আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    সারাহ কুক বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের শক্তি ও ব্যপ্তি প্রতিনিয়ত আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা যৌথ অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে এসেছে।

    বৃটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক, প্রাণবন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিবিড় সহযোগিতার ওপর এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সারাহ কুক বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্যই দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল বয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা করছেন।

  • শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে আগের তুলনায় সমস্যা কমেছে। দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীন থেকে দক্ষ শিক্ষক আনতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি চীন সফরে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে ড. মিলন বলেন, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতেও চীনের সঙ্গে শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালু করবে সরকার।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চীনের সঙ্গে শিক্ষাখাতে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়বে।

    সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অংশ নেন।

  • গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে।

    আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

    ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।

    ‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি। অনেকেরই জানার আগ্রহ-ঠিক কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল?

    ঢাকার উত্তরায় যার ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন তিনি বাসসকে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।

    তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে চলেছে সরকার।

    এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তার সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

    গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন-সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়ার মিয়াবাড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’

    তিনি বলেন, ‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’

    ‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছু পর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’

    ‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’

    হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে!’

    ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’

    হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-“চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।’ এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’

    তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’

    ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা

    সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তাঁর দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তাঁর গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল।

    ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো ও নিউ এজ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’

    উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।

    তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’

    এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি।

    ওইদিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’

  • সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এরকমই সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। তবে এর নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।’

    ‘তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সাথে সাগর-রুনির এই ঘটনার সাথে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাচাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করা হবে।’

    তিনি বলেন, এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এই মামলাটি সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি খুন হন। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান আটজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    ডিবি, র‌্যাবের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২৭ আগষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ফের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য় করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং তাদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

    মিছিল চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘ওলি ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘মুকাদ্দাস ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ওলি ভাইয়ের সন্ধান চাই, দিতে হবে দিতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন আন্দোলনকারীরা।

    বিক্ষোভ মিছিলে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইমরান বিশ্বাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ২৫১ জনের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁদের পরিবারগুলো উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে।

    তিনি বলেন, “অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা জীবিত না থাকলে অন্তত তাঁদের কবরের সন্ধান পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের প্রসঙ্গে ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সন্ধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের নিখোঁজের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নিখোঁজের ঘটনায় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তৎকালীন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির প্রকাশ্যে চলাফেরার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির অগ্রগতি ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নতুন করে তাঁদের সন্ধানের দাবি সামনে এনে বিক্ষোভ মিছিল করল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

  • ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন

    ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। প্রায় আট মাস মধ্যপ্রাচ্যের সমূদ্রে অবস্থানের পর রণতরীটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করেছে।

    ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে অবস্থানরত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টার কিছু পর সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি পানিসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ এই রণতরীটি দেখতে পান।

    দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে লিংকন মোট ২৬৬ দিন বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে কাটিয়েছে রণতারীটি, যা আধুনিক যুগে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও চলতি মাসের শুরুতে জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৬৬ দিন মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ২০০ দিন ছিল যুদ্ধাঞ্চলে। এ সময় এর স্ট্রাইক গ্রুপ ১০ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় এবং অপারেশনাল উপস্থিতি শুরু করে।

    তবে দীর্ঘ এই মোতায়েন এবং জাহাজে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রণতরীটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের মনোবল কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সাময়িক ঘাটতির খবর প্রকাশিত হয়।

    বিভিন্ন সামরিক গণমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জাহাজের টয়লেট ও পানি সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। এমনকি, মোতায়েনের সময় আত্মহত্যার চেষ্টা এবং নাবিকদের জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

    তবে রণতরীতে ব্যাপক মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর ভাষ্য, লিংকনে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি এবং নাবিকদের জন্য চিকিৎসা, ধর্মীয় ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পেশাজীবীরা সেখানে রয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও লিংকনে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণভাবে ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও জাহাজটির নাবিকদের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘ মোতায়েনের সময় তারা নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছালেও মিশনের সব চাহিদা পূরণ করে গেছেন।

    থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে ফেরার আগে বিশ্রাম ও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডের একটি বন্দর সফর করবে।

  • মার্কিন চুক্তি ইরানে হামলা থামাতে পারবে না : ইসরাইল

    মার্কিন চুক্তি ইরানে হামলা থামাতে পারবে না : ইসরাইল

    ইসরাইলি মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, তারা হামলা করতে থাকবে। মার্কিন চুক্তি ইরানের ওপর হামলা থামাতে পারবে না।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    এলি কোহেন বলেন, ‘যদি ইরান ভুল করে এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে, এমনকি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তিও হয়, আমরা হামলা করতে থাকব।’

  • ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা জো কেন্ট পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে এ কথা বলেছেন।

    গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এরপরও তিনি একই ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিতে পারে।

    গত শুক্রবার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে বাস্তব হিসেবেই দেখা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনটা ঘটতে পারে—এ কথা ভাবাই অসম্ভব মনে করা বোকামি হবে।’ তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন এ সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে।

    কেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্য বারবার পরিবর্তন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রায় সবকিছুই ব্যবহার করা হয়েছে।

    কেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটিকে ‘পুরোপুরি আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে চায়, তবে ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ রয়েছে। এর একটি হলো, পুরোদমে স্থল অভিযান এবং অন্যটি, পারমাণবিক হামলা।

    তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান ‘কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়’ বলে কার্লসনকে জানান কেন্ট।

    কেন্ট বলেন, ‘আপনি যদি এ পরিস্থিতির কথা যথেষ্ট সময় ধরে ভাবেন, তবে খুব দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রসঙ্গ চলে আসে।’ তাঁর ধারণা, ওয়াশিংটন তাত্ত্বিকভাবে ইরানের পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীরে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে সীমিত পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার হামলা হঠাৎ স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পেন্টাগনের উচ্চ নির্ভুলতার অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে এসেছে।

    জো কেন্ট, ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা

    তবে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গোলাবারুদের সংকটের খবর জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে।

    এর মধ্যে ইরান যুদ্ধে কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে একটি ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি এর নাম দেন ‘ইকোনমিক ডি–ডে’।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পানিতে তলিয়ে যাচ্ছেন—এমনই এক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশাল বিলবোর্ডে।

    এর কয়েক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে যুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে চীনে অবস্থিত ২১টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

    স্কট বেসেন্ট বলেন, তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়ে ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে একঘরে’ করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।

  • নেপাল–তিব্বতে নিহত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি

    নেপাল–তিব্বতে নিহত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি

    নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন ও তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন।

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে নেপাল কর্তৃপক্ষ আরও ৩ হাজার ৪৪ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।

    এদিকে বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় সরে গেছেন। খারাপ আবহাওয়া এবং নেপাল-চীন সীমান্তে কাদাধসের পর সৃষ্ট একটি হ্রদ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত শুক্রবার থেকে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

    গত বুধবার একটি হিমবাহধসের পর পাথর, মাটি ও কাদা জমে নদীর গতিপথ আটকে ওই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে হ্রদের পানি উপচে নেপালের নদীগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করায় এটি নতুন করে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। চীন এ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করেছে।

    নেপালে এখনো ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ। সেখানে ৭ হাজার ৫১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    চীনের তিব্বতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে নেপালের ১০৫ জন, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮, যুক্তরাজ্যের ১৫, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার ৩ জন করে নাগরিক রয়েছেন।

    এ ছাড়া ফ্রান্স, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের দুজন করে এবং ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির একজন করে নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রাণঘাতী এ দুর্যোগের ঘটনা ঘটে গত বুধবার। তিব্বত–নেপাল সীমান্তে হিমবাহের একটি অংশ ধসে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবল বেগে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় বিভিন্ন স্থাপনা, গ্রাম ও জনপদ।

  • আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান গিলানির

    আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান গিলানির

    আন্তর্জাতিক আইন সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী আইন ও নীতি নির্ধারণে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে দ্বিতীয় আন্তঃসংসদীয় স্পিকার্স সম্মেলনে (আইএসসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় গিলানি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শান্তি বেছে বেছে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বিশ্বের কোনো একটি স্থানে শান্তির জন্য হুমকি তৈরি হলে তা সর্বত্র শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

    গিলানি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সব রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিয়মকানুন তৈরিতে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সংসদকে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ন্যায্য আন্তর্জাতিক নীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

    শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি কূটনীতি ও সংলাপকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গিলানি বলেন, পাকিস্তান নিজে সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তাই সংঘাতের মূল্য সম্পর্কে পাকিস্তান ভালোভাবেই জানে এবং দেশটি শান্তির পথ বেছে নিয়েছে।

    আন্তঃসংসদীয় স্পিকার্স সম্মেলনকে আরও কার্যকর করার প্রস্তাবও দেন গিলানি। তিনি আইএসসিকে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, তথ্য অনুসন্ধান মিশন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব করেন।

    সম্মেলনের ফাঁকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে বৈঠক করেন গিলানি। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গিলানি পাকিস্তান সফরের জন্য কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

    পরে কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন গিলানি। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদীয় নেতারা নমপেনে শান্তি, সংলাপ ও সহযোগিতার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছেন।

  • এই বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

    এই বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বশংবদ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকয়টিকেই একসঙ্গে ভুলুষ্ঠিত করা হয়।

    দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমদ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের স্মরণ করেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন- একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

    এ সময় তিনি বিএনপি-জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন- আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

    একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সানজিদা ইসলাম তুলির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

    রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

  • জাতিসংঘের কাঠামো পুনর্গঠন ও নিরপেক্ষ করার দাবি

    জাতিসংঘের কাঠামো পুনর্গঠন ও নিরপেক্ষ করার দাবি

    জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে এর কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন মহাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে।

    ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে কাইয়ুম বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো সনদ ও জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে এ সংস্থার কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সীমান্ত বিরোধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য সংঘাতের অন্যতম কারণ।

    আবদুল কাইয়ুম ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি’র ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি রাষ্ট্রগুলোকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোনো পরাশক্তির সামরিক শক্তির ওপর নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আফগানিস্তানে ন্যাটোর ব্যর্থতা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কোনো কোনো দেশ দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকে।

    বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ, মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে ন্যায্য বাণিজ্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার, সহনশীলতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    কাইয়ুমের মতে, এসব লক্ষ্য জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জাতিসংঘের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর নির্ভর করে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সফরের আমন্ত্রণ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সফরের আমন্ত্রণ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পারস্পারিক সুবিধাজনক সময়ে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি এ সময় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের সাম্প্রতিক সফর দুই দেশের সুসম্পর্ককে আরো প্রশস্থ ও সুগম করবে।

    চীনের রাষ্ট্রদূত জবাবে বলেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করা এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ।

    এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন–বাংলাদেশ–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

    চীনের রাষ্ট্রদূত গত এপ্রিল মাসে এল.জি.আর.ডি. মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ঐ সফরে আই.ডি.সি.পি.সি মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মন্ত্রীর পিতা লিউ শুকিং কর্তৃক তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ১৯৮০ সালের আগস্টে পরিচয়পত্র পেশের দূর্লভ আলোকচিত্র ও ভিডিও হস্থান্তরের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

    সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানে বেড়েছে বিদেশি পর্যটক

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানে বেড়েছে বিদেশি পর্যটক

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যেও পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানে বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বিদেশি অভিযাত্রী অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছেন।

    গিলগিট-বালতিস্তান পর্যটন বিভাগের উপপরিচালক সাজিদ হুসেইনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকরা বিশ্বের কয়েকটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় এবং দুর্গম এলাকায় ট্রেকিংয়ের জন্য সেখানে গেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু, নাঙ্গা পর্বত, ব্রড পিক, গ্যাশারব্রুম-১ ও গ্যাশারব্রুম-২।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ মৌসুম মিলিয়ে গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ও উন্মুক্ত অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। উন্মুক্ত পর্যটন এলাকায় বিদেশিদের জন্য বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজন হয় না।

    গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটন কর্মকর্তার মতে, গত বছর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গিলগিট-বালতিস্তানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন কমে গিয়েছিল।

    এবার পর্বতারোহণের মৌসুম শেষ হলেও ট্রেকারদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। কে-টু বেস ক্যাম্পের মতো দুর্গম পথেও পর্যটকরা যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত ট্রেকারদের আগমন অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযান ও ট্রেকিংয়ের অনুমতিপত্র থেকে গিলগিট-বালতিস্তান সরকার প্রায় ৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি আয় করেছে।

    আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইরফান আরশাদ খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা, জ্বালানির দামের ওঠানামা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় পোর্টার, হোটেল মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা সরাসরি লাভবান হন।

    তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছিল। বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের অনুমতিপত্র দিতেও বিলম্ব হয়েছে। এসব সমস্যা না থাকলে এবার বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর চেয়েও বেশি হতে পারত। আগামী বছর ৪ হাজারের বেশি বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকার গিলগিট-বালতিস্তানে আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে বড় পর্বতশৃঙ্গগুলোতে সাফল্যের হার এখনো কম। তুষারধস, পাথরধস, প্রচণ্ড বাতাস এবং উচ্চতার অনিশ্চিত আবহাওয়া পর্বতারোহীদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

  • ভারত-উজবেকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই

    ভারত-উজবেকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই

    ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম চুক্তি সই হয়েছে। রোববার তাসখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    এ ছাড়া তিনটি সিস্টার সিটি ও সিস্টার স্টেট চুক্তি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উজবেকিস্তানের নতুন শহর ‘নিউ তাশখন্দ’ নির্মাণে ভারতের গুজরাটের গিফট সিটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রস্তাবও দেন মোদি।

    মিরজিয়োয়েভ জানান, গত বছর প্রথমবারের মতো দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং সরাসরি ফ্লাইট বেড়ে সপ্তাহে ১৪টিতে দাঁড়িয়েছে।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসামুক্ত ভ্রমণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সংস্কৃতির পাশাপাশি এখন পারমাণবিক জ্বালানি ও নগর উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ছে।

  • মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

    মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধে অংশগ্রহণের’ জন্য জাপানের জনগণের উচিত তাদের সরকারকে জবাবদিহি করা। খবর আলজাজিরার।

    বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অভিযান পরিচালনায় জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আরাগচি বলেন, “এই দেশে অবস্থিত স্থাপনাগুলো ব্যবহারের জন্য জাপান সরকার দায়ী।”

    জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আরাগচি জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে জাপানের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

  • অনিশ্চিত জীবনযাপনে মার্কিন সেনাদের পরিবার

    অনিশ্চিত জীবনযাপনে মার্কিন সেনাদের পরিবার

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর চরম উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যরা। সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, হঠাৎ দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানো এবং নিয়মিত যোগাযোগের ঘাটতিতে অনেক পরিবারকে এক ধরনের অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সেনাদের পরিবারের জন্য স্কুল থেকে সন্তান আনা-নেওয়া, সংসারের আয়-ব্যয় সামলানো এবং প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। শিকাগোল্যান্ড শাখার ‘ব্লু স্টার ফ্যামিলিজ’-এর প্রধান কোর্টনি স্যান্ডার্স বলেন, পরিস্থিতি যেন সব সময় ‘কাঁটার ওপর বসে থাকার’ মতো। তাঁর দুই মেয়েও মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা রয়েছে। যুদ্ধের প্রয়োজনে আরও হাজার হাজার মেরিন ও নৌসেনাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ছয় মাসের সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

    স্যান্ডার্স বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি বারবার বদলানোর কারণে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপও ওঠানামা করছে। যখন মনে হয় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে, তখনই নতুন কোনো হামলা, উত্তেজনা বা মোতায়েনের খবর তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

    ‘ব্লু স্টার ফ্যামিলিজ’-এর মার্চের এক জরিপে প্রায় ২০০ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনা পরিবারের সদস্য অংশ নেন। তাদের ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের মানসিক চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি অনলাইন সহায়তা, ওয়েবিনার, সরাসরি বৈঠক এবং নতুন করে মোতায়েন হওয়া সেনাদের স্বামী-স্ত্রীদের অভিজ্ঞ পরিবারগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    যুদ্ধের কারণে অনেক সেনার দায়িত্বের মেয়াদও অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালন করেছে, যা আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড বলে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন। এ সময় জাহাজটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের মধ্যে মানসিক চাপ ও মনোবল কমে যাওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন সামরিক মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনকে পরিস্থিতির ‘সম্পূর্ণ ভুল উপস্থাপন’ বলে দাবি করেছেন।

    শুধু মানসিক চাপ নয়, অনেক পরিবারের ওপর আর্থিক চাপও বেড়েছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা সাধারণ সময়ে বেসামরিক চাকরি করেন। হঠাৎ তাদের মোতায়েন করা হলে পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেও অনেক পরিবারকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    উত্তর ক্যারোলিনার এক সেনা পরিবারের সদস্য শ্যানন জানান, তাঁর স্বামীকে মাত্র পাঁচ দিনের নোটিশে ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। প্রথম কয়েক মাস তিনি স্বামীর সঙ্গে খুব সীমিতভাবে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।

    এদিকে ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতিও এখনো অনিশ্চিত। ছয় মাস পরও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়নি এবং যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, সেনাদের পরিবারের উদ্বেগ তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, সেনাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের ওপরও এর মানসিক ও আর্থিক চাপ তত বাড়ছে।

  • স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

    স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

    স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের-তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। এ দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।

    বিগত দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ গুরুতর অপরাধ সর্বদা অস্বীকার করে গেছে। ’

    গুম ও গণহত্যার বিচারের কাজ স্বচ্ছ ও আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। ’

    তিনি বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকবে তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

  • সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, আছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা

    সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, আছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা

    ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ পালন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি। গুম-খুনে জড়িতদের বিচার দাবিতে রোববার বেলা তিনটায় রাজধানীর বাংলা মটরে সৌদিয়া ট্রেড সেন্টারের সামনে জমায়েত শেষে পৌনে চারটায় এই পদযাত্রা শুরু হয়। জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    এছাড়া এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে অংশগ্রহণ ও পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    পদযাত্রা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আবার জমায়েত হবেন তারা। সেখান থেকে স্পিকারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করবেন নেতারা।

    এর আগে এই কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেই এই কর্মসূচি সফলের আহ্বান জানানো হয়।

  • মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে- আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।

    সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কিনা, সেটি মূল বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কেঁদে যা বললেন মিয়াঁদাদ

    তিন বছর ধরে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাবেক ক্রিকেটারের মুক্তির দাবিতে এবার সরব হয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    সম্প্রতি ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে যৌথ চিঠি পাঠান ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। গত ২৪ আগস্ট পাঠানো ওই চিঠির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও।

    এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের পক্ষে কথা বলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ।

    তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলুক, তিনি (ইমরান খান) কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবেন? আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ভালো নয়।’

    ইমরানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনও নাকচ করে দেন ৬৯ বছর বয়সি এই সাবেক ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনো শত্রুতা বা ঝগড়া ছিল না।’

    ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার স্মৃতি তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে ছিলাম। পরে পাকিস্তান দলে আমি তাকে অধিনায়কত্বও দিয়েছিলাম। আমাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। আমরা একসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের দারুণ একটি সময় কাটিয়েছি।’

    সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘তিনি কারও না কারও সন্তান। প্রায়ই ভাবি, কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছেন। আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতাম। পাকিস্তান ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’

    যদিও অবসরের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতীতে ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন মিয়াঁদাদ, তবু তিনি মনে করেন, দেশের জন্য ইমরানের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

    মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা অবশ্যই ভুল। কিন্তু তিনি একজন জাতীয় বীর। আমি চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছেও আমার আবেদন রয়েছে। হয়তো আমি সবকিছু বলার অবস্থানে নেই, তবে এটুকু বলতে পারি—তিনি আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। আমরা একসঙ্গে খেলেছি, সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন সৎ মানুষ।’

    সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আমার একটাই প্রার্থনা—সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হোক। এর বেশি আর কী বলব? আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি হৃদয়ের গভীরতা থেকেই এসব কথা বলছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি এবং দেশের পতাকা বহন করেছি। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সেগুলোর অবসান হওয়া উচিত। দেশপ্রেমের প্রশ্নে ইমরান কারও চেয়ে কম নন। আমরা মাঠে লড়েছি পাকিস্তানের জন্যই। যা হওয়ার হয়েছে। মানুষ ভুল করতেই পারে। এখন সময় এসেছে এই অধ্যায়ের ইতি টানার।’

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এ বছর মাত্র ৫ লাখ লোক দারিদ্র্য কাটাবে, কাজ হারাবে ৬ লাখ

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এ বছর মাত্র ৫ লাখ লোক দারিদ্র্য কাটাবে, কাজ হারাবে ৬ লাখ

    ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে এমনিতে দারিদ্র্য লোকের সংখ্যা বেড়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০২৬ সালে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে এ বছর মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্য অবস্থা কাটাতে পারবে। বাকি ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বের হওয়ার কথা থাকলেও তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে পারবে না। শুধু তা–ই নয়, এ বছর ছয় লাখ মানুষ কাজ হারাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেল, সার কেনাসহ আমদানি খরচ মেটাতে বাংলাদেশ সরকার বাজেট সহায়তা চাইলে গত ১৫ জুন বিশ্বব্যাংক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। সেখানে এ কথাগুলো বলা হয়।

    দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেখা দেওয়ার পর বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছিল বর্তমান সরকার। বিশ্বব্যাংক তাতে রাজি হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক শর্ত দেয়, এত দিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অব্যবহৃত অর্থ পড়ে আছে, তা একসঙ্গে করে বাজেট সহায়তা দেওয়া হবে। এসব অর্থ বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া আছে। ২৬ জুন ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক।

    এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লোকের সংখ্যা কমছে। এটি বেশ উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তখন প্রত্যাশা ছিল, নতুন রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিনিয়োগ বাড়বে ও নতুন কর্মসংস্থান হবে।

    নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের এই তথ্য নতুন সরকারের জন্য বিব্রতকর। এর মানে, অর্থনীতি আটকে থাকার পরিস্থিতি অব্যাহত আছে, এমন ইঙ্গিত দেয়। সরকার ঘোষিত জনপ্রিয় উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি অর্থনীতির দুর্বল কাঠামোগত বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। যেহেতু দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার লোকের সংখ্যা কমেছে, তাই সরকার ঘোষিত বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো যেন দরিদ্রদের উপযোগী হয়। রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে বেরিয়ে এসে নির্মোহভাবে সুবিধাভোগী চিহ্নিত করতে হবে।

    বাজেট সহায়তার অর্থ কীভাবে খরচ হবে

    বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা জ্বালানি পণ্যের দাম পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে সংকটের সময়ে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে প্রকল্পটি।

    ইতিমধ্যে বাজেট সহায়তার অর্থ বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার কেনাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে তা খরচ করা শুরু হয়েছে বলে সূত্রগুলো বলছে।

    বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে কী আছে

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য কমানোর গতি কমে যায়। ২০২৫ সালে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে। ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এ বছর মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

    বিশ্বব্যাংক মনে করে, এ বছর যে অর্জন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এর বড় অংশ অর্জন করা যাবে না। উল্টো প্রায় ছয় লাখ কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৬ সালে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় ১০ শতাংশের জন্য জিনিসপত্রের বাড়তি দামকে দায়ী করা হচ্ছে।

    পরিস্থিতি জটিল হয়েছে

    বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ এক বহুমাত্রিক সংকট ও ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতাগুলো বড় ধরনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে সীমিত করে দিয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর–জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। জ্বালানি ভর্তুকি ও ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণের ব্যয় বাড়ার কারণে রাজস্ব ঘাটতি আরও বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

    জ্বালানি খাত নিয়ে যা আছে

    আমদানিনির্ভর জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর বাংলাদেশের ব্যাপক নির্ভরতা বড় কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করেছে, যা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বারবার দেখা গেছে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে এমন কথা বলা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের ৫০ শতাংশের বেশি আসে গ্যাস থেকে। বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের ৬০–৬৫ শতাংশ ও এলএনজির ৫৫–৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এলএনজির স্পট মূল্য বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ২৪–২৮ মার্কিন ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণের বেশি।

    বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে মোট ভর্তুকির বোঝা দাঁড়াতে পারে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর পরিমাণ দেড় থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। ভর্তুকি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক ও জরুরি খাতে খরচ করার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

    ইউরিয়া, ডায়ামোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট ও মিউরিয়েট অব পটাশের মতো সারের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশে ইউরিয়া উৎপাদনও স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ইউরিয়ার দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই দাম দ্বিগুণও হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

    বেসরকারি খাত ও কর্মসংস্থান

    বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ও শ্রমবাজার ব্যাপক কাঠামোগত দুর্বলতার মুখে রয়েছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে ২৬ বার বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের মুখে পড়ে, যার ফলে বার্ষিক বিক্রির ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন বিধিবিধানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ কমে যায়।

    বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, শ্রমবাজারের অবস্থাও কাঠামোগতভাবে অবনতি হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রতি ১০টির মধ্যে সাতটি হয়েছে কম উৎপাদনশীল কৃষিতে।

  • নেপালে আবারও সংকটে পর্যটন

    নেপালে আবারও সংকটে পর্যটন

    নেপালের পর্যটন খাত গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন মূল মৌসুমে প্রবেশ করছিল, তখনই ‘জেন-জি’ প্রজন্মের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পুরো খাতকে হঠাৎ স্থবির করে দেয়।

    কয়েক বছরের টানা ধাক্কার পর এ রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এর আগে নেপালে আঘাত হেনেছিল বিধ্বংসী বন্যা। দুটি বড় বিমান দুর্ঘটনা আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছিল। আর কোভিড-১৯ মহামারি আন্তর্জাতিক পর্যটনকে পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছিল।

    সবচেয়ে নাজুক এমন এক সময়েই নেপালে আঘাত হানল আরেকটি নতুন বিপর্যয়।

    গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢল পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আশাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। বিশেষ করে লাভজনক কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রার বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। তীর্থযাত্রীদের নেপাল থেকে তিব্বত যাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ ‘রাসুয়াগড়ি-তিমুরে’এলাকায় এ দুর্যোগ আঘাত হেনেছে।

    বিজয় কুমার সিং, নেপালের পরিবেশবিশেষজ্ঞ

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এ ঘটনা নেপালের পর্যটননির্ভর অর্থনীতির সামনে এক গভীর প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটির পাহাড়গুলো কি দিন দিন পর্যটকদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    গত বুধবারের দুর্যোগের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ণয়ের কাজ এখনো চলছে। তবে হিমবাহের বিস্ফোরণ (হিমবাহের বরফগলা পানি হঠাৎ নিচে ধেয়ে আসা) এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ যে হিমালয় অঞ্চলের জনবসতি, অবকাঠামো ও পর্যটকদের জন্য কতটা মারাত্মক হতে পারে, এ ধ্বংসযজ্ঞ তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

    পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘আমাদের পর্যটন খাত মূলত পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে নিরূপণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দুর্যোগ এড়ানো যায়।’

    ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির পাশ দিয়ে কাদা মাড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি।

    জলবায়ু–সম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি নেপালের পক্ষে উপেক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে কাঠমান্ডু উপত্যকায় হওয়া ভয়াবহ বন্যা ছিল নেপালের ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক নগর-বন্যা। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, গত চার দশকের মধ্যে নেপালে ওই সময় সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি হয়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ২৪৯ জন প্রাণ হারান, আহত হন ১৭৭ এবং বাস্তুচ্যুত হয় ১০ হাজারের বেশি পরিবার। দুটি বড় বিমান দুর্ঘটনাও নেপালের পর্যটন খাতকে মারাত্মকভাবে নাড়া দিয়েছে।

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পোখারায় অবতরণের সময় ইয়েতি এয়ারলাইনসের একটি এটিআর-৭২ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৬৮ জন যাত্রী ও ৪ ক্রুর সবাই নিহত হন। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই শৌর্য এয়ারলাইনসের একটি বোম্বার্ডিয়ার সিআরজে-২০০ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৮ জন নিহত হন।

    কোভিড-১৯ মহামারির নজিরবিহীন ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এসব দুর্যোগ দেখা দেয়। মহামারি নেপালের পর্যটনকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল।

    এ খাত যখনই একটু ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, তখনই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়।

    এখন রাসুয়ার দুর্যোগ আরেক দফা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ বিপর্যয় সরাসরি নেপালের পাহাড়ি পরিবেশের নাজুক অবস্থার সঙ্গে জড়িত।

    বিশেষজ্ঞরা নেপালের ৪২টি হিমবাহ হ্রদকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হিমালয়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বরফ গলার কারণে এগুলো যেকোনো সময় ফেটে পড়তে পারে। এসব হ্রদের বেশির ভাগই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা এভারেস্ট অঞ্চলে।

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং হিমালয়ের হ্রদগুলোর আয়তন বাড়ছে। হ্রদগুলো বড় হতে থাকায় এদের দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধগুলো ভেঙে পড়তে পারে। ফলে বিপুল পরিমাণ পানি ও পাথর-কাদা নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক। এতে ভেসে যেতে পারে লোকালয়, রাস্তাঘাট, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও পর্যটন অবকাঠামো।

    বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে নেপালের অবদান শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম। তা সত্ত্বেও নাজুক পাহাড়ি প্রতিবেশ ব্যবস্থার কারণে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

    বন্যার পর এ যেন পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে এলাকা।

    পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ দুর্যোগ একটি জোরাল প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এ তহবিল নেপালের পর্যটনকে টেকসই করতে পারে। তা না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে এবং মানুষ মরতেই থাকবে।’

    বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বারবার সতর্ক করে বলেছে, তীব্র জলবায়ু ঝুঁকি নেপালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় বাধা। কারণ, বিশেষ করে পর্যটন ও কৃষিতে এই ঝুঁকির মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ—পাহাড় ও পর্বতের ঝুঁকির ধরন পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

    সাবেক পরিবেশমন্ত্রী গণেশ শাহ বলেন, পাহাড়ি পর্যটনকে রক্ষা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করতে নেপালকে আরও নিখুঁত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    গণেশ শাহ বলেন, ‘সারা বিশ্বের নতুন প্রজন্ম রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ভালোবাসে। ভবিষ্যতে তাদের কাছে নেপাল বড় একটি আকর্ষণ হতে পারে। তাই অন্তত পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা থাকা দরকার, যা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় সাহায্য করবে।’

    পর্যটন খাতকে টেকসই করতে নেপালের আরও উন্নত ও নিখুঁত প্রযুক্তি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন গণেশ শাহ।

    রসুয়ার এ দুর্যোগ পাহাড়ি পর্যটনে নেপালের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।

    গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতগামী ৬৪৪ জন কৈলাস মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি ভারতীয়দের, ১৭৮ জন। এ ছাড়া ৫৫ জন মার্কিন, ৫৩ ইউক্রেনীয়, ৫১ মালয়েশীয়, ৩৫ অস্ট্রেলীয় ও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। দীপক রাজ যোশী, নেপালের ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

    এ পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, তিব্বত যাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা কতটা নেপালের রুটের ওপর নির্ভর করেন।

    ট্যুর অপারেটররা জানান, এ বছর কৈলাস মানস সরোবরযাত্রার চাহিদা ছিল অনেক বেশি। ৪০ হাজারের বেশি মানুষের চাহিদা থাকলেও চীন সরকার নেপাল হয়ে যাওয়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৪ হাজারে বেঁধে দেয়।

    গত মে মাসের মাঝামাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে তীর্থযাত্রা শুরু হয়। এতে হিলসা, সিমিকোট এবং নেপালগঞ্জের মতো প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টগুলো পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে।

    আকস্মিক ভূমিধস-বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন নেপালের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

    টাচ কৈলাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্রেকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বসু কুমার অধিকারী জানান, তিব্বতি পঞ্জিকা অনুযায়ী ‘ইয়ার অব দ্য হর্স’ শুরু হওয়ায় তীর্থযাত্রার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ বর্ষ শুরু হয়েছে।

    তিব্বতি জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ‘ইয়ার অব দ্য হর্স’ তীর্থযাত্রার জন্য অত্যন্ত শুভ। ভক্তদের বিশ্বাস, এ বছর কৈলাস পর্বতের চারপাশের ৫২ কিলোমিটার এলাকা একবার প্রদক্ষিণ করলে সাধারণ বছরের ১২ বা ১৩ বার প্রদক্ষিণের সমান পুণ্য মেলে।

    তিন দিনব্যাপী এ কৈলাস কোরা বা পরিক্রমায় তীর্থযাত্রীদের পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও উঁচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়।

    কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির সমঝোতায় গত বছর ভারতীয়দের জন্য এ যাত্রা আবার শুরু হয়েছে।

    ভারত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিরোধপূর্ণ লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে এ যাত্রার আয়োজন করে। তবে প্রতিটি রুটে তারা বছরে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৫০০ থেকে ১০০০-এ সীমাবদ্ধ রাখে।

    ফলে বেশির ভাগ ভারতীয় তীর্থযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নেপাল হয়ে ভ্রমণ করাকেই সুবিধাজনক মনে করেন।

    নেপালের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্য এ তীর্থযাত্রা অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ১০ দিনের রাসুয়াগড়ি-কেরুং প্যাকেজে পর্যটকপ্রতি খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার।

    ট্যুর অপারেটররা কৈলাস মানস সরোবরকে তাঁদের সবচেয়ে লাভজনক প্যাকেজ হিসেবে বিবেচনা করেন। বার্ষিক এ তীর্থযাত্রার মৌসুম হোটেল, এয়ারলাইন, রেস্তোরাঁ, গাইড ও কুলিদের ভালো উপার্জনের সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ে।

    মৌসুম চলার সময় নেপালগঞ্জের হোটেলগুলোয় বুকিং অনেক বেড়ে যায়। উদ্যোক্তারা জানান, ভারতীয় পর্যটক বেড়ে যাওয়ায় বাঁকে এবং উত্তরের সিমকোটের মতো এলাকায় আবাসন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে।

    কিন্তু বুধবারের এ দুর্যোগ এমন সম্ভাবনাকে আকস্মিকভাবে উল্টে দিতে পারে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক রাজ যোশী বলেন, ‘দুর্যোগের কারণে এই খাত ক্ষতির মুখে পড়বে। এর রেশ অন্তত ছয় থেকে সাত মাস স্থায়ী হতে পারে।’

    উদ্ধারকাজ চলাকালে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন নেপালের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

    এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নেপালের বাকি অংশ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছে—বিশ্বের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিতে আমাদের একটি বিশেষ পর্যটন পুনরুদ্ধার টিম প্রয়োজন।’

    সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেপালের পর্যটন খাত অতীতে বারবার প্রমাণ দিয়েছে।

    তিন দশক আগে রাজনৈতিক অস্থিরতাই ছিল পর্যটন খাতে সম্ভবত সবচেয়ে বড় হুমকি। যোশী বলেন, ‘তিন দশক আগের দিকে তাকালে দেখা যায়, নেপালের পর্যটন সব সময়ই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত ছিল।’

    ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চলা মাওবাদী বিদ্রোহে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং সারা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যায়। ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের বিমান ছিনতাই এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বৈশ্বিক ভ্রমণ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে নেপালে। এ ছাড়া ২০০১ সালের রাজপরিবার হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে চরম রূপ দেয়।

    ২০০৬ সালের শান্তিচুক্তির পরও ঘন ঘন ধর্মঘট ও বন্‌ধ্‌ ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাহত করে, যা পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছিল।

    এরপর শুরু হয় ভয়াবহ বিদ্যুৎ–সংকট। একটা সময় দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল।

    ২০১৫ সালের ভূমিকম্প আরেকটি বড় আঘাত হয়ে আসে। এতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ মারা যান এবং শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। পর্যটন অবকাঠামো ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কমে যায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা।

    এত কিছুর পরও পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

    যোশী বলেন, সব বিপদের মধ্যেও আশার দিক হলো, ‘নেপালের সংকট কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।’

    কোভিড মহামারি সেই সহনশীলতাকে আবারও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলে। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর পর থেকে ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়তে শুরু করে।

    তবে বুধবারের দুর্যোগটি ভিন্ন প্রকৃতির। এটি এমন এক বিপদের দিকে ইঙ্গিত করছে, যা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা বিপণন প্রচারণার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

    নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেন্দ্র লামা বলেন, মহামারি কাটিয়ে পর্যটনশিল্প যখন মাত্রই ছন্দে ফিরছিল, তখন এ দুর্যোগ বড় আঘাত হয়ে এল।

    ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে এক ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধার দলের সদস্যরা।

    ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের জিডিপিতে ভ্রমণ ও পর্যটনের অবদান ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎসও এটি, যেখানে বিকল্প আয়ের সুযোগ নেই বললেই চলে।

    এ অতিনির্ভরশীলতাই পর্যটন খাতকে বিশেষ করে দুর্যোগের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ সড়ক, সেতু, বিমানবন্দর ও হোটেল ধ্বংস করে; পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং বুকিং বাতিলের মাধ্যমে কোনো এলাকার নিরাপত্তার সুনাম নষ্ট করে। তবে রাসুয়ার দুর্যোগ এ বার্তাই দিচ্ছে, পর্যটননীতি থেকে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আর আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

    নেপালের জন্য চ্যালেঞ্জ এখন আর শুধু বেশি পর্যটক টানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একটি চ্যালেঞ্জ হলো, যে পাহাড়গুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে, সেগুলো ভ্রমণের জন্য নিরাপদ রাখা।

    এ জন্য আধুনিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, মজবুত অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোর চারপাশে হিমবাহ হ্রদসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য ঝুঁকিও নিখুঁতভাবে নিরূপণ করা প্রয়োজন।

    কাদাজলে তলিয়ে যাওয়া রাস্তায় হতাহত ও জীবিত ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীরা এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করছেন।

    নেপালের পর্যটনশিল্প অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, বিমান দুর্ঘটনা, ভূমিকম্প, মহামারি ও বিক্ষোভ মোকাবিলা করে টিকে থেকেছে।

    কিন্তু হিমালয়ের উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নেপাল এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে খোদ প্রকৃতিই পর্যটনের সামনে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সবকিছুকে বদলে দিচ্ছে, আর নেপালের পক্ষে একে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।’

  • নেপাল বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেবে

    নেপাল বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেবে

    আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। দেশটির সরকার জানিয়েছে, হিমবাহধসে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী ঢলের পর উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে তারা বিভিন্ন দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেবে।

    গত বুধবারের ভয়াবহ এ দুর্যোগের পর চারদিক থেকে সহায়তার প্রস্তাব পায় নেপাল। তবে দেশটির সরকার জানিয়ে দেয়, তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অন্য কোনো দেশের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন অর্থের।

    তবে যেসব দেশের নাগরিকের এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, সেসব দেশ নিজেদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নেপালে পাঠানোর অনুমতি দিতে দেশটির সরকারকে চাপ দিতে থাকে। শেষমেশ কূটনৈতিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলেছে নেপাল সরকার।

    ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে অভিযানে সহায়তা করার অনুমতি দিতে নেপাল সরকারকে অনুরোধ করেছিল।

    নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সহায়তার প্রস্তাব আসাটা স্বাভাবিক, তবে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এই ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।’

    সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নেপালের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অন্তত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং কিছু বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এ দুর্যোগে তাদের নাগরিকেরাও নিখোঁজ রয়েছেন।’

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিতসংখ্যক বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি।’

    নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের পর গত বুধবার ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রলয়ংকরী ঢল নেমে আসে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বতে উদ্ধার হয়েছে আরও পাঁচজনের মরদেহ। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি।

    অন্যদিকে নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য, বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ রয়েছেন ভারতীয়রা। সংখ্যাটি ১৭৮ জন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ দুর্যোগে মোট ৩১টি দেশের নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন।

    এখন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (এনডিএমসি) মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেপাল সরকার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি দল পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব দলের সদস্যরা টানেল থেকে উদ্ধারকাজ এবং ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিজ্ঞ।

    নেপালকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আরও যেসব দেশ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছিল, দেশটির সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

    কাঠমান্ডুতে অন্তত দুটি দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের কয়েক ডজন নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য তাঁরা নেপাল সরকারকে অনুসন্ধান দল পাঠানোর অনুমতি দিতে অনুরোধ করে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত নেপাল সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

    একটি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘তিন দিন পেরিয়ে গেছে। আমাদের নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি নেই। আমরা তাঁদের নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। এরপরও সহায়তার জন্য আমাদের অনুরোধ আমলে নেওয়া হচ্ছে না।’

    কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যেই নেপালের কাছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গতকাল বলেন, ভারত একটি উদ্ধারকারী দল, একটি চিকিৎসক দল এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যদের পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

    গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে কথা বলেছেন। জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি। তাঁরা সেগুলো মূল্যায়ন করছেন।’

    জয়শঙ্কর আরও জানান, ভারত থেকে ত্রাণসামগ্রীর চতুর্থ চালানটি পাঠানোর সময় ১১ সদস্যের একটি দল নেপালে গেছে। ওই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও টানেলে উদ্ধারকাজে অভিজ্ঞ উদ্ধারকর্মীরা রয়েছেন।

    দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নেপালে থাকা দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    এক্সে দেওয়া এক পোস্টে চো হিউন বলেন, ‘দুর্যোগস্থলে পাঠানো আমাদের জরুরি সাহায্যকারী দল যাতে নির্বিঘ্নে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালাতে পারে, সে জন্য নেপাল সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছি।’

    নেপালের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।

  • আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

    বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপের কাজের অনুমোদন সীমিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই সরকারি নির্দেশনা না মানলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপের অনুমতি সীমিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকার সতর্ক করে বলেছে, নিয়ম না মানলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারাতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

    ২৪ আগস্ট এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থা (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত বেশি) আইসের অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) সম্প্রতি ‘কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ বা সিপিটির অনুমোদন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরবারের নজরে এসেছে। সিপিটির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণমূলক কাজে অংশ নিতে পারেন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, সম্প্রতি দেওয়া কিছু অনুমোদন প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণটি কোনো প্রতিষ্ঠিত পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেই কেবল সিপিটির অনুমোদন দেওয়া যায়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘এসইভিপির নিয়ম না মানলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারাতে পারে।’ নতুন এই নির্দেশনার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমতির আবেদন সাময়িক স্থগিত করেছে।

    ইউসিএলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্দিষ্ট কিছু কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের অনুমোদন স্থগিত রেখেছে।

    ইউসি বার্কেলির আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, ২৪ আগস্টের আগের আগস্টের মাঝামাঝি জারি করা নির্দেশনার তুলনায় আরও সুনির্দিষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অদূরভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমোদনের আবেদনপ্রক্রিয়া করার সম্ভাবনা কম। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগেভাগেই পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    তবে ডিগ্রি অর্জনের শর্ত পূরণের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সিপিটি আবেদন আগের মতোই প্রক্রিয়াকরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বার্কেলি। পাশাপাশি ডক্টরাল ডিসার্টেশন ও মাস্টার্স থিসিস গবেষণাসংক্রান্ত সিপিটি আবেদনও প্রক্রিয়াকরণের কাজ আবার শুরু করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন ফেডারেল বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রক্রিয়া তৈরির জন্য আইনবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

    এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), যার অধীন আইসিই, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব বিধিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে এই সুবিধার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর তদন্ত ও অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে। এর মধ্যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, বৈচিত্র্যবিষয়ক উদ্যোগ, জলবায়ু কর্মসূচি ও ট্রান্সজেন্ডার নীতির মতো বিষয় রয়েছে। এসব পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, একাডেমিক স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    এদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেসের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বৈচিত্র্যবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং তাদের ভর্তি নীতি আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে; এতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয়নি।

    এ ছাড়া ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। ট্রাম্প প্রশাসন এসব বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং উগ্রপন্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিরোধিতা ইহুদিবিদ্বেষ নয় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে উগ্রপন্থীদের সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

  • সোনিয়ার আত্মজীবনীতে কী আছে,  আটকে দিতে চাই বিজেপি?

    সোনিয়ার আত্মজীবনীতে কী আছে, আটকে দিতে চাই বিজেপি?

    ভারতে মাত্র ১০ দিনেই পাল্টে গেল ছবিটা। ১৮ আগস্ট মার্কিন প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ নফ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশের কথা ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে বিপুল আগ্রহ ও উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছিল, ২৮ আগস্ট তাতে জল ঢালল পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত। সেই দিন পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস জানিয়ে দেয়, ভারতে তারা বইটি প্রকাশ করছে না।

    পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউসের অতর্কিত ও বিস্ময়কর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে হাজারটা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। নেওয়ারই কথা। কেননা, পাণ্ডুলিপির কিছু কিছু অংশ তাদের কাছে আপত্তিকর ও ‘অসত্য’ মনে হলেও তাদেরই সংস্থা আলফ্রেড এ নফের কাছে ওই অংশবিশেষ আপত্তিকর মনে হয়নি। বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকেও তারা সরে আসেনি।

    ফলে প্রশ্ন উঠছে, সোনিয়া গান্ধী কোন কোন বিষয়ের অবতারণা কীভাবে করেছেন, যা নিয়ে একেবারে শেষবেলায় পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউসের টনক নড়ল? কিংবা এত দিন কেন তারা আপত্তি জানায়নি? তাহলে কি ধরে নিতে হবে, শাসক দলের রাজনৈতিক চাপে পড়ে তারা পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? ভারতের রাজনীতি এ নিয়েই সরগরম।

    খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার থেকেই কংগ্রেস নেতারা বলতে শুরু করেছেন, শাসক বিজেপির চাপেই ভারতীয় প্রকাশকের এই সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ ও নিউজ পোর্টালে শুক্রবার রাত থেকেই কারণগুলো নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

    সংবাদমাধ্যমে লেখা হতে থাকে, সোনিয়া তাঁর আত্মজীবনীতে (বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ) নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং চীনের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, পেঙ্গুইন তাতে আপত্তি জানায়। গান্ধী পরিবারের এক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে লেখা হয়, ওই অংশবিশেষ প্রত্যাহারের আরজি জানিয়েছিল পেঙ্গুইন, কিন্তু সোনিয়া রাজি হননি।

    ওই সূত্র অনুসারে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের এক জনসভায় কীভাবে তাঁকে ‘জার্সি গরু’ বলেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা সোনিয়া আত্মজীবনীতে দিয়েছেন।

    ওই সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সোনিয়ার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘদিনের। ফলে স্মৃতিও বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্পর্কে তাঁর ধারণা, তাঁদের মধ্যে যখন দেখা হয়েছে, কথাবার্তা হয়েছে, সেই সম্পর্কে তাঁর অভিমত ও অনুধাবনের কথা নিশ্চিতই তিনি বিস্তারিতভাবে লিখেছেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি কীভাবে সেসব বিষয় সামলেছেন, তা লিখেছেন, কিন্তু প্রকাশকের তাতে সমস্যা হয়েছে।’

    প্রতিবেদনে এ কথাও লেখা হয়েছে, দেশের অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোদির তুলনা করেছেন সোনিয়া। তবে আরএসএস সম্পর্কে সোনিয়া কী লিখেছেন, হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তার উল্লেখ করা হয়নি।

    কংগ্রেস নেতাদের নাম না করে তাঁদের বরাতে এনডিটিভি লিখেছে, পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। প্রথমত, পূর্ব লাদাখের গালওয়ান এলাকায় চীন–ভারত সংঘাত। এ নিয়ে সংসদে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন। সংসদের বাইরেও এ নিয়ে সরব হয়েছেন।

    দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সোনিয়া প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বদানের স্টাইল নিয়ে এবং তৃতীয়ত, ভারতীয় সামাজিক ইতিহাসে আরএসএসের ভূমিকা, সরকারের কাজকর্মের ওপর আরএসএসের প্রভাব কতটা ও কীভাবে বেড়ে চলেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    শুক্রবার দুপুরে পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, তারা এই আত্মকথন প্রকাশ করছে না। তারা স্বীকার করে নেয়, কিছু কিছু তথ্য যাচাইয়ের পর তারা তা পরিমার্জনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব।

    ওই বিবৃতির পরই কংগ্রেস নেতারা সমালোচনায় নামেন। তাঁরা বিষয়টিকে ‘বাক্‌স্বাধীনতা হত্যার’ শামিল বলে বর্ণনা করেন। এমন মন্তব্যও করেন, পেঙ্গুইন ‘বিক্রি হয়ে গেছে’।

    লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ বলেন, ওরা আরএসএসের ওপর লেখা একগাদা বই প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথন প্রকাশ থেকে সরে আসছে। বিজেপির অনেকে ভয় পাচ্ছেন বলেই তাঁরা ভারতে এই বই প্রকাশ ঠেকাতে চাইছেন।

    রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত এক্স হ্যান্ডলে বলেন, পেঙ্গুইনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল মোদি আমলে চীনা ফৌজের ভারতীয় ভূখণ্ড দখল, মোদির নেতৃত্ব ও আরএসএসের সর্বস্তরীয় প্রভাব–সম্পর্কিত অংশ বাদ দেওয়ার জন্য। মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ লেখেন, সোনিয়া গান্ধীর মতো এক বর্ষীয়ান নেত্রী কী লিখবেন, কী লিখবেন না—তা কি প্রকাশক ঠিক করে দেবে? তাঁর সন্দেহ, এর পেছনে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। যুব কংগ্রেসের অভিযোগ, পেঙ্গুইন বিক্রি হয়ে গেছে।

    আগামী ১৯ নভেম্বর সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশ হওয়ার কথা। প্রাথমিক হিসেবে এক লাখ কপি ছাপার কথা ছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতে এই বইয়ের সুলভ সংস্করণ কে প্রকাশ করবে, কেউ আদৌ সাহস পাবে কি না, সেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

    সরকার বা বিজেপি এখনো এই বিতর্ক নিয়ে নীরব। ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’–এর ভাগ্য ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুল নরবনের আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার্স অব ডেস্টিনি’র মতো হবে কি না (বইটি ভারতে প্রকাশিত হয়নি), কিংবা বইটি ভারতে নিষিদ্ধ করা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব, বাড়ছে মিত্রদের অনাস্থা

    মধ্যপ্রাচ্যে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব, বাড়ছে মিত্রদের অনাস্থা

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে । এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাব, উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থা এবং দ্রুত যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আইর ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের পরিণতি বিশ্লেষণ করেছেন।

    আইরের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সফট পাওয়ার’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই সামরিক অভিযান চালানোর পথ বেছে নেওয়ায় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো এখন নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আরো ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।

    তার ভাষায়, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এখন কার্যত ‘আমেরিকা অ্যালোন’-এ পরিণত হয়েছে।

    আইর বলেন, ওয়াশিংটন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তার সামরিক ‘হাতিয়ার’ ব্যবহার করেছে, কিন্তু এর মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায়নি। ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ইরান এখন আর বিশ্বাস করে না যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মেনে নিলে মার্কিন চাপ কমে আসবে। তেহরানের ধারণা, পারমাণবিক কর্মসূচি বা অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দেওয়াই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য নয়; বরং প্রকৃত লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’।

    ফলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের হাতে আগের তুলনায় অনেক কম কূটনৈতিক সুযোগ বা চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করছেন আইর।

  • ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না: গালিবাফ

    ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না: গালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যে অঞ্চলে তেহরান তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেখানে অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।

    গালিবাফ বলেন, ‘এই যুদ্ধের সমীকরণ স্পষ্ট: হয় সব, নয়তো কেউই নয়। আমরা যে অঞ্চলে তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউই তেল বিক্রি করতে পারবে না।’

    গালিবাফ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল শর্ত হলো সেখানে ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাদের’ উপস্থিতি না থাকা।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’

    গালিবাফ আরো বলেন, ‘আমরা বহুবার বলেছি, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালিতে যে পরিস্থিতি ছিল, তা আর ফিরে আসবে না।’

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

  • ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।

    বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।

    তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

    জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

    পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি যুগান্তরকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

  • আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ।

    আজ শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?

    তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ফুলবাড়ী, আনন্দবাস, নাজিরাকোনা ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দ মালামালের দুই কেজি ভারতীয় গাজা, ৭০ বোতল ভারতীয় মদ, ছয় হাজার পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, পাঁচ হাজার ১০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৬৯৬ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট এবং ৫৬ পিস ভারতীয় কসমেটিকস। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৯ লাখ দুই হাজার ৭৬০ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। ’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের তেল রাজস্ব ও বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

    যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরানের তেল রাজস্ব ও বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

    যুদ্ধ ও নৌ অবরোধ সত্ত্বেও তেল রাজস্ব-বাজেট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে ইরান। বার্তা সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, বাজেট অর্থায়নের জন্য ইরানের কাছে বিক্রির উপযোগী পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে।

    পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাজেটে নির্ধারিত তেল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চার মাসে তেল বিক্রি থেকে অর্জিত ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তান্তর করেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়। এই অর্থ দিয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রাভিত্তিক ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নেপালের নতুন নিয়ম

    বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নেপালের নতুন নিয়ম

    সাম্প্রতিক বন্যা নিয়ে প্রতিবেদন করতে যাওয়া দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে নেপাল সরকার। বিদেশি সাংবাদিকদের পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসার কপি, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্রসহ বেশ কিছু নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

    নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রশাসন ও প্রেস শাখার পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশনায় এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির তথ্য বিভাগের মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পাণ্ডে বলেছেন, এটি কোনো নতুন নীতি বা ব্যবস্থা নয়; বিদেশি সাংবাদিকদের প্রেস পাস প্রদান করা এই বিভাগের দীর্ঘদিনের নিয়মিত প্রক্রিয়া।

    বুধবার ভোরে ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনেক বিদেশি সাংবাদিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছেছেন।

    নির্দেশনায় বিদেশি সাংবাদিকদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা নেপালে অবস্থিত ওই দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলার কার্যালয়ের সুপারিশপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

    নেপাল সরকারের এক কর্মকর্তা দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘এটি কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়। বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহের কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

    বিদেশি সাংবাদিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পরিচয়পত্র এবং বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে হবে।

    নথিপত্র জমা দেওয়ার পর অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত ফরম্যাটে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে আবেদনকারীকে সশরীরে বিভাগীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রেস রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্টিফিকেট ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

    পাণ্ডে বলেন, ‘বিদেশি সাংবাদিকদের যাতে অপেক্ষা করতে না হয় বা কোনো ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে জন্য সরকারি ছুটির দিনেও কার্যালয় খোলা থাকবে এবং সেবা দেওয়া হবে।’

    নেপালে ইতোমধ্যে অবস্থান করছেন কিন্তু এখনো প্রেস পাস নেননি—এমন বিদেশি সাংবাদিকদেরও প্রতিবেদন তৈরির আগে প্রেস পাস সংগ্রহ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘কেউ প্রেস পাস ছাড়া প্রতিবেদন করলে তা আইনসংগত হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে না।’

    নোটিস অনুযায়ী, প্রেস রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্টিফিকেট বা সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য নেপালি সাংবাদিকদেরও অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

    নেপালি সাংবাদিকদের নাগরিকত্ব সনদের কপি, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নিয়োগপত্র এবং প্রেস রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্টিফিকেটের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে।

    নোটিসে বলা হয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নবায়ন বা হালনাগাদের প্রমাণপত্র, অঙ্গীকারনামা এবং বেতন ও নিয়মিত ভাতা পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে সত্যায়িত ব্যাংক হিসাবের তথ্যও দাখিল করতে হবে।

    এদিকে, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের কার্যক্রমের তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারির আওতায় রাখতেই এই নোটিস জারি করা হয়েছে।

  • শত্রুপক্ষ ব্যর্থ, ইরানই বিজয়ী: আমির হাতামি

    শত্রুপক্ষ ব্যর্থ, ইরানই বিজয়ী: আমির হাতামি

    ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি দাবি করেছেন, যুদ্ধে ‘শত্রুপক্ষ’ তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ইরান বিজয়ী হয়েছে।

    ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘শত্রু’ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। তবে ইরানের মজুত থাকা ক্ষেপণাস্ত্র শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘সর্বোচ্চ তীব্রতায়’ শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

    আমির হাতামি বলেন, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে আক্রমণকারী পক্ষ তখনই বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে শত্রুপক্ষ তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সেটিই প্রতিরোধকারী পক্ষের বিজয় হিসেবে গণ্য হয়।

    তিনি আরও বলেন, এই বিবেচনায় ‘শত্রু’ তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায় ইরান বিজয়ী হয়েছে।

  • ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    ডিসেম্বর ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।

    বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।

    তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

    জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

    পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

  • র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট বরাদ্দ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি দেশীয় মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং বিবেচনা করে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় র‍্যাংকিং বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট বরাদ্দ করা হবে। আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি দেশীয় মানদণ্ডের র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তৈরি করতে। এতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেই সুযোগ তৈরি হবে।

    দেশীয় র‍্যাঙ্কিং চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই আপনারা এর ফল দেখতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা ও মান বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

    এ সময় দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দ্বিতীয় ভাষা আমাদের অগ্রাধিকারের অংশ। আমরা ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে, যাতে এখানে শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার আরও ভালো ব্যবস্থা করা যায়।

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ওষুধ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চারজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

    তিনি জানান, ২৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপির সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার-৬৮/৪-এস হতে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া মাঠের একটি আমবাগানে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিবিহীন ৮৩০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৪ হাজার ৩৬০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খোসালপুর বিওপির হাবিলদার মো: আব্বাস হোসেনের নেতৃত্বে অপর এক বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৬০/৮০-আর হতে ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ পুরুষ, ১ নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৫৮-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    রাজধানীর আমিনবাজারে চীনা বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ২৫ টাকায়। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কিনছে।

    দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নতুন নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেওয়া এ ধরনের প্রকল্পের কোনোটিই উৎপাদনে যেতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাধারণত ১২-১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ২২-২৪ টাকার মতো। আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রকল্পভেদে ভিন্ন হলেও ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রকল্পে তা ইউনিটপ্রতি ৬-৮ রুপির মধ্যে; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮-১১ টাকা। চীনে প্রতি ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুৎ সরকার কেনে (বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ) শূন্য দশমিক ৬৫ ইউয়ানে, যা ১১-১২ টাকা।

    এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ট্যারিফ দিয়ে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা বাদ পড়ে যায়। এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূল বিষয়। বিদ্যুৎ বাইপ্রডাক্ট। তাই দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলে তা সহনীয়।

    আমিনবাজারে বড় বিনিয়োগ
    আমিনবাজার প্রকল্পে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগ করবে। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রেখে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রকল্পের আগের হিসাব অনুযায়ী ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ না থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে দীর্ঘ মেয়াদে।
    কেন্দ্রটি নির্মাণে আওয়ামী লীগ সরকার দরপত্র আহ্বান করে। তাতে ১৭টি কোম্পানি অংশ নেয়, কাজ পায় চীনা কোম্পানি সিএমইসি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি হয়েছিল। বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল ২০২৫ সালে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ২১ সেন্ট, যা তখনকার মুদ্রার দামে ২১.২৯৫ টাকা পড়ে। এখন তা ২৫ টাকা ।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সিএমইসি বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টকে একটি কোম্পানি নিবন্ধনও করেছে, এর নাম ডব্লিউটিই পাওয়ার প্লান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেড।

    এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

    সংগঠনগুলোর মতে, কেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় চললে ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ২৬ টাকা ৭৯ পয়সা। সক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমে এলে তা ৪৭ টাকা এবং ২০ শতাংশে নামলে ৭৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কম সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৫৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার বা ৭০০ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জের ঝুঁকিও রয়েছে।
    এ ছাড়া ডিএনসিসিকে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ঘাটতি হলে প্রতি টন বর্জ্যের জন্য ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এতে বর্জ্য কমানোর বদলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদনের চাপ তৈরি হতে পারে।

    পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে ডাইঅক্সিন, ফিউরান, ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম কণার মতো দূষিত পদার্থ তৈরি হতে পারে। তাদের হিসাবে, আমিনবাজার প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে। তাদের প্রস্তাব, মিশ্র বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতের পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় ও অর্থায়ন চুক্তি হওয়ার কথা। তিনি স্বীকার করেন, ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দাম বেশি; তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেবে এবং সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না।

    মাতুয়াইলে উৎপাদন হতে পারে ৪০-৫০ মেগাওয়াট
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ চলছে। চীনের পাওয়ার চায়না এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এখানে ৪০-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ গ্রুপ মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পে কাজ করছে।

    চুক্তি করেও আটকে নারায়ণগঞ্জ
    নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে ৬ মেগাওয়াটের বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পে পিডিবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও চীনের ইউঅ্যান্ডডি এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির মধ্যে চুক্তি হয় ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর।

    প্রতিদিন ৬০০ টন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। সরকার ইউনিটপ্রতি প্রায় ২০ টাকা ৯১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে। ৪৫৫ দিনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। জালকুড়ির নির্ধারিত স্থান এখনও মূলত ময়লার ভাগাড় হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থায়ন ও বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ধীরগতিকে প্রকল্প আটকে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতি ইউনিটে খরচ ২১ টাকা
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরেও ১১ মেগাওয়াটের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পের দরপ্রস্তাব ও ট্যারিফ অনুমোদন করে।
    ২৫ বছর মেয়াদে ইউনিটপ্রতি ২১ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জুন।

    চট্টগ্রামে একাধিক প্রস্তাব, বাস্তবায়ন নেই
    চট্টগ্রামে গত এক দশকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিদিন ১ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১২-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

    জমির সংকট, অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাবকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    খুলনায় ছোট প্রকল্প
    খুলনার শলুয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে প্রতিদিন ৩৭৫ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৫ টন জৈব সার, ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এবং প্রায় ৫ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি, অগ্রগতিও ধীর।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় কতটা বেশি
    বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের কয়েকটি সাম্প্রতিক প্রকল্পে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৯৫ রুপি ট্যারিফ দেখা যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৮-১১ টাকা। চীনের বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ ০.৬৫ ইউয়ান বা প্রায় ১১-১২ টাকা। শ্রীলঙ্কায় নতুন কাঠামোয় পৌর বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ হার প্রায় ৪১ দশমিক ৭২ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ টাকা।

  • আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ থেকে ২৬ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট-এই দুই দিনে প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

      এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৪৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

      ফলে চলতি অর্থবছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    • জার্মানিতে বিমানে আসে মশা:ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ২

      জার্মানিতে বিমানে আসে মশা:ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ২

      জার্মানির প্রধান বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্টে বিমানে চেপে আসা ক্ষতিকর মশার কামড়ে দুই কর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই বিরল ঘটনায় মোট ছয়জন কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

      কর্মকর্তাদের ধারণা, আন্তর্জাতিক কোনো ফ্লাইটে করে এই সংক্রামক মশাগুলো জার্মানিতে ঢুকে পড়েছিল। আক্রান্ত ছয়জন কর্মী বিমানবন্দরের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে কাজ করতেন। তারা সম্প্রতি দেশের বাইরে কোথাও যাননি। বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকায় প্রথমে রোগটি চিনতে দেরি হয়, যার ফলে আক্রান্ত দুই কর্মীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় তারা মারা যান।

      ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে মশা ধরার জন্য বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে। গবেষকরা মশাগুলো নিয়ে পরীক্ষা করছেন, যাতে বোঝা যায় এগুলো কোন দেশ থেকে এসেছে। এর পাশাপাশি কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

      জার্মানির জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ম্যালেরিয়া মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, এটি কেবল মশার কামড়েই ছড়ায়। তাই সাধারণ শহরবাসীর জন্য ঝুঁকি একদমই কম।

    • বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমলো

      বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমলো

      বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোনার দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

      বর্তমান ডলার বিনিময় হার ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম দাঁড়ায় প্রতি আউন্সে প্রায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।ই হিসাবে প্রতি গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৮ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টাকা। এখানে এক ডলার সমান ১২২.৯৯৬ টাকা ধরা হয়েছে।

      তবে এটি আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের হিসাব। বাংলাদেশের বাজারে সোনার চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সময় কর, শুল্ক, মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাজারদর কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

      এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

      স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, কেভিন ওয়ারশের কঠোর বা ‘হকিশ’ নীতি নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এমনটি হলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আরও কমতে পারে।

      তবে তিনি মনে করেন, এই দরপতনকে অনেক বিনিয়োগকারী ইতিবাচকভাবে দেখবেন।

      কারণ সোনার দামের প্রথম দফার ঊর্ধ্বগতিতে যারা বিনিয়োগের সুযোগ পাননি, তারা আবার বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজতে পারেন।

      বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

      এর এক দিন আগে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ফেডের মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স (PCE) মূল্যসূচক জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে ৩.৭ শতাংশ বেড়েছে।

      ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ শুক্রবারই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

      সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৩.৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

      মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনা সাধারণত একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বেশি থাকলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায় না।

      তবে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও ফিউচারস বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় সোনার দাম এখনো কিছুটা সমর্থন পাচ্ছে।

      ওসিবিসির মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং অবশ্য মনে করেন, সোনার বাজারে কিছুটা দরপতন বা স্থিতিশীলতা আসার ঝুঁকি এখনো রয়েছে।

    • নদীর কাছে কেন বারবার হার মানছে নেপালের রাস্তা-সেতু?

      নদীর কাছে কেন বারবার হার মানছে নেপালের রাস্তা-সেতু?

      নেপালের ভোটকোশি ও ত্রিশূলী নদীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা দেখিয়ে দিল যে প্রকৃতির শক্তির সামনে দেশটির রাস্তাঘাট ও সেতু কতটা নাজুক। চীনের তিব্বতে বরফ গলে পাহাড়ি ধস নামার কারণে এই হঠাৎ বন্যা তৈরি হয়।

      পানির প্রচণ্ড তোড়ে সীমান্ত এলাকার থানা, শুল্ক কার্যালয়, বেশ কিছু বাজার, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৬৪টি সেতু মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান এই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো দেশের অর্থনীতি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

      বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর পাড়ে বারবার এমন ক্ষতি হওয়ার পেছনে নেপালের নিজেদের ভুল পরিকল্পনাই মূলত দায়ী। এখানে রাস্তা বা সেতু তৈরি করা হয় বহু পুরোনো বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে, যা এখন আর কোনো কাজে আসছে না।

      এছাড়া নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালি-পাথর তোলা এবং কাটা মাটি নদীতে ফেলার কারণে নদীর তলা ভরাট হয়ে পানি খুব সহজেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। অন্যদিকে এক নদীর ওপরই অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করায় ওপরের একটি বাঁধ ভাঙলেই তা তাসের ঘরের মতো নিচের সবকটি বাঁধকে গুড়িয়ে দিচ্ছে।

      এই বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই সেনাবাহিনীর সাহায্যে অস্থায়ী সেতু বানিয়ে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাঁচতে হলে পুরো নদী অববাহিকা ধরে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। নদীর একদম কাছাকাছি নতুন কোনো ভবন বা রাস্তা নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ রাখা জরুরি। যেহেতু নেপালের বেশিরভাগ নদীর উৎপত্তি তিব্বতে, তাই চীন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে নজরদারি চালিয়ে দুর্যোগের আগাম খবর পাওয়ার প্রযুক্তি চালু করতে হবে।

      একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের বেপরোয়া বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ করা এবং নদীর পাড়ের মানুষদের বিপদের কথা জানাতে আগাম সতর্কবার্তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কখনো কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। ত্রিশূলী নদীর এই মহাবিপর্যয় প্রমাণ করল যে শুধু অবকাঠামো বানিয়ে গেলেই হবে না, তা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে কতটা টিকে থাকবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।

    • বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

      বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

      হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আশা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আজ শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

      শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৯.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ২২ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৩.৩১ ডলারে নেমে আসে।

        সপ্তাহজুড়ে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫.৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪.৩ শতাংশ কমেছে।

        আগের দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শুক্রবার আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল।

        এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্ত দিয়েছে দেশটি।

        ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

        রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

      • অর্থ সংকটে ভুগছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

        অর্থ সংকটে ভুগছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

        বাজেট সংকটে ভুগছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এর ফলে তাদের বিভিন্ন রকম কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। সরাসরি চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির এ কথা বলেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। বহুমুখী যুদ্ধের মূল্যায়ন বিষয়ে এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

        তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেসের বাজেটের দিক দিয়ে আমরা বর্তমানে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। যখন আইডিএফ এবং এর সদস্যরা সব ফ্রন্টে অপারেশন চালাচ্ছেন তখন আমরা তহবিলের এই ঘাটতি মোকাবিলা করছি। এতে আইডিএফের প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

        সামরিক বাড়তি তহবিলের বিষয়ে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ও আর্থিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিরোধের মধ্যে এমন তথ্য সামনে এলো। এ মাসে ইসরাইলি মিডিয়াই রিপোর্ট করে যে, সেনাবাহিনী প্রায় ৪০০০ কোটি শেকেল (১২৩০ কোটি ডলার) বাজেট সংকটে ভুগছে। এ নিয়ে বিরোধে সেনাবাহিনীর ক্রয় কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

      • ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, কোন দেশের কতজন?

        ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, কোন দেশের কতজন?

        নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আঘাত হানা প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪৭২ জন নিহত এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে এবং সেখানে ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া হেলিকপ্টারযোগে ৩ হাজার ২৫৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত দেড় শতাধিক মানুষকে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

        অন্যদিকে চীনের তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। নিখোঁজদের মধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ভারতের ২৮৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, ইউক্রেনের ৫৫ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৯ জন এবং বৃটেনের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

        এছাড়াও হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের ৯ জন, জার্মানির ৮ জন এবং রাশিয়ার ৮ জন (যার মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে) রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ জন, লাটভিয়ার ৬ জন, জাপানের ৫ জন এবং নিউজিল্যান্ডের ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফ্রান্সের ৪ জন এবং স্পেনের ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্প্যানিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদিও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ৩ জনের কথা উল্লেখ করেছে।

        বেলজিয়ামের ৩ জন, হাঙ্গেরির ৩ জন (হাঙ্গেরিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুযায়ী, তবে নেপাল বোর্ড ১ জনের কথা জানিয়েছে) এবং পর্তুগালের ৩ জন (যার মধ্যে ১ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে) নিখোঁজ রয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের ২ জন, আয়ারল্যান্ডের ২ জন এবং কাজাকিস্তানের ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ইতালির ৩ জন নিখোঁজ থাকলেও বোর্ডার সূত্রে ২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বেলারুশ, ফিনল্যান্ড, ইসরাইল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইন, সার্বিয়া এবং সুইডেনের প্রত্যেকে ১ জন করে নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার ১ জন করে নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

        এদিকে চীন ও নেপাল সীমান্তে উদ্ধার করা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে চীন সরকারের পক্ষ থেকেও তথ্য জানানো হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাদের সীমান্ত থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, তবে তাদের সুনির্দিষ্ট জাতীয়তার কোনো আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে যে, এখনও জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি এমন আটজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

        https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&client=ca-pub-8095166378724145&output=html&h=180&slotname=5453251890&adk=2551544772&adf=2027960027&pi=t.ma~as.5453251890&abgtt=6&w=775&lmt=1787919553&format=775×180&url=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2Farticle%2F36938&aiof=11&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&dt=1787919552574&bpp=1&bdt=156&idt=364&shv=r20260825&mjsv=m202608250101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D5b754fa7fc598fec%3AT%3D1780576540%3ART%3D1787919393%3AS%3DALNI_MaALCvou7Lq1Z7F0tsOK5gMmjiwqg&gpic=UID%3D000013b36114b830%3AT%3D1780576540%3ART%3D1787919393%3AS%3DALNI_MbGyej3LmOlyLNu03Hg_43yzQxFbQ&eo_id_str=ID%3D4c0815f236563909%3AT%3D1780576540%3ART%3D1787919393%3AS%3DAA-AfjbSX0VbNQVulPBBoJNxhIcA&prev_fmts=0x0%2C320x100&nras=1&correlator=78059561535&frm=20&pv=1&u_tz=-420&u_his=6&u_h=1080&u_w=1920&u_ah=1032&u_aw=1920&u_cd=24&u_sd=1&adx=480&ady=2128&biw=1920&bih=919&scr_x=0&scr_y=0&eid=95400775%2C122880598%2C122880710&oid=2&pvsid=8633726347384789&tmod=687582951&uas=0&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2Fcategory%2F%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25B6%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%259C%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25A8&fc=1920&brdim=-8%2C-8%2C-8%2C-8%2C1920%2C0%2C1936%2C1048%2C1920%2C919&vis=1&rsz=%7C%7CeEbr%7C&abl=CS&pfx=0&fu=0&bc=31&bz=1.01&ifi=3&uci=a!3&btvi=2&fsb=1&dtd=540
      • ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন তিন সাংবাদিক

        ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন তিন সাংবাদিক

        মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ এর বরখাস্তকৃত তিন সাংবাদিক মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

        সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করা এবং বাকস্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটন ডিসির একটি জেলা আদালতে এই মামলা করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

        মামলা দায়েরকারী তিন সাংবাদিক হলেন সংবাদপত্রটির প্রকাশক ম্যাক্স লেডারার, প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিবেদক লারা কোর্তে। গত সপ্তাহে পেন্টাগন থেকে তাদের বরখাস্তের নোটিশ পাঠানো হয়। যেখানে তাদের বিরুদ্ধে ‘অবাধ্যতার’ অভিযোগ আনা হয়েছিল। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার প্রতিবাদেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

        মূলত গত জুলাই মাসে সিবিএস সানডে মর্নিং-এ দেয়া একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই সংবাদমাধ্যমের বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকরা সেন্সরশিপের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

        বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ রসদ সংকট ও নাবিকদের মানসিক সংগ্রামের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সাহসিকতার সাথে প্রকাশ করায় ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এই বরখাস্তের ঘটনা তারই প্রতিশোধ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

        মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় থেকে প্রকাশিত ঐতিহাসিক এই সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভয় ছাড়া কাজ চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান বরখাস্তকৃত সাংবাদিকরা।

      • আবার নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন হ্রদের পানি উপচে পড়ছে:আতঙ্কে পাহাড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ

        আবার নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন হ্রদের পানি উপচে পড়ছে:আতঙ্কে পাহাড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ

        নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট একটি হ্রদে আজ শুক্রবার পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিন আগের আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় তছনছ হয়ে যাওয়া এলাকাগুলো আবার বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে। এ কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়।

        গত বুধবার হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট এই প্রলয়ংকারী বন্যায় নেপালে ৪৮৯ জন এবং চীনের তিব্বতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে এখনো এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

        হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার পর বিশাল শিলাখণ্ড, বরফ, কাদা এবং ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত হিমালয়ের পার্বত্য নদীব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নিচে নেমে এসেছিল। এ সময় একটি হ্রদেরও সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে এবং পানির স্তর বাড়তে থাকে।

        নেপাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার হ্রদের পানি উপচে ভোটেকোশি নদীতে পড়ার আগে এর জলাধারে পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটার অতিক্রম করেছিল, যা আগের দিন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটারের চেয়ে বেশ খানিটা বেড়ে গেছে।

        নেপালের বন্যাদুর্গত রসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একটি নোটিশ পেয়েছি, হ্রদের তীর ভেঙে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু এটি ঠিক কত বড় এবং পানির স্তর কতটা উঁচু, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নদীতে পানির স্তর বাড়ছে।’

        কোট জেলায় হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে বের হয়ে যাচ্ছে বলে সতর্কবার্তা পেয়ে উঁচুতে উঠে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছেন কয়েকজন মানুষ।

        রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাইকে সবাইকে নদী থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। আর রশি ও স্ট্র্যাচার নিয়ে প্রস্তুত অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন পুলিশের সদস্যরা।

        ৪০ বছর বয়সী শান্তি তামাং রয়টার্সকে বলেন, ‘সবাইকে “পালাও” বলে সতর্ক করা শুরু হলে তাই আমিও দৌড় দিলাম। বিদুর শহরের সাইরেনও বেজে উঠেছিল। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’ উদ্ধারকর্মীদেরও তাঁদের সরঞ্জামসহ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল।

        নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের নির্দেশ চীনা প্রেসিডেন্টের

        চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শুক্রবার জানিয়েছে, হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলে চীনের সব উদ্ধারকারী কর্মী ও যানবাহনকে পিছু হটে নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নিতে বলা হয়। অবশ্য পরে ‘উজানের নদীর মাধ্যমে হ্রদের ঝুঁকিটি সামলানো সম্ভব বলে মনে হওয়ায়’ উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা হয়।

        নেপালের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, নেপাল কর্তৃপক্ষ ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত রেখেছিল। পরে তা আবার শুরু করা হয়। বুধবারের বন্যা গ্রাম ও উপত্যকাগুলোকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাট এবং সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্ত করেছে সড়ক এবং তীর্থযাত্রীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী। তাঁরা তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

        উদ্ধারকাজ পরিচালনার কৌশল নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুক্রবার চীনের পলিটব্যুরো বৈঠক করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

        রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং চীন ও বিদেশের নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।’

        আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটি ধসের দুই দিন পর হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি বের হচ্ছে, এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর উঁচুতে উঠে পাহাড়ে বসে আছেন আতঙ্কিত মানুষ

        বৈঠকে বলা হয়, উদ্ধারকাজ ‘অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জের’ মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে হিমবাহ হ্রদ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক বাঁধের নজরদারি জোরদার করা, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগ সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

        এর আগে নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বেঁচে যাওয়া মানুষদের খোঁজে অনুসন্ধান চালায়। বিভিন্ন শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য আকাশপথে জরুরি ত্রাণ সরবরাহ করে। অন্যদিকে জরুরি পরিষেবা দলগুলো সমতল ভূমিতে ভেসে আসা বহু মরদেহ উদ্ধার করেছে। অনুসন্ধানী দলে কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

        দিবগা তামাং ছিলেন রসুয়া থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া শেষ ব্যক্তিদের একজন, যাঁকে আরও তিনজনের সঙ্গে এয়ারলিফটে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।

        তামাং বলেন, ‘আমাদের সব মানুষ চলে গেছে। সবাই মারা গেছে। আমার জন্য অপেক্ষা করার মতো আর কেউ বেঁচে নেই। সবকিছু ও সবাই শেষ হয়ে গেছে। সব শেষ।’

        বিদেশি উদ্ধার সহায়তা প্রত্যাখান নেপালের

        চারদিক থেকে সাহায্যের প্রস্তাব এলেও নেপাল জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অন্য কোনো দেশের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

        পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী শুক্রবার বলেন, ‘সাহায্যের প্রস্তাব আসাটাই স্বাভাবিক, তবে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এই ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’

        সিউলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি র‍্যাপিড রেসপন্স টিম ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। কিন্তু নেপাল সরকার এখনো বিদেশি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা না করায়, তাদের মোতায়েন করা হয়নি।

        কোট জেলায় কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক নারীকে পার হতে সাহায্য করছেন এক উদ্ধারকর্মী।

        ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানিয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে অভিযানে সহায়তা করার অনুমতি দিতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল।

        চীন সীমান্তের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা-গিরোং সীমান্ত ক্রসিংয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চীনা উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কারণ, কর্মীরা ওই এলাকার প্রধান সংযোগ সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছিলেন।

        বুধবারের এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কাদামাটি পানির বিশাল স্রোত এবং ধ্বংসাবশেষ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সীমান্ত ক্রসিং এলাকার একের পর এক অবকাঠামো চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পলায়নরত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

        চীনে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি গতকাল জানিয়েছে, তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৫৫৮, যাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এ পর্যন্ত চীনের অংশে মাত্র পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

        চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং গতকাল বিকেলে গিরোংয়ের দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছান। চীন এই দুর্যোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তাঁর এই পরিদর্শন সেটাই প্রমাণ করছে।

        কোট জেলায় উদ্ধার করা মানুষদের নিয়ে একটি হেলিকপ্টার মৈথালী ব্যারাকে অবতরণ করছে।

        ভবনগুলো ‘টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে

        বিশ্বজুড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনদের অবস্থান জানতে চরম ব্যাকুল হয়ে আছেন।

        স্নেহা সুধীর ছিলেন সেই ১০ নারীর একজন, যাঁদের স্বামীরা নেপাল থেকে তিব্বতের কৈলাস পর্বতের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। ঠিক তখনই অঞ্চলটি এই দুর্যোগের কবলে পড়ে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা।

        ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলিতে নিজের বাড়ি থেকে অশ্রুসজল চোখে স্নেহা সুধীর গতকাল বলেন, ‘তারা কোথায়?’

        সুধীর জানান, নারীরা একে অপরকে মানসিকভাবে সমর্থন দিচ্ছেন। তাঁদের খবরের আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

        প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

        ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কখনো এমন দৃশ্য দেখেনি, যেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী, মজবুত এবং ভালোভাবে তৈরি ভবনগুলো টুথপিকের (দাঁত খোঁচানোর কাঠি) মতো মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। আমরা সাহায্য পাঠাচ্ছি এবং আমরা সেখানকার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, তারা যা চাইবে, তাই পাবে।’

      • ইরান যুদ্ধ ওয়াশিংটনের প্রত্যাশায় ছাই:অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্য

        ইরান যুদ্ধ ওয়াশিংটনের প্রত্যাশায় ছাই:অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্য

        বিশ্লেষকদের মধ্যে এ বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে তেহরানে সরকার পতন হবে না। আবার এ যুদ্ধে ওয়াশিংটনেরও কোনো সুস্পষ্ট বিজয় আসবে না; বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে। অচলাবস্থা চলতে থাকবে। এটি ধীরে ধীরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির এক যুদ্ধে পরিণত হবে।

        গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন নেতৃত্বের প্রত্যাশা ছিল, ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক–সামরিক চাপ তেহরানে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটাবে।

        কিন্তু ছয় মাস পর এখন স্পষ্ট যে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য, তার প্রভাব সামাল দেওয়ার জন্য অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

        গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় খুবই কমে গেছে। জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা লেগেছে। তেলনির্ভর দেশগুলো এখনো সেই সরবরাহ-সংকটের প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

        যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই অঞ্চলে এখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

        গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের পর যুদ্ধের তীব্রতা কমেছে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো নেই। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

        যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার উত্তেজনা।

        ভারত ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রভাবও পুরোপুরি থেমে যায়নি। তবে তাদের প্রভাব বিস্তারের গতি এখন কিছুটা স্থবির হয়ে আছে। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ উত্তর আফ্রিকায় নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে নিয়েছে।

        সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাইরের শক্তিগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট থাকলেই আর নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না।

        সম্প্রতি মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অনেক সামরিক চুক্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

        যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিন্তনপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল আল–জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধ শুধু আগে থেকে চলমান প্রবণতাগুলোর গতি বাড়িয়েছে; নতুন কোনো প্রবণতার সূচনা করেনি।

        সানাম ভাকিল আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই নিজেদের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বাইরে গিয়ে অনেক দেশ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথাও ভাবছিল; পাশাপাশি তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছিল।

        অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক চিন্তনপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এইচ এ হেলিয়ার বলেন, চলতি বছর ইরানকে পর্যুদস্ত করতে ব্যর্থ হলেও ইসরায়েল এখনো এ অঞ্চলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

        এইচ এ হেলিয়ার আল–জাজিরাকে বলেন, আগামী ছয় মাসে তেহরানে সরকার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাত্ত্বিকভাবে সবকিছু যদি একই রকম থাকে এবং শুধু অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে, তাহলে একসময় এর প্রভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। তবে সেটি কয়েক মাসের ব্যাপার নয়, কয়েক বছরের বিষয়। আর সবকিছু একই রকম থাকবে বলেও মনে হচ্ছে না।

      • তীব্র গরমে দেশের সোয়া দুই কোটি শিশু ঝুঁকিতে

        তীব্র গরমে দেশের সোয়া দুই কোটি শিশু ঝুঁকিতে

        জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ শিশু প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত বিপজ্জনক তাপজনিত চাপের মুখে পড়ছে।

        এ সংখ্যা দেশের এই বয়সী মোট শিশুর প্রায় ৭৯ শতাংশ।

        ব্রাসেলসের ভ্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

        গবেষণাটি গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত হয়েছে।


        গবেষণায় দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বছরে অন্তত পাঁচ মাস বা ১৫০ দিন মোট বিপজ্জনক তাপজনিত চাপের মুখে পড়া শিশুর সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে এ সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখে, যা এই বয়সী মোট শিশুর ৯১ শতাংশ।

        বাংলাদেশের পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বড় সংকটের অংশ।

        গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় ১৬ কোটি ৭৪ লাখ শিশু, অর্থাৎ এই বয়সী মোট শিশুর প্রায় ৬২ শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বছরে অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে রয়েছে। এ অঞ্চলে বছরে অন্তত পাঁচ মাস বিপজ্জনক তাপজনিত চাপের মুখে থাকা শিশুর সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে এ সংখ্যা প্রায় আট কোটি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ।

        বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী সর্বোচ্চ ৫৬ কোটি শিশু, অর্থাৎ এই বয়সী মোট শিশুর ৪৩ শতাংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে পড়ছে। অন্যান্য বয়সী মানুষের চেয়ে শিশুদের এ ঝুঁকি বেশি।

        অতিরিক্ত গরমে শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে তাদের শরীর দ্রুত উত্তপ্ত হয়। ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে কম। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে তারা প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তীব্র গরমের কারণে শিশুদের পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোক হতে পারে। বিদ্যমান স্বাস্থ্য সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপ শিশুদের শেখার ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

        গবেষণায় আর্দ্রতাজনিত তাপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছায়ায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবকে তাপজনিত চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘামের মাধ্যমে শরীর কার্যকরভাবে তাপ ছেড়ে দিতে পারে না। ফলে এ ধরনের গরম শরীরের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

        গবেষণার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা গেলেও বাংলাদেশে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৮৭ শতাংশ প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সময়ে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ বছরে অন্তত পাঁচ মাস তাপজনিত চাপের মুখে পড়তে পারে।


        অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে এই বয়সী প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ বছরে অন্তত পাঁচ মাস তাপজনিত চাপের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

        গবেষণার প্রধান লেখক ও ব্রাসেলসের ভ্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক রোসা পিয়েত্রোইউস্তি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই কোটি কোটি শিশু বিপজ্জনক তাপের মুখে পড়ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। উন্নয়নশীল দেশের শিশুরা এখন এবং ভবিষ্যতে জলবায়ুজনিত চরম পরিস্থিতির তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


        ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফন নেছা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র গরমের প্রভাব শিশুদের মধ্যেও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে রোদে খেলাধুলার পর হঠাৎ বমি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অস্থিরতা ও ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা এখন আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

        তিনি বলেন, শিশুদের বসার ও খেলার জন্য ঠান্ডা জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। দুপুর ও বিকেলের কয়েক ঘণ্টা তাদের বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখা দরকার। শিশুদের হালকা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী পোশাক পরাতে হবে। শিশুদের প্রচুর পানি পান করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

        গবেষণার ফল বলছে, চরম তাপমাত্রা এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। শিশুদের সুরক্ষায় শিশুকেন্দ্রিক তাপ মোকাবিলা পরিকল্পনা, শক্তিশালী তাপজনিত স্বাস্থ্য প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীল জনসেবা এবং তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাপ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দারিদ্র্য, অপর্যাপ্ত আবাসন, শীতল পরিবেশে থাকার সীমিত সুযোগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ শিশুদের তীব্র গরমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আরও কমিয়ে দিতে পারে।

        সূত্র: সমকাল অনলাইন

      • নেপালের বিপদই কি তাহলে হিমালয়ের বুকে লুকিয়ে

        নেপালের বিপদই কি তাহলে হিমালয়ের বুকে লুকিয়ে

        নেপালের রাসুয়া জেলায় গত বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভোটকোশি নদী থেকে ধেয়ে আসে ভয়াবহ পানির ঢল, তছনছ করে দেয় তিব্বত ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো। সেই ঢল ভাটির দিকে এগিয়ে গিয়ে মেশে ত্রিশূলী নদীতে। এ ঘটনায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ৪৭২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ শতাধিক বিদেশি পর্যটক।

        নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মাসের মধ্যে ভোটকোশি থেকে ত্রিশূলী পর্যন্ত এই ৩০ কিলোমিটার নদী অববাহিকায় এটিই দ্বিতীয় বড় বিধ্বংসী বন্যা। ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে নেপাল যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল, এই বন্যা যেন তারই আরেকটি প্রমাণ।

        আসলে এটি নিছক আবহাওয়াজনিত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এর পেছনে কাজ করেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একদিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমালয়ের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে চলায় হিমবাহ গলে বিভিন্ন ভঙ্গুর জায়গায় বিপুল পরিমাণ পানি জমছে। অন্যদিকে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয়ের পাহাড়গুলো এখনো অবিরাম নড়াচড়া করছে, বদলে যাচ্ছে সেগুলোর গঠন।

        আসলে কী ঘটেছিল

        ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে এখন পর্যন্ত মূলত তিনটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, তবে সব কটির মূল সূত্র আসলে একই।

        নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে বলেছেন, গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের ভূমিধস ঘটে, যা নদীর গতিপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। পরে পানির চাপে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নেমে আসে এই বিপর্যয়।

        যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ওই সময় তিব্বতের গোসাইকুন্ডা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করেছিল। পরে অবশ্য তারা জানায়, এটি প্রকৃত ভূকম্পন ছিল না, বিশাল আকৃতির ভূমিধসের কারণেই এই কম্পন তৈরি হয়েছিল।

        বিজ্ঞানীদের আরেকটি ব্যাখ্যাও প্রায় একই দিকে ইঙ্গিত করে। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) বিজ্ঞানী শাশ্বত সান্যাল সিএনএনকে বলেন, ভোটকোশির শাখা নদী লেন্দে খোলায় ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত। হিমবাহ থেকে বিশাল বরফ ও পাথরের স্তূপ ধসে পড়ে নদীটির গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে দেয়। পরে পানির চাপে তা ভেঙে তৈরি করে বিশাল স্রোত। আর সেটিই রূপ নেয় আকস্মিক বন্যায়।

        কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও হিমবাহ বিশেষজ্ঞ রিজান ভক্ত কায়স্থও নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনার পর একই ধরনের ধারণা দিয়েছেন। তিনি জানান, গত বছরও ঠিক একইভাবে লেন্দে খোলা নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে বন্যা হয়েছিল।

        নদীটির উজানে হিমবাহ অঞ্চলের পানির গতিপথে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত ২৪ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবি যাচাই করা হচ্ছে। দুর্যোগের আগে ও পরের ছবি বিশ্লেষণে সেখানে আচমকা বড় বড় স্রোত তৈরি হতে দেখা গেছে।

        তিনটি ব্যাখ্যারই সারকথা এক—হিমালয়ের একটি পাহাড়ি নদীর পথ কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেখানে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি একপর্যায়ে প্রলয়ঙ্করী রূপ নেয়।

        এই দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে চীন-নেপাল সীমান্তের রসুয়াগাড়ী ক্রসিংয়ে। সেখানে প্রধান সীমান্ত গেটের দিকে যাওয়ার মূল সেতুটি পানির তোড়ে সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। সেখানে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অঞ্চল আগেও একাধিকবার এমন বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছে।

        শত শত বছর ধরে একই ঘটনা

        হিমালয়ের এই অঞ্চলে হিমবাহ গলে সৃষ্ট হ্রদের বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা অভ্যন্তরীণ সুনামির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। শত শত বছর ধরে এমন বহু প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের সাক্ষী নেপাল। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডির সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে হিমালয়ের হিন্দুকুশ পর্বতমালায় হিমবাহের বরফ গলে যাওয়ার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে এই হিমবাহ ও তার অববাহিকায় থাকা নদীগুলোর ভাটি অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন চরম ঝুঁকিতে আছেন।

        তিব্বতের উজানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে গত বছরও একই ধরনের বন্যা হয়েছিল। তবে এরও বহু আগে, ১৯৮১ সালের জুলাইয়ে তিব্বতের ঝাংঝাংবো উপত্যকার একটি হিমবাহ হ্রদ আচমকা প্লাবিত হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী এক পর্যালোচনায় বলা হয়, তখন বন্যার কারণ জানা যায়নি; কয়েক বছর পর চীনাবিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় এর কারণ স্পষ্ট হয়।

        নেচার ও সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত সেই গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ওই বন্যায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, ধ্বংস হয়ে যায় ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সান কোশি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। ১৯৬৪ ও ১৯৮৩ সালের বড় বন্যার পেছনেও মিলেছে একই যোগসূত্র।

        নেপালে এ ধরনের বিপর্যয়ের ইতিহাস আরও পুরোনো। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশটিতে অতীতে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে মোট ২৪টি বড় বন্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৪টির উৎপত্তি নেপালে এবং ১০টির তিব্বতে।

        ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রায় ৪৫০ বছর আগে নেপালের সেতি কোলা নদী অববাহিকায় মাছাপুছরে হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ধসে পড়েছিল। সেই ধসে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ধেয়ে আসা কোটি কোটি টন কাদা ও পাথর পোখরা উপত্যকাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপে ঢেকে দিয়েছিল।

        গত বছর নেপাল-চীন সীমান্তের ঠিক এই পয়েন্টে হওয়া বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণও চিহ্নিত করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষকেরা। তাঁদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, মূলত সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উজানে ও ৫ হাজার ১৫০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাদ হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ আকস্মিক ভেঙে যাওয়ার কারণে ২০২৫ সালের ৮ জুলাইয়ের সেই বন্যা হয়েছিল।

        উজানে জমে থাকা পানি

        হিমালয়ের বুকে হিমবাহ গলে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে এমন শত শত হ্রদ। বরফ গলে পাহাড়ের উপরিভাগে জমে থাকা এই বিপুল পানি যেন একেকটি টাইমবোমা। এগুলো চরম বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

        জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২০ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, কোশি, গণ্ডকী ও কর্ণালী নদী অববাহিকায় সব মিলিয়ে হিমবাহ হ্রদ আছে ৩ হাজার ৬২৪টি, যার মধ্যে ৪৭টিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫টি তিব্বতে, ২১টি নেপালে ও ১টি ভারতে।

        তবে এমন তালিকা দিয়ে সব সময় আসন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ, গলে যাওয়া হিমবাহের উপরিভাগে তৈরি এই অস্থায়ী হ্রদগুলো কয়েক মাসের মধ্যে আকারে বড় হয়ে যায় এবং হঠাৎ ফেটে পড়ে। ফলে একটি তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করার আগেই তা পুরোনো বা অকার্যকর হয়ে পড়ে। যেমন ২০২৫ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার জন্য দায়ী হ্রদটির অস্তিত্বই দুর্যোগের আগে বিজ্ঞানীদের তালিকায় ছিল না।

        চীন কি নেপালকে সতর্ক করেছিল

        হিমালয় অঞ্চলে প্রতিটি প্রলয়ঙ্করী বন্যার পরই একই প্রশ্ন বারবার সামনে আসে। নেপাল কেন আগেভাগে এই দুর্যোগের কোনো আভাস পায় না?

        ২০২৫ সালের জুলাইয়ের বিপর্যয়ের পর নেপালের জলবায়ু ও আবহাওয়া বিভাগের মহাপরিচালক স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন, তিব্বত অঞ্চলের জলবায়ু বা হিমবাহ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার মতো কার্যকর কোনো দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা নেপালের নেই। চীন মাঝেমধ্যে ভারী বৃষ্টির আগাম সতর্কতা দেয় বটে; কিন্তু হিমবাহ হ্রদ ফেটে পড়ার মতো ঘটনা কেবল বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে ঘটে না।

        নেপালি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত বছরের আকষ্মিক বন্যার সময়ও কোনো আবহাওয়া বা বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে তাঁরা সতর্কবার্তা পাননি। বন্যার পানি নেপালে ঢোকার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তাঁরা প্রথম খবর পান, তা-ও কোনো পূর্বাভাস সংস্থা থেকে নয়, সীমান্তে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরাই তাঁদের বিষয়টি জানান।

        গত বছরের সেই ভয়াবহ বন্যার পর নেপাল সরকার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি অনুদানও অনুমোদন করে।

        তবে এত উদ্যোগের পরও সীমান্তজুড়ে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। নেপালের চলতি সপ্তাহের এই বিপর্যয়ই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

        পানির তোড়ে নদীর তীরের জনবসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক জায়গায় আস্ত গ্রাম ভেসে গেছে

        টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ, চিরস্থায়ী সংকট

        হিমবাহের বরফ গলে যাওয়া, হ্রদ ফেটে পড়া কিংবা আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থার অভাব নেপালের জন্য সাময়িক সংকট মনে হতে পারে। কিন্তু এর বাইরে দেশটির এমন একটি ভৌগোলিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে, যা একেবারেই চিরস্থায়ী।

        ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে নেপাল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের চরম সংঘাত-অঞ্চলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই দুটি বিশাল প্লেট প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২১ মিলিমিটার গতিতে একে অপরের দিকে এগিয়ে এসে ধাক্কা খাচ্ছে।

        প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে এই দুই প্লেটের মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল প্রাচীন টেথিস মহাসাগর। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় হিমালয় পর্বতমালা। সে সময় পৃথিবীর ভূত্বক প্রচণ্ড শক্তিতে ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠে গিয়ে তৈরি করে এই বিশাল পর্বতমালা ও তার সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো।

        ভূবিজ্ঞানীদের ভাষ্য, কোটি বছর আগে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ আজও থামেনি। অত্যন্ত ধীরগতিতে হলেও তা এখনো চলছে। সক্রিয় এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কারণেই হিমালয়কে পৃথিবীর সবচেয়ে তরুণ ও দ্রুত বর্ধনশীল পর্বতমালা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

        অনবরত এই ধাক্কার কারণে হিমালয় পর্বতমালা এখনো প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫ মিলিমিটার করে ওপরের দিকে উঠছে। আর এই চিরস্থায়ী ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণেই নেপাল বারবার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মুখে পড়ছে।

        বন্যা বা ভূমিধসের জন্য নেপালে এখন আর বড় কোনো ভূমিকম্পের প্রয়োজন হয় না, মাঝারি বা মৃদু কম্পনই যথেষ্ট। ২০১৫ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের মতো বড় বিপর্যয়ের কারণে এই অঞ্চলের পাহাড়ের ঢালগুলো আগে থেকেই আলগা ও ভঙ্গুর হয়ে আছে। ফলে এখন সামান্য ঝাঁকুনিতেই ধসে পড়ছে সেই আলগা মাটি ও পাথর।

        গত বুধবারের বিপর্যয়ই তার সবশেষ উদাহরণ। সেদিন কোনো প্রকৃত ভূমিকম্প না হওয়া সত্ত্বেও কেবল একটি বড় ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ কম্পনই পাহাড়ের একটি পুরো ঢাল ধসিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল। সেই ধসের মাটি-পাথর নদীর গতিপথ পুরোপুরি আটকে দেয়, যা পরে রূপ নেয় এক প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক ঢলে।

        নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এই সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের ঠিক দক্ষিণেই অবস্থিত। গত বুধবারের বন্যার পানি ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা কোটি কোটি টন কাদা-পাথর নদী উপত্যকা বেয়ে ধেয়ে যায় কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বিদুরের মতো জনবসতিগুলোর দিকে।

        বন্যা ও ভূমিধসের পর বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি। নেপালের নুয়াকোট জেলায়

        অপরিকল্পিত উন্নয়নও দায়ী

        নেপালের এই সর্বনাশের পেছনে সর্বশেষ যে কারণটি কাজ করছে, তা দেশটির নির্মাণশৈলী ও ভুল জায়গায় গড়ে তোলা অবকাঠামো। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, চীন-নেপাল বাণিজ্য করিডর বা মহাসড়ক নির্মাণের সময় হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের সম্ভাব্য এই ঝুঁকিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। নদীর অববাহিকা ও প্লাবনভূমি ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে বড় বড় স্থলবন্দর ও কাস্টম অফিস।

        চেংডুর চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের গবেষক নীতেশ খাড়কা ও তাঁর দলের এক যৌথ গবেষণা বলছে, হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে চীন ও নেপাল—দুই দেশেই এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে প্রায় ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চীন-নেপাল মহাসড়ক, ১০৩টি সেতু, ২টি বড় স্থলবন্দর এবং দুই দেশে থাকা ৩ হাজার ৩০১টি স্থাপনা।

        বাস্তবেও তার প্রমাণ মিলেছে। নেপাল-চীন সীমান্তের রসুয়াগাড়ী ক্রসিংয়ের কাছেই অবস্থিত তিমুরে কাস্টমস ফাঁড়িটি গত ১৩ মাসে দুবার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। গত বুধবারের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে ভারতের কৈলাস মানস সরোবর–যাত্রার পুণ্যার্থীসহ বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন

      • এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যের দিকে

        এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধানের বক্তব্যের দিকে

        যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের আগে শুক্রবার এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা তার বক্তব্য থেকে সুদের হার নিয়ে ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

        বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের অবসানের কোনো লক্ষণ না থাকায় সুদের হার নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

        এনভিডিয়ার শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর আবার অর্থনীতির দিকে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কখন বাড়াবে, আদৌ বাড়াবে কি না—এ নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

        গত মাসের ফেড বৈঠকে কর্মকর্তারা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখেন। তবে তিনজন কর্মকর্তা সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও তা এখনো ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।

        দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার আশঙ্কা এবং ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বাড়ছে। এর ফলে সরকারের জন্য ঋণ নেয়ার খরচও বাড়ছে।

        বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ও অর্থনীতিবিদদের বার্ষিক সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য থেকে নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।

        তবে জুলাইয়ের ফেড বৈঠকের পর তার সর্বশেষ বড় বক্তব্যটি ছিল বেশ অস্পষ্ট। এ কারণে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এবারো ওয়ারশ যদি ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে সরাসরি কোনো দিকনির্দেশনা না দেন, তাহলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো প্রত্যাশিত উত্তর পাবেন না।

        কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস বলেন, ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ওয়ারশের এটিই প্রথম বক্তব্য। তার মতে, এ বক্তব্যটি এ বছরের বাকি সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হতে পারে। কারণ, এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে।

        তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য আপাতত সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমিয়েছে। ফলে ওয়ারশ এখনই সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা না দিয়েও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ফেডের কঠোর অবস্থান আবারো স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

        ইনেস আরো বলেন, ‘একটি কঠিন নীতিগত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়ারশ এই বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। টানা ষষ্ঠ বছর মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এদিকে, ফেডের কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রয়োজন এখনো রয়েছে কি না এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

        শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগের দিনের বড় উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক পূর্বাভাসের কারণে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছিল। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অতিরিক্ত উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছিল।

        এদিন টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, জাকার্তা ও তাইপের শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। অন্যদিকে সিউল, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার বাজারে সূচক কমেছে।

        এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও তিনটি প্রধান শেয়ারসূচকই বেড়েছিল। তবে এই উত্থান মূলত প্রযুক্তি খাতনির্ভর ছিল। ১১টি প্রধান খাতের মধ্যে শুধু প্রযুক্তি খাতই সেদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

        আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার তেলের দাম সামান্য কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় ভবিষ্যতে তেলের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

        ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

        বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই সেখানে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা এখনো কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আনতে পারেনি।

      • নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৫

        নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৫

        নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৮৯ হয়েছে। নেপালের পুলিশের বরাতে বিবিসির খবরে আজ শুক্রবার এ তথ্য জানা গেছে।

        দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টার মাথায় প্রাণহানির নতুন এ তথ্য জানা গেলে। গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢল হয়। এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, এ ঘটনায় তিব্বতে পাঁচজন মারা গেছেন।

        উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার। নেপালের নুয়াকোট জেলায়।

        বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুর্যোগে শত শত বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, এর মধ্যে তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ।

        ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা আঘাত হানতে পারে—এমন খবরের কারণে জীবিত ব্যক্তিদের সন্ধানে থাকা উদ্ধারকারীরা ‘উদ্বিগ্ন ও সতর্ক’ অবস্থায় আছেন। বিবিসিকে এ কথা বলেছেন রেডক্রসের একজন কর্মকর্তা।

        চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে পানি বেড়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেইজিং থেকে বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

        https://youtube.com/watch?v=fyN7XwUWRGs%3Fautoplay%3D0%26enablejsapi%3D1%26origin%3Dhttps%253A%252F%252Fwww.prothomalo.com%26widgetid%3D1%26forigin%3Dhttps%253A%252F%252Fwww.prothomalo.com%252Fworld%252Fasia%252Fsy7i02ogsy%26aoriginsup%3D1%26vf%3D6

        বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম, ভিডিওতে দেখা গেল নেপালের বন্যার ভয়াবহতা

        রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, দুর্যোগের কারণ নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়ে। এতে লহেন্দে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত প্রবল বেগে ভাটির দিকে নেমে আসে।

      • হরমুজকে ‘পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান

        হরমুজকে ‘পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান

        যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখন দুই পক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

        আল জাজিরার প্রতিনিধি আলি হাশেম বলেন, ‘সবার মনোযোগ এখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দিকে, এটা এখন আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর সময় মূল বিষয় ছিল পারমাণবিক ফাইল, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং এই অঞ্চলে ইরানের প্রক্সি বা মিত্ররা।’

        হাশেম বলেন, যুদ্ধের আগে পরিস্থিতি যা-ই থাকুক না কেন, যুদ্ধের পরে তা আর আগের মতো থাকবে না। তিনি আরো বলেন, এই সংঘাত অন্য এক স্তরে পৌঁছে গেছে।

        তার মতে, ‘হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, ইরান একটি সুবিধাজনক অবস্থান খুঁজে পেয়েছে। এমনকি কোনো কোনো বিশ্লেষক একে ইরানের ভৌগোলিক পারমাণবিক বোমা হিসেবেও বর্ণনা করছেন। কারণ হরমুজের কার্যকর ব্যবহার করার ফলে একে বিবেচনায় আনা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় থাকবে না।’

      • ইরানকে র্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র:দারেইনি

        ইরানকে র্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র:দারেইনি

        যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে এবং ইরানকে বুঝিয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কোনো ছাড় দেওয়া ভুল হবে—এমনটাই মনে করেন তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনি।

        তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এই বিশ্লেষক আলজাজিরাকে বলেন, ‘যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান শিখেছে, ট্রাম্পের মতো কাউকে কোনো ছাড় দিলে আপনার সব শেষ। ইরান সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয় বাড়াতে চেয়েছিল। আর ওয়াশিংটন এখন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

        দারেইনি বলেন, ‘ট্রাম্প বিশ্বাস করতেন যে তিনি শক্তি প্রদর্শন করলে এবং সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলে ইরান পিছু হটবে। কিন্তু ইরান তা করেনি। তিনি আরো যোগ করেন যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্প হতাশ।

        তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান ‘আত্মসমর্পণ করবে না, কারণ তাদের যুক্তি, ওয়াশিংটন দেশটিকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। আপনি ইরানের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারেন না, যে দেশটির ১৫টি দেশের সঙ্গে স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত রয়েছে।’

      • চীনে বন্যার উচ্চ সতর্কতা

        চীনে বন্যার উচ্চ সতর্কতা

        আন্তর্জঅতিক ডেস্ক:

        নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া একটি বাঁধসদৃশ হ্রদের তীর ভেঙে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে দেখছে চীন।

        রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ওই হ্রদে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ধ্বংসাবশেষে আটকে গিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি হয়।

        চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে ভূমিধসের পর হ্রদটির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার থেকেই সেখান থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে।

        কর্মকর্তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে সপ্তাহান্তের মধ্যে হ্রদটিতে আরো প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ঢুকতে পারে। এতে হ্রদের তীর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আরো বেড়েছে এবং ভাটির দিকে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।

        ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চীনের উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে পরে আবারো উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়।

      • কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

        কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

        আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপে যোগ দিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

        সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


        বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।


        দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে দুই দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা জানান তারা।


        কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের কপ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এবারের সম্মেলনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।


        আঙ্কারার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুরস্ক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওদিকে সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গেও তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

        বৈঠক হলে সেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


        প্রসঙ্গত, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া শহরে কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ জলবায়ু সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

      • পিস্তল ও ইয়াবাসহ

        পিস্তল ও ইয়াবাসহ

        বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি আটক

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত অবস্থায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

        বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র বড়লেখার কুমারশাইল সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।

        এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল কুমারশাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আহত অবস্থায় ভারতীয় নাগরিক বলাই দাসকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫ শত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।