স্বাস্থ্য

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৬

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৬

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • আস্থা ফেরাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে; প্রধানমন্ত্রী

    আস্থা ফেরাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে; প্রধানমন্ত্রী

    চিকিৎসকদের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

    শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে রোগীরা চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা ফিরে পান। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান। এ নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে সকালে ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢামেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে ঢামেক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী রয়েছেন আটজন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

    মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে মারা যান চারজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। মার্চে মারা যান তিনজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী।

    এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের এক পুরুষ রোগী। এছাড়া জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট সাত হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

    তিনি জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এআরটি ফোকাল পার্সন ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, পতিতা পল্লি, ভাসমান যৌনকর্মী এবং হোটেলকেন্দ্রিক অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িতদের নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে, তত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হবে এবং সংক্রমণের প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হবে।

    খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই মরণ ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে, ততই সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খুলনায় যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

  • অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে বাড়ছে শঙ্কা

    অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে বাড়ছে শঙ্কা

    ফার্মেসিতে মোট অ্যান্টিবায়োটিকের অর্ধেকই বিক্রি হয় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া। ফলে কমে আসছে জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর ওষুধ। এখনই অপারেশনের রোগীদের সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ করছে না, ব্যবহার করতে হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক, তাও পরিমাণে আগের চেয়ে বেশি।

    বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নির্দেশনা ছিল কোনো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট (ব্যাকটিরিয়ার বিরুদ্ধে অকার্যকর) হয়ে যাওয়ার জন্য অন্য কিছু কারণের সাথে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রিকেও দায়ী করা হচ্ছে। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে ওষুধটির কোর্স শেষ করেন না বেশির ভাগ ব্যবহারকারী। এ ব্যাপারে বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ‘লেনসেট’-এ প্রেসক্রিপশনবিহীন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বেশি বিক্রি হয়, সেসব দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও রেজিস্ট্যান্টের হার তুলনামূলক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্বন্ধে বলেছে, ‘প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার কমাতে না পারলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট কমানো সম্ভব নয়।’

    চিকিৎসকরা বলছেন, জীবাণু সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে অ্যান্টিবায়োটিক। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ওষুধ কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিক্রেতাকে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শিখিয়ে ওষুধটির বেশি বিক্রি নিশ্চিত করে। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি বেড়েছে ঠিকই; কিন্তু এই ওষুধের বিক্রেতাদের ৯৯ শতাংশই তৃতীয় ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট হওয়ায় তারা ওষুধটির সঠিক ব্যবহার জানেন না। তারা শুধু বেশি মুনাফার স্বার্থে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করছেন। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিককে রেজিস্ট্যান্ট হতে সহায়তা করে মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধগুলোর বেশির ভাগেরই এখন ব্যাকটিরিয়ার প্রতি সংবেদনশীলতা কমে গেছে। আগে যে অ্যান্টিবায়োটিক পাঁচ দিনের অথবা সাত দিনের ডোজ সম্পন্ন করলে রোগ ভালো হয়ে যেত, এখন সেটি আর পাঁচ অথবা সাত দিনে সুস্থ হচ্ছে না। এখন পরিমাণে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে এবং বেশিদিন সেবন করতে হচ্ছে। এ মতামত দিয়েছেন বিশিষ্ট জেনারেল সার্জন অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুল ওহাব।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাওয়ায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন নানা রোগে অ্যান্টিবায়োটিক আগের মতো কাজ করছে না।

    বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক আগের মতো কাজ করছে না। ফলে টাইফয়েডের মতো রোগ সারাতে অনেক বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। যক্ষ্মা রোগ তো সুপার পাউয়ারফুল হয়ে গেছে। অন্য দিকে সাধারণ ডায়েরিয়া, আমাশয় রোগকে আগের মতো কম অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে সুস্থ করে তোলা যাচ্ছে না।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিনতে পাওয়া যায় বলে শুধু বিক্রির জন্য ভাইরাল জ্বর হলেও হাতুড়ে ডাক্তাররা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছে রোগীদের। যেখানে শুধু সাধারণ প্যারাসিটামলে সুস্থ করে তোলা সম্ভব সেখানে কমপক্ষে একটি ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক থাকছে।অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মফস্বল শহর ও গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। গ্রামের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় অসুখ হলে তারা স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতার ওপরই বেশি নির্ভর করছে। ওষুধ বিক্রেতাই তাদের কাছে ‘ডাক্তার’। গ্রামের ওষুধ বিক্রেতারা তৃতীয় ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্টও না। ওষুধ সম্বন্ধে তাদের কোনো বেসিক ট্রেনিংও নেই। অন্য কোনো ওষুধের দোকানে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাদের ভরসা। আর তাদের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শিখিয়ে ওষুধ বিক্রি করে থাকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ ব্যাপারে ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বাংলাদেশে আইন থাকলেও তার কঠোর প্রয়োগ না থাকায় জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধটি অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় আসবে, জীবাণু সংক্রমণে অথবা অপারেশন করার পর মানুষকে সুস্থ করার জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই পাওয়া যাবে না। কারণ পুরনো ও বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে এমন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট (প্রতিরোধী) অর্থাৎ অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারও হচ্ছে না।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৯

    হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৯

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৫২ শিশু। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪৫ জন। এছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯ জন।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা এবং এ কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় জানানো হয়, এসব অভিজ্ঞতা নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সরকার জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজ করছে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশের দুর্গম এলাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ বক্তব্য দেন।

    কর্মশালায় জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

    আলো ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে।

  • উপসর্গ ছাড়াই মস্তিষ্কের সাইলেন্ট স্ট্রোক

    উপসর্গ ছাড়াই মস্তিষ্কের সাইলেন্ট স্ট্রোক

    স্ট্রোক মানেই হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ—এমন ধারণাই বেশি প্রচলিত। তবে চিকিৎসকদের মতে, এমন এক ধরনের স্ট্রোক রয়েছে, যা কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’ নামে পরিচিত।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের নিউরোসার্জন ডা. বৈভব প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহেই তার কাছে এমন রোগী আসেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সুস্থ জীবনযাপন করেন। কিন্তু এমআরআই পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের মস্তিষ্কে ছোট ছোট ক্ষত তৈরি হয়েছে, যদিও তারা কখনো বুঝতেই পারেননি যে তাদের স্ট্রোক হয়েছিল।

    কেন এটি ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’?
    ডা. বৈভব প্যাটেলের মতে, সাধারণ স্ট্রোকের মতো এতে হাত-পায়ে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একাধিক সাইলেন্ট স্ট্রোক স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।যেসব লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়
    ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. ধ্রুব চতুর্বেদীর মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোকের স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—হঠাৎ স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো, শরীরের কোনো অংশে হালকা অসাড় অনুভূতি, চিন্তাভাবনা ধীর হয়ে যাওয়া, আচরণ বা মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

    তিনি বলেন, অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়সের প্রভাব বা মানসিক চাপ মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলো সাইলেন্ট স্ট্রোকের ইঙ্গিতও হতে পারে।

    শনাক্ত করবেন কীভাবে?বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোক শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআরআই পরীক্ষা। এতে মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র ক্ষতও ধরা পড়ে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

    ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
    ডা. ধ্রুব চতুর্বেদীর পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের রক্তনালি সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

    সাইলেন্ট স্ট্রোকের পর সুস্থ থাকা সম্ভব?
    চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্ট্রোকে ক্ষতিগ্রস্ত মস্তিষ্কের কোষ পুনরায় তৈরি হয় না। তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে পরবর্তী ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও সবুজ শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করালে ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

  • হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৩১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮ হাজার ৪১৯ শিশু।

    অধিদফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ শিশুর।

  • অতিবৃষ্টি-ঢলে চট্টগ্রামে নিহত ৩০

    অতিবৃষ্টি-ঢলে চট্টগ্রামে নিহত ৩০

    চট্টগ্রাম বিভাগে গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় বলছে, দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, চাল ও শিশু খাদ্য বাবদ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি ও জেলা প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

    সেখানে দেখা যায়, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে, সেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    তবে কক্সবাজার জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও সেখানে বর্তমানে কোনো আশ্রিত লোক নেই। দুর্গতদের সহায়তায় গত ৭ ও ৯ জুলাই দুই দফায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এর মধ্যে গত ৭ জুলাই প্রতিটি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১০ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    পরবর্তীতে ৯ জুলাই শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    একই দিনে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের এই পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    পাশপাশি, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষদের জন্য সুপেয় পানি, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শিশু খাদ্যসহ তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনজনই ঢাকা বিভাগে মারা গেছে।

    বুধবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৭৪৫। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৩ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫২ জন মারা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ১০৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ৭০ জন।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৯৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন।

  • পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    পাহাড় ধ্বসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু ১৪ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অনেকেই

    কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে এবার দেয়ালচাপা পড়ে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে শিশুরা পড়ছিল। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসসহ ক্যাম্প প্রশাসন।রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের (আশ্রয়শিবির) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি মহিলা হেজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় মাদ্রাসার ভেতরে পড়ছিল ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু। হইচই চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসেন। স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন। তাঁরা তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১৪ জনকে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

    আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন। গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।

    আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ( মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, দেয়ালচাপায় নিহত শিশুদের বয়স ৯-১৫ বছর। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত অন্তত ৩ জন মারা গেছেন। একইসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৫১ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন করে মারা গেছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২২ জন মারা গেছেন। এছাড়া, ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫৫৭ জনের। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৬০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

  • দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডে-শনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এ মন্তব্য করেন

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।জুবাইদা রহমান বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও মানুষের সেবাপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবেস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
    সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপগুলো সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন জুবাইদা রহমান।তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অপুষ্টির মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
    ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করা কখনোই যথেষ্ট নয়। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সেই প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তিপ্রস্তর বা গাঁথুনি আমরা স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি করতে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার খাত আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উভয়পক্ষ যদি যার যার নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে এ খাত সামগ্রিক ভাবে উপকৃত হবে না। তাই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের একটি বাসায় মোহাম্মদ সুমন (৪২) নামে ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটের এক কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সুমন হবিগঞ্জ জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ডালুগাছ বাজার এলাকার নবী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের জমিদার গলিতে আনারস মসজিদ সংলগ্ন একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ডেইলি বেসিস কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    হাসপাতালে সুমনকে নিয়ে আসা তার স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, তার স্বামী ইয়াবাসেবী ছিলেন। আগের রাতে তিনি তার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়ে ইয়াবা কিনে আনেন এবং রাতে বাথরুমে বসে তা সেবন করেন।

    তার দাবি, মঙ্গলবার সকালে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি নাসিমার হাতে আঘাত করেন। পরে একই অস্ত্রের আঘাতে সুমনের বুকের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ঢাকা মেডিক্যালে এসে সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার অভিযোগ করেন, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় সুমনকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী নাসিমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

  • ৪৫৫ শিশুর জন্য জীবনের সর্বস্ব দান করলেন চীনা দম্পতি, ঘরে মিলল জরাজীর্ণ আসবাব

    ৪৫৫ শিশুর জন্য জীবনের সর্বস্ব দান করলেন চীনা দম্পতি, ঘরে মিলল জরাজীর্ণ আসবাব

    জীর্ণ আসবাব, স্কচটেপ দিয়ে মেরামত করা চশমা আর ১৭ ইউয়ানের (প্রায় ২৫০ টাকা) দুপুরের খাবার দুজনে ভাগ করে খাওয়া—এমন অতি সাধারণ ও মিতব্যয়ী জীবন ছিল চীনের এক নিঃসন্তান দম্পতির। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁরা যে অনন্য কীর্তি রেখে গেছেন, তা এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।

    নিজেদের জীবনের সব সঞ্চয় মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮ কোটি টাকার সমতুল্য) জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দান করে গেছেন এই দম্পতি। তাঁদের এই মহৎ দানের ফলে অন্তত ৪৫৫ জন শিশুর জটিল হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে বলে গত মাসে সাংহাইয়ের এক প্রদর্শনীতে নিশ্চিত করেছেন দাতব্য কর্মকর্তারা।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়স্পর্শী তথ্য উঠে এসেছে। একটি পোস্টার বদলে দিল জীবন এই মানবিক গল্পের নেপথ্যে রয়েছেন দু ইংরং ও তাঁর স্ত্রী লু সুয়িং। দু পেশায় কলেজশিক্ষক ছিলেন এবং লু একই কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে ৮১ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দু ইংরং এবং তাঁর স্ত্রী লু সুয়িং গত বছর (২০২৫ সালে) ৯২ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে দু ইংরং সাংহাইয়ের ‘ইয়োদা কার্ডিওথোরাসিক হাসপাতাল’-এর সামনে একটি পোস্টার দেখতে পান। সেখানে জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার সহায়তায় সাধারণ মানুষের প্রতি অর্থ সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল।

    পোস্টারটি দেখার পর এই দম্পতি তাৎক্ষণিকভাবে ১০টি শিশুর চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৭০ লাখ টাকা) দান করেন। এর কিছুদিন পর তাঁরা তাঁদের বাকি ৪৫ লাখ ইউয়ানও (প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা) একই তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

    এই দম্পতির ঘরের পরিস্থিতি দেখে হাসপাতালের দাতব্য প্রকল্পের এক কর্মী তাঁদের কিছু টাকা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ, তাঁদের ঘরটি ছিল অত্যন্ত পুরোনো ও জীর্ণ।

    সেই অনুরোধের জবাবে দু ইংরং বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনেরই আর বেশি সময় বাকি নেই। আমরা পেনশনের টাকা পাই এবং আমাদের কিছু সঞ্চয়ও আছে। আমাদের এত টাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’

    নিজেদের কোনো সন্তান না থাকায়, এই দম্পতি তাঁদের আইনি অভিভাবক হিসেবে ‘সাংহাই ওভারসিজ চায়নিজ ফাউন্ডেশন’কে নিযুক্ত করেছিলেন।

    ২০১৮ সালে দু এবং ২০২৫ সালে লুর মৃত্যুর পর ওই ফাউন্ডেশনের কর্মীরা তাঁদের ঘরে গিয়ে অবাক হয়ে যান। ঘরের আসবাবগুলো ছিল বহু পুরোনো, চশমাটি ছিল মেরামত করা। এমনকি তাঁরা দৈনন্দিন খরচের প্রতিটি হিসাব ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। অনেক সময় দু ইংরং মাত্র ১৭ ইউয়ানের একটি দুপুরের খাবার কিনে এনে তা দুজনে ভাগ করে খেতেন।

    তবে জীবনযাপনে চরম মিতব্যয়ী হলেও এই দম্পতি মননে ছিলেন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁদের ঘরে ছিল বইয়ের বিশাল সংগ্রহ, সংবাদপত্রের ক্লিপিংস এবং অজস্র মিউজিক রেকর্ড। শুধু এই শেষ দানই নয়, দীর্ঘ বছর ধরে চীনের বিভিন্ন ভূমিকম্পের ত্রাণ তহবিল, শিক্ষা খাত এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণে তাঁরা নিয়মিত অর্থ দান করে গেছেন।

    তাঁদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁদের মরদেহ সাগরে সমাহিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে জানান, এই দম্পতির রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি হলো সেই ৪৫৫টি শিশু, যাদের হার্ট এখন সুস্থভাবে স্পন্দিত হচ্ছে কেবল এই দম্পতির ভালোবাসায়।

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

    স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা জনগণের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি দেশের মানুষ মৌলিক অধিকার।’

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা উন্নয়নের পথরেখা বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

    দেশের স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, তরুণদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে, যেন তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করতে এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে সরকার।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের রয়েছে এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম। যাদের শক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, চিন্তা আমাদের অন্যতম সেরা জাতীয় সম্পদ। চলতি বছরে গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান কোনো অংশেই কম নয়। বেশিরভাগ ওষুধই উন্নতমানের এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে।

    জুবাইদা রহমান বলেন, নানা কারণে আমরা দারিদ্র্য, দুর্যোগ, রোগবালাই, বাস্তুচ্যুতি এবং নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছি। এরপরও সাহসিকতার সঙ্গে এসব মোকাবিলা করেছে দেশের মানুষ। তবে বর্তমান সরকার রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আর এ লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অপুষ্টি এবং অন্যান্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।

    তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যগত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। অসংক্রামক রোগ বাড়ছে, জনসংখ্যা বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে এবং নগরায়ন মানুষের জীবনযাপন, কাজ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য নতুন চিন্তা ও নতুন অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

  • সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে এনএস১ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএস১ পরীক্ষা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এদিকে, বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করেছে। মশাবাহিত এই রোগে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক

    চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের শুরুতে শহরে রোগী বেশি হলেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রোগী বেড়েছে গ্রামে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন আক্রান্ত হন। শুধু তাই নয় নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এসব এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর অভিযোগÑ নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডেঙ্গু ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও এলাকাভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগের হার বাড়েনি। কোনো কোনো এলাকায় এক মাসেও প্রয়োগ করা হয়নি ওষুধ কিংবা ফগার মেশিন।

    যদিও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে কিট ও বেডের সংখ্যাও। রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বলছে, সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সময় বুঝে ওষুধ ছিটাতে হয় বলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রাখেন।

    জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন ৯ জন আক্রান্ত হন। পরের দিন ১০ জন, ৩ জুলাই ৭ ও ৪ জুলাই ১৩ এবং ৫ জুলাই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ১৩১ জন আর জেলায় ১৪৪ জন। বাকি ৮০ জন অন্যান্য জেলার রোগী।

    এ বছরের জানুয়ারিতে আক্রান্ত হন ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে-তে ৩৭, জুনে ১২২ এবং চলতি মাসের পাঁচদিনে ৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের বিগত মাসগুলোর তুলনায় জুলাইয়ের শুরুতেই রোগী বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন আক্রান্ত হচ্ছেন।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, বর্তমানে ৫১ জন রোগী নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর উপজেলা পর্যায়ে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। উপজেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাউজানে ১৭ ও মিরসরাই উপজেলায় ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    চলতি বছর চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১৯৭, নারী ৯৩ ও শিশু ৬৫ জন। গত পাঁচ মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে গত তিন মাসে শহরের তুলনায় গ্রামেই এখন রোগী বেশি।

    জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রামে চার হাজার ৮৬৪ আক্রান্তের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২০২৩ সালে। ওই বছর ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়।

    এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার সার্ভে’ শীর্ষক জরিপে বলা হয়, নগরীর জরিপ করা প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে। তবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩ নম্বর পাহাড়তলী, ২ নম্বর আলকরণ, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ বালুচরা, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা এবং ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা এই আটটি ওয়ার্ডকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বিভা

    গীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জরিপে দেখা গেছে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৯৯টি বাড়িতে, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা প্রতি চারটি বাড়ির একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপ চলাকালে ১১৪টি এডিস মশার লার্ভা পজিটিভ কনটেইনারও শনাক্ত করা হয়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া এডিস মশার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপটাই প্রজাতির, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এডিস এলবোপিকটাস, যা ডেঙ্গুর দ্বিতীয় প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাতটি জোনে আমরা প্রতিদিন নগরে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছি। এই বিভাগের জনবল ১৬০ জন থেকে ২০০ জন করা হয়েছে। পুরোনো ও অকেজো সব ফগার মেশিন মেরামত করে চালু করা হয়েছে। মশার প্রজননস্থান ধ্বংসে চসিক কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী জানান, তিনটি কর্মপন্থা ঠিক করেছি। আমরা চসিককে প্রতিবেদনটি দিয়েছি। তারা তাদের আলোকে কাজ করবে। আমরা বলেছি কার্যকর এবং মানসম্মত ওষুধের প্রয়োগ যেন বেগবান করা হয়। সেবা সংস্থাগুলোর জনবলকে আমরা প্রশিক্ষিত করে তুলছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত কীট, মশারি, কর্নার তৈরি করেছি। আমরা চাই যে কোনো রোগীর চিকিৎসা যেন উপজেলা পর্যায়ে শেষ হয়। জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানাই তারা যেন নিজ বাড়ির এডিশ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে।

  • ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে  বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। রোববার বিকেলে বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নাসিরুল বিশ্বাস (৫০) বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গেলে নাসিরুল বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিঠে গুলি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়েও আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, ওই ব্যক্তির পিঠ থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।

    ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলী বলেন, নাসিরুল ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় আমাদের বালু ব্যবসা আছে। তিনিই দেখাশোনা করেন। বালু বিক্রির জন্য ব্যবসাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বালু ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত হামলাকারীর ছয়জন মুখোশধারী। একজনের মুখ খোলা থাকলেও তারা কাউকে চিনতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খুঁটিবগাড়ি বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

  • প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

    প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

    ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। আজ আপনার দল হেরেছে, আগামীকাল তারাই আবার জিততে পারে। একটি ম্যাচের ফলাফল যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব না ফেলে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বকাপে প্রিয় দলের হার মানতেই অনেক সমর্থকের মন ভেঙে যায়। কেউ হতাশ হয়ে পড়েন, কেউ আবার সারাদিন ম্যাচ নিয়েই ভাবতে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হতাশা থেকে সহজেই বেরিয়ে আসা সম্ভব।চলুন জেনে নেওয়া যাক মন ভালো করার সাতটি কার্যকর উপায়।

    . নিজেকে কিছুটা সময় দিন। দল হারার পর মন খারাপ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তাই নিজের অনুভূতিকে চাপা না দিয়ে কিছুটা সময় দিন। কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের মন খারাপ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    .সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকুন। দল হারার পর ট্রল, মিম ও খোঁচামূলক পোস্ট হতাশা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কিছু সময় সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে পরিবার, বই কিংবা গানের সঙ্গে সময় কাটান।.বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন। একই দলের সমর্থক হলে একসঙ্গে হতাশা ভাগ করে নিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থক বন্ধুদের মজাকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে খেলাধুলার অংশ হিসেবেই দেখার চেষ্টা করুন।

    .ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো মনে করুন। শুধু হার নয়, দলের ভালো মুহূর্তগুলোও স্মরণ করুন। ভালো আক্রমণ, দুর্দান্ত সেভ কিংবা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা—এসবও ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য কোনো প্রিয় কাজে মন দিন। সিনেমা দেখা, বই পড়া, রান্না করা কিংবা হাঁটতে বের হওয়ার মতো কাজ আপনাকে দ্রুত হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

    .সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন স্বপ্নের অপেক্ষা করুন। একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। সামনে নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন ম্যাচ আর নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে।মনে রাখবেন, ফুটবলের আসল আনন্দ শুধু ট্রফি জেতায় নয়; বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, উল্লাস করা এবং কঠিন সময়েও নিজের দলের পাশে থাকাতেই একজন প্রকৃত সমর্থকের পরিচয়। তাই প্রিয় দল হেরে গেলেও আশা হারাবেন না। কারণ ফুটবল শেখায়—হারের পরও আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

  • শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর: সচেতনতা ও করণীয়

    শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর: সচেতনতা ও করণীয়

    ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ, যা Dengue Virus দ্বারা হয়। এটি মূলত Adees aegypti মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশার বংশবিস্তার বেশি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।
    রোগ ছড়ানোর উপায়
    আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড় দিলে, মশা এই ভাইরাস বহন করে। সাধারণত সকালে ও বিকালে এডিস মশা বেশি কামড়ায় এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সরাসরি ডেঙ্গু ছড়ায় নাডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল লক্ষণ:
    হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর
    মাথাব্যথা
    চোখের পিছনে ব্যথা
    শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা
    বমি বা বমিভাব
    দুর্বলতা ও খাওয়ায় অনীহা
    পেটে ব্যথা
    ত্বকে লাল দ্বাগ বা র‍্যাশকিছু কিছু ক্ষেত্রে নাক/মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়াবিপদ সংকেতঃ
    নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে-
    বারবার বমি
    অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব
    তীব্র পেটব্যথা
    শ্বাসকষ্ট
    প্রস্রাব কমে যাওয়া
    ঠান্ডা হয়ে যাওয়া: হাত-পা
    খেতে না পারা
    খিঁচুনি হলে
    জ্বর কমে যাবার পর শিশুর অবস্থা খারাপ হওয়াপ্রাথমিক পরীক্ষা:
    জ্বরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে = CBC, Dengue NS1 antigen
    জ্বরের ৫ ম দিনে প্রয়োজনে = Dengue Antibody
    প্রয়োজনে = Livere function test, S. albumin, Chest X-ray,চিকিৎসা:
    পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার
    জ্বরের জন্য paracetamol
    পর্যাপ্ত বিশ্রামগুরুত্বর ক্ষেত্রে: IV Fluid দিতে হয়
    দেওয়া যাবেনা =
    Ibuprofen, Aspirin ব্যবহার নিষেধ
    প্রয়োজনের অতিরিক্ত IV fluid / খুব দ্রুত শিরায় Fluid দেওয়া যাবেনা
    প্রয়োজন ছাড়া ব্লাড ট্রান্সফিউশন এবং steroid ঔষধ।Dengue Shock এর লক্ষণ ও জরুরি ব্যবস্থপনাঃ
    → রক্তচাপ কমে যাওয়া
    → হাত-পা ঠান্ডা,
    → দ্রুত দুর্বল,

    → Pulse খুঁজে না পাওয়া
    → অস্থিরতা বা জ্ঞান হারানো

    জরুরী ব্যবস্থাপনা
    দ্রুত হাসপাতালে এনে IV Finid, অক্সিজেন, Vital monitoring এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ICU Support দিতে হয়।

    প্রতিরোধ:
    জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা
    মশারি ব্যবহার
    ফুলহাতা জামা পরানো
    বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা
    মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা

    লেখক
    ডা. ইসমাত জাহান ফেরদৌসী
    শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ

  • শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ১৯

    শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ১৯

    শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৯ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি কারাবন্দি। আহতদের রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, চারজন কারারক্ষী এবং ১৫ জন বন্দির লাশও আনা হয়েছে। রোববার দুপুর প্রায় ১টার দিকে কারাগারের ভেতরে দুই দল বন্দির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে রাতের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু সোমবার সকালে
    আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।বন্দিরা কারাগারের অস্ত্রাগার ভেঙে আগ্নেয়াস্ত্র দখল করে নেয়। এরপর অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা এই সংশোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে কর্তৃপক্ষ গুলি চালায়।

    বিচারাধীন বন্দিদের একটি শক্তিশালী দল রয়েছে, তারা কারাগারের সেলের ভেতর থেকে মাদক পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও সমর্থন করত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের এই কার্যক্রমের তীব্র বিরোধিতা করছিল বন্দিদের মধ্যে আরেকটি দল। এই দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রোববার দুইজন বন্দি নিহত এবং প্রায় ৩৮ জন আহত হয়।

    কারা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে করলেও, সোমবার ভোর নাগাদ নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণ শেড থেকে লুট করা সরঞ্জাম দিয়ে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গাকারী বন্দিরা রক্ষীদের পরাস্ত করে কারাগারের প্রধান অস্ত্রাগারে হামলা চালায়। বন্দিরা কারাগারের চত্বরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করলে, এই সংঘাত মারাত্মক রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি ব্যাপক যৌথ সামরিক ও পুলিশি অভিযান শুরু করে শ্রীলঙ্কা সরকার । ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • ক্লিনিকে লেবার রুম বাধ্যতামূলক

    ক্লিনিকে লেবার রুম বাধ্যতামূলক

    অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমাতে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে আগামী শনিবারের মধ্যে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসবকক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

    তিনি আরও জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।

    মন্ত্রী বলেন, মাতৃ ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসূতিসেবায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    কর্মশালায় বক্তারা মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ এবং স্বাভাবিক প্রসবের পরিবেশ তৈরিতে মিডওয়াইফদের ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • লবঙ্গের স্বাস্থ্যগুণ

    লবঙ্গের স্বাস্থ্যগুণ

    রান্নার জনপ্রিয় মসলা লবঙ্গ শুধু স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, এতে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

    লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন সি। এছাড়া এতে থাকা ‘ইউজেনল’ নামের প্রাকৃতিক যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা লবঙ্গের অধিকাংশ স্বাস্থ্য উপকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি বা গলা খুসখুস করলে অনেকেই লবঙ্গ চিবিয়ে খান কিংবা গরম পানিতে লবঙ্গ দিয়ে পানীয় তৈরি করেন। এটি গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে এবং সাময়িক আরাম দিতে সহায়ক হতে পারে।

    দাঁতের ব্যথা উপশমেও লবঙ্গের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। এতে থাকা ইউজেনল সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণে অনেক টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশে লবঙ্গের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এটি মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়ক।

    হজমের সমস্যায়ও পরিমিত লবঙ্গ উপকারী হতে পারে। গ্যাস, বদহজম বা পেট ফাঁপার ক্ষেত্রে এটি হজমে সহায়ক কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে খাবার সহজে হজমে সাহায্য করতে পারে।

    এ ছাড়া লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের প্রদাহনাশক উপাদান শরীরের ফোলা ভাব ও জয়েন্টের অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এ কারণে অনেকেই মালিশের জন্য লবঙ্গ তেল ব্যবহার করেন। তবে লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। স্বাস্থ্য সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন—মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’

    ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’ উল্লেখ করেন তিনি।

  • নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    লাইচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের (২০২৫) ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১ হাজার ১০৬

    হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১ হাজার ১০৬

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে কারও মৃত্যু হয়নি। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৪৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১২ হাজার ৭৯১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮৬ হাজার ৬২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    প্রতিদিন রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। এটি কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের নানাবিধ উপকারও করে। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়। আবার ভাইরাস গঠিত সংক্রমণের হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহার করার ক্ষমতা এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে। প্রশ্ন হলো কার্যকর ফলাফল পেতে রসুন কি কাঁচা খাওয়া ভালো, নাকি রান্নায় রসুন ব্যবহার করাই ভালো?

    ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসুন খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন উপাদানটি হলো এমন একটি সালফার যৌগ যা ইনসুলিনের নিঃসরণ এবং কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর কারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রসুন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে কাঁচা রসুন থেঁতো করে খেলে উপকার মিলবে। অনেকেই রসুন কাঁচা খেতে পারেন না। এর তীব্র গন্ধ অসহ্যকর।

    তাহলে রসুন কীভাবে খাবেন?
    রসুন কাটার পরে বা থেঁতো করার পরে মিনিটে পাঁচেক রেখে দিন। এতে অ্যালিসিন যৌগটি তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া রসুন কুচি করেও নিতে পারেন। যদি কাঁচা রসুন খেতে না পারেন, তাহলে থেঁতো করা বা কুচি কুচি করে কাটা রসুন রান্না মিশিয়ে খাওয়া যায়। রান্নার আগেও কাটা রসুন কিছুক্ষণ খোলা হাওয়ায় রেখে দিন। উচ্চ তাপমাত্রায় বেশি সময় নিয়ে রসুন রান্না করা ঠিক নয়। এতে রসুনের উপকারী যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    প্রতিদিন কতটা রসুন খাওয়া উচিত?
    সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে বাড়তি উপকার তো মিলবেই না, বরং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি পরিমাণে রসুন খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন বা যাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে, তাদের ডায়েটে রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

  • বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে  ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

    মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

    জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

    লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

    আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

    এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

    ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

    ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

  • জুনে সড়কে ৪৩৮ প্রাণহানি, ৩০% নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

    জুনে সড়কে ৪৩৮ প্রাণহানি, ৩০% নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

    গত জুন মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৩৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলছে,জুনে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৭২টি। এতে ৪২৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৬১ জন। নিহতের মধ্যে ৪৪ জন নারী, শিশুর সংখ্যা ৫৬ জন।

    ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে মাসওয়ারি দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীর সড়কে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। এছাড়া মোট দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন; অর্থাৎ ১৩ শতাংশ। এই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন। আর ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

    সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি (৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে ১৯৪টি (৪১.১০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৩.৫৫ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.০৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৬টি (১.২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

    বিভাগওয়ারী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।দুর্ঘটনার প্রধান কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) নামে জামায়াতের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

    নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাটের মৃত্যু হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল করিম আকন্দ তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমও আহত হন। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আব্দুল করিম আকন্দ ভেলুরচক গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    দুপঁচাচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা

    দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা

    বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের সব হাসপাতাল সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা নিয়মিত করতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনাগুলো হলো—

    ১. সব প্রতিষ্ঠান প্রধান স্ব-স্ব হাসপাতাল নিজ দায়িত্বে সার্বক্ষণিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

    ২. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধীনস্থ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মনিটর করবেন।

    ৩. পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতি শনিবার হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন।

    ৪. প্রত্যেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) উল্লিখিত তারিখসমূহে সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০১) অনুযায়ী জেলা সদর হাসপাতাল

    পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন।

    ৫. প্রত্যেক সিভিল সার্জন মাসের প্রত্যেক শনিবার সংযুক্ত তালিকা (সংযুক্ত-০২) অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এরপর সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিচালক (প্রশাসন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করবেন।

    ৬. ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে সব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের বায়োমেট্রিক মেশিন সচল করে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করবেন। ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন।

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

    শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন রয়েছেন।

    এ সময় ১৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩০ জন।

    চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ শতাংশ নারী। এই বছর ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ৩১ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

    এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। অর্থাৎ, হাম ও এর উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯২৫ শিশু। এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ জন, আর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯০৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১২ হাজার ৬৩২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। মোট ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৮৫ হাজার ১২২ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

  • খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শ্রেয়। অনেকেই দিনের শুরুতে গ্রিন টি কিংবা ফলের রস পান করেন। এ অভ্যাস ঠিক নয়। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই যেসব খাবার খাওয়া হয়, কিংবা যে পানীয় পান করা হয় তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ সারারাত না খেয়ে থাকার পর শরীর দীর্ঘ সময় উপবাস অবস্থায় থাকে। তাই দিনের প্রথম খাবার বা পানীয় হজম, শক্তির মাত্রা এমনকি দিনের পরবর্তী সময়ে খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ কারণেই দিনের শুরুতে খালি পেটে কী খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে একটু সচেতন থাকার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ভারতের পরামর্শক কিরণ কুকরেজা খালি পেটে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

    খালি পেটে যেসব খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলবেন

    লেবুজাতীয় ফল
    সকালের নাশতায় কমলা বা আনারস খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে এটি সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। কিরণ কুকরেজার মতে, লেবুজাতীয় ফল স্বাভাবিকভাবেই বেশ অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। খালি পেটে এগুলো খেলে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে, তবু খাওয়ার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

    গ্রিন টি
    ওজন কমানো ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি খালি পেটে পান করা সবসময় ভালো নাও হতে পারে। কিরণের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অম্বল, বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারণ এতে থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিন পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

    চা ও কফি
    অনেকের দিনই শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে চা কিংবা কফি পান করলে অম্লতা, পেট ফাঁপা ও হজমতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন কিরণ কুকরেজা। ফলে দিনের শুরুটা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে।

    ঝাল খাবার
    সবুজ বা শুকনো মরিচসমৃদ্ধ ঝাল খাবার খালি পেটে খেলে পাকস্থলীর আবরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। এতে বুকজ্বালা, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।ফলের রস
    ফলের রসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিরণের মতে, ফলের রসে সম্পূর্ণ ফলের তুলনায় আঁশ (ফাইবার) অনেক কম থাকে। ফলে সকালে খালি পেটে ফলের রস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

  • গোসল করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে? যা করবেন

    গোসল করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে? যা করবেন

    অনেকেই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে পছন্দ করেন। কারও আবার সুযোগ হয় পুকুরে সাঁতার কাটার। সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ কানে পানি ঢুকে যাওয়ার সমস্যায় পড়েননি, এমন মানুষ কম। অনেকে সময় বাড়িতেও গোসলের সময় অসাবধানবশত কানে পানি ঢুকতে পারে। কানে পানি ঢুকলে শুধু যে অস্বস্তি হয় তাই নয়, মাথা ধরা, কান ভারী হয়ে থাকা এবং ঠিকমতো শুনতে না পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই এই পানি বের করার জন্য দেশলাই কাঠি, ইয়ার বাড বা সেফটি পিন কানের ভেতর ঢুকিয়ে দেন, যা কানের পর্দার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।ভারতের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. অরিজিৎ মহাপাত্র জানান, ইয়ার বাড, দেশলাই কাঠি, পেন বা সেফটি পিনের মতো কোনোও জিনিস কানের ভেতর ঢোকানো খুবই বিপজ্জনক। আমাদের কানের চামড়া খুবই সংবেদনশীল এবং কানের পর্দা খুবই পাতলা হয়। এই ধরণের শক্ত জিনিস ব্যবহার করলে কানের ভেতরের ময়লা নরম জলের সংস্পর্শে এসে ফুলে যায় এবং কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, কানে পানি জমলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ‘সুইমার্স ইয়ার’-এর মতো রোগ হতে পারে। তাই কানের ক্ষতি না করে ঘরোয়ার উপায়ে কীভাবে পোনি বের করবেন তা জানানো হয়েছে ‘টিভি নাইনে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    কানে পানি বের করার সবচেয়ে সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে পাশ ফিরে শুয়ে পড়া। যে কানে পানি ঢুকেছে, সেই দিকটি নিচের দিকে রেখে বালিশের ওপর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। এতে কানের ভেতরের পানি এমনিতেই বাইরে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া, যে কানে পানি ঢুকেছে সেই দিকে মাথাটি কাত করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে হালকা লাফ দিলেও সহজেই পানি বেরিয়ে যায়।

    হাতের তালু দিয়ে কানের ভেতর একটি হালকা ভ্যাকুয়াম বা হাওয়া বন্দি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করলে পানি বেরিয়ে যাবে। এর জন্য মাথাটি আক্রান্ত কানের দিকে কাত করুন। এবার হাতের তালু কানের ওপর শক্ত করে চেপে ধরে রাখুন। এরপর দ্রুত হাতটি সরিয়ে নিন। এইভাবে কয়েকবার করলে কানের ভেতরের আটকে থাকা পানি বাতাসের চাপে বাইরে চলে আসবে।

    অনেক সময় গরম ভাপ কানের পানি বের করতে সাহায্য করে। একটি পরিষ্কার নরম কাপড় বা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন। এবার তোয়ালেটি আক্রান্ত কানের ওপর ৫ থেকে ১০ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। গরম ভাপের ফলে কানের ভেতরের পেশি শিথিল হয় । সেই সাথে জমে থাকা পানি সহজেই নালী বেয়ে বেরিয়ে আসে।

    এসব সমাধান চেষ্টা করার পরও যদি কানের পানি বের না হয় তাহলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আট জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন রয়েছেন।

    ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট পাঁচ হাজার ৭৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ২৬৭ জন।

    এর মধ্যে ৬২ দশমিক দুই শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক আট শতাংশ নারী রয়েছেন।
    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও কারও মৃত্যু হয়নি।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার ( ৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৬৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ হাজার ২৬২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৩৬ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • চৌগাছায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু,  বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে-মন্ত্রীপরিষদ সচিব

    চৌগাছায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু, বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে-মন্ত্রীপরিষদ সচিব

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডা. আনিসুজ্জামান ( বেসরকারি) হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালের মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, “এই হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার উন্মুক্ত দুয়ার। এই হাসপাতাল ধনী-গরিব সবার জন্য উন্মুক্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দবিন্দুতে পরিনত হবে।

    তিনি আরও বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে যেতে হবে না। কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা এখন উপজেলা পর্যায়েই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” এটা আল্লাহর নিয়ামত। এই নিয়ামতকে অক্ষত রাখতে উপজেলার সকল দল মত নিবিশেষে সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. আনিসুজ্জামান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাছানুজ্জামান রাহিন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা অঞ্চলের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক হুসাইন মাহামুদ, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব এ কে নাজমুজ্জামান শাহিন, ইদ্রিস মিদ্দিকি, যশোর আদ্ব-দ্বীন সকিনা হাসপাতালের পরিচালক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় মডেল হাসপাতালের রুপকার ডা: ইমদাদুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম।

    বক্তারা বলেন, নতুন এ হাসপাতাল চালুর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের চিকিৎসা সেবায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

    স্থানীয়রা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য এতদিন তাদের জেলা বা দেশের বাইরে যেতে হতো। নতুন এই হাসপাতাল চালু হওয়ায় এখন থেকে সহজে ও কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

    বিকেল চারটায় মন্ত্রীপরিষদের সচিব উপজেলা মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাভাবিক চলাচলে অক্ষম ও অসহায়দের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন। সবশেষে নিজ গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ফজলুর রহমান দাখিল মাদ্রাসা উদ্বোধন করেন।

    এসব অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জি এম মুনির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা.আহসান মিজান রুমি, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারি সেক্রেটারী ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

  • পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০

    পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০

    পাকিস্তানে একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ায় কমপক্ষে ৪০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো আট যাত্রী।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশ পার হয়ে আসার পরে উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দানা সার এলাকা থেকে আসছিল।

    বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহিদ রিন্দ জানান, হাসপাতালে আহত আটজনের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

    বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • আনারসের পুষ্টি গুণ

    আনারসের পুষ্টি গুণ

    আনারস। ইংরেজি নাম-পাইন আপেল, বৈজ্ঞানিক নাম: এনানাস কুমোসাস। আনারসে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। ছোট বড় আনারসে ভরে গেছে বাজার। এসব আনারসগলো যে কারো নজর কাড়তে বাধ্য। শুধু নজর কাড়া নয়, এই আনারসগুলো স্বাদেও বেশ অতুলনীয়। যে কোনো ধরনের ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের তুলনায় এই ছোট্ট একেকটা আনারস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তারপরও অনেকে জেনে শুনে আনারস খেতে চান না। কিন্তু এই সময়ে আনারস খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক আনারসের পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে।

    পুষ্টির অভাব দূর করে: আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এই সকল উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আনারস খেলে দেহে এইসকল পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকবে না।
    হজমশক্তি বাড়ায়: আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
    হাড়ের সুস্থতায় : আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমান আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    ওজন কমায় : শুনতে বেশ অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমানোয় বেশ সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট। সকালের যে সময়ে ফলমূল খাওয়া হয় সে সময় আনারস এবং সালাদে আনারস ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খান।চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।
    দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়: আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজে করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।এছাড়াও পাকা ফল বলবৃদ্ধি করে, কফ, পিত্ত বর্ধক, পাচক ও ঘর্মকারক। কাঁচা ফল গর্ভপাতকারী। পাকা ফলের সদ্য রসে ব্রোমিলিন নামক এক জাতীয় জারক রস থাকে বলে এটি পরিপাক ক্রিয়ার সহায়ক হয় এবং রস পা-ুরোগে হিতকর। কচি ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে যেসব করলে ক্রিমির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই স্বাদ গন্ধে চমৎকার আনারস ফল রস দেয়, টাকা দেয় আরো দেয় বল।

  • ডেঙ্গু টিকা এখনই দরকার

    ডেঙ্গু টিকা এখনই দরকার

    বাংলাদেশে সম্প্রতি হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকার সমস্যা নয়; এটি সারাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী দ্রুত শকে চলে যান, রক্তক্ষরণ হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে এবং মৃত্যুও ঘটে। তাই ডেঙ্গুকে শুধুমাত্র একটি “মশাবাহিত জ্বর” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
    ডেঙ্গুর টিকা: নতুন আশার আলো-

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, ইন্দেনেশিয়া, ব্রাজিল এবং কিছু লাতিন আমেরিকান দেশে ডেঙ্গু টিকা অনুমোদিত হয়েছে।
    বর্তমানে কোন কোন ডেঙ্গু টিকা আছে?
    ১. উবহমাধীরধ (ডেঙভ্যাক্সিয়া) প্রথম অনুমোদিত ডেঙ্গু টিকা। তবে এটি শুধুমাত্র পূর্বে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
    ২. ছফবহমধ ( কিউডেঙ্গা)- বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ডেঙ্গু টিকা। এটি জাপানের তাকেডা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী তৈরি করেছে। বেশ কয়েকটি দেশে অনুমোদিতও হয়েছে।

    এটা কে কিভাবে কত ডোজ নিবে?
    এই টিকা আপাতত দুই ডোজ নিতে হবে ৩ মাসের ব্যবধানে। ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সিদের এটি নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
    প্রথম ডোজ নেয়ার ১৪ দিন পরই ইমিউনিটি ডেভেলপ করতে শুরু করে। তাই কেউ চাইলে ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় যাওয়ার ১৪ দিন আগে এটি নিতে পারে। এক ডোজের পরেও ৮২ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। ২য় ডোজ নেয়ার ৩০ দিন পর সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়।

    কিউডেঙ্গা কতটা কার্যকর?
    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে:
    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, যা প্রায় ৯০.৪ শতাংশ পর্যন্ত বলেও গবেষকেরা দাবী করেছে।
    গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমায়, ডেঙ্গু হলেও তা মারাত্মক পর্যায় পর্যন্ত যায় না।
    চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দেয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে।

    এটা ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই নিতে পারবে।
    আগে ডেঙ্গু না হলেও এটা নেয়া যাবে। আগেরটারমত এই শর্ত এখানে নাই।
    টিকা নেয়ার আগে কোন রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নাই।
    তবে এই টিকা শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। ৮০.২ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষার কথা বলা হচ্ছে। তাই টিকা নেওয়ার পরও মশা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত সতর্কতা প্রয়োজন।
    শুধু টিকা কি সমস্যার সমাধান? না।
    পাশের দেশ থাইল্যান্ডে টিকার দাম কত?
    দেশভেদে মূল্য ভিন্ন। থাইল্যান্ডে সাধারণত দুই ডোজ সম্পূর্ণ করতে আনুমানিক ৩,০০০-৬,৫০০ থাই বাথ বা তারও বেশি খরচ হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১,০০০-২২,০০০ টাকার সমপরিমাণ হতে পারে। তবে ক্লিনিক ও হাসপাতাল ভেদে মূল্য পরিবর্তিত হয়।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর টিকা চালু করতে কার কী করণীয়?
    ১. সরকার-
    আন্তর্জাতিক তথ্য পর্যালোচনা
    নিরাপত্তা মূল্যায়ন
    স্থানীয় গবেষণানিয়ন্ত্রক অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
    ২. ঔষধ প্রশাসন- ডিরেক্টর জেনারেল অব ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনকে টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে।
    ৩. আইইডিসিআর- ইনস্টিটিউট অব এপিডিমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চকে রোগতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।
    ৪. চিকিৎসক সমাজ- কোন বয়সী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হবে।
    ৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ ডেঙ্গু প্রবণ এলাকার ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য এটি সুপারিশ করেছে। সরকার স্থানীয়ভাবে এটি উৎপাদনের কথা বিবেচনা করছে।
    ডেঙ্গু কী?

    ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা হয় এবং সংক্রমিত স্ত্রী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রধান বাহক হলো: এডিস এইজিপ্টি ও এডিস এলবোপিক্টাস নামের মশা।
    এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে।
    কেন বাংলাদেশে ডেঙ্গু বাড়ছে?

    ১. জলবায়ু পরিবর্তন- তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং দীর্ঘায়িত বর্ষাকাল মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।
    ২. অপরিকল্পিত নগরায়ণ- অসংখ্য নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি, ফেলে রাখা টায়ার, ড্রাম, ফুলের টব ও প্লাস্টিকের পাত্র এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
    ৩. জনসচেতনতার ঘাটতি- অনেক মানুষ এখনও মনে করেন ডেঙ্গু শুধু নোংরা পানিতে জন্মানো মশার মাধ্যমে হয়। বাস্তবে এডিস মশা পরিষ্কার পানিতেই বেশি জন্মায়।
    ৪. সমন্বিত কর্মসূচির অভাব- মশকনিধন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম অনেক সময় যথেষ্ট সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয় না।

    ডেঙ্গুর লক্ষণ-

    সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে র‌্যাশ ইত্যাদি।
    বিপদসংকেত-
    নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে: তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুমঘুম ভাব, প্রস্রাব কমে যাওয়া।
    সরকার কী করতে পারে? ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    ১. জাতীয় জরুরি কর্মসূচি- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
    ২. মশার উৎস ধ্বংস- শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

    গুরুত্ব দিতে হবে:
    লার্ভা ধ্বংস
    পানি জমার স্থান অপসারণ
    নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন
    নিয়মিত জরিমানা
    ৩. হাসপাতাল প্রস্তুতি- প্রতিটি জেলা হাসপাতালে:
    ডেঙ্গু কর্নার
    পর্যাপ্ত নরমাল স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা

    রক্ত সঞ্চালন ও প্লেটলেট সাপোর্ট
    প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফ নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. রোগতত্ত্ব নজরদারি- প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
    ৫. স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি- স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

    ৬. গবেষণায় বিনিয়োগ- বাংলাদেশে ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের কোনটার কখন কোথায় বিস্তার হচ্ছে, মশার ঘনত্ব এবং জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে।
    জনগণের করণীয়: সপ্তাহে অন্তত একদিন “২০ মিনিট ডেঙ্গু অভিযান”
    বাড়িতে ও বাড়ির চারপাশে:
    টব
    ড্রাম
    এসির ট্রে
    ফ্রিজের ট্রে
    টায়ার
    ডাবের খোসা
    বোতল পরিষ্কার করতে হবে।
    ব্যক্তিগত সুরক্ষা: এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ
    মশারি ব্যবহার
    ফুলহাতা পোশাক পরিধান
    মশা নিরোধক ব্যবহার

    জানালায় নেট
    জ্বর হলে:
    দ্রুত রক্ত পরীক্ষা
    প্রচুর তরল পান
    চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে

    যা করা যাবে না:
    নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া
    জ্বরের জন্য আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন
    অযথা ভয়ে প্লেটলেট দেওয়া
    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি তিনটি:
    ১. মশার উৎস ধ্বংস
    ২. দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ
    ৩. উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা
    টিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা মাত্র।
    যদি চারপাশে মশার ঘনত্ব বেশি থাকে, তবে টিকা থাকা সত্ত্বেও সংক্রমণ চলতে পারে।

    ভবিষ্যৎ করণীয়-
    বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত ডেঙ্গু কৌশল প্রয়োজন:
    সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ
    আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা
    গবেষণা বৃদ্ধি
    হাসপাতাল প্রস্তুতি
    গণসচেতনতা
    ডেঙ্গু টিকার সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি

    পরিশেষে মনে রাখতে হবে, হামের প্রাদুর্ভাবের পর ডেঙ্গুর বিস্তার বাংলাদেশের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ। ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলা করলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যা আমরা আগের বছর গুলিতেই দেখেছি। শুধু সরকার বা স্বাস্থ্য বিভাগ একা এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে না; জনগণকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে।
    ডেঙ্গুর টিকা বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে টিকা আসার অপেক্ষায় না থেকে এখনই মশার উৎস ধ্বংস, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হবে ডেঙ্গু মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি সচেতন পরিবার, একটি পরিচ্ছন্ন বাড়ি এবং একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচিই পারে হাজারো প্রাণ রক্ষা করতে।

  • জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে দেশের থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনএস১ (NS1) পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছেতিনি বলেন, ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত শয্যা চালু করা হবে। প্রয়োজন হলে মোবাইল হাসপাতাল স্থাপন করেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখলেই হবে না, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ে। তাই জুলাই ও আগস্ট মাসকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা

  • হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৫ শিশুর

    হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৫ শিশুর

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে ১ হাজার ১১৯ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৩১ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭২৪ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৬৫। এই সময়ে ৯০২ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৭ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ রোগী, যাদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • নতুন দায়িত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

    নতুন দায়িত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

    জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত দিকনির্দেশনা জোরদারে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। পাশাপাশি নতুন করে সদস্য হয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

    এর আগে ২১ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে ২২ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

    নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়- ২১ জুন ২০২৬ জারি করা আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। নতুন এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরিষদ বছরে অন্তত দু’বার সভা করবে। প্রয়োজন হলে এর বেশি সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিষদে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব।

    এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারকে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়ন ও প্রতি দুই বছর অন্তর তা হালনাগাদ, ঔষধ ও কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

    পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং ঔষধ উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করবে।

  • বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। বছরের বিভিন্ন সময়ই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তবে বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপই বাড়েনি, বদলে গেছে এর লক্ষণ ও জটিলতার ধরনও। ফলে আগের মতো উপসর্গ দেখে রোগ শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

    মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান বলেন, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, চোখে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা এবং ত্বকে লালচে র‍্যাশ দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরিচিত লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।

    বর্তমান সময়ে অনেকেই সামান্য জ্বর বা শরীর ম্যাজম্যাজ করার মতো উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো জ্বর কমে যাওয়ার পরের কয়েক দিন। সাধারণভাবে অনেকে জ্বর কমে গেলে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই সময়টিই ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’। জ্বর কমার দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্লাটিলেট দ্রুত হ্রাস পাওয়া এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

    এ ছাড়া নতুন ধরনের ডেঙ্গুতে শুধু জ্বর নয়, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে। আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি পরবর্তীতে ভিন্ন সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে মারাত্মক জটিলতা, যেমন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    বিশেষ করে অতিরিক্ত বমি, পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা, জন্ডিসের লক্ষণ বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন রয়েছেন।

    এই সময়ে ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৩ জন।

    চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

    দেশে ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৬ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১৯।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ২৪ ঘণ্টায় ৯৫১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। আর নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬৭ জন।

    দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ২৮ এবং ১২ হাজার ১৩২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

  • ঋতু পরিবর্তনে চুল পড়ছে? ডায়েটে রাখুন ৫ খাবার

    ঋতু পরিবর্তনে চুল পড়ছে? ডায়েটে রাখুন ৫ খাবার

    আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব চুলে বেশ ভালোভাবেই পড়ে। এসময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় চুল বেশি ঝরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চুল পড়ার জন্য শুধু আবহাওয়া দায়ী নয়; এর পেছনে থাকে পুষ্টির ঘাটতিও।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ অভিশ্রী গয়াল বলেন, “চুল পড়ার মূল কারণ শরীরের ভেতরের পুষ্টিহীনতা। বিশেষ করে আয়রনের স্বল্পতা, পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার না খাওয়ার কারণে চুল পড়ে। ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, জিঙ্ক এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতিতেও চুল পড়ে।”তিনি জানান, হঠাৎ ওজন কমানোর ডায়েট, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পানিশূন্যতাও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। ফলে চুলের ফলিকল আগেভাগেই বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায় এবং চুল ঝরতে শুরু করে। আরেক বিশেষজ্ঞের মতে, নারীদের মধ্যে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি বেশি দেখা যায়, তাই তাদের চুল পড়ে। তাই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, স্ক্যাল্পে পুষ্টি যোগাতে খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার রাখুন।

    চুল পড়া কমাতে যেসব খাবার খাবেন

    পালং শাক
    পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফোলেট এবং ভিটামিন এ, যা মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করে। আয়রনের ঘাটতি পূরণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পালং শাক রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

    চিয়া সিড
    আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া সিড। এতে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখে। শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত স্ক্যাল্পের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।

    আখরোট
    ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের অন্যতম উৎস আখরোট। এসব উপাদান চুলের গোড়াকে শক্তিশালী রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, ফলে নতুন চুল গজানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

    কটেজ চিজ (পনির)
    নিরামিষভোজীদের জন্য কটেজ চিজ বা পনির হতে পারে উৎকৃষ্ট প্রোটিনের উৎস। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম চুলের গঠন মজবুত করে এবং কেরাটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে চুল হয় শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।স্যামন মাছ
    যারা সামুদ্রিক মাছ খান, তাদের জন্য স্যামন একটি আদর্শ খাবার। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি এবং উচ্চমানের প্রোটিন। এসব উপাদান চুলের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়।

  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় কলার ফেস প্যাক

    ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় কলার ফেস প্যাক

    ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে অনেকেই ঘন ঘন পার্লারে যান। এতে সময়-টাকা দুটোই খরচ হয়। এর চেয়ে ভালো বাড়িতে বসে ঘরোয়া ফেস মাস্ক ব্যবহার করা। এর জন্য দরকার কলা আর সামান্য কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার। কলায় থাকা ভিটামিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বককে উজ্জ্বলতা, পুষ্টি, আর্দ্রতা দেয়।

    কোন ত্বকের জন্য কোন ধরনের কলার মাস্ক ব্যবহার করবেন–

    ১. আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে কলার সাথে মধু মেশান। এর জন্য প্রয়োজন অর্ধেক পাকা কলা ও ১ চা চামচ মধু। কলা চটকে মেখে মধু মিশিয়ে সেটার মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। তারপর সেটি মুখে ও ঘাড়ে লাগান। প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই মাস্ক ব্যবহারে শুষ্ক টানটান ত্বককে আরাম দেবে, উজ্জ্বল করে তুলবে।

    ২. সব ধরণের ত্বকেই ব্যবহার করতে পারেন কলা-দইয়ের ফেস প্যাক। অর্ধেক কলার সাথে ১-২ দুই চামচ টক দই মেশান। কলা চটকে,দই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ হয়। মসৃণ দেখায়।

    ৩. যাদের ত্বক নিষ্প্রাণ, ক্লান্ত তারা সবাই এই ফেসপ্যাক অবশ্যই বানাতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন একটি অর্ধেক কলা, ১ চা চামচ মধু, এক চিমটে হলুদ। এসব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

  • বাড়িতেই বানান নিমের ফেসওয়াশ

    বাড়িতেই বানান নিমের ফেসওয়াশ

    বাইরে থেকে ফিরে অনেকে মুখ পরিষ্কার করতে ফেসওয়াশ বেছে নেন। এগুলোর দাম যেমন বেশি, তেমনি এতে নানারকম রাসায়নিকও থাকে। অথচ প্রকৃতিতেই এমন অনেক উপাদান থাকে যা দিয়ে সহজেই বাড়িতে ফেস ওয়াশ তৈরি করা যায়। ঘরে তৈরি এই ফেস ওয়াশগুলো ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে। সেই সঙ্গে ব্রণ, অতিরিক্ত তেল ও ত্বকের মলিনতা কমাতে সাহায্য করে।

    প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্নে নিম ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম পাতা ব্রণ, ব্রণের দাগ, ত্বকের কালো দাগ এবং ব্ল্যাকহেডসের মতো সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। যারা বাড়িতে প্রাকৃতিক উপকরণে ফেসওয়াশ তৈরি করতে চান তারা নিম পাতা বেছে নিতে পারেন।

    যেভাবে বানাবেন ফেসওয়াশ
    নিম ও অ্যালোভেরা ফেস ওয়াশ
    ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা অত্যন্ত উপকারী । এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে। নিম গুঁড়ো ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণ মুখে লাগালে তা ব্রণের দাগ, ত্বকের কালো দাগ ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

    ১ চা চামচ নিম গুঁড়ো এবং ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল নিন। উপাদানগুলো ভাল ভাবে মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। ৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছে নিন।

    নিম ও হলুদের ফেস ওয়াশ

    হলুদে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে। নিমের সঙ্গে হলুদ ব্যবহার করলে মুখের লালচে ভাব ও প্রদাহ কমে। এটি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে।
    এই ফেস ওয়াশ তৈরি করতে ২ চা চামচ নিম গুঁড়ো, ১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং ১ চা চামচ গোলাপ জল নিন। প্রথমে নিম গুঁড়ো ও হলুদ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর সামান্য পানি মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তৈরি করা পেস্টটি মুখে লাগিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। ৫ থেকে ৬ মিনিট রেখে দেওয়ার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এখন পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন। কারও ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, তবে যে কোনও ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে ‘প্যাচ টেস্ট’করা জরুরি।

    সুত্র: আজকাল

  • হামের ইনফেকশনে নিউমোনিয়া হতে পারে

    হামের ইনফেকশনে নিউমোনিয়া হতে পারে

    বর্ষাকালে ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়তে দেখা যায়। এছাড়া বায়ুদূষণ, দীর্ঘদিনের কাশি ইত্যাদি বিষয়ে আজ আমরা হ্যালো ডাক্তার বিভাগে কথা বলব বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঙ্গে।

    প্রশ্ন : হামে আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নিউমোনিয়াকে একটি বড় জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার সম্পর্ক কী এবং এটি কেন এতটা প্রাণঘাতী হয়?

    উত্তর : হাম হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত শিশুদের হয়ে থাকে। অতীতে দেখা গেছে, ৯ মাস থেকে ৫ বা ৬ বছর বয়সিদের মধ্যে বেশি হয়। হাম হলে শরীরে জ্বর হয়, সর্দি হবে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। তিন থেকে চার দিন পরে শরীরে একধরনের র‍্যাশ হয়, যেটিকে ফুসকুড়ি বলা হয়। এর সঙ্গে নিউমোনিয়ার সম্পর্ক হলো দ্বিতীয় ধাপে। যাদের হাম হয়, তাদের সেকেন্ডারি ইনফেকশনের মাধ্যমে নিউমোনিয়া হতে পারে। এছাড়া ভাইরাসজনিত রোগে এক ধরনের ফুসফুসের প্রদাহ হয়, যেটিকে আমরা এআরডিএস (ARDS) লাইক সিন্ড্রোম বলি। যখন এআরডিএস লাইক সিন্ড্রোম হয় অথবা নিউমোনিয়া খুব বেশি হয়ে যায়, তখন বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হয়। বাচ্চার অক্সিজেন স্যাচুরেশন বা অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, তখন বাচ্চা আস্তে আস্তে খারাপ হয়ে যায়।

    প্রশ্ন : বায়ুদূষণ ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? এ থেকে বাঁচার উপায় কী?

    উত্তর : বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন : কাশি হবে, শ্বাসকষ্ট হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সিওপিডি (COPD) অথবা এমফাইসিমা হতে পারে। এর কারণে বয়স্কজনিত দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়; শ্বাসকষ্ট হলে রোগী হাঁটতে হাঁপিয়ে যান। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। এজন্য আমাদের উচিত বায়ুদূষণ রোধ করা। যেসব কারণে বায়ুদূষণ হয়, সেগুলো থেকে আমাদের সবাইকে বিরত এবং সচেতন থাকতে হবে।

    প্রশ্ন : দীর্ঘদিনের কাশি হলে কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

    উত্তর : প্রথমত, তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে রোগীর যক্ষ্মা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের কাশি হলে তার ব্রংকাইটিস, কাশিজনিত বা শ্বাসকষ্টের রোগীরও বিভিন্ন ধরনের সময় কাশি হয়। আমরা যেটিকে বলি ‘কাফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা’, যদি এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে সেটি হাঁপানি রোগী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

    প্রশ্ন : বর্ষাকালে ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শ্বাসকষ্টজনিত রোগ কেন বেড়ে যায়?

    উত্তর : ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ারও পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণও হয়। বিশেষ করে, শীতকালে যখন বৃষ্টি না হয়, তখন ধুলাবালি বেশি থাকে। সেখানে পরাগরেণু থাকে এবং সেটিও শ্বাসকষ্টের একটা অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বর্ষাকালে বৃষ্টি, ঠান্ডা বাতাস ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। এসব রোগে আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

    প্রশ্ন : এ সময়টায় কোন ধরনের রোগী বেশি পাচ্ছেন?

    উত্তর : বর্তমানে আমরা সবচেয়ে বেশি পাচ্ছি ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী, যাদের মধ্যে সর্দি-কাশির উপসর্গও রয়েছে। এ ছাড়া যাদের অ্যাজমা ও সিওপিডি রয়েছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং রোগের উপসর্গ তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে নিউমোনিয়ার রোগীও বাড়ছে। সাধারণ জ্বরের সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও এখন তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

  • দেশের ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার মোতায়েন

    দেশের ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার মোতায়েন

    দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সমজাতীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে আজ থেকে ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পাঁচ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (১ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে এ মোতায়েন কার্যকর করার পাশাপাশি বাস্তবায়ন শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

    সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখা-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও জনবান্ধব করতে নবগঠিত পাঁচটি উপজেলাসহ দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ১০ জন করে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

    যেসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকেই আনসার সদস্য কর্মরত রয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সদস্যদের সমন্বয় করে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১০ জন আনসার সদস্য নিশ্চিত করতে হবে।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ হাজার আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় হবে। এ অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পরিবর্তে আনসার ও ভিডিপির নির্ধারিত বাজেট কোডে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে আনসার সদস্যদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

    একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনরাও আরও নিরাপদ পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।

  • স্থ্য সুরক্ষার পণ্যে শুল্কের খড়্গ

    স্থ্য সুরক্ষার পণ্যে শুল্কের খড়্গ

    নারীর পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড একটি জরুরি পণ্য। আর যাদের ছোট শিশু রয়েছে কিংবা ঘরে অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন—এমন পরিবারে ডায়াপারও অন্যতম জরুরি পণ্য। ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল ননওভেন পণ্যের আমদানি শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় এসব পরিবারের খরচ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা।

    তাই ননওভেন পণ্যের আমদানি শুল্ক আগের ১০ শতাংশই রাখার দাবি জনিয়েছেন তারা, যা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে হাইজিন পণ্যের কাঁচামালে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হাইজিন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড।

    প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের মতো জরুরি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

    স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা তুলে ধরে স্কয়ার টয়লেট্রিজের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক আবেদনে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে এখনো খুব সীমিত সংখ্যক নারী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। দাম বাড়লে নারীরা ফের অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পিরিয়ড পার করতে বাধ্য হতে পারেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। একইভাবে শিশুদের ডায়াপারের মূল্য বৃদ্ধিও সাধারণ পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

    শুল্ক কাঠামোর অসংগতি উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাইজিন পণ্যের প্রধান কাঁচামাল ননওভেন আমদানিতে ১০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (সিডি) থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জীবন রক্ষাকারী ও হাইজিন পণ্যের কাঁচামালে এ ধরনের উচ্চ শুল্ক কাঠামো (২৫ শতাংশ পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি ও অতিরিক্ত রেগুলেটরি ডিউটি) বিশ্বব্যাপী বিরল।

    Reference

    কাস্টমস শুল্কায়নে জটিলতা প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমদানিকৃত ইনভয়েস মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করছে। চিঠিতে বলা হয়, ননওভেনের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। ল্যামিনেটেড ব্যাক শিটের ক্ষেত্রে এটি ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। অন্যান্য কাঁচামাল যেমন এসএপি, অ্যায়ার লেইড ও হুক টেপের ক্ষেত্রেও ১৯ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয়কে অসহনীয় করে তুলছে।

    হাইজিন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী সরকারের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন: ১. ননওভেনের কাস্টমস ডিউটি বৃদ্ধি না করে পূর্বের ১০ শতাংশ বহাল রাখা। ২. হাইজিন ইন্ডাস্ট্রিকে বর্ধিত রেগুলেটরি ডিউটির আওতামুক্ত রাখা। ৩. কাঁচামালের মোট ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। ৪. আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্কায়ন ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে সম্পন্ন করা।

    বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার এ সংকটকালীন দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সরকার এ প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, সব মিলিয়ে গড়ে মাসে ১৬০ থেকে ১৮০ কোটি টাকার ডায়াপার বিক্রি হয়। এতে পণ্যটির বার্ষিক বাজারের আকার দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কোটি থেকে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকার। আর বর্তমানে দেশের স্যানিটারি ন্যাপকিনের বাজার প্রায় ৬০০ কোটি টাকার। প্রতি বছর এ বাজার প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

    জানা যায়, করোনার আগেও বাংলাদেশে বেবি ডায়াপারের বাজারের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল। এখন তা কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তার মানে বর্তমানে বেবি ডায়াপারের প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার দেশি কোম্পানির হাতে। আমদানিনির্ভরতা কমায় বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হচ্ছে। যদিও কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। অন্যদিকে, কয়েক বছর ধরে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ডায়াপারের বাজার বড় হচ্ছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগও আসছে এ খাতে।

    ওষুধ খাতের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগ করায় ডায়াপারের বাজারে দেশি ব্র্যান্ডের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০টি। সিলিকন করপোরেশনের চু চু ডায়াপার, এবি গ্রুপের থাই ডায়াপার, এসিআইর স্যাভলন টুইংকেল, ইনসেপ্টার নিওকেয়ার, স্কয়ারের সুপারমম, বসুন্ধরার বেবি ডায়াপার, মেঘনা গ্রুপের হ্যাপি ন্যাপি, এসএমসির স্মাইল, প্রাণের কিডস্টার, আকিজের মাম মাম, ইউনিম্যাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যাভোনি ইত্যাদি দেশি ব্র্যান্ড রয়েছে বাজারে। একটি ওষুধ কোম্পানি নতুন করে ডায়াপারের বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে।

  • হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    স্বস্থ্য ডেস্ক:

    হামের উপসর্গে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ শিশু। এতে গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১৬ জনে।

    সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ১৪৫ শিশুর মধ্যে ১৪১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত প্রায় সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৬২।

    সবশেষ মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকার, একজন সিলেটের এবং একজন ময়মনসিংহের বাসিন্দা।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২১১ শিশুর। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ শিশুর।

    এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ শিশু। তাদের মধ্যে ৮০ হাজার ১৯৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৬২ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৪১ জন।

  • হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৩ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮, ঢাকা বিভাগে ২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ ও রাজশাহী বিভাগে আটজন রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী।