একসাথে কাজ করবেন ট্রাম্প-মামদানি

রাজনীতিতে মতের অমিল থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু শহরের মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে সেই দূরত্ব কাটিয়ে এক টেবিলে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ‘গ্র্যাসি ম্যানশন’ নামে পরিচিত মেয়রের সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউস এবং নিউ ইয়র্ক মেয়র কার্যালয়—উভয় পক্ষ থেকেই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মেয়র কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্ক শহর এবং শহরের বাসিন্দাদের নানা সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

রাজনৈতিক আদর্শের দিকে তাকালে ট্রাম্প ও মামদানি পুরোপুরি দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতা, অন্যদিকে মামদানি ডেমোক্রেটিক দলের এক পরিচিত মুখ ও স্পষ্টভাষী সমাজতন্ত্রী। তবে রাজনীতি আলাদা হলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কটা বেশ অমায়িক ও আন্তরিক।

এর আগেও তাদের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে দুই নেতা মুখোমুখি বসেছিলেন। বৈঠক শেষে মামদানি জানিয়েছিলেন, তাদের দুজনেরই জন্মস্থান এই নিউ ইয়র্ক সিটি, আর তাই এখানে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আবাসন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাথে তার খুব ইতিবাচক কথা হয়েছে।

অথচ একসময় পরিস্থিতি এমন ছিল না। নির্বাচনের আগে মামদানিকে ‘কম্যুনিস্ট’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নির্বাচনে চমক দেখিয়ে মামদানি জয়ী হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। গত নভেম্বরে ওভাল অফিসে মামদানিকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প মন খুলে তার প্রশংসা করেন।

সেদিন ট্রাম্প বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের কোনো ভেদাভেদ এখানে থাকবে না। মামদানি ভালো কাজ করলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন এবং একটি নিরাপদ নিউ ইয়র্ক গড়ার স্বপ্নপূরণে তিনি মেয়রকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন

মামদানির এই রাজনৈতিক উত্থান পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেই এক নতুন হাওয়ায় রূপ নিয়েছে। তিনি দ্রুতই দেশের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের চোখ রাঙানি থাকলেও, নিউ ইয়র্কের মানুষের ভালোর জন্য সব মতপার্থক্য ভুলে ট্রাম্প ও মামদানির এই এক টেবিলে বসা মার্কিন রাজনীতিতে এক দারুণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।