স্বাস্থ্য

  • রূপসায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা

    রূপসায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা

    রূপসায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাক স্বাস্থ্য কর্মসুচি জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ব্রাকের আয়োজনে ২২ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই সভা হয়।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাজেদুল হক কাওসার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথীর বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামিম। বিশেষ অতিথীর বক্তৃতা করেন ব্রাকের খুলনা জেলা ব্যাবস্থাপক মোঃ শফি কামাল, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হিমেল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আসাদুজ্জামান, রূপসা থানার সেকেন্ড অফিসার সাব ইন্সেপেক্টর লাইজু।

    ব্রাক এর কর্মকর্তা আকাস মাহামুদ হৃদয়ের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকারিয়া, নার্স ইনচার্জ নুর নাহার, প্রধান স্বাস্থ্য সহকারি তপতি সরকার, উপ সহকারি মেডিকেল অফিসার হিরামুন নাহার, মেডিকেল টেকনোলোজিষ্ট ল্যাব রনি প্রমুখ।

  • বিল ডাকাতিয়া এখন খুলনার অভিশাপ

    বিল ডাকাতিয়া এখন খুলনার অভিশাপ

    খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও আড়ংঘাটার বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।

    আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টির পানিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বিল ডাকাতিয়ায়। এতে পানিবন্দি হয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছেন এলাকাবাসী। উপরন্তু বিভিন্ন চর্ম ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।স্থানীয়রা জানান, একজন মানুষ মারা গেলে তাকে যে মাটি দেবে, তার কোনো জায়গা নেই এ অঞ্চলের মানুষের।বিল ডাকাতিয়ার বিস্তৃতি খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, আড়ংঘাটা এবং যশোর জেলার অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা এলাকায়।

    ৩০ হাজার একর চাষযোগ্য জমি রয়েছে এই এলাকায়। প্রবল বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রায় দুই মাস ধরে তলিয়ে আছে বিলের জমি। মাছ চাষিদেরও বিপাকে পড়তে হয়েছে।

    নদীতে পলি জমাট এবং অতিবৃষ্টিই এর মূল কারণ। এজন্য ফসল নষ্ট, আয়ের পথ বন্ধের পাশাপাশি চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এ এলাকায়। পরিস্থিতি এমন যে, বিল ডাকাতিয়া এখন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে স্থায়ী সমাধানের দাবি এখানকার পানিবন্দি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের।

    ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, “এ বছর বিল ডাকাতিয়ার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহের জন্য সম্ভবত ১-২ সপ্তাহ সময় নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

    পানিসম্পদ সচিব নাজমুল আহসান বলেন, ঘবে দ্রুত সমাধান খুঁজতে আগ্রহী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছি।”

  • চৌগাছায়  ভূয়া চিকিৎসক!

    চৌগাছায় ভূয়া চিকিৎসক!

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

    যশোরের চৌগাছায় এক ভূয়া চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিন জাহান।

    অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন যশোর সদর উপজেলার শংকরপুর এলাকার মরহুম আবু বক্কর বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল আলীম (৫০)। তিনি চৌগাছা-যশোর রোডের পাওয়ার হাউস মোড়ের উত্তর পাশে ছালেহা মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ‘আদর্শ মেডিকেল হল’-এ কথিত চিকিৎসক হিসেবে চেম্বার পরিচালনা করছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতসুত্রে জানা যায়, আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন নিজেকে সহকারী ই.এন.টি. ফিজিশিয়ান মেডিকেল প্র্যাকটিশনার পরিচয়ে রোগী দেখছিলেন এবং প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। অথচ তাঁর কাছে চিকিৎসা সেবার জন্য প্রয়োজনীয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অনুমোদিত কোনো নিবন্ধন নেই।

    আরও জানা যায়, তিনি প্রায় ৬-৭ মাস ধরে এই চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন এবং একই সঙ্গে যশোর সদর উপজেলার শংকরপুর এলাকার গফুরের মোড়ে অবস্থিত ‘মেসার্স আলীম ফার্মেসি’তে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখতেন।

    অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, ভুয়া ডাক্তারদের কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন। এ ধরনের প্রতারণা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকবে।

  • কালীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, জরিমানা

    কালীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রি, জরিমানা

    কালীগঞ্জে মাংস বিক্রির দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বুধবার সকালে পৌরসভার হাটচাঁদনী ও খাদ্য অফিসের সামনে মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) শাহিন আলম।

    এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু ও ছাগলের মাংস বিক্রি করার অপরাধে ২ মাংস ব্যবসায়ীকে দেড় হাজার টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও নলডাঙ্গা রোডে পচা মাংস বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীর মাংস মাটিতে পুতে ফেলা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম জানান, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে মাংস বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থায় জেল জরিমানা হতে পারে।

    অভিযানকালে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জিল্লু রাইন, পৌর স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেনসহ কালিগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মদপানে মারা যাওয়া চারজনের লাশ উত্তোলন

    মদপানে মারা যাওয়া চারজনের লাশ উত্তোলন

    চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত মদপানে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করায় আদালতের নির্দেশে এসব লাশ তোলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার পৃথক চারটি গ্রাম থেকে লাশগুলো উত্তোলন করা হয়।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী জানান, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন হওয়া সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের মোহাম্মদ সেলিম, নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী ও শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লার লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশগুলো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হবে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী জানান, ৯ অক্টোবর রাতে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকার কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে মদপান করেন। পরে ১১ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।

    একই দিন তাদের লাশ গোপনে দাফন করে পরিবারের লোকজন। পরদিন ১২ অক্টোবর মৃত্যু হয় আরও দুজনের। তখন বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পুলিশ ১২ অক্টোবর লাশ দুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

  • মেহেরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ বিতরণ

    মেহেরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ বিতরণ

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ঔষধ ও স্বাস্থ্য উপকরণসহ আসবাবপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃতগুলাের মধ্যে রয়েছে-এন্টাসিড ট্যাবলেট ২৮বক্স, মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ২৪ বক্স, নাপা এক্সট্রা ১৬ বক্স,ওরস্যালাইন ১৬ বক্স,হিস্টাসিন ১০ বক্স,চেয়ার ৬টি, টেবিল ১টি,বিপি মেশিন ৪টি ওওয়েট মেশিন- ২টি।

    বুধবার দুপুর ২টার দিকে সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এসব বিতরণ করেন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমাতারা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহম্মেদ, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আশিইল ইশরাক,স্যাকমাে আমির হামজা,স্বাস্থ্য কর্মী নাজমুন নাহার ও নাহিদা আক্তারসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।

    এদিকে,বিতরণকৃত এসব ঔষধ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে।

  • কুমিল্লায় ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

    কুমিল্লায় ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু

    কুমিল্লা নগরের বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকায় চালু হয়েছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল’। বিশেষায়িত এই হাসপাতালে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন ডায়াবেটিক রোগীরা। পাশাপাশি সব রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবাও মিলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অর্ন্তবর্তী সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এই হাসপাতাল কুমিল্লার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে। ঢাকায় গিয়ে নয়, এখন থেকে কম খরচে কুমিল্লাতেই ডায়াবেটিকসহ যেকোনো রোগের উন্নত সেবা পাবেন রোগীরা।’হাসপাতালটি নির্মাণ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। কুমিল্লার বাসিন্দা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব প্রয়াত এ টি এম শামসুল হক এই প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ২৫ একর) সম্পত্তি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিকে দান করেছেন।

    হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।

    বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন) বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান, জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, অধ্যাপক হাজেরা মাহাতাব, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত এটিএম শামসুল হকে সহধর্মিণী রাবেয়া হক, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. এম এ সামাদ প্রমুখ।

  • শিশুর শরীরে ক্ষতিকর সিসা; পদেক্ষপ জরুরী

    শিশুর শরীরে ক্ষতিকর সিসা; পদেক্ষপ জরুরী

    দেশের ৩৬ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু সিসার ক্ষতিকর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ২ কোটি শিশু সিসার ক্ষতিকর প্রভাবে বেড়ে উঠেছে দুর্বল মেধা নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার কোনো গ্রহণযোগ্য মাত্রা নেই, যদিও বাংলাদেশের শিশুদের শরীরে সিসার গড় পরিমাণ ৬৮ মাইক্রোগ্রাম। এমনকি দেশে প্রতি বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪ জনের মৃত্যু হয়, তার পেছনেও সিসার পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সিসা দূষণ প্রতিরোধ: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

    এ সময় জানানো হয়, সিসা বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা নীরবে লাখ লাখ মানুষের বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে চলেছে। রক্তের মধ্যে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শিশুদের রক্তে প্রতি লিটারে ৩৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি সিসার উপস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করে।

    ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সিসা দূষণে আক্রান্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানে চতুর্থ। যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা নিয়ে জীবনধারণ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বস্তি এলাকায় দুই বছরের কম বয়সী ৮৭ শতাংশ শিশুর রক্তে প্রতি লিটারে সিসার মাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রামের বেশি ছিল, যা তাদের শারীরিক বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতার প্রধান কারণ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইসিডিডিআর,বির হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিজ ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. সারাহ স্যালওয়ে বলেন, ‘সিসা দূষণ বাংলাদেশের একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রায়ই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। বিশেষ করে দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পের আশপাশের শিশুরা এর সবচেয়ে বড় শিকার।’

    সিসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে বলে জানান স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং আইসিডিডিআর,বির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক স্টিভ লুবি। তিনি বলেন, ‘এর ফলে বুদ্ধিমত্তা ও শেখার ক্ষমতা কমে যায়, যা পরবর্তী প্রজন্মের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে। আমরা নিঃশ্বাসে যে বাতাস নিই, যে খাবার খাই, দূষিত মাটি বা ধূলিকণা স্পর্শ করি এবং এমনকি গর্ভাবস্থায় মায়ের প্লাসেন্টা (গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে তৈরি হওয়া একটি বিশেষ অঙ্গ, যা মা ও ভ্রূণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে) থেকেও সিসা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।’

    আইসিডিডিআর,বির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. মাহবুবুর রহমান গত ১০ বছরের সিসা-সম্পর্কিত গবেষণার ফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিসা দূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে সিসা ও ব্যাটারি-সম্পর্কিত শিল্পকারখানা, সিসাযুক্ত রং এবং প্রসাধনী ও রান্নার পাত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। হলুদে ভেজাল (লেড ক্রোমেট দিয়ে পালিশ করা) প্রতিরোধে বেশ সফলতা এসেছে। স্ট্যানফোর্ড ও আইসিডিডিআর,বির একটি দল অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রক্তে সিসা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে হলুদকে চিহ্নিত করার পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে ২০১৯ সালে যেখানে ৪৭ শতাংশ হলুদের নমুনায় সিসা পাওয়া যেত, তা কমে ২০২১ সালে শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে। আইসিডিডিআর,বির সহকারী গবেষক ডা. জেসমিন সুলতানা ২০২২-২৪ সালের মধ্যে ঢাকায় পরিচালিত গবেষণার প্রাথমিক ফল তুলে ধরেন। এই গবেষণায় ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিটি শিশুর রক্তেই সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে (মধ্যমমাত্রা: ৬৭ মাইক্রোগ্রাম/লিটার) এবং ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিডিসির উদ্বেগজনক মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটার-এর চেয়ে বেশি সিসা ছিল। এই গবেষণায় চিহ্নিত সিসা-নির্ভর শিল্প স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা ছিল ৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বসবাসকারী শিশুদের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। অন্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘরের ভেতরে ধূমপান, দূষিত ধূলিকণা, সিসাযুক্ত প্রসাধন সামগ্রী ও রান্নার পাত্র।

    আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘সিসার বিষক্রিয়া নীরবে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেড়ে নিচ্ছে। এটি তাদের মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশ ব্যাহত করে ও দেহে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। তাই আমাদের এখনই এই সিসা নিঃসরণকারী ক্ষতিকর উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে, যাতে প্রতিটি শিশু সুস্থ ও বুদ্ধিমান হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।’

    আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা সিসা-নির্ভর শিল্প স্থাপনা যেমন—সিসা-এসিড ব্যাটারি বানানো বা রিসাইক্লিং করার কারখানা বা স্থাপনা, অথবা যেসব কারখানা বা স্থাপনায় সিসা গলানো বা পোড়ানো হয়, এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগাদা দেন।

  • কেমিকেল মিশ্রিত খাবার; হুমকির মুখে মানবজাতি

    কেমিকেল মিশ্রিত খাবার; হুমকির মুখে মানবজাতি

    বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক দূষণ এখন মানবজাতি ও প্রকৃতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপদের ব্যাপারে এখনো যথেষ্ট জনসচেতনতা কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ গড়ে ওঠেনি।

    বিশ্বব্যাপী ১০ কোটির বেশি ‘নতুন রাসায়নিক পদার্থ’ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ রাসায়নিক বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এসব রাসায়নিক পদার্থ আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সচেতনতা খুবই কম।

    ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চার্স (ডিএসভি) নামক একটি গবেষণা সংস্থা জানায়, আমরা প্রতিদিন যে পানি পান করি, বাতাসে শ্বাস নিই, খাবার খাই, এমনকি যে সাবান, শ্যাম্পু বা ঘরের জিনিসপত্র ব্যবহার করি—তাতে থাকা অনেক রাসায়নিকের নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়নি বা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

    গবেষণা বলছে, খাদ্য প্যাকেট ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের সংস্পর্শে থাকা ৩ হাজার ৬০০-র বেশি রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরে পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। বিশেষ করে পিএফএএস বা ‘ফরএভার কেমিক্যালস’, যা একবার শরীরে ঢুকলে সহজে বের হয় না, তা প্রায় সব মানুষের শরীরে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতেও এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ এমন শ্বাস নিচ্ছে, তা দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এসব রাসায়নিক পদার্থ মানুষের প্রজননক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ, স্নায়ুবিক কার্যক্রম, হৃদযন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, যকৃত ও কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

    বিশেষ করে কীটনাশকের ব্যবহার ও বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত ও গর্ভধারণে জটিলতার মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানান, হরমোনে প্রভাব ফেলা রাসায়নিকগুলো অনেক সময় অতি সামান্য মাত্রাতেই মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা প্রচলিত টেস্ট পদ্ধতিতে ধরা পড়ে না।

    এই গবেষণাটি প্লাস্টিক দূষণ এবং রাসায়নিক দূষণের বিষয়েও সতর্ক করেছে। ডিএসভি বলছে, রাসায়নিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থায় এখনই বিপুল পরিবর্তন দরকার। আর এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও উদ্যোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে।

  • পালাতক থেকেও চাকরিতে বহাল চৌগাছা হাসপাতালের চিকিৎসক মৃদুল কান্তি !

    পালাতক থেকেও চাকরিতে বহাল চৌগাছা হাসপাতালের চিকিৎসক মৃদুল কান্তি !


    যশোরের চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক মৃদুল কান্তি দশ বছর পালাতক থাকলেও খাতা-কলমে বহাল তবিয়তে আছেন। এছাড়া আরো দুই চিকিৎসক দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পদ শুণ্য না হওয়ায় চিকিৎসক পদায়ন করছেনা কর্তৃপক্ষ। যারফলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে ।

    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মৃদুল কান্তি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ২০১৪ সালের পর আর কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। একইভাবে মেডিকেল অফিসার সাইমা নাহিদ শান্তা ২০২১ সাল থেকে এবং মেডিকেল অফিসার গোলাম রসুল ২০১৯ সাল থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যে কারনে পদও শুণ্য হয়নি। অপরদিকে চিকিৎসক পদায়ন না করায় ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তিনজন চিকিৎসক না থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকরা।
    হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতাকলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১৭ জন চিকিৎসককে। কিন্তু এই ১৭ জনের ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন আরও চার জন চিকিৎসক। এছাড়া মেডিকেল ছুটি ও ট্রেনিংএ আছেন আরো দুই জন। বাকি ৮ জনের ২ জন প্রশাসনিক পদে কর্মরত। বর্তমানে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে দেশ সেরা এই মডেল হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।
    একটি সুত্র জানিয়েছে যে সকল চিকিৎসকরা চৌগাছা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারনে তারাও বদলি নিতে চেষ্টা করছেন।
    বুধবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বর্হির বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে, বর্হির বিভাগের চিকিৎসক সাইদুর রহমান ইমন বলেন,এ হাসপাতালে রোগীর ভিড় নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিদিনই এখানে ২৪ ঘন্টা রোগীর ভিড় থাকে। সে তুলনায় চিকিৎসক সংখ্যা কম রয়েছে।
    একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে অনুপস্থিত চিকিৎসকরা বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা আর কর্মস্থলে ফিরে আসবেননা।
    জানতে চাইলে চৌগাছা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল মিজান রুমি বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন আগে এই হাসপাতালে যোগদান করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে অনুপস্থিত তিনজনের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করা যায় সমস্যার সমাধান হবে।

  • আগুনে পোড়া রোগীর এতো রক্ত লাগে কেন?

    আগুনে পোড়া রোগীর এতো রক্ত লাগে কেন?

    স্বাস্থ্য আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় প্রায়শই প্রচুর পরিমাণে রক্তের প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কেন আগুনে পোড়া রোগীদের এত বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়, এই বিষয়টি জানতে অনেকেরই বেশ কৌতুহল রয়েছে। চলুন জেনে নেই এ বিষয়ে বিস্তারিত।

    আগুনে পোড়া আঘাত একটি অত্যন্ত গুরুতর অবস্থা, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে শরীরে জটিল শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যার অন্যতম প্রধান পরিণতি হলো প্রচুর পরিমাণে রক্ত ও তরল পদার্থের ক্ষয়।

    রক্তের প্রয়োজনীয়তার মূল কারণসমূহ—

    প্লাজমা ও তরল ক্ষয়: আগুনে পোড়ার কারণে ত্বকের রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে রক্তরস (প্লাজমা) দ্রুত শরীরের কোষের বাইরে বেরিয়ে আসে এবং আক্রান্ত স্থানে জমা হয়। এই তরল ক্ষয়ের পরিমাণ এতটাই বেশি হতে পারে যে, তা রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়, যা হাইপোভলেমিয়া (Hypovolemia) নামে পরিচিত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রচুর পরিমাণে ফ্লুইড (যেমন স্যালাইন) এবং প্লাজমা বা রক্তের প্রয়োজন হয়।

    রক্তকণিকার ক্ষতি: উচ্চ তাপমাত্রার কারণে রক্তকণিকা, বিশেষ করে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells), সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের ক্ষতি হলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে তাজা রক্ত বা প্যাকড রেড ব্লাড সেল দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

    সংক্রমণ এবং টিস্যু নেক্রোসিস: আগুনে পোড়ার পর ত্বক তার সুরক্ষা প্রাচীর হারিয়ে ফেলে, ফলে শরীর জীবাণু দ্বারা সহজে আক্রান্ত হয়। গুরুতর সংক্রমণে শরীর দ্রুত রক্ত তৈরি করতে পারে না এবং বিদ্যমান রক্তকণিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, পোড়া টিস্যু মরে গেলে (নেক্রোসিস) শরীর সেই মৃত টিস্যু অপসারণের জন্য রক্ত ব্যবহার করে, যা রক্তের চাহিদা আরও বাড়িয়ে তোলে।

    অস্ত্রোপচার ও ড্রেসিং: আগুনে পোড়া রোগীদের প্রায়শই একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়, যেমন – ডেব্রাইডমেন্ট (মৃত টিস্যু অপসারণ) এবং স্কিন গ্রাফটিং (ত্বক প্রতিস্থাপন)। প্রতিটি অস্ত্রোপচারেই রক্তক্ষয় হয়। তাছাড়া, নিয়মিত ড্রেসিং পরিবর্তনের সময়ও কিছুটা রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তের চাহিদা বাড়ায়।

    রক্তাল্পতা (Anemia): দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ, পুষ্টির অভাব এবং বারবার রক্তক্ষরণের কারণে আগুনে পোড়া রোগীরা রক্তাল্পতায় ভুগতে পারে। রক্তাল্পতা মোকাবিলায় নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

    চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রক্তের ভূমিকা:

    আগুনে পোড়া রোগীর স্থিতিশীলতা এবং জীবন রক্ষায় রক্তের ভূমিকা অপরিসীম। রক্ত ও তরল পদার্থের সঠিক এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শক, কিডনি ফেইলিওর এবং অন্যান্য গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। চিকিৎসকরা রোগীর পোড়ার মাত্রা, শরীরের মোট পোড়া পৃষ্ঠের শতাংশ (Total Body Surface Area – TBSA), বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রক্তের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন।

    এ কারণে, আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় রক্তদান কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রক্তদানে উৎসাহিত করা এই গুরুতর রোগীদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • জামায়াত আমিরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন ড. ইউনূস

    জামায়াত আমিরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন ড. ইউনূস

    হার্টে একাধিক ব্লক ধরাপড়ার পর বাইপাস সার্জারির জন্য বুধবার থেকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন অর্ন্তরবর্তীকাইলক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহামম্দ ইউনূস।

    জামায়াত আমিরের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে পোস্ট করা ওই স্ট্যাটাসে বলা হয়, বাইপাস সার্জারির জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সামগ্রিক খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি জামায়াতের আমিরের আশু রোগমুক্তি কামনা করেছেন। এজন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ প্রধান উপদেষ্টাকে উত্তম জাযা দান করুন।

  • গাজায় ত্রান শিবিরে ইসরাইলি হামলায় ৭১ জন নিহত

    গাজায় ত্রান শিবিরে ইসরাইলি হামলায় ৭১ জন নিহত

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

    যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও গাজায় অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ আনতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। বুধবার ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

    গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গেছে আরো সাতজন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার উত্তর গাজায় প্রবেশকারী ত্রাণ ট্রাকগুলো জিকিম ক্রসিং পয়েন্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৪৮ জনের বেশি মানুষ।

    নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে তথাকথিত মোরাগ করিডোরের কাছে সাহায্যের জন্য আসা আরো ২০ জন নিহত হয়েছেন।

    গত মে মাসের শেষের দিকে অভিযান শুরু করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সমর্থিত জিএইচএফ পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ স্থান পরিণত হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। জিএইচএফ কেন্দ্রে ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

    পর্যাপ্ত সাহায্য প্রদানে ব্যর্থতার জন্য এবং এর সাহায্য বিতরণ স্থান এবং এর আশেপাশে ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলি জিএইচএফ-এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে ৮৯ জন শিশুসহ ১৫৪ জন মারা গেছেন। যার বেশিরভাগই মারা গেছেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে।

    ক্রমবর্ধমান চাহিদা সত্ত্বেও, গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ ইসরাইল ঢুকতে দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

    জাতিসংঘ বলছে, মৌলিক মানবিক চাহিদা মেটাতে গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন। গত চার দিনে মাত্র ২৬৯টি ট্রাক ত্রাণ নিয়ে গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।

  • ডেঙ্গুতে  চলতি বছরে ৮১ মৃত্যুর অর্ধেকই জুলাইয়ে

    ডেঙ্গুতে চলতি বছরে ৮১ মৃত্যুর অর্ধেকই জুলাইয়ে

    এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলছে। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ছিলেন।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৮১ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৩৯ জন) মারা গেছেন জুলাইয়ের ৩০ দিনে।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৬ জন রোগী। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৭০২ জন।

    ৩০ জুলাই বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য দেয়। কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হন না।

    অনেকে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। ফলে বিভিন্ন ল্যাবরেটরি বা ক্লিনিকে পরীক্ষা করে যাদের ডেঙ্গু পজেটিভ শনাক্ত হচ্ছে, সেই তথ্য দিতে পারছে না সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে দেশে ঠিক কত মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সেই তথ্য জানা যায় না।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৫ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন রয়েছেন। এ সময় ৩৭৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৯ হাজার ৩২৯ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ৩০ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ দশমিক সাত শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক তিন শতাংশ নারী রয়েছেন।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ যাবৎ ডেঙ্গুতে মোট ৮১ জন মারা গেছেন।

    ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে এক বছরে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২০২৩ সালে।

    এর পরের বছর ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং আগের বছরগুলোর মধ্যে ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন, ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ জন, ২০২০ সালে ১ হাজার ৪০৫ জন এবং ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

    গত বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৬ হাজার ১৪৪ জন এবং মারা যায় ৫৬ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ২৩৭ শতাংশ বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ে ৪৪ শতাংশের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলেছেন, বৃষ্টি-পরবর্তী জমে থাকা পানি এবং বাড়তি তাপমাত্রা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যা ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়িয়ে তুলছে। তাই শুধু সরকারি ব্যবস্থার ওপর না ভরসা করে, ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

  • জামায়াত আমিরের হার্টে একাধিক ব্লক! দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

    জামায়াত আমিরের হার্টে একাধিক ব্লক! দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

    বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তার বাইপাস সার্জারীর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা। জামায়াত আমিরের পিএস মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় দুইবার মঞ্চে পড়ে গিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। পরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ওইদিন রাতেই বাসায় ফেরেন তিনি।

    নজরুল ইসলাম জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন জামায়াত আমির। সেখানে বিকাল চারটার দিকে এনজিওগ্রাম করা হয়। কার্ডিওলজিস্ট ডা. মমিনুজ্জামানের অধীনে সম্পন্ন হওয়া এনজিওগ্রামে হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন। সেই প্রস্তুতি চলছে।

    জানা গেছে, জামায়াত আমিরের হার্টে ব্লক ধরা পড়ার খবরে তার পরিবার ও দলীয় নেতাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও পরামর্শ দেয়া হয় দলের পক্ষ থেকে। তবে জামায়াত আমির দেশেই চিকিৎসার নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। দ্রুত সুস্থতায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    চিকিৎসাসেবায় ১৬ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া যশোরের চৌগাছা মডেল হাসপাতালে জনবল সংকটে ধুকছে সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে ২’শ ১০ টি পদের বিপরীতে শূণ্য রয়েছে প্রায় ১’শ টি পদ। চৌগাছা হাসপাতালে নারী, পুরুষ ও শিশু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫’শ থেকে ৬’শ রোগী উপস্থিত হয়। জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে রোগীদের সেবা কার্যক্রম। যার ফলে মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
    হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদের সংখ্যা রয়েছে ২’শ ১০ টি। এর মধ্যে শূণ্য রয়েছে ১’শ টি পদ।

    এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতা কলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১২ জন চিকিৎসককে। কিন্তু এই ১২ জনের ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। সংযুক্তিতে রয়েছেন আরও ২ জন চিকিৎসক। প্রশিক্ষণে রয়েছে ১ জন। বাকি ৬ জনের ২ জন প্রশাসনিক পদে কর্মরত। বাকি ৪ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১ জন নাইট ডিউটি করতে হয়। নাইট ডিউটি করলে পরের দিন সেই চিকিৎসকের ডে অফ থাকে। বর্হিঃ বিভাগে রোগী দেখেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বর্তমানে মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে দেশসেরা এই মডেল হাসপাতালের বর্হিঃ বিভাগের চিকিৎসা সেবা।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন, মেডিকেল অফিসার মৃদুল কান্তি ২০১৪ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার সায়মা নাহিদ শান্তা এবং (অর্থপেডিক) গোলাম রসুল কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাদেরকে বছরের পর বছর চৌগাছায় পদায়ন দেখানো হচ্ছে। তাদের নাম কর্তন না পর্যন্ত এই পদে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব না। স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে বার বার চিঠি দিয়েও অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
    মেডিকেল অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন ও শিশু কনসাল্টটেন্ট আব্দুস সামাদ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.আব্দুস সামাদ, মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম, ফারিয়া ইয়াসমিন আগে থেকেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।
    পক্ষান্তরে হাসপাতালে খাতা-কলমে অত্যন্ত জরুরি অ্যানেসথেসিয়া শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে তারা নেই। এছাড়া ২০ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
    এদিকে হাসপাতালটিতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ১’শ শয্যার কার্যক্রমের জন্য বিল্ডিং নির্মান কাজ শেষ হলেও সেবার জন্য হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
    প্রধান সহকারী, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী, এমএলএসএস, ওয়ার্ড বয় এবং আয়াসহ এসব তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোর মধ্যে ৬৩টি রয়েছে শূন্য। যেকারনে বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম।

    হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিগত দিনে চৌগাছা মডেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ইমদাদুল হকের চেষ্টায় অন্তঃসত্তাদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। মা ও প্রসূতিসেবায় অবদান রাখার ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এটি উপজেলা পর্যায়ে একটানা দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৮ সালেও হাসপাতালটি অর্জন করে জাতীয় পুরস্কার। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যসেবায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে পায় ‘হেল্থ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। সর্বশেষ চৌগাছা মডেল হাসপাতাল ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দেশ সেরার প্রথম পুরস্কার পায়।
    চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া আবু কালাম বুড়িন্দিয়া এলাকার সখি খাতুন সহ অনেকেই জানান, এখানে জরুরি মুহূর্তে সেবা পাওয়া কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুর আড়াইটার পর অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য সমস্যায় রোগীদের ছুটতে হচ্ছে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ বেসরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। দেশসেরা হাসপাতালে আগের মতো চিকিৎসাসেবা নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
    হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন ‘লোকবলের শূণ্যতা পুরনের জন্য অনলাইনে সফট কপি এবং হার্ডকপি উভয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মোট লোকবল ২১০ জন। এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১২০ জন, ফাঁকা রয়েছে ৯০ জন।’

    জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন বলেন, চৌগাছার বিষয়টি আমার নজরে আছে। চেষ্টা চলছে লোকবল বাড়ানোর জন্য।

  • চিকিৎসক-সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    চিকিৎসক-সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, পেশাগত মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭ হাজার চিকিৎসককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) ৫২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    এ সময় নূরজাহান বেগম বলেন, ‘চিকিৎসকদের পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগকে আমরা মূল্য দিই। দীর্ঘদিন ধরে অনেক চিকিৎসক তাঁদের ন্যায্য পদোন্নতি ও বেতনকাঠামো পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই, চিকিৎসকেরা উৎসাহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করুন।’

    বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

    তিন দিনের এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি চক্ষুবিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।






  • যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো

    যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো

    যোগাসন ও পিলাটিস এই সময়ের জনপ্রিয় দুই শরীরচর্চার পদ্ধতি। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে অনেকেই এই দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে আবার দুটি পদ্ধতির চর্চা করছেন সমন্বয় করে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, পিলাটিস না যোগাসন, শরীরের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর? বা কোনটিতে বেশি উপকার?

    যোগাসন

    নিয়মিত যোগাসন করলে শরীর নীরোগ থাকে। এটি এমন এক শরীরচর্চা, যার কোনো নেতিবাচক দিক নেই। প্রয়োজন হয় না কোনো যন্ত্রপাতিরও। যেকোনো বয়সে যে কেউ যোগাসন শুরু করতে পারেন। জিমে গিয়ে যাঁরা শরীরচর্চার সময় পান না, তাঁদের জন্য যোগাসন আদর্শ। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে যোগাসন বেশ কার্যকর। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় যে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে, তা প্রতিরোধের জন্যও যোগাসনে রয়েছে বিভিন্ন আসন। ঋতু পরিবর্তনে যে রোগগুলো শরীরে হানা দেয়, নিয়মিত যোগচর্চায় সেসব থেকেও মিলবে মুক্তি।

    পিলাটিস

    অপর দিকে পিলাটিসকে বলা হয় কার্ডিও ব্যায়াম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জোসেফ পিলাটিস আহত সৈনিকদের নানা ধরনের শারীরিক কসরতের মাধ্যমে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই পিলাটিস নামের শরীরচর্চার জন্ম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যখন নানা ধরনের ব্যথার উৎপত্তি হয়, তখন পিলাটিস অনুশীলনে আরাম মেলে।

    শরীরচর্চার জন্য এই দুটি পদ্ধতিই জনপ্রিয়। যোগ প্রসঙ্গে যোগব্যয়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তুনু জানান, যোগাসনে সাধারণের রোগ বা শারীরিক সমস্যার প্রতিকার মিলবে। তবে যোগাসনের ক্ষেত্রে ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজ বা শ্বাসপ্রশ্বাসের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাস ঠিক না থাকলে নিয়মিত যোগাসন করলেও কোনো উপকার মিলবে না। তবে শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক রেখে যাঁরা যোগাসন করেন, তাঁরা অনেক উপকার পান। যেহেতু শরীর ও মনের যোগকে বলে যোগাসন বা ইয়োগা, এই যোগ সম্পন্ন করে নিশ্বাস। মানুষ নিশ্বাস নিতে নিতে প্রাণায়ামের মধ্য দিয়েই নানা আসন করেন। যোগাসনে শরীরের প্রতিটি সমস্যা ধরে ধরে আলাদাভাবে আসন করা হয়। উচ্চতা বৃদ্ধি, মুখের গড়নে পরিবর্তন, পেটের মেদ কমানোর মতো আরও অনেক উপকারিতা মেলে যোগাসনে।

    অপর দিকে যাঁরা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, তাঁদের জন্য পিলাটিস বেশ কার্যকর। পিলাটিস শরীরের কাঠামো ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের জটিল সব রোগ সারাতে সাহায্য করে। তবে শরীরের ধরন ও জীবনযাপন বুঝে পিলাটিস করা ভালো। অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া একসময় নিয়মিত যোগাসন করতেন। এখন পিলাটিসে ঝুঁকেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত হলো, যোগাসনের চেয়ে পিলাটিসে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পিলাটিস বডি টোনিংয়ের জন্য খুব ভালো। শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়। লুকে একধরনের বোল্ডনেস আনে বলেও মনে করেন নুসরাত ফারিয়া।

  • রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?

    রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?

    চানা বুট বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার। কোনো এক বেলার স্ন্যাকস তো বটেই, রাতের খাবারের বিকল্পও হতে পারে এক কাপ চানা বুট। চানা বুটে আছে আমিষ, শর্করা এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আরও আছে পর্যাপ্ত আঁশ। এ সম্পর্কে জানালেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ

    পর্যাপ্ত আঁশ ও আমিষ থাকায় চানা বুট খেলে আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না। আবার এতে শর্করাও পাবেন। অর্থাৎ কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার জন্য আপনি পর্যাপ্ত ক্যালরিও পাবেন তা থেকে। বুঝতেই পারছেন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রোজ চানা বুট খেতে পারেন। এভাবে ওজন কমানো সহজ হবে।

    আঁশের উপকার এখানেই শেষ নয়

    পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ। রক্তের খারাপ চর্বি কমাতেও কাজে আসে এই আঁশ। তা ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হুট করে রক্তের সুগার বেড়ে যায় না, যেমনটা বাড়ে সাদা ভাত খেলে। চানা বুটের মতো আঁশযুক্ত খাবার খেলে রক্তের সুগার বাড়ে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকরভাবে।

    খনিজ উপাদানের উপকার অনেক

    চানা বুটে আছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়াম। চুল ও ত্বক সতেজ রাখার জন্য তো বটেই, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এসব উপাদান আমাদের প্রয়োজন রোজ। এসবের মধ্যে জিংক ও সেলেনিয়াম অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তার মানে তারুণ্য ধরে রাখতেও কাজে আসে এসব উপাদান। তা ছাড়া চানা বুটে আরও আছে সামান্য পটাশিয়াম ও আয়রন। তবে এই আয়রন দেহের কাজে লাগানোর জন্য এর সঙ্গে চাই ভিটামিন সি। অর্থাৎ টক ফল বা ফলের রসের সঙ্গে খেলে তবেই এই আয়রন কাজে লাগবে। হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতার জন্য সঠিক মাত্রায় পটাশিয়াম জরুরি। আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে কেবল এক কাপ চানা বুটের আয়রনের ওপর নির্ভর করে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

    বিকল্প আমিষ

    চানা বুটে যে আমিষ থাকে, তা দেহের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তবে এটি উদ্ভিজ্জ আমিষ হওয়ায় একে দ্বিতীয় শ্রেণির আমিষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্ভিজ্জ আমিষে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে না। সুস্থ থাকতে সারা দিনে চানা বুটের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও আমিষ গ্রহণ করতে হবে। আপনি চাইলে এক কাপ চানা বুটের সঙ্গে একটা সেদ্ধ ডিম কুচি করে যোগ করে নিতে পারেন। ডিম প্রাণিজ আমিষ বলে তা প্রথম শ্রেণির আমিষ। অর্থাৎ এতে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব কটি অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। চানা বুটে যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো নেই, সেসবের ঘাটতি মেটানো যায় এভাবে। অর্থাৎ চানা বুটের সঙ্গে ডিম যোগ করলে আমিষের মোট পরিমাণও বাড়ে, আবার আমিষের গুণগত মানও বাড়ে।

    খেয়াল রাখুন

    • চানা বুটে টক ফলের রস যোগ করলে আপনি ভিটামিন সির উপকারও পাবেন।
    • কাঁচা সবজি যোগ করলে পাবেন ভিটামিন বি।
    • চানা বুট সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। তেল যোগ করা হলে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যাবে। তাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হবে।
  • গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?

    প্রচণ্ড গরমে বড়দের চেয়ে অনেকটাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। তাপপ্রবাহে সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে তাদের ছোট্ট দেহ। তৃষ্ণা পেলে অনেক সময় তারা তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। শিশুরা যদি বোঝার মতো বয়সী হয়, তাহলে গরমের সময় কী খাওয়া উচিত, কী খাওয়া উচিত নয়—এসব বিষয়ে শিশুকে জানিয়ে রাখা ভালো। পোশাক বা খেলাধুলার মতো রোজকার সাধারণ ব্যাপারেও যত্নবান হোন। নিত্যদিনের জীবনযাপনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

    মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনুভা খান বলেন, ‘গরমে শিশুর পানির চাহিদা মেটানোর অর্থ কিন্তু এই না, তাকে বারবার জবরদস্তি পানি পান করাতে হবে। বরং তার দেহের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু প্রস্রাব করার সময় রং ও পরিমাণ খেয়াল করুন। শিশু যদি পর্যাপ্ত প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবের রং যদি হয় হালকা হলুদ খড়ের মতো, তাহলে

    এই চিকিৎসকের কাছ থেকে এই সময়ে শিশুর যত্নে কিছু ভুল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

    পানি নিয়ে জোরাজুরি

    বয়স ছয় মাস পার হলে শিশুকে পানি পান করানো শুরু করতে হয়। দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ থেকেই পানির চাহিদা অনেকটা মিটে যায়। পানি, অন্যান্য তরল ও ফলমূল থেকেও সে পানি পায়। সারা দিনই মাঝেমধ্যে শিশুকে পানি বা তরল খাবার খেতে উৎসাহ দিন। ফলের রস বা স্মুদি করে দিতে পারেন। তবে খুব বেশি চিনি দেওয়া পানীয় দেবেন না। তার সঙ্গে নিজেও পানি পান করুন। স্কুলে গেলেও যাতে পর্যাপ্ত পানি পায়, সে ব্যবস্থা রাখুন। তবে পানিশূন্যতার লক্ষণ না থাকলে শিশুকে পানি পান করানোর ব্যাপারে জোর করবেন না। অকারণ বিরক্তি ভাব বা জেদ, খানিকটা নিস্তেজ ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব হওয়া, মুখ বা জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে পানিশূন্যতার লক্ষণ।

    যা খুশি তা–ই খাওয়া

    গরমে পানি ও খাবারের মাধ্যমে বহু মারাত্মক রোগ ছড়ায়। অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণ হয়। এগুলো এড়িয়ে চলার ব্যাপারে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, স্কুলের পথে একলা সুযোগ পেলেও যেন সে এসব খাবার না খায়। রসনার তৃপ্তি মেটাতে বাড়িতে তার পছন্দের খাবার ও পানীয় তৈরি করে দিন। আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করবেন না, যদি না ঠান্ডায় তার খুব বেশি অ্যালার্জি থাকে। মাঝেমধ্যে আইসক্রিম বা হালকা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার সুযোগ দিন, তবে তা যেন নিরাপদভাবে তৈরি করা হয়। তাকে এটাও বুঝিয়ে বলুন, কড়া রোদ থেকে ঘরে বা ক্লাসে ঢোকামাত্রই ঠান্ডা কিছু খাওয়া উচিত নয়। একটু রয়েসয়ে তারপর সে খেতে পারে হালকা ঠান্ডা পানীয় বা খাবার।

    পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার ভুল

    • বাইরে গেলে হাতাকাটা পোশাক পরানো ভুল। কারণ, তাতে রোদ আর ধুলা–ময়লায় বেশি ক্ষতি হয়। পাতলা সুতি কাপড়ের ফুলহাতা জামা-পায়জামা পরালে শিশু সুরক্ষিত থাকবে।

    • আঁটসাঁট পোশাক পরানোও ভুল।

    • গাঢ় রঙের পোশাক পরানোও উচিত নয়। কারণ, এগুলো তাপ ধরে রাখে।

    • যিনি খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করবেন, হাত ধোয়ার ব্যাপারে তাঁর উদাসীন হওয়াটা মারাত্মক ভুল।

    • দুধ ও অন্যান্য খাবার খুব বেশি সময় বাইরে রাখা ঠিক নয়। এগুলো গরমে নষ্ট হয়ে যায়। সব খাবারই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা জরুরি।

    খেলার সময়কার ভুল

    • কড়া রোদের সময় বাইরে বা ছাদে খেলতে দেওয়ার ভুলটা করবেন না। খুব গরমে ঘরেই খেলুক। দুপুরে স্কুলে থাকলেও যাতে সে ভুলটা না করে।

    • শিশু যদি পার্কে খেলতে যায়, তাহলে তাকে আগেই ধাতব খেলার সামগ্রীগুলোতে উঠতে দেওয়া আরেক ভুল। প্রথমে এগুলোর তাপমাত্রা হাতের তালুর উল্টো পিঠ দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ, দুপুরের রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ধাতবসামগ্রী পরেও গরম থাকতে পারে। এগুলো তাপমাত্রাসহনীয় হলে তাকে উঠতে দিন।

    • পানির কাছে তাকে একা ছাড়ার ভুলটি করা যাবে না। ঝোপঝাড়ে শিশু যেন হাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।