। আপনারা জানেন আগের সরকারের আমলে কত জাল আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তার একটা সংকট তৈরি হয়। একইসঙ্গে যারা নামাজ পড়তে যান তাদের জন্য সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন রাখতে হয়। একটা বাস সবসময় যাতায়াতের জন্য রাখতে হয়। মসজিদটির জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বড় বিমান আসতে পারে না। বিমানবন্দরের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এক কথায় বিমানবন্দরের উন্নয়ন কিছুই হচ্ছে না। আবার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। আমরা মসজিদ কমিটিকে বলেছি রানওয়ের বাইরে এয়ারপোর্ট অথরিটির অন্য জমি আপনারা চিহ্নিত করুন, আমরা দিয়ে দেবো।’

    ১৯২৪ সালে চালু হয় কলকাতা বিমানবন্দর। জমিটি প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তি। পরে ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তখন মসজিদের পাশেই ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেয়া হয়। মসজিদটি থেকে যায় বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভেতর, রানওয়ের পাশেই।

    ১৯৬২ সালের জমি অধিগ্রহণের অন্যতম শর্ত হিসেবে গৌরীপুর কালীমন্দিরের (যশোহর রোডের ওপর) বিপরীতে একটি ছোট্ট লোহার গেট করা আছে। তার ওপর রয়েছে সিআইএসএফের ওয়াচ টাওয়ার। গেটের কলিং বেল বাজালে নামাজ পাঠ করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য গেট খোলা হয়। তাদের আধার কার্ড যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ বাসে করে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যান। দৈনিক তিনটি শিফটে এরকম ৪টি করে বাসের ব্যবস্থা থাকে। এই বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই মসজিদ পর্যন্ত যাওয়া কার্যত অসম্ভব।

    শনিবার সালামপুরের কারণে যদি মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয় বাইরের জগতের মানুষ সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না। কারণ ভাঙার যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরের নিজস্ব। সেগুলো পুরাতন টার্মিনাস কার্গো বিভাগ থেকে সরাসরি রানওয়ে হয়ে মসজিদ পর্যন্ত যাতায়াত করবে। যশোহর রোড থেকে মসজিদের দূরত্ব কমবেশি প্রায় ৩ কিলোমিটার।

  • শাহবাগে ‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

    শাহবাগে ‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ আদেশ দেন।

    এর আগে মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান। আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আসামিকে কারাগারে রাখা হোক। পরবর্তীতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তবে এদিন আসামিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন ছিল না।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পশ্চিম পাশের পাদদেশে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রচিত ‘তাফহীমূল কুরআন’এর তিনটি খণ্ডে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ওই যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। উত্তেজিত জনতার মারধরে আসামি সামান্য আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

  • ধর্ম

    ধর্ম

    মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ উদ্বোধন

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় এর উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

    অনুষ্ঠাননে গেস্ট অব অনার ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুমিনুল হক।

    মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল ফারুক, মডেল মসজিদ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মাদ ফেরদৌস-উজ-জামান।

  • আবারও খোলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স

    আবারও খোলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স

    হযরত শাহ জালাল (রহ.) মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়েছে। এবার বাক্সগুলো থেকে ৪ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

    জানা গেছে, বাক্সগুলো থেকে পাওয়া ৪ বস্তার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে লাল রঙের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। টাকা গণনার এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। গণনা কার্যক্রমের সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং নবগঠিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

    এর আগে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম শাহজালালের মাজার পরিদর্শনে যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তার উদ্যোগে গত ১৮ জুন নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন ও ঐতিহাসিক তিনটি ডেক সিলগালা করা হয়েছিল। এরপর ২২ জুন প্রথম দফায় ৪ দিনে সংগৃহীত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা গণনা করে সোনালী ব্যাংকের বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়, যেখানে প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি ছিল।

    সাবেক জেলা প্রশাসক এরপর মাজারে আনসার সদস্যদের মোতায়েন করেন এবং তখন থেকে আনসার সদস্যরা মাজারের দানবাক্স ও ডেক পাহারায় রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে মাজারের ডেক ও দানবাক্সে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, প্রথমবার দানবাক্স খোলার পর জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয় এবং এর মধ্যেই সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক কাঠামোর জন্য আধুনিক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। এই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক।

  • যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরের সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) সন্দেহভাজন এক সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক তরুণের নাম তাহসীন ইসলাম (১৯)। এ সময় তার বাড়ি থেকে একটি চাপাতি, কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তাহসীন কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানিয়েছে, তাহসীনের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে তাকে আটক করা হয়েছে। আগের একটি ডাকাতি মামলায়ও তিনি তৃতীয় নম্বর আসামি।

    তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। তবে যশোরে সংগঠনটির সক্রিয় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    সম্প্রতি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শাহ আমানত সাবির প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের বিরুদ্ধে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

    এর আগে গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে ছয় যুবককে আটক করা হয়। সিটিটিসির দাবি, সংগঠনটির নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত এবং আফগানিস্তানফেরত উগ্রপন্থিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পুলিশের দাবি, একটি বিদেশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত আবাসন প্রকল্পের আড়ালে চক্রটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে টিটিপির আদলে দেশে তেহরিক-ই-তালেবান বাংলাদেশ (টিটিবি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

  • যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।’

    দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুল মালেক খান।

    বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।’

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশিম রেজা।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।

  • নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’  কি ইসলামে বৈধ? আলেমরা কি বলেন

    নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ কি ইসলামে বৈধ? আলেমরা কি বলেন

    হজ পালন শেষে নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ উপাধি ব্যবহার করা নিয়ে সমাজে প্রচলিত একটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, ইসলামে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কোনো সামাজিক উপাধি বা পরিচিতি নয়।

    ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের একটি হিসেবে হজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। হজ মানুষকে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। তবে হজ পালনকারীকে নামের আগে বিশেষ উপাধি ব্যবহার করতে ইসলামে বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নেই।

    বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘হাজি’ শব্দের অর্থ হজ পালনকারী ব্যক্তি এবং ‘আলহাজ’ শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। কিন্তু আরবি ভাষা বা ইসলামী পরিভাষায় একাধিক হজের ভিত্তিতে আলাদা উপাধি ব্যবহারের কোনো প্রমাণ নেই।

    আলেমরা আরও বলেন, সব ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। কেউ যদি উপাধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হজ পালন করেন বা হজের পর মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাশা করেন, তবে তা ইবাদতের আন্তরিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    ইসলামী দৃষ্টিতে আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজেকে পবিত্র বা বিশেষ মর্যাদার দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন না করাই উত্তম।

    সাহাবায়ে কেরামের জীবনে হজ পালন থাকলেও তাঁদের নামের আগে কোনো ধরনের উপাধি ব্যবহারের প্রচলন ছিল না বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

    তবে আলেমরা এটিও উল্লেখ করেন, সম্মান বা পরিচয়ের অংশ হিসেবে কেউ কাউকে ‘হাজি সাহেব’ বলে ডাকলে তা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু এটিকে স্থায়ী উপাধি হিসেবে গ্রহণ করা বা না ডাকলে অসন্তুষ্ট হওয়া অনুচিত।

    সবশেষে বলা হয়েছে, হজের প্রকৃত সফলতা কোনো উপাধিতে নয়, বরং তাকওয়া, বিনয় এবং আল্লাহর আনুগত্যে পরিবর্তনের মধ্যেই নিহিত।

  • একীভূত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি

    একীভূত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি

    একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের আমানত উত্তোলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরোপ করা সীমার বাইরে বিশেষ অনুমতি পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনায় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা তার হিসাব থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মে মাসের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের জন্য নিজের হিসাব থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি চান। পরে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

    ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় থাকা পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্কিম কার্যকর হওয়ার পর সাধারণভাবে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারেন। পরে যাদের জমার পরিমাণ দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস পর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। তবে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। যদিও অনেক আমানতকারী অভিযোগ করছেন, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তারা এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। পাঁচটি ব্যাংকের আমানত পরিশোধের বিষয়টি ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় পরিচালিত হলেও রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও অবস্থান বিবেচনায় তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এর আগেও কয়েকজন আমানতকারীকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রুপ ঈমান নষ্টের কারণ, কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা

    ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রুপ ঈমান নষ্টের কারণ, কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা

    মহান আল্লাহ মানুষের কল্যাণে যুগে যুগে দ্বিন ও শরিয়তের বিধান দিয়েছেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো শরিয়তের বিধানগুলোকে মান্য করা এবং তাকে সম্মান করা।

    এটা তার ঈমানের দাবি ও নিদর্শন। পক্ষান্তরে ইসলামের কোনো বিধান, নিদর্শন বা শরিয়তের কোনো অংশ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যা মানুষের ঈমান পর্যন্ত বিনষ্ট করে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বোলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রুপ করছিলে? ঈমান আনার পর তোমরা দোষ ঢাকার চেষ্টা কোরো না।

    ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬)
    তাফসিরবিদরা বলেন, তাবুক অভিযানের সময় কিছু লোক সাহাবায়ে কেরাম ও দ্বিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল, তখন এই আয়াত নাজিল হয়। আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে দ্বিনকে নিয়ে উপহাস করা কুফরির নামান্তর।

    কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘এটাই বিধান; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর সম্মান রক্ষা করে, তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩২)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শরিয়তের বিধি-বিধান ও দ্বিনের প্রতীক বিষয়গুলোকে সম্মান করা আল্লাহভীতির লক্ষণ, বিপরীতে তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও বাঁকা মন্তব্য করা তাকওয়া পরহেজগারির পরিপন্থী কাজ।

    মহানবী (সা.)-ও এ বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বান্দা কখনো এমন একটি কথা বলে, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়। কিন্তু সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না, অথচ এর কারণে সে জাহান্নামে পতিত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৭)

    বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, পারস্পরিক কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কে অনেকেই ইসলামের বিধান, দাড়ি, হিজাব, নামাজ, কোরবানি কিংবা অন্য কোনো বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকে। অনেকের দৃষ্টিতে এটাকে বাকস্বাধীনতার অংশ বা তুচ্ছ বিষয় মনে হলেও শরিয়তে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ।

    কারণ এতে দ্বিনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং মানুষের অন্তরে দ্বিনের প্রতি অবজ্ঞা সৃষ্টি হয়।
    ফিকহের কিতাবগুলোতে শরিয়তের বিধি-বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করাকে কুফরির কারণ বলা হয়েছে। ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি শরিয়তের কোনো বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ করে, সে কাফির হয়ে যায়।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ২/২৫৯)

    ইমাম ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেছেন, ‘দ্বিন বা দ্বিনের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস করা কুফরি।’ (আল বাহরুর রায়িক : ৫/১৩৪)

    তবে মনে রাখতে হবে, শরিয়তের কোনো বিধানের দলিল, প্রয়োগ পদ্ধতি বা ফিকহি ব্যাখ্যা নিয়ে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা আর বিদ্রুপ করা এক বিষয় নয়। ইসলাম চিন্তা, গবেষণা ও প্রশ্নকে উৎসাহিত করে; কিন্তু উপহাস ও অবজ্ঞাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। কোনো বিধানের হিকমত বা প্রজ্ঞা তার বোধগম্য না হলেও এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করা যে আল্লাহর প্রতিটি বিধানই কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করে দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সেই বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকে না।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)

    পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের বিধি-বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা শুধু একটি নৈতিক অপরাধ নয়; বরং তা ঈমানের জন্যও মারাত্মক হুমকি। দেশের প্রচলিত আইনও তা অনুমোদন করে না। একজন মুসলমানের উচিত দ্বিনের প্রতিটি বিধানকে সম্মান করা, অন্যদেরও এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উৎসাহিত করা এবং কথাবার্তা ও আচরণে এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকা, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করুন। আমিন।

  • গাংনীতে গরুবোঝাই লাটাহাম্বার উল্টে চালক নিহত, আহত ১১

    গাংনীতে গরুবোঝাই লাটাহাম্বার উল্টে চালক নিহত, আহত ১১

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গরুবোঝাই একটি লাটাহাম্বার (ইঞ্জিনচালিত যান) উল্টে চালক উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন গরু ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

    আহতরা হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলাম (৪৭), রাজা মিয়া (৬০), রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আলী (৪৬), মুজিবনগর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৪২), মনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৫২), চকশ্যামনগর গ্রামের ওসমান আলী (৪৮) ও ইসরাফিল হোসেন (৩৫), মনাখালী গ্রামের সাব্দার মণ্ডল (৫৫) ও রফিকুল ইসলাম (৫৫), এবং সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫)। তারা সবাই গরু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয়রা জানান, মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই লাটাহাম্বারটি চালকসহ ব্যবসায়ীদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুর হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাইপুর বাজারের অদূরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে লাটাহাম্বারটি উল্টে গেলে গাড়িতে থাকা যাত্রী ও গরুগুলো নিচে চাপা পড়ে।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক উজ্জ্বল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আরও চারজনকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি আহতরা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত অবৈধ লাটাহাম্বারটি জব্দ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং আহত গরুগুলোরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা

    ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা

    বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই হামলা চালায়। তাদের দাবি, হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

    আইআরজিসি আরো জানায়, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম পাল্টা জবাব। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমোজগান ও মাহশাহরে কিছু উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

    তাদের দাবি, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব কমিয়ে দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।

  • মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে এক ভিন্নধর্মী কৃষি উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা লালন-পালনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই এলাকায় সৃষ্টি করেছেন ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। ২০২৩ সালে ছোট পরিসরে মাত্র ২টি দুম্বা নিয়ে শুরু হওয়া এই খামারে বর্তমানে দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। এখানে শুধু তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে-জুন মাসে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা দরে ৩টি দুম্বা বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতাদের বেশির ভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ। দুম্বা পালন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এখনই বিক্রি না করে প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই খামারে।

    রাইয়ান বিন রাকিব দুম্বা খামারের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার দাম এক লাখ টাকা। অথচ একই বয়সী উন্নত জাতের একটি ভেড়ার দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভেড়ার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয় মরুর দেশের প্রাণীটি। এক বছর বয়সী একটি দুম্বার ওজন সাড়ে তিন মণ পর্যন্ত হয়। তখন সেটি তিন লাখ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি করা যায়। দুম্বা পালন এখন কঠিন কিছু নয়। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিচ্ছে এই প্রাণী। ঘাস, খড় ও দানাদার খাদ্যেই বেড়ে উঠছে প্রাণীগুলো। রোগবালাইও তুলনামূলক কম। ফলে দুম্বা পালনে লাভের সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

    দুম্বা নিয়ে এক সম্ভাবনাময় উদ্যোগে দেশীয় পরিবেশে বিদেশি প্রজাতির এ প্রাণী লালন-পালন সহজ নয়। তবে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রাকিবুল ইসলাম সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন।

    সরেজমিনে খামার ঘুরে দেখা যায়, বিশাল খামারের এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা মাচার মতো উঁচু করে বানানো সেই ঘরের এক পাশে মা দুম্বাসহ ৩টি বাচ্চা দুম্বা এবং অন্য পাশে রাখা হয়েছে ১টি বড় পাঠা দুম্বাসহ ১১টি দুম্বা। চারপাশ ঘেরা থাকলেও দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। পরিপাটি পরিবেশে যত্নের সঙ্গে লালন করা হচ্ছে প্রতিটি দুম্বা। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রজাতির পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    সাহেবনগরের এই দুম্বা খামার এখন শুধু একটি খামার নয়, বরং স্বপ্ন দেখার এক অনন্য উদাহরণ। মরুভূমির দুম্বা আজ কুষ্টিয়ার সবুজ প্রান্তরে নতুন সম্ভাবনার গল্প বলছে, যেখানে সাহস, শ্রম আর উদ্ভাবনী চিন্তার মিলনে গড়ে উঠছে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ হত্যার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাতে নড়াইল সদর থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্র ও যোদ্ধাদের ওপর হামলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পলাতক কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রলোভন ও হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি নজরে আসার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ভুক্তভোগীরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    অভিযুক্ত ১১ জন হলেন মো. মিজানুর রহমান নয়ন, সৌরভ কর্মকার, মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয়, শাহাদাত হোসেন রায়হান, ইমন শিকদার, মো. মিলন জমাদ্দার, মো. ইস্রাফিল, মো. সজীব চৌধুরী, এস কে আসলাম, মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস এবং মো. জুবায়ের শেখ।

    এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাস আসায় আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তরা এ ধরনের উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগেও তার ওপর হামলার গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

    অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লিখিত অধিকাংশ ব্যক্তিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং অভিযোগকারীর সাথেও তার কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণার ঘটনায় নড়াইলের সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে প্রকৃত সত্য কতটা বেরিয়ে আসে।