ইসলামী বিশ্ব

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে জাতীয় সংসদের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের মানববন্ধন

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে জাতীয় সংসদের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের মানববন্ধন

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে সেখান থেকে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিতে স্পিকারের কার্যালয়ে যান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা ও শহীদ পরিবারের একটি প্রতিনিধি দল।

  • আশুরার দিনে শুক্রবারই কেয়ামত হবে, ইসলামে কি বলে

    আশুরার দিনে শুক্রবারই কেয়ামত হবে, ইসলামে কি বলে

    ইসলামের মৌলিক আকিদার অন্যতম একটি বিষয় ‘কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস রাখা’। কেয়ামত চিরন্তন সত্য। এর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে এবং আখেরাতের জীবনের শুরু হবে।

    কেয়ামতের তিনটি অবস্থা রয়েছে। এর প্রথম পর্যায় হলো ব্যক্তির মৃত্যু। দ্বিতীয় পর্যায় হলো মহাপ্রলয়, যার মাধ্যমে সব সৃষ্টি ধ্বংস বা বিলীন হয়ে যাবে। তৃতীয় পর্যায় শিঙায় দ্বিতীয় ফুৎকারের পর চূড়ান্ত কেয়ামত অর্থ্যাৎ হাশর ও নশর তথা পুনরুত্থান ও মহামিলন অনুষ্ঠিত হবে।

    কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস করে পুনরায় জীবিত করবেন এবং মানুষের সব কাজের হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করবেন। কেয়ামতের দিনে সব মানুষ পুনরুত্থিত হবে এবং তাদের আমল অনুযায়ী বিচার করা হবে।

    কেয়ামত কখন হবে এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে নির্ধারিত সময়ের কথা বলা হয়নি। এর সুনির্দিষ্ট সময় একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তবে কেয়ামতের ছোট-বড় আলামত বা নির্দশনের কথা এসেছে। এর মধ্যে কিছু নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে। কোরআনে আছে, ‘তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন সংঘটিত হবে। বলো, এর জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রতিপালকের কাছেই আছে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮৭)

    কেয়ামতের সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই আছে। তবে হাদিসে আছে, কেয়ামত জুমার দিন সংঘটিত হবে। তবে কোন জুমার দিন হবে, কোন মাস বা কোন বছরে হবে—তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কেয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

    মহররম মাসের আশুরার দিনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অনেকে বলেন, আশুরার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশুরার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে—এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। এ ছাড়াও হজরত ইউসুফ (আ.)-এর জেল থেকে মুক্তি, ইয়াকুব (আ.) চোখের জ্যোতি ফিরে পাওয়া, ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে মহররম মাস বা আশুরার কোনো সম্পর্ক নেই।

    ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে ‘প্রচলিত ভুল’ সাব-হেডের এক শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘আশুরার দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে—এ কথা সঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কেয়ামত হওয়ার কথা এসেছে, তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল।’

    তালিমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকার পরিচালক মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েজী বলেন, ‘জুমার দিন কেয়ামত হবে—এ কথা সহিহ হাদিস দিয়ে প্রমাণিত। কিন্তু দশে মহররম বা আশুরার দিন কেয়ামত হবে—এমন কথা বিশুদ্ধ হাদিস দিয়ে প্রমাণিত নয়।’

  • যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদে হামলা-হুমকি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদে হামলা-হুমকি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক হামলা, মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।


    সান দিয়েগো শাখার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম দ্য নিউ আরবকে বলেন, আগে মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে হামলার পর এখন প্রবেশকারীদের পরিচয় যাচাই করে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।


    তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখন আর জনসমাগমস্থলে নিরাপদ বোধ করেন না।
    গত দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট ও মিশিগানের দুটি মসজিদে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের একটি মসজিদেও।


    এসব ধারাবাহিক হামলা ও হুমকির কারণে উত্তর আমেরিকার অনেক মুসলিম প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বড় ধরনের কোনো হামলার পর অনুকরণমূলক হামলার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।


    ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে সিএআইআর জানায়, ২০২৪ সালে তারা মুসলিম ও আরবদের বিরুদ্ধে ৮ হাজার ৬৫৮টি বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশক থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর সর্বোচ্চ।
    এসব অভিযোগের প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল সরাসরি ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম)। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের তথ্য-উপাত্তও প্রায় একই মাত্রার ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


    এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এছাড়া ইরানকে ঘিরে তার সাম্প্রতিক সামরিক অবস্থান এবং মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায় নিয়ে তার বক্তব্যও মুসলিমবিদ্বেষকে উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


    গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলা ও হুমকির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য। সেখানে ৪৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ধরনের ৮টি ঘটনা ঘটেছে।


    গত মঙ্গলবার মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়ের এক ইমামকে টেক্সাসে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) আটক করেছে। তবে ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


    সিএআইআর-মিনেসোটার উপ-নির্বাহী পরিচালক আদান সুলেইমান দ্য নিউ আরবকে বলেছেন, এখন ঘটনাগুলো আমাদের খুব কাছাকাছি ঘটছে। প্রতিনিয়ত এমন কাউকে চিনি, যিনি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
    তার ভাষায়, মানুষ ভয় ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারছে না। কেউ যখন মসজিদে আল্লাহর ইবাদত করতে যায়, তখনও মনে প্রশ্ন জাগে- আমার সঙ্গেও কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে?

    ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কোথাও অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে, কোথাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।
    তবে মুসলিম নেতারা বলছেন, কঠিন এই সময়ে স্থানীয় অমুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন তাদের আশাবাদী করে তুলছে। হামলার পর অনেক প্রতিবেশী মসজিদে ফুল ও সংহতির বার্তা পাঠিয়েছেন।


    দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লা মারিদা মসজিদও সম্প্রতি হুমকিমূলক চিঠি পেয়েছে। মসজিদের সভাপতি রেজাউর রহমান জানান, সান দিয়েগোর হামলার পরও তারা আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত ‘ওপেন হাউস’ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
    তিনি বলেন, আমরা শুধু এই সমাজে বসবাস করি না, আমরাই এই সমাজের অংশ।

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ

    খামেনির জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ

    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শোকমিছিলে অংশ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

    রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য পরিচিত আহমাদিনেজাদ দীর্ঘদিন ধরে খামেনির প্রতি অত্যন্ত অনুগত হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তিনি এর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন সাবেক কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ছাত্রজীবনে আহমাদিনেজাদ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত রক্ষণশীল ছাত্র সংগঠন ‘অফিস ফর স্ট্রেনদেনিং ইউনিটি’র একটি কট্টরপন্থী অংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

    খামেনির শেষ বিদায়ে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও শোকমিছিলে অংশ নেন।

  • জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত ওই ৭৬ জন যাত্রী ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যায়।

    বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরো অনেক যাত্রী হঠাৎ করে সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন।

    সূত্র আরো জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে ‘ভেরিফায়েড’হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।

    বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরো কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

    বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ফ্লাইটের ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। এরপর আরো পাঁচ যাত্রীকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরো ৬১ জন যাত্রী আর বোর্ডিং গেটেই আসেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

    বিমানের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ বোসরা ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী বিমানের ওই ফ্লাইটে ২৮৮ জন যাত্রী টিকিট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দশজন যাত্রীকে অফলোড করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাঁচজনকে পাসপোর্ট চেকিংয়ের সময় ভিসা সমস্যায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ১০ জনকে ইমিগ্রেশনে আটকায়। ফ্লাইটে ৬১ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর আরো ৬১ জন যাত্রী যারা বোর্ডিং পাস নিয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডিংয়ের জন্য আর গেটেই আসেননি। শেষ পর্যন্ত ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে সাড়ে ৮টার দিকে ছেড়ে যায় ফ্লাইটটি।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন যাত্রী প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জন অফলোড করা হয়েছে।

    বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিছু যাত্রী টুরিস্ট ভিসা নামে মালয়েশিয়ায় কাজ করার জন্য ঢাকা ত্যাগ করছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশের বিষয়টি নজরে এলে তারা অফলোড করে।

    অবৈধভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।

    যেসব যাত্রীকে অফলোড করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, আমার কাছে তাদের জাল ভিসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না। বা আরো কতগুলো বিষয় মিলিয়ে সন্দেহের কারণ থাকে।

    বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে খুন করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবার বলছে, শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। এরপর রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গে। বারুইপুরে টহল দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী।

    সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

    এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকায় এক যুবককে পিটিয়েও মারা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে ক্ষুব্ধ জনতার রোষেই তার মৃত্যু হয়।

    রোববার বারুইপুর থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী বারুইপুরে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোনো রকম সংঘাত ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই।

    ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর বোনটি (নির্যাতিতা কিশোরী) তার বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

    ‘রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। রোববার সকালে আমরা স্থানীয়দের থেকে খবর পেলাম। পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীকে আমরাই ধরে ফেলি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করি। তখনও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা দোষীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

    এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।

    বারুইপুরে ওই ঘটনার পরে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা সামনে এসেছে। জনরোষ সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

    এই ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত তিনটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলা কিশোরীকে খুনের ঘটনায়, একটি স্থানীয় জনগণ কর্তৃক পুলিশের ওপর হামলা ও অপরটি এক অভিযুক্তকে খুনের মামলা।

    শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পকসো ধারায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পুলিশের হাতে আসার পরে।

    যদিও প্রাথমিক রিপোর্টটিতে কী বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশকর্তারা।

    একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে সাজা নিশ্চিত করা হবে।

    অভিযুক্ত একজনকে রোববার গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়াও আরও দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। এখন মোট গ্রেফতারের সংখ্যা হলো তিন। অন্য তিনজন আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • লন্ডনে গ্লোবাল আশেকে রাসুল (সা.) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

    লন্ডনে গ্লোবাল আশেকে রাসুল (সা.) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

    বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল আশেকে রাসুল (সা.) কনফারেন্স ২০২৬।

    মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের আহ্বানে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে লন্ডনের একটি কনভেনশন হলে এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    মূল বক্তব্যে ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, “আজকের সমাজ হেরা গুহার সেই জ্ঞানকে ভুলে গেছে। ইসলাম রয়ে গেছে, কিন্তু আত্মশুদ্ধির সাধনা হারিয়ে গেছে।”

    কোরআন অনুসরণ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোরআন জানা আর কোরআন মানা এক জিনিস নয়।”

    “ধর্মীয় জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়। সুফিজম মানুষকে চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা দেয়,” যোগ করেন ইমাম কুদরত এ খোদা।

    বিশ্বশান্তি ও মানবিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “ভালোবাসার উপরে ধর্ম নেই, ভালোবাসার উপরে ইবাদত নেই।”

    অনুষ্ঠানে সুফিবাদ, আল্লাহর প্রেমের মাধ্যমে আত্মিক জাগরণ, মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী এর কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

    কনফারেন্সে ‘দ্য রাইজ এন্ড স্প্রেড অব মোহাম্মদী ইসলাম’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মিলাদ শরীফ পাঠ এবং বিশ্ববাসীর শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক লাখ আশেকে রাসুল অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

    দেওয়ানবাগ শরীফ যুক্তরাজ্য শাখা এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে দেওয়ানবাগ শরীফ নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে আয়োজকরা জানান।

  • বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে  ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

    মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

    জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

    লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

    আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

    এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

    ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

    ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

  • ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    টানা ৪৭ বছর ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত শেষে অবসরে গেলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ। এ উপলক্ষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাকে এক আন্তরিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, দুটি গরু ও উপহার দিয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৪৭ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে ইমামতি করেছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন ইমাম হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

    বক্তারা আরো বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের ইমাম ও আলেমদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ যেন তার এ খেদমত কবুল করেন এবং সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।

    অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    শেষে বিদায়ী খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।

  • খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনা মহানগরীর তিন স্থানে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনজনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তিনজনেরই পায়ে গুলি লাগায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। গুলির ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন মানুষ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে রাতুল শেখ নামে যুবককে গুলি করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা সদর থানার রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় এক কিশোরীকে গুলি করা হয়। ওই কিশোরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন।

    রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলির ঘটনায় পরিবারের তরফে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে চাঁদা না দেওয়ায় মানিককে গুলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহায়েলসহ সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

    রাতুলের ওপর গুলির ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। এ ঘটনায় লবণচরা থানা পুলিশের এসআই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। কিশোরীকে গুলির ঘটনায়ও পরিবার গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৩ মাসে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪টি হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত।

  • হোয়াটসঅ্যাপের  তথ্য চুরি, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

    হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য চুরি, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

    ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর কারণে প্রতারকদেরও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে এই অ্যাপ। ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং লিংক, লটারির প্রলোভন কিংবা বিনিয়োগের নামে প্রতারণার মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। অনেক সময় এক ক্লিকেই আপনার তথ্য আর ব্যাংকের টাকা গায়েব হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহজনক বার্তা চেনার কয়েকটি সহজ উপায় জানা থাকলে অধিকাংশ প্রতারণাই এড়ানো সম্ভব।

    অচেনা কোনো নম্বর থেকে হঠাৎ বার্তা এলে সেটিকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখুন। বিশেষ করে যদি বার্তায় প্রশংসা, আকর্ষণীয় চাকরির অফার, মোটা অঙ্কের আয়ের প্রতিশ্রুতি বা জরুরি সাহায্যের কথা বলা হয়। প্রতারকেরা অনেক সময় ভুল নম্বরে বার্তা পাঠানোর ভান করে কথোপকথন শুরু করে। আবার কখনও নিজেদের নিয়োগকারী বা পরিচিত কারও বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। উদ্দেশ্য একটাই বিশ্বাস অর্জন করে পরে প্রতারণা করা। এ ধরনের বার্তার জবাব না দিয়ে নম্বরটি ব্লক ও রিপোর্ট করাই নিরাপদ।

    প্রতারকেরা এমন অনেক ওয়েবসাইট তৈরি করে, যা দেখতে ব্যাংক, সরকারি দপ্তর, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বা জনপ্রিয় অ্যাপের আসল ওয়েবসাইটের মতোই লাগে। অপরিচিত কারও পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। পরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংক হলেও আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বা ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলে না। প্রায় সময় ব্যাংক থেকে বলা হয় তারা কখনো এখন টেক্স করে না।

    কোনো ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বৈধ সেবাদাতা সংস্থা কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে ওটিপি চায় না। ওটিপি অন্য কাউকে জানিয়ে দিলে আপনার ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। একইভাবে কেউ যদি কলের সময় স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, তাতেও রাজি হবেন না। স্ক্রিন শেয়ার করলে আপনার ফোনে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপ, পাসওয়ার্ড, ওটিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তি দেখতে পারে।

    পরিচিতের বেশ ধরে টাকা চাইলে সাবধান

    সম্প্রতি একটি প্রতারণার কৌশল বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারকেরা নতুন নম্বর থেকে পরিবারের সদস্য যেমন ছেলে, মেয়ে বা ভাই-বোন পরিচয়ে বার্তা পাঠায়। এরপর জরুরি সমস্যার কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনুরোধ করে। এ ধরনের বার্তা পেলে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তির পরিচিত নম্বরে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।

    সন্দেহজনক নম্বর হলে রিপোর্ট করুন

    হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহজনক নম্বর রিপোর্ট করা খুবই সহজ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট চ্যাট খুলে উপরের নামের ওপর চাপ দিন। এরপর নিচে স্ক্রল করে ‘রিপোর্ট’ অপশন নির্বাচন করুন। চাইলে একই সঙ্গে নম্বরটি ব্লকও করতে পারবেন। রিপোর্ট করলে প্রেরক কোনো নোটিফিকেশন পায় না। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বার্তা হোয়াটসঅ্যাপের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়, যা প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

    নিরাপদ থাকতে সেটিংসে পরিবর্তন

    বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসিটড গিয়ে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস এবং সর্বশেষ অনলাইনের তথ্য শুধু পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য দৃশ্যমান রাখুন। এছাড়া কলস অপশনে গিয়ে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ সুবিধা চালু করলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বিরক্ত করবে না। সবশেষে ‘অ্যাকাউন্ট’ থেকে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে ছয় সংখ্যার একটি পিন সেট করুন। এতে কেউ আপনার নম্বর অন্য ডিভাইসে নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর কাজ করবে।

    হোয়াটসঅ্যাপে হ্যাক কিংবা এ থেকে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত হ্যাকাররা নতুন কৌশলে এসব করে যাচ্ছে। তাই সচেতন থাকার থেকে বড় সুরক্ষা আর কিছুই না।
    হোয়াটসঅ্যাপের এক ক্লিকেই তথ্যসহ টাকা চুরি, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

    ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর কারণে প্রতারকদেরও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে এই অ্যাপ। ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং লিংক, লটারির প্রলোভন কিংবা বিনিয়োগের নামে প্রতারণার মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। অনেক সময় এক ক্লিকেই আপনার তথ্য আর ব্যাংকের টাকা গায়েব হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহজনক বার্তা চেনার কয়েকটি সহজ উপায় জানা থাকলে অধিকাংশ প্রতারণাই এড়ানো সম্ভব।

    অচেনা কোনো নম্বর থেকে হঠাৎ বার্তা এলে সেটিকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখুন। বিশেষ করে যদি বার্তায় প্রশংসা, আকর্ষণীয় চাকরির অফার, মোটা অঙ্কের আয়ের প্রতিশ্রুতি বা জরুরি সাহায্যের কথা বলা হয়। প্রতারকেরা অনেক সময় ভুল নম্বরে বার্তা পাঠানোর ভান করে কথোপকথন শুরু করে। আবার কখনও নিজেদের নিয়োগকারী বা পরিচিত কারও বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। উদ্দেশ্য একটাই বিশ্বাস অর্জন করে পরে প্রতারণা করা। এ ধরনের বার্তার জবাব না দিয়ে নম্বরটি ব্লক ও রিপোর্ট করাই নিরাপদ।

    প্রতারকেরা এমন অনেক ওয়েবসাইট তৈরি করে, যা দেখতে ব্যাংক, সরকারি দপ্তর, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বা জনপ্রিয় অ্যাপের আসল ওয়েবসাইটের মতোই লাগে। অপরিচিত কারও পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। পরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংক হলেও আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বা ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলে না। প্রায় সময় ব্যাংক থেকে বলা হয় তারা কখনো এখন টেক্স করে না।

    কোনো ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বৈধ সেবাদাতা সংস্থা কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে ওটিপি চায় না। ওটিপি অন্য কাউকে জানিয়ে দিলে আপনার ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। একইভাবে কেউ যদি কলের সময় স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, তাতেও রাজি হবেন না। স্ক্রিন শেয়ার করলে আপনার ফোনে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপ, পাসওয়ার্ড, ওটিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তি দেখতে পারে।

    পরিচিতের বেশ ধরে টাকা চাইলে সাবধান

    সম্প্রতি একটি প্রতারণার কৌশল বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারকেরা নতুন নম্বর থেকে পরিবারের সদস্য যেমন ছেলে, মেয়ে বা ভাই-বোন পরিচয়ে বার্তা পাঠায়। এরপর জরুরি সমস্যার কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনুরোধ করে। এ ধরনের বার্তা পেলে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তির পরিচিত নম্বরে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।

    সন্দেহজনক নম্বর হলে রিপোর্ট করুন

    হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহজনক নম্বর রিপোর্ট করা খুবই সহজ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট চ্যাট খুলে উপরের নামের ওপর চাপ দিন। এরপর নিচে স্ক্রল করে ‘রিপোর্ট’ অপশন নির্বাচন করুন। চাইলে একই সঙ্গে নম্বরটি ব্লকও করতে পারবেন। রিপোর্ট করলে প্রেরক কোনো নোটিফিকেশন পায় না। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বার্তা হোয়াটসঅ্যাপের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়, যা প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

    নিরাপদ থাকতে সেটিংসে পরিবর্তন

    বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসিটড গিয়ে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস এবং সর্বশেষ অনলাইনের তথ্য শুধু পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য দৃশ্যমান রাখুন। এছাড়া কলস অপশনে গিয়ে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ সুবিধা চালু করলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বিরক্ত করবে না। সবশেষে ‘অ্যাকাউন্ট’ থেকে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে ছয় সংখ্যার একটি পিন সেট করুন। এতে কেউ আপনার নম্বর অন্য ডিভাইসে নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর কাজ করবে।

    হোয়াটসঅ্যাপে হ্যাক কিংবা এ থেকে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত হ্যাকাররা নতুন কৌশলে এসব করে যাচ্ছে। তাই সচেতন থাকার থেকে বড় সুরক্ষা আর কিছুই না।
    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • সন্তানের আকিকা না দিলে কি ক্ষতি হয়? ইসলাম যা বলছে

    সন্তানের আকিকা না দিলে কি ক্ষতি হয়? ইসলাম যা বলছে

    সন্তান মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তাই সন্তান জন্মের পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে আকিকা করার প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করেছে। তবে অনেকের মধ্যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, আকিকা না করলে সন্তানের অকল্যাণ বা বিভিন্ন বিপদ-আপদ নেমে আসে। এ বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য কী, তা নিয়ে রয়েছে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য।’ (সুরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৬)

    হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ আকিকার পশু জবাই) করো এবং তার অশুচি (চুল ইত্যাদি) দূর করে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)

    আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখা, মাথা মুণ্ডন করা এবং আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৮৩২)

    সুন্নত অনুযায়ী, ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল আকিকা করা উত্তম। ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা, মাথার চুল ফেলে দেওয়া এবং সুন্দর নাম রাখা সুন্নত।

    আকিকার পশু অবশ্যই নর হতে হবে—এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। উম্মু কুরয (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ছেলের জন্য দুটি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল। পশু নর হোক বা মাদি হোক, এতে কোনো অসুবিধা নেই।’ (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১৫২২)

    আকিকা না করলে সন্তানের ক্ষতি হয় বা সারাজীবন বিপদ-আপদ লেগে থাকে—এমন দাবির বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং সন্তানের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এটি করা উচিত। তবে আকিকা না করলে সন্তান অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন কোনো বক্তব্য সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সন্তানের কল্যাণ কামনায় আকিকা করা উত্তম।

  • কোরআনের আয়াত শুনিয়ে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের শক্তিশালী বার্তা

    কোরআনের আয়াত শুনিয়ে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের শক্তিশালী বার্তা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায়ের মঞ্চ নয়, বরং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক ভাষণ বা হুমকির গর্জন ছাড়াই ইরান পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।

    জানাজার শোকের মঞ্চে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা ছিল না। এর পরিবর্তে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট আয়াতের তেলাওয়াত করা হয়, যার প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত ছিল।১. আফগানিস্তানকে শোনানো হয় সূরা আল-ফাতহর আয়াত ১। এর অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) একটি স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ বিজয় দান করেছি।

    পেছনের রাজনীতি: আফগান মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও প্রতিনিধিদল যখন হলে প্রবেশ করেন, তখন তাদের এই আয়াত শোনানো হয়। ২০ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমেরিকার মতো পরাশক্তিকে তাড়িয়ে আফগানিস্তানের যে ঐতিহাসিক বিজয়, এই তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান সরাসরি তাদের সেই লড়াইকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক অনন্য ‘বিজয়ের অভিনন্দন’ জানিয়েছে।

    ২. বাংলাদেশকে শোনানো হয় সূরা আলে-ইমরানের আয়াত ১৬৯-১৭০। এর অর্থ: আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, তারা রিজিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি (অর্থাৎ জীবিত আছে), তাদের জন্য তারা এ সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

    পেছনের রাজনীতি: বাংলাদেশের জন্য এই আয়াতটি ছিল এক অনবদ্য প্রতীকী স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব এবং জালিমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, ইরানের এই আয়াত তেলাওয়াত সরাসরি সেই শহীদদের আত্মত্যাগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক আধ্যাত্মিক সম্মান এনে দেয়।

    ৩. ফিলিস্তিনকে শোনানো হয় সূরা বনী ইসরাইলের আয়াত ১। এর অর্থ: পরম পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

    পেছনের রাজনীতি: ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সামনে ইসলামের প্রথম কিবলা আল-আকসার আয়াতটি তেলাওয়াত করার অর্থ ছিল অত্যন্ত গভীর। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, খামেনির বিদায়ের পরেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং জেরুজালেম মুক্ত করার লড়াই ইরানের কাছে সবচেয়ে পবিত্র এবং অবিচ্ছেদ্য এজেন্ডা হয়ে থাকবে।

    ৪. কাতারকে শোনানো হয় সূরা আল-ফাতহর আয়াত ১-৩। এর অর্থ: নিশ্চয় আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যেন আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন আর আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। এবং আল্লাহ আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য দান করেন।

    পেছনের রাজনীতি: কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় বড় পরাশক্তির মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই আয়াতের মাধ্যমে কাতারকে তাদের এই স্বাধীন, সাহসী এবং সফল কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য এক ধরণের ভূরাজনৈতিক সাধুবাদ ও ‘বিজয়’-এর শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইরান।

    ৫. পাকিস্তানকে শোনানো হয় সূরা বনী ইসরাইলের আয়াত ৮০। এর অর্থ: বলো, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সঙ্গে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত করাও কল্যাণের সঙ্গে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি।

    পেছনের রাজনীতি: পাকিস্তান সবসময় মুসলিম বিশ্বের সংকটগুলোতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে। এই দোয়ার মাধ্যমে ইরান প্রকারান্তরে পাকিস্তানকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংকট উত্তরণে একটি ‘সাহায্যকারী শক্তি’ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

    ৬. তুরস্ককে শোনানো হয় সূরা আন-নিসার আয়াত ৯৫। এর অর্থ: মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন; আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

    পেছনের রাজনীতি: তুরস্ক মুখে ফিলিস্তিন বা মুসলিম উম্মাহর পক্ষে অনেক বড় বড় কথা বললেও, বাস্তবে ইসরায়েল বা পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক বা শক্ত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয় না। এই আয়াতের মাধ্যমে ইরান তুরস্কের সেই ‘ঘরে বসে থাকা’ বা নিষ্ক্রিয় নীতিকে ইঙ্গিত করে এক ধরণের সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভর্ৎসনা করেছে।

    এ এম

  • মসজিদের ইমাম থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    মসজিদের ইমাম থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে নজিরবিহীন আয়োজন চলছে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে এক থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান। ঠিক এই সময়ে তার জীবনের বিভিন্ন শিক্ষণীয় দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে।

    ইমাম খামেনির রচিত আত্মজীবনী ‘সেল নম্বর ১৪’ বইয়ে খামেনি নিজের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

    ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মসজিদের ইমাম থেকেই দেশের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন। খামেনি প্রথমে মাশহাদের একটি সরু গলিতে অবস্থিত ছোট ‘ইমাম হাসান মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মাশহাদের বিখ্যাত ও বড় ‘কেরামত মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। এই মসজিদটি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল। তবে তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ তাকে এই মসজিদে ইমামতি করতে বাধা দেয়।

    কেরামত মসজিদে ইমামতি নিষিদ্ধ হওয়ার তিন মাস পর তিনি আবারও ‘ইমাম হাসান মসজিদে’ ফিরে আসেন এবং প্রতি শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বিভিন্ন বিষয়ে ওপর বক্তব্য দিতেন।

    ১৯৬৬ সালের দিকে তেহরানে অবস্থানকালে তিনি একটি নির্মাণাধীন মসজিদে (যা পরে ‘আমিরুল মুমিনিন মসজিদ’ নামে পরিচিত হয়) জামাতে নামাজ পড়াতেন এবং বক্তব্য দিতেন।

    নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তিনি ইরনশাহরের একমাত্র শিয়া মসজিদ ‘আল-রাসুল মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। তিনি সেখানে নামাজের পর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শিক্ষামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতেন।

    আলী খামেনি মাশহাদের সামরিক কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি সহবন্দিদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়াতেন। তাঁর ইমামতি এবং ধর্মীয় বক্তব্যের প্রভাব দেখে কারারক্ষীরা পরে তাকে জামাতে নামাজ পড়াতে এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়।

  • শরিয়ার দৃষ্টিতে বৈধ-অবৈধ খেলাধুলা

    শরিয়ার দৃষ্টিতে বৈধ-অবৈধ খেলাধুলা

    ইসলাম মানুষের জীবনকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুন্দর করার জন্য এসেছে। ইবাদত, কাজ, বিশ্রাম এবং বিনোদন—সবকিছুরই একটি বৈধ ও পরিমিত ব্যবস্থা ইসলামে রয়েছে। খেলাধুলা মানুষের শরীরকে সুস্থ, মনকে প্রফুল্ল এবং কর্মক্ষম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ইসলামে খেলাধুলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; বরং কিছু খেলাকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং কিছু খেলাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না এবং সৎকর্ম করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা : ১৯৫)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও শক্তি অর্জনের জন্য বৈধ উপায় অবলম্বন করা শরিয়তসম্মত।ইসলামে বৈধ ও প্রশংসনীয় খেলাধুলা

    ১. ঘোড়দৌড় ও অশ্বারোহণ

    রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছেন এবং সাহাবিদের এতে উৎসাহিত করেছেন। ইবনু উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতেন। (বুখারি : ২৮৭০) অশ্বারোহণ মুসলিমদের শারীরিক দক্ষতা ও যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ২. তিরন্দাজি

    তিরন্দাজি ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসিত একটি খেলা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তির নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো। (তিরমিজি : ১৬৩৭) অন্য হাদিসে এসেছে—‘শক্তি বলতে তিরন্দাজিকেই বোঝায়।’ (মুসলিম : ১৯১৭)

    ৩. দৌড় প্রতিযোগিতা

    দৌড় একটি সুন্নাহসম্মত খেলা। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দৌড়ে প্রতিযোগিতা করেছিলাম এবং আমি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলাম। (আবু দাউদ : ২৫৭৮)

    ৪. সাঁতার

    যদিও সাঁতার বিষয়ে সহিহ হাদিসে সরাসরি নির্দেশনা সীমিত, তবে এটি শরীরচর্চার অন্যতম উত্তম মাধ্যম হিসেবে ইসলামি আলেমরা গ্রহণ করেছেন। এটি স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক এবং শরিয়তের সাধারণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ৫. কুস্তি ও শরীরচর্চা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বিখ্যাত কুস্তিগির রুকানাহর সঙ্গে কুস্তি করে তাকে পরাজিত করেছিলেন। (আবু দাউদ : ৪০৭৮) এ থেকে শক্তি বৃদ্ধি ও শরীরচর্চার বৈধতা প্রমাণিত হয়।

    আধুনিক খেলাধুলার বিধান

    ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, হকি, টেবিল টেনিস ও দাবা (এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে), দৌড়, মার্শাল আর্টসহ আধুনিক অনেক খেলাই মূলত বৈধ; তবে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে—

    ১. ফরজ নামাজ নষ্ট করা যাবে না।

    ২. জুয়া বা বাজি ধরা যাবে না।

    ৩. অশ্লীলতা বা শরিয়তবিরোধী পোশাক থাকবে না।

    ৪. গালাগাল, ঝগড়া বা হিংসাত্মক আচরণ করা যাবে না।

    ৫. খেলাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠবে না।

    যদি এসব শর্ত লঙ্ঘিত হয়, তবে বৈধ খেলাও গুনাহের কারণ হতে পারে।

    কোন খেলা বা বিনোদন হারাম?

    ১. জুয়াভিত্তিক সব খেলা

    যে খেলায় অর্থ, সম্পদ বা পুরস্কারের জন্য বাজি ধরা হয়, তা হারাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণকারী শর এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব তোমরা তা থেকে দূরে থাকো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ : ৯০) তাই তাস, ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্য যেকোনো খেলায় বাজি ধরা হারাম।

    ২. নামাজ ও ইবাদত থেকে গাফেল করে এমন খেলা

    আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে।’ (সুরা আল-মুনাফিকুন : ৯) যে খেলা মানুষকে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনি দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা গুনাহের কারণ।

    ৩. অশ্লীলতা ও নগ্নতাযুক্ত খেলা

    যে খেলায় সতর খোলা থাকে, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয় বা অশ্লীলতা ছড়ায়, তা শরিয়তসম্মত নয়। এসব খেলা থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।

    ৪. ক্ষতিকর ও প্রাণঘাতী খেলা

    যে খেলায় নিজের বা অন্যের জীবনের বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং অন্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।’ (ইবন মাজাহ : ২৩৪০)

    খেলাধুলা সম্পর্কে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ (মুসলিম : ২৬৬৪)

    এই শক্তির মধ্যে ঈমানি শক্তির পাশাপাশি শারীরিক শক্তিও অন্তর্ভুক্ত। তাই একজন মুসলিমের উচিত এমন খেলাধুলা নির্বাচন করা, যা শরীরকে সুস্থ রাখে, চরিত্র গঠন করে, সময়ের অপচয় করে না এবং আল্লাহর আনুগত্যে সহায়ক হয়।

    খেলাধুলা তখনই ইবাদতের মর্যাদা পেতে পারে, যখন তা সুস্বাস্থ্য অর্জন, দ্বীনের খেদমত, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয়। পক্ষান্তরে, যে খেলাধুলা জুয়া, অশ্লীলতা, নামাজ অবহেলা বা পাপাচারের কারণ হয়, তা হারাম বা ন্যূনতম মাকরুহ হয়ে যায়। সুতরাং মুসলিমদের উচিত খেলাধুলার ক্ষেত্রেও কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে হালাল ও উপকারী বিনোদন বেছে নেওয়া।

    এ এম

  • বন্ধ হোক ধর্মের নামে অধর্ম

    বন্ধ হোক ধর্মের নামে অধর্ম

    এই বদ্বীপকে বলা হয় ‘বারো আউলিয়ার দেশ’। হজরত শাহজালাল, শাহ পরান, খান জাহান আলীসহ অসংখ্য মহান বুজুর্গ শত শত বছর আগে দূর দেশ থেকে পথ পেরিয়ে এই মাটিতে এসেছিলেন। কেন এসেছিলেন? তাওহিদের আলো ছড়িয়ে দিতে। শিরক আর কুসংস্কারের অন্ধকার দূর করতে। মানুষকে এক আল্লাহর পথে আনতে। অথচ সেই বুজুর্গদের কবরকে কেন্দ্র করে যা চলছে, তা দেখলে মনে হয়—কবরে শুয়ে থাকা সেই মহামানবরাই আজ সবচেয়ে বড় অসহায়ত্বের শিকার। তারা সারাজীবন যেসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাদের সমাধিস্থলকে ঘিরে আজ সেসবেরই জয়জয়কার।ধর্মের নামে অধর্ম

    মাজারে কত কী হয়, তা কে না জানেন। কবরের পাশে হুক্কার ধোঁয়া, গাঁজার আড্ডা, জটাধারী ভণ্ড ফকিরের ভিড়, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অবৈধ যৌনাচার—এসব দৃশ্য দেশের বহু মাজারে পরিচিত। অথচ ইসলামে প্রতিটি নেশাদ্রব্য হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি মাদকদ্রব্যই হারাম।’ (মুসলিম: ২০০৩)

    কবরে সিজদা দেওয়া, কবরের গ্রিল ধরে ফরিয়াদ করা, কবরে মানত করা, কবরের চাদরে কপাল স্পর্শ করা, চুম্বন করা, তাজিম-সম্মানার্থে মাথা ঝোঁকানো—এসবই সম্পূর্ণ হারাম এবং এগুলোর কোনো কোনোটি শিরক। রাসুল (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ইহুদি-নাসারাকে ধ্বংস করুন! তারা তাদের নবীদের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়েছে।’ (মুসলিম : ৫৩০)

    মৃত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য, সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।’ (সুরা জিন: ১৮)। মানতের নামে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা হাতানো, তথাকথিত ‘প্রেম’ ও ‘ভক্তি’র আড়ালে শিরকি আচার-অনুষ্ঠানকে বৈধতা দেওয়া—এসবই কোরআন-সুন্নাহর মানদণ্ডে হারাম। বরং একজন মুমিনের ঈমানের মূল ভিত্তি তাওহিদকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মাজারে আর কী কী হয়, এর বিস্তারিত লেখাটাও অরুচিকর ও লজ্জার। আল্লাহ রক্ষা করুন।

    আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি

    মাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জমা পড়ে দানবাক্সে। এই অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। মাজারের খাদেম, তথাকথিত পির বা গদিনশিন ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে দুর্নীতির এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষ ভাবেন, মাজারে দেওয়া অর্থ গরিবের কাজে লাগবে। কিন্তু সেই অর্থ চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। এটি শুধু অর্থের অপব্যবহার নয়, বিশ্বাসেরও অপব্যবহার। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব দুর্নীতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এগুলো সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা, যার মূল ভিত্তি সাধারণ মানুষের আবেগ পুঁজি করা।সাহসী একটি পদক্ষেপ

    এই দীর্ঘ অন্ধকারে একটি আলোর রেখা সম্প্রতি দেখা গেছে। সিলেটের সদ্য সাবেক ডিসি সারোয়ার আলম প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো একটি অস্বচ্ছ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্সের অর্থের সুষ্ঠু হিসাব-নিকাশ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমে। মাজারকেন্দ্রিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ ছোট মনে হলেও এর তাৎপর্য অনেক বড়। কারণ এতদিন যে ব্যবস্থায় কেউ হাত দেওয়ার সাহস পাননি, সেখানে প্রথমবার জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে। এটি মাজার-সংস্কারের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

    ওয়াক্‌ফ সম্পদ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

    মাজারের দানবাক্সের অর্থ, মাজারের জমি—সবই ওয়াক্‌ফ সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। এই সম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়া, জাতীয় কোষাগারে জমা হওয়া এবং জনকল্যাণে ব্যয় হওয়া এখন সময়ের দাবি। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে অর্থ গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল রেকর্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিয়মিত অডিটের ব্যবস্থা করা জরুরি। মাজারকেন্দ্রিক অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়তে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

    দান হোক কেবল আল্লাহর উদ্দেশে

    দাতাদেরও দায়িত্ব আছে। তাদের বুঝতে হবে মাজারে দান করার কোনো নির্দেশনা ইসলামে নেই। বরং মাজারে দেওয়া প্রতিটি টাকা ওই দুর্নীতির সিন্ডিকেটকে আরো শক্তিশালী করে। দান হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বলুন, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।’ (সুরা আনআম : ১৬২)

    বুজুর্গদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে আল্লাহকে খুশি করার নিয়তে এতিমখানায়, মাদরাসায়, হাসপাতালে ও গরিবকে সাদাকা করা যেতে পারে। দেশে হাজারো পরিবার আছে, যারা কয়টি টাকার জন্য দুবেলা পেট পুরে খেতে পারে না, মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করতে পারে না, কিংবা মায়ের বা সন্তানের চিকিৎসা করতে পারে না। এমনকি আপনার নিকটাত্মীয়দের অনেকেই আছেন গ্রামে, যারা নিত্যদিন অর্থকষ্টে কাটাচ্ছেন। আপনি এসব জরুরি খাতে ব্যয় না করে পাগলা মসজিদ বা অমুক-তমুকের দরবারে হুমড়ি খেয়ে দান করার কোনো মানে হয় না।

    শেষকথা

    যারা মাজারে শুয়ে আছেন, তারা এসেছিলেন আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকতে—কবরের সামনে সিজদা নিতে নয়। তাদের নাম ভাঙিয়ে যেসব অপকর্ম চলছে, তাতে তাদের আত্মা কষ্ট পায় বৈকি। ডিসি সারোয়ার আলমের মতো যারা এই অন্ধকারে আলো জ্বালানোর সাহস দেখাচ্ছেন, তাদের সমর্থন করা নাগরিক ও সরকারের দায়িত্ব। মাজারকেন্দ্রিক শিরক ও দুর্নীতির বেড়াজাল ব্যক্তিগতভাবে, সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ছিন্ন করতে হবে। অলি-আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা থাকুক মনে; কিন্তু সেই শ্রদ্ধা যেন কোনো শিরকি আচারে পরিণত না হয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসার এখনই সময়।

    এ এম

  • চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

    চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এই নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে; যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা হজরত আবু বকর (রা), হজরত উমর (রা), হজরত উসমান (রা) এবং হজরত আলী (রা)-এর নামে।

    এই ব্যাটালিয়নে আরো দুটি কোম্পানির প্রস্তাব করা হয়েছে; যেগুলো হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি। আর সেগুলোর নাম করা হবে— হজরত মুহাম্মদ (স)-এর কন্যা হজরত ফাতিমা (রা) এবং স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা)-এর নামে। তবে এ প্রস্তাব এখনো অনুমোদিত হয়নি। এদিকে বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তের কারনে গা জ্বলা শুরু হয়েছে ভারতের।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজতক বাংলা’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল’ এবং ‘নেতিবাচক’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা এই পরিবর্তনকে কেবল সাধারণ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে বরং একটি বড় ধরনের আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে তুলনা: ভারতীয় মিডিয়া এই বিষয়টিকে এভাবে দেখছে যে, যেখানে আগে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোর নাম ছিল ‘বীরশ্রেষ্ঠদের’ (যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন) নামে, সেখানে এখন ইসলামের ‘চার খলিফার’ নামে নামকরণ করা হচ্ছে। তাদের আলোচনায় এটি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ হয়তো তার মূল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসছে।

    নবভারত টাইমস নামে একটি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh Army: Is General Zaman forming an Islamic army for Bangladesh? A company named after the Prophet’s first four caliphs.’

    অন্যদিকে নর্থইস্ট নিউজ নামে একটি ওয়েবসাইটে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh Army’s new battalion has Umar, Abu Bakr, Ali and Usman companies.’। প্রতিবেদনের ভেতরে মন্তব্য হিসেবে আরও লেখা হয়েছে, “Naming the four companies after close companions and fathers- and sons-in-law is a sign of growing Islamisation within the rank and file of the Bangladesh Army.”

    এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কয়েকটি কোর, বিগ্রেড, ব্যাটালিয়ন রয়েছে, যেগুলোর নাম সরাসরি হিন্দু দেবতার সঙ্গে যুক্ত প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে।

    একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি এলিট ব্যাটালিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ নামে। ভৈরব হচ্ছে হিন্দু দেবতা শীবের অগ্নিমূর্তি। এছাড়া কয়েকটি ইউনিটের নাম রয়েছে যেগুলো হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন প্রতীকের নামে।

    যেমন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ কোরকে বলা হয় ব্রহ্মাস্ত্র কোর, ২১ কোরকে বলা হয় সুদর্শন চক্র কোর, ৩৩ কোরকে বলা হয় ত্রিশক্তি কোর, ১১ কোরকে বলা হয় বজ্র কোর, ১০ কোরকে বলা হয় চেতক কোর।

    ব্রহ্মাস্ত্র হিন্দু পুরাণের অন্যতম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্র। মহাভারত ও রামায়নে বহুবার এর উল্লেখ রয়েছে। নামটির সঙ্গে সরাসরি ব্রহ্মা-প্রদত্ত অস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

    সুদর্শন চক্র হলো বিষ্ণু এবং তার অবতার কৃষ্ণের ঐশ্বরিক অস্ত্র। হিন্দুধর্মে এটি ধর্মরক্ষা, ন্যায় ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। বজ্র মূলত বৈদিক দেবতা ইন্দ্রের অস্ত্র। ঋগ্বেদে ইন্দ্র বজ্র দিয়ে বৃত্রকে বধ করেন।

  • ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    চ্যানেল আইয়ের লাইভ টক শো ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর একটি পুরোনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। আর উপস্থাপক ছিলেন সোমা ইসলাম। তিনি শাহজাহান ওমরকে প্রশ্ন করেন, ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ এবং আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে সোমা ইসলামকে এই প্রশ্ন করতে দেখা যায়।

    চব্বিশের পট পরিবর্তনের আগে অনুষ্ঠিত এই টকশোতে সোমা ইসলাম তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে জানতে চান, ‘তিনি কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’

    এছাড়াও তিনি সেই সময়ের বিএনপির অবস্থাকে একটি ‘নেতৃত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, তার দৃষ্টিতে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা হতাশ এবং তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইড করার মতো কেউ নেই। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘দলের প্রধান দেশের বাইরে অবস্থান করে ভার্চুয়াল মিটিং করছেন এবং প্রতিদিন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন, যা দলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।’এছাড়া তিনি বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে কোনো দাবি উঠেছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান।

    এম আবদুল্লাহ ও জুলকারনাইন সায়েরের শেয়ার করা এই ভিডিও প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভিউ হয়েছে।

  • শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে তাদের সেবক হতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিক আল্লাহর বন্ধু, তাই তাদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করাটা আমাদের কর্তব্য।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী অঞ্চলের থানা নেতাদের দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল হালিম আরো বলেন, শ্রমিক নেতৃত্ব বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন নেতা কখনো প্রভু নন; তিনি কর্মীদের খাদেম। তাই শ্রমিক নেতৃত্বে আদর্শিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেকুলার চিন্তাধারার বিপরীতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক শ্রমিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৫৭ বছর আগে প্রতিকূল পরিবেশে একটি আদর্শভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যাত্রা শুরু হয়, যা আজ বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি বট গাছের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শ্রমিকরা আজ তাদের দাবি আদায়ে সবার আগে শ্রমিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

    তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সংগ্রাম করেছি, তেমনি শ্রমিকের দাবি আদায়ে যেকোনো প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তুত।

    শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ- সভাপতি ও কর্মশালা সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, উত্তরের সভাপতি মহিবুল্লাহ, দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেন রানা মিঠু, উত্তরের সেক্রেটারি এসএম আতিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা জামিল মাহমুদ, হাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল।বৃহস্পতিবার সকালের একটি ফ্লাইটে ইরানের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারা।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে দেশটিতে সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সূত্রমতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।১১ দলের প্রতিনিধিদলটি ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করেছন সংশ্লিষ্টরা।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য সরকারি অনুদানের বরাদ্দপত্র (কাগজ) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদানের কাগজ তুলে দেন।

    জানা গেছে, মোট ১০টি মসজিদের মধ্যে রয়েছে- বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদ, আন্দুলবাড়ীয়া ঘুগরাগাছি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, উথলী সেনেরহুদা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, কুড়ুলগাছি বুইচিতলা হাসপাতাল পাড়া জামে মসজিদ, নতিপোতা পোতার পাড়া মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, জয়রামপুর গাঁতির পাড়া মসজিদ, জয়নগর স্কুল পাড়া মসজিদ ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদ ও দর্শনা আজমপুর মসজিদ। অনুদান হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারিজ আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।অনুদান হস্তান্তরকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন- “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের এই অনুদান মসজিদগুলোর উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার ( ৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৬৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ হাজার ২৬২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৩৬ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • দুনিয়ার জীবন : যেন শেষ বিকেলের রোদ

    দুনিয়ার জীবন : যেন শেষ বিকেলের রোদ

    ইসলামী জীবন:

    বিকেলের শেষ রোদে এক ধরনের অদ্ভুত সৌন্দর্য থাকে। সূর্যের আলো তখন আর মধ্যাহ্নের মতো তীব্র নয়; কোমল, ম্লান ও বিষণœ হয়ে আসে। চারদিকে সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের ভেতর লুকিয়ে থাকে বিদায়ের ইঙ্গিত। কিছুক্ষণ পরই অন্ধকার নেমে আসবে। মানুষের জীবনও অনেকটা তেমন। জন্মের উজ্জ্বল সকাল, যৌবনের তপ্ত দুপুর পেরিয়ে একসময় জীবন পৌঁছে যায় শেষ বিকেলের আলোয়। তখন মানুষ বুঝতে শুরু করে যা কিছু নিয়ে এত অহংকার, এত ব্যস্ততা, এত প্রতিযোগিতা, সবই আসলে ক্ষণস্থায়ী।
    মানুষ পৃথিবীতে আসে চিরদিন থাকার স্বপ্ন নিয়ে, অথচ পৃথিবী কাউকে স্থায়ী ঠিকানা দেয় না। একটি শিশু জন্ম নেয়, তার হাসিতে পরিবার আনন্দে ভরে ওঠে। ধীরে ধীরে সে বড় হয়, স্বপ্ন দেখে, সংগ্রাম করে, সফলতা খোঁজে। একসময় সে নিজেই পরিবারের কর্তা হয়। তারপর হঠাৎ করেই আয়নায় দেখতে পায় চুলে পাক ধরেছে, মুখে বয়সের রেখা। যৌবনের তেজ কোথায় হারিয়ে গেল, সে নিজেও জানে না। যেন দুপুরের প্রখর সূর্য অজান্তেই বিকেলের শেষ আলোতে রূপ নিয়েছেগ্রামের মাটির রাস্তা ধরে হাঁটতে গেলে বিকেলের শেষ রোদে এক ধরনের নীরবতা অনুভূত হয়। মাঠ থেকে কৃষক ফিরে আসে, গরুগুলো ধীরে ধীরে গোয়ালমুখী হয়, পাখিরা বাসায় ফেরে। সেই দৃশ্য যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয় প্রতিটি প্রাণীকেই একসময় ফিরে যেতে হয়। দুনিয়ার সমস্ত ব্যস্ততার শেষ আছে। মানুষ যত দূরেই যাক, শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরে আসতে হয় মাটির কাছেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘পার্থিব জীবন তো কেবল ধোঁকার সামগ্রী।’ (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)। এই আয়াতের গভীরতা মানুষ তখনই উপলব্ধি করে, যখন জীবনের শেষ বিকেল সামনে এসে দাঁড়ায়। যুবক বয়সে মানুষ ভাবে, তার হাতে অনেক সময় আছে। সে নামাজ পরে পড়বে, ভালো কাজ পরে করবে, পরিবারকে সময় পরে দেবে, অন্যায়ের জন্য পরে তওবা করবে। কিন্তু সময় কাউকে অপেক্ষা করে না। বিকেলের সূর্য যেমন দ্রুত অস্ত যায়, জীবনও তেমনি দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
    এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্য হলো সময় সবকিছু বদলে দেয়। একসময় যে স্কুল মাঠে শিশুরা চিৎকার করে খেলত, আজ সেখানে নীরবতা। যে বাড়িতে একসময় উৎসব হতো, আজ সেখানে তালা ঝুলছে। যে মানুষ একসময় ক্ষমতার অহংকারে অন্যকে তুচ্ছ করত, আজ সে কবরের নিচে নিশ্চুপ। সময় যেন এক অদৃশ্য নদী, যা সবকিছুকে ধীরে ধীরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো, সে দুনিয়াকে স্থায়ী মনে করে। সে বাড়ি বানায় এমনভাবে যেন চিরকাল সেখানে থাকবে। সম্পদ জমায় এমনভাবে যেন মৃত্যু কখনো আসবে না। অথচ মৃত্যু মানুষের সবচেয়ে নিশ্চিত সঙ্গী। কবরস্থানে গেলে এই সত্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেখানে ধনী-গরিব, নেতা-শ্রমিক, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই একই মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে। কবর কোনো পরিচয় মানে না। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তুমি দুনিয়ায় এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন পথিক বা মুসাফির।’ এই হাদিস মানুষের জীবনের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে। মানুষ এই পৃথিবীর মালিক নয়; সে কেবল অস্থায়ী যাত্রী। কিন্তু মানুষ যাত্রী হয়েও নিজেকে মালিক ভাবতে শুরু করে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় অহংকার, হিংসা, লোভ ও অন্যায়।
    আজকের সমাজে মানুষ সময়ের মূল্য ভুলে গেছে। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অর্থের প্রতিযোগিতা ও ভোগবাদ মানুষের মনকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, সে নিজের আত্মাকেও ভুলে যাচ্ছে। পরিবারে একসঙ্গে বসে কথা বলার সময় নেই, সন্তানকে আদর্শ শেখানোর সময় নেই, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে বসার সময় নেই। সবাই ব্যস্ত, কিন্তু কোথায় যাচ্ছে সেটি কেউ জানে না।ইসলাম মানুষকে বিনয় শেখায়। যেন সে বুঝতে পারে তার জীবন শেষ বিকেলের রোদের মতো ক্ষণস্থায়ী, সে কখনো অহংকার করতে পারে না। কবরের নীরবতা মানুষকে যে শিক্ষা দেয়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তা দিতে পারে না। সেখানে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সম্পদ নয়, তার আমল। একজন মানুষ মৃত্যুর পর তার ব্যাংক ব্যালেন্স সঙ্গে নিতে পারে না, কিন্তু তার ভালো কাজ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। একজন শিক্ষক তার ছাত্রদের মধ্যে বেঁচে থাকেন। একজন সৎ মানুষ মানুষের দোয়ায় বেঁচে থাকেন। একজন মা তার সন্তানের চরিত্রে বেঁচে থাকেন। কিন্তু যে মানুষ শুধু সম্পদ আর অহংকারের পেছনে ছুটেছে, মৃত্যুর পর খুব দ্রুতই সে বিস্মৃত হয়ে যায়।
    বিকেলের আলো মানুষকে মুগ্ধ করে, কিন্তু সেই আলো ধরে রাখা যায় না। পৃথিবীর সুখও তেমন। মানুষ যতই সুখ ধরে রাখতে চায়, সময় তা কেড়ে নেয়। তাই প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করে। আখিরাতের ধারণা মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। সে জানে, এই জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। তাই সে অন্যায় থেকে দূরে থাকে, মানুষের উপকার করার চেষ্টা করে, সময়কে মূল্য দেয়। কারণ সে বুঝে—শেষ বিকেলের রোদ বেশিক্ষণ থাকে না।
    আজ প্রয়োজন মানুষকে আবার সময় ও মৃত্যুর বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। কারণ যে সমাজ মৃত্যুকে ভুলে যায়, সে সমাজ নৈতিকতাও হারিয়ে ফেলে। তখন দুর্নীতি বাড়ে, মানুষ নিষ্ঠুর হয়, সম্পর্ক ভেঙে যায়। মৃত্যুচিন্তা মানুষকে কোমল করে, মানবিক করে, দায়িত্বশীল করে। শেষ বিকেলের রোদ যখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, তখন আকাশে অন্ধকার নামে। মানুষের জীবনও একদিন তেমনি থেমে যাবে। তখন আর কোনো পদ-পদবি, সম্পদ বা অহংকার কাজে আসবে না। কাজে আসবে শুধু সৎকর্ম, মানুষের ভালোবাসা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই মানুষের উচিত জীবনের এই ক্ষণস্থায়ী বিকেলকে অর্থবহ করে তোলা। সময়কে অপচয় না করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিবারকে ভালোবাসা, সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকা। কারণ দুনিয়ার জীবন সত্যিই শেষ বিকেলের রোদের মতো সুন্দর, মায়াময়, কিন্তু খুব অল্প সময়ের জন্য।

  • মানবজাতির প্রতি মহানবীর ১০ অবদান

    মানবজাতির প্রতি মহানবীর ১০ অবদান

    কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলিমদের নয়, সব যুগের সব মানুষের জন্য ছিলেন সাক্ষাৎ রহমত। বিশ্বমানবতার প্রতি তাঁর অবদানের শেষ নেই। এখানে সংক্ষেপে তাঁর ১০টি অবদানের কথা তুলে ধরছি—

    আল্লাহর ওহি লাভের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতাকে মানুষের দাসত্ব ও তাদের গোলামি থেকে একমাত্র শরিকবিহীন আল্লাহর ইবাদতের দিকে নিয়ে গেছেন। এতে করে মানুষ আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছুর দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে। বলাবাহুল্য এটিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্মান।

    আল্লাহর ওহি লাভের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতাকে সব কল্পকথা ও কুসংস্কার এবং সব রকমের মিথ্যা ও প্রতারণার সামনে শির না নোয়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। অক্ষম প্রতিমা ও অলীক প্রভুদের বন্দি দশা থেকে উদ্ধার করেছেন। মুক্ত করেছেন তিনি সুস্থ বিবেকপরিপন্থী চিন্তাধারার বিশ্বাস থেকে।

    মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতার চেতনায় ক্ষমা ও উদারতার ভিতগুলোকে সুদৃঢ় করেছেন। পবিত্র কোরআনে খোদ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি ‘ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই’ মর্মে ওহি প্রেরণ করেছেন। এদিকে তিনি (সা.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুসলিমের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসকারী অমুসলিমদের সব অধিকার নিশ্চিত করেছেন। তাদের জীবন, সন্তান, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা ঘোষণা করেছেন। তাই তো আজ অবধি মুসলিম দেশগুলোয় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সসম্মানে জীবনযাপন করতে দেখা যায়। অথচ একই সময়ে বৌদ্ধদের হাতে মিয়ানমারে, হিন্দুদের হাতে ভারতে, ইহুদিদের হাতে ফিলিস্তিনে ও খ্রিস্টানদের হাতে পশ্চিমা দেশগুলোয় তারা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। উদারতার দাবিদার পশ্চিমাদের দেশগুলোয় ইসালামোফোবিয়া ও হেইট স্পিচের শিকার হচ্ছে।

    মুহাম্মদ (সা.) ধর্ম, বর্ণ ও বংশ নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষার মধ্যে বরং এমন উপাদানেরও অভাব নেই, যা পক্ষী ও প্রাণিকুলের প্রতি মায়া-মমতা ও কোমলতা দেখাতেও গুরুত্ব দেয়। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এদের অকারণে কষ্ট প্রদান কিংবা এদের প্রতি বিরূপ আচরণকে।

    মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অগ্রবর্তী সব নবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল চিত্র উপস্থাপন করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন নবী ইবরাহীম, মুসা ও ঈসা (আ.) প্রমুখ নবী-রাসুল। উপরন্তু তাঁর প্রতি আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বাণীই প্রেরণ করেছেন, যে কেউ তাঁদের (আল্লাহর প্রেরিত নবীদের) মধ্যে কাউকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, অথবা তাঁর সম্মানহানি ঘটাবে, সে মুসলিম নয়। কেননা সব নবী ভাই ভাই। তাঁরা সবাই মানুষকে লাশরিক এক আল্লাহর প্রতি ডাকার কাজে সমান।

    নবী মুহাম্মদ (সা.) ছোট-বড় ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার রক্ষা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তার সামাজিক মর্যাদা বা জীবনযাত্রার মানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি চমৎকার একগুচ্ছ নীতিনির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর অন্যতম হলো প্রস্থানের তিন মাস আগে বিদায় হজে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের কিছু বাণী। এতে তিনি মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানে আঘাত হানাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি এ ভাষণ প্রদান করেন, এমন সময় বিশ্ব যখন ১২১৫ সালে ম্যাগনাকার্টা লিবার্ট্যাটাম, ১৬৭৯ সালের হেবিয়াস কর্পাস অ্যাক্ট, ১৬৯৮ সালের ব্রিটিশ বিল অব রাটইস, ১৭৭৬ সালের আমেরিকান স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭৮৯ সালের ফরাসি ডিক্লারেশন অব হিউম্যান অ্যান্ড সিভিল রাইটস এবং ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার কথা পৃথিবীবাসী কল্পনাও করেনি।

    মুহাম্মদ (সা.) মানবজীবনে আখলাক তথা সচ্চরিত্রের মান তুলে ধরেছেন অনেক উঁচুতে। মানুষকে তিনি উত্তম আখলাক তথা সচ্চরিত্র এবং তার সহায়ক গুণগুলো বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যেমন তিনি সততা, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তিনি পিতামাতার সঙ্গে সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বহাল রাখতে বলেছেন। জীবনে তিনি এর সফল প্রয়োগও ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে তিনি অসৎ চরিত্র অবলম্বন থেকে বারণ করেছেন। তিনি নিজে যেমন মন্দ স্বভাব থেকে দূরে থেকেছেন, তেমনি অন্যদেরও এ থেকে সতর্ক করেছেন। যেমন মিথ্যা, ছলনা, হিংসা, জেনা-ব্যভিচার ও পিতামাতার অবাধ্যাচরণ করা। শুধু তাই নয়, এসব থেকে সৃষ্ট সমস্যাবলির প্রতিকারও বলে দিয়েছেন তিনি।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহিপ্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ (সা.) বুদ্ধি কাজে লাগাতে বলেন। সৃষ্টিজগৎ উদ্ঘাটন ও তার পরিচয় লাভে উৎসাহিত করেন। একে তিনি নেকি তথা পুণ্য কাজ বলে গণ্য করেন। অথচ একই সময়ে অপর সভ্যতাগুলোর জ্ঞানী ও চিন্তানায়করা নির্যাতন ভোগ করছিলেন।

    আল্লাহর ওহি লাভের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) মানুষের প্রকৃতি ও স্বভাববান্ধব এক দীন নিয়ে আবির্ভূত হন, যা আত্মিক খোরাক ও দৈহিক চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখে। পার্থিব কাজ ও আখিরাতের আমলের মধ্যে ভারসাম্য বিধান করে। পরিশীলিত ও পরিমার্জিত করে মানুষের সহজাত বাসনা ও ঝোঁককে। অপরাপর জাতিগুলোর সভ্যতার মতো একে ধ্বংস বা অবদমিত করে না। অন্য জাতিগুলোর সভ্যতায় দেখা যায়, তারা মানুষের প্রকৃতিবিরুদ্ধ মূর্তিপূজার মধ্যে ডুবে গিয়েছিল। ধর্ম-অন্তঃপ্রাণ ও তপস্যানুরাগীদেরকে তাদের প্রাকৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। যেমন বিয়ে-শাদি। বঞ্চিত করেছিল অবিচারের বিরুদ্ধে তাদের স্বভাবসুলভ মানবিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের অধিকার থেকে।

    মানবতার কল্যাণে মহানবী (সা.) মানুষের আন্তঃসম্প্রদায়ে ভ্রাতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ নমুনা পেশ করেছিলেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কোনো মানব সম্প্রদায়ের ওপর অন্য কোনো মানব সম্প্রদায়ের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মূল সৃষ্টি, অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান। শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচিত হবে কেবল ঈমান ও তাকওয়া তথা বিশ্বাস ও আল্লাহভীতির নিরিখে। তিনি তাঁর সব সঙ্গী-সাহাবিকে দীনের খেদমত করার এবং তাতে সম্পৃক্ত হওয়ার সমান সুযোগ দিয়েছেন। তাই তো তাঁদের মধ্যে আরবদের পাশাপাশি ছিলেন (রোম দেশের) সুহাইব রুমি, (হাবশার) বিলাল হাবশি ও (পারস্যের) সালমান ফারসি রাদিআল্লাহু আনহুম।

  • ইসলামের দৃষ্টিতে এলসি: হালাল বাণিজ্য লেনদেনে যা করণীয়

    ইসলামের দৃষ্টিতে এলসি: হালাল বাণিজ্য লেনদেনে যা করণীয়

    বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)। তবে একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য শুধু নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটি ইসলামী শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সহযোগিতায় সময় টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইসলামী অর্থনীতি’-তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি চিফ অব ইসলামিক ব্যাংকিং এ. কে. এম. মীজানুর রহমান এবং বাহরাইনের এওফি (AAOIFI) তাকাফুল ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি লুকমান হাসান।

    এ. কে. এম. মীজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসি হলো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের একটি কার্যকর ব্যবস্থা। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানিকারক তার ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলেন। এরপর রপ্তানিকারক পণ্য পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে যাচাই-বাছাই শেষে ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করে। প্রয়োজন হলে কনফার্মেশন এলসির মাধ্যমে অর্থপ্রদানের নিশ্চয়তাও নিশ্চিত করা যায়।

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এলসি ব্যবস্থায় ডকুমেন্টে ভুল, জালিয়াতি, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত ঝুঁকি এবং আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কা থাকে। এসব ঝুঁকি কমাতে দক্ষ জনবল, সঠিক মূল্য যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানিকারক নির্বাচন জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এলসি ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে ব্যাংকগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য যাচাইয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে মুফতি লুকমান হাসান বলেন, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী এলসি হালাল হওয়ার জন্য শুধু অর্থায়ন নয়, পুরো লেনদেনের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। যদি গ্রাহক পূর্ণ অর্থ জমা দিয়ে কেবল ব্যাংকের নিশ্চয়তা নেন, তাহলে ব্যাংক এজেন্সি ফি নিতে পারে, যা শরিয়াহসম্মত। কিন্তু ব্যাংক যদি অর্থায়ন করে, তাহলে প্রচলিত সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ব্যাংককে আগে পণ্যের মালিকানা গ্রহণ করে পরে নির্ধারিত মুনাফায় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে হবে।

    তিনি বলেন, ইসলামে সুদ (রিবা), অনিশ্চয়তা (গারার) এবং প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই পণ্যের প্রকৃত মালিকানা ও ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া বিক্রি করা শরিয়াহসম্মত নয়। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে প্রকৃত বেচাকেনাভিত্তিক মুরাবাহা, সালাম বা ইস্তিসনা চুক্তির মাধ্যমে এলসি পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।

    মুফতি লুকমান হাসানের মতে, বিদ্যমান আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো সরাসরি আমদানিকারক হিসেবে কাজ করতে পারে না। তিনি মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা, যাতে তারা সরাসরি পণ্যের মালিকানা গ্রহণ করে শতভাগ শরিয়াহসম্মত উপায়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে।

  • ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

    ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

    বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। বহু হতাহতের খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। যেকোনো সময় বাংলাদেশও শিকার হতে পারে এ ভূমিকম্পে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করব

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতানু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।

    এ এম

  • আশুরায় বর্জনীয় বিষয়

    আশুরায় বর্জনীয় বিষয়

    হিজরি নববর্ষের সূচনাকারী মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। ইসলামের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং ইবাদতের সঙ্গে মহররম মাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক স্থানে এই মাসকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা ও আনুষ্ঠানিকতা চালু হয়েছে, যা কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য মহররমের প্রকৃত তাৎপর্য জানা এবং সুন্নাহভিত্তিক আমল করা অপরিহার্য।

    এ হাদিসে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা এ মাসের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ। তাই এ মাসের অন্যতম প্রস্তুতি হওয়া উচিত নিজের আমলের হিসাব নেওয়া, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করা।

    মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আশুরার রোজা। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি বহু তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনার সাক্ষী। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহতায়ালা এ দিনে নবী মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে মুসা (আ.) রোজা পালন করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও এ রোজা পালনের নির্দেশ দেন।

    দুঃখের বিষয়, মহররম মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের কিছু অংশে নানা ধরনের বিদআত ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। কারবালার বেদনাবিধুর ঘটনাকে স্মরণ করতে গিয়ে কেউ কেউ বুক চাপড়ানো, মাতম করা, শরীরে আঘাত করা কিংবা রক্ত ঝরানোর মতো কাজ করে থাকেন। অথচ ইসলামে এসবের কোনো অনুমোদন নেই।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গালে আঘাত করে, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারি : ১২৯৪)

    তেমনি তাজিয়া মিছিল, আশুরাকে কেন্দ্র করে বিশেষ শোকানুষ্ঠান, নির্দিষ্ট খাবারকে ধর্মীয় আমল মনে করা কিংবা বিশেষ নামাজ ও দোয়ার অনুষ্ঠান উদ্ভাবন করাও সুন্নাহসম্মত নয়। ইসলামে ইবাদতের ভিত্তি হলো কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ। নবী করিম (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারি : ২৬৯৭; মুসলিম : ১৭১৮)

    কারবালার ঘটনা মুসলিম ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। কিন্তু এর শিক্ষা শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সত্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ কোরবানি দেওয়ার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্রের শাহাদত ইসলামের ইতিহাসে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

    মহররম তাই শোকের নয়, শিক্ষাগ্রহণের মাস; বিদআতের নয়, সুন্নাহ অনুসরণের মাস; আনুষ্ঠানিকতার নয়, আত্মশুদ্ধির মাস। আসুন, আমরা এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখি, তওবা করি, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার অঙ্গীকার করি। তাহলেই মহররম আমাদের জীবনে কল্যাণ, বরকত ও আল্লাহর নৈকট্যের বার্তা বয়ে আনবে।

    এ এম

  • আল্লাহওয়ালাদের জীবনে ফুটে ওঠে যে ১০ নিদর্শন

    আল্লাহওয়ালাদের জীবনে ফুটে ওঠে যে ১০ নিদর্শন

    ইসলামী ডেস্ক : আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও কল্যাণ লাভ করা প্রতিটি মুমিনের সবচেয়ে বড় কামনা। কিন্তু আল্লাহর রহমত সব সময় সম্পদ, আরাম-আয়েশ বা বাহ্যিক সফলতার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় পরীক্ষা, কষ্ট, তৌফিক, ইমান, তাকওয়া এবং নেক আমলের সুযোগই হয়ে ওঠে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একজন বান্দার প্রতি আল্লাহর কল্যাণকামিতার ইঙ্গিত বহন করে।

    ১. মৃত্যুর আগে নেক আমল

    আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকে মৃত্যুর আগে সৎকাজ করার সুযোগ করে দেন এবং উত্তম অবস্থায় তার কাছে ফিরিয়ে নেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ

    ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে (নেক কাজে) নিয়োজিত করেন।’

    সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, কীভাবে?

    يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ الْمَوْتِ ثُمَّ يَقْبِضُهُ عَلَيْهِ

    ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে সৎকাজের তৌফিক দান করেন। এরপর সেই নেক আমলের অবস্থায়ই তার মৃত্যু ঘটান।’ (তিরমিজি ২১৪২)

    ২. তাকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন

    আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিতে চান, তার হৃদয়কে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ

    ‘আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিতে চান, তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।’ (সুরা আল-আনআম: আয়াত ১২৫)

    ৩. তাকে বিপদ-আপদের মাধ্যমে সতর্ক করেন

    মুমিনের জীবনের অনেক বিপদই আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কতা, শিক্ষা এবং তাঁর দিকে ফিরে আসার সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ

    ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি বিপদ-আপদে পরীক্ষা করেন।’ (বুখারি ৫৬৪৫)

    ৪. পরীক্ষা ও কষ্টের মাধ্যমে তাকে পরিশুদ্ধ করেন

    পরীক্ষা মুমিনের গুনাহ মোচন করে এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ… إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

    ‘মুসলিমের ওপর যে ক্লান্তি, কষ্ট, দুঃখ, রোগ কিংবা দুশ্চিন্তাই আসে, আল্লাহ এর মাধ্যমে তার গুনাহ মাফ করে দেন।’ (বুখারি ৫৬৪১, মুসলিম ২৫৭৩)

    ৫. তাকে তাকওয়ার পথে পরিচালিত করেন

    তাকওয়াই আল্লাহর নিকট মর্যাদার প্রকৃত মানদণ্ড। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩)

    ৬. তাকে সত্যবাদী ও নেককার সঙ্গী দান করেন

    সৎ মানুষের সঙ্গ ইমানকে শক্তিশালী করে এবং নেক আমলে উৎসাহ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

    ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ১১৯)

    ৭. তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন

    দ্বীনের সঠিক জ্ঞান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ

    ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।’ (বুখারি ৭১, মুসলিম ১০৩৭

    ৮. তার অন্তরে প্রকৃত প্রশান্তি দান করেন

    প্রকৃত শান্তি ধন-সম্পদে নয়, আল্লাহর স্মরণে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

    ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রা’দ: আয়াত ২৮)

    ৯. সম্পদ, সন্তান ও নিজের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলেন

    আল্লাহ অনেক সময় বান্দাকে তার সম্পদ, সন্তান কিংবা নিজের জীবন দিয়েও পরীক্ষা করেন, যাতে তার ইমানের দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ…

    ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৫)

    ১০. তার অন্তরে বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি করেন

    নম্রতা একজন মুমিনের সৌন্দর্য এবং আল্লাহর প্রিয় গুণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ

    ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।’ (মুসলিম ২৫৮৮)

    আল্লাহর কল্যাণ সব সময় বাহ্যিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় নেক আমলের তাওফিক, ইমানের দৃঢ়তা, দ্বীনের জ্ঞান, তাকওয়া, সৎ সঙ্গ, হৃদয়ের প্রশান্তি, বিনয় এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তার বিশেষ রহমত। তাই একজন মুমিনের উচিত শুধু দুনিয়ার আরাম কামনা না করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের সফলতাকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানানো। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

  • নবীজির (সা.) ঘোষণায় প্রকৃত বুদ্ধিমান কে?

    নবীজির (সা.) ঘোষণায় প্রকৃত বুদ্ধিমান কে?

    মানুষ পৃথিবীতে জ্ঞান, সম্পদ, পদমর্যাদা ও সাফল্যের পেছনে নিরন্তর ছুটে চলে। সমাজও অনেক সময় ধনী, প্রভাবশালী বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান বলে মনে করে। কিন্তু ইসলাম মানুষের বুদ্ধিমত্তার একটি ভিন্ন ও গভীর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। যে ব্যক্তি মৃত্যুর অনিবার্য বাস্তবতাকে স্মরণ রাখে, নিজের আমলের হিসাব নেয় এবং আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে— রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কাছেই প্রকৃত প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার স্বীকৃতি দিয়েছেন।প্রকৃত বুদ্ধিমানের পরিচয়

    হজরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন— ‘মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম কে?’ তিনি বললেন, ‘যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।’ এরপর জিজ্ঞাসা করা হলো— ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমান কে?’ তিনি বললেন—

    أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لِمَا بَعْدَهُ اسْتِعْدَادًا، أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ

    ‘যারা মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য সর্বোত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারাই প্রকৃত বুদ্ধিমান।’ (ইবন মাজাহ ৪২৫৯)

    কুরআনের শিক্ষা

    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

    ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর তোমাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আল-আনকাবূত: আয়াত ৫৭)

    আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে দেখে যে, সে আগামী দিনের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ১৮)মৃত্যুস্মরণ কেন জরুরি?

    মৃত্যুর স্মরণ মানুষের অন্তরকে নরম করে, অহংকার দূর করে, গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনে এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। যে ব্যক্তি জানে তার প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর সামনে দিতে হবে, সে অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং ইবাদত, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবসেবায় যত্নবান হয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—

    أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ

    ‘তোমরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিনষ্টকারী (মৃত্যু)-এর স্মরণ অধিক পরিমাণে কর।’ (তিরমিজি ২৩০৭, নাসাঈ ১৮২৪)

    পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী। তাই প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যিনি সাময়িক দুনিয়ার মোহে বিভোর না হয়ে চিরস্থায়ী জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন।

    ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা কেবল জাগতিক জ্ঞান বা সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবনকে পরিচালিত করাই প্রকৃত প্রজ্ঞা। মৃত্যুর কথা স্মরণ করা হতাশার বিষয় নয়, বরং এটি মানুষকে সৎপথে অবিচল রাখে, গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং আখিরাতমুখী জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের আমলের হিসাব গ্রহণ করি, আল্লাহর কাছে তাওবা করি এবং সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নিই, যেদিন ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি নয়—শুধু ঈমান ও নেক আমলই আমাদের উপকারে আসবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকৃত বুদ্ধিমান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

    এ এম

  • ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু, শেষ ২৬ সেপ্টেম্বর

    ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু, শেষ ২৬ সেপ্টেম্বর

    ২০২৭ সালে পবিত্র হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বুধবার (১ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন শেষ করার জন্য আগ্রহী হজযাত্রীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    জানা গেছে, গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ ঘোষণা করে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ রোডম্যাপ হস্তান্তর করা হয়।

    বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ তার হাতে হজের রোডম্যাপ তুলে দেন।

    রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ইসলামের চার খলিফার নামে সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটেলিয়নের চার কোম্পানি

    ইসলামের চার খলিফার নামে সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটেলিয়নের চার কোম্পানি

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটেলিয়ন গঠন করেছে। এ ব্যাটেলিয়নের অধীনে চারটি কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা— হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর নামে।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) সেনাপ্রধান ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএতে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’-এর পাশাপাশি নতুন এ ব্যাটেলিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’-এ পাঁচটি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে। সেগুলো হলো— জাহাঙ্গীর কোম্পানি, রউফ কোম্পানি, হামিদ কোম্পানি, নুর মোহাম্মদ কোম্পানি এবং মোস্তফা কোম্পানি।

    সূত্রটির দাবি, নতুন গঠিত দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কাঠামোয় সম্প্রসারণ ঘটেছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর নামকরণে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নে আরও দুটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি হিসেবে প্রস্তাবিত এ দুটি ইউনিটের নাম নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) এবং স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-এর নামে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ দুটি কোম্পানি এখনো অনুমোদন পায়নি।

    সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর অফিসার ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন একটি ব্যাটেলিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

  • যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

    যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

    প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্যেই প্রকাশ পায়। একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উত্তম আচরণেই প্রকৃত প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের জীবনকে এমন কিছু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত এবং আখিরাতে সফল হওয়ার পথ দেখায়।জ্ঞানী মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে ফুটে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলুন, প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

    ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

    যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শান্ত থাকুন

    রাগ বা উত্তেজনা নয়, ধৈর্য ও আত্মসংযমই একজন শক্তিশালী মানুষের প্রকৃত পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

    আত্মসমালোচনা ও চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন

    কখনো কখনো নির্জনতা মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে, আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ… لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

    ‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯০)

    তর্কে নয়, উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিন

    অকারণ বিতর্ক মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু উত্তম চরিত্র ও সৎকর্ম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا

    ‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (আবু দাউদ ৪৮০০)

    সৎ ও প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

    মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই উত্তম চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করুন এবং ক্ষতিকর সঙ্গ থেকে দূরে থাকুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

    ‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

    অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

    যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণ বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

    ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)

    পরিবারের গোপন বিষয় সংরক্ষণ করুন

    পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত বিষয় অযথা প্রকাশ করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً… يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

    ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের একজন হলো সে, যে তার স্ত্রীর গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (মুসলিম ১৪৩৭)

    বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

    জীবনে পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য, হাসিমুখ ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই একজন মুমিনের শক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

    ‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

    আমরা যদি এই গুণগুলোকে জীবনের অংশ করে নিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ায় সম্মানিত জীবন এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হবে।

    এ এম

  • ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির একটি আপিল আবেদন ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি না করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে এই আপিল দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস এই আপিলের ওপর আপত্তি তুলে তা ফেরত পাঠায়।

    রেজিস্ট্রার অফিসের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার সুপ্রিম কোর্টে নয়, বরং ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে (এফসিসি) হওয়া উচিত। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবী সালমান সাফদার এই আপত্তির বিরোধিতা করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, সংবিধানের ১৮৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্সের ৩২এ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফসিসিতে দ্বিতীয় আপিলের বিধান রয়েছে। তবে জামিন বা সাজা স্থগিতের আবেদনের আদেশের বিরুদ্ধে এফসিসিতে আপিল করার কোনো স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা এনএও-তে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অনুপস্থিতিতে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম হলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

    এর আগে মে মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সাজা স্থগিতের আবেদনটি এই যুক্তিতে নিষ্পত্তি করে দেয় যে মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় আলাদাভাবে সাজা স্থগিতের আবেদন বিবেচনার যৌক্তিকতা নেই।

    দায়ের করা এই আপিলে ইমরান খান উল্লেখ করেছেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি রাখা অন্যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাজা স্থগিতের আবেদনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে।

  • আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে ভুগছে দেশটির সরকার। এই উদ্বেগ থেকেই আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এ রাষ্ট্রটি।

    এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ। ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ।

    বোদস্কভ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামীকরণ’ ডেনমার্কের জনপরিসরের অনেকটা অংশ দখল করে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিমরা ডেনমার্কের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

    ড্যানিশ এই মন্ত্রী সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেন, ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা যাওয়া উচিত নয়।

    এমন এক সময়ে অভিবাসনমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন, যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নির্দেশে অভিবাসন নীতি ব্যাপকভাবে কঠোর করছে ডেনমার্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডেনমার্কের অভিবাসন নীতি সবচেয়ে কঠোর।

    এদিকে, আজান নিষিদ্ধের এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের সরকারের সামনে কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ দেশটির সংবিধানে জনগণের মুক্তভাবে ধর্মচর্চার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এ পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

    তবে, সেই চ্যালেঞ্জ খুব শক্তিশালী হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজান ও হিজাব পরিধানের মতো ইসলামিক প্রথাগুলোকে কঠিন নজরে দেখা হচ্ছে।

    চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে আইন পাস করে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করেছে ডেনমার্কের সরকার।

    রিৎজাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী বলেছেন, ডেনমার্ককে ইসলামীকরণের কোনও সুযোগ নেই। ডেনমার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছেন, তাহলে খুব সমস্যা।

    এ এম

  • সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে

    সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে

    আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ না করতে চাইলে দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ ও জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করা, জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালনা করারও দাবি জানান তিনি।

    রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।সুদের বিধান ও কুফল প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সুদ খাওয়াকে মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল বলা হয়েছে। তাই যুদ্ধ করতে না চাইলে অবশ্যই সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে। অনেক দেশে সুদমুক্ত অর্থনীতি আছে, ব্যাংক আছে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটা প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল, এতে প্রমাণিত হয় সুদমুক্ত ব্যাংক চলে।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, সুদ চললে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যায়। সুদের টাকায় শরীরের যে অংশ গঠিত হবে, তা জাহান্নামে পুড়বে। জাকাত ঠিকমতো আদায় করা গেলে ২ লাখ কোটি টাকা বের হতে পারে। আমাদের ঘাটতি বাজেট পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু জাকাত যারা বোঝে না, চুরি করে তাদের হাতে জাকাত দিলে হবে না। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করে সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।

    তিনি বলেন, কালোটাকা সাদা করা যাবে না। এটা চালু থাকলে অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মদ ও বিড়ি যাতে মানুষ না খায়, সেজন্যই দাম বাড়িয়েছেন, এর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেন কমাতে বললেন জানি না।

    মদিনার ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মদিনার ইসলামে সুদ ছিল না, জাকাত ছিল। তাই সুদ বন্ধ করে জাকাত চালু করতে হবে। ফসলের ওশর আছে। অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত, কাফফারার সঙ্গেও অর্থনীতির সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশে একটি জাকাত মন্ত্রণালয় ও আলেমদের নেতৃত্বে তা পরিচালনা করার দাবি জানান তিনি। কওমি মাদ্রাসার প্রতি বাজেট থাকা দরকার বলেও জানান তিনি।

    প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতা ও ৩৪৬টি ধারায় বক্তব্য রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। আল্লাহ বাজেটের মালিক। তিনি বলেছেন, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। কিন্তু এই বাজেট বক্তৃতায় অপচয়ের কথা অর্থমন্ত্রী বলেছেন বলে জানি না। জাকাতের কথা বলেননি।

    ঋণের কুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধ করে মরতে হবে। কোনো ঋণকে ছোট করে দেখা যাবে না। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঋণ রেখে মরা যাবে না। ঋণ করা মানে ফকিরের হাত। ঋণ করে ঘি খাওয়া যাবে না। এই ঋণ করে দেশ চালানো যাবে না। জাতি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করি।

    মসজিদে রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মসজিদে নববীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে কেন করা যাবে না?

    প্রধানমন্ত্রী প্রাইমারির বাচ্চাদের জুতা-পোশাক দেবেন, তাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আছে কি না, তাদেরও জুতা-জামা দেওয়ার দাবি রাখছি।

    তিনি বলেন, শিক্ষকেরা সম্মান করার জিনিস। শিক্ষকেরা সম্মানের হয়ে থাকলে তারা যখন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়-দায়িত্ব আছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া উচিত। যেগুলো যোগ্য তাদের এমপিও চালু, যেগুলোর ঘাটতি আছে তাদের শর্ত সাপেক্ষে চালু এবং বাকিগুলো যাচাই-বাছাই করে তিন কিস্তিতে এমপিওভুক্ত করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে।

    শ্রমিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক দিতে হবে। কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের হাতে কাজ দিন, কার্ড নয়। তা না হলে তাদের ভিক্ষার হাতই থাকবে। রাসুল (সা.) কাজে উৎসাহিত করেছেন। কাজ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

    মুজিবুর রহমান বলেন, মহিলা শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত যে, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সসহ সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সব এমপির সম্মান রক্ষার্থে গঠনমূলক উন্নয়নকাজ যেন হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এই সংসদে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা সরাসরি নেতাদের স্মরণ করেছেন, দোয়া করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। আল্লাহর এসব নির্দেশ মানলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।

    এ এম

  • সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ নির্মাণে ইসলাম

    সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ নির্মাণে ইসলাম

    মানুষের বানানো কোনো আইন দিয়ে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা পুরোপুরি সম্ভব নয়। মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আত্মসমর্পণ করতে হয় মাবুদের আইনের কাছে। কুরআনের কাছে। নবীর কাছে। এমন সরল স্বীকারোক্তির পর যে কেউই নিজেকে প্রশ্ন করতে পারে, আমি কি নিজেকে আল্লাহর আইনের কাছে, কুরআনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছি নাকি লোভ-মোহ-স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। আমি কি কুরআনের আইন অনুযায়ী শান্তির ফেরিওয়ালা হয়েছি, নাকি হানাহানি-মারামারি আর রাহাজানির কালো ডোবায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।

    ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও শান্তি নিশ্চিতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।’ (সূরা নাহল, আয়াত ৯০)। এ নীতির আলোকে একজন মুসলমানকে ধর্ষণ, হত্যা, গুম, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সুদ, ঘুস, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট, মুনাফাখোরি, মজুতদারিসহ সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা ফরজ। কারণ এসব অপরাধ শুধু আইন ভঙ্গ করে না; বরং সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধও ধ্বংস করে দেয়।

    সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ইনসাফভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান নিরাপদ থাকে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে বুদ্ধিমানগণ! হত্যার বদলে হত্যার (কিসাস) মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৭৯)। একইভাবে ইসলাম মানুষের জীবনের মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে একজন নিরপরাধ মানুষ হত্যার চেয়েও হালকা।’ তবে ইসলাম কখনো আবেগনির্ভর বিচার বা মব জাস্টিসকে সমর্থন করে না। কোনো অপরাধের উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া ইসলামের ন্যায়বিচারের পরিপন্থি; কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনরোষের নামে অনেক সময় প্রকৃত বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন ন্যায়বিচার বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। ন্যায়বিচার করো, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।’ (সূরা মায়েদাহ, আয়াত ৮)।

    অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি নারীর প্রকৃত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষেও দৃঢ়ভাবে অবস্থান করেছে ইসলাম। ইসলাম নারীকে শিক্ষা, সম্পদ, ভরণপোষণ, সম্মান ও নিরাপত্তার অধিকার দিয়েছে। মা হিসাবে সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং স্ত্রী হিসাবে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করেছে। অথচ আধুনিকতার নামে অনেক সময় নারীকে ভোগবাদী সংস্কৃতির উপকরণে পরিণত করা হচ্ছে, যা প্রকৃত সম্মান নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’

    একইভাবে সুদ, ঘুস ও অর্থনৈতিক লুটপাটের বিরুদ্ধেও ইসলাম দাঁড়িয়েছে শক্তভাবে। সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণও এটাই। এসব অন্যায় মানুষের মধ্যে বৈষম্য, শোষণ ও অবিচার বৃদ্ধি করে। বাজার সিন্ডিকেট, পণ্য মজুত এবং কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এবং মানবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ ‘সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৭৫)। নবী (সা.) ঘুসদাতা ও ঘুসগ্রহীতা উভয়ের ওপর লানত করেছেন।

    ন্যায় ও মানবকল্যাণের প্রশ্নে জাতি, বর্ণ, ধর্ম ও শ্রেণিভেদে বৈষম্যের করার সুযোগ নেই। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-সব মানুষই ন্যায়বিচার ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজন, দমনপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সে-ই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক তাকওয়াবান’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৩)।

    তেমনি ইসলাম অশ্লীলতা, নৈতিক অবক্ষয় ও অবাধ সম্পর্কের বিপক্ষে; পরিবার, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে। কারণ সুস্থ পরিবারই একটি সুস্থ সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয় না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ’ (সূরা ইসরা, ৩২)।

    শিশুশ্রম, যুদ্ধ, গণহত্যা এবং নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম-নিপীড়নের কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে ধর্মে। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে অন্যায় ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড কলঙ্কস্বরূপ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক বা মজলুম।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘মজলুমকে সাহায্য করা বুঝলাম, কিন্তু জালিমকে কীভাবে সাহায্য করব?’ তিনি বললেন, ‘তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে সাহায্য করো।’

    প্রকৃত মানবতা কখনো অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়কে প্রশ্রয় দেয় না; বরং সত্য, ইনসাফ, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে। তাই সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবতার প্রকৃত কল্যাণ চাইলে আমাদের উচিত সৃষ্টিকর্তার ন্যায়ভিত্তিক বিধান, সততা, জবাবদিহি ও নৈতিক মূল্যবোধকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা। কারণ ইনসাফ ও নৈতিকতাই পারে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।

    এ এম

  • হরমুজ শুধু আইআরজিসির মাধ্যমেই নিরাপদ

    হরমুজ শুধু আইআরজিসির মাধ্যমেই নিরাপদ

    আইআরজিসির নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার জন্য এই বাহিনীর সাথে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক।

    ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনীর ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে অবহিত বা সমন্বয় না করে কিছু কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য তাদের মতো করে একটি নতুন পথ ঘোষণা করেছে, যা অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    আইআরজিসির ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে: “আমরা সকলকে জানাচ্ছি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার একমাত্র অনুমোদিত পথ হলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক ঘোষিত পথ। এই পথগুলোর বাইরে নৌযান চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ, এবং আমরা আপনাদেরকে ঘোষিত পথের বাইরে যেকোনো ধরনের চলাচল থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করছি।”

    আইআরজিসির এই ঘোষণার শেষে বলা হয়েছে: “চ্যানেল ১৬ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার জন্য আইআরজিসির নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় আবশ্যক এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”#

  • পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

    পবিত্র কাবার গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম

    পবিত্র কাবা শরিফের কালো গিলাফে সোনালি ও রুপালি সুতোয় খচিত কুরআনের আয়াত ও নান্দনিক আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। মহিমান্বিত এই শিল্পকর্মের পেছনে যিনি প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যালিগ্রাফার- চট্টগ্রামের মুখতার আলম শিকদার। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযাত্রা আজ পৌঁছে গেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার অলংকরণের গুরুদায়িত্বে।

    শৈশব ও শিক্ষাজীবন

    ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মুখতার আলম। তার বাবা মফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কর্মসূত্রে মাত্র চার বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা মুখতার আলম পরবর্তীতে সৌদিআরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যালিগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

    কাবার গিলাফ বা ‘কিসওয়া’র সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয় ১৪২২ হিজরিতে। দেশটির জেদ্দার খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মাদ সালেম বাজনাইদ তার শিল্প প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০২ সালে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হোলি কাবা কিসওয়ায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি।

    বর্তমান কিসওয়ার নকশা বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার শাইখ আবদুর রহিম আমিন বুখারির তৈরি ‘সুলুস’ লিপির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মুখতার আলম আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন কৌশল সংযোজনের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।

    তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেন মুখতার আলম। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিদেশি নাগরিকদের যে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সেখানে নির্বাচিত পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন ছিলেন তিনি। আর সেই তালিকায় একমাত্র ক্যালিগ্রাফারও ছিলেন মুখতার আলম।

    ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি তিনি মক্কার ইনস্টিটিউট অব হলি মস্ক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সজ্জিত হয় কাবার গিলাফ, যা প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনার প্রধান অলংকরণ শিল্পী হওয়া- মুখতার আলম শিকদারের এই গৌরবময় সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    এ এম

  • মালয়েশিয়ায় পুরোনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

    মালয়েশিয়ায় পুরোনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

    মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে জীর্ণ ও পুরোনো পবিত্র কোরআনের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা এবং সম্মানজনকভাবে দাফনের জন্য পরিবেশবান্ধব বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য বোর্নিও পোস্ট জানায়, সম্প্রতি রাজ্যটির কর্মকর্তারা ১ হাজার ৮০২ কিলোগ্রাম কোরআনের ছাই ২১২টি বিশেষ ‘একিউ-০১’ জৈব-বিয়োজ্য কাগজের ব্যাগে ভরে কুচিং উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ চীন সাগরের নির্ধারিত স্থানে নিক্ষেপ করেন।

    সারাওয়াকের বিভিন্ন জীর্ণ কোরআন নিষ্পত্তি কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করে এসব ছাই প্রক্রিয়াজাত করার পর এই বিশেষ ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাগের ওজন প্রায় সাড়ে আট কিলোগ্রাম এবং পানিতে ফেলার পর চার মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডুবে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিলীন হয়ে যায়।

    সারাওয়াক ইসলামিক ধর্মীয় দপ্তরের (জেইস) কোরআন ইউনিটের প্রধান আব্দুল রহিম রশিদ জানান, জাতীয় ফতোয়া কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করে ইসলামী বিধান অনুসরণ করেই এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, “সারাওয়াকের এই পদ্ধতি দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটি ধর্মীয় ও পরিবেশগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    দক্ষিণ সারাওয়াকে এ ধরনের এটিই প্রথম বৃহৎ কর্মসূচি। এতে সারাওয়াক মুফতি দপ্তর, উপকূলীয় প্রহরী বাহিনী, নৌ-পুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, নদী বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ এম

  • মক্কায় প্রদর্শিত ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    মক্কায় প্রদর্শিত ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘হলি কুরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইসলামি সভ্যতার শিল্পকলা, ক্যালিগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর বলে জানা গেছে। এতে সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের নকশা এবং নিখুঁত ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে সে সময়ের ইসলামি শিল্পকলার উৎকর্ষ ফুটে উঠেছে।

    পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠা পুষ্পশোভিত নকশা ও কারুকার্যময় অলঙ্করণে সাজানো। বিশেষ করে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত সূচনাপর্বে জ্যামিতিক নকশা ও সোনালি কারুকাজের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

    জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পাণ্ডুলিপি ইসলামি ক্যালিগ্রাফার ও অলঙ্করণ শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে। সেই সময়ের শিল্পীরা সুন্দর হস্তাক্ষর ও নান্দনিক অলঙ্করণের মাধ্যমে কোরআনের লিখনশৈলীকে এক অনন্য শিল্পরূপে উপস্থাপন করেছিলেন।

    মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোরআনের লিখন ও অলঙ্করণশৈলীর বিবর্তন তুলে ধরা হচ্ছে।

    প্রদর্শনী ঘুরে দর্শনার্থীরা ইসলামি পাণ্ডুলিপি শিল্পের বিকাশ, কোরআনের প্রতি মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধাবোধ এবং ইসলামি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করছেন। আয়োজকদের মতে, কোরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থই নয়, এটি বিশ্ব সংস্কৃতি ও শিল্পকলারও এক গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার উৎস।

    বর্তমানে শতবর্ষী এই মূল্যবান নিদর্শনটি জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের মনোযোগ কাড়ছে।

    সূত্র: গালফ নিউজ

  • বজ্রপাত ও ঝড়-তুফানে ইসলামী আমল ও করণীয় নির্দেশনা

    বজ্রপাত ও ঝড়-তুফানে ইসলামী আমল ও করণীয় নির্দেশনা

    আকাশে হঠাৎ বজ্রের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি ও ঝড়-তুফান মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব প্রাকৃতিক ঘটনা শুধু ভয় নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমতা ও সতর্কতার নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হয়।

    বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, মেঘে বৈদ্যুতিক চার্জ জমে তা হঠাৎ নির্গত হওয়ার ফলে এই ঘটনা ঘটে। তবে ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে আল্লাহর সৃষ্টি ও মহিমার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়, যা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    কোরআনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ভয় ও আশার নিদর্শন এবং বজ্র আল্লাহর প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে। এসব আয়াত মানুষকে প্রকৃতির এই ভয়াবহ দৃশ্যের মধ্যেও আল্লাহর শক্তি স্মরণ করতে উৎসাহিত করে।

    ঝড় বা বজ্রপাতের সময় নবী মুহাম্মদ (সা.) কিছু দোয়া ও আমল শিক্ষা দিয়েছেন। ঝড় শুরু হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নামাজ ও ইস্তিগফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে হাদিসে।

    এছাড়া বাস্তব জীবনে নিরাপত্তার দিক থেকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ রয়েছে। খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা পানির কাছ থেকে দূরে থাকা, নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।

    ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, সামাজিক দায়িত্বের কথাও বলে। ঝড়-তুফানের সময় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং পশুপাখির সুরক্ষার প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ধর্মীয় শিক্ষা অনুযায়ী, এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি সুযোগ। যথাযথ দোয়া, সতর্কতা ও মানবিক দায়িত্ব পালন করলে এসব দুর্যোগও কল্যাণে পরিণত হতে পারে বলে ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে।

    এ এম

  • মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূর ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ ও র‍্যাব। সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই মোটরসাইকেলে আসা চার আরোহী হঠাৎ করেই নূর ইসলামের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে যায়।

  • সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে একাধিক. সন্তানের মধ্যে কোনো একজনের প্রতি বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করাও অন্যদের ওপর এক ধরনের অবিচার করা। আবার যেমন সাধারণ দান বা কারো জন্য জায়গাজমি, সম্পদ ইত্যাদি ভাগবাটোয়ারা ও বণ্টনে বে-ইনসাফি করা, কারো প্রতি বেশি টান অনুভব করে কমবেশি করা-এসবই হলো, জুলুম ও অবিচার। এজন্য জরুরি হচ্ছে, কাউকে কিছু হিবা-দান বা দেওয়ার ইচ্ছা হলে, সর্বোচ্চ ইনসাফ কায়েম করা এবং সাধ্যমতো সবার জন্য সমবন্টন করা জরুরি!

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়ে যায় (মাতার লক্ষণ দেখা যায় কারো মধ্যে বা দ্রুত মৃত্যু হবে এমন অবস্থা তৈরি হয়), আর যে যদি কল্যাণকর কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য ইনসাফের সঙ্গে পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য ওনিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো। (সুরা বাকারা: ১৮০)এ আয়াতের তাফসির সম্পর্কে মাআরেফুল কোরআনে এসেছে, যদিও ও ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার বিষয়ে এ আয়াতটি (সুরা নিসার ৭নং আয়াত ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের জন্য যেমন নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও তেমনি অংশ রয়েছে; হোক তা অল্প বা বেশি-এটি একটি নির্ধারিত অংশ’) দ্বারা এ-জাতীয় ওসিয়তের বিধান রহিত হয়ে গেছে। একইভাবে তাফসিরে জাসসাস ও কুরত্ববিতে এসেছে, মিরাস-উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াত আত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করাকে রহিত করে দিয়েছে। এমনকি বিদায় হজের ‘ঘোষণায় রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক হকদারের হকপ্রাপ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই এখন থেকে কোনো ওসিয়তকারীর জন্য তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারের জন্য ওসিয়ত করা জায়েজ নয়। (জামে তিরমিজি)

    সাহাবি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার বাবা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা (রা.) বললেন, আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রাসুল (সা.)-কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবীজির (সা.) কাছে এলেন। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি কি এমন কাজ তোমার অন্য সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। তখন আমার পিতা চলে এলেন এবং তিনি তার যে দান ফিরিয়ে নেন। (মুসলিম)

    মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজির কাছে যখন এ বিষয়ে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্য আসা হলো, তখন নবীজি (সা.) বললেন, এছাড়া তোমার কি আর কোনো পুত্র আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবীজি বললেন, তুমি কি তাদের সকলকে এমন (এই একই সমপরিমাণে) দান করেছ? (এর উত্তরে) যখন বলা হলো, না। তখন নবীজি বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি জুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সবাইকে সমবন্টন করে না দেওয়ার কারণে নবীজি স্বয়ং সাক্ষী তো হলেনই না। বরং, এমন আচরণকে জুলুম অবিচার হিসাবে আখ্যায়িত করলেন। আরেক বর্ণনায় আরো একটু বর্ধিত বিবরণ এসেছে। নবীজি বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা (তোমার সব ছেলে) সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে এমন করো না। (অর্থাৎ, একজনকে কিছু (বেশি বা সাধ্যের মধ্যে) দান করে, অপরকে বঞ্চিত করো না। (মুসলিম)

    শেষোক্ত বর্ণনাটি থেকে এ বিষয়টিই বুঝে আসে

    যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই কর্তব্য হচ্ছে, আমরা যদি আমাদের সন্তানদের থেকে সদ্ব্যবহার কামনা করি, তবে তাদের সবার প্রতি ইনসাফ বজায় রাখাও জরুরি। নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আজকাল আমাদের সমাজে এ-জাতীয় আচরণও প্রকাশ পাচ্ছে, অনেকেই তাদের আপন সন্তানের মধ্যে কারো প্রতি বেশি আবেগ ভালোবাসার কারণে, কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়েন। ফলে ওই সন্তানের প্রতি বা তার ছেলেমেয়ের প্রতিও লালন করেন অগাধ ভালোবাসা। এমন আচরণ কখনো কাম্য নয় কারো থেকেই! এর ফলে অনেক সময় বাকি সন্তানরা রাগ-অভিমান করে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কেউবা মা-বাবার প্রতি অযত্ন-অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন করে। এটিও কোনোভাবে কাম্য নয়। এমনকি বাবা-মায়ের এমন আচরণের কারণে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়াও বিধিসম্মত নয় কখনোই।

    লেখক: শিক্ষার্থী, শ্রীপুর ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা, শ্রীপুর, গাজীপুর

    এ এম

  • মুসলিম বিশ্বের টুকরো ইতিহাস

    মুসলিম বিশ্বের টুকরো ইতিহাস

    ১০ জুন : উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরবদের বিদ্রোহ

    ডেক্সনিউজ : ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (৭/৮ শাবান ১৩৩৪ হিজরি) ব্রিটিশদের মদতপুষ্ট মক্কার শরিফ ও আমির হুসাইন ইবনে আলীর নির্দেশে মক্কায় অবস্থানরত উসমানী সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ‘আরব বিদ্রোহ’-এর প্রকৃত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এই বিদ্রোহে আরবদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছিল।১০ জুন : উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরবদের বিদ্রোহ

    ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (৭/৮ শাবান ১৩৩৪ হিজরি) ব্রিটিশদের মদতপুষ্ট মক্কার শরিফ ও আমির হুসাইন ইবনে আলীর নির্দেশে মক্কায় অবস্থানরত উসমানী সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ‘আরব বিদ্রোহ’-এর প্রকৃত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এই বিদ্রোহে আরবদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছিল।১৩ জুন : কায়রোকেন্দ্রিক আব্বাসী খেলাফত প্রতিষ্ঠা

    ১৩ জুন ১২৬১ খ্রিষ্টাব্দ (৫/৬ রজব ৬৫৯ হিজরি) কায়রোভিত্তিক আব্বাসী খেলাফতের প্রথম খলিফা আহমদ আল-মুসতানসিরের শাসন শুরু হয়। তিনি মামলুক সালতানাতের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কায়রোর প্রথম আব্বাসী খলিফা ছিলেন।

    আল-মুসতানসির ছিলেন আল মুসতাসিম বিল্লাহর চাচা। ১২৫৮ সালে মঙ্গোল আক্রমণে বাগদাদ পতনের সময় তিনি প্রাণে রক্ষা পান এবং মরুভূমিতে বিভিন্ন বেদুইন গোত্রের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীকালে মামলুকরা মঙ্গোলদের পরাজিত ও প্রতিহত করার পর তিনি কায়রো আসেন। সেখানে বাইবার্স তাকে খলিফার পদে অধিষ্ঠিত করেন। এর মাধ্যমে কায়রোয় আব্বাসী খেলাফতের নতুন ধারার সূচনা হয়।

    ১৬ জুন সুলতান বায়েজিদ প্রথমের : উসমানী খেলাফতের দায়িত্বগ্রহণ

    ১৬ জুন ১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দ (১১/১২ জমাদিউস সানি ৭৯১ হিজরি) বায়জিদের (প্রথম) শাসনকাল শুরু হয়। তিনি ‘ইলদিরিম’ (বজ্র বা বিদ্যুৎ) নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। বায়েজিদ ছিলেন মুরাদের (প্রথম) ছেলে। ১৩৮৯ সালের ১৫ জুন কসোভো যুদ্ধে উসমানীদের বিজয়ের পর তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।

    এ এম

  • চৌগাছার দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায় আজ বিচার শুরু

    চৌগাছার দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায় আজ বিচার শুরু

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিচার শুরু হচ্ছে আজ।

    মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হবে।এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    এর আগে গত ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ১ জুন প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করে।

    এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইনুল ইসলাম মহিন (৩২) নামে এক ঘের কর্মচারী মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার নোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাইনুল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মগিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী শেখ হেমায়েত উদ্দিনের নোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘেরের বাসায় থেকে ঘেরের দেখভাল করতেন। তিনি এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি ঘেরের পানি দেওয়ার জন্য মেশিন ঠিক করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাহিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    বোরকা-নিকাব নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রী সংস্থা। সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির নেত্রীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা বোরকা-নিকাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য’, ‘ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?’, ‘পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার’, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না’ প্রভৃতি।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে বউ বদলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদেরও কটাক্ষ করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করে না।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যখন জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেন, তখন দেশের নারী সমাজ ব্যথিত হয়। আমরা তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দেশের নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

    মানববন্ধন শেষে সংগঠনের প্রচার সম্পাদিকা তাওফিকা রহমান আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা; জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা; ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।

    এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    সংগঠনটির নেত্রীরা বলেন, নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

  • কোরআনের বর্ণনায় যাদের ধ্বংস অনিবার্য

    কোরআনের বর্ণনায় যাদের ধ্বংস অনিবার্য

    ওয়াইল মানে দুর্ভোগ বা ধ্বংস। কেউ কেউ বলেন, ওয়াইল জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম।পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন শ্রেণির পাপীদের জন্য এই ‘ধ্বংস’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নে তাদের বিষয়ে বর্ণনা করা হলো :

    চরম মিথ্যাবাদী ও পাপাচারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৭)

    আজ হোক, কাল হোক, মিথ্যাবাদীর পতন অনিবার্য।

    কাফিরদের জন্য ধ্বংস : পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘(তিনি) আল্লাহ, যাঁর জন্য আছে আসমান ও জমিনের সব কিছু।আর কাফিরদের জন্য আছে কঠিন শাস্তির দুর্ভোগ।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ২)

    আয়াতের মূল কথা হলো, যারা কোরআনের নিয়ামত অস্বীকার করে এবং অন্ধকারেই থাকতে পছন্দ করে, তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংস ও বিপর্যয়।

    (তাফসির ফাতহুল কাদির)

    সামনে ও পেছনে নিন্দাকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।’ (সুরা : আল-হুমাজাহ, আয়াত : ১)

    আয়াতে ‘হুমাজাহ’ ও ‘লুমাজাহ’ দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।বেশির ভাগ তাফসিরকারের মতে, হুমাজাহ এর অর্থ গিবত অর্থাৎ পশ্চাতে পরনিন্দা করা এবং লুমাজাহ অর্থ সামনাসামনি দোষারোপ করা ও মন্দ বলা। এ দুটি কাজই জঘন্য গুনাহ। (আদওয়াউল বায়ান)

    সম্পদ জমাকারী ও বারবার গণনাকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘(দুর্ভোগ তারও) যে ধন-সম্পদ জমা করে আর বারবার গণনা করে।’ (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ২)

    আয়াতের অর্থ হলো যে সম্পদ জমা করে ও গুনে গুনে রাখে; গুছিয়ে গুছিয়ে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তার জন্য ধ্বংস। সাধারণভাবে মাল সঞ্চয় করে রাখা কোনো নিন্দনীয় কাজ নয়।নিন্দনীয় তখনই হয় যখন তার জাকাত দেওয়া না হয়, দান-খয়রাত এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ না করা হয়।

    সালাতে উদাসীন ও অমনোযোগী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন।’

    (সুরা : মাউন, আয়াত : ৪-৫)

    নামাজে অমনোযোগী বা উদাসীন বলে ওই সব লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা মোটেই নামাজ পড়ে না অথবা প্রথম দিকে পড়ত, অতঃপর তাদের মধ্যে অলসতা এসে পড়েছে অথবা নামাজ যথাসময়ে আদায় করে না; বরং যখন মন চায় তখন পড়ে নেয় অথবা দেরি করে আদায় করতে অভ্যাসী হয় অথবা বিনয়-নম্রতার (ও একাগ্রতার) সঙ্গে নামাজ পড়ে না ইত্যাদি। এসব ত্রুটি ওই অর্থের শামিল। অতএব, নামাজের ব্যাপারে এসব আচরণ থেকে বাঁচা প্রয়োজন।

    লোক-দেখানো আমলকারী ও ক্ষুদ্র গৃহসামগ্রী দানে অনীহা প্রকাশকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘(ধ্বংস তাদের জন্যও) যারা লোক-দেখানোর জন্য তা (সালাদ আদায়) করে এবং প্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী ছোটখাটো সাহায্য দানে বিরত থাকে।’ (সুরা : আল-মাউন, আয়াত : ৬-৭)

    মাউন ছোট ও সামান্য পরিমাণ জিনিসকে বলা হয়। এমন ধরনের জিনিস, যা লোকদের কোনো কাজে লাগে বা এর থেকে তারা ফায়দা অর্জন করতে পারে।

    সাধারণত প্রতিবেশীরা একজন আরেকজনের কাছে সাধারণ মানবতারূপে গণ্য হয়; যথা—কুড়াল, কোদাল অথবা রান্নাবান্নার পাত্র—এসবই মাউনের অন্তর্ভুক্ত। প্রয়োজনে এসব জিনিস প্রতিবেশীর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়া দোষণীয় মনে করা হয় না। কেউ এগুলো দিতে অস্বীকৃত হলে তাকে বড় কৃপণ ও নীচ মনে করা হয়। কারো কারো মতে, আলোচ্য আয়াতে মাউন বলে জাকাত বোঝানো হয়েছে। জাকাতকে মাউন বলার কারণ সম্ভবত এই যে জাকাত পরিমাণে আসল অর্থের তুলনায় খুবই কম। অর্থাৎ ৪০ ভাগের এক ভাগ হয়ে থাকে।

    প্রতিদান দিবসকে অস্বীকারকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন ধ্বংস রয়েছে অস্বীকারকারীদের জন্য, যারা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে।’

    (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১০-১১)

    যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় : পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহর (পথ), আসমানসমূহ ও জমিনের সবকিছুই যার মালিকানায় এবং কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাবের দুর্ভোগ। যারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাত থেকে অধিক পছন্দ করে, আর আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতার সন্ধান করে; তারা ঘোরতর ভ্রষ্টতায় আছে।’ (সুরা : ইব্রাহিম, আয়াত : ২-৩)

    মতভেদ তৈরি করা ও সত্য গোপন করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরপর তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ করল। কাজেই মহাদিবস প্রত্যক্ষকালে কাফিরদের ধ্বংস অনিবার্য।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৩৭)

    আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটনাকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘বরং আমি মিথ্যার ওপর সত্য নিক্ষেপ করি; ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং নিমিষেই তা বিলুপ্ত হয়। আর তোমাদের জন্য আছে দুর্ভোগ, তোমরা যা বলছ (আল্লাহ সম্পর্কে) তার জন্য।’

    (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১৮)

    সৃষ্টিজগেক অনর্থক মনে করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আসমান, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য আছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।’

    (সুরা : সোয়াদ/সদ, আয়াত : ২৭)

    আল্লাহর জিকির থেকে যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে : পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন, ফলে সে তার রবের পক্ষ থেকে নুরের ওপর আছে (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?); অতএব, ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে আল্লাহর স্মরণ থেকে। তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২২)

    নিজ হাতে কিতাব লিখে আল্লাহর বাণী বলে দাবি করা : মহান আল্লাহ বলেন, “সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে। তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার পরিণামে তাদের জন্য ধ্বংস, আর তারা যা উপার্জন করেছে তার কারণেও তাদের জন্য ধ্বংস।” (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৯)

    আল্লাহর সঙ্গে শিরককারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো, ‘আমি কেবল তোমাদের মতো একজন মানুষ। আমার কাছে ওহি পাঠানো হয় যে তোমাদের ইলাহ কেবলমাত্র এক ইলাহ। অতএব, তোমরা তাঁর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাকো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। আর মুশরিকদের জন্য ধ্বংস।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৬)

    পরিমাপে ও ওজনে কম দানকারী : মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা পরিমাপে কম দেয়।’

    (সুরা : আল-মুতাফফিফিন, আয়াত : ১)

    ইসলামে মাপ ও ওজনে কম দেওয়া হারাম করা হয়েছে এবং সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাপ করার জন্য কড়া তাগিদ করা হয়েছে। তবে আয়াতে উল্লিখিত নিন্দা শুধু মাপ ও ওজনের মধ্যেই সীমিত থাকবে না; বরং মাপ ও ওজনের মাধ্যমে হোক, গণনার মাধ্যমে হোক অথবা অন্য কোনো পন্থায় প্রাপককে তার প্রাপ্য কম দিলে তা এই নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে হারাম হবে।

    এ এম

  • খলিফা উমরের নামাঙ্কিত শিলালিপি আবিষ্কার

    খলিফা উমরের নামাঙ্কিত শিলালিপি আবিষ্কার

    সৌদি আরবে খলিফা উমর (রা) এর নামাঙ্কিত শিলালিপি পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের ঐতিহ্য বিষয়ক কমিশন জানিয়েছে, মদিনা প্রদেশে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের সময় এ শিলালিপি পাওয়া যায়।

    ঐতিহ্য কমিশন জানায়, জরিপের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে এক হাজার ৭৭৪টি প্রত্নসম্পদ আবিষ্কার হয়। এরমধ্যে এই শিলালিপিটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    ঐতিহ্য কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জরিপ দলগুলো ১৭৩টি অজানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

    আবিষ্কার করা প্রত্নসম্পদের মধ্যে ছিল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) এর নামাঙ্কিত ১৭৩টি শিলালিপি এবং পাথরে লেখা প্রাচীন আরবি কবিতা।

    কমিশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২৫৯টি শিলালিপি, ৪৬১টি ইসলামী শিলালিপি, সামুদ ভাষায় লেখা ৩৪টি শিলালিপি, ১১টি পাথরের কাঠামো, তিনটি প্রাসাদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, কাফেলা পথের দুটি মাইলফলক এবং চারটি কূপ।

    উমর ইবনুল খাত্তাব ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য শাসন করেন।

  • একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

    একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

    মানুষের জীবনে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়; বরং এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক পবিত্র সম্পর্ক। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে দুনিয়ার জীবনেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং জান্নাতেও এই সম্পর্কের স্থায়িত্বের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।তাই অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে—কোনো নারীর যদি দুনিয়ায় একাধিক স্বামী হয়ে থাকে, যেমন প্রথম স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর তিনি পুনরায় বিয়ে করেছেন, তাহলে জান্নাতে তিনি কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

    জান্নাতে প্রিয়জনদের পুনর্মিলন
    ইসলাম জান্নাতকে এমন এক আবাসস্থল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়, যেখানে কোনো দুঃখ, কষ্ট, অপূর্ণতা বা বিচ্ছেদ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরও তাদের সঙ্গে মিলিত করে দেব।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ২১)

    অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৩)
    প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, জান্নাতবাসীদের আনন্দকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আল্লাহ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে একত্রিত করবেন, যদিও তাদের আমলের স্তরে কিছু পার্থক্য থাকে।একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?
    কিছু আলেমের মতে, কোনো নারীর একাধিক স্বামী থাকলে তিনি জান্নাতে তার সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। এ মতের পক্ষে আবু দারদা (রা.) থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়। তিনি তার স্ত্রী উম্মু দারদাকে বলেছিলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো নারী যার স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্য কাউকে বিয়ে করে, সে জান্নাতে তার শেষ স্বামীর জন্য হবে।’ (তাবারানি, আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৩১৩০)

    যদিও মুহাদ্দিসরা এ বর্ণনার সনদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবুও অনেক ফকিহ এ মতকে গ্রহণ করেছেন। আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, উম্মে সালামা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কোনো নারীর যদি দুনিয়ায় দুইজন স্বামী থাকে, তবে জান্নাতে সে কার সঙ্গে থাকবে?’ উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তাকে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হবে। তখন সে সেই স্বামীকে বেছে নেবে, যে দুনিয়ায় তার সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করেছিল।’ এরপর তিনি বলেন, ‘সুন্দর চরিত্র দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে একত্রিত করে।’ (আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি)
    এই বর্ণনা থেকে অনেক আলেম মত প্রকাশ করেছেন যে, জান্নাতে নারীর সন্তুষ্টি ও সুখের বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে।

    কোনো কোনো ইসলামী স্কলারের মতে, জান্নাত যেহেতু পরিপূর্ণ সুখের আবাস, তাই সেখানে কাউকে এমন অবস্থায় রাখা হবে না, যা তার মনে কষ্ট বা অপূর্ণতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।ফলে কোনো নারীর যদি একাধিক স্বামী থাকে, তবে তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী স্বামী নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই মতকে সমর্থন করে আল্লাহ তাআলার সাধারণ ঘোষণা, ‘সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমরা কামনা করবে।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩১)

    আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘সেখানে থাকবে যা মন আকাঙ্ক্ষা করে এবং যা চোখকে তৃপ্ত করে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৭১)

    আর সমকালীন বর্তমানের আলেমরা এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, যদি কোনো নারীর স্বামীদের মধ্যে একজন তার সঙ্গে উত্তম আচরণকারী ও অধিক নেককার হয়ে থাকেন, তবে তিনি তাকে বেছে নেবেন। আর যদি তাদের মর্যাদা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য না থাকে, তবে তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। তবে মনে রাখতে হবে, এসব ব্যাখ্যার অনেকগুলোই ইজতিহাদভিত্তিক। এ বিষয়ে কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো চূড়ান্ত ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য নেই, যা সব মতভেদের অবসান ঘটিয়ে দেয়।

    অতএব, দুই বা ততোধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন—এ বিষয়ে ইসলামী পণ্ডিতদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন; কেউ বলেন, তাকে পছন্দের অধিকার দেওয়া হবে; আবার কেউ বলেন, তিনি সেই স্বামীকে বেছে নেবেন, যিনি দুনিয়াতে তার সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিলেন।

    তবে এসব মতের ঊর্ধ্বে যে সত্যটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, তা হলো—জান্নাত আল্লাহর সন্তুষ্ট বান্দাদের জন্য পরিপূর্ণ সুখ, শান্তি ও তৃপ্তির আবাস। সেখানে কোনো মুমিনের মনে দুঃখ, আফসোস বা অপূর্ণতা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম হিকমত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রত্যেক জান্নাতবাসীর জন্য এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা চিরস্থায়ী সুখ ও প্রশান্তি লাভ করে। সুতরাং এ বিষয়ে চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে, আর মুমিনের কর্তব্য হলো—জান্নাত লাভের জন্য ঈমান ও নেক আমলে জীবনকে সাজিয়ে তোলা।

    এ এম

  • খলিফা আবু বকরের শাসনকালে পারস্যের হীরা নগরী বিজয়

    খলিফা আবু বকরের শাসনকালে পারস্যের হীরা নগরী বিজয়

    উল্লাইসের যুদ্ধ শেষ করে খালেদ ইবনে ওয়ালিদ আমগেশিয়ার দিকে অগ্রসর হলেন। তার আকস্মিক আগমনের কারণে সেখানকার অধিবাসীরা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেল না। তারা নগরী ত্যাগ করে সাওয়াদে (ইরাকের উর্বর কৃষি-অঞ্চল) ছড়িয়ে পড়ল। সে সময় থেকেই তাদের আখক্ষেত ও বাগানগুলো সাওয়াদের কৃষিভূমির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

    খালেদ আমগেশিয়া এবং তার আওতাভুক্ত সব স্থাপনা ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন। আমগেশিয়া হীরার মতোই একটি সমৃদ্ধ নগর ছিল। ফুরাত বাদাকলির (ফোরাতের শাখা নদী বা বাদাকলি খাল) একটি শাখা এসে এখানে শেষ হয়েছে। উল্লাইস ছিল আমগেশিয়ার একটি সীমান্ত প্রতিরক্ষাকেন্দ্র। মুসলমানরা সেখানে বিপুল গনিমত লাভ করল। এত পরিমাণ সম্পদ তারা আগে কখনো পায়নি।জাতুস-সালাসিল থেকে আমগেশিয়া পর্যন্ত যত অভিযানে মুসলমানরা অংশ নিয়েছে, তার মধ্যে আমগেশিয়ার প্রাপ্ত গনিমতের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদত্ত পুরস্কারের বাইরেও প্রতিজন অশ্বারোহী যোদ্ধা ১ হাজার ৫০০ দিরহাম পেয়েছিল।

    আমগেশিয়া বিজয়ের সংবাদ মদিনায় পৌঁছালে খলিফা আবু বকর (রা.) কুরাইশদের উদ্দেশে বলেছিলেন—‘কুরাইশগোত্রের লোকরা শোনো! তোমাদের বীর সিংহ আরেক সিংহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তার গুহায় তাকে পরাস্ত করেছে। নারীরা কি আর খালিদের মতো কাউকে জন্ম দিতে পারবে?’

    ফোরাত বাদাকলির মোহনা অবরোধ

    কিসরার যুগ থেকে আজাজবে ছিলেন হীরার মারজুবান (সীমান্তপ্রধান)। সেকালে সম্রাটের অনুমতি ছাড়া কোনো সীমান্তপ্রধান অন্যকে সাহায্য করতে পারতেন না। তিনি উচ্চমর্যাদার অধিকারী ছিলেন; তার টুপির মূল্যই ছিল ৫০ হাজার দিরহাম।

    খালেদ ইবনে ওয়ালিদ যখন আমগেশিয়া ধ্বংস করে ফেললেন। সেখানকার অধিবাসীরা গ্রামাঞ্চলের দেহকানদের (স্থানীয় ভূস্বামী বা জমিদার) কাছে আশ্রয় নিল। আজাজবে তখন বুঝতে পারলেন, তাকেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাই তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন।

    আজাজবে অগ্রগামী বাহিনী হিসেবে ছেলেকে পাঠালেন, তারপর নিজেও বের হয়ে হীরার বাইরে শিবির স্থাপন করলেন। তিনি ছেলেকে ফোরাত নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

    অন্যদিকে খালেদ ইবনে ওয়ালিদও আমগেশিয়া থেকে হীরার উদ্দেশে যাত্রা করলেন। গনিমত ও ভারী মালপত্র নৌকায় বোঝাই করে নদীপথে পাঠালেন। সামনে এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেল, পানিস্বল্পতার কারণে নৌকাগুলো আটকে যাচ্ছে। এতে মুসলমানরা বিচলিত হয়ে পড়লেন। নৌকার মাঝিরা বললেন—‘পারসিকরা নদীর গতিপথ বদলে দিয়েছে। পানি অন্য পথে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর মুখ আবার খুলে দেওয়া না হলে এখানে পানি আসবে না।’

    মুসলিম সেনাপতি অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে দ্রুত আজাজবের ছেলের মোকাবিলা করার জন্য এগিয়ে গেলেন। আতিক নদীর মোহনায় তার অশ্বারোহী বাহিনীর একাংশ শত্রুদের মুখোমুখি হলো। আজাজবের সৈন্যরা তখন সম্পূর্ণ নির্ভার ছিল; এমন সময়ে মুসলিমদের আকস্মিক আক্রমণের কথা তারা কল্পনাও করেনি। মুসলিম সেনাবাহিনী সেখানে তাদের পরাজিত করলেন। তারপর বিলম্ব না করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন। সংবাদ পৌঁছার আগেই তারা আজাজবের ছেলে ও তার সৈন্যদের কাছে ফোরাত বাদাকলির মোহনায় উপস্থিত হলেন। সেখানে দুই বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হলো। পারসিক বাহিনী পরাজিত হলো। এরপর নদীর বাঁধ খুলে দেওয়া হলো এবং পানি ফোরাত দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করল।

    হীরা শহর অবরোধ

    ফোরাত মোহনায় আজাজবের ছেলেকে পরাজিত করার পর খালেদ হীরার দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি বিচ্ছিন্ন বাহিনীকে সমবেত করলেন এবং খাওয়ারনাক ও নাজাফের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নিলেন।

    খালেদ যখন খাওয়ারনাকে পৌঁছালেন, তার আগেই আজাজবে যুদ্ধ না করে ফোরাত পার হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তার এই পলায়নের প্রধান কারণ ছিল (পারস্য সম্রাট তৃতীয়) আরদাশীরের মৃত্যু এবং তার ছেলের পরাজয়ের সংবাদ। আলগারবিয়্যাইন ও সাদা দুর্গের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল তার শিবির।

    খালেদের সৈন্যরা খাওয়ারনাকে এসে সমবেত হলো। তিনি এগিয়ে গিয়ে আজাজবের পরিত্যক্ত শিবিরে অবস্থান নিলেন। এদিকে হীরার অধিবাসীরা আত্মরক্ষার জন্য বিভিন্ন দুর্গে আশ্রয় নিল।

    সেনাপতি খালেদ মুসলিম বাহিনীকে নিয়ে শহরে প্রবেশ করলেন এবং প্রত্যেক দুর্গ অবরোধের জন্য একজন কমান্ডার নিয়োগ দিলেন। সাদা দুর্গের (আলকাসরুল আসওয়াদ) নেতা ছিলেন ইয়াস ইবনে কুবাইসা, জিরার ইবনে আজওয়ার এই দুর্গ অবরোধ করলেন। আদি ইবনে আদি ইবাদি ছিলেন আদাসিয়্যিন দুর্গের নেতা। এই দুর্গ অবরোধ করলেন জিরার ইবনে খাত্তাব। মাজিন গোত্রের দুর্গের নেতৃত্বে ছিলেন ইবনে আকালের হাতে। এই দুর্গ অবরোধ করেছিলেন জিরার ইবনে মুকাররিন। ইবনে বুকাইলা দুর্গের অবরোধ করেছিলেন মুসান্না ইবনে হারিসা। এখানকার নেতা ছিলেন আমর ইবনে আবদুল মাসিহ।

    কমান্ডাররা সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং আত্মসমর্পণের জন্য এক দিনের সময় দিলেন। কিন্তু হীরাবাসী আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করল। তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় রইল। ফলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ল।

    খালেদ ইবনে ওয়ালিদ সেনাপতিদের নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন। যদি তারা দাওয়াত গ্রহণ করে, তাহলে ভালো। আর যদি প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের এক দিনের সময় দেবেন। শত্রুকে আপনাদের অবস্থা জানার সুযোগ দেবেন না, তাহলে আপনাদের দুর্বলতার সুযোগ তারা নেওয়ার চেষ্টা করবে। বরং দ্রুত তাদের মোকাবিলা করবেন। মুসলিমদের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত রাখবেন না।’

    অবকাশের সময় সমাপ্ত হওয়ার পর সর্বপ্রথম যুদ্ধ শুরু করেন জিরার ইবনে আজওয়ার, তিনি সাদা দুর্গ অবরোধের দায়িত্বে ছিলেন। (অবকাশ শেষ হওয়ার) পরদিন সকালে দুর্গের প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘তোমাদের সামনে তিনটি পথ খোলা আছে : ইসলাম গ্রহণ, জিজিয়া প্রদান অথবা যুদ্ধ।’

    তারা যুদ্ধকেই বেছে নিল এবং উচ্চ স্বরে চিৎকার করে বলল, ‘তোমাদের বিরুদ্ধে খাজাজিফ (মোড়ামাটির তৈরি নিক্ষেপযোগ্য গোলা) প্রস্তুত আছে!’

    কমান্ডার জিরার সৈনিকদের বললেন, ‘তোমরা একটু সরে তাদের নিক্ষেপিত গোলার সীমানার বাইরে দাঁড়াও। তাতে গোলার আঘাত থেকে বাঁচতে পারবে। দেখি তারা কী বোঝাতে চায়।’

    অল্পক্ষণের মধ্যেই দুর্গের দেয়ালে লোকজনে ভরে গেল। তারা ঝুড়িভর্তি খাজাজিফ নিক্ষেপ করতে লাগল। এগুলো ছিল পোড়ামাটির তৈরি গোলাকার শক্ত ঢেলা।

    জিরার তখন নির্দেশ দিলেন, ‘তাদের ওপর তীর বর্ষণ করো।’ মুসলমানরা এগিয়ে গিয়ে তীর নিক্ষেপ করলে দুর্গপ্রাচীর শূন্য হয়ে গেল। এভাবে তারা আক্রমণ চালিয়ে গেলেন।

    পারসিকদের সন্ধি-প্রস্তাব

    অন্য সেনাপতিরাও অবরোধ করে রাখা দুর্গের বিরুদ্ধে একই কৌশল অবলম্বন করলেন। তারা আশপাশের বাড়িঘর ও ছোট ছোট আশ্রম-উপাসনালয় দখল করলেন এবং বহু লোককে হত্যা করলেন। তখন যাজক ও সন্ন্যাসীরা চিৎকার করে বলতে শুরু করলেন, ‘হে দুর্গবাসী! তোমাদের একগুঁয়েমির কারণেই আমরা নিহত হচ্ছি!’

    অবশেষে আর কোনো উপায় না দেখে দুর্গের লোকরা মুসলিমদের ডেকে বললেন, ‘আরবের লোকরা, শোনো! তোমাদের দেওয়া তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে একটা আমরা গ্রহণ করতে রাজি। আমাদের তোমাদের নেতার কাছে নিয়ে চলো এবং যুদ্ধ বন্ধ করো।’

    তখন ইয়াস ইবনে কাবিসা ভাইকে নিয়ে জিরার ইবনে আজওয়ারের কাছে এলেন। আদি ইবনে আদি ও জায়েদ ইবনে আদি গেলেন জিরার ইবনে খাত্তাবের কাছে। আর আমর ইবনে আবদুল মাসিহ ও ইবনে আকালের একজন গেলেন দিরার ইবন মুকাররিনের কাছে, অন্যজন মুসান্না ইবনে হারিসার কাছে। সবশেষে তাদের সবাইকে সেনাপতি খালেদের কাছে পাঠানো হলো। মুসলিম বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে অবিচল রইল।

    প্রথমে সন্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করেন আমর ইবনে আবদুল মাসিহ। তিনি ইবনে বুকাইলা নামে পরিচিত ছিলেন। সন্ধিচুক্তি সম্পাদনের জন্য দুর্গের নেতারা তাকে এবং তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধিকে খালিদের কাছে পাঠালেন। খালেদ দুর্গের সব প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদাভাবে অন্যদের উপস্থিতি ছাড়া আলোচনা করলেন। তিনি প্রথমে আদি ও তার সঙ্গীদের দিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

    তিনি তাদের বললেন, ‘ধিক তোমাদের! তোমরা কি আরব নও? যদি আরব হও, তবে আরবদের বিরুদ্ধে তোমাদের অভিযোগ কী? আর যদি অনারব হও, তবে ন্যায় ও ইনসাফের বিরুদ্ধে তোমাদের আপত্তি কী?’

    আদি বললেন, ‘আমাদের মধ্যে কেউ বিশুদ্ধ আরব (عرب عاربة), কেউ আবার আরবায়িত আরব (عرب متعربة)।’

    খালেদ বললেন, ‘তোমরা যেমন বলছো তেমন যদি হতে, তবে আমাদের বিরোধিতা করতে না এবং আমাদের দাওয়াতকে অপছন্দ করতে না।’

    আদি উত্তর দিলেন, ‘আমরা যা বলছি তার প্রমাণ হলো—আরবি ভাষা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো ভাষা নেই।

    খালেদ বললেন, ‘তুমি সত্য বলেছ।’

    এরপর তিনি বললেন, ‘তোমাদের সামনে তিনটি পথ খোলা আছে। আমাদের দ্বীনে প্রবেশ করবে। তাহলে তোমরা হিজরত করো বা নিজ ভূমিতেই অবস্থান করো, উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের ও তোমাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সমান হয়ে যাবে। জিজিয়া দেবে। যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মোকাবিলার জন্য এমন এক জাতিকে নিয়ে এসেছি, তোমাদের জীবনকে যতটা ভালোবাসো, তার চেয়েও মৃত্যুকে তারা বেশি ভালোবাসে।’

    আদি বললেন, ‘আমরা আপনাকে জিজিয়া দেব।’

    খালেদ বললেন, ‘ধিক তোমাদের! কুফর হলো এক বিভ্রান্তিকর মরুভূমি। যে এ পথে চলে, সে আরবদের সবচেয়ে নির্বোধ ব্যক্তি। তার সামনে যদি দুজন পথপ্রদর্শক আসে—একজন আরব এবং অন্যজন অনারব আর সে আরবকে ছেড়ে অনারবকে অনুসরণ করে, তবে তার চেয়ে নির্বোধ আর কেউ হতে পারে না!’

    অবশেষে বার্ষিক ১ লাখ ৯০ হাজার দিরহামের বিনিময়ে সন্ধিচুক্তি হলো। অন্যরাও তাদের অনুসরণ করলেন। তারা খালেদকে বিভিন্ন উপঢৌকনও দিলেন। খালেদ বিজয়ের সংবাদ এবং উপহারগুলো খলিফা আবু বকর (রা.)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।

    ‘তিনি খালেদকে পত্রে নির্দেশ দিলেন : ‘তারা যে উপহার-উপঢৌকন পেশ করেছে, তা তাদের জিজিয়ার হিসেবে সমন্বয় করো, যদি তা আগে থেকেই জিজিয়ার অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে। এরপর তাদের ওপর যা বাকি থাকে, তা আদায় করে নাও এবং সেই অর্থে তোমার সৈন্যদের প্রয়োজন পূরণ করো ও তাদের শক্তি বৃদ্ধি করো।’

    (সূত্র : তারিখে তাবারি, অখণ্ড সংস্করণ, পৃষ্ঠা : ৫৩৮-৫৩

    এ এম

  • আমরা কি পিপীলিকার চেয়েও অধম

    আমরা কি পিপীলিকার চেয়েও অধম

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নামল নামে একটি সুরা নাজিল করেছেন। আরবি নামল শব্দের অর্থ পিপীলিকা।

    পিপীলিকার বর্ণনা থাকায় সুরার নাম হয়েছে নামল। সুরায় একটি পিপীলিকার সংক্ষিপ্ত সংলাপ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সে নিজ জাতিকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করছে এবং আত্মরক্ষার পথ বাতলে দিচ্ছে, যা একই সঙ্গে স্বজাতির প্রতি দরদ ও দায়িত্ববোধের বার্তা দেয়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকা বাহিনী! তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী তোমাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পদতলে পিষে না ফেলে। সুলাইমান তার কথায় মৃদু হাসল।

    (সুরা : নামল, আয়াত : ১৮-১৯)

    কোরআনের বর্ণনা অনুসারে একটি দুর্বল পিপীলিকা স্বজাতিকে সতর্ক করছে, তাদের উদ্বুদ্ব করছে এবং জাতিকে রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করছে। সে তাদের সামনে আসন্ন বিপদের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। প্রশ্ন হলো, একটি পিপীলিকা কি স্বজাতির প্রতি আমাদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল? ভেবে দেখুন! পিপীলিকা নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়নি, বরং সে তার জাতিকে নিয়ে চিন্তিত। সে বলেনি, আমি একাই বাঁচব, তোমাদেরকে মৃত্যুর মুখে ফেলে যাব।

    ছোট হওয়ার পরও সে আওয়াজ নিচু রাখেনি, সে চিৎকার করে ডেকেছে, হে পিপীলিকার দল! যেন সবাই শোনে, সবাই সচেতন হয়। পরিবার, প্রতিবেশী ও স্বজাতির প্রতি পিপীলিকার এই দায়িত্ববোধ কি আমাদের লজ্জিত করে না?

    কত মানুষ তার দায়িত্বে অবহেলা করছে, কত প্রহরী ঘুমিয়ে থেকে শত্রুকে সুযোগ করে দিচ্ছে, কত মানুষ পরিবারের বিপদ দেখেও চুপ থাকছে, অথবা নিরাপদে সরে গিয়ে বলছে, আমি পালিয়ে বেঁচেছি। তরুণ হলেও তোমার দায়িত্ব অনেক, একটিমাত্র পিপীলিকা যদি স্বজাতিকে বাঁচাতে পারে, তাহলে একটি মানুষ কেন তাদের রক্ষা করতে পারবে না? তুমি নিজেকে ছোট ও বিচ্ছিন্ন ভেবো না, বোলো না—এতে আমার কি?

    প্রতিটি মুসলমান দ্বিন ও উম্মাহর প্রতি দায়িত্বশীল। সুতরাং তোমার কারণে যেন ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

    আত্মমুখী ও স্বার্থপরতার এই সময়ে কত মানুষ তৃপ্ত হয়ে ঘুমায় এবং তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে! কত কর্মজীবী নিজ প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস দেখেও নির্বিকার থাকে, অথচ সে বেতনও গ্রহণ করে! কত কর্মকর্তা মানুষকে বিপদে ফেলে নিজে আনন্দের সঙ্গে দিন কাটায়! কত আলেম ও ধর্মপ্রচারক নিজের পদ-পদবি ও সুবিধা রক্ষার জন্য অনাচার দেখেও চুপ থাকে! এসব মানুষ কি পিপীলিকাকে দেখে লজ্জিত হয় না? সে কিন্তু নিজের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে স্বজাতির প্রতি ঈমানদারি দেখিয়েছিল।

    ঘটনার শেষ হয়েছে এভাবে—‘সুলাইমান তার কথা শুনে মৃদু হাসল।’ আল্লাহর নবীর এই হাসি তাচ্ছিল্যের ছিল না, এই হাসি ছিল বিস্ময় ও মুগ্ধতার। তিনি পিপীলিকার প্রজ্ঞা, মমতা ও বীরত্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। একজন নবী পিপীলিকার গুণে মুগ্ধ হয়েছেন।

    আপনি সতর্ককারী হোন! আপনি কি আপনার পরিবারের দিকে বিপদ আসতে দেখছেন? আপনি কি ফিতনা ও বিকৃতির গন্ধ পাচ্ছেন? আপনি কি সমাজে দুর্নীতির সয়লাব দেখছেন? দয়া করে চুপ থাকবেন না। আপনি সতর্ককারী হোন, আপনি সত্যের ধ্বনি হোন, প্রকম্পন সৃষ্টিকারী কণ্ঠস্বর হোন, যেভাবে পিপীলিকা হয়েছিল। আজ আমরা যারা স্বজাতির ব্যাপারে উদাসীন, যারা ভোগ-বিলাসিতায় সন্তুষ্ট, যারা আত্মমগ্ন হয়ে আছি, আসুন, আমরা উদাসীনতা পরিহার করি। কেননা এখন আমরা পিপীলিকারও অধম!

    হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, ‘যে অন্যায় দেখে তা (চুপ থেকে) অনুমোদন করে, সে যেন নিজ পরিবারকে তাতে লিপ্ত করল।’

    হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে স্বজাতির জন্য সতর্ককারী করুন, পরিবারের জন্য কল্যাণকামী করুন, আমাদের দ্বারা যেন ইসলামের কোনো ক্ষতি না হয়, আমরা যেন দায়িত্বে অবহেলা না করি। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.), পরিবার ও সকল সাহাবির প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন।

    এ এম

  • মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে  ‘অ্যালগরিদম’

    মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে ‘অ্যালগরিদম’

    আধুনিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শব্দ ‘অ্যালগরিদম’। অনেকের কাছেই শব্দটি এখন এক নেতিবাচক বা ভীতিজাগানিয়া অর্থ বহন করে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখব, পড়ব বা শুনব-তা নির্ধারণে সাহায্য করে এই অ্যালগরিদম। এর ফলে মানুষের নিজস্ব রুচি ও পক্ষপাতিত্ব আরো দৃঢ় হয় এবং তৈরি হয় আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’।

    শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।

    কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।

    ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।

    কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?

    আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।

    তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’

    অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।

    গাণিতিক রেসিপি

    জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’

    এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’

    মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।

    সূত্র:সূত্র: এনপিআর

    বি.এ

  • আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

    আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

    অনেকেই ইসলামকে ভুলভাবে এমন একটি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই। অথচ ইসলামে মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরোৎসাহিত করে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

    এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

    এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে শুধু ধন-সম্পদ নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়। কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

    قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ

    ‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)

    এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে-

    عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قَدْ تَفَرَّقَ شَعْرُهُ فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ شَعْرَهُ، وَرَأَى رَجُلًا آخَرَ وَعَلْيِهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ أَمَا كَانَ هَذَا يَجِدُ مَاءً يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ

    জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার চুলগুলো আচড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায় না? (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৬২)

    এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলাম এমন জীবনব্যবস্থা চায়, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সৌন্দর্যবোধ পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

    বর্তমান সমাজে এই বিষয়ে দুই ধরনের চরমপন্থা দেখা যায়। একদল মনে করে, দ্বীনদার হতে হলে মলিন ও অপরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যদিকে আরেকদল সৌন্দর্যের নামে অপচয়, ব্র্যান্ড-আসক্তি, বিলাসিতা ও অহংকারে ডুবে যায়। ইসলাম এই দুই চরমতার মাঝখানে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। ইসলাম চায় না মানুষ নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে নিজেকে অভাবী সাজাক। আবার এটাও চায় না, সে অহংকারের প্রতীক হয়ে উঠুক।

    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

    لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

    ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’

    সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, মানুষ তো সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পছন্দ করে। তখন তিনি বললেন,

    إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাবু তাহরীমিল কিবর ওয়া বায়ানিহি, হাদিস : ৯১)

    এই হাদিস ইসলামের সৌন্দর্যবোধের মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সুন্দর পোশাক বা ভালো জীবনযাপন নিজে কোনো অহংকার নয়। অহংকার হলো মানুষের প্রতি ঔদ্ধত্য এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা।

    আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই বিলাসিতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পোশাক, বাড়ি, গাড়ি কিংবা ভোগবিলাসকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেউ কেউ ধর্মীয় ভাবমূর্তির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাভাবিক জীবনযাপনকে তাকওয়া মনে করেন। এই দুই প্রবণতাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার বিপরীত।

    ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে বান্দা আল্লাহর শোকর আদায় করে; অহংকারে লিপ্ত না হয়। অর্থাৎ নিয়ামত ব্যবহার করা হবে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে, প্রদর্শন ও আত্মগরিমার জন্য নয়।

    আসলে আল্লাহর নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারও এক ধরনের শোকর। একজন মানুষ যখন হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন ও শালীন জীবন নিশ্চিত করে, তখন সে আল্লাহর একটি বিধানই বাস্তবায়ন করে। কারণ ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করেনি; বরং আত্মমর্যাদাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনকে উৎসাহিত করেছে।

    ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলিমের পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, রুচি, ব্যবহার ও জীবনযাপনেও ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠা উচিত। এমন সৌন্দর্য, যা বিনয় শেখায়; এমন পরিচ্ছন্নতা, যা হৃদয়ের পবিত্রতার প্রতিফলন; এমন জীবনযাপন, যা মানুষকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রকাশ তখনই ইবাদত হয়ে ওঠে, যখন তা কৃতজ্ঞতা, শালীনতা ও বিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। তাই অপচয় নয়, কৃত্রিম দারিদ্র্যও নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যই হোক একজন মুমিনের পরিচয়।

    এ এম

  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বাজেট কার্যকর হবে না: জামায়াত আমির

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বাজেট কার্যকর হবে না: জামায়াত আমির

    সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো সরকারের দেওয়া বাজেটই কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের আলোকে কেমন বাজেট হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরছি। এটি কোনো চূড়ান্ত বাজেট নয়, বরং বাজেটের পূর্বধারণা বা প্রস্তাবনা।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যাশা করে আসছে।

    কিন্তু বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনগণ হতাশ হয়েছে এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে।

    বাজেট প্রস্তাবনার লক্ষ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো দলীয় বাজেট নয়; দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। সরকার চাইলে এখান থেকে ইতিবাচক বিষয় গ্রহণ করতে পারে। তবে এর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, বীমা ও বিভিন্ন কর্পোরেশনে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার সংকটে রয়েছে, আর ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশের অর্থনীতি আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া কমবে এবং বছরের শেষ দিকে এডিপি ব্যয়ের নামে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও হ্রাস পাবে।

    সম্পূরক বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বছরের শেষ মুহূর্তে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করলে সংসদীয় পর্যালোচনার কার্যকারিতা কমে যায়। বরং নিয়ম অনুযায়ী আগেই তা সংসদে আনা হলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ইইউ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

    নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ইইউ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

    প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এনসিপির দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বৈঠকে সাম্প্রতিক গণভোটে অনুমোদিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন টিমের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা হয়। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।আলোচনার শেষে উভয় পক্ষই চলমান সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।বৈঠক শেষে এনসিপি নেতারা ইইউ প্রতিনিধি দলকে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি পরিদর্শন করান। সেখানে বিপ্লবের সময় তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার প্রতিফলন তুলে ধরা হয়।বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। ইইউ প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) সেবাস্তিয়ান রিগার ব্রাউন।

  • জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে। বাজেটে জনপ্রশাসন, শিক্ষা-প্রযুক্তি এবং ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।

    প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ২৪.০৯ শতাংশ জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫.১৯ শতাংশ। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

  • পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের জন্য দলটি মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। যাত্রা শুরুর আগে দলটি তাদের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কোরআন শরীফে চুমু খেয়ে, তার নিচ দিয়ে হেঁটে গিয়ে যাত্রা শুরু করে।

    মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পবিত্র কোরআনে চুম্বন দিচ্ছেন এবং কোরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ইরানি সংস্কৃতিতে এই রীতি দীর্ঘদিনের। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর বা অভিযানের আগে কোরআন চুম্বন ও তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে আল্লাহর সুরক্ষা, দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।

    যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যার মূল কারণ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সমস্যার কারণে ইরানকে তাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তর করতে হয়, যা ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। এর আগে দলটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্টালিয়াতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং সেখান থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে সরাসরি মেক্সিকোতে এসে পৌঁছায়।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছিলেন। খেলোয়াড়দের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেছিলেন এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ‘উপযুক্ত’ বলে তিনি মনে করেন না।

    তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরদিনই ইরানের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ইরানকে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাদ দেওয়ার বা ‘বর্জন করার ক্ষমতা কারো নেই’। সব বাধা পেরিয়ে ইরানি দল এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

  • জীবনযাপন

    জীবনযাপন

    বাদ ফজর: অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময়

    ফজর নামাজের পরের সময়টি আধ্যাত্মিক ও শারীরিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত বরকতময়। কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী এ সময় আল্লাহর রহমত ও রিজিক বণ্টন করা হয় এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী ভোরে ঘুম থেকে ওঠা দেহ ও মনের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

    কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে

    বরকতের দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের সকালের কাজে বরকতের জন্য দোয়া করেছেন (সুনান আবূ দাউদ)।

    রিজিক বণ্টন: হাদিস অনুযায়ী ফজর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ে আল্লাহ তা’আলা বান্দার রিজিক বণ্টন করেন।নফল ইবাদতের সওয়াব: জামাতে ফজর আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির ও দোয়ায় মশগুল থেকে দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ পড়লে একটি পূর্ণ হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়।

    ফেরেশতাদের উপস্থিতি: ফজরের সময় রাতের ও দিনের ফেরেশতারা একত্রিত হন এবং বান্দার ইবাদত পর্যবেক্ষণ করেন (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭৮)।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

    তেহরমোনের ভারসাম্য: ভোরের স্নিগ্ধ আলো ও শান্ত পরিবেশ মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা মানসিক চাপ দূর করে এবং সারাদিনের কর্মশক্তি বাড়ায়।

    শুদ্ধ বাতাস: এই সময়ে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে,যা ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

    হৃদরোগ প্রতিরোধ: সকালে ঘুম থেকে ওঠার ফলে হৃদযন্ত্রের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়।

    ফজর নামাজের পর না ঘুমিয়ে কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করার মাধ্যমে দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টি কাজে লাগানো যায়।

    এ এম