আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই সিন্ধু নদে বাঁধ দিল ভারত

    পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই সিন্ধু নদে বাঁধ দিল ভারত

    পাকিস্তানের সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত থাকার মধ্যেই লাদাখে সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ তৈরি করেছে ভারত। লাদাখের বৃহত্তম শহর লেহর উপসাই এলাকায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাকৃতিক পাথরের বড় বড় চাঁই দিয়ে বাঁধটি তৈরি করা হয়েছে। এতে কোনো সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের পর ওই এলাকায় সিন্ধু নদের পানির স্তর প্রায় ১০ ফুট বেড়েছে।

    এই বাঁধের সরাসরি সুফল পেয়েছেন লাদাখের কৃষকেরা। পানির স্তর বাড়ায় আগে সেচ দেওয়া সম্ভব হতো না এমন অনেক জমিতেও এখন চাষাবাদ করা যাচ্ছে।

    লাদাখে কৃষিকাজে পানির সংকট দীর্ঘদিনের। অঞ্চলটিতে একের পর এক গিরিখাত থাকায় সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ ও স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পাম্প দিয়েও নদী থেকে পানি তোলা সম্ভব হতো না।

    পানির এই সংকটের কারণে লাদাখের হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি বছরের পর বছর চাষের অনুপযোগী হয়ে ছিল। এর ওপর সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির কারণে নদীর পানি ব্যবহারে ভারতের সীমাবদ্ধতা ছিল।

    নতুন বাঁধের ফলে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়েছে। ইগু ফে খালসহ অন্যান্য খালের মাধ্যমে সেই পানি শুকনো কৃষিজমিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত–পাকিস্তান বিরোধ

    লাদাখে বাঁধটি নির্মাণের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে।

    ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জম্মু–কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলা হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর–ই–তৈয়বার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) ওই হামলা চালায়। এতে ২৫ জন পর্যটক নিহত হন।

    এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সঙ্গে সই করা ‘সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি’ স্থগিত করে। চুক্তিটি এখনো স্থগিত রয়েছে।

    এর পর থেকে গত এক বছর ধরে সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।

    এর মধ্যেই লাদাখের সিন্ধু নদের ভারতীয় অংশে এই বাঁধ নির্মাণ করা হলো। এটি ওই অংশে নির্মিত সিন্ধু নদের প্রথম বাঁধ।

  • ফকল্যান্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা হত্যায় আর্জেন্টিনাকে অস্ত্র দেয় ইসরাইল

    ফকল্যান্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা হত্যায় আর্জেন্টিনাকে অস্ত্র দেয় ইসরাইল

    যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। কারণ যুক্তরাজ্যের অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

    এর জবাবে যুক্তরাজ্যকে হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারাও লন্ডনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।’

    যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে পুরোনো এক অধ্যায়ও সামনে এসেছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে গোপনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছিল ইসরাইল।

    ২ এপ্রিল ১৯৮২ আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে অভিযান চালালে ৭৪ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন জয়ী হয়। যুদ্ধের সময় ইসরাইল আর্জেন্টিনাকে স্কাইহক যুদ্ধবিমান, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, মর্টার, মেশিনগান, অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে। এছাড়া ২০টি সংস্কার করা নেশার যুদ্ধবিমানও দেওয়া হয়।

    আর্জেন্টিনার জন্য এসব অস্ত্র গোপন কার্গো ফ্লাইটে পেরু হয়ে পাঠানো হতো বলে বিভিন্ন নথি ও গবেষণায় উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সরকারি নথি অনুযায়ী, ইসরাইলের অস্ত্র সরবরাহের মোট মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার হতে পারে।

    ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার স্কাইহক যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এসব হামলায় ৪৮ জন ব্রিটিশ সেনা ও নৌসদস্য নিহত এবং চারটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়।

    ইসরাইল তখন প্রকাশ্যে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করলেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের গোপন নথিতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ইসরাইলি অস্ত্র চুক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়।

    এর পেছনে সামরিক-বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও ছিল। তৎকালীন ইসরাইলি সরকার ফকল্যান্ড যুদ্ধকে আর্জেন্টিনা ও লাতিন আমেরিকার অস্ত্রবাজার সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক খারাপ হয়ে উঠেছিল এবং ইসরাইলের ওপর ব্রিটিশ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

    তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সরকার ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। ফলে আর্জেন্টিনাকে অস্ত্র দেওয়া ছিল ইসরাইলের জন্য যুক্তরাজ্যের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিরও একটি উপায়।

  • ভারতে বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

    ভারতে বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

    ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন।মহারাষ্ট্র পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২৯ জনের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আত্মহত্যার এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণের মতো নানা কারণও উঠে এসেছে।

    তবে ২৯ জনের আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর জলগাঁওয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি শুধু পাত্রী না পাওয়ার কারণেই এসব আত্মহত্যা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা?

    জলগাঁওয়ের গ্রামগুলো ঘুরে তরুণ, তাদের পরিবার, নারী এবং এ বিষয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে একটি জটিল চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে বিয়ে এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। চাকরি, জমির মালিকানা, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব, অভিবাসন, নারীদের বদলে যাওয়া প্রত্যাশা এবং পুরুষদের ওপর সামাজিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে বিয়ের বিষয়টি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।

    ‘ঠিক বয়সে বিয়ে হওয়া দরকার’

    জলগাঁওয়ে বছর তিরিশের বিশাল পাতিলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় অধ্যাপক। বিয়ে নিয়ে তার কথায় জলগাঁওয়ের অনেক তরুণের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পাওয়া যায়।

    বিশাল পাতিল বলেন, তার বাবা-মাও চান তিনি বিয়ে করুন। তবে তিনি বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, তিনি এখন ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে চান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান।

    তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে খুঁজে পাওয়ার পরই তিনি বিয়ে করতে চান, যিনি তাঁকে বুঝবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত হবেন।

    বিশাল পাতিলের মতে, ভারতীয় সমাজে বিয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সের ধারণা রয়েছে। সাধারণভাবে ২৪ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ২৮-২৯ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করা হয়।

    তার ভাষায়, কারো বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। শুধু বিয়ে না করার কারণে নয়, ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো খামতি আছে—এমন ধারণাও ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে।

    মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাউন্সেলিং করেন মুকেশ। তার ব্যাখ্যা, বিয়ের সঙ্গে যখন সামাজিক মর্যাদা ও সাফল্যের বিষয়গুলো জুড়ে দেওয়া হয়, তখন অনেক অবিবাহিত তরুণ বিয়ে না হওয়াকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

    জলগাঁও পুলিশের সাম্প্রতিক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের সময় বিষয়টি তাই বিবেচনায় রাখা জরুরি।

    পুলিশের হিসাবে ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় বিয়ের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশও মনে করছে না যে এসব ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল বিয়ে করতে না পারা।

    মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক চাপ ও ঋণের মতো বিষয়ও এসব ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    নারীর তুলনায় অবিবাহিত পুরুষ বেশি

    মহারাষ্ট্রের এই পরিসংখ্যান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে।

    ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫ (এনএফএইচএস-৫) অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ শতাংশ নারী অবিবাহিত। পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ।

    অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

    তবে শুধু নারীর সংখ্যা কম হওয়াই এর একমাত্র কারণ কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    জলগাঁওয়ের কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনা বিষয়টির একটি গুরুতর দিক সামনে আনে।

    বি ফার্ম ডিগ্রি নেওয়ার পর নাসিকের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন কৌস্তুভ। তার মায়ের মৃত্যুর পর পরিবার তার জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করে। কিন্তু নিজের বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় বিভিন্ন পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করেন কৌস্তুভ পোটদার।

    তার ঘটনা দিয়ে অবশ্য বলা যায় না যে প্রতিটি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পেছনে একই কারণ কাজ করে। তবে তার ঘটনা দেখায়, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ‘পাকা বাড়ি বানালে তবেই পাত্রী পাব’

    জলগাঁওয়ের এক প্রবীণ নারী জানিয়েছেন, তার ছেলের বয়স এখন ৪০ বছর। বহু বছর ধরে তিনি ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। কিন্তু পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এখন তিনি নিজেই একটি পাকা বাড়ি তৈরি করছেন।

    তার আশা, বাড়ি তৈরি হয়ে গেলে ছেলের জন্য পাত্রী পাওয়া যাবে।

    ছেলের বিয়ে না হওয়া নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট ছিল। তবে কথায় তার চেয়েও বেশি ছিল অসহায়ত্ব। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

    মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চল নিয়ে গবেষণা করেছেন ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ান। তাদের গবেষণাতেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন পাওয়া যায়।

    গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের পছন্দকে প্রভাবিত করে জমি, শিক্ষা, জাতি ও পাত্রের বয়সের মতো বিষয়।

    ময়ূর কুডুপলে বলেন, একসময় মেয়ের পরিবার সবচেয়ে বেশি দেখত পাত্রের কত জমি আছে। এখন জমির চেয়ে পাত্রের চাকরি আছে কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তার মতে, গ্রামীণ অর্থনীতি বদলেছে। কিন্তু বিয়ে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা সেই অনুযায়ী সমানভাবে বদলায়নি।

    আগে জমিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। এখন তার জায়গায় এসেছে নিয়মিত আয়, কর্মসংস্থান, শহরে থাকার সম্ভাবনা এবং নিজের বাড়ি থাকার মতো বিষয়।

    বদলে যাচ্ছে বিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা

    এসব পরিবর্তনের মধ্যেও জাতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।

    ময়ূর কুডুপলের মতে, জাতি ও উপজাতির মতো বিষয় বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দের পরিধি সীমিত করে। পাত্র-পাত্রীর খোঁজ করার সময় অনেক পরিবার নিজেদের জাতি ও উপজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

    লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ার এই কাঠামোর আরেকটি দিক তুলে ধরেছেন।

    তিনি বলেন, কোনো পুরুষ বিয়ের প্রয়োজন বোধ করলে অন্য জাতির নারীকে বিয়ে করতে রাজি হতে পারেন। কিন্তু সেই নারীর জাতি তাঁর বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন মেনে নেবেন কি না, সেটি বড় প্রশ্ন।

    অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক বাধা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। শুধু এর ধরন বদলেছে।

    বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা

    জলগাঁওয়ে পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রায়ই একটি অভিযোগ শোনা গেছে। অনেক পুরুষের দাবি, বিয়ে নিয়ে নারীদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে।

    তাদের ধারণা, নারীরা এমন পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান, যার চাকরি আছে, শহরে বাড়ি আছে এবং যিনি আর্থিকভাবে স্থিতিশীল।

    তবে নারীদের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।

    বিয়ে ও ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নিয়ে ২০-২২ বছর বয়সি এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সাক্ষাৎকারের পরদিন তার পরিবার জানায়, ওই কথোপকথন প্রতিবেদনে ব্যবহার করা যাবে না।

    এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। নারীদের প্রত্যাশা বদলালেও তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার স্বাধীনতা সবার নেই।

    দর্শনা পাওয়ার বলেন, স্বামীর সঙ্গে কথা বলা বা বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতে চাওয়া কোনো ভুল প্রত্যাশা নয়। এটি বাড়াবাড়ি ধরনের চাহিদাও নয়। বরং এটি মৌলিক ও যুক্তিসঙ্গত আকাঙ্ক্ষা। এ বিষয়ে এখন সচেতনতা বাড়ছে।

    জলগাঁওয়ে যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বিয়ে না হওয়ার জন্য শুধু নারীদের দায়ী করেছেন।

    ময়ূর কুডুপলের গবেষণাতেও বিয়ে নিয়ে গ্রামের নারী ও পুরুষের পছন্দের পরিবর্তন নিয়ে একই ধরনের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।

    তবে গবেষণায় নারীদের পছন্দের পরিবর্তনকে শুধু প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হয়নি। এর পেছনে কৃষিকাজ কমে আসা, বেকারত্ব, শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তিত চিন্তা, জাতি ও সামাজিক অবস্থানের মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

    পুরুষের অবস্থান কী?

    জলগাঁও জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিয়ে নিয়ে কথা বলার সময় পুরুষদের কথার ধরনও বদলাতে দেখা গেছে। তাদের কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

    একজন যুবক সরাসরি বলেছেন, তিনি ক্যামেরার সামনে নিজের কথা বললে তাকে কে বিয়ে করবে?

    অনেক পরিবার এখন ছেলেদের বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া বন্ধ করেছে। কারণ, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সাফল্য না পাওয়ায় তারাও অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছে।

    তবে কিছু পরিবার এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাড়ি তৈরি করছে, কেউ জমি কিনছে। কেউ আবার ছেলের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছে, যাতে বিয়ের জন্য পাত্রী পাওয়া সহজ হয়।

    অনেক পরিবার এখন ঘটকের ওপর নির্ভর করছে। তবে কিছু অভিভাবকের অভিযোগ, বিয়ের আয়োজনের নামে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে।

    জীবনসঙ্গীর সন্ধানে কিছু পুরুষ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলেও যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, পাত্রী পাওয়ার জন্য কিছু পরিবার অর্থ দিতেও রাজি হচ্ছে।

    ফলে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ এখন আত্মীয়স্বজনের প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী, অর্থের লেনদেন এবং দূরের জেলায় গিয়ে পাত্রী খোঁজার মতো বিষয়।

    কন্যাভ্রূণ হত্যা থেকে বিয়ের ব্যবস্থায় পরিবর্তন

    এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন দর্শনা পাওয়ার।

    তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে ব্যাপক কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাব এখন বিবাহযোগ্য বয়সি পুরুষ প্রজন্মের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যেসব পুরুষ এখনো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি, তারা এমন সময়ে জন্মেছেন, যখন বিপুলসংখ্যক কন্যাভ্রূণ নষ্ট করা হয়েছে।

    তবে মেয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে নারীরা এখন বিয়ে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পেয়েছেন।

    ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও পারিবারিক প্রত্যাশা, জাতি ও সামাজিক কাঠামোর মতো বিষয় এখনো তাদের ওপর চাপ তৈরি করে।

    অন্যদিকে চাকরি, আয়, বর্ণ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং বিয়ে নিয়ে বদলে যাওয়া ধারণার মধ্যে পুরুষেরাও নিজেদের অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    সব মিলিয়ে জলগাঁওয়ের চিত্র বলছে, বিয়ের সংকটকে শুধু ‘পাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না’—এভাবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনসংখ্যার ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, চাকরি, জমি, জাতি, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি।

    বিশাল পাতিল অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। তার ভাষায়, ‘বিয়েই জীবনের সবকিছু নয়।’

    মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে

    মানসিক চাপ, হতাশা বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।

    আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগলে বা এর কোনো লক্ষণ অনুভব করলে সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলা জরুরি।

  • গাজায় যা ঘটছে তা ভয়াবহ: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    গাজায় যা ঘটছে তা ভয়াবহ: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    গাজায় যা ঘটছে, তা ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।

    ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে এমন কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যারা সেখানে ছিলেন বা এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা শুনেছেন তিনি।

    মিলিব্যান্ড বলেন, ‘সত্যি বলতে, সেখানে যা ঘটছে, তা ভয়াবহ।’

    গাজায় জরুরি ওষুধ পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও বৈঠকে তাকে জানানো হয়েছে। জীবন রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা শিশুরা মারা যাচ্ছে—এমন তথ্যও পেয়েছেন তিনি।

    ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজার পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সবাইকে আগের চেয়ে আরো দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা যতটা করেছি, তার চেয়েও বেশি দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

  • ভারতের টাটাকে কেনিয়া ত্যাগের নির্দেশ প্রেসিডেন্টের

    ভারতের টাটাকে কেনিয়া ত্যাগের নির্দেশ প্রেসিডেন্টের

    কেনিয়ার কাঁচামাল ব্যবহার করে স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। একই সঙ্গে কোম্পানিটির পরিবর্তে নতুন বিনিয়োগকারী এনে কাজিয়াদো অঞ্চলে কাচ ও রাসায়নিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    দক্ষিণ কেনিয়ার কাজিয়াদো কাউন্টি সফরের সময় বৃহস্পতিবার রুটো বলেন, টাটা ও এর পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলো এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লেক মাগাদি থেকে সোডা অ্যাশ উত্তোলন করলেও স্থানীয়ভাবে শিল্প স্থাপন বা পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখেনি।

    রুটোর ভাষ্য, ওই টাটা কোম্পানির সঙ্গে ১০০ বছরের একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু কাজিয়াদোতে তারা কিছুই তৈরি করেনি, কোনো কারখানাও গড়ে তোলেনি। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি অন্যদের দাস হয়ে থাকব?

    রুটো জানান, টাটা কেমিক্যালসের জায়গায় নতুন বিনিয়োগকারী আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে কাজিয়াদোতে একটি বড় কাচ তৈরির কারখানা এবং আরেকটি রাসায়নিক উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, শুধু কাঁচামাল উত্তোলন ও রপ্তানির পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে পণ্যের মূল্য সংযোজন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো।

    এর আগে ২৮ জুলাই কেনিয়ার খনিজবিষয়ক মন্ত্রণালয় টাটা কেমিক্যালস মাগাদির মাইনিং কার্যক্রম স্থগিত করে। নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ, রয়্যালটি হিসাব ও পরিশোধ, খনিজের স্থানীয় মূল্য সংযোজন, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

    তবে টাটা কেমিক্যালস এসব বিষয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিয়ে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক বিধি মেনে চলার দাবি করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, কেনিয়া সরকারের সঙ্গে যথাযথ আইনি ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করতে তারা আগ্রহী।

    লেক মাগাদি থেকে উৎপাদিত সোডা অ্যাশ কেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যগুলোর একটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে কেনিয়া ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ টন সোডা অ্যাশ রপ্তানি করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

  • নেপাল-তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৩৭৫, নিখোঁজ ৫৫৩১

    নেপাল-তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৩৭৫, নিখোঁজ ৫৫৩১

    নেপাল-তিব্বতে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের ১০ দিন পরও ৫ হাজার ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে শনিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

    নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে ১ হাজার ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক।

    অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (তিব্বত) অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে এখনও ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    নেপাল ও চীনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দুই দেশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫০ জন বিদেশি নাগরিক।

    গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার (১৭ হাজার ৬০ ফুট) উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নিচে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসাবশেষের স্রোত তৈরি করে। পরে সেটি সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।

    ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কাঠমান্ডু উপত্যকাও।

    এদিকে, বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষে চীনের শিজাং অঞ্চলের গিরং সীমান্ত ক্রসিংও চাপা পড়ে যায়। দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • ভারতের ৯ হিমবাহ হ্রদকে যেন ‘পানির বোমা’

    ভারতের ৯ হিমবাহ হ্রদকে যেন ‘পানির বোমা’

    ভারতের হিমাচল প্রদেশে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া ৯টি হিমবাহ হ্রদকে ‘পানির বোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আইআইটি মান্ডির গবেষকরা। হিমালয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হিমবাহ গলার হার বাড়তে থাকায় এসব হ্রদ ভাটির জনপদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

    গবেষকদের এই সতর্কতা এসেছে নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে। ওই বন্যার সূত্রপাত একটি বিশাল হিমবাহের অংশ ভেঙে হিমবাহ হ্রদে পড়ে সেটি উপচে পড়ার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

    আইআইটি মান্ডির গবেষকরা জানান, স্যাটেলাইট চিত্র ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এক দশকে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এসব হ্রদের আয়তনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেওয়া আইআইটি মান্ডির স্কুল অব সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডেরিকস পি. শুক্লা বলেন, হ্রদগুলোর প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিক ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

    গবেষণায় চাম্বা ও লাহৌল-স্পিতির উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত কালিকুন্ড, চন্দ্রতাল, বাসুকি, সুরাই, কিয়া সো, ইয়োচে, সমুদ্র তাপু, কাসাং ও গেপাং গাথ—এই ৯টি হ্রদকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক প্রতিরোধক বাঁধ ভেঙে গেলে এসব হ্রদ ‘পানির বোমার’ মতো আচরণ করতে পারে।

    ভূমিধস, ভূমিকম্প কিংবা অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে গেলে নিচের উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব হ্রদের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে ১৫টির বেশি সেতু, কয়েকটি জনবসতি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে।

    গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হিমাচল প্রদেশে ৩ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় মোট ২ হাজার ৭৬টি হিমবাহ হ্রদ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৭১০টি বেশি। একই সময়ে এসব হ্রদের সম্মিলিত আয়তন ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে রাজ্যটিতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে লাহৌল-স্পিতির গেপাং গাথ হ্রদের আয়তন প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার বেড়েছে। কাসাং হ্রদের আয়তন বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার, আর কাংড়া ও চাম্বার কালিকুন্ড হ্রদ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার।

    গবেষকেরা কালিকুন্ড হ্রদকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ, হ্রদটির চারপাশের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় সেখানে হঠাৎ ভূমিধস বা প্রাকৃতিক বাঁধ ধসে পড়ার ঝুঁকি বেশি।

    গবেষণায় হিমবাহ গলার গতি বাড়ানোর পেছনে মানুষের কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, হিমালয়ের সংবেদনশীল এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার ফলে হিমবাহের ওপর ধুলাবালির আস্তরণ তৈরি হতে পারে। স্বচ্ছ বরফ ও তুষারের তুলনায় এই ধুলা বেশি সূর্যালোক শোষণ করে, ফলে হিমবাহ দ্রুত গলতে পারে।

    এ ছাড়া ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিমবাহ হ্রদের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

    এ ছাড়া হিমালয় অঞ্চলের ৬৮১টি হিমবাহ হ্রদের পানি প্রবাহের সম্ভাব্য পথ ও ভাটির ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে কেন্দ্রীয় পানি কমিশন। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হিমবাহ হ্রদগুলোর ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাসের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির কাজ করবে।

  • প্রেমিকা কথা না বলায় বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গ্রেফতার যুবক

    প্রেমিকা কথা না বলায় বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গ্রেফতার যুবক

    ভারতের তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলায় প্রেমিকার বাড়ির সামনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

    গ্রেফতার যুবকের নাম নাগার্জুন। তিনি মালামাল বহনের কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি মাতাল ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রেমিকা তার সঙ্গে কথা না বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ।

    পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর সঙ্গে নাগার্জুনের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক। সম্প্রতি তরুণী তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার ভোরে প্রেমিকার বাড়ির কাছে গিয়ে পেট্রলবোমা ছোড়েন তিনি।

    এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘নাগার্জুন মদ্যপ ছিলেন। ছয় বছরের সম্পর্কের প্রেমিকা গত এক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে কথা না বলায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাগার্জুন একটি বস্তুতে আগুন ধরিয়ে সেটি ছুড়ে দেন। বস্তুটি আগুন ধরে বিস্ফোরিত হলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার শরীরের ওপর পড়ে যায়। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    ঘটনার সময় কাছের একটি দোকানের বাইরে আরেক ব্যক্তিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে।

    পুলিশ নাগার্জুনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    তামিলনাড়ুতে অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের এক দিন পরই এ ঘটনা ঘটল। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বৃহস্পতিবার তার দপ্তরের জন্য বরাদ্দ চাওয়ার বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বিরোধী দলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিন রাজ্যে হত্যা, যৌন অপরাধ, হেফাজতে মৃত্যু ও সম্মানহত্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, টিভিকে সরকারের ১১৬ দিনে ২০০টি হত্যা, ১০টি সম্মানহত্যা ও আটটি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

    অন্যদিকে, পিডব্লিউডি মন্ত্রী আধব অর্জুনা আগের ডিএমকে সরকারের আমলে অপরাধের তথ্য নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করেন।

    বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, সোমবার তিনি বিরোধীদের সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।

  • পর্বতারোহীদের প্রস্রাবেই গলছে এভারেস্টের হিমবাহ : গবেষণা

    পর্বতারোহীদের প্রস্রাবেই গলছে এভারেস্টের হিমবাহ : গবেষণা

    নতুন এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের পোড়ানো জ্বালানির তাপ এবং সরাসরি হিমবাহে ত্যাগ করা প্রস্রাবের কারণে প্রতি বছর ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক একদল গবেষক নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের খুম্বু হিমবাহ নিয়ে গবেষণা করে এ তথ্য পেয়েছেন। হিমবাহটির ওপরই অবস্থিত এভারেস্ট বেজ ক্যাম্প। তাদের এই গবেষণার ফলাফল ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

    বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে বেজ ক্যাম্পে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী অবস্থান করেন। তখন সাময়িকভাবে এলাকাটি জমজমাট পর্যটন গ্রামে পরিণত হয়। সেখানে এসপ্রেসো ক্যাফে, বড় পর্দার টেলিভিশন, উচ্চগতির ইন্টারনেট, গরম পানির গোসল এবং তাঁবু উষ্ণ রাখার ব্যবস্থাও থাকে।

    গবেষকেরা ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমের ৫০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুতে রান্না, উষ্ণতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৮২৪টি এলপিজি ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়।

    গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি পোড়ানো এবং মানুষের মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপ মিলিয়ে ওই সময়ে মোট প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিমাণ তাপ আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের ত্রুটি বা মার্জিন ভব এরর বিবেচনায় নিলে, বরফ গলার এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে।

    গবেষকদের হিসাবে, এতে যে পরিমাণ পানি তৈরি হয়, তা অলিম্পিক গেমসের আকারের একটি সুইমিং পুল, প্রায় ৮৩টি পানির ট্যাংকার অথবা ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব পূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট।

    এ গবেষণায় মানুষের মূত্র নিজেই তাপের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। উঁচুতে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন। এর ফলে প্রতিদিন সেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়।

    কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে পাহাড়ের নিচে নিয়ে যাওয়া হলেও মূত্রের বড় অংশ সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়। গবেষকদের হিসাবে, একটি পর্বতারোহণ মৌসুমে শুধু মূত্রের তাপেই প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলে যেতে পারে।

    স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণেও বেজ ক্যাম্প এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা পাওয়া যায়। ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাটের ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ক্যাম্পের আশপাশের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বছরে গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে। এ হার পার্শ্ববর্তী খুম্বু হিমবাহে রেকর্ড করা তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।

    নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সার্ভেয়ার কিম লাল গৌতমও এই গবেষক দলে ছিলেন। দলটির মতে, বেজ ক্যাম্পের মানবসৃষ্ট তাপের প্রকৃত প্রভাব তাদের হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, গবেষণায় হেলিকপ্টার চলাচল, পর্বতারোহীদের শরীরের তাপ এবং রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত চমরীগাইয়ের শরীর থেকে উৎপন্ন তাপ হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি।

    তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এভারেস্টের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। একই সঙ্গে তাদের মতে, ইতোমধ্যে দ্রুত সংকুচিত হতে থাকা একটি হিমবাহের ওপর প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের এমন ব্যাপক সমাগম দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য নয়।

    তারা আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে বেজ ক্যাম্প হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

  • রাশিয়া-জার্মানি কি হাইব্রিড যুদ্ধে জড়িয়েছে?

    রাশিয়া-জার্মানি কি হাইব্রিড যুদ্ধে জড়িয়েছে?

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানি সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে। এরপর একটি প্রশ্নও সামনে আসছে। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ মেনে এবার কি সামরিক জোটটির সদস্যরা মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে?

    এই প্রশ্ন ওঠার কারণ অনুচ্ছেদ-৫ এর একটি ধারা। যেখানে বলা হয়েছে, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ হামলার শিকার হলে তা বাকিদের ওপর আক্রমণ হিসেবেও গণ্য হবে। জবাব দিতে তারা সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে।

    জার্মানির অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট তাদের লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তদন্তের পর সম্প্রতি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এর জন্য মস্কোকে দায়ী করেছে। একইসঙ্গে কিছু পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। মস্কোও সেগুলোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিকে আপাতত ‘নতুন উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করছে ইউরোপীয় গণমাধ্যমগুলো। তবে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট এক্ষেত্রে একটি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রতিদিনই হাইব্রিড যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছি।’

    তাই নতুন প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়া ও জার্মানি কি হাইব্রিড যুদ্ধে জড়িয়েছে?

    হাইব্রিড যুদ্ধ কী?
    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষণের প্ল্যাটফর্ম গ্লোবাল সিকিউরিটি রিভিউ। তারা বলছে, হাইব্রিড যুদ্ধ বলতে প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বয়কে বোঝায়। এর মধ্যে সামরিক অভিযান, সাইবার যুদ্ধ, অপতথ্য ছড়ানোর প্রচার এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মতো কর্মকাণ্ড আছে।

    বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গাই ভারহোফস্টাড তাঁর এক মতামত নিবন্ধে হাইব্রিড যুদ্ধের উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অলাভজনক মিডিয়া সংস্থা প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে নিবন্ধটি প্রকাশ হয় নির্বাচনে প্রায় এক মাস পর।

    ড্রোন হামলার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন পুলিশ সদস্যরা। গত ৫ আগস্ট লিপজিগ বিমানবন্দরে।

    এফবিআই ও সিআইয়ের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে গাই ভারহোফস্টাড লিখেছিলেন, ওই নির্বাচনের হাওয়া ট্রাম্পের পক্ষে রাখতে রাশিয়া যেমন হ্যাকিং করেছে, তেমনি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। তবে হাইব্রিড যুদ্ধে সাইবার হামলা একটি অংশ মাত্র। এর মধ্যে আরও আছে- উগ্র ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী সংগঠন ও জনতুষ্টিবাদী আন্দোলনগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার চালানো।

    ন্যাটোর ওয়েবসাইটেও বলা হয়েছে, হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু, জনমতকে প্রভাবিত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা দুর্বল করা।

    রাশিয়া-জার্মানির মধ্যে যা ঘটছে
    যে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার কথা বলা হচ্ছে সেটি ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেখানে ইউক্রেনের আন্তোনভ পরিবহন বিমান নিয়মিত চলাচল করে। অ্যান্তোনভ কিয়েভের একটি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। দেশটির সঙ্গে রাশিয়া সামরিক যুদ্ধে লিপ্ত।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে প্রথমে একটি ড্রোন রোবটের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আরেকটি ড্রোন পরিবহন বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনার ১০ দিন পর বিমানবন্দরটিতে তৃতীয় ড্রোনের উপস্থিতি দেখা যায়।

    এমন ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে চাইছে। এর মধ্যে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে রুশ নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

    মস্কোতে জার্মানির গ্যেটে ইনস্টিটিউট।

    এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে বার্লিনে অবস্থিত রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রাশিয়ান হাউস’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে মস্কো তাদের প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। এছাড়া, বনে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেটও বন্ধ করা হয়েছে।

    জার্মানির এসব উদ্যোগকে ‘রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে মস্কো। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তারা বৃহস্পতিবার জার্মানির গ্যেটে ইনস্টিটিউটের একাধিক শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ভাষা শেখার এই ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয় জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে।

    এছাড়া, গোপনে রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজকে বাধা দেওয়ার মতো উদ্যোগ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বার্লিন। পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, কথিত ড্রোন হামলার উত্তেজনা দেশ দুটিকে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আটকে দেওয়ার মতো লড়াইয়ে নামিয়েছে।

    এটি কি হাইব্রিড যুদ্ধ?
    ড্রোন হামলার ঘটনার পর খোদ জার্মানির ভেতরই প্রশ্ন উঠেছে, দেশ যুদ্ধাবস্থায় আছে কি না? এ নিয়ে গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডয়চে ভেলে লিখেছে, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে জার্মানি এখনো রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত নয়।

    কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি, স্বীকৃত কোনো সশস্ত্র সংঘাত নেই এবং ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়নি। এছাড়া যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার আগে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী পরামর্শ করতে হয়। সেই পরামর্শেরও কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

    তবে হাইব্রিড যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, রাশিয়া এরই মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে। এর মধ্যে অবকাঠামোয় হামলা, সাইবার হামলা, অপতথ্য ছড়ানো এবং প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির মতো কর্মকাণ্ড আছে।

    জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যেসব পশ্চিমা দেশ কিয়েভকে সমর্থন দিচ্ছে তাদের মধ্যে জার্মানি অন্যতম। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেছেন, ড্রোন বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আকাশসীমা লঙ্ঘন করাটাও হাইব্রিড যুদ্ধ।

    তাহলে জার্মানি কি হাইব্রিড যুদ্ধে আছে? বার্লিন আপাতত এর কোনো সরাসরি উত্তর দেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে বলেছেন, যুদ্ধে না থাকলেও তারা রাশিয়ার ‘যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু’তে পরিণত হয়েছেন।

    বার্লিনের ‘প্রমাণ’ ও মস্কোর প্রতিক্রিয়া
    গত জুলাইয়ে নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে পোল্যান্ডের গণমাধ্যম ওনেট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেটি ছিল ন্যাটোর সদস্যদের ওপর রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন হামলার ধরন নিয়ে।

    গণমাধ্যমটিকে নিরাপত্তা সূত্র বলেছিল, চরম পরিস্থিতিতে দেশগুলোর সীমান্ত অঞ্চলে ‘হাইব্রিড হামলা’ হতে পারে। উসকানিমূলক পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা অথবা বিমান হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা।

    একই মাসের শেষ দিকে পোল্যান্ডের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ঘটনাস্থলটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হেনেছে সেটি সম্ভবত রাশিয়ার কেএইচ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র।

    ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস ও ভ্লাদিমির পুতিন।

    লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা নিয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, ড্রোনটির কাঠামো, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক এবং ডেটোনেটর- সবকিছুই রাশিয়ার ‘হাইব্রিড অপারেশনের’ সঙ্গে মিল আছে।

    এই নমুনাগুলোকে বার্লিন প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘কোনো প্রমাণ নেই। যা দেখানো হচ্ছে সেগুলো সাজানো।’ আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পুতিন বলেন, বার্লিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে এসব অভিযোগের সূত্রপাত।

    এখন কেন এই উত্তেজনা?
    জার্মানিতে বর্তমানে আঞ্চলিক নির্বাচনের আমেজ চলছে। যে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার কথা বলা হচ্ছে সেটি স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে। আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সেখানে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। তবে এর আগেই বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, সরকার গঠনের পথে আছে কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফডি যদি সত্যিই জয়ী হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রথমবারের মতো কট্টর ডানপন্থিরা আঞ্চলিক সরকার গঠন করবে। যা নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

    আঞ্চলিক নির্বাচনে এমন পূর্বাভাসের মধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলল ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ-সিএসইউ ও এসপিডির জোট সরকার। কিন্তু এর সঙ্গে নির্বাচনের যোগসূত্রতার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

    ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন। ফাইল ছবি: এপি

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার মানের অবনতির মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর জনসমর্থন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এখন তিনি মানুষের সামনে ‘আগ্রাসী রাশিয়ার’ কথিত হুমকিকে তুলে ধরছেন।

    নতুন উত্তেজনার মধ্যে জার্মানির চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। আগস্টের শেষ দিকে লিপজিগের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, ‘হাইব্রিড হামলার জন্য দায়ীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’

    জার্মানির প্রতি সংহতি জানিয়ে সম্প্রতি একই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেছেন, ‘আমাদেরকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। এর অর্থ হলো, রাশিয়ার বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

  • যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে : পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা

    যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে : পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা

    পেন্টাগনে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা সাবেক কর্মকর্তা ওয়েস জি ব্রায়ান্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

    বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা ব্রায়ান্ট আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র সমালোচনা করেন।

    তিনি বলেন, এই হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচলিত ‘নৈতিক ও আইনগত মানদণ্ডের’ প্রতিফলন।

    যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রায়ান্ট বলেন, ‘হ্যাঁ।’

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।

    তবে ব্রায়ান্ট এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া ও অবহেলাভাবে বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং হত্যা করছে’।

    পেন্টাগনের সাবেক এই কর্মকর্তা তার কর্ম-অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান কমান্ড চেইনের বিভিন্ন স্তরে নথিভুক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, হরমুজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাথে মিনাবের ‘শাজারে তাইয়্যেবা স্কুলে’ মার্কিন হামলার তুলনা করা যায়। হরমুজগানে ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ইরানি তেলের পাশে চীন

    ইরানি তেলের পাশে চীন

    ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই আদেশ পুরোপুরি অকার্যকর ঘোষণা করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।

    চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ আদেশ জারি করে বলা হয়েছে, তাদের দেশে এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধতা থাকবে না।

    এর আগে ইরানের সঙ্গে তেল ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচটি বড় চীনা কোম্পানির ওপর বিধিনিষেধ চাপায় যুক্তরাষ্ট্র । কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সাথে তাদের স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনও বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়।

    মার্কিন কোপে পড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল, শানডং শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ এবং শানডং শেংশিং কেমিক্যাল।

    তবে চীন সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজের দেশের আইন জোর করে অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। মার্কিন সরকারের এই একপাক্ষিক পদক্ষেপ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করছে। নিজেদের দেশের কোম্পানিগুলোর অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেইজিং উল্টো আমেরিকাকেই রুখে দেওয়ার এই আইনি পদক্ষেপ নিল।

    এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারে বেশ বড় হতে যাচ্ছে। কারণ ইরানের তেলের মূল ক্রেতাই হলো চীনের ছোট-বড় স্বাধীন শোধনাগারগুলো। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক বিধিনিষেধ দিয়ে চাপ তৈরি করলেও এবারই প্রথম চীনা সরকার সরাসরি আইনি ঢাল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করে দিল।

    এর ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার পথ যেমন সুগম হলো, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বন্দ্ব এক নতুন মাত্রায় পৌঁছাল।

  • ব্যবসা গুটিয়ে ভারতের শিল্পগোষ্ঠীকে দেশ ছাড়তে বলল কেনিয়া

    ব্যবসা গুটিয়ে ভারতের শিল্পগোষ্ঠীকে দেশ ছাড়তে বলল কেনিয়া

    কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের বিখ্যাত টাটা কেমিক্যালসকে আর তাদের দেশে কাজ করতে দেওয়া হবে না।

    লেক মাগাদিতে দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসলেও তারা এই অঞ্চলের উন্নয়নে কাজের কাজ কিছুই করেনি। তাই একপ্রকার চটে গিয়েই প্রেসিডেন্ট রুটো তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে দ্রুত দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন।

    পুরোনো এই সংস্থাকে বিদায় জানিয়ে কেনিয়ার খনিজ সম্পদ থেকে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে বড় চাল চেলেছে সরকার। রুটো জানান, টাটার জায়গায় নতুন দুটি সংস্থাকে আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিধি বাড়ানো হবে, যাতে কেনিয়ার তরুণদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।

    মূলত ভারতের টাটা গ্রুপের এই সংস্থাটি কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির অদূরে লেক মাগাদিতে ব্যবসা করে আসছিল। প্রতি বছর সাড়ে তিন লাখ টনের বেশি সোডা অ্যাশ তৈরি করে তারা ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাত। কিন্তু গত জুলাইয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেনিয়ার আইন না মানার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার।

    টাটা কর্তৃপক্ষ সব নিয়ম মেনে চলার দাবি করলেও রুটো সরকারের মন গলেনি। সরকার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কর্মচারী ও তাদের পরিবার।

    সেই ১৯১১ সাল থেকে লেক মাগাদিতে শুরু হওয়া এই শতবর্ষী ব্যবসার পরিণতি যে এমন নাটকীয়ভাবে ঘনিয়ে আসবে, তা হয়তো অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল।

  • শিলিগুড়ি করিডরে ৪ লেনের মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত

    শিলিগুড়ি করিডরে ৪ লেনের মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত

    ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র পথ হলো ‘শিলিগুড়ি করিডর’, যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত।

    নেপাল ও বাংলাদেশের সীমানাঘেঁষা এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের কাছের এই সরু ভূখণ্ডটি ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তপোক্ত করতে এবার প্রায় ২,০৭৭ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্র।

    এই টাকায় নির্মিত হবে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন চার লেনের মহাসড়ক, যা বর্তমান প্রধান মহাসড়কের (এনএইচ-২৭) সমান্তরালে বিহারের গলগলিয়া থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত যাবে।

    কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি সম্প্রতি এই অনুমোদনের খবর প্রকাশ করেছেন। নতুন এই রাস্তাটি তৈরি হলে বাগডোগরা বিমানবন্দরসহ মূল কেন্দ্রগুলোর যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

    পাশাপাশি নকশালবাড়ি ও খড়িবাড়ির মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোর ওপর থেকে গাড়ির চাপ কমবে। এলাকার কৃষক ও চা বাগানের মালিকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে ও দ্রুত বড় বড় বাজারে পাঠাতে পারবেন, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতেও নতুন গতি আনবে।

    শুধু নিরাপত্তার দিক থেকেই নয়, বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। নতুন রাস্তাটির বড় অংশ বন এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে নিয়মিত হাতির দল পারাপার করে। দ্রতগামী গাড়ির ধাক্কায় হাতির দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার নিচে ৫টি বিশেষ ‘এলিফ্যান্ট আন্ডারপাস’ বা হাতি পারাপারের পথ তৈরি করা হবে। এর সঙ্গে ৩টি বড় সেতু ও ফুটওভার ব্রিজও তৈরি করা হবে।

    সম্প্রতি বেশ কিছু ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এই সীমান্ত এলাকা নিরাপদ রাখা নিয়ে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে ভারত। কেবল সড়ক নয়, এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ রেলপথ ও নতুন রেললাইনের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

    ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আপদকালীন পরিস্থিতিতে যাতে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল দেশের যোগাযোগ কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়, সেই দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এই বিকল্প রুট তৈরি করছে।

  • ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিশেষ কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

    ইইউ-এর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে স্কট বেসেন্ট লেখেন, এমন দৃঢ় ও দ্রুত অবস্থানের জন্য ওয়াশিংটন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ইরান যাতে তার পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অস্ত্র কর্মসূচি এবং সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর জন্য অর্থায়ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের পাশে রয়েছে। বিশ্ব আজ তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তাদের সর্বশেষ আর্থিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না।

    এর আগে গত মাসের শেষের দিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছিল, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র, জি-সেভেন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • বিপজ্জনক পর্যায়ে পাকিস্তান: প্রেসিডেন্ট-সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব

    বিপজ্জনক পর্যায়ে পাকিস্তান: প্রেসিডেন্ট-সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব

    পাকিস্তানের মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) প্রতিষ্ঠাতা আলতাফ হোসেন দাবি করেছেন, দেশটির সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মধ্যে ‘নীরব লড়াই’ চলছে। নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে বিতর্ক পাকিস্তানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

    এক ভিডিও বার্তায় আলতাফ হোসেন বলেন, পাকিস্তান এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যাকে তিনি দেশের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অবগত নন।

    প্রস্তাবিত ২৮তম সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে আলোচনার সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনার যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই সংশোধনীতে নতুন প্রদেশ গঠনের বিধান থাকতে পারে।
    আলতাফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রদেশ গঠনকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়।’ তার মতে, এই ইস্যু দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।

    পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের সম্ভাবনা এবং এ ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য এল

    প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আলতাফ হোসেন।
    সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদ সিন্ধুতে নতুন প্রদেশ গঠনের বিরোধিতা করে একটি প্রস্তাব পাস করার উদ্যোগ নিয়েছে- এমন খবরের উল্লেখ করে তিনি এটিকে জারদারি ও সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যকার ‘নীরব যুদ্ধের’ প্রমাণ হিসেবে দাবি করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এ ইস্যুতে বিভক্ত। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুজনই দেশের বাইরে থাকায় তিনি এর সমালোচনা করেন।

    সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে আলতাফের বক্তব্য

    প্রস্তাবিত ২৮তম সংশোধনীর পেছনে বৃহত্তর সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন আলতাফ হোসেন। তার মতে, পুরো বিষয়টিকে শুধু ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে কেন্দ্র করে দেখাটা ভুল।
    তিনি বলেন, বড় সিদ্ধান্তগুলো সেনাপ্রধান এককভাবে নেন না; বরং সামরিক নেতৃত্ব সম্মিলিতভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট মার্শাল ল জারি করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে পারে, যা সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের পথ তৈরি করবে- এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
    নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হলে সিন্ধুতে ‘যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন এমকিউএমের প্রতিষ্ঠাতা।

    তার আশঙ্কা, পরিস্থিতির অবনতি হলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও সিন্ধিদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে এবং স্বাধীন ‘সিন্ধুদেশ’-এর দাবিও জোরালো হয়ে উঠতে পারে।

    আলতাফ হোসেন পৃথকভাবে বেলুচিস্তানকে বেলুচ জনগণের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানান। প্রদেশটিতে চলমান সহিংসতা আরও বাড়তে থাকলে তা বৃহত্তর গৃহসংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

  • মানুষের শরীরে ২৭১ দিন সচল শূকরের কিডনি

    মানুষের শরীরে ২৭১ দিন সচল শূকরের কিডনি

    শূকর থেকে প্রতিস্থাপন করা একটি কিডনি মানুষের শরীরে ২৭১ দিন সফলভাবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের শরীরে এ ধরনের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড।


    টিম অ্যান্ড্রুজ নামের ওই রোগী বলেন, শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন তাকে ‘আশা’ দিয়েছিল। একই সঙ্গে কয়েক মাস হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস মেশিনের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধনের প্রয়োজন থেকেও তিনি রেহাই পেয়েছিলেন।


    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম হাসপাতালের চিকিৎসক দল বলছে, তাদের এই কাজ প্রমাণ করে যে মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত অঙ্গ পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত শূকরের অঙ্গকে একটি ‘সেতু’ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনিটি বিকল হয়ে যায় এবং সেটি অপসারণ করতে হয়েছে। এরপর নতুন একজন দাতার কিডনি পাওয়া পর্যন্ত অ্যান্ড্রুজকে অল্প সময়ের জন্য ডায়ালাইসিস নিতে হয়েছে।


    প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গের সংকটের কারণে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন বা অন্য প্রজাতির প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ দেশটিতে বছরে কিডনি প্রতিস্থাপন হয় মাত্র প্রায় ২৫ হাজার। যুক্তরাজ্যেও ৭ হাজারের বেশি মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের তালিকায় রয়েছেন।


    অ্যান্ড্রুজকে বলা হয়েছিল, প্রতিস্থাপনের তালিকার শীর্ষে পৌঁছাতে তার প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু ডায়ালাইসিসে থাকা মানুষের গড় আয়ু প্রায় পাঁচ বছর।


    অ্যান্ড্রুজ বলেন, আমার হাতে একটু কম সময় ছিল… বিষয়টি খুবই হতাশাজনক হয়ে উঠেছিল। তবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে তিনি ‘আশা’ এবং ‘সুড়ঙ্গের শেষে আলোর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    ২৭১ দিন কাজ করেছে কিডনিটি
    টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে অ্যান্ড্রুজের কিডনি রোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং তার কিডনি কার্যক্ষমতা হারাচ্ছিল। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি, ৬৬ বছর বয়সে তার শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।


    সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের পর কিডনিটি সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করেছিল। কিডনিটি মোট ২৭১ দিন কার্যকর ছিল।


    ওই বছরের অক্টোবরে সেটি অপসারণ করা হয়। এরপর অ্যান্ড্রুজকে ৮২ দিন ডায়ালাইসিস নিতে হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একজন মানবদাতার কাছ থেকে তিনি নতুন কিডনি পান। নতুন কিডনিটি বর্তমানে ভালোভাবে কাজ করছে।

    ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের সেন্টার ফর ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেসের চিকিৎসক ডা. লিওনার্দো রিয়েলা বলেন, প্রতিস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত অঙ্গ না থাকায় তারা ‘সংকটের’ মধ্যে রয়েছেন।


    তিনি বলেন, আমরা আশা জাগানোর জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করছি। আমরা সত্যিই মনে করি, যেসব রোগীর জীবিত কোনো দাতা নেই, তাদের জন্য জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি বিকল্প হতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্যভাবে ডায়ালাইসিস এড়িয়ে সরাসরি প্রতিস্থাপনের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

  • গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে তাড়ানোর ছক ইসরাইলের

    গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে তাড়ানোর ছক ইসরাইলের

    গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গার্ডিয়ানের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


    ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনের আগে দেয়া বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, প্রথম বছরে গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেয়া হবে। এরপর ছয় বছরে উপত্যকার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বাকি অংশকেও সরিয়ে নেয়া হবে।


    এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত দাবি করে বেন-গভির বলেন, কয়েকটি দেশ গাজার ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি দেশগুলোর নাম জানাননি।

    গার্ডিয়ান বলছে, ইসরাইলি মন্ত্রীর প্রস্তাবটি ২০ পৃষ্ঠার একটি নথিতে রয়েছে, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’। যদিও এতে ‘স্বেচ্ছায়’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে জবরদস্তিমূলক পরিকল্পনা হিসেবে দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


    বেন-গভিরের বক্তব্যের আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও জানিয়েছিলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন চাইছে তেল আবিব।
    তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ‘যেকোনো উপায়ে’ দেশত্যাগে সহায়তা করা হবে।


    এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার বলেন, গাজায় ইসরাইল দখল করা এলাকা থেকে তারা সরে যাবে না। তার দাবি, বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে।

    দেশটির ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাইয়ের হিসাবে, নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ ৬৫ শতাংশ।


    জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


    আগামী অক্টোবরে ইসরাইলের নির্বাচন সামনে রেখে বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার প্রায় সাতটি আসন পেতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

  • বিয়ের আসরে মার্কিন হামলা

    বিয়ের আসরে মার্কিন হামলা

    ‘অকল্পনীয় শোকে’ কাঁদছে ইরানের পুরো শহর

    ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের ছোট শহর কুহেস্তাকে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইরানের রেড ক্রিসেন্ট হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বালুচ-অধ্যুষিত শহরটিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্র শুরু হয়েছিল। বর-কনের স্বজন ও বন্ধুরা অপেক্ষা করছিলেন, আর মেহেদি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও অতিথি আসার কথা ছিল। এর মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়িটির একাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, বিয়ের ফুলের মালা ও সাজসজ্জার সামগ্রী। কোথাও পড়ে আছে রক্তমাখা জুতা। স্থানীয়দের প্রকাশ করা এসব ভিডিওতে হামলার পরের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক আলি মাল্লাহি একজন জেলে। নিজের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে অতিথিদের জড়ো করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক ভিডিওতে মাল্লাহি বলেন, হামলায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।

    হামলার পর কুহেস্তাকজুড়ে নেমে এসেছে শোক। স্থানীয় এক নাপিত আহমাদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিয়ের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশপাশের বহু বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে প্রতিবেশীরাও আহত হয়েছেন।
    তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ছোট। আমরা সবাই একে অন্যকে চিনি, ভাইয়ের মতো। আমরা সবাই শোকাহত।’ আরেক পর্যায়ে তার কণ্ঠে উঠে আসে ক্ষোভ ও হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁধে কফিন বহন করছি না, আমরা বহন করছি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অপেক্ষা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎ।’

    বালুচ মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা এবং বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে যাচ্ছেন।


    বালুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ফারজিন কাদখোদায়ি বলেন, নিহতরা ছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সাধারণ বেসামরিক মানুষ। আনন্দের একটি দিনে তাদের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য ‘অকল্পনীয় শোক’ বয়ে এনেছে।


    মাকরান উপকূলের ৩৫ বছর বয়সী জেলে চাকর বালুচ বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী। আমরা উপকূলের মানুষ। বছরের পর বছর সমুদ্রে যাই, জীবিকার জন্য সংগ্রাম করি এবং শুধু বেঁচে থাকতে চাই।’

    সিরিকের এক বালুচ বাসিন্দার প্রশ্ন আরও তীব্র- ‘আমি কার কাছে জবাব চাইব? এই যুদ্ধে যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে? নাকি যে শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে আমাদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে?’

  • অস্ত্রভান্ডারের খবর প্রচারকারীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বললেন ট্রাম্প

    অস্ত্রভান্ডারের খবর প্রচারকারীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বললেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যেসব ব্যক্তি ও গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলছে, তাদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেসব ব্যক্তি ও গণমাধ্যম অবিরাম প্রচার করে যাচ্ছে যে আমাদের অস্ত্র ফুরিয়ে আসছে…তারা মূলত রাষ্ট্রদ্রোহী।’

    ট্রাম্পের অভিযোগ, সমালোচকেরা তাঁর সাফল্য নয়; বরং যুদ্ধে তাঁর পরাজয় দেখতে চান। যদিও বারবারই তিনি বলে আসছেন, এ যুদ্ধে তাঁর দেশ সহজেই বিজয়ী হবে।

    অন্য এক পোস্টে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অফুরন্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত আছে। তিনি আরও বলেন, চলমান সামরিক অভিযান বা অন্য যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত মাঝারি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এখন এত বেশি পরিমাণে অস্ত্র তৈরি করছে, যা আগে দেখা যায়নি।

    ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং অস্ত্র মজুত করছি।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি না করে আপাতত নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষণ করছে। তবে শিগগিরই মিত্রদের কাছে দেশটি আবারও অস্ত্র বিক্রি শুরু করবে।

    এ সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার চেয়েও বেশি অস্ত্র বিনা মূল্যে ইউক্রেনকে দিয়েছে বাইডেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল, যার মূল্য ইউরোপের পরিশোধ করার কথা ছিল।’ তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। তাঁর প্রশাসন এ সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে কিছুটা দেরিতে হলেও ফেরত চাইবে বলে জানান তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং ইরান অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে যখন চারদিকে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এসব মন্তব্য করলেন। মার্কিন বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র নেই বলে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো বারবারই নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

  • এটা অলৌকিক ঘটনা, আমি খুব খুশি

    এটা অলৌকিক ঘটনা, আমি খুব খুশি

    হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের ৯ দিন পর ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চীন-নেপাল সীমান্তে গত ২৬ আগস্টের হিমবাহ ও পাহাড়ধসের পর এ উদ্ধারকে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করছেন উদ্ধারকারী ও স্বজনেরা।

    দুর্যোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩০১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়েছেন।

    উদ্ধার হওয়া শ্রমিক কবির মহারাজনের স্ত্রী হীরাশোভা বিবিসি নেপালিকে বলেছেন, ‘আমি ফেসবুকে ছবিগুলো দেখেছি। খুব খুশি হয়েছি। তাঁকে কাঠমান্ডুর সেনা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। আমি হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি।’

    ‘আমরা ১০ দিন ঠিকমতো খেতে বা পান করতে পারিনি। খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন আমরা সবাই খুশি। এমনকি আজ আমরা কাঁদছিও,’ এভাবেই বলেছেন কবিরের স্ত্রী হীরাশোভা।

    কবিরকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর ছাউনি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কবির মহারাজনের শ্যালিকা বলে পরিচয় দেওয়া লক্ষ্মী নাইনি।

    লক্ষ্মী নাইনি এএফপিকে বলেন, ‘এটা অলৌকিক ঘটনা! আমি খুব খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি বেঁচে আছেন। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

    জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত এক ব্যক্তিকে বের করে আনা হচ্ছে। রাসুয়া, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর। ছবিটি নেপাল সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা

    কবিরের আরেক স্বজন ৪৫ বছর বয়সী শ্যাম মহারাজন বলেন, ‘আমি কেমন অনুভব করছি, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ আমার নেই।’

    কবিরের ভাই আমির মহারাজন এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুব খুশি, আমার বুকটা যেন হালকা হয়ে গেছে।’

    ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ থাকা শত শত জলবিদ্যুৎকর্মীর মধ্যে ছিলেন কবির ও সঞ্জয় শাহ। আজ দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারের পর কবির মহারাজনকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হচ্ছে। নুয়োকোট, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

    কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, উদ্ধার দুজনের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। তাঁরা টানেলের ভেতর হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সময় সম্ভবত এসব আঘাত পেয়েছেন।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

    দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।’

    উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সেনাঘাঁটি, নুয়োকোট, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেছেন, উদ্ধার দুই ব্যক্তিই নেপালের নাগরিক। তাঁরা হলেন ৩০ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহারাজন।

    ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি স্থানেও উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্যোগে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সরকার শুরুতে ধারণা করেছিল, বিভিন্ন টানেলের ভেতরে শতাধিক শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন।

    ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ টানেলের ভেতরে আটকে থাকা এবং জীবিত থাকার আশঙ্কা করা শ্রমিকদের খুঁজতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ভারতে ছাপবে হারপার কলিন্স

    সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ভারতে ছাপবে হারপার কলিন্স

    কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ছাপবে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা হারপার কলিন্স। শুক্রবার এই প্রকাশনা সংস্থা এক বিবৃতিতে এই খবর জানিয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর ভারতে তা প্রকাশিত হবে।

    সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ ক্নপ্ফ। ভারতে তা প্রকাশ করার জন্য চুক্তি হয়েছিল পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস ইন্ডিয়ার সঙ্গে। কিন্তু পেঙ্গুইন পিছিয়ে আসে। বইটির কোনো কোনো অধ্যায়ের ‘তথ্য’ নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা আপত্তি জানায়। লেখককে ওই অংশগুলো নতুনভাবে সম্পাদনার অনুরোধ করে। কিন্তু সোনিয়া তাতে রাজি হননি।

    ফলে গত ২৮ আগস্ট পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস জানিয়ে দেয় তারা বইটি প্রকাশ করছে না। পেঙ্গুইনের ওই সিদ্ধান্তের পরই আসরে নামে হারপার কলিন্স। শুক্রবার প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে জানানো হয়, আগামী ১০ নভেম্বর ভারতে তারা সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।

    ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’কে ‘এ সময়ের অন্যতম সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, ‘এটি ভালোবাসা, আত্মপরিচয়, কর্তব্য ও একাত্মতাবোধের এক নাটকীয় ও গভীর ব্যক্তিগত আখ্যান, ভারতীয় প্রবাহকে খুব কাছ থেকে নিরীক্ষণ করা এক দলিল।’

    হারপার কলিন্সের প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আখ্যান শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে ১৯ বছরের ছাত্রী সোনিয়া মাইনো রাজীবের প্রেমে পড়েন, যিনি একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

    বরাবরের অল্পভাষী ও আত্মকেন্দ্রিক বলে পরিচিত সোনিয়া এই বইয়ে নিজের ছেলেবেলার কথা বলেছেন। ইতালির ভেনেতোর যুদ্ধপরবর্তী জীবনের কাহিনি শুনিয়েছেন। সেই জীবন থেকে কীভাবে তিনি ভারতে এলেন এবং পরিবারের নানান মৃত্যু কীভাবে তাঁর ও ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে, তা বর্ণনা করেছেন। ঘটনাপ্রবাহ কেমন করে তাঁর জীবন গড়ে তুলেছে, কীভাবে বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন, এই বইয়ে তা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন।

    খবরে প্রকাশ, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়া, আরএসএস ও পূর্ব লাদাখে চীনা আগ্রাসন নিয়ে সোনিয়ার অভিমত নিয়ে পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিল। সোনিয়াকে তারা ওই অংশগুলো সম্পাদনার প্রস্তাব দিয়েছিল।

    কিন্তু কংগ্রেস নেত্রী রাজি হননি। বই প্রকাশে পেঙ্গুইনের রাজি না হওয়ার সেটাই কারণ। পেঙ্গুইনও এক বিবৃতিতে মোটের ওপর তা স্বীকার করে নেয়। পরে আরও এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ওই সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব। বাইরের কোনো মহলের প্রভাবে নয়। এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চায়, তাদের পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।

    পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস অবশ্য এর আগে অন্য দুটি বইয়ের ক্ষেত্রেও এভাবে পিছিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবনের লেখা আত্মকথা ‘ফোর স্টার্স অব ডেস্টিনি’ নিয়ে। বইটি বিদেশে প্রকাশিত হলেও দেশে তারা প্রকাশ করেনি বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায়।

    কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ওই বইয়ের একাংশ উল্লেখ করে লোকসভায় বলেছিলেন, লাদাখে চীনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাবেক সেনাপ্রধানের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিশিষ্ট গ্রাফিক ঔপন্যাসিক জো সাকোর লেখা ‘দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট’ বইটি প্রকাশের দায়িত্ব থেকেও পিছিয়ে আসে পেঙ্গুইন। ওই বইটি লেখা হয়েছিল ২০১৩ সালের মুজফ্ফনগর দাঙ্গার ওপর।

  • নেপালে ধসে পড়া টানেলে আটকা কয়েক ডজন শ্রমিক

    নেপালে ধসে পড়া টানেলে আটকা কয়েক ডজন শ্রমিক

    নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকে পড়া কয়েক ডজন শ্রমিক এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বন্যার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দল।

    গত সপ্তাহে নেপাল-চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে ব্যাপক পানির ঢল নেমে আসে। এতে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে একের পর এক গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরে নির্মিত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৬৩৯ জন শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে রাসুওয়াগাধি ও আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০ জন নিখোঁজ। এই দুটি প্রকল্পেই শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে রাসুওয়া জেলায় অবস্থিত। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হওয়ায় প্রকল্পটিতে পৌঁছানো এখনো অত্যন্ত কঠিন। হেলিকপ্টার ছাড়া সেখানে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব।

    কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রাসুওয়াগাধির টানেলের ভেতরে এখনো বায়ু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেখানে আটকে পড়া শ্রমিকরা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় টিকে থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। নেপালি কর্মকর্তাদের একজন শাহী বলেন, টানেল দিয়ে হেঁটে প্রবেশ করা সম্ভব এমন একমাত্র প্রকল্প এটি। তিন দিন আগে সেনাবাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেও আটকে পড়া কক্ষটির সন্ধান পায়নি। নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল খুঁজে পেতেই উদ্ধারকারীদের প্রায় ছয় দিন সময় লেগেছে। ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষে টানেলের প্রবেশপথ ঢাকা পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, টানেলের ভেতরে একটি শুকনো জায়গা থাকার খবর পাওয়া গেছে। সেটি উদ্ধারের জন্য বর্তমানে টানেলে প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

    নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিতদের উদ্ধারের সম্ভাবনা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের লাশ উদ্ধারের কাজও অব্যাহত থাকবে। উদ্ধার অভিযানে নেপালের হাতে থাকা সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত হয়েছেন।

    ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, বন্যার পানির গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৭ কিলোমিটারের বেশি পথজুড়ে এই প্রবল স্রোত ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ভবনের ধ্বংসাবশেষ, পাথর ও বিপুল পরিমাণ পলি রয়েছে।

    বন্যার পানির সঙ্গে আসা বিশাল পাথর ও কাদায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেলের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও টানেলগুলো গভীর কাদায় চাপা পড়ে যায়। এখন এসব ভূগর্ভস্থ স্থাপনাই উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ২৭০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    স্বজনদের অপেক্ষা, ক্ষোভও বাড়ছে

    নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনেরা টানা আট দিন ধরে নেপালের বিদ্যুৎ দপ্তরে এসে খবরের অপেক্ষা করছেন। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন জীবানলাল অধিকারী। তার বোন লক্ষ্মী অধিকারী অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ স্বজনদের পর্যাপ্ত তথ্য দিচ্ছে না এবং উদ্ধার অভিযানও যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ভাইয়ের খোঁজে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। কিন্তু এখনো তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি, তাদের স্বজনেরা জীবিত আছেন কি না।

    নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতে বড় ধাক্কা

    পার্বত্য দেশ নেপাল গত কয়েক বছরে জলবিদ্যুৎ খাতে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। তবে এবারের বন্যায় দেশটির এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এতে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।

    বন্যার পর ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ব্যয় হতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

    তবে এসব বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধার। কর্তৃপক্ষের আশা, টানেলের ভেতরে থাকা বায়ু ও শুকনো জায়গার কারণে নিখোঁজদের কেউ কেউ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন।

  • অনলাইনে প্রতি পাঁচ শিশুর একজন যৌন হয়রানির শিকার, বছরে আক্রান্ত ২ কোটি

    অনলাইনে প্রতি পাঁচ শিশুর একজন যৌন হয়রানির শিকার, বছরে আক্রান্ত ২ কোটি

    বিশ্বের ২১টি দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াসহ ২১টি দেশের প্রায় ২১ হাজার শিশুর ওপর চালানো জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

    ইউনিসেফ জানিয়েছে, এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি পাঁচ শিশুর একজন গত এক বছরে অনলাইনে যৌন হয়রানি বা শোষণের শিকার হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ শিশু অনিচ্ছাকৃত যৌন কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। ৯০ লাখ শিশুকে যৌন কথোপকথন বা ছবি পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে। আর ৪০ লাখ শিশুর ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে।

    মোট নিপীড়নের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটেছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আরও ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে। এ ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমেও অন্তত ১১ লাখ শিশু হয়রানির শিকার হয়েছে।

    ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা শিশুদের মানসিক ও আবেগিক সুস্থতার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। কিন্তু সহায়তার অভাব ও সামাজিক ভয়ের কারণে বেশিরভাগ শিশুই নীরবে তা সহ্য করে।

    জরিপে দেখা গেছে, অনলাইন নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা ও মানসিক দুশ্চিন্তার প্রবণতা অন্য শিশুদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। অথচ ভুক্তভোগীদের ১ শতাংশেরও কম ঘটনা পুলিশ বা চাইল্ড হেল্পলাইনে জানানো হয়েছে।

    শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার এবং এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

  • নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

    খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতি। সেই মদিনার মাটিতেই যুগের পর যুগ ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে খেজুর চাষ। শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মরূদ্যান ও খেজুরবাগানে ফলছে নানা জাতের খেজুর।

    আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই নগরী কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ।

    মদিনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে অঞ্চলটিতে কৃষি খাতের বাণিজ্যিক নিবন্ধন ছিল ৩৭৫টি। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ৫৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মদিনা সৌদি আরবের তৃতীয় বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেখানে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন খেজুর উৎপাদন হয়, যা দেশটির মোট খেজুর উৎপাদনের ১৮ শতাংশ।

    মদিনায় ২৬ হাজারের বেশি খেজুরের খামার রয়েছে। এসব খামারে খেজুরগাছের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। বিভিন্ন জাতের খেজুর উৎপাদন করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

    প্রতি বছর মদিনা অঞ্চল থেকে ৪ কোটি ১৫ লাখ কেজির বেশি খেজুর ৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। সৌদি আরবের মোট খেজুর রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মদিনায় ৩৯টি খেজুর কারখানা রয়েছে। দেশের ১৬১টি অঞ্চলের মধ্যে খেজুর কারখানার সংখ্যায় মদিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

    এসব কারখানায় বছরে প্রায় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন খেজুরজাত পণ্য ও উপজাত উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টন খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি মদিনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের রপ্তানি খাতও শক্তিশালী হচ্ছে।

    সূত্র: আরব নিউজ

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ২০২৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এক ম্যাচের সেই সিরিজটি হবে লর্ডসে। ম্যাচ শুরুর ৮ মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এই টেস্টের টিকিট বিক্রি!

    আগামী বছরের ২৮ মে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট। এই ম্যাচের এখনো বাকি প্রায় ৮ মাস। তবে এরই মধ্যে টেস্টের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

    লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই টিকিট বিক্রির খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘লর্ডসে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সাধারণ দর্শক ব্যালট এখন উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে সমর্থকরা ‘হোম অব ক্রিকেটে’ হতে যাওয়া গ্রীষ্মকালীন ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

    লর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সাধারণ দর্শকের জন্য বরাদ্দ ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই বছরের নভেম্বরের শুরুতে সফল আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের তালিকাভুক্তদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। প্রথম ধাপের সফল আবেদনকারীদের জন্য টিকিট কেনার নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। ১০ ডিসেম্বর সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু করবে লর্ডস।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মিরপুরে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০১০ সালে। ওই সফরেও লর্ডসে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ঐতিহাসিক এক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

  • নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

    নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

    নেপাল ও তিব্বতে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৩ জনে। আজ বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জনেরও বেশি। অন্যদিকে তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    আল-জাজিরা প্রতিবেদনে জানা যায়, চীন সীমান্তের কাছে কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

    নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া জেলায় একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা বিশাল কাদার স্তূপ সরাতে দেখা যায় উদ্ধারকারীদের। সেখানে উপস্থিত নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কেসি বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করছি, ভেতরে কেউ জীবিত থাকতে পারেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের জায়গাটি বড়। আমাদের ধারণা, পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে যায়নি।’

    নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা প্রতিদিন সকালে তাঁদের প্রিয়জনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে জড়ো হচ্ছেন। অনেকের জন্য এই অপেক্ষা হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

    নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে আসি বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায়। কিন্তু প্রতিদিন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, আমার আশাও ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাবা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান অংশ।’

    এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের অবস্থা এমন যে সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। উল্কি ও গয়নার মতো কিছু বিষয় পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা যথেষ্ট নয়।

    গতকাল বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।

    ক্ষতিগ্রস্ত অন্য এলাকাগুলোতে দুর্গম গ্রামে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে জিপলাইন ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও কাদার স্রোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।

    এনডিআরআরএমএর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। উপ্রেতি আরও বলেন, একই স্থানে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কোনো অর্থ নেই। কারণ, এতে মানুষ আবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরের জন্য নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত নুয়াকোট ও রাসুয়ার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

    এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি–সংক্রান্ত একটি চিঠি’ পাঠিয়েছে।

  • নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বখ্যাত নেত্রী গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর নেই

    নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বখ্যাত নেত্রী গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর নেই

    যুক্তরাষ্ট্রের নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, সাংবাদিক ও নারীবাদী কর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। স্টেইনেমের ফাউন্ডেশনের বরাতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, নিউইয়র্ক সিটির নিজ বাড়িতে স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নারীর সমঅধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সোচ্চার ছিলেন স্টেইনেম। লেখক ও ম্যাগাজিন সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই মার্কিন নারী ১৯৭০-এর দশকে নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘উইমেন’স অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

    ১৯৭২ সালে স্টেইনেম সহপ্রতিষ্ঠা করেন ‘Ms. ’ ম্যাগাজিন। সে সময়ের প্রচলিত নারীবিষয়ক প্রকাশনার চেয়ে এটি ছিল ব্যতিক্রমী। গৃহস্থালি ও সৌন্দর্যের মতো প্রচলিত বিষয় ছাড়িয়ে নারীর অধিকার, বৈষম্য ও সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ায় ম্যাগাজিনটি দ্রুত আলোচনায় আসে।

    নারীর প্রজনন অধিকার, সমকামীদের বিয়ে বৈধ করা, নারীর সমান মজুরি ও সম অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন তিনি।

    ২২ বছর বয়সে লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করিয়েছিলেন স্টেইনেম। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকারী ১৯৭৩ সালের ‘রো বনাম ওয়েড’ রায়ের প্রতি সমর্থন জানান। জীবনের শেষদিকে সেই ঐতিহাসিক রায় বাতিল হওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

    ১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলিডোয় জন্মগ্রহণ করেন স্টেইনেম। শৈশব ছিল কঠিন। ১২ বছর বয়সের আগে তিনি স্কুলে নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে গবেষণা বৃত্তি নিয়ে ভারতে যান। সেখানে দুই বছর বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনে সংগঠিত হতে সহায়তা করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর তৃণমূলভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনে আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

    ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে ফিরে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্লেবয় ক্লাবের কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। পরে New York Magazine-এর কলামিস্ট হন।

    স্টেইনেমের ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সমতার জন্য কাজ করে গেছেন। শেষ বছরগুলোতে লেখালেখি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজের বাড়িতে ‘টকিং সার্কেল’-এর আয়োজন করতেন তিনি।

    ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরা হয়—অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা এবং মানুষকে নিজের অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল স্টেইনেমের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর কাজ ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

  • আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    একটা সময় আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গল্পটা ছিল শুধুই আক্ষেপের। বারবার ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে না পারার আক্ষেপই ছিল বেশি। সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ পূরণ করেছেন নিজের এবং আর্জেন্টাইনদের সব স্বপ্ন।

    সব ট্রফি জেতা মেসি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলেছেন। এখন মেসিকে তাঁর মতো করে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়ার পক্ষে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার হোয়ান রোমান রিকেলমে। সে কারণে মেসির এই সাবেক জাতীয় দল সতীর্থ চান, মেসি আর্জেন্টিনায় না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকুক।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসা করে রিকেলমে বলেছেন, আর্জেন্টাইনদের উচিত এখন তাকে আরও বেশি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানো।

    রিকেলমের ভাষায়, ‘আমাদের উচিত মেসিকে আরও বেশি ধন্যবাদ জানানো। ও যা করেছে, এরপর আমরা মেসির কাছে আর কী চাইতে পারি? মেসি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে, আমাদের স্বপ্নও পূরণ করেছে। মেসি সর্বকালের সেরা কি না জানি না, তবে সেরাদের একজন। কোনো ফুটবলার এত বছর ধরে সেরা পর্যায়ে থাকতে পারেনি। এটা অবিশ্বাস্য।’

    মেসির দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রিকেলমে। শুরুতে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য না পেলেও মেসি কীভাবে লড়াই করে গেছেন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টাইনরা মেসিকে যে ভালোবাসা দিচ্ছে, সবটুকুই ওর প্রাপ্য। কারণ, মেসি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে। অনেক কষ্ট করেছে। শুরুতে জিততে পারেনি, অনেক সংগ্রাম করেছে। শেষ পর্যন্ত মেসি সবকিছু অর্জন করেছেন। ঈশ্বর মেসির প্রতি ন্যায়বিচার করেছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন আমাদের উচিত মেসিকে ভালোবাসা। আর্জেন্টিনার ফুটবল ও পুরো ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছে, তার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। পুরো বিশ্ব মেসিকে ভালোবাসে আর ও সেই ভালোবাসার যোগ্য।’

    মেসির সঙ্গে রিকেলমের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন সোনার পদক। সেই সম্পর্ক এখনো অটুট। ২০২৩ সালে রিকেলমের বিদায়ী ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি মেসির আগে পরেছেন রিকেলমে। এখন বোকা জুনিয়র্সে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এ মিডফিল্ডার।

    লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে ইনস্টাগ্রাম

    মেসির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিকেলমে বলেন, ‘আমি সব সময় মেসির সঙ্গে কথা বলি। আমাদের সম্পর্কটা দারুণ। মেসি আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও ওকে খুব ভালোবাসি। আমি ওর সঙ্গে আরও অনেক বেশি খেলতে চেয়েছিলাম। তবে যতটুকু খেলতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’

    মেসির মতো খেলোয়াড় আবার আসবেন কি না, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিকেলমে। তবে আর্জেন্টাইনরা তাঁর মতো কাউকে পেয়েছিল বলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন রিকেলমে।

    শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমরা আর কখনো মেসির মতো খেলোয়াড় পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করব কি না, জানি না। ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, এমন কেউ আর আসবে না। এরপর এমন একজন এল, যিনি তাঁর মতোই ভালো, কিংবা আরও ভালো। আমরা আর্জেন্টাইনরা খুবই ভাগ্যবান।’

    মেসিকে এখন নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে দিতে চান রিকেলমে। আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি।

    এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে আর্জেন্টিনায় নিজের শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির ফেরার ইচ্ছা আছে।

    লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মায়ামির হয়ে এএফপি

    কিন্তু রিকেলমে মনে করেন, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার চেয়ে মেসি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো, ‘এখন মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া উচিত। আমরা আর্জেন্টাইনরা মেসিকে সব সময় অনেক ভালোবাসা ও স্নেহ দেব। আমাদের উচিত মেসিকে একা ছেড়ে দেওয়া। যত দিন মেসি খেলতে চায়, তাকে খেলতে দেওয়া উচিত। ওর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো। আর আমরা আর্জেন্টিনার সব ফুটবলপ্রেমী মেসিকে সমর্থন করে যাব।’

  • ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

    ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

    সরকারি হস্তক্ষেপের বিরূপ প্রভাব পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) ওপর। নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজকস্বত্ব হারিয়েছে লঙ্কানরা। ভেন্যু বদলে আগামী বছরের শুরুতে এই টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে ভারতে। আয়োজকস্বত্ব হারানোয় শ্রীলঙ্কার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

    বর্তমানে এসএলসি একটি সরকার-নিযুক্ত রূপান্তরকরণ কমিটির মাধ্যমে চলছে। শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিরর সূত্রের মাধ্যমে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসএলসি কমপক্ষে ২ কোটি ডলার রাজস্ব হারাতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি সমাধান এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বোর্ড নির্বাচন আয়োজন না করা হলে শ্রীলঙ্কার আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা কয়েক মাস আগেই আইসিসি এসএলসিকে দিয়েছিল বলে লঙ্কান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

    তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।

    আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। শ্রীলঙ্কা আয়োজকস্বত্ব হারালেও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা।

    ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।

  • বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান

    বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান

    খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। এইতো ২৯ জুন ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল জাপান। চার মাস পর সেই প্রতিশোধের সুযোগ পাচ্ছে জাপান।

    সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, জাপান, প্যারাগুয়ে—এই চার দল নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে নভেম্বরে।‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’ নামে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক সিঙ্গাপুর। ১৪ নভেম্বর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-জাপান। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ব্রাজিল মাঝে দুই দিন বিরতি পারবে। ১৭ নভেম্বর স্বাগতিক সিঙ্গাপুর খেলবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।

    ১৭ নভেম্বর মূলত শেষ হবে ‘মিজুহো ব্লু চ্যালেঞ্জ’ চার জাতির টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্ট অবশ্য শুরু হচ্ছে ১৩ নভেম্বর সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে। ২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে জাপান। আগামী বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ।

    সূচি ঘোষণার পর জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, ‘শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, সেখান থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাই। আগামী বছরের এশিয়ান কাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে এই সুযোগকে আমরা অর্থবহভাবে কাজে লাগাব।’

    ব্রাজিলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে জাপান অনেক পিছিয়ে। এখন পর্যন্ত দুই দল ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। জাপান জিতেছে এক ম্যাচ। একমাত্র জয় এসেছে গত বছরের অক্টোবরে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছিল জাপান। অপর ১২ ম্যাচে জিতেছে ব্রাজিল। দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র।

    ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতলেও অবস্থা ভালো নয়। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। সবশেষ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিল বাদ পড়েছে শেষ ষোলো থেকেই।

  • মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ: আইন কী বলে?

    মার্কিন মুদ্রায় ট্রাম্পের মুখ: আইন কী বলে?

    যুক্তরাষ্ট্রের একটি মুদ্রায় এবার স্থান পেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি—গত এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ দেশটির মুদ্রায় স্থান পেল।

    গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল (ইউএস মিন্ট) ট্রাম্পের প্রতিকৃতি–সংবলিত ১ ডলারের মুদ্রা উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুদ্রাটিতে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি ‘লিবার্টি’ এবং ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ লেখা রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল জানিয়েছে, বিশেষ সংস্করণের এই মুদ্রায় ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে থাকা একটি দেশের চেতনা, গর্ব ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    টাঁকশালের ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য মুদ্রাগুলোর দাম রাখা হয়েছিল, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের জন্য ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের জন্য ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।

    বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাঁকশালের ওয়েবসাইটে সব মুদ্রা বিক্রি হয়ে যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল, ট্রেজারি বিভাগ এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল বলেছে, ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক উদ্‌যাপন’ উপলক্ষে মুদ্রাটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ নকশায় তৈরি করা মুদ্রাটি আধুনিক কালে মুদ্রা সংগ্রহে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে জায়গা করে নেবে।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের দোকানে থাকা ভেন্ডিং মেশিনেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। মুদ্রাটির রং সোনালি, তবে এটি সোনার তৈরি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রাগুলোতে ৮৮ শতাংশের বেশি তামা রয়েছে। বাকি অংশে রয়েছে দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল।

    গত মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, তাঁর দপ্তর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি–সংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

    তবে মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি–সংবলিত মার্কিন মুদ্রা ছাপা নিষিদ্ধ। ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস সদস্যরা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ব্যতিক্রম রাখার জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বর্তমানে কংগ্রেসে আটকে আছে।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালের দোকানে থাকা ভেন্ডিং মেশিনেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল।

    সে সময় বেসেন্ট উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি ৫০ সেন্টের মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।

    ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে।

    এই আইনে মুদ্রার পেছনের দিক বা রিভার্স-এ জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে মুদ্রার সামনের দিক বা অবভার্স এর ক্ষেত্রে আইনে স্পষ্টভাবে এমন নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সামনের দিকে।

    এ ছাড়া ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাগজের নোটে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিতভাবে এই বিধান মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

  • পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৫ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৫ সন্ত্রাসী নিহত

    অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৫ সন্ত্রাসীকে হত্যা করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়।

    আইএসপিআর জানায়, ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে ফিতনা আল-খারিজিদের একটি দল পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টার অভিযানে ১৫ জন নিহত হয়। পরে তল্লাশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার বিপরীতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে এ অভিযান চালানো হয়।

    পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস ঠেকাতে আফগান তালেবান সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও তাদের ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে আইএসপিআর।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠকে বসছেন বার্নহাম ও ম্যাক্রোঁ

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠকে বসছেন বার্নহাম ও ম্যাক্রোঁ

    লন্ডনে প্রদর্শনীর জন্য ধার দেওয়া ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বেয়ু ট্যাপেস্ট্রি দেখে মুগ্ধ হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন। বৈঠকে অভিবাসী বহনকারী নৌকা ও ইউক্রেন যুদ্ধ গুরুত্ব পাবে।

    প্রায় ৭০ মিটার (২৩০ ফুট) দীর্ঘ এবং ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি) উঁচু একটি সূচিকর্ম করা কাপড় বেয়ু ট্যাপেস্ট্রি। এতে ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ডে নরম্যানদের বিজয়ের আগে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ট্যাপেস্ট্রির প্রদর্শনীর উদ্বোধনী পূর্বপ্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দুই নেতা সাক্ষাৎ করেন। রাজা তৃতীয় চার্লসও এতে উপস্থিত ছিলেন।

    উভয় পক্ষই এই অনুষ্ঠানকে দুই দেশের ইতিবাচক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি আশা করেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ‘হাজার বছরের পুরোনো এই সূচিকর্মের সুতার মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া দুই দেশের শতাব্দীজুড়ে অভিন্ন ইতিহাসের কাহিনি’ স্মরণ করবে।

    প্রায় এক দশক ধরে ট্যাপেস্ট্রিটি যুক্তরাজ্যে ধার দেওয়ার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ম্যাক্রোঁ। ব্রেক্সিটের বছরগুলোতে তৈরি হওয়া তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার পথে এই প্রদর্শনীকে আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    একাদশ শতাব্দীর এই শিল্পকর্মে উইলিয়াম দ্য কনকারারের ইংল্যান্ড জয় দেখানো হয়েছে। জুলাই মাসে এটি লন্ডনে পৌঁছায়। প্রদর্শনীটির সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

    বার্নহাম তার বক্তব্যে এটিকে ‘আশাবাদ ও প্রত্যাশায় পূর্ণ নতুন ভবিষ্যৎ’ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    বার্নহামের আমলে ডাউনিং স্ট্রিটে আমন্ত্রিত প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতা হতে যাচ্ছেন মাখোঁ। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জুলাইয়ে সেখানে সফর করেছেন।

    মাখোঁর জন্য এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। তার মেয়াদ ২০২৭ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা।

    ‘আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই’

    বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

    বুধবার বার্নহাম ফরাসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিবাসন নিয়ে আমরা ফরাসি সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। একসঙ্গে আরো অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।’

    ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, নেতারা ‘মেগা ডিঙ্গি’ বা আরও বড় ও শক্তিশালী নৌকার ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করবেন।

    এ ধরনের নৌকা নিয়ে অভিবাসীদের যাত্রা ঠেকাতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫ জন ফরাসি কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত একটি ‘সার্জ টিম’ সৈকতে মোতায়েন করা হবে বলে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে।

    সরকার সোমবার জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসী বহনকারী ছোট নৌকার সংখ্যা ২০১৯ সালের পর সবচেয়ে কম ছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে করা প্রয়োগমূলক চুক্তির সাফল্য হিসেবে সরকার এটিকে তুলে ধরেছে।

    তবে বৈঠকের আগে ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বার্নহাম বলেন, ‘আমাদের আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। চোরাচালানকারী চক্রগুলো নিয়মিত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে দ্রুত এর জবাব দিতে হবে।’

    রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি লন্ডনের সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন বার্নহাম। তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরে কিয়েভ যান।

    ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ বার্নহামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইউক্রেনের জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবী জোটের যৌথ উদ্যোগও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।’

    তিনি ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্ক্যালপের বিভিন্ন উপাদানসংক্রান্ত তথ্য যুক্তরাজ্যের সরবরাহের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ফ্রান্সে তৈরি স্ক্যালপ হলো যুক্তরাজ্যের স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রের ফরাসি সংস্করণ।

    ম্যাক্রোঁ ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর জোটে তারা নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করেছেন।

    বার্নহাম বুধবার ফরাসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্রিটেনে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ইউক্রেনের বিষয়ে আমাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

    ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    পারস্পরিক সম্মান

    যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয়—এমন ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠায় ম্যাক্রোঁ এখনো আগ্রহী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পরও এ ক্ষেত্রে ব্রিটেনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মতো দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেন, প্যারিস ও লন্ডন ‘সব বিষয়ে সবসময় একমত হয় না’। তবে ‘আমরা পরস্পরকে সম্মান করি এবং সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক পুনর্গঠনের অগ্রগতিও রয়েছে।’

    যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী বার্নহাম।

    তিনি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার পূর্বসূরি যা অর্জন করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’

    বার্নহাম বলেন, ‘ব্রেক্সিটের ১০ বছর পর এখানকার মানুষ দিকনির্দেশনার অভাবে বিরক্ত। তারা বুঝতে পারছেন, আমাদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।’

    তবে কিংস কলেজ লন্ডনের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ মেনন সতর্ক করে বলেছেন, বৈঠকে ‘সারবস্তুর চেয়ে কৌশল বেশি গুরুত্ব পাওয়ার’ ঝুঁকি রয়েছে।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আপনারা যত খুশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আবহ তৈরি করতে পারেন। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের অগ্রগতি প্রয়োজন। আর আমার ধারণা, সেখানে কোনো অগ্রগতি হবে না।’

  • বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

    বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

    আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার দুপুরে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতেই ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর যুক্তিসংগত সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজন করতে চায় সাদপন্থীরা। এ বিষয়ে অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সরকার সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অতীতে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সাদপন্থীদের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীরা প্রস্তাবিত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করতে চান। অন্যদিকে সাদপন্থীরা রমজানের আগে, ওই দুই পর্বের পর মধ্যবর্তী কোনো সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া নভেম্বরের শেষ দিকে, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শুরুর আগেও তারা ইজতেমা আয়োজন করতে চান।

    এর আগে সাদপন্থীদের অন্য কোনো স্থানে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছিল। তবে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অন্য কোথাও ইজতেমা করতে সম্মত হননি। সরকার দুই পক্ষকেই একসঙ্গে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয় হিসেবে মাওলানা সাদের আগমনের বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। ভিসানীতি অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ ও আয়োজন নিয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশাল অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসেন। বিদেশ থেকেও বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।

    ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানে মুসল্লিদের থাকা, খাবার, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

  • যুক্তরাজ্যে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান বর্জনের আহ্বান প্রবাসী সংগঠনগুলোর

    যুক্তরাজ্যে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান বর্জনের আহ্বান প্রবাসী সংগঠনগুলোর

    ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতের যুক্তরাজ্য সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। দেশটির ২০টির বেশি ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের সংগঠন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক ব্রিটিশ প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় গ্রুপকে তার অনুষ্ঠান বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বহুত্ববাদী ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

    ধর্মীয় নিপীড়নে আরএসএসের ভূমিকার সমালোচনা করেছে তারা। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন অফিসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত ডেভিড স্মিথ এমপি এবং সংশ্লিষ্ট অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান জিম শ্যাননকে আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিন্দা এবং সংগঠনটির সদস্য ও সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

    যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ২০টিরও বেশি সংগঠন অভিযোগ করেছে, ভগবতের সফর যুক্তরাজ্যে আরএসএসের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের একটি প্রচারণার অংশ। সংগঠনগুলোর দাবি, তার সফর আরএসএস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করতে পারে এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, সামাজিক মেরুকরণ ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ বাড়াতে পারে।

    লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকেও ভাগবতের অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেটার লন্ডন অথরিটির নিয়ন্ত্রিত কোনো ভেন্যু ব্যবহার না করার এবং লন্ডনে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা মোকাবিলায় মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    এদিকে লেবার এমপি নাদিয়া হুইটমোর মোহন ভগবতের সফর নিয়ে সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পর্কে সংসদে লিখিত প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাজ্যের ‘আনঅ্যাকসেপ্টেবল বিহেভিয়ার’ নীতির আওতায় বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি জনস্বার্থ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর কি না, সরকার এ বিষয়ে মূল্যায়ন করেছে কি না—তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

    ২ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভাগবতের যুক্তরাজ্য সফরের কথা রয়েছে, যদিও তার যুক্তরাজ্য সফর সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এর আগে তার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরও বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে পড়ে।

  • আফগানিস্তানে ফিরেছেন রেকর্ড ৬০ লাখ শরণার্থী: জাতিসংঘ

    আফগানিস্তানে ফিরেছেন রেকর্ড ৬০ লাখ শরণার্থী: জাতিসংঘ

    গত তিন বছরেরও কম সময়ে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

    বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ‘সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায়নি।’ তবে একই সঙ্গে সব ধরনের প্রত্যাবর্তন যেন স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

    ইউএনএইচসিআর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না দিলেও, ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানিস্তানে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুনে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদ একটি পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করার পর থেকে ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক তাদের দেশে ফিরে এসেছেন।

    ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকে প্রায় ২১ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরেছেন।

    ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এবং পরবর্তী কয়েক দশকের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময়ে লাখ লাখ আফগান পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    সর্বশেষ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখনো ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নথিভুক্ত আফগান শরণার্থী অবস্থান করছেন। এর বাইরে ১০ লাখের বেশি অনিবন্ধিত আফগান নাগরিক দেশটিতে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সংঘাতের মধ্যেও ১১ দিনে তেল থেকে ইরানের আয় ১০০ কোটি ডলার

    সংঘাতের মধ্যেও ১১ দিনে তেল থেকে ইরানের আয় ১০০ কোটি ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই ইরান গত ১১ দিনে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি তেল বিক্রির রাজস্ব প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স। ২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া এই ১১ দিনের সময়ে এসব অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের প্রতিবেদক পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, তেল বিক্রি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে যোগ হওয়ায় দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়বে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইরানের তেল বিক্রি থেকে অর্জিত রাজস্ব ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত মোট তেল আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

    ইরানের ২০২৬-২৭ অর্থবছর ২১ মার্চ ২০২৬ থেকে ২০ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

  • ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি ইসরাইলের

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি ইসরাইলের

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, ইরান যদি ইসরাইলকে আক্রমণ করে, তবে তার দেশ ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। খবর আলজাজিরার।

    বৃহস্পতিবার এক ভাষণে কাটজ বলেন, ইসরাইলের ওপর ইরানের হামলা হলে, ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ইসরাইল যেকোনো বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইরানের সমস্ত জাতীয় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো – যার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে – অচল করে দেব এবং ইরানকে প্রস্তর যুগ ও অন্ধকারের গভীরে ফিরিয়ে দেব।’

    ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ বিমান যুদ্ধ শুরু করেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ে জড়িত ছিল না ইসরাইল।

    কাটজের এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর আগের দিনে বিশ্ব শেয়ারে বাজারে বড় ধরনে পতন লক্ষ্য করা গেছে।

  • মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি না রোনালদো? এ নিয়ে তর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়। নিজে অবশ্য কখনোই নিজেকে সর্বকালের সেরা বলেননি মেসি। তবে অবসরের ঠিক পরপরই নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মেসিকেই বলা হয়েছে ‘সর্বকালের সেরা’।

    গত ৩১ আগস্ট আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছেন মেসি। মেসির ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে গতকাল। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘২০ বছরের বেশি সময়। ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ ও অগণিত স্মৃতি। আমার পথচলার প্রতিটি ধাপে পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

    ইনস্টাগ্রামের এই ভিডিও পোস্টে অবশ্য ট্যাগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিয়ার কোম্পানি মাইকেলব আল্ট্রাকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির সব অর্জন দেখানো হয়েছে এক রেস্তোরাঁর রসিদে। সেই রসিদের শেষ লাইনে সর্বকালের সেরা নিয়ে বিতর্কের অবসানও টানা হয়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, রসিদে একের পর এক লাইনে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সব অর্জন। তবে এটি কিন্তু একটি নতুন ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের অংশ।

    রসিদে উঠে এসেছে মেসির প্রভাবের কথাও। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলে তিনি যে কোটি কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছেন, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কতটা যন্ত্রণা দিয়েছেন, সেটাও বাদ যায়নি। আর সবশেষে লেখা হয়েছে—‘গোট ডিবেট সেটেলড।’

  • প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।

    সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।

    সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

    প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
    ১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।

    এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

    চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
    একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

    চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
    বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।

    এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

    নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

    মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
    ২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।

    পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

    বার্তায় তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে তাকে শুভকামনা জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার শপথ গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশায় রয়েছে বলে জানানো হয়।

  • চামড়া শিল্পে বড় সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের

    চামড়া শিল্পে বড় সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের

    দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক শীর্ষক নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শিল্পটি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও যারা বর্তমানে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য খাতে জায়গা তৈরি হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (LWG) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে।

    তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগ ও উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

    চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) নিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্বমানের CETP নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান CETP সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে ১৪-১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে।

    বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় CETP ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে।

    এছাড়া ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভার ট্যানারি শিল্প এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

    চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

    তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, বিনিয়োগ সুবিধা, ইটিপি স্থাপন ও বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে আবারও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে। এছাড়া আলোচনায় আরও অংশ নেন ফ্ল্যাক্সা (FLAXA)-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

  • কোটচাঁদপুরে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ নারী আটক

    কোটচাঁদপুরে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ নারী আটক

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ আসমা খাতুন (৩২) নামে এক নারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দুধসরা ঝোলপাড়া মোড় এলাকায় একটি ভাঙারি দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
    আটক আসমা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার শ্যামকুড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আফসার হোসেনের স্ত্রী এবং মো. ইউনুচ আলীর মেয়ে।
    ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুধসরা ঝোলপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসমা খাতুনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৪৩৭৪ টাকা

    বিশ্ববাজারে দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমেছে। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমেছে। আজ সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

    দাম কমার পর আজ থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।

    আজ মূল্যবৃদ্ধির আগে স্বর্ণের দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।

    এর আগে ৩১ আগস্ট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমানো হয়। দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে।

  • রাশিয়ার সহায়তায় শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

    রাশিয়ার সহায়তায় শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

    ইরানকে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ‘সুপারসনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করছে রাশিয়া। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইনান্সিয়াল টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, উচ্চগতির এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় র‍্যামজেট ইঞ্জিন বানাতে রুশ প্রকৌশলীরা একাধিকবার ইরানে গিয়েছেন। প্রযুক্তিটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে তেহরান খুব সহজেই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীতে হামলা চালাতে পারবে।

    রাশিয়ার গোপন নথিপত্র ও সামরিক চুক্তি বিশ্লেষণ করে তৈরি এই রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বড় ঘটনা।

    ‘C430L’ নামের এই প্রজেক্টটি ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্তও চালু ছিল। এমনকি ইরান যুদ্ধের মুখে পড়ার পরও এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকেনি।

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মারাত্মক সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি ইরানের হাতে তুলে দিতে ক্রেমলিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র সংস্থা বা তাদের সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

    তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ও ইরানের বন্ধুত্ব অনেক গাঢ় হয়েছে। আগে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন দিত, আর এখন রাশিয়া ইরানকে প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

  • মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেছেন, ‘তাই বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না।’

    আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। তিনি এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মক্কা চুক্তি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কথা বললে, তারা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের খুব ভালো বন্ধু। আর সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই মক্কা চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান কোনো আরব দেশের ভূখণ্ডকে নিশানা করেনি বলে জানান রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, ‘ আপনারা জানেন, ইরান এবং আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই সব আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?

    জালিল রাহিমি, ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত

    এ প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অতীতের বছরগুলোতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সব সময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলত, ‘আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।’ যুক্তরাষ্ট্র এই একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল—যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

    জালিল রাহিমি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো আমাদের হাতেই আছে। আর গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বা সমুদ্রপথ খোলার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, এই মক্কা চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশমাত্র। এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না এবং এটি নিয়ে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই।’

    ইরান কি এই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।’

    আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু তখন আরব দেশগুলো এই প্রস্তাব সমর্থন করেনি, কারণ, তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।’

    ‘এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেগুলো থামাতে পেরেছে?,’ বলেন তিনি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৪ সদস্য নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৪ সদস্য নিহত

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জনসংযোগ দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কেরমানশাহ প্রদেশে আইআরজিসির চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

    গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কেরমানশাহর উপ-গভর্নর বলেছিলেন, কেরমানশাহ প্রদেশের কোনো স্থানই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

    ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দিয়ার শহরে সাইয়্যেদ আল-শোহাদা কোরের উপ-কমান্ডার আজ বলেছেন যে, লাভান দ্বীপে হামলায় ‘তিনজন বাসিজ সদস্য’ নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।

  • ভারতে ‘তেলাপোকাদের’ বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ

    ভারতে ‘তেলাপোকাদের’ বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ

    তেলাপোকাদের’ দাবি আবার মেনে নিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখী পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এবং তারপর ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যত এফআইআর দায়ের হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট গতকাল মঙ্গলবার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সব খারিজ করে দিয়েছেন।

    কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) খুশি করেছে। ফলে তারাও ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ মিছিল করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

    এর ফলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সরকার এক বড়সড় বিড়ম্বনা এড়াতে পারল। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।

    নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময় সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তাতে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি ছিল অন্যতম। জেন-জি প্রজন্মের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সিজেপি নেতাদের অন্য দুটি দাবির একটি ছিল আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের করা এফআইআর প্রত্যাহার।

    অন্যটি ছিল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর দেশজুড়ে যেসব পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন, তাঁদের পরিবারকে এককালীন অর্থ সাহায্য করা। এই দুই দাবি মানতে টালবাহানা করায় সিজেপি নেতৃত্ব ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট থেকে মিছিল করে পুলিশ সদর দপ্তরে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    বিক্ষোভ মিছিলে জেন-জি অটল থাকায় এবং তাদের বিরত করতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপে অস্বীকার করায় কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপে বাধ্য হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    সিজেপির বিক্ষোভ সমাবেশ রুখতে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাঁদের আরজি ছিল, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে এ ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ দেশের ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর। অতএব তা বন্ধে সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করুন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আরজি খারিজ করে দেন।

    এর পরেই গতকাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর এজলাসে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেন সব এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হয়।

    একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল এ কথাও বলেন, যেসব পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দরুন আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সে জন্য সরকার ৯০ দিন সময় চেয়েছে।

    সিজেপি নেতাদের দাবি ছিল, আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবার পিছু ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। সিজেপির সঙ্গে আলোচনার সময় দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সেই দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছিলেন বলে পড়ুয়াদের দাবি।

    কেন্দ্রীয় সরকারের আরজি মেনে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরেই সিজেপি নেতারা তাঁদের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যাহার করে নেন। সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস এক বিবৃতিতে সে কথা বলেন।

    কেন্দ্রীয় সরকারের আরজি মেনে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ সিজেপি নেতৃত্ব নিজেদের জয় বলে মেনে নিচ্ছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, মহারাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০-২৫ জুলাইয়ের আন্দোলনের জন্য দায়ের করা এফআইআর বাতিল তো হলোই, ওই অপরাধে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নতুর করেও কোনো এফআইআর দায়ের করা যাবে না। দায়ের করা সব মামলা খারিজ বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে ১৩০টিরও বেশি এফআইআর গতকাল খারিজ হয়ে গেল।

    সিজেপি নেতাদের মতো দিল্লি পুলিশও অবশ্য মনে করছে, এই সিদ্ধান্তে তারাও জয়ী। কারণ, তারা তাদের মনোভাবে অটল থাকতে পেরেছে। যন্তর মন্তরে ছাত্রসমাজের আন্দোলন ও ২০ জুলাই সংসদমুখী অভিযানকে কেন্দ্র করে ঘটা হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দিল্লি পুলিশ মোট ২ হাজার ৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের অভিযোগ আছে। সেই সব অভিযোগ গুরুতর।

    দিল্লি পুলিশ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন’ করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে। এই ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে দিল্লি পুলিশ রাজি হচ্ছিল না। তাদের দাবি, চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা ধরনের গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অতীত অপরাধের অভিযোগে নতুন করে মামলা করা যাবে।

  • জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

    জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বাজেট থেকে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বুধবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের নিয়েও কাজ করতে হবে। আগামী শনিবার কচুয়ার পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন বলেও জানান তিনি। স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জনসেবা, নেতৃত্ব, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষা পায়। এখান থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়।

    খেলাধুলার মাধ্যমেও নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও স্কাউটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস কালচার, ‘লার্নিং হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও আদর্শ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। জাতি গঠনে শৃঙ্খলা ও আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হবে। আগামী বাংলাদেশ আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে।

    বাংলাদেশ স্কাউটসের স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটকে বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে মেডেল, অভিনন্দনপত্র ও নির্ধারিত যাতায়াত ভাড়া দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যেককে অনলাইনে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটসের উপপ্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

  • ফিকে হয়ে আসছে জীবিত উদ্ধারের আশা,নিহতের সংখ্যা ১১শ ছাড়াল

    ফিকে হয়ে আসছে জীবিত উদ্ধারের আশা,নিহতের সংখ্যা ১১শ ছাড়াল

    বন্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪ জনে এবং এখনও প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
    এই দুর্যোগে বহু মানুষ এখনও বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নেপালের জাতীয় জরুরি পরিচালন কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পাউডেল জানান, জীবিত উদ্ধারের আশা প্রতি মুহূর্তে কমছে। যদিও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে ফাঁকা জায়গা ও কক্ষ থাকায় সেখানে কেউ বেঁচে থাকতে পারেন—এমন ক্ষীণ আশায় ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন উদ্ধারকারী দল উচ্চপ্রযুক্তির বিশেষ শ্রবণযন্ত্র দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে জীবনের কোনো স্পন্দন বা শব্দ শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পগুলো থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও ৬৩৯ জনের বেশি কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।

    অন্যদিকে তিব্বত অংশে চীনের পক্ষ থেকে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজের তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ ও কাদামাটি জমা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসায় সরকারের মনোযোগ এখন অনুসন্ধান ও ত্রাণের চেয়ে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হচ্ছে।

    এদিকে আশ্রয়শিবিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, দূষিত পানি ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষাকালে রোগবালাই ও মহামারির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। নেপাল ও চীন উভয় দেশই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

  • নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

    নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে এআই নিষিদ্ধ

    যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্কুল জেলা নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর আওতায় পড়বে ২-কে (প্রি-স্কুল) থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস এবিসি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আগামী সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রি-স্কুল বা ২-কে থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের স্থগিতাদেশ (মরাটোরিয়াম) কার্যকর করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এই সময় প্রযুক্তিটির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা হবে।
    মামদানি বলেন, প্রযুক্তি শিল্প আমাদের বিশ্বাস করাতে চায় যে এআই নির্ভর প্রাথমিক শিক্ষা শুধু অনিবার্যই নয়, বরং প্রয়োজনীয়ও। আমরা বিষয়টিকে এভাবে দেখি না।
    শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তৈরির দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, তখন নিউইয়র্কের এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো।
    স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিস্তৃত পদক্ষেপ। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যবহারের জন্য তৈরি এআইভিত্তিক সফটওয়্যার বন্ধ করা হবে এবং এআই সহকারী চ্যাটবট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

    তবে এই নিষেধাজ্ঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাদের জন্য বছরে দুবার এআই বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস নেয়া হবে। এসব ক্লাসের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে শেখানো, যাতে তারা এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।
    এর আগে নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলগুলোতে শিক্ষাদানের সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে দিনব্যাপী বিধিনিষেধও চালু করা হয়েছিল।

    নতুন এআই নীতির মাধ্যমে নগর ও স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জেনারেটিভ এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সৃজনশীলতা বিকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
    নিউইয়র্ক সিটি স্কুলসের চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস বলেন, এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের সেই গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাশক্তি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে, যা তাদের স্কুল থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন।

    এদিকে নিউইয়র্কের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে হোয়াইট হাউস শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এআই শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

  • বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াল সরকার

    বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াল সরকার

    বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম আগের ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান।

    বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

    সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে সয়াবিন তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এই মূল্য সমন্বয় আপাতত কেবল বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। পাম অয়েল বা অন্য কোনো ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে মূল্য পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    বাণিজ্য সচিব আরো বলেন, ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করে আসছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি হিসাব তৈরি করে।

    তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশনের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ইরান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়া বা কস্টিং বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসে। কমিশনের হিসাবে ১০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বা সুপারিশ থাকলেও, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সরকার মাত্র ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সচিব বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বাজারে তেলের সরবরাহ পরিপূর্ণভাবে অব্যাহত থাকে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাজারে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা হবে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না।

  • বৃটেনে ফের বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিতর্ক

    বৃটেনে ফের বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিতর্ক

    রাশিয়ার সঙ্গে বৃটেনের উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে দেশটিতে আবারও বাধ্যতামূলক সেনাসেবা চালু হতে পারে এমন আশঙ্কা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা পুনরায় চালুর কোনো সিদ্ধান্ত সরকার ঘোষণা করেনি। তবে এরই মধ্যে দেশটির ১৩টি শান্তি ও ধর্মীয় সংগঠনের জোট সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    ‘দ্য এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবদেন বলেছে ফোর্সেসওয়াচ, পিস প্লেজ ইউনিয়ন ও বৃটেনের কোয়েকারদের মতো সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোটটি এ বিষয়ে একটি আবেদন শুরু করেছে।
    তাদের দাবি, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা চালু করা উচিত নয়।

    ফোর্সেসওয়াচের পক্ষ থেকে এমা স্যাংস্টার বলেন, বৃটেনের তরুণদের ওপর এখন বাধ্যতামূলক সেনাসেবার আশঙ্কা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। জাতীয় সেবা তরুণদের জন্য উপকারী এমন ধারণা প্রচার করা হলেও এর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি এবং যুদ্ধের নৈতিক দায় জড়িয়ে রয়েছে।

    তিনি বলেন, সামরিকীকরণনির্ভর নিরাপত্তা প্রকৃত মানবনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে- তারা এমনটা মনে করেন না। তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রের সামরিক সেবায় নিয়োজিত করারও বিরোধিতা করেন তারা।
    এদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য বৃটেনের প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা নিয়ে শান্তিকর্মীদের প্রচারণাও গতি পেয়েছে।
    বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা নিয়ে বৃটেনে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে তৎকালীন কনজারভেটিভ পার্টি ১৮ বছর বয়সীদের জন্য সামরিক বা বেসামরিক জাতীয় সেবার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল। অন্যদিকে লেবার সরকার সামরিক বাহিনীতে তরুণদের জন্য ‘গ্যাপ ইয়ার’-এর মতো সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে।
    তবে সামরিক প্রশিক্ষণে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং আইন করে নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা নেই। দেশটির সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থানও ছিল, বৃটেনে পেশাদার ও স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।
    বাধ্যতামূলক সেনাসেবা নিয়ে তরুণদের মনোভাবও বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউগভের ৩ হাজার ৪৪ জনের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের কম বয়সীদের ৩৮ শতাংশ নতুন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন।

    বৃটেনের সরাসরি আক্রমণ আসন্ন হলেও ৩০ শতাংশ সেনাসেবায় যেতে অস্বীকৃতি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
    অন্যদিকে জরিপে ৭২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বাধ্যতামূলক সেনাসেবা চালু করা হলে তা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এতে সামরিক সেবায় অংশগ্রহণের প্রশ্নে বৃটিশ সমাজে মতভেদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
    একদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    শান্তি আন্দোলনের সংগঠনগুলোর দাবি, বাধ্যতামূলক সেনাসেবা তরুণদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করবে। তাদের মতে, সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেয়া একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। কাউকে জোর করে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
    বৃটেনে বাধ্যতামূলক সেনাসেবার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬ সালে সামরিক সেবা আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা চালু করা হয়। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৯৩৯ সালে আবার ব্যাপকভাবে সেনাসেবা বাধ্যতামূলক করা হয়। দ্বিতীয় দফার এ ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ১৯৬০ সালে বিলুপ্ত হয়।

  • সৌদিতে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি বার্তা

    সৌদিতে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এক সতর্কবার্তায় মার্কিন দূতাবাস বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জটিল। পরিস্থিতির অপ্রত্যাশিত অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে।


    এতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।


    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য এই সতর্কতা জারি করা হলো।

  • ইরানকে সমর্থনকরে পুতিন বললেন, ক্ষুধার্ত হাঙরের দাঁতভাঙা জবাব দেবে রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থনকরে পুতিন বললেন, ক্ষুধার্ত হাঙরের দাঁতভাঙা জবাব দেবে রাশিয়া

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র করার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতেও তেহরানকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। কিরগিজস্তানে দুই দিনের এক সম্মেলনে অংশ নেওয়া শেষে পুতিন এমন অনড় অবস্থানের কথা জানান।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানিয়েছেন পুতিন। কয়েক দিন আগে সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো গিয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। এর কয়েক দিন পর পুতিন উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে এ মন্তব্য করলেন।

    পুতিন বলেন, ‘আমরা যাঁদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাঁদের ওপর আস্থা রাখি, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ তিনি উল্লেখ করেন, ওই দুই বিশেষ দূতের ওপর ট্রাম্পের আস্থা রয়েছে এবং তাঁরা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পুতিন বলেন, ‘তাঁরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মানুষ।’

    জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। তবে তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের আলোচনা ‘কিছুটা হলেও স্থগিত’ রয়েছে।

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠক চলাকালে এবং পরে এসব কথা বলেন পুতিন।

    পুতিনের এ উপস্থিতির সময় ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক একপর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর অনেকগুলোতেই হামলা ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।

    রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কোলেদিনোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদাম থেকে ধোঁয়া উঠছে।

    কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও ই-কমার্সের গুদামগুলোতে আঘাত করছে। এসব হামলায় রাশিয়াজুড়ে পেট্রলের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিতেও ব্যাঘাত ঘটছে।

    ইউক্রেনীয় বাহিনী ক্রিমিয়াকেও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে পুতিনের বাহিনীকে ঠেকিয়ে রেখেছে তারা। ফলে ইউক্রেনে মস্কোর সফল অভিযানের গতি কমে এসেছে।

    পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এতে রাশিয়ার যে ক্ষতি হয়েছে, তা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান।

    ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়া হামলা আরও বাড়িয়েছে। নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন দিয়ে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তারা। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও হামলা জোরালো করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি হুমকির মুখে ফেলেছে রাশিয়া।

    বিশকেকে দেওয়া বক্তব্যে পুতিনও এ আগ্রাসী অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ রুশ বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ছে।

    পুতিন বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।’

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের ড্রোনের কারণে রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপদ থাকবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুতিন ওই মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেন।

    পুতিন বলেন, ‘আমি এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে তারাই আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চাইছে, ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’

    যুদ্ধের এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা নিয়োগ বা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগও বাড়ছে। পুতিন তাঁর বক্তব্যে এমন আশঙ্কাকে ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এসসিও বৈঠকের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের ‘সাহস ও দৃঢ়তার’ প্রতি তাঁর সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যও তেহরানকে দিয়েছে মস্কো। এ ছাড়া ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ইরানে ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে রাশিয়া।

    কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে।

    বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্টকে পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।’

    এদিকে সিআইএর পরিচালক র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফরে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও গতিপথ নিয়ে এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেন ও রুশ নেতাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে মনে করছেন, পুতিন তাঁর অধীন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের সঠিক চিত্র পাচ্ছেন না।

    তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর কাছে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য আসে। এসব তথ্য মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি বস্তুনিষ্ঠ চিত্র পান তিনি। পুতিন বলেন, আগস্টে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী।

    অবশ্য, যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী ইউক্রেনীয় সংগঠন ডিপ স্টেটের তথ্য বলছে, ওই অঞ্চলে রাশিয়া মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে।

    সাংহাই সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে রাশিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেন পুতিন। সেখানে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার কেন যুদ্ধে জড়ানো প্রয়োজন, তা বোঝাতে মেরুভালুককে ‘ঘাতক তিমি’র খাওয়ার একটি উদাহরণ দেন তিনি।

    বিশকেকে এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা করতে প্রস্তুত।’

  • মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

    মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

    মিলাদুন্নবী ঘিরে আজ আমরা মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জায়গায় যে উৎসব দেখি, তার কোনো একক শুরু নেই; আছে বহু শুরু, বহু ভূগোল, বহু শতাব্দী জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি দীর্ঘ যাত্রা। আর সেই যাত্রাটা বুঝতে হলে আমাদের ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হয় শতাব্দীর পর শতাব্দী, রাজদরবার থেকে খানকা, কবির কলম থেকে পথের মিছিল, একের পর এক ভূখণ্ড পেরিয়ে।

    নবীজির নিজের জীবদ্দশায় তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ‘আলাদা’ কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবের প্রচলন ছিল না। কারণ, সাহাবায়ে কেরামের কাছে প্রতিটি সময়ই ছিল উৎসবের! প্রতি মুহূর্তে তাঁর দেখা পাওয়া, প্রতিটি মুহূর্তে জগতের সবচেয়ে সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া—সে কত মনোহর দৃশ্য!প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কাছে নবীপ্রেম প্রকাশের মাধ্যম ছিল তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা, তাঁর প্রতিটি হাদিস মুখস্থ রাখা, তাঁর জীবনের ঘটনা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে মুখে মুখে বলে যাওয়া, রণাঙ্গনে তাঁর নাম নিয়ে অগ্রসর হওয়া, নামাজের প্রতিটি রাকাতে ভালোবেসে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা। কোনো নির্দিষ্ট দিনে সমবেত হয়ে আলাদা উৎসব করার রীতি তখনো জন্ম নেয়নি। কারণ, ভালোবাসা তখন বিচ্ছুরিত ছিল জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে; কোনো একটি দিনে ঘনীভূত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এই দীর্ঘ নীরবতা, প্রায় ৩৫০ বছরের নীরবতা, ভাঙে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, মিসরের মাটিতে।

    দশম শতাব্দীর কায়রো তখন এক জমজমাট রাজধানী, ফাতেমীয় খিলাফতের কেন্দ্র। এই রাজবংশ তখন শাসন করছে উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফাতেমীয় দরবারে বছরজুড়ে চলত একের পর এক আনুষ্ঠানিক উদযাপন—নওরোজ, রজবের প্রথম রাত, শাবানের মাঝামাঝি রাত। আর এই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয় নবীজির জন্মদিন।

    নবীজির জন্মদিন পালিত হতো রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, দরবারের জাঁকজমকে, মিষ্টান্ন বিতরণ ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে। এই রীতি প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কায়রোর সমাজে টিকে ছিল, এখনো আছে। আজও কায়রোর অলিগলিতে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিক্রি হয় রঙিন চিনির পুতুল, যাকে বলা হয় আরুসাতুল মাওলিদ। ছেলেদের জন্য ঘোড়সওয়ার আকৃতির আর মেয়েদের জন্য কনে সাজে সজ্জিত পুতুল—দোকানে দোকানে সাজানো থাকে বাহারি রঙের এই মিষ্টান্ন। আজও মিসরীয় পরিবারে সন্ধ্যার পর বিশেষ খাবার তৈরির আয়োজন হয়। রুজ বি লাবান নামের দুধ ও চাল দিয়ে তৈরি একটি মিষ্টি পায়েস ছোট ছোট পাত্রে করে প্রতিবেশী ও পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই লোকজ ঐতিহ্যের শিকড় হাজার বছর আগের সেই ফাতেমীয় দরবারি সংস্কৃতিতেই প্রোথিত।ফাতেমীয়দের এই উদ্যোগের পর প্রায় ২০০ বছর কেটে যায়। সুন্নি মুসলিম বিশ্বে তখনো এই ধরনের আনুষ্ঠানিক স্মরণের প্রচলন হয়নি। এই নীরবতা ভাঙে সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্য ইরবিলে, যেখানে সিংহাসনে বসে আছেন আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দিন কুকুবুরি—একজন সুন্নি শাসক, বিদ্যানুরাগী ও কাব্যরসিক বলে ইতিহাসে পরিচিত। ৬০৪ হিজরি সাল থেকে তিনি একেবারে নতুন করে, বিপুল আড়ম্বরে এই স্মরণকে পুনরুজ্জীবিত করেন। আর এবার তা হয়ে ওঠে সুন্নি মুসলিম বিশ্বের প্রথম বড় আকারের মিলাদ উদযাপন।

    ইতিহাসবিদ ইবনে খাল্লিকান তাঁর বিখ্যাত জীবনীগ্রন্থে এই আয়োজনের বিবরণ রেখে গেছেন। অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী, কুকুবুরি প্রতিবছর এই উৎসবের পেছনে ব্যয় করতেন প্রায় ৩ লাখ মুদ্রা, যা সেই সময়ের হিসাবে একটি বিশাল অঙ্ক। দিনের বেলায় অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শাসক নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিতেন। বিশাল তাঁবু খাটানো হতো শহরের বাইরে। সেখানে সমবেত হতেন দূরদূরান্তের আলেম, কবি, সুফি-সাধক ও সাধারণ মানুষ। কোরআন তিলাওয়াত হতো নিরবচ্ছিন্নভাবে, খুতবায় আলোচনা হতো সিরাত, নবী পরিবার তথা আহলে বাইতকে নিয়ে। পশু কোরবানি করে বিপুল ভোজের আয়োজন করা হতো, হাজারো মানুষকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানো হতো। রাতে জ্বলে উঠত অসংখ্য মোমবাতি ও মশাল। শহরের অলিগলি আলোকিত হয়ে উঠত সেই আলোয়। আর সুফি দরবেশরা সমবেত হয়ে সামা ও জিকিরের মাহফিল বসাতেন, নাচ ও সুরের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন।

    এই উৎসবে আকৃষ্ট হয়ে সেই সময়ের একজন পণ্ডিত, স্পেন থেকে আসা আবুল খাত্তাব ইবনে দিহয়া, মিলাদ উদযাপনের সমর্থনে একটি গোটা গ্রন্থ রচনা করে বাদশাহকে উপহার দেন। নাম দেন ‘কিতাবুত তানবীর’। বাদশাহ এই গ্রন্থ পড়ে এতটাই সন্তুষ্ট হন যে লেখককে পুরস্কার দেন এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা। কুকুবুরির এই উদ্যোগের পরই মূলত সুন্নি মুসলিম বিশ্বে মিলাদ উদযাপনের রীতি একের পর এক শহরে, একের পর এক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা হয়ে ওঠে সুন্নি মুসলিম সংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ।

    কুকুবুরির ইরবিল থেকে সময় আরো দুই শতাব্দী এগিয়ে আমরা পৌঁছাই উসমানীয় সাম্রাজ্যে, চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগে, বুরসা শহরে, যেখানে বসবাস করতেন কবি সুলাইমান চেলেবি। তিনি রচনা করেন একটি দীর্ঘ কবিতা, তুর্কি ভাষায়, নাম ‘মেভলিদ ই শরিফ’। নবীজির জন্ম থেকে শুরু করে তার জীবনের বিভিন্ন পর্ব এই কবিতায় বর্ণিত হয় গভীর ভক্তি ও কাব্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে। বিশেষত নবীজির জন্মমুহূর্তের বর্ণনায় যে আবেগময় ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রোতাদের চোখে পানি এনে দিয়েছে।

    উসমানীয় সমাজে এই কবিতা এমনভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তা আর শুধু জন্মদিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিয়ের অনুষ্ঠান, নবজাতকের নামকরণ, এমনকি মৃত্যুর পর শোকপালনের অনুষ্ঠানেও এই কবিতা আবৃত্তি করার রীতি চালু হয়ে যায়। ঘরে ঘরে সন্ধ্যাবেলায় পরিবার সমবেত হয়ে এই কবিতা শোনার একটি নিয়মিত অভ্যাস গড়ে ওঠে। মায়েরা সন্তানদের কোলে নিয়ে এই কবিতার সুরে ঘুম পাড়াতেন, বৃদ্ধরা এই কবিতা মুখস্থ বলে যেতেন।

    উসমানীয় যুগে সুলাইমান চেলেবির এই কবিতার পাশাপাশি আরো অনেক কবি নিজস্ব মেভলিদ রচনা করেছেন। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সুর ও পরিবেশনার রীতি তৈরি হয়েছে। আজও তুরস্কে রবিউল আউয়াল মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয় মেভলিদ কান্দিলি। মসজিদে মসজিদে এই ঐতিহ্যবাহী কবিতা আবৃত্তি করা হয়, মিনার থেকে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়, সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ঘরেও একই রীতি অনুসরণ করা হয়। উসমানীয়দের হাতে মিলাদ উদযাপন তাই মূলত হয়ে ওঠে একটি সাহিত্যিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান—রাজপথের জাঁকজমকের চেয়ে অনেক বেশি ঘরোয়া, অনেক বেশি কাব্যকেন্দ্রিক, অনেক বেশি নিভৃত।

    একই সময়ের কাছাকাছি ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল দরবারে এই স্মরণ মিশে যায় আরেক ধরনের কাব্যসংস্কৃতির সঙ্গে। দরবারি কবিরা নবীপ্রশস্তিতে কবিতা রচনা করতেন সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায়। দিল্লি ও আগ্রার দরবারে নাত রচনা একটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্যিক চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই একই উপমহাদেশে, দাক্ষিণাত্যে, পরে গড়ে ওঠে মাওলিদ উদযাপনের এক জমকালো ধারা, বিশেষত হায়দরাবাদে, যা আজও ধর্মীয় সভা, রাতব্যাপী প্রার্থনা, বিশাল সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও বর্ণিল সাজসজ্জার জন্য বিখ্যাত। অমুসলিম-প্রধান দেশ হয়েও ভারত এই ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় আয়োজক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় সবুজ রঙের আলোকসজ্জা, মসজিদে মসজিদে সমবেত নাত পাঠ এবং রাত জেগে ধর্মীয় আলোচনার এক গভীর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

    বাংলায় এই আয়োজন রূপ নিয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাধ্যমে—পুঁথিসাহিত্যে। ষোড়শ শতাব্দীতে সৈয়দ সুলতানের মতো কবিরা রচনা করেন ‘নবীবংশ’ কাব্য। নবীজির জীবনকাহিনি বাংলার নিজস্ব পয়ার ছন্দে বিবৃত হয়। আরবের মরুভূমির কাহিনি বাংলার নদীবিধৌত জনপদের ভাষায় ধরা দেয়। এই কাব্যে রাজকীয় জাঁকজমক নেই; আছে গ্রামবাংলার সহজ শ্রোতার কাছে পৌঁছানোর একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা। কোনো কথক গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে বসে যেভাবে পুরাণকথা বলতেন, ঠিক সেই একই ঢঙে নবীজির জীবনকাহিনি বলা হয়েছে এই পুঁথিতে। শেখ পরানের মতো কবিরাও এই ধারাকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। আর এভাবেই গড়ে উঠেছে বাংলার নিজস্ব একটি নাত ঐতিহ্য, যা আরবি-ফারসি মূল উৎস থেকে প্রেরণা নিলেও পুরোপুরি বাংলার রঙে রঙিন হয়েছে।সাগর পেরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, জাভা দ্বীপে ইসলাম প্রবেশের পর সেখানকার সুলতানি দরবারগুলো এই স্মরণকে মিশিয়ে নেয় নিজস্ব সাংস্কৃতিক রীতির সঙ্গে। জাভার দরবারে গামেলান বাদ্যযন্ত্রের সুরে, স্থানীয় মেলা ও বাজারের আবহে নবীজির জন্মদিন পালিত হতে থাকে। ইসলামি ভক্তি ও জাভানীয় দরবারি সংস্কৃতির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটে সেখানে, যা আজও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে আছে।

    উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চলও এই উৎসব নিজস্ব রূপ পেয়েছে। তিউনিসিয়ার কাইরাওয়ান শহরে মানুষ নবীজির প্রশংসায় নাশিদ আবৃত্তি করেন সমবেতভাবে, আর ঘরে ঘরে তৈরি হয় আসিদা জগগুউ নামের একটি বিশেষ মিষ্টান্ন। গমের আটা, বাদাম ও মধু দিয়ে তৈরি এই খাবার পরিবারের সবাই মিলে ভাগ করে খান। মরক্কোয় ফেজ শহরকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে মিলাদ উদযাপনের নিজস্ব একটি ধারা আছে।

    প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ভাষায় এই একই আনন্দকে ধরে রেখেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী—কোথাও মিষ্টান্নে, কোথাও কবিতায়, কোথাও সমবেত গানে।

    বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের আরেক প্রান্তে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুরে, সিরিকোট শরিফ নামের একটি খানকা। সেখানকার কাদেরিয়া তরিকার পীর সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে প্রবর্তন করেন এক নতুন ধরনের মিলাদ উদযাপন—রাজপথে শোভাযাত্রার আকারে, যাকে বলা হয় ‘জশনে জুলুস’। তিনি এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর ইন্তেকালের পর এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁরই পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ, যিনি ১৯৮৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত ৫১ বারের বেশি এই জুলুসের নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিবছর পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে এসে।

    চট্টগ্রামের এই শোভাযাত্রা স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া বাঙালি সুফি ঐতিহ্য না হলেও বর্তমানে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি রীতি, যা ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপ করা স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের দেওয়া এক আদেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। স্থগিতাদেশটি গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত হয়।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার সময় এ স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। পর্যালোচনার লক্ষ্য ছিল, অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হন বা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা ব্যবহার না করেন—তা নিশ্চিত করা।

    স্থগিতাদেশ চলাকালে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীরা ভিসার আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন।

    এখন স্থগিতাদেশ আর কার্যকর না থাকায়, আবেদনকারীরা নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসা আবেদন করতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

    যে দেশগুলো স্থগিতাদেশের তালিকায় ছিল

    আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন।

    আরও ছিল–লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

    আদালত কী আদেশ দিয়েছে

    ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত একটি রায় দেন। রায়ে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদন-সংক্রান্ত যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী।

    রায়ে আরও বলা হয়েছিল, বিদ্যমান আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি গ্রহণ করেছেন।

    উল্লেখ্য, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই করে কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।

    সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ‘আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’

    অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার যুক্তি হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, যে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার শঙ্কাও বেশি।

  • এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বাতিল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

    এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বাতিল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

    যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের স্বামী বা স্ত্রীর বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ বাতিল করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে হাজারো এইচ-৪ ভিসাধারী তাঁদের চাকরি হারাতে পারেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রক কার্যসূচিতে প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং কবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

    এইচ-৪ ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি নন–ইমিগ্র্যান্ট বা অ-অভিবাসী ভিসা, যা এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এইচ-২এ, এইচ-২বি অথবা এইচ-৩ ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল নিকট স্বজনদের দেওয়া হয়।

    ডিএইচএসের প্রস্তাবে যা আছে

    ডিএইচএসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীকে কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের একটি চূড়ান্ত বিধি বাতিল করে এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি না দেওয়ার আগের নীতি ফিরিয়ে আনা হবে।

    এখনই কাজের অনুমতি বাতিল হচ্ছে না

    তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হচ্ছে না। নিয়ম পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে ডিএইচএসকে ফেডারেল রেজিস্ট্রারে আনুষ্ঠানিক নোটিশ অব প্রপোজড রোলমেকিং প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। সবশেষে চূড়ান্ত বিধি জারি হলে তবেই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।

    তত দিন পর্যন্ত বৈধ এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট (ইএডি) থাকা এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

    কী এই এইচ-৪ ভিসা

    এইচ-৪ নিজে কোনো কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা নয়। এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ দিতে এই ভিসা দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী আলাদা করে ইএডি পেলে বৈধভাবে কাজ করতে পারেন। সাধারণত তাঁদের এইচ-১বি ভিসাধারী সঙ্গীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট পর্যায়ে থাকতে হয়।

    এর আগেও বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

    এইচ-৪ ইএডি বাতিলের উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ সালে, নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ ভিসাধারীর কর্মসংস্থানের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব করেছিল ডিএইচএস। তবে সেই উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পায়নি এবং ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করা হয়।

    নতুন প্রস্তাবটি এমন সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায়ও একাধিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।

    এদিকে এটি বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ভারতীয় পেশাজীবীদের পরিবারগুলোর। কারণ, এইচ–৪ কাজের অনুমতিপত্রধারীদের বড় একটি অংশই ভারতীয় নাগরিক। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচ–৪ এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট (ইএডি) বা কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্রের আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আবেদনগুলোর ৯৩ শতাংশই পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকেরা। আর এসব ভারতীয় অনুমতিপত্রধারীর ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী।