ইসলামী বিশ্ব

  • জাতিসংঘের কাঠামো পুনর্গঠন ও নিরপেক্ষ করার দাবি

    জাতিসংঘের কাঠামো পুনর্গঠন ও নিরপেক্ষ করার দাবি

    জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে এর কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন মহাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে।

    ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে কাইয়ুম বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো সনদ ও জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে এ সংস্থার কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সীমান্ত বিরোধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য সংঘাতের অন্যতম কারণ।

    আবদুল কাইয়ুম ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি’র ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি রাষ্ট্রগুলোকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোনো পরাশক্তির সামরিক শক্তির ওপর নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আফগানিস্তানে ন্যাটোর ব্যর্থতা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কোনো কোনো দেশ দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকে।

    বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ, মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে ন্যায্য বাণিজ্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার, সহনশীলতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    কাইয়ুমের মতে, এসব লক্ষ্য জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জাতিসংঘের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর নির্ভর করে।

  • মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

    মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও দলটির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন দেলাওয়ার হোসেন।

    রোববার (৩০ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম এ ঘোষণা দেন।

    দেলাওয়ার হোসেন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিও।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দলটি সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তিনি বলেন, ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের প্রার্থী জয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

    ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। শিগগিরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সফরের আমন্ত্রণ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সফরের আমন্ত্রণ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পারস্পারিক সুবিধাজনক সময়ে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি এ সময় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের সাম্প্রতিক সফর দুই দেশের সুসম্পর্ককে আরো প্রশস্থ ও সুগম করবে।

    চীনের রাষ্ট্রদূত জবাবে বলেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করা এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ।

    এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন–বাংলাদেশ–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

    চীনের রাষ্ট্রদূত গত এপ্রিল মাসে এল.জি.আর.ডি. মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ঐ সফরে আই.ডি.সি.পি.সি মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মন্ত্রীর পিতা লিউ শুকিং কর্তৃক তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ১৯৮০ সালের আগস্টে পরিচয়পত্র পেশের দূর্লভ আলোকচিত্র ও ভিডিও হস্থান্তরের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

    সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে সিরাত কনফারেন্স আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কিশোরগঞ্জ শহর জামায়াতের উদ্যোগে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক মো: রমজান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: নাজমুল ইসলাম।

    আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাওলানা ড. ফয়জুল হক, মুফতি আহমদ শরীফ বিন আসাদ ও করিমগঞ্জ সোবহানিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী রিয়াদী।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ শহর শাখার আমির মাওলানা আ ম ম আব্দুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি আবু নাছের মো: নয়িম।দ

    অনুষ্ঠানে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, মহানবীর আদর্শ আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে অনুসরণের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

    কনফারেন্সে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • যে ফুলের খুশবুতে জাহান মাতোয়ারা

    যে ফুলের খুশবুতে জাহান মাতোয়ারা

    নীরবতার কোলে মাথা রেখে একে একে ঘুমিয়ে পড়েছে পৃথিবীর সব মানুষ। লাগামহীন পাখিগুলোও আজ নীরব, নিস্তব্ধ। চারপাশে গভীর প্রশান্তি। অথচ জেগে আছে আরবের প্রকৃতি। সেজে উঠেছে আরবের মরুপ্রান্তর। মাথার উপর ডানা মেলে থাকা আকাশ আজ যেন অদ্ভুত এক রূপ ধারণ করেছে। চাঁদ মেতে উঠেছে আকাশের সঙ্গে কোনো এক গোপন সংলাপে। শতসহস্র মাইল দূরের তারাগুলোও যেন নিঃসঙ্গতার বিষাদ ভুলে আনন্দে ঝলমল করছে। মনে হচ্ছে, পৃথিবীর দিকে একটু ঝুঁকে না এলে আজকের এই আনন্দের সাক্ষী হওয়া যাবে না। বাতাসের বুকে ভর করে কী এক মোহনীয় সুর উড়ে বেড়াচ্ছে প্রান্তর থেকে প্রান্তরে। কী যেন ঘটতে যাচ্ছে! কীসের যেন আলামত পৃথিবীর প্রাণে প্রাণে অদৃশ্য গান হয়ে বাজছে। মক্কা তখনো জানে না, ইতিহাসের কোন মহামুহূর্ত তার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবী তখনো জানে না, এমন একজন মানুষ আসছেন, যার নাম উচ্চারিত হবে শতাব্দীর পর শতাব্দী। যার জীবন বদলে দেবে মানুষের চিন্তা, সমাজ, সভ্যতা ও ইতিহাসের গতিপথ। তিনি আসছেন। রহমতের নবী। মানবতার শিক্ষক। আল্লাহর সর্বশেষ রাসুল, মুহাম্মদ ﷺ।

    শিশু মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অপূর্ব নূরের বর্ণনা। তার মা আমিনা বিনতে ওয়াহাবের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি এমন এক নূর দেখেছিলেন, যার আলোয় শামের প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে উঠেছিল। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্মের সময় তাঁর মা এমন এক নূর দেখেছিলেন, যার দ্বারা শামের প্রাসাদ আলোকিত হয়েছিল। আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেই তাঁর মায়ের সেই স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মা তাঁকে গর্ভে ধারণ করার সময় এমন একটি নূর দেখেছিলেন, যার আলোয় শামের বুসরার প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়েছিল। কী আশ্চর্য! একটি শিশু তখনো মায়ের গর্ভে। কিন্তু তাঁর আগমনের নূর যেন মক্কার সীমানা পেরিয়ে বহু দূরের শামের দিকে ইশারা করছে। এ যেন অন্ধকার পৃথিবীর সামনে আলোর একটি প্রথম সংবাদ। শুধু একটি ঘর নয়, শুধু একটি নগর নয়, একটি নূর যেন ভবিষ্যতের এক বিশাল দিগন্তকে আলোকিত করার ঘোষণা নিয়ে এসেছে। কাজী নজরুল ইসলামের কল্পনায় সেই দৃশ্য হয়ে উঠেছে আরো মায়াময় : ‘যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে, তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে।’ সত্যিই তো! আমিনার কোলে তখন শুধু একটি শিশু নয়। সেই কোলে যেন ভবিষ্যতের এক নতুন ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে।

    শেষ রাতের দিকে খুলে গেল রহস্যের জট। পৃথিবীর ইতিহাসে উদিত হলো এক নতুন ভোর। আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিলেন এক আশ্চর্য সুন্দর মানবশিশু। তাঁর মুখ যেন পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল। তাঁর ছোট্ট শরীর যেন সদ্য ফোটা ফুলের মতো কোমল ও পবিত্র। তিনি মুহাম্মদ ﷺ। এক মায়ের কোল আলো করে জন্ম নিলেন এমন এক শিশু, যাঁর আগমন পরবর্তীকালে বদলে দেবে মানুষের ইতিহাস। যে সময় আরবের সমাজ ডুবে ছিল অজ্ঞতা, শিরক, গোত্রবাদ, জুলুম ও নৈতিক অবক্ষয়ের অন্ধকারে, সে সময়েই জন্ম নিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের জন্য হেদায়াতের দ্বার উন্মুক্ত করবেন। কোরআন তাঁকে বলেছেন, ‘সমস্ত জগতের জন্য রহমত।’ তাই তাঁর আগমন শুধু একটি শিশুর জন্ম নয়। এটি ছিল রহমতের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

    মা আমিনার ঝিমিয়ে পড়া জীবনে যেন নতুন ছন্দ ফিরে এলো। অশ্রু ঝাপসা চোখের আলো যেন আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বেঁচে থেকেও এতদিন তিনি যেন মৃত্যুর কালো চাদর মুড়ি দিয়ে ছিলেন। স্বামীর মৃত্যু তার জীবন থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল অনেক স্বপ্ন, অনেক রঙ। কিন্তু আজ তাঁর কোল আলো করা এই শিশুর আগমনে জীবনের সঙ্গে তাঁর যেন নতুন এক যোগসূত্র তৈরি হলো। যে দিনগুলো ছিল বেদনার, সেগুলোতে এলো আনন্দের স্পর্শ। যে রাতগুলো ছিল দীর্ঘ ও বিষণ্ণ, সেগুলোতে নেমে এলো প্রশান্তি। তৃষ্ণার্ত চোখে মা আমিনা বারবার তাঁর শিশুকে দেখেন। যত দেখেন, ততই যেন দেখার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। শিশুটির বিস্ময়ভরা চাহনি মায়ের মনে কত যে স্বপ্ন জাগায়! মনে হয়, এই শান্তিদূতের জন্য তাঁর সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে দেন। বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা সব মমতা ঢেলে দেন তাঁর কোমল শিশুটির ওপর। প্রতিবেশিনীরা দলে দলে আসতে শুরু করল শিশুটিকে দেখতে। তাদের বিস্মিত চোখ শিশুর মুখে স্থির হয়ে থাকে। তাঁর সৌন্দর্য দেখে তারা মুগ্ধ হয়। বাছা আমার, সাত রাজার ধন! মুখের লালা যেন মধুর মতো মিষ্টি। অবাক চাহনিতে এমন এক আকর্ষণ, যা দেখলে মন আপনা-আপনি তাঁর দিকে টেনে যায়। এই তো সেই শিশু আহমদ! যাঁর আগমনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নূরের সেই বিস্ময়কর সংবাদ।

    নবীজি ﷺ-এর জন্মের সঙ্গে আরো কিছু বিস্ময়কর ঘটনার কথা সিরাত ও দালায়িলের বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো পারস্যের সম্রাট কিসরার প্রাসাদ বা ইওয়ানের কেঁপে ওঠা এবং তার চৌদ্দটি বারান্দা বা শরফত ভেঙে পড়ার ঘটনা। একই বর্ণনায় বলা হয়েছে, পারস্যের অগ্নিমন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিভে গিয়েছিল। সাওয়া হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কথাও সেখানে এসেছে। আরো এসেছে কিসরার দরবারে দেখা এক অদ্ভুত স্বপ্নের কথা, যেখানে আরবের উট ও অশ্বদের দজলা নদী অতিক্রম করার দৃশ্য দেখা হয়েছিল। ঘটনাগুলো যেন একে একে একটি নতুন যুগের আগমনের বার্তা বহন করছিল। পারস্যের অগ্নিমন্দিরের আগুন, কিসরার প্রাসাদের কম্পন, সাওয়া হ্রদের শুকিয়ে যাওয়া, আরবের মরুপ্রান্তরে জন্ম নেওয়া এক শিশু। সবকিছু মিলিয়ে যেন ইতিহাসের মঞ্চে নতুন কোনো অধ্যায়ের পর্দা উঠছিল। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, নবীজি ﷺ-এর জন্মরাতে পারস্যের একটি অগ্নিমন্দিরের আগুন নিভে গিয়েছিল। পারস্যের অগ্নিপূজার ঐতিহ্যে আগুন ছিল বিশেষ মর্যাদার প্রতীক। তাই এ ঘটনার মধ্যে অনেকে দেখেছেন, অন্ধকারের যুগ পেরিয়ে তাওহিদের আলো পৃথিবীতে উদিত হওয়ার এক প্রতীকী ইঙ্গিত। সাওয়া হ্রদের কাহিনিও নবীজি ﷺ-এর জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বলা হয়, সেই রাতে হ্রদের পানি শুকিয়ে গিয়েছিল। আর কিসরার প্রাসাদের চৌদ্দটি শরফত ভেঙে পড়ার ঘটনাটিও ইতিহাসের নানা বর্ণনায় এসেছে। যেন পুরোনো পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল নতুন এক পৃথিবীর আগমনে।

    কিন্তু এই নূর আসলে কীসের নূর? শুধু কি আকাশ আলোকিত করা কোনো আলো? শুধু কি কোনো প্রাসাদ আলোকিত করার আলো? না। তাঁর আগমনের সবচেয়ে বড় আলো ছিল হেদায়াতের আলো। কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে এক নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব।’ এই নূর মানুষের চোখের জন্য নয়, হৃদয়ের জন্য। এই আলো অন্ধকার ঘরকে নয়, অন্ধকার হৃদয়কে আলোকিত করে। এই আলো কোনো প্রাসাদের দেয়ালে আটকে থাকে না। এটি ছড়িয়ে পড়ে মানুষের বিশ্বাসে, চরিত্রে, জীবনে। মক্কার সেই ছোট্ট ঘর থেকে যে আলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ছড়িয়ে পড়ে মক্কা থেকে মদিনা, মদিনা থেকে আরব, আরব থেকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। একসময় যে মানুষ নিজের কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দিত, সেই মানুষই তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করে এত কোমল হয়ে উঠল যে, একটি পাখির ছানার কষ্ট নিয়েও চিন্তিত হতে শিখল। যে গোত্রগুলো সামান্য কারণে বছরের পর বছর যুদ্ধ করত, তারা তাঁর শিক্ষায় ভাই ভাই হয়ে গেল। যে সমাজে শক্তিই ছিল ন্যায়ের মাপকাঠি, সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন মানুষের মর্যাদা। যে পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে ছিল, সেখানে তিনি নিয়ে এলেন তাওহিদের আলো। সুতরাং তাঁর জন্মের সবচেয়ে বড় অলৌকিক নিদর্শন শুধু কোনো প্রাসাদ কেঁপে ওঠা নয়। সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো, একজন মানুষ এলেন এবং তাঁর মাধ্যমে একটি জাতি বদলে গেল। একটি জাতি বদলে গেল, আর ইতিহাস বদলে গেল। ইতিহাস বদলে গেল, আর কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের পথ বদলে গেল।

    নবীজি ﷺ-এর আগমনকে কবি একটি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সাহারার বুকে ফুটে ওঠা এক অপূর্ব ফুল। যে ফুলের রং শুধু একটি বাগানকে সুন্দর করেনি। যে ফুলের সুবাস শুধু একটি জনপদে ছড়ায়নি। বরং তার সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে যুগ থেকে যুগান্তরে। কাজী নজরুল ইসলামের কণ্ঠে সেই অনুভূতি হয়ে উঠেছে : ‘সাহারাতে ফুটল রে, রঙিন গুলে-লালা, সেই ফুলেরই খোশবুতে আজ দুনিয়া মাতোয়ালা। সে ফুল নিয়ে কাড়াকাড়ি চাঁদ-সূর্য গ্রহ-তারায়, ঝুঁকে পড়ে চুমে সে ফুল নীল গগন নিরালা। সেই ফুলেরই রওশনিতে আরশ-কুরসি রওশন, সেই ফুলেরই রঙ লেগে আজ ত্রিভুবন উজালা।’ কবির ভাষা ভালোবাসার ভাষা। আর ইতিহাসের ভাষা আমাদের বলে, এই নবজাতকই একদিন আরবের বিচ্ছিন্ন গোত্রগুলোকে ঈমানের বন্ধনে একত্র করবেন। অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষকে তাওহিদের দিকে ডাকবেন। জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করবেন। আর তাঁর হাতে পৌঁছে যাবে আল্লাহর শেষ ওহি। তাই তাঁর জন্মের রাতের সবচেয়ে বড় আলো শুধু আকাশে দেখা কোনো নূর নয়। সবচেয়ে বড় আলো ছিল সেই হেদায়াত, যা তাঁর মাধ্যমে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আলো আজও নিভে যায়নি। মক্কার সেই ছোট্ট ঘর থেকে যে আলো যাত্রা শুরু করেছিল, তা আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জ্বলছে। সেই আলো কোনো প্রাসাদের দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো মরুভূমির বালুতেও সীমাবদ্ধ নয়। কোনো একটি জাতির জন্যও নয়। এটি মানুষের হৃদয়ের আলো। আর সেই আলোর বাহক ছিলেন মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ ﷺ। একটি ফুল ফুটেছিল আরবের মরুভূমিতে। কিন্তু তার সুবাসে মাতোয়ারা হয়েছিল জাহান। সেই ফুলের নাম, মুহাম্মদ ﷺ।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহানারা (৫০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়ায় ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

    নিহত জাহানারা চুয়াডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ার মো: জামাল শেখের স্ত্রী। তিনি গত আট মাস ধরে স্বামীসহ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার রেলপাড়া এলাকায় মো: তৌফিকুল ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নিজ বসতঘরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জাহানারার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

    নিহতের স্বামী জামাল শেখ দাবি করেন, জাহানারা দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলি, লিভার ও পাকস্থলীসহ নানা জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ইতোপূর্বে তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারও করা হয়। দীর্ঘদিনের শারীরিক যাতনা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    তবে নিহতের স্বজনরা মৃত্যুটিকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানাবিধ বিষয় ও পুত্রবধূর সাথে জাহানারার মনোমালিন্য চলছিল। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না— এ বিষয়ে নিহতের ভাইয়েরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, নিহত নারী দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিক কিছু মনোমালিন্যও ছিল। তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় প্রকৃত কারণ বের করতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।

  • ইসলামে কথার সংযম

    ইসলামে কথার সংযম

    দৈনন্দিন জীবনে চলতে গেলে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হয়। সামাজিক জীব হওয়ার দরুন আমরা নির্বাক হয়ে থাকতে পারি না। নিজেদের প্রয়োজনে আমরা একে-অপরের কাছে কথা ব্যক্ত করি। সমাজ ব্যতীত মানুষ একা কখনোই তার জীবন পরিচালনার সক্ষমতা রাখে না। এক্ষেত্রে কথা বলার মাধ্যমে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়, তার বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্বচ্ছন্দে কথা বলতে শিখিয়েছেন। এমনকি তিনি কথা বলার জন্য বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কথা বলার ক্ষেত্রে উত্তম কথা বলতে হবে, নতুবা চুপ থাকতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (বুখারি : ৬০৩১)।

    কথা মহান রবের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি নেয়ামত হওয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রেও মুমিন তথা বিশ্বাসীদের কিছু নৈতিকতা বা শিষ্টাচার মেনে চলতে হয়। আর আমাদের সবার কর্তব্য এই নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার করা। অহেতুক কথা বলার কারণে আমাদের যে সময়টুকু ব্যয় হচ্ছে, এই সময় সম্পর্কে কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। আর আল্লাহ তায়ালা তো বলেই দিয়েছেন বান্দা দুনিয়াতে যা করবে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব আমি নেব। এ ছাড়া হাদিসে নববিতে এসেছে—‘আল্লাহর জিকির (স্মরণ) ছাড়া তোমরা অধিক কথা বলো না; কারণ আল্লাহর জিকির ছাড়া অধিক কথা বললে অন্তর কঠিন হয়ে যায়। আর কঠিন অন্তরের মানুষ আল্লাহ থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে।’ (তিরমিজি : ২৪১১)।আমাদের বলা প্রতিটি শব্দের জবাবদিহিতা আল্লাহর কাছে করতে হবে। এজন্য কথা বলার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া আবশ্যক। কথার মাধ্যমেই কোথাও শান্তি, আবার কোথাও ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী (নথিভুক্ত করার জন্য ফেরেশতা) নিযুক্ত আছে, যে সদা প্রস্তুত।’ (সুরা ক্বাফ : ১৮)।

    প্রয়োজনের বেশি কথা বললে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। আর এ ভুলের পরিণতি মন্দও হতে পারে। তাই যেকোনো কথা বলার আগে ভেবে বলা উচিত। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘যার কথা বৃদ্ধি পায়, তার ভুলত্রুটিও বৃদ্ধি পায়।’ (ইবনে হিব্বান)

    অনর্থক কথা কিংবা কাজ থেকে বিরত থাকা মুমিনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। তাই মুমিন বান্দার গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়-নম্রতা অবলম্বন করে এবং যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা মুমিনুন : ১-৩)

    অহেতুক অথবা নিষ্প্রয়োজনীয় কথা বলা মুমিন বান্দার গুণ হতে পারে না। আর অহেতুক কথা বলার কারণে মিথ্যা, গোঁজামিল আর অপতথ্যের আশ্রয় নিতে হয়। ফলে অনেকটা অবচেতন মনেই মিথ্যাবাদী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি হয়। অহেতুক কথা বলার কারণে গিবত, অপবাদ, চোগলখোরি ও পরনিন্দা চলে আসে। আর গিবত ও পরনিন্দা নিয়ে আল্লাহ তায়ালা কঠিন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গিবত সম্পর্কিত সচেতন হতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না। তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো এটা ঘৃণা করে থাক।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ১২)

    গিবতের পরিণতিও বেশ ভয়াবহ। গিবতকে শুধু ‘মুখের একটি গুনাহ’ মনে করা ঠিক নয়—এটি বান্দার হকের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। গিবত করে থাকলে নির্দিষ্ট কোনো একটি আমলই কেটে নেওয়া হবে—এমনটা নয়; বরং যার গিবত করা হয়েছে, তার হক আদায়ের জন্য গিবতকারীর নেক আমল থেকে তাকে দেওয়া হতে পারে। নেক আমল শেষ হয়ে গেলে মজলুম ব্যক্তির গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। কিয়ামতের দিন তার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

    কথায় শুধু ভাব প্রকাশ হয় তেমনটা নয়, এটি মর্যাদা বৃদ্ধি কিংবা অপমানের কারণও বটে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় বান্দা কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো কথা বলে, অথচ সে কথা সম্পর্কে তার চেতনা নেই। কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে ফেলে, যার পরিণতি সম্পর্কে তার ধারণা নেই, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।’ (বুখারি : ৬৪৭৮)

    আসুন আমরা অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক কথা পরিহার করি। যতটুকু আমাদের প্রয়োজন, যতটুকু উপকারী, ঠিক ততটুকু কথা যেন আমরা বলতে পারি। মহান আল্লাহ কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের সংযমী হওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।

  • একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

    একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

    উসমান (রা.) ছিলেন অতুলনীয় লজ্জাশীল, অত্যন্ত দানশীল এবং কোরআনের খেদমতে অনন্য অবদান রাখা একজন মহান সাহাবি। সংক্ষেপে তাঁকে জেনে নিন।

    * পূর্ণ নাম : উসমান ইবন আফফান ইবন আবিল আস আল-কুরাইশী আল-উমাবী* কুনিয়াত : আবু আবদুল্লাহ

    * উপাধি : যুন-নূরাইন (দুই নূরের অধিকারী)

    * গোত্র : বনু উমাইয়্যা (কুরাইশ)

    * জন্ম : আনুমানিক ৫৭৬-৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দ, মক্কা

    * শাহাদাত : ৩৫ হিজরি (৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ), মদিনা (কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাতে শাহাদত লাভ করেন)

    বিশেষ মর্যাদা

    ১. নবীদের পরে এই উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

    ২. প্রথম দিকের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম।

    ৩. নবী (সা.)-এর দুই কন্যাকে ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করেন; এজন্য ‘যুন-নূরাইন’ উপাধিতে ভূষিত হন।

    ৪. জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন।

    ৫. মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।

    ৬. কোরআনের মুসহাফ একীভূত করে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন।

    ৭. তাঁর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়।

    ৮. তাবুক অভিযানে বিপুল দান করেন এবং রুমা কূপ মুসলিমদের জন্য ওয়াক্ফ করেন।

    উসমান (রা.) সম্পর্কে নবী (সা.)

    নবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি সে লোককে (উসমানকে) লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান।’ (মুসলিম : ২৪০১)

    [প্রধান সূত্র : সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইবন কাসির), হাদিস বিডিÑ উসমান (রা.)-এর ফজিলত অধ্যায়]

    আমল

  • কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

    কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

    জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পবিত্র কোরআন হচ্ছে আমাদের এক জীবন্ত মু‘জিজা। আমরা যদি এই কোরআনকে নিজেদের বুকে ধারণ ও তার বিধানে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তবেই আমরা স্বার্থক। ‍কোরআনের বিধান কায়েমের জন্য ওলামা-মাশায়েখদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

    ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিপ্লব অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এদেশের আলেম সমাজ। ওলামা-মাশায়েখ শুধু মসজিদের মিনারে নয় আগামীতে সংসদেও নেতৃত্ব দেবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।তিনি শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের মতিঝিল জোন আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ ও আইম্মায়ে মাসাজিদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, কোরআনের বিধানকে জারি করতে প্রয়োজনীয় ত্যাগের জন্য আমরা যদি প্রস্তুত থাকতে পারি, তাহলে সামানে কেন কোনো বাধাবিপত্তি কাজে লাগবে না। সব বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরো বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্দেশ্য হতে হবে মহানবী (সা.) আদর্শ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা। মহানবী (সা.) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় নিঃস্বার্থ ভূমিকা রাখতে তিনি আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। বিদ্যমান প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য সীরাতুন্নবী (সা.) আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানুষের তৈরি মতবাদে হাজার বার বিপ্লব হলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সিস্টেমের পরিবর্তন করতে হবে।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের ওলামা বিভাগের মতিঝিল জোন সভাপতি মাওলানা আ ন ম হেলাল উদ্দিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মুফতি মহিউদ্দিন, পল্টন জোন ওলামা বিভাগের সভাপতি ড. মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ওলামা-মাখায়েখ উপস্থিত ছিলেন।

  • জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন

    জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন

    মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করা। তাই একজন মুমিন প্রতিদিনের জীবনে এমন আমল করার চেষ্টা করেন, যেগুলো তাকে আল্লাহর রহমত ও নাজাতের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

    হজরত মুসলিম ইবনুল হারিস আত-তামিমি (রহ.) তাঁর পিতা হারিস ইবনে মুসলিম আত-তামিমি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে গোপনে বলেন, ‘তুমি যখন মাগরিবের নামাজ শেষ করবে, তখন সাতবার এই দোয়াটি বলবে। তুমি যদি তা বলার পর ওই রাতে মৃত্যুবরণ করো, তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুরক্ষা লেখা হবে। আর যখন ফজরের নামাজ শেষ করবে, তখনও অনুরূপ বলবে। তুমি যদি ওই দিন মৃত্যুবরণ করো, তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুরক্ষা লেখা হবে।’

    দোয়াটি হলো—

    আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।

    অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

    (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৮০৫৪)

    হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াটি মাগরিব ও ফজরের নামাজের পর সাতবার পড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে শুধু এই আমলকেই জাহান্নাম থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম মনে করা উচিত নয়।

    বরং নামাজ, তওবা, ফরজ-ওয়াজিব আদায়, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নেক আমল এবং আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশার পাশাপাশি এই দোয়াটিও নিয়মিত পড়া উচিত।

  • চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১

    চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় গরুবোঝাই আলমসাধু গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে চালক
    নুর ইসলাম (৫০) নামে এক জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার
    চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার
    এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর
    গ্রামের মৃত হারেজ আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় আলমসাধু গাড়ী চালক।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নিজের আলমসাধু চালিয়ে পাঁচটি
    গরু নিয়ে ঝিকরগাছা থেকে চৌগাছা পশুহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে
    পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আলমসাধু গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ
    হারিয়ে সড়কের নিচে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনা
    স্থলেই নুর ইসলামের মৃত্যু হয়।
    পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আলমসাধু গাড়ীতে থাকা পাঁচটি গরু
    জীবিত উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কে
    যান চলাচল বন্ধ ছিলো। খবর পেয়ে দশপাখিয়া ফাঁড়ির পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল
    স্বাভাবিক হয়।
    পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরাদেহ উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য
    প্রেরণ করেছেন।
    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরার বহুল প্রচলিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জিএম নুর ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুের রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    তার বড় ছেলে আদম শফিউল্লাহ জানান, বাবার লাশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আনা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।

    জিএম নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    আশির দশকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণমাধ্যম জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

    এরপর খুলনার দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করেন সাংবাদিকতা। ২০০০ সালে বাজারে আসে তার মালিকানাধীন পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত।

    জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • রোববার সংসদ অভিমুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পদযাত্রা

    রোববার সংসদ অভিমুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পদযাত্রা

    তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের প্রতিবাদ এবং গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে আগামী রোববার জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হবে।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের পর নতুন করে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নতুন আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের হাতে দেওয়া হচ্ছে। অথচ গুমের অধিকাংশ অভিযোগই পুলিশের বিরুদ্ধে। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই তদন্তের দায়িত্ব থাকলে তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করছে তারা।

    বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের সংকটসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ চলছে। সরকারের ব্যর্থতা সর্বত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুরো জাতি একাধিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

    তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে, কিন্তু জুলাই সনদ ও গণরায়ের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গুমের শিকার পরিবারগুলোও এখনো জানে না, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন। অতীতে বিচারবহির্ভূতভাবে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার বিচারও এখন পর্যন্ত হয়নি।

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এসব বিষয় সামনে রেখে আগামী ৩০ আগস্ট বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

    বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে : আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে : আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নিলে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে না।

    হরমুজ প্রণালীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরে শত্রুপক্ষের কোনো সামরিক জাহাজ নেই।

    আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, শত্রুপক্ষের সব যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালী থেকে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। সামরিক ও আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো জাহাজ এই পানিপথ অতিক্রম করতে পারবে না।

    তিনি আরো বলেন, ওমানের নিকটবর্তী পানিপথটিও সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরান ও বিপরীতে অবস্থিত ওমানের অন্তর্গত। প্রায় এক মাস আগে ওমানের সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য কিছু সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।

    তিনি আরো বলেন, এসব আলোচনায় প্রণালীর পানিসীমায় দুই দেশের অংশ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ে ইরান ও ওমানের অংশীদারিত্বের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।

    আইআরজিসির মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে, যার কারণে কাজের অগ্রগতি বিলম্বিত হয়েছে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত না মানলে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে না।

  • ১৭ বছর স্বৈরশাসন চলেছে, জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে: নজরুল ইসলাম খান

    ১৭ বছর স্বৈরশাসন চলেছে, জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে: নজরুল ইসলাম খান

    ১৭ বছরে দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন চলেছে। ১৭ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে৷ তাই জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    যারা ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে, সরকার তাদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বিরোধীদলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, সরকার যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যথাসময়েই বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার তার নিজস্ব নিয়মে দেশ পরিচালনা করছে, জনগণের কোনো পরামর্শ থাকলে সরকারকে তা দেওয়ার আহবান জানান তিনি৷

  • সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সারের জন্য কৃষক ভোগান্তিতে থাকলেও, সরকার এসব অভিযোগ এড়াতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ আরও জানান, দুর্বল গুম প্রতিরোধ আইনের প্রতিবাদে ৩০ আগস্ট রাজধানীতে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    বিদ্যুৎ-জ্বালানি-সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জোটের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকে বসেন বিরোধী জোটের নেতারা। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত আইনের খসড়া আনছে সরকার। এর প্রতিবাদে আগামী রোববার শাহবাগ থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৩০ তারিখ গুম প্রতিরোধ দিবস, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়, সেটাতে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিব এবং আমরা বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) অধিবেশনে সংসদেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কায়দায় কথা বলব।

  • অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের আহ্বান

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের আহ্বান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর জনসংখ্যা এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থানের তুলনায় তাদের অর্থনৈতিক আকার ছোট। তাই এ ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান এ আহ্বান জানান।

    মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দেন পেজেশকিয়ান।

    তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি সদস্য দেশ ‘জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং একটি বিশাল বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও স্থলপথের কেন্দ্রবিন্দুতে’ অবস্থিত।

    তিনি আরো বলেন, সদস্য দেশগুলোর রপ্তানির মাত্র ১৯ শতাংশ এই গোষ্ঠীর মধ্যেই থাকে, বাকিটা ওআইসির বাইরের দেশগুলোতে যায়। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান জানান।

  • মহেশপুর  ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা 

    মহেশপুর  ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মানে মতবিনিময় সভা 

    মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদাহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সকল তফসিলি ব্যাংকের আয়োজনে এক দেশ এক QR লেনদেনে বাংলা QR ক্যাশলেস, বাংলাদেশ বিনির্মানে বাংলা QR বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

    বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা অডিটোরিয়াম এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা জয়েন্ট ডিরেক্টর (জেডি) মোঃ সোহানুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের সহকারী অফিসার (আরডিএস) পিএলসি মোঃ রফিকুল ইসলাম। মহেশপুর সোনালী ব্যাংকের পিএলসি এজিএম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জোনাল অফিস ও অগ্রনী ব্যাংকের পিএলসি মোঃ মোজাহারুল ইসলাম। ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি,এসএ ভিপি ও ব্যবস্থাপক মোঃ রুহুল আমীন। অনুষ্ঠান বক্তারা QR লেনদেনে বাংলা QR ব্যবহার করে সহজেই অর্থ লেনদেন করা যায় এবং QR app ব্যবহার করে গ্রাহক র্চাজ ছাড়া সহজেই অর্থ লেনদেন করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহেশপুর ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা।

    এ.আর

  • সৌন্দর্যের অদ্বিতীয় স্থাপনা তাজমহল

    সৌন্দর্যের অদ্বিতীয় স্থাপনা তাজমহল

    তাজমহল বিশ্ববিখ্যাত এক স্মৃতিসৌধ। আস্থার সঙ্গে বলা যায়, এমন দৃষ্টিনন্দন মধ্যযুগীয় স্থাপনা দ্বিতীয়টি নেই। তাজমহল ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত। মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের (বেগম আরজুমান্দ বানু) স্মৃতি রক্ষার্থে এই অপূর্ব সুন্দর সৌধটি মোগল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রায় নির্মাণ করেন। এটি মোগল স্থাপত্যশৈলীর সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যার নির্মাণশৈলীতে ইসলামি, পারস্য, তুরস্ক ও ভারতীয় স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটেছে। তাজমহলের নকশা করেন লাহোরের বিখ্যাত স্থপতি ওস্তাদ আহমেদ। ইনি ঈশা খান নামেও পরিচিত ছিলেন। তাজমহলের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ সালে আর মূল সমাধিসৌধ নির্মাণ সম্পন্ন হয় ১৬৪৮ সালে। পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয় ১৬৫৩ সালে। সময় লাগে মোট ২২ বছর। নির্মাণের সময় ভারত, পারস্য, মিসর ও মধ্য এশিয়া থেকে আসা ২০ হাজার দক্ষ কারিগর ও শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছে বলে জানা যায়। ১৯৮৩ সালে তাজমহল বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত হয়।

    ভিত্তি ও তাজমহলের গঠন : তাজমহলের মূলে হলো তার সাদা মার্বেল পাথরের সমাধি। সমাধিটি বর্গাকার বেদিকার ওপর স্থাপিত। ভিত্তি কাঠামোটি বিশাল এবং কয়েক কক্ষবিশিষ্ট। প্রধান কক্ষটিতে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের স্মৃতিফলক বসানো হয়েছে। ভিত্তিটি প্রতিদিকে ৫৫ মিটার লম্বা, পাশে ধনুকাকৃতির পথ, আইওয়ানের কাঠামো, সঙ্গে ওপরে একই রকমের ধনুকাকৃতির বারান্দা রয়েছে। এই প্রধান ধনুকাকৃতির তোরণ উপরে ইমারতের ছাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সম্মুখভাগ তৈরি করেছে। তাজমহলের প্রতিটি দিক একই রকম ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে। ভিত্তির প্রতিটি কোনায় একটি করে—মোট চারটি মিনার রয়েছে। মমতাজ মহল ও শাহজাহানের কবর রয়েছে সবচেয়ে নিচের তলায়।

    তাজমহলের মার্বেল পাথরে নির্মিত গম্বুজ খুবই আকর্ষণীয়। এর আকার ৩৫ মিটার, যা ইমারতের ভিত্তির সমান। গম্বুজের ওপরের দিক একটি পদ্মফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে, যা গম্বুজের উচ্চতাকে আরো দৃষ্টিগোচর করেছে। গম্বুজের উপরে পারসীয় অলংকরণে অলংকৃত একটি তামার দণ্ড রয়েছে। বড় গম্বুজটির চার কোনায় রয়েছে একই রকম দেখতে আরো চারটি ছোট গম্বুজ। ছোট গম্বুজগুলোয়ও তামার দণ্ড রয়েছে। বড় গম্বুজটির ওপর মুকুটের মতো একটি চূড়া রয়েছে। ১৮০০ শতকের আগে পর্যন্ত চূড়াটি স্বর্ণের নির্মিত ছিল, কিন্তু পরে স্বর্ণেরটি সরিয়ে ব্রোঞ্জনির্মিত চূড়া বসানো হয় ।

    মিনারগুলোর মূল বেদিকার কোনায় একটি করে মোট চারটি বড় চৌকি রয়েছে। প্রতিটি চৌকির উচ্চতা ৪০ মিটারেরও বেশি। চৌকিগুলো নকশা করা হয়েছে মসজিদের প্রথাগত মিনারের নকশায়, যেখানে মুয়াজ্জিন নামাজের জন্য আজান দেন। প্রতিটি মিনারকেই দুটি বারান্দা দিয়ে তিনটি সমান উচ্চতায় ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি মিনার বেদিকা থেকে বাইরের দিকে সামান্য হেলানো আছে, যাতে এগুলো কখনো ভেঙে পড়লেও যেন তা মূল সমাধির উপরে না পড়ে।

  • ইরানের পারমাণবিক শিল্প বিশ্বমানের

    ইরানের পারমাণবিক শিল্প বিশ্বমানের

    ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলা সত্ত্বেও তাদের পারমাণবিক শিল্প পারমাণবিক শিল্প বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    বুধবার তিনি বলেন, ‘আজ ইরানের পারমাণবিক শিল্প এ খাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং সমপর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, তেহরানের শত্রুরা অভিযোগ করে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ নয়। তাদের এমন অভিযোগের কারণ তারা ইরানকে দুর্বল করতে চায়।

    ইসলামি বলেন, ‘তারা নিজেরাও বিষয়টির বাস্তবতা জানে। তাদের কর্মকাণ্ডও প্রমাণ করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অগ্রগতি ঠেকানো।’

    ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এর উদ্দেশ্য বেসামরিক ব্যবহার, বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে তিনি ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছিল না। এদিকে, যুদ্ধের পর ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার বিষয়ে আরো আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এ এম নাসির উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    এ সময় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    তবে রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    দ্রোহ, মানবতা ও সাম্যবাদের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। এ উপলক্ষ্যে নজরুল ইনস্টিটিউট, নজরুল একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।

    শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।

    কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’

    মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।

    নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।

    উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।

    উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

  • জ্যোতিনগর মুসলিমকলোনিতে পানি নেই এক মাস ধরে

    জ্যোতিনগর মুসলিমকলোনিতে পানি নেই এক মাস ধরে

    কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জাহানারা বিবিসহ কয়েক শ পরিবারের বাসিন্দারা এই সংকটে পড়েছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা গঙ্গার পানি ব্যবহার করছেন। তবে এতে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

    জাহানারা বিবি বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুরাও মুখ ধুতে ঘাটে যাচ্ছে। অনেক শিশু গঙ্গায় পড়ে গেছে, কেউ কেউ অল্পের জন্য ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছে। যারা সাঁতার জানে না, তাদেরও বাধ্য হয়ে নদীতে গোসল করতে হচ্ছে।’

    জ্যোতিনগর কলোনি কলকাতা পৌর করপোরেশনের (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৬০ বছর ধরে এখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম। অল্পসংখ্যক হিন্দু পরিবারও এখানে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লাপাড়া’ বা মুসলিম কলোনি নামে পরিচিত।

    কলোনির অনেক বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ অল্প মজুরিতে বোতল গলানোর কারখানায় কাজ করেন।

    ৬০ বছর ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে বসবাসকারী সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ নানা সমস্যায় একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এমন সংকট আমাদের জন্য একেবারেই নতুন।’

    কলোনিতে পানির ছয়টি কল রয়েছে। ২৯ জুলাই থেকে সব কটি কলেই পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কলগুলো শুকিয়ে থাকলেও একই সড়কের হিন্দু অধ্যুষিত কলোনিগুলোর পানির কল সচল রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামত করতে আসেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলে এবং সেদিন বাসিন্দারা পানি পান। কিন্তু ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তারা দেখতে পান, পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    পরদিন বাসিন্দারা পুলিশ ও পৌর করপোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে দাবি তাদের। এর পরদিন কলোনির রাস্তাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    বাসিন্দারা জানান, দূষিত নদীর পানি ব্যবহারের কারণে কয়েকটি শিশু জ্বর, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ঘাটের কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল সিঁড়িতে পড়ে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তাদেরও গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    রাস্তার বাতি বন্ধ করে দেওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইসা খাতুন বলেন, পানির সংকটের কারণে তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না। পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় তার পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বস্তিতে থাকা স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।

    ইসা আরও বলেন, ‘রাস্তাগুলোর বাতি বন্ধ করে দেওয়া কলোনির নারীদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।’

    সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করে শুধু দরিদ্র মানুষকে হয়রানি করছে।’ দীর্ঘদিনের পানির সংকটে বস্তির প্রতিটি বাসিন্দাই সমস্যায় পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

    বাসিন্দারা জানান, সিপিআই(এম) ও পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি তিন থেকে চার দিন পরপর কেএমসির মাধ্যমে পানীয় পানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

    সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় শাখার সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ৭০০ রুপি দিয়ে কেএমসির কাছ থেকে পানির ট্যাংকার নিচ্ছি। কিন্তু তিন-চার দিন পরপর এক ট্যাংকার পানি ৫ হাজার মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পৌর করপোরেশনেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস হয়ে গেল।’

    বুধবার কলোনির রাস্তার বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনতেও দলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

    বাসিন্দারা জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুমন সিংয়ের কাছ থেকেও তারা কোনো সাড়া পাননি। কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

    বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারির আগের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে পানির সংকটের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বলেছিলেন, যারা তাকে ভোট দেননি, সেই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কাজ করবেন না।

    ডিওয়াইএফআই কর্মী মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি এর আগে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই বস্তির মানুষকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বলেছিলেন। সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ করবেন না—এমন তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি এখন সেই কথাই বাস্তবায়ন করছেন।’

    বস্তির বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর হকার ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।

    সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গত ৬০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এই বস্তিই আমার সবকিছু। আমি এখান থেকে কোথাও যাব না।’

    সাংবাদিক ও কলাম লেখক অর্ক ভাদুড়ি বলেন, ‘জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক। এটি সংবিধানবিরোধী। শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের এমন অকল্পনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

    কলকাতার নাগরিক সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজ এখনো রাস্তায় নামেনি—এটি আমাদের সবার জন্য লজ্জার। এর মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে থাকা ইসলামবিদ্বেষেরই প্রকাশ ঘটছে।’

    পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরাও অজু করতে পারছেন না। উচ্ছেদের আশঙ্কার মধ্যে বস্তিটি রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি। সিপিআই(এম) নেতা শামীম আহমদ মামলাটি পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, বস্তি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়া গেছে।

    তবে আদালতের এই আদেশের পরও জ্যোতিনগর কলোনিতে পানির সংকট অব্যাহত রয়েছে।

  • আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করছেন।

    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তাওহিদের বাণী নিয়ে পৃথিবীতে তাঁর আগমন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, ন্যায় ও সত্যের পথে চলা এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর শিক্ষা মানুষের মধ্যে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছে।

    ইসলামি ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। একই তারিখে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম ও ওফাতের স্মরণে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি বিশেষ মর্যাদার।

    জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আলোর বার্তা

    মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন তৎকালীন আরব সমাজ নানা কুসংস্কার, পৌত্তলিকতা, গোত্রীয় সংঘাত, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত ছিল। ইতিহাসে সেই সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    এই পরিবেশে মহানবী (সা.) মানুষকে একত্ববাদের দিকে আহ্বান জানান। তাঁর প্রচারের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, সাম্য, দয়া ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের শান্তি ও কল্যাণের বার্তা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।মহানবী (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ এবং মা আমিনা। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। ছয় বছর বয়সে তাঁর মা-ও ইন্তেকাল করেন। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও শৈশব থেকেই তাঁর চরিত্রে সততা, বিশ্বস্ততা, সংযম ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা যায়। এ কারণেই মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত হিসেবে অভিহিত করত।

    ওহি নাজিল ও নবুওয়াতের সূচনা

    ৪০ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব। এরপর তিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

    তিনি মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেন। তাঁর আদর্শে মানুষের মর্যাদা, পারস্পরিক ভালোবাসা, ক্ষমা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    মক্কায় ইসলাম প্রচারের সময় মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব, সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    দীর্ঘ ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানবজাতির কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেন। ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর শোকের ঘটনা হয়ে আছে।

    ইবাদত ও ধর্মীয় কর্মসূচি

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পালন করছেন। কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, নফল নামাজ, দোয়া-মোনাজাত ও দান-খয়রাতের পাশাপাশি অনেকেই নফল রোজা রাখছেন।

    দেশের বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও মানবতার জন্য তাঁর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতির বাণী

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও সাম্যের সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর বাণী

    এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।”

    পরিবার, প্রতিবেশী, নারী ও শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও পিছিয়ে থাকা মানুষের অধিকার রক্ষায় মহানবী (সা.) যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা অনুসরণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আদর্শ মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী আয়োজন

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে গতকাল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    আয়োজনের মধ্যে রয়েছে মাহফিল, সম্মেলন, সেমিনার, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, প্রকাশনা ও প্রদর্শনী। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসব অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হবে।

    এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ইসলামি বই ও ধর্মীয় সাহিত্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে।

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করছেন। তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই হোক এ দিনের অন্যতম প্রত্যাশা।

  • খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী সা:-এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন।

    কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় খুলনা সিটি করপোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মো: মুসফিকুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উপলক্ষে জেলার সব মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। এছাড়া কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবী সা:-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

  • বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসামি বিদিশার পক্ষে আতিকুর রহমান জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। মামলার বিচার শেষে বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের সাজা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

    ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।

  • শরিয়াহবিরোধী আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না

    শরিয়াহবিরোধী আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না

    কোরআন ও হাদিসবিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা এমনিতেই বাতিল। শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না—এমন মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।

    বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনী, আদর্শ ও ইসলামি শরিয়াহর বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা করা হয়।মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা থেকে আইন ও বিধান গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু দেশীয় ব্যবস্থাপনা আইনকে ইসলামি শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই। ভুলবশত এমন কোনো আইন প্রণয়ন ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে, যা কোরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থি, তা সংশোধন বা বাতিল করতে হবে।

    তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণের শপথ নেন। কিন্তু সংবিধানের কোনো বিধান যদি কোরআন, হাদিস, আকিদা ও ইসলামী শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শরিয়াহবিরোধী আইনের শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিলের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    কাদিয়ানিদের প্রসঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বলে। তাদের উপাসনালয়েও ইসলামি নানা নিদর্শন দেখা যায়। কিন্তু তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মূলধারার ইসলামি আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

    তিনি বলেন, পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন। তারা নিজেদের নিজ নিজ ধর্মের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু কাদিয়ানিদের নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আকিদাগত বিতর্ক রয়েছে। তারা প্রতারক বেইমান দাজ্জাল।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ। এতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ, ইসলামি মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং ধর্মীয় বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলন ঘিরে সকাল থেকেই কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  • আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে, এই বিষয়ে কথা বলার। ’ হিজাব ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পালটা এমনটাই জানালেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার দাবি, ‘ধর্ম বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?’ সাংসদের এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ‘হিজাব পরাটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক কোনও বিষয় নয়। স্রেফ ধর্ম পালনে স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। ’ আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, এটা আমাদের ধর্ম।

    আমাদের যা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।

    ওয়েইসির মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সংবিধানের ১৯ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শবরীমালা মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

    শুধু তাই নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত মুসলিম মহিলাদের শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মহিলাদের ভর্তির হার গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। সাংসদের কথায়, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার উপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে। ”

    উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্টে পড়ুয়ার আবেদন ছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরত সে। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি করেননি। কিন্তু একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু হয় সমস্যা। তারপরেই ওই পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার আবেদন, ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই।

    তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হিসাবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা এবং পোশাক বিধির অধিকার রয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পোশাক বিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। হাইকোর্ট জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, এমন কোনও ধর্মীয় প্রমাণ নেই।

  • চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দের পর অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    এ সময় জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমান সার জব্দ ও জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ, মুনিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলী দফাদারসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম তার সার বিক্রেতা হিসেবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অথচ তার দোকানে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি এবং ৮৭ বস্তা ইউরিয়া সর্বমোট ২৭১ বস্তা সার গুদামজাত করা ছিলো। যার খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

    পরে সার জব্দ করে সরকারি নায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

    আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসলেন ত্রিবেদী এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমান সার মজুদ করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী ২০,০০০ ( বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। পরে খাইরুল ইসলাম জরিমানা পরিশোধ করেন। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুদ বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

  • সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা 

    সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা 

    ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) ২২ আগস্ট শনিবার তার ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। রাজধানীর আইসিসিবিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংস্থার প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

    বিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সুবর্ণজয়ন্তী উদ্ যাপন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিজের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম রবিন। তাঁকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

    বিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুল কাদের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজের নির্বাহী পরিচালক ইকবাল আহাম্মদ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়রা আজম, ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) চেয়ারম্যান মুরশেদ আলম সরকার, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিএমডি ও সিবিও মো. জাহিদ হোসেন এবং বিজের মাইক্রোফাইন্যান্স পরিচালক ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।

  • জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামে ২১ পারা কোরআনের হাফেজ কিশোর সিহাব হোসেন (১৪) গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।

    নিখোঁজ সিহাব হোসেন ঘুগরাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মণ্ডলের ছেলে। সে আন্দুলবাড়ীয়া পারেশ শাহ দরগা মাদরাসার ছাত্র। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদরাসায় পৌঁছায়নি।

    এরপর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সিহাবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সিহাবের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সন্তানের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নম্বর-১২০০, তারিখ: ২৫-০৮-২৬)। পরিবারের পক্ষ থেকে সিহাবকে দ্রুত খুঁজে পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কেউ সিহাব হোসেনের সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার ভাই শিলন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    যোগাযোগ: শিলন হোসেন, মোবাইল: ০১৯৯০৩৬৭৮৩, ০১৭৩৪-৫২৭৪৮২।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

    তিনি আরও জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী এরই মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ চলতি হিসাব, ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘মুদারাবা’ মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে ব্যাংকটিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো আমানতকারীদের মুনাফা নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা দূর করা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সাক্ষাৎকালে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাঁদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা তাঁদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থের নির্ধারিত অংশের বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সব ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকটিকে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে হবে।

  • রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে পড়া হল সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত, অর্থ কী

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআনের সূরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সাইফুল কবির।

    আয়াতের অর্থ: হে নবী যারা তোমার হাতে বাইয়াত করছিলো প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করছিলো। তাদের হাতের ওপর ছিল আল্লাহর হাত। যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার অশুভ পরিণাম তার নিজের ওপরেই বর্তাবে। আর যে আল্লাহর সাথে কৃত এ প্রতিশ্রুতি পালন করবে, আল্লাহ অচিরেই তাকে বড় পুরস্কার দান করবেন।

    রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন শপথ নিয়েছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

  • ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৩০ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি এবং সফর শেষে ৩১ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গভবনের প্রটোকল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন এবং যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

    নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফরগুলোর একটি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সফর হতে যাচ্ছে।

  • সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক

    সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক

    প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করবে এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ জানাবে। তবে সেই বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, অতীতের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না গিয়ে সংসদকে কার্যকর রাখা এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় জামায়াত।

    সোমবার বেলা ১২টায় প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে দেশের প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি সংকট, সংসদে জামায়াত ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের ভূমিকা এবং বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সংসদে জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে নীতি, তা আমাদের আমীর সংসদের ভেতরে-বাইরে বলে আসছেন। আমরা একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। প্রচলিত প্রথাগত বিরোধী দলের রাজনীতিতে যে খারাপ ঐতিহ্য ছিল, তা ভেঙে দেশের স্থিতিশীলতা, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের উত্তরণে ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করব। আর সব মন্দ ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ করব।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই নীতি সম্পাদকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সম্পাদকদের মধ্য থেকেও জামায়াতের এই পার্লামেন্টারি পলিসিকে প্রশংসা করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, গঠনমূলকভাবে দেশকে স্থিতিশীল রেখে সরকারকে বিরোধিতার জায়গায় বিরোধিতা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করে একটি বিরোধী দল যে বৃহৎ ভূমিকা পালন করতে পারে, এটি আমরা প্রথম দেখতে পাচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমাদের আমীর সম্পাদকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সব অন্যায়, গণবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা সবসময় প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। তবে আমাদের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সম্পাদকদের সঙ্গে আমিরে জামায়াতের প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াতের বিভিন্ন নীতি ও অবস্থান, যা আমীর বিভিন্ন সময়ে জনসভা ও সংসদে তুলে ধরেছেন এবং গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বলেছেন, সেগুলোও আলোচনায় এসেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন—আপনারা বিরোধিতা করবেন গঠনমূলকভাবে, আলোচনা করবেন এবং জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজন হলে রাজপথেও থাকবেন। তবে আগের বিরোধী দলের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস কোনো পথে গিয়ে দেশকে আর অস্থিতিশীল করবেন না।

    তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের নেতা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা প্রথমবারের মতো জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ও খোলামেলাভাবে মতবিনিময় করেছেন। সম্পাদকরা এতে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন, এ ধরনের সুযোগ পেলে মাঝে মাঝে তারা নিজেদের মতামত দিতে পারবেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্য, উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ও বণ্টন, সংসদের ফ্লোরে কথা বলার সুযোগ, আইন প্রণয়ন ও বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য, প্রবাসীদের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াত সংসদে কী ভূমিকা পালন করেছে, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমীর।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংসদে স্পিকার অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা অনেক ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ আচরণ পাইনি। বরং বিভিন্ন জায়গায় আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিক ও সম্পাদকরা তাদের লেখনী ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে জাতির কাছে সত্য তথ্য তুলে ধরেন। গণতন্ত্রের উত্তরণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের আমীর সম্পাদকদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে অতীতে বিরোধী দল কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল ও সংসদকে অকার্যকর করেছে, সম্মানিত সম্পাদকরা সেই ইতিহাস স্মরণ করেছেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান যে ব্যতিক্রম, সেটিও তারা প্রশংসা করেছেন। আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। তবে একটি কনস্ট্রাক্টিভ ও রেসপন্সিবল অপজিশন হিসেবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে চাই।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরাও বলেছি, সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু বিরোধী দল একা সব দায়িত্ব নিয়ে দায়িত্বশীল হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য। এসব বিষয় নিয়েই আজকের মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয়েছে।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রুপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, মানবকন্ঠের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার।

  • তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং পরিকল্পনাহীনতা থেকেই সরকার ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতেই ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।’

    সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। একটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবারহ। আমরা দেখতে পারলাম, এই ছয় মাসে যে তিনটি বিষয়কে যারা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    সরকার ক্ষমতায় বসে পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই দেশ পরিচালনা করছে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অপরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থা করার কারণে আপনারা দেখছেন, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন করা লাগছে এবং সরকার বলেছিল তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যান রয়েছে। এখন সরকার দুই দিনের কাছে প্ল্যান চাচ্ছে মন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে প্রতিমন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে। আমরা জানিনা কখন পরিবর্তন করতে করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু তিন মাসের সময় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। ক্ষমা প্রার্থনা করা যে, গ্যাসের সংকটে সারাদেশে মানুষ ভুগছে সে প্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা যে তারা বলেছিল যে যে কনফিডেন্স আত্মবিশ্বাস তারা দেখেছিল যে তারা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আনবে এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ করবে। কোন কিছু কিন্তু তারা পারেনি।’

    সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস অতিবাহিত হলে কিন্তু এই সরকার আর বলতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়। এটা কিন্তু জনগণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    তিনি বলেন, সরকার যদি সংকটগুলা সুরাহা না করে পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তারা পড়বে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও ছয় মাস অতিবাহিত হলে এই সরকার আর বলতে পারবে না যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা আগের সরকারের দায়। জনগণের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার, ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

  • আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি। তিনি একইসঙ্গে প্রেম, মানবতা, ধর্ম ও দ্রোহের কবি। নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তারেক রহমান।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

    নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।

    তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। আমাদের যে নজরুলকে আমরা পেয়েছি, তাকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

    চিফ হুইপ বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তিনি মানুষের কথা বলেছেন, নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। তাই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।

    তিনি বলেন, নজরুল শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন; তিনি সকল মানুষের কবি। তার লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    চিফ হুইপ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তার অবদান স্মরণীয়। আজকের বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। আলোচনা সভায় সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    নতুন করে আস্থার সংকট ও আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২.১৪ শতাংশ। দেশের ব্যাংক খাতে এটিই এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

    এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ ও তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া, প্রকৃত ঋণচিত্র গোপন রাখা এবং পরে এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বিপুল খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। প্রকৃত হিসাবে মূলধন ঘাটতিও প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। একইসঙ্গে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩১৬ কোটি টাকা। তারল্য সংকট, ব্যবসা কমে যাওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে সামনে ব্যাংকটির আর্থিক চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ব্যাংকের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৭,৭২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪.৪২ শতাংশ। কিন্তু ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির প্রকৃত ঋণচিত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭,৭৫২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ১০,৮৩ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা আরো বেড়ে ৩২,৮১৭ কোটি টাকা বা ২১ শতাংশ হয়।

    ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪৭,৬১৮ কোটি টাকা বা ২৭.৩৮ শতাংশ। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে জুন শেষে তা এক লাফে বেড়ে ১ লাখ ২,৭৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তখন ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬.৫৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ে।

    পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬.২৭৫ কোটি টাকা বা ৫৮.২৪ শতাংশ। পরে বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধায় ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে ৯২,১১৫ কোটি টাকায় নামে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ আদায়ে বিশেষ জোর দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নীতি সুবিধা ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। এর ফলে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে আসে।

    তবে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে আবারও বাড়তে শুরু করে খেলাপি ঋণ। মার্চ শেষে তা দাঁড়ায় ৯৫.৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষে আরো ৩.২৮৬ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৮.৯১৫ কোটি টাকায়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে দেওয়া বড় অঙ্কের বিতর্কিত ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা, পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়া এবং ঋণ আদায়ে ধীরগতির কারণেই খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন করে তারল্য ও আস্থার সংকট যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, মূলত ঋণগ্রহীতাদের পেমেন্ট বিহেভিয়ারের কারণেই এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে যেভাবে কিস্তি পরিশোধ করার কথা, সেভাবে করতে পারছেন না। একটি বা একাধিক কিস্তি বকেয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী ওই ঋণকে শ্রেণিকৃত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আগে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল বা অন্য ব্যবস্থায় নিয়মিত করা হয়েছিল, সেসব ঋণেও নির্ধারিত কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হলে আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তায় অনেক ঋণের খেলাপি অবস্থা কমেছে। তবে কিছু ঋণগ্রহীতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার।

    শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাড়াতে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এই প্রতিযোগিত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।গত ১৮ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার শিক্ষার সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

  • ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    নতুন বছর শুরু হতে এখনও প্রায় চার মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান কবে শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর কোন দিনে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে জর্ডান নিউজ। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখে একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাজ্যের হিজরি ক্যালেন্ডারের ওয়েবসাইট স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস ২০২৭ সালের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়বে এবং আগামী বছর রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিনটি হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি সোমবার পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, যা ১৪৪৮ সালের শাবান মাসের ২৯ তারিখের সঙ্গে মিলে যায়।এর ফলে হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসটি (৩০ দিন) পূর্ণ হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তা শেষ হবে। আর এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।

    এ ছাড়া ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রমজান মাস ২৯ দিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা আগামী বছরের ৮ মার্চ (সোমবার) শেষ হতে পারে।

  • ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    এ ক্যাম্পেইনের আওতায় বাংলা কিউআর ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধকারী ৫০ জন গ্রাহক এবং ৫০ জন মার্চেন্ট স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ পাবেন। ২৩ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে।

    ২০ আগস্ট রাজধানীতে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলতাফ হুসাইন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম।

    অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআর ও কিউআরভিত্তিক সিকিউরড স্টেটমেন্ট বিষয়ে আলোচনা করেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনজুজ্জামান। এ সময় ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন জোন ও শাখাপ্রধান এবং উপশাখার ইনচার্জরা জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা কিউআর একটি নতুন সংযোজন। এটি দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রবাসীদের দ্রুত, সহজ ও নিরাপদে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ তৈরিতেও ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা কিউআর ব্যবহারের বিস্তারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নিতে পারবেন। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরো বিস্তৃত হবে এবং একটি আধুনিক, ক্যাশলেস ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলা কিউআরকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা হিসেবে নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ অধিকসংখ্যক মার্চেন্টকে বাংলা কিউআরের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

  • পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি নিন্দা-এমডব্লিউএল

    পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি নিন্দা-এমডব্লিউএল

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ‘ই–ওয়ান’ বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (এমডব্লিউএল)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিকল্পনা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে হুমকির মুখে ফেলছে।

    সম্প্রতি ‘ই–ওয়ান’ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরাইল। বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও মালে আদুমিমের মধ্যে একটি ধারাবাহিক ইসরাইলি বসতি করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ ‘ই–ওয়ান’ প্রকল্পকে ‘বিপজ্জনক পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের ‘সব অবৈধ বসতি নীতির’ নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে। পাশাপাশি এগুলো সব ধরনের শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

    ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ।

    সংস্থাটি বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ‘ভৌগোলিক ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের’ লক্ষ্যে নেওয়া বসতি সম্প্রসারণসহ অন্যান্য পদক্ষেপও বন্ধ করতে হবে।

    মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ ফিলিস্তিনিদের একটি ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সংস্থাটি বলেছে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ন্যায়সংগত ও স্থায়ী আঞ্চলিক শান্তির ‘একমাত্র পথ’।

  • ৯৮ বছর ধরে কবরের পাশে টানা কোরআন তেলাওয়াত

    ৯৮ বছর ধরে কবরের পাশে টানা কোরআন তেলাওয়াত

    ‘কবরের পাশে কোরআন তেলাওয়াত করলে কবরে আজাব কম হবে’— বলেছিলেন এক পীর। পীরের এমন নির্দেশনা থেকে ৯৮ বছর ধরে ধরে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলাওয়াত চলছে কবরের পাশে। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ৭০০ বছরের পুরোনো নওয়াব শাহি জামে মসজিদের সামনে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কবরের।

    মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রয়েছে নওয়াব পরিবারের সবার কবর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ব্যতীত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েও থেমে থাকেনি কোরআন তেলাওয়াত। চারজন হাফেজ পালাক্রমে চালিয়ে যাচ্ছেন এ কার্যক্রম।

    পীরের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন। ১৯২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী।

    মসজিদের একপাশে মিনারের মধ্যে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পরও কবরের পাশেই চলমান রয়েছে কোরআন তেলাওয়াত। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয় না কোরআন তেলাওয়াত।

    মসজিদের পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। ওয়াক্ফকৃত সম্পদের আয় দিয়ে মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদরাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় মসজিদ ও কোরআন তেলাওয়াত দেখতে।

    হাফেজ ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ওস্তাদের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন। গত ৯৮ বছরে এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়নি কোরআন তেলাওয়াত।’

  • ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে, বোনের অভিযোগ

    ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে, বোনের অভিযোগ

    পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে বারবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তার বোনকে জানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তার বোন উজমা খান এ দাবি করেন। এর এক দিন আগে চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

    ইমরান খানের মেডিকেল টেস্টের সময় তার বোন উজমা খান ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, শারীরিকভাবে ইমরান খান সুস্থ আছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার কাছে কারাগারে বারবার নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

    উজমা খান সাংবাদিকদের বলেন, “ইমরান আমাকে বলেছেন, কারাগারে তাকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে।”

    তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    আদালতের নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক

    শুক্রবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়।

    পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

    এদিকে, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে শনিবার সরকারের বিরুদ্ধে অবমাননার আবেদন করেছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলের আইন উপদেষ্টা নাইম পাঞ্জুথা জানান, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের দাবি, আদালত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ইমরান খানকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

    সরকারের ব্যাখ্যা

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশে উল্লেখ করা বেসরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছিল।

    তিনি জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা করে। পরে তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ইমরানের আইনজীবীরা এর আগে দাবি করেছিলেন, কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, চিকিৎসা প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন এমন কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি।

    হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমর্থকদের জমায়েত

    ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে তার সমর্থকেরা জড়ো হন। ইমরানকে বহনকারী বলে ধারণা করা একটি গাড়ির দিকে তারা ফুল ছুড়ে দেন।

    পাকিস্তানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যমে ইমরান খানের নাম উল্লেখ করাও অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হতো।

    পিটিআই নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন করে বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

    খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, “গতকাল যা ঘটেছে, তার পর কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দ্বিগুণ হবে।” তিনি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিলের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

  • মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শনিবার সকাল সোয়া ১০টার পর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

    এসময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

    শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন করেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

  • ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং আইন প্রণয়ন শাখা-২-এর সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত (২১ আগস্ট, শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো।

    বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

    একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন নতুন চার সদস্য। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪ জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজে’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়া কারাবন্দী ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি। পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল।

    দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত।’

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পান নি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল – এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল।

    চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি। এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনু্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি। ।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, ‘এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায় নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুলের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন’।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই। কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন’।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী। মির্জা ফখরুলের বাবা আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারু। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দি

    য়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র। ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, ওই দিনই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় আগেই নিশ্চিত ছিল। তবু প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় তফসিল অনুযায়ী গতকাল ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট ও এগারো দলীয় প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। সরকারি ও বিরোধী দলের ৬ জন এমপি ভোট দানে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল রাষ্ট্রপতি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

  • সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

    সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও ৩৫-৪০টি দোকান কোঠা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সিলাম এলাকার চকবাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যান। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও দোকান কোঠা নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও হামলা-পাল্টা হামলা হয়। এতে ওসি মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ২৫-৩০ জনও আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদিসহ আরো অনেকে। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    জানা গেছে, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরো আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি ও মো: ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়।

    এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

    ওই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নম্বর ১০৭৬৭/২৬ দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়। বিচারপতি মো: হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো: তাজরুল হোসাইনের আদালত বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন।

    তবে সাময়িকভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। যা শুক্রবার সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    শুক্রবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনিসহ আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং সাত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জের ধরে রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল ২২নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলা তুলে না নেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকালে বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা বেলা পৌনে ১১টায় অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে জুমার নামাজের কিছু আগে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

    এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে ২৩নং ওয়ার্ড বন্দরে কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ (২৮) ওই বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার শেখ সিফাত ২১নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বন্দরের বারপাড়া এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২) নবীগঞ্জ কদমরসুল ফকিরবাড়ি এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার আবদুস সোবহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার সুলাইমানের ছেলে সিয়াম (২৫), বন্দর চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার মাসুদের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৬) ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬)।

    এ ব্যাপারে নিহত বুলবুলের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিনকে বাদী করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বুলবুলের গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন জানান।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে চাপ প্রয়োগ করে তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে সড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাত ও তার আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়া শেষে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

    এ সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় সমাধি প্রাঙ্গণে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

    রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখানে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।

  • সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    ইসলামের মূল লক্ষ্য শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে শান্তি ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য কখনো কখনো শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তাই অনেক সময় দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব পরিহার করে আত্মরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই শক্তি শুধু অস্ত্রশস্ত্র বা সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কৌশলগত দক্ষতা ও নৈতিক নেতৃত্বও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের আলোকে মুসলিম উম্মাহর সামরিক শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিরোধ

    ইসলাম মুসলমানদের আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জন এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধোপকরণ সংগ্রহ, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহনের ব্যবস্থা, শরীরচর্চা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। কোরআনে নির্দিষ্ট কোনো অস্ত্রের নাম উল্লেখ না করে শক্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে, যা যুগ ও সময়ভেদে পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করে। অতীতে তীর-তলোয়ার ও বর্শা ছিল যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র; পরে বন্দুক ও কামানের যুগ এসেছে আর বর্তমান যুগে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা প্রচলিত।

    সুতরাং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশল আয়ত্ত করা ইসলামি নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রভান্ডারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, গোয়েন্দা দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও এর অপরিহার্য অংশ। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক শক্তি অর্জন অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ববাহিনী, তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে, তোমাদের শক্রকে এবং এরা ছাড়া অন্যদের যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা আল-আনফাল : ৬০)

    নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষা

    ইসলামে সামরিক শক্তি অর্জনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলোÑ অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা। যদি দুর্বলদের রক্ষা করা না হয়, তাহলে পৃথিবীতে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করবে এবং সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো তাদের যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ তারা অত্যাচারিত। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। তাদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।’ আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিষ্টান সংসার-বিরাগীদের উপাসনা স্থান, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদগুলো; যাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে (তাঁর ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান, চরম পরাক্রমশালী।’ (সুরা আল-হজ : ৩৯-৪০)

    এই আয়াত প্রমাণ করে, সামরিক শক্তি শুধু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং মানবসমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইসলাম শান্তিপ্রিয় অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয়। তবে যখন কোনো শক্তি ইসলাম, মুসলমান বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-মুমতাহিনা : ৮)

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    নবী (সা.) মুসলমানদের যুদ্ধোপকরণ প্রস্তুত করা, তীরন্দাজি শেখা, ঘোড়সওয়ারি অনুশীলন করা এবং সামরিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি এসব কাজকে শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, বরং ইবাদত ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবু হোসাইন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা একটি তিরের উসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তীর নির্মাতা যে নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করেছে, (জিহাদে) এই তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি করো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজি শিক্ষা করা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়। মুসলিম ব্যক্তির সব ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তীর নিক্ষেপ, ঘোড়ার প্রশিক্ষণ এবং নিজ স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। (কারণ) এগুলো হলো উপকারী ও বিধিসম্মত। (তিরমিজি : ১৬৩৭)

    বোঝা যায়, মুসলিম সমাজকে সর্বদা দক্ষ, সক্ষম ও প্রস্তুত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে সামরিক শক্তি অর্জন কোনো আগ্রাসী মনোভাবের প্রতীক নয়; বরং আত্মরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষার একটি অপরিহার্য উপায়। মুসলিম উম্মাহর জন্য সামরিক শক্তি অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চরিত্রগঠন ও নৈতিক নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হওয়াও সমানভাবে জরুরি। তখনই একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

  • রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    জোড়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। আর রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে।

    বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে আসবেন। তারপর সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করবেন।

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

    বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করার জন্য বসবেন। এ সময় দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ তখন থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন। এ সময় মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন।

    শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর আছে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার সদস্যের শপথ পাঠ করাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। তাঁদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।

  • মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর জহুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙা মোড়ের প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রিকশাচালক জহুরুল ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায়। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে ঘুঘুমারী এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে বালিজুড়ী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম। পথে আমলীতলা এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

    এদিকে আমলীতলা এলাকার সড়কের পাশে অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। অটোরিকশাটিতে মরিচের গুঁড়া পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে মাথাভাঙা মোড়ের পশ্চিম পাশে ডোবায় একটি লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা লাশটি জহুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশাচালক জহুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটি উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জহুরুল ইসলামকে কোথায় এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার সাথে কারা জড়িত— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।