নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন ও তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে নেপাল কর্তৃপক্ষ আরও ৩ হাজার ৪৪ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।
এদিকে বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় সরে গেছেন। খারাপ আবহাওয়া এবং নেপাল-চীন সীমান্তে কাদাধসের পর সৃষ্ট একটি হ্রদ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত শুক্রবার থেকে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
গত বুধবার একটি হিমবাহধসের পর পাথর, মাটি ও কাদা জমে নদীর গতিপথ আটকে ওই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে হ্রদের পানি উপচে নেপালের নদীগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করায় এটি নতুন করে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেডক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। চীন এ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করেছে।
নেপালে এখনো ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ। সেখানে ৭ হাজার ৫১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
চীনের তিব্বতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে নেপালের ১০৫ জন, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮, যুক্তরাজ্যের ১৫, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার ৩ জন করে নাগরিক রয়েছেন।

এ ছাড়া ফ্রান্স, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের দুজন করে এবং ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির একজন করে নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাণঘাতী এ দুর্যোগের ঘটনা ঘটে গত বুধবার। তিব্বত–নেপাল সীমান্তে হিমবাহের একটি অংশ ধসে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবল বেগে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় বিভিন্ন স্থাপনা, গ্রাম ও জনপদ।
