আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই: বিপ্লব

    বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই: বিপ্লব

    পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে তিনি সুস্থ আছেন। মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি পোস্ট করে তাকে প্রয়াত বলে দাবি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় সুস্থ আছেন এবং তার মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    এরপর বিষয়টি নিয়ে নিজেই মুখ খোলেন অভিনেতা। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, আমি নাকি মারা গেছি। মারা তো যাবই। তবে ঈশ্বর যতদিন রেখেছেন, ততদিন থাকি। যে বা যিনি এই কাজ করেছেন, তিনি এটা বন্ধ করুন। চট করে সবাইকে মৃত বলে দেবেন না। শুধু আমার নয়, কারও সম্পর্কে এমনটা বলবেন না। বলার আগে একটু ভাববেন।’

    এ ধরনের গুজব ছড়ানোর ঘটনাকে ‘শিক্ষার অভাব’ বলেও মন্তব্য করেন বিপ্লব। তার কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও তথ্য প্রকাশের আগে সেটি যাচাই করা উচিত।

    পরে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে খানিকটা রসিকতা করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেক বদমায়েশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছেন। অনেকেই আমাকে খারাপ লোক হিসেবে চেনে। তবে আমি রাজনৈতিক নেতাদের থেকে খারাপ নই।’

    ভুয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিনোদন জগতের একাধিক তারকাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়িয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মিথ্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে নেতিবাচক ও খলচরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। তবে এবার নিজের মৃত্যুর গুজবের জবাব দিতে গিয়ে সেই খলনায়ক পরিচয়কেই মজার ছলে সামনে আনলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • স্পিকারের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    স্পিকারের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিস্তারে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর, রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সবসময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ঐতিহাসিক এ সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে।

    স্পিকার বলেন, বিগত ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম হয়েছে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু সরকারকেন্দ্রিক সম্পর্ক ছিল।

    ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক নির্মাণে ভারত সরকার আগ্রহী। জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বিনির্মাণের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

    হাইকমিশনার ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • অ্যাপল ম্যাপে লেক অন্টারিওর নাম লেক আমেরিকা

    অ্যাপল ম্যাপে লেক অন্টারিওর নাম লেক আমেরিকা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ম্যাপ অ্যাপে লেক অন্টারিওর নাম বদলে লেক আমেরিকা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অ্যাপলের ম্যাপ অ্যাপে এই পরিবর্তন আনা হয়। একই দিনে অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেন জন টার্নাস।

    ট্রাম্পের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ মেনে নাম পরিবর্তন করা দ্বিতীয় মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট হলো অ্যাপল। এর আগে শনিবার গুগলও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য জনপ্রিয় গুগল ম্যাপসে লেক অন্টারিওর নাম লেক আমেরিকা হিসেবে দেখানোর ঘোষণা দেয়।

  • সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিলেন শেহবাজ!

    সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিলেন শেহবাজ!

    কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের একটি যৌথ ছবি থেকে নরেন্দ্র মোদিকে বাদ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শেহবাজ শরীফ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের সময় এডিট করে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে থাকা নরেন্দ্র মোদিকেও বাদ দিয়েছেন। ছবিটিকে এমনভাবে ক্রপ করা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

    মূল ছবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে শেহবাজ শরীফের কার্যালয় থেকে পোস্ট করা ছবিতে নরেন্দ্র মোদি এবং আরো চারজন নেতাকে কেটে বাদ দিয়ে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্রস্থলে উপস্থাপন করা হয়।

  • দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে

    দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে

    হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে শুধু নেপাল নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর অঞ্চলের পানি নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বিশ্বের বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ নেপালের মতো দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দেশের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসব কথা বলেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

    নেপাল ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ-এর কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য এই তহবিল গঠন করা হয়। নেপাল তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য অর্থ চেয়েছে।

    বন্যায় নেপালের রাশুয়া, নুয়াকোট ও আশপাশের অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজও দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। দেশটির অর্থমন্ত্রী এর আগে পুনর্গঠন ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। এত বড় ব্যয় বহন করা নেপালের মতো সীমিত সম্পদের দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তবে বন্যার পুরো ক্ষয়ক্ষতিকে সরাসরি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ২৬ আগস্টের দুর্যোগটি দ্রুত পাহাড়ের ঢাল ধসে সৃষ্ট একটি ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষ প্রবাহ ও বন্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের ঝুঁকি বাড়লেও নির্দিষ্ট একটি দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণে বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

    এদিকে নেপালের ক্ষতিপূরণ দাবির মধ্যে জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। দেশটির যুক্তি হলো, ঐতিহাসিকভাবে কম নিঃসরণকারী ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোই অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিপরীতে বড় অর্থনীতি ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উচ্চ নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    নেপাল এখন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির নতুন অবস্থান—শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ন্যায়সংগত অর্থায়ন নিশ্চিত করা। ফলে হিমালয়ের সাম্প্রতিক বিপর্যয়টি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের বিতর্ককেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • মানুষের সুখ ও কল্যাণ যেভাবে গণতন্ত্রের মাপকাঠি

    মানুষের সুখ ও কল্যাণ যেভাবে গণতন্ত্রের মাপকাঠি

    গণতন্ত্রের সাফল্য শুধু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; নাগরিকের জীবনমান, নিরাপত্তা, মর্যাদা, সামাজিক আস্থা ও সামগ্রিক কল্যাণও গণতন্ত্রের কার্যকারিতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে। ‘হোয়্যার হ্যাপিনেস ইজ আ মেজার অভ গভর্ন্যান্স: হোয়াট ভুটান্‌জ ডেমোক্র্যাটিক কনসলিডেশন ক্যান টিচ গ্লোবাল সাউথ নেশন্স’ শীর্ষক নিবন্ধে এমনই একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

    নিবন্ধকার সামিয়া ইফফাতের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ, বৈষম্য, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট, আইনের শাসনের দুর্বলতা এবং জনঅংশগ্রহণের ঘাটতি গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে ভুটানের রাজনৈতিক রূপান্তর ও ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ ধারণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বিকল্প চিন্তার সুযোগ তৈরি করেছে।

    ভুটান একটি নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র থেকে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তন ব্যাপক গণআন্দোলন বা বাইরের চাপের মাধ্যমে ঘটেনি; বরং দেশটির নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন ও ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ ধারণার সঙ্গে এর রূপান্তরকে যুক্ত করা হয়েছে। সাবেক রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুকের সময় থেকেই এই ধারণা বিকশিত হয়। তার দর্শনে শুধু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দিয়ে উন্নয়ন পরিমাপের পরিবর্তে মানুষের সুখ, কল্যাণ ও পরিবেশ সুরক্ষাকেও উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ভুটানের ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ চারটি প্রধান ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত—টেকসই ও ন্যায্য আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং সুশাসন। এসব ভিত্তিকে আরও নয়টি ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রশাসনের কার্যকারিতাকেও উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

    ভুটান সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গ্রামীণ উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণকে রাষ্ট্রীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে। দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি ভূমি বনাঞ্চলের আওতায় রয়েছে এবং সংবিধানেও বন সংরক্ষণের বিষয়টি সুরক্ষিত করা হয়েছে। লেখাটিতে ভুটানকে বিশ্বের একমাত্র কার্বন-নেগেটিভ দেশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ভুটানের পরিবেশনীতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নদীদূষণ, বন উজাড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি শুধু প্রকৃতির ওপর নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপরও প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে শুধু পরিবেশগত বিষয় হিসেবে না দেখে মানবনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক সংরক্ষণকেও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। ভুটান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পাশাপাশি নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশেরও দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তবে লেখকের মতে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিবর্তে বহুত্ববাদ, অন্তর্ভুক্তি ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

    ‘সুশাসন’কে ভুটানের সুখের ধারণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কার্যকর প্রশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা প্রদান এবং জনআস্থাকে নাগরিক কল্যাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত গণতান্ত্রিক ধারণার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিমূলক সরকারকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই গণতন্ত্র কার্যকর হয়েছে বলা যায় না। নাগরিক যদি অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ, সামাজিকভাবে সংযুক্ত, ব্যক্তিগতভাবে মর্যাদাপূর্ণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাশীল বোধ করেন, তাহলে গণতন্ত্র আরও স্থিতিশীল হতে পারে। এ কারণে গণতন্ত্রের মূল্যায়নে মানুষের বস্তুগত, সামাজিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    গত দুই দশকে দেশটি জীবন প্রত্যাশা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুমৃত্যু কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে একই সময়ে গণতন্ত্রের বিভিন্ন সূচকে দেশটির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক উন্নয়নে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নির্বাচনী প্রতিযোগিতার দিকে নজর না দিয়ে নাগরিক কল্যাণ, মানবিক মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের পক্ষে ভুটানের মডেল হুবহু অনুসরণ করা সম্ভব বা প্রয়োজনীয় নয়। দুই দেশের আয়তন, জনসংখ্যা, রাজনৈতিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বৈচিত্র্যের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বরং ভুটানের অভিজ্ঞতা থেকে নীতিগত শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মানবকেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।

    এ ক্ষেত্রে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জনআস্থা, সরকারি সেবায় সন্তুষ্টি এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার মতো বিষয়ও মূল্যায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, নদী পুনরুদ্ধার ও নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সামাজিক সংহতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    গণতন্ত্রের প্রকৃত সাফল্য শুধু ব্যালট বাক্সে প্রকাশ পায় না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকের দৈনন্দিন জীবন কতটা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও কল্যাণমুখী করতে পারছে—তার ওপরও গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ভুটানের ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ দর্শন এ কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গণতন্ত্রকে আরও মানবকেন্দ্রিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

  • হিমালয়ের দুর্যোগ বড় সতর্কবার্তা, সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য ভাগাভাগির আহ্বান

    হিমালয়ের দুর্যোগ বড় সতর্কবার্তা, সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য ভাগাভাগির আহ্বান

    হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ, তুষার ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক নেপাল-চীন সীমান্তের ভয়াবহ বন্যা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, পাহাড়ে সৃষ্ট কোনো দুর্যোগ খুব দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে বড় আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হতে পারে। এ কারণে হিমবাহ, নদী, আবহাওয়া ও সম্ভাব্য দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নিয়মিত আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

    ‘দ্য হিমালয়াস আর সেন্ডিং আ ওয়ার্নিং: নিড ফর টাইমলি ট্রান্স-বর্ডার শেয়ারিং অভ এনভায়রনমেন্টাল ইনফরমেশন’ শীর্ষক এক নিবন্ধে সাংবাদিক ও বিশ্লেষক রাজু কোটি লিখেছেন, ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাটি একটি হিমবাহ ও তার নিচের পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ নিচে নেমে এসে লেন্দে খোলা নদীতে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও পানি প্রবাহিত করে। পরে এই প্রবাহ ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে।

    এর ফলে নদীর পানির উচ্চতা অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক মিটার বেড়ে যায় এবং দ্রুতগতির বরফ, পাথর, কাদা ও পানির স্রোত বসতি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে। দুর্যোগের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের গুরুত্বপূর্ণ গিরং বাণিজ্য ও সীমান্ত এলাকাতেও পড়ে। অর্থাৎ কয়েক হাজার মিটার উচ্চতায় শুরু হওয়া একটি প্রাকৃতিক ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক দুর্যোগে পরিণত হয়।

    হিমালয়ের এই ধরনের দুর্যোগকে শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ, তুষার ও পাহাড়ের স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন আসছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে দুর্বল হয়ে পড়া, পারমাফ্রস্ট বা স্থায়ীভাবে জমাট মাটি ও পাথর গলে যাওয়া এবং বরফের ফাটলে পানি ঢুকে চাপ বাড়ার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসকে এককভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে বলে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সতর্ক।

    হিমালয় অঞ্চলের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে ঘনবসতি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ। পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ, টানেল, খনন ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভূপ্রকৃতিতে মানুষের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। তবে ২৬ আগস্টের হিমবাহ ধস কোনো নির্দিষ্ট অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে ঘটেছে—এমন প্রমাণ এখনো নেই।

    এ অবস্থায় দুর্যোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ, পাহাড়ের ঢাল ও হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট, সিসমিক সেন্সর, ড্রোন, নদীর পানি পরিমাপক যন্ত্র এবং আধুনিক কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের কাছে মোবাইল বার্তা, সাইরেন ও অন্যান্য মাধ্যমে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    এ ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ একটি হিমবাহ বা পাহাড় কোনো দেশের সীমান্তের মধ্যে থাকলেও সেখান থেকে নেমে আসা পানি ও ধ্বংসাবশেষ কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্য দেশে পৌঁছে যেতে পারে। তাই হিমবাহের অবস্থা, আবহাওয়া, নদীর পানির প্রবাহ এবং সম্ভাব্য ভূমিধসের তথ্য দ্রুত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করা প্রয়োজন।

    সাম্প্রতিক নেপাল-চীন পরিস্থিতিও এ প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। ২৬ আগস্টের দুর্যোগের প্রায় তিন মাস আগে মে মাসে নেপাল ও চীনের কর্মকর্তারা বন্যা, আবহাওয়া ও হিমবাহসংক্রান্ত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে হিমবাহ-হ্রদের তালিকা তৈরি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার মতো যৌথ উদ্যোগের কথা আলোচনা হয়েছিল।

    তবে দুর্যোগের আগে পর্যাপ্ত তথ্য আদান-প্রদান হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেপালের কর্মকর্তারা বলেছেন, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পর্যাপ্ত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় এবং সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতার কারণে আগাম সতর্কতা পাওয়া কঠিন হয়েছে। অন্যদিকে চীন বলেছে, দুই দেশের মধ্যে তথ্য সময়মতো ভাগাভাগি করা হয়েছে এবং মে মাসের বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে অগ্রগতি হয়েছে।

    নেপালের জন্য বিষয়টি শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কূটনীতিরও অংশ। ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপালের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হিমালয়ের পরিবেশগত পরিবর্তন দেশটির পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, কৃষি ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ভারত, চীন ও নেপালের নদী ও পরিবেশগত ব্যবস্থাগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

    তাই হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর আঞ্চলিক তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, নদীর পানির তথ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, হিমবাহের গতিবিধি এবং আগাম সতর্কবার্তা নিয়মিত বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

    হিমালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি দেশের দুর্যোগ নয়; এগুলো পুরো অঞ্চলের জন্য সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাহাড়ি পরিবেশ দ্রুত বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও অনিশ্চিত হতে পারে। তাই দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং সীমান্ত পেরিয়ে দ্রুত তথ্য ভাগাভাগির সক্ষমতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

  • কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    এক মাসের বিরতির পর ইরানের ওপর আবার হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক সামির পুরি। কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধবিষয়ক বিভাগের প্রভাষক সামির বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ ইরানের পাল্টা হামলার নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর ছয় মাসেরও বেশি সময় পরও ইরানের পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ইরানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে—এমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং এমন সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বেশ কিছু দৃশ্যমান ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায়। তাই এই মুহূর্তে সংঘাত আরো তীব্র হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।’

    আলজাজিরাকে পুরি বলেন, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বার্তাগুলো অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর’।

    তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশের ইরানের প্রতি সমর্থন প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরান ‘স্পষ্টতই এতটা বিচ্ছিন্ন নয়’।

    পুরির ভাষায়, ‘তাই আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছে।’

  • দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি আমদানি

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে স্পট মার্কেট থেকে সরকার প্রতি মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি ১০-১২ ডলারে কিনত। কিন্তু বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ২৪ ডলারেরও বেশি দরে। ফলে ৪১০-৪৯০ কোটি টাকার প্রতি কার্গো এলএনজির দাম এখন পড়ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানি করতেই সরকারের ব্যয় ৯০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে বাড়তি দামে দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খোলাবাজার থেকে এই এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে কেনা হচ্ছে এক কার্গো এলএনজি । এজন্য দাম চূড়ান্ত হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ ডলার। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে কেনা হচ্ছে আরো এক কার্গো এলএনজি। এই এলএনজির দাম পড়ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ ডলার। এতে প্রতি কার্গোর পেছনে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর স্বাভাবিক দাম ছিল ৪১০-৪৯০ কোটি টাকা। এ দুই কার্গো এলএনজি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগস্টের শুরুতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং থেকে ২১.৫৫ ডলার দরে এক কার্গো, বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে ২১.৮৭৮ ও ২১.৭৭৮ ডলার দরে দুই কার্গো এবং ১৯ আগস্ট আরামকো ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে ২৩.৯৩ ডলার দরে আরো এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছিল।

    বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথম এলএনজি আমদানি শুরু করে। তার আগে দেশে উৎপাদিত গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন

    করা হতো। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ কার্গো এলএনজি আমদানি বাবদ ব্যয় হয় ১৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এলএনজি বাবদ সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২,৫০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ৪০ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ এক কার্গো কমলেও ব্যয় হয় আগের বছরের দ্বিগুণ, তথা ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমদানি করা হয় ৪৪ কার্গো এলএনজি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয় ৩৯ কার্গো এবং ব্যয় হয় ৩৫ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০ কার্গো এলএনজির আমদানি ব্যয় পড়ে ৪২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায় এলএনজি আমদানি। সে বছর ৮৬ কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয় ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। আর সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০৯-১১৩ কার্গো এলএনজির আমদানিতে ব্যয় হয় ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এ বছর এলএনজির পেছনে সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হয় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

    ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে মোট ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল জাতীয় বাজেটে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এলএনজি আমদানির জন্য প্রাথমিক ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ৬,৫০০ কোটি টাকা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই বার্ষিক ভর্তুকি বরাদ্দের ৪৩ শতাংশ অর্থ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় শীর্ষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ কমিয়ে দেয় । জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কাতার থেকে আটটি কার্গো এসেছিল। এরপর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ব্যাহত হওয়ায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো কেনা শুরু করে। যেমন—চলতি আগস্ট মাসেই গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৯টি কার্গো আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম আট মাসে ৪০-৫০টির মতো এলএনজিভর্তি কার্গো দেশে এসে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান গতকাল আমার দেশকে বলেন, চলতি বছর ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত আমদানি কিছুটা কম হতে পারে। কারণ, ভাসমান টার্মিনালগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে নানাবিধ কারণে সেগুলোর উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যখন যে অর্থের প্রয়োজন হবে, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় সে অর্থ ছাড় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে মতপ্রকাশ করেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

    গত ১৭ বছরে জ্বালানি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে মন্তব্য করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম আমার দেশকে বলেন, আমরা যদি নিজস্ব গ্যাসকূপ থেকে পর্যাপ্ত উত্তোলন করতাম, তবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে এত এলএনজি আমদানি করতে হতো না।

    ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের মাটির নিচে প্রচুর তেল-গ্যাস মজুত আছে। কিন্তু বিদায়ী সরকার সেগুলো অনুসন্ধান বা উত্তোলন না করে আমদানির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। দেশের বিজ্ঞানীদের বসিয়ে রেখে তেল-গ্যাস আমদানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা নষ্ট করেছে।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে না চাইলে এখনই তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সমতলে অনুসন্ধানে দেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে যেহেতু আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে অনুসন্ধানের জন্য বিদেশিদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

  • কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ।

    সোমবার বিকালে শহরের আড়ুয়াপাড়ার দেবাশীষের বাসভবনে যান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন।

    এ সময় তিনি প্রয়াত সাংবাদিকের বাবার হাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু ও প্রচার সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক দেবাশীষের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন উদীয়মান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর বহাল থাকা টানা কয়েক মাসের অভিবাসী ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট নিশ্চিত করেছে, গত ২১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই নীতিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেন। এরপরই গত ২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে জানানো হয় যে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশিরা আবারও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসা পাচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের (ক্লিনিক) দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘পাবলিক বেনিফিট’ বা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নাগরিকরা নির্ভরশীল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল।

    তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের আওতায় কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে কাউকে অভিবাসী ভিসা দিতে অস্বীকার করার একচ্ছত্র কোনো অধিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই।

    স্থগিতাদেশটি উঠে যাওয়ায় এখন থেকে যোগ্য আবেদনকারীরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসা পাবেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন যারা ইতোমধ্যেই আবেদন জমা দিয়েছিলেন বা সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, তাদের জন্য চূড়ান্ত ভিসা পাওয়ার পথ খুলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি ভিসা আবেদনকারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল।

  • সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক বুলেটিনে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

    এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতীয় হাইকমিশনার

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না: ভারতীয় হাইকমিশনার

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠসহ নির্বাচিত সরকার), যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।’

    ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ (জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক), ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…।’

    দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার (প্রতিবেশী হিসেবে), আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল (আমরা সমান), নো বডি ইজ বিগ (কেউ বড় না), নো বডি ইজ স্মল (কেউ ছোট না)।’

    ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।’

    বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ প্রতিবন্ধকতাকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আর চ্যালেঞ্জেস (প্রতিবন্ধকতা) থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

    অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা যদি আমরা পাস্টে (অতীত) যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

    দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।’

    বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, উনি এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আরকি।’

  • ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান স্কটিশ সরকারের প্রতি

    ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান স্কটিশ সরকারের প্রতি

    স্কটল্যান্ডের গ্রিনস পার্টি দেশটির ফার্স্ট মিনিস্টারকে আসন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বয়কট ও নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

    স্কটিশ গ্রিনসের এমএসপি প্যাট্রিক হার্ভিকে উদ্ধৃত করে স্কটল্যান্ডের দৈনিক দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সরকারি কর্মসূচিই হতে হবে সেই মুহূর্ত, যখন পরিবর্তন আসবে। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান পদ্ধতিগত নিপীড়নে স্কটল্যান্ডের সম্পৃক্ততার অবসান ঘটাতে আমাদের স্পষ্ট অঙ্গীকার ও একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

    স্কটিশ গ্রিনসের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনিকে এমন সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক চিহ্নিত করেছেন।

    এ জন্য মার্গারেট থ্যাচারের আমলের বৃটিশ একটি আইন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। ওই আইন কোনো পণ্যের বা প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক উৎসের ভিত্তিতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাধা দেয়।

    হার্ভি বলেন, স্কটিশ সরকার তাদের কথাকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার শুধু ন্যূনতম পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে ‘অর্থবহ পরিবর্তনের সামান্য প্রমাণ’ই পাওয়া গেছে।

  • বিয়ের ৫ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

    বিয়ের ৫ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

    বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশা ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। চলতি বছরের মার্চে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিলেন বাদশা ও ইশা। এরপর কয়েক মাস একসঙ্গে থাকার পর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া বিবৃতিতে বাদশা জানান, দুজনেই নিজেদের জীবনের পথ আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এই র‍্যাপার। একই সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে নতুন কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

    বাদশা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে এটিই একমাত্র বক্তব্য। ভবিষ্যতে বিচ্ছেদ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

    বাদশা ও ইশার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এমন আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। জুলাই থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ইশা রিখি বাদশার সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়ে একটি মন্টাজ প্রকাশ করেন। পোস্টটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি ঝড়ই এক একটি শিক্ষা। প্রতিটি প্রার্থনাই একটি আশা।’

    ক্যাপশনের সঙ্গে ভাঙা হৃদয় ও হাতজোড় করা ইমোজি থাকায় অনেকেই পোস্টটিকে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন। এরপর ইশার মা পুনম রিখির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টও আলোচনায় আসে। সেখানে তিনি ‘কর্মফল’ নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব পোস্টও বাদশা-ইশার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।

    বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের কয়েক মাস আগেই বাদশার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছিলেন ইশা রিখি। জুনে ইনস্টাগ্রামে আয়োজিত ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ পর্বে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। এদিকে ইশার পেশাগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা চলছিল। সালমান খানের পরিচালনায় আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী হিসেবে তার নাম শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই সামনে এলো বাদশার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের খবর।

    ইশা রিখির সঙ্গে বিয়ের আগে বাদশা জেসমিন মসিহের সঙ্গে সংসার করেছিলেন। ২০২০ সালে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। সাবেক এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয় তাদের মেয়ে।

  • অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানাল সরকার

    অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানাল সরকার

    চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য চীনের বিকল্পটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে কেনা সম্ভব।

  • এলএনজি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

    এলএনজি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। সংস্থাটি নভেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে।


    ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের পক্ষে এলএনজি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


    এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতিকে ‘ফোর্স মেজার’ হিসেবে দেখছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাতারএনার্জি সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না।


    এনিয়ে ইতিমধ্যে কাতারএনার্জি পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ বাতিল হতে পারে।
    সেই সঙ্গে ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে কাতারএনার্জি। এ ছাড়া ইউরোপের আরও কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের নোটিশ পেয়েছেন। বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ও খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।


    তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যেও দুই-একটি কার্গো এলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
    এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জরুরিভিত্তিতে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে। কিন্তু এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।


    কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো জানিয়েছেন, এলএনজি সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত।

  • আনন্দবাজার পত্রিকা অফিস ভবনে লেপে দেয়া হলো গেরুয়া রং

    আনন্দবাজার পত্রিকা অফিস ভবনে লেপে দেয়া হলো গেরুয়া রং

    পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ হঠাৎই গেরুয়া পাগড়ি পরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলে কয়েকজন হাজির হন আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনের সামনে। সেই ভিড়ের মধ্যে একজন গেরুয়া রং লেপে দিয়েছে অফিস ভবনটির সামনের দেয়ালে। খবর বিবিসির।


    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে স্লোগানও দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ঘটনার সময় পুলিশকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
    এদিন আনন্দবাজার পত্রিকার অফিস ভবনের সামনে থেকে একজন বিক্ষোভকারী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও বিবেকানন্দের মাটি, এটা গেরুয়ার মাটি। এই মাটিতে গেরুয়া নিয়ে কুমন্তব্য করার প্রচেষ্টা বরদাস্ত হবে না।

    তবে প্রতিবাদীরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কি না সেটি জানা যায়নি। আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ থেকেও কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
    ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকায় ২১ আগস্ট প্রকাশিত শিরোনামের যোগাযোগ থাকতে পারে। গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির প্রতিবাদ মিছিল থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। সেই ঘটনার পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনামে লিখে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’।



    ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতীকে গেরুয়া রঙ রয়েছে। ওই শিরোনামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    অন্য একটি সংবাদ মাধ্যমের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৮ আগস্ট শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গেরুয়া তাণ্ডব শিরোনাম প্রত্যাহার করতে হবে। গেরুয়া শব্দকে কালিমালিপ্ত করতে দেব না।
    স্পষ্টতই তিনি আনন্দবাজার পত্রিকাকে উদ্দেশ করেই কথাগুলি বলছিলেন। এর পরেই আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আপত্তিজনক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।


    এছাড়াও পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করেছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন

  • নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ ৪৪৬২

    নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ ৪৪৬২

    নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন।

    মঙ্গলবার দুই দেশের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে।

    নেপালে অনেক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দেশটিতে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৫৪৬ জন।

    ভয়াবহ এই দুর্যোগের সপ্তম দিনে আজও উদ্ধার অভিযান চলছে। দুই দেশ মিলিয়ে ৪ হাজার ৪৬২ জন এখনো নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। তারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের এই দেশটিতে ভ্রমণে এসেছিলেন।

    তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ২৬১ জন বিদেশি। তারা ২৩টি দেশের নাগরিক।

    গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পানির স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ ভেসে কয়েক শ মাইল দূরে চলে যায়।

    পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় লাশ সংরক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে নেপালকে। তাই আপাতত লাশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে।

    পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • জলবায়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

    জলবায়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

    গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এটি কোনো ‘সাধারণ বন্যা’ ছিল না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ দুর্যোগ ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেমে আসে। এতে অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

    সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘রাসুয়া এলাকায় ভোতেকোশি নদীর বন্যা কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার কারণে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের ভয়াবহ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।’

    হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।

    শাহ বলেন, ‘এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে। তাই এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।’

    প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালের অধিকাংশ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর বিপুল কার্বন নিঃসারণের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের অবদান খুবই সামান্য। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বড় একটি অংশ দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার এখনই সময়।’

    বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানি নিচের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’।

    বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, এই ঘটনা ‘পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ স্মারক’।

    এদিকে বড় ধরনের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের সম্পদ সীমিত থাকায় দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য আরো বাড়ানো ও বহুমুখী করতে চায় ভারত।

    বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আমাদের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়াতে এবং তা বহুমুখী করতে চাই।

    মোদির এই বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর মাত্র সাত দিন পর। ওয়াশিংটন এই অভিযানের আওতায় ইরানের সামরিক কার্যক্রম, জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি পক্ষগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল ছয় মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    মোদি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে যাবে।

    নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর পথ খুঁজছে দিল্লি

    ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে মোদি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

    মিশ্রি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন নতুন সম্ভাবনা খুঁজে দেখার কথা বলেছেন, যেগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন, বিমা, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে বলে জানান তিনি।

    বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য বেসরকারি পক্ষগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনেই ব্যবসা করতে হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা অনেক কমেছে।

    ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে।

    চাবাহার বন্দর নিয়ে দিল্লির ভাবনা

    ইরানের সঙ্গে পরিবহন ও সামুদ্রিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে চাবাহার বন্দরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

    মিশ্রি বলেন, ভারত বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চাবাহার বন্দরের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে একটি ‘টেকসই পথ’ খুঁজে বের করাই এর লক্ষ্য।

    চাবাহার বন্দরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতের পাওয়া ছাড়ের মেয়াদ ২৬ এপ্রিল শেষ হয়েছে। চাবাহারে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে।

    ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস পেজেশকিয়ানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

    দূতাবাসের ভাষ্য, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করতে পারলে ভারত ও ইরানের সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।

    পেজেশকিয়ান মোদিকে আরো অনুরোধ করেছেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের বিস্তৃত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ইরানকে যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সরে এসে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরতে সহায়তা করতে।

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি

    বিশকেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন মোদি। চলতি বছরে দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

    বৈঠকে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান বিক্রম মিশ্রি। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার পর এই ঘাটতি বেড়েছে।

    মিশ্রি বলেন, উভয় পক্ষই বিষয়টি স্বীকার করেছে। বিভিন্ন খাতে রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

    তিনি জানান, গত বছর পুতিন বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গেলে মোদি তাকে একটি নথি দিয়েছিলেন। এতে রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অশুল্ক বাধার বিষয়ও ছিল।

    মিশ্রির ভাষ্য, রুশ বন্ধুদের সহযোগিতায় এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাংস, সামুদ্রিক পণ্য ও কিছু দুগ্ধজাত পণ্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রাশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

  • যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রধান ক্ষেত্র এখন হরমুজ

    যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রধান ক্ষেত্র এখন হরমুজ

    ইরান কেন দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার হুমকি দিলেও, বাস্তবে একে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা থেকে বিরত ছিল; এবং ২০২৬ সালের যুদ্ধের পর কেন সেই হিসাব বদলে যায়? কারণ, হরমুজ বন্ধ করা ইরানের জন্য একটি ‘শেষ অস্ত্র’। প্রণালিটি বন্ধ করলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না—ইরানের নিজের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ‘ইরান অ্যান্ড দ্য স্ট্রেইট অভ হরমুজ ব্লকেড: হোয়াই তেহরান ডিড নট ক্লোজ দ্য স্ট্রেইট আরলিয়ার’ শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ব্রিগ্রেডিয়ার সঞ্জয় আগরওয়াল (অব.) এসব মন্তব্য করেন।

    হরমুজ কেন ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ

    হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই ইরান চাইলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং সীমিতভাবে নিয়ন্ত্রণ/বাধা সৃষ্টি করা—দুটি এক জিনিস নয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় পথটিই বেশি কার্যকর মনে করেছে।

    পুরোপুরি বন্ধ করলে ইরানেরও ক্ষতি

    ইরান নিজেও তেল রপ্তানি, আমদানি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ সম্পূর্ণ বন্ধ হলে: ইরানের তেল রপ্তানি কমে যাবে; বৈদেশিক মুদ্রা আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে; খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি কঠিন হবে; ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে; যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। অর্থাৎ যে অস্ত্র দিয়ে শত্রুকে আঘাত করা যায়, সেটিই উল্টো নিজের অর্থনীতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার হয়। এই কারণেই এতদিন হরমুজ বন্ধ করা ইরানের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত ছিল।

    তাহলে ইরান কী করত?

    সম্পূর্ণ অবরোধের বদলে ইরান বিভিন্ন সময়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতা, পরিদর্শন, সামরিক টহল এবং নির্দিষ্ট জাহাজের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসেও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছিল যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল তাদের অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল তৈরি করে: “প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করেও আমি চাইলে তোমার বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারি।”অর্থাৎ হরমুজ ইরানের কাছে শুধু অবরোধের অস্ত্র নয়, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যসাধনের উপায়।

    ২০২৬ সালে পরিস্থিতি কেন বদলে গেল?

    ২০২৬ সালের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে হরমুজ আর কেবল ইরানের সম্ভাব্য ‘শেষ অস্ত্র’ থাকেনি; প্রণালির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে সরাসরি সামরিক সংঘাতের অংশ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে, আর ইরান তার সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ৩১ আগস্টের ঘটনাবলিতে লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে মার্কিন হামলা এবং পরবর্তী ইরানি পাল্টা হামলা দেখিয়েছে যে হরমুজ এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র।

    ইরানের জন্য নতুন ‘হরমুজ প্যারাডক্স’

    এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। হরমুজ যত বেশি সময় বন্ধ বা অস্থিতিশীল থাকবে, তত বেশি বিকল্প পথ খুঁজবে বিশ্বের দেশগুলো। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে বিকল্প পাইপলাইন ও রপ্তানি পথের ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজের ওপর বিশ্বের নির্ভরতা কমতে পারে। অর্থাৎ ইরান যদি দীর্ঘদিন হরমুজকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তার সবচেয়ে মূল্যবান ভূকৌশলগত সম্পদের গুরুত্বই ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এটাই হরমুজ প্যারাডক্স: হরমুজকে যত বেশি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, বিশ্ব তত বেশি হরমুজকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

    চীন, ভারত ও এশিয়ার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    হরমুজের গুরুত্ব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় জ্বালানির বড় অংশ এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে হরমুজে দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ভারতের মতো দেশ ইতিমধ্যে হরমুজ সংকটের সময় নিজেদের জাহাজ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

    সারকথা হলো— ইরান এতদিন হরমুজকে পুরোপুরি বন্ধ করেনি, কারণ সেটি ছিল নিজের অর্থনীতিকে আঘাত করার মতো সিদ্ধান্ত। কিন্তু ২০২৬ সালের যুদ্ধ সেই পুরোনো হিসাবকে বদলে দিয়েছে। এখন হরমুজ নিজেই যুদ্ধ, অর্থনীতি ও কূটনীতির প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র।

    আর দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে—হরমুজকে যত বেশি সময় অস্থিতিশীল রাখা হবে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার তত বেশি বিকল্প পথ তৈরি করবে। ফলে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকৌশলগত উদ্দেশ্যসাধনের উপায়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

  • সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

    সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি। পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।

    ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরো পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছার কথা ছিল।

    ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বারবার বাড়ানো হচ্ছে।

    মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

    জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেক্কায়াত হামলার শিকার হয়। কাতার ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    আইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

    এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার।

  • শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

    শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালবাসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    একই সঙ্গে, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগের কথাও তিনি ভুলবেন না বলে উল্লেখ করেন।

  • ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ৯০ শতাংশেরও বেশি অক্ষত

    ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ৯০ শতাংশেরও বেশি অক্ষত

    ইরানের অস্ত্র সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে পশ্চিমা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের সিনিয়র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি জানিয়েছেন, ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের ৯০ শতাংশেরও বেশি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

    আল-মায়াদিন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নেটওয়ার্কের স্বনির্ভরতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর জোর দেন এই সামরিক কর্মকর্তা।

    নাকদি জানান, ইরানের নিজস্ব ভূগর্ভস্থ উৎপাদনকেন্দ্রগুলো এখনও নিয়মিত এবং অত্যন্ত কার্যকর হারে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে চলেছে। সামরিক অভিযানে যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হয়, এই দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই সেই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে। ফলে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে।

    এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু মূল্যায়ন প্রতিবেদন হোয়াইট হাউসের সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

    উল্টো মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা মজুদে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, ইরানের ধারাবাহিক ও বহুমুখী হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে উচ্চস্তরের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প নতুন করে যেভাবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, তার চেয়ে অনেক দ্রুত তা ফুরিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন প্রশাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য কৌশলগত ও সামরিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইমরান খানের মুক্তি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু

    ইমরান খানের মুক্তি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু

    ইমরান খানকে কারাবন্দি রাখা গেলেও তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতীকী শক্তিকে বন্দি রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ তার বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদের হস্তক্ষেপ সেটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করছে।

    সাউথ এশিয়া মনিটরে ৩১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ‘ইমরান খান, দ্য ক্রিকেটিং ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড দ্য প্যারাডক্স কনফ্রন্টিং পাকিস্তান’ শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে লেখক ভারতীয় সাংবাদিক, সম্পাদক ও আঞ্চলিক-বৈশ্বিক বিষয় বিশ্লেষক রাজু কোর্তি এসব মন্তব্য করেন।

    মাইকেল আথারটনের সাক্ষাৎকার থেকে নতুন বিতর্ক

    ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন লর্ডসে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিমের সঙ্গে ১৮ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, ইমরানকে চরম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হচ্ছে, তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছে। তবে শেষের অভিযোগটি পরিবারের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সাক্ষাৎকারটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং স্কাই স্পোর্টস-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে।

    ক্রিকেট কেন ইমরান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক করেছে?

    ইমরান খান শুধু পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের একজন। ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে। ফলে তার প্রতি ক্রিকেটবিশ্বের আবেগ রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও বিস্তৃত। আথারটনের মতো একজন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক যখন তার স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তখন সেটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে সহজে উপেক্ষা করা কঠিন।

    ২২ সাবেক অধিনায়কের আবেদন

    ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তালিকায় ভারতের সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব ও দিলীপ ভেংসরকার, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেলসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের নাম রয়েছে। অর্থাৎ ইমরান ইস্যুটি এখন শুধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ নয়; ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও এতে নৈতিক অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

    গ্রেগ চ্যাপেল ও জাভেদ মিয়াঁদাদের উদ্বেগ

    অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে পাকিস্তানে দেখা ইমরানের তুলনায় বর্তমান ইমরান অনেক দুর্বল। অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক তারকা জাভেদ মিয়াঁদাদ, যিনি ইমরানের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে খেলেছেন, আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার উসমান খাজাও পিসিবি-এর প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গ করেছেন।

    এরা রাজনৈতিক কর্মী নন; তারা ইমরানের সাবেক ক্রিকেটীয় সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ। ফলে তাদের বক্তব্যের একটি আলাদা নৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। এভাবে নিবন্ধটিতে ইমরান খানের কারাবাস, তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং ক্রিকেটবিশ্বের প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    আসল ক্ষমতা কোথায়—সরকার, নাকি সামরিক প্রতিষ্ঠান?

    ইমরানের কারাবাসকে শুধু শেহবাজ শরিফ সরকার বা কারা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পাকিস্তানের বাস্তব ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বোঝা যাবে না। ইমরানের রাজনৈতিক আন্দোলন ও পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে তাঁর কারাবাস ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গভীরভাবে যুক্ত। সামরিক প্রতিষ্ঠান ইমরানকে শুধু একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকাঠামোর জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে—এমন বিশ্লেষণই লেখক উপস্থাপন করেছেন।

    ক্রিকেটীয় চাপ কতটা কার্যকর?

    তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা পাকিস্তানের ওপর নৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। কিন্তু সেই চাপ সরাসরি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে চাপটি পুরোপুরি অকার্যকরও নয়। এটি—ইমরান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক করে; তার চিকিৎসা ও কারাবাস নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক রেকর্ড তৈরি করে; পাকিস্তান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ায়; তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে রাজনৈতিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্যের ঘাটতি কেন সমস্যা?

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সব অভিযোগকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। সমস্যাটি হলো—ইমরান খান ৭৩ বছর বয়সী, কারাগারে রয়েছেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে এবং তার প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। ফলে একটি ইনফরমেশন ভ্যাকুয়াম তৈরি হচ্ছে, যেখানে গুজব ও জল্পনা সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর সমাধান: স্বাধীন চিকিৎসা পরীক্ষা + নিয়মিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন + পরিবার ও আইনজীবীদের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার + প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিস্থিতির স্বচ্ছ প্রকাশ।

    পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় ‘প্যারাডক্স’

    ইমরান খানকে বন্দী করে রাখা পাকিস্তানের জন্য সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। কারণ এতে দুটি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একদিকে, তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি তার স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয় বা তাঁর প্রতি অন্যায় আচরণের ধারণা আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে তিনি আরও বড় প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন। এটাই পাকিস্তানের ক্ষমতাকাঠামোর প্যারাডক্স।

    দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে সামরিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচিত সরকার, জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনমতের সম্পর্ককে আলাদা করে দেখা যায় না। ইমরান খানের ক্ষেত্রে ক্রিকেট তার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    ফলে তার ক্রিকেটীয় পরিচিতি আজও তার রাজনৈতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, কোনো জনপ্রিয় নেতাকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক পরিসর থেকে সরিয়ে রাখলে তার জনপ্রিয়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। কখনো কখনো কারাবাসই একজন নেতাকে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করতে পারে।

    ইমরান খানকে কারাগারে রাখা সম্ভব, কিন্তু তার উত্তরাধিকারকে কারাগারে রাখা কঠিন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে যে ব্যক্তির পরিচিতি পাকিস্তানের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত, তাঁর কারাবাসের প্রশ্নও শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে যাচ্ছে।

    ফলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যাটি এখন শুধু ইমরান খানকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে—তা নয়; বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তাকে আরও বড় রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করা হচ্ছে কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

  • হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—যুক্তরাষ্ট্র

    হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—যুক্তরাষ্ট্র

    দীর্ঘ এক মাসের শান্তিপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে গত রোববার ইরানে আবার হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে দেশটির রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যাতে হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে মাইন বসাতে না পারে, সে জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে মাইন স্থাপনে নিযুক্ত ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সামুদ্রিক মাইন বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিতে দেখেছে।

    এদিকে ইরানের নেতারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার পর বসে থাকেনি ইরানও। প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।

    আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের সদস্য ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এতে অন্তত দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

    ইরানের স্বল্প পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী আসলেই কি রকেটের মাধ্যমে সমুদ্রে মাইন পাতা সম্ভব, উঠেছে এমন প্রশ্ন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে—

    রকেটের সাহায্যে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবিকে অযৌক্তিক বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান।

    উলম্যানের ধারণা, মার্কিন গোয়েন্দারা হয়তো গোপনে খবর পেয়েছেন যে ইরান যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রে নতুন মাইন স্থাপনে প্রস্তুত। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এ হুমকিকে ছোট করে দেখাতে তাঁরা রকেটের গল্প সাজিয়েছে।

    উলম্যান বলেন, রকেট যখন তীব্রগতিতে এসে পানিতে আছড়ে পড়বে, সেই ধাক্কাতেই মাইন বিস্ফোরিত বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সাগরে মাইন পাতার জন্য ইরানের কাছে অনেক ভালো উপায় ও প্রযুক্তি আছে। তারা কেন এত ঝুঁকি নিয়ে রকেট ব্যবহার করতে যাবে? পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে একেবারেই অদ্ভুত মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তবে ইরান নিজেই এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতার কথা প্রচার করেছে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, নৌ মহড়ার সময় আইআরজিসি ফজর-৫ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে মাইন স্থাপন করছে।

    সাধারণত কীভাবে সমুদ্রে মাইন স্থাপন করা হয়

    সাধারণত বিশেষ ধরনের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন কিংবা উড়োজাহাজ ব্যবহার করে সাগরে মাইন পাতা হয়। এগুলো সাগরের একদম তলদেশে ফেলে রাখা যায়, আবার পানির নিচে কিছুটা ওপরেও ভাসিয়ে রাখা যায়। মাইনগুলো এমনভাবে তৈরি, যা পাশ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার সময় তার ইঞ্জিনের কাঁপুনি বা চৌম্বকীয় সংকেত টের পেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়।

    ধারণা করা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বেশ কিছু বিস্ফোরক ফেলার জন্য ইরান ছোট ও দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে। এ জাহাজগুলো সাগরে মাইন ফেলে খুব দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরে যায়। তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের এমন কয়েকটি দ্রুতগতির নৌযানে ইতিমধ্যে হামলা চালিয়েছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সেন্টকম হরমুজ প্রণালিতে মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে। প্রণালিটি মাইনমুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নতুন করে মাইন পাততে যেসব জাহাজ বা নৌযান ব্যবহার করা হবে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে বলে ইরানকে সতর্ক করেন ট্রাম্প।

    সেন্টকমের প্রকাশ করা ছবিতে ইরানে হামলায় অংশ নেওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করতে সেন্টকমকে অত্যন্ত ধীরগতির একটি অভিযান চালাতে হবে। প্রতিটি মাইন খুঁজে বের করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

    মার্কিন নৌবাহিনী সাধারণত মাইন অপসারণের কাজে অ্যাভেঞ্জার শ্রেণির মাইনবিধ্বংসী জাহাজ ব্যবহার করে। এগুলো তৈরিতে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়, যাতে এর ভেতরের চৌম্বকীয় কম্পন বা ইঞ্জিনের কাঁপুনি সাগরের পানিতে খুব একটা ছড়ায় না। ফলে সাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা মাইন এ জাহাজের উপস্থিতি সহজে টের পায় না এবং এটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কম থাকে।

    ইরানের ফজর-৫ রকেটব্যবস্থা সম্পর্কে কী জানা যায়

    কম খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কৌশল বা অসম যুদ্ধপদ্ধতি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ পরিচিত ইরান।

    গত বছরের জানুয়ারিতে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নৌ মহড়ার সময় আইআরজিসি সাগরে মাইন পাতার সম্পূর্ণ নতুন একটি কৌশল প্রদর্শন করেছে। এ কৌশলে স্থলভাগ থেকে ফজর-৫ রকেটব্যবস্থা ব্যবহার করে সরাসরি সাগরে মাইন স্থাপন করে তারা।

    সে সময় বিশ্লেষকেরা কৌশলটিকে ‘অভিনব’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বেগও প্রকাশ করেন। কারণ, এ পদ্ধতিতে একবার রকেট ছুড়েই আইআরজিসি সমুদ্রের বিশাল এলাকায় হাজার হাজার মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

    ১৯৯০-এর দশকে প্রথম তৈরি করা এ ফজর-৫ হলো ৩৩৩ মিলিমিটার ব্যাসের মাঝারি পাল্লার একটি রকেটব্যবস্থা। এটি সাধারণত দূরপাল্লার কামানের মতো রকেট ছোড়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।

    এ রকেটব্যবস্থার মূল সুবিধা হলো, এটি একটি চলন্ত ট্রাকের ওপর বসানো থাকে। ট্রাকে থাকা উৎক্ষেপণ যন্ত্র থেকে একনাগাড়ে সর্বোচ্চ চারটি রকেট ছোড়া যায়। প্রতিটি রকেটে প্রায় ১৭৫ কেজি ওজনের প্রচণ্ড ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে। রকেটটি যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন এর ভেতরের অংশগুলো দ্রুতগতির অসংখ্য ধারালো ধাতব টুকরায় পরিণত হয়ে চারপাশের একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে একসঙ্গে ঝাঁঝরা করে দিতে পারে।

    ফজর-৫-এর পাল্লা প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। ইরানি বাহিনী মূলত বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য এটি ব্যবহার করেছে।

    ৭৫ কিলোমিটার পাল্লা থাকায় স্থলভাগ থেকে ব্যবহার করা হলেও ফজর-৫ রকেট দিয়ে খুব সহজেই পুরো হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় মাইন ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

    পরে ইরান এ প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। ফজর-৫সি-এর মতো নতুন সংস্করণগুলোতে আরও আধুনিক ও জিপিএসভিত্তিক নির্ভুল নেভিগেশনব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এ উন্নত রকেটগুলো এখন আগের চেয়ে দূরে—প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

    মার্চে ধারণ করা ভিডিওর একটি দৃশ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের একটি নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতে দেখা যাচ্ছে।

    ফজর-৫ দিয়ে কীভাবে মাইন পাতা হতে পারে

    ফজর-৫ বা অন্য কোনো রকেটব্যবস্থা দিয়ে ইরান বর্তমানে সমুদ্রে মাইন ছড়াচ্ছে কি না, তা দেশটি নিশ্চিত করেনি।

    তাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে, রকেটের মাথায় যেখানে সাধারণত বিস্ফোরক বা বোমা থাকে, সেই জায়গাটিতে বিস্ফোরকের বদলে সাগরে পাতার মাইন রেখে দেওয়া সম্ভব। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইআরজিসির নৌ মহড়ায় ঠিক এমন একটি পদ্ধতিই দেখানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

    এ ব্যবস্থায় প্রথমে সমুদ্রের উপকূলীয় স্থলভাগ থেকে ট্রাকে বসানো উৎক্ষেপণ যন্ত্র ব্যবহার করে রকেটটি ছোড়া হয়। এরপর মাইনবাহী রকেটটি সমুদ্রসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে। রকেটটি যখন নির্ধারিত সমুদ্র এলাকার আকাশে পৌঁছাবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকাশেই রকেটের ওপরের খোলস বা আবরণ খুলে যাবে।

    রকেটের ভেতরের অবিস্ফোরিত মাইনগুলো তখন আকাশ থেকে সরাসরি সমুদ্রের পানির দিকে পড়তে থাকবে। পানিতে পড়ার সময় মাইনগুলো যাতে তীব্র বেগে আছাড় খেয়ে নিজে নিজেই বিস্ফোরিত না হয়, সে জন্য প্রতিটি মাইনের সঙ্গে ছোট প্যারাসুট বা গতি কমানোর অন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। ফলে মাইনগুলো বেশ আলতোভাবে পানিতে গিয়ে পড়ে।

    সাগরের পানিতে পড়ার পর মাইনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমুদ্রের একদম তলদেশে ডুবে যেতে পারে অথবা পানির নিচে নির্দিষ্ট গভীরতায় ভেসে থাকতে পারে।

  • মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: পরবর্তী পর্যায় কী?

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: পরবর্তী পর্যায় কী?

    পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক তাদের নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম দিয়েছে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’। তিন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এ নাম ঘোষণা করা হয়।

    গতকাল সোমবার ইস্তাম্বুলে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের একটি সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

    হাকান ফিদান বলেন, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাসহ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মতো আন্তর্জাতিক নীতির ওপর ভিত্তি করে জোটটি গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের অংশীদারত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য জোটটি উন্মুক্ত থাকবে।

    এক মাস পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ বৈঠক হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া যুদ্ধ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। মাঝে কিছুদিনের বিরতির পর আবার হামলা শুরু হলো।

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার গত রোববার তুরস্কে পৌঁছান। ইসহাক দার লন্ডন থেকে সেখানে যান। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যে আলাদা একটি সফর শেষ করেন।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছিলেন যে সোমবারের আলোচনায় মিসরও থাকতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নয়; বরং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসা চার দেশের অংশ হিসেবে। এই চার দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের ইস্তাম্বুল বৈঠক। গতকাল সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল

    এই চার দেশ সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট জর্ডানের রাজধানী আম্মানে বৈঠক করেছিল। এর আগে গত জুনে মিসরের রাজধানী কায়রোতে দেশগুলোর বৈঠক হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টিকে সেই বৈঠকে স্বাগত জানানো হয়। তবে সোমবারের বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করা তিন দেশ।

    ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এখন চুক্তিতে থাকা রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তবায়নের উপযোগী কাঠামোয় রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ওই অঙ্গীকার অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

    তবে জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কীভাবে কাজ করবে বা কোন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার এ ধারা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ

    ইস্তাম্বুলের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

    তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের ও চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ সেলচুক বায়রাকতারওলু।

    অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ফাইয়াদ আল-রুওয়াইলি।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ সামরিক মহড়া, যৌথ উৎপাদন-গবেষণাসহ প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়।

    তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। গতকাল সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল

    ৮ আগস্ট আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেছিলেন, সৌদি আরবে জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয় থাকবে। তবে এর কাঠামো ও দায়িত্ব কী হবে, তা এখনো তিন সদস্যদেশের মধ্যে ঠিক করা বাকি।

    অনেকে জোটটির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারার সঙ্গে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের তুলনা করেছেন। তবে অনেক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক এ তুলনাকে সমর্থন করেননি। তাঁদের মতে, ন্যাটোর মতো এ জোটের কোনো সমন্বিত কমান্ড, স্থায়ীভাবে প্রস্তুত বাহিনী বা যৌথ সামরিক কাঠামো নেই।

    ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, চুক্তিটিকে কার্যকর করতে একটি দপ্তর বা সচিবালয় থাকা জরুরি।

    আল-জাজিরাকে তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, এটি যেকোনো দেশে হতে পারে। আবার পালাক্রমে একেক দেশেও সচিবালয় হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বেলজিয়ামে অবস্থিত ন্যাটোর সুপ্রিম হেডকোয়ার্টার্স অ্যালায়েড পাওয়ারস ইউরোপের উদাহরণ দেন।

    আল-জাজিরাকে তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, সচিবালয়টি যেকোনো দেশে হতে পারে। আবার পালাক্রমে বিভিন্ন দেশেও সচিবালয় হতে পারে।

    গতকাল সোমবার ইস্তাম্বুলে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

    এ প্রসঙ্গে তুঘরাল ইয়ামিন বেলজিয়ামে অবস্থিত ন্যাটোর সুপ্রিম হেডকোয়ার্টার্স অ্যালায়েড পাওয়ারস ইউরোপের উদাহরণ দেন।

    তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, চলতি বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে আলাদা একটি সামুদ্রিক জোট গঠনের পর দেশটিতে ইতিমধ্যে একটি সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে।

    কাতার ইউনিভার্সিটির গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিজ আল-জাজিরাকে বলেন, চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানোর আগে এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অনুমোদনপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলি প্রকাশ করা হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

    চুক্তির পরীক্ষা

    ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

    চলতি বছর আসিম মুনিরের চতুর্থ দফা ইরান সফরের কয়েক দিন পর ইস্তাম্বুলের বৈঠকটি হলো। ২৪ আগস্ট আসিম মুনির তেহরানে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে দেশটির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সফর করেন আসিম মুনির।

    পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেন, আসিম মুনিরের এ সফরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

    অন্যদিকে পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটনকে তার ভাষা পরিবর্তন করতে হবে।

    তবে ওয়াশিংটনে তেমন আশাবাদ দেখা যায়নি। দুই দিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়াহুড়া নেই।

    গতকাল সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দুটি রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের মধ্যে এই প্রথম ইরানে হামলার কথা স্বীকার করল।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

    কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা জবাব দেয় আইআরজিসি। তারা দাবি করে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। আর ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে।

    তবে ইরানের এ দাবি অস্বীকার করে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ঘাঁটিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন রয়েছে।

    ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী তুঘরাল ইয়ামিন আল-জাজিরাকে বলেন, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় জোটটি যদি স্পষ্টভাবে ইরানবিরোধী জোটে পরিণত হয়, তাহলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা অংশীদার ও তেহরানের বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী—দুই ভূমিকাতেই পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

    ইস্তাম্বুলের ইবনে খালদুন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ গোকহান এরেলি বলেন, পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের এ সম্পর্ক যুদ্ধের কারণে নতুন করে তৈরি হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগেও এই তিন দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা ছিল।

    এ প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কয়েক দশকের নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং কৌশলগতভাবে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তুরস্কের নিজস্ব প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। গোকহান এরেলি বলেন, জোটের প্রকৃত পরীক্ষা হবে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর।

    আল-জাজিরাকে গোকহান এরেলি বলেন, যদি যৌথ ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক সচিবালয় ও প্রতিরক্ষাশিল্পে যৌথ উদ্যোগ বর্তমান উত্তেজনার পর্ব শেষ হওয়ার পরও টিকে থাকে, তাহলে বোঝা যাবে, এ চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামোর মৌলিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    তবে কাতার ইউনিভার্সিটির গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিজ এ চুক্তির বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কেবল ‘প্রতীকী’ বা ‘বড় ধরনের পরিবর্তন আনার মতো’ হিসেবে বর্ণনা করার সঙ্গে তিনি পুরোপুরি একমত নন।

  • ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ট্রাম্প এ হুমকি দিলেন। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার জন্য চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালিতে গত রোববার ইরানের একটি দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় তেহরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

    ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) ওপর কঠোর আঘাত করব। দেশটিকে জবাব দেওয়া হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে আর মাইন পেতে রাখতে না পারে, সেজন্যই লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী।

    তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল দিনের শেষে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছি। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইরান কিংবা এ অঞ্চলের কারও স্বার্থ নয়।’

    ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উপায় হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।

    ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন

    লারাক দ্বীপে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

    তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। শুধু একটি ভূপাতিত করা যায়নি। তবে সেটি হুমকি সৃষ্টি করেনি।

    জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।

    ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে আবুধাবি জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

    আইআরজিসি গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সতর্ক করে বলেছে, হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়।

    এদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত করেছে। ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা গতকাল রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলেছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিবেশের ওপরও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি।

    ‘চাপ অব্যাহত থাকবে’

    মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় ছিল। এখন আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ দিকেও মনোযোগ দিয়েছে।

    ট্রাম্প গতকাল ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন বিপর্যস্ত। অর্থনীতিও ভেঙে পড়ছে। নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে। নর্থ ক্যারোলাইনায় জি-২০-এর সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা (ইরানের ওপর) চাপপ্রয়োগ অব্যাহত রাখব। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।’

    হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রেখে ইরানও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তির দিকে। দেশটিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে।

    হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা

    ইরান যুদ্ধের কারণে ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি থেকে মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে।

    তবে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই আছে। গতকাল আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ‘বেপরোয়া’ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। অবৈধ পথ ধরে ট্যাংকারটি প্রণালি পার হচ্ছিল। তখন দুটি মাইনের বিস্ফোরণ হয়।

    ইরানের এ দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তারা এটিকে ‘অপপ্রচার’ বলে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন বাহিনী বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।’

    ইরানে যুদ্ধ বন্ধে কয়েক মাস ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। যদিও এর আগে করা একটি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে।

    আগের ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ইরান। গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘সমাধানের পথ একেবারে পরিষ্কার ও সরল। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের প্রতিশ্রুতিতে ফিরতে হবে।’

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাশিয়া–চীন সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাশিয়া–চীন সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে

    বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশ দুটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সি চিন পিং।

    কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সোমবার বৈঠক করেন এই দুই নেতা।

    মে মাসের পর এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করলেন দুই নেতা। বৈঠকের শুরুতে সি চিন পিং বলেন, আবার পুতিনের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তিনি আনন্দিত। বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। সামনে এই সম্পর্কের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখা উচিত।

    সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুতিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে দুই দিনব্যাপী এসসিও সম্মেলন হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এ জোটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

    সম্মেলনে এক ডজনের বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

    রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার সাড়ে চার বছর ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ছয় মাস পর এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অবশ্য জানিয়েছেন, পুতিন ও সির মধ্যে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শুধু প্রসঙ্গক্রমে কথা উঠেছে।

    সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোদি। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে পুতিন বলেন, মস্কোও এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে।

    সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানেরও আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া ও চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    এসসিওর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, পেজেশকিয়ান, মোদি ও শাহবাজ অংশ নেবেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ।

    এসসিওর ১০টি সদস্যদেশের পাশাপাশি বর্তমানে জোটের ১৫টি অংশীদার দেশ রয়েছে। এর মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার আছে। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া জোটটির পর্যবেক্ষক দেশ।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের আয়োজনে তিনি এ পরিদর্শনে আসেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়ন নিয়েও আগামী দিনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।

    পরে রাষ্ট্রদূত মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় কান্তজিউ মন্দিরের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটা অলংকরণ এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূতকে মন্দিরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

    এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও ও প্রটোকল কর্মকর্তা ক্লারিয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ ও কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এ সময় মল্লিকা দাস ও তার সহযোগীরা ধর্মীয় পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

  • রুশ বাহিনীতে ভারতীয়র ৫১ জন ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত

    রুশ বাহিনীতে ভারতীয়র ৫১ জন ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত

    ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে রুশ বাহিনীতে যোগ দেন ২২৭ জন ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। দেশে ফিরে এসেছেন ১৩৯ জন। রুশ বাহিনীতে এখনো আছেন ৩৭ জন ভারতীয়।

    কিরগিজস্তানে সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর গতকাল সোমবার গভীর রাতে এসব তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

    দুই বছর ধরে রুশ বাহিনীতে ভারতীয়দের নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ, নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয়দের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ানো হচ্ছিল।

    এ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত মামলা হয়। তবে খুব স্পষ্ট করে তেমন কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    গতকাল পুতিন–মোদি বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে এ বিষয়ে তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন।

    বিক্রম মিশ্রি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এখনো যেসব ভারতীয় রুশ বাহিনীতে রয়েছেন, তাঁদের দেশে ফেরানোর জন্য রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাস সারাক্ষণ এই বিষয়ের ওপর নজর রাখছে।’

    অভিযোগ ওঠে, মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে ভারতীয়দের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর তাঁদের রুশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাঁদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

    এ নিয়ে শোরগোল উঠলে ভারত সরকার নড়েচড়ে বসে। সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। রুশ বাহিনীতে থাকা ভারতীয়দের ফেরাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে আরজি জানানো হয় সর্বোচ্চ আদালতে।

    ভারত সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চকে জানিয়েছিলেন, ৪৪ জন ভারতীয়র মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রুশ বাহিনীতে থাকা জীবিত ভারতীয়দের ফেরত আনতে সরকার সবরকমের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    কেন এত ভারতীয় রুশ বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন—শুনানি চলাকালে সেই ব্যাখ্যাও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানিয়েছিলেন, লোভনীয় প্যাকেজ, সামাজিক সুরক্ষা, আকর্ষণীয় ক্ষতিপূরণ ও নাগরিকত্বের প্রলোভন দেখানো হয়। অনেকেই সেই আকর্ষণীয় প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারেননি। তাঁরা রুশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে সই করেছেন।

    গতকাল পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলেন মোদি। তারপরই সংবাদ সম্মেলনে এ–সংক্রান্ত তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।

    সরকারি সূত্রের খবর, রুশ বাহিনীতে থাকা ভারতীয়দের অনেকে রান্নাবান্নার কাজও করছেন। অনেকে সহায়কের ভূমিকায় আছেন।

  • বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিদেশে পাড়ি জমানোকে সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং জীবন পরিচালনার ধরনেও বড় পরিবর্তন আনে। পরিচিত পরিবেশ, দৈনন্দিন রুটিন ও কাছের মানুষের সহায়তা থেকে দূরে গিয়ে নতুন দেশে প্রতিদিনের নানা সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি শুধু শিক্ষা, চাকরি কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতাও।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দিনের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে শুধু এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট হবে না। নতুন পরিবেশের অনিশ্চয়তা সামলানো, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং পরিচিত সহায়তা কাঠামো ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    বিদেশে একা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যে পাঁচটি জীবনদক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন-

    ১. অর্থ ব্যবস্থাপনা শিখুন

    বিদেশে গিয়ে অর্থ পরিচালনা মানে শুধু খরচ কমানো নয়। ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি বা অন্যান্য বিল, ব্যাংকিং, কর এবং হঠাৎ আসা অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

    এর সঙ্গে নতুন দেশের মুদ্রার মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বুঝে বাজেট তৈরি করতে হবে। দেশে থাকাকালীন নিজের আয়-ব্যয় হিসাব করার অভ্যাস গড়ে তুললে বিদেশে গিয়ে আর্থিক চাপ সামলানো সহজ হবে।

    ২. নিজের সহায়তার নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

    বিদেশে যাওয়ার অর্থ পরিচিত মানুষ ও পরিবেশ থেকে দূরে চলে যাওয়া। ফলে শুরু থেকেই নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দেশে কমিউনিটি, সহকর্মী, বন্ধু, পরামর্শদাতা বা পরিচিতদের মাধ্যমে দ্রুত একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা মানসিকভাবে স্থির থাকতে সহায়তা করতে পারে।

    ৩. অপরিচিত ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিন

    বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, ব্যাংকিং, বাসস্থান, অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম এবং সরকারি কাগজপত্রের প্রক্রিয়া নিজের দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায় পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো কীভাবে নিজে সম্পন্ন করতে হয়, তা শেখা জরুরি। এতে ছোটখাটো ভুল থেকে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে।

    ৪. নিজেকে হারিয়ে না ফেলে মানিয়ে চলুন

    ভিন্ন দেশে গেলে যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং সামাজিক মেলামেশার নিয়মেও পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোজনের অর্থ হলো নতুন সংস্কৃতির নিয়ম-কানুন শেখা, কিন্তু নিজের পরিচয় ও মূল্যবোধকে হারিয়ে না ফেলা। নতুন পরিবেশকে সম্মান করার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫. প্রয়োজন হলে দ্রুত সাহায্য চান

    স্বনির্ভর হওয়ার অর্থ প্রতিটি সমস্যার সমাধান একাই করতে হবে—এমন নয়। বরং কখন সাহায্যের প্রয়োজন তা বুঝতে পারা এবং ছোট সমস্যা বড় সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই সঠিক ব্যক্তির কাছে সহযোগিতা চাওয়া স্বনির্ভরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বিদেশে একা থাকার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। কারণ সময়মতো পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক জটিল পরিস্থিতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব।

  • প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে । তবে এখনও সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। এ সফর নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।

    মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    এদিকে গত ২৯ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সভা পুলিশের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়ার বিষয়টিকেও বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বা পালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থান করা বিভিন্ন অপরাধী ও দুষ্কৃতিকারীদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতকারীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেবে না। একইভাবে ভারতও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতিকারীকে আশ্রয় দেবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দুই দেশের মধ্যে অপরাধী বা পলাতকদের বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও এ সময় উঠে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশই যেন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কোনো ধরনের চাপের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে না। বরং বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই এসব উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

  • ‘তুমি পড়ে গিয়েছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ’—মেসিকে আন্তোনেলা

    ‘তুমি পড়ে গিয়েছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ’—মেসিকে আন্তোনেলা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিনা দল থেকে লিওনেল মেসির বিদায় ঘিরে আবেগে ভাসছে পুরো ফুটবলবিশ্ব। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেওয়ার পর সতীর্থ, সমর্থক ও স্বজনদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এবার স্বামীকে উদ্দেশ করে হৃদয়ছোঁয়া এক বার্তা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতনের কথা স্মরণ করেছেন আন্তোনেলা। একই সঙ্গে একজন ফুটবলার ও বাবা হিসেবে মেসির প্রতি নিজের গর্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘তোমাকে এভাবে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে দেখে কী যে গর্ব হচ্ছে। কত বছর, কত মুহূর্ত, কত আনন্দ, আর কত প্রতিকূলতাও ছিল।’

    মেসির জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় সাফল্যের পাশাপাশি কঠিন সময়ও খুব কাছ থেকে দেখেছেন আন্তোনেলা। আর্জেন্টিনার হয়ে একের পর এক ব্যর্থতার পরও কীভাবে মেসি লড়াই চালিয়ে গেছেন, সে কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।

    আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, পড়তে দেখেছি, আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন পরিস্থিতি তোমার অনুকূলে ছিল না, তখনও তোমাকে লড়ে যেতে দেখেছি এবং সব সময় আবার চেষ্টা করতে দেখেছি। আর এত বছর পর, তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের কিছু মুহূর্ত উপভোগ করতে দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।’

    তবে মেসির ফুটবলজীবনের চেয়েও একটি বিষয় আন্তোনেলাকে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে—তাঁদের তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো বাবার পুরো যাত্রাটির সাক্ষী হয়ে বড় হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে আন্তোনেলা লিখেছেন,‘তবে এই পুরো গল্পের একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়—আমাদের সন্তানরা নিজের চোখে এসবের সাক্ষী হয়ে বড় হয়েছে। তারা তাদের বাবাকে নিজের চাওয়া পূরণের জন্য লড়তে দেখেছে, কখনো হাল না ছাড়তে দেখেছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখতে দেখেছে। এরপর তারা নিজের চোখেই দেখেছে, তাদের বাবা সবকিছু অর্জন করেছেন এবং বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছেন।’

    আন্তোনেলার মতে, সন্তানরা হয়তো এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি তাদের বাবা মাঠে কতটা অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন। তবে একজন বাবা হিসেবে মেসিকে নিয়ে তাদের গর্বের কোনো কমতি নেই, ‘হয়তো একদিন তারা সত্যিকার অর্থেই বুঝতে পারবে তোমার গল্পের বিশালতা। আজ তারা শুধু তাদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত।’সবশেষে স্বামীকে উদ্দেশ করে ভালোবাসা ও গর্বে ভরা বার্তা দিয়েছেন আন্তোনেলা, ‘আর আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার পথচলা নিয়ে, তুমি যেসব বাধা অতিক্রম করেছ সেসব নিয়ে এবং সবকিছুর চেয়েও বেশি—প্রতিটি মুহূর্তের আড়ালে থাকা মানুষটিকে নিয়ে। তোমার পাশে থেকে এই সবকিছুর অংশ হতে পারা কত বড় সৌভাগ্যের। আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’

  • আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব কীর্তি রেখে গেলেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেসব কীর্তি রেখে গেলেন মেসি

    ক্রীড়াডেস্ক:

    যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত এই পঙ্‌ক্তিই লিওনেল মেসি আজ সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে গোল, শিরোপা জয়ের পর তাঁর উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন আর দেখা যাবে না।আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের কাঁদিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মেসি। ক্যারিয়ারে অজস্র রেকর্ড গড়ে পেয়েছেন ‘রেকর্ডের বরপুত্র’ উপাধি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে পূরণ করেছেন তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ২৩ মিনিট পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ২ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। স্প্যানিশ গানে তৈরি সেই ভিডিওতে তুলে ধরেছেন তাঁর ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। চলুন, এবার জেনে নিই, তিনি কী কী কীর্তি ও রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা দলকে বিদায় বলেছেন।

    আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির রেকর্ড ও কীর্তি

    আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ১২৫

    আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা: ২০৭

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক: ১১

    এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল: ২০২২ সালে ১৮টি

    দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৩১টি

    ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোল: সরাসরি ফ্রি-কিকে ১২ গোল

    বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড

    অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ১৯

    আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়: ২০০৬ সালে ১৮ বছর বয়সে

    আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়: ২০২৬ সালে ৩৮ বছর বয়সে

    জাতীয় দলে বড় শিরোপা

    ফিফা বিশ্বকাপ: ২০২২

    কোপা আমেরিকা: ২০২১, ২০২৪

    কনমেবল-উয়েফা কাপ অব চ্যাম্পিয়নস (ফিনালিসিমা): ২০২২

    অলিম্পিক স্বর্ণপদক: ২০০৮

    আবেগঘন এক বার্তায় মেসি আজ সামাজিক মাধ্যমে দিয়েছেন অবসরের ঘোষণা। তবে এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে রেখেছিলেন ২১ জুলাই। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারার পর মেসির দুচোখ বেয়ে যেভাবে পানি পড়ছিল, আজ তাঁর পোস্টেও যেন সেটারই ছাপ দেখা গেছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে একবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর হতাশায় আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। কিন্তু এবার তাঁর বয়স হয়েছে ৩৯ বছর। ২০১৬ সালের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

  • ফুটবল হারাল তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

    ফুটবল হারাল তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার খবরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম দেখছে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে।

    সোমবার সন্ধ্যায় আবেগঘন এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। এই সিদ্ধান্ত তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান এই ফরোয়ার্ড। তবে দেশের জন্য নিজের দেওয়ার মতো সবকিছুই দিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদপত্র ওলে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্টকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, এই দিনেই মেসি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের অতুলনীয় উত্তরাধিকার।

    পত্রিকাটি মেসির বিদায়ী বার্তার ব্যক্তিগত আবহের কথাও তুলে ধরেছে। জাতীয় দলকে ভালোবাসতেন এবং সবসময়ই ভালোবাসবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেসি জানিয়েছেন, মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, এবার বাইরে থেকে একজন সমর্থক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনার পাশে থাকবেন, সুখের সময়েও, কঠিন সময়েও।

    মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে নতুন এক অধ্যায় শুরু হচ্ছে বলেও মনে করছে ওলে। তার অবসর শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয়, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির পরবর্তী দল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা মেসির অবসরকে বিশ্বজুড়ে বোমা ফাটানো খবর বলে মন্তব্য করেছে। আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটালেন তিনি। শিরোপা ও রেকর্ডে ভরা সেই যাত্রার পরিসংখ্যানও সহজে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। জাতীয় দলের ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো মেসিকে অভিহিত করেছে সেরাদের সেরা হিসেবে। তাদের মতে, ‘ফুটবল বিশ্বে বোমা ফাটানো খবর। সুন্দর এই খেলার ইতিহাসে অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলার ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি সদ্য আর্জেন্টিনার দলের হয়ে খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।’

    ইতালির লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত মেসির সিদ্ধান্তকে দেখেছে অন্য এক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের কাছে এটি ছিল বেদনাদায়ক তবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।

    মেসির বক্তব্য তুলে ধরে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই, আর সামনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষটা হয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দুবারের কোপা আমেরিকা জয়ী হিসেবে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় শিরোপার খরা কাটিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জিতে পূর্ণতা পায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

    ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ গুরুত্ব দিয়েছে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতি ক্যারিয়ারকে। দুই দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার পর ৩৯ বছর বয়সে অবসরে যাচ্ছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি এখনও তাঁকে ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও নিজের বার্তায় জানিয়েছেন মেসি।

    ফরাসি ওয়েবসাইট ফুট মার্কাতো লিখেছে, ‘মেসির অবসর আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।’ তাদের মতে, ফাইনালে একের পর এক হতাশার পর ২০২১ সালে মেসির শিরোপার খরা কাটানোই আর্জেন্টিনার সোনালি এক যুগের শুরু; যার চূড়ান্ত পরিণতি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়।

    ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও আবেগঘন ভাষায় মেসির বিদায়কে তুলে ধরেছে। তাদের শিরোনাম, ‘মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন: ফুটবল তার আত্মার একটি অংশ হারাল।’

    আর্জেন্টিনার টিএনটি স্পোর্টস মেসিকে বিদায় জানিয়েছে, ‘তুমি একজন মহান, অধিনায়ক।’ খবরটি সরাসরি দর্শকদের জানাতে গিয়ে বিশ্লেষক পাবলো হিরালতকে চোখের জল সামলাতেও দেখা গেছে।

    ২০১৬ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। সেই ঘটনার স্মৃতি টেনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান শিরোনাম করেছে, ‘মেসি আবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।’ অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটালেন মেসি।’জার্মানি

    র ‘বিল্ড’-এর শিরোনাম ছিল সংক্ষিপ্ত—‘ফুটবলে বিস্ময়: জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন মেসি।’ পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা’ও একে বলেছে ‘ফুটবল বিশ্বে বোমা ফাটানো খবর’ এবং মেসির সিদ্ধান্তকে অভিহিত করেছে ‘একটি যুগের সমাপ্তি’ হিসেবে।

    জার্মান সংবাদপত্র ডি সাইট-এর মতে, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের ৪৩ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের মাত্র দুই দিন পরই, ২১ জুলাই নিজের অবসরের বার্তাটি লিখেছিলেন তিনি। তবে সেটি প্রকাশের আগে অপেক্ষা করেন আরও কিছুদিন।

  • বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রের অলংকার

    বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রের অলংকার

    উপসম্পাদকীয়:

    গণতন্ত্র একটি প্রাচীন ধারণা হলেও সংসদীয় গণতন্ত্র তুলনামূলকভাবে এক নবীন পরিশীলিত ব্যবস্থা। গ্রিক নগররাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ‘ডেমোক্রেসি’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ জনগণের শাসন। আব্রাহাম লিংকন একে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন অমর বাক্যে—‘জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন’ (Government of the people, by the people, for the people)। এই বিমূর্ত ধারণাকে বাস্তবের কাঠামোয় রূপ দিতে গিয়ে মানবসভ্যতা যে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে, তার নাম সংসদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওয়াল্টার ব্যাজহট তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The English Constitution’-এ পার্লামেন্টকে বলেছেন রাষ্ট্রের ‘মর্যাদাপূর্ণ’ ও ‘কার্যকর’ অংশের সংযোগসেতু। সংসদই সেই মঞ্চ, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিরা যুক্তি ও পাল্টা-যুক্তির মধ্য দিয়ে জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ‘Parliament’ শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি ‘parler’ থেকে, যার অর্থ কথা বলা। অর্থাৎ সংসদ মূলত কথা বলার জায়গা—কিন্তু সে কথা হবে যুক্তির, বিতর্কের, সহনশীলতার; কলহ ও হট্টগোলের নয়।

    সংসদীয় গণতন্ত্রের দুটি প্রধান মডেল পৃথিবী সমাদৃত—একটি ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি, অন্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা। ব্রিটেন সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। তারা কোনো লিখিত সংবিধান রচনা করেনি, বরং শত শত বছরের রীতি, প্রথা ও দৃষ্টান্তকে সংবিধানের মর্যাদা দিয়েছে। সেখানে রাজা রাজত্ব করেন কিন্তু শাসন করেন না। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। ব্রিটিশ সংসদের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হলো তার বিরোধী দল। তারা বিরোধী দলকে বলে ‘রাজকীয় অনুগত বিরোধী দল’ (His Majesty’s Loyal Opposition)। এই অভিধাটি তাৎপর্যপূর্ণ; বিরোধিতা মানে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থেকেই সরকারের নীতির গঠনমূলক সমালোচনা। সেখানে রয়েছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা শ্যাডো কেবিনেট, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিটি সদস্য সরকারের এক-একজন মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিকল্প নীতির খসড়া প্রস্তুত রাখেন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রতি সপ্তাহে ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে’ বিরোধী দলের তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হতে হয়। এই জবাবদিহিতাই ব্রিটিশ গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেন। মন্তেস্কুর ‘ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ’ তত্ত্বকে তারা সংবিধানের মেরুদণ্ড করেন। আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—তিনটি অঙ্গকে পৃথক রেখে তারা ‘পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের’ এক অভিনব ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদÑপ্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে সংযত রাখে। প্রেসিডেন্ট যত ক্ষমতাধরই হোন, বাজেট পাস থেকে যুদ্ধ ঘোষণা পর্যন্ত তাকে কংগ্রেসের সম্মতি নিতে হয়। মার্কিন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এই যে, সেখানে প্রেসিডেন্টের নিজ দলই মাঝেমধ্যে তার নীতির বিরোধিতা করে; দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বিবেক ও নির্বাচনি এলাকার স্বার্থ সেখানে অগ্রগণ্য। এ দুই ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত শিক্ষা এক ও অভিন্ন—ক্ষমতা যেখানে নিরঙ্কুশ, সেখানে স্বৈরাচার অনিবার্য। লর্ড অ্যাক্টনের সেই অমোঘ উক্তি স্মরণীয়—‘ক্ষমতা মানুষকে কলুষিত করে, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কলুষিত করে নিরঙ্কুশভাবে’ ।

    আমরা যেহেতু ২০০ বছর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিলাম, উত্তরাধিকার সূত্রে সংসদীয় শাসনব্যবস্থাই আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশ ওয়েস্টমিনস্টার আদলে সংসদীয় গণতন্ত্র গ্রহণ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, প্রতিষ্ঠানটি আমরা আমদানি করলেও তার আত্মা আমরা আত্মস্থ করতে পারিনি। সংসদীয় গণতন্ত্রের খোলস আমাদের ছিল, কিন্তু মজ্জা ছিল অনুপস্থিত। বিশেষত বিগত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে জাতীয় সংসদ পরিণত হয়েছিল এক নিষ্প্রাণ, নিরর্থক প্রদর্শনীর মঞ্চে। সংবিধানের প্রথম পঙ্‌ক্তিতে লেখা ছিল ‘জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক’, অথচ বাস্তবে ক্ষমতাই হয়ে উঠেছিল সব রাজনীতির উৎস। ব্যাজহট যাকে বলেছিলেন সরকারের কার্যকর অংশ, সেই সংসদকে পরিণত করা হয়েছিল আলংকারিক শোভায়।

    আওয়ামী আমলের সংসদীয় ইতিহাস প্রকৃত অর্থে নামমাত্র গণতন্ত্রের ইতিহাস। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তামাশার নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদে বিরোধী দল বলে কিছু ছিল না। ২০১৪ সালে দেড় শতাধিক আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি; ভোটের আগেই ফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় পার্টিকে একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী আসনে বসিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক নজিরবিহীন কৌতুক। জনগণ তাকে যথার্থই নাম দিয়েছিল ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’। যে বিরোধী দল সরকারের অনুগ্রহে টিকে থাকে, যে বিরোধিতা সরকারের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয়, তা বিরোধিতা নয়—তা প্রহসন। সেই সংসদ হয়ে উঠেছিল একজন ব্যক্তির প্রশস্তি-গাথার আসর, ‘জি হুজুর’ আর করতালির সমবেত মহড়া। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘রাবার-স্ট্যাম্প সংসদ’, যার একমাত্র কাজ নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তে বিনা প্রশ্নে সিলমোহর বসানো। আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ—তিনটি অঙ্গ যখন একটি কর্তৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তখন যাকে বলা হয় স্বৈরতন্ত্র, তারই প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল ‘গণতন্ত্রের’ মোড়কে। এ ছিল কাঠামোগত প্রতারণা—সংসদীয় গণতন্ত্রের মোড়কে এক আইনি ও বেআইনি বাকশাল। জনগণ সে সংসদের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ হারিয়েছিল, কারণ যে প্রতিষ্ঠান জনগণের কণ্ঠস্বর বহন করে না, তার প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে কেন?

    এই দীর্ঘ অন্ধকারের পর চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতিকে এক নতুন প্রভাত উপহার দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, তাতে প্রকৃত অর্থে একটি সক্রিয়, সোচ্চার বিরোধী দল রয়েছে। সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, বিরোধী দলের হট্টগোল, ওয়াকআউট, স্পিকারের উদ্বেগ—তা যতই অপ্রীতিকর মনে হোক, এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর ইতিবাচক ইঙ্গিত। যেখানে প্রশ্ন আছে, প্রতিবাদ আছে, বিরোধিতা আছেÑসেখানেই গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দন। গত দেড় দশকে যে সংসদে টুঁ শব্দটি করার সাহস কারো ছিল না, সেই সংসদে আজ তরুণ সদস্যরা পরিসংখ্যান হাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করছেন। এটাই স্বাভাবিক গণতন্ত্রের চিত্র। ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সেও তীব্র বাদানুবাদ হয়, টেবিল চাপড়ানো হয়, অর্ডার! অর্ডার! ধ্বনিতে স্পিকারকে শৃঙ্খলা ফেরাতে হয়। বিতর্ক গণতন্ত্রের দুর্বলতা নয়, শক্তি।

    তবে বিতর্ক আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফারাক রয়েছে। যুক্তির স্থান যখন কণ্ঠের উচ্চগ্রাম দখল করে, পরস্পরকে বলার সুযোগ না দেওয়ার প্রবণতা যখন প্রবল হয়, তখন সংসদ প্রাণবন্ত না হয়ে হয়ে ওঠে অকার্যকর। এখানেই সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ের সংযম কাম্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন প্রবীণ ও বিচক্ষণ পার্লামেন্টারিয়ান; তরুণ সদস্যদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বদলে পিতৃসুলভ সহনশীলতাই তার কাছে প্রত্যাশিত। তিনি যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তাতে তার বিজ্ঞতাই প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলকেও মনে রাখতে হবে, ওয়াকআউট ও প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অস্ত্র বটে, কিন্তু তা সংযমের সঙ্গে প্রয়োগ করাই রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচায়ক। স্পিকার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

    দেশ এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, আইনশৃঙ্খলার অস্থিরতা—এসবের মধ্যেও জনগণ ধৈর্য ধরে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের অপেক্ষায় আছে। এই মুহূর্তে জাতির সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা ঐতিহাসিক। বিগত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশ যে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি, আজ তা প্রতিষ্ঠার এক বিরল সন্ধিক্ষণ উপস্থিত। এই সুযোগকে যদি আমরা কলহ ও অসহিষ্ণুতায় নষ্ট করি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। সংসদীয় গণতন্ত্র কোনো একদিনের অর্জন নয়; ব্রিটেন সাতশ বছরে যা গড়েছে, তা ধৈর্য, সহনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার ফসল। আমাদের সংসদ যেন যুক্তি-তর্কের প্রাণবন্ত কেন্দ্র হয়, প্রশ্ন ও জবাবদিহিতার নির্ভীক মঞ্চ হয়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। সরকারি দল ও বিরোধী দল যদি পরস্পরকে শত্রু নয়, বরং একই গণতান্ত্রিক যাত্রার সহযাত্রী মনে করে, তবেই এই সংসদ হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থে জনগণের সংসদ। সেটিই হবে জুলাই শহীদদের রক্তের প্রতি যথার্থ সম্মান।

  • চারপাশের সবকিছু ধ্বংস, নেপালের বন্যায় অটুট রইল এক ‘অলৌকিক বাড়ি’

    চারপাশের সবকিছু ধ্বংস, নেপালের বন্যায় অটুট রইল এক ‘অলৌকিক বাড়ি’

    নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চারপাশের ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও স্থাপনা—সব ধ্বংস হয়ে গেলেও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে একটি ফিরোজা রঙের বাড়ি। নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজার এলাকার এই বাড়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিরাকল হাউস’ ও ‘গ্রিন হাউস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও বাড়িটির মূল কাঠামো অটুট থাকায় এটিকে এখন বেঁচে থাকার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমালয়ের একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। বরফ, বিশাল পাথর, গাছপালা ও কাদামাটি নিয়ে প্রবল স্রোত ত্রিশুলি নদী ধরে নেমে আসে। এতে পুরো জনপদ ভেসে যায়। ধ্বংস হয় সড়ক, সেতু, ভবন ও যোগাযোগব্যবস্থা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুর্গম অনেক এলাকা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত নেপাল ও চীনে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৪ হাজারের বেশি মানুষ।

    বন্যার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়িটির নিচের তলাগুলো দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে পানি ও কাদার স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। দরজা-জানালা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে পানির তোড়। কিন্তু ওপরের তলায় আশ্রয় নেওয়া পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে যান। রিইনফোর্সড কংক্রিটে নির্মিত বাড়িটির মূল কাঠামো প্রবল স্রোতের মধ্যেও টিকে থাকে।

    বাড়িটির বাসিন্দারা হলেন ৪৫ বছর বয়সী প্রকাশ পাণ্ডে প্যাকুরেল, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবা। বন্যা আঘাত হানার সময় প্রকাশ ও তাঁর স্ত্রী বাড়ির কাছেই একটি দোকানে ছিলেন। তাঁদের সাত বছর বয়সী ছেলে ১৫ মিনিট আগে স্কুলে চলে গিয়েছিল। ১১ বছর বয়সী মেয়েটি তখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    এই অবস্থায় কাদা ও পানির প্রবল স্রোত ধেয়ে এলে পরিবারটির হাতে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো সময় ছিল না। প্রকাশ ও তাঁর স্ত্রী তাই দোকান থেকে দ্রুত বাড়িতেই ফিরে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁরা বাড়ির ভেতর আটকা ছিলেন। প্রকাশের স্ত্রী জানান, চারদিক থেকে বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষসহ বন্যার পানি বাড়িটিকে আঘাত করছিল। বাড়িটি কাঁপছিল, আর তাঁরা ভয়ে ভাবছিলেন, হয়তো এটাই তাঁদের জীবনের শেষ মুহূর্ত।

    তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। সবাইকে বলেছিলাম, একসঙ্গে মরতে হবে। কিন্তু আমরা নতুন জীবন পেয়েছি। সবাই এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলছে। আমরাও এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে বেঁচে আছি।’

    পরে বাড়ির এক সদস্য লাল পতাকা উড়িয়ে হেলিকপ্টারে উদ্ধারকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহ স্রোত নেমে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্তত চারটি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। ত্রিশুলি নদীর ১৬৮ কিলোমিটার নিম্নধারা এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় বন্যা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৯টি সেতু ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১০ শতাংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা কেশব প্রসাদ বারাল বলেন, ‘এটা শুধু পানি ছিল না। বিশাল কাদার স্রোত আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল।’ তিনি জানান, স্ত্রীকে হাত ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে কাদার স্রোত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

  • ২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে থাইল্যান্ডের তীরে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সেনা

    ২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে থাইল্যান্ডের তীরে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সেনা

    থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পৌঁছানোর আগে যৌন ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রণতরীটিতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন রয়েছেন। তারা টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ পাবেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ জানায়, আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের রিসোর্ট শহর পাতায়ার কাছে লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের। এর সঙ্গে থাকবে আরও দুটি মার্কিন নৌযান। বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাসদস্যের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার প্রত্যাশা করছেন।

    তবে মার্কিন সেনাদের আগমনের আগে শহরের প্রধান সমুদ্রসৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে চালানো অভিযানে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

    পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক স্রাথংইউ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে যৌনকর্মীরা কর্তৃপক্ষের অগোচরে বিভিন্ন জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারেন—এ কারণে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

    থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হলেও দেশটির প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে, বিশেষ করে ব্যাংকক ও পাতায়ার কিছু এলাকায় যৌন ব্যবসা প্রকাশ্যেই চলে।

    গত বছরের নভেম্বরে সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। পরে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানকে সহায়তার জন্য রণতরীটিকে সেখানে পাঠানো হয়। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে এটি আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড তৈরি করেছে।

    দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েনের কারণে জাহাজে থাকা সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে দুটি সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম রণতরীটিতে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং মনোবল কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।

    পাতায়ার মেয়র পরামাসে নগামপিচেস বলেন, একজন মার্কিন সেনাসদস্য দিনে প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার থাই বাত ব্যয় করতে পারেন। তারা কতক্ষণ তীরে থাকছেন এবং রাতে অবস্থান করছেন কি না, তার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে। তবে সবাই একসঙ্গে তীরে নামবেন না; পর্যায়ক্রমে তাদের শোর লিভ দেওয়া হবে।

    ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পিপাটপং ফাকফারে সতর্ক করে বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ক্রেতার আগমন যৌন শোষণ এবং যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি নৌসদস্যদের মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার চেষ্টার খবরও উদ্বেগের আরেকটি কারণ।

    পাতায়ার পর্যটন ব্যবসায়ীরা অবশ্য এই সফরকে অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেত্রী লিসা হ্যামিলটন বলেন, ২০ বছরের মধ্যে চলতি বছরই পাতায়ার ব্যবসা সবচেয়ে ধীর গতির। তাই মার্কিন নৌবাহিনীর এই সফর তাদের জন্য নতুন আশার উৎস হয়ে উঠেছে।

  • বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন

    বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন

    বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির বিয়ে ইস্যুতে আবার তুমুল আলোচনা নেটদুনিয়ায়। নানা জল্পনা কল্পনা ঘুরছে মুখে মুখে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সম্ভাব্য বিয়ে নিয়ে এই গুঞ্জন।

    তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই আলোচনায় তিনি কি বিব্রত! বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জিও নিউজ বলেছে, বিলাওয়ালের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা ও তারিখ নির্ধারণ করতে তার পিতা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে লিশটেনস্টাইনে গেছেন। গুঞ্জন অনুযায়ী, এ বছরের শেষ দিকে বিলাওয়ালের বিয়ে হতে পারে। তার কথিত বাগদত্তা লিশটেনস্টাইনের রাজধানী ভাদুজের বাসিন্দা বলেও দাবি করা হচ্ছে।

    তবে এসব খবর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পিপিপি। বিলাওয়ালের মুখপাত্র ও করাচির মেয়র মুর্তজা ওয়াহাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পিপিপি চেয়ারম্যানের বাগদান বা বিয়ে নিয়ে প্রচারিত খবর ভুল ও ভিত্তিহীন। বিলাওয়াল কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ পর্যন্ত বাগদান বা বিয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি।

    ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবি এখনো যাচাই করা যায়নি। লিশটেনস্টাইন পশ্চিম ইউরোপের একটি ছোট্ট সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশটি সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এর রাজধানী ভাদুজ দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। বিলাওয়াল অতীতেও বিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তবে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা বিয়ের তারিখ সম্পর্কে কখনো ।

    ২০২২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সময় এক সাংবাদিক বিলাওয়ালের কাছে তার বিয়ের পরিকল্পনা জানতে চান। হাসতে হাসতে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, অবশ্যই, আমার বিয়ের পরিকল্পনা আছে। তবে কবে বিয়ে করবেন- এ প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেননি তিনি। এরও আগে ২০১৬ সালে বিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিলাওয়াল বলেছিলেন, তার ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে প্রথমে তার বোনদের মন জয় করতে হবে। তিনি তখন বলেছিলেন, সঠিক প্রার্থীকে প্রথমে আমার বোনদের মন জয় করতে হবে।

    আমাকে তাদের আস্থায় নিতে হবে। আর আমার বোনদের মন জয় করা যেকোনো মেয়ের জন্য খুব কঠিন কাজ। তবে এবার লিশটেনস্টাইনে কথিত বিয়ের আয়োজন নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি এখনো পাওয়া যায়নি।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। যুক্তরাষ্ট্র সফর সর্বাত্মকভাবে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, কানাডা বিএনপি ও নিউইয়র্কসহ ১৮টি স্টেট ও মহানগর কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভার্চুয়ালি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ প্রস্তুতি সভার সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউইয়র্কে আসবেন। তার আগমনকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    রিজভী নেতাকর্মীদের খুবই সহনশীলতার সাথে সবকিছু দেখভাল করার জোর তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সফরকে আমরা কোনো বিভেদ বা সংঘাতের উপলক্ষ বানাবো না বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করব।

    সভার আরো বক্তব্য রাখেন— বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে শরাফত হোসেন বাবু, নেওয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আখতার হোসেন বাদল, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া, মুশফিকুর রহমান খসরু, একে আজাদ, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহীন, ডিউক খান, জগলুল হায়দার, মুকুল (জাবি) প্রমুখ।

    সভায় কানাডা পূর্ব ও কানাডা পশ্চিম বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট, মহানগর উওর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানান ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    আইপিইউ প্রতিনিধির কাছে আ.লীগের অভিযোগ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ থেকে তাদের ‘মাইনাস’ বা দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা আইপিইউ প্রতিনিধি দল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এ তথ্য সামনে আসে।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন যৌথ ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত দলটি আইপিইউ’কে নির্বাচন থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন ও বিরোধী দলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার সার্বিক চিত্র আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    আইপিইউয়ের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কূটনীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

    সফরকালে আইপিইউ প্রতিনিধি দল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বৈঠকে আইপিইউ প্রতিনিধিরা এর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিরোধী দলের নানা সমস্যার সুরাহা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, দেশের চলমান সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের নতুন প্রস্তাবনাসমূহ আইপিইউ প্রতিনিধি দলকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

    এদিকে, সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। কিন্তু বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করে বলছে যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছে।

    তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সংসদীয় কূটনীতির কৌশলগত দিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

  • ভারতে আবারও চলন্ত বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতে আবারও চলন্ত বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতের গ্রেটার নয়ডায় চলন্ত বাসের ভেতর ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে নিয়ে ফেলে দেয়া হয় বাস থেকে। এ অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    অভিযুক্ত দু’জনই দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেসরকারি পরিবহন সংস্থা বিশ্বনাথ ট্রাভেলসের হয়ে কাজ করছিল বলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের আলোচিত নির্ভয়া মামলার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকা এই ঘটনাটি ঘটে ৪ঠা আগস্ট। তবে তা নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে সবেমাত্র।

    ঘটনার দিন কিশোরীটি নয়ডার সেক্টর ৬৩ যাওয়ার জন্য একটি ফাঁকা বাসে ওঠে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, বাসটির চালক ৩৯ বছর বয়সী কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর ২৬ বছর বয়সী সন্দীপকে একই দিন উত্তর দিল্লির তিমারপুরের একটি পার্কিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী থেকে নয়ডার উদ্দেশে যাত্রা করা কিশোরীকে কথিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সেখানেই তারা অবস্থান করছিল।

    পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগে ওই কিশোরী জানিয়েছে, পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকাঝকার পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সে নয়ডায় তার এক চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়। ভারী বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে সে নয়ডার প্যারী চকে নেমে বুঝতে পারে, তার গন্তব্য তখনো অনেক দূরে। তখন রাত প্রায় ৯টা। বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভিজে যাওয়া এবং একা থাকা কিশোরীটির চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি তখনো প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। এ সময় একটি বাস তার কাছে এসে থামে।

    বাসটিতে দূরপাল্লার যাত্রার জন্য শোয়ার আসন বা বার্থ ছিল। তবে বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, কন্ডাক্টর তাকে বলে, তারাও নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। এরপর কিশোরীটি বাসে ওঠে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি আসলে গ্রেটার নয়ডার সূরজপুরের একটি ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছিল।

    অভিযোগে কিশোরীটি জানিয়েছে, বাসটি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করে এবং তাকে যৌন নির্যাতন করে। সে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তাকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় ফেলে যায়। পরে কিশোরীটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। এর পরপরই অভিযুক্তদের সন্ধানে অভিযান শুরু হয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ‘স্লিপার’ বাসটির বার্থগুলো পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। অভিযুক্তরা এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ফরেনসিক দলের সদস্যরা বাসটির ভেতর কিশোরীর চুলের নমুনা পেয়েছেন। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া বাসটি যে পথে চলেছিল, সেই পথের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এটি দুই নেতার মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

    তবে দেশ দুইটির নেতার মধ্যে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    ভারতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে।

  • ইসরাইলের আরও ঘনিষ্ঠ ফিনল্যান্ড, এবার ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ইসরাইলের আরও ঘনিষ্ঠ ফিনল্যান্ড, এবার ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আরও এক দশকের জন্য বাড়িয়েছে ফিনল্যান্ড। নতুন চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

    ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইএলই জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্তি হ্যাকানেন এই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেন। ২০৩৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই চুক্তিটি ওয়াইএলই-এর প্রতিবেদন প্রকাশের আগে জনসমক্ষে আনা হয়নি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনল্যান্ড ও ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এই সমঝোতা স্মারকটি প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে হেলসিঙ্কি ইসরাইলের কাছে চুক্তিটি নবায়নের প্রস্তাব দেয়।

    আগের চুক্তির মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। তবে এবার ফিনল্যান্ড ১০ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম এতে সম্মতি দিয়েছেন।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়াইএলই’কে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি ফিনল্যান্ডের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানোর বিষয়টি গ্রহণ করছি। আমাদের ফলপ্রসূ সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং পারস্পরিক প্রকল্প ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি।

    ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কোম্পানির ফিনল্যান্ডে সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও এসব কোম্পানির উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক ডিফেন্স অ্যান্ড টেকের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে ফিনল্যান্ডের কেনাকাটার পরিমাণ ছিল মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা বছরে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ক্রমেই বাড়ছে।

    দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় একক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার চুক্তি ছিল ডেভিড’স স্লিং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ২০২৩ সালে ফিনল্যান্ড এটি ৩১৬ মিলিয়ন ইউরোতে কিনেছে।

    এর আগে ২০২২ সালে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান রাফায়েল ফিনল্যান্ডের সেনাবাহিনীকে স্পাইক অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে। চুক্তিটির মূল্য ছিল ২১৩ মিলিয়ন ইউরো।

    তৃতীয় বৃহত্তম ক্রয় ছিল ফিনল্যান্ডের নৌবাহিনীর জন্য গ্যাব্রিয়েল অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২০১৮ সালে ১৬২ মিলিয়ন ইউরোতে কেনা হয়। বর্তমানে ফিনল্যান্ড ও ইসরাইলের মধ্যে প্রায় ২০টি প্রতিরক্ষা প্রকল্প চলমান রয়েছে।

    সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তিটি সম্ভবত ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জানে ইয়াকোলার ইসরাইল সফরের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি ৩ থেকে ৬ আগস্ট ইসরাইল সফর করেন।

    ফিনল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সফরকালে ইয়াকোলা ও তার ইসরাইলি সমকক্ষরা পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

  • মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই সঙ্গে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও চুক্তির আওতাধীন দেশ তিনটি আলোচনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব—এই তিনটি দেশ চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।

    মূলত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং তেহরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পটভূমিতে এই প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়েছে।

    জোটের প্রথম বৈঠক আজ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দেবেন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো গতকাল রোববার এই তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রগুলো জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ আজ বৈঠকে বসছে।

    কারা অংশ নিচ্ছেন

    তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লুর বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আজকের বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উপস্থিত থাকবেন। তাঁর সঙ্গে আরও থাকবেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা এরই মধ্যে তুরস্কে পৌঁছেছেন।

    সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন বলেও জানা গেছে।

    কী নিয়ে আলোচনা

    আজকের বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আজকের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম থাকবে। সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ তৎপরতা আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে থাকছে।

    কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি যৌথভাবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যেসব ক্ষেত্রে কাজের সিদ্ধান্ত নেবে, তা পরিচালনায় একটি সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাঠামোর রূপরেখা আজকের বৈঠকে ঠিক করা হতে পারে।

    জোটের পক্ষ থেকে আগামী সময়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব।

    এই জোটে যুক্ত হতে এরই মধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক। এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ঝুঁকি দেখছে না।

  • রোজার পরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    রোজার পরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পবিত্র রমজান মাসের পরই উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির স্বার্থে রোজার পরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলেও জানান তিনি।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পরীক্ষার সময় ও সমন্বয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পরীক্ষাগুলোকে দেশের আবহাওয়া ও বৈশ্বিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করা। বিশেষ করে বর্ষাকালের ভোগান্তি এড়াতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে আসা জরুরি। এর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাদের সময়সূচিকেও একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী জানান, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত মাস হচ্ছে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু রোজার কারণে এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন রোজার আগে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলো না এ প্রসঙ্গে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, অংশীজনদের অনুরোধে প্রথমে পরীক্ষা এগিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শিক্ষাবর্ষের হিসাব মিলিয়ে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে এক মাসের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হতো। কারণ আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়ে ১০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যেত।

    পরীক্ষা বেশি এগিয়ে নিয়ে আসলে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হলেও তাদের কোর্স রিভিউ বা রিভিশন করার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রিভিউ প্রসেসটা ব্যাহত হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তো শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত (হার্ট) করব না। তাদেরকে রিভিউ দেওয়ার ও কোর্সের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পরীক্ষা রোজার পরেই অনুষ্ঠিত হবে। যদিও কিছু পক্ষ রোজার আগেই পরীক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও প্রস্তুতির স্বার্থে রোজার পরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।

    এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বাড়তি চাপ বা আশঙ্কার কারণ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটলে পরীক্ষা যথাসময়েই হবে।

    শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষা নিয়ে বাড়তি কোনো চাপ নেওয়ার কারণ নেই।

  • সোনার দাম কমল ভরিতে ৪,৪৭৪ টাকা

    সোনার দাম কমল ভরিতে ৪,৪৭৪ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমেছে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    আজ সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। তারা বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমায় নতুন করে দাম ঠিক করা হয়েছে। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

    সর্বশেষ গত শনিবার ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ১১৫ টাকা। তার আগে ২০, ২২ ও ২৫ আগস্ট তিন দফায় সোনার দাম বেড়েছে মোট ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা। আজ দাম কমানোর ফলে দুই দফায় প্রতি ভরি সোনার দাম কমল সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪৮৯ টাকা।

    আজকে দাম সমন্বয়ের ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার গয়নার দামও কমেছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা।

  • যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১৫

    যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১৫

    যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে প্রবল বৃষ্টির পর বন্যার পানি নেমে আসায় পার্কের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বন্যার পর জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বন্যার পর গিরিখাতের গভীর এলাকা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি মানুষকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়েছে। নদীতে ধাতব কাঠামো ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ চলে আসায় কলোরাডো নদীতে নৌযান চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ক্যান্টিন ও কেবিন এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের একটি বড় অংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ওই এলাকায় শনিবার অবস্থান করা হাইকার, ব্যাকপ্যাকার এবং ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার জন্য আগাম বুকিং করা ব্যক্তিরা রয়েছেন কি না, তা যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা জাস্টিন জোহনড্রো জানান, মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটে ওই এলাকায় আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। খাড়া ও পাথুরে ভূপ্রকৃতির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক নর্থ রিম থেকে কলোরাডো নদীর দিকে প্রায় ৬ হাজার ফুট নিচে নেমে গেছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

    গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। দুর্গম উপত্যকা, খাড়া পাহাড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কারণে সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত সতর্ক থাকতে হয়। এবারের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

  • জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

    জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

    লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক সংঘর্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

    মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন ইরানি উৎক্ষেপণযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লারাক দ্বীপে ইরানি বাহিনী সমুদ্রের নিচে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত এবং ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বার্থের কথা বলে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার দাবি করছে।

    সাম্প্রতিক হামলার ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে ইরান প্রণালির ওপর চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সমুদ্রপথের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

  • ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ৭০ বছরে পাকিস্তানের জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড

    ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে ১০৩ রানে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। পর পর দুই টেস্টে লজ্জার হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) টার্গেটে আছেন টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ।

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এবার ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার পর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম লিখেছিল, ৫০ বছরে জঘন্যতম পাকিস্তান দল। শুধু দল নয়, এর দায় ক্রিকেট বোর্ডেরও নেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।

    জিও নিউজকে লতিফ বলেছেন, ‘সকলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কথা বলছে। ৫০ বছরে এটা জঘন্যতম ক্রিকেট দল। একদম ঠিক কথা। কিন্তু কেউ তো এখনকার ক্রিকেট বোর্ডের কথা বলছে না। ৭০ বছরে জঘন্যতম ক্রিকেট বোর্ড।’

    পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘কেউ তো বলছে না, এই বোর্ডেরই নির্বাচক কমিটি ও কোচেরাই এই জঘন্য দল বেছে নিয়েছে। তাহলে আসল দায় কাদের। সকলেই জানে, কে পাকিস্তান ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না। এই দলের জেতার ক্ষমতাই নেই। একের পর এক টেস্ট হারবে।’

  • আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। বিক্ষোভকারীরা মোহন ভগবতের ভিসা বাতিল এবং আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান।

    ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিলসহ (আইএএমসি) বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভে সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার ও সিটি কাউন্সিল সদস্য জুলি ওয়নও অংশ নেন। তারা আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী আদর্শ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান আয়োজনের সমালোচনা করেন।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) ভগবতের ভিসা বাতিল এবং আরএসএসের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে। সংস্থাটি মুসলিম, খ্রিষ্টান, দলিত ও শিখদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে।

    আইএমসি জানায়, ৬৫টি মার্কিন নাগরিক ও আন্তঃধর্মীয় সংগঠন অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করে। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি মানুষ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে ভগবতকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানান।

    আরএসএস ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন, যা ভারতের হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতার অভিযোগের মুখে রয়েছে।

  • রাম মন্দিরে ৪ কোটির চেক, অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স মাত্র ৩ রুপি

    রাম মন্দিরে ৪ কোটির চেক, অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স মাত্র ৩ রুপি

    ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ৪ কোটি রুপি অনুদান দিতে চেক দিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের এক নারী। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর দেখা যায়, ওই নারীর ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ রুপি। ফলে চেকটি বাউন্স করেছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে চেকটি দিয়েছিলেন। ট্রাস্ট ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানায়, চেকের অর্থ পরিশোধের মতো পর্যাপ্ত টাকা হিসাবে নেই। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ওই নারীকে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংক।

    ওই নারী মন্দিরে আলাদাভাবে ১০ হাজার রুপি অনুদানও দিয়েছেন। ৪ কোটি রুপি শুধু মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধায় ব্যয় করার বিষয়ে ট্রাস্টের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাস্ট এমন নিশ্চয়তা দেয়নি। এখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।

    এর আগে, ২০২০ সালে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ‘নিধি সমর্পণ অভিযান’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৫ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ১০০ কোটি রুপির চেক প্রথমে বাউন্স করলেও পরে বেশিরভাগ অর্থ আদায় করা হয়। তবে প্রায় ২২ কোটি রুপি এখনও উদ্ধার হয়নি।

    বর্তমানে রাম মন্দিরে প্রতি মাসে নগদ, অনলাইন ও চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি অনুদান আসে। এর মধ্যে চেকের মাধ্যমে আসে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি রুপি।

    এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ট্রাস্ট। গত জুনে মন্দিরে দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছিল।

    উল্লেখ্য, ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ও এর ঐতিহাসিক ভূমি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। ১৯৯২ সালে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ষোড়শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়, যার ফলে দেশব্যাপী মারাত্মক দাঙ্গা ও প্রাণহানি ঘটে।

    ২০১৯ সালে ভারতের উচ্চ আদালতের এক রায়ে বাবরি মসজিদের জায়গাটি হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এবং মুসলমানদের মসজিদ তৈরির জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরটির উদ্বোধন করেন।

  • শিশু ও নারীদের লাশও আটকে রেখেছে ইসরাইল

    শিশু ও নারীদের লাশও আটকে রেখেছে ইসরাইল

    গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের কাছে আটক ফিলিস্তিনিদের লাশ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসরাইল প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে। এসব লাশেরর বেশির ভাগই গাজার বাসিন্দা। ভবিষ্যতে বন্দি বা জিম্মি বিনিময়ের আলোচনায় এগুলো ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

    ফিলিস্তিনি সংগঠন ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিট্রিভাল অব মার্টার্স বডিজ অ্যান্ড ডিসক্লোজার অব দ্য ফেট অব দ্য মিসিং’ জানিয়েছে, ইসরাইলের কাছে আটক ৭৯৯ ফিলিস্তিনির নাম তারা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২৫৬ জনকে ‘নম্বরের কবর’ নামে পরিচিত সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আটক লাশগুলোর মধ্যে ৮১ শিশু ও ১০ নারীও রয়েছেন।

    ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের এসব গোপন সামরিক কবরস্থানকে ‘নম্বরের কবর’ বলে থাকে। সেখানে মরদেহের নাম প্রকাশ না করে কবরের ওপর একটি নম্বর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য একটি নথিতে সংরক্ষণ করা থাকে। এসব কবরস্থান সাধারণত সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে যেতে পারেন না। ফলে বহু পরিবার বছরের পর বছর স্বজনের কবরের অবস্থান বা মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য জানতে পারে না।

    ফিলিস্তিনিদের লাশ আটকে রাখার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালের পর ইসরাইল এ নীতি আরও বিস্তৃত করে। ২০১৭ সালে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আলোচনায় ব্যবহারের সম্ভাবনা রেখে কিছু মরদেহ আটকে রাখার অনুমোদন দেয়। ২০১৯ সালে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আলোচনার অংশ হিসেবে মরদেহ আটকে রাখার অনুমতি দেয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ নীতির সমালোচনা করে আসছে।

    এদিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংকট আরও বড় হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইসরাইল গাজায় ৯৩০টি মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এর সঙ্গে মানবদেহের দেহাবশেষ ভর্তি ৬৬টি বাক্সও ফেরত দেওয়া হয়। তবে এসব মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত ডিএনএ পরীক্ষার সরঞ্জাম না থাকায় পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য ও প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচেও হাজারো মরদেহ আটকে রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের পরিচালক জাহের আল-ওয়াহিদি ২০ আগস্ট জানিয়েছেন, প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। উদ্ধারকারী দল অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৭৩ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। ফলে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ উদ্ধার করা এখন বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের লাশ ও কবরের প্রতি সম্মান দেখানো এবং পরিস্থিতি সম্ভব হলে মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রটোকল-১-এর ৩৪ নম্বর ধারাতেও এ বিষয়ে বিধান রয়েছে।

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪৪৯

    গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪৪৯

    মৃত্যুপুরী গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১৮ জন। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও কয়েকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে পৌঁছেছে।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলি হামলা ও অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। গবেষণাটি ৩১৭টি ঘটনার নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব দিয়েছে।

    এ ছাড়া ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে রয়েছে। ফলে গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজার আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, অবকাঠামো ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও গাজায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সতর্ক করলেন শীর্ষ মার্কিন কমান্ডাররা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সতর্ক করলেন শীর্ষ মার্কিন কমান্ডাররা

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন মার্কিন কমান্ডাররা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী বেশ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা হেগসেথকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের অভিযান অব্যাহত না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। খবর আলজাজিরার

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা কমান্ডাররাও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী সামরিক মোতায়েনের রূপরেখা দেওয়া একটি নিয়মিত প্রকাশিত গোপনীয় প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তাটি প্রকাশিত হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ দাখিল করে জানিয়েছেন যে, তারা এই মোতায়েন আদেশের সঙ্গে একমত নন, কিন্তু তা কার্যকর করবেন।

    কমান্ডারদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অন্যান্য সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে।

    এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার নির্দেশ দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাকে কয়েক মাস ধরে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন।

  • নেতানিয়াহুই সেই সাপ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে প্রলুব্ধ করেছেন: আরাগচি

    নেতানিয়াহুই সেই সাপ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে প্রলুব্ধ করেছেন: আরাগচি

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘সর্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু ইসরাইলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, হিব্রু ভাষায় ইসরাইলি উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু কীভাবে মার্কিন প্রশাসনকে ‘প্রভাবিত’ করেছেন, তা নিয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করেন। অথচ ইংরেজি ভাষায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

    আরাঘচির ভাষ্য, নেতানিয়াহু নিজেই ইসরাইলের স্বার্থে মার্কিন প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘প্রলুব্ধ’ করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুকে ‘সর্প’ বলে মন্তব্য করেন। তার এই অভিযোগের কথা চলমান ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

  • পূজার আগেই হামলা করতে পারে পাকিস্তান, শঙ্কায় ভারত

    পূজার আগেই হামলা করতে পারে পাকিস্তান, শঙ্কায় ভারত

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ২৯ আগস্ট ইসলামাবাদের কাছে দেশটির বৃহত্তম অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভারী কামান মোতায়েন করা হয়েছে। একের পর এক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করছে ইসলামাবাদ। চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি হয়েছে ।

    পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভারতে। পূজার আগেই ফের ভারত আক্রমণ করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, এই প্রশ্নেরই জবাব খুঁজছেন দিল্লির গোয়েন্দাদের একাংশ। তবে পাকিস্তান শিগগিরই ভারতের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

    আসিম মুনির ওয়াহ সেনানিবাসে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ বা পিওএফ পরিদর্শন করার পরে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতেই তিনি কারখানাটি পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনের সময় মুনির বিভিন্ন অস্ত্রের নকশা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং গোলাবারুদের পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। কারখানার কর্মকর্তারা তাকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানান। চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয়ভাবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সেনাপ্রধানের সরাসরি কারখানা পরিদর্শনকে শুধু শিল্প সক্ষমতা পর্যালোচনার ঘটনা হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর কৌশলগত গুরুত্বও বিবেচনা করা দরকার।

    এরই মধ্যে পাকিস্তান সামরিক ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ২৭ আগস্ট কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি’ হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে।

    চীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থলভিত্তিক অস্ত্রের বড় একটি অংশ চীনা প্রযুক্তি বা সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তুরস্কের সঙ্গেও ইসলামাবাদের সামরিক সহযোগিতা কয়েক বছর ধরে বাড়ছে।

    এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে চীন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের চলাচল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে কী ধরনের সরঞ্জাম পাকিস্তানে এসেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা অনুমান থাকলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

    পাকিস্তান সীমান্তেও সামরিক তৎপরতা নিয়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে। চীনে তৈরি এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কামান মোতায়েনের খবর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    তবে পাকিস্তানের এসব সামরিক প্রস্তুতির প্রধান লক্ষ্য ভারত কি না, তা নিশ্চিত নয়। পাকিস্তান একই সময়ে আফগানিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

    অন্যদিকে গত বছরের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হয়। ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। কয়েক দিনের সংঘাতের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

    ওই সংঘাতের পর ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। ফলে নতুন করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও দেশটির সামরিক নীতিতে প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের চাপ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সমস্যা সামাল দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনাও বেড়েছে।

    এ অবস্থায় আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। তবে এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যাখ্যা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাদের সামরিক তৎপরতার ওপর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।