ইসলামী বিশ্ব

  • রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

    রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

    মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল।

    মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ড. আব্দুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মনোনয়নপত্র গ্রহণকালে সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

    সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

    তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

    এর আগে ১১ জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করেন রবিউল ইসলাম। প্রতিদিন মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে ফার্মগেট যান তিনি। কিন্তু ভিড়ের কারণে নাকাল হতে হয়। কোনো কারণে ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হলে বাস বা অন্য বাহনে যেতে ব্যাপক ঝক্কি পোহাতে হয়।

    রবিউল ইসলাম বলেন, ফার্মগেটে মেট্রোরেলে নেমেই পূর্ব রাজাবাজার তাঁর বাসা। এর চেয়ে সহজ যাতায়াত আর নেই। শেষ দিকে ট্রেন কিংবা চলাচলের সময় বাড়ানো হলে তিনিসহ সব যাত্রীরই উপকার হবে।

    রবিউলের কথার সঙ্গে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের হিসাবেরও মিল আছে। গত ৭ জুন থেকে রাতে মেট্রোরেলের চলাচল উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শেষের ট্রেনটি ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে চলাচল করে। ফলে ভিড় হচ্ছে প্রচুর। দুটি ট্রেন বাড়ানোর পর যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে ১০ হাজারের মতো। এই পরিস্থিতিতে আরও দুটি ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শেষ দিকেই বাড়তি দুটি ট্রেনের চলাচল শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে এখন শেষ ট্রেনের মাঝখানে যে ২০ মিনিটের বিরতি আছে, তা কমে ৭ থেকে ৮ মিনিটে নেমে আসবে।

    ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা আছে। সে ক্ষেত্রে রাত ১১টায় শেষ ট্রেন চলাচল করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে সময় বাড়াতে হলে ট্রেনের চালক (অপারেটর) বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের এখন প্রশিক্ষণ চলছে। ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এরপর তাদের দিয়ে ট্রেন চালানো শুরু হবে। এ ছাড়া রাতে সময় বাড়ালে রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ কীভাবে করা হবে, সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    বর্তমানে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার পথে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে রাতের সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে ৯টা ৫০ মিনিটে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি করে ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলেও প্রকল্প নেওয়ার সময় অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে তা হয়নি। এখন পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

    অনুমান অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী যাওয়ার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সাড়ে চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন দিনে যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে যাওয়ার কথা।

    ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

    ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। ট্রেন বাড়লে দুই ট্রেনের বিরতিও কমে আসবে। আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

  • কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। বুধবার (১২ আগস্ট ) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আজগর এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদ্রাসার স্কাউট সদস্যরা অতিথিদের এবং দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আলী আজগর বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষাই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে তাদের আরও বেশি অধ্যবসায়ী হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, আশরাফুল আলম হেলাল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ,বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে

    শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    পরে দাখিল পরীক্ষায় বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

    জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়া দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আনন্দঘন একটি মিলনমেলা। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করা হয়।

  • বিয়ে পবিত্র ইবাদত

    বিয়ে পবিত্র ইবাদত

    ইসলামে বিয়ে হলো একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সম্মানজনক চুক্তি। মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে সুরক্ষা এবং পারিবারিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তাআলা বিবাহ ব্যবস্থাকে হালাল ও সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন। সুন্নাহ তরিকায়, সঠিক নিয়ত ও শরীয়তসম্মত নিয়মে সম্পন্ন বিয়েই কেবল বরকতপূর্ণ হয়।

    ১. বিয়ে ইসলামে কেন এত গুরত্বপূর্ণ?

    ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    কুরআনের ঘোষণা:

    আর কিভাবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, অথচ তোমরা একে অন্যের সাথে মিলিত হয়েছো এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। (সূরা নিসা: ২১)

    এটি প্রমাণ করে বিয়ে কোনো সাধারণ চুক্তি নয়; বরং আল্লাহর সামনে করা এক পবিত্র অঙ্গীকার।

    রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন:

    “বিয়ে করা আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে অপছন্দ করে, সে আমার উম্মত নয়। (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬)

    অতএব, বিয়ে করা শুধু বৈধই নয় বরং নবী (সা.) এর সুন্নাহ পালন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    ২. সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন ইসলামের দৃষ্টিতে

    দুনিয়ার মানুষ সাধারণত সৌন্দর্য, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু ইসলাম মানুষের অন্তরের গুণকে গুরুত্ব দেয়।

    রাসূল (সা.) বলেন:

    একজন নারীকে সাধারণত চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয় তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য এবং দ্বীন। তুমি দ্বীনদার নারীকে গ্রহণ করো। (সহিহ বুখারি: ৫০৯০। সহিহ মুসলিম: ১৪৬৬)

    এই হাদিস আমাদের শেখায় দ্বীন ও চরিত্রই হলো টেকসই সুখের মূল চাবিকাঠি।

    ৩. অভিভাবকের অনুমতি (ওলি) অপরিহার্য শর্ত

    ইসলামে নারীর বিয়েতে ওলির অনুমতি বাধ্যতামূলক।

    রাসূল (সা.) বলেন:

    ওলির অনুমতি ছাড়া কোনো নারী বিবাহ করতে পারে না। (আবু দাউদ: ২০৮৫। তিরমিজি: ১১০১)

    অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সম্পন্ন বিয়ে শরীয়তসম্মত নয় এবং এতে বরকতও থাকে না।

    ৪. বিয়েতে সাক্ষীর গুরুত্ব

    নিকাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষী আবশ্যক।

    রাসূল (সা.) বলেন:

    ওলি ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো নিকাহই সম্পন্ন নয়। (বায়হাকি: ১৬৩৬)

    ৫. মোহর নারীর সম্মান ও অধিকার

    মোহর হলো স্ত্রীর শরীয়তসম্মত অধিকার, যা স্বামীকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।

    কুরআন বলে:

    তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর স্বেচ্ছায় দিয়ে দাও। (সূরা নিসা: ৪)

    মোহর কম বা বেশি হতে পারে, তবে তা অবহেলা করা জুলুমের শামিল।

    ৬. নিকাহর খুতবা (খুতবাতুন্নিকাহ্)

    রাসূল (সা.) নিকাহর সময় যে খুতবা পাঠ করতেন, তা আজও সুন্নাহ হিসেবে প্রচলিত।

    কুরআনের আয়াতসমূহ:

    ১। সূরা আলে ইমরান: ১০২

    ২। সূরা নিসা: ১

    ৩। সূরা আহযাব: ৭০-৭১

    এই খুতবার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা, তাকওয়ার নির্দেশ ও রাসূল (সা.) এর সাক্ষ্য উচ্চারিত হয়।

    ৭. সুন্নতি পদ্ধতিতে কবুল

    নিকাহর সময় ওলি বলেন:

    আমি তোমাকে আমার কন্যা অমুককে মোহর অমুকের বিনিময়ে বিবাহ দিলাম।

    বর বলেন:

    আমি কবুল করলাম।

    এই সরল ও স্পষ্ট কবুলই সুন্নাহ তরিকাহ।

    ৮. বিয়ের পর দোয়া

    রাসূল (সা.) দোয়া করতেন:

    বারাকা আল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামা‘আ বাইনা কুমা ফী খায়র।

    (তিরমিযি: ১০৯১)

    অর্থ:

    আল্লাহ তোমাদের জীবনে বরকত দিন এবং তোমাদের সম্পর্ক কল্যাণের উপর স্থাপন করুন।

    ৯. বিয়েতে ইসলাম যেগুলো বারণ করেছে

    ইসলাম সহজ ও বরকতময় বিয়ে চায়। তাই নিষিদ্ধ করেছে

    ১। যৌতুক

    ২। অহংকার

    ৩। অপব্যয়

    ৪। বেহায়াপনা

    ৫। গান-বাজনা

    ৬। ছবি ও ভিডিও প্রদর্শন

    কুরআনের সতর্কবাণী:

    নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।

    (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)

  • রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৬,৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

    রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৬,৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

    চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৭,৩০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩,০০০টি মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা রয়েছে। এসকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।

    সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে গঠিত সেলের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্দা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এ সম্মানী ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন হতে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাসমূহের মধ্য হতে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড হতে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড হতে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড হতে দুইটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। এছাড়া, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড হতে ছয়টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হতে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে যার মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি হতে দুইটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি হতে একটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। তবে, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।

    এ কার্যক্রমের অধীনে নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক তিন হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেম মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানী পান। সম্মানীর এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।

    মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থবছের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবে।

    উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয় হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানী দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের একমাস না পেরোতেই চলতি বছরের ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

  • মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    রংপুরের মানুষের ভোটের পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা।

    আজ বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ অন্য নেতারা।

    এটিএম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে। তিনি বলেন, কোন দলকে ভোট দেওয়া হবে, তা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

    রংপুরের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান এটিএম আজম খান।

    সমাবেশ থেকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের ১১ এমপি।

    উল্লেখ্য, রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৯ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি, যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

  • জাহান্নাম নিয়ে বক্তব্য দেয়ায়  মসজিদ বন্ধ করল ফ্রান্সের আদালত

    জাহান্নাম নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় মসজিদ বন্ধ করল ফ্রান্সের আদালত

    ফ্রান্সের একটি মসজিদ ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে দেশটির আদালত। মামলাটি ইসলামি বিশ্বাস ও উপাসনার ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্যারিসের কাছে অলনে-সু-বোয়া এলাকার শঁতেলুপ মসজিদ বন্ধের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মঁত্রেয়িল প্রশাসনিক আদালত।

    শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, জুলাইয়ে জারি করা আদেশ অনুযায়ী মসজিদটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

    মসজিদটির পক্ষে আইনি লড়াই করা মানবাধিকার আইনজীবী রফিক শেক্কাত এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগের একটি অংশ মসজিদের ইমামদের ধর্মীয় বক্তব্যে কোরআনের সাতটি আয়াত এবং ইসলামি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

    শেক্কাতের দাবি, উদ্ধৃত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সিরীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইমাম আন নববীর রচনাও রয়েছে। তার প্রশ্ন, ফ্রান্সে ইমামরা ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় কোরআনের আয়াত কিংবা ইসলামি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার স্বাধীনতা রাখেন কি না।

    তিনি জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রক্ষায় তারা দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্টেট কাউন্সিলে আপিল করবেন।

    ফরাসি কর্তৃপক্ষ অবশ্য মসজিদটির কিছু ধর্মীয় বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে। এসব বক্তব্যে ‘অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নাম’ এবং ‘কবরের শাস্তি’র মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

    তবে সমালোচকদের দাবি, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও এ ধরনের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হলেও মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

    আদালত বলেছে, সেন-সাঁ-দেনি বিভাগের প্রিফেক্ট জুলিয়েন শার্ল মসজিদটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে উপাসনার স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কোনো গুরুতর ও স্পষ্ট অবৈধ লঙ্ঘন করেননি।

    রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে শেক্কাত বলেন, সিদ্ধান্তটি ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। স্টেট কাউন্সিল বিষয়টি আরো গভীর আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারকর্মী সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফ্রান্সের মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    সিএআইআর বলেছে, কোনো সরকারেরই কোনো ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পাঠ বা উদ্ধৃত করার কারণে গির্জা, সিনাগগ, মসজিদ কিংবা অন্য কোনো উপাসনালয় বন্ধ করার অধিকার নেই। কোরআন পাঠ বা ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে মসজিদ বন্ধ করাকে তারা ধর্মীয় বৈষম্য ও নিপীড়ন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ফ্রান্সে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটিতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ইসলামকে চরমপন্থি উলে উল্লেখ করে এটি মোকাবেলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ফ্রান্স অন্তত ৭৩টি মসজিদ ও বেসরকারি ইসলামিক স্কুল বন্ধ করে দেয়।

    এর আগের হেরাল্ড এলাকার একটি মসজিদ ও একটি বেসরকারি স্কুল এবং অন্যান্য অঞ্চলের একটি ‘সংস্থা’ ও নয়টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

  • পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোন যুদ্ধজাহাজও নেই- ইরান

    পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোন যুদ্ধজাহাজও নেই- ইরান

    পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চরম পতন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি। তিনি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধের পূর্বে এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করলেও বর্তমানে পারস্য উপসাগরে কোনো আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ নেই।

    ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি বলেছেন, রমজান যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলে আমেরিকার ৩০ থেকে ৪০টি যুদ্ধজাহাজ ছিল, কিন্তু আজ পারস্য উপসাগরে একটি আমেরিকান যুদ্ধজাহাজও নেই।

    তিনি আরো বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারো কোনো হুমকি আসে, তবে লাখ লাখ মাইলজুড়ে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, হাজার হাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি সমস্ত আমেরিকান ও নন-আমেরিকান সিস্টেম এবং এমনকি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত বৈশ্বিক অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    কমান্ডার মোহেব্বি বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তি একই সাথে একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার উপর ভিত্তি করে গঠিত এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে তাদের অস্ত্র সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনা প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়া ও চীনের মোকাবেলায় আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তারা দুজনই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে শান্ত ও চমক বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। দুপুর ১টা ২০ এর দিকে তারা পানিতে তলিয়ে যান। বিষয়টি অন্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে পুকুরে নেমে পড়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর চমককে উদ্ধার করতে পারলেও অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে লেগে যায় প্রায় ৪০ মিনিট।উদ্ধার পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর দুই সপ্তাহ আগে, ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। সে ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই আবারও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালযয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে, একের পর এক পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।

  • মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা; উভয় স্থান থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।

    এমন অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।

  • কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, ইসলামী সংগীত, ফুল ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সিকৃবি শাখা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট শহরের টি.বি গেট সংলগ্ন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সিকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত-এর সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ কনকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আল্লাহর দেয়া একটি বড় নিয়ামত, তাই এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জবাবদিহিতার কথাও মনে রাখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু উপরিভাগে কাজ করলে চলবে না, বরং ‘ডিপ ওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিং থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মনোযোগী হতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থ-সম্পদই প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়; আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সফলতা আসে।’

    ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, র‍্যাগিং ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মেন্টরিং ও অধিকার নিশ্চিত করা। রাজনীতি করা বা না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়—আমাদের এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।’

    বক্তব্য শেষে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রশ্নের জবাব দেন।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ টিপু। এছাড়া ‘চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিন হোসাইন জুয়েল।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু এবং সিকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি এবং মহানগর অফিস সম্পাদক কলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সাবেক নেতারা।

    সবশেষে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাখা সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

  • আপন ভাই-বোনকে কি জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে

    আপন ভাই-বোনকে কি জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত বা হকদার কারা, তার মধ্যে গরিব ও অভাবী আত্মীয়-স্বজনরা অন্যতম। নিজের ভাই-বোন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন,অর্থাৎ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন এবং জাকাত নেওয়ার মতো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়—একটি সওয়াব আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার, অন্যটি জাকাত আদায়ের।

    তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, ভাই-বোন যেন আসলেই অভাবগ্রস্ত হন এবং আপনার প্রত্যক্ষ বা আইনগত ভরণপোষণের দায়িত্বে না থাকেন, তবেই তাদের জাকাত দেওয়া যাবে। নিজের ওপর নির্ভরশীল ভাই-বোনকে জাকাতের টাকা দেওয়া যায় না, কারণ তাদের ভরণপোষণ করা এমনিতেই আপনার দায়িত্ব।আপন ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয়দের জাকাত দেওয়া এবং এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা নিচে কোরআন ও হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো:

    পবিত্র কোরআনে জাকাতের হকদার বা যাদের এই অর্থ দেওয়া যাবে, তাদের আটটি খাতের কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরিব ও অভাবী আত্মীয়-স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    আল্লাহ তাআলা সুরা আত-তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘সদকা (জাকাত) তো কেবল ফকির (অভাবী), মিসকিন (অসহায়), জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্তাকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য এবং তা দাসমুক্তিতে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের (অসহায় অভিযাত্রী) জন্য নির্ধারিত—আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অবধারিত বিধান।’

    এই আয়াতে বর্ণিত ‘ফকির’ ও ‘মিসকিন’ খাতের আওতায় সমাজের অন্যান্য গরিব মানুষের পাশাপাশি নিজের রক্তসম্পর্কের দরিদ্র ভাই-বোন ও নিকটাত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত।

    হাদিসে নিকটাত্মীয়দের জাকাত বা সদকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ গরিবকে দেওয়ার চেয়ে দ্বিগুণ সওয়াবের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও অর্জিত হয়।

    নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সাধারণ গরিবকে সদকা দিলে একটি সদকার সওয়াব হয়, আর আত্মীয়কে দিলে দুটি সওয়াবের সওয়াব হয়—একটি হলো সদকার সওয়াব, অপরটি হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব।’ (সুনান আত-তিরমিজি: ৬৫৮, সুনান আন-নাসায়ী: ২৫৮১)

    ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, যার ওপর আপনার ভরণপোষণ আইনগত বা শরিয়তসম্মতভাবে ফরজ (যেমন: আপনার স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা এবং দাদা-দাদি বা নাতি-নাতনি), তাদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ তাদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা আপনার নিয়মিত দায়িত্ব।

    কিন্তু ভাই-বোন যদি আপনার সরাসরি পোষ্য বা আপনার ওপর নির্ভরশীল না হন (অর্থাৎ তারা আলাদা পরিবার বা স্বাধীনভাবে চলেন এবং অভাবগ্রস্ত হন), তবে তাদের জাকাত দেওয়া সম্পূর্ণরূপে জায়েজ এবং অধিক সওয়াবের কাজ। এমনকি অনেক ফকিহ ও আলেমদের মতে, নিজের ভাই-বোন যদি প্রকৃত অর্থেই জাকাতের উপযুক্ত হন, তবে অন্য গরিবকে না দিয়ে তাদের জাকাত দেওয়া আরও বেশি উত্তম।

  • কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ায় নারীদের কোরআন মাহফিলে হামলার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে হামলা, নারীদের লাঞ্ছিত ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার মহিলা বিভাগ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর পৌরসভার দারুস সালাম একাডেমিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী। এ সময় সংগঠনটির মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত মাসব্যাপী নারীদের গণসংযোগ ও দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়ারা নতুনপাড়া গ্রামে মো. সোহেলের বাড়িতে তালিমুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, মাহফিলের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক মাস্টারের নেতৃত্বে এলেম, মোহাম্মদ ফারুক, রুবেলসহ আরো চার-পাঁচজন ব্যক্তি বাড়ির প্রাচীর টপকে মাহফিলে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নারীদের সাথে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন এবং কয়েকজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মহিলা বিভাগের নেত্রী বলেন, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

    তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

  • জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    জন্মনিবন্ধনের কথা বলে হোটেলে এসআই, সকালে মিলল ঝুলন্ত লাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক এসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৮) ও ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান ফাতেয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিলেক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইনে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।

    হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন আমিনুল ইসলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকেল ও রাতে তারা দুবার কক্ষের বাইরে বের হন। এরপর রাতে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা চিৎকার শোনা যায়নি।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার তাদের কক্ষের দরজায় একাধিকবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কক্ষের ভেতর থেকে স্ত্রী তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এ সময় খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ভেতরে ১০ মাস বয়সী শিশুটিও ছিল।

    হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, রোববার দুপুরে তারা কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে দুবার বাইরে বের হন। এরপর রাতে আমি নিজের কক্ষে চলে যাই। কোনো ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সকালে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাই।

    মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একই কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে তারা হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্তানের জন্মনিবন্ধন করানোর কথা বলে স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমিনুল। অথচ বাড়ির পাশের বাজারের একটি হোটেলে গিয়ে কেন তারা রাত কাটালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    চুয়াডাঙ্গায় ফার্ম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্রয়লার খামারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রাম থেকে রাজাবুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্রয়লার মুরগির খামারি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

    সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ খামারে অবস্থানকালে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বাড়ির পাশের নিজের ব্রয়লার মুরগির খামারে পাহারার জন্য অবস্থান করছিলেন রাজাবুল। রাত আনুমানিক ২টা ৩৩ মিনিটে তিনি মেসেঞ্জারে স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খামারে আসতে এবং আশপাশে কেউ আছে কি না তা দেখতে অনুরোধ করেন।

    বার্তায় রাজাবুল জানান, তিনি ভয় পাচ্ছেন এবং খামারের আশপাশে লোকজনের ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তার স্ত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে ওই সময় তিনি বার্তাটি দেখতে পাননি।

    সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখতে পান রাজাবুলের স্ত্রী। পরে তিনি দ্রুত খামারে গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা সেখানে গিয়ে রাজাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরনের কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাজাবুলের সন্ধান পাননি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের পর ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রাজাবুলের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং নিখোঁজের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

    সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম। আর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনৈতিক কাজের অনুমোদন দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

    ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে এসব অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে বলেও দুদকে পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, পাল্টা জবাব জামায়াতের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তাঁর এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে এলজিইডির একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাবিবুল ইসলাম হাবিব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

    তাঁর দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি ব্যালটে ২০০ থেকে ৩০০ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট বানিয়ে ভোট কাটা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

    এ ছাড়া মুড়ির প্যাকেট ও বাদামের মধ্যে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে দরিদ্র মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করে ভোটে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেন তিনি।

    হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান। ১০ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি।

    প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান একজন ‘মজলুম জননেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা’। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অতীতের একটি ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র। জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মাওলানা কামারুজ্জামান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে জনগণের সমর্থন অর্জন বা পরিবর্তন করা যায় না। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    এদিকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এর জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিপু। তিনি দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং একজন ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

  • জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না’: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি

    জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না’: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিতি বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    এর আগে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।

    বৈঠকে অংশ নেয় জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

    সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, ‘আমি ১১ দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক হিসেবে যোগ্য, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ নাই। শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না। আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।’

    এদিকে বৈঠকের আলোচনায় বিএনপি সরকারের নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থান, গণভোটের রায়, জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে একটি নতুন ফর্মুলার প্রস্তাবও এসেছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংশোধন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গা থেকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছিলো।

    ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। গণভোটে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে—প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে—তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে এবং এর মাধ্যমে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে; এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা।

    ‘কিন্তু আমরা দেখেছি, এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই তারা নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ হয়নি, অধিবেশন ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগও উঠেছে; নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।’

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর চুপুকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করে দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে হবে এবং তা জুলাই সনদ অনুযায়ী করতে হবে। কিন্তু তারা তাকে ছয় মাস রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখে দিয়েছে। এখন তাকে কোনো ধরনের বিচারের আওতায় না এনে একটি ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়টিও আমাদের কাছে সন্দেহজনক। এই ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, সেটিও আমাদের ভাবতে হচ্ছে। কারণ আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে এবং তখন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জাতির মধ্যে একটি সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপির অতীত ইতিহাসেও আমরা দেখেছি, তারা বিভিন্ন সময় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে এবং এর ফলে দেশে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এসব দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ও আমাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

    অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই ১১ দলের পক্ষ থেকে আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

  • শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কোন শ্রেণির আত্মীয়, জানালেন আহমাদুল্লাহ

    শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কোন শ্রেণির আত্মীয়, জানালেন আহমাদুল্লাহ

    আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা মানে রক্ত ও বৈবাহিক সূত্রে যাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে, সম্পর্ক অনুযায়ী তাদের খোঁজ-খবর রাখা, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, বিপদ-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের নিন্দা করা হয়েছে।

    মুমিনের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। আল্লাহ জ্ঞানী মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তা অটুট রাখে এবং তাদের রবকে ভয় করে, আর মন্দ হিসাবের আশঙ্কা করে। (সুরা রা’দ: ২১)একটি ভিডিওতে ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন,

    ১. প্রথম শ্রেণির আত্মীয়: এই শ্রেণিতে রয়েছেন বাপের দিকের আত্মীয়রা, যাদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছেন—বাবা, চাচা, দাদা, ফুফু, ভাই, বোন, সন্তান-সন্ততি এবং মা।

    ২. দ্বিতীয় শ্রেণির আত্মীয়: যারা রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় কিন্তু সরাসরি সম্পদের ভাগ পান না। এর মধ্যে রয়েছেন—মামা, নানা, নানি এবং খালা। যেহেতু মায়ের রক্ত আপনার শরীরে আছে, তাই মায়ের ভাই-বোনদের সঙ্গে আপনার রক্তের সম্পর্ক বিদ্যমান।

    ৩. তৃতীয় শ্রেণির আত্মীয়: এই শ্রেণিতে পড়ে শ্বশুরবাড়ি বা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি হওয়া আত্মীয়তা। সাধারণত এদের সঙ্গে সরাসরি রক্তের সম্পর্ক থাকে না।

  • সিএনএনের বিশ্লেষণ

    সিএনএনের বিশ্লেষণ

    মুসলিম সামরিক হেভিওয়েটদের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা সৌদি আরবের দিকে এগিয়ে আসায় মুসলিম বিশ্বের দুটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিকে পাশে টেনে নিয়েছে দেশটি। শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে তুরস্ক ও পাকিস্তানও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। সৌদি আরবের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতার পাশাপাশি নতুন একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাকাঠামো তৈরি করবে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি, আর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।

    তবে তিন দেশই জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট বা ধর্মীয় বিভাজন তৈরির উদ্যোগ নয়। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোকেও এতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সীমান্ত থাকায় দুই দেশই যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরান ও তার মিত্রদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    চুক্তির বিষয়ে তেহরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের একতরফা নির্ভরতাও সৌদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চুক্তি ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা হলে সংঘাত আরো বিস্তৃত হয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকেও যুদ্ধে টেনে আনতে পারে।

  • পাঁচটি বিষয় জীবনে বাস্তবায়ন করলে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে: আল্লামা নোমানী

    পাঁচটি বিষয় জীবনে বাস্তবায়ন করলে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে: আল্লামা নোমানী

    দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, পরিপূর্ণ মুমিন হতে হলে হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া জরুরি।

    শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার পূর্বের বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।বয়ানের শুরুতে আল্লামা নোমানী হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন, ‘কে আছো যারা আমার কাছ থেকে কিছু বিষয় গ্রহণ করবে, তা নিজেরা আমল করবে অথবা অন্যদের শেখাবে?’

    তখন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি প্রস্তুত আছি হে আল্লাহর রাসুল।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর হাত ধরে পাঁচটি বিষয় শিক্ষা দেন।

    আল্লামা নোমানী বলেন, প্রথমত, হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এতে মানুষ বড় ইবাদতগুজার হতে পারে। আল্লাহ তাআলা কিছু বিষয় হালাল করেছেন এবং কিছু বিষয় হারাম করেছেন। তাই জীবনের সবক্ষেত্রে হারাম থেকে দূরে থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    তিনি বলেন, কোনো কাজ করা অনেক সময় সহজ হলেও কোনো নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা কঠিন। তাই হারাম বর্জনকে রাসুলুল্লাহ (স.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

    দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা যে রিজিক দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এতে মানুষ প্রকৃত ধনী হতে পারে। বাহ্যিক সম্পদের চেয়ে অন্তরের তৃপ্তিই প্রকৃত সম্পদ।

    তৃতীয়ত, প্রতিবেশীর হক আদায় করতে হবে। প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যার আচরণ থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে পূর্ণ মুমিন হতে পারে না।

    চতুর্থত, অন্যের জন্য সেই বিষয়ই পছন্দ করতে হবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করা হয়। অন্যের সুবিধা-অসুবিধা, সুখ-কষ্ট ও পছন্দ-অপছন্দের প্রতি খেয়াল রাখা একজন প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।

    তিনি বলেন, মানুষের হাত ও জবান থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকবে- এটাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। কোনো কথা বা কাজের মাধ্যমে অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    পঞ্চমত, অতিরিক্ত হাসি থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, বেশি হাসি অন্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশায় সময় নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির ও আত্মশুদ্ধির কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত।

    আল্লামা নোমানী বলেন, হাদিসে বর্ণিত এই পাঁচটি বিষয় জীবনে বাস্তবায়ন করলে একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন ও উত্তম মুসলিম হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি

    রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে মনোনয়ন পেলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

    রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী আমীরের বাসায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—এমডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

    এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    জুলাই সনদ গণমানুষের মুক্তির সনদ- ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি

    চৌগাছা (যশোর)

    শতশত ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যে মুক্তির জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ আন্দোলন করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ চৌগাছা উপজেলার স্বর্পরাজপুর আরিফা সুলতানা মহিলা মাদ্রাসার সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন এদেশে এগিয়ে নিতে একদল সৎ এবং দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। সভায় আরো বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম, ড. মাহবুবুর রহমান, ম্ওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা রওশন জামিল প্রমুখ।

  • বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে চোরাই গরু, যুবদলকর্মী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে যুবদলকর্মী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে চোরাই গরু রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকেও আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় যুবদলকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম।

    আটক শরিফুল ইসলাম প্রধান একই এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর উপজেলার একজনের গরু চুরি হয়। ঘটনাটি মৌখিকভাবে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। এরমধ্যে ওই এলাকায় চুরি করা গরু প্রবেশের গোপন খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে যুবদলকর্মী শরিফুলের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, “আমরা চাই, তিনি যেই হোক না কেনো অপরাধীর বিচার হোক। দল অপরাধী তৈরি করে না। অপরাধীরা দলে মিশে থাকে। সেক্ষেত্রে তার দায় দল বা সংগঠনের ওপর বর্তায় না।”

    যুবদলের নাম ব্যবহার করে তার ছবির ব্যানার সম্পর্কে এই যুবদল নেতা বলেন, “বিভিন্নভাবে তারা নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে সেগুলো নানাভাবে ব্যবহার করে অপরাধ করেন। সবাইকে তো আর আইডেন্টিফাই করা যায় না। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার পর কেউ তো তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

    পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, “গরুচোর শরিফুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার দলীয় কোনো পরিচয় রয়েছে কি না জানা নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরিফুলের থেকে এই চক্রে জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। যাচাই করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    তিনি বলেন, “দুটি গরুর একটির মালিকের সন্ধান আমরা পেয়েছি। তার থেকে মামলা নেওয়া হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • আঞ্চলিক বিভক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

    আঞ্চলিক বিভক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সংলাপ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে ইরানের সার্বভৌমত্ব বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেনি তিনি।

    ইরানের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভাজন প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

    তার প্রশাসন দেশের নেতৃত্বকে আলোচনায় রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন পেজেশকিয়ান।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান মুসলিম দেশগুলোকে ভাই হিসেবে দেখে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কেন একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    ইরানি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে একত্রিত করতে চাইছে, আর তেহরান তা প্রতিরোধের জন্য কাজ করছে

  • উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াবেন না: জামায়াত আমির

    উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াবেন না: জামায়াত আমির

    উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা না ছড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইল আইডিইবি ভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগের উদ্যোগে মতবিরোধ নয়, ‘ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় ওলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, বর্তমান সমাজে সত্য কথা বললে বাধা আসেবেই তবে সে বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ বিনির্মানে জামায়াত ইসলাম কোন জালিমের সাথে আপোস করবে না বলেও জানান তিনি।

    এরআগে মিন্টোরোডে সরকারি বাস ভবনে জুলাই নিয়ে প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষ জামায়াত আমির অভিযোগ করেন ক্ষমতায় এসে সংস্কারের প্রতিশ্রুত ভুলে গেছে বিএনপি।

  • কর্মবিমুখ জীবন ইসলাম অনুমোদন করে না

    কর্মবিমুখ জীবন ইসলাম অনুমোদন করে না

    মুসলমানের জন্য অলস বসে থাকা এবং জীবিকার অনুসন্ধান থেকে বিমুখ হওয়া বৈধ নয়। চাই সেটা ইবাদতের নামে হোক বা তাওয়াক্কুলের নামে হোক।

    কেননা আসমান থেকে স্বর্ণ-রৌপ্য বর্ষিত হয় না। যে মুসলমান নিজে এতটুকু অর্থ উপার্জনে সক্ষম, যা দিয়ে তার নিজের ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব, তার জন্য দান-সদকার ওপর নির্ভরশীল হওয়াও বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ধনী ব্যক্তির জন্য ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য জাকাত গ্রহণ করা বৈধ নয়।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৬৩৪)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন এবং মুসলমানের জন্য হারাম করেছেন তার একটি হলো ভিক্ষাবৃত্তি। ভিক্ষাবৃত্তি ও মানুষের কাছে হাত পাতলে ব্যক্তির সম্মান, মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যায়। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে মানুষের কাছে চায় সে যেন জ্বলন্ত অঙ্গার আহরণ করে।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ২৪৪৬)

    অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অপরের কাছে ভিক্ষা চায়, কিয়ামতের দিন তার চেহারায় ক্ষতচিহ্ন হবে এবং সে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর খাবে। অতএব, যার ইচ্ছা হয় (ভিক্ষা) কম করুক আর যার ইচ্ছা হয় বেশি করুক।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৫৩)

    তবে হ্যাঁ, কেউ যদি বিশেষ প্রয়োজনে, অপারগ হয়ে ভিক্ষা চায় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির কাছে সাহায্য চায় তাতে কোনো সমস্যা নেই। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি হচ্ছে ক্ষতবিক্ষতকারী। মানুষ এর দ্বারা স্বীয় মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। কাজেই যার ইচ্ছা ভিক্ষাবৃত্তি করে স্বীয় মুখকে ক্ষতবিক্ষত রাখুক। আর যে ইচ্ছা তা পরিহার করুক। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চাওয়া কিংবা নিরুপায় হয়ে কিছু চাওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।’
    (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৩৯)

    অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) তিন ব্যক্তিকে মানুষের কাছে হাত পাতার অনুমতি দিয়েছেন। কবিসাহ বিন মুখারিক আল হিলালি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার আমি (ঋণের জামিন হয়ে) বিরাট অঙ্কের ঋণী হয়ে পড়লাম। কাজেই আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে এ জন্য তাঁর কাছে চাইলাম। তিনি বললেন, জাকাত বা সদকার মাল আসা পর্যন্ত আমার কাছে অপেক্ষা করো। তা এসে গেলে আমি তোমাকে তা থেকে দেওয়ার নির্দেশ দেব। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বললেন, হে কাবিসা! মনে রেখো, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্য হাত পাতা বা সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল নয়।-১. যে ব্যক্তি (কোনো ভালো কাজ করতে গিয়ে বা ঋণের জামিন হয়ে) ঋণী হয়ে পড়েছে। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা তার জন্য হালাল। যখন ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে তখন সে এ থেকে বিরত থাকবে।

    ২. যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়েছে এবং এতে তার সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। তার জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না তার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়।

    ৩. যে ব্যক্তি এমন অভাবগ্রস্ত হয়েছে যে তার গোত্রের তিনজন জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোক সাক্ষ্য দেয় যে সত্যিই অমুক অভাবে পড়েছে তার জন্য জীবিকা নির্বাহের পরিমাণ সম্পদ লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল।

    হে কবিসা! এই তিন প্রকার লোক ছাড়া আর সবার জন্য সাহায্য চাওয়া হারাম। অতএব, এই তিন প্রকার লোক ছাড়া যেসব লোক সাহায্য চেয়ে বেড়ায় তারা হারাম খায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৪৪)

    কোনো মানুষের কর্মবিমুখতার প্রধান কারণ হলো কিছু কিছু কাজ ও পেশাকে ছোট করে দেখা। মহানবী (সা.) এমনটি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি সাহাবিদের শিখিয়েছেন, যেকোনো কাজই সম্মানের, যদি তা হালাল হয়। অসম্মান হলো মানুষের ওপর নির্ভর করা। তিনি বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ রশি নিয়ে নিজের পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনে এবং তা বিক্রি করে, ফলে আল্লাহ তাকে (হাত পাতা থেকে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে চাওয়ার চেয়ে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৭১)

    সুতরাং মুসলমানের দায়িত্ব হলো কর্মমুখী হওয়া এবং পরনির্ভর জীবন থেকে বের হয়ে স্বাবলম্বী হওয়া। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দিন। আমিন।

    লেখকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

  • উপমহাদেশের প্রভাবশালী ১০ সুফি সাধক

    উপমহাদেশের প্রভাবশালী ১০ সুফি সাধক

    উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ও ক্রমবিকাশের সঙ্গে সুফি সাধকদের নিবিড় সম্পর্ক আছে। ভারতবর্ষে রাজনৈতিকভাবে ইসলাম আগমনের বহু আগে সুফি সাধকদের মাধ্যমে ইসলামের আগমন ঘটেছিল।

    মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পরও সুফিরাই ছিলেন ইসলামের প্রধান ধারক, বাহক ও প্রচারক। ফলে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে সুফি সাধকদের গভীর প্রভাব রয়েছে। নিম্নে উপমহাদেশের প্রভাবশালী ১০ জন সুফি সাধকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

    ১. আলী হুজভিরি (রহ.) : ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি সাধক আলী হুজভিরি (রহ.)। তাঁর পূর্ণ নাম আবুল হাসান আলী ইবনে উসমান জুল্লাবি হুজভিরি (রহ.)। তিনি দাতা সাহেব বা দাতা গঞ্জেবখশ নামেও পরিচিত। তিনি ১০০৯ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান আফগানিস্তানের গজনিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতবর্ষসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলাম প্রসারে অবদান রাখেন। তাঁর রচিত ‘কাশফুল মাহজুব’ সুফি ধারার গুরুত্বপূর্ণ বই।

    আলী হুজভিরি (রহ.) ইলমে দ্বিন অর্জনের জন্য মক্কা-মদিনা, হিজাজ, কিরমানসহ সমকালীন মুসলিম বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেন। মুহাম্মদ আল খাত্তালি (রহ.)-এর কাছে তিনি আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা পান। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি পাকিস্তানের লাহোরে দ্বিন ইসলামের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ৮ আগস্ট ১০৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। লাহোরেই তাঁকে দাফন করা হয়।

    ২. খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) : সুলতানুল হিন্দ খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-কে উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সুফি আলেম মনে করা হয়। তিনি ১১৪২ খ্রিস্টাব্দে ইরানের সিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বুখারা, সমরখন্দ ও নিশাপুরের বিখ্যাত আলেমদের কাছ থেকে ইলমে দ্বিন অর্জন করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন খাজা উসমান হারুন (রহ.)। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘ ২০ বছর আধ্যাত্মিক সাধনা করেন। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) স্বীয় পীরের নির্দেশে ভারতবর্ষে আগমন করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় চিশতিয়া তরিকা ভারতবর্ষের প্রধান সুফিধারায় উন্নীত হয় এবং অসংখ্য মানুষ ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করে। তিনি ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকালে করেন এবং ভারতের আজমিরে তাঁকে দাফন করা হয়।

    ৩. বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (রহ.) : বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (রহ.) ছিলেন প্রভাবশালী সুফি আলেম ও কবি। তিনি বাহাউল হক নামেও পরিচিত। তিনি উপমহাদেশে সোহরাওয়ার্দিয়া সুফিধারা প্রতিষ্ঠা করেন। বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (রহ.) ১১৬১ খ্রিস্টাবে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। ১২২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুলতানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সুলতান ইলতুিমস তাঁকে শায়খুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করেন। সোহরাওয়ার্দি তরিকার প্রতিষ্ঠাতা শিহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দি (রহ.)-এর কাছে আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা লাভ করেন। ১২৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুলতানে ইন্তেকাল করেন।

    ৪. খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.) : ভারতীয় উপমহাদেশে চিশতিয়া তরিকার উজ্জ্বল প্রদীপ ছিলেন খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.)। তাঁর পূর্ণ নাম সুলতানুল মাশায়েখ মুহাম্মদ বিন আহমদ আলী বাদায়ুনি (রহ.)। তিনি ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাদায়ুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান মেধাবী আলেম। খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.) মাত্র ২০ বছর বয়সে ফরিদুদ্দিন গঞ্জেশকর (রহ.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন তাঁর দরবারে অবস্থান করে আত্মিক পরিশুদ্ধি ও খিলাফত লাভ করেন। তিনি দিল্লি অঞ্চলে ইলমে দ্বিন ও মারেফাতের শিক্ষা প্রদান করেন। তিনি ৩ এপ্রিল ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে দিল্লিতে দাফন করা হয়।

    ৫. শাহজালাল ইয়েমেনি (রহ.) : তাঁর পূর্ণ নাম শাহ মুহাম্মদ জালালুদ্দিন মুজাররদ (রহ.)। তিনি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে প্রভাবশালী সুফি ছিলেন। ১২৭১ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন। ৩২ বছর বয়সে ইসলাম প্রচারের জন্য সিলেট অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি উত্পীড়ক শাসক গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করেন এবং সিলেটে প্রথম আজান দেন। তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দি তরিকার পীর সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দি (রহ.)-এর মুরিদ ও খলিফা। তিনি ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৬. নুর কুতবুল আলম (রহ.) : বাংলা অঞ্চলের প্রভাবশালী সুফি সাধক ছিলেন নুর কুতবুল আমল (রহ.)। তিনি প্রাচীন বাংলার হজরত পাণ্ডুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলাউল হক (রহ.) ছিলেন সুলতান সিকান্দার শাহের দরবারের বিশিষ্ট আলেম। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলার মুসলমানরা রাজা গণেশের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায় এবং গণেশের পুত্র যদু ইসলাম গ্রহণ করে। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নুর কুতবুল আলম (রহ.)-এর মাদরাসা, মসজিদ ও খানকা পরিচালনার জন্য কয়েকটি গ্রাম দান করেন। তিনি চিশতিয়া তরিকার সুফি ও পীর ছিলেন। তিনি ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৭. খান জাহান আলী (রহ.) : বাংলা অঞ্চলের প্রভাবশালী সুফি ও শাসক ছিলেন খান জাহান আলী (রহ.)। উলুঘ খান ও খান-ই-আজম তাঁর উপাধি। তিনি ১৩৬৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লির বিখ্যাত আলেম ও সুফি শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.)-এর কাছে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন। খান জাহান আলী (রহ.) একজন সেনাপতি ও ধর্ম প্রচারক হিসেবে বাংলায় আগমন করেন। তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে খলিফাতাবাদ নামে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক অনেক কাজ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি শহর, মসজিদ, মাদরাসা, খানকা, সরাইখানা, মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ করেন। অসংখ্য দিঘি খনন করে মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করেন। তাঁর উন্নয়ন কর্মের অনেক নিদর্শন এখনো টিকে আছে। তিনি ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৮. মুজাদ্দিদ আলফে সানি (রহ.) : ইমামে রব্বানি মুজাদ্দিদে আলফে সানি (রহ.)-এর পূর্ণ নাম ছিল আবুল বারাকাত বদরুদ্দিন আহমদ সেরহিন্দ। তিনি ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পাঞ্জাবের সেরহিন্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম ও পীর। তিনি সম্রাট আকবরের দ্বিনে এলাহির বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেন। এ জন্য তাঁকে দীর্ঘদিন কারাভোগও করতে হয়। আধ্যাত্মিকতার জগতে তিনি নকশাবন্দি তরিকার অনুসারী ছিলেন। দিল্লির বিখ্যাত সুফি আলেম খাজা বাকিবিল্লাহ নকশাবন্দি (রহ.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন এবং খিলাফত লাভ করেন। জ্ঞান সাধনা, আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে মুজাদ্দিদে আলফে সানি তথা দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সংস্কারক বলা হয়। তিনি ১০ ডিসেম্বর ১৬২৪ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৯. সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহ.) : ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসের একজন বৈপ্লবিক পুরুষ, আধ্যাত্মিক সাধক ও যুগসংস্কারক আলেম সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)। তাঁর গড়ে তোলা আন্দোলন তরিকায়ে মুহাম্মদি উপমহাদেশের আজাদি আন্দোলনে প্রাণসঞ্চার করেছিল। সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহ.) ১৭৮৬ সালে ভারতের রাইবেরিলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ধর্মীয় জ্ঞান ও নেতৃত্বের জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি ছিলেন শাহ আবদুল আজিজ দেহলভি (রহ.)-এর বিশিষ্ট শাগরেদ। তিনি ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন ফিরিয়ে আনতে খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা করেন। ফলে তিনি একই সঙ্গে শিখ ও ব্রিটিশ শাসকদের শত্রুতে পরিণত হন। আধ্যাত্মিকতার ধারায় তিনি প্রধানত নকশাবন্দি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তবে চিশতিয়া ও কাদেরিয়া তরিকার সঙ্গে তিনি সংযুক্ত ছিলেন। ৬ মে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে শিখদের সঙ্গে এক লড়াইয়ের তিনি ঐতিহাসিক বালাকোট প্রান্তরে শহীদ হন।

    ১০. হাজি এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি (রহ.) : তিনি ছিলেন প্রভাবশালী আলেম, সুফি সাধক ও ভারতবর্ষের আজাদি আন্দোলনের অগ্রসেনানী। তিনি ভারতের সাহরানপুরের নানুতা অঞ্চলে ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাহ মুহাম্মদ ইসহাক (রহ.)-এর শিষ্য এবং চিশতিয়া তরিকার বিশিষ্ট পীর মিয়াজি নুর মুহাম্মদ ঝাঞ্জানযি (রহ.)-এর খলিফা ছিলেন। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লবের সময় তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শামলির যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। উপমহাদেশের অনেক প্রভাবশালী আলেম তাঁর মুরিদ ছিলেন। যাঁদের মধ্যে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি, কাসেম নানুতবি ও আশরাফ আলী থানভি (রহ.) অন্যতম। ১৮৫৭ সালের বিপর্যয়ের পর তিনি স্থায়ীভাবে মক্কায় হিজরত করেন। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় তাঁর ইন্তেকাল হয়।

    আল্লাহ তাঁদের সবার কবরকে শীতল করুন। আমিন।

  • চারদিকে অন্ধকার রাতের টুকরার মতো ফিতনা

    চারদিকে অন্ধকার রাতের টুকরার মতো ফিতনা

    অনেক মুসলমানের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়-আমরা কিভাবে আমাদের অন্তরকে ফিতনা থেকে রক্ষা করব? কারণ এখন ফিতনাকে আমাদের কাছে আসা থেকে সম্পূর্ণরূপে ঠেকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন।

    যেমন একটি জাহাজের নিয়তি হলো উত্তাল ঢেউ ও প্রচণ্ড ঝড়ের মুখোমুখি হওয়া, তেমনি এর অধিনায়ক যদি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে চান, তবে তাঁকে সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকতে হয়।

    ঠিক তেমনি চারপাশে যত বেশি ফিতনা বাড়ে, একজন মুমিনের জন্য তত বেশি সতর্কতা, আত্মসমালোচনা ও অন্তরের সংস্কার অপরিহার্য হয়ে ওঠে। যেমন-বিচক্ষণ নাবিক ঝড় আসার আগেই নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তেমনি একজন মুমিনেরও উচিত নিজের অন্তরকে ফিতনা থেকে রক্ষার সব উপায় অবলম্বন করা এবং নিজের দ্বিন ও আখিরাতের নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অন্ধকার রাতের টুকরার মতো ফিতনা আসার আগে নেক আমলে অগ্রসর হও। তখন মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে; আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, সকালে কাফির হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১৯৫)

    নিঃসন্দেহে, যখন ফিতনা সহজেই মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায়, তখন একজন মুমিনের আরো বেশি সতর্কতা, আত্মরক্ষা এবং সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

    ফিতনা ধীরে ধীরে অন্তরে প্রবেশ করে

    ফিতনার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি একবারে অন্তরে প্রবেশ করে না; বরং ধীরে ধীরে প্রবেশ করে। একটি ছোট্ট প্রবৃত্তি, একটি সামান্য সন্দেহ, একটি নিষিদ্ধ দৃষ্টি কিংবা একটি আপাত তুচ্ছ কথা-এভাবেই ছোট ছোট বিষয় জমতে জমতে একসময় পুরো অন্তরকে ঢেকে ফেলে। অথচ মানুষ টেরই পায় না।

    মহানবী (সা.) এ দৃশ্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন-‘ফিতনাগুলো একটির পর একটি মাদুরের বুননের মতো অন্তরের সামনে উপস্থাপিত হয়।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ২৯৬০)

    অর্থাৎ ফিতনা একসঙ্গে আসে না; বরং বারবার আসে। ফলে ধীরে ধীরে নফস তা গ্রহণ করতে শেখে, অন্তর তার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। প্রথমবার প্রভাবিত না হলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার প্রভাবিত হতে পারে। অন্তর ঠিক থাকলে মানুষের সব কাজ ঠিক থাকে; আর অন্তর নষ্ট হলে পুরো জীবনই নষ্ট হয়ে যায়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রেখো, শরীরে একটি মাংসপিণ্ড আছে, তা ভালো থাকলে পুরো শরীর ভালো থাকে আর তা নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো, সেটিই হলো অন্তর।’ (বুখারি, হাদিস : ৫২) অন্তরের মাধ্যমেই মানুষ তার রবকে চেনে, ভালোবাসে, তাঁকে ভয় করে এবং তাঁরই কাছে আশা রাখে।

    আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; উপকারে আসবে কেবল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।’ (সুরা : আশ-শুআরা, আয়াত: ৮৮-৮৯)

    পাপের পথ ধরে অন্তরের সর্বনাশ হয়ে যায়। তাই পাপ বর্জনের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয়! বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের অন্তরের ওপর মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা : আল-মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৪)

    তাই অন্তরের যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। আর আল্লাহর জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতে অন্তরের সর্বোত্তম যত্ন নেওয়া যায়। পবিত্র কোরআনের বাণী-‘ঈমানদারদের জন্য কি এখনো সেই সময় আসেনি, যখন তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ ও অবতীর্ণ সত্যের সামনে বিনীত হবে? তারা যেন তাদের মতো না হয়, যাদের আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল; দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গিয়েছিল আর তাদের বেশির ভাগ ছিল অবাধ্য। জেনে রেখো, আল্লাহ মৃত পৃথিবীকে জীবিত করেন। আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, যাতে তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।’ (সুরা : আল-হাদিদ, আয়াত : ১৬-১৭)

  • শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে শিশুকে শুধু পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার কাছে অর্পিত এক পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআনে সন্তানকে পিতা-মাতার জন্য দুনিয়ার শোভা ও পরীক্ষা—উভয়ভাবেই আখ্যায়িত করা হয়েছে। ফলে শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশের দায়িত্ব শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং একটি ধর্মীয় দায়িত্বও। এই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন স্নেহ, ভালোবাসা, দয়া ও প্রজ্ঞাপূর্ণ শিক্ষা, আবার প্রয়োজন হলে সীমিত ও ন্যায়সংগত শাসনেরও অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। এভাবে ইসলামের শিক্ষা একদিকে কোমলতা শেখায়, অন্যদিকে দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বেরও দিকনির্দেশনা দেয়।

    মহানবী (সা.) ছিলেন শিশুদের প্রতি সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন, কোলে তুলে নিতেন, মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিতেন, হাসিমুখে কথা বলতেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আচরণ করতেন। পথ চলতে শিশুদের আগে সালাম দেওয়ার ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নিজের নাতি হাসান-হোসাইনকে চুম্বন করতে দেখে এক সাহাবি বিস্ময় প্রকাশ করলে বলেছিলেন, ‘যার অন্তরে দয়া নেই, তার প্রতিও দয়া দেখানো হয় না।’ এমনকি নামাজরত অবস্থায় নাতনি উম্মে কুলসুমকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করার ঘটনাও হাদিসে এসেছে, যা শিশুর প্রতি তার সহনশীলতা ও কোমলতার প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি : ১৯২১)

    শিশুরা স্বভাবগতভাবেই চঞ্চল ও কৌতূহলী। তারা ভুল করবে, শিখবে এবং ধীরে ধীরে পরিণত হবে—এটাই স্বাভাবিক বিকাশের ধারা। তাই প্রতিটি ভুলের জবাবে কঠোরতা নয়, বরং ধৈর্য, বোঝানো ও উৎসাহ দেওয়াই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, শিশুর ভুলকে শাস্তির চোখে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, কারণ ভয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু আত্মবিশ্বাসহীন ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে থাকে।তবে ইসলাম শাসনের প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করে না। সন্তানকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময়মতো শিক্ষা ও সংশোধন অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে তাদের শাসন করো।’ (আবু দাউদ : ৪৯৫) এ হাদিসের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিন শিক্ষা ও উৎসাহ দেওয়ার পরও প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।ইসলামি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, শাসনের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া উচিত। প্রথমে নরম ভাষায় উপদেশ, এরপর মৃদু তিরস্কার, তারপর প্রয়োজন হলে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা। এরপরও সংশোধন না হলে এমন শাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা কষ্টদায়ক বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিকর নয় এবং যার একমাত্র উদ্দেশ্য সংশোধন। মুখমণ্ডল বা দেহের সংবেদনশীল অংশে আঘাত করা, রাগের বশে প্রহার করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিকহবিদরা এমনকি শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে আঘাতের মাত্রা, স্থান ও উদ্দেশ্য নিয়েও সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছেন, যাতে তা প্রতিহিংসামূলক না হয়ে শিক্ষামূলক থাকে।

    পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে শারীরিক শাস্তির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন সংশোধনমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—সাময়িকভাবে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত রাখা, শ্রেণিকক্ষে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা, অতিরিক্ত অনুশীলনের দায়িত্ব দেওয়া, প্রিয় বিষয় থেকে সাময়িক বিরত রাখা কিংবা শান্ত পরিবেশে বসিয়ে উপদেশমূলক আলোচনা করা। আধুনিক শিশু-মনোবিজ্ঞানও এসব পদ্ধতিকে কার্যকর বলে সমর্থন করে, কারণ এতে শিশুর আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে সংশোধনের সুযোগও সৃষ্টি হয়।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর ওপর জুলুম করা মারাত্মক গুনাহ, কারণ এটি বান্দার হকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহতায়ালা নিজের অধিকারের ব্যাপারে ক্ষমাশীল হলেও মানুষের হক নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য আদায় বা ক্ষমা ছাড়া মুক্তি পাওয়া কঠিন। তাই অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা দায়িত্বশীল যিনিই হোন না কেন, শিশুর প্রতি রাগ, প্রতিশোধ বা অপমানের মনোভাব থেকে কোনো আচরণ করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূলে থাকতে হবে সন্তানের কল্যাণ ও সঠিক পথে পরিচালনার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা।আজকের সমাজে শিশুদের মানসিক সুস্থতা, নৈতিক বিকাশ ও পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে ফিরে যাওয়া। স্নেহ হবে শিক্ষার ভিত্তি, দয়া হবে সম্পর্কের সৌন্দর্য এবং শাসন হবে প্রজ্ঞা, সংযম ও সংশোধনের মাধ্যম—শাস্তি বা প্রতিশোধের হাতিয়ার নয়। এ ভারসাম্যই একটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং তা পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

    গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

    রাষ্ট্রসংস্কারের গণভোটের অধিকার সরকার জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রসংস্কারের গণভোটের অধিকার সরকার জনগণের কাছ থেকে চুরি করেছে। দুটি ভোটে অংশ নিলেও তারা একটি ভোট মেনে নেয়নি।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো সার্বজনীন কর্মসূচি নেই। তার দাবি, আওয়ামী লীগ যেমন মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ করেছিল, বর্তমান সরকারও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয়করণের পথে এগোচ্ছে।

    বিদেশে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের যথাযথ কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবেই বিদেশে ওই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার অভিযোগ, দিল্লির সরকার এ সম্মেলনে সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে আপসকামী’ এমন কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি ইতোমধ্যে তাদের বৈধতা হারিয়েছে এবং সরকার একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে।

    তিনি আরও বলেন, কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মতো হয়ে উঠবে।

  • ১৫ আগস্টের মধ্যেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছেন প্রশাসকরা

    ১৫ আগস্টের মধ্যেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছেন প্রশাসকরা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে থাকা বাকি চারটি ব্যাংক থেকে তাদের নিয়োগ করা প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে ব্যাংকটির পুরো পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনেই পরিচালিত হবে।

    এর আগে ৩০ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রথম প্রশাসক সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ধাপে ধাপে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকেও প্রশাসকদের প্রত্যাহার করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর অস্থায়ীভাবে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ, আমানত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা একীভূত করার কাজ সমন্বয় করা।

    তিনি বলেন, এখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম একীভূত করা এবং নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই কাজের বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই এখন ধাপে ধাপে ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দেওয়া হচ্ছে।

    তবে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পাঁচটি ব্যাংকের মূল ব্যাংকিং সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের হিসাব ব্যবস্থার সংযুক্তির কাজ চলছে।

    এ কারণে কিছু কার্যক্রম এখনো আগের ব্যাংকগুলোর নামেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ শেষ হলে পুরো ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামেই পরিচালিত হবে।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর একই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ দুই পদের দায়িত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।এ কারণেই পর্যায়ক্রমে প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রথম প্রশাসক সরানো হয়েছে, কারণ নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই ব্যাংকের কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তাই এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তর আগে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চারটি ব্যাংকও ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চলে আসবে।

  • মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন: প্রথম জুমায় হাজারো মুসল্লির ঢল

    মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন: প্রথম জুমায় হাজারো মুসল্লির ঢল

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হলো দৃষ্টিনন্দন উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) পৌর শহরের হেলিপ্যাড মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত এই আধুনিক মসজিদে প্রথম জুমার নামাজে ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসল্লির ঢল নামে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াশিন আলী, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, এমপি প্রতিনিধি জমিরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মিজানুর রহমান মাস্টার, সাবেক মেয়র আলমগীর সরকার এবং জুলাই যোদ্ধা হাবিবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

    উদ্বোধনী প্রথম জুমায় পৌরশহরের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। উদ্বোধনী আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে আগত স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, এমন একটি আধুনিক ধর্মীয় কেন্দ্রের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। চারতলা বিশিষ্ট এই আধুনিক মডেল মসজিদে একসাথে প্রায় এক হাজার মুসল্লি স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এটি কেবল ইবাদতের স্থান হিসেবেই নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক স্থানে অজু ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনের আলাদা আবাসন ব্যবস্থা।

    ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ইসলামিক বই বিক্রয়কেন্দ্র, গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রম, হেফজখানা এবং শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা।জনসেবামূলক ব্যবস্থা: হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অতিথিশালা এবং মৃত ব্যক্তির গোসলের বিশেষ সুব্যবস্থা। ধর্মীয় শিক্ষা, ইবাদত ও বৈচিত্র্যময় জনসেবামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে নির্মিত এই মডেল মসজিদটি রাণীশংকৈলবাসীর জন্য একটি অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মসজিদগুলো থেকে মাইক খুলে ফেলার প্রতিবাদে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) তিনজন বিধানসভা মুসলিম সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিল্লিতে অমিত শাহর সাথে তাদের এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা দাবি করেন, শব্দদূষণ রোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা যেন সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হয়, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে এর জন্য টার্গেট করা উচিৎ নয়

    সাক্ষাতে যাওয়া তিন সংখ্যালঘু এমপি হলেন- আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। স্বল্প সময়ের বৈঠকে তারা রাজ্যে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেন।

    বৈঠক শেষে আবু তাহের স্পষ্ট জানান, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন তখনই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। দুর্গাপূজা বা কালীপূজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

    তিনি বলেন, কিন্তু বেছে বেছে শুধুমাত্র মুসলিমদের টার্গেট করে মসজিদ থেকে মাইক নামানোর ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক।

    সূত্রের খবর, সাক্ষাৎকালে অভিযোগ শোনার পর অমিত শাহ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, রাজ্য শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো উপাসনালয়ে উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনেই সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একাধিক মসজিদ থেকে মাইক খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

    তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ‘স্বেচ্ছাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • ৩৬ জুলাই ও ইসলাম

    ৩৬ জুলাই ও ইসলাম

    জুলুম কখনো দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জালিমকে আল্লাহতায়ালা ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর কারুন, ফেরাউন ও হামানকে (আমি ধ্বংস করেছি) তাদের কাছে মুসা গিয়েছিল প্রমাণাদিসহ। এরপরও তারা জমিনে অহংকার করেছিল; কিন্তু তারা (আমার আজাব) এড়াতে পারেনি। এদের প্রত্যেককেই তাদের অপরাধের কারণে আমি পাকড়াও করেছিলাম। তাদের কারো প্রতি আমি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে পাকড়াও করেছে বিকট আওয়াজ, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি পানিতে নিমজ্জিত। আল্লাহ এমন নন যে, তাদের ওপর জুলুম করবেন বরং তারা নিজেরা নিজেদের ওপর জুলুম করত।’ (সুরা আনকাবুত : ৩৯-৪০)

    এই আয়াতের দিকে লক্ষ করলে জালিম তথা স্বৈরশাসকের শেষ পরিণতি সম্পর্কে বোঝা বেশখানিকটা সহজ হয়ে যায়। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ৩৬ জুলাই তথা ৫ আগস্ট সেই বাস্তবচিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। শাসকের জুলুম যত বাড়তে থাকবে, ফুরোতে থাকবে তার শাসনকাল, ঘনিয়ে আসে লাঞ্ছিত হওয়ার সময়। হাদিসে নববিতে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন, সে আর ছুটে যেতে পারে না।’ (বুখারি : ৪৬৮৬)৩৬ জুলাই এমনি এমনি আসেনি। এর পেছনে রয়েছে হাজারো অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মাজলুমের আত্মচিৎকার আর ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড! কোটা আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও শত শত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলনে।

    ৫ আগস্ট দেশের মানুষ শুধু রাজপথেই নামেনি; সালাত, জিকির আর অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় তারা রবের সাহায্য চেয়েছিল। অনেকে রোজা রেখে, সালাতুল হাজত আদায় করে বেড়িয়েছিল ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য। আর যখন স্বৈরাচার হাসিনার পতন হয়, তাকবির আর সিজদার মাধ্যমে সবাই মহান রবের দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে শুকরিয়া আদায় করেছিল। রাস্তায় রাস্তায় মুজিব-মূর্তি ভাঙা হয়েছিল তাকবির ধ্বনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলার মাধ্যমে। এ যেন শিরক মূলোচ্ছেদ করার একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।

    দেশের আইন যেখানে প্রণিত হয়, সেই মহান জাতীয় সংসদে প্রবেশ করে ছাত্র-জনতা তাকবির, অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা আর সুরা নাসর তিলাওয়াতের মাধ্যমে উদযাপন করেছিল এ বিজয়। মাজলুমদের এই বিজয় মনে করিয়ে দেয় পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত, যাতে নবীজিকে লক্ষ করে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘বলুন, হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন। আর যাকে চান অপমানিত করেন, আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা আলে ইমরান : ২৬)

    আল্লাহতায়ালা জালিমদের পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও দুনিয়াবি ক্ষমতাকে মাকড়সার জাল বোনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মাকড়সা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে জাল বোনে। অনেক পোকামাকড় তার জালে ধরা পড়ে জীবন হারায়, তার খাদ্য হয়। সে হয়তো ভাবে খুব শক্তিশালী জাল সে বুনেছে। জালিমদের অবস্থাও তাই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার মতো, যে নিজের জন্য ঘর বানায় আর নিশ্চয় সবচেয়ে দুর্বল ঘর হলো মাকড়সার ঘর, যদি তারা জানত।’ (সুরা আনকাবুত : ৪১)

    সর্বকালের সব শাসকগোষ্ঠীর এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করতে হবে যে, আসমানগুলো, পৃথিবীসহ সমগ্র বিশ্ব জগতের সর্বময় ক্ষমতার প্রকৃত মালিক আল্লাহতায়ালা। প্রকৃত রাজত্ব, বাদশাহি ও সম্মান তারই। তিনি যাকে চান সম্মান ও ক্ষমতা দান করেন, যাকে চান ক্ষমতাচ্যুত করেন, অসম্মানিত করেন।

    তাই শাসক যেন ন্যায়পরায়ণ হয়, কারণ কিয়ামতের ময়দানে সাত শ্রেণির মানুষকে আরশের নিচে ছায়া দেওয়া হবে, এর মধ্যে প্রথম শ্রেণি হলো ন্যায়পরায়ণ শাসক; শাসক যেন ইসলামকে ধারণ করে, তাকওয়াবান হয়। তবেই আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালি দিন ফিরে পেতে পারি, যার ভিত্তি হবে ইনসাফ।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ৩৪৯ এমপি

    আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংদ সদস্য ভোট দেবেন। সেখানে নৈতিক স্থলনের দায়ে দল থেকে বহিস্কৃত জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচত সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়ার পর এই ভোটার তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। একই দিন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলও ঘোষণা করেন।

    গেজেট অনুযায়ী, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য সংখ্যা ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন।

    এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামও ভোটার তালিকায় থাকা প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনও সংসদ সদস্য পদে আছেন। স্পিকারের কাছে জামায়াতের উত্থাপিত অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কাজেই এখন পর্যন্ত যারা সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, আইন অনুযায়ী তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হবেন।

    সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিও দেয়। তবে চিঠির ভিত্তিতে এখনও তাঁর এমপি পদ শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে একক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না।

    ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত, যে কারন জানা গেল

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত, যে কারন জানা গেল

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। এ কারণে দলটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ‘বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। তাই জামায়াত এ নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না।’

    রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এই যুক্তিই তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তবে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সরকারি দল বিএনপি সংসদের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় বা পরামর্শ করেনি।

    এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।

    একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যদি যাচাই-বাছাই শেষে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে ওই প্রার্থীকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংবিধান ও আইনের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

    উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

    বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

  • মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি?

    রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তবে এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি দলের আরও তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে আসছে।

    দলীয় রাষ্ট্রপতি মনোয়নে শীর্ষ নেতা ছাড়াও সবচেয়ে সক্রিয়া ভূমিকা রাখে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। তবে এই কমিটি এবার রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ভার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে রেখেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

    দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।

    তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।

    শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

    বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।

    মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।

    তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।

    একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা।

    এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

    মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

    মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনও প্রয়োজন। দল অনেকটাই ভারসাম্যহীনতায় ভুগবে তাকে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠালে। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিতে হবে বিএনপিকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।

    উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বিএনপি মনোনয়ন দেবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • আদর্শ জাতি বিনির্মাণে দ্বীনি শিক্ষা

    আদর্শ জাতি বিনির্মাণে দ্বীনি শিক্ষা

    ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। সারা বিশ্বে যা আজ এক স্বীকৃত বাস্তবতা। যে কারণে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল দিন দিন শুধু বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু অমুসলিম বিদ্বান-পণ্ডিত বিজ্ঞানী ইসলাম গ্রহণে ধন্য হচ্ছেন। ইসলাম বিষয়ে তুলে ধরছেন তারা তাদের মূল্যবান অভিব্যক্তি। জানাচ্ছেন তাদের অভিজ্ঞতা। ইসলামের মহান আদর্শ ও শিক্ষায় মুগ্ধ হয়েই তারা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন। কিন্তু আমরাই শুধু ইসলাম ও কোরআন সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এমনকি অনেক সময় অসম্পূর্ণভাবে বা আংশিক ইসলামের অনুসরণ করছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় কখনোই! মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’ (সুরা বাকারা : ২০৮)

    মুসলমানদের একসময়ের সমৃদ্ধ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অবদানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আঘাত হানা হয়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়। সেহেতু আদর্শ ও নৈতিকতাশূন্য শিক্ষার ফলে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে নানা অসংগতি ও ভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামের নামেও অনেক ভ্রান্ত বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের ইসলামি আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেই আমাদের ধ্বংস করা হয়েছে। ইংরেজরা আমাদের সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবেও প্রমাণিত। এজন্য আদর্শ জাতি বিনির্মাণে ইসলাম ও নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষা নিশ্চিত করা ছিল একটি জরুরি পদক্ষেপ। দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে যুগোপযোগী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেউ এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ জাতীয় উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ দায়িত্বও বটে। আশা করছি, ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এ গুরু দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।গত ৩ আগস্ট আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের (AIII) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘বর্তমান আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আবার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক শিক্ষার উপস্থিতি পর্যাপ্ত নয়। ফলে ইসলামিক শিক্ষা নিয়ে বেড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন না।’

    প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি আরও বলেন, ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো, ইসলামি মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা; যা ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।’

    এছাড়া তিনি বলেন, ‘আমরা যে ইবাদত করি, ইবাদতের মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে, আমরা কোরআন বুঝি না। আল্লাহতায়ালা (কোথায়) কী আদেশ দিয়েছেন? সেটি সম্পর্কে আমরা জানি না। বিদআতের (ইসলামের নামে নতুন মনগড়া কখনো বানোয়াট বিষয়ে) অনুসরণ করি, (এভাবেই) বিদআতে ছেয়ে গেছে এদেশ। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত, সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা সুস্থ সমাজ, ইসলামিক সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই।’

    হাদিসে রাসুল (সা.) আমাদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। আমরা এ জাতীয় দুটো বর্ণনা উল্লেখ করছি। ইমাম মালিক (রহ.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ এ দুটিকে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। আর এ দুটি হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব তথা কোরআন শরিফ ও তাঁর নবীর সুন্নত তথা হাদিস।’ (মুয়াত্তা মালিক : ১৬০২)

    রাসুল (সা.)-এর একজন সাহাবি ইরবাজ (রা.)। তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে আমাদের উদ্দেশে জ্বালাময়ী এক ভাষণ দিলেন। তাতে (আমাদের) চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরগুলো বিগলিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ যেন কারো বিদায়ি ভাষণ! অতএব আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?

    রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের আল্লাহভীতির (বিষয়ে), শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি। যদিও সে (অর্থাৎ, যার অনুসরণ ও আনুগত্য করা হবে এমন আমির বা শাসক) একজন হাবশি গোলাম হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করবে, তা দাত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান! (ইসলাম ধর্মে) প্রতিটি নবাবিষ্কার তথা বিদআত সম্পর্কে! কারণ প্রতিটি নবাবিষ্কার হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা। (আবু দাউদ : ৪৬০৭)

    উল্লিখিত বর্ণনায় পরিষ্কারভাবে আমাদের ইসলামের নামে নতুন বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও তার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ, তথা সঠিক পথের অনুসারী সাহাবিদের সুন্নাহকে মজবুত করে আঁকড়ে ধরতে বিশেষ উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের জন্য উচিত হবে, আমরা বিদআতমুক্ত সুন্নাহসম্মত আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রাজি সন্তুষ্টি অর্জন করতে সচেষ্ট হব। আমরা বিদআতমুক্ত সুন্নাহসম্মত আদর্শ জাতি বিনির্মাণের এই মহৎ ভূমিকাকে স্বাগত জানাই!

  • বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের

    বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি জামালের

    ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার সকাল পর্যন্ত স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ট্যাটাসটি প্রকাশের প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যে ১ হাজারের বেশি বার শেয়ার, প্রায় ১ হাজার ৩০০টি মন্তব্য এবং ৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাকশন) পেয়েছে।

    স্ট্যাটাসে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে দলের কিছু নেতাকর্মী ব্যক্তিস্বার্থে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহায়তা করে সুবিধা নিয়েছেন।

    তার দেয়া স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন।’

    তিনি আরো লেখেন, মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন। লজ্জা থাকা উচিত। যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাতও করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাই। খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।’

    স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

  • শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে শিশুকে শুধু পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার কাছে অর্পিত এক পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআনে সন্তানকে পিতা-মাতার জন্য দুনিয়ার শোভা ও পরীক্ষা—উভয়ভাবেই আখ্যায়িত করা হয়েছে। ফলে শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশের দায়িত্ব শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং একটি ধর্মীয় দায়িত্বও। এই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন স্নেহ, ভালোবাসা, দয়া ও প্রজ্ঞাপূর্ণ শিক্ষা, আবার প্রয়োজন হলে সীমিত ও ন্যায়সংগত শাসনেরও অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। এভাবে ইসলামের শিক্ষা একদিকে কোমলতা শেখায়, অন্যদিকে দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বেরও দিকনির্দেশনা দেয়।

    মহানবী (সা.) ছিলেন শিশুদের প্রতি সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন, কোলে তুলে নিতেন, মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিতেন, হাসিমুখে কথা বলতেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আচরণ করতেন। পথ চলতে শিশুদের আগে সালাম দেওয়ার ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নিজের নাতি হাসান-হোসাইনকে চুম্বন করতে দেখে এক সাহাবি বিস্ময় প্রকাশ করলে বলেছিলেন, ‘যার অন্তরে দয়া নেই, তার প্রতিও দয়া দেখানো হয় না।’ এমনকি নামাজরত অবস্থায় নাতনি উম্মে কুলসুমকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করার ঘটনাও হাদিসে এসেছে, যা শিশুর প্রতি তার সহনশীলতা ও কোমলতার প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি : ১৯২১)শিশুরা স্বভাবগতভাবেই চঞ্চল ও কৌতূহলী। তারা ভুল করবে, শিখবে এবং ধীরে ধীরে পরিণত হবে—এটাই স্বাভাবিক বিকাশের ধারা। তাই প্রতিটি ভুলের জবাবে কঠোরতা নয়, বরং ধৈর্য, বোঝানো ও উৎসাহ দেওয়াই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, শিশুর ভুলকে শাস্তির চোখে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, কারণ ভয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু আত্মবিশ্বাসহীন ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে থাকে।

    তবে ইসলাম শাসনের প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করে না। সন্তানকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময়মতো শিক্ষা ও সংশোধন অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে তাদের শাসন করো।’ (আবু দাউদ : ৪৯৫) এ হাদিসের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিন শিক্ষা ও উৎসাহ দেওয়ার পরও প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইসলামি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, শাসনের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া উচিত। প্রথমে নরম ভাষায় উপদেশ, এরপর মৃদু তিরস্কার, তারপর প্রয়োজন হলে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা। এরপরও সংশোধন না হলে এমন শাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা কষ্টদায়ক বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিকর নয় এবং যার একমাত্র উদ্দেশ্য সংশোধন। মুখমণ্ডল বা দেহের সংবেদনশীল অংশে আঘাত করা, রাগের বশে প্রহার করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিকহবিদরা এমনকি শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে আঘাতের মাত্রা, স্থান ও উদ্দেশ্য নিয়েও সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছেন, যাতে তা প্রতিহিংসামূলক না হয়ে শিক্ষামূলক থাকে।

    পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে শারীরিক শাস্তির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন সংশোধনমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—সাময়িকভাবে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত রাখা, শ্রেণিকক্ষে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা, অতিরিক্ত অনুশীলনের দায়িত্ব দেওয়া, প্রিয় বিষয় থেকে সাময়িক বিরত রাখা কিংবা শান্ত পরিবেশে বসিয়ে উপদেশমূলক আলোচনা করা। আধুনিক শিশু-মনোবিজ্ঞানও এসব পদ্ধতিকে কার্যকর বলে সমর্থন করে, কারণ এতে শিশুর আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে সংশোধনের সুযোগও সৃষ্টি হয়।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর ওপর জুলুম করা মারাত্মক গুনাহ, কারণ এটি বান্দার হকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহতায়ালা নিজের অধিকারের ব্যাপারে ক্ষমাশীল হলেও মানুষের হক নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য আদায় বা ক্ষমা ছাড়া মুক্তি পাওয়া কঠিন। তাই অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা দায়িত্বশীল যিনিই হোন না কেন, শিশুর প্রতি রাগ, প্রতিশোধ বা অপমানের মনোভাব থেকে কোনো আচরণ করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূলে থাকতে হবে সন্তানের কল্যাণ ও সঠিক পথে পরিচালনার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা।

    আজকের সমাজে শিশুদের মানসিক সুস্থতা, নৈতিক বিকাশ ও পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে ফিরে যাওয়া। স্নেহ হবে শিক্ষার ভিত্তি, দয়া হবে সম্পর্কের সৌন্দর্য এবং শাসন হবে প্রজ্ঞা, সংযম ও সংশোধনের মাধ্যম—শাস্তি বা প্রতিশোধের হাতিয়ার নয়। এ ভারসাম্যই একটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং তা পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

    মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: ইব্রাহিম (২৫) নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামের শুকুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নান্দুয়ালী মধ্যপাড়া কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    নিহত ইব্রাহিমের খালাতো ভাই সোহান জানান, তিন দিনের সময় লাগাতে তাবলিগ জামাতের সাথে শহরের স্টেডিয়াম গেট মসজিদে ছিলেন ইব্রাহিম। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় গরম থেকে স্বস্তির জন্য মসজিদের ছাদে যান তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত মসজিদের ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুলাহ আল মামুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী ‍উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকেলে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় ওই ফোন থেকে আবিরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।

    বিষয়টি দ্রুত আবিরের বাবা পরিবারকে মোবাইলফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন একইদিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    রায়ে আরো বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    মামলায় ১১ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৩৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জন।গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৬৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হামে।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক বিল প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীন, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান খান, মেট্রো সদর থানা আমীর অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খান ও সেক্রেটারি মো. রবিউল হকসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ একটি জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—আবাসিক ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও ভুল বিল প্রত্যাহার ও সংশোধন করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

  • জুমার দিনের করণীয় কী? কোরআন-হাদিসে যা বলা হয়েছে

    জুমার দিনের করণীয় কী? কোরআন-হাদিসে যা বলা হয়েছে

    ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও জ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্য জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ। এদিন নামাজের প্রস্তুতি, মসজিদে আগে পৌঁছানো এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।” (সুরা আল-জুমু’আ: ৯)

    হাদিসে জুমার দিনের বেশ কিছু সুন্নত আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোসল করা, মিসওয়াক করা, পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং যথাসম্ভব আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া। মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়, সামনের কাতারে বসার চেষ্টা এবং ইমাম খুতবা শুরু করলে সম্পূর্ণ নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা সুন্নত।

    আলেমরা বলেন, খুতবা চলাকালে কথা বলা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কিংবা অন্যকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেউ খুতবার সময় মসজিদে প্রবেশ করলে সংক্ষেপে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করে খুতবা শুনতে বসে পড়বে।

    জুমার নামাজ শেষে করণীয় সম্পর্কেও কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান কর। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হও।’ (সুরা আল-জুমু’আ: ১০)রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার নামাজ অবহেলার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, বিনা কারণে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমা ত্যাগকারীর অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন এবং সে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

    ইসলামি শিক্ষায় জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাই এ দিনের সুন্নত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন, সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হওয়া এবং একাগ্রতার সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

  • মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে লিগ কাপে ইন্টার মায়ামির সহজ জয়

    মেসির জোড়া গোলে আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। বৃষ্টিস্নাত রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে লিগ কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে উঠে এলেন মেসি।

    ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে ওই এলাকায় বজ্রপাতের কারণে খেলা ৩০ মিনিট বিলম্বিত হয়।

    মেসি ম্যাচের ১১ ও ৪৪তম মিনিটে গোল করেন। ১২টি লিগ কাপ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১৪টি—যা টুর্নামেন্টের চার বছরের ইতিহাসে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বোয়াঙ্গার চেয়ে এক গোল বেশি এবং এর মাধ্যমে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    মেসি বাদেও তেলাস্কো সেগোভিয়া এবং ডিফেন্ডার মাইকায়েল একটি করে গোল করেছেন এবং নোয়াহ অ্যালেন তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এর সুবাদে টানা ৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো ইন্টার মায়ামি।

    এদিন বিশ্বকাপের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছিলেন, তবে লা আলবিসেলেস্তেরা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা শনিবার কলম্বাস ক্রুর সাথে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৩৭ মিনিট মাঠে ছিলেন।

    কলম্বাসের বিপক্ষে গোলবঞ্চিত থাকার পর, বুধবার প্রভাব বিস্তার করতে মেসির বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় ডেভিড রদ্রিগেজ হেডে গোল করে সান লুইসকে এগিয়ে নেওয়ার পর, অ্যালেনের বাড়ানো একটি লম্বা ক্রস থেকে আন্দ্রেস সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে তিনি খুব কাছ থেকে ফিনিশ করে আরও একটি গোল করেন এবং স্টপেজ টাইমে মাইকায়েলের হেডে করা গোলেও অ্যাসিস্ট করেন।

    ২০২৩ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরপরই মেসি মায়ামিকে লিগ কাপের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামি গত বছরও ফাইনালে পৌঁছেছিল, তবে সিয়াটলের কাছে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায়।

  • ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বিশিষ্ট হাদিসবিশারদ ও গবেষক মাওলানা আব্দুল মতিন রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা উপলক্ষে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান আলেম, মুহাদ্দিস, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সেমিনারে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং হাদিসশাস্ত্রে এর অবদান তুলে ধরা হয়।

    বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী ইলমি সমাবেশে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, “বহু বছরের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফল এই গ্রন্থ। জামে তিরমিযি–এর ব্যাখ্যা রচনার মাধ্যমে লেখক এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা উম্মাহর জন্য দীর্ঘদিন উপকারী হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআন-সুন্নাহর খেদমতে নিবেদিত এ ধরনের গবেষণাকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ এবং আল্লাহ তাআলা যেন এ গ্রন্থকে উম্মাহর জন্য কবুল করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার বলেন, প্রায় তিন দশকের নিবিড় সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে রচিত এই গ্রন্থ হাদিসশাস্ত্রে বাংলাদেশের এক অনন্য অবদান। তিনি বলেন, “হাদিস পাঠদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দরসের মান ও পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

    স্বাগত বক্তব্যে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক শায়খ তাহমিদুল মাওলা জানান, গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আলেম মুফতি হোসাইন কাদুদিয়া গ্রন্থটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনার সমমানের মুদ্রণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    গ্রন্থের রচয়িতা, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “এটি আনন্দের নয়; বরং শুকরিয়া ও দোয়ার মজলিস।” তিনি জানান, ২০০১ সালে জামে তিরমিযি–এর দরসদান শুরু করার পর থেকেই এ গ্রন্থের গবেষণাকাজ শুরু হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূল রচনা সম্পন্ন হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় ২৬ বছরের গবেষণা, হাজারো গ্রন্থ অধ্যয়ন এবং অসংখ্য নির্ঘুম রাতের শ্রম। তিনি এ কাজে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে মাওলানা আব্দুল মালেকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গ্রন্থটি উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হওয়ার দোয়া কামনা করেন।

    সেমিনারে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, জামে তিরমিযি–এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মতভিন্নতার মধ্যেও ইলমি শিষ্টাচার ও আদবের সংরক্ষণ, যা এ ব্যাখ্যাগ্রন্থেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, প্রায় ২৬ বছরের গবেষণার ফসল এই গ্রন্থ। একটি শব্দের ব্যাখ্যার জন্যও লেখক শত শত মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে হাদিস গবেষণার ইতিহাসে এ গ্রন্থ বাংলাদেশের এক গৌরবময় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার আলেম শায়খ ইসহাক বানা, সিলেটের প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা শফিকুল হক সুরাইঘাটি, মক্কার আলেম ড. শায়খ আব্দুল আজিজ আলহাজ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য শায়খ হাসান মাহমুদ রাজস্থানী বক্তব্যে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, পূর্ণাঙ্গতা ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এটি সমকালীন হাদিসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এ ছাড়া মালিবাগ জামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ, আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি দিলাওয়ার হোসাইনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে হাদিস গবেষণার ধারা বিস্তারে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

    সবশেষে বিশিষ্ট আলেম, সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তাঁর দোয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এ ইলমি সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’ একজন বাংলাদেশি আলেমের কলমে রচিত জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ১৭ খণ্ডে প্রকাশিত এ গ্রন্থকে হাদিস গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে আখ্যায়িত করছেন দেশ-বিদেশের বহু আলেম, গবেষক ও ইসলামী শিক্ষাবিদ।

  • জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনার পর এবার অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

    বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বক্তব্য দেওয়ার পর দলটির নেতারা অনুষ্ঠান বয়কট করে বেরিয়ে যান।

    এ সময় আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুনিরা শারমিনসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতা।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার, ৯ দফা এবং ১ দফা ঘোষণার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সারা দেশে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তারা এই অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এর আগে, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পর উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চ থেকে একাধিকবার শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের গণসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি

    বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের গণসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি

    গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে বিশাল গণসমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে এই সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে তার আগেই ১১ দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

  • সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সাথে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।

    স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানায়, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। একইভাবে বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর একটি মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সেই দু’টি স্থাপনাই আজ নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।

    এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অচিরেই বাউসা-কেশবপুর গ্রামের নাম শুধু মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে থাকবে না।

    এই ভাঙনের চিত্র যেন সুরমা নদীরও এক নীরব আর্তনাদ। মনে হয় নদী যেন নিজেই মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছে—আমি তো জীবন দিতে এসেছিলাম। আমার জলেই তোমাদের ফসল হতো, নৌকা চলত, মাছ মিলত, জনপদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ আর অবহেলায় আজ আমি নিজেই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি ভাঙতে চাই না, আমাকে সঠিকভাবে বাঁচাও। আমার দুই তীর রক্ষা করো, তাহলেই তোমাদের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও ভবিষ্যৎও রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন শুধু জমি বা স্থাপনা ধ্বংস করছে না; এটি এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি, ধর্মীয় জীবন, সামাজিক স্থিতি এবং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনে আতঙ্কে রাত কাটান নদীতীরের মানুষ। কখন যে নিজের ঘরটিও নদীতে তলিয়ে যাবে, সেই ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

    এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর তীর রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    একই সাথে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন নদীভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    এখন বাউসা-কেশবপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ প্রতিটি নতুন বর্ষা, প্রতিটি নতুন ঢেউ তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন আতঙ্ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয়, তবে হয়তো আগামী প্রজন্ম শুধু গল্পেই শুনবে—সুরমার তীরে একসময় বাউসা-কেশবপুর নামে একটি জনপদ ছিল।

  • প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

    প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

    বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ডিম অন্যতম জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। সহজলভ্য, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং রান্না সহজ হওয়ায় অনেকেরই প্রতিদিনের খাবারে থাকে ডিম। তবে নিয়মিত ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।

    হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, ডিম উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’-এর অন্যতম উৎস। একটি ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। তাঁর মতে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

    চোখের সুরক্ষায় সহায়ক

    ডা. শেঠির মতে, ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব উপাদান বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী

    ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত ধারণা

    ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির দাবি, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম শরীরের উপকারী বা এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।

    যারা ডিম খান না, তাদের জন্য টোফু ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

  • পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    বিতর্কের মুখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে ব্যাংকটির পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) না থাকায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন করপোরেট গ্রাহকেরা। এর প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ঋণ নবায়ন এবং চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) অনুমোদন বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকট কাটিয়ে উঠতে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হলে কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না। কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমার চারটি গার্মেন্টস কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

    ব্যাংকটির একাধিক বড় করপোরেট গ্রাহক জানান, বড় অঙ্কের ঋণ, এলসি অনুমোদন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব পদে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী ও শিল্প খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে। আবার পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও নিয়মিত এমডি না থাকায় অনেক উদ্যোক্তাও বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় রয়েছেন।

    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো। আমানত (ডিপোজিট) আবার ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য (ক্যাশ লিকুইডিটি) সহায়তা নিতে হচ্ছে না।’

    করপোরেট গ্রাহকদের এলসি ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব কথা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। বড় যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি। তবে অতিরিক্ত চাহিদা বা সুদ মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া সম্ভব নয়। যৌক্তিক যেসব আবেদন আসছে, সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক কোনো দাবি পূরণ করা হবে না। আমার বোর্ডে অযৌক্তিক কিছু হবে না।’

    ইসলামী ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকের তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণাঙ্গ না থাকলেও নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত এক সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডই অনুমোদন দিচ্ছে। এ জন্য তাকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় বাইরে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক। কারণ সাধারণভাবে বোর্ড বলতে একাধিক সদস্যকে বোঝানো হয়। ফলে একজন সদস্য দায়িত্ব পালন করায় কিছু গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়তে পারেন।’

    ব্যাংকটির একটি শাখার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে তারল্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ওই টাকা দিয়ে নতুন বিনিয়োগ বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া যায় না। ফলে ইচ্ছা করলেই এ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত মেনেই এ অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এগোতে হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েকজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে দিলে হাতে থাকা তারল্য দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর যদি কাউন্টারে হঠাৎ গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে এখনো নিয়মিত বোর্ড ও এমডি নিয়োগ হয়নি। ব্যাংকের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং একজন নিয়মিত ও দক্ষ এমডি নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ বোর্ড ও নিয়মিত এমডি না থাকলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

    নতুন পর্ষদ গঠন কতদূর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত এলেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা হবে।’

    কেন সংকট

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংকটিকে মুক্ত করা হয়। এরপর নানা সংকটের মধ্যেও ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তবে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে তার অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একদল গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ চলতে থাকে। এর প্রভাবে ব্যাংকটিতে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দেয়। পরে পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালককে পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

  • বায়ুদূষণে ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

    বায়ুদূষণে ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

    চারশত পঞ্চান্ন বছরের এক ধ্রুপদী মহাকাব্য, যে প্রেমের স্থাপত্য রচনা করা করেছিলেন এক প্রেমময়ী সম্রাজ্ঞী। তবে সেই অমর কীর্তি কি আজ ইতিহাসের পাতা ছেড়ে মিশে যাচ্ছে দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে? বলছি মোগল সম্রাট হুমায়ুনের ঐতিহাসিক সমাধিসৌধের কথা।

    তাজমহল যদি হয় স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসার অমর নিশান, তবে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই সমাধিসৌধটি হলো স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এক গভীর অনুরাগের চিহ্ন। সম্রাজ্ঞী বেগা বেগম সাড়ে চারশত বছর আগে লাল বেলেপাথর আর শুভ্র মার্বেল পাথরে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ভারত উপমহাদেশের প্রথম বিশাল বাগান-সমাধিসৌধ। অথচ কালের পরিক্রমায় সেই ঐতিহাসিক বিস্ময় আজ নিভৃত কান্নায় বুক ভাসাচ্ছে। দিল্লির বাতাস এখন আর নিছক বাতাস নেই, তা যেন রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য এসিডে।

    আইআইটি-রুরকি এবং আইআইটি-কানপুরের সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এক নির্মম সত্য। দূষণের বিষাক্ত থাবায় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অমূল্য নিদর্শন। গবেষণার তথ্য বলছে, বাতাসে ভেসে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড, ধূলিকণা আর আর্দ্রতার সাথে বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করছে জিপসাম। আর সেই জিপসামের সাথে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটার কালি আর ধাতব কণা মিলে এই লাল পাথরের ওপর তৈরি করেছে এক ভয়ংকর কুচকুচে কালো আস্তরণ।

    যে অংশগুলো বৃষ্টির সরাসরি স্পর্শ পায় না, সেখানে এই বিষাক্ত আস্তরণ জমেছে সবচেয়ে পুরু হয়ে। এটি কেবল বাহ্যিক কোনো দাগ নয়; এই ডাইনি আস্তরণ ভেতর থেকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে চার শতকের প্রাচীন বেলেপাথরকে, যা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ঠেলে দিচ্ছে চিরতরে মুছে যাওয়ার মুখে।

    তাজমহলকে বাঁচাতে আগ্রায় ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচলে কত বিধিনিষেধ, কত শত কঠোর প্রহর! অথচ যার অলঙ্করণ আর জ্যামিতিক নকশাকে অনুকরণ করে তৈরি হয়েছিল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য তাজমহল, সেই হুমায়ুনের সমাধিসৌধ ক্ষয়ের পথে দিল্লির বিষাক্ত ধোঁয়াশার রাজত্বে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন আর সময়মতো বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণের ছোঁয়া না পেলে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই ভালোবাসার স্মৃতি হয়তো অকালেই হারিয়ে যাবে ইতিহাসের নিকষ কালো অন্ধকারে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    ‘জুলাই মোদের ধমনিতে টগবগ করবে আমৃত্যু’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ শীর্ষক মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ স্লোগানে আয়োজিত এ মিনি ম্যারাথনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, এম এম হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ ও চৌরঙ্গী হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    ম্যারাথন শেষে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মানুষের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ জুলাই ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ, ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ৫ আগস্টের পরও সাভার-আশুলিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এ অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি আরও বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমরা ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ আয়োজন করেছি। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই মিনি ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই ম্যারাথন সবার মধ্যে দেশপ্রেম, জুলাইয়ের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে শত শত শহীদ এবং আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা এই জুলাই পেয়েছি সেই জুলাই এবং আগস্ট মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট হতে চায় তাদের একটা বার্তা দেওয়ার জন্যই মূলত আমাদের আজকে এই আয়োজন। এজন্য যারা আমাদের এই আয়োজনের সাড়া নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, ছাত্রশিবির জুলাইকে যেভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের শহীদ পরিবারকে ছাত্রশিবির যেভাবে ধারণ করে তাদের সেই চেতনাকে আমরা বুকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণ করব। জুলাই যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষাকে আমরা বাস্তবায়ন করার জন্য এই জুলাইকে কখনো আমরা ম্যারাথনের মধ্য দিয়ে, কখনো মিছিল মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে আমরা এই জুলাইকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা জুলাই ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখানে দেশের কাঠামোগত একটি পরিবর্তন আমরা চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম রাষ্ট্রের যে গুরুত্বপূর্ণ অর্গানস গুলো রয়েছে-জুডিশিয়ারি, এডমিনিস্ট্রেশন, ডিফেন্স ফোর্স রাষ্ট্রের সব জায়গাগুলো অটোনোমাসলি ফাংশন করবে। বাংলাদেশের করাপশন বন্ধ হবে, ট্রান্সপারেন্সি ইনসিওর করা সম্ভব হবে। কিন্তু জুলাইয়ের পরে আমরা দেখেছি শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কার্যত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন হয়নি। যে কথাগুলো বলে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল সেই নিজের সঙ্গেই নিজেরা আবার প্রতারণা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই যে, এ সরকার যে রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে এসেছে, যে ত্যাগের বিনিময়ে এ সরকার গঠিত হয়েছে, তারা সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। অন্যথায় এই তরুণ সমাজ তাদের বিরুদ্ধে আবার দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশের প্রতিটা অর্গানসকে আগামী নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগাতে চাই। উন্নত একটি বিশ্বে আমরা নিজেদেরকে যেন সেভাবে দেখতে পাই সে আশা রাখছি। সকলকে আজকে এই রানের অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।

  • সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    আজ ৩ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

    আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআর)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    একই অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটগুলোর ভিত্তিপ্রস্তরও উন্মোচন করেন।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটিতে ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়।

    বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট শিক্ষা, আদর্শ এবং ধর্মীয়-নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানকার শিক্ষার্থীরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ আদর্শ নাগরিক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।