ইসলামী বিশ্ব

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মর্মে সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মহাসিচব ও দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রুহুল কবির রিজভী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটি হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থেকে তিনি মূলত দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

    রুহুল কবির রিজভীর পৈত্রিক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি

    বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া বাংলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

    রাজনীতি জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনটিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে এর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

    রুহুল কবির রিজভী ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর মো. মফিজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের হরিন্দীয়া ঝামাঘাটা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মফিজুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মফিজুল।

    এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

    বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মফিজুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, চার দিন নিখোঁজ থাকা মফিজুল ইসলামের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

    মফিজুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    কালবেলার পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হোল-

    আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।

    আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    যশোরের চৌগাছায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সভায় উপজেলার গত এক মাসের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ, মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন, বিজিবির সুবেদার শরিফ কবীর আহমেদ, চৌগাছা উপজেলা হিন্দু ফ্রন্টের গোবিন্দ কুমার রাহা, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সেক্রেটারী আজিজুর রহমান প্রমুখ।

  • পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে পেয়ারা চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের চম্পকলতা গ্রামে পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে পেয়ারা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক ইমামুল ইসলাম। তার এ সাফল্যে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    পেয়ারা আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, পেয়ারা ভিটামিন-সি, আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও হজম প্রক্রিয়ায় দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের পেয়ারাগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের গাছগুলো আকারে ছোট ও ঘন হওয়ায় উচ্চ ঘনত্বের চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী। বছরে দুইবার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের কাছে এসব জাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

    চাষি ইমামুল ইসলাম জানান, সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ শুরু করেন। দুই বিঘা জমিতে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের ৬৭টি চারা রোপণ করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার বাগানে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকারও বেশি পেয়ারা বিক্রি করেছেন। বর্তমান বাজারদরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৮-২০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করছেন।

    গাছের অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন ইমামুল।

    ইমামুল ইসলামের বাগানের সুস্বাদু পেয়ারা কিনতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। এ ছাড়া বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। ইমামুলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে চম্পকলতা গ্রামের আরও অনেকে পতিত জমিতে পেয়ারা বাগান তৈরির পরিকল্পনা করছেন।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান দৈনিক বলেন, ‘ইমামুল ইসলামের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে পতিত জমিকেও আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত করা সম্ভব। পেয়ারা চাষের জন্য বেলে ও দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যা আমাদের উপজেলায় প্রচুর রয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছি।’

    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করে জুড়ীর কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব।

  • নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি পরের দিন শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে করা ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেব ইনশাল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে ৫টা পর্যন্ত। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, তারা ভোট দেবেন, সেটা লাইভ দেখানো হবে।’

    নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারপর সব রেকর্ড করা হবে। আবার নির্বাচন শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে আমরা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফল ঘোষণাটিও আমরা লাইভ দেখাব। আপনারা দেখবেন, আগামীকালকে একটা ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।’

    দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে তারেক রহমান আমাদের নেতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। সংগ্রাম করার পরে যে কাজটা হয়েছে তা হলো এই যে, আমরা নির্বাচিত হয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সরকার এসছি। আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। সরকার এবং বিরোধীদল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং দেশের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই। সেই কারণে দেখবেন, রাষ্ট্রপতির প্রার্থী ড. অলি আহমদ, আরেকজন হলো আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। ভোট হবে। এদেশের মানুষ ভোট কীভাবে ভোট দেয় সেটা আবার প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। ইনশাল্লাহ আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারব।’

    ব্রিফিংয়ে সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জি কে গউস, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, খন্দকার আবু আশফাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরর সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহন হয়েছিলো। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ( ৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস (১৭২ ভোট)।

  • পেছাতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

    পেছাতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ মাস পেছানোর চিন্তা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা ভাবছে শিক্ষা বিভাগ।

    পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি এবং অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা আগামী মার্চে শুরু করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবকিছু চূড়ান্ত হলে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে। শিক্ষা বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রমজান ও ঈদুল ফিতরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এসব বিষয় পর্যালোচনা করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মার্চে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আগামী মার্চে পরীক্ষা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে।সে হিসাবে রমজান ও ঈদুল ফিতর শেষে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ দিকে আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন ২০২৭ থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত।

    ১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ বছরে গ্যাপ নিরসনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসকে শিক্ষা বছরের শেষ এবং পরীক্ষার মাস হিসেবে ধরা হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর সেই সূচি আর বজায় রাখা যাচ্ছে না; বরং পরীক্ষা আরও পিছিয়েছে। চলতি বছরও (২০২৬) এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় জুলাই মাসে।

    এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা বিভাগ। এর আগে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    পরে অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত সভাতেও ডিসেম্বরে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত আসে। এরপর আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

    তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা কোন মাসে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানাবে মন্ত্রণালয় এমনটাই বলছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বৈঠকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। সংসদীয় দলের এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ সভা কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    অপর প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

    ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ৯২ ভোটে পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।

  • টেক্সাসে সমান তালে বাড়ছে মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষ

    টেক্সাসে সমান তালে বাড়ছে মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষ

    কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে ডালাসের আশপাশে। ভালো স্কুল, তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন এবং শক্তিশালী মুসলিম সম্প্রদায়ের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলিম পরিবারগুলো সেখানে বসতি গড়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠান। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য, সামাজিক বৈরিতা এবং রাজনৈতিক প্রচারণাও জোরালো হয়েছে।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    জুনের শুরুর দিকে ভোর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠেছিলেন গুলাম কেহার। টেক্সাসের আরভিংয়ে নিজের স্থানীয় মসজিদ ভ্যালি র‍্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারে দিনের প্রথম নামাজ আদায় করে কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার কথা ছিল তার।

    এর আগেও তিনি দায়িত্ব পালনে গিয়েছেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। স্ত্রী ও চার সন্তানকে টেক্সাসে রেখে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

    টেক্সাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্য তখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল এবং সেগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছিল। বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি ও ধর্মীয় নেতারা প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার সময় কিংবা পার্কে বসে থাকার সময় তাদের উদ্দেশে করা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিজ্ঞতা পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিউস্টনের একটি বড় ইসলামিক সেন্টারে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কনরো শহরে এক নারী মুসলিম ক্রেতাদের বলেন, তারা ‘এই অঙ্গরাজ্য বা এই দেশে স্বাগত নয়’। ওই মন্তব্যের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর নারীটি চাকরি হারান। পরে সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পান তিনি।

    ডালাসের উপশহর ম্যাককিনিতেও একটি মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে উত্তপ্ত সিটি কাউন্সিলের শুনানির সময় এক নারী সাবেক মেয়রের জামার ভেতরে ইসলামবিরোধী বার্তা লেখা কাগজ ঢুকিয়ে দেন।

    ‘এমন পরিবেশে তাদের একা রেখে যাওয়া কিছুটা উদ্বেগের বিষয় ছিল,’ নিজের পরিবারের প্রসঙ্গে বলেন কেহার। ‘বাইরে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোই ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল।’

    পরে দায়িত্ব পালনের এলাকায় তার পরিবারকে যত দ্রুত সম্ভব তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।

    কেহারের মতো গত কয়েক দশকে টেক্সাসে বসতি গড়া মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে। ডালাসের দক্ষিণে ‘ডিসোটো হাউস অব পিস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানও মুসলিম সম্প্রদায়ের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

    ‘আমেরিকান মুসলিমদের জন্য এটাই থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা,’ বলেন তাম্মাম আলওয়ান। ডেট্রয়েট থেকে আরভিংয়ে চলে আসা এই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করেছিলাম—হে আল্লাহ, আমাকে আরভিংয়ে পাঠান।’

    কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায় যত বেড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভও তত বেড়েছে।

    ‘র‍্যাডিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান রাজনীতির অংশ। জাতীয় পর্যায়েও এই বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। মুসলিম রাজনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় এবং মুসলিমদের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে টেক্সাসের রাজনীতিকরা শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তারা কিছু মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতাও প্রয়োগ করেছেন।

    ২০২৫ সালের শুরুর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। পূর্ব প্লানোর ইসলামিক সেন্টার বা এপিকের সদস্যরা ডালাসের পূর্বদিকে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মসজিদকেন্দ্রিক একটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করলে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় এপিক সিটি । পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য মেডো’ রাখা হয়। প্রকল্পটিতে এক হাজারের বেশি বাড়ি, মসজিদ, স্কুল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনমূলক স্থাপনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পটি নিয়ে ইসলামবিরোধী প্রভাবক অ্যামি মেকেলবার্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, টেক্সাসের বারবিকিউ রেস্তোরাঁগুলোকে একটি সমন্বিত ‘দখল’-এর অংশ হিসেবে ‘আরব শপিং প্লাজা’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এপিক সিটি নিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘এভাবেই পশ্চিমা বিশ্বের পতন হয়।’

    তার প্রচারণা টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর অ্যাবট প্রস্তাবিত প্রকল্প ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রাজ্যীয় তদন্ত শুরু করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও প্রকল্পটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

    প্রকল্পটির সমালোচকেরা এটিকে ‘শরিয়াহ-নিয়ন্ত্রিত’ বা মুসলিমদের জন্য আলাদা এলাকা হিসেবে তুলে ধরলেও প্রকল্পের উদ্যোক্তারা বলেছেন, এটি সব ধর্ম ও পটভূমির মানুষের জন্য উন্মুক্ত।

    রিপাবলিকান কনভেনশনে শরিয়াহবিরোধী প্রপাগাণ্ডা

    মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের বিস্তার টেক্সাসের রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    জুনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস স্টেট রিপাবলিকান কনভেনশনে টেক্সাসকে শরিয়াহমুক্ত রাখার বার্তা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়। একাধিক প্যানেলে মুসলিম ‘আগ্রাসন’ নিয়ে সতর্ক করা হয় এবং শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করাকে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও সম্মেলনে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনস্থলে টেক্সাস হাউসের নতুন ‘শরিয়াহ-মুক্ত ককাস’-এর একটি বুথও ছিল। সেখানে অ্যামি মেকেলবার্গের সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রচারণা চালানো হয়।

    এক নারীর হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার টেক্সাসকে শরিয়াহ আইনে শাসিত করো না। স্বাধীনতা রক্ষা করো। টেক্সাস রক্ষা করো।’

    এরই মধ্যে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

    ২০১৫ থেকেই শরিয়াহবিরোধী রাজনীতি

    টেক্সাসে মুসলিমদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে আরভিংয়ের তৎকালীন মেয়র বেথ ভ্যান ডুইন শরিয়াহ আইনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। তিনি বর্তমানে কংগ্রেসের সদস্য।

    এর দুই বছর পর, ওয়াশিংটনভিত্তিক কট্টর ডানপন্থী থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি-র উদ্যোগে আনা একাধিক বিলের অংশ হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকানরা শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করেন।

    এরপর কিছু সময়ের জন্য কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিতে ইসলাম ইস্যুর গুরুত্ব কমে যায়। অভিবাসন, মহামারি ও লিঙ্গ রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়।

    কিন্তু পরে কট্টর ডানপন্থীদের একটি অংশ নতুন করে এমন একটি বিতর্কিত ধারণা সামনে আনে—ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, বরং একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ।

    এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এপিক সিটি নিয়ে নতুন করে প্রচারণা শুরু হয়।

    মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ

    রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শক অ্যান্থনি হোমের মতে, ইসলাম নিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের উদ্বেগ মূলত অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তাদের ভীতিরই সম্প্রসারণ। গভর্নর অ্যাবটের বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি যা কিছু করেন, তা জনমত জরিপ দ্বারা চালিত।’

    এদিকে অ্যাবট মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় অজুর জন্য ব্যবস্থা রাখা টেক্সাসের বিমানবন্দরগুলোর সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার হুমকি দেন। মুসলিমদের একটি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত ওয়াটার পার্ক অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশও দেন তিনি।

    একই সঙ্গে অ্যাবট জাতীয় নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন। সংগঠনটি আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

    মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, সিএআইআর-কে লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামি প্রতিষ্ঠানকেও রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

    বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

    পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের ৫ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ২৩ জুলাই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছিল।

    বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ, যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম, উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান, সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ।

    অন্যদিকে, বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম, মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক আবু রায়হান মো. মোহতাছিন বিল্লাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বিএসইসি।

  • রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

    রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

    আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দিতে অগ্রিম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান এলেই নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছয়টি পণ্যের চাহিদা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতি বছর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাড়তি চাপের মুখে পড়েন রোজাদাররা। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে একশ্রেণির সিন্ডিকেটের তৎপরতা দেখা যায়। এ জন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।

    অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামী রমজান উপলক্ষে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা ও ৩,৩০০ টন খেজুর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কিনতে চায় টিসিবি। সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

    জানা গেছে, আগামী রমজান উপলক্ষে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮ কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী রজমান মাসে ৮৫ লাখ সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কার্ডধারী পরিবারের কাছে এক কেজি ছোলা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের মাঝে এক কেজি খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে এক কেজি করে খোলা ও আধা কেজি করে খেজুর ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

    প্রসঙ্গত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার কথা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর রোজার আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। দেশে পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও রমজান এলেই দাম বাড়তে শুরু করে, আর ভোক্তারা পড়েন ভোগান্তিতে। পরে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও কোনো বছরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট চক্র। এবার যাতে সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই কার্যকর মনিটরিং এবং অনিয়ম পেলেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি আমার দেশকে বলেন, রমজানের পণ্যে দেশে কোনো সরবরাহ সংকট যাতে না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী রমজানে মানুষ যাতে স্বস্তি রমজানে রোজা পালন করতে পালেন করতে পারেন এবং ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি কোনো সংকট হবে না।

    জানা গেছে, আগামী বছরের ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসে চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ টন। মসুর ডালের ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে প্রয়োজন হয় ৮০ হাজার টন। এরই মধ্যে স্থানীয় উৎপাদন হয় প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০-২১ লাখ টন। রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় তিন লাখ টন। ছোলার ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা সর্বোচ্চ দুই লাখ টন, যার বড় অংশই রমজানে প্রয়োজন খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। রমজানে প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো বলা হবে—‘রমজানে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না’। কিন্তু সরকারের সে আশ্বাসে ভোক্তারা কতটুকু আশ্বস্ত হবে, সেটাই এখন বড় বিষয়। কারণ, সরকারের সব প্রস্তুতি যদি আগের সনাতনী ছকেই হয়, তবে মাঠপর্যায় থেকে হয়তো বলা হবে ‘সব ঠিক আছে’, অথচ এর মধ্যেই বড় বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে। আর মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি আরো বলেন, আমরা ক্যাব থেকে বারবার বলে আসছি—আমদানি ও চাহিদার বিষয়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি ও মজুতকৃত পণ্য দেশের সর্বত্র সরবরাহে যেকোনো বাধাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং চাহিদা ও জোগান বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

  • ইসলামপন্থিরা নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্নীতিবাজরা জনপ্রতিনিধি হবে: মামুনুল হক

    ইসলামপন্থিরা নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্নীতিবাজরা জনপ্রতিনিধি হবে: মামুনুল হক

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ইসলামপন্থী ও সৎ-যোগ্য মানুষরা নিষ্ক্রিয় থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিবাজ, অসৎ ও কমিশননির্ভর ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবে।

    মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আমিরে মজলিসের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই কমিটি’র সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচনি মাঠে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামপন্থীরা নীরব থাকলে এবং সৎ ও যোগ্য মানুষ নির্বাচনে অংশ না নিলে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবে।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অর্থশক্তি ও প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য কমাতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেক সময় প্রকৃত জনদরদি, সৎ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় যথাযথভাবে উঠে আসার সুযোগ পান না। এটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল।

    তবে শুধু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, রাজনৈতিক দল ও ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তৃণমূল থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে হবে।

    মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা যদি নীরবে বসে থাকি, একজন সৎ মানুষ যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে একজন কমিশনখোর চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পাবে। একজন সৎ মানুষ যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে একজন দুর্নীতিবাজ পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। একজন চাঁদাবাজ সিটি মেয়র হওয়ার সুযোগ পাবে। তাই জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্বার্থে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।’

    তিনি দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব মাওলানা হাসান জুনাইদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন হোসেন মিয়াজী ও মাওলানা মুফতি শরাফত হোসেন।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা মহসিনুল হাসান, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বাইতুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিনসহ নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাই কমিটির সদস্যরা।

    এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • আইনশৃঙ্খলা জ্বালানি ব্যাংকিংসহ ৮ খাতে সরকার ব্যর্থ: ৬ মাসের মূল্যায়নে জামায়াত

    আইনশৃঙ্খলা জ্বালানি ব্যাংকিংসহ ৮ খাতে সরকার ব্যর্থ: ৬ মাসের মূল্যায়নে জামায়াত

    বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
    দলটির অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে না পারা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮ ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে উদ্বেগজনক ফাঁক রাখা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের দূরে রাখা, পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দূর্বলতা এবং সংস্কারসহ মানুষের জন্য কাল্যাণকর খাতে সরকার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আজাদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যবধান আড়াই কোটিরও বেশি।

    তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল এবং পরিষদকে প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি। সরকার পরবর্তী সময়ে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প পদ্ধতির দিকে এগিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো থাকলেও গত ছয় মাসে এগুলোর কোনো একটিরও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে।

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে বলেও দাবি করে তিনি বলেন, প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

    তার দাবি, একই সময়ে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।

    পুলিশ সদর দপ্তরের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, শুধু মার্চ-মে ২০২৬ সময়ে ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে, যেখানে পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ৭৯৪টি।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ে দলটির মূল্যায়নে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুন ২০২৬-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের বছরের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।

    ব্যাংকিং খাত নিয়েও সরকারকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

    তাঁর অভিযোগ, সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।

    পররাষ্ট্রনীতিতেও কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ঘাটতি বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
    গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা। সরকার ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো শক্তিশালী অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।

  • মক্কা চুক্তি নাকি মুসলিম ন্যাটো?

    মক্কা চুক্তি নাকি মুসলিম ন্যাটো?

    যেকোনো একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা জোটের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে—পারস্পরিক প্রতিরক্ষার এই বিশেষ অঙ্গীকারটি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিখ্যাত ‘৫ নম্বর অনুচ্ছেদ’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে ঠিক এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে।

    এই ধারার কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই চুক্তিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে কি সত্যিই তেমন কোনো জোট বাস্তব রূপ পাচ্ছে?

    দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিন দেশের যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

    ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পবিত্র শহরে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এক বিশাল প্রতীকী তাৎপর্যও তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ভারসাম্যে এই চুক্তি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বুঝতে হলে এর পেছনের সমীকরণগুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

    যুদ্ধের ছায়ায় এই জোটের জন্ম

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও তেল অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়।

    পরিস্থিতি সামলাতে বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয় রিয়াদ। ফলে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে সৌদি তেলের রপ্তানি দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেলে ওঠে।

    ঠিক এই স্পর্শকাতর রুটেই আঘাত হেনেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। চুক্তি সইয়ের দুই দিন পর, ৯ আগস্ট ইরান-সমর্থিত হুতিরা জাজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

    এসব দিক বিবেচনায় চুক্তিটি কোনো কাল্পনিক ভবিষ্যৎ হুমকির বিরুদ্ধে নয়। আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা-ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে এ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সমীকরণ।

    মার্কিন সুরক্ষা নিয়ে গভীর হতাশা

    এই চুক্তির অন্যতম চালিকা শক্তি হলো মার্কিন সুরক্ষার ওপর রিয়াদের হতাশা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের দেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা যখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো রক্ষা করতে পারছিল না, তখনই বিকল্প প্রতিরক্ষার তাগিদ তৈরি হয়।

    ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার এই উদ্যোগকে কিছু বিশ্লেষক উপসাগরের ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে দেখছেন। আগে নিরাপত্তার প্রয়োজনে ওয়াশিংটনই ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা। এখন সেই নির্ভরতা কমিয়ে আঙ্কারা, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

    তবে অনেকে একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও এখনই ন্যাটোর মতো কোনো কঠোর সামরিক জোট তৈরি হচ্ছে না। কারণ, ন্যাটোর মতো এখানে কোনো একক অভিন্ন শত্রু নেই। সৌদির প্রধান চিন্তা ইরানকে নিয়ে; তুরস্কের মূল অগ্রাধিকার সিরিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর; মিসরের নজর গাজা ও লোহিত সাগরের দিকে এবং পাকিস্তানের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো ভারত।

    কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. অ্যান্ড্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, কোনো একক সাধারণ শত্রু না থাকায় ন্যাটোর মতো কঠোর কাঠামোর চেয়ে এখানে একটি নতুন ও নমনীয় ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেল গড়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।

    সে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কেন্দ্রের ‘হাব’ বা মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের পারস্পরিক শক্তিশালী সমঝোতা। অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইন বা কাতারের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি কোনো বড় সামরিক দায়বদ্ধতায় না জড়িয়ে এই শক্তিশালী কেন্দ্রের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বিশেষায়িত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ‘স্পোক’ বা শাখা হিসেবে যুক্ত থাকবে।

    লক্ষ্য কি কেবলই ইরান

    চুক্তির পর এরদোয়ান বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, এই কাঠামো সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা।

    জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে এই চুক্তির বাইরে রাখার বিষয়টি তেহরানকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা নিরাপত্তা-সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। তেহরানও এই নতুন নিরাপত্তা কাঠামোকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি সৌদির নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেবে না।

    একই চিত্র দেখা গেছে লোহিত সাগরেও। গত ৩০ জুলাই সৌদি নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দেশের নৌ প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ থাকলেও ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সই করেনি। ইরানকেও দূরে রাখা হয়েছে। কাগজে-কলমে দুটি উদ্যোগের লক্ষ্য আলাদা মনে হলেও ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিই এখানে সবচেয়ে বড় সমীকরণ হিসেবে কাজ করছে।

    আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে একটি স্নাইপার রাইফেলের নিশানা পরখ করছেন এক দর্শনার্থী। আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

    দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ

    এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। হংকংভিত্তিক ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি অর্থায়নে তুরস্কের তৈরি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাকিস্তানের হাতে গেলে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তা ছাড়া তুরস্ক কাশ্মীর ইস্যুতে সবসময় পাকিস্তানের পাশে থাকে, যা দিল্লির জন্য উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ। তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে সৌদির এই নতুন সামরিক মেরুকরণ ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পর্যালোচনা করছে।

    এর আগে ৬ আগস্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন। দুই নেতা ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

    পাকিস্তানের দোটানা

    কাগজে-কলমে এই চুক্তি যতই শক্তিশালী দেখাক, বাস্তবে এর প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন। ‘মিডল ইস্ট মনিটর’-এর এক বিশ্লেষণে পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক দোটানার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক থাকলেও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠীও ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-সমীকরণ।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে ২০১৫ সালে, যখন ইয়েমেন যুদ্ধের সময় রিয়াদ সেনা ও বিমান সহায়তা চাইলেও পাকিস্তানের সংসদ সর্বসম্মতভাবে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    মক্কা চুক্তির ‘যৌথ প্রতিরক্ষা’ বা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো কঠিন প্রতিশ্রুতি এখন পাকিস্তানকে এক নতুন অগ্নিপরীক্ষায় ফেলেছে। ভবিষ্যতে সৌদির তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হলে পাকিস্তান কি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে, নাকি ২০১৫ সালের মতো নিরপেক্ষতার নীতিতে অনড় থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    বিয়ে করলেন সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘চ্যানেল আই বাংলার গান ২০১৬’র চ্যাম্পিয়ন শারমিন আক্তার ও সংগীতশিল্পী সাব্বির কোরাইশী। গতকাল সোমবার রাজধানীর গাউসুল আজম মসজিদে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের সুখবরটি দিলেন শারমিন আক্তার নিজেই।

    জানান, দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

    গায়িকা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করলাম। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।’

    শারমিন আরও বলেন, ‘বিয়ে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। নতুন দায়িত্ব, নতুন সম্পর্ক- সব মিলিয়ে অনুভূতিটা অন্যরকম। পরিবার ও কাছের মানুষদের ভালোবাসা এবং দোয়া নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করেছি। সবার কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই।’

  • মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    ২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে—এমটিই দাবি করেছেন
    সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আপনি একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন, যেখানে ২০২৪ সালে একটি সরকার গঠিত হতে পারে। তার একটি রূপরেখা আপনি দিয়েছিলেন। কারা কারা থাকতে পারে তাও কি দিয়েছিলেন—মনিরুল ইসলামের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি।

    জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ এবং যাদের নাম ওখানে উল্লেখ ছিল, তারা অনেকেই উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারপার্সন, চেয়ারম্যান হয়েছেন বা সদস্য হয়েছেন। বাকিরা না হলেও যেমন দুই একটা পত্রিকার সম্পাদকেরও নাম ছিল। পরবর্তীতে যদিও তারা শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি। তারাও এই কলঙ্কিত সরকারের, মানে এই করাপটিং এজেন্টদের হামলার শিকার হয়েছেন তাদের নামও ওখানে ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘২৩ সালে যখন বিভিন্ন জনের নামে ভিসা স্যাংশন হলো। ভিসা স্যাংশন দেবে যারা এইরকম একটা, মে মাসের শেষ দিকে ইউএস গভর্মেন্ট ইস্যু করে বা ইউএস অ্যাম্বাসি, ঢাকা ইস্যু করে। সেটার দুই একদিন আগে আমি আরেকটা রিপোর্ট দিই যে, একটা কিছু আসছে। এই বিষয়টা আমরা অবহিত ছিলাম এবং কোন কোন দেশ এটার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে। এই রিপোর্টটা যেকোনোভাবে মনে হয়, আমার কোনো ডিভাইসে থেকে গিয়েছিল। রিপোর্টটা আমি পরে মিলিয়ে দেখলাম। যেহেতু ২০২৩ সালের ঘটনা, মানে এটা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসের দিকে আমি রিপোর্টটা রিট্রিভ করতে পারি। রিপোর্টের কপিটা যেহেতু ড্রাফট, কপিটা দেখলাম, বলা যায় যে, কম বেশি ৯০ ভাগ মিলে গেছে।’

    সরকারের রেসপন্স কী ছিল সেই রিপোর্টের পরে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যেহেতু আর আমি সরকারি চাকরিতে নেই, এখন তো বলাই যায়। আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন। এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় যেটা শেয়ার করা যায় সেটি হলো—রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ড. ইউনূস বয়সজনিত কারণে, তখন আমার বক্তব্য ছিল জাতীয় সরকার। কিন্তু হয়েছে ইন্টেরিম সরকার বাদবাকি সব মিলে গেছে। তিনি হয়তো বয়সজনিত কারণে সরাসরি নিজে থাকবেন না। তার প্রতিনিধি হিসেবে দুই তিনজনের নাম ছিল। যে এদের কাউকে এই জাতীয় সরকারের প্রধান করতে পারেন ডি পলিটিসাইজেশন যেটা আর কি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) পুরো রিপোর্টটা পড়েছিলেন, বোধহয় সাত আট পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট। এটা একটা গবেষণা পত্রের মতো বলতে পারেন। তো উনি পুরোটা পড়লেন। পড়ে ওই জায়গায় এসে উনি আমাকে বললেন—তুমি জানো না ইউনূসের মতো লোভী লোক, ক্ষমতালোভী। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন। তখন আমার একটু খটকা লেগেছিল। কারণ আমি ড. ইউনূসকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। তার সাথে কখনো আমার কথা হয়নি। তার কোনো সভা সেমিনারে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আমি দূর থেকে দেখেছি। কিন্তু আমি আসলে তাকে ওই সময়ও চিনতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ওই সময় আমাকে বলেছিলেন যে, তুমি চিনো না ওনারে, ওনার মতো লোভী লোক, উনি মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না। ওই এটা মূল হবে দেখবা, যদি এরকম একটা কিছু হয়। সেই কথাটা পরবর্তীতে আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আসলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ড. ইউনূসকে চিনতে পেরেছিলেন। যে এরকম একটা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার।’

    উনি (শেখ হাসিনা) জানতে পারলেন, আপনারা রিপোর্ট দিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন উনি (হাসিনা) পুরোপুরি রিপোর্টটা এনডোর্স করেছিলেন এবং একনলেজও করছিলেন বেশিরভাগ পয়েন্টসের সঙ্গে। এটা প্রেডিকশন ছিল যে, ইলেকশনটাই হতে দেবে না ২০২৪-এর। এই ইলেকশনের আগে বা পরে এটা হবে। ইলেকশনটা তো আসলে হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত এবং ইলেকশনের আগে এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে যেটা মিলিয়ে দেখেছি সেটা হল—২৮শে অক্টোবর ২০২৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশ। ওইটাকে টার্গেট করে, যেহেতু ওটা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। কন্ট্রোল করে ফেলার কারণে ওই ছকটা, ওই ব্লু-প্রিন্টটা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে ইলেকশন পর্যন্ত সরকার এবং মানে সরকারি দল এবং মানে গভর্মেন্ট মেশিনারি যারা ছিল গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই, কিন্তু ইলেকশনটা হয়ে গেল। নতুন সরকার হয়ে যাওয়ার কারণে তখন কিছুটা কমপ্লেসেন্ট হয়ে গিয়েছিল।’

    গা ছেড়ে দিয়েছিল? প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি। তিনি বলেন, ‘গা ছেড়ে দিয়েছিল সেটা বললেই বোধহয় ভালো হয়। আন্দোলন হইলেও তিন বছর পরে চতুর্থ বছর বা শেষ বছরে গিয়ে আন্দোলন হবে। এটাই তো আসলে আমরা রেওয়াজ দেখেছি। ওই রকম একটা গা ছাড়া ভাব আসলে চলে এসেছিল। এই কমপ্লেসেন্সির কারণেই তখন অনেকে বলেছে যে, এই সরকার টিকবে। কিন্তু আমরা মিলাতে পারিনি। পরবর্তীতে মিলাতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি, আসলে এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। এই যে ডিপ স্টেট যেটা বলা হয়, এই কথিত ডিপ স্টেট এইটা তো অফিশিয়াল কিছু না, অফিশিয়াল না, আবার অফিশিয়ালও। এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ থেকে। আমরা দেখেছি সাত আটে এটা ফেল করল। ফেল করার পর তারা দেখেছে এবং তারা চিন্তা করেছে যে, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন করতে হবে। তারা মনে করেছিল ২০১৮ তে এই সরকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। ইলেকশনের মাধ্যমে ২০১৮ সরকার দেখলো যে, এই সরকারকে ইলেকশনের মাধ্যমে আউট করা সম্ভব নয়।’

    সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিপ স্টেট তাদের গবেষণায় এবং তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছিল এবং তাদের লোক তো নানা স্তরে ছড়ানো ছিটানো ছিলই। দেখেছিল যে রাজনৈতিক দলের পক্ষে সরকারের পতন ঘটানো অর্থাৎ কনভেনশনাল সরকারের পতন ঘটানো ও কনভেনশনাল মুভমেন্ট এর মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না। সেই কারণেই দুটো আন্দোলনকে তারা আসলে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিল। একটা হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, যখন সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন। তখনই এই ডিপ স্টেট এবং যারা তাদের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আছে তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যদি কোনো কিছু করতে হয়, পরিবর্তন ঘটাতে হলে, এটা ছাত্রদেরকে, তরুণদেরকে কাজে লাগাতে হবে।’

    ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে যতদূর মনে পড়ে মির্জা ফখরুল সাহেব যখন ঘোষণা দিলেন যে, সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন। তখন আসলে এই আন্দোলনটা ছাত্র আন্দোলনে ছিল না। তখন সেনাবাহিনী অনেকটা ইনক্টিভ হয়ে গিয়েছে।’

    এসবি আসলে সরকার পতনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত আগে থেকেই পেয়ে গেল, তাহলে ৫ আগস্ট রাষ্ট্র এত দ্রুত ভেঙে পড়লো কী করে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে বলতে হবে যে, এটি ডিপ স্টেটের একটা ইনফ্লুয়েন্স। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরেও ছিল। সেনাবাহিনীতে একটা ডিপ স্টেট, যেহেতু সেনাবাহিনী বাংলাদেশে মানে এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা পুলিশ বা অন্যান্য জুডিশিয়ারি সবার চাইতে ওখানে তারা অপেক্ষাকৃত একটা ইনস্টিটিউশনালাইজড অর্গানাইজেশন। শক্তিশালী অর্গানাইজেশন। পাঁচ তারিখের পরে ইভেন স্কুলের হেডমাস্টার পর্যন্ত বদল হয়ে গেছে। কিন্তু তিন বাহিনীর প্রধান কিন্তু রয়ে গেছে। বিজেবির যে ডিজি, এই আন্দোলন দমন করার জন্য যার আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে বেশি যিনি তৎপর ছিলেন তিনিও থেকে গেছে নঅর্থাৎ এখানে রিটায়ার্ড এবং সার্ভিং গ্রুপের ভেতরে ডিপ স্টেট কাজ করে। তাদের একটা মিনি ডিপ স্টেট আছে। যেটা সবসময় সরকারের পক্ষে কাজ করে তা নয়, সরকারের বিপক্ষেও কাজ করে। তারা মূল ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করেন।’

    তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা দেখেছি যে, সেনাবাহিনীর একটা অংশ আসলে বলা যায় যে, এই সরকারের যে একটা পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে এই আন্দোলনটা থামিয়ে দেওয়া যাবে। সেটার পেছনে ছুরিকাঘাত করেছে।’

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে ‌‍’চা’

    ওজন কমাতে সাহায্য করে ‌‍’চা’

    চা। এক অক্ষরের এই পানীয়টি কী করে যেন বাঙালি জীবনের অংশ হয়ে উঠলো। কারণে-অকারণে এককাপ চা নিয়ে চুমুক দেওয়া এখন আমাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সম্ভবত আদা চা। পেটের সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আদা চা ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আদা হজমে সাহায্য করতে পারে এবং কিছু গবেষণায় ওজন নিয়ন্ত্রণে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান করা হয়েছে। আপনি যদি দৈনন্দিন রুটিনে আদা চা যোগ করার কথা ভেবে থাকেন, তবে এর উপকারিতা এবং এটি পান করার সেরা সময় সম্পর্কে গবেষণা কী বলে তা জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    আদা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে
    আদা ভালো হজমের সঙ্গে সম্পর্কিত। আদা চা হজমকারক টনিক, যা পাকস্থলীর গতিশীলতা উন্নত করে এবং হজমের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর কারণ হলো, এটি পাকস্থলীর মধ্য দিয়ে খাবার চলাচলে প্রভাব ফেলে। ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে প্রকাশিত একটি ছোট র‍্যান্ডমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদা পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষকরা সামগ্রিক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নতি দেখতে পাননি।

    পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করতে পারে
    খাবারের পর যদি আপনার প্রধান উদ্বেগ হয় সেই ভারী, অস্বস্তিকর অনুভূতি তবে আদা উপকারী হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের গতিবিধির ওপর এর প্রভাব একটি সম্ভাব্য কারণ। ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ১২৬ জন ব্যক্তির ওপর ২০১১ সালের একটি গবেষণা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্লেসিবোর তুলনায় আদা ও আর্টিকোকের নির্যাসযুক্ত একটি সাপ্লিমেন্ট পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, পেট ভরা অনুভূতি এবং এপিগ্যাস্ট্রিক ব্যথার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করেছে। এই গবেষণায় আদা ও আর্টিকোকযুক্ত একটি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল, সাধারণ এক কাপ আদা চা নয়। তাই এই ফলাফলকে এই প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় যে ঘরে তৈরি চা একই রকম প্রভাব ফেলবে।

    এটি কি সত্যিই ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে?
    এখানেই এই দাবিটিকে কিছুটা প্রেক্ষাপটের আলোকে বিচার করা প্রয়োজন। আদা চা নিজে ওজন কমানোর কোনো চিকিৎসা নয়, তবে আদা সাপ্লিমেন্টের উপর গবেষণায় কিছু আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে।

    কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিস ইন মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আদা সাপ্লিমেন্ট কোমরের পরিধি এবং শরীরের চর্বি অনেকটাই কমিয়েছে। তবে এটি শরীরের মোট ওজন বা বিএমআই তেমনভাবে কমাতে পারেনি। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কোনো দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং, আদা চা ওজন নিয়ন্ত্রণের রুটিনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এটিকে চর্বি কমানোর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

    সকাল না রাত: কখন এটি পান করা উচিত?
    আদার হজম বা ওজন-সম্পর্কিত প্রভাবের ক্ষেত্রে সকালের চেয়ে রাত বেশি ভালো, এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। আপনি যদি এটিকে আপনার রুটিনের অংশ করতে চান, তবে খাবারের পর বা সাধারণত যখন আপনার হজমে অস্বস্তি হয়, সেই সময়ে এটি পান করা একটি যুক্তিসঙ্গত।

    আপনি যদি রাতে এটি পান করেন, তবে চা পাতা দিয়ে তৈরি আদা চায়ের পরিবর্তে সাধারণ আদার নির্যাস বেছে নিন, বিশেষ করে যদি ক্যাফেইন আপনার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। গরম পানিতে টাটকা আদার টুকরো ভিজিয়ে রাখুন এবং স্বাদ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত চিনি বা মধু এড়িয়ে চলুন।

  • ইসলাম গ্রহণের পাঁচ মাসেই কুরআন হাফেজ

    ইসলাম গ্রহণের পাঁচ মাসেই কুরআন হাফেজ

    ইসলাম গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন।

    ৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৯ আগস্ট (৬ রবিউল আউয়াল) পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির বিভাগে ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের মতে, এটি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহণ।

    এই বিষয়ের আরও খবর:

    মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আহ্বানে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির পেন্ট্রা। ইসলামের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনাদর্শ তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা-মা ও এক বোনসহ পরিবারের আরও চার সদস্য ইসলাম গ্রহণ করেন।

    ইসলাম গ্রহণের পরপরই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার যাত্রা শুরু করেন পেন্ট্রা। অদম্য আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেন তিনি। পরে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলনের মাধ্যমে হিফজ ও তিলাওয়াত আরও শুদ্ধ ও দৃঢ় করেন।

    আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীসহ যেসব মন্ত্রী-উপদেষ্টা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না এরপর বুরুন্ডির একটি জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন পেন্ট্রা। এ সাফল্যের সুবাদে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি।

    এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।

    আরও পড়ুন: গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য সত্ত্বেও ৩৫ কোটি টাকায় প্রধান প্রকৌশলী তিনি জানান, ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি কুরআন ও কুরআনের খাদেমদের প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশংসা করেন এবং এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

    আন্তর্জাতিক ইসলামি সংবাদ সংস্থা আইকিউএনএ ও সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পেন্ট্রা বুশিমা আমিনের এই অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইসলাম গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই অর্জন কুরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ফজরের সুন্নত নামাজে সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু

    ফজরের সুন্নত নামাজে সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেন আতাউল্লাহ। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যাওয়ার পর তিনি আর ওঠেননি। পরে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

    হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। বাবার একমাত্র সন্তান আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল। নম্র স্বভাব ও সুন্দর ব্যবহারের কারণে মুসল্লিদের কাছেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়।

    এক প্রতিবেশী জানান, আতাউল্লাহ শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন এবং কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়নি। নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন তিনি।

    আতাউল্লাহর মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। আকস্মিক এ মৃত্যুতে স্বজনরা গভীরভাবে শোকাহত।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আসরের নামাজের পর নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশুরা হলো- সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তারা পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে পুকুর থেকে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

    ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    মো. খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি:

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা নম্বর-০৮ দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট (৩৯) নামে এক কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট ওই এলাকার মইনুল হক রতনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজের শিক্ষক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার বাড়ির পাশে মসজিদের পুকুরে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

    কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করি। এরপর ঘটনাস্থলেই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

    তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলে ডুবে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে ডোমার-জলঢাকা সড়কে নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিমলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় খেলতে গিয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলে পড়ে যায় শিশু সিনহা আক্তার (৪)। তাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তার খালা পাখি আক্তার (১২)ও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করলেও তাদের মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহাজান ইসলাম (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, শাহাজান তার চাচা ও ফুফার সঙ্গে মোটরসাইকেলে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে গরুবোঝাই একটি নসিমন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তিনজন চাপা পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শাহাজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনায়ই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    নতুন বছর শুরু হতে এখনও প্রায় চার মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান কবে শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর কোন দিনে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে জর্ডান নিউজ।

    তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখে একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাজ্যের হিজরি ক্যালেন্ডারের ওয়েবসাইট স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস ২০২৭ সালের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়বে এবং আগামী বছর রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিনটি হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি সোমবার পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, যা ১৪৪৮ সালের শাবান মাসের ২৯ তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। এর ফলে হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসটি (৩০ দিন) পূর্ণ হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তা শেষ হবে। আর এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।

    এ ছাড়া ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রমজান মাস ২৯ দিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা আগামী বছরের ৮ মার্চ (সোমবার) শেষ হতে পারে। ফলে এর পরদিন ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন হতে পারে।

  • শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    সরকারের ১৮০ দিনের মতবিনিময়

    জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে প্রশাসনে আগের সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘মব কালচার’কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

    আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তারা।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনকে যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি দরকার। এসব কাজ শেষ করে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের দলীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসন সংস্কারের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়-এমনটাও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রশাসনকে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

    ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তারা পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা হবে।

    ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না

    অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ এটিকে অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের মব কালচার সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মব কালচার নেই বললেই চলে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে গেছে। দেশে আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচারও তত কমে আসবে।

    গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগোচ্ছে

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরবর্তী ধাপে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করার পর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম পর্যায়ের সময়টি নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসস্তূপ’ মেরামত করে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১ হাজার ৮২৫ দিনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিন ধ্বংসস্তূপ মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে। মেয়াদের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় নির্বাচন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

    প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জে ৪ প্রস্তাব জামায়াতের

    প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার প্রস্তাব করেছে দলটি।

    রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) কবে উৎপাদনে যাবে এবং এর ট্যারিফ কত হবে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা; জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা। পাশাপাশি কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাস আগেই সরকারকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল বিরোধী দল। এসব প্রস্তাব সরকারের টেবিলেই রয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন না করে সরকার বিরোধীদের নিয়ে নানা মন্তব্য করছে, যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

    ‘বিরোধীরা ১৭ বছর মাঠে ছিল না’—সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে দেখেননি। এতগুলো জীবন গেছে, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে—পুরো বিশ্ব তা দেখেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দেখেনি।

    তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত স্বচ্ছভাবে।

  • ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

    ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

    বিভিন্ন দাবিতে চার মহানগর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত লংমার্চ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে সোমবার বৈঠক করেছে ‘লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি’।

    সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    বৈঠকে লংমার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

    এর আগে গত ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ সহ ১১ দফা দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী চারটি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লংমার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লংমার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম, বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।

  • জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

    এদিন প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়। এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

    তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিনজন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি।

    এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।

    এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

    তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

    নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি।

    আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।

    এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা ৪টি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা।

    গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

  • ফেরেশতারা কেন শুধু আদমকে সিজদা করেছিলেন, হাওয়াকে নয়

    ফেরেশতারা কেন শুধু আদমকে সিজদা করেছিলেন, হাওয়াকে নয়

    সম্প্রতি এক অনলাইন অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি নোমান আলী খানকে প্রশ্ন করেন, মানুষ সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের কেন শুধু আদমকে (আ.) সিজদা করতে বলেছিলেন, হাওয়াকে (আ.) কেন সিজদা করতে বলেননি?

    নোমান আলী খান উত্তরে বলেন,

    আল্লাহ প্রথম প্রাণ সৃষ্টি করে তা আদমের ভেতরে ফুঁকে দেওয়ার ফয়সালা করেন। আর সেই প্রথম দেহটি সৃষ্টি করা হয়েছিল স্রষ্টার এক মহান সৃষ্টির মডেল হিসেবে, যা বস্তু আর রুহের এক অপূর্ব সমন্বয়।

    আমার দৃষ্টিতে এই ঘটনাটি এমন নয় যে ফেরেশতাদের কেবল আদমের সামনে সিজদা করতে বলা হয়েছিল, বরং তাঁর মধ্য দিয়ে যে অলৌকিক সৃষ্টি প্রকাশ পেয়েছিল, সেই অলৌকিকতার প্রতিই ছিল এই সিজদা। কোরআনে অলৌকিক নিদর্শনাদির ক্ষেত্রে সিজদার যে বিবরণ আসে, এটিও তেমনি একটি বিষয়।

    এই সিজদার মাধ্যমে গোটা মানবজাতি সম্মানিত হয়েছে। আদম হলেন প্রথম মানব, তিনি কেবল প্রথম পুরুষ নন। আদম, হাওয়া এবং তাঁদের পরবর্তী সব সন্তানকেই এই ঘটনার মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে।

    আজকের দিনে নারী ও পুরুষের সম্মানকে মুখোমুখি দাঁড় করানো বা লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিতে কোরআনকে বিচার করার এই মানসিকতা মূলত আধুনিককালের এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা থেকে এসেছে। কোরআন এই মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয় না, বরং সত্যকে ঠিক যেভাবে ঘটেছে সেভাবেই তুলে ধরে।

    কোরআন কিন্তু হাওয়াসহ (আ.) নারীদের ওপর থেকে ঐতিহাসিক কলঙ্ক দূর করেছে। বাইবেলে বলা হয়েছে হাওয়া আদমকে প্ররোচিত করেছিলেন নিষিদ্ধ ফল খেতে এবং সেই কারণে মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু কোরআন স্পষ্টভাবেই এই অপরাধের দায় উভয়ের ওপর সমানভাবে চাপিয়েছে, কিংবা কোনো কোনো স্থানে এককভাবে আদমের ওপর দায় দেওয়া হয়েছে।

    আমরা যখন ইবলিসের কথা ভাবি, তখন প্রশ্ন জাগে, আল্লাহর সরাসরি সান্নিধ্যে থেকেও কীভাবে কেউ এতটা ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতা দেখাতে পারে? আমরা সাধারণ মানুষ যেখানে তাঁর মহিমার কথা চিন্তা করলেই ভয়ে শিউরে উঠি, সেখানে ইবলিস কীভাবে এত দুঃসাহস পেল? সে কি আল্লাহর ভয় বা অনুভূতির জায়গাটি হারিয়ে ফেলেছিল?

    এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইবলিসের মনস্তত্ত্বের গভীরে। ইবলিসের নিজের সম্পর্কে একধরনের অহংবোধ ছিল। সে নিজেকে ফেরেশতা ও জিনদের চেয়ে আলাদা এবং সেরা মনে করত।

    যখন আদমকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হলো, ইবলিস দেখল ফেরেশতা ছাড়া অন্য কাউকে এই প্রথম এত সম্মানিত করা হচ্ছে। তখন সে অনুভব করল তার অনন্যতা আর রইল না, সে আর সবার ওপরে অনন্য মর্যাদার অধিকারী হয়ে নেই।

    যদিও তার পদমর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়নি বা আল্লাহর দরবার থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি, তাও সে নিজেকে আদমের সাথে তুলনা করা থেকে বিরত রাখতে পারল না। নিজের কল্পিত শ্রেষ্ঠত্ব আর অহংকার ধরে রাখার চাহিদা তার মধ্যে এতটাই প্রবল হয়ে উঠল যে, আল্লাহর নির্দেশও তার কাছে গৌণ হয়ে গেল।

    অহংকার এতটাই অন্ধ করে দিতে পারে যে তা সত্যকে ঢেকে ফেলে। আর যেহেতু আল্লাহর একটি নাম ‘আল-হক’ বা পরম সত্য, তাই সত্য দেখতে না পাওয়া অর্থ প্রকারান্তরে আল্লাহকেই অস্বীকার করা। যুগে যুগে এমন অনেক মানুষ দেখা যায়, যারা স্পষ্ট সত্য জানা সত্ত্বেও নিজেদের ভুল স্বীকার করে না, বরং নিজের অপরাধকে হাসিমুখে সঠিক বলে দাবি করে। ইবলিস মানুষের মাঝে এই অহংকার ও অন্ধত্ব ছড়াতে সফল।

    অনেকে মনে করেন, মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে আরবি ভাষার সহজ বোধগম্যতার কারণে সবাই কোরআন শুনেই বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই একই আরবরা কোরআন শুনেও ইসলাম গ্রহণ করেনি, বরং অনেকে আরও ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। তৎকালীন মুনাফিকরা, যারা আরবি ভাষায় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ছিল, তারাও কোরআনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।

    সুতরাং কোরআন সবার কাছ থেকে আরবি ভাষার ওপর ব্যুৎপত্তি আশা করে না। কিন্তু যা আশা করে তা হলো, মানুষ তার সাধ্যমতো এই কালামের সাথে যুক্ত থাকবে।

    আল্লাহ তাআলা যুগ যুগ ধরে এই বাণীকে মানুষের কাছে সহজ ও পৌঁছানোর উপযোগী করে রেখেছেন তাদের মাধ্যমে, যারা এতে বিশ্বাস করে। যাদের জ্ঞান কম, তারা জ্ঞানীদের কাছ থেকে শিখবে এভাবেই সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আল্লাহর কালাম বোঝার এক ধারাবাহিক যাত্রায় শামিল থাকবে। কারণ আল্লাহর বাণীতে বুৎপত্তি অর্জনের কোনো শেষ সীমা নেই; প্রত্যেকেই এই জানার যাত্রায় এক একজন অভিযাত্রী।

    সূত্র: নোমান আলী খানের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে।

  • জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

    জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

    বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

    এদিন আসামি কৌশিক দেবনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। তিনি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসচক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

  • কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধীনে অনুষ্ঠিত কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

    ফল পেতে শিক্ষার্থীদের http://result.iau.edu.bd/- এ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

    গত ৪ মে সারাদেশে একযোগে কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশে সব পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্র নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ইআবি কর্তৃপক্ষ। এ বছর পরীক্ষায় সারাদেশের মোট ৫১টি কেন্দ্রে আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এক বছর মেয়াদি কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত দিনে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৩ মে এ পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

  • আল-আকসায় দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতির প্রবেশ

    আল-আকসায় দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতির প্রবেশ

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরাইলি পুলিশের পাহারায় দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেছে।

    ১৯৬৭ সাল থেকে চলে আসা আন্তর্জাতিক ও ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী, অমুসলিমদের জন্য এই পবিত্র স্থানটিতে শুধু প্রবেশের অনুমতি থাকলেও যেকোনো ধরনের ধর্মীয় প্রার্থনা পরিচালনা করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

    ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেম দখল করার পর ইসরাইল অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করে নেয়, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি। আল-আকসা চত্বরটি বিশ্বের তিনটি প্রধান আব্রাহামীয় ধর্মের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পবিত্র স্থান।

    বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান, যার ভেতরে ঐতিহাসিক ডোম অব দ্য রক ও আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত। ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এখান থেকেই মহানবী (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মে এই স্থানটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলা হয় এবং তাদের প্রাচীন উপাসনালয়ের ঐতিহাসিক অবস্থানের কারণে এটি তাদের কাছেও সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য হয়।

  • বিবিসি : বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে

    বিবিসি : বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে

    বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি কাকে করা হবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা ছিল গত কয়েকমাস ধরে। ১৩ আগস্ট মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণার পর দলের মহাসচিবের পদটিও শূন্য হতে চলেছে।

    জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। যে কারণে তার শূন্য পদে আগামীতে কে হবেন বিএনপির মহাসচিব, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রথমে ভারপ্রাপ্ত তারপর কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় ১৬ বছর ধরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই পদে আসীন ছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

    তার এই পদে ভবিষ্যতে কে দায়িত্ব পালন করবেন, সেই প্রশ্নে দলের ভেতর কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েকজন নেতার নামই ঘুরেফিরে আসছে।

    তবে, বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কাউকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত বা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

    বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের স্থায়ী মহাসচিব নির্বাচিত হন জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে। তার আগে পর্যন্ত কোনো নেতা সাময়িকভাবে বা ভারপ্রাপ্ত হিসাবে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আছেন রুহুল কবির রিজভী, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনিই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হবেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলামের আলমগীরের স্থলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীর বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলেও পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কেউ।

    কেননা, এক্ষেত্রে রিজভী ছাড়াও আরো দুই তিনজনের নাম দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনায় শোনা গেছে। যদিও সে বিষয়গুলো নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড বা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এখনো আলোচনা হয়নি।

    বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে কিংবা সেই সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে কাউকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে আর আগ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভী দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। পার্টি যেটা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটার জন্যই অপেক্ষা করে আছি।’

    তবে বিএনপির নেতারা আভাস দিয়েছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা হলেও মহাসচিব কে হবেন, সেটা মূলত নির্ভর করবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপরে।

    দলের কয়েকটি সুত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তারপর দল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব যখন দেওয়া হবে, তখন এই পদে রুহুল কবির রিজভী থাকতেও পারেন বা তার পরিবর্ততে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়াও হতে পারে।

    রিজভী বলেন, ‘কখনো কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পদ দেওয়া হয়েছে, কখনো আবার আবার কাউন্সিল ছাড়াও মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটার সমস্ত ক্ষমতা দেওয়া আছে চেয়ারম্যানকে। এই দায়িত্ব কাউন্সিল থেকেই দেওয়া হয়েছে।’

    ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নানান চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে বিএনপির রাজনীতি। মাঠে থেকে যে রাজনীতিবিদ দলীয় দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পর ছিল রুহুল কবির রিজভীর নাম।

    সেই হিসেবে দলীয় কর্মী সমর্থক থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতাদেরও অনেকেই মনে করছেন, প্রাথমিকভাবে এই পদে রিজভীকেই মহাসচিব পদের জন্য তার নামটি সবচেয়ে এগিয়ে।

    যদিও বাংলাদেশের কোনো কোনো গণমাধ্যমের খবরে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ আরো কয়েকজন সিনিয়র নামও সম্ভাব্য হিসেবে সামনে আসছে। সেখানে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমদকে মন্ত্রণালয় বদলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মহাসচিব বা সাধারণ সম্পাদককে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেখা গেছে।

    বাংলাদেশের কোনো কোনো গণমাধ্যমে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসাবে দুই যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও এসেছে।

    তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম আমরা শুনি। কিন্তু পার্টির ভেতর তো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই যে নামগুলো আসে, নিউজগুলো আসে, নেতাকর্মীরা যা বলতে থাকে সেই পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যম বলে থাকে।’

    তিনি বলছিলেন, ‘মহাসচিব হওয়ার মতো যোগ্য তো অনেকেই আছেন। প্রশ্নটা হলো—নিয়ম অনুযায়ী আপাতত রুহুল কবির রিজভী হওয়ার কথা। প্রোটকল অনুযায়ী উনি আসছেন। যদি অন্য কিছু হয় সেটা পরের ব্যাপার।’

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়েছে। ২০ আগস্ট ভোট হবে। প্রাথমিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ২৪৭ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

    সংখ্যার এই ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা নেই। মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। এরপরও ভোটটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। তবে সেটি ফলাফলের চেয়ে অলি আহমদ কত ভোট পান, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকে কি না এবং দুই শিবিরের বাইরের সংসদ সদস্যরা কোন দিকে যান—এসব প্রশ্নকে ঘিরে।

    আজ রোববার রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ—দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাই। ফলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে। ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ; রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী তাঁরা ফাইল ছবি

    সংখ্যার চেয়ে ভোটের বিন্যাসে নজর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। ফলে আসনটি শূন্য রয়েছে।

    দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র; তাঁদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এই সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বাকি ১২টি ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের ভোট পেলে ক্ষমতাসীন দল তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দিতে পারবে।

    অলি আহমদের সামনে মূল লক্ষ্য তাই রাষ্ট্রপতি হওয়া নয়; নিজের জোটের ভোট অটুট রেখে এর বাইরে কতটি ভোট পাওয়া যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ভোট প্রকাশ্য, ৭০ অনুচ্ছেদে বিতর্ক

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটদাতা সদস্যের নাম ও আসন নম্বরও উল্লেখ করতে হয়। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১১ আগস্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

    জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি ফাইল ছবি

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এতে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন আইনি মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া বৈধ ভোট বাতিলেরও কোনো বিধান নেই।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আইনি ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দেবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছিল। ওই সংসদে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের সদস্য ছিলেন। মোট ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেননি। এবারের সংসদের প্রায় সব সদস্যই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—এই দুই রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত। ফলে বড় ধরনের ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা আরও কম।

    অলির প্রার্থিতায় রাজনৈতিক বার্তা

    অলি আহমদ শুধু একজন বিরোধী প্রার্থী নন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

    অর্থাৎ একসময়ে বিএনপির ঘরের মানুষ অলি আহমদ এখন বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতার এই প্রতীকী দিকটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে জোটটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেও অলি আহমদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিল জামায়াত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

    জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এসেছিল। ফলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তাঁকে প্রার্থী করা একদিকে সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিরোধী পক্ষের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা।

    জাতীয় নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলোর ঐক্য কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই ঐক্যের পরীক্ষা হবে। অলি আহমদ জোটের ৯০টি ভোটের সব কটি পেলে বিরোধীরা ঐক্যের বার্তা দিতে পারবে। ভোট কমে গেলে জোটের ভেতরের দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে থাকার সময়ে তিনি দলের কঠিন সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিনের একজন পরীক্ষিত নেতাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ভিন্ন ভূমিকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রায় নিশ্চিত হলেও ২০ আগস্টের ভোট তাই অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফখরুলের জয়ের চেয়ে অলি কত ভোট পেলেন, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকল কি না, দুই শিবিরের বাইরের ভোট কোন দিকে গেল এবং কোনো ভোট-বিচ্যুতি ঘটল কি না, ভোটের পরের রাজনীতিতে এসব প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে:পুরস্কৃত করল সৌদি

    মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে:পুরস্কৃত করল সৌদি

    যখন নেপালে একজন প্রতিবন্ধী মুসলিম ব্যক্তির একটি মসজিদ রক্ষার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে তার এই সাহসিকতার মুহূর্তটিই তাকে শেষ পর্যন্ত উমরাহ পালনের জন্য মক্কায় নিয়ে যাবে।

    ঘটনাটি জানুয়ারির শেষের দিকের, যখন ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পায়ে ভর দিয়ে, ক্রাচ ও লাঠি হাতে এক মুসলিম ব্যক্তি নেপালের রওতাহাট জেলার একটি মসজিদে হামলা ঠেকাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকের মুখোমুখি হয়েছেন।

    এই ভিডিওটি সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়, তখন থেকে সৌদি আরবের কয়েকজন এক্টিভিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী এই ভাইরাল ভিডিওর পেছনের মানুষটিকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।

    অবশেষে তাদের অনুসন্ধান সফল হয়, যা রামপুরের বাসিন্দা নেপালি শেখ রহেমুল্লাহর জন্য এক অবিস্মরণীয় যাত্রার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। তিনি কখনো ভাবেননি যে তিনি কখনো উমরাহ পালন করবেন এবং তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিত হবেন কিংবা এমন এক সাহায্যের প্রস্তাব পাবেন যা তার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

    ২০২৬ সালের ৫ই আগস্ট, মসজিদ রক্ষায় তার অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সৌদি দাতা ও আয়োজকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ৩২ বছর বয়সী রাহেমুল্লাহ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মক্কায় উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছান। মক্কায় অবস্থানকালে সৌদি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উপহার ও আন্তরিক আতিথেয়তায় স্বাগত জানান।

    রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের উদ্যোগের পাশাপাশি তার হারানো পায়ের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছে বাদার অ্যাসোসিয়েশন। ফলে সৌদি সফরটি শুধু ওমরাহ পালনের সুযোগই নয়, তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে।

    তার এক সঙ্গী আরব নিউজকে সৌদি আরবে এসে তার আনন্দ এবং যারা তার সাথে যোগাযোগ করেছেন সেই সৌদিদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান।

    ভারতের কেরালার তরুণ মুসলিম কনটেন্ট নির্মাতা মোহাম্মদ রাফি সৌদি আরবে রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সফরকালে তাদের সঙ্গ দেন। আরব নিউজকে তিনি বলেন, কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের সহযোগিতায় রাহেমুল্লাহ ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

    তিনি আরব নিউজকে বলেন: ‘প্রথমত আল্লাহর কৃপায় এবং তারপর বেশ কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের বদৌলতে, রহেমুল্লাহ উমরাহ পালন করতে পেরেছেন।

    ‘মক্কা ও মদিনায় তিনি এবং তার পরিবার যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি (খুবই) খুশি।’

    তিনি আরও বলেন: “আমি নিশ্চিত যে তিনি এই ভ্রমণটি কখনও ভুলবেন না। উমরাহ পালনের সময় তার আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়, এবং তার গল্পটি ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক, যা ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং বিশ্বাসের এক মূর্ত প্রতীক।

    রাফি বলেন, মক্কা ও মদিনায় পাওয়া আতিথেয়তায় রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। এই সফর তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও মন্তব্য করেন রাফি।

    তার ভাষায়, রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের আনন্দ ছিল বর্ণনাতীত। তার পুরো ঘটনাটি ধৈর্য, দৃঢ়তা ও ঈমানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    গত ১৪ আগস্ট রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার নেপালের উদ্দেশে সৌদি আরব ছাড়েন। সঙ্গে নিয়ে যান মক্কা-মদিনার স্মৃতি এবং সৌদি দাতা ও এই সফরের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

    একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দশম সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একীভূত হওয়া এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান। ব্যাংকটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, পরিচালক মো. খান সুবায়েল বিন রফিক, আসমা আখতার, কে এম জাকারিয়া, মোহাম্মদ আহসান হাবিব চৌধুরী ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাসেম, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং কোম্পানি সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. মনিরুল ইসলাম।

    সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং ব্যাংককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রস্তাবনাও পাস করা হয়।

  • কুরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যে ৬ ব্যক্তি

    কুরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যে ৬ ব্যক্তি

    ধর্ম ও জীবন

    মানুষ সাধারণত ধন-সম্পদ, সম্মান বা বৈষয়িক কোনো কিছু হারানোকে ‘ক্ষতি’ বলে মনে করে। ব্যবসায় লোকসান হলে বা পার্থিব কোনো সুযোগ হাতছাড়া হলে আমরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবি। কিন্তু পবিত্র কুরআনের মাপকাঠিতে প্রকৃত ক্ষতি এটি নয়। কুরআনের বিচারে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সে-ই, যে তার পরকালীন অনন্ত জীবনকে ধ্বংস করেছে, আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জন করেছে এবং জান্নাতের বদলে জাহান্নামকে নিজের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এমন কিছু ব্যক্তির পরিচয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, যারা দুনিয়া ও আখিরাতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। চলুন, কুরআনের আলোকে সেই ৬ শ্রেণির মানুষের পরিচয় জেনে নিই—

    কুরআনের আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ ব্যক্তির পরিচয়

    ১. আল্লাহর সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী

    যারা আল্লাহর সঙ্গে ইমানের অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, কুরআনে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ

    ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে; তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭)

    ২. শিরককারী বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপনকারী

    শিরক মানবজাতির সবচেয়ে বড় এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করে, সে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

    ‘(হে নবী!) যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করেন, তবে আপনার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ (সুরা যুমার: আয়াত ৬৫)

    ৩. আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী

    যারা অহংকারবশত আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত ও নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করে, আখেরাতে তাদের আমলের পাল্লা হালকা হয়ে যাবে এবং তারাই হবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُم بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ

    ‘আর যাদের (নেকির) পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি অবিচার (অস্বীকার) করত।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৯)

    ৪. পরকাল ও আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী

    যারা মনে করে এই দুনিয়ার জীবনই শেষ এবং মৃত্যুর পর আর কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, কুরআন তাদের সুস্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ

    ‘নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে।’ (সুরা আনআম: আয়াত ৩১)

    ৫. পরিবারকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তি

    যে ব্যক্তি নিজে তো আমল করেই না, বরং নিজের পরিবার ও সন্তানদেরও ইসলামের সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, কিয়ামতের দিন সে এক ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ

    ‘বলুন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলবে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’ (সুরা যুমার: আয়াত ১৫)

    ৬. ইমান, সৎকর্ম ও সত্যের পথ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি

    সময়ের কসম খেয়ে মহান আল্লাহ জানিয়েছেন, সব মানুষই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত, কেবল সেই ভাগ্যবানরা ছাড়া, যারা ৪টি গুণের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَالْعَصْرِ * إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ * إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

    ‘কালের (সময়ের) শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া— যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ (সুরা আসর: আয়াত ১-৩)

    কুরআনের এই আয়াতগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সফলতা ব্যাংক ব্যালেন্স বা দুনিয়াবি পদমর্যাদায় নয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সে-ই, যে তার ইমান হারিয়েছে, রবের অবাধ্য হয়েছে এবং আখিরাতকে ভুলে গেছে। পক্ষান্তরে, আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস, সৎকর্ম, মানুষকে সত্যের পথে ডাকা এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করাই হলো চূড়ান্ত সফলতার চাবিকাঠি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ৬ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে হেফাজত করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা দান করুন। আমিন।

  • মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার সকাল ছয়টার দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে।

    তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

    ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৬টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রিধিকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাই। বর্তমানে তার মা ও পরিবারের সদস্যরা থানায় আছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনের সঙ্গে রিধির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা নিচ্ছি।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিধির পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক ও মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

    মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধি। এর মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’, ‘সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য।

  • বিএনপির শূন্য মহাসচিব পদে কে আসছেন?

    বিএনপির শূন্য মহাসচিব পদে কে আসছেন?

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিব পদটি শূন্য হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ান। এতে এই পদ কাকে দিয়ে পূরণ করা হবে তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

    মহাসচিব পদে আসতে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই আগ্রহী। তারা ভেতরে ভেতরে লবিংও করছেন। তবে মহাসচিব বেছে নেওয়ার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই নিতে হবে।

    অতীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে যেভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন, সেই আদলে বর্তমানে রুহুল কবির রিজভীকে অনেকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে বিবেচনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে রিজভীকে শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিন চার নেতাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। তারা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ।

    এখন মহাসচিব পদটিতে তারেক রহমান কাকে বেছে নেন সেটি দেখার অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা। এই পদের দৌড়ে সিনিয়র নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার পক্ষে যায় তা পুরোপুরি নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

    রিজভী ছাড়াও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। দলের একটি অংশ চাচ্ছে স্থায়ী কমিটি থেকে কাউকে মহাসচিব করতে। তাদের যুক্তি এতে দলের ভারসাম্য রক্ষা হবে। আমির খসরু ও সালাহউদ্দিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদটি ফাঁকা হয়েছে। এই পদেও অন্তত তিনজন নেতা আলোচনায়। তারা হলেন—যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনজনই সাবেক ছাত্রনেতা।

    এদিকে এই সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ১৬ আগস্ট। অন্যদিকে, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন ২০ অথবা ২১ আগস্ট।

    দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হতে পারে। এ নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সর্বস্তরে আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তেমনি অস্থিরতা বিরাজ করছে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যেও। উভয়পক্ষই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাশালী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।

    আগ্রহীরা তদবির করছেন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে; আর বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন টিকে থাকতে।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বৃক্ষরোপণ,৩০ হাজার গাছলাগানোর লক্ষ্য

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বৃক্ষরোপণ,৩০ হাজার গাছলাগানোর লক্ষ্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ‘বাসযোগ্য দেশ চাইলে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই’—এই প্রতিপাদ্য ও আহ্বানের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুল সংলগ্ন জমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

    কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আমির মো: রুহুল আমিন।

    এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: রুহুল আমিন বলেন, আমাদের চুয়াডাঙ্গায় শীত যেমন তীব্র, তেমনি গরমের দিনেও আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করে, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে। নিজের জন্মভূমিকে এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে।

    পরিবেশ রক্ষায় এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৩০ হাজার বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সামাজিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় থেকেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    উদ্বোধনী দিনেই সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাদের টব এবং বাসাবাড়ির আঙিনায় ২০০টি বিভিন্ন জাতের ফলদ, বনজ ও ওষুধি চারা রোপণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সহকারী জেলা সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সমাজকল্যাণ সভাপতি আব্দুল কাদের, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, আইন বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, সদর উপজেলা আমির মাওলানা বেলাল হুসাইন এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর শাখার আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    এ,আর,

  • খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া

    খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বাদ জোহর আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন- এ কামনা করা হয়।

    এছাড়া দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, সার্বভৌমত্ব ও কল্যাণ এবং বাংলাদেশের মানুষের সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    দোয়া ও মোনাজাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইমাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    মোনাজাত পরিচালনায় বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মহিউদ্দিন কাসেম বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত, কবরের শান্তি এবং পরকালীন জীবনে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত কামনা করেন। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও দোয়া করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।

  • বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধীদলের এমপিদের আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জামায়াত নেতাদের

    বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেন, যে রক্তের ওপর দিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রক্তের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার আল- ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। চাঁদাবাজি ও লুটপাটের কারণে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।

    জামায়াতের হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অঞ্চল পরিচালক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মেধা যাচাই, গ্রুপ ডিসকাশন, দারসুল কুরআন ও দারসুল হাদিসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

  • ভারতে ১৭ দিন পানি ও বিদ্যুৎহীন  ৫০০ মুসলিম পরিবার

    ভারতে ১৭ দিন পানি ও বিদ্যুৎহীন ৫০০ মুসলিম পরিবার

    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বৈষম্য আরও বেড়েছে বলেও । গত ১৭ দিন ধরে কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় বন্ধ রয়েছে সুপেয় পানি সরবরাহ। ল্যাম্পপোস্টেও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।

    কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে দেখা দিয়েছে এই নাগরিক দুর্ভোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার সিংহভাগ বাসিন্দা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। একাধিকবার কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।

    জানা গেছে, জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর। নিম্নবিত্ত শ্রেণির হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কিছু ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

    তবে এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। যদিও তারা বারবার ক্ষমতাসীন বিজেপি ও দলটির কট্টরপন্থি অংশের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। সমস্যা সমাধানের আশায় বিজেপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েও তেমন কোনো সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাদের। তবে কিছু ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

    জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় ৫০০ সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে। তাদের কেউ ৫০-৬০ বছর, আবার কেউ ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। গত ১৭ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকেই কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি গঙ্গায় পড়ায় সেই পানি গোসল ও রান্নার কাজে ব্যবহার করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বাসিন্দাদের দাবি, কলোনিতে থাকা পাঁচটি পানির কলের সরবরাহ বন্ধ করে মূলত বস্তি উচ্ছেদের ফন্দি আঁটছে সিটি কর্পোরেশন। তবে এ বিষয়ে কলকাতার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। বিজেপি নেতৃত্বও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, সংখ্যালঘুরা তাকে ভোট দেননি। তাই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কোনো কাজ করবেন না। বিধায়কের এমন বক্তব্য স্থানীয়দের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • ঘরে বসেই অবসরের টাকাপাবেন শিক্ষকরা; প্রধানমন্ত্রী

    ঘরে বসেই অবসরের টাকাপাবেন শিক্ষকরা; প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ঘরে বসেই জানতে পারবেন টাকা জমা হয়েছে কিনা।এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা আমরা একটা ভিডিওতে দেখেছি। আগে ঘুস দিয়ে ভাতার টাকা নিতে হতো। আজ যত সহজে শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, আগে এত সহজ ছিল না।’ এখন তারা ঘরে বসেই ম্যাসেজ পেয়ে যাবেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাট করে অবসরের দুটি বোর্ড পঙ্গু করে গেছে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসর ভাতার ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই, বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা দেওয়া হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও আপনারা এখনো শিক্ষক। আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য।’

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • সেনাবাহিনীতে ধর্মভীরুতা:কর্নেল মো. শাহজাহান মোল্লা, পিএসসি (অব.)

    সেনাবাহিনীতে ধর্মভীরুতা:কর্নেল মো. শাহজাহান মোল্লা, পিএসসি (অব.)

    একটা কথা দুর্মুখেরা প্রায়ই বলে থাকেন যে সামরিক বাহিনী দিন দিন ধর্মীয় বলয়ে ঢুকছে। কেউ মৌলবাদের গন্ধ ও খোঁজার চেষ্টা করেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে সেনাসদস্যরা বেশির ভাগ মুসলিম পরিবার থেকেই আসে। তাদের স্বাভাবিক ধর্মকর্মের চর্চা স্বাভাবিক। তারপরও ইলেকট্রনিক যুগে যেকোনো তথ্যের কাছে দ্রুত পৌঁছা উৎসাহব্যঞ্জক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আদান-প্রদান তথ্যপ্রবাহকে করেছে আরো গতিময়। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘকাল থেকে উপলব্ধি করেছি সেনাসদস্যরা আগের চেয়ে বর্তমানে ধর্মচর্চার ব্যাপারে আরো আগ্রহী হওয়ার কারণ কী?

    সামরিক বাহিনীতে যোগদানকারী একজন তরুণ প্রথমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দেশসেবার আদর্শ নিয়ে প্রবেশ করে। কিন্তু কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে যখন সে জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে শপথগ্রহণ করে, তখন তার জীবনের দর্শনই বদলে যায়। সে উপলব্ধি করে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে। এই উপলব্ধি মানুষকে অহংকারী নয়, বরং বিনয়ী করে। আর বিনয় থেকেই জন্ম নেয় সৃষ্টিকর্তার প্রতি নির্ভরতা।

    আমার কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে মাঠপর্যায়ে, দুর্গম এলাকায় এবং অপারেশনাল পরিবেশে। বিশেষ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী একজন সেনাসদস্য প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটান। কখন, কোথায়, কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক প্রিয় সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, অনেককে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করতে এবং অসংখ্য পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা বহন করতে দেখেছি। এমন বাস্তবতার মধ্যে একজন সৈনিকের সৃষ্টিকর্তার স্মরণে শান্তি খোঁজা খুবই স্বাভাবিক।

    অনেকে মনে করেন, সেনাসদস্যদের ধর্মচর্চা বুঝি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চাপের ফল। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পূর্ণ ভিন্ন। দুর্গম পাহাড়ের নির্জন ক্যাম্পে দিনের অপারেশন শেষে বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। সে সময় অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ পড়েন, নামাজ আদায় করেন বা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করেন। এটি আদেশের কারণে নয়; বরং মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের একটি ব্যক্তিগত উপায়।

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং দায়িত্বপূর্ণ পরিবেশ একজন সৈনিককে আরো আত্মনিয়ন্ত্রিত করে তোলে। সেখানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলাবোধকে আরো দৃঢ় করে।

    একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা দরকার। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী কোনো একটি ধর্মের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সংবিধানের প্রতি অনুগত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন ধর্মের সদস্য একসঙ্গে কাজ করেন, একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন, একসঙ্গে দেশের জন্য জীবন বাজি রাখেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার ভোগ করেন এবং সহকর্মীর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিও সমান শ্রদ্ধাশীল থাকেন। এই পারস্পরিক সম্মানই বাহিনীর শক্তির অন্যতম ভিত্তি।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাপ্রধানের দাড়ি রাখা বা কোনো সেনাসদস্যের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্রুপ করতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনকে রাজনৈতিক বা বিদ্বেষমূলক বিতর্কে টেনে আনা সমীচীন নয়। একজন সৈনিকের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার সততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে—তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের ভিত্তিতে নয়।

    আমার বিশ্বাস, মৃত্যুর ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে গভীরভাবে উপলব্ধি করে। একজন সৈনিক যখন সীমান্তে, পাহাড়ে বা শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের পতাকা বুকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার কাছে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস—এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক।

    এ কারণেই আমার কাছে সেনাসদস্যদের ধর্মীয় অনুশীলন কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়। এটি তাদের পেশাগত বাস্তবতা, আত্মিক শক্তি, নৈতিক চেতনা এবং দায়িত্ববোধের স্বাভাবিক প্রকাশ।

    লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পদাতিক কর্মকর্তা

  • যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, যশোর আয়োজিত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এই হাসপাতালটি শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় পড়ে আছে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অচিরেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হবে। করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পর যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছিলেন। আজকে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের বৃহৎ একটি অংশ তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছিল।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে, তখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্তরে ফ্যাসিস্টকে লালন করে। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে।

    প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজকে জমি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করারও ঘোষণা দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ অনেকে।

    তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৫০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

  • বিয়ে গোপনে নয়, প্রকাশ্যে

    বিয়ে গোপনে নয়, প্রকাশ্যে

    বিয়ে শুধু দুটি মানুষের সহাবস্থানের নাম নয়; এটি দুটি আত্মার আস্থার সেতুবন্ধ, দুটি পরিবারের মিলন, দুটি বংশধারার ধারক এবং একটি সভ্যসমাজের নৈতিক ভিত্তি। তাই ইসলাম বিয়েকে নিছক ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মর্যাদা এবং আল্লাহপ্রদত্ত এক পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে সম্পন্ন করে দাও। আর তোমাদের সৎ দাস-দাসীদেরও। তারা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আন-নূর : ৩২) এই আয়াত শুধু বিয়ের অনুমতি দেয় না; বরং সমাজকে বিয়ে সম্পন্ন করার দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ বিয়ে এমন একটি বিষয়, যা সমাজের জ্ঞাতসারে, মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কাম্য।সুন্নাহর আলোকে বিয়ের স্বচ্ছতা

    ইসলাম বিয়েকে শুধু বৈধ সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি; বরং এমনভাবে সম্পন্ন করার শিক্ষা দিয়েছে, যাতে সমাজে এর বৈধতা সুস্পষ্ট হয়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ওয়ালিমাকে সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওয়ালিমা শুধু আপ্যায়নের আয়োজন নয়; এটি নতুন দাম্পত্য জীবনের সামাজিক স্বীকৃতির এক সুন্দর ঘোষণা। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে।

    ১. ওয়ালিমার নির্দেশ

    আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.)-এর বিয়ের সংবাদ শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন—‘ওয়ালিমা করো, যদিও একটি ছাগল দিয়েও হয়।’ (বুখারি : ৫১৬৭) ওয়ালিমার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সমাজকে জানিয়ে দেওয়া যে এই বিয়েটি বৈধ ও স্বীকৃত। তাই এ হাদিস পরোক্ষভাবে বিয়েকে গোপন না রেখে প্রকাশ করার দিকনির্দেশনা দেয়।

    ২. রাসুল (সা.)-এর ওয়ালিমার আমল

    নবী (সা.) জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ের পর ওয়ালিমার আয়োজন করেছিলেন এবং সাহাবিদের আহ্বান করেছিলেন। আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে জয়নব (রা.)-এর বিয়ে যত বড় ওয়ালিমা করেছিলেন, অন্য কারো ক্ষেত্রে তত বড় করেননি। তিনি একটি ছাগল দিয়ে ওয়ালিমা করেছিলেন।’ (বুখারি : ৫১৬৮)

    নবী (সা.)-এর এই আমল প্রমাণ করে যে বিয়েকে সামাজিকভাবে পরিচিত করা সুন্নাহ। এছাড়া বিয়ে ঘোষণা করা এবং মসজিদে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বিয়ের প্রচার-প্রচারণা হয়। মানুষ কুধারণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব আমলও ছিল বিয়েকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা।

    ৩. সাক্ষীহীন গোপন বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয়

    সাক্ষী ছাড়া বা শরয়ি বিধান উপেক্ষা করে গোপনে তথাকথিত বিয়ে করা ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে নেই।’ (বায়হাকি)

    সাহাবায়ে কেরামের আমল

    হাসান আল বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এক নারীকে বিয়ে করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখেন। তিনি গোপনে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এক ব্যক্তি তাকে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়। পরে বিষয়টি ওমর (রা.)-এর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

    ওমর (রা.) ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি সামান্য কিছু মোহরের বিনিময়ে এই নারীকে বিয়ে করেছি এবং বিষয়টি গোপন রেখেছি।’ ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের এই বিয়েতে কে সাক্ষী ছিল?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘কনের পরিবারের কিছু লোক সাক্ষী ছিল।’ তখন ওমর (রা.) অপবাদদাতার ওপর থেকে অপবাদের শাস্তি মওকুফ করে দিয়ে বলেন, ‘তোমরা এই বিয়ের ঘোষণা ও প্রচার করো এবং এর মাধ্যমে নিজেদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করো।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ)

    ইমাম মালেক (রহ.) বর্ণনা করেন, ওমর (রা.)-এর কাছে এমন একটি বিয়ের ঘটনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে সাক্ষী ছিলেন মাত্র একজন পুরুষ ও একজন নারী এবং বিয়েটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর ওমর (রা.) বলেন, ‘এটি একটি গোপন বিয়ে এবং আমি এর অনুমতি দিই না। আমি যদি এই বিয়ের বিষয়ে আগে জানতে পারতাম, তবে অবশ্যই তাদের পাথর ছুড়ে মারতাম (ব্যভিচারের শাস্তি দিতাম)।’ (মুয়াত্তা মালেক)

    উভয় ঘটনাই বিয়ে গোপন রাখার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে। প্রথম ঘটনায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়েকে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপবাদ ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। দ্বিতীয় ঘটনায় এমন গোপন বিয়ের কঠোর নিন্দা করা হয়েছে, যেখানে বিয়ের স্বচ্ছতা ও যথাযথ সাক্ষ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ছিল। কেননা সাক্ষী যদি একজন পুরুষ থাকে, তাহলে কমপক্ষে আরো দুজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে।

    ইজমা ও ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি

    ফকিহরা একমত যে, সাক্ষী ছাড়া বিয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। চার মাজহাবই সাক্ষীর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন, যদিও কিছু শর্তে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম মালিক (রহ.) বিশেষভাবে এমন গোপন বিয়ের সমালোচনা করেছেন, যেখানে সাক্ষীদেরও বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। তার মতে, এতে বিয়ের সামাজিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং ফিতনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ইসলামি আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য (মাকাসিদুশ শরিয়াহ) হলো—বংশধারা সংরক্ষণ, সম্মান রক্ষা এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তাই বিয়ের প্রকাশ্যতা এই উদ্দেশ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    চার মাজহাবের দৃষ্টিতে গোপন বিয়ে

    হানাফি মাজহাব : হানাফি ফকিহদের মতে, দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিয়ে বৈধ। তবে সাক্ষীদের উপস্থিতি সত্ত্বেও বিয়েকে অযথা গোপন রাখা সুন্নাহর পরিপন্থী এবং সামাজিকভাবে অপছন্দনীয়। কারণ ওয়ালিমা ও ই’লান (ঘোষণা) বিয়েকে পরিচিত করে এবং ভবিষ্যতের বিরোধ ও অপবাদের পথ বন্ধ করে। ইমাম আল-কাসানী (রহ.) বলেন, সাক্ষীর বিধান নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিয়েকে জিনা থেকে পৃথক করা এবং মানুষের কাছে তা সুস্পষ্ট করা। (হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ)

    মালিকি মাজহাব : মালিকি মাজহাবে গোপন বিয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান দেখা যায়। যদি স্বামী, স্ত্রী এবং সাক্ষীদের বলা হয় যে, ‘তোমরা এই বিয়ে গোপন রাখবে’, তবে ইমাম মালিক (রহ.) এটিকে নিকাহুস-সির (গোপন বিয়ে) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এমন বিয়েকে বাতিল করার মতও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে।

    ইবনু আবদুল বার (রহ.) বলেন, ‘যে বিয়ে গোপন রাখার শর্তে সম্পন্ন হয়, সেটিই নিকাহুস-সির; মালিক (রহ.) এটিকে বৈধ মনে করতেন না।’ (আল মুদাওওয়ানুল কুবরা, দ্বিতীয় খণ্ড, ইবনু আবদুল বার)

    শাফেয়ি মাজহাব : ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে বৈধ। তবে বিয়ের ঘোষণা (ই’লান) ও ওয়ালিমা সুন্নাহ এবং সমাজে বিয়েকে পরিচিত করার উত্তম মাধ্যম। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘সাক্ষী উপস্থিত থাকলে বিয়ে শুদ্ধ হবে; তবে ওয়ালিমা ও বিয়ের প্রচার সুন্নাহ।’ (মাজমু শারহুল মুহাজজাবা, ইমাম নববি)

    হাম্বলি মাজহাব : ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহ.)-এর মতে, সাক্ষী ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি বিয়েকে প্রকাশ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং ওয়ালিমাকে সুন্নাহ হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। ইবনু কুদামাহ (রহ.) লিখেছেন, ‘বিয়ের উদ্দেশ্যগুলোর একটি হলো বংশ সংরক্ষণ এবং মানুষকে এ সম্পর্ক সম্পর্কে অবহিত করা; এজন্য সাক্ষী ও ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।’ (মুগনি, ইবনু কুদামাহ, কিতাবুন নিকাহ)

    সমসাময়িক বাস্তবতা : কেন বাড়ছে গোপন বিয়ে

    প্রযুক্তিনির্ভর এ সময়ে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজে যোগাযোগ করতে পারছে; কিন্তু সম্পর্কের স্বচ্ছতা অনেক ক্ষেত্রেই কমে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন পরিচয় এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনধারা অনেক তরুণ-তরুণীকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বিয়েকে পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে গোপন রাখাই নিরাপদ বলে মনে হয়। কেউ পারিবারিক অসম্মতির ভয়ে, কেউ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায়, আবার কেউ দ্বিতীয় বিয়ে আড়াল করার উদ্দেশ্যে এই পথ বেছে নেন।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, গোপন বিয়ে খুব কম ক্ষেত্রেই দীর্ঘ মেয়াদে কল্যাণ বয়ে আনে। যখন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করা হয়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন স্ত্রী ও সন্তান। স্ত্রীর ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং সন্তানের বৈধ পরিচয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক অপবাদ, পারিবারিক বিরোধ এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইও দেখা দেয়। ইসলামের উদ্দেশ্য এসব সংকট সৃষ্টি করা নয়; বরং প্রতিরোধ করা।

    শরিয়তের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য (মাকাসিদুশ শরিয়াহ) হলো—ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ এবং বংশধারা রক্ষা করা। বিয়েকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এই উদ্দেশ্যগুলোর অন্তত দুটি—বংশধারা ও সম্মান—সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রকাশ্য বিয়ে শুধু একটি ধর্মীয় সুন্নাহ নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদারও অনিবার্য শর্ত।

    আজ আমাদের সমাজের প্রয়োজন এমন একটি বিয়ে-সংস্কৃতি, যেখানে পারিবারিক সম্মতি, আইনগত নিবন্ধন, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং সামাজিক স্বীকৃতি একসঙ্গে নিশ্চিত হবে। কারণ বিয়ে শুধু দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব, একটি নৈতিক অঙ্গীকার এবং একটি প্রজন্ম নির্মাণের ভিত্তি।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে আজ পর্যন্ত ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।

    এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৯৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

  • তেহরান ও ইসলামাবাদের স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা: পেজেশকিয়ান

    তেহরান ও ইসলামাবাদের স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা: পেজেশকিয়ান

    ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের স্বাধীনতার ৭৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অভিনন্দন বার্তায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইরান ও পাকিস্তান এই দুই জাতির অভিন্ন স্বার্থ ও ভাগ্য আগের চেয়েও বেশি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এই বাস্তবতা নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে দ্বিগুণ করে তুলেছে।

    ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে সম্বোধন করে এই উপলক্ষটিকে পাকিস্তানের মহান জাতির অর্জনসমূহকে স্মরণ করার একটি মূল্যবান সুযোগ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও কৌশলগত সম্পর্ককে গভীর করার পথে একটি নতুন সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, নিঃসন্দেহে, দুই দেশের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সভ্যতামূলক এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উজ্জ্বলতর দিগন্ত উন্মোচনের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ। ইরান ও পাকিস্তান- এই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও ভাগ্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এই বাস্তবতা তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতর সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

    এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করার দৃঢ় সংকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে এবং পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার আলোকে এবং বিদ্যমান ব্যাপক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ও দুই জাতির অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষিত করতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

  • নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন কে?

    নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন কে?

    বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে নির্ধারিত শপথ নিতে হবে।

    ধারণা করা হচ্ছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি ডেপুটি স্পিকার পালন করেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করায় বর্তমানে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের ওপর রয়েছে।

    অন্যদিকে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তৃতীয় তফশিলে উল্লেখিত কোনো পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত শপথ নিতে হয়। এসব পদে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব সংবিধানে নির্ধারিত রয়েছে।

    এই সাংবিধানিক কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের ওপরই পড়বে।

    কারণ, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেই কারণে সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার।

  • কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমানদের পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। একসময় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে জুমার দিন মসজিদে জায়গা না হলে রাস্তায় নামাজ পড়তেন অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এখন সরাসরি মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও সামনে আসছে। এর জেরে শুক্রবার কলকাতা ও সংলগ্ন বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। আজানের ধ্বনি না পৌঁছানোয় বহু মুসল্লি ঠিকমতো নামাজেও যোগ দিতে পারেননি। সব মিলিয়ে চারদিকে এক অজানা আতঙ্ক ও হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    এদিন কলকাতার পার্ক সার্কাসের এক ইমামের কণ্ঠে এই করুণ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। চরম অসহায়তার সুরে তিনি বলেন, ‘মাইক কেড়ে নিয়ে আমাদের ওপর নানাভাবে জুলুম করা হচ্ছে। আমরা সব সহ্য করব, কারণ আমাদের আর কিছু করার নেই। শনিবার (১৫ আগস্ট) আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, সবাই নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করুন। না হলে এই সরকার মুসলমানদের গায়ে খুব সহজেই দেশদ্রোহীর তকমা সেঁটে দেবে।’ তার এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, রাজ্যের মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে কতটা ভীতির সঞ্চার হয়েছে।এরইমধ্যে মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার এই বিতর্কিত বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ ছাড়াই শুধু মৌখিক নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চের পুরোনো রায়ের প্রসঙ্গ টেনে সব মসজিদে পুনরায় মাইক লাগানোর অনুমতির আবেদন জানান। পাশাপাশি, ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে কেন এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি জানান, শুধু হুগলির চাঁপদানি থেকেই অন্তত ১০০টি মসজিদের পক্ষ থেকে এমন আবেদন আসতে পারে।

    অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) আদালতে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক খোলার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং কোন পুলিশ কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দিয়েছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নাম মামলাকারী দিতে পারেননি। এ ছাড়া, ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ উঠলেও কোনো ইমাম নিজে থেকে এগিয়ে এসে মামলা করেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এএজি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হোক।

    পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান, ঠিক কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহারের শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    এই তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে গত সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকার কোনো নতুন আইন আনছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশিকাই কার্যকর করছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ধর্মীয় স্থান বলতে মন্দির ও মসজিদ—উভয়ই বোঝায় এবং সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ ও ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক খোলা হয়েছে।

    কিন্তু সরকারের এই পরিসংখ্যানে বিন্দুমাত্র আশ্বস্ত হতে পারছেন না সংখ্যালঘু সমাজ। তারা জানান, এই পদক্ষেপ আসলে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার একটি সুকৌশলী প্রয়াস মাত্র। সব মিলিয়ে এক দমবন্ধ করা ভয়ের আবহে শনিবার স্বাধীনতা দিবস পালন করতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা।

  • বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম

    বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় এক বাংলাদেশি আলেম

    হাদিস শরিফের সংরক্ষণ মুসলিম উম্মাহর অনন্য বৈশিষ্ট্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই লিখিতভাবে হাদিস সংরক্ষণের চর্চা থাকলেও হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে গ্রন্থাকারে কিতাব সংকলনের জোয়ার শুরু হয়। তৃতীয় শতাব্দীতেই কুতুবে সিত্তাহ (যা সিহাহ সিত্তাহ নামে প্রসিদ্ধ) বা হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়। সেসবের মধ্যে ‘জামে তিরমিজি’ অনন্য উচ্চতায় সমাসীন। ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরা তিরমিজি (রহ.) [২০৯-২৭৯ হি.] সংকলিত এই গ্রন্থটি রচনাকাল থেকেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও পঠিত হতে থাকে।

    ব্যাপক সমাদৃত এই গ্রন্থটির একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হলেও গুণগত মানে আরো সমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা সুধীমহলে অনুভূত হচ্ছিল । দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে বাংলাদেশি আলেম বিদগ্ধ মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল মতীন [জন্ম ১৯৬৪ খ্রি.] ২৫ বছরের দীর্ঘ সাধনায় আরবি ভাষায় ১৭ খণ্ডে জামে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন; নাম ‘কিফায়াতুল মুগতাজি ফি শরহি জামিয়িত তিরমিজি’। ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে রুচিশীল ও সমাদৃত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুয়াসসাসা ইলমিয়্যা বাংলাদেশ থেকে। চলতি বছরেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পূর্ণতা পায়।গত ৫ আগস্ট ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা সম্পন্ন হয়, যেখানে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক গবেষণার অপূর্ব সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থটিকে আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক হাদিস গবেষকরা এক যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নুমানি বলেন, “ইমাম তিরমিজি তাঁর ‘জামে তিরমিজি’ গ্রন্থে শুধু হাদিস সংকলনই করেননি; বরং ফকিহদের মতপার্থক্য, দলিলের বিশ্লেষণ এবং ফিকহি আলোচনাকেও অনন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। মাওলানা আব্দুল মতিন দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির সমন্বয়ে তিনি একটি উচ্চমানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন।”

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিফায়াতুল মুগতাজি শুধু একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়; এটি হাদিস পাঠদান, গবেষণা এবং দরস পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল।’ তার মতে, এই গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ আলেমদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ ও গবেষক ফকিহ মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, ‘তিরমিজি শরিফের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইতিহাসের নানা পর্যায়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেকে গেছে। কিন্তু ‘কিফায়াতুল মুগতাজি’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হাদিসের ধারাবাহিক ও বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এতে সালাফে সালেহিনের মানহাজ, মতভিন্নতার শিষ্টাচার এবং গবেষণার ভারসাম্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গ্রন্থ হাদিস গবেষণার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করবে।

    কিফায়াতুল মুগতাজির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা তাহমিদুল মাওলা বলেন, ‘গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা-মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের আদলে ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।’

  • মক্কার সামরিক জোট কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হয়ে উঠবে?

    মক্কার সামরিক জোট কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হয়ে উঠবে?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক চুক্তি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অন্যের থেকে আলাদা। ফলে তাদের এই জোটকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    চুক্তিটির প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র শহর মক্কায় এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে অনেকের কাছে এটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার বার্তা বহন করছে।

    তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে চুক্তির একটি শর্ত নিয়ে। এতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে এই শর্তের মিল রয়েছে।

    তাই কেউ কেউ এই জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলছেন। তবে এই জোট বাস্তবে ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক কাঠামো হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

    তিন দেশের শক্তি এক জায়গায়

    সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে তুরস্ক এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। তাদের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও উন্নত।

    অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা। দেশটি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে থাকে। তুরস্ক থেকেও তারা ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কিনছে।

    পাকিস্তান আবার পরমাণু শক্তিধর দেশ। দেশটির সেনাবাহিনী চীনা সামরিক সরঞ্জামও ব্যবহার করে।

    এই তিন ধরনের সক্ষমতার সমন্বয়ই নতুন জোটটিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে কে কীভাবে অবদান রাখবে, তা নিয়েও দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    ইরান ও ইসরাইলকে ঠেকানোর হিসাব?

    নতুন জোটটি কি একই সঙ্গে ইরান ও ইসরাইলকে প্রতিরোধের একটি উদ্যোগ—এ প্রশ্নও উঠেছে।

    গাজায় সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ রয়েছে।

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার দেশগুলোকে কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন। তবে জোটের নেতারা বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এর লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব গত বছর যে সামরিক চুক্তি করেছিল, এবারের চুক্তিকে তারই বিস্তৃত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সৌদি আরবের কৌশল

    সৌদি আরব এই জোটের কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আরব উপসাগর, অন্যদিকে লোহিত সাগর। দীর্ঘ সমুদ্রসীমা দেশটিকে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে।

    অর্থনৈতিক শক্তির কারণে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশকে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    তবে ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোট তৈরি করতে সময় লাগবে। শুধু চুক্তি করলেই একটি সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না।

    সৌদিতে হামলা হলে কী করবে পাকিস্তান-তুরস্ক?

    এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একটি দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশ সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ তিন দেশই আগে থেকে ভিন্ন ভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

    তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান চীনের সামরিক সরঞ্জামের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

    অতীতে সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের অবস্থান ছিল সতর্ক। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের যুদ্ধে পাকিস্তান সেনা ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিলেও সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সহায়তা দেয়নি।

    ইরান যখন সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছিল, তখনও পাকিস্তান সৌদির পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে যায়নি। এর একটি কারণ ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত রয়েছে।

    এ কারণে নতুন জোটের কার্যকারিতা কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তব কোনো হামলার পর দেশগুলোর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

    আগেও ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ার চেষ্টা হয়েছিল

    সৌদি আরব এর আগেও এমন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

    বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সৌদি আরবের উদ্যোগে ৩০টির বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে নিয়ে ‘ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এর লক্ষ্য ছিল আন্তদেশীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা। সৌদি আরবে সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণে ‘নর্থ থান্ডার’ নামে বড় সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    তখন মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা এই জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু পরে এর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান হয়নি।

    এবারের উদ্যোগের পার্থক্য হলো, এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত শক্তি—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক—একসঙ্গে রয়েছে।

    তবে মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এমন কোনো স্পষ্ট শর্ত নেই যে সৌদি আরবে হামলা হলে পাকিস্তান ও তুরস্ককে অবশ্যই সেনা পাঠাতে হবে।

    ফলে জোটটি কতটা কার্যকর, তা বোঝার জন্য ভবিষ্যতের কোনো সংকটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

    পাকিস্তানের জন্য ভারসাম্যের পরীক্ষা

    এই জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    একদিকে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে—এমন একটি সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে। এ কারণে ইরানের কাছে পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আছে।

    আবার মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও পাকিস্তানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশটি ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি করে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    তাই ইসলামাবাদকে একই সঙ্গে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে।

    এই কারণে জোটের নেতারা বারবার বলছেন, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলালে পাকিস্তানের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত, চীন ও ইরানের নজরও থাকবে

    নতুন জোটের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এশিয়ার কয়েকটি দেশও এর দিকে নজর রাখছে।

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে গত কয়েক মাসে একাধিকবার সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানে হামলা হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক কী করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    ভারতের সঙ্গেও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নতুন জোটের সদস্যরা কী ভূমিকা নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সৌদি আরব ও তুরস্ক সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে না গেলেও পাকিস্তানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বা অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

    এর সঙ্গে ভারতের ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখায় স্বাক্ষর করেছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের কাছ থেকেও যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নজরদারি প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

    ফলে নতুন জোটকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের জোটে থাকা যেমন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তেমনি সৌদি আরবের অংশগ্রহণ ইরানের জন্য এবং তুরস্কের অংশগ্রহণ গ্রিসের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

    ন্যাটোর মতো জোট হতে কতটা সময় লাগবে?

    সব মিলিয়ে মক্কায় স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    তবে এর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। তিন দেশের সামরিক বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক প্রযুক্তি কীভাবে ভাগ করে নেয় এবং কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরা বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়—এসবই হবে মূল পরীক্ষা।

    ভবিষ্যতে মিসর বা কাতারের মতো দেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হলে জোটটির পরিসর আরো বাড়তে পারে। তখন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামটি আরো জোরালোভাবে আলোচনায় আসবে।

    কিন্তু আপাতত এটি একটি সম্ভাবনাময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হতে হলে এর সামনে এখনো অনেক পথ বাকি।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, মহিলাদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ। মিরপুর পৌরসভার দারুস ছালাম একাডেমির উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী মহিলাদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে একটি তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলের শেষের দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরও ৪-৫ জন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে প্রবেশ করেন। পরে তারা নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • তৃণমূলের থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    তৃণমূলের থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রনেতা, কর্মজীবনে অর্থনীতির শিক্ষক। পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও এগিয়েছেন তিনি।

    ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়।

    ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার পর তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।

    ১৯৮৮ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদ বিরোধী দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন।

    দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে তিনি বিএনপির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেন তিনি। তবে, দেশজুড়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

    বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে বিএনপি তীব্র দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

    পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে চলে যান এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করতে থাকেন।

    এমন এক পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামই দেশে থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলনের মূল কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনবার কারাবরণ করেন তিনি।

    ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে টানা এ দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতৃত্ব অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপির মহাসচিব হন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন পেশায় আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের দুইবারের সদস্য এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তবে তার রাজনীতির শেকড় গড়ে উঠেছিল ছাত্রজীবনেই। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

    বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দলের নীতি-নির্ধারণ ও সার্বিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কঠিন সময়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদে তার আসনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পাশেই। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, দলের চরম সংকটে দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সম্মানিত করা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম পারিবারিক জীবনকেন্দ্রিক এক ব্যক্তিত্ব। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাঁর পরিবার। তার স্ত্রী বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বর্তমানে তিনি অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। রাষ্ট্রপতি পদে তার এ মনোনয়ন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।