আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হিজলী বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্টের টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। দিনব্যাপী অভিযানে ভারতীয় ৫০ বোতল এসকাফ সিরাপ (নেশাজাতীয়), ৫৮টি শাড়ি, ৫৭টি চকলেট, ৩৬ কেজি ফুচকা, ১ কেজি জিরা, ০.৫ কেজি কিসমিস, ৫ প্যাকেট সনপাপড়ি এবং ৩৫২টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাচালানি মালামাল ও মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।

    যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতাও চোরাচালান দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

  • ধ্বংসের হুমকিতে ফিলিস্তিনের ৮৪ স্কুল

    ধ্বংসের হুমকিতে ফিলিস্তিনের ৮৪ স্কুল

    ফিলিস্তিনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটির আরও একটি স্কুল। অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার শা’ব আল-বুতুম স্কুলের দুটি প্রশাসনিক কক্ষ ও একটি স্টোররুম গত ৪ আগস্ট গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল বলছে—নির্মাণের অনুমতি না থাকায় এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু স্কুলটির বাকি অংশও এখন ধ্বংসের হুমকিতে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

    মাসাফের ইয়াত্তার স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানের দাবি, পুরো এলাকায় থাকা সাতটি স্কুলই এখন ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    জাতিসংঘের হিসাবে, পশ্চিম তীরের এরিয়া সি ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা ৮৪টি ফিলিস্তিনি স্কুল বর্তমানে ধ্বংসাদেশ বা নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশের আওতায় রয়েছে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, স্কুল ধ্বংসের পাশাপাশি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও চলাচলে বিধিনিষেধও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

    জাতিসংঘ বলছে, এরিয়া সি-তে ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলি নির্মাণ অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফলে ধ্বংসের হুমকিতে থাকা স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের সহজে অন্য স্কুলে স্থানান্তর করাও সম্ভব নয়।

    শিক্ষাবর্ষ শুরুর মুখে তাই বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ফেরার বদলে, ফিলিস্তিনি শিশুদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে—তাদের স্কুলটি আদৌ টিকে থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তায়।

  • সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত?

    সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত?

    ভারত ও চীনের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠেছে, সীমান্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারত কি শেষ পর্যন্ত চীনের প্রস্তাব মেনে নিতে চলেছে?

    আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত ও চীনের সীমান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতির ভাষা পাশাপাশি রাখলে কূটনৈতিক মহলে এমনই আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এই সীমান্তকে সাধারণত পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব, এই তিনটি অংশে ভাগ করা হয়। পশ্চিম অংশে রয়েছে লাদাখ, মধ্য অংশে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ এবং পূর্ব অংশে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ।

    চীন গত কয়েক বছর ধরে বলে আসছে, সীমান্তের যেসব অংশে তুলনামূলকভাবে বিরোধ কম, সেগুলো আগে নির্ধারণ করা যেতে পারে। কূটনৈতিক পরিভাষায় এই পদ্ধতিকে সীমান্ত সমস্যার ফল ঘরে তোলার নীতি হিসেবে দেখা হয়।

    অর্থাৎ পুরো সীমান্ত সমস্যার একসঙ্গে সমাধান না করে যেসব অংশে সমঝোতা সম্ভব, আগে সেসব অংশের সীমা নির্ধারণ করা। কিন্তু এ পদ্ধতি নিয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে এত দিন সংশয় ছিল। কারণ ২০০৫ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে হওয়া সীমান্ত-সংক্রান্ত চুক্তিতে সীমান্ত সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আলাদা আলাদা অংশের সমাধানের মাধ্যমে গোটা সীমান্ত সমস্যাকে টুকরো করার বিষয়ে ভারতের আপত্তি ছিল।

    এবার অজিত দোভাল ও ওয়াং ইয়ের বৈঠকের পর ভারতের বিবৃতিতে সীমান্ত নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনার কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ সীমান্ত পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    এই বাক্যের মধ্যেই কূটনৈতিক মহল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে। কারণ, ভারতের বিবৃতিতে সীমান্ত সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের কাঠামোর কথা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সীমান্তের যে অংশগুলিতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেগুলো নিয়ে কি ভারত নতুন করে আলোচনায় রাজি হয়েছে।

    তবে এখনই বলা যাচ্ছে না যে ভারত চীনের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সীমান্ত নির্ধারণের আলোচনা মানেই কোনও নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর ভারতের দাবি প্রত্যাহার নয়। বরং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় নতুন একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সংঘাতের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। পরে দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

    এই পরিস্থিতিতে অজিত ডোভাল ও ওয়াং ইয়ের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল। বিশেষ করে সীমান্ত নির্ধারণের প্রসঙ্গটি সরাসরি আলোচনায় আসায় মনে করা হচ্ছে। দুই দেশ সীমান্ত সমস্যার সমাধানে নতুন পথ খুঁজছে।

    তবে সেই পথ শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বার্থ রক্ষা করে কিনা, নাকি চীনের দীর্ঘদিনের প্রস্তাবকেই নতুন রূপে গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিই এখন নজরে।

  • ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে : আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে : আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নিলে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে না।

    হরমুজ প্রণালীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরে শত্রুপক্ষের কোনো সামরিক জাহাজ নেই।

    আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, শত্রুপক্ষের সব যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালী থেকে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। সামরিক ও আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো জাহাজ এই পানিপথ অতিক্রম করতে পারবে না।

    তিনি আরো বলেন, ওমানের নিকটবর্তী পানিপথটিও সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরান ও বিপরীতে অবস্থিত ওমানের অন্তর্গত। প্রায় এক মাস আগে ওমানের সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য কিছু সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।

    তিনি আরো বলেন, এসব আলোচনায় প্রণালীর পানিসীমায় দুই দেশের অংশ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ে ইরান ও ওমানের অংশীদারিত্বের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।

    আইআরজিসির মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে, যার কারণে কাজের অগ্রগতি বিলম্বিত হয়েছে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত না মানলে কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে না।

  • নেপালে ২৮৮ ভারতীয়ের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি

    নেপালে ২৮৮ ভারতীয়ের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি

    নেপালে দুর্যোগের কারণে আটকে রয়েছেন বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না এমন ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ২৮৮ জন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে ‘এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আটকে আছেন বা যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এমন ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ত্রিশুলি ওয়ান পাওয়ার প্রজেক্টে কর্মরত ৭৩ জন রয়েছেন। কাঠমান্ডুতে আমাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রাখা হয়েছে’।

    তিনি জানিয়েছেন, দুর্যোগের কারণে সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারের কাজ চলছে।

    ওই কর্মীরা ছাড়াও ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন। কৈলাস ও মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হওয়া তামিলনাড়ুর ৩৭ ও ৪৯ জনের দু’টি দল রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩২ জনের একটি দল রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পর্যটক দল রাসুয়া অঞ্চলের তিমুরের কাছে ছিল। রাসুয়া জেলাতেই এই আকস্মিক বন্যা হয়েছে।

    এছাড়া কেরালা থেকে ৩৩ জনের একটা দল এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৬১ জনের অন্য একটা দলও রয়েছে যাদের সাথে এখনো পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    তামিলনাডুর ২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনার দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।

    জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আমাদের তরফে সব রকমভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নেপাল কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

    কৈলাস ও মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের মধ্যে অনেকেই চীনের কাছে আটকে রয়েছেন। তাদের সাথে বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে।

    জয়সওয়াল বলেন, ‘আনুমানিক ২০০ জন ভারতীয় নাগরিক সেখানে আটকে রয়েছেন। আমরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।’

  • অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের আহ্বান

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের আহ্বান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর জনসংখ্যা এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থানের তুলনায় তাদের অর্থনৈতিক আকার ছোট। তাই এ ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান এ আহ্বান জানান।

    মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দেন পেজেশকিয়ান।

    তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি সদস্য দেশ ‘জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং একটি বিশাল বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও স্থলপথের কেন্দ্রবিন্দুতে’ অবস্থিত।

    তিনি আরো বলেন, সদস্য দেশগুলোর রপ্তানির মাত্র ১৯ শতাংশ এই গোষ্ঠীর মধ্যেই থাকে, বাকিটা ওআইসির বাইরের দেশগুলোতে যায়। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান জানান।

  • ভারতের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলট নিহত

    ভারতের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২ পাইলট নিহত

    ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে বিধ্বস্ত হয়েছে একটি প্রশিক্ষণ বিমান। এতে পাইলট ও সহ-পাইলট দুজনই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বৃহস্পতিবার সকালে প্রশিক্ষণের সময় বিমানটি ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়। সজোরে আছড়ে পড়ে বিমানটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই ছুটে যান স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দুর্ঘটনায় নিহত পাইলটদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • সৌন্দর্যের অদ্বিতীয় স্থাপনা তাজমহল

    সৌন্দর্যের অদ্বিতীয় স্থাপনা তাজমহল

    তাজমহল বিশ্ববিখ্যাত এক স্মৃতিসৌধ। আস্থার সঙ্গে বলা যায়, এমন দৃষ্টিনন্দন মধ্যযুগীয় স্থাপনা দ্বিতীয়টি নেই। তাজমহল ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত। মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের (বেগম আরজুমান্দ বানু) স্মৃতি রক্ষার্থে এই অপূর্ব সুন্দর সৌধটি মোগল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রায় নির্মাণ করেন। এটি মোগল স্থাপত্যশৈলীর সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যার নির্মাণশৈলীতে ইসলামি, পারস্য, তুরস্ক ও ভারতীয় স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটেছে। তাজমহলের নকশা করেন লাহোরের বিখ্যাত স্থপতি ওস্তাদ আহমেদ। ইনি ঈশা খান নামেও পরিচিত ছিলেন। তাজমহলের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ সালে আর মূল সমাধিসৌধ নির্মাণ সম্পন্ন হয় ১৬৪৮ সালে। পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয় ১৬৫৩ সালে। সময় লাগে মোট ২২ বছর। নির্মাণের সময় ভারত, পারস্য, মিসর ও মধ্য এশিয়া থেকে আসা ২০ হাজার দক্ষ কারিগর ও শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছে বলে জানা যায়। ১৯৮৩ সালে তাজমহল বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত হয়।

    ভিত্তি ও তাজমহলের গঠন : তাজমহলের মূলে হলো তার সাদা মার্বেল পাথরের সমাধি। সমাধিটি বর্গাকার বেদিকার ওপর স্থাপিত। ভিত্তি কাঠামোটি বিশাল এবং কয়েক কক্ষবিশিষ্ট। প্রধান কক্ষটিতে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের স্মৃতিফলক বসানো হয়েছে। ভিত্তিটি প্রতিদিকে ৫৫ মিটার লম্বা, পাশে ধনুকাকৃতির পথ, আইওয়ানের কাঠামো, সঙ্গে ওপরে একই রকমের ধনুকাকৃতির বারান্দা রয়েছে। এই প্রধান ধনুকাকৃতির তোরণ উপরে ইমারতের ছাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সম্মুখভাগ তৈরি করেছে। তাজমহলের প্রতিটি দিক একই রকম ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে। ভিত্তির প্রতিটি কোনায় একটি করে—মোট চারটি মিনার রয়েছে। মমতাজ মহল ও শাহজাহানের কবর রয়েছে সবচেয়ে নিচের তলায়।

    তাজমহলের মার্বেল পাথরে নির্মিত গম্বুজ খুবই আকর্ষণীয়। এর আকার ৩৫ মিটার, যা ইমারতের ভিত্তির সমান। গম্বুজের ওপরের দিক একটি পদ্মফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে, যা গম্বুজের উচ্চতাকে আরো দৃষ্টিগোচর করেছে। গম্বুজের উপরে পারসীয় অলংকরণে অলংকৃত একটি তামার দণ্ড রয়েছে। বড় গম্বুজটির চার কোনায় রয়েছে একই রকম দেখতে আরো চারটি ছোট গম্বুজ। ছোট গম্বুজগুলোয়ও তামার দণ্ড রয়েছে। বড় গম্বুজটির ওপর মুকুটের মতো একটি চূড়া রয়েছে। ১৮০০ শতকের আগে পর্যন্ত চূড়াটি স্বর্ণের নির্মিত ছিল, কিন্তু পরে স্বর্ণেরটি সরিয়ে ব্রোঞ্জনির্মিত চূড়া বসানো হয় ।

    মিনারগুলোর মূল বেদিকার কোনায় একটি করে মোট চারটি বড় চৌকি রয়েছে। প্রতিটি চৌকির উচ্চতা ৪০ মিটারেরও বেশি। চৌকিগুলো নকশা করা হয়েছে মসজিদের প্রথাগত মিনারের নকশায়, যেখানে মুয়াজ্জিন নামাজের জন্য আজান দেন। প্রতিটি মিনারকেই দুটি বারান্দা দিয়ে তিনটি সমান উচ্চতায় ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি মিনার বেদিকা থেকে বাইরের দিকে সামান্য হেলানো আছে, যাতে এগুলো কখনো ভেঙে পড়লেও যেন তা মূল সমাধির উপরে না পড়ে।

  • ইরানের পারমাণবিক শিল্প বিশ্বমানের

    ইরানের পারমাণবিক শিল্প বিশ্বমানের

    ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলা সত্ত্বেও তাদের পারমাণবিক শিল্প পারমাণবিক শিল্প বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    বুধবার তিনি বলেন, ‘আজ ইরানের পারমাণবিক শিল্প এ খাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং সমপর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, তেহরানের শত্রুরা অভিযোগ করে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ নয়। তাদের এমন অভিযোগের কারণ তারা ইরানকে দুর্বল করতে চায়।

    ইসলামি বলেন, ‘তারা নিজেরাও বিষয়টির বাস্তবতা জানে। তাদের কর্মকাণ্ডও প্রমাণ করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অগ্রগতি ঠেকানো।’

    ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এর উদ্দেশ্য বেসামরিক ব্যবহার, বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে তিনি ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছিল না। এদিকে, যুদ্ধের পর ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার বিষয়ে আরো আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

  • মক্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

    মক্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

    সৌদি আরবের মক্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে দেশটির আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)। মক্কার বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অঞ্চলে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এতে সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়ার সময় বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সিভিল ডিফেন্স আরো জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে জলাবদ্ধ এলাকা, উপত্যকা ও বাঁধের আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে।

    এনসিএমের ‘রেড অ্যালার্ট’ হলো সর্বোচ্চ স্তরের আবহাওয়া সতর্কবার্তা। চরম সতর্কতা প্রয়োজন এমন আবহাওয়া পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিতিশীল আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং বিভিন্ন মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    এর আগে গত ২১ আগস্ট আল-আরদিয়াত ও আল-কুনফুদাহ প্রদেশে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল এনসিএম। ওই সময় ঝোড়ো বাতাস, শিলাবৃষ্টি, বজ্রঝড় এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

  • প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

    প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

    আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) ইস্যুর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও এসবিএলসি ইস্যু করতে পারবে স্থানীয় ব্যাংকগুলো। এর মাধ্যমে ওই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি ইস্যুসংক্রান্ত বিধান আংশিক সংশোধন করা হলো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদার, স্থানীয় এজেন্ট বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিড বন্ড, পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা এসবিএলসির সংস্থান করতে পারবে।

    এ সুযোগ পেতে কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে মূল চুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি গ্রহণের স্পষ্ট সুযোগ থাকতে হবে। দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য চুক্তি বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং এর সপক্ষে বৈধ দলিলাদি থাকতে হবে। গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যুর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও দায়ের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত জামানত বা কাউন্টার–সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।

    জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকির মাত্রা এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে। গ্যারান্টির কারণে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়, দায় ও অন্যান্য খরচ কীভাবে পরিশোধ করা হবে এবং গ্যারান্টি কার্যকর (ক্যাশ) হলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কীভাবে অর্থ ফেরত দেবে, তা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

    ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

  • নেপালে এত ভারতীয় কেন?

    নেপালে এত ভারতীয় কেন?

    নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা মূলত কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপালের মধ্য দিয়ে তিব্বতের দিকে যাচ্ছিলেন। হিমালয়ের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে এই বার্ষিক তীর্থযাত্রায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিব্বতের কৈলাস পর্বত অত্যন্ত পবিত্র। বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি দেবতা শিবের আবাসস্থল। একইভাবে মানস সরোবর হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। সেখানে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভক্তরা সেখানে যান।

    কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার গুরুত্ব শুধু হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও কৈলাস ও মানস সরোবর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। অনেকের কাছে জীবনে অন্তত একবার এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করা একটি দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা।

    তবে এই তীর্থযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। তিব্বতে পৌঁছাতে অনেক ভারতীয় তীর্থযাত্রী প্রথমে নেপালে প্রবেশ করেন। এরপর নেপালের পাহাড়ি পথ ধরে চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত অঞ্চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উচ্চতাজনিত ঝুঁকির পাশাপাশি এই পথ বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার জন্যও বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

    নেপালের রাসুয়া এলাকা কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এই পথ দিয়েই তীর্থযাত্রীরা নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশ করেন। কিন্তু বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া এলাকায় নেপাল-চীন সীমান্তের মিতেরি সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি সড়কও।

    বন্যায় মোবাইল ফোন ও ফাইবার যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। ফলে তীর্থযাত্রীরা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তাঁদের পরিবারের কাছে পরিস্থিতির খবর পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অনেক তীর্থযাত্রী সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিবারের সদস্য ও ভ্রমণ আয়োজকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানও জটিল হয়ে উঠেছে।

    কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় সাধারণত দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, উচ্চতর অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকা অতিক্রম করতে হয়। বর্ষাকালে হিমালয়ে ভারী বৃষ্টি হলে এসব এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

    এবারের দুর্যোগে হিমবাহের বরফ ও ভূমিধস থেকে সৃষ্ট বিপুল পানির স্রোত নদী উপত্যকায় নেমে আসে। এতে সেতু ও সড়ক ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    ফলে ধর্মীয় বিশ্বাস ও বহু বছরের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কৈলাস-মানস সরোবরের পথে যাওয়া এসব ভারতীয় তীর্থযাত্রী এখন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে আটকা পড়েছেন। তাঁদের অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে।

  • নেপালে আরো বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা

    নেপালে আরো বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা

    নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী জানিয়েছেন, আজ অথবা আগামীকাল বন্যার ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না’ পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে।

    চীনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সহকর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে অধিকারী বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাত নেই, তবে ভূমিধস ঘটতে পারে।’

    তিনি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে হিমালয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঝুঁকিগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। তার ভাষায়, ‘এখানে জলবায়ু পরিবর্তন সত্যিই ঘটছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম, কিন্তু নির্দিষ্ট কোন দিনে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আমরা জানতাম না।’

  • ইরানের পরমাণু স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ নেই: আইএএইএ

    ইরানের পরমাণু স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ নেই: আইএএইএ

    ইরান যে পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করছে তার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। খবর আলজাজিরার।

    আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    গ্রোসি বলেছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান যে তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করছে, এমনটা ইঙ্গিত করার মতো কোনো ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ’ নেই।

    তিনি আরো বলেন, যুদ্ধের কারণে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। তিনি বলেন, ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি (৯৭২ পাউন্ড) উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনও সেখানেই রয়েছে যেখানে গত বছরের বারো দিনের যুদ্ধের সময় ছিল।

    জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার প্রধান বলেন, ‘স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভবত তারা তাদের কিছু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু করছে, এটা অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু এমনটা ঘটছে বলে ইঙ্গিত করার মতো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। সুতরাং, বিষয়টি একটি বড় অমীমাংসিত ব্যাপার হিসেবেই রয়ে গেছে।”

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি এবং আশা করছি, যত দ্রুত সম্ভব সেখানে আবার আমাদের কাজ শুরু করতে পারব।’

  • মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়:ডা. শফিকুর রহমান

    মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়:ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।’

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নাো মত প্রকাশ করা হচ্ছে।

    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    দ্রোহ, মানবতা ও সাম্যবাদের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। এ উপলক্ষ্যে নজরুল ইনস্টিটিউট, নজরুল একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।

    শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।

    কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

  • শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে।’বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহিদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।’

    মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো- কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

    একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদটি প্রথম কোথা থেকে ছড়ানো হয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে নিসচা। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে নিসচার নেতৃবৃন্দ।

  • কেরালা এখন কেরালম

    কেরালা এখন কেরালম

    ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার নতুন নাম ‘কেরালম’ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) থেকে নতুন নামটি কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। দেশটির এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেরালা (নাম পরিবর্তন) আইন, ২০২৬-এর ১ নম্বর ধারার ২ নম্বর উপধারায় দেঅয়া ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় সরকার ২৫ আগস্ট থেকে ওই আইনের বিধান কার্যকর করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালম’ করার বিলে অনুমোদন দেন ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু। এর মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

    পরে গত ১১ আগস্ট লোকসভায় কেরালা (নাম পরিবর্তন) বিল পাস হয়। পরদিন রাজ্যসভাতেও বিলটি পাস হয়।

    এ বিষয়ে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, ২০২৪ সালে কেরালা বিধানসভা একটি প্রস্তাব পাস করে কেন্দ্রকে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালম’ করার জন্য আইন প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়েছিল।

    বিলটিতে বলা হয়েছে, কেরালা রাজ্য ‘কেরালম’ নামে পরিচিত হবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেই কারণেই কেরালার নাম পরিবর্তন করে কেরালম করার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

  • দু’দিন পরই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে

    দু’দিন পরই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে

    আগামী ২৮ আগস্ট আকাশে ঘটতে যাচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। আর তা হলো- একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে এই গ্রহণের সৃষ্টি করে। খবর আনাদোলুর।

    উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশপ্রেমীরা এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাবে।

    মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে) গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে এ মহাজাগতিক ঘটনাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে পর্যবেক্ষকরা কেবল সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের সময় গ্রহণের আংশিক রূপ দেখতে পাবেন।

    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মতো এবার সম্পূর্ণ চাঁদ ঢাকা পড়বে না, চাঁদের একটি ছোট অংশ পৃথিবীর গভীরতম ছায়ার বাইরেই থেকে যাবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যদিয়ে সূর্যালোক অতিক্রম করার সময় তা বিচ্ছুরিত ও প্রতিসরিত হওয়ার ফলে গ্রহণকবলিত অংশটি লালচে বা তামাটে বর্ণ ধারণ করতে পারে, যা ‘ব্লাড মুন’ হিসেবে পরিচিত।

    এই চন্দ্রগ্রহণটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে, যদিও গভীর আংশিক পর্যায়ের স্থায়িত্ব হবে তুলনামূলকভাবে বেশ কম। নাসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রগুলোর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে অবস্থান করবে।

    গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান হওয়া একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। মূলত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের একই সরলরেখায় অবস্থানের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় সংঘটিত হয়।

    সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ কোনও সুরক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দৃশ্যটি আরও কাছ থেকে উপভোগ করা সম্ভব।

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের ভূয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ভূয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তারকাদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। এবার সেই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন কিংবদন্তী চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন।

    তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা মৃত্যুসংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মীরা।

    নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন সুস্থ ও ভালো আছেন। অথচ তার মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর একটি খবর কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সংগঠনের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    নিসচার নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জীবিত মানুষকে কীভাবে যাচাই ছাড়া মৃত ঘোষণা করে সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব? তাদের মতে, এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়; একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী এবং তার প্রতি ভালোবাসা থাকা অসংখ্য মানুষের অনুভূতির প্রতিও নির্মম আঘাত।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে কারও মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা গুরুতর অসুস্থতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশের আগে পরিবার, নিকটজন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ইলিয়াস কাঞ্চনের ক্ষেত্রে সেই ন্যূনতম যাচাইয়েরও অনুপস্থিতি দেখা গেছে।

    নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘সবার আগে সংবাদ’ দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। তার মতে, দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চেয়ে সেটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত্যু বা অসুস্থতার মতো বিষয়ে অনুমাননির্ভর কিংবা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা নন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার সঙ্গে অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    নিসচার নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পরে ভুল স্বীকার করলেই এমন সংবাদের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক কষ্ট বা আতঙ্কের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়তে অল্প সময় লাগলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বহু মানুষের ওপর।ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ঘটনায় নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুসংবাদ প্রচারকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একইভাবে যাচাই ছাড়া এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকেও তাঁরা অনৈতিক ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন।নিসচার পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভানুধ্যায়ীদের আহ্বান জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো মৃত্যুসংবাদ দেখেই তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা নিশ্চিত করার পরই কোনো তথ্য প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যায় ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা

    ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যায় ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয় এবং এক কোটি ডলার পুরস্কারের কথাও বলা হয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নজরে এসেছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং সিএনএনকে বলেন, ভিডিওটি সম্পর্কে আমরা অবগত। আমাদের সুরক্ষাধীন যেকোনো ব্যক্তির প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এমন সব বিষয় আমরা তদন্ত করি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় না।

    প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওটির শুরুতে ইংরেজিতে একটি গ্রাফিক দেখানো হয়—‘হোয়ার টু কিল ব্যারন ট্রাম্প?’ অর্থাৎ ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে। এরপর ব্যারন যেসব জায়গায় প্রকাশ্যে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়, সেসব স্থানের গ্রাফিক দেখানো হয়। এর মধ্যে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারও রয়েছে। ভিডিওর শেষে বর্ণনাকারী বলেন, মানুষ এক কোটি ডলারের পুরস্কার পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    সপ্তাহান্তে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এই ভিডিওটি প্রচার করে। সংস্থাটি দেশটির কট্টরপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে বিবেচিত হয় এবং এর প্রধানকে সরাসরি নিয়োগ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

    একজন মার্কিন ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ভিডিওটি ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে প্রকাশিত ধারাবাহিক ভিডিওর অংশ। এসব ভিডিওতে প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যদের চলাচলের তথ্য এবং হত্যার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তা আরও বলেন, সিক্রেট সার্ভিস, অন্যান্য সরকারি সংস্থা, স্থানীয় পুলিশ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া নিরাপত্তা তথ্যের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়।

    এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এর আগে নিজের জীবন নিয়ে ইরানের হুমকির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, আমি যেকোনো তালিকায় আছি… এখন পর্যন্ত হয়তো কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম, কিন্তু সেটা হয়তো বেশি দিন থাকবে না। এরা দুষ্ট ও অসুস্থ মানসিকতার মানুষ।

    ওই মন্তব্যের আগে ইরানের হুমকির কারণে ট্রাম্পের একটি গোপন সফর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হুমকির পর বিকল্প সামরিক বিমানে তাকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হয়।

    ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার সতর্ক করে আসছে যে, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

    চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আয়োজিত শোকসভায় ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এমনকি সেখানে তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া নিশ্চিত করতে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও প্রচার পায়।

  • গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

    গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

    যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি-বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আগস্টের ভিসা বুলেটিনে এসেছে বড় ধরনের অগ্রগতি। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার এফ-২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে ভিসা পাওয়ার সুযোগ।

    এফ-২এ ক্যাটাগরির আওতায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তান।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ-২এ ক্যাটাগরির ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এগিয়ে ২২ জুলাই ২০২৬ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই কাট-অফ তারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

    এই পরিবর্তনের ফলে যেসব বাংলাদেশি আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬-এর আগে, তাদের জন্য অভিবাসন ভিসা ইস্যু বা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ নির্ধারণ করে কোন অগ্রাধিকার তারিখের আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যু করা সম্ভব হবে। আর জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগতভাবে সীমিত পরিবারভিত্তিক ভিসা ক্যাটাগরিতে সাক্ষাৎকারের জন্য আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ কার্যকর অবস্থায় থাকতে হয়।

    ফলে আগস্টের এই অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আশার খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • মোদির বাসভবনের পাশ থেকে ৭০০ পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

    মোদির বাসভবনের পাশ থেকে ৭০০ পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে বস্তি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এ আদেশ দেওয়া হয়। বস্তির ৭০০ পরিবারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে বলা হয়েছে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য সাবেক দিল্লি জেলা জজ মন মোহন শর্মার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের এই কমিটি বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে। কমিটির কার্যকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাস।

    আদালত দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে বস্তিবাসীদের গৃহস্থালির সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র সাভদা ঘেভরায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    সাভদা ঘেভরায় পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে বস্তিবাসীরা বলেছিলেন, তাদের বর্তমান বসতি থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ওই এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে তারা জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে তাদের বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিভিন্ন শ্রমনির্ভর কাজে নিয়োজিত। সাভদা ঘেভরায় স্কুলসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    সরকার বলেছে, ‘বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সংঘাত বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি এবং হুমকি বেড়েছে। এমন সংবেদনশীল এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।’

    সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং কেন্দ্রের স্থায়ী আইনজীবী আশীষ দীক্ষিত আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন, বস্তিবাসীদের প্রত্যেককে এক বছরের জন্য একটি করে বিনামূল্যের মেট্রো কার্ড দেওয়া হবে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হবে।

  • ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের

    ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

    বুধবার নেতানিয়াহুর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়। রয়টার্সের দেখা চিঠিটিতে সিনেটের ৪৭ সদস্যের ডেমোক্র্যাটিক ককাসের ৪২ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ‘প্রাণঘাতী সহিংসতা’ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    পশ্চিম তীরে ২০২২ সাল থেকে বসতি স্থাপনকারী বা ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত নয়জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা আরও জোরালোভাবে তদন্তের জন্যও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সহিংসতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’। এর জেরে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে, বহু ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    পশ্চিম তীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইল সরকারের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ইসরাইলি সরকারের দূরত্ব বাড়ার সর্বশেষ উদাহরণ এই চিঠি। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কারণেও দলের অনেক নেতা ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

    চিঠিটি তৈরি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার। শুমার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

    গত সপ্তাহে কর্মকর্তারা জানান, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দলকে পাহারা দেওয়া এক ইসরাইলি ব্যক্তি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।

    সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা পক্ষ বিবেচনা না করে তা ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করতে ইসরাইলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না। কখনো কখনো হামলা চলার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নীরব থাকে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেছেন।

    চিঠিতে পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি ও ‘অবৈধ বসতি স্থাপনা’ নির্মাণের অনুমোদন বন্ধ এবং ইতিমধ্যে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা এবং চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির অনেক প্রার্থী নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের সমালোচনায় ক্রমশ সোচ্চার হয়েছেন।

    গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি ও বিদেশি নাগরিক নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়।

    গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়া এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যে অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ইসরাইলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক সহায়তার কয়েক বিলিয়ন ডলার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো বা পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

    পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত খুব বেশি মন্তব্য করেননি। তবে ইসরাইলে নিযুক্ত তাঁর রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের ‘ইসরাইলি সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চলতি মাসে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের কুসরা গ্রামের ওপর হামলা ও অবরোধে জড়িতদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

  • ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনও শতভাগ প্রস্তুত: কমান্ডার

    ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনও শতভাগ প্রস্তুত: কমান্ডার

    ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেছেন, দেশের আকাশসীমা রক্ষায় তাঁর বাহিনী শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সব সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দেশের আকাশসীমা সুরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন এলহামি। তিনি বলেন, ইরানের কী ধরনের সক্ষমতা রয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, তা বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘আজ ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পস—উভয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের সব সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ নজরদারি চলছে এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় আমরা প্রস্তুত।’

    এলহামি বলেন, শত্রুপক্ষের কৌশলগত ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা প্রমাণ করেছে, ইরানের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

  • আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করছেন।

    মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তাওহিদের বাণী নিয়ে পৃথিবীতে তাঁর আগমন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, ন্যায় ও সত্যের পথে চলা এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর শিক্ষা মানুষের মধ্যে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছে।

    ইসলামি ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। একই তারিখে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম ও ওফাতের স্মরণে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি বিশেষ মর্যাদার।

    জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আলোর বার্তা

    মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন তৎকালীন আরব সমাজ নানা কুসংস্কার, পৌত্তলিকতা, গোত্রীয় সংঘাত, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত ছিল। ইতিহাসে সেই সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    এই পরিবেশে মহানবী (সা.) মানুষকে একত্ববাদের দিকে আহ্বান জানান। তাঁর প্রচারের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, সাম্য, দয়া ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের শান্তি ও কল্যাণের বার্তা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।মহানবী (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ এবং মা আমিনা। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। ছয় বছর বয়সে তাঁর মা-ও ইন্তেকাল করেন। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও শৈশব থেকেই তাঁর চরিত্রে সততা, বিশ্বস্ততা, সংযম ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা যায়। এ কারণেই মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত হিসেবে অভিহিত করত।

    ওহি নাজিল ও নবুওয়াতের সূচনা

    ৪০ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব। এরপর তিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

    তিনি মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেন। তাঁর আদর্শে মানুষের মর্যাদা, পারস্পরিক ভালোবাসা, ক্ষমা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    মক্কায় ইসলাম প্রচারের সময় মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব, সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    দীর্ঘ ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানবজাতির কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেন। ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর শোকের ঘটনা হয়ে আছে।

    ইবাদত ও ধর্মীয় কর্মসূচি

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পালন করছেন। কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, নফল নামাজ, দোয়া-মোনাজাত ও দান-খয়রাতের পাশাপাশি অনেকেই নফল রোজা রাখছেন।

    দেশের বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও মানবতার জন্য তাঁর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতির বাণী

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও সাম্যের সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তিনি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর বাণী

    এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।”

    পরিবার, প্রতিবেশী, নারী ও শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও পিছিয়ে থাকা মানুষের অধিকার রক্ষায় মহানবী (সা.) যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা অনুসরণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আদর্শ মানুষে মানুষে বিভেদ দূর করে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী আয়োজন

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে গতকাল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    আয়োজনের মধ্যে রয়েছে মাহফিল, সম্মেলন, সেমিনার, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, প্রকাশনা ও প্রদর্শনী। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসব অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হবে।

    এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ইসলামি বই ও ধর্মীয় সাহিত্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে।

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করছেন। তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই হোক এ দিনের অন্যতম প্রত্যাশা।

  • সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশে আনা হবে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ (বিজি ৩৪০) ফ্লাইটে তাদের লাশ বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

    মারা যাওয়া ৯ জনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন– নওগাঁর মো. ফরিদ, মো. রুবেল প্রামানিক, মো. সোহেল রানা, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, আব্দুল জলিল সরদার, নাটোরের রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর মো. শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

    লাশগুলো তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে বিমানবন্দরের কার্গো গেটে হস্তান্তর করা হবে।

    গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি উড়ন্ত বিমানও ভূপাতিত করতে পারবে চীন

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি উড়ন্ত বিমানও ভূপাতিত করতে পারবে চীন

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি উড়ন্ত বিমানও ভূপাতিত করতে পারে চীনের ‘নজিরবিহীন’ অস্ত্র। এমন অস্ত্রের মজুদ রয়েছে চীনের হাতে। চীন এমন হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি) তৈরি করেছে। এগুলো দিয়ে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু, যেমন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বিমান ধ্বংস করতে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    চীনের অস্ত্রভাণ্ডারে এই নতুন সক্ষমতা এমন এক সময়ে যুক্ত হলো, যখন ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং দীর্ঘপাল্লার হামলার অস্ত্রের সরবরাহ সংকটে রয়েছে। নতুন এই অস্ত্র আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান, এয়ারবোর্ন আর্লি-ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) বিমান এবং উড়ন্ত কমান্ড পোস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে

    এর মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৪বি নাইটওয়াচও রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তি ব্লুমবার্গকে জানান, চীনের সামরিক বাহিনী কিছু হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রেও আকাশ থেকে আকাশে হামলার সক্ষমতা যুক্ত করেছে। পাশাপাশি কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে জাহাজবিধ্বংসী সক্ষমতাও সংযোজন করা হয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, চীনই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি) পরিচালনা ও উন্নয়ন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উন্নয়ন চীনের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের প্রচেষ্টার বড় ধরনের সম্প্রসারণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার চীনের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়; এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ১৫০টিরও বেশি।

    হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল বা এইচজিভি হলো এমন একটি ওয়ারহেড, যা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে হাইপারসনিক গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পথে দিক পরিবর্তন করতে পারে।

    ফলে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ওয়ারহেডের তুলনায় এর পাল্লা বাড়ে এবং প্রতিপক্ষের জন্য এটিকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। চীনের ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উৎক্ষেপিত একটি এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এই দূরত্ব চীন থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি গুয়াম পর্যন্ত দূরত্বের তুলনায় কিছুটা কম।

    চীনের আরও উন্নত ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার। এর অর্থ হলো, সম্ভাব্যভাবে হাওয়াই পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুও এর আওতায় আসতে পারে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উদ্ভূত কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে এত দূরের একটি বিমানকে আক্রমণ করা ব্যয়বহুল, জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

    সর্বোচ্চ পাল্লায় ছোড়া হলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এ কারণে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল এবং নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন হয়।

  • পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মারা যাওয়া ১০ নবজাতকের মধ্যে আটজনকে বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ, ওই আট শিশুর কেউ অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে, আবার কেউ নার্সিংহোমে জন্মেছিল।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আনা এসব নবজাতকের মধ্যে কারও শ্বাসকষ্ট, কারও জন্ডিস এবং কারও হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা ছিল। এসব কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘সম্প্রতি মালদা মেডিক্যালে এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র দুজনের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যালে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত পাঠানো হবে।

  • ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রী কমেছে ৩১ শতাংশ

    ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রী কমেছে ৩১ শতাংশ

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্নের জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ডিএক্সবি) বছরের প্রথম ছয় মাসে যাত্রী চলাচল এক বছরের ব্যবধানে ৩১.৩ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে বিমানবন্দরটি দিয়ে ৩ কোটি ১৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ।

    বুধবার বিমানবন্দরটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দুবাই এয়ারপোর্টস প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধ ছিল ডিএক্সবির ইতিহাসের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময়। আঞ্চলিক আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ও ফ্লাইট সূচিতে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে যাত্রী ও বিমান চলাচল উভয়ই কমেছে।

    ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ ও বিকল্প পথে পরিচালনার ঘটনা বেড়ে যায়। এর প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুবাইতেও পড়ে। একই সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে ছড়িয়ে পড়ে।

    তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে যাত্রী চলাচলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে ডিএক্সবি দিয়ে ৩৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। মে মাসে তা বেড়ে ৪৫ লাখ এবং জুনে ৫০ লাখে পৌঁছায়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট যাত্রী ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম।

    বিমান চলাচলের সংখ্যাও কমেছে। প্রথম ছয় মাসে ডিএক্সবিতে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০টি উড়োজাহাজ চলাচল করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২.১ শতাংশ কম। একই সময়ে কার্গো পরিবহনও ২৮.৭ শতাংশ কমে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৪০ টনে দাঁড়িয়েছে।

    যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে সতর্ক অবস্থান নিলেও এখন ধীরে ধীরে ফ্লাইট ও সক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে। ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যাত্রী চলাচল আরো বাড়বে বলে আশা করছে দুবাই এয়ারপোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পল গ্রিফিথস জানিয়েছেন, সক্ষমতা ফিরতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাহিদাও দ্রুত সাড়া দিচ্ছে।

    যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছর ডিএক্সবিতে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী পরিবহনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রথমার্ধের বড় ধরনের ধাক্কার কারণে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • নেপালে ১০৫ ভারতীয় নিখোঁজ

    নেপালে ১০৫ ভারতীয় নিখোঁজ

    তিব্বত থেকে হঠাৎ নেমে আসা বিপুল জল ও কাদার স্রোতে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। দেশটির রাসুয়া জেলায় নদীতীরবর্তী প্রায় এক ডজন গ্রাম, বাজার, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। নিখোঁজ রয়েছেন ১০৫ ভারতীয়সহ শত শত বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

    নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর কমপক্ষে ৩৮৪ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। এ ছাড়া ৯৩ জন নেপালি পর্যটকও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। নিখোঁজদের তালিকায় ৪১ জন পুলিশ সদস্য ও ১৪ জন শুল্ক দপ্তরের কর্মীও রয়েছেন।

    মুহূর্তেই তলিয়ে গেল জনপদ

    বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্তের দিক থেকে আচমকা বিপুল জলরাশি ঢুকে পড়ে ভোতেকোশি নদীতে। প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে নদীতীরবর্তী বসতি, বাজার, রাস্তা ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একের পর এক সেতু স্রোতের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ে।

    রাসুয়া জেলার স্যাব্রুবেশি ও তিমুরে বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় পানির স্রোত। উত্তরগয়া গ্রামীণ পুরসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান চামেলি গুরুংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, স্যাফ্রুবেশি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশুলি ও বাত্তারসহ প্রায় এক ডজন গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রবল স্রোতে স্থানীয় একটি হেলিপ্যাডও ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সেখানে অবতরণ করতে পারেনি। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বৃষ্টি ছাড়াই এমন ভয়াবহ বন্যা কেন?

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও এমন ভয়াবহ বন্যা কীভাবে হলো? স্থানীয়দের দাবি, উত্তর নেপালে গত কয়েক দিনে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। এমনকি বুধবার সকালে রাসুয়া এলাকায় ছিল রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেপালের স্থানীয় অতিবৃষ্টির কারণে এই আকস্মিক বন্যা হয়নি।

    স্যাটেলাইট তথ্যের বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দিনে তিব্বতের দিকে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এর ফলে সেখানে কোনো বাঁধ বা জলাধার ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদামাটি নেমে এসে ভোতেকোশি নদীতে ঢুকে পড়তে পারে। সেই স্রোতই আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করেছে বলে প্রাথমিক ধারণা। তবে কোনো হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে পানি নেমে এসেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত, অন্ধকারে পুরো জেলা

    বন্যার স্রোতে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ স্থানীয় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোপুরি ভেসে গেছে। এতে রাসুয়া জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে। রাতের উদ্ধার অভিযান ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    নিম্নাঞ্চলেও বাড়ছে ঝুঁকি

    বিপর্যয় শুধু রাসুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। হড়পা বানের ফলে ভোতেকোশি নদীর পানি উপচে নিম্ন অববাহিকার ত্রিশূলি নদীর পানিও বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। এতে নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, ধাদিংয়ের গলছি এলাকাতেও নদীর পানি বেড়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্যার পানি মুগলিন অতিক্রম করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া পৃথ্বী হাইওয়ে এবং মুগলিন-নারায়ণঘাট সড়কে যাতায়াত এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে প্রশাসন।

    জরুরি বৈঠক, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হচ্ছে।

    উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী কাজ করছে। চিকিৎসা দল, স্কাউট ও রেড ক্রসের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাকর্মী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনেও বাড়ছে ঝুঁকি

    নেপালে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও ভূমিধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। অতীতেও নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    এখনো স্পষ্ট নয় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা

    ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কতজন মারা গেছেন, কতজন নিখোঁজ এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার পরই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ মুহূর্তে নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধান এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নেপাল সরকার। পাশাপাশি এই আকস্মিক বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণের কাজও চলছে।

  • চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে:ট্রাম্প

    হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে:ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা সব জলমাইন অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    তার দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী স্যাটেলাইট ও স্পেস ফোর্সের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ মাইনমুক্ত করেছে।

    গতকাল মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, হরমুজে আবার মাইন পাতা হলে তা ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

    ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্যাটেলাইট ও স্পেস ফোর্সের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির প্রতিটি অংশ তল্লাশি চালিয়েছে। মাইন পাতা ঠেকাতে ফের কোনো যুদ্ধজাহাজ বা নৌযান সেখানে পাঠানো হলে সেটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ছয় মাস লাগার কথা, শেষ হলো চার মাসেই

    ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রণালিটির এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।

    অবরোধ কার্যকর রাখতে হরমুজ প্রণালিতে এক ডজনের বেশি জলমাইন স্থাপন করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

    পরিস্থিতির মধ্যে গত মার্চের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরে এপ্রিলের মাঝামাঝি মাইন অপসারণের জন্য ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামে বিশেষ ধরনের জাহাজ সেখানে মোতায়েন করে মার্কিন বাহিনী।

    মাইন অপসারণের কাজ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

    তবে সেই সময়সীমার চার মাসের মধ্যেই মাইন অপসারণের কাজ শেষ করার দাবি করলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজে নতুন করে মাইন পাতা হলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ, নগদ টাকা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ ইমন আহম্মেদ (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ইমন আহম্মেদ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    র‍্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমন আহম্মেদকে আটক করা হয়।

    পরে তাঁর কাছ থেকে ৫৪২ বোতল স্ক্যার্ফ সিরাপ ও ১১০ বোতল উইনক্যারেক্স সিরাপ, মোট ৬৫২ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর হেফাজত থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা সিরাপগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এসব সিরাপ বাংলাদেশে এনে মাদক হিসেবে সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।

    র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিরাপ, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় আটক ইমন আহম্মেদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু

    পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু

    ইসলামাবাদে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের গাইনোকলজি ওয়ার্ডের নবজাতক কক্ষে আগুন লেগে অন্তত ১৫ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার সময় নার্সারিতে ১৬ জন নবজাতক ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    উদ্ধারকারী সংস্থার সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নার্সারির ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়।

    পিআইএমএস কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার সময় নার্সারিতে থাকা ১৬ নবজাতকের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বাকি ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুনের ঘটনায় ১৪টি শিশু সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

    উদ্ধারকর্মীরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল এখন ঠান্ডা করার কাজ চলছে।

    এ ঘটনায় আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আগুন লাগার কারণ এবং কীভাবে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখবে।

  • সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা-প্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসা-সেবা বিষয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

    গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত বা কত দিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত থাকবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর।

    পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন ভিসা-প্রার্থী শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে ভিসা-প্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।

    সাক্ষাৎকারের তারিখ পরে জানানো হবে

    ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের যেসব সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত ছিল, তাদের ই-মেইল করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে তার প্রশাসন।

    ট্রাম্পের এই অভিযানের আওতায় বিভিন্ন কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং ইসরাইলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, এসব কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ

    অভিবাসনবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য কিছু আইনি বাধার মুখেও পড়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।

    আদালত বলেন, ওই নীতি কার্যকর করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যেই এবার বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা এল।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা

    ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারও এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

    সংগঠনগুলোর আরো অভিযোগ, কঠোর অভিবাসননীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাতিগত পরিচয়ের কারণে তাদের সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকেও কঠোর করেছে। এবার বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেই কঠোরতারই আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • চীনমুখী হচ্ছে মালয়েশিয়া

    চীনমুখী হচ্ছে মালয়েশিয়া

    তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকার করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যে দেশটির দীর্ঘদিনের জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুয়ালালামপুর কি ধীরে ধীরে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে—এমন আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আনোয়ারের মন্তব্যকে মালয়েশিয়ার কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার বলেন, তিনি তাইওয়ানকে ‘চীনের অংশ’ হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, বিষয়টি ‘সর্বত্র স্বীকৃত’।

    তবে এর পরই বিতর্ক তৈরি হয় তার আরেক মন্তব্য নিয়ে। শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলন’ সম্ভব না হলে বেইজিং শক্তি প্রয়োগ করলে তিনি তার নিন্দা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার মালয়েশিয়ার উদাহরণ টানেন।

    তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কোনো অঙ্গরাজ্য বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেষ্টা করলে দেশের ‘অখণ্ডতা ও ঐক্য রক্ষায়’ তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন। আনোয়ারের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান ‘চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ’। চীনকে পুনরায় একীভূত করতেই হবে এবং করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অন্যদিকে তাইওয়ান সরকার আনোয়ারের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, চীনের প্রতি আনোয়ারের ‘একপেশে সমর্থন’ মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাইওয়ানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাইওয়ান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ উৎপাদক। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোর মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার তার বক্তব্যের কিছুটা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া চীনের অবস্থানকে সম্মান করে। তবে তাইওয়ান প্রণালির উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় কুয়ালালামপুর।

    সাবাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

    তাইওয়ান নিয়ে মন্তব্যের কয়েক দিন পরই আনোয়ার আবার আলোচনায় আসেন বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশিয়ান অঙ্গরাজ্য সাবাহর প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে।

    প্রতিবেশী ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন।

    ফিলিপাইন বর্তমানে বালাবাক দ্বীপে সামরিক স্থাপনা আধুনিকায়ন করছে। দ্বীপটি মালয়েশিয়ার ব্যাংগি ও বালামবানগান দ্বীপ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে।

    সম্প্রতি বালাবাককে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের ‘এনহ্যান্সড ডিফেন্স কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ইডিসিএর আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে সেখানে থাকা নির্দিষ্ট স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার রয়েছে।

    আনোয়ারের এই মন্তব্যের পর পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মধ্যে পুরোনো একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মালয়েশিয়া পশ্চিমের কাছ থেকে দূরে সরে চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

    চীনের সঙ্গে বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক

    মালয়েশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে চীন দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

    চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পেরও অন্যতম বড় সুবিধাভোগী মালয়েশিয়া। ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তার একটি উদাহরণ। ইসরাইলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া। আনোয়ারের নেতৃত্বে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতায় দেশটির অবস্থান আরো জোরালো হয়েছে।

    তবে এসব বিষয়কে মালয়েশিয়ার চীনের দিকে কৌশলগতভাবে ঝুঁকে পড়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। নটিংহাম মালয়েশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক চি মেং তান বলেন, তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বীকৃতি নতুন কিছু নয়। ১৯৭৪ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তুন আবদুল রাজাকের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতেই এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

    তার মতে, নতুন বিষয় হলো আনোয়ারের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য। কারণ, ‘এক চীন’ নীতির মধ্যে এ ধরনের অবস্থান সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়। তান আরো বলেন, সেপ্টেম্বরে আনোয়ারের সম্ভাব্য চীন সফরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। বেইজিংকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেও তিনি এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন।

    সাবাহ নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে পুরোনো বিরোধ

    বালাবাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আনোয়ারের উদ্বেগের সঙ্গে ফিলিপাইনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সাবাহ বিরোধেরও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    ১৯৬৩ সালে সাবাহ মালয়েশিয়ার অংশ হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটির ওপর দাবি করে আসছে ফিলিপাইন। মালয়েশিয়া বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ম্যানিলা সাবাহর ওপর তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। ফিলিপাইনের দাবি, দেশটির ২০২৪ সালের মেরিটাইম জোনস অ্যাক্টে সাবাহর একটি অংশের ওপর তাদের ‘বিদ্যমান ও বৈধ দাবি’ বহাল রয়েছে।

    জুলাইয়ে এ বিষয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় মালয়েশিয়া। ফিলিপাইনের বর্ধিত মহীসোপানের দাবি সাবাহর জলসীমার ওপর হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করে কুয়ালালামপুর।

    অধ্যাপক তানের মতে, বালাবাকে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আনোয়ারের মন্তব্যকে চীনপন্থী অবস্থান না ধরে ‘নিজের সীমান্ত রক্ষার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

    পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও অটুট

    বোর্নিওতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের আরেকটি কারণ দক্ষিণ চীন সাগর। বিতর্কিত এই সাগরে মালয়েশিয়াও দাবিদার দেশ। চীনের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও এ বিষয়ে ফিলিপাইনের তুলনায় মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে কম সরব।

    তবে চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও জোরালো রেখেছে কুয়ালালামপুর।

    এর অন্যতম উদাহরণ ‘ফাইভ পাওয়ার্স ডিফেন্স অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা এফপিডিএ। এতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য রয়েছে।

    এটি বাধ্যতামূলক কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। তবে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সদস্যদেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করার অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় প্রতিবছর ‘বেরসামা শিল্ড’ ও ‘বেরসামা লিমা’ নামে দুটি বড় সামরিক মহড়াও হয়।

    মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের বাটারওয়ার্থে দেশটির বিমানঘাঁটিতে এফপিডিএ-এর বিমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের সদর দপ্তর রয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

    অস্ট্রেলিয়া বাটারওয়ার্থে একটি রাইফেল কোম্পানিও মোতায়েন রেখেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় সামুদ্রিক টহল বিমান মোতায়েনের মাধ্যমে নিয়মিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এফপিডিএ-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়া এ অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করছে। সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি কুয়ালালামপুরের জন্য একধরনের নীরব প্রতিরোধও তৈরি করছে।

    চীনের ঘনিষ্ঠতা, কিন্তু জোট নয়

    যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিমা বিনিয়োগ থেকেও লাভবান হচ্ছে মালয়েশিয়া।

    যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল লোয়েবেল বলেন, মালয়েশিয়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণে কোনো বড় শক্তির সঙ্গেই দেশটি গভীরভাবে জোটবদ্ধ হয়ে পড়েনি।

    তার মতে, অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মালয়েশিয়া চীনের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জোট বাঁধার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন না।

    লোয়েবেল আরো বলেন, তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলো মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। আনোয়ার বিষয়টি জানেন এবং এটিকে স্বাগতও জানান।

    সব মিলিয়ে তাইওয়ান নিয়ে আনোয়ারের সাম্প্রতিক মন্তব্য চীনের প্রতি মালয়েশিয়ার ঝুঁকে পড়ার আলোচনা জোরালো করলেও, দেশটির সামগ্রিক পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিতে এখনো ভারসাম্যের ছাপ স্পষ্ট। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখাই আপাতত কুয়ালালামপুরের কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।

  • নিউইয়র্কে আরএসএসের অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি :হিন্দুস’র

    নিউইয়র্কে আরএসএসের অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি :হিন্দুস’র

    ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সংক্ষেপে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের উপস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একটি অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা।

    এই বিতর্কিত আয়োজন বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রভাবের বিস্তার নিয়ে মেয়রকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    মিডলইস্ট আই মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জানায়, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির অনুঘটক হিসেবে পরিচিত শতবর্ষী সংগঠন আরএসএসের শীর্ষ নেতার এই সফরের প্রতিবাদে স্থানীয় সিটি হলের সামনে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক শ্রাব্যা তাদেপল্লি এক বিবৃতিতে বলেন, মোহন ভগবত সাধারণ হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তিনি একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন, যা ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর হামলা, বৈষম্য ও ভীতি সৃষ্টিতে ইন্ধন যুগিয়েছে। নিউইয়র্কের মতো বহুত্ববাদী শহরে এ ধরনের উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে একতার মোড়কে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাড ল্যান্ডার ও শাহানা হানিফের মতো প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ ডজনখানেক মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন ইতোমধ্যেই মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই আয়োজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ইতিহাসবিদ ও গবেষক এডওয়ার্ড অ্যান্ডারসনের মতে, ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে আরএসএস। নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে সংগঠনটির দৃশ্যমান প্রভাব জাহির করা এবং সেই চিত্র ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করার মতলব রয়েছে।

    ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘু মুসলমান ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি অতীতে ভারতে ক্রমবর্ধমান এই উগ্র হিন্দুত্ববাদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি মেয়র হওয়ার আগে আয়োধ্যা ইস্যুতে বিতর্কিত একটি প্রদর্শনী ভারতীয় শোভাযাত্রা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর পদক্ষেপগুলো বাস্তবমুখী নাকি কেবলই রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষার চেষ্টা—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের মতো সিন্ডিকেট ও অনিয়মের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

    ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই এমওইউ কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে বলে ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত অনেক এজেন্সিকে তারা নিজেরাও চেনেন না।তার অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং এতে বড় ধরনের দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিন্ডিকেট বা এ ধরনের তৎপরতার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

    এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় রোববার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটিকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর চাহিদার জন্য অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপর মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

    কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকারের পর কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগকর্তাকে লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে কর্মীর নিজ দেশে মালয়েশিয়ার দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

    এরপর অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সবশেষে ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহের পর কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন।

    নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য এবং অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা জানতে মালয়েশিয়া সরকারের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

  • গাজার ‘ঘুড়ি ওড়ানো শৈশব’ কেড়ে নিল ইসরায়েল

    গাজার ‘ঘুড়ি ওড়ানো শৈশব’ কেড়ে নিল ইসরায়েল

    গাজার শিশুদের কাছে একসময় ঘুড়ি ওড়ানো ছিল শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দের অংশ, কিন্তু এখন একটি ঘুড়ি সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকে উড়ে গেলেও সেটি নতুন করে হামলার অজুহাত হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন, গাজা থেকে ওড়ানো ঘুড়ি ও বেলুনকে এখন থেকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সম্প্রতি গাজা থেকে উড়ে আসা অন্তত চারটি ঘুড়ি সীমান্তসংলগ্ন ইসরায়েলি কিবুতজ নাহাল ওজে গিয়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘুড়িগুলো পরীক্ষা করে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক পায়নি এবং এগুলোকে বিপজ্জনক বলেও মনে করেনি। তবু এই ঘটনায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, সেনাবাহিনীকে গাজা থেকে ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করেন, এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে তা বন্ধ করতে ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। কাটজ বলেন, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, একটি বেলুন বা ঘুড়িকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।

    এই হুঁশিয়ারিতে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তর গাজার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মারওয়ান আল-হারাজিন বাস্তুচ্যুত হয়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁবুর আশপাশে শিশুরা প্রায়ই ঘুড়ি ওড়ায়। কিন্তু ইসরায়েলের হুমকির পর অভিভাবকদের এখন সন্তানদের ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।

    হারাজিন বলেন, ইসরায়েলের যেকোনো হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ, হামলার জন্য তাদের সামান্য অজুহাতই যথেষ্ট।

    তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুখাইমার আবুসাদা বলেন, বর্তমানের ঘুড়ি ওড়ানোর সঙ্গে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের পরিস্থিতিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। সে সময় ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের সময় গাজা থেকে আগুন লাগানোর উপকরণযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ইসরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছিল, যা বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন শিশুদের হাতে থাকা ঘুড়িগুলো সাধারণ খেলনা বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    আবুসাদার আশঙ্কা, ইসরায়েল পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র টেনে গাজায় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনিদেরও বিষয়টির সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করে সতর্ক থাকা উচিত।

    আবুসাদা বলেন, গাজার মানুষ এমনিতেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একটি শিশুর ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা বা সংঘাত সৃষ্টি হলে তা সহ্য করার মতো অবস্থায় তারা নেই।

  • ইরান যুদ্ধ সমর্থন করেন মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক

    ইরান যুদ্ধ সমর্থন করেন মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক

    ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন সংঘাতের প্রাথমিক দিনের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ যুদ্ধের প্রভাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাকে সর্বনিম্ন রেকর্ডে ধরে রাখতে প্রভাব ফেলেছে। গতকাল সোমবার রয়টার্স/ইপসোস জরিপে এমনটা উঠে এসেছে।

    চার দিনব্যাপী চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। মার্চ মাসের রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ। চলতি মাসের শুরুতে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। নিজেদের রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় এই হার কমে গেছে।

    রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ এ যুদ্ধকে সমর্থন করেন। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৭৭ শতাংশ।

    চলতি বছর ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টানা দ্বিতীয় জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কাজকর্মের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা ট্রাম্পের প্রথম বা দ্বিতীয় মেয়াদের রয়টার্স/ইপসোস জরিপগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

    ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হলেও ইরান অঞ্চলটি থেকে তেল রপ্তানির ওপর কার্যত অবরোধ বজায় রেখেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি ঠেলে দিয়েছে।

    ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করার অঙ্গীকার করেছেন। ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গতকাল দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করার সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে কোনো জরিমানা আরোপ করেননি। এতে বোঝা যাচ্ছে, এ সংঘাত প্রশাসনের জন্য কতটা জটিল হয়ে উঠেছে।

    দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কা

    সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষের আশঙ্কা, এ যুদ্ধ ‘দীর্ঘ সময় ধরে’ চলবে। চলতি মাসের শুরুতে এই হার ছিল ৮০ শতাংশ।

    ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ছয় মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে প্রতি গ্যালনে এক ডলারের বেশি বেড়ে গেছে।

    এ পরিস্থিতি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তাঁদের স্বল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে যেসব নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন, তাঁরা বেশি উদ্বিগ্ন।

    আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কংগ্রেস নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জরিপে অংশগ্রহণকারী নিরপেক্ষ ভোটাররা রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের বেশি পছন্দ করেছেন (৩৩ শতাংশ বনাম ১৯ শতাংশ)।

    দেশব্যাপী ১ হাজার ২১৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছিল। এতে ভুলের মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল ৩ শতাংশের কমবেশি।

  • ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার কড়া বার্তা দিল চীন

    ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার কড়া বার্তা দিল চীন

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের সকল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের সীমানার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

    বেইজিং মনে করে, দুই দেশের এই স্বাভাবিক সহযোগিতায় তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করা মোটেও উচিত নয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র লিন জিয়ান এই বার্তা স্পষ্ট করেন।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত আসবে।

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বেইজিং পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। চীনের মূল ভূখণ্ড বা তাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা রক্ষায় চীন যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

    উল্লেখ্য, চীন ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসলেও বেইজিং শুরু থেকেই বলে আসছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে আরোপিত কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত নয়। ফলে মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করেই চীন-ইরান বাণিজ্য অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং।

  • আমি নিজেই ভুয়া খবর বানাই’:ইসারাইলি কর্মকর্তা

    আমি নিজেই ভুয়া খবর বানাই’:ইসারাইলি কর্মকর্তা

    ‘সত্য বা তথ্য—এসবের এখন আর কোনো দাম নেই। আমি নিজেই ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজ’ তৈরি করি।’ সম্প্রতি এমনই এক বিস্ফোরক ও অবিশ্বাস্য স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ কর্মকর্তা এলি হাজান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই স্বীকারোক্তির ভিডিওটি হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    মিডলইস্ট মনিটর জানিয়েছে, এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিওচিত্রটি ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন। লাখ লাখ লাইক আর হাজার হাজার রিপোস্ট ও মন্তব্যে সয়লাব সামাজিক মাধ্যম। ভিডিওতে এলি হাজানকে খোলামেলাভাবে বলতে শোনা যায়, প্রতিপক্ষকে জবাব দিতেই তিনি এসব ভুয়া খবর তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত যোগাযোগ কৌশল অনুসরণের পক্ষে সাফাই গান তিনি।

    ট্রাম্পের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একটি যুদ্ধের ময়দান মনে করেন হাজান। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্যযুদ্ধে জয়ের জন্য তথ্যের সততা বা সত্যতার কোনো গুরুত্ব নেই। উল্লেখ্য, হাজান ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী যোগাযোগ ব্যক্তিত্ব। তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ও সিঙ্গাপুরে ইসারাইলের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি নেতানিয়াহু তাঁকে সরকারি প্রেস অফিসের (জিপিও) পরিচালক করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    গাজায় ইসারাইলি বাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও বর্বতার পর বিশ্বজুড়ে ইসারাইলের সমর্থন তলানিতে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক দরবারে নিজেদের ধসে পড়া ভাবমূর্তি জোড়াতালি দিতে ও অপপ্রচার সামলাতে ইসারাইল এখন রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ঢালছে। দেশটির প্রচারযন্ত্র বা ‘হাসবারা’র বাজেট এক লাফে ৭৩ কোটি ডলারে নেয়া হয়েছে। বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করতে ও ইসরায়েলি বয়ান জোর করে গেলাতে সামাজিক মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের পোস্টপ্রতি সাত হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এই হাটে হাঁড়ি ভাঙার ঘটনায় ইসারাইলি মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের আসল মুখোশটি আবারও গোটা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হলো।

  • আইআরজিসি কমান্ডারদের তথ্য দিলে ১ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

    আইআরজিসি কমান্ডারদের তথ্য দিলে ১ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড বা আইআরজিসির কয়েকজন কমান্ডারদের ব্যাপারে তথ্য দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের সাথে সংশ্লিষ্ট ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় লিখেছে, ‘এই ব্যক্তিরা বিপ্লবী গার্ডের এমন সব ইউনিটের নেতৃত্ব দেন, যারা সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং ধ্বংসাত্মক সাইবার অভিযানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত হেনেছে।’

    এই তালিকায় রয়েছেন বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার আহমদ ভাহিদি, খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দফতরের কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এবং গার্ডের সাইবার বিভাগের কমান্ডার হামিদরেজা লাশগারিয়ান।

    তালিকায় আরো রয়েছেন আইআরজিসির সাবেক মহাকাশবাহিনী কমান্ডার সাঈদ আগাজানি এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের কমান্ডার মাজিদ খাদেমি। সাম্প্রতিক যুদ্ধে তারা দু‘জনই নিহত হন।

  • মিসরের পাঠ্যবইয়ে ফিরলো আদ দুরা!

    মিসরের পাঠ্যবইয়ে ফিরলো আদ দুরা!

    বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ফিলিস্তিনি শিশু মুহাম্মদ আদ দুরার স্মৃতির মুখোমুখি হচ্ছে মিসরের নতুন প্রজন্ম। ২০০০ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার ইতিহাস নিয়ে তৈরি হাইস্কুল পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নিয়েছে আদ দুরার সেই কালজয়ী ছবি।

    মিডলইস্ট মনিটর জানিয়েছে, নতুন পাঠ্যক্রমের ‘দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা ২০০০’ শীর্ষক পাঠে স্থান পাওয়া এই ছবির নিচে সরাসরি লেখা রয়েছে— “মুহাম্মদ আদ দুরাকে গুলি করার মুহূর্ত”। সংঘাত ও শান্তি প্রচেষ্টার ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হিসেবে ছবিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের এক অনন্য মানবীয় দলিল হয়ে উঠেছে। ২০০০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গাজার রাস্তায় ইসরাইল বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণের মুখে কংক্রিটের ব্লকের পেছনে বাবার কোলে কুঁকড়ে থাকা শিশু আদ দুরাকে নির্মমভাবে ঝাঁজরা করে দিয়েছিল দখলদার সেনারা। সেই নির্মম দৃশ্যের ফুটেজ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

    সংঘাতের পেছনের তাজা রক্ত ও মানবীয় বার্তা

    পাঠ্যবইয়ে ছেলের ছবি ঠাঁই পাওয়ায় আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আদ দুরার বাবা জামাল আদ দুরা। তিনি বলেন, এর গুরুত্ব কেবল পাঠ্যবইয়ে মুহাম্মদের নাম বা ছবি চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে যে ইতিহাসের পাতায় তারা যেসব সংঘাত ও তারিখের কথা পড়ে, তার পেছনে ছিল সাধারণ মানুষ ও নিষ্পাপ শিশুরা, যারা কেবল ভয় আর নৃশংসতার মধ্য দিয়েই বাঁচেনি, চরম মূল্যও দিয়ে গেছে।

    আদ দুরার বাবা আশা প্রকাশ করেন, তার সন্তানের এই ট্র্যাজিক গল্প ফিলিস্তিন সংকটের রক্তভেজা রূপ বোঝার এক বড় দুয়ার হয়ে উঠবে। যাতে শিক্ষার্থীরা ইতিহাস ও রাজনীতির রাজপথ, যুদ্ধ বা চুক্তিকে কেবল শুষ্ক তারিখ হিসেবে না দেখে, রক্তমাংসের ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম হিসেবে উপলব্ধি করতে পারে—যেখানে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে অসহায় শিশুদের।

  • কালো দাগ মুক্ত সিরিয়া: খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা

    কালো দাগ মুক্ত সিরিয়া: খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা

    যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

    মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরিয়া বহু বছরের একটি ‘কালো দাগ’ থেকে মুক্ত হলো এবং দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের নতুন পথ খুলে গেল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    শারা এক ভাষণে বলেন, ‘আজ সিরিয়া একটি কালো দাগ ঝেড়ে ফেলেছে এবং তার অতীতের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় পেছনে ফেলে উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের পথে যাত্রা শুরু করেছে।’

    সোমবার ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে বহাল থাকা সিরিয়ার এই তকমা প্রত্যাহার করে। এর ফলে দেশটির ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিলের পথ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের সিরীয় শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতায় এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    একইসাথে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।

    শারা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এবং আমাদের পাশে থাকা সব বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগী দেশকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর আল-নুসরা ফ্রন্টের ওপর থাকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমাও প্রত্যাহার করেছে। সংগঠনটি পরবর্তীতে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে পরিচিত হয়।

    শারা একসময় এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা দ্রুতগতির সামরিক অভিযানে এইচটিএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    আল-নুসরা ফ্রন্ট আগে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা হিসেবে কাজ করত। তবে ২০১৬ সালে সংগঠনটি আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

    সিরিয়ার নতুন সরকার দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে দেশের অবকাঠামোর বড় অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র জুলাই মাসেই সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সে সময় এই পদক্ষেপকে শারার সরকারের প্রতি আস্থার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।

    সোমবারের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার জন্য ‘সমৃদ্ধির পথ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে থাকা শেষ বড় বাধাগুলো দূর করবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃএকীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে।

    সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ওয়াশিংটনের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি নতুন সিরীয় রাষ্ট্রের অঙ্গীকার’ প্রতিফলিত করে।

    সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বারনিয়েহ এই পদক্ষেপকে ‘সিরীয় কূটনীতির সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘সিরিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা, বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি আকর্ষণ এবং উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত একটি বড় দরজা খুলে দিয়েছে।’

  • চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটি থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানি ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে ইরানকে তেল রপ্তানিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।

    ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অভিহিত করেছে।

    ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ভারতের চার কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে এই নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তার প্রশাসন দেশটিকে অনেক সুযোগ ও ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ইরান চুক্তিতে রাজি না হওয়ায় তার প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করছে।

    ট্রাম্প বলেন, এটি হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

    ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, কোনো দেশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

    তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।

    মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোর্টেজ পার্টনার্স ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির ওপরও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করে। পিপি সফটটেক একই সময়ে আমদানি করেছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।

    এ ছাড়া প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি থেকে আসা রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ করা।

    নিষেধাজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বা কোনো মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাদের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৩ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনারহাট বিওপি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, গরু, শাড়ি, চকলেট, বিড়ি, সুপারি, সবজি ও মাদক বিয়ার জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

    এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে এসব চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামালগুলোর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

    দলে ফেরানো হয়েছে পেস বোলার নবীন উল হককে। ডান কাঁধের চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। দলে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাইয়ের মতো পেসার। অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও।

    দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবকেও। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোতের মতো নিয়মিত ক্রিকেটারেরাও আসছেন ভারতে। প্রথম উইকেটরক্ষক হিসাবে দলে রয়েছেন রহমাউল্লাহ গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে রয়েছেন নুর রহমান।

    এসিবির সিইও নাসিব খান জানিয়েছেন, ভারসাম্যযুক্ত দল নির্বাচন করা হয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং, স্পিন বোলিং-জোরে বোলিং, অভিজ্ঞতা-তারুণ্য সব কিছুরই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলি হবে ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর।

    আফগানিস্তান দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবিন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোত।

    রিজার্ভ: ইজাজ আহমেদজাই, শহিদুল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক।

  • তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনায় নেতানিয়াহুর সমালোচনা

    তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনায় নেতানিয়াহুর সমালোচনা

    তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে দেশটির গণমাধ্যম। তাদের আশঙ্কা, সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে বিরোধ বাড়তে থাকলে ইসরাইলের জন্য নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলে যেতে পারে।

    ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেছে, তার নীতির কারণে ইসরাইল আরেকটি ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে’ জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ১৮ আগস্ট উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

    হারেৎজের মতে, ইসরাইলের সামরিক হামলা দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হতে পারে না। তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত হলে এর বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে পত্রিকাটি সতর্ক করেছে।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট ও নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা ইসরায়েলের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন বা ‘অষ্টম ফ্রন্ট’ তৈরি করতে পারে। কূটনীতির পরিবর্তে প্রকাশ্য হুমকি ও রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে বলেও সতর্ক করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

    ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভেও দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খোলার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

    সিরিয়া ঘিরে মুখোমুখি তুরস্ক-ইসরাইল

    সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ইসরাইলের দাবি, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর আশঙ্কা থেকেই তারা হামলা চালিয়েছে। তবে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের এ ধরনের দাবির সমালোচনা করেছে।

    সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি বলেছেন, হামলার পর ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করেছে দামেস্ক। একই সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তুরস্কের সহায়তার প্রশংসা করেছেন তিনি। সিরিয়া তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছেন।

    এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের কোনো কারণ নেই। তার মতে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নেতানিয়াহু তুরস্ককে নতুন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরছেন।

    তুরস্ক-ইসরাইল উত্তেজনা এরই মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায় ছাড়িয়ে আইনি ও সামরিক ইস্যুতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্ক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে ইন্টারপোলে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

    ইসরাইলি গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক সমালোচনায় তাই প্রশ্ন উঠেছে—গাজা ও অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে থাকা ইসরাইল কি তুরস্কের সঙ্গে নতুন করে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়া উচিত?

  • নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

    নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা, খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।

    প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এ পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

    পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও ভোক্তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।

    মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদাম সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

    চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

    সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরো দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে।

    তিনি বলেন, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরো বেশি।

    ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করে বলে জানান তিনি।

    পণ্যের তালিকাও বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

    বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যু, স্থানান্তর বা অন্য কোনো কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

    টিসিবি সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকেও এগোচ্ছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পান।

    পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে তাদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

    ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি ভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

    নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। টিসিবি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যাতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমে।

    তিনি বলেন, পণ্য ক্রয় বাড়ানো এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোই সংস্থাটির লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, নতুন কোনো পণ্য চালুর আগে তারা জরিপ করেন। ভোক্তারা কোন পণ্য প্রয়োজন বলে জানালে তা সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। নতুন যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

  • ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বিশেষ নির্দেশকে কেন্দ্র করে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠেছে। তাকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ এবং চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।

    ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইমরানের পরিবার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করছে, কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছে।

    তবে বিতর্কের মূল বিষয় ইমরানকে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো—দেশটির অন্য বন্দিরা একই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে তারা কি একই সুবিধা পাবেন?

    পাকিস্তানের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরান খান অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি অন্য বন্দিদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তা আইনের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

    গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন

    সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সময় তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি আদালতের হাতে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরানের রক্তচাপ ১৪০/১০০ পান। তাকে রক্তচাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার রক্তচাপ ১৪০/৮০ পায় এবং প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দেয়।

    তবে এসব তথ্য গুরুতর চিকিৎসা জরুরি অবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর কয়েক দিন পর ২১ আগস্ট ইমরানের বোন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা খান সংবাদ সম্মেলনে তার ভাইকে ‘১০০ শতাংশ ফিট’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইমরানকে মানসিক নির্যাতন, একাকী রাখা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পরিবার দাবি করেছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় একটি অংশ তিনি হারিয়েছেন। সরকার অবশ্য এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে তার চোখের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হয়।

    পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৩ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর ইমরানের প্রায় ৩০ বার বিভিন্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে।

    অন্য বন্দিরা কি একই সুবিধা পাবেন?

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে চলমান বিতর্কে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—একই ধরনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে অন্য কোনো বন্দি আদালতের দ্বারস্থ হলে তাকেও কি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে?

    বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, কত দিন হাসপাতালে রাখা হবে এবং কখন তাকে কারাগারে ফেরানো হবে—এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    ইমরান খানের ঘটনা পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সামনে তাই একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইনের চোখে সব বন্দি কি সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন?

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।

  • সৌদি আরবকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ফরাসি

    সৌদি আরবকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ফরাসি

    ফরাসি কোম্পানিগুলোর কাছে সৌদি আরব এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। দেশটি উৎপাদন, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার ঘাঁটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

    সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে শিল্প ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৪৬টিতে। ওই বছর ১ হাজার ৬৬০টি নতুন শিল্প লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগমূল্য প্রায় ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো। একই সময়ে ১ হাজার ২০১টি কারখানা উৎপাদনে যায়।

    দেশটিতে বর্তমানে ৩৬টি শিল্পনগরী এবং ৭০০টির বেশি প্রস্তুত কারখানা রয়েছে। চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড যোগ্য প্রকল্পের ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারে।

    সৌদি আরবে ইতোমধ্যে শ্নাইডার ইলেকট্রিক, ভ্যালুরেক ও টারকেটের মতো ফরাসি কোম্পানি শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। টারকেট জেদ্দায় উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগও প্রতিষ্ঠা করেছে।

    রপ্তানি ক্ষেত্রেও সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ২০২৫ সালে দেশটির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ও পুনঃরপ্তানি ৮৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে এবং তা ১৮০টির বেশি দেশে গেছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে ৮৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    এদিকে রিয়াদকে আঞ্চলিক সদর দপ্তরের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। আঞ্চলিক সদর দপ্তর কর্মসূচির আওতায় রাজধানীতে ৭৫০টির বেশি কোম্পানি কার্যক্রম স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি ফরাসি কোম্পানি রয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত কর সুবিধা পেতে পারে।

    ফরাসি বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো, যা তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

    ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদি আরব এখন শুধু একটি বিনিয়োগের বাজার নয়; বরং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ব্যবসা ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • মোদির নামে মাছের বাজার: বিতর্ক তুঙ্গে

    মোদির নামে মাছের বাজার: বিতর্ক তুঙ্গে

    ভারতের গুজরাটের সুরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি পাইকারি মাছের বাজারের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাজারটির নাম ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ রাখার প্রস্তাবে মৎস্য ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আপত্তি জানালে উদ্বোধনের পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও নামসংবলিত ব্যানার সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

    সোমবার সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাজারটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ লেখা ব্যানার টানানো হয় এবং তাতে নরেন্দ্র মোদির ছবি ছিল। তবে সংগঠনের একাংশের বিরোধিতার পর মঙ্গলবার ব্যানারটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

    সুরাটের এই বাজারটি শহরের প্রথম পৌর করপোরেশন পরিচালিত পাইকারি মাছের বাজার। এতে ৮০টি মাছ বিক্রির দোকান বা আউটলেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

    বাজারটির নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র ও গুজরাট সরকার বাজারটির জন্য ৩ কোটি রুপি করে এবং সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন দেড় কোটি রুপি দিয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাজারের নামকরণ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়। বাজারে একটি প্লটের মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র লাশকারি নামকরণের বিরোধিতা করেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিরামিষভোজী হওয়ায় তার নামে মাছের বাজারের নামকরণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও পরিচয়ের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে নামটি সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানান।

    তবে সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালপেশ নাভসারিওয়ালা নামকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অর্থায়নে বাজারটি নির্মিত হয়েছে এবং ‘ব্লু রেভল্যুশন’ বা নীল বিপ্লবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের মৎস্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাই তার নামে বাজারটির নামকরণ করা গর্বের বিষয়। নাম প্রস্তাবের আগে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

    ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ ভারতের মৎস্য খাতের টেকসই ও দায়িত্বশীল উন্নয়নের মাধ্যমে ‘ব্লু রেভল্যুশন’ ঘটানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এর আওতায় আধুনিক পাইকারি মাছের বাজার, সুপারমার্কেট, খুচরা মাছের বাজার, মোবাইল ও জীবন্ত মাছের বাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে পাঁচ বছরে এ প্রকল্পে আনুমানিক ২০ হাজার ৫০ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

    এদিকে, বাজারটির নাম চূড়ান্ত করার ক্ষমতা এখনো পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজেশ গাঞ্জাওয়ালা জানান, উদ্বোধনের কয়েক দিন আগে ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাজারটির নাম প্রধানমন্ত্রী মোদির নামে রাখার প্রস্তাব পৌর করপোরেশনের কাছে পাঠায়। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সাংস্কৃতিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    পৌর করপোরেশনের সাংস্কৃতিক কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া একাধিক কমিটির একটি। তাদের সিদ্ধান্ত প্রথমে স্থায়ী কমিটির অনুমোদন পেতে হয়। এরপর তা পৌর করপোরেশনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সাধারণ বোর্ডে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া রয়েছে।

    ফলে উদ্বোধনের পর বাজারটির নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আপাতত প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকা ব্যানারটি ঢেকে রাখাই হয়েছে।

  • চীনের জে-১০সিই এত আলোচনায় কেন

    চীনের জে-১০সিই এত আলোচনায় কেন

    চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমানের গুলিতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং এ তথ্য এখন প্রমাণিত হয়েছে।

    জানা গেছে, চীনের তৈরি চেংদু জে-১০সি বর্তমানে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একক-ইঞ্জিন বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এর রপ্তানি সংস্করণের নাম জে-১০সিই। আকাশযুদ্ধ, ভূমি ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা—একই বিমান দিয়ে একাধিক ধরনের অভিযান চালানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক রাডার, দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত অ্যাভিওনিকস এবং তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়ের কারণে জে-১০সিইকে অনেক সময় পশ্চিমা ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।

    জে-১০ কী ধরনের যুদ্ধবিমান?

    জে-১০সিই হলো চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ-এর তৈরি একক-ইঞ্জিনের সুপারসনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এর নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মূল ডানার সামনে ছোট আকারের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পাখা রয়েছে এবং মূল ডানা ডেলটা আকৃতির। এই নকশা বিমানটিকে উচ্চ গতিতে ভালো নিয়ন্ত্রণ ও দিকপরিবর্তন করতে সাহায্য করে।

    উন্নত অস্ত্র বহন সক্ষমতার কারণে সামরিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চীনের সুপারসনিক, বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান জে-১০সি ফাইটার জেট। জে-১০ ফাইটার জেটের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে জে-১০সি প্রথম জনসমক্ষে আনা হয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। এটি চীনের তৃতীয় প্রজন্মের সুপারসনিক ফাইটার। উন্নত এভিওনিক্স সিস্টেম এবং বিভিন্ন অস্ত্রের সমন্বয়ে এটি স্বল্প ও মাঝারি পাল্লায় কার্যকর। একই সাথে, এটি ভূমি ও সমুদ্র উভয় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে।

    জে-১০সিতে একটি ‘বাম্প এয়ার-ইনলেট সিস্টেম’ আছে। জে-১০-এ ছিল অ্যাডজাস্টমেন্ট প্লেটসহ একটি এয়ার ইনটেক সিস্টেম। জে-১০সির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে এর অস্ত্র বহনের সক্ষমতায়। যেখানে জে-১০ যুদ্ধবিমানে রাখা যেত ১০টি অস্ত্র। জে-১০সিতে রাখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ৪০টিরও বেশি অস্ত্র। পুরনো জে-১০ যুদ্ধবিমানের তুলনায় নতুন জে-১০সি হলো প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক আধুনিক। জে-১০সি-এর রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং অস্ত্র—সবকিছুই একদম নতুন প্রজন্মের হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

    জে-১০সি আর জে-১০সিই-এর পার্থক্য কী?

    জে-১০সি হলো চীনের নিজস্ব বিমানবাহিনীর জন্য ব্যবহৃত সংস্করণ। জে-১০সিই হলো এর বিদেশে বিক্রির জন্য তৈরি সংস্করণ। চীনের বিমানবাহিনী ২০১৮ সালের এপ্রিলে জে-১০সি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনে নেয়। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন জানায়, বিমানটি উন্নত অ্যাভিওনিকস এবং বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এবং আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

    আলোচনায় থাকার পেছনের কারণ

    জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি অনেক কম জায়গায় ‘টেক অফ’ করতে পারে।

    অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ হামলা করলে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান অনেক কম সময়ে (রিঅ্যাকশন টাইম) স্বল্প জায়গার মধ্যে ‘টেক অফ’ করতে পারে। েরানওয়ের একটি অংশে শত্রুপক্ষ বোমা হামলা করলেও এই যুদ্ধবিমান অন্য অংশ থেকেই টেক অফ করতে পারবে।

    এছাড়া, এই যুদ্ধবিমান সিঙ্গেল ইঞ্চিন ফাইটার। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ম্যানুভারিং, অর্থাৎ ‘টপ ফাইট’ বা উঁচুতে যুদ্ধ করা যায়। টপ ফাইটের সময় দ্রুতগতিতে প্রচুর টার্নিং নিতে হয়। দ্রুত আকাশে ওঠার ক্ষমতা এই টপ ফাইটে প্রয়োজন। এই যুদ্ধ বিমান এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ ম্যানুভারিং করা সম্ভব। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের বিমানকে সহজে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব এই বিমান দিয়ে।

    আকাশ থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা উভয় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকেই এই জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সহজে ফাঁকি দিতে সক্ষম এর অ্যারো ডায়নামিকস ডিজাইনের কারণে। এই যুদ্ধবিমান ‘মাল্টিরোল’ ভূমিকাও পালন করে, অর্থাৎ ডিফেনসিভ এবং অফেনসিভ দুই ধরনের কাজই এই যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে করা যাবে। এছাড়া, এই যুদ্ধবিমানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ এর গতিবেগ। অর্থাৎ এই বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার ৪১৫ কিলোমিটার।

    রাফাল এবং জে-১০সি দুটোই চার দশমিক পাঁচ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, কিন্তু রাডারের ক্ষেত্রে জে-১০সি বিমান রাফালের চেয়ে শক্তিশালী বলে ধারণা করা হয়। বিমানবাহী রণতরী এবং ভূমিতে থাকা ঘাঁটি থেকে পরিচালনা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এই যুদ্ধবিমান।

  • ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বার্তা

    ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বার্তা

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলন ভারত সরকারের মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না এমন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়া, শেখ হাসিনাকে সেখানে আশ্রয় না দেওয়া, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকারের শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে দলটির পলিসি ও রিসার্চ–বিষয়ক উপকমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশইন না হয় এবং সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ হয়—এসব শর্তের ভিত্তিতেই ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।

    তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে শেখ হাসিনা যেখানে অবস্থান করছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসীই বা একে কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটি শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি অবমাননাকর ঘটনা হবে। এতে এই বার্তাই যাবে যে, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।’সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা’ শীর্ষক একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। এতে বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস–সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ–সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন–পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি এবং নতুন মোড়কে র‍্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় ও সেগুলোর বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

  • আজকের মুদ্রার বিনিময় হার 

    আজকের মুদ্রার বিনিময় হার 

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার নতুন বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করেই টাকার এই মান নির্ধারিত হয়েছে।

    মুদ্রাকেনাবেচা
    মার্কিন ডলার১২২.৫০০০১২২.৫৮০০
    ইউরো১৪৩.০৬৭৭১৪৩.১৭৩৪
    ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৭.০০৪২১৬৭.১৫০১
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৭.৮২০৩৮৭.৯৫১১
    জাপানি ইয়েন০.৭৭০৬০.৭৭১৩
    কানাডিয়ান ডলার৮৮.৯৬৮০৮৯.০৫৮৪
    সুইডিশ ক্রোনা১২.৯৩৭৪১২.৯৪৯৯
    সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৪৫৬৭৯৬.৫৭২৯
    চীনা ইউয়ান১৮.২২৫৬১৮.২৪৩০
    ভারতীয় রুপি১.২৭৯৯১.২৮১০
    শ্রীলঙ্কান রুপি২.৬৮৭২২.৬৮৯৮

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত দরের চেয়ে খোলাবাজারে মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হারের ওপরই নির্ভর করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ।

  • নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক

    নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক

    প্রায় তিন দশকের পুরনো বিধিমালাকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর যোগ্যতা-অযোগ্যতাসহ লাইসেন্সিং শর্ত, কার্যক্রম ও ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬’ হালনাগাদ করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কমিশন।

    সম্প্রতি আইন বিভাগের সিএমআরআরসি ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি আদেশ জারি হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও ঝুঁকিভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।

    এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি অনেক পুরনো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব আপডেট প্রয়োজন, সেগুলো করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্চেন্ট ব্যাংকারের লাইসেন্সিংয়ের শর্ত, কার্যক্রম এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়গুলো কী হওয়া উচিত, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এখানে মূল বিষয় হলো মার্চেন্ট ব্যাংকারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ। বিশেষ করে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকার বলা হচ্ছে, তাদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি ডিউটি বা বিশ্বস্ততার দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়েই বিধিমালা হালনাগাদ করা হবে।

    বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালাটি হালনাগাদ করতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা এবং সহকারী পরিচালক মেহরান আলী (সদস্য সচিব)। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাবসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনের কাছে।

    সূত্র বলছে, নতুন কাঠামোয় মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সক্ষমতার মানদণ্ড স্পষ্ট করা হবে। বিশেষ করে, ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব কী হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। গ্রাহকের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বার্থের সংঘাত, তথ্যের গোপনীয়তা, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করা যেতে পারে।

    পাশাপাশি ইস্যু ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে করপোরেট বন্ড, সুকুক, এসএমই তালিকাভুক্তি এবং বিভিন্ন কাঠামোবদ্ধ আর্থিক পণ্যে কোন ধরনের মার্চেন্ট ব্যাংকার কী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে, তা স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানভেদে সক্ষমতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় কার্যক্রম অনুমোদন সম্ভব হবে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগ দিয়ে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগাম নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ফলে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, পেশাগত মান ও বাজারের শৃঙ্খলা হবে শক্তিশালী।

    তথ্য বলছে, বর্তমানে কার্যকর ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি মূলত সেই সময়ের শেয়ারবাজারের কাঠামোকে সামনে রেখে তৈরি। এরপর বাজারের আকার, বিনিয়োগের ধরন ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন সময়ে সংশোধন আনা হলেও বিএসইসির ওয়েবসাইটে থাকা সংস্করণটি সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতা, নতুন আর্থিক পণ্য এবং পরিবর্তিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিধিমালাটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজন।

    নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্সিং ও কার্যক্রমের সীমা স্পষ্ট হবে। বিনিয়োগকারীর অর্থ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি বাড়বে। দুর্বল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে নতুন আর্থিক পণ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার পথ তৈরি হবে।

  • গ্রহের মর্যাদা ফিরে পাচ্ছে প্লোটো

    গ্রহের মর্যাদা ফিরে পাচ্ছে প্লোটো

    প্লুটোকে গ্রহ বলা হবে, নাকি বামন গ্রহ—এ বিতর্কের বয়স দুই দশক হলেও বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। ২০০৬ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘের (আইএইউ) সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বামন গ্রহ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করেন। তবে গত ২০ বছরে গ্রহ-ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও ধারণা অনেক বেড়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কি আবার পর্যালোচনা করার সময় এসেছে? প্লুটোকে কি আবার গ্রহের মর্যাদা দেওয়া উচিত?

    আইএইউর ভোটের কয়েক বছর আগ থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি অংশ সৌরজগতের নয়টি গ্রহের বদলে সংখ্যা আটটিতে নামিয়ে আনার এবং প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা বাতিলের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। ২০০০ সালে নিল ডিগ্রাস টাইসন নিউইয়র্কের হেইডেন প্ল্যানেটেরিয়ামের গ্রহ প্রদর্শনী থেকেও প্লুটোকে সরিয়ে দেন। তবে প্লুটোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরো আগে, ১৯৯০-এর দশকেই শুরু হয়েছিল। তখন নেপচুনের বাইরে কুইপার বেল্টে প্লুটোর মতো কক্ষপথে থাকা বেশ কিছু দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়া যায়।

    বিতর্ক তীব্র হয় ২০০৫ সালের জুলাইয়ে এরিস নামের একটি বস্তু আবিষ্কারের পর। সূর্য থেকে এরিসের দূরত্ব প্লুটোর চেয়েও বেশি এবং আকারো প্লুটোর কাছাকাছি। তখন প্রশ্ন ওঠে, এরিস যদি দশম গ্রহ হয়, তাহলে প্লুটোকে কীভাবে গ্রহ বলা হবে? আর যদি এরিস গ্রহ না হয়, তাহলে প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে রাখার যুক্তিই বা কী?

    এর এক বছর পর আইএইউর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সেখানে নানা জটিল প্রশ্ন নিয়ে মতবিনিময় করেন। একাধিক প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব আসে। কোনো কোনো প্রস্তাবে স্বীকৃত গ্রহের সংখ্যা ১৪ পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও বলা হয়। শেষ পর্যন্ত প্লুটোকে বামন গ্রহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

    আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল শুধু ‘পুনঃশ্রেণিবিন্যাস’। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি অনেকটা প্লুটোর ‘পদাবনতি’ হিসেবে দেখা দেয়। আইএইউর সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারী বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অ্যালান স্টার্ন, যিনি প্লুটো অভিযানের নিউ হরাইজনস মিশনের প্রধান তদন্তকারী। তার মহাকাশযান ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করেছিল একটি গ্রহের উদ্দেশে, কিন্তু ২০১৫ সালে প্লুটোর কাছে পৌঁছায় বামন গ্রহ হিসেবে পরিচিত একটি জগতের কাছে।

    অনেকে যুক্তি দিয়েছিলেন, প্লুটো ছোট হলেও এক ধরনের গ্রহ। তবে আইএইউ প্লুটোকে ১৩৪৩৪০ নম্বরের একটি ক্ষুদ্র গ্রহ নম্বর দেয়, যা সাধারণত গ্রহাণুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কিছু জাতীয়তাবাদী যুক্তিও সামনে আসে—প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে রাখা উচিত, কারণ এটি ১৯৩০ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইড টমবাউ অ্যারিজোনার লোয়েল অবজারভেটরিতে আবিষ্কার করেছিলেন। পরে নিউ হরাইজনস প্লুটোর কাছে পৌঁছে দেখায়, এটি কোনো সাধারণ ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তু নয়; বরং নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অত্যন্ত জটিল একটি জগত।

    প্লুটো কি আবার গ্রহ হতে পারে?

    ২০ বছর ধরে প্লুটো বামন গ্রহ হিসেবেই রয়েছে। তবে আইএইউর সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ২০ বছর পূর্তিতে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের গ্রহবিষয়ক জ্যোতির্বিজ্ঞানী পল বাইর্ন মনে করেন, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

    বাইর্ন বলেন, ‘হ্যাঁ, প্লুটো একটি গ্রহ।’ শুধু প্লুটো নয়, সেরেস, এরিস, মাকেমাকে ও হাওমিয়াকেও তিনি গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করেন। তার মতে, সেডনা ও কোয়ারের মতো বস্তুগুলোও কার্যত বামন গ্রহ। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত এগুলো সবাই গ্রহ এবং প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার মধ্যে কোনো লাভ নেই। বাইর্ন অবশ্য স্বীকার করেন, পুরো বিতর্কটি অনেকাংশে সংজ্ঞা বা শব্দ ব্যবহারের বিষয়। তার মতে, প্লুটোকে আমরা কী নামে ডাকছি, তা নিয়ে প্রকৃতি মাথা ঘামায় না।

    তবে মানুষের ধারণার ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাইর্নের মতে, আইএইউর ২০০৬ সালের সিদ্ধান্ত এখানেই সমস্যায় পড়েছে। তিনি জানান, গ্রহ নিয়ে জনসাধারণের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মানুষ প্লুটোর সক্রিয় নাইট্রোজেনের হিমবাহ কিংবা এর বিশাল হৃদয়াকৃতির ভূ-প্রকৃতি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করে না। বরং তারা জানতে চায়, প্লুটোকে কেন গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। ফলে সিদ্ধান্তটি প্লুটো নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনার পরিবর্তে এর শ্রেণিবিন্যাসের বিতর্ককেই সামনে নিয়ে এসেছে।

    আইএইউর গ্রহের সংজ্ঞা কী?

    ২০০৬ সালে আইএইউ একটি মহাজাগতিক বস্তুকে গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনটি শর্ত নির্ধারণ করে।

    প্রথমত, বস্তুটিকে জলস্থির ভারসাম্যে থাকতে হবে। অর্থাৎ তার নিজস্ব মহাকর্ষ তাকে প্রায় গোলাকার আকারে পরিণত করবে। একই সঙ্গে এর অভ্যন্তরে ভারী উপাদানগুলো কেন্দ্রে নেমে গিয়ে অভ্যন্তরীণ স্তরবিন্যাস তৈরি করবে। এই শর্তের বিষয়ে সাধারণত বিজ্ঞানীদের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ নেই।

    দ্বিতীয়ত, বস্তুটিকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে। এ কারণেই কোনো উপগ্রহকে গ্রহ বলা হয় না, কারণ উপগ্রহ সরাসরি সূর্যকে নয়, একটি গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে। তবে এই সংজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে অন্য নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা বহির্গ্রহগুলোও গ্রহ হিসেবে পড়ে না। বাস্তবে অবশ্য তারা নিজেদের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে বলে তাদের গ্রহ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

    এ ছাড়া মহাকাশে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো ‘রোগ প্ল্যানেট’ বা ভাসমান গ্রহ নিয়েও সংজ্ঞাটিতে প্রশ্ন রয়েছে। এসব গ্রহের অনেকগুলো হয়তো কোনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করার সময় তৈরি হয়েছিল এবং পরে মহাকর্ষীয় প্রভাবে সেই কক্ষপথ থেকে ছিটকে যায়। কিন্তু কিছু ভাসমান গ্রহ হয়তো সরাসরি গ্যাসের মেঘ ধসে তৈরি হয়েছে, কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নয়। আইএইউর সংজ্ঞায় এসব বস্তুর অবস্থান স্পষ্ট নয়।

    তৃতীয় শর্তটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই শর্ত অনুযায়ী, কোনো গ্রহকে তার কক্ষপথের আশপাশের অঞ্চলকে মহাকর্ষীয়ভাবে ‘পরিষ্কার’ করতে হবে। অর্থাৎ তার কক্ষপথের আশপাশে থাকা অন্যান্য বস্তুগুলোর ওপর তাকে প্রভাবশালী হতে হবে। প্লুটো এই শর্ত পূরণ করে না। কারণ তার কক্ষপথ নেপচুনের কক্ষপথের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তার আশপাশে কুইপার বেল্টের আরও অনেক বস্তু রয়েছে।

    কিন্তু এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্নও আছে। প্লুটো যদি নেপচুনের কক্ষপথের এলাকায় অবস্থান করায় সমস্যা হয়, তাহলে নেপচুনের গ্রহত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। একইভাবে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা গ্রহাণুগুলোর অস্তিত্ব কি পৃথিবী তার কক্ষপথের আশপাশ পুরোপুরি পরিষ্কার করতে পারেনি—এমন যুক্তি তৈরি করে না? তাই গ্রহের সংজ্ঞার এই অংশে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে বলে মনে করেন সমালোচকেরা। ২০ বছর আগে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া ভোটের কারণেও এই সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

    গ্রহের সংজ্ঞা বদলানো হলে কী হবে?

    আইএইউর সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলে নতুন করে গ্রহ শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতি কী হবে—এ নিয়েও বাইর্নের নিজস্ব ধারণা রয়েছে।

    তিনি মনে করেন, কোনো মহাজাগতিক বস্তু গোলাকার হওয়ার মতো বড় এবং তার অভ্যন্তরে কিছু মাত্রায় স্তরবিন্যাস বা রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-ভৌত দিক থেকে কোনো বস্তু নিজের মহাকর্ষে গোলাকার হয়ে ওঠার মতো বড় হলে সেখানে অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডও ঘটতে পারে। এর মধ্যে বায়ুমণ্ডল তৈরির জন্য গ্যাস নির্গমন, আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম, পৃষ্ঠের ভূ-প্রকৃতির পরিবর্তন কিংবা অল্প সময়ের জন্য চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হওয়ার মতো প্রক্রিয়া থাকতে পারে। এই কারণেই তিনি চাঁদকেও গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ চাঁদে এ ধরনের গ্রহসদৃশ প্রক্রিয়া ঘটেছে।

    বাইর্ন স্বীকার করেন, বৃহস্পতি ও অন্যান্য গ্যাসীয় দৈত্যদের ক্ষেত্রে একই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় না, কারণ তাদের কঠিন পৃষ্ঠ নেই। তবু বৃহস্পতির গ্রহত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। আবার ইউরেনাস ও নেপচুনের গভীরে কোনো ধরনের সুপার-আর্থ বা পৃথিবীর চেয়ে বড় কঠিন জগত রয়েছে কি না, সেটিও বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানেন না।

    বাইর্ন ‘বামন’ শব্দটিকেও খুব পছন্দ করেন না। তার মতে, শব্দটি এমন ধারণা তৈরি করে যেন গ্রহগুলোর মধ্যে একটি শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে—যেখানে গ্যাসীয় দৈত্যগুলো ওপরের স্তরে এবং বামন গ্রহগুলো নিচের স্তরে।

    তিনি মনে করেন, প্রকৃতিতে এমন কোনো স্বাভাবিক শ্রেণিবিন্যাস নেই। প্লুটো, এরিস ও অন্যান্য বামন গ্রহ সৌরজগত গঠনের সময় পড়ে থাকা উপাদান থেকেই তৈরি হয়েছে এবং অন্যান্য গ্রহের মতোই ছোট ছোট উপাদান একত্রিত হয়ে এগুলো বৃহৎ মহাজাগতিক বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    সৌরজগতে যদি ২০০ গ্রহ থাকে?

    প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে ফিরিয়ে আনার বিরোধীদের একটি যুক্তি হলো, যদি প্লুটোর মতো প্রায় ২০০টি বস্তু গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তাহলে প্লুটো আর বিশেষ কিছু থাকবে না। বরং বামন গ্রহ হিসেবে এটি একই ধরনের অসংখ্য জগতের প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ ছোট একটি পুকুরে বড় মাছ হয়ে থাকা, নাকি বড় পুকুরে ছোট মাছ হয়ে যাওয়া—বিষয়টি অনেকটা সেই পছন্দের মতো।

    তবে আসল পরীক্ষা হবে তখনই, যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্য থেকে অনেক দূরে এসব সম্ভাব্য গ্রহের সন্ধান শুরু করবেন। যদি সবগুলোই প্লুটোর কাছাকাছি আকারের হয়, তাহলে হয়তো বড় কোনো বিতর্ক হবে না। কিন্তু যদি কোনো দিন মঙ্গল গ্রহের সমান বা এমনকি পৃথিবীর মতো বড় কোনো বস্তু আবিষ্কৃত হয়, তখন সেটিকে গ্রহ হিসেবে ভাবাই স্বাভাবিক হবে।

    এমন কোনো বস্তু হয়তো একসময় সূর্যের কাছাকাছি তৈরি হয়েছিল এবং বৃহৎ গ্রহগুলোর মহাকর্ষীয় প্রভাবে দূরে ছিটকে গেছে। আবার এমনও হতে পারে, এটি সৌরজগতের বাইরের অংশেই প্লুটোর মতো অবশিষ্ট উপাদান থেকে তৈরি হয়েছে।

    বাইর্নের মতে, আইএইউর সংজ্ঞা অনুযায়ী এমন কোনো বস্তু গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না, কারণ সেটি নিজের কক্ষপথের আশপাশ পরিষ্কার করতে পারবে না। তার ভাষায়, এমন কোনো গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেলে শুধু কোথায় আছে তার ভিত্তিতে নয়, বরং বস্তুটি আসলে কী—তার ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হবে।

    তবে প্লুটোকে আবার গ্রহের মর্যাদা দিতে হলে বৈজ্ঞানিক কারণেই তা করতে হবে। শুধু পুরোনো স্মৃতি, জাতীয়তাবাদী আবেগ কিংবা শিশুদের সহজে গ্রহের নাম মনে রাখানোর সুবিধা—এসব আইএইউর আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করার যথেষ্ট কারণ হতে পারে না। বরং ‘বামন গ্রহ’ নামটির পরিবর্তে আরো উপযুক্ত কোনো শ্রেণি তৈরি করা হতে পারে একটি সম্ভাব্য সমাধান।

    আরেকটি সম্ভাবনা হলো, আমরা হয়তো নতুন আবিষ্কৃত মহাজাগতিক বস্তুগুলোর প্রকৃতি বোঝানোর মতো যথেষ্ট শব্দই এখনো তৈরি করতে পারিনি। গ্রহের ধারণা হাজার বছরের পুরোনো। তখন মানুষ জানত না, আকাশে ঘুরে বেড়ানো এসব ‘তারা’ আসলে কী। তাই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন ধরনের জগতের ক্ষেত্রে ‘গ্রহ’ শব্দটি প্রয়োগ করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

    যদি এসব মহাজাগতিক বস্তুকে শ্রেণিবিন্যাস করার এমন কোনো পদ্ধতি না পাওয়া যায়, যা সবার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য, তাহলে হয়তো তাদের কী নামে ডাকা হবে—এ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করাই ভালো।