ইসলামী বিশ্ব

  • বাজেট অধিবেশন শুরু

    বাজেট অধিবেশন শুরু

    শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। রোববার বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশন শুরু হয় বেলা ৩টায়। আগামী ১১ জুন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

    পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটিয়ে পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথেও ফের সক্রিয় হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যুক্ত হবে তাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে। জোটগত ছাড়াও আলাদাভাবে শরিক দলগুলো চলমান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষাভে সোচ্চার থাকবে বলে জানা গেছে।

    সূত্রমতে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী। ওই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ কর্মসূচি কোনো দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামবে জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে।

    এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে একই বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে খেলাফত মজলিস। এছাড়া আজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য দলও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগে গত ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছিলেন, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে। পরে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট।

  • “কান্ডারী হুঁশিয়ার” গানের শতবর্ষ পালনের আহবান

    “কান্ডারী হুঁশিয়ার” গানের শতবর্ষ পালনের আহবান

    সাহিত্য ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার (কাণ্ডারী হুঁশিয়ার)’-এর শতবর্ষ পালনের আহ্বান জানিয়েছে দেশের ১৪টি জাতীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ৩ জুন ২০২৬ তারিখে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে নজরুল গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি প্রথম গানটি পরিবেশন করেন। পরে এটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ‘কালিকলম’ পত্রিকায় গানের স্বরলিপি ছাপা হয়। একই বছরের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজের অধিবেশনে তিনি গানটি পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্মীয় বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে নজরুলের মানবতাবাদী বার্তা নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব। নেতৃবৃন্দ নজরুলের ১৯২৬ সালে রচিত ‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধের একটি উক্তিও স্মরণ করিয়ে দেন—‘যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনও অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।’ যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে।

    বিবৃতিদাতা সংগঠনসমূহ : বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা (নারায়ণগঞ্জ), বসন্তবাহার সংগীত একাডেমি (নারায়ণগঞ্জ), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।

  • অরুণাচলে সিলগালা করা হলো ১৫টি মসজিদ

    অরুণাচলে সিলগালা করা হলো ১৫টি মসজিদ

    যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে নির্মাণের অভিযোগে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচলের রাজধানী ইটানগরে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদগুলো সিলগালা করা হয়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুসারে, বিনা অনুমতিতে নির্মিত এই মসজিদগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারাভিযানে নেমেছিল অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইউথ অর্গানাইজেশন (এপিওয়াইও) নামের একটি সংস্থা। এপিও’র অভিযোগ, অবৈধ এসব মসজিদ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে মুসলিমদের একাংশ।

    সম্প্রতি এ ইস্যুতে রাজধানী ইটানগরে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় এপিওয়াইও, সেই সঙ্গে হুমকি দেয়-যদি প্রশাসন শিগগিরই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এ ইস্যুতে বৃহত্তর গণ আন্দোলনে নামবে সংস্থাটি। তারপরই বৃহস্পতিবার মসজিদগুলো সিলগালা করে রাজ্য প্রশাসন।

    গতকাল রাজ্য সরকারের মুখপাত্র এবং শিক্ষামন্ত্রী পি. ডি. সোনা বলেন, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এপিওয়াইও প্রতিনিধি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর মধ্যে একটি বৈঠকে বিষয়টি প্রথম সরকারের নজরে আনা হয়েছিল। বৈঠকের পর, সরকার জেলা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীকালে একটি সরকারি সমীক্ষায় ইটানগরে ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ চিহ্নিত করা হয়।

    তিনি জানান, রাজধানী কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১২টি সিল বা খালি করা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া আগেই শেষ করেছিল। বাকি তিনটি মসজিদের ব্যাপারে ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী এবং এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে আরেকটি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়, পরে সেই মসজিদগুলোও সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    পিডি সোনা বলেন, যে উদ্বেগের কারণে এপিওয়াইও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, আইনসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপের তার সমাধান করা হয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার আগে এআইওয়াইও তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

  • হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    পবিত্র হজ পালন শেষে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। এই পবিত্র সফর তার মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিকতা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও অবিচল বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে ‘ইশক মুর্শেদ’ খ্যাত এই তারকা বলেন, এই পবিত্র সফর তাকে আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং ‘সব ধরনের জাগতিক আবেগ থেকে মুক্ত হতে’ সাহায্য করেছে।

    বাবা-মায়ের সঙ্গে হজ পালন করতে পারায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুরেফিশান। তিনি জানান, হজের প্রথম দিন ‘রমি’ (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তবে বাবা-মায়ের উপস্থিতি তাকে শক্তি জুগিয়েছিল।

    এই সফরকে ‘সবর, শুকর ও তাওয়াক্কুলের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, এটি কেবল তার ভেতরেই গভীর পরিবর্তন আনেনি বরং অন্যান্য নারী হাজিদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগও করে দিয়েছে।

    সহযাত্রীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ও ভক্তির কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়েছি, কেঁদেছি, হেসেছি এবং ক্যাম্পের সব ধরনের খাবার খেয়েছি’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) অসাধারণ সব গল্প শুনেছি এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে ধর্মকে আরও গভীরভাবে জেনেছি’।

    এই পুণ্যময় সফরে অর্জিত অসংখ্য নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘জানি না আমি নিজের সঙ্গে কী নিয়ে যাচ্ছি, কারণ প্রাপ্তি এত বেশি যে তা এই মুহূর্তে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আমি এটা জানি যে, পেছনে কী ফেলে যাচ্ছি—এতদিন ধরে বয়ে বেড়ানো সব জাগতিক চিন্তা ও আবেগের গুরুভার’।

    ‘সব ধরনের আবেগ থেকে মুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়া—এটাই হজ আমাকে শিখিয়েছে। সম্ভবত এই একটি কথাই আমি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দেব। আমার শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা, কিন্তু আমার মন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও পরিপূর্ণ’।

    বার্তার শেষে দুরেফিশান বিশ্বের সব মুসলিমকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। সেই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন সবাইকে এই পবিত্র হজব্রত পালনের তৌফিক দান করেন।

  • হাজিদের ৮০ ভাষায় কোরআন উপহার

    হাজিদের ৮০ ভাষায় কোরআন উপহার

    সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে হাজি এবং হজের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মীদের মাঝে পবিত্র কোরআন ও এর অনুবাদের কপি বিতরণ শুরু করেছে দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএর খবরে জানানো হয়েছে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন লাউঞ্জগুলোতে পবিত্র কোরআনের এই কপি বিতরণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

    বিদেশি হাজিরা নিজ নিজ দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে তাদের হাতে এই উপহার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। মদিনার কিং ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সে মুদ্রিত মোট ১৯ লাখ কোরআনের কপি হাজিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

    হাজিরা যেন নিজ মাতৃভাষায় কোরআনের বাণী বুঝতে পারেন, সেজন্য ৮০টিরও বেশি ভাষার অনুবাদসহ কোরআনের কপি সরবরাহ করা হয়েছে।

    ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে দেশের সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে ২৪ ঘণ্টা এই কোরআন বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে।

    সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ আল শেখ বলেন, এই উপহার বিশ্বজুড়ে পবিত্র কোরআনের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের নেতৃত্বের আন্তরিক প্রয়াসেরই বহিঃপ্রকাশ।

    এদিকে সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্টস নিশ্চিত করেছে যে, হজ পরবর্তী সময়ে হাজিদের নির্বিঘ্নে নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশের সব স্থল, আকাশ ও সমুদ্রবন্দরে পূর্ণ প্রস্তুতি এবং উচ্চ সক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সব আন্তর্জাতিক হাজির প্রতি তাদের নির্ধারিত ভ্রমণ সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজে অংশ নেওয়া মোট হাজির সংখ্যা ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩১০ জনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.০৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন পথ দিয়ে সৌদি আরবে এসেছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন বিদেশি হাজি। অন্যদিকে সৌদি আরবের নাগরিক ও বাসিন্দা মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ হাজির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।

    এ এম

  • হাজিরা দেশে ফিরেছেন ৬,১৭৫

    হাজিরা দেশে ফিরেছেন ৬,১৭৫

    পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।

    রোববার পর্যন্ত এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় গত ২৬ জুন। জানা গেছে, নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থা হজের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩টি, সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ৮টি ফ্লাইটে করে হাজিগণ দেশে ফেরেন।

    হজ অফিস জানায়, ফেরত আসা হাজিদের মধ্যে ৪১৬ জন সরকারি এবং ৫ হাজার ৭৫৯ জন বেসরকারি হজ এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় দেশে এসে পৌঁছেছেন।

    হজ চলাকালে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৩৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় মারা গেছেন।

    এ বছরের ১৮ এপ্রিল প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে হজ কার্যক্রম শুরু হয় এবং শেষ হয় ২১ মে।

    ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে গতকাল (৩০ মে) থেকে। এটি চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

    এ এম

  • গাংনীতে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ২৫ টি গরু কোরবানি এনসিপির

    গাংনীতে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ২৫ টি গরু কোরবানি এনসিপির

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনীতে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণের লক্ষ্যে ২৫টি গরু কোরবানি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহৎ এ মানবিক আয়োজনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গাংনী পৌর কাঁচাবাজার এলাকায় কোরবানি ও মাংস প্যাকেজিং কার্যক্রম চলে। পরে দুপুর ২টার দিকে গাংনী ঈদগাহ ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস বিতরণ করা হয়।

    আয়োজকদের দাবি, মেহেরপুর জেলায় কোনো রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে এত বড় পরিসরে কোরবানির আয়োজন এবারই প্রথম। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও গাংনী পৌর মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

    তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা দিয়ানেত ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং এনসিপির গাংনী উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ২ হাজার ১০০ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

    জানা গেছে, তুরস্কের দিয়ানেত ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরবানি, ত্রাণ সহায়তা, মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক শিক্ষা ও স্কলারশিপসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাংনীতেও এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

    মাংস বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন দিয়ানেত ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ফাতিহ শিমশেক, দোভাষী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল গালিব, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম, এনসিপির গাংনী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ রানা, জেলা এনসিপির সদস্য শামিম আহমেদ আজম, আমির হামজা ও উপজেলা সদস্য আমিনুল ইসলাম সায়েমসহ দলের শতাধিক নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।

    কোরবানি ও মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, “ঈদের আনন্দ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেই আমাদের এ উদ্যোগ। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”

    মাংস পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় আয়োজনে সহায়তা পেয়ে তারা আনন্দিত। তারা এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

  • নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ

    নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ

    নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরের একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মসজিদের দেয়াল ভাঙচুর, বিয়ারের বোতল নিক্ষেপ এবং ভবনের সামনে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন)।শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ছয়জন হামলাকারী মেভলানা মসজিদে ভাঙচুর চালায়। সংস্থাটি জানায়, হামলাকারীরা মসজিদের একটি মোজাইক দেয়াল নষ্ট করে। পাশাপাশি তারা ভবনটির দিকে বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারে এবং এর সামনের অংশে প্রস্রাব করে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদ কর্তৃপক্ষ বারবার পুলিশকে ফোন করলেও যথাসময়ে সাড়া না দিয়ে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মুসলিমদের ও মসজিদ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মুসল্লিরা ক্রমশ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তবে ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো হুমকি বা জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করেননি।

    পুলিশের এমন মূল্যায়নের তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের এই মনোভাব বোঝা কঠিন। যেকোনো পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের ধর্মপালনের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। হামলার পাশাপাশি পুলিশের সাড়া দিতে এমন বিলম্বের ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

    আইএসএন জানিয়েছে, তারা এই হামলার ঘটনায় একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

    (সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি)

    আরআেই খান

  • হাজীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ঢাকায়

    হাজীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ঢাকায়

    ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট। শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।গত ১৭ এপ্রিল রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী নিয়ে শেষ ফ্লাইটটি সৌদি পৌঁছায় ২১ মে।

  • হজের খুতবা

    হজের খুতবা

    ঐক্য পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    মক্কা মুকাররমার আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরায় এবার হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজাইফি। খুতবায় তিনি মুসলমানদেরকে ঐক্য পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আজ (৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে অবস্থানরত হাজীগণের উদ্দেশে খুতবা প্রদানকালে শায়খ হুজাইফি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাকওয়া অবলম্বন করুন। হে ঈমানদারগণ! অঙ্গীকার পূর্ণ করুন।’

    এ সময় তিনি আরো বলেন, তাকওয়া অবলম্বন করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না। তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না। তাওহিদের ওপর আমল করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। ঈমানদারদের সামনে যখন আল্লাহর আয়াত ও নির্দশনসমূহ পেশ করা হয়, তখন তাদের অন্তর কোমল হয়ে যায়।

    শায়খ হুজাইফি বলেন, মহানবী সা: আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল। তিনি খাতামুন নবিয়্যিন।

    হজযাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রতিটি বিপদে ধৈর্যের পথ অবলম্বন করা উচিত। ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহ তায়ালা মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। (মুসল্লিগণ!) আপনারা, সবসময় সত্য কথা বলুন এবং মিথ্যা থেকে বিরত থাকুন। বিদআত ও গিবত থেকেও দূরে থাকুন।

    তিনি আরো বলেন, আপনারা সর্বক্ষণ মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকুন, আল্লাহ তায়ালার জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকুন। নামাজ কায়েম করুন। আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের শোকর আদায় করে তা থেকে উপকৃত হোন।

    মসজিদে নববী সা:-এর প্রবীণ এই ইমাম বলেন, যেসব জাতি জুলুম করেছে এবং অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তাদের থেকে নেয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্কই মুক্তির মাধ্যম। হে ঈমানদারগণ! নিজেদের রবের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখুন। হজের সময় সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। আজকের দিনে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা ঐক্যের ক্ষতি করে। হাজীরা যেন সর্বোত্তমভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতাগুলো আদায় করেন।

    খুতবা চলাকালে দোয়া করে মসজিদে নববী সা:-এর ইমাম বলেন, হে আল্লাহ! মুসলমানদের অবস্থার ওপর রহম করুন। আপনিই দোয়া কবুলকারী। হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! মুসলমানদের অবস্থা ভালো করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের আমল কবুল করুন। হে আল্লাহ! আমাদের হেদায়েত দান করুন।

    লাখো হাজী আরাফাতের ময়দানে খুতবা শ্রবণ করেন এবং খুতবায় মুসলিম উম্মাহকে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা দেয়া হয়। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সমস্যা-সঙ্কটগুলোর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। খুতবার পর হজযাত্রীরা মসজিদে নামিরায় জোহর ও আসরের নামাজ একসাথে আদায় করেন। ##

  • ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসলামিক ওয়াকফ পরিচালিত মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন নবী সুলাইমান (আ)-এর সমাধিস্থল দখলের আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। মঙ্গলবার ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই জমির মধ্যেই ফিলিস্তিনি শহর বেইত ইক্সা এবং ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ অবস্থিত।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের অধীনস্থ বেসামরিক প্রশাসন জানায়, এলাকাটি ‘জনস্বার্থে’ দখল করা হচ্ছে।

    ইসরাইল বলছে, নবী সোলাইমান (আ)-এর সমাধির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সংরক্ষণের জন্য তারা একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেবে।

    কিন্তু ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই পদক্ষেপটি ‘ইহুদীকরণ’-এর আরো একটি উদাহরণ। সোলাইমান (আ) ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

    বাইজেন্টাইন যুগে, সম্রাট জাস্টিনিয়ান সেই স্থানে একটি গির্জা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে সোলাইমান (আ) কে সমাহিত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।

    স্থানটি জেরুজালেমের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৮৫ মিটার উপরে অবস্থিত। এরপর মুসলিম শাসকরা সোলাইমান (আ) এর স্মরণে সেই স্থানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।

    এখন সেখানে যে মসজিদটি রয়েছে, তাতে আইয়ুবী ও মামলুক আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি সমাধিও রয়েছে, যা মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী সোলাইমান (আ) এর কবর।

    মানচিত্র, সীমান্ত, বসতি এবং জেরুজালেম শহর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খলিল তুফাকজি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এগুলো ইসলামিক ওয়াকফ [ধর্মীয় দান], আলামি পরিবারের একটি বংশানুক্রমিক ওয়াকফ।’

    ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে, তারা নবী সোলাইমান (আ) এর সমাধিস্থল এলাকায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এনেছে।

    এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সেই কক্ষে একটি সিনাগগ নির্মাণ, যেখানে সোলাইমান (আ) এর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

    সময়ের সাথে সাথে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের প্রার্থনার স্থানের আকার কমিয়ে দিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে স্থানটির স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।##

  • সৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

    সৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

    সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন মুসলমানরা।

    পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি আরাফার ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই সাদা ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

    আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

    দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

    আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

    এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

    হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

  • নড়াইলে ‘ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশ’র আত্মপ্রকাশ

    নড়াইলে ‘ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশ’র আত্মপ্রকাশ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশ’ এর আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

    শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সদরের মাদরাসা বাজার এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন-দারুল উলুম নড়াইলের পরিচালক মাওলানা মুফতি ফরিদ উদ্দিন, মারকাজুল কোরআন নড়াইলের অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস শাহাদাত আল মামুন, নড়াইল সদর উপজেলা জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবু তালহা, ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশের মুখপাত্র শেখ রাকিব উদ্দিন, মুফতি ওমর ফারুক, প্যারাডাইস একাডেমি নড়াইলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু মুসা, সংগঠক শাফায়াত উল্লাহ প্রমুখ।

    ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশের মুখপাত্র শেখ রাকিব উদ্দিন বলেন, ‘ইজ্জাতুল ইসলাম’ এর অর্থ হলো ইসলামের সম্মান, ইসলামের গৌরব বা ইসলামের মর্যাদা। এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আজ (শনিবার) থেকে এর পথচলা শুরু হলো। ‘ইজ্জাতুল ইসলাম বাংলাদেশ’ অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মের আলেম-ওলামাদের প্লাটফর্ম। এর লক্ষ্য হলো-আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহব্বত অর্জন। এছাড়া শরিয়াহ ও দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে যে কটূক্তি বা অপব্যাখ্যা দেয়া হয়, সেইসব বিষয়ে প্রতিবাদ করা। এইসব বিষয় সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

  • কাবা শরিফ কেন মক্কা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত?

    কাবা শরিফ কেন মক্কা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত?

    পবিত্র কাবা শরিফ শুধু মুসলিম উম্মাহর কিবলাই নয়, এটি পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাও। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— কেন কাবা শরিফ ঠিক মক্কা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত? এর পেছনে কি শুধু ধর্মীয় কারণ, নাকি বিশেষ কোনো ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে?ইতিহাস বলছে, হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সময়কাল থেকেই এই স্থানটি পবিত্র কাবার জন্য নির্ধারিত ছিল। আর পাহাড়বেষ্টিত এই অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানই পরবর্তীতে মক্কা নগরীর বিকাশ ও এর বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক কাঠামোর দিক থেকে মক্কা ছিল মূলত জাবাল আল-সারওয়াত পর্বতমালার অন্তর্গত ইবরাহিম উপত্যকার মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া একটি সংকীর্ণ পথ। পবিত্র মসজিদ আল হারাম এই অঞ্চলের সুউচ্চ পাহাড়গুলো দ্বারা বেষ্টিত হলেও এর মূল অবস্থান নিচু ও সমতল ভূমিতে অবস্থিত।

    এই পবিত্র মসজিদকে ঘিরে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক পাহাড়, যা ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এর পূর্বদিকে রয়েছে জাবাল আবু কুবাইস এবং পশ্চিমদিকে জাবাল কুইকাইন, জাবাল নূর ও জাবাল সওর অবস্থিত।

    ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মক্কা অঞ্চলটি ‘আরব শিল্ড’ বা আরবীয় ঢালের অংশ। এখানকার ভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত প্রাচীন আগ্নেয় শিলা ও গ্রানাইট পাথরের গঠন, যা এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

    এছাড়া এনসাইক্লোপিডিয়া অব সৌদি অ্যারাবিয়ার তথ্যমতে, এই উপত্যকার প্রাকৃতিক গঠন প্রাচীন যুগে আরব উপদ্বীপজুড়ে চলাচলকারী বাণিজ্য কাফেলাগুলোর জন্য একটি সহজ ও স্বাভাবিক পথ তৈরি করেছিল। ফলে মক্কা ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আধ্যাত্মিক মর্যাদা, ভৌগোলিক সুবিধা এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব— এই তিনটির অনন্য সমন্বয়ের কারণেই যুগ যুগ ধরে মক্কা সারা বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর সেই কেন্দ্রেই আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পবিত্র কাবা শরিফ— যা ঐক্য, ইবাদত ও আত্মসমর্পণের চিরন্তন প্রতীক।

  • ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি

    ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলমানদের ওপর চলমান নিপীড়ন, উচ্ছেদ অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মাওলানা মামুনুল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঈদগাহে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইভাবে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।তিনি বলেন, সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তিনি জাতিসংঘ, ওআইসি, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বৈঠকে আরো আলোচনা করেন— সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।বৈঠকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।বৈঠকে অবিলম্বে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত এবং মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার জনগণের মতামতের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে।বৈঠকে গণভোটের রায় কার্যকরে ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সফল করতে জেলা-জেলায় নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আজীজ, সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানাজাল এমপি, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এমপি, মুফতি হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আমজাদ হুসাইন, মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা রেজাউল করিম, মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রমুখ।

  • আগামী কাল কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    আগামী কাল কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি) পরিচালিত কামিল মাদরাসাগুলোর দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার প্রকাশ করা হবে।

    শনিবার (৯ মে) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় পর্ব-২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষা গত ৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।

    সারাদেশের মোট ১৬৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রায় ৪২ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আল হাদিস, তাফসির, ফিকাহ এবং আদব বিষয়ে কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

  • কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

    কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

    ইসলামী ডেস্ক:

    ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং কোরবানির সঙ্গে মিশে আছে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার, আয়াত : ২)

    এ থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ইখলাস ও আল্লাহভীতি অর্জন।

    হাদিস শরীফেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২৩)

    অন্য হাদিসে এসেছে , আদম সন্তানের জন্য কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কোরবানি করা। (তিরমিজি)

    ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। এখানে সামর্থ্যবান বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।

    কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু

    ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেই প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুকিম মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
    নেসাব হল, স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

    স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাহলে কোরবানী ওয়াজিব হবে।

    স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমি এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র—সবই কোবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল মুহিতুল বুরহানিতেও এই মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া (হাওল) শর্ত নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

  • সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৭৭৯২ বাংলাদেশী হজযাত্রী

    সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৭৭৯২ বাংলাদেশী হজযাত্রী

    বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার পাঁচ শ’ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৪টি ফ্লাইটে মোট ৩৭ হাজার ৭৯২ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো: লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জেদ্দায় ৯৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার পাঁচ শ’ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। হজ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ৩০টি প্রধান অ্যাজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারীসহ মোট ৬৬০টি অ্যাজেন্সি কাজ করছে।

    এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪১টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৮৬৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৩৫টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৮১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৪২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

    বাংলাদেশী বাকি ৪০ হাজার ৫০৫ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে জানান পরিচালক।

    হজ অফিস জানায়, এ বছর দেশ থেকে চার হাজার ৫৬৫ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

    ঢাকায় সৌদি দূতাবাস গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ২৯৭ জনের ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৪১৯টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৮৭৮টি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ইসরায়েলের লক্ষ্য আল-আকসা মসজিদ ধীরে ধীরে ধ্বংস করা: ইরান

    ইসরায়েলের লক্ষ্য আল-আকসা মসজিদ ধীরে ধীরে ধ্বংস করা: ইরান

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদে পুনরায় হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোহসেনি এজেয়ি এক বার্তায় বলেছেন, ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এই পবিত্র স্থাপনাটি ধ্বংস করা এবং পবিত্র জেরুজালেমের পরিচয় পরিবর্তন করা।

    তিনি সব মুসলমানের জন্য এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

    বিচার বিভাগের প্রধান সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তা প্রকাশ করে ইসরায়েলের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সেখানকার বর্ণবাদী সামরিক বাহিনীর সরাসরি ও সর্বাত্মক সহায়তায় আবারও আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে হানা দিয়েছে এবং এই পবিত্র স্থানের মর্যাদার অবমাননা করেছে।

    বিচার বিভাগের প্রধান এই শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ কেবল একটি সাধারণ হামলা নয়; বরং তারা পরিকল্পিতভাবে আল-আকসা মসজিদকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করা যা এখন আর কারও অজানা নয়।

    মোহসেনি এজেয়ে তার বার্তার শেষে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতাকে সবার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের সব মুসলমানের কর্তব্য হলো এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রথম কিবলাকে আগ্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করা।#

  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

    দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    আজ বুধবার সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশের মসজিদসমূহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের যথাক্রমে পাঁচ হাজার, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, হিন্দু মন্দির, শ্মশান, বৌদ্ধ মন্দির ও শ্মশান, খ্রিস্টান গির্জা ও সেমিট্রিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বর্তমান অর্থবছরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবছর বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়ে বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়। এ অনুদান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। একই সাথে ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকেও বিহার, উপাসনালয় ও শ্মশানের সংস্কার ও মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়।

    তিনি জানান, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমেও দেশের চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও তীর্থস্থানগুলোতে প্রতিবছর উৎসবভিত্তিক অনুদান দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের ভিত্তিতে এ অনুদান বিতরণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও কবরস্থানের সংস্কার ও মেরামতের জন্যও অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

  • আরবের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়

    আরবের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়

    ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতায় বাগদাদ যেন এক রূপকথার নগরী। দজলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহর একসময় ছিল বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্রভূমি। যখন ইউরোপ অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত, চীনের ঐশ্বর্য পৃথিবীর কাছে প্রচ্ছন্ন, ভারতে সবে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে গৌরবময় মুসলিম শাসন, তখন আব্বাসী খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাগদাদে জ্বলছিল প্রদীপ্ত জ্ঞানশিখা। সেই শিখার উজ্জ্বলতম আধারটির নাম মুসতানসিরিয়া মাদরাসা। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল আরব জাহানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

    হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শুরুর কথা। আব্বাসী খেলাফতের তখন শেষ বিকাল, তবু সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে বাগদাদ তখনো বিশ্বের মধ্যে অনন্য। ৬২৩ হিজরিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পরে খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহ উপলব্ধি করলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা ও পাঠদানের কার্যক্রমকে সুসংহত করতে বহুমুখী সুবিধা-সংবলিত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। খলিফা মুসতানসির বিল্লাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার সব শাখা-প্রশাখা বা স্কুল অব থটের সমন্বয়ক। যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানেরও নিরবচ্ছিন্ন চর্চা হবে।

    ৬২৫ হিজরি (১২২৭ খ্রি.) সনে দজলা নদীর পূর্বতীরে মুসতানসিরিয়া মাদরাসার নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ৬৩১ হিজরিতে (১২৩৪ খ্রি.) নির্মাণকাজ শেষ হয়। উৎসবমুখর আয়োজনে মাদরাসাটির উদ্বোধন করা হয়। ১৬০টি উটের পিঠে চাপিয়ে দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও বইপত্র মাদরাসার লাইব্রেরিতে আনা হয়।

    বৈচিত্র্যময় পাঠ্যক্রম

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম। এটি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র না, বরং সেখানে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো বিদ্যমান ছিল। এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ বিচারক, কূটনীতিক, চিকিৎসক, গণিতবিদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শী ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা হতো।

    ধর্মীয় বিজ্ঞান ও ভাষা-সাহিত্য : কোরআনের তাফসির, হাদিসচর্চা ও ফিকহ (ইসলামি আইন শাস্ত্র) ছিল ধর্ম-শিক্ষার মূল সাবজেক্ট। এই প্রতিষ্ঠানের অনন্যতা ছিল, ইসলামি আইন শাস্ত্রের চারটি স্কুল অব থটের (মাজহাব) সমন্বিত পাঠদান। আরবি ব্যাকরণ এবং উচ্চতর অলংকার শাস্ত্রও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রাকৃতিক ও গাণিতিক বিজ্ঞান : পাটিগণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান মুসতানসিরিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।

    চিকিৎসাশাস্ত্র : মাদরাসার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে একটি বিশেষ চিকিৎসা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ছিল ‘বিমারিস্তান’ বা হাসপাতাল নামে। সেখানে হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা পদ্ধতি শেখানো হতো।

    এছাড়া আরো অনেক বিষয় মাদরাসার শিক্ষা-কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    আবাসিক ব্যবস্থাপনা

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসার আবাসিক ব্যবস্থা ছিল সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ কর্মসূচির সঙ্গে এর উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য দেখা যায়। খলিফা মুসতানসির বিল্লাহর পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা ছিল এবং পাঠ গ্রহণের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত মনোরম।

    প্রতিটি শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ব্লক ও সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষ, মাদুর ও গালিচা সরবরাহ করা হতো। মাদরাসার রান্নাঘরে প্রতিদিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হতো।

    মাদরাসার লাইব্রেরিতে প্রায় ৮০,০০০ দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ছিল। সেখানে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং রাতে পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত আলোর সুবিধা ছিল।

    শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে এক দিনার করে ভাতা দেওয়া হতো। পাশাপাশি সাবান, তেল, লেখার কাগজসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচও বহন করা হতো। অসুস্থদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও ছিল।

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসা ছিল এতিমবান্ধব একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। এখানে এতিম শিশুদের জন্য ছিল আলাদা ‘দারুল কোরআন’। শিক্ষার্থীদের একমাত্র কাজ ছিল রুটি-রুজির চিন্তা না করে জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন থাকা।

    মুসতানসিরিয়ার প্রাণপুরুষ

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসা শুধু ইটপাথরের কোনো কাঠামো ছিল না; এর আসল প্রাণ ছিলেন বরেণ্য শিক্ষকরা। মাদরাসার পরিচালক মহিউদ্দিন আবুল মাহাসিন ইউসুফ ইবনুল জাওজি ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত এবং আলোকিত ব্যক্তি। মিসরের সুলতান আলকামিল তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বলেছেন, ‘দুনিয়ার মানুষের জ্ঞানবুদ্ধির ঘাটতি থাকলেও মহিউদ্দিনের জ্ঞানবুদ্ধি ছিল অনেক বেশি। এই জিনিসটা তার আরেকটু কম হলেই বরং ভালো হতো।’

    শেষ পরিণতি

    ৬৫৬ হিজরির (১২৫৮ খ্রি.) মোঙ্গল সেনাপতি হালাকু খান বাগদাদ অবরোধ করে, তখন ইবনুল জাওজি খলিফার দূত হিসেবে মোঙ্গল শিবিরে গিয়ে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাগ্য ছিল নির্মম। তাতাররা শহরে প্রবেশ করে মুসতানসিরিয়ার বিশ্ববিখ্যাত লাইব্রেরির প্রায় ৮০ হাজার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি দজলা নদীতে ফেলে দেয়। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই ইবনুল জাওজি ও তার তিন ছেলে নির্মমভাবে শহীদ হন।

    আজ দজলা নদীর তীরে মুসতানসিরিয়ার জীর্ণ দেয়ালগুলো সেই হারানো গৌরব ও শৌর্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সভ্যতার উত্থান ঘটে জ্ঞানের ভিত্তিতে আর পতন ঘটে তখনই, যখন সেই জ্ঞানকে রক্ষা করার শক্তি ও ঐক্য রাষ্ট্র হারিয়ে ফেলে।

  • ইসলামী সংস্কৃতি ও আলোকিত মানুষ

    ইসলামী সংস্কৃতি ও আলোকিত মানুষ

    সংস্কৃতি সাধারণত তাহজিব, তমদ্দুন বা ইংরেজি কালচারের প্রতিশব্দ রূপে ব্যবহৃত হয়। এ সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করা। এ হচ্ছে একটি ব্যাপক জীবনব্যবস্থা যা মানুষের চিন্তা-কল্পনা, স্বভাব-চরিত্র, আচার-ব্যবহার, পারিবারিক কাজকর্ম, সামাজিক ক্রিয়াকলাপ, রাজনৈতিক কর্মধারা, সভ্যতা ও সামাজিকতা সবকিছুর ওপরই পরিব্যাপ্ত। এ সংস্কৃতি কোন জাতীয়, বংশীয় বা গোত্রীয় সংস্কৃতি নয়। বরং সঠিক অর্থে এটি হচ্ছে মানবীয় সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি এক বিশ্বব্যাপী উদার- গোত্র, ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষই প্রবেশ করতে পারে। পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে এ সংস্কৃতি এক নির্ভুল সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে এবং এক সৎ ও পবিত্র জনসমাজ গড়ে তুলতে চায়। ইসলামী সংস্কৃতির ব্যবস্থাপনা একটি রাজ্যের ব্যবস্থাপনার মতো। এতে আল্লাহর মর্যাদা সাধারণ ধর্মীয় মত অনুসারে নিছক একজন উপাস্যের মত নয়। বরং দুনিয়াবি মত অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ শাসক ও রাসূল সা. তার প্রতিনিধি। কুরআন তাঁর আইনগ্রন্থ। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তার এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা বজায় রাখা ও এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তার প্রয়োজন সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের আছে, অন্য জীবের সংস্কৃতি বলে কিছুই নেই। মানুষ হিসেবে মানুষের আসল পরিচয়ই তার সংস্কৃতি। জীবন ধারণের জন্য মানুষ খাবার খেয়ে থাকে, এই খাবার ভাত-রুটি হতে পারে, আবার মাছ-গোশতও হতে পারে। এই খাবার খেয়েই মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়; কিন্তু এই ভাত-রুটি বা মাছ-গোশত খাওয়াটাই সংস্কৃতি নয়, সংস্কৃতি হচ্ছে খাবারের পদ্ধতি। আমরা যে পদ্ধতিতে খাবার গ্রহণ করব, সে পদ্ধতিটাই হচ্ছে সংস্কৃতি। অর্থাৎ সংস্কৃতি হচ্ছে জীবন পরিচালনার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার নাম।

    সংস্কৃতির সংজ্ঞা

    এক কথায় সংস্কৃতির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বিশ্লেষণের। সংস্কৃতি সম্পর্কিত এমন কতকগুলো উদ্ধৃতি পেশ করা হলো যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি সুষ্ঠু ধারণা অর্জন সহজ হতে পারে। আবুল মনসুর আহমেদ বলেন: “ইংরেজিতে যাকে বলা হয় (Culture/Refinement), আরবিতে যাকে তাহজিব বলা হয়, সংস্কৃতি শব্দটা সেই অর্থে ব্যবহার করা যেতে পারে।” আবুল ফজল বলেন: “ Culture শব্দের ধাতুগত অর্থ কর্ষণ অর্থাৎ সোজা কথায় চাষ করা। জমি রীতিমতো কর্ষিত না হলে যত ভালো বীজই বপন করা হোক না কেন তাতে ভালো ফসল কিছুতেই আশা করা যায় না। মন জিনিসটাও প্রায় জমির মতই। মনের ফসল পেতে হলে তার রীতিমত কর্ষণের প্রয়োজন।” ওয়াকিল আহমেদের ভাষায়: “জীবন ছাড়া সংস্কৃতি নেই।” বদরুদ্দীন উমর বলেন: “জীবন চর্চারই অন্য নাম সংস্কৃতি।” প্রচলিত অর্থে আমরা যাকে সংস্কৃতি বলে থাকি তারও লক্ষ্য মন আর চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন। মহত্ত্ব ও সৌন্দর্য সাধনার উপর, এক কথায় মনুষ্যত্বের উপর যে সংস্কৃতির ভিত্তি, একমাত্র সে সংস্কৃতিই মানবজীবনে বিকিরণ করতে পারে আলো। যে আলোর নেই কোনো দেশ, কোনো কাল ও জাত। তাই সংক্ষেপে বলা যায় যে, মানুষের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে চরিত্র আর চরিত্রের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে সংস্কৃতি।

    সংস্কৃতির ভুল ধারণা

    আমরা সাধারণ গান, সিনেমা, নাটক, বাদ্যযন্ত্র, শিল্প, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়কে সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করে থাকি। আসলে এইগুলো ঠিক সংস্কৃতি নয়; বরং সংস্কৃতির বাহন মাত্র। সংস্কৃতি বিকাশের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয় উপকরণ বা বাহন হিসাবে। তাই আমরা ভুলবশত তা অজ্ঞতার কারণে এ উপকরণ বা বাহনকে সংস্কৃতি বলে থাকি। সংস্কৃতিকে শুধু রীতিনীতি কিংবা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। মানব মনের অন্তর্নিহিত শক্তি, কৌতূহল ও প্রতিভা স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ লাভ করে সংস্কৃতির মাধ্যমে। এ জন্যই সংস্কৃতির মাধ্যমে মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে পারে। খণ্ড খণ্ড কিংবা আংশিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কখনও মানুষকে তার মনুষ্যত্ব বিকাশের সহায়তা করতে পারে না।

    অপসংস্কৃতি

    অপসংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্বভাবের বিপরীত অথবা সাংস্কৃতিক আদর্শের বিরুদ্ধে যা মানুষের সুস্থ ও সুপ্ত প্রতিভাকে বিকৃতি ও বিধবস্ত করে তাই হচ্ছে অপসংস্কৃতি। বর্তমান সমাজে অপসংস্কৃতি বলে থাকে চিহ্নিত করতে পারি তা নিম্নবরূপ:

    ১. বিদেশি প্রাচুর্য থেকে সৃষ্ট এক ধরনের অশ্লীল নৃত্যগীত, নাটক ও সিনেমা ইত্যাদি।

    ২. বিদেশি মিডিয়ার কু-প্রভাব।

    ৩. ডিশ এন্টিনার বদৌলতে প্রাইম, স্টার টিভি, জিটিভি, এমটিভি আগ্রাসন।

    ৪. যৌন উত্তেজনামূলক সাহিত্য, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, কমিক বই ইত্যাদির মাধ্যমে চরিত্র হরণ করা।

    ৫. ছায়াছবির মাধ্যমে ভায়োলেন্সের চিত্র প্রদর্শন।

    ৬. বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ক্লাবের নামে মাদকের ছড়াছড়ি।

    ৭. পুরুষ ও মহিলাদের বিকৃত রুচির পোশাক পরিধান।

    ৮. অতি আধুনিকতার নামে বিদেশী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও অনুশীলন।

    ১০. বিকৃত রুচি ও যৌন সুড়সুড়িমূলক বিজ্ঞাপন, পোস্টার, ফেস্টুন আলোকচিত্র ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন।

    ১১. ধর্মের নামে মাজার পূজা, কবর পূজা, শিরক ও বিদাতের ব্যাপক সয়লাব।

    সুতরাং অপসংস্কৃতি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে একটি জাতি বা দেশের ঐতিহ্যকে বিবেচনার আয়ত্তে আনতেই হবে।

    সংস্কৃতি ও ধর্ম

    ধর্ম হচ্ছে সংস্কৃতির একটি উপাদান। ধর্মবিশ্বাসের কারণে সাংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা লক্ষ্য করছি যে, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং প্রেরণা সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান সকলের ক্ষেত্রেই ধর্মবিশ্বাসটি জীবনের প্রেরণার উৎস। এ দেশের বিভিন্ন উৎসবের উৎস অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে যে, সেগুলোর প্রায় সব কয়টিই ধর্মভিত্তিক। ধর্মভিত্তিক হয়েও সকল উৎসব আয়োজনের মধ্যে একটি উদারতা, সহনশীলতা এবং সকল শ্রেণির এক সঙ্গে গ্রহণ করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আর এ কথা বলাই বাহুল্য যে, কোন জিনিস ব্যবহারের ব্যাপারে তার ¯্রষ্টা যে পদ্ধতি নির্দেশ করেন, সেই জিনিস ব্যবহারের সেটাই সর্বোত্তম ও নির্ভুল পন্থা। শুদ্ধ সংস্কৃতি পেতে হলে আমাদের যেতে হবে খোদায়ী দর্শনের কাছে। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, জীবন দিয়েছেন, আহার জোগাচ্ছেন এবং একদিন তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।

    ইসলাম ও সংস্কৃতি

    ইসলাম পৃথিবীতে নিছক রাজনৈতিক তা অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধনের জন্য আসেনি। ইসলাম এসেছে মানুষের চিন্তা ও কর্মকে পরিশুদ্ধ করার জন্য। মানুষের চিন্তা ও কর্মের এ পরিশুদ্ধির প্রচেষ্টাকেই বলা হয় সামগ্রিক অর্থে সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ইসলাম একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ফলে ইসলাম ছাড়া জীবন পরিচালনা মানেই হচ্ছে, অপূর্ণাঙ্গ বিধান দ্বারা পরিচালিত হওয়া। আর অপূর্ণাঙ্গ বিধান দ্বারা জীবন পরিচালনার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে অসঙ্গতি ও ত্রুটিপূর্ণ জীবন যাপন করা। স্বাভাবিকভাবেই এ জীবন অসংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতি শিকার হতে বাধ্য। এ জন্যই বলা যায়, পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়া ছাড়া পরিপূর্ণ সংস্কৃতিবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই হযরত মোহাম্মদ সা.-এর জীবনে ও বাণীতে, যে সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটেছে তাই ইসলামী বা মুসলিম সংস্কৃতি বলে পরিচিত।

    নীরব ঘাতক সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

    মুসলমানদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বাতিল শক্তি তার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তারা মনে করে দৃশ্যমান এ পৃথিবীর বাইরে আর কোনো জগৎ নেই, নেই কোনো জবাবদিহিতার অবকাশ। তাদের ভোগবাদী দৃষ্টির বিস্তার ঘটিয়ে মুসলমানদের চিরায়ত মূল্যবোধ বিনষ্ট করে দিচ্ছে তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে অন্যান্য মূল্যবোধের সাথে বিনষ্ট হচ্ছে:

    ১. আখেরাতের চেতনা। যে চেতনা মানুষকে পাপ ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত করে সমাজে পূত পবিত্রতার বিস্তার ঘটায়।

    ২. নেতৃত্বের চেতনা। যে চেতনা সামাজিক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

    ৩. তাওহিদের চেতনা। মানুষ একমাত্র আল্লাহর বান্দা এবং পরস্পর ভাই এ ধারণার বিলুপ্তি ঘটার ফলে সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এর ফলে ¯্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব, মানুষের মর্যাদা, মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য এসব ধারণার অবলুপ্তি ঘটে এবং মানুষ পশুর স্তরে নেমে আসে। বস্তুত এর ফলে একজন মুসলমান তার ঈমানী চেতনা হারিয়ে ফেলে এবং সে এমন সব কাজ করতে থাকে যা একজন মুসলমান তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না থাকার কারণে করে বসে। আর এ অবস্থা সৃষ্টি হলে মাথা গুনতিতে সে মুসলিম দলভুক্ত হলেও কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে সে আর মুসলিম থাকে না। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বা হামলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। তার মধ্যে শয়তানি গুণ সৃষ্টি করা এবং জীবনকে ব্যর্থ করে দেয়া। যুগে যুগে মুসলমানরা বাতিলের যত রকম হামলার শিকার হচ্ছে তার মধ্যে এ সাংস্কৃতিক হামলাই সর্বাপেক্ষা মারাত্মক ও ক্ষতিকারক।

    সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পরিণতি

    বাতিলের সর্বগ্রাসী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে মুসলমানরা যে একটি মর্যাদাবান জাতি, তাদের রয়েছে আলাদা কৃষ্টি-কালচার, ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিশ্ব মানবতার নেতৃত্বদানের জন্য এবং মহত্ত্ব ও মানবতার বিজয় ঘোষণার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, এ কথা অধিকাংশ মুসলমান আজ বিস্মৃত। অপসংস্কৃতির সয়লাবে আজ মুসলমান দ্বিধা-বিভক্ত। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব এবং অনৈক্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিকতার নামে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলছে। শিক্ষার নামে কু-শিক্ষা, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি বিনোদনের নামে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা এবং সর্বনাশা মাদক মুসলিম সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে দিকে ধাবিত করছে। অন্যদিকে ধর্মীয় উন্মাদনার মাধ্যমে মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ককে পারস্পরিক কাদা ছুড়াছুড়িতে ব্যস্ত রেখেছে। যা বাতিলের তীক্ষè দূরদৃষ্টি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাতিলের সাংস্কৃতিক ঘুমপাড়ানি গান মুসলমানদের এতটা আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, তাদের ঘরজুড়ে দাউ দাউ আগুন দেখেও সে আগুন নেভাতে যে তাদের উঠে দাঁড়াতে হবে সে কথা বুঝতে পারছে না মুসলিম। এটাই মুসলমানের দুর্ভাগ্য। বাতিলের সাংস্কৃতিক হামলার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলিম তার মুসলমানিত্ব হারাচ্ছে মৃত্যু ঘটেছে তাদের ঈমানী চেতনার। দুনিয়ার আদম শুমারিতে তাদেরকে মুসলিম হিসাবে উল্লেখ করা হলেও আল্লাহর খাঁটি বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য হারাচ্ছে তারা। হালাল হারামের কোন নিয়ম তাদেরকে পরিচালিত করতে পারে না। পাপ পুণ্যের ধার ধারে না বাস্তব কর্মজীবনে এ সকল মুসলমান। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। অথচ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার ঈমানদারদের মৃত্যু ঘটে মুসলমানিত্বহীন অবস্থায়।

    সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব

    আধুনিক বিশ্বে মুসলিম মিল্লাতের অনগ্রসর তার মূল কারণ ইমলামী সংস্কৃতির চর্চার অভাব। ইসলামের যে মূল দাবি মানুষের চিন্তা ও কর্মের সংস্কার ও পরিশুদ্ধি, সে সংস্কার ও পরিশুদ্ধি ছাড়া প্রকৃত অর্থে মুসলমান হওয়া যায় না, সংস্কৃতিবানও হওয়া যায় না। তাই সংস্কৃতিবান হতে হবে প্রথম মুসলিম হতে হবে আর মুসলিম হতে হলে সংস্কৃতিবান হতে হবে। কারণ সংস্কৃতির নিজস্ব কোনো আদর্শ নেই। সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের আচরিত কর্মপ্রবাহের নাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো আদর্শের ভিত্তিতে এ কর্মধারা পরিচালিত হলে তা হবে সংকীর্ণ ও অসম্পূর্ণ। তাই ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। এক কথায় বলা যায়, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী সংস্কৃতির লালন ও চর্চা অপরিহার্য।

    ইসলামী সংস্কৃতির মূল ভিত্তি

    ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার মূল ভিত্তি হচ্ছে ঈমান। যে বিশ্বাস ও আচরণ ইসলাম একজন মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে তার সাথে সাংঘর্ষিত হতে পারে এমন কোন কিছুই ইসলামী সংস্কৃতির মধ্যে শামিল হতে পারে না। এ সীমারেখাকে অবহেলা করে বা কৌশলের নামে তাকে অবজ্ঞা করে যা করা হবে তা আর যাই হোক ইসলামী সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ইসলামী সংস্কৃতির প্রাসাদ নির্মিত হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে: (১) তাওহিদ, (২) রিসালাত, (৩) আখেরাত ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার ভিত্তি হচ্ছে এ তাওহিদ, রিসালাত, আখেরাত। যে সকল কর্মকাণ্ড মানুষকে এ মৌলিক চেতনার স্মরণ থেকে ফিরিয়ে রাখে তাই অনৈসলামিক সংস্কৃতি, আর যে সব তৎপরতার মধ্য দিয়ে এ সকল চেতনা জাগ্রত, শাণিত ও মজবুত হয় তাই ইসলামী সংস্কৃতি।

    ১. তাওহিদ : তাওহিদ হচ্ছে ঈমানের বুনিয়াদ। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এটুকু বিশ্বাস করাই তাওহিদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে না। রাসূলের জামানায় তৎকালীন আরব মুশরিক এবং কাফেররাও এটুকু বিশ্বাস করতো। তাওহিদের বিশ্বাসের অর্থ হচ্ছে আল্লাহই একমাত্র সর্বভৌম ক্ষমতার মালিক, তিনিই মানুষের রিজিকদাতা, পালনকর্তা এবং একমাত্র অভিভাবক। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তারই ইবাদতের জন্য আর দুনিয়ার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। ভয় একমাত্র তাকেই করতে হবে সাহায্য চাইতে হবে তারই কাছে। মানুষের ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ সব তার হাতে। ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে এ তাওহিদ বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে হবে।

    ২. রিসালাত : মানবজাতির পথ প্রদর্শদনের জন্য আল্লাহ রাসূলকে সত্য দ্বীন ও হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন। ইসলামী সংস্কৃতির কাজ হলো মানুষের মনে রাসূলের নেতৃত্বের বিপরীত পৃথিবীর জন্য পাঠিয়েছেন। ইসলামী সংস্কৃতির কাজ হলো মানুষের মনে রাসূলের নেতৃত্বের বিপরীত পৃথিবীর জন্য কোনো নেতৃত্বের প্রতি যেন কারো মোহ সৃষ্টি না হয় মানুষের মনকে সেই উপলব্ধিতে উজ্জীবিত রাখা।

    ৩. আখিরাত : মানুষকে এ দুনিয়ায় আল্লাহ পাঠিয়েছেন তার ইবাদত করার জন্য। একদিন এ দুনিয়ার জিন্দেগি শেষ হয়ে যাবে। মানুষকে পুনরায় ফিরে যেতে হবে আল্লাহর দরবারে। যিনি আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করবে না তার জন্য রয়েছে অনন্ত আজাব। জীবনের প্রতিটি কাজে মানুষকে তাই ভাবতে হবে যে কাজটি আমি করছি তা কি পরকালে আমার নাজাতের উসিলা হবে, নাকি তা আমার জন্য বয়ে আনবে জাহান্নামের কঠিন আজাব। ইসলামী সংস্কৃতির কাজ হচ্ছে মানুষের দিলকে সর্বদা আখিরাতমুখী করা। সংস্কৃতির বিভিন্ন তৎপরতার মধ্যে দিয়ে বারবার আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেই কেবল একটি কল্যাণময় ইসলামী সমাজের আশা করা যেতে পারে।

    ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার ও

    লালন অপরিহার্য

    ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ এর প্রচার, প্রচার ও লালন করা ঈমানের দাবি। ঈমানের বিষয়ে কোন দুর্বলতা থাকলে যেমন পুরোপুরি ঈমানদার হওয়া যায় না। তেমনি ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ও পালন না করে পুরোপুরি মুসলিম হওয়া যায় না। কারণ বিজাতীয় সাংস্কৃতির গোলামির শিকল একবার কোন জাতির গলায় আটকে গেলে তা ছিন্ন করা যেমন দুঃসাধ্য তেমনি ছিন্ন করতে না পারলে তার পরিণামও ভয়াবহ। তাই সাংস্কৃতিক বিকাশ ও লালনের জন্য করণীয় বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো-

    (ক) পরিবার প্রথা : পরিবার মানব সভ্যতার মৌল ভিত্তি, সমাজের শান্তি-শৃংখলা, স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ইত্যাদি পারিবারিক সুস্থতা ও দৃঢ়তার ওপরই বহুলাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু পাশ্চাত্যের দর্শন শিক্ষা ও অপসংস্কৃতি এই পরিবার প্রথার উপর আঘাত হেনে সভ্যতার মূল ভিত্তিকেই বির্পযস্ত করে তুলছে। তাই এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য ইসলাম পরিবারকে সংস্কৃতি চর্চার নিয়ামকে পরিণত করে অতুলনীয় বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলছে তার কোনো বিকল্প নেই। পারিবারিক ক্ষেত্রে যদি আমরা ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ সাধন ও লালন করতে না পারি তাহলে পাশ্চাত্যের অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছছে যে, সেখানকার নারী পুরুষ এখন “লিভটুগেদার সিস্টেমে” জীবন নির্বাহ করতেই ক্রমাগত অভ্যস্ত হচ্ছে। ফলে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাই এই প্রেক্ষিতে মানবসমাজে পরিবার প্রথা, পারিবারিক শিক্ষা, জীবন ধারার প্রচলন ও কল্যাণকর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার জন্য এই পরিবারপদ্ধতি সব সময়ই অতিশয় কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।

    (খ) মসজিদভিত্তিক সংস্কৃতি চর্চা : ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার দ্বিতীয় প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে মসজিদ। মসজিদকে আমরা শুধুমাত্র নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছি। অথচ রাসূলের সময় থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদার যুগে মসজিদকে ইসলামী সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মসজিদ যেমন ইসলামী সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্প চর্চার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি মসজিদ মুসলমানদের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার কেন্দ্রভূমি। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বোধে উজ্জীবিত হয় মুসলমানদের জীবনধারা যে বোধের দ্বারাই পরিচালিত হয়। আমাদের সমাজে মসজিদকে এখনো যথার্থ মর্যাদায় ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি হয়নি। এ মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। মসজিদকে ব্যবহার করতে হবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার কেন্দ্র রূপে। এ জন্য যথাযথ উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    ১. ইসলামী সংস্কৃতির সুষ্ঠু আঞ্জামের জন্য মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিনের বেতনভাতা বৃদ্ধি করে এ কাজে ফুলটাইম নিয়োজিত করতে হবে।

    ২. নিয়মিত কুরআন হাদিসের পাঠ ও আলোচনা করা।

    ৩. বিভিন্ন জাতীয় ও ইসলামী দিবসের ওপর আলোচনা করা।

    ৪. শিশু-কিশোর, যুবক ও বয়স্কদের জন্য পৃথক পাঠ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।

    ৫. বিশেষ বিশেষ সময় বা উপলক্ষে হামদ, নাত, ইসলামী সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, আযান, কেরাত এর প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।

    ৬. পাঠাগার ও ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার চালু করা এবং পাঠ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।

    ৭. মাঝে মাঝে বই, চিত্র ও শিল্পকলার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।

    ৮. প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা।

    ৯. আত্মকল্যাণমূলক কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

    ১০. রমাদাান মাসকে সাংস্কৃতিক মাস হিসেবে উদযাপন করা।

    ১১. ইসলামী দিবসে বিশেষ প্রীতিভোজ, প্রীতি …… ব্যবস্থা করা।

    ১২. সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন সম্পদ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কলহ, মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদির মীমাংসা করা।

    ১৩. বাৎসরিক সম্মেলন ও তাফসির মাহফিলের ব্যবস্থা করা।

    ১৪. সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য সনদ ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা।

    ১৫. নামাজ পড়া সহ প্রতিটি কর্মকাণ্ডে মহিলাদের সম্পৃক্ত করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা।

    ১৬. বয়স্কদের জন্য নৈশ পাঠ/ নৈশ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা।

    ১৭. ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি বা ব্যক্তির দ্বারা প্রতিদিন বাড়ি/বাসায় বই সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

    ১৮. সকল কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা।

    এভাবে উপরোক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়স্কদেরকে ব্যাপকভাবে মসজিদমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে। মসজিদ কেবল নামাজ পড়ার জায়গা হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে মানুষের অবসর, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও বিনোদনের কেন্দ্র রূপেও মসজিদকে গড়ে তুলতে পারলে ইসলামী সংস্কৃতি বিকশিত হবে।

    (গ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলা: আমাদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোকে অধিকতর সক্রিয় করে তুলতে হবে। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সাংস্কৃতিক মন্ত্রালয়ের অর্থানুকূল্যে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৎপরতা অব্যশই এ দেশের অধিকাংশ জনগণের বিশ্বাস ও চেতনার সপক্ষে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এসব প্রতিষ্ঠান ভিনদেশী সংস্কৃতি নিয়ে যতটা সক্রিয় ইসলামী সংস্কৃতি বিষয়ে ততটা উদাসীন। জনগণের অর্থানুকূল্যে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানকে জনকল্যাণমুখী ও ইসলামী সাংস্কৃতিক বিষয়কে লালন করার জন্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

    (ঘ) মিডিয়ার ভূমিকা পালন : ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের জন্য মিডিয়া একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়া সংস্কৃতি বিকশিত হওয়া সম্ভব নয়। সরকারি মিডিয়া বিশেষ করে রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকার পাশাপাশি বেসরকারি মিডিয়া গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক বিশ্বে মিডিয়া সুবাদে অপসংস্কৃতি যে ভাবে মুসলমানদের ঈমান আকিদাকে ধ্বংস করছে তার মোকাবেলায় ইসলামী অনুষ্ঠান মানা অর্থাৎ সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে বেসরকারি চ্যানেলের কোনো বিকল্প নেই।

    (ঙ) চলচ্চিত্র নির্মাণ : চলচ্চিত্র দেশের একটি উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যম। এ মাধ্যমটি বর্তমানে এতটা অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় ভরপুর যার নাম শুনলে মানুষ মনে করে ইসলামে আবার সিনেমা তা কি করে সম্ভব। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, সিনেমা বা ফিল্মে মূলত ও স্বতঃই কোনো দোষ বা খারাবি নেই। তা কি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে কি উদ্দেশ্য সাধন করতে চাওয়া হচ্ছে সেটাই আসল প্রশ্ন। এ কারণে কতিপয় শর্তসমূহ সহকারে কাজে লাগালে তা খুবই ভালো, উত্তম ও কল্যাণকর হতে পারে।

    ১. শিরক থাকতে পারবে না।

    ২. নগ্নতা ও অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

    ৩. শিক্ষামূলক ও জ্ঞানমূলক হতে হবে।

    ৪. দেশ ও জাতি বিদ্বেষী হতে পারবে না।

    ৫. মৌলিক উভয় ক্ষেত্রে (অভিনয় ও দর্শক) নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা করা যাবে না।

    উপরোক্ত শর্তের আলোকে সিনেমা নির্মাণ করা হলে সংস্কৃতি ও ইসলামের বাণী পৌঁছানোর জন্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমটি অধিক ফলপ্রসূ হবে। তাই ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে ছবি নির্মাণের জন্য প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ব্যবসায়িক মনোভাব ও ইসলামের স্বার্থে মুসলিম ব্যবসায়ীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ইসলামী ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ প্রধানে এগিয়ে আসলে এ খাত দ্রুত বিকশিত হবে। এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। ফলে দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের কাজ অধিকতর বেগবান হবে।

    (চ) নাটক তৈরি করা : নাটক আরেকটি জনপ্রিয় গণমাধ্যম। নাটকের মাধ্যমেও সংস্কৃতি জনপ্রিয় করা সম্ভব। প্রধানত উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এর দর্শক। সমাজ পরিবর্তনের মুখ্য নিয়ামক শক্তি মধ্যবিত্ত সমাজ, তাদের মানসিক পরিবর্তনের জন্য নাটক খুবই জরুরি, এ জন্য ইসলামী সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে যারা বিভোর নাটকের বিষয়টিও তাদের গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে। তাই ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশে নাটক রচনা ও সঞ্চায়নের ব্যাপারেও তাদের উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

    (ছ) সঙ্গীতচর্চা : মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ জাগাতে ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সঙ্গীতের ভূমিকা তাই অনস্বীকার্য। হাম্দ, নাত, দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সঙ্গীতের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অডিও, ভিডিও, সিডি, ক্যাসেট এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে। তাই যারা ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের কাজে নিয়োজিত ইসলামী সঙ্গীতের প্রসারেও তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

    (জ) চারু ও কারুকলার বিস্তার : মানুষ স্বভাবতই সৌন্দর্যপ্রিয়। মানুষের এই শিল্প চেতনা যেন কল্যাণের পথে অগ্রসর হয় সে জন্যই ইসলামী চারু ও কারুকলার বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন। একজন মানুষের ঘরে প্রবেশ করলে বুঝা যায় লোকটি কোন প্রকৃতির। কেউ বা মূর্তি দিয়ে, আবার কেউবা সাজায় ফুল শোভায় বা ক্যালিগ্রাফিতে। এ জন্য চারু ও কারুকলা শিল্পে ইসলামের ছোঁয়া থাকলে মানুষ অশ্লীলতা থেকে এবং এমনকি প্রচ্ছন্ন শিরক থেকে রক্ষা পেতে পারে। সামাজিকভাবে ইসলামী আবহ সৃষ্টির জন্য। তাই চারু ও কারু শিল্পের ব্যাপক চর্চা হওয়া প্রয়োজন।

    (ঝ) সাহিত্য রচনা করা : আধুনিক বিশ্বে মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ সৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যে মাধ্যমটি তা হচ্ছে সাহিত্য, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, ছড়া, এসব নান রকম ফর্মে সাহিত্যচর্চা চলে। শিক্ষিত মানুষ মাত্রই সাহিত্যের কোনো না কোনো ফর্মের প্রতি আগ্রহ পোষণ করবে এবং সাহিত্য পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এভাবে পড়ার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান দ্বারাই তার জীবনবোধ গড়ে ওঠে। ফলে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হলে ইসলামী সাহিত্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে। ইসলামী সাহিত্যের চাহিদা যত বাড়বে ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টিতে লেখকরা ততবেশি আগ্রহী ও সচেষ্ট হবে। তাই আমাদের মাসিক বাজেটে চাল-ডালের মত বই ক্রয়েরও একটি পরিকল্পনা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ চাল-ডাল আমাদের দেহের ক্ষুধা মেটায় আর বই মেটায় আমাদের মনের ক্ষুধা।

    (ঞ) গান ও বাদ্যযন্ত্র : যে কাজে সাধারণত মানুষের মন আকৃষ্ট হয় ও অন্তর পরিতৃপ্তি ও প্রশান্তি লাভ করে এবং কর্ণকুহরে মধু বর্ষিত হয় তা হচ্ছে। নির্লজ্জতা, কুৎসিত-অশ্লীল ভাষা কিংবা পাপ কাজে উৎসাহ উত্তেজনা দানের সংমিশ্রণ না থাকলে তা মুবাহ্। উপরন্তু যৌন আবেগ উত্তেজনাকর বাদ্য সংমিশ্রণ না হলে সেই সাথে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারেরও কোন দোষ নেই। এ জন্য শরিয়তের দৃষ্টিতে কতিপয় শর্ত অপরিহার্য।

    ১. গানের কথা শিরকমুক্ত হতে হবে।

    ২. নগ্নতা ও অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

    ৩. যৌন আবেগ ও উত্তেজনাকর বাদ্য সংমিশ্রণ থাকতে পারবে না।

    ৪. শিক্ষা ও গঠনমূলক হতে হবে।

    ৫. গান ও বাদ্য মানুষের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হতে হবে।

    উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে আনন্দ উৎসবের ক্ষেত্রে খুশি ও সন্তোষ প্রকাশের জন্য এসব জিনিস শুধু জায়েজই নয়, পছন্দনীয়ও বটে। যেমন: ঈদ, বিয়ে, শুভসংবাদ, ওয়ালিমা, ইসলামী বিশেষ দিবস উদযাপন, আকিকা অনুষ্ঠান ও সন্তান জন্ম হওয়া কালে এসব ব্যবহার করা যেতে পারে দ্বিধাহীনচিত্তে। হযরত আয়িশা রা. বলেছেন, আনসার বংশের এক ব্যক্তির সাথে একটি মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তখন নবী করীম সা. বললেন: হে আয়িশা! ওদের সঙ্গে আনন্দ ফুর্তির ব্যবস্থা কিছু নেই? কেননা আনসাররা তো এগুলো বেশ পছন্দ করে। (বুখারি) তাই ইসলামী সংস্কৃতির বাহন হিসেবে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে সার্বজনীন করার জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের কাজে যারা নিয়োজিত তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

    (ট) ক্রীড়া, আনন্দ ও প্রতিযোগিতা : ইসলাম বাস্তববাদী জীবনবিধান। তা মানুষকে অবাস্তব কল্পনা বিলাস ও নানা চিন্তা ভাবনার কুঞ্ঝটিকার পরিবেষ্টনে আবদ্ধ করে রাখতে ইচ্ছুক নয়। বরং এ বাস্তবতার পৃথিবীতে ঘটনাপ্রবাহের আবর্তনের মধ্যে সুষ্ঠু রূপে বসবাস করার রীতি ও পদ্ধতিই ইসলাম মানুষকে শিক্ষা দেয়। তা মানুষকে নভোমণ্ডলে বিচরণকারী ফেরেশতা মনে করে কর্মবিধান তৈরি করেনি। খাদ্য-পানীয় গ্রহণকারী ও হাটে বাজারে বিচরণকারী মানুষ মনে করেই তার জন্য বিধান দেওয়া হয়েছে। ইসলাম মানুষকে প্রকৃতি ও স্বভাবগত ভাবধারার উপর পুরো মাত্রায় লক্ষ্য নিবদ্ধ রেখেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এভাবে যে, পানাহার যেমন তার প্রকৃতির চাহিদা তেমনি আনন্দ-স্ফূর্তি ও সন্তুষ্টি-উৎফুল্লচিত্ত হয়ে থাকা এবং হাসি-তামাশা-খেলা ইত্যাদিও তার প্রকৃতিগত ভাবধারা হয়ে রয়েছে। এ সত্য কোনোক্রমেই অস্বীকার করা যায় না। আনন্দ-স্ফূর্তি ও ক্রীড়ার বহু প্রকার ধরন ও পদ্ধতি এমন রয়েছে যা নবী করীম সা. মুসলমানদের জন্য জায়েজ করেছেন। মুসলমানরা এ গুলোর সাহায্যে মনের বোঝা হালকা করতে পারে, স্ফূর্তি লাভ করতে পারে। এসব ক্রীড়া মানুষকে ইবাদত ও কর্তব্য পালনে- এসব কাজে তৎপরতা সহকারে অংশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। এসব শরীর চর্চামূলক ক্রীড়ার সাহায্যে শক্তিবর্ধক ট্রেনিং লাভ করতে পারে। তার দরুন মানুষ জিহাদে অংশগ্রহণের জন্যও প্রস্তুত হতে পারে। খেলাধুলা বিষয়ে শরিয়তের কতিপয় শর্ত রয়েছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

    ১. খেলাধুলার কারণে নামাজ থেকে বিরত হওয়া বা বিলম্ব করা যাবে না।

    ২. তাতে জুয়া মদ্যপান ও অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

    ৩. খেলার সময় খেলোয়াড় ও দর্শক নিজেদের মুখকে গালাগাল, কুৎসিত-অশ্লীল কথাবার্তা থেকে মুক্ত ও পবিত্র রাখবে।

    ৪. পোশাক পরিচ্ছদ শালীন ও শরিয়াহ্ সীমারেখার মধ্যে হতে হবে।

    ৫. খেলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীল নৃত্য ও দেহের বিশেষ অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করা যাবে না।

    ৬. পুরুষ ও মহিলা একত্রে খেলা করা যাবে না।

    ৭. খেলা শরীর চর্চামূলক, গঠনমূলক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক হতে হবে।

    সুতরাং উল্লিখিত শর্ত পরিপালন করে খেলাধুলা করতে বিধিনিষেধ নেই। তবে এসব শর্ত লংঘিত হলে কিংবা তার অংশবিশেষও ভঙ্গ করা হলে সে খেলা হারাম হয়ে যাবে যা কাম্য হওয়া উচিত নয়।

    (ঠ) সাংস্কৃতিক কর্মী/শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান : ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্ব এত বেশি যে, ইসলামী বিপ্লবের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব অপরিহার্য। কোনো জনপদে যদি কখনও জনমতের কারণে ইসলাম বিজয় লাভ করে আর সেখানে যদি পূর্ব থেকে সাংস্কৃতিক চর্চা না থাকে তবে সে জনপদে ইসলাম বিজয়ী হিসেবে বেশিদিন টেকসই হবে না। কারণ সংস্কৃতি মানুষের মনের লালিত স্বপ্নকে বিকশিত করে। আর বিকশিত যখন সঠিকভাবে হবে না তখন মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে বিপথে ধাবিত হবে। এজন্য কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীরা হচ্ছেন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারিগর। তারা হচ্ছেন সমাজদেহের চক্ষু এবং সভ্যতার বাগান। আর সমাজ পরিচালকরা হচ্ছেন সে বাগানের মালী। তারা যত বেশি এ বাগানের পরিচর্যা করবে সমাজে তত বেশি হৃদয়ের পুষ্প ফুটবে। যে জনগোষ্ঠী এ বাগানের পরিচর্যায় অমনোযোগী হবে তারা বঞ্চিত হবে মানবতার পুষ্প সৌরভ থেকে। সে একটি কল্যাণকর ইসলামী সমাজ যাদের কাম্য তাদের উচিত কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীদের উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দান করা। এ পৃষ্ঠ-পোষকতা তারা যতবেশি দিতে পারবে ততই বৈচিত্র্যের বিকাশ ঘটবে। তাই শিল্পীদের সার্বিক সহায়তা দানের জন্য ব্যাপকভিত্তিক কিছু সৃস্পষ্ট ও সুষম পরিকল্পনা দরকার যা নি¤েœ আলোচনা করা হলো:

    ১. ইসলামী সংগঠনের উচিত তাদের পরিকল্পনায় সাংস্কৃতিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া।

    ২. সাংগঠনিক সকল কার্যক্রমে বেশি বেশি সাংস্কৃতিক চর্চা করা।

    ৩. সাংস্কৃতিক বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করা।

    ৪. সাংগঠনিক প্রতিটি স্তরে পৃথক সাংস্কৃতিক বিভাগ চালু করা।

    ৫. সাংস্কৃতিক বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা।

    ৬. অসহায় শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা।

    ৭. তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা।

    ৮. সাংস্কৃতিক চর্চা ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা করা।

    ৯. বছরে একবার সারা দেশের সাংস্কৃতিমনা শিল্পীদের নিয়ে সম্মিলন বা পারস্পরিক মত বিনিময়ের ব্যবস্থা করা।

    ১০. বছরের শুরুতে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা।

    ১১. এ খাতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এগিয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করণ ও আগ্রহ সৃষ্টি করা।

    ১২. এ খাতকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার জন্য জনমত গঠন এবং প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করা।

    পৃথিবীর প্রতিটি মানস পরিবর্তনে এ সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, মুখ্যত পরিবর্তন ঘটিয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কিন্তু তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে সংস্কৃতি কর্মীরা। সাংস্কৃতিক কর্মীরা হচ্ছে যুগের মুয়াজ্জিন আর রাজনৈতিক নেতা হচ্ছেন ইমাম। তাই আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মীদের ময়দানে নামাতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত লাব্বাইক লাব্বাইক বলে ঘর থেকে ছুটে আসবে না জনগণ। জনগণ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াবে না কোনো নেতার পিছনে ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য এ জন্যই সাংস্কৃতিক কর্মীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে ব্যাপকভাবে ইসলামী বিপ্লবের উপযোগী পরিবেশ ও জনমত সৃষ্টির জন্য ময়দানে নামানো আজ সময়ের দাবি।

    সাংস্কৃতিক বিষয়টি মুসলমানদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এ জন্য প্রতিটি সচেতন মুসলমানের উচিত নিয়মিত সাংস্কৃতিক তৎপরতা বৃদ্ধি ব্যাপারে উৎসাহী ভূমিকা পালন করা। এ ভূমিকা অব্যাহত না থাকলে অপসংস্কৃতি ইসলামী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করবে। এ ধ্বংস মুসলমান তো দূরের কথা ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতাও কর্মীর কাছে সুস্পষ্ট নয়। তাই এ জন্য ইসলামী আন্দোলনে সংস্কৃতির চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতা না করলে তা জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ও ক্ষতি ডেকে আনবে। এই ভয়াবহ ক্ষতির থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার করা সময় ও ঈমানের দাবি।

    লেখক : কলামিস্ট ও ব্যাংকার

    রফিকুল ইসলাম

  • ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।

    শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।

    মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।

    তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’

    ২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

  • আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো মির্জাপুর শাহী মসজিদ। মির্জাপুর শাহী মসজিদের সর্বত্র ইসলামি টেরাকাটা ফুল ও লতাপাতার নকশায় পরিপূর্ণ। মসজিদে ব্যবহৃত ইটগুলো চিকন, রক্তবর্ণ ও অলংকৃত।

    তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। আয়তাকার এক সারিতে তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সাধারণত মোগল স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য। গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্টযুক্ত। চার কোণে রয়েছে স্তরযুক্ত ও নকশাখচিত বেল্ট করা চারটি সুচিকন মিনার।

    এছাড়া সম্মুখবর্তী দেওয়ালের মধ্য দরজার দুই পাশে মধ্য গম্বুজের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্মিত হয়েছে আরও দুটি ক্ষুদ্র মিনার। এই মিনারের দেওয়াল সংযুক্ত অংশ বর্গাকার। অনুরূপ সমমানের ক্ষুদ্রাকৃতির দুটি মিনার রয়েছে পশ্চিম দেওয়ালেও।

    এ মসজিদে সামনের দেওয়ালে রয়েছে সুশোভন লতাপাতা ও ইসলামি টেরাকাটা নকশাখচিত মাঝারি আকৃতির তিনটি দরজা। দরজার কিছুটা দূরবর্তী উভয় পাশে রয়েছে অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল। তিনটি দরজায়ই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণ আকৃতির একটি স্ফীত অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংকরণ বিন্যাসে সৃষ্টি হয়েছে নতুনত্ব।

    সামনের তিনটি দরজার অনুরূপ আরও তিনটি দরজার নকশা ও অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল স্থাপিত হয়েছে পশ্চিম দিকের দেওয়ালেও। তবে এই দরজা সম্ভবত স্থাপত্যকৌশল হিসাবেই নির্মিত পশ্চিমের মাঝের দরজা। সুস্পষ্ট কোনো মেহরাব নেই। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালও নকশাখচিত। তবে এই দরজা দুটির উপরিভাগের স্ফীত অংশটি সমান্তরাল নয়। গ্রামবাংলার চিরায়ত রীতি অনুযায়ী দোচালা আকৃতির। কথিত আছে, সামনের ইটগুলো নাকি ঘিয়ে ভেজে তৈরি করা হয়েছে।

    দেওয়ালের অলংকরণে ফুল ও পাতার পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর চিত্র রয়েছে। সম্ভবত নির্মাণকারী কারিগরদের মধ্যে হিন্দু স্থপতিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অথবা এমনও হতে পারে যে প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খচিত হয়েছে জীবজন্তুর চিত্র। অবশ্য বর্তমানে জীবজন্তুর চিত্রগুলো অপসৃত হয়েছে।

    মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে ফারসিলিপিখচিত একটি ক্ষুদ্র কালো ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী এই মসজিদটি মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে নির্মিত হয় বলে জানা যায়। উল্লিখিত লিপি ফলকটিতে মুদ্রিত সন পারস্য বছর।

    লক্ষণীয় বিষয়, সমসাময়িককালে বাংলাদেশের অন্যান্য মসজিদ বা ইমারতের সন তারিখ হিজরি অথবা খ্রিষ্টাব্দ অনুযায়ী লেখা ছিল। কিন্তু এই মসজিদে পারস্য বছরের উল্লেখ থাকায় অনুমিত হয় যে, যেসব কারিগর ও স্থপতি এই মসজিদের নির্মাণ মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তারা ছিলেন পারস্য অথবা ইরানের অধিবাসী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের কারুকার্য সমসাময়িককালে ইরানের মসজিদ ও অন্যান্য অট্টালিকায় বিদ্যমান ছিল।

    মির্জাপুর মসজিদের মূল ভবনের সামনে রয়েছে একটি আয়তকার পাকা অঙ্গন। অঙ্গনের উপরিভাগ উন্মুক্ত। অঙ্গনের বাইরে রয়েছে একটি সুদৃশ্য তোরণ। তোরণটির নির্মাণশৈলী অপূর্ব। এতে রয়েছে খিলান করা অন্তঃপ্রবিষ্ট দরজা। উভয় পাশে খাঁজ করা স্তম্ভ এবং ঢাল ও অর্ধ বৃত্তাকার, চ্যাপ্টা নাতিদীর্ঘ একটি গম্বুজ। গম্বুজের উপরিভাগে রয়েছে কোরক আকৃতির একটি ক্ষুদ্র চূড়া

    মির্জাপুর মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও এই গ্রামের মির্জা বংশীয় উত্তরসূরিদের অভিমত অনুযায়ী মির্জাপুর গ্রামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পূর্ব পুরুষরা মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। অতঃপর ফুল মোহাম্মদের ভাই দোস্ত মোহাম্মদ সম্ভবত এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রায় দুই শ বছর আগে মুলুকউদ্দীন বা মালেকউদ্দীন মির্জাপুর মসজিদের মেরামত বা সৌন্দর্যের কাজ শেষ করেন। তিনি হুগলি মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ইরান থেকে কারিগর এনেছিলেন।

    মির্জাপুর মসজিদের স্থাপত্য নিদর্শনের সঙ্গে ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে নির্মিত মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনুমিত হয় যে উভয় মসজিদ সমসাময়িককালে নির্মিত হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মসজিদের নির্মাণকাল ১৬৭৯ খ্রি.। সেদিক থেকে মির্জাপুর মসজিদের বয়স আড়াই শ বছরের কম নয়। বস্তুত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে একমাত্র মির্জাপুর শাহী মসজিদটিই প্রাপ্ত মোগল আমলে নির্মিত অন্যান্য মসজিদের তুলনায় সবচেয়ে সুষমমণ্ডিত, উৎকৃষ্ট শিল্পনিদর্শন ও সর্বাপেক্ষা মজবুত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করছে।

  • চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের আয়োজনে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
    এতে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মাওলানা আজাদ হুসাইন। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, মাস্টার আইনাল হক, মাওলানা আব্দুল আলিম, মাস্টার মনিনুর রহমান, মাস্টার আনিচুর রহমান প্রমুখ।

    এ আর ১২/০৩/২০২৬

  • ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার বিকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জোন প্রধান নাছরীন নাহারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রংপুর এরিয়া প্রধান বদিউজ্জামান।

    এজিএম জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সহকারী জোনাল ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম, রহিমা খাতুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    এসময় বক্তারা রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার মাস। তারা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান উন্নয়ন, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

    পরে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে পীরগাছা জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ কে

  • রায়পুরায় ২০০ এতিম শিক্ষার্থী পেলো খাদ্যসামগ্রী

    রায়পুরায় ২০০ এতিম শিক্ষার্থী পেলো খাদ্যসামগ্রী

    রমজান মাসের পবিত্রতা ও মানবিক চেতনা সামনে রেখে তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে নরসিংদীর রায়পুরায় ২০০ জন এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার অরফান লাভ ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় এই খাদ্য উপহার দেওয়া হয়।

    রায়পুরা উপজেলার সিরাজনগর উম্মুলকুরা মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফুড প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল চাল, তেল, ডাল, চিনি, ছোলা, আটা, খেজুর ও বিস্কুট।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টার্কিস কো-অপারেশন অ্যান্ড কোর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) এর ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আব্দুলকাদির বায়রাম। তিনি বলেন, এটি তুরস্কের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার একটি ছোট উপহার।

    কর্মসূচির আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান অরফান লাভ ফাউন্ডেশন এর অরফান ডিপার্টমেন্টের প্রধান আমিনুল ইহসান ইসলাম এতিম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    অরফান লাভ ফাউন্ডেশন (www.orphan.love) একটি সরকার অনুমোদিত বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা, যা বাংলাদেশের এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করে আসছে।

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

    পিরোজপুর ভাণ্ডারিয়া

  • বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছে ২৮ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় পৌর এলাকার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে গলাচিপা পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গলাচিপা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মসজিদভিত্তিক এ নামাজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    আয়োজকরা জানায়, মসজিদভিত্তিক প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও ধর্মীয় চর্চায় আগ্রহ বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।প্রতিযোগিতায় ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী মোট ৪৬ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। ৪১ দিন ধরে তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ২৮ জন শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।বিজয়ীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।

  • দেশজুড়ে   সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    দেশজুড়ে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    ডেস্ক নিউজঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯০০ মেক্টিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ৩০টি অনুমোদনপত্রের বিপরীতে সোনামসজিদ বন্দরে দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর গিয়ে ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছিল বলে জানান সমীর চন্দ্র ঘোষ।

  • বাঞ্চারামপুরে সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    বাঞ্চারামপুরে সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত দক্ষিণ কান্দাপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৬ষ্ঠ ঐতিহাসিক সুন্নী মহা সম্মেলন’।

    বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দরিয়াদৌলতের বালুর মাঠে এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, “বিগত ১৫-১৬ বছর দেশে ধর্মীয় আলোচনা বা ইসলামী সম্মেলন করার ক্ষেত্রে নানা বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়েছে। আজ আমরা উন্মুক্ত পরিবেশে যে ধর্মীয় আলোচনা শুনতে পারছি, তা সম্ভব হয়েছে আলেম-ওলামাদের চোখের পানি ও ত্যাগের বিনিময়ে।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে আলেমদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে আলেমরা কী খুতবা দেবেন, তা লিখিত আকারে ধরিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু আজ আলেমরা স্বাধীনভাবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কথা বলতে পারছেন।”

    যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলে তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি ও নসিহত পেশ করেন। তিনি বলেন, “ওয়াজ মাহফিল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা মাদকমুক্ত থাকব, মাদককে প্রশ্রয় দেব না, নিজেও খাব না এবং কাউকে বিক্রি করতেও দেব না। যেখানেই মাদক, সেখানেই যুব সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

    সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মহসিন এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এইচ জেড শুকরী সেলিম চিসতি। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবুল কালাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাসির এবং এ,বি,এম আলী কাউসার (জামান)।

  • ফেনীতে বিভাগীয় ইজতেমায় জুমার নামাজে মুসল্লির ঢল

    ফেনীতে বিভাগীয় ইজতেমায় জুমার নামাজে মুসল্লির ঢল

    ফেনীতে বিভাগীয় ইজতেমায় একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করলেন হাজারো মুসল্লি। নামাজ শেষে মোনাজাতে মুসলিম উম্মার শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ফেনী-ছাগলনাইয়া সড়কের বিরিঞ্চি ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন মাঠে বৃহৎ এ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হ‌য় ইজতেমার কার্যক্রম।‌আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগমের সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের জন্য রাণীরহাট এলাকায় মাঠজুড়ে শামিয়ানা টাঙানো, পানির লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ, সাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিশাল আয়তনের এ মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শামিয়ানার নিচে অবস্থান নিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা ছাড়াও ভারত, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মেহমানরা এতে অংশ নেন।জেলার সর্ববৃহৎ এ জুমার নামাজে ইমামতি করেন তাবলিগ জামাতের কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা আনাস বিন মোজাম্মেল।এর আগে সকালে বয়ান করেন মাওলানা সাদ অনুসারীদের আমির, তাবলিগ জামাতের আহলে শুরা ও কাকরাইল মসজিদের শীর্ষ মুরুব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম।মাওলানা নুর উদ্দিন নামের তাবলিগ জামাতের এক মুরুব্বি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলা, বিভিন্ন দেশের মেহমান ছাড়াও শুক্রবার স্থানীয়ভাবে ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল নামে। বিশেষ করে বিশাল ময়দানে একত্রে জুমার নামাজ আদায়ে মুসল্লিরা একত্রিত হন। মাঠে পৌরসভার সহযোগিতায় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের সেবায় দুই শতাধিকের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ বিভাগীয় ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    এমে কে

  • ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ নাঙ্গলকোটের দশ বছরের শিশু মুনতাসির

    ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ নাঙ্গলকোটের দশ বছরের শিশু মুনতাসির

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মাত্র ১১ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আবদুল্লাহ আল মুনতাসির নামে দশ বছর বয়সী এক শিশু। এ বয়সে অনেকেরই ত্রিশ পারা কোরআন মুখস্থ করা অসম্ভব হলেও মুনতাসিরের পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে।

    এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ফুলের মালা ও পাগড়ি পরিয়ে দেয়। এছাড়াও তার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারি ফয়সাল মাহমুদকে পুরস্কৃত করা হয়।

    শিশু হাফেজ আবদুল্লাহ আল মুনতাসির উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের পিপড্ডা গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী মুহাম্মদ খুরশীদ আলমের ছেলে। খুরশীদ আলমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মুনতাসির সবার ছোট।

    দেড় বছর আগে নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চারিজানিয়া নেছারিয়া হামীদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নাজেরা শুরু করে মুনতাসির। ৭৫ জনের মধ্যে নাজেরা শেষ করে ১১ মাসে পুরো ৩০ পারা কোরআন শরিফ মুখস্থ করে হাফেজ হয় সে।

    শিশু হাফেজ আবদুল্লাহ আল মুনতাসির জানায়, বিশ্ব বিখ্যাত আলেম হয়ে ইসলামের খেদমত করা, মা-বাবা ও প্রিয় শিক্ষকদের নাম যেন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এটা এখন তার স্বপ্ন। সবার কাছে দোয়া চায় এই শিশু হাফেজ।

    হাফেজ মুনতাসিরের মা কামরুজ্জাহান রুমি জানান, তার ছোট সন্তান আবদুল্লাহ আল মুনতাসির মাত্র ১১ মাসে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছে। ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন সন্তানকে অনেক বড় আলেম বানানোর। তাই দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া চান মা।

    চারিজানিয়া নেছারিয়া হামীদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারি ফয়সাল মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, আবদুল্লাহ আল মুনতাসির কোরআনে হাফেজ হওয়ার পেছনে তার অনেক চেষ্টা ও মেহনত থাকায় হাফেজ হওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে শিক্ষকদেরও মেহনত রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কবুল করায় ১১ মাসে হাফেজ হতে পেরেছে মুনতাসির। সূত্রঃকালবেলা

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবেনা – এটিএম আজহার

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবেনা – এটিএম আজহার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তার সরকার সর্বপ্রথম দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, এ দেশটা গরীব দেশ না, সম্পদশালী দেশ। এ দেশে চরিত্রবান নেতাদের অভাব। সে কারনে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও.গোলাম মোরশেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, আমি ফ্যাসিষ্ট সরকারের মিথ্যা মামালায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ছিলাম। একটি না তিনটি মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসি রায় দেওয়া হয়। ২৪শের আন্দোলনে, অনেকে বলেন ২য় স্বাধীনতা। সেই আন্দোলনের পরে আমি মুক্ত হয়েছি। তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আপনারা দুর্নীতি করবে না তার প্রমাণ কি? আমাদের দুই মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছে সেখানে সবাই খুঁজে কোন দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারে নাই। তিনি বলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বেকারত্ব দূর করবো। দেশে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা যাকাত আদায় করা সম্ভব। যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, আমরা অমুসলিমদের মুসলমান বানাবো। আপনারা দেখেছেন আওয়ামীলীগের আমলে মন্দিরে হামলা করে জামায়াত শিবিরকে দায়ী করা হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মন্দির পাহারা দিয়েছে। নিরাপদে সনাতনী ভাইয়েরা তাদের পূজা সম্পন্ন করেছেন।

    এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অনেক নেতা বিদেশে আছেন। তারা দেশে আসার সাহস পাচ্ছেন না। কারন তারা ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশে আসতে হবে। ভয় পাচ্ছেন, নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলাম। দেশে এসে নিরাপদ প্রধানমন্ত্রী হইতে না পারলাম। আমার একূল-ওকূল দুই কূলই গেলো। আসার সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের এই ভাই (যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ) অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ত্রিশ বছর ধরে এত সুন্দর জীবন-যাপন করছিলেন। তার আরও উপার্জন করার সুযোগ ছিলো। আন্ত র্জাতিকভাবে উঁচু যায়গায় যাওয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু আমীরে জামায়াতের কথা শুনে আনুগত্য করে দুনিয়ার সমস্ত সুখ শান্তি ছেড়ে দিয়ে আপনাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। আপনারা কি তার পাশে দাড়াতে পারেন না?

    তিনি বলেন, সারাদেশে দাড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এটা জোয়ারে ভীত হয়ে আমাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করছে। আমরা পরিস্কার বলতে চাই আমরা কারও উপর হামলা করবো না। তবে কেউ হামলা করতে আসলে আমাদের কর্মীরাও তাদের ছেড়ে দেবেনা।

    জনসভায় যশোর-২, (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শিশুহৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন।

    উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সহকারী অধ্যাপক নূরজ্জামান আল মামুন, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস ও মাওলানা গিয়াস উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হুসাইন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বক্তৃতায় মোবারক হোসেন বলেন, ইসলামই পারে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে।

    ড. শফিুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যে দলের কর্মীরা নামাজ চলমান অবস্থায় নিজ দলের কর্মীকে হত্যা করে। তাদের তো রাজনীতিই করার যোগ্যতা নেই। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর পার হয়েছে। ৫৪ বছরে দলের পর দল, প্রতীকের পর প্রতীক দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। এবার আওয়াজ তুলতে হবে জমিন যার, আইন তার। সব দল দেখা শেষ, ইসলামের বাংলাদেশ। সব দেখেছি বারবার, ইসলাম এইবার। ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ৫ঘন্টা কাজ করে ৮ঘন্টার বেতন দেবে। সরকার ভূর্তকী দেবে। তিনি বলেন আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়বো।

    জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর আদ্ দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশের-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা আমীর ও যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব, শার্শা উপজেলা আমীর উপাধ্যক্ষ ফারুক হাসান, ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নূরুল ইসলাম, চৌগাছা কামিল মাদরাসা মসজিদের খতিব মাওলানা আলী আকবার, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, চৌগাছা আদর্শ সাথী শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. আবু সাঈদ প্রমুখ।

  • ‘ভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত’

    ‘ভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো সমাজের মানদণ্ড হওয়া উচিত’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব সমাজে ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

    তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত সমাজে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হওয়া উচিত প্রধান নীতি।

    পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে, রাষ্ট্রে যখন ভিন্ন ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষ একসাথে বসবাস করে; তখন এক ধর্মের লোক আরেক ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং পাবলিকলি অবমাননাকর/ডেরোগেটরি কোনো মন্তব্য করবেন না— এইটাই নর্ম হওয়া উচিত। অন্যথায় সহাবস্থান বিঘ্নিত হবে এবং সমাজে অ্যানার্কি তৈরি হবে।

    ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষা, এবং নবী-রাসূলের প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধাবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেন, মূর্খ এবং ইতরের মতো এইটাকে আঘাত করা কোনো বাকস্বাধীনতা না, বরং অত্যন্ত নিচু স্তরের অসভ্যতা। এই অসভ্য কাজ যে কোনো সভ্য সমাজে নৈতিক জায়গা থেকে নিন্দাযোগ্য এবং আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

  • লবণাক্ততার  ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    লবণাক্ততার ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে দ্রুত ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ, স্তম্ভ ও বিশেষ করে মিহরাবে ফাটল, চুন খসে পড়া এবং সাদা লবণের স্তর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। নিচ থেকে উঠে আসা নোনা পানি ইটের ভেতরে লবণ ক্রিস্টাল তৈরি করে স্থাপনার মূল গঠন দুর্বল করে দিচ্ছে।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং আইকমসের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে—তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শিল্প দূষণ, বর্ষাকালের আর্দ্রতা এবং ভূগর্ভস্থ লবণাক্ততা ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে।

    ঐতিহাসিক স্থাপনাটির জরুরি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাবেক ডিজি ড. মো. শফিকুল আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, মিহরাব যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাথর খণ্ড যুক্ত রাখতে ব্যবহৃত লোহার ক্ল্যাম্পে জং ধরায় ভার বহনক্ষমতাও কমে গেছে।

    আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ইউনেস্কোর সহায়তায় মসজিদের পূর্ণ ক্ষয়-মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে দ্রুত সংরক্ষণ-কাজ শুরু করা হবে। ইউনেস্কো ঢাকার পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক সংরক্ষণ কাজেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ষাটগম্বুজ মসজিদকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—যা দেশের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

  • ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে: ধর্ম উপদেষ্টা

    ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে: ধর্ম উপদেষ্টা

    ধর্ম থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ইমাম খতিব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিকে সমাজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করতে চাই। আমাদের রাজনীতি, সমাজ, কূটনীতি সব জায়গায় আমরা একটা ধর্মীয় আবেগ জাগ্রত করতে চাই। ধর্ম বাদ দিলে আমরা যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারি।

    ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র হোক, রাজতন্ত্র হোক, ধর্ম থেকে রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা যদি আলাদা হয় এবং ধর্ম থেকে বিশ্লেষণ যদি আলাদা হয় তাহলে চেঙ্গিস খানের বর্বরতা বিরাজ করবে।তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করব ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেমদের জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় সম্মানজনক বেতন এবং উৎসব ভাতা প্রদান করবেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি শামীম মজুমদার, মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ তারেকী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আশেকুর রহমান প্রমুখ।

  • যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    শহিদুল ইসলাম কবির ইতিহাসের পাতা এবং কোরআনের আদ্যোপান্ত বিবরণে মানবজাতির সামনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বহু জাতির উত্থান-পতনের গল্প। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সঠিক পথের প্রতি আহ্বান করা এবং অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা। এমনই একটি জাতি হলো কওমে সামূদ, যাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভয়াবহ ভূমিকম্প ও প্রচণ্ড ধ্বনির মাধ্যমে ধ্বংস করেছিলেন। কওমে সামূদ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী একটি জাতি। পাহাড় কেটে তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করত, উন্নত নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যের জন্য তারা প্রসিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাদের কাছে হযরত সালেহ আ:-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদে ডেকে আনলেন, অন্যায়-অবিচার পরিহার করতে বললেন এবং আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানালেন। কিন্তু এই জাতির অধিকাংশ মানুষ নবীর ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দেয়।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়—মিরাকল উষ্ট্রী। এটিকে কষ্ট দেয়া বা হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বিদ্রোহী সম্প্রদায় নবীর সতর্কতা অমান্য করে ওই উষ্ট্রীকে হত্যা করে। এটাই ছিল তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাজিল হওয়ার কারণ।

    পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ ভূমিকম্প (আর-রজফাহ) এবং আকাশবিদারী প্রচণ্ড ধ্বনি (আস-সাইহাহ)। মুহূর্তের মধ্যেই তারা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের বিলাসী জনপদ এক ভয়াল নিস্তব্ধতায় পরিণত হয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে—

    ‘অতঃপর তাদেরকে ভূমিকম্প গ্রাস করল; ফলে তারা তাদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সূরা আল আ’রাফ, আয়াত : ৭৮)

    ‘ভয়াবহ শব্দ তাদেরকে গ্রাস করল; তারা তাদের ঘরে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।’ (সূরা হুদ, আয়াত : ৬৭)

    কওমে সামূদের এই পরিণতি মানবইতিহাসে সতর্কবার্তা হিসেবে চিরস্মরণীয়। উন্নয়ন, শক্তি কিংবা সম্পদ কাউকে রক্ষা করতে পারে না, যদি ন্যায়-নীতি, সত্য এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে যায়।আজকের পৃথিবীতেও ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ যত শক্তিশালীই হোক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছার কাছে সে সর্বদাই অসহায়। কওমে সামূদের ঘটনা তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়; বরং মানুষের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

    সাম্প্রতিক সময়ে ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪টি ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদেরকে সতর্ক করিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে মহান আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলতে হবে এবং রাসূলে কারীম সা:-এর দেখানো পথে বাকি জীবন পরিচালনা করতে আবারো অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। অতীতের গুনাহের থেকে পরিত্রাণ পেতে অধিক পরিমাণে তাওবা ইস্তেগফার পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

    লেখক : সম্পাদক, মাসিক মদীনার পয়গাম

  • কোরআন-হাদিসে ভুমিকম্প  সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

    কোরআন-হাদিসে ভুমিকম্প সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

    পৃথিবীতে প্রাকৃতিক যত দুর্যোগ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে ভূমিকম্প। কারণ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও ভূমিক্ম্প এর ব্যতিক্রম। ভূমিকম্পের আগে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। ফলে এতে ব্যাপক জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের সতর্কবার্তা। এমন দুর্ঘটনার সময় মানুষের উচিত মহান আল্লাহর কাছে অতি দ্রুত তাওবা করা। তার কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা ও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

    মানুষকে সতর্ক করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব (নিঝুম) রাত তাদের কাছে আসবে না, তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে!’ (সুরা আরাফ: ৯৭)

    বান্দার অপরাধ ক্ষমা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: ৩০)

    পবিত্র কোরআনে ভূমিকম্প বিষয়ে ‘যিলযাল’ এবং ‘দাক্কা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘যিলযাল’ অর্থ হচ্ছে একটি বস্তুর নড়াচড়ায় আরেকটি বস্তু নড়ে ওঠা। ‘দাক্কা’ অর্থ হচ্ছে প্রচণ্ড কোনো শব্দ বা আওয়াজের কারণে কোনো কিছু নড়ে ওঠা বা ঝাঁকুনি খাওয়া।

    ভূমিকম্প সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, কখন সেটা হবে হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানের সয়লাব হবে।’ (তিরমিজি: ২২১২)

    অন্যত্র বলা হয়েছে, ভূমিকম্প হচ্ছে কিয়ামতের একটি অন্যতম আলামত। কিয়ামত যতই নিকটবর্তী হবে, ভূমিকম্পের পরিমাণ ততই বাড়তে থাকবে।

    ভূমিকম্পের বিভীষিকা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মানব জাতি, তোমরা ভয় করো তোমাদের রবকে। নিশ্চয়ই কেয়ামত দিবসের ভূকম্পন হবে মারাত্মক ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, স্তন্যপায়ী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা ভুলে যাবে আর সব গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে, আসলে তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা হজ: ১-২)

    ভূমিকম্পের বেশকিছু কারণ সম্পর্কে জানা যায় হাদিসের মাধ্যমে। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যখন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জিত হবে। কাউকে বিশ্বাস করে সম্পদ গচ্ছিত রাখলে তা আত্মসাৎ করা হবে। জাকাতকে মনে করা হবে জরিমানা হিসেবে। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা হবে। পুরুষ তার স্ত্রীর বাধ্যগত হয়ে মায়ের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে। বন্ধুকে কাছে টেনে নিয়ে বাবাকে দূরে সরিয়ে দেবে। মসজিদে শোরগোল (কথাবার্তা) হবে। সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি সমাজের শাসক হবে। সে সময় তোমরা অপেক্ষা করো—রক্তিম বর্ণের ঝড়ের, ভূকম্পনের, ভূমিধসের, লিঙ্গ পরিবর্তন, পাথর বৃষ্টির এবং সুতো ছেঁড়া (তাসবিহ) দানার ন্যায় একটির পর একটি নিদর্শনগুলোর জন্য।’ (তিরমিজি: ১৪৪৭)

    তাই বলা যায়, বর্তমানে যেসব ভূমিকম্প হচ্ছে, তা মহান আল্লাহর পাঠানো সতর্কবার্তার নিদর্শনগুলোর একটি। এগুলো দিয়ে তিনি বান্দাদের সাবধান করেন। মূলত এগুলো মানুষের পাপ ও অপরাধের ফল। কেননা আল্লাহ অধিকাংশ জাতিকে ভূমিকম্পের গজব দিয়ে ধ্বংস করেছেন।

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদ আল হারামে

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদ আল হারামে

    ইসলামী ডেস্ক:

    ফুল ফোটার মতই ছাতাগুলোতে ভাঁজ খুলে যায় এবং বন্ধও হয়ে যায়। এ ভাঁজ খোলা ও বন্ধ হওয়ার যথাযথভাবে হয় এবং একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষের ঘটনা এড়িয়ে তা করা হয়।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা তৈরি করছে সৌদি আরব। আগামী বছর মসজিদ আল হারামে স্থাপন করা হবে ওই ছাতা। হাজিদের আরামের জন্য স্থাপন করা হবে ঐ ছাতা। ছাতাটির আয়তন হবে দৈর্ঘ্যে ৫৩ মিটার আর প্রস্থে ৫৩ মিটার। গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে ওই ছাতা পবিত্র হজ পালন করতে আসা লাখো হজযাত্রীকে রক্ষা করবে।

    মসজিদ আল হারামের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আল-আহমাদী বলেন, ‘ছাতাগুলো মসজিদের আঙিনা ও ছাদে স্থাপন করা হবে।’ মসজিদের ভেতরের অংশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকায় ছাতার বাইরের অংশ ঠান্ডা হবে বলে জানান তিনি।

    জানা যায়, প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ২০১৪ সালে মদীনায় মসজিদে নববীর অনুরূপ মক্কায় মসজিদে হারাম আঙিনায় ৩শ’ ছাতা নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। ক’ বছর ধরে মসজিদের পরিবর্ধনের কাজ চলছিল।

    মুসুল্লিরা হারামের বাইরে তপ্ত গরমে সালাত আদায় করে থাকেন। তাই হারামের এলাকা সম্প্রসারণসহ মসজিদের আঙিনায় ৩শ’র বেশি ছাতা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ছাতাগুলো স্হাপন সম্পন্ন হলে মসজিদ চত্বরের ২ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার উন্মুক্ত জায়গা ছাতার আওতায় আসবে। এর আগে হাজীদের সুবিধার্থে মসজিদে নববীতে প্রায় আড়াইশ ছাতা স্হাপন করা হয়েছিল।

    ছাতা ভাঁজ হওয়া বা বন্ধ করার স্বয়ংক্রিয় নীরব কর্মসূচির ফলে দৈনন্দিন তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়। প্রতিদিন ভোরে ঈষৎ আলো বিশিষ্ট ছাদ তৈরি করার জন্যে খুলে দেয়া হয় এবং তা’সন্ধ্যায় অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে বন্ধ করা হয়।

    গ্রীষ্মে উন্মুক্ত ছাতাগুলো দিনের বেলায় ছায়া দেয় এবং রাত্রীকালীন সময়ে বন্ধ করা হলে পাথেরের মেঝে কর্তৃক সেগুলোকে বাড়তি তাপ শুঁষে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

    শীতে এই প্রক্রিয়ার উল্টোটা চলে। যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক নিচে নেমে যায়, তখন উষ্ণতার জন্যে শীতকালীন সূর্যের আলো যাতে দিনের বেলায় উন্মুক্ত দেখা যায় সেজন্যে ছাতা বন্ধ রাখা হয়। মসজিদ পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এর ফলে হারাম চত্বরের তাপমাত্রাও নিচে নেমে যায় মসজিদে হারামের চত্বরে এ ছাতার ফলে হাজী ও মুসল্লিদের আরো অধিকতর সুবিধা হবে।

  • অন্ধকার কবরে নিরাপদে থাকবেন যারা

    অন্ধকার কবরে নিরাপদে থাকবেন যারা

    মৃত্যু এমন এক সঠিক সত্য, যেখান থেকে কেউ পালাতে পারে না। মানুষ দুনিয়ায় যত ব্যস্তই থাকুক, শেষ অবধি তাকে নামতে হবে সেই নীরব ঘরে—কবরের অন্ধকারে। কবরই আখিরাতের প্রথম মনজিল; এখানেই শুরু সুখের যাত্রা বা দুঃখের পরীক্ষা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সবাইকে সেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। কিছু সৌভাগ্যবান আল্লাহর বিশেষ রহমতে কবরের ফিতনা ও প্রশ্ন থেকে মুক্ত ও নিরাপদ থাকবেন।

    কে তারা? কেন তারা বিশেষ মর্যাদা পাবেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) কয়েক শ্রেণির লোকের কথা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাদের পরিচয় জানলে মনে আলো জ্বলে ওঠে, দুনিয়ার কষ্টও সহজ মনে হয়। যেসব সৌভাগ্যবান ব্যক্তিকে কবরের প্রশ্ন করা হবে না, তারা হলেন-

    ১. যারা ইসলামি ভূখণ্ড বা সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মারা যান

    হযরত সালমান ফারেসি (রা.) বলেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

    رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِى كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِىَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ

    ‘একটি দিন ও রাতের প্রতিরক্ষা কাজ একমাস (নফল) সিয়াম ও নামাজ অপেক্ষা উত্তম। মরার পরও তার সেই আমল জারি থাকে যা সে জীবিত অবস্থায় করত। তার রুজি জারি হয় এবং (কবরের) যাবতীয় ফিতনা থেকে সে নিরাপত্তা লাভ করে।’ (মুসলিম ৫০৪৭, তিরমিজি ১৬৬৫, নাসাঈ ৩১৬৮)

    এরা মৃত্যুর পর প্রথম মনজিলেই নিরাপদ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২. যারা আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হন

    হজরত মিকদাম ইবনে মাদি কারিব (রাঃ) বর্ণনা করেন—

    لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الأَكْبَرِ وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ الْيَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَيُزَوَّجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ

    শহিদের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে—

    > তার প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করা হয়

    > তাকে তার জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়

    > কবরের আজাব হতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়

    > সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে

    > তার মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম।

    > তার সঙ্গে ৭২ জন জান্নাতি হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে

    > তার ৭০ জন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কুবুল করা হবে। (তিরমিজি ১৬৬৩)।

    শহিদের প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ক্ষমা করা হয় এবং কবরের প্রশ্নও তাকে স্পর্শ করে না।

    খান

  • মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং মধ্যপন্থার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় ইসলাম। শক্তি, অর্থ, সময় এবং সুযোগ—এ সব কিছুর মধ্যে মিতব্যয়ী হওয়া, অপব্যয় ও অতিরিক্ততা পরিহার করা শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। এ জন্য মানবতার সেবায় সব সময় মিতব্যয় ও মধ্যপন্থাকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ইসলাম।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের তাৎপর্য

    ইসলাম ধর্মে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তার বান্দাদের হুকুম দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের সম্পদ, সময় ও শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং কোনো কিছুতেই অতিরিক্ততা বা অপচয় না ঘটায়।

    মধ্যপন্থা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে চলতে পারে এবং একে অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না বরং সমাজের উপকারে আসে। এটি মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিক শান্তি, সামাজিক ভারসাম্য ও দুনিয়া এবং পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

    মিতব্যয় শুধু অর্থের সংরক্ষণ নয় বরং এটি ব্যক্তিগত আচরণ ও আধ্যাত্মিক চরিত্রের একটি পরিচায়ক। ইসলামি শিক্ষা অনুসারে, আল্লাহ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপব্যয়, কৃপণতা বা অতিরিক্ত খরচের বিপক্ষে সতর্ক করেছেন। কারণ মিতব্যয়ী জীবনই বরকত আনে এবং একে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    وَ لَا تَجۡعَلۡ یَدَكَ مَغۡلُوۡلَۃً اِلٰی عُنُقِكَ وَ لَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا

    ‘আর তুমি বদ্ধমুষ্টি হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না; হলে তুমি তিরস্কৃত ও অনুতপ্ত (নিঃস্ব) হয়ে পড়বে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৯)

    এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর নিয়ামতগুলো যদি তার নির্দেশিত পদ্ধতিতে ব্যবহার করা না হয়, তবে মানুষ বিপদ-আপদ, অভাব-অনটনের সম্মুখীন হয় এবং রিজিকের বরকত চলে যায়। আর যে ব্যক্তি মধ্যপন্থায় থাকে, সে শুধু নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে না বরং তার আশপাশের পরিবেশেও শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে। তাই মানুষের উচিত, আল্লাহর নিয়ামতসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যাতে অপব্যয় ও কৃপণতা পরিহার করা যায় এবং জীবনে শান্তি ও বরকত আসে।

    রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী এবং ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মিতব্যয়ী জীবনযাপন মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করে এবং এটি আল্লাহর বরকত অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তিনি বলেছেন-

    ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩০৩)।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ী হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অতিরিক্ত খরচ, আর্থিক সংকট, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে। উপরন্তু, এটি পরকালেও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভের পথ সুগম করে।

    অপব্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব

    অপব্যয় শুধু আর্থিক দিকেই ক্ষতি সৃষ্টি করে না, বরং এর মাধ্যমে মানুষের রিজিকের বরকতও চলে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَكُمۡ عِنۡدَ كُلِّ مَسۡجِدٍ وَّ كُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ۚ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

    ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর, আর খাও এবং পান কর। তবে অপব্যয় ও অমিতাচার করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৩১)

    রাসূলুল্লাহ (সা.)ও নিজ জীবনযাপনে অপব্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন। একবার তিনি সাদ (রা.)-কে অজুর মধ্যে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে প্রশ্ন করেছিলেন-

    مَا هَذَا السَّرَفُ ” فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ قَالَ ” نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ ”

    ‘হে সাদ! অপচয় করছ কেন?’ সাদ (রা.) বলেছেন, ‘অজুতে কি অপচয় হয়?’ তখন নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো, তা অপচয়।’ (ইবনে মাজাহ ৪২৫)

    মিতব্যয়ী জীবন: দারিদ্র্য মুক্তির উপায়

    যারা উপার্জন ও ব্যয়ে পরিমিতবোধের চর্চা করবে, তারা কখনো অভাবগ্রস্ত হবে না। রাসুল (সা.) হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যারা মিতব্যয়ী জীবনযাপন করেন, তারা কখনো দারিদ্র্যের মুখোমুখি হন না। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন- ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ ৭/৩০৩)

    আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দ

    অনেক সময় আমরা খরচের ক্ষেত্রে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, লোকদেখানো খরচ করি, যা পরকালে কোনো লাভ বয়ে আনে না। হাদিসে এসেছে-

    ‘আল্লাহ আমাদের তিনটি বিষয় পছন্দ করেন—তার ইবাদত করা, তার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা। অন্যদিকে, তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন— অহেতুক কথা বলা, অহেতুক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক সম্পদ বিনষ্ট করা। ’(মুসলিম ১৭১৫)

    অতএব, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিতব্যয়ী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা, ভাইবোন ও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করা উচিত, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো অনর্থক খরচ না হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ كَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَ كَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوۡرًا

    ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের প্রতি ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৭)

    আসুন, আমরা সবাই ইসলামিক আদর্শে মিতব্যয়ী জীবনযাপন করি। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও বরকত অর্জন করি। মিতব্যয়ী হয়ে পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

  • পনেরো বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা

    পনেরো বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা যায় না: ধর্ম উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ১৫ মাসে যথেষ্ট সফলতা আছে, তবে ১৫ বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তারপরও আমি একটি ‌‌‘ট্রা‌ন্সপারেন্ট গভর্নমেন্ট প্রশাসন’ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।

    শুক্রবার ( ৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদরাসা মাঠে জেলার তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আজিমুশ্বান শানে রিসালাত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি বলেন, আমাদের সরকারের বয়স ১৫ মাস। আমরা বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছি। হজ্জ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছি। মডেল মসজিদ রযেগুলো নির্মাণে দুর্নীতি অথবা অনিয়ম আছে, এগুলোর জন্য আমরা পাওয়ার ফুল কমিটি গঠন করেছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু অনিয়ম ছিল। আমরা একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। কালকে আমাকে রিপোর্ট দিয়েছেন এবং ওনার েতদন্ত অনুযায়ী আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

    তিনি আরও বলেন, হজে টাকা ফেরত দিয়েছি ৩৯ কোটি টাকা। যেগুলো এজেন্সির টাকা সৌদি আরবে ছিল। আমার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির কোনো স্কোপ নেই। আমি নিজেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমার অফিসারাও যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে থাকে, আমি যথেষ্ট সোচ্চার আছি।সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল হাই, সহসভাপতি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সুলতান মাহমুদ, খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিন প্রমুখ।

    এর আগে, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে পঞ্চগড় তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে ১২ দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন স্থানীয় আলেমরা।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি

    খুলনার পাইকগাছায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন একটি ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। পাইকগাছা–কয়রার তৌহিদী জনতার ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাঁরা আরও বলেন, ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ দেশে ভাস্কর্যের রাজনীতির অবসান ঘটেছে। এখন থেকে আর কোনো ভাস্কর্যের রাজনীতি এই দেশে স্থান পাবে না।

    বক্তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তখন সব দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

    মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবদুল আজিজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হাফেজ মাওলানা আবদুর রব, মুফতি ওয়াইস কুরনী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা শামসুদ্দিন, মাওলানা রইসুল ইসলাম, মাওলানা সাঈদুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, আসাদুল্লাহ, আতাউল গণি, ইলিয়াস আমিন, ফরহাদ হুসাইন প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, পাইকগাছা–কয়রা সড়কের পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আলোচনা করে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখে। বর্তমানে ভাস্কর্যটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

  • খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। শুধু পুষ্টি নয়, এর রয়েছে নানা রকম ওষুধি গুণও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, খেজুর খেলে শরীরে নানা উপকার হয়। তবে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই নয়, হাদিসেও খেজুরের উপকারিতার কথা বহুবার উঠে এসেছে।

    বিশেষ করে মদিনার ‘আজওয়া খেজুর’ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক বর্ণনায় এসেছে আশ্চর্যজনক সব উপকারের কথা।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘মদিনার উচ্চভূমিতে উৎপন্ন আজওয়া খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা খাওয়া হলে এটি বিষের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে (মুসলিম : ৫১৬৮)।’

    অন্য এক হাদিসে হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না (বুখারি : ৫৪৪৫)।’

    একবার হজরত সাদ (রা.) অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তার বুক স্পর্শ করে বলেছিলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও, সে অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তাকে বলো আজওয়া খেজুর চূর্ণ করে সাতটি বড়ি তৈরি করতে (আবু দাউদ : ৩৮৩৫)।

    হজরত আলি (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সাতটি আজওয়া খেজুর খায়, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ দূর হয়ে যায় (কানজুল উম্মাল : ২৮৪৭২)।’

    মহানবী (সা.)-এর ইফতারেও খেজুর ছিল প্রধান। হজরত আনাস (রা.) বলেন,‘নবীজি (সা.) কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। না পেলে শুকনো খেজুর, সেটাও না পেলে পানি (তিরমিজি)।’

    এ ছাড়া তিরমিজির এক হাদিসে তো আজওয়া খেজুরকে জান্নাতের ফল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লিখিত উপকারিতাগুলো স্মরণে রেখে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন খেজুরও। বিশেষ করে ভোরবেলা নিয়ম করে সাতটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।