আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • নাটালি কান্ডে ট্রাম্প-মেলানিয়ার উত্তেজনা?

    নাটালি কান্ডে ট্রাম্প-মেলানিয়ার উত্তেজনা?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ফ্রিডম ২৫০ গ্রাঁ প্রি অনুষ্ঠানে দুজনের কথাবার্তার পর মেলানিয়াকে আসন ছেড়ে

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের একটি ভিউয়িং বুথে পাশাপাশি বসেছিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। একপর্যায়ে ট্রাম্প মেলানিয়ার দিকে ঝুঁকে কিছু কথা বলেন। মেলানিয়াকে তখন গম্ভীর ও কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা অবস্থায় দেখা যায়। কয়েক মুহূর্ত পর তিনি উঠে সেখান থেকে চলে যান।

    ভিডিওটির শব্দ স্পষ্ট না হওয়ায় দুজনের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ কথোপকথনটি ঠোঁট দেখে বোঝার চেষ্টা করছেন।

    একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এখানে ট্রাম্প ও মেলানিয়ার মধ্যে কী কথা হচ্ছে, কোনো লিপ-রিডার কি বলতে পারবেন?’

    অন্যরা দুজনের দেহভঙ্গি দেখে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা মতবিরোধের ইঙ্গিত রয়েছে বলে ধারণা করছেন। তবে ভিডিওতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে তারা তর্ক করছিলেন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো জল্পনার সঙ্গে ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পের নামও জড়ানো হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহলে তার ভূমিকা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে এর আগেও অনলাইনে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে।

    কিছু ব্যবহারকারী কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেলানিয়া ও ট্রাম্পের কথিত উত্তেজনার সঙ্গে হার্পের উপস্থিতিকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

    একজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে আজকের ফ্রিডম ২৫০ অনুষ্ঠানে কোনো বিষয় নিয়ে ট্রাম্প ও মেলানিয়ার মধ্যে তর্ক হচ্ছিল। আমার ধারণা, বিষয়টি নাটালি হার্প।’

    অন্য একজন লিখেছেন, ‘বুথে নাটালি হার্পকে দেখা যাওয়ার পরই মেলানিয়া চলে গেলেন।’

    তবে ভিডিওতে মেলানিয়া কেন উঠে গেছেন বা ট্রাম্পের সঙ্গে তার কী কথা হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

  • পুতিন-জয়শঙ্করের বৈঠক, বাড়ছে আরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা

    পুতিন-জয়শঙ্করের বৈঠক, বাড়ছে আরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্রেমলিনে বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পয়েছে। খবর ফার্স্ট পোস্টের।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন তিনি।

    মস্কোতে জয়শঙ্করকে স্বাগত জানিয়ে পুতিন বলেন, তার এই সফর ভারত ও রাশিয়ার কয়েক দশকের সম্পর্কের গভীরতা ও শক্তিকে তুলে ধরছে। রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুতনিকের প্রতিবেদনে পুতিনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘মন্ত্রী মহোদয়, আপনাকে দেখে আমি খুবই আনন্দিত। আপনার আজকের সফর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মাত্রাকে তুলে ধরছে।’
    তিনি বলেন, দুই দেশ সরকার, সংসদ এবং অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। পুতিন এদিন আরও বলেন, ২০২৬ সালেও ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
    এ ছাড়া জয়শঙ্কর বলেন, ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি, আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’ একই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভারতের

    বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেছেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন মোদি। পাশাপাশি ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর বিষয়েও তিনি আগ্রহী।

  • ৪৫ ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করল ইরান

    ৪৫ ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করল ইরান

    হরমুজ প্রণালি পারাপারে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ৪৫টি ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে এই ট্যাংকারগুলো দিয়ে পণ্য পরিবহণকারী যে-কোনো জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

    রোববার রাতে ইরান-প্রতিষ্ঠিত নতুন সংস্থা পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে জরিমানা, আটক এবং তাদের পণ্য জব্দ করা হতে পারে।

    কালো তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী ট্যাংকার এবং ক্লিন প্রোডাক্টস পরিবহনকারী জাহাজ।

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই সতর্কতা জারি করা হলো এবং ইরানও বলেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন হুমকির জবাবে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে বিধ্বংসী।

    ইরান আগে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজ মালিকদের তেহরানের অনুমোদন নিতে হবে এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সংঘাতের আগে বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। তবে চলমান সংঘাতে হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

  • ইরানভীতিকে কাজে লাগিয়ে আরব দেশগুলোর কোষাগার খালি করছে আমেরিকা

    ইরানভীতিকে কাজে লাগিয়ে আরব দেশগুলোর কোষাগার খালি করছে আমেরিকা

    পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ তীরবর্তী আরব দেশগুলোর সম্পদ লুটের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

    ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ লাভজনক অস্ত্র চুক্তির একটি উদাহরণ হলো—মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কাতারের কাছে চারটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কেসি-৪৬এ পেগাসাস বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তিটির মূল্য ধরা হয়েছে বিস্ময়কর ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এতে আটটি পিডাব্লিউ৪০৬২ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, ১০টি এএন/এএলআর-৬৯এ রাডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রথম দৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ সামরিক চুক্তি মনে হলেও, বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বিমানের সঙ্গে তুলনা করলে একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক শোষণের চিত্র ফুটে ওঠে। ইরানভীতি ও কৃত্রিম নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের আরব দেশগুলোর বিপুল অর্থ অস্ত্রশিল্পের কারখানাগুলোর দিকে প্রবাহিত করছে।

    এই চুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো বিমানপ্রতি মূল্য। আনুষঙ্গিক সরঞ্জামসহ প্রতিটি কেসি-৪৬এ বিমানের জন্য কাতারকে গুনতে হচ্ছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অথচ মার্কিন বিমানবাহিনী নিজে প্রতিটি বিমান প্রায় ২০০ থেকে ৩২২ মিলিয়ন ডলারে সংগ্রহ করে। বিদেশি মিত্রদের কাছে বিক্রয়মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্রয়মূল্যের এই বিশাল পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মূল্য আদায়ের একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

    কেসি-৪৬এ পেগাসাসের সঙ্গে এর ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস এ-৩৩০ এমআরটিটির তুলনা করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিটি এ-৩৩০ এমআরটিটির জন্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। অথচ এই বিমানটি শুধু উচ্চমানেরই নয়, প্রয়োজনে এটিকে আকাশপথের হাসপাতাল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ, কাতার কেসি-৪৬এ পেগাসাসের জন্য ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিন গুণেরও বেশি অর্থ দিচ্ছে—এমন একটি পণ্যের জন্য, যার গুণগত মান ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

    বাস্তবতা হলো, কেসি-৪৬এ পেগাসাস শুধু ব্যয়বহুলই নয়, এটি ইতিহাসের অন্যতম সমস্যাসঙ্কুল সামরিক বিমান হিসেবেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থা জিএওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে বিমানটি নির্ধারিত প্রস্তুতি ও মিশন পরিচালনার সক্ষমতার মান পূরণ করতে পারেনি। যন্ত্রাংশের ত্রুটি, সরঞ্জামের ঘাটতি এবং বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে মার্কিন বিমানবাহিনীকে এখনো পুরোনো কেসি-১৩৫ বহরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

    বিমানটির গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও রিমোট ভিশন সিস্টেমের (আরভিএস) সমস্যা, যার ফলে এ-১০-এর মতো কিছু যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহে জটিলতা দেখা দেয়। এ ছাড়া বিমানের কাঠামোতে ফাটল, জ্বালানি লিক, পৃথক দুটি ঘটনায় উড্ডয়নের সময় জ্বালানি সরবরাহের বুম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটিসহ দীর্ঘ সমস্যার তালিকা রয়েছে। এসব ত্রুটি দূর করতে বোয়িংকে ইতোমধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে।

    প্রশ্ন হলো, কাতার কেন একটি সমস্যাসঙ্কুল ও বিতর্কিত পণ্যের জন্য এত বিপুল অর্থ ব্যয় করবে? এর উত্তর খুঁজতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইরানভীতি সৃষ্টির নীতিতে। ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে কার্যত এমন এক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে তাদের সামনে বার্তা—‘অস্ত্র কিনুন, নইলে বিপদে পড়ুন’।

    এই বিক্রির পক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক যুক্তি হলো, কাতারকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করা এবং একটি কৌশলগত আঞ্চলিক অংশীদারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের যুক্তি ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ২০২৫ সালের মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদ সফরের সময় কাতারের সঙ্গে ৪২ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চুক্তির কথা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে খোদ কেসি-৪৬এ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব বিশাল চুক্তি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন অঞ্চলের আরব দেশগুলো একদিকে তেলের দাম কমে যাওয়া ও বাজেট ঘাটতির চাপ মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে এমন সব অস্ত্রের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, যেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং যা তাদের আরো বেশি সামরিক ও প্রযুক্তিগত নির্ভরশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, কাতারের জন্য ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কেসি-৪৬এ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান চুক্তিকে কেবল একটি সামরিক লেনদেন হিসেবে দেখা যায় না। এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আড়ালে অর্থনৈতিক শোষণের একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। ইরানভীতির পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার ব্যয়বহুল ও বিতর্কিত সামরিক পণ্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বিক্রি করছে—যেখানে প্রকৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তার চেয়ে অস্ত্রশিল্পের লাভকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • অক্টোবরে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে ইরান

    অক্টোবরে ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে ইরান

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নতুন কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করার আগেই তেহরানের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই এ লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন; শত্রু যখন পিছু হটার চেষ্টা করছে, তখন তার প্রধান কাজ কেবল নিজের অবস্থানে শক্ত হয়ে টিকে থাকা।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন আবার তেল পরিবহণ শুরু হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের যে চাল ছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো—যাদের ওপর তেহরান এতদিন হামলা চালিয়ে আসছিল—তারাও এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত গত সপ্তাহ থেকে আর্থিক লেনদেনসহ সব ধরনের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

    কয়েক দশক ধরে তেহরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার প্রধান কেন্দ্র ছিল দুবাই; একই সঙ্গে ইরানের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসত এই শহরের মাধ্যমেই।

    এমনিতেই ব্যাপক বেকারত্ব আর নানা সংকটের মধ্যে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর ফলে দেশটির সাধারণ সেনাবাহিনীকে নিয়মিত বেতন দিতেও সরকার হিমশিম খাচ্ছিল।

    এখন এমনকি রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপরও এর মারাত্মক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার কথা—যা এই শাসকগোষ্ঠীর আসল ভিত্তিকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেবে।

    শুক্রবার যে খবরটি এসেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। সপ্তাহে প্রায় ২০০টি জাহাজ (যা আরও বাড়ছে) এখন নিরাপদে যাতায়াত করছে, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি।

    অবশ্য এই হার এখনো যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে কম। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদন ও রপ্তানি পথের পরিবর্তনের বদৌলতে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটি যথেষ্ট—যদিও জানুয়ারির স্তরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশিই রয়েছে।

    ইরানের নেতারা এখন আবার সেই পুরোনো ‘ভালো পুলিশ, খারাপ পুলিশ’ খেলা শুরু করেছেন। তাদের একদল প্রতিনিধি মুখে হুমকি-ধমকি দিয়ে ফেনা তুলছেন, আর আরেক দল দাবি করছেন যে, তারা শান্তি চান এবং আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে ওয়াশিংটন যদি এই ‘প্রস্তাবে’ সাড়া দেয়, তাহলে কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসার ভান করার আগেই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একের পর এক ছাড় আদায়ের দাবি তুলতে শুরু করবে।

    এই চালটি মূলত ট্রাম্পের দেশীয় সমালোচকদের তৈরি করা বয়ানকে সমর্থন দেওয়ার জন্যই চালাচ্ছ তেহরান। তাদের সেই বয়ানটি হলো—ইরানের নেতৃত্ব একটি স্থায়ী শান্তির জন্য উদগ্রীব ছিল, কিন্তু মার্কিন-ইসরাইল হামলার কারণে তথাকথিত মধ্যপন্থিরা মারা পড়েছেন এবং ‘কঠোরপন্থিরা ক্ষমতা দখল করেছে’। তাই এই কঠোরপন্থিদের হারাতে হলে বাকি ‘মধ্যপন্থিদের’ সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে, যাতে তারা ‘চরমপন্ন্থিদের’ হটিয়ে দিতে পারে।

    ইরানের শাসকগোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে এই এক কৌশল বারবার রূপ বদলে খেলে আসছে। কিন্তু পশ্চিমা উদারপন্থিরা (বিশেষ করে গণমাধ্যমগুলো) প্রতিবারই এই ফাঁদে পা দেয়, যদিও এই ‘ভালো পুলিশেরা’ বাস্তবে কখনোই কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

    গত সপ্তাহে দ্য পোস্টে মার্ক ডুবোউইৎস যেমনটা সতর্ক করেছিলেন—তেহরান এই কৌশলে শেষবারের মতো আরও একটি বড় ধরনের চাল চালতে পারে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ঠিক আগে, অক্টোবর মাসের শেষ দিকে তারা তাদের জমিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করে বড় ধরনের এক হামলা চালাতে পারে।

    তাদের উদ্দেশ্য থাকবে দুই দেশের ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যেন ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এতে তারা পেন্টাগনের বাজেট আটকে দেওয়ার সুযোগ পাবে এবং ট্রাম্পকে নতুন কোনো অভিশংসনের জটিলতায় ঝুলিয়ে রাখতে পারবে।

    ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের উচিত মার্কিন জনগণকে এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেভাগেই সতর্ক করা। তাদের বুঝিয়ে বলা দরকার যে, ইরান এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে; তবে তাদের হাতে এখনো কিছু ক্ষমতা বাকি আছে এবং তারা আমাদের মনোবল ভাঙার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

    বর্তমানে দুই পক্ষই মুখোমুখি লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে—সুতরাং, ওয়াশিংটনের জন্য এখন পিছিয়ে আসার বা চোখ সরানোর সময় নয়।

  • এবার ইরানে বিশাল খনির সন্ধান

    এবার ইরানে বিশাল খনির সন্ধান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। ফার্স প্রদেশে আবিষ্কৃত এই নতুন খনিতে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ জানান, নতুন খনিটিতে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য।

    এই আবিষ্কার দেশের জাতীয় হাইড্রোকার্বন মজুদে বড় ধরনের মাত্রা যোগ করেছে। উত্তোলনযোগ্য এই গ্যাসের পরিমাণ ইরানের বিখ্যাত সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের একটি পুরো ফেইজ থেকে টানা ১৫ বছর প্রাপ্ত গ্যাসের সমান।

    তেলমন্ত্রী আরও জানান, নবআবিষ্কৃত গ্যাসটি ‘সুইট গ্যাস’ (মিষ্টি বা কম সালফারযুক্ত গ্যাস) হওয়ায় এটি উত্তোলনে খরচ ও জটিলতা অনেক কম হবে। গ্যাসের পাশাপাশি খনিটিতে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে, যা বিক্রি করে ইরান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও কোটি কোটি ডলার বাড়তি রাজস্ব আয় করতে পারবে।

    এদিকে গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যার মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শত্রুতা কিছুটা থমকে দাঁড়ায়। তবে সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে দ্বিমতের কারণে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার নতুন আলোচনা থমকে রয়েছে।

  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

    নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের বাংলাদেশি মালিকানার পিৎজার দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম মো. রাজু (৪৪)। রাসেল নামের ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    জানা গেছে, রাজুর বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়। তাঁর স্ত্রী-সন্তান দেশেই থাকেন।

    প্রিসিংক্ট ৭৩ এলাকার রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউর আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা নামে দোকানে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ১২টা ১ মিনিটে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

    হাসপাতালে নেওয়া হলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

    নিহত রাজুর সহকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কোনো কিছু না বলে সরাসরি আমাকে গুলি করে। আমার ঊরুতে গুলি লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রাজুকেও ওই ব্যক্তি গুলি করে। তাঁর বুকে গুলি লাগে। ওই পিৎজার দোকানটি রাজুর এক বন্ধুর মালিকানাধীন। রাজুই দোকানটি নিজের মতো দেখভাল করতেন।’

    দোকানের মালিক আবদুল জলিল বলেন, ‘রাজু আমার বন্ধু। আমার দোকানটা তিনি নিজের মতো করে আগলে রাখতেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। রাজুর স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান দেশে থাকে।’

    জলিল বলেন, ‘তিন বছর আগে রাজু যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এখানে তাঁর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্য সমিতিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা আশা করছি।’

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীরা।

  • গাজায় দাদার কবরে বাবাকে দাফন

    গাজায় দাদার কবরে বাবাকে দাফন

    মৃত বাবাকে কোথায় কবর দেবেন, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি। তাঁর বাবা মোহাম্মদকে (৪০) গাজার ইয়েলো লাইনের কাছে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলিরা।

    মোহাম্মদ গাজা নগরীর জায়তুন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ জুন ইসরায়েলিদের নির্ধারিত সামরিক এলাকা ইয়েলো লাইনের পাশে ফুটপাতের একটি দোকানে চা ও কফি বিক্রি করছিলেন। আচমকা একটি বুলেট এসে তাঁর ঘাড়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মারা যান।

    ওমর তাঁর বাবার মরদেহ দাফনের জন্য জায়তুন করবস্থানে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, একের পর এক মরদেহে ঠাসা পুরো কবরস্থান। কোথাও একটুকরা জায়গা ফাঁকা নেই। এখানে শায়িত বেশির ভাগই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর জাতিগত নিধনের শিকার।

    জায়গার অভাব এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে বেশির ভাগ কবর শুধু একটি পাথর দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। আর সেই পাথরে নিহত ব্যক্তির নাম লেখা একটি কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছে।

    ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু কবর আর কবর। চারদিকে বালুর স্তূপ, আর তার নিচেই দাফন করা হয়েছে মানুষের মরদেহ।

    ’ওমর আরও বলেন, যুদ্ধের আগে যেভাবে একটি কবর তৈরি বা প্রস্তুত করা হতো তার ছিটেফোঁটাও এখন নেই। একটি কবরের ওপর শুধু পাথরের টুকরা রেখে দেওয়া হয়েছে। তার ওপর এক টুকরা কাগজে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় লিখে রাখা হয়েছে।

    ’ওমর আরও বলেন, যুদ্ধের আগে যেভাবে একটি কবর তৈরি বা প্রস্তুত করা হতো তার ছিটেফোঁটাও এখন নেই। একটি কবরের ওপর শুধু পাথরের টুকরা রেখে দেওয়া হয়েছে। তার ওপর এক টুকরা কাগজে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় লিখে রাখা হয়েছে।

    বর্তমানে গাজায় একটি কবর প্রস্তুত করতে প্রায় ৫০০ শেকেল (১৬৭ মার্কিন ডলার) খরচ হয়। ওমরের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তাই তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

    ওমর বলেন, ‘সেখানে নতুন কোনো কবরের জায়গা ছিল না। তাই দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে বাধ্য হয়েছি।

    গাজায় সব ধরনের নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া এবং অনবরত ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকির কারণে যুদ্ধের সময় নিহত হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনেক পরিবার তাঁদের স্বজনদের মরদেহ বাড়িঘরের আঙিনায়, তাঁবুর পাশে, উদ্বাস্তু শিবিরের মাঠে, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমে আসে। তখন পরিবারগুলো বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এবং অস্থায়ী কবর থেকে তাঁদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে কবরস্থানে নিয়ে দাফন করার সুযোগ পান।

    তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য দাফনের জায়গার প্রয়োজন ছিল। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালের চত্বরে থাকা ৭টি গণকবর থেকে এ পর্যন্ত ৫২৯ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ইসরায়েলি সহিংসতা কমায় মোহাম্মদের পরিবার তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে যথাযথ মর্যাদায় দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যায়।

  • ভারতে ‘তেলাপোকাদের’ বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ: অ্যামনেস্টি

    ভারতে ‘তেলাপোকাদের’ বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ: অ্যামনেস্টি

    ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ও প্যালেট গান ব্যবহারের ঘটনা তাদের নজরে এসেছে। ভারতীয় তরুণদের গত মাসের ওই বিক্ষোভে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আজ সোমবার তাদের এক প্রতিবেদনে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের বিবরণ দিয়েছে। তবে তাতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই পুলিশের পক্ষ থেকে বল প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারী ও পুলিশ—উভয় পক্ষের সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি প্যানেল গঠন করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এমন পরিস্থিতিতে অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

    মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয় তেলাপোকাদের এই বিক্ষোভ। শুরুর দিকে বেশ শান্তিপূর্ণ হলেও গত ২০ জুলাই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। সেদিন হাজারো বিক্ষোভকারী ভারতের পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্যালেটচালিত শটগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি ও ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং তাদের যাচাই করা চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে সংগঠনটি এ কথা জানিয়েছে।

    অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, বিহারের সিওয়ান জেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার ‘জনতার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের’ দুটি ঘটনা যাচাই করে দেখা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

    এসব অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড এবং অভ্যন্তরীণ পুলিশি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিচ্ছিন্নভাবে পাথর ছোড়ার কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া ছিল ‘রাষ্ট্র-অনুমোদিত সহিংসতার’ শামিল।

    দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই তারা বল প্রয়োগ করেছিল। পুলিশ আরও বলেছে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে থাকা ‘সমাজবিরোধী দুষ্কৃতকারীরা’ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর আহত করেছে।

    গত শুক্রবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির একটি থানার বাইরে ১৯ বছর বয়সী একজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান ধর্মঘট করেন। ওই বিক্ষোভকারী জানান, গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে তিনি প্যালেটের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী ঘটনাটির তদন্তের দাবি তুলেছেন। পরে ওই বিক্ষোভকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে সিজেপির বিক্ষোভের সূত্রপাত। সমালোচকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল এটি। ২০২৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদির সামনে এ বিক্ষোভ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছিল। শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে আপাতত সেই বিক্ষোভ সামাল দিয়েছেন তিনি।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    সাক্ষাৎ শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি জানান, বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ও উঠে আসে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারি নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।

    বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত নগরায়নের ফলে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানানো হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়লে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • চীনে চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

    চীনে চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত ব্যবহারে চীনের শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন খাতে এআই ও রোবটের ব্যবহার বাড়ায় অনেক কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামার ফেই ঝাওজুনের ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ। তার নিয়োগকর্তা জানতে চেয়েছিলেন, এআই শিগগিরই মানুষের বদলে কোডিংয়ের কাজ করতে পারবে কি না। এর দুই সপ্তাহ পর ফেইসহ প্রায় ১৬০ জন কর্মী চাকরি হারান।

    চীনে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি স্ক্রিপ্ট লেখা, অনুবাদ, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শারীরিক কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এসব কাজে যুক্ত কর্মীদের চাকরি ও আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খাবার সরবরাহের কাজেও রোবট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা লাখ লাখ ডেলিভারি কর্মীর জীবিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    চীনা সরকার ‘এআই প্লাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির পরিকল্পনাতেও বিভিন্ন শিল্পে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

    তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব কাজ নির্দিষ্ট দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেসব কাজে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বেশি।

    চীনে বর্তমানে সামগ্রিক নগর বেকারত্বের হার প্রায় ৫ শতাংশ। তবে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের বেকারত্বের হার এর প্রায় তিন গুণ। এ পরিস্থিতিতে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে এআই ও রোবটের ব্যবহার চীনের জন্য কিছুটা সুফলও আনতে পারে। দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চীনের অনেক কর্মীও এআইকে শুধু হুমকি হিসেবে দেখছেন না। কেউ কেউ চাকরি হারানোর পর এআই ব্যবহার করে নতুন ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এআই মানুষের বিকল্প হওয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি করতে পারে।

  • হামলায় সহায়তা না করলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই: তেহরান

    হামলায় সহায়তা না করলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই: তেহরান

    হামলায় সহায়তা না করলে কোনো দেশের ইরানকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই: তেহরান

    ইরানকে নিয়ে দেশগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, যদি না তারা দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত পক্ষগুলোকে তাদের ঘাঁটি, স্থাপনা বা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

    সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা বলেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইউরোপীয় দেশগুলো আবার ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশ নিলে ইউরোপের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন খবর প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বাঘাই বলেন, বুলগেরিয়া থেকে কয়েকটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান চলে যাওয়ার খবরও তারা শুনেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তৃতীয় কোনো দেশের সহায়তা নিয়ে তেহরানের কঠোর সতর্কতা এবং স্থানীয় বিক্ষোভের মধ্যেই বিমানগুলো ইউরোপীয় দেশটি ছেড়ে গেছে বলে খবরে বলা হয়।

    তিনি বলেন, বুলগেরিয়ার বিষয়ে ইরান আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শুরু থেকেই বুলগেরিয়ার জনগণ ও রাজনীতিকদের একটি অংশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছেন।

    বাঘাই বলেন, ‘বুলগেরিয়ার জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্য করে চালানো নৃশংসতায় অংশ নেওয়াকে তিনি আগ্রাসনের শামিল বলে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, যেসব দেশ কোনো না কোনোভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসকগোষ্ঠীকে’ তাদের ঘাঁটি ও স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে, তারাও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তেহরান আশা করে।

    সহযোগীকারীদের কঠোর বার্তা

    বাঘাই বলেন, কোনো দেশেরই ইরানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, যদি না তারা ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ ও বেআইনি হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে আগ্রাসনকারীদের তাদের ঘাঁটি, স্থাপনা ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে থাকে।

    নিজ ভূখণ্ডে হামলার উৎসস্থলের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

    বাঘাই বলেন, ‘আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, ইরানের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাব না।’

  • স্কুল দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ককরোচ পার্টি

    স্কুল দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ককরোচ পার্টি

    ভারতের রাজস্থানে ‘ভারতে গোয়ালঘরে’ স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদল। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিল। ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্কুল পরিদর্শন করছে সিজেপি। স্কুলগুলো কীভাবে চলছে, কী ধরনের সমস্যা ও ঘাটতি রয়েছে—এসব বিষয় সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে দলটি।

    এরই অংশ হিসেবে গত ২১ আগস্ট রাজস্থানের জয়পুরের রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি স্কুল পরিদর্শনে যান আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। সিজেপির অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার আগেই তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হেঁটে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীদের একাংশ তাদের বাধা দেন। আগে থেকেই কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়ে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে দলটি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

    সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগে রেখা শর্মা জানান, জয়পুরের একটি গোয়ালঘরে সরকারি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে তাদের দল ওই গ্রামে যায়। কিন্তু গ্রামের সীমানায় তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে তারা হেঁটে এগোতে শুরু করলে কিছু দূর গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের গালিগালাজ করেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বার বার অনুরোধ করি, আমাদের কথা শুনতে বলি। গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণেই আমরা স্কুলটা দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দলের উপর চারদিক থেকে ইট, পাথর ছোড়া হয়, লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়।’

    সিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রতিনিধি সঞ্জু বর্মার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সলমন নামে আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেখা শর্মার চোখে ধুলো ছুড়ে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটির কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে, ভগবান সহায় ধানকা নামে এক গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিজেপি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আশুতোষ রাঙ্কা ৫০-৬০ জনকে নিয়ে গ্রামে আসেন। স্কুল পরিদর্শনের কথা বলে তারা গ্রামবাসীদের গালিগালাজ করেন এবং গ্রামের নারীদেরও কটূক্তি করেন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলে সিজেপি প্রতিনিধিরা মারধর শুরু করেন এবং জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করে অপমান করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

    অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও একটি এফআইআর করেছে পুলিশ।

  • পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল

    পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল

    অবসরপ্রাপ্ত ইসরাইলি জেনারেল ইৎজাক ব্রিক সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলি সমাজ বর্তমানে এমন এক গভীর সংকটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, যেখান থেকে পতন ঠেকানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

    তার দাবি, দেশটির সমাজ বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের কারণে মানুষ একে অপরের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

    ইরানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্রিক বলেন, ইসরাইল এখন এমন এক সংঘাতপূর্ণ সমাজে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডও নিজেদের পক্ষের স্বার্থের নামে বৈধতা পাচ্ছে।

    ব্রিকের ভাষ্য, কেউ এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেই তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সেনাপ্রধানদের সমালোচনা করে তাদের নেতৃত্বের কারণে সেনাবাহিনী ‘খাদের দিকে’ এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করায় বামপন্থীদের একটি অংশ তাকে নেতানিয়াহু-সমর্থক ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ রাজনৈতিক নেতাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে সমালোচনা করায় ডানপন্থীদের কাছ থেকে তাকে বামপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আবার হেরেদি সম্প্রদায়ের সমালোচনা করলে ওই গোষ্ঠীর কাছ থেকে তাকে ‘অইহুদি’ বলেও অপমান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সাবেক এই জেনারেলের মতে, ইসরাইলে এখন গোষ্ঠীগত স্বার্থ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিভাজন এতটাই তীব্র হয়েছে যে মানুষ পরস্পরের গুরুতর ক্ষতি করতেও পিছপা হচ্ছে না।

    ব্রিকের আশঙ্কা, এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও পারস্পরিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইসরাইলি সমাজের স্থিতিশীলতা আরো দুর্বল হবে এবং দেশটির পতনের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়বে।

  • দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি

    দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি

    ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে, দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ১৫টি বিমানকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

    এছাড়াও, রানওয়েতে পানি জমে থাকায় ২৫০টির বেশি বিমান নির্ধারিত সময়ে দিল্লিতে অবতরণ করতে পারেনি। বেশ কয়েকটি বিমানের উড্ডয়নেও বিলম্ব হচ্ছে। এতে বিমানযাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

    এদিকে, ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। সঙ্গম বিহারের কাছে এমবি রোডে পানি জমে যানচলাচল প্রায় থমকে গেছে। বিমানবন্দরমুখী সড়কসহ সাকেত কোর্ট এলাকার সড়কগুলোতেও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।

    রোববার দিল্লিতে ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করলেও সোমবার ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দিল্লির ছতরপুর এলাকায়।

    পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার সারা দিন রাজধানীতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রপাতের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

    এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

  • জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দুটি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইলিশ মাছ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অন্তর্গত জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৬৩/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেদিনীপুর গ্রামের কদর আলীর বাঁশবাগানে নায়েব সুবেদার মো: লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    অন্যদিকে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বড় মিয়ার আমবাগানে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যে আছি’: পেজেশকিয়ান

    আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যে আছি’: পেজেশকিয়ান

    ইরান বর্তমানে একটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রোববার (২৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থায় প্রচারিত টেলিভিশন ভাষণের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারী সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায় পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা বর্তমানে এক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক, সামরিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

    অর্থনৈতিক সংকট ও ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে ইরানি প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ দূর করতে না পারায় তাঁর সরকার এক রকমের ‘লজ্জা’ অনুভব করছে।

    ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ট্রাম্প খুব সহজেই বলে দেন যে তারা ইরানের ওপর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বা ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।’ চলমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অসমান যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈরী চাপ থাকা সত্ত্বেও ইরান শক্তভাবে মাথা উঁচু করে টিকে আছে এবং ইরানি জনগণের সেবা দিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

    শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে পেজেশকিয়ান বলেন, “শত্রুপক্ষ ভেবেছিল ইরানের পতন হলে তা ভেনেজুয়েলায় পরিণত হবে। কিন্তু তা তো হয়ইনি, বরং নিজের প্রতিরোধ, সংহতি ও অভূতপূর্ব একতা দিয়ে ইরান বিশ্বকে বাক্‌রুদ্ধ করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।”

    অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও স্থবির আলোচনা

    অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাজন, সংঘাত ও ব্যক্তিস্বার্থ দূরে ঠেলে দিয়ে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে ইরানি প্রশাসন সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে উপনীত হওয়া।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমঝোতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের এই কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে থমকে রয়েছে।

  • পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিমালা সংস্কার, আমদানি সহজীকরণ এবং আধুনিক কারখানা ও ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

    ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’-এ অনুষ্ঠানে গতকাল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাজুস দেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    বাজুস জানায়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রফতানি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শিল্পটির অন্যতম বাধা হিসেবে নীতিমালার অস্পষ্টতাকে চিহ্নিত করে বলা হয়, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম দামে অলংকার বিক্রি করা সম্ভব।

    ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে বাজুস। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার ৫০০-৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশের মোট স্বর্ণের মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

    দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বাজুস। এসব কারখানায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও এক লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

    এ ছাড়া ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রফতানি সম্ভব হবে বলে জানায় বাজুস।

    বাজুসের বক্তব্যে বলা হয়, যুগোপযোগী নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।

    বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সুধীজন এবং কার্নিভাল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আজাদ আহমেদসহ বিভিন্ন উপকমিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

  • শ্রীনগরে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    শ্রীনগরে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। উভয় শিশুর বাবাই সৌদি আরব প্রবাসী।

    রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি গ্রামে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশু দু’টি হলো কাঠালবাড়ি গ্রামের মোল্লা বাড়ির মহসিন মোল্লার ছেলে পাঁচ বছর বয়সী ইব্রাহিম এবং তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে সাড়ে তিন বছর বয়সী রায়হান।

    জানা যায়, সকাল থেকেই দুরন্ত শিশু দুটি এক সাথে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তল্লাশি চালান স্থানীয়রা। সেখান থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কান্তা দাস দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জসিম উদ্দিন বলেন, দু’টি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কান্তা দাস তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দিচ্ছে ফ্রান্স

    ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দিচ্ছে ফ্রান্স

    ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের পর এ সহায়তার কথা জানান।

    ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি। এ জন্য ফ্রান্স দেশটিতে নতুন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ করবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রযুক্তি ও লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবে প্যারিস।

    ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। বিশেষ করে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কিয়েভের। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।

    সাম্প্রতিক এক হামলায় ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরের একটি শপিং সেন্টারে রুশ ড্রোন হামলায় বহু মানুষ হতাহত হন। এর পরই জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

    ইউক্রেনকে আরও সহায়তা ও রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ইউরোপীয় মিত্রদের একটি বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।

  • যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন বিভক্ত হবে: জেলেনস্কি

    যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন বিভক্ত হবে: জেলেনস্কি

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এ সময়ে নির্বাচন হলে তা দেশকে বিভক্ত করে দিতে পারে।

    শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, “এ ধরনের যুদ্ধে নির্বাচন নিজেই একটি বড় ঝুঁকি। এখন নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য এমন এক সুনামি হবে, যা দেশকে বিভক্ত করে দেবে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।”

    রাশিয়ার ২০২২ সালের আগ্রাসনের পর ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। এর আওতায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের ভোটাধিকার, বিদেশে থাকা লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থীর ভোট, রুশ-অধিকৃত এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ এবং রুশ অপপ্রচারের আশঙ্কাসহ নানা জটিলতা রয়েছে।

    সম্প্রতি ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ নির্বাচন আয়োজনের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা দেননি। জেলেনস্কি তার এই অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ফেদোরভ “ভুল পথে” এগোচ্ছেন বা তাকে সেই পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন চান।

    এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ককে দেশের জন্য বিভাজনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন জেলেনস্কি।

    তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সমাজ ও সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করা উচিত নয়। তার ভাষায়, “আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই ঝুঁকি রয়েছে—বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যাওয়ার ঝুঁকি।”

    ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা দেশটিতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মিত্রদেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • লেবাননে ফসফরাস গোলা ব্যবহার করছে ইসরাইল

    লেবাননে ফসফরাস গোলা ব্যবহার করছে ইসরাইল

    দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ফসফরাস গোলা, বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এসব হামলার খবর জানিয়েছে।

    শনিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের মানসুরি, বেইত আল-সাইয়াদ ও মাজদাল জউনের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ভারী গোলাবর্ষণ করে। এসব এলাকায় রাতভর ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। বেইত আল-সাইয়াদে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এনএনএর দাবি, গ্রামের প্রায় কোনো বাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়নি।

    এ ছাড়া হাদাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকায়ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরাইলি ড্রোন উড়তে দেখা যায়।

    নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উত্তরে আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দুটি হামলা চালায়। দাওহাত কাফর রেম্মান, দাবশা পাহাড় ও আলি আল-তাহেরের বনাঞ্চলেও কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়। এসব হামলায় ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    এর আগে দক্ষিণ লেবাননে ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের ব্যবহার বেসামরিক মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

    সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন সময়ে হলো, যখন লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। তারপরও দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

  • ইসরাইলিদের উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধের আহ্বান

    ইসরাইলিদের উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধের আহ্বান

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান ও লেবার পার্টির এমপি এমিলি থর্নবেরি। তিনি বলেছেন, ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সেখানে সহিংসতা বন্ধে শুধু ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়; বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যও বন্ধ করা প্রয়োজন।

    থর্নবেরি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণের কারণে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ অর্থ যেন এসব বসতি সম্প্রসারণে ব্যবহৃত না হয়, সে জন্য বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করা দরকার।

    তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বর্তমানে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা হলে তা ইসরাইলি সরকারের ওপর চাপ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    এর আগে জুনে প্রায় ১৪০ জন লেবার এমপি পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ সরকার এখনো এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি।

    ব্রিটিশ সরকার অবশ্য ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি প্রকল্পেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। সরকার জানিয়েছে, বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের পথে বাধা ব্যাপক দুর্নীতি: সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের পথে বাধা ব্যাপক দুর্নীতি: সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    ইউক্রেনে বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভ দেশটিতে দুর্নীতির মাত্রার সমালোচনা করে বলেছেন, ব্যাপক দুর্নীতি যুদ্ধের অবসান এবং ইউক্রেন পুনর্গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিখাইল ফেদোরভ বলেন, ইউক্রেনের বর্তমান সরকারি কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতি এবং দুর্নীতির বর্তমান মাত্রার কারণে কার্যকরভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো ও দেশটির পুনর্গঠনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা অসম্ভব।

    বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এই সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষায়, ইউক্রেন সরকারের শত শত ব্যক্তি দুর্নীতির নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত, যারা বছরের পর বছর সরকারি অর্থ থেকে লাভবান হয়ে আসছেন। এর ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনে সম্প্রতি পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি সংগঠিত দুর্নীতি চক্র, যার সঙ্গে দেশটির কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ের কয়েকজন সদস্য জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

  • তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে ইসরাইলের গোপন যোগাযোগ

    তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে ইসরাইলের গোপন যোগাযোগ

    সিরিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে তেলআবি ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তবে তুরস্ককে শত্রুতে পরিণত করতে চায় না ইসরাইল। ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    কান নিউজকেয় ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যখন বার্তাগুলো কোনো কাজে আসে না, তখন ইসরাইলকে পদক্ষেপ নিতে হয়।’

    সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠলে তা প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইসরাইল। বিশেষ করে সিরিয়ায় তুরস্কের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন ঠেকানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশটি।

    এরই অংশ হিসেবে উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো ও রানওয়েতে হামলা চালায় ইসরাইল। তেলআবিবের দাবি, তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে দামেস্ককে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আপত্তি নেই, তবে সীমান্তে নতুন কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

    এদিকে তুরস্ক হামলার সময় ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি বা সেনা উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

  • ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

    ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

    ঢাকায় অবস্থিত দুইটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির ঘটনায়, বারিধারা ও গুলশানের পুরো কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বা এডিসি আবু খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আবু খায়ের বলেন, ‘চায়না এবং রাশিয়া দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল করা হয়েছে। বাট ওইটা কোন জায়গা থেকে আসছে, তা জানা যায়নি। আমরা ধারণা করছি, এটা স্ক্যামের, ফেইক।’

    ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাসগুলো নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দফতর এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে বিষয়টি অবহিত করার পর দূতাবাসগুলোর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং আরো জোরদার করা হয়েছে।

    এডিসি আবু খায়ের আরো বলেন, ‘তারা আমাদেরকে কিছু জানায় নাই। তারা মনে হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেইন অ্যাফেয়ার্সকে জানিয়েছি। আমি অফিসিয়ালি কোনো কিছু পাই নাই বাট যখন জেনেছি আমাদের যে এক্সিসটিং সিকিউরিটি মেজার সেগুলোই আরো জোরদার করা হয়েছে। ওইরকম কোনো কিছু মনে করতেছি না।’

    তবে এ বিষয়ে থানায় জিডি বা লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান আবু খায়ের।

  • ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগ!

    ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগ!

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের ফারাক্কা ব্যারাজ ও পানি বণ্টনসংক্রান্ত উদ্বেগগুলো বিবেচনা করা হবে বলে রাজ্যটিকে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
    তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সময় বিহারের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও দাবিগুলো আলোচনায় তোলা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

    শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পররাষ্ট্র, জলশক্তি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
    বৈঠকে বিহারের পানিসম্পদ, সেচ এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়।

    এদিন বিজয় কুমার চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজে পৌঁছানো পানির বেশিরভাগই বিহারের ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে আসে। কিন্তু পানীয় জল, সেচ ও শিল্পের ব্যবহারের জন্য বিহার তার ন্যায্য অংশ পায়নি।
    চুক্তির নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকে নেপালের কোসি ও অন্যান্য নদীর ওপর উচ্চস্তরের জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
    ২০০৪ সালে নেপালের বিরাটনগরে যৌথ প্রকল্প কার্যালয় বা জয়েন্ট প্রজেক্ট অফিস (জেপিও) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নেপালে প্রস্তাবিত জলাধার প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেয়াই এর উদ্দেশ্য।

    বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, বৈঠকে জেপিওতে বিহারের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
    তার দাবি, জয়শঙ্কর আশ্বাস দিয়েছেন যে জেপিওতে বিহারের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। বর্তমানে ওই কার্যালয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও নেপালের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
    এ ছাড়া বিহারের আটকে থাকা সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

  • মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে হরমুজ প্রণালির মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের

    মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে হরমুজ প্রণালির মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের

    হরমুজ প্রণালিকে ফের ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ (নিউ ইউএস টেরিটরি) হিসেবে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এই দাবির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের নীতি পরিবর্তন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ কোনোভাবেই উন্মুক্ত করা হবে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গাল্ফ নিউজ।

    রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি শেয়ার করে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেন ট্রাম্প। এর আগে গত ১৮ আগস্টও তিনি একই ধরণের ছবি পোস্ট করেছিলেন এবং লং আইল্যান্ডে দেয়া এক বক্তব্যে খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন অঞ্চল ঘোষণার হুমকি দিয়েছিলেন।

    ট্রাম্পের এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে না পারা এবং এর মালিকানা দাবির মধ্যকার ব্যবধান ওয়াশিংটন থেকে এই প্রণালির ৭ হাজার মাইলের দূরত্বের চেয়েও বেশি। এদিকে তেহরানের ওপর ইতিহাসের ‘কঠিনতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, যার আওতায় ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা চীনের ওপরও চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।

    আসন্ন এই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেই যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দেবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে তাদের ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • বৃটেন থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে রাশিয়া

    বৃটেন থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে রাশিয়া

    রাশিয়া বৃটেন থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং লন্ডনকে নিজেদের নীতি ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে মস্কোর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে সাত বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা আন্দ্রেই কেলিন গত ২১ জুলাই তার কূটনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাড়ান। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এখন পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

    রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য থাকায় রাশিয়া ও বৃটেনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
    গত সোমবার বৃটিশ নির্মিত ড্রোন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার পর বৃটেনকে ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুমকি দেয় মস্কো।
    এনিয়ে রুশ দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, কেলিন লন্ডনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপের বিভিন্ন চ্যানেল বজায় রাখতে ‘উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা’ চালিয়েছিলেন। কিন্তু তার মতে, বৃটিশ সরকার রাশিয়ার সঙ্গে ‘সংঘাতের পথ’ বেছে নিচ্ছে।

    তিনি দ্য টাইমস’কে বলেন, কেলিন এই আশায় বৃটেন ছেড়েছেন যে, আমাদের দেশের প্রতি যুক্তরাজ্য তার নীতি পুনর্বিবেচনা করলে শেষ পর্যন্ত আরও গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
    দূতাবাসের ওই মুখপাত্র আরও জানান, ক্রেমলিন এখনও বৃটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে নতুন রাষ্ট্রদূতের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। আপাতত দূতাবাসের দায়িত্ব পালন করছেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স।
    রাষ্ট্রদূত কেলিনের বিদায়ের খবর প্রথমে দূতাবাসের অভ্যন্তরীণভাবে জানানো হয়। গত ১১ জুন ‘রাশিয়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিষয়টি জানানো হলেও সাধারণ মানুষের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিবৃতি দেয়া হয়নি।

    একই দিনে বৃটেনের মস্কোস্থ রাষ্ট্রদূত নাইজেল ক্যাসি রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরল এক বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হয়।
    ২০১৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা কেলিন কেন পদ ছাড়লেন, তা স্পষ্ট নয়। রাশিয়া তার জায়গায় নিম্নপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখবে কিনা, সেটিও পরিষ্কার নয়।
    কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করা সাধারণত সেই দেশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি আনুষ্ঠানিক উপায়।

  • গাজায় আর লাশ দাফনের  জায়গা নেই

    গাজায় আর লাশ দাফনের জায়গা নেই

    ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে কাগজে-কলমে ‘যুদ্ধবিরতি’ চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে দেড় লক্ষাধিক। সেই সঙ্গে ঘর ছাড়া হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় এখন এমন সংকট দেখা দিয়েছে যে লাশ দাফন করার জায়গা পেতেও হিমশিম খাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। তেমনি গাজার ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি। তার সামনে এখন এক কঠিন বাস্তবতা- বাবা মোহাম্মদকে কোথায় দাফন করবেন?

    ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি দোকানে চা-কফি বিক্রি করছিলেন। গত ১০ জুন ইসরাইলের নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে তার ঘাড়ে একটি গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়।
    বাবার মরদেহ দাফনের জন্য ওমর জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে কবরের জায়গা প্রায় ফুরিয়ে গেছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির কারণে কবরস্থানগুলোতে ঠাসাঠাসি করে মরদেহ দাফন করা হচ্ছে।
    অনেক কবরেই স্থায়ী কোনো সমাধিচিহ্ন নেই। শুধু একটি পাথর এবং তার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা একটি কাগজ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জায়গার সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অসংখ্য কবর দেখেছি। চারদিকে বালুর পাহাড়, আর সেই বালুর নিচে মানুষকে দাফন করা হয়েছে।
    তিনি বলেন, কোথাও শুধু একটি পাথরের সঙ্গে শহীদের নাম লেখা কাগজ লাগানো হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেভাবে কবর তৈরি ও প্রস্তুত করা হতো, এখন আর সেভাবে করার সুযোগ নেই।
    বর্তমানে গাজায় একটি কবর তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ শেকেল বা ১৬৭ ডলার। ওমরের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তার ওপর নতুন কবর খোঁজার মতো জায়গাও ছিল না।
    নতুন কবরের জন্য কোনো জায়গা ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের দাদার কবরে বাবাকে দাফন করতে হয়েছে, বলেন ওমর।

    গাজায় যুদ্ধের কারণে সেবা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি হামলার ঝুঁকির কারণে মৃতদের শনাক্ত করা ও যথাযথভাবে দাফন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যুদ্ধের সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
    অনেককে বাড়ির আঙিনায়, তাবুর পাশে, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরের ভেতরে, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা কিছুটা কমে আসে। এরপর পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা অস্থায়ী কবরস্থানে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে।

    যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১,২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন হয়েছে নতুন দাফনস্থল। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণে থাকা সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
    আল জাজিরা বলছে, গাজায় কবরের সংকট শুধু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধে নিহত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির কারণে নয়। ইসরাইলি হামলায় বহু কবরস্থানও ধ্বংস হয়েছে।
    গাজার ধর্মীয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে।

    এ ছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলোর জন্য দাফনের জায়গা আরও কমে গেছে।

    গাজার ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
    ৫০ বছর বয়সী তাফেশ আবু হাতাব গত ১৯ বছর ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করছেন। তার মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।
    তিনি যে খান ইউনিস কবরস্থানে কাজ করেন, যুদ্ধ শুরুর সময় সেখানে ছিল প্রায় ৬০টি কবর। এখন সেই কবরস্থানে প্রায় ৬,০০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
    যুদ্ধের একপর্যায়ে তাফেশকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।

  • মাটির নিচে গোপন ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

    মাটির নিচে গোপন ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

    ইরানের মাটির গভীরে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন। তেমনই এক গোপন সামরিক উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি। শনিবার (২২ আগস্ট) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘শত্রুপক্ষের জানা উচিত, তারা একটি জাতির ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে পারবে না।’

    ইরানের মেজান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী (ভারপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইবনে-রেজার উপস্থিতিতে জেনারেল আব্দুল্লাহি ভূগর্ভস্থ কারখানাটি ঘুরে দেখেন। সেখানে তাকে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র উৎপাদনের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো তৃতীয় দফায় চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময়কার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে

    সামরিক শিল্পের আধুনিকায়ন ও ক্ষিপ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করে জেনারেল আব্দুল্লাহি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এখন শুধু নিরলস শ্রম আর অগ্রগতির উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আজ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত মানের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হচ্ছে। গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতিও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোনের উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম উপগ্রহ, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী যান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। বছরের পর বছর গবেষণাগার ও উৎপাদন লাইনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই ইরান আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অথচ বিপ্লব-পূর্ব যুগে ইরানের প্রতিরক্ষা চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভর করত, যা এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে।

  • ২০২৫ সালে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের শিকার

    ২০২৫ সালে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা যৌন নিপীড়নের শিকার

    মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে দুই বছর আগে এ সংখ্যা আরো বেশি ছিল । শুক্রবার প্রকাশিত পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিপীড়নের এ চিত্র দেখা দেখা গেছে। ২০২৫ অর্থবছরের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদনটি নিয়মিত প্রকাশ করতে হয়।

    প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ফলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই জরিপে সামরিক বাহিনীতে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ, যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়। সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের জরিপ পরিচালনা করে, যাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়নি—এমন ঘটনাগুলোরও একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

    সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারীদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন হয়রানির আনুমানিক হার ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।

    তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের মধ্যে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে এ হার বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে।

    পেন্টাগনের ভাষ্য, ভুক্তভোগী সদস্যদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে এবং অভিযোগের তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ঘটনাগুলো জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

    যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে দুর্বল করে, সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে।

    তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি সামরিক সদস্যদের সুরক্ষা, উচ্চমানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার বিষয়ে দপ্তরের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০ হাজার ৪৯২ জন ভুক্তভোগীর সংখ্যা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার সঙ্গে এক নয়। জরিপভিত্তিক এ হিসাবের উদ্দেশ্য হলো সামরিক সদস্যদের এমন অভিজ্ঞতাও শনাক্ত করা, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

    শুক্রবারের ঘোষণায় পেন্টাগন সামরিক বাহিনীর শাখাভিত্তিক হিসাব, ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত জনমিতিক তথ্য কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বিভিন্ন পরিসংখ্যান, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের বিশ্লেষণ এবং যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নেওয়া কর্মসূচি ও ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগের হালনাগাদ তথ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    এদিকে যৌন নিপীড়নসহ গুরুতর কিছু অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে মার্কিন কংগ্রেস। এর ফলে এসব মামলার বিচার সামরিক বাহিনীর প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর পরিবর্তে স্বাধীন সামরিক প্রসিকিউটরদের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালে যৌন নিপীড়নের আনুমানিক হার ও ভুক্তভোগীর সংখ্যা কমে আসাকে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও, ২০ হাজারের বেশি সদস্যের আক্রান্ত হওয়ার হিসাব থেকে স্পষ্ট যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন এখনো একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

  • জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই। আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়ে এ সফরে যাবেন তিনি।’

    আজ শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলার রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি বিষয়।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। তবে ভারতসহ কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।’

    ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামীকালও যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তাহলে আগামী সপ্তাহে সফর হতে পারে। আবার পরের সপ্তাহেও হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’

  • দুই সন্তানসহ ৮ বছর লিভ-ইন, এবার বিয়ে করলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা

    দুই সন্তানসহ ৮ বছর লিভ-ইন, এবার বিয়ে করলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা

    দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক, দুই সন্তান ও লিভ-ইন জীবনের পর অবশেষে বিয়ে করলেন বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল ও মডেল-ডিজাইনার গ্যাব্রিয়েলা ডেমেট্রিয়াডেস। শুক্রবার (২১ আগস্ট) গোয়ায় ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই তারকা জুটি।

    ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছাড়াই অত্যন্ত সাদামাটাভাবেই রেজিস্ট্রির আনুষ্ঠানিকতা সারেন তারা। গোয়ার ইউনিফর্ম সিভিল কোডের অধীনে তাদের এই আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

    জানা যায়, সাবেক স্ত্রী মেহের জেসিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সাল থেকে গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন অর্জুন। ২০১৯ সালে তাদের প্রথম সন্তান অ্যারিকের জন্ম হয়। এর চার বছর পর ২০২৩ সালে আসে দ্বিতীয় সন্তান আরিভ।

    দীর্ঘদিনের সম্পর্ক হলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে তাড়াহুড়া ছিল না এই জুটির। এক পডকাস্টে অর্জুন বলেছিলেন, বিয়ে তার কাছে মূলত একটি কাগজের বিষয়; তারা মানসিকভাবে নিজেদের বিবাহিত মনে করেন। তার ভাষায়, ভালোবাসাকে কোনো কাগজ দিয়ে মাপা যায় না।

    ২০২৫ সালে গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে বাগদানের ঘোষণা দেন অর্জুন। অবশেষে তার এক বছর পর সেই সম্পর্ক পেল আইনি স্বীকৃতি। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সম্পর্ককে এবার কাগজে-কলমেও স্থায়ী রূপ দেওয়ায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা।

    সূত্র: পিটিআই

  • ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    নতুন বছর শুরু হতে এখনও প্রায় চার মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান কবে শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর কোন দিনে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে জর্ডান নিউজ। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখে একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাজ্যের হিজরি ক্যালেন্ডারের ওয়েবসাইট স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস ২০২৭ সালের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়বে এবং আগামী বছর রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিনটি হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি সোমবার পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, যা ১৪৪৮ সালের শাবান মাসের ২৯ তারিখের সঙ্গে মিলে যায়।এর ফলে হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসটি (৩০ দিন) পূর্ণ হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তা শেষ হবে। আর এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।

    এ ছাড়া ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রমজান মাস ২৯ দিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা আগামী বছরের ৮ মার্চ (সোমবার) শেষ হতে পারে।

  • আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, ভারতের নিন্দা

    আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, ভারতের নিন্দা

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। এই সুপারিশের পর কমিশনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে সমালোচনা করেছে ভারত।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মার্কিন ওই কমিশন ক্রমাগত ভারত সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য’ করে আসছে।

    রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘এটি একটি চরম পক্ষপাতদুষ্ট সংস্থা। আমি বলব, আমাদের এ ধরনের সংস্থা থেকে দূরে থাকা উচিত; কারণ তাদের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে এবং তাদের কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্যতা নেই…আমরা আশা করি না যে ইউএসসিআইআরএফ ভারতের বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী কাঠামোর বাস্তবতাকে অনুধাবন করবে কিংবা এর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে স্বীকার করে নেবে।’

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মার্কিন সরকারকে আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২৯ আগস্ট মোহন ভগবতের নিউইয়র্ক সফরের কথা রয়েছে।

    মার্কিন কমিশন ওয়াশিংটনের প্রতি আরএসএসের নেতাদের কোনো কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছে। তারা আরএসএসকে একটি ‘ছাতা সংগঠন’ (আমব্রেলা অর্গানাইজেশন) হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার অধিভুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

    কমিশনটি আরও বলেছে, ‘এর পরিবর্তে মার্কিন সরকারের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা (এফওআরবি) লঙ্ঘনের জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত আরএসএস সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে নজর দেওয়া।’

    এর আগে গত মার্চ মাসে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফের বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের’ জন্য ভারতের তীব্র সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ী হিসেবে আরএসএস ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র) মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার’ সুপারিশ করে সংস্থাটি। সুপারিশে ইউএসসিআইআরএফ ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ (কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন) হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বানও জানিয়েছিল।

    ইউএসসিআইআরএফ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় সংস্থা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ দেয় এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন হিন্দুপ্যাক্ট (হিন্দুপিএসিটি) নিউইয়র্কে আরএসএস প্রধানের সফরের বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফের সদস্যদের প্রকাশ্য বিরোধিতার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, মার্কিন সংস্থাটি ‘নিজেদের দায়িত্ব ও উদ্দেশ্যকে কলঙ্কিত করেছে’।

    হিন্দুপ্যাক্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, ‘এর চেয়ারম্যান যখন ভারত ও আরএসএস নিয়ে কথা বলেন, তখন তাঁকে বহুত্ববাদী একটি মার্কিন কমিশনের প্রধানের চেয়ে কট্টর হিন্দুবিরোধী বয়ানের একজন সমর্থক বলেই বেশি মনে হয়…মোহন ভগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে সিএআইআর, আইএএমসি ও এইচএফএইচআরের তৈরি অপবাদ দিয়ে আচরণ করা উচিত নয়। এসব সংগঠন হিন্দুদের আত্মপ্রত্যয়কে চরমপন্থা হিসেবে উপস্থাপন করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে।’

  • যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    গত জুনে ব্রিটিশ কমান্ডোদের হাতে গ্রেপ্তার হন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের একটি তেলবাহী জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পান্থ। ৩৮ বছর বয়সী অজয় পান্থ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। মামলাটি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের ক্ষেত্রে একটি আইনি নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, অজয় পান্থকে এ ঘটনায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৬ বছর বয়সী ঋতু পান্থ বলেন, ‘আমার স্বামীকে শুধু বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন।’

    গত ১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার স্মিরতোসে একটি হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নেমে এটিকে আটক করেন ব্রিটিশ কমান্ডোরা। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন অজয় পান্থ।

    অভিযোগ রয়েছে, স্মিরতোস রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ অংশ। অস্পষ্ট মালিকানা ও বীমাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত জাহাজের এই নেটওয়ার্ক ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর আরোপ করা তেল নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে মস্কো ব্যবহার করে।

    মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, স্মিরতোস গত ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বাল্টিক সাগর পেরিয়ে জাহাজটির গন্তব্য হিসেবে মিসরের পোর্ট সাঈদের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের সময় জাহাজটির ওপর অভিযান চালান ব্রিটিশ কমান্ডোরা।

    যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ অভিযানকে রাশিয়ার জন্য একটি ‘ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    পান্থের স্ত্রী বলেন, তাঁর স্বামী এ ঘটনার শিকার। জামিন না পাওয়ায় হেফাজতে থেকে তিনি কঠিন সময় পার করছেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের প্রথম ফোনালাপের কথা স্মরণ করে চোখের পানি সামলানোর চেষ্টা করতে করতে ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং শুধু কাঁদছিলেন।’

    তিনি বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, তিনি তা বুঝতে পারেননি…তিনি শুধু বলেছিলেন, “আমি কারাগারে আছি, দয়া করে আমাকে এখান থেকে বের করে নাও।”’

    এদিকে প্রসিকিউশন দাবি করছে, অজয় পান্থ ছিলেন জাহাজটির ‘মাস্টার’ বা ক্যাপ্টেন এবং প্রায় ৯৮ হাজার টন তেলের চালান সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল। তবে আদালতের এক শুনানিতে পান্থের আইনজীবী বলেন, জাহাজের কর্মী হিসেবে তিনি ‘শুধু নির্দেশ পালন করছিলেন’।

    তাঁর স্ত্রীও একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। ঋতু পান্থ বলেন, ‘যেকোনো জাহাজে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব হলো পণ্য নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।’

    ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল–এর আনোয়ার সাদাত বলেন, এ মামলায় ‘জটিল’ আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

    আগামী ১৫ ডিসেম্বর পান্থের বিচার শুরু হওয়ার কথা। রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলো যখন পদক্ষেপ জোরদার করছে, তখন মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

    ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের কোনো দেশ প্রথমবারের মতো জাহাজ বা এর মালিকদের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাট সি ইন্টারন্যাশনালের ডেভিড হ্যামন্ড লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের জন্য লেখা এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘এই মামলার প্রভাব একটি জাহাজ, এর পণ্য বা এর ক্যাপ্টেনের ভাগ্যের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।’

    তিনি বলেন, ‘শ্যাডো ফ্লিটের পরিচালকদের পাশাপাশি এসব জাহাজে কর্মরত নাবিকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পশ্চিমা সরকারগুলো কতটা এগোতে প্রস্তুত, এ মামলা তার প্রাথমিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।’

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা পান্থের ‘খোঁজখবর নিতে’ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।

    পান্থ ছিলেন জাহাজে থাকা একমাত্র নাবিক, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জাহাজটির বাকি ২৪ ক্রু সদস্যের বেশির ভাগকে এরই মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি এখনো ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নোঙর করা রয়েছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনে ‘মাঝখানে আটকে পড়ার’ আশঙ্কায় নাবিকেরা ভীত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নাবিকবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ক স্টিভ ইয়ান্ডেল। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নাবিকেরা জানতেই পারেন না, তাঁদের জাহাজে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল বহন করা হচ্ছে কি না। আর এর ফলে তাঁরা সম্ভাব্যভাবে ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

    ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি নাবিক নিয়ে ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন খাতের কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশ।

    ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ভারতীয় ট্যাংকার ক্যাপ্টেন সংকেত জোশি বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো ইস্যুর পরিবর্তে ‘বাণিজ্যিক দিক’ বিবেচনায় কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

    গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে পান্থ তাঁর স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির আশপাশে সমুদ্রে কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার আরেকটি সংঘাতের প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

    ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, এখন সমুদ্র খুব কঠিন জায়গা হয়ে উঠছে। আমি শুধু প্রার্থনা করছিলাম এবং তাঁকে বলছিলাম, “শান্ত থেকো, সতর্ক থেকো এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখো।”’

    পান্থের মা দীপা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুই হাত জোড় করে সরকারের কাছে আবেদন করতে চাই, আমার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিন।’

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সরকারের সেই নীতিকে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

    তিনি আরও বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ওই নীতি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    রায়ে বিচারক লিখেছেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এই নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অকার্যকর করে দেয়। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্থগিতাদেশের আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো দেশ; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশ; দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশের নাগরিকরা পড়েন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন বলে, এসব দেশের আবেদনকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভর করার উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছেন। বিচারকের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেয়া বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং নির্ধারিত দেশগুলোর অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেন।

    ওই মার্কিন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাদের ভিসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে তার কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে তুলে ধরেন।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ও নজরদারি বা ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • ট্রাম্প-নাটালির ঘনিষ্ঠতা:ফাঁস হলো চিঠি

    ট্রাম্প-নাটালির ঘনিষ্ঠতা:ফাঁস হলো চিঠি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ট সহকারী নাটালি হার্পকে নিয়ে জল্পনা থামছেই না। এবার ট্রাম্পকে লেখা নাটালির দুইটি চিঠি ফাঁস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দ্য

    প্রকাশিত একটি চিঠিতে হার্প লিখেছেন, আমি চাই আমাদের মধ্যে সবকিছু যেন সবসময় ঠিক থাকে। চিঠিটি টাইপ করে প্রিন্ট করা হয়েছিল এবং শেষে স্বাক্ষরও ছিল।

    চিঠির শুরুতে ছিল, প্রিয় মি. প্রেসিডেন্ট এবং শেষে লেখা ছিল, আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, নাটালি। এর আগে চিঠিটির কিছু অংশ নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছিল।
    চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের পাশে হার্পের প্রায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ তার এক বক্তব্যে হার্পের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।

    তিনি কাতারের আমিরের দেয়া উড়োজাহাজে ট্রাম্পের সঙ্গে নাটালির ভ্রমণের বিষয়টিও তুলে ধরেন। এর আগে গত জুলাইয়ে ইরানের হুমকির কারণে তুরস্ক থেকে গোপনে ছোট একটি উড়োজাহাজে করে ট্রাম্প ফেরার সময় সীমিতসংখ্যক সহযোগীর মধ্যে হার্পও তার সঙ্গে ছিলেন।

    ডেইলি বিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের একটি চিঠিতে ট্রাম্পকে হার্প লিখেছিলেন, আমি কখনোই আপনাকে আনন্দ ছাড়া অন্য কিছু দিতে চাই না। আমি দুঃখিত যে আমি আমার মনোযোগ হারিয়েছিলাম। আপনিই আমার কাছে সবকিছু। আমি কখনোই আপনাকে হতাশ করতে চাই না। এই জীবনে আমার অভিভাবক ও রক্ষক হওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

    আরেকটি চিঠিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন হার্প। তখন তিনি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের উপস্থাপক ছিলেন।

    তিনি লিখেন, টক শো করার সময় আপনি ফোন করতেন, তখনকার দিনগুলোকে আমি মিস করি। আমরা সবকিছু এবং কিছুই না- সব নিয়েই কথা বলতাম। আমি সেই বোঝাপড়াটা আবার ফিরে পেতে চাই। আমাদের সবসময় শুধু কাজ নিয়েই কথা বলতে হবে এমন তো নয়!

    চিঠিটিতে হার্প আরও লিখেছিলেন, আর আমি যখন ভুল করি, দয়া করে আমাকে বলবেন। প্রয়োজন হলে আমাকে বকাঝকা করারও আপনার পূর্ণ অধিকার আছে, কারণ আমার মতো করে আমাকে কেউ জানে বা আমার জন্য ভাবে না।
    দ্য ডেইলি বিস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে একটি বই লেখার সময় লেখক মাইকেল উলফ এসব চিঠি সংগ্রহ করেন।
    এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল সিএনএনকে দেয়া এক বিবৃতিতে হার্পের পক্ষ নিয়ে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের অন্যতম অনুগত ও কঠোর পরিশ্রমী সহযোগী।

    তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, হার্পকে ঘিরে ব্যাপক ও তীব্র সমালোচনার ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে এসেছে।

    সর্বশেষ শুক্রবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সাউথ ক্যারোলাইনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় হার্পকে অন্যান্য সহযোগীর সঙ্গে মেরিন ওয়ানে উঠতে দেখা গেছে।

  • এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়ল

    এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়ল

    অবশেষে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে সুখবর মিলেছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের জন্য এলএনজিবাহী একটি জাহাজ পৌঁছেছে।

    আজ শনিবার দুপুর দেড়টায় ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে ভিড়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজিবাহী জাহাজটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন পোর্ট থেকে।রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে এলএনজি সংকট আপাতত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আশা করছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

    দুপুর দেড়টা থেকেই এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনাল দিয়ে ১শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। টার্মিনালে আগে জমা থাকা কিছু এলএনজি দিয়ে সরবরাহ শুরু হয়।

    এতে দুপুর থেকেই গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কারণ পাশে থাকা দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল দিয়েই ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি টার্মিনাল দিয়ে ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলছে।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতে রবিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    এলএনজি সরবরাহে বিপত্তি ঘটে ২১ এপ্রিল থেকেই। প্রথমে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে আগুন লেগেই তৈরি হয় বিপত্তি। দুসপ্তাহ সচলের পর টার্মিনালটি পড়ে এলএনজি সংকটে। এরই মধ্যে দেশীয় সামিটের টার্মিনালও বন্ধ থাকে এলএনজি সংকটে।

    রোববার থেকে পুরোদমে দুটি টার্মিনাল ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। কিন্তু কতদিন এই সরবরাহ একইরকম থাকবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ মাসের চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি জাহাজ আসা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

  • আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    ছোটপর্দার ব্যস্ততা, ওটিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত— সব মিলিয়ে অভিনয় জীবনে নানা ব্যস্ততার মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তবে এবার বড় পর্দাকে ঘিরেও নতুন করে ভাবছেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ বিরতির পর সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৪টি সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে।

    অপূর্বর চলচ্চিত্রযাত্রা অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০১৫ সালে ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ দিয়ে সিনেমায় অভিষেকের পর বড় পর্দা থেকে প্রায় এক দশক দূরে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে টালিউডের ‘চালচিত্র’ দিয়ে আবারও সিনেমায় ফেরেন। এবার সেই বিরতি আর দীর্ঘ করতে চান না। যদিও আলোচনায় থাকা চার সিনেমার কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    এ বিষয়ে অপূর্বের অবস্থানও বেশ সতর্ক। তিনি বলেন, ‘এখনো আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। শুধু এতটুকু বলতে পারি, একসঙ্গে ৪টি সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, শুটিং শুরু হওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর হয় না। এ কারণে আগে থেকে বলতে চাই না। কোনো কারণে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি না হলে দর্শকের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। যখন বুঝতে পারব আসলেই হচ্ছে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাব।’

    এদিকে দেশে ফিরেই নাটকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অপূর্ব। বর্তমানে মাসরিকুল আলমের পরিচালনায় একটি নাটকের শুটিং করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী শার্লিন ফারজানা। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দায়।

    একটি নাটকের কাজ শেষ করেই থামছেন না অপূর্ব। পরপর আরও ৭টি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। এসব নাটকের নির্মাতা হিসেবে থাকছেন জাকারিয়া সৌখিন, সৈয়দ শাকিল, মুরসালিন শুভ, মাহমুদুর রহমান হিমি ও রুবেল হাসান। এই ব্যস্ততা শেষ করে ফের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। বছরের শেষ দিকে দেশে ফিরে ঈদের ওটিটি কনটেন্ট ও টেলিভিশন নাটকের কাজে যুক্ত হবেন তিনি।

    অভিনয়ের বাইরে গান নিয়েও সম্প্রতি দর্শকদের সামনে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন অপূর্ব। ৮ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব মিউজিক্যাল নাইট’-এ প্রায় দুই ঘণ্টা দর্শকদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। গান পরিবেশনের পাশাপাশি গল্পের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি জমিয়ে তোলেন এই অভিনেতা।

    নিউইয়র্কের ওই আয়োজনের সাফল্য এবার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি শহর থেকে কনসার্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন অপূর্ব। তবে একসঙ্গে সব প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নেই তার। সময় নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই পরবর্তী কনসার্টগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।

    ফলে সামনে অপূর্বর ব্যস্ততা শুধু নাটককেন্দ্রিক থাকছে না। সিনেমায় নতুন কাজ, ওটিটি, টেলিভিশন এবং কনসার্ট—সব মাধ্যমেই নিজের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন এই অভিনেতা।

  • ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া:মমতাকে দুষলেন অমিত

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া:মমতাকে দুষলেন অমিত

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত এর কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে এ কথা বলেন অমিত শাহ।

    মমতাকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলে, ‘বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি বারবার মরিয়া হয়ে অনুরোধ করেছি, কিন্তু তাতে তিনি কোনো সাড়া দেননি। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০১৪ সাল থেকেই আমি ১ হাজার ১২৯ একর জমি চেয়ে আসছিলাম। রাজ্যে (শুভেন্দু) অধিকারী সরকার গঠনের পরই আমরা ওই জমি পেয়েছি।’

    পশ্চিমবঙ্গে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    যেসব জেলায় বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি জেলা, যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

    এর আগে গত মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সশস্ত্র বিএসএফ জওয়ানদের পাহারা

    অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জমি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল রাজ্যের সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশও বরাবরই বলেছে, রাজ্যের জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, বিশেষত এমন একটি রাজ্যে, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অন্য রাজ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি।

    এ নিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন অতীতে বিবৃতি দিয়েছে, আন্দোলনও করেছে। ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তচুক্তি হয়, সে সময় ১০ হাজার একরের কিছু বেশি জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় ভারত, তখন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজ। কিন্তু এখন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের জমি দিয়ে দেওয়ার পরও কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।

  • আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগে একটি পিটিশন দায়ের করেছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

    আজ শনিবার পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে ইমরান খানের বোন উজমা খান ও আইনজীবী উজাইর ভান্ডারির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই পিটিশন দাখিল করেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করার পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সরকারের এ সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেছেন, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে ও সেখানে যাওয়ার পথে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ কারণে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    তবে তারার দাবি করেন, শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও পিআইএমএসে উপস্থিত ছিলেন।

    পিটিআইয়ের পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের গত মঙ্গলবারের আদেশ লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালত অবমাননার জন্য দোষী ঘোষণা করে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে তাঁর চিকিৎসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগেরও আবেদন করেছে পিটিআই।

  • শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চাই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চাই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ এখনই শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই তিনি বলেছেন, ইরান এখন ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখন শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছি, তাই এখনই এই যুদ্ধ শেষ করা আমাদের জন্য ভালো।’

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে। সবাই বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এ কারণে তারা এখন বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত।’

    গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন পেজেশকিয়ান। ইরানের পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সরকার ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছে।

    জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই সমঝোতার একটি ধারাও তাঁরা দেখাতে পারবেন না, যেখানে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে; বরং সব প্রতিশ্রুতি অপর পক্ষকেই পূরণ করতে হবে।’

    তবে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন কোনো হুমকি এলে পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহিকে উদ্ধৃত করে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা, এমনকি সাইবার হামলা চালাতেও ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা

    ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রী আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপ আবার শুরু করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

    ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো আংশিক বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের গোপন বহর চলাচল করছে। এসব ট্যাংকারকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি

    আলোচনায় বসতে ইরান আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের স্থলভূমিসহ পুরো অঞ্চলের ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়।’

    ইরানকে সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সরকারকে ‘ধসিয়ে দেওয়া’ হবে।

  • ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ ভারতের

    ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ ভারতের

    পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ ভারতবর্ষের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সরু অঞ্চল। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ শিলিগুড়ি করিডর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়িতে গিয়ে সেই করিডরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়েই বড় বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
    তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ, শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এদিন শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।

    এ সময় দেওয়া বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, শিলিগুড়ি করিডর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে।

    চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডরকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের থেকে অনুরোধ সত্ত্বেও জমি পাওয়া যায়নি।

    কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবি-র জমিজট কাটিয়ে ১ হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। এমনকি সকালের নাস্তার আলোচনার সময় বাকি থাকা ২৯ একর জমির অনুমোদনও তৎক্ষণাৎ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

    অমিত শাহ আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অঞ্চলের যাতায়াত, পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্ত গ্রামগুলোকে কেবল সড়কপথেই নয়, মূল ভূখণ্ডের হৃদয়জুড়ে যুক্ত করা হচ্ছে।

    একই সঙ্গে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে বিশ্বমানের স্টেশনে রূপান্তর করা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডর চালুর মাধ্যমে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানান ভারতের কেন্দ্রী এই মন্ত্রী।

  • পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি নিন্দা-এমডব্লিউএল

    পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি নিন্দা-এমডব্লিউএল

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ‘ই–ওয়ান’ বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (এমডব্লিউএল)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিকল্পনা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে হুমকির মুখে ফেলছে।

    সম্প্রতি ‘ই–ওয়ান’ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরাইল। বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও মালে আদুমিমের মধ্যে একটি ধারাবাহিক ইসরাইলি বসতি করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ ‘ই–ওয়ান’ প্রকল্পকে ‘বিপজ্জনক পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের ‘সব অবৈধ বসতি নীতির’ নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে। পাশাপাশি এগুলো সব ধরনের শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

    ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ।

    সংস্থাটি বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ‘ভৌগোলিক ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের’ লক্ষ্যে নেওয়া বসতি সম্প্রসারণসহ অন্যান্য পদক্ষেপও বন্ধ করতে হবে।

    মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ ফিলিস্তিনিদের একটি ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সংস্থাটি বলেছে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ন্যায়সংগত ও স্থায়ী আঞ্চলিক শান্তির ‘একমাত্র পথ’।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ হতে পারে আলোচনাধীন কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোর। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই সম্ভাবনা সামনে রেখেই ইউনানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

    ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্স-এ আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড এনভায়রনমেন্ট প্রোমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

    অনুষ্ঠানে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।

    বিশেষ করে কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাণিজ্যপথ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সরাসরি সংযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ইউনানভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।

    রিদওয়ানুর রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধাও দেওয়া হয়। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে।

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়।

    সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে জানান রিদওয়ানুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, ইউনানের পাশাপাশি সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে তারা।

  • এবার আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে ইরান

    এবার আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে ইরান

    ইরানের ওপর হামলা হলে আগের তুলনায় আরো ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সামরিক কৌশল এখন ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

    আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশের সামরিক নীতি আগে ছিল প্রতিরক্ষামূলক। তবে গত দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, সামরিক কৌশল ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে এগিয়েছে।’

    তবে এই পরিবর্তনের অর্থ শত্রুর বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানো নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এর অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুর বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযান চালাব। তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দেব এবং সেই জবাব হবে আগ্রাসনের মাত্রার চেয়েও ব্যাপক।’

    ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা জানান, আগের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু সামরিক ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিও বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শত্রু আবার কোনো ভুল হিসাব করলে আমরা যাতে আগের চেয়েও বেশি বিধ্বংসী জবাব দিতে পারি, সে জন্য আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

    এদিকে, যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরো বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের প্রসঙ্গ তুলে আকরামিনিয়া বলেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসার একটি ইঙ্গিত।

  • লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের মালিক হয়েছে পাকিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলীয় রান শূন্য থাকা অবস্থায় প্রথম উইকেট হারিয়েছে তারা।

    প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ওপেনার আজান ওয়াইসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ওলি রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে—ইমাম-উল-হক কোনো রান না করেই জফরা আর্চারের শিকার হন। টেস্টে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো নতুন কিছু নয়, তবে একই ম্যাচে দুই ইনিংসেই এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে পাকিস্তানই এখন সবার ওপরে। দলটি মোট সাতবার একই টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ৫ বার, অস্ট্রেলিয়া ৪ বার, ভারত ২ বার এবং নিউজিল্যান্ড ১ বার।

    হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চরম। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৫ রানে। বিপরীতে ইংল্যান্ড এক ইনিংসেই সংগ্রহ করে ৪০৬ রান। ফলে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা।

    পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ৫/৫১।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুতেই আর্চারের বলে ইমাম-উল-হক শূন্য রানে ফিরলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর শান মাসুদ কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। আবদুল্লাহ শফিকও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

    এরপর জশ টাং পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন। সাউদ শাকিলকে ফেরানোর পর একই ওভারে শান মাসুদ ও সালমান আগাকে সাজঘরে পাঠিয়ে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দেন।

    মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে রবিনসনের আঘাত অব্যাহত থাকে। পরে গাস অ্যাটকিনসন রিজওয়ানের ইনিংস শেষ করেন এবং ৩৮তম ওভারে আর্চার শেষ ব্যাটারকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

    প্রথম ইনিংসেও পাকিস্তান ইংলিশ পেসারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। রবিনসন ৫/৫১ এবং জশ টাং ৫/৪৬ নিয়ে পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে দেন। জবাবে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে। হ্যারি ব্রুক ৯১, জর্ডান কক্স ৭৩, জো রুট ৬৬ এবং ড্যান লরেন্স ৫১ রান করেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ শুল্কের হুমকি কানাডার

    যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ শুল্কের হুমকি কানাডার

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ‘ডলার-ফর-ডলার’ নীতিতে এই শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে অটোয়া।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার পরপরই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। এর আগে শুক্রবার রাতে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেন কার্নি।

    কার্নি বলেন, আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা কানাডার কাছে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

    গত জুলাই থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে সাময়িকভাবে সেই শুল্ক স্থগিত করে তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কানাডার প্রত্যাশা পূরণের মতো যথেষ্ট সমঝোতা হয়নি। ফলে আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন তিনি।

    ওয়াশিংটনের পাল্টা অভিযোগ

    কানাডার ঘোষণার পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেন, সপ্তাহের শুরুতে যে শর্তে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছিল, কানাডা শেষ পর্যন্ত সেই ভিত্তিতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে রাজি হয়নি।

    তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে বড় বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে সবচেয়ে অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কানাডার নতুন কিছু দাবি এবং আগের কয়েকটি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে আলোচনায় তৈরি হওয়া সমঝোতা নষ্ট হয়ে যায়।

    এর আগে আলোচনায় কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং কানাডীয় গাড়ির ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বিনিময়ে কানাডার প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল।

    বাড়ছে দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনা

    ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা চলছে। নতুন করে আলোচনাও ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন মহামন্দার সময়কার ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্ট ব্যবহার করে কানাডীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য পড়তে পারে। পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগে থেকে থাকা মার্কিন শুল্কও বহাল থাকবে।

    কানাডার সবচেয়ে বড় প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবও শুল্ক দিয়ে এবং ডলারের বিপরীতে ডলার দিয়ে দেওয়া উচিত।

    এদিকে গত বছর মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার বেশ কয়েকটি প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

    কানাডার সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৬ শতাংশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পাল্টা জবাব দেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সরকারের আলোচনার পথেই থাকা উচিত।

    তবে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি মেনে নেবে না।

  • ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে, বোনের অভিযোগ

    ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে, বোনের অভিযোগ

    পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে বারবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তার বোনকে জানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তার বোন উজমা খান এ দাবি করেন। এর এক দিন আগে চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

    ইমরান খানের মেডিকেল টেস্টের সময় তার বোন উজমা খান ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, শারীরিকভাবে ইমরান খান সুস্থ আছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার কাছে কারাগারে বারবার নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

    উজমা খান সাংবাদিকদের বলেন, “ইমরান আমাকে বলেছেন, কারাগারে তাকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে।”

    তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    আদালতের নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক

    শুক্রবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়।

    পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

    এদিকে, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে শনিবার সরকারের বিরুদ্ধে অবমাননার আবেদন করেছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলের আইন উপদেষ্টা নাইম পাঞ্জুথা জানান, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের দাবি, আদালত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ইমরান খানকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

    সরকারের ব্যাখ্যা

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশে উল্লেখ করা বেসরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছিল।

    তিনি জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা করে। পরে তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ইমরানের আইনজীবীরা এর আগে দাবি করেছিলেন, কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, চিকিৎসা প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন এমন কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি।

    হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমর্থকদের জমায়েত

    ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে তার সমর্থকেরা জড়ো হন। ইমরানকে বহনকারী বলে ধারণা করা একটি গাড়ির দিকে তারা ফুল ছুড়ে দেন।

    পাকিস্তানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যমে ইমরান খানের নাম উল্লেখ করাও অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হতো।

    পিটিআই নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন করে বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

    খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, “গতকাল যা ঘটেছে, তার পর কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দ্বিগুণ হবে।” তিনি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিলের প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।

  • গাজায় লাখ লাখ লোকের রোগীর তীব্র ওষুধ সংকট

    গাজায় লাখ লাখ লোকের রোগীর তীব্র ওষুধ সংকট

    গাজা উপত্যকায় বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখের বেশি রোগীর জন্য জরুরি ওষুধ প্রয়োজন হলেও সেখানে যে পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করছে, তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ।

    আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশের ব্যবস্থা না করা গেলে উপত্যকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

    মোহাম্মদ আবু আফাশ বলেন, বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ সহায়তা গাজায় ঢুকছে, তা মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বাড়বে এবং রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

    ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির এই কর্মকর্তা গাজায় দ্রুত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

  • ইসরাইলের স্বার্থে মিত্রদের ঝুঁকিতে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

    ইসরাইলের স্বার্থে মিত্রদের ঝুঁকিতে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

    ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘দাদাগিরি’ ও মিত্রদের স্বার্থের প্রতি চরম অবহেলার কারণে অঞ্চলটির প্রতিটি মার্কিন মিত্রই বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

    গালিবাফ আরো জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার নতুন কাঠামো গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরান ‘অসংখ্য বার্তা’ পেয়েছে।

    তার ভাষায়, প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীলতার পরিবর্তে নিজেদের উদ্যোগে একটি স্বাধীন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    গালিবাফ বলেন, নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি স্থানীয় ও স্বাধীন আঞ্চলিক ব্যবস্থা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    মার্কিন ট্রেজারির বাইব্যাক সহায়তা পরিকল্পনার কারণে ডলারের মান কমে গেছে। এতে করে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও সমান ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৮০ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে।

    চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। টিডি সিকিউরিটিজ-এর পণ্য কৌশলের গ্লোবাল হেড বার্ট মেলেক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই গতি অব্যাহত থাকলে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হবে ৪ হাজার ৭০০ ডলার। আমি মনে করি মার্কিন ডলারের দরপতনও এর (স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি) পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৬২ ডলার, প্ল্যাটিনাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৫৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।

    এদিকে দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • এল নিনোর প্রভাবে খরা, পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে

    এল নিনোর প্রভাবে খরা, পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে

    এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট খরার কারণে আগামী মাস থেকে পানামা খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে দেবে কর্তৃপক্ষ। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করা কৌশলগত জলপথটির পরিচালনাকারী সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পানির যোগান দেওয়া দুটি কৃত্রিম হ্রদে পানির স্তর কমে গেছে। এ কারণে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন ৩৬টির বদলে ৩৪টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এ সংখ্যা কমিয়ে ৩২ করা হবে।

    এল নিনোর প্রভাবে মধ্য আমেরিকাজুড়ে খরা দেখা দিয়েছে। পানামা খাল এলাকায় মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় বৃষ্টিপাত ৩৪ শতাংশ কমেছে। যা আরও কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের ৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ পানামা খাল দিয়ে হয়। ২০২৩ সালেও খালের পানির যোগান দেওয়া হ্রদগুলোতে পানির স্তর কমে গিয়েছিল। সে সময় প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৩৮ থেকে ২২-এ নেমেছিল।

    খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে আগে থেকে বুকিং না নেওয়া জাহাজগুলো পারাপারে অপেক্ষার সময় বাড়বে। সাধারণত খাল ব্যবহারকারী প্রতি ১০টি জাহাজের মধ্যে ৯টিই আগে থেকে বুকিং দেয়। বাকি স্লটগুলো বরাদ্দ হয় নিলামের মাধ্যমে।

    ইরান যুদ্ধের আগে এসব নিলামে জয়ী হওয়ার গড় দর ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। গত এপ্রিলে খালটি ব্যবহারের জন্য একটি জাহাজ কোম্পানি ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত দর দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত এই খালের প্রধান ব্যবহারকারীদের মধ্যে আরও আছে চীন, জাপান, চিলি ও দক্ষিণ কোরিয়া।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    রয়টার্সের প্রতিবেদন

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এ তথ্য জানান।

    এর আগে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করবেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়াদিল্লিতে এটি হতে পারে তার প্রথম সফর। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে।

    রয়টার্সকে এ এ এম সালেহ বলেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেখ হাসিনা এবং ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের ব্যাপারে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি তারা পর্যালোচনা করছে।

    এদিকে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে তারেক রহমানের সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দেয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

    এর কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

    ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তার সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরে গত বছরের নভেম্বরে একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি একটি নতুন মাইলফলক হলেও অর্থনীতিবিদেরা এটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু কম। এক দশকের মধ্যে তা দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির ঋণ এখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার ডলার করে বাড়ছে। দিনে বাড়ছে প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১৯৮১ সালে প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তখন বিষয়টিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। অর্থনীতিবিদ মায়া ম্যাকগিনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বছরে এসে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই সেই সময়ের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশটি।

    কেন এত ঋণ
    যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ব্যবধান রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে কর কমানোর ফলে সরকারের রাজস্ব কমেছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকট মোকাবিলায়ও বিপুল পরিমাণ ঋণ করতে হয়েছে সরকারকে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদের হার। সুদের হার বেশি থাকায় সরকারের পুরোনো ও নতুন ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদ এরিক সোয়ানসনের মতে, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর পেছনে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রাখছে।

    সুদ পরিশোধেই বড় চাপ
    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের হিসাবে, সরকারের মোট কর আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই এখন ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। এই ব্যয় প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়েও বেশি।

    ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে নতুন ঋণ নিতে আরও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ড কিনে অর্থ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি মুনাফা চাইছেন।

    এর আরেকটি কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল বিনিয়োগ। এসব কোম্পানিও বড় অঙ্কের অর্থ ধার করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের অর্থের জন্য সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

    এখনই সংকট নয়, তবে সতর্কসংকেত
    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ দেশটির অর্থনীতির আকারের প্রায় ১২৬ শতাংশ। তবে জাপান ও ইতালির মতো কয়েকটি উন্নত দেশের তুলনায় এই অনুপাত এখনো কম। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হওয়ায় দেশটি অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি সময় ধরে বড় ঋণের বোঝা বহন করতে পারে।

    তবে অর্থনীতিবিদেরা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়কও মনে করছেন না। এল-ইরিয়ানের ভাষায়, এটি এখনো ‘লাল সংকেত’ নয়, বরং ‘হলুদ সংকেত’। অর্থাৎ পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

    অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, একপর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তখন বন্ড বিক্রি বাড়তে পারে এবং আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

    প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর
    সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ার প্রভাব শুধু সরকারি হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেশি পড়বে।

    এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুদে ঋণ নিলে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। ফলে ঋণের বোঝার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়তে পারে।

    সামনে কী করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে এখনো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ সামলানো তুলনামূলক সহজ হবে।

    কিন্তু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট না হলে সরকারকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর মধ্যে করব্যবস্থায় সংস্কার, সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা কৃচ্ছ্রসাধনের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

    সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরকারি ঋণের কিছু বন্ড পুনরায় কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে সাময়িকভাবে বন্ডের চাহিদা বাড়ে এবং ঋণ নেওয়ার খরচ কমে। কিন্তু এক দিন পরই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ আবার বেড়ে যায়।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুররেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুররেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

    গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার ঘটনায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও কর্মকর্তা আফেক মোসকোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে তুরস্ক। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    গুরলেক বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম ইস্তাম্বুলের ১১তম হেভি ক্রিমিনাল কোর্টে চলমান রয়েছে। ২০২৬/১০৮ নম্বর মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচও রয়েছেন।

    গুরলেক জানান, গণহত্যার অভিযোগে গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তাদের আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিতে তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    তুরস্কের বিচারমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান এবং তাদের আটক করার ঘটনায় নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিচার চলছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, গুরুতরভাবে স্বাধীনতা হরণ, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর ধরনের ডাকাতি এবং পরিবহনযান ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    গুরলেক বলেন, গাজায় ইসরাইলি সরকারের নীতির কারণে নেতানিয়াহু সরকার কোনো ধরনের জবাবদিহির বাইরে থাকবে- এমন ধারণা তুরস্ক প্রত্যাখ্যান করে।

    তুরস্ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। গুরলেক আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণ এবং নিপীড়নের শিকার অন্যান্য মানুষের পাশে থাকবে।

  • আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তার সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগেছেন। এমনকি আতঙ্কের সময় শরীর কাঁপা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খাওয়ার পর বমি, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাকে। একপর্যায়ে চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।

    সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনুপমা এসব কথা বলেন। তার ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

    অনুপমা বলেন, আগে কখনো এমন সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি সুখী শিশু ছিলাম। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতাম। এর আগে এমন কিছুই ঘটেনি।’

    আতঙ্কে কাঁপত শরীর
    অনুপমার দাবি, ওই সময়ে নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক ও তীব্র উদ্বেগে আক্রান্ত হতেন তিনি। তখন নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণও থাকত না।

    তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের পা কাঁপতে শুরু করত, হাত কাঁপত, এমনকি আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারতাম না।’ এ সময় কয়েকবার জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

    মানসিক চাপের প্রভাব পড়েছিল তার খাওয়ার অভ্যাসেও। সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনেক কিছু তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। অনুপমা বলেন, কিছু খাওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কথা বা ঘটনা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুললে তিনি বমি করে ফেলতেন।

    ওজন কমে যাচ্ছিল, শুটিংয়েও সমস্যা
    অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে তার ওজনও দ্রুত কমে যাচ্ছিল। আশপাশের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন নিজের ভেতরের পরিস্থিতি কাউকে বোঝাতে পারছিলেন না বলে জানান অনুপমা।

    শুটিংয়ের সময়ও এর প্রভাব পড়েছিল। তার ডান চোখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপত। এতে কখনো কখনো শুটিং বন্ধ করে দিতে হতো।

    অনুপমা বলেন, ‘আমার ডান চোখে সমস্যা শুরু হতো। চোখ এমনভাবে কাঁপত যে শুটিং বন্ধ করতে হতো। এটা থামানোর কোনো উপায় ছিল না।’

    দীর্ঘক্ষণ কান্না, শেষে অস্ত্রোপচার
    অনুপমার ভাষ্য, ওই সময় তিনি প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। এর প্রভাব পড়ে তার চোখের অশ্রুগ্রন্থিতে। একপর্যায়ে অশ্রুগ্রন্থিটি স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ফুলে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো। হঠাৎ আমার অশ্রুগ্রন্থি নিচের দিকে নেমে আসে। সেটি ফুলে গিয়েছিল। আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।’

    ‘পর্দা’ সিনেমার প্রচারের সময় তার চোখের এক পাশ ফুলে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনুপমা। তিনি জানান, অশ্রুগ্রন্থিটি পুরোপুরি নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করে সেটিকে আবার সেলাই করে ঠিক জায়গায় বসাতে হয়।

    অনুপমা আরও বলেন, ওই সম্পর্কের প্রভাব শুধু চোখের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার শরীর ও মনে এমন কিছু ক্ষত তৈরি হয়েছে, যেগুলো হয়তো কখনো পুরোপুরি সেরে উঠবে না।

    ‘নার্সিসিস্টিক নির্যাতন’ বলছেন অনুপমা
    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টেও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা নার্সিসিস্টিক নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন অনুপমা।

    তার দাবি, সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তাকে এমনভাবে আবেগগতভাবে জড়িয়ে ফেলা হতো যে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হতো। পরে আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসত এবং সম্পর্কটি হয়ে উঠত অত্যন্ত কঠিন।

    অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, কান্নাকাটি ও আর এমন হবে না-এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এরপর আবার আগের মতোই ভালোবাসা ও নির্যাতনের চক্র চলত।

    সাবেক সঙ্গী কে, জানাননি
    অনুপমা তার বক্তব্যে সাবেক সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তার সঙ্গে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সম্পর্ক নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল। ২০২৫ সালে মারি সেলভারাজের বাইসন কালামাদান ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ে।

    তবে অনুপমা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধ্রুব বিক্রমের নাম উল্লেখ করেননি। ধ্রুবও এমন কোনো সম্পর্ক বা অনুপমার অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা মন্তব্য করেননি। সূত্র: এনডিটিভি