স্বাস্থ্য

  • জাতিসংঘের প্রতিবেদন

    জাতিসংঘের প্রতিবেদন

    বিশ্বে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই

    বিশ্বের প্রতি তিনজনের একজন স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্যের দাম মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার কেনার সামর্থ্য নেই বিশ্বের ২৬৯ কোটি মানুষের। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার যে বৈশ্বিক লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে ‘প্রচুর’ কাজ করতে হবে।

    ২০২৫ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল, তা-ও থামার ইঙ্গিত মিলেছে।

    প্রতিবেদনের অন্যতম প্রণেতা ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে অক্ষম মানুষের হার এখনো ‘অত্যন্ত বেশি’।

    ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম ৪ দশমিক ২৮ পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা ডলার। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ২৮ ডলারে যে পরিমাণ জিনিস কেনা যায়, যেকোনো দেশে সেই পরিমাণ অর্থের সমমূল্যই হলো একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম।

    ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, ‘চরম দারিদ্র্যসীমা হলো জনপ্রতি দৈনিক ৩ পিপিপি ডলার। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবারের এই খরচ দারিদ্র্যসীমার চেয়ে অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো সাধারণত মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, ফল ও শাকসবজির চেয়ে দানাশস্য এবং শ্বেতসারজাতীয় মূল খাবারগুলোতে বেশি ভর্তুকি দেয়।

    এর অর্থ হলো, মানুষ কেবল ক্যালরি পাচ্ছে, কিন্তু খাবারে কোনো বৈচিত্র্য থাকছে না। স্থূলতার পাশাপাশি ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের বিস্তারে এর প্রভাব রয়েছে বলে টোরেরো উল্লেখ করেন।

    এই প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত জাতিসংঘের আরেক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যানেও এমন চিত্র দেখা যায়। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১২ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা খুব দ্রুত বাড়ছে। স্থূলতা বৃদ্ধির কারণে যে ঝুঁকি ও অদৃশ্য খরচ বাড়বে, তা কমানোর জন্য আমাদের এখন নিবিড়ভাবে কাজ করা প্রয়োজন।’

    টোরেরো অবকাঠামো, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করা গেলে মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ফল ও শাকসবজির দাম কমিয়ে আনা সম্ভব।

    ম্যাক্সিমো টোরেরোর মতে, ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা হলে তা বেশ কাজে দিতে পারে। এতে পুষ্টিহীনতার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

    ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকার ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখে না। এ হার এশিয়া অথবা লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    প্রথমবারের মতো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত মানুষের আবাসস্থল এখন আফ্রিকা। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মহাদেশটিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ। আর এশিয়ায় এই সংখ্যা ২৯ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্য দিয়ে এশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে আফ্রিকা।

    ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, আফ্রিকায় উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই মূলত ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা এতটা বেড়েছে। তবে ‘বহু বছরের মধ্যে এবারই প্রথম’ আনুপাতিক হারে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

    এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যানে আমরা এমন একটি সময়ে ক্ষুধার্ত মানুষের হার কমতে দেখেছি, যখন এ অঞ্চলে বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।’

    এই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যে বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব আগামী বছরের পরিসংখ্যানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ফাও, ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চৌগাছা-যশোর সড়কের সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় আহতদের চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

    আহতরা হলো— সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিমি খাতুন (১৩), সুরাইয়া রহমান (১২), চায়না খাতুন (১৫), শরিফা খাতুন (১২) ও সিয়াম হোসেন (১৫)। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের বড় নিয়ামতপুর গ্রামের দিপু হোসেন (৩২), তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (২০) ও মেয়ে সিনথিয়া (৩)।

    জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় যশোর থেকে চৌগাছাগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং চালকসহ আরোহীরাও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী জিমি, চায়না, শরিফা, সিয়াম ও মোটরসাইকেল চালক দিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চায়নাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

  • ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা; প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

    ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা; প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

    গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। সংস্থাটির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া সতর্ক করেছেন, এখনই ভাইরাসের বিস্তার থামানো না গেলে এটি বিশ্বের ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হতে পারে।

    মঙ্গলবার ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর গত ৬৫ দিনে দেশে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২৩ জনে। এর মধ্যে ৯৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মৃত্যুহার ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তের হার ৮১ দশমিক ১ শতাংশ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জ্যাঁ কাসেয়া বলেন, ‘ইবোলার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক গতিতে বাড়ছে। এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। আজ যদি আমরা এটি থামাতে না পারি, তবে এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হয়ে উঠবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি দেরি করার সময় নয়। সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে, যাতে আরও প্রাণহানি রোধ করা যায়।’

    বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রদেশ হাউট-উয়েলে, ইতুরি, নর্থ কিভু, সাউথ কিভু ও তশোপোতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বুন্ডিবুগিও ভাইরাস স্ট্রেইনের কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ইতুরি প্রদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে এবং হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭ জন।

    আজ বুধবার ( ২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭০৮ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯ হাজারের বেশি।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ৩৭ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট হাম আক্রান্ত ১৪ হাজার ৮৪১। আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৯০৪ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন।

  • যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে গত ২২ বছরে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু স্বল্প খরচে চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু বহির্বিভাগ ও এক লাখ ১৫ হাজার শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা পেয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে সেবা নিতে আসে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শিশু হাসপাতালটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা হাসপাতালটি বাণিজ্যিক চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। যার সুফল পেয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু।

    হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু এখানে এসে বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে এবং এক লাখ ১৫ হাজার রোগীকে ইনডোরে ভর্তি রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জটিল রোগ ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় হাসপাতালটি এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অনেক সময় অন্য কোথাও ব্যর্থ হয়ে হতাশ হওয়া অভিভাবকরা এখানে এসে সন্তানদের সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছেন।

    আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় সেবা গ্রহণ করতে আসা যশোর শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রাবেয়া সুলতানা লাইবার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বেবিদের (বাচ্চাদের) নিয়ে আমি যশোরের অন্য হাসপাতালে গিয়ে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এনেছি। এখানে সাশ্রয়ী খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়েছি।’

    লুৎফুন্নাহার মঞ্জু নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূর জমজ সন্তান হয়েছে। এদের যে আমি পাবো এমন কল্পনা করতে পারিনি। সাত মাসের গর্ভে এদের একজনের ওজন হয়েছিল এক কেজি তিন গ্রাম আরেকজনের এক কেজি পাঁচ শ’ গ্রাম। শিশদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আনার পর তারা এখন স্বাভাবিক।’

    মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া থেকে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার জমজ নবজাতক। ১৮ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। বাচ্চারাও এখন সুস্থ।’

    ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নিলা খাতুন বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে আমার সন্তান নীল হয়ে যাচ্ছিল। এখানে চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।’ হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতার প্রশংসার করেন তিনি।

    হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সেবার মান ধরে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা প্রযুক্তি। কম ওজনের নবজাতকের চিকিৎসায় সাতটি উন্নত ইনকিউবেটর সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা নিজস্ব ফার্মেসি, নির্ভুল রিপোর্টের জন্য আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবসহ রয়েছে চমৎকার ওয়ার্ড ও কেবিন সুবিধা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কম খরচে বিশ্বস্ত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এখান থেকে। সেবা নিতে আসা লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেই যান, এটিই আমাদের অর্জন।’

  • যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে 

    যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে 

    লাইফস্টাইল

    এখন বড়দের মতো অনেক তরুণও কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে ভোগেন মূত্রথলির পাথরের সমস্যায়। এ ধরনের সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে অনেকটা ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা হলো অনেকেই লক্ষণগুলো অবহেলা করেন। পরে তা জীবনকে নিয়ে যায় হুমকির মুখে।

    কিডনি পাথরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে। পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট অনিল কুমার বার্ষ্ণেয়।

    প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা
    যখন কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালীর মাঝে পাথর আটকে যায়, তখন প্রস্রাবের সময় আপনি ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা একে ডিসইউরিয়া বলে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এই লক্ষণগুলো আগেই শনাক্ত করা জরুরি।

    প্রস্রাবে রক্ত


    কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এই রক্ত লাল, গোলাপি বা বাদামী রঙের হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তকণিকাগুলো এতটাই ছোট হয় যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।


    কিডনিতে পাথর হলে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা আন্তঃসংযুক্ত স্নায়ু থেকে উদ্ভূত হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে তা পরিপাকতন্ত্রের এই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যার ফলে পেটে অস্বস্তি হয়। এছাড়াও, তীব্র ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতে পারে।


    জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আরো একটি লক্ষণ। কিডনিতে পাথর হলেও এমনটা হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

  • ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

    ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

    ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) সম্প্রতি তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সে ক্ষেত্রে কিউডেঙ্গা ভারতে বাজারজাতকরণের অনুমোদন পাওয়া ডেঙ্গুর প্রথম টিকা হতে যাচ্ছে। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা দুই ডোজের এই টিকা নিতে পারবেন। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

    কোম্পানির দাবি, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, কিউডেঙ্গা টিকা নেওয়া যাবে এবং টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা জানতে কোনো প্রাক্‌-টিকাদান পরীক্ষার (প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং) প্রয়োজন নেই।

    এমন সময়ে এই টিকার অনুমোদন এল, যখন ভারতে ডেঙ্গু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর মোট রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়।

    বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

    ভারতে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। এ কর্মসূচির আওতায় ফেজ–১, ফেজ–২ ও ফেজ–৩-এর মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।

    ফেজ–৩–এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নেন।

    তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত (ভাইরোলজিক্যালি কনফার্মড) ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। আর ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর এর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।

    এ ছাড়া সাড়ে চার বছর পর্যন্ত ফলোআপ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। আর সাত বছর পর্যন্ত ফলোআপে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই ডেঙ্গু রোগ এবং ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটি দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিয়েছে।

    ভারতে এই অনুমোদনের পক্ষে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত একটি ফেজ–৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    ওষুধ কোম্পানির দাবি, ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

    ভারতের কলকাতার একটি ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কেন্দ্রে এক রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছেন একজন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী

    তাকেদা জানিয়েছে, কিউডেঙ্গা এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সরকারি–বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ পর্যন্ত টিকার ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে—এমন ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কিউডেঙ্গা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া টিকাটি ডব্লিউএইচওর প্রি-কোয়ালিফিকেশনও অর্জন করেছে।

    বর্তমানে কিউডেঙ্গা ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমেও এটি পাওয়া যাচ্ছে।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভারতে টিকাটি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ ও সহজলভ্য করতে তারা দেশটির নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

  • মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির সময় চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা রানী খাতুন তার শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আটক ছয়জন নারী কৌশলে তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে। পরে মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন ছয় নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিকভাবে আটক নারীরা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে হাসাপাতাল থেকে জনতা আটক করে। তদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর

    ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭০২ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।

  • কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল

    কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল

    কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় সময় রোববার (১৯ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার ২ হাজার ৩৪৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

    গত ১৫ মে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাসটি ইবোলা সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম পরিচিত। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।

    এদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ইতুরি প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

    শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতি পালন করছেন। কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রোগ মোকাবেলার কার্যক্রম আরো জোরদার করছে।

  • লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    প্রতিদিন রান্নার কাজে অনেকে লোহার কড়াই ব্যবহার করেন। সব ধরনের রান্না এ কড়াইতে করা ঠিক নয়। কারণ লোহা দিয়ে তৈরি পাত্রে বিশেষ কিছু খাবার রান্না করলে প্রকৃত খাবারের স্বাদ নষ্ট হতে পারে। এমনকি এ ধরনের পাত্রে রান্না খাবার খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে।

    যেসব খাবার লোহার কড়াইয়ে রান্না করবেন না

    টমেটো
    প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো রান্নায় টমেটো দেওয়া হয়। শুধু টমেটো দিয়ে নানা পদও রান্না করা হয়। টমেটো প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয় স্বাদের। তাই লোহার কড়াইয়ে এটি রান্না না করা ভালো। রান্না করলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং এর থেকে ধাতব পদার্থ খাবারে মিশে যেতে পারে। খাবারে ধাতব মিশলে আসল স্বাদ নষ্ট হবে। লেবু ও ভিনেগারের মতো অন্যান্য অম্লীয় খাবারও লোহার কড়াইয়ে রান্না ঠিক নয়।

    ডিম
    আপনি যদি প্রায়ই ডিম রান্নার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করে থাকেন, তবে এখন থেকে বন্ধ করুন। ডিমে থাকা সালফার লোহার সাথে বিক্রিয়া করে ডিমকে ধূসর করে দিতে পারে এবং এর স্বাদ নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয়, লোহা ও সালফারের এই বিক্রিয়ার ফলে আপনার কড়াইতে মরিচা পড়তে পারে। কড়াইয়ের রঙও পাল্টে যেতে পারে, যা এর স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়। তাই, ডিম রান্নায় নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার করা উচিত।

    মাছ
    লোহার কড়াইতে মাছ রান্না করা এড়িয়ে চলা উচিত। মাছে থাকা অ্যাসিড লোহার সাথে বিক্রিয়া করে। যার ফলে মাছ কড়াইয়ের তলায় লেগে যায় এবং এর স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। নন-স্টিক প্যান বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে মাছ রান্না করা সবচেয়ে ভালো।

    ভাত
    লোহার পাত্রে ভাত রান্না করাও ঠিক নয়। চালের উচ্চ অম্লতা লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করে চালের রঙ পাল্টে দিতে পারে। এছাড়া ভাতে ধাতব স্বাদ যুক্ত হতে পারে। আবার লোহা চালে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে চাল কড়াইয়ের তলায় লেগে যেতে পারে। তাই, ভাত রান্নার সময় লোহার পাত্র ব্যবহার না করে স্টেইনলেস স্টিল বা অন্য কোনো নন-স্টিক ভারী তলার পাত্র ব্যবহার করাই শ্রেয়।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৯

    হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯২২ এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৭ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী পাওয়া গেল এক হাজার ৬৯ জন। এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৭৯৩ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ শিশুর। বাকী ৬৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। আর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ১৪৮ শিশু।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ শিশু। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৫৭৮ শিশু। আর এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২৬ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৩২ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশুর মধ্যে সিলেট বিভাগের ৩ জন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫৮ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯০ জন।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জন মারা গেছে।

    আজ সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ জন।

  • জামালপুরে ট্রলি-সিএনজির  সংঘর্ষে দুই নারী নিহত, আহত ৪

    জামালপুরে ট্রলি-সিএনজির সংঘর্ষে দুই নারী নিহত, আহত ৪

    জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেতমারী তালতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জামালপুর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে বেতমারী তালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মজিবর রহমান (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫), শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং এনজিওকর্মী ফাতেমা আক্তার (৫২)। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. উজ্জল কুমার সরকার জানান, ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত দুই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • হাম উপসর্গে আরও ৪ প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৭৮৮

    হাম উপসর্গে আরও ৪ প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৭৮৮

    দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    রোববার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯৩ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৮৮ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৩৮। এই সময়ে ৮৮৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৯২ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৩১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৩৭ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৬ হাজার ৫২১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠির পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার টিএন্ডটি সড়কে একটি ভাড়া বাসা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় মলিনা রায় (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ভবনের আরও দুটি ফ্ল্যাটে চুরি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

    শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টিএন্ডটি সড়কের একটি তিনতলা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতের কানের নিচে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। শুক্রবার শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা ভিমরুলী ও কীর্তিপাশায় গেলে মলিনা রায় একাই বাসায় ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় ঘরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মলিনা রায়কে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, সবাই রথযাত্রায় যাওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা নিচতলার ভাড়াটিয়ার বাসাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তছনছ করে এবং মালামাল লুট করে।

    তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল জানান, ফিরে এসে দেখেন নিচতলার এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বাসা এবং বাড়ির মালিকের ফ্ল্যাট থেকেও নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়েছে।

    খবর পেয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মামুন আল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস.এম. বায়জীদ ইবনে আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সময় বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

  • পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    দেশে পাটের সোনালি সময় এখন অতীত। তবু রপ্তানি বাণিজ্যে পাট ও পাটপণ্যের গুরুত্ব কমেনি। টানা চার বছর পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমার পর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। যদিও করোনাকালের রেকর্ড রপ্তানি থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে খাতটি।

    এক দশক পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের কাছাকাছি থাকলেও করোনাকালে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে একলাফে তা ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তারপর টানা চার বছর খাতটির রপ্তানি কমেছে। তবে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। এই রপ্তানি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    পাটপণ্যের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বন্যার কারণে গত বছর পাট উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যায়। উচ্চ মূল্যের কারণেই অর্থের হিসাবে পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও পরিমাণের দিক থেকেও রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সে জন্য কাঁচা পাটের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা ও পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি যৌথভাবে হলেও এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। বছরে দেশে ৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়। পাটপণ্যের রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও রপ্তানি বাড়াতে করণীয় বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ সরকারের দিক থেকে দেখা যায়নি।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের পাশাপাশি পাটের সুতা, বস্তা ও বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়। এসব পণ্য তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিদায়ী অর্থবছর কাঁচা পাটের রপ্তানি ১১ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে কাঁচা পাটের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ হাজার টন কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার টন।

    বিদায়ী অর্থবছরে পাটের বস্তার রপ্তানি ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে; আর পাটের সুতার রপ্তানি ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৯ কোটি ডলার হয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে পাটের সুতার রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ লাখ ২৮ হাজার টন পাটের সুতা রপ্তানি হয়। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, বিদায়ী অর্থবছর প্রতি মণ কাঁচা পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। তার আগের বছরও এর দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১ হাজার ডলারের পণ্যের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার হয়েছে। সে কারণে অর্থের হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, পাটপণ্যের রপ্তানি অনায়াসে দুই-তিন বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার জন্য কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন বাজারে রপ্তানির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বহুমুখী পাটপণ্যে বড় সম্ভাবনা

    বিশ্বজুড়ে পাটজাত পণ্য, বিশেষ করে বহুমুখী পাটপণ্যের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকলেও সেই রপ্তানি কম বাংলাদেশের। বিদায়ী অর্থবছর ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম।

    উদ্যোক্তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী পাটপণ্যের বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রয়াদেশ কমেছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। মূলত জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে নিত্যপণ্যের বাইরে অন্যান্য পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। তা ছাড়া কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ব্যয় বেড়েছে। সে জন্যও ক্রয়াদেশ কিছুটা কমেছে।

    জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে পাটের তৈরি গৃহসজ্জার পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, গার্ডেনিং বা বাগান, অটোমোবাইল ও প্যাকেজিংয়ে পাটপণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। এ ছাড়া পাটকাঠির তৈরি চারকোলের চাহিদাও রয়েছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে।

    জানতে চাইলে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশনের এমডি মো. রাশেদুল করিম বলেন, ‘পাটের সুতা ও বস্তায় প্রতি টনে খুবই কম মুনাফা করেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। ফলে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে গেলে মুনাফা ধরে রাখতে হিমশিম খান তাঁরা। পাট খাতের রপ্তানি বাড়াতে হলে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে চীন, ভারতের মতো কয়েকটি দেশ এগিয়ে গেছে। তাই বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে নতুন নতুন পণ্য উন্নয়নে গবেষণার পাশাপাশি এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন।’

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬৯৯ জনের।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৯ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের। আর একজন ঢাকা বিভাগের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে ৯৯ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • মেঝেতে স্বামীর লাশ, ছুরিকাহত ছেলে—বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিলেন চিকিৎসক স্ত্রী

    মেঝেতে স্বামীর লাশ, ছুরিকাহত ছেলে—বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিলেন চিকিৎসক স্ত্রী

    ভারতের কর্নাটকের ধারওয়াড়ে একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তার আট বছর বয়সী ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছেলেটির মা, যিনি নিজেও একজন ডাক্তার, তিনি তখন বিছানায় শুয়ে ফোনে স্ক্রল করছিলেন। ঘটনার পর চিকিৎসক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

    পুলিশ জানায়, ধারওয়াড় শহরের কর্নাটক ইউনিভার্সিটি রোডের রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টে ঘটনাটি ঘটে। স্বজনরা দীর্ঘ সময় ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে অ্যানেস্থেটিস্ট ডা. কিরণ হন্নানাভার (৪৫)-কে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। অন্য একটি কক্ষে তার আট বছরের ছেলে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিল। আর শিশুটির মা ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়াঙ্কা বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ডা. হন্নানাভারের গলায় একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত শিশুটিকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।

    হুব্বল্লি-ধারওয়াড় পুলিশ কমিশনার এন. শশিকুমার জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাইরের কোনো ব্যক্তি ফ্ল্যাটে প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসনে ওই দম্পতি ও তাদের সন্তান ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।

    স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই তারা ডা. হন্নানাভারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কমিশনার জানান, ফোন ধরেছিলেন ডা. প্রিয়াঙ্কা। তিনি প্রথমে বলেন, তার স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, পরে বলেন তিনি বাইরে গেছেন। এতে সন্দেহ হওয়ায় স্বজনরা ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ডা. প্রিয়াঙ্কাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে এবং তিনি ঘটনার বিষয়ে অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। উপশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে আহত শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত বলে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও যাচাই করা হচ্ছে। নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো বিরোধের প্রমাণও মেলেনি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • সাপের দংশনে ইমামের মৃত্যু

    সাপের দংশনে ইমামের মৃত্যু

    ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সাপের দংশনে হাফেজ আবদুল কাদের জিলানী (৫৫) নামে এক মসজিদের ইমামের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার মাগরিবের নামাজ শেষে নিজ কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন হাফেজ আবদুল কাদের জিলানী। পরে এশার আজানের সময় ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা রাখলে সেখানে থাকা একটি গোখরা সাপ তাকে দংশন করে।

    সাপের দংশনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টি-স্নেক ভেনম) না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত হাফেজ আবদুল কাদের জিলানী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি মক্তবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষাও দিতেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের বিষের প্রতিষেধক না থাকায় জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টি-স্নেক ভেনমের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

  • ইরানে ক্যানসার হাসপাতালে হামলা, সরানো হলো ২১১ রোগী

    ইরানে ক্যানসার হাসপাতালে হামলা, সরানো হলো ২১১ রোগী

    ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের একটি ক্যানসার হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ইরানের আহভাজ শহরের বাঘাই বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজার জানান, আহভাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের কোনো রোগী বা কর্মীর

    হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বু’আজার আল জাজিরাকে বলেন, মার্কিন হামলার কারণে ২১১ জন রোগীকে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে।
    তিনি জানান, সরিয়ে নেয়া রোগীদের মধ্যে ক্যানসার রোগীসহ গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগী ছিলেন। ওই হাসপাতালের এক কর্মী আল জাজিরাকে বলেন, এখানে বিশেষ ধরনের রোগীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন, যার মধ্যে ক্যানসার রোগীও রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। অনেক রোগী তখন অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের সহায়তায় ছিলেন।
    তিনি আরও বলেন, কেউ কোলে শিশু নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইনের লাইন লাগানো অবস্থায়, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। সবাইকে দ্রুত বাইরে সরিয়ে নেয়া হয়।

    ইতিমধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এনিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, এই বর্বরোচিত হামলা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইসরাইলের চালানো নৃশংস হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

    তিনি জানান, হাসপাতালে কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন এমন ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।
    তবে এই হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

    হামের প্রকোপ বেড়েই চলছে। দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭১ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৯৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৭৪ জনের শরীরে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ১৪ হাজার ১০৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯৭ হাজার ৯১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার ২৭৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ফ্রান্সে পাস হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যু বিল

    ফ্রান্সে পাস হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যু বিল

    ফ্রান্সে পাস হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যু বিল। জীবনাবসান সংক্রান্ত চিকিৎসা বা ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছরের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বুধবার ফ্রান্সের নিম্নকক্ষ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এ সংক্রান্ত বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। এ আইনের ফলে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা কঠোর নিয়মের অধীনে নিজেদের জীবনাবসানের জন্য প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণের আইনি অধিকার পাবেন।

    এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এই আইনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নিম্নকক্ষে এর আগে তিনবার বিলটি পাস হওয়ায় এবারও এর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। রক্ষণশীলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা উচ্চকক্ষ বা সিনেট অবশ্য বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে ফ্রান্সের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দুই কক্ষের মধ্যে দ্বিমত থাকলে নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

    অবশ্য সিনেট প্রেসিডেন্ট জেরার্ড লার্চার জানিয়েছেন, বিলটি পাসের পর তিনি তা ‘কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল’-এ পাঠাবেন, যা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কি না তা যাচাই করতে এক মাস পর্যন্ত

    এই প্রক্রিয়া শেষেই আইনটি কার্যকর হবে। এই আইনের আওতায় সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী এবং ফ্রান্সের নাগরিক বা দেশটির আইনি বাসিন্দা হতে হবে। রোগীকে এমন কোনো গুরুতর ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হবে যা তাঁর জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং রোগটি এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যেখানে তাঁর শারীরিক কষ্ট অসহনীয় ও কোনো চিকিৎসায় উপশমযোগ্য নয়।

    তবে কেবল মানসিক কষ্ট বা বিষন্নতার কারণে এই আবেদন করা যাবে না। তীব্র মানসিক ব্যাধি বা আলঝেইমারের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এই আইনের আওতাভুক্ত হবেন না। পুরো প্রক্রিয়াটিতে রোগীকে সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীন ইচ্ছায় আবেদন করতে হবে। স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের একটি দল ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনটি পর্যালোচনা করবে এবং অনুমোদনের পর রোগীকে অন্তত দুই দিন এটি পুনর্বিবেচনা বা ভাবার সময় দেওয়া হবে।

    এটি মূলত চিকিৎসকের সহায়তায় আত্মহত্যা, যেখানে রোগী নিজেই প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণ করবেন। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা যদি ওষুধ নিজে গ্রহণে অক্ষম হয়, কেবল তখনই ডাক্তার বা নার্স তাকে এটি সেবনে সরাসরি সহায়তা করতে পারবেন। অনুমোদন পাওয়ার পর রোগী তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী বাড়ি অথবা চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে যেকোনো সময় এই ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন।

    ওষুধ গ্রহণের চূড়ান্ত মুহূর্তেও ডাক্তার বা নার্স রোগীর সম্মতি পুনরায় যাচাই করবেন এবং কোনো জটিলতা এড়াতে কাছাকাছি অবস্থান করবেন। এই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ফ্রান্সের জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা বহন করবে। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ এই জীবনাবসান আইনের পক্ষে এবং বিগত দুই দশকে এর পক্ষে জনসমর্থন আরও বেড়েছে।

    ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রাইট টু ডাই উইথ ডিগনিটি’ এই বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি মানুষকে অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তির স্বাধীন অধিকার দেবে। তবে এর বিরোধিতাকারী সংস্থা ‘অ্যালায়েন্স ভিটা’ প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছে, মৃত্যু কখনোই কষ্টের সমাধান হতে পারে না এবং এটি ।

    তাদের মতে, এর ফলে অসুস্থ, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরোক্ষ চাপের মুখে পড়তে পারেন। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই অধিকার না থাকায় অনেক ফরাসি নাগরিক সুইজারল্যান্ড বা বেলজিয়ামের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেতেন যেখানে স্বেচ্ছামৃত্যু আগে থেকেই বৈধ। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ইচ্ছামৃত্যু বা স্বেচ্ছামৃত্যুর আইনি বৈধতা রয়েছে।

  • হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯২০ এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭২ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী পাওয়া গেল এক হাজান ৯২ জন। এনিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৭৭১ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ শিশুর। বাকী ৬৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৭১ শিশু।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ শিশু। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৩ হাজার ৯০৭ শিশু। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৭৮ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২৬০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ৫ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের চারজন এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯৮ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৫ শিশুর।

  • স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    সম্পাদকীয়

    আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শেষ পর্যন্ত ভাঙারির দোকানে কেজি দরে বিক্রয় হইতেছে—ইহার চাইতে হতাশাজনক খবর আর কী হইতে পারে? ইহা কেবল অদূরদর্শিতা নহে, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের এক জীবন্ত দলিল। সংসদে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাইয়াছেন যে, বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমদানিকৃত এই সকল যন্ত্রপাতির সুরক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

    আসলে তাহা অপরিকল্পিত উপায়ে কেবল কমিশনভোগীদের পকেট ভারী করিবার হীন উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়। খুলনা ও ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘকাল পড়িয়া থাকা ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি রেডিওথেরাপি মেশিনের করুণ পরিণতি তাহারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইহা ছাড়া দেশের অসংখ্য হাসপাতালে এক্সরে মেশিন আছে অথচ তাহা চালাইবার মতো কোনো টেকনিশিয়ান নাই।

    কোটি টাকা মূল্যের ল্যাবরেটরি মেশিন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়িয়া আছে অথচ তাহা পরিচালনার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। বৎসরের পর বৎসর এই মূল্যবান যন্ত্রপাতিসমূহ কাঠের বাক্সে বন্ধ অবস্থায় পড়িয়া থাকিয়া একসময় তাহা ব্যবহারের অনুপযোগী ও অকেজো হইয়া যায়।মূলত সরকারি হাসপাতালে টেকনিশিয়ানের কৃত্রিম সংকট ও অচল যন্ত্রের পরিস্থিতি এই জন্য তৈরি করা হয়, যাহাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাহা হইতে সুবিধা পাইতে পারে। কেননা সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান ঐসব বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করিয়া থাকেন। তাহারা যোগসাজশ করিয়া এইখানে জনগণকে উচ্চমূল্যে পরীক্ষানিরীক্ষা করাইতে বাধ্য করেন। এই অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ হইতে পারে, যদি সরকারি হাসপাতালেরডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানদের বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করা হয়। প্রয়োজনে তাহারা বিকালে সরকারি হাসপাতালেই যৌক্তিক হারে অর্থবিনিময়ের মাধ্যমে বাড়তি দায়িত্ব পালন করিবেন; কিন্তু তাহাদের প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করিতে দেওয়া যাইবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাহারা পারে না। কেননা সরকারি চাকুরিতে প্রবেশে বেসরকারি এমনকি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করিতে হয়। আর প্রাইভেট এই সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পার্টটাইম নহে, বরং নিজস্ব ফুলটাইম ও স্থায়ী জনবলনিয়োগ দিতে হইবে, নতুবা তাহাদের লাইসেন্স বাতিল করিতে হইবে। সরকারি হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেটর মেশিন ইত্যাদি আনা হয়; কিন্তু তাহা বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া সিন্দুকবন্দি রাখা অতীব দুঃখজনক। ইহার পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনাহীন কেনাকাটা বন্ধ করিতে হইবে। যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ-সংযোগের পর্যাপ্ত ভোল্টেজ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নাই, সেইখানে উচ্চ প্রযুক্তির আইসিইউ ও স্ক্যানার মেশিন পাঠাইয়া দেওয়া হয়, যাহা অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হইতে বাধ্য। কোনো কোনো গ্রামীণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কোনো সার্জন নাই, অথচ সেইখানে বহু দিন ধরিয়া আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের দামি সরঞ্জামাদি বাক্সবন্দি পড়িয়া আছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত চাহিদার চাইতেও আমদানিকারক, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক ফায়দা ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক কমিশনের লোভও ইহার জন্য দায়ী। তাহা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা শাখা ও মাঠপর্যায়ের হাসপাতালগুলির মধ্যে কোনো বাস্তবসম্মত সমন্বয় নাই। জনবল না থাকিলেও কেবল বাজেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অপচয় করিবার জন্য যন্ত্র ক্রয় করা হয় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে।এই দিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র অবহেলায় বিনষ্ট করিবার অপরাধে এযাবৎ কোনো আমলা, ঠিকাদার বা পরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় নাই। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়াছে। এই জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করিতে হইবে। হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সঠিক পরিসংখ্যান ব্যতিরেকে কোনো নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া যাইবে না। ইহা ছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডেটাবেজ তৈরি করিতে হইবে, যাহাতে কোন যন্ত্র সচল আর কোনটি অচল—তাহা জনগণের সম্মুখে দৃশ্যমান থাকে। মোট কথা, জনগণের করের টাকায় ক্রয়কৃত সামগ্রী ভাঙারির দোকানে নিঃশেষ হইতে দেওয়া যায় না।

  • নওগাঁ; ডাবের ফাঁদে সর্বস্ব লুট

    নওগাঁ; ডাবের ফাঁদে সর্বস্ব লুট

    প্রথমে ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশানো হয়। এরপর কৌশলে সেই ডাব খাওয়ানো হয় অটোরিকশা চালককে। চালক জ্ঞান হারালে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয় দুর্বত্তরা।

    নওগাঁয় এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং চেতনানাশক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতারক চক্রের টার্গেট করে এক রিকশাচালকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। নিজেদের পরিবারে নবজাতকের জন্ম হয়েছে এমন কথা বলে প্রথমে মিষ্টি খাওয়ায়। পরে তারা চালককে একটি ডাব পান করতে দেয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, ডাবের পানিতে পূর্ব থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সুযোগে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

    ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে নওগাঁ সদর মডেল থানাকে মামলা গ্রহণ এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।

    ১৪ জুলাই ২০২৬ পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে নওগাঁ সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১২ জুলাই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাদের নওগাঁ নিয়ে আসা হয়। একই অভিযানে গাইবান্ধা জেলা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের হুমায়ুন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া গ্রামের খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই গ্রামের আব্দুল গফুর (৪১)।

    অভিযানে ইব্রাহীমের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি রিভোট্রিল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। হুমায়ুনের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক মিশিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের অজ্ঞান করে নগদ অর্থ, যানবাহন ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে আসছিল।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ঢাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ছয়জন। এর মধ্যে ঢাকায় চারজন ও সিলেটে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে ৭৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৭১ জন মারা গেছে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত ১২২ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ৭৩৫ জন।

    একই সময়ে নতুন করে ৮৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩২৭ জন।

    মৃতদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এদের মধ্যে একজন ২৬ থেকে ৩০ বছর এবং অন্যজনের ৩১ থেকে ৩৫ বছর। তারা উভয়ই নারী।

    সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে ২৯৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট আট হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন রোগী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৮২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

  • আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

    আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আগে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অবস্থা আবারও পরিদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “পরিদর্শনে পরিস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেলে এরপর সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”

    সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তাই ঘটনার পরপরই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।”

    তিনি জানান, হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে বা চলমান রয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। পরিদর্শনে সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া গেলে সরকার পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।ভুক্তভোগী পরিবারের বিষয়ে তিনি বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালত ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।”

    মন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো হাসপাতালটিকে কোনো চূড়ান্ত ছাড় দেয়নি। পুনঃপরিদর্শনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৬২ প্রাণ, আহত ৭৫০

    জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৬২ প্রাণ, আহত ৭৫০

    চলতি বছরের জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫০ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষর করা প্রতিবেদনটি গত ১২ জুলাই অনুমোদন করা হয় এবং ১৩ জুলাই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সারাদেশের বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ১৭১টি দুর্ঘটনায় ১৪৩ জন নিহত এবং ২৬৪ জন আহত হয়েছেন।

    ঢাকা বিভাগে ১১৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০৩ জন, আহত হয়েছেন ১৭৬ জন। রাজশাহী বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। বরিশালে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন। সিলেটে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। রংপুরে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৮২৭টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২১ জন নিহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৭১ জন, অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৯৪ জন, বাস ও মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪১ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
    বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ১২ জন, মাইক্রোবাসে ৬ জন, অ্যাম্বুলেন্সে ৪ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১১ জন, ট্রাক্টরে ২ জন এবং ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

    দেশে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দেশের ৭টি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

    সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এই জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

    নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষদের জরুরি আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

  • টানা বর্ষণে ঢামেকে রোগী কমেছে, বিপাকে চিকিৎসাসেবা

    টানা বর্ষণে ঢামেকে রোগী কমেছে, বিপাকে চিকিৎসাসেবা

    রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজটের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় রোববার (১২ জুলাই) জরুরি বিভাগে প্রায় ২০ শতাংশ কম রোগী এসেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় শুধু রোগীরাই নয়, চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কেও পানি জমে যায়।

    সারা শহরে দীর্ঘ যানজটের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে হাসপাতালের কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় জরুরি বিভাগে গড়ে দেড় হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশিরভাগ রোগী বিকেল থেকে রাতের মধ্যে এলেও রোববার সকাল ও দুপুরে রোগীর উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদেরও কর্মস্থলে পৌঁছাতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তারপরও তারা দায়িত্ব পালন করে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করেছেন।

  • বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগ দাবিতে আবারও উত্তাল নেপাল

    বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগ দাবিতে আবারও উত্তাল নেপাল

    অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নেপাল। গত তিন দিনে দেশটিতে তিন যুবক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। এতে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। রাজধানীর কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের অভিযোগ, তরুণদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

    তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ দাবি করেছে, বর্তমান সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। সংগঠনটির ভাষ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং তরুণদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বাজেট ও নীতিতে বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেই।

    বর্তমান আন্দোলনের মধ্যে ২০২৩ সালে প্রেম আচার্যের আত্মাহুতির ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সে সময় কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বালেন্দ্র শাহ ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সংকটে তার নীরব অবস্থান নিয়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নেপালের তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং সরকারি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

    ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহর পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বালেন্দ্র শাহ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যানজট কিছুটা কমলেও হকার ও বস্তিবাসীদের একটি অংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।

    রাজনীতির বাইরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। গত বছরের সেপ্টেম্বরের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তার গাওয়া ‘নেপাল হাসেকো’ (হাসছে নেপাল) গানটি আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে হওয়া ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়।

    পরবর্তীতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দল বড় ধরনের জয় পায়, যা নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ডও গড়েন।

  • হাম উপসর্গে মৃত্যু আরও ১ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে মৃত্যু আরও ১ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শিশুমৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ দেখা গেছে এক হাজার নয় শিশুর শরীরে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো মোট ৬৬৫। আর হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৪ শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৫৯ শিশু মারা গেছে।

    এ ছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৯৬। এই সময়ে ৮৫৬ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৮ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ৩৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬১৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৫ হাজার ১৯৬ রোগী, তাদের মধ্যে ৯১ হাজার ৪৮৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে উপজেলার খাজুরা ফুয়েল স্টেশন-সংলগ্ন ওয়ে স্কেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত রুবেল হোসেন (৩৮) বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুড়া গ্রামের মৃত মুনতাজ ঢালীর ছেলে। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে রাব্বি ধারাল অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অভিযুক্ত রাব্বি নিহত রুবেলের ছোট বোনের দেবর। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহ জালাল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রাব্বিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

  • বন্যাকবলিত জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বন্যাকবলিত জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।

    তিনি বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।

    তিনি জানান, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

    তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন।

    এবিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

    স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ নম্বর এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই বন্যার কারণে যেন একজন মানুষও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান। এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

  • গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের দংশনে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেয়া হয়।

    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • ভারতে নতুন করে করোনার হানা, ২ জনের মৃত্যু

    ভারতে নতুন করে করোনার হানা, ২ জনের মৃত্যু

    ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা জেলায় আবারও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে প্রদেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সম্প্রতি জেলায় আটজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    অন্যদিকে, কাদাপার ৪৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি অসুস্থতা নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তার সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হাসপাতালের করোনা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এছাড়া কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    নতুন করে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ টিম মোতায়েন করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি নমুনাগুলোর পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কাদাপা জেলায় আটজন করোনা রোগী রয়েছেন। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত এবং সংক্রমণের ধরণ বোঝার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাভিথা কাদাপায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কঠোরভাবে করোনা স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দেন।

    পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জীবাণুনাশক ছিটানো ও ব্লিচিং কার্যক্রমও চলছে।

    এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের করোনা শনাক্ত হবে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে এবং অন্যদের বাড়িতে থেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত শয্যা, আইসোলেশন সুবিধা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের এবং করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। এটি উন্নয়নের ভিত্তি এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

    আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার জনসংখ্যার আকারের ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমবাজার, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দেয়।’ এসময় তিনি ভারসাম্যপূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিত করা এবং এর গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার ঘোষিত ১৯ দফা সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি কর্মসূচির অন্যতম দফা ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ’। ১৯৭৬ সালে তার নেতৃত্বে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন এবং ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করা হয়।’

    তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সুফল অর্জনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যার ফলে বাল্যবিবাহ কমে, সচেতনতা ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সীমিত ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর তুলনায় আমাদের জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি, সীমিত বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা কেবল পরিবার পরিকল্পনা বা স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এবং এই বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। অর্থনীতির ভাষায় যা জনমিতিক লভ্যাংশ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং চীনের মতো বহু দেশ এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই আজকের তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। আর তা করতে না পারলে এই সম্ভাবনাই একসময় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ যা তারুণ্যের প্রত্যাশা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা এবং কর্মসংস্কৃতির মতো জীবনদক্ষতারও বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা তরুণদের দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে।’

    কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যার বিশাল ভিত্তির কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করছে। ফলে দেশের মোট জনসংখ্যা এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    দ্বিতীয়ত, মোট প্রজনন হার গত দেড় দশক ধরে প্রায় দুই দশমিক তিন-এ স্থির রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে এ হারকে দুই এর কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

    তৃতীয়ত, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ পরিবারে জন্মহার তুলনামূলক অনেক বেশি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সেভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।

    চতুর্থত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিয়ের গড় বয়স বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম সামাজিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু নয়’ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এই জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি রচনা করবে। পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন এই ছয়টি ভিত্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।’

    রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

    এর আগে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য খাতের তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।

  • দোয়া চাইলেন সংগীতশিল্পী ইবরার টিপু

    দোয়া চাইলেন সংগীতশিল্পী ইবরার টিপু

    সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী ইবরার টিপুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি নানা আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী, সংগীতশিল্পী বিন্দু কণা।

    ইবরার টিপুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বিন্দু কণা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীর কিডনিতে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসার পাশাপাশি একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

    বিন্দু কণা বলেন, ‘ইবরার টিপুর বড় একটি সার্জারি হয়েছে। তাই এখনো কথা বলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেরে উঠবে। সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখার পর অনেকেই চিন্তিত হয়েছেন, ফোন করেছেন, জানতে চেয়েছেন কী হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সবার সঙ্গে কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আরেকটু সুস্থ হলে টিপু সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে ইবরার টিপুর কিডনি ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের একটি কঠিন যাত্রা পার করতে হয়েছে। এখন সুস্থতার দিকেই এগোচ্ছেন। আমরা আসলে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাইনি। কিন্তু সম্প্রতি ফেসবুকে টিপুর বর্তমান চেহারা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন মনে করেছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

    এর আগে, এক সাক্ষাৎকারেও নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন ইবরার টিপু। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে নিজেকে সংগীতচর্চায় ব্যস্ত রেখেছেন। নতুন গান তৈরির কাজই কঠিন সময় পেরিয়ে আসতে তাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি জুগিয়েছে।

    তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে কাজ করে আসছেন ইবরার টিপু। তার সুর ও সংগীতে দেশের অসংখ্য জনপ্রিয় শিল্পী গান গেয়েছেন। বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর শিরোনাম সংগীত নির্মাণের পাশাপাশি ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত বহুল জনপ্রিয় স্বাগত সংগীত ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।

    বর্তমানে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ইবরার টিপু। সফল অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।

  • ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

    গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

    যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।

  • শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার তিনটি ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার আনন্দবাজার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সামনের সড়কের ফুটপাত থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, পৃথক তিন স্থানে তিন ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা থানায় খবর দেন। বেলা ১১টার দিকে দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর ও অপরজনের বয়স ৫৫ বছর।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এই তিনজনই ভবঘুরে। তাঁদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • বর্ষাকালে পেটের সুস্থতায় যেসব শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়

    বর্ষাকালে পেটের সুস্থতায় যেসব শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়

    বর্ষাকালে বাজারে তাজা সবজি পাওয়া যায়। পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের শাকও। এ সময়ে সব ধরনের শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ বর্ষার অতিরিক্ত আর্দ্রতায় জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ঘটে। সবজিতেও দূষণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। খাবারে ই কোলাই, সালমোনেল্লার মতো ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। এই মৌসুমে ঘরে তৈরি সবজির তরকারি খেয়েও সংক্রমণে ভুগতে পারেন, এমনটাই জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে। তাই বর্ষায় কোন কোন শাকসবজি না খাওয়াই ভালো, তা জেনে রাখা ভালো।

    বিভিন্ন ধরনের শাক
    বর্ষাকালে শাকপাতা না খাওয়াই ভালো। পাতার ভেতর পোকামাকড় এবং জীবাণু লেগে থাকতে পারে। বর্ষার পানি জমে শাকে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। আবার অনেক সময়ে কাদা লেগে থাকে শাকে। তাই এই সময় শাক না খাওয়াই ভালো। খেলেও তা ভালো করে ধুয়ে সেদ্ধ করে নেওয়া উচিত। কাঁচা অবস্থায় একেবারেই খাবেন না।

    কপি জাতীয় সবজি
    এখন সারাবছরই বাঁধাকপি ও ফুলকপি পাওয়া যায়। কিন্তু বর্ষায় এই ধরনের সবজি না খাওয়াই ভালো। বাঁধাকপির মধ্যে পোকা বা কৃমি থাকার আশঙ্কা থাকে। ফুলকপির মধ্যেও পোকামাকড় থাকতে পারে। আর্দ্রতার কারণে এই দুই সবজিতেও ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে।

    মাশরুম
    বর্ষাকালে মাশরুম এড়িয়ে চলুন। এই সবজি স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় জন্মায় এবং খুব দ্রুত আর্দ্রতা শোষণ করে। বর্ষায় ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে এবং তার প্রভাব মাশরুমের উপরও পড়ে। তাই এই ঋতুতে মাশরুম খেলে ফুড পয়জনিং-এর ঝুঁকি বাড়ে।আর কোন কোন সবজি এড়িয়ে চলা উচিত?
    আলু, পেঁয়াজ, গাজরের মতো সবজি মাটির নিচে হয়। আবার বেগুন-টমেটোর মতো সবজিতে দ্রুত পচন ধরে। তাই এসব সবজি বর্ষায় এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু সব সময় এই সবজিগুলো এড়ানো যায় না। তাই বর্ষায় যখনই বাজার থেকে সবজি কিনে আনবেন, সেগুলো ভালো করে ধুয়ে নেবেন। লবণ বা ভিনিগার মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন। তারপর পানি ঝরিয়ে শুকনো করে ফ্রিজে তুলে রাখুন। আর উচ্চ আঁচে সবজি রান্না করুন।

  • খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    প্রোটিনের উপকারিতা শুধু পেশি গঠন এবং শক্তি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং শরীরকে মেরামত ও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও অনেকেই মনে করেন, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার ব্যয়বহুল বা খাধ্যাভ্যাস অনুসরণ করা কঠিন, তবে প্রতিদিনের রান্না করা খাবারে কয়েকটি সাধারণ পরিবর্তন এনে সহজেই প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

    ভারতীয় নিউট্রিশনিস্ট প্রবালিকা লোনডে দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায় জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    ১. আপনার নিয়মিত খাবারে ডাল, অঙ্কুরিত ছোলা বা ভাজা ছোলা যোগ করুন। অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য সালাদ,স্যান্ডউইচে অঙ্কুরিত ছোলা মেশাতে পারেন। দুপুরের বা রাতের খাবারের সাথে এক বাটি অতিরিক্ত ডাল যোগ করাও প্রোটিন বাড়ানোর একটি সহজ উপায়।

    ২. সঠিক পরিমাণে পনির, দই বা দুধ আপনার দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন। পনির পরোটা, সবজি, পোলাও বা স্যান্ডউইচে যোগ করা যেতে পারে। দই প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ এবং এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এক কাপ দই বা দুধও দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

    ৩. আরেকটি ভালো উপায় হলো প্রোটিন-সমৃদ্ধ আটা ব্যবহার করে খাবারটিকে মাল্টিগ্রেইন করে তোলা। রুটি বানানোর সময় গমের আটার সাথে বেসন, রাগি, সয়াবিনের আটা বা ছাতু যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় এবং স্বাদেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।

    ৪. সকাল এবং বিকালের নাশতায় বাদাম ও বীজ যোগ করুন। চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, তিল, তিসি এবং কুমড়োর বীজ দই, স্মুদি, ওটস বা সালাদের উপর ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। খাবারের সাথে চিনাবাদামের চাটনি বা চিনাবাদামের গুঁড়োও একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

    ৫. খাবারে ডিম, মুরগির মাংস, মাছ বা সয়া পণ্য আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করুন। সিদ্ধ ডিম বিকালের নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে তরকারি, বা ফ্রাইড রাইসে সয়া যোগ করা যায়। এই খাবারগুলো সাশ্রয়ী এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ।

    লোন্ডে বলেন , দৈনন্দিন কিছু সাধারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বাড়ির খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও আরও সুষম করে তোলা যায়। তিনি জানান, প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার শক্তি বাড়াতে, শরীর সেরে উঠতে সাহায্য করে। এই সব দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে যেগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে পায়ে সংক্রমণ হলে কী করবেন? 

    বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে পায়ে সংক্রমণ হলে কী করবেন? 

    দিনভর বৃষ্টিতে রাজধানীতে দুর্ভোগ বেড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জমে থাকা পানিতে হাঁটলে পায়ের সংক্রমণ বাড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতা-মোজা পরে থাকলেও ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে। পায়ে লালচে র‌্যাশ বের হয়। তাতে আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে চুলকানি বা ঘা হতে পারে। তাই বাইরে থেকে ফিরে সঠিক উপায়ে পায়ের যত্ন নিতে হবে।

    কীভাবে পায়ের যত্ন নেবেন?

    জীবাণু ধ্বংস করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে লবণ। তাই বাড়ি ফিরেই গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে তাতে মিনিট দশেক পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পা ঘষে মৃতকোষগুলো দূর করুন। হয়ে গেলে পা ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে পা মুছে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের তলায় নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে শুষ্ক ত্বক মোলায়েম হবে।

    পায়ের মাস্ক
    বর্ষায় পায়ের খেয়াল রাখতে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র একটি প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে পায়ের সংক্রমণ এড়াতে চারকোল মাস্ক বেশ ভালো কাজ করে। চারকোল ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা ময়লা দূর করে। এ ছাড়া ভিটামিন সি মাস্কও পায়ের ত্বকে ব্যবহারের জন্য কার্যকরী। কফি মাস্কও পায়ের জন্য সমান উপকারী।

    বর্ষাকালে পা থেকে বেশি দুর্গন্ধ বের হয়। সেই সমস্যা কমাবে কর্পূর ও ট্যালকম পাউডার। মোজা পরার আগে পায়ে ভালো করে ট্যালকম পাউডার মেখে নিন। পাউডারের সঙ্গে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিতে পারেন। গন্ধ দূর হবে। টি ট্রি অয়েলের সঙ্গে ১ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে পায়ে মালিশ করলেও সংক্রমণ দূর হবে।

    বর্ষায় পায়ের র‌্যাশ কমাবে নিম ও হলুদের প্যাক। এক মুঠো নিম পাতা এবং এক টুকরো কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি পায়ে এবং বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। ২০-৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

  • বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    টানা কয়েকদিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা ছাড়াও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।

  • সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

    চট্টগ্রামে বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি।

    এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সাত জেলায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

    সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও চাল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

    একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়।

    চলছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।


    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  • ময়মনসিংহ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

    ময়মনসিংহ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

    ময়মনসিংহে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও মাঝারি, কোথাও ভারী বর্ষণ। গত বুধবার ময়মনসিংহে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। বৃষ্টির পর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ভ্যাপসা গরম এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আর স্বাভাবিক মৌসুমি আবহাওয়ার বিষয় নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ময়মনসিংহ অঞ্চলে নতুন ধরনের আবহাওয়ার ধারা তৈরি হয়েছে। দিনে তাপমাত্রা বেশি, রাতে অথ্যধিক আর্দ্রতা, বিকালে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং এরপর আবার ভ্যাপসা গরম—পরিবর্তিত এই চক্র জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন ও শ্রমবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৮ জুলাইয়ের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী পাঁচদিন ময়মনসিংহ বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। পাঁচদিন পর বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

    অন্যদিকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাই মাসে তিন থেকে পাঁচদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ১০ থেকে ১৫ দিন বজ্রসহ ঝড় হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    মে, জুন ও জুলাই মাসের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানা তিন মাস ধরে ময়মনসিংহে বাতাসের গতি অধিকাংশ দিন মাত্র তিন থেকে চার নটসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একই সময়ে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা অনেক সময় ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।

    ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা আমার দেশকে বলেন, আগের তুলনায় এখন বাতাসের তাপমাত্রা বেড়েছে। এর সঙ্গে দুর্বল বায়ুপ্রবাহ ও বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হওয়ায় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়। এতে তাপজনিত অবসাদ, পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, কিডনির জটিলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গত কয়েক বছরে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন এ বাস্তবতায় তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলাপর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি নিশ্চিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো কার্যকর ও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

    ময়মনসিংহ সদর, গৌরীপুর, নান্দাইল, ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যেও ফসলি জমিতে কাজ করতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণ পরই মাঠে ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিকই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। অধিকাংশ কৃষিজমির পাশে গাছপালা বা ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল না থাকায় তারা প্রয়োজনমতো বিশ্রামও নিতে পারেন না।

    একই চিত্র নির্মাণশ্রমিক ও ইটভাটা শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। নির্মাণশ্রমিক মো. জুবায়েরের অভিযোগ, অধিকাংশ কর্মস্থলে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয়জল, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল কিংবা নির্ধারিত বিরতির ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে ইটভাটায় চুল্লির তাপ এবং বাইরের ভ্যাপসা গরম মিলিয়ে শরীরের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আব্দুল মাজেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্র বদলে গেছে। এখন আগাম বৃষ্টি হচ্ছে, হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে আমন ধান রোপণের মৌসুমে কৃষিশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ জমির পাশে গাছপালা বা ছায়াযুক্ত স্থান না থাকায় তারা কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান না। ফলে অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    তিনি আরো বলেন, গত দুই দশকে ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়েছে। শীতকাল ছোট হয়ে এসেছে, বোরো ধানে সেচের চাহিদা বেড়েছে, আমন রোপণের সময়েও পরিবর্তন এসেছে। ভুট্টা ও সবজিতে নতুন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আগাম বন্যা কৃষি উৎপাদনের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ময়মনসিংহে বজ্রপাতের প্রবণতাও উদ্বেগজনক। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে আসা আর্দ্র বায়ু, উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা তুলনামূলক শীতল বাতাস এবং বিস্তীর্ণ খোলা কৃষিজমির কারণে এ অঞ্চলে সহজেই বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক বলেন, ময়মনসিংহে এখন যে আবহাওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা সাময়িক নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের অংশ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে গড় তাপমাত্রা আ

    রো বাড়বে, শ্রম উৎপাদনশীলতা কমবে, খরা ও পানির সংকট বৃদ্ধি পাবে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাব জলাশয়ে গিয়ে মাছের উৎপাদন ও খাদ্যের গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ময়মনসিংহ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহে বজ্রপাত প্রতিরোধক ব্যবস্থা (লাইটনিং প্রোটেকশন সিস্টেম) স্থাপন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রসারণ ও সমন্বিত উদ্যোগের গতি এখনো সন্তোষজনক নয়। ফলে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি মিলছে না।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, শুধু তাপমাত্রা নয়; অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

    হিটস্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অতিরিক্ত গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে দীর্ঘ সময় কাজ না করা, ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

  • সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জমির উদ্দিন সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির এক ফেসবুক পোস্টে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

    জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তার মৃত্যুর সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক শোক বার্তায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জানান।

    এদিকে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় চিফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এছাড়া আলাদা শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাবেক স্পকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯৬৯টি শিশু।

    রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৬৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৪টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৫৮টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৯০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৭৯। এই সময়ে ৮৪৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৪৩টি শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৪ হাজার ৩৪০ রোগী, যাদের মধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • বন্যায় নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কী করবেন?

    বন্যায় নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কী করবেন?

    দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা অন্যতম। ভারি সৃষ্টি থেকে এ বছর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। স্বাস্থ্যকর খাবার, সুপেয় পানি, থাকার নূনতম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন্যা দুর্গতরা।

    বন্যার সময় কিছু রোগ-বালাই দেখা দেয়।দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি এসব রোগ-বালাই থেকেই সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে সবাইকে।

    * বিশুদ্ধ পানি

    বন্যার সময় পানির উৎস হওয়ায় তা ভালোমতো ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করাসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে হবে। বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে গেলে এক কলস পানিতে তিন-চার চা চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভেতর এ পানি ঢেলে দিন। এবার আধা ঘণ্টা রেখে এরপর একটানা আধা ঘণ্টা চেপে পানি বের করে ফেলে দিলে সে পানি খাওয়ার উপযোগী হয়। আর ব্লিচিং পাউডার না থাকলে এক ঘণ্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে। তবে নিরাপত্তার জন্য টিউবওয়েলের পানিও ভালোমতো ফুটিয়ে নেওয়া উচিত এবং পানি একটানা ৩০ মিনিট ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করতে হবে। কিন্তু পানি ফোটানোর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি দেড় লিটার খাওয়ার পানিতে ৭.৫ মিলিগ্রাম হ্যালোজেন ট্যাবলেট (হ্যালো ট্যাব), তিন লিটার পানিতে ১৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট এবং ১০ লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট

    আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা রেখে দিলে পানি বিশুদ্ধ হয়। আবার বাসার পানির ট্যাংকের প্রতি এক হাজার লিটার পানিতে ২৫০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার এক ঘণ্টা রাখলে পানি বিশুদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ভাইরাস জীবাণু ধ্বংস হয় না।

    * ডায়রিয়া প্রতিরোধে

    বন্যায় প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হলো ডায়রিয়া। এজন্য খাওয়ার আগে এবং পায়খানা করার পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ডায়রিয়া শুরু হলে পরিমাণ মতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। দুই বছরের কম শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০-১২ চা চামচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ২০ থেকে ৪০ চা চামচ খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। খাওয়ার স্যালাইন না থাকলে বিকল্প হিসাবে লবণ-গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিঁড়ার পানি, ডাবের পানি, কিছু পাওয়া না গেলে শুধু নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে। এ সময় শিশুর পুষ্টিহীনতা রোধে খিচুড়ি খাওয়ানো যেতে পারে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও খাওয়ানো যেতে পারে। যদি পাতলা পায়খানা ও বমির মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

    * খাবার গ্রহণে সতর্কতা

    বন্যার সময় পচা-বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয় অসংখ্য মানুষ। ফলে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ। খিচুড়ি খাওয়া এ সময় স্বাস্থ্যোপযোগী। খাবার প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পানি বেশি খরচ হয় বলে অনেকে প্রথমে একবার স্বাভাবিক পানিতে থালা-বা

    সন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে নেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এতে থালা-বাসনে অনেক ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

    * দুর্ঘটনা থেকে সাবধানতা

    বন্যার সময় আকস্মিক নানা দুর্ঘটনা ঘটে। সাধারণত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ ও পোকা-মাকড়ের কামড়ের ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেলে বা পানিতে পড়ে থাকতে দেখলে তা স্পর্শ না করে বিদ্যুৎ কর্মীদের জরুরিভাবে খবর দিতে হবে। সাপ ও ইঁদুর তাদের আবাস হারিয়ে শুকনো স্থানে মানুষ ও গবাদি পশুপাখির সঙ্গে অবস্থান নেয়। এ জন্য সাপ ও ইঁদুরে কাটার পরিমাণ বেড়ে যায়। বিষহীন সাপে কাটলে ভয়ের কিছু নেই। তবে বিষধর সাপে কাটলে সাপে কাটা স্থানের সামনে মোটা কাপড় বা গামছা বা রশি দিয়ে দিয়ে গিঁট দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম এবং টিটেনাস প্রতিষেধক দিতে হবে। ইঁদুরে কাটলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

    * মলত্যাগে সতর্কতা

    বন্যার সময় যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা উচিত নয়। এতে পেটের পীড়া ও কৃমির সংক্রমণ বেড়ে যায়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং মলত্যাগের পরে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মলত্যাগের সময় কখনো খালি পায়ে থাকলে বক্রকৃমির জীবাণু শরীরে সংক্রমিত হয়। এ সময় বাসার সবাইকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত। তবে দুই বছর বয়সের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    * বন্যা-পরবর্তী সতর্কতা

    বন্যা-পরবর্তী সময়ে মানুষ (দুই বছরের নিচের শিশু ছাড়া) ও গবাদিপশুকে কৃমিনাশক খা

    ওয়াতে হবে। শামুক মানুষ ও পশু-পাখির বিভিন্ন পরজীবীর বা কৃমির মধ্যবর্তী পোষক হিসাবে কাজ করে। এসব শামুক হাঁসের খাবার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা এগুলোকে নিধন করতে হবে। এ ছাড়া কৃমিনাশক ওষুধ নিয়মিতভাবে চার থেকে ছয় মাস অন্তর খাওয়াতে হবে।

  • বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    শনিবার (১১ জুলাই) অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো: মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    এর আগে, ১০ জুলাই রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে, প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ সাত দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।

    বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একইসাথে বন্যা মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

    এ লক্ষ্যে আগামী ১২ জুলাই বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
    এছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।

    বন্যাকবলিত উপজেলা ও জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

  • পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তৈরি করছে ‘নীরব সংকট’

    পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তৈরি করছে ‘নীরব সংকট’

    পাকিস্তানের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এখন আর কেবল আদমশুমারির পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, টেকসই নগর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে দেশটির আগামী প্রজন্ম বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ পানি এবং সুস্থ জীবনযাত্রার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

    আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র জনসংখ্যা বৃদ্ধির সংকটে থাকা অন্যতম শীর্ষ দেশ। বিপুল জনসংখ্যার চাপে দেশটির সীমিত সম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য এবং জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যার চাহিদা এবং প্রাপ্ত সম্পদের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান পাকিস্তানকে একটি ‘নীরব সংকটে’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকলে খাদ্য, পানি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

    শহরগুলোর দ্রুত ও অপরিকল্পিত বিস্তার প্রধান শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। কোনো সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় তীব্র যানজট, গণপরিবহনের সংকট এবং বায়ু দূষণ দেশটিতে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    একই সঙ্গে শহুরে জনগোষ্ঠী পানির অভাব, দুর্বল ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ও সুপরিকল্পিত আবাসনের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

    পরিকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির গতির চেয়ে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি বেশি হওয়ায় এই সমস্যাগুলো দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।

    অতিরিক্ত যানবাহন, নির্মাণকাজ, বর্জ্য উৎপাদন এবং জ্বালানির উচ্চ চাহিদা বায়ু মান নষ্ট করছে এবং পরিবেশের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। পানি সংকট এবং দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে রোগব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

    এদিকে, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তৃতায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দেশটির তরুণ প্রজন্মকে মূল্যবান জাতীয় সম্পদ এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য তরুণদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। জনসংখ্যাভিত্তিক এই সম্ভাবনাকে পাকিস্তানের জাতীয় সমৃদ্ধি এবং অর্থপূর্ণ মানব উন্নয়নে রূপান্তর করতে হবে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ান খেলার মাঠে এ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি বা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জনসচেতনতামূলক একটি র‍্যালি খিলগাঁও, দক্ষিণ গোড়ান ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে স্থানীয় নেতা, সেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

  • ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতী গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে ৩২০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ১১ জুলাই শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব এ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামুলক কোন কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝড়ছে দাবি করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবন রক্ষায় ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭শিক্ষার্থী নিহত ও ১১আহত হয়েছে। মার্চ মাসে

    ৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭শিক্ষার্থী নিহত ও ০১ জন আহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫১টি সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে। জুন মাসে ৫৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।

    সড়কে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

    ১.পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচতেনতামূলক পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করা।

    ২.প্রতিমাসে কমপক্ষে ০১ বার কমন রুমে ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

    ৩.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি সড়ক পারপারের স্পটে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীদের পারাপার স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাঁটানো।

    ৪.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে “রোড সেইফটি গার্ড” লাল পতাকা হাতে নিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।

    ৫.প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

  • কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

    কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

    টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী উপজেলাসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও কোমর পরিমাণ পানি ঢুকে গেছে বাড়িঘরে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে এসেছে। তবে বৃষ্টি কমলেও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।

    এদিকে বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে চকরিয়া হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা ও শাওরিন মনি নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও তাদের বাবা আব্দুল মালেক, তার স্ত্রী ও আরেক সন্তান প্রাণে বেঁচে গেছেন।

    অপরদিকে টানা ছয় দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় জেলার বন্যাকবলিত এলাকার সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।

    শুক্রবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমে এলেও কক্সবাজারের দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি দ্বিতীয় দিনের মতো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    এই দুর্যোগে জেলায় অতিবৃষ্টিপাতে পাহাড়ধস, দেয়ালচাপা ও পানিতে ডুবে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গেলো পাঁচ দিনের এ ঘটনায় শুধু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বিশজনের অধিক মানুষ।

    গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো সড়কে পানি উঠে পড়ায় যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

    স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টানা বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা।

    প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে টইটং ইউনিয়নের হাজীবাজার ও সোনাইছড়ি, শিলখালী ইউনিয়নের হেদায়াতাবাদ, মাঝেরঘোনা, কাছারীমোড়া ও পেঠান মাতবরপাড়া, রাজাখালীর বামুলাপাড়া, মৌলভীপাড়া, উলুডিয়াপাড়া, মগনামার শরৎঘোনা, পশ্চিম বাজারপাড়া, ধারিয়াখালী, ধরদরীঘোনা, মটকাভাঙা, চেরাংঘোনা, মরিচ্যাদিয়া, রঙ্গিয়াখালী, মগঘোনা, মাঝিরপাড়া ও মৌলভীপাড়া, উজানটিয়ার মিয়াপাড়া, সাবখালীপাড়া, ঘোষলপাড়া, পেকুয়ারচর ও পেরাসিংগাপাড়া, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মোরারপাড়া, সৈকতপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও পশ্চিম গোয়াখালী এবং বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রাম।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরিবারে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    পেকুয়া উপজেলা বিএনপির

    সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ সাংবাদিকদের বলেন, নবগঠিত পেকুয়া পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পেকুয়া বাজারের জেনারেল হাসপাতাল থেকে বাজারের পশ্চিম মাথা পর্যন্ত কহেলখালী খালের প্রয়োজনীয় জায়গায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও খুলে দেয়া হয়েছে প্রবাহমান খালের ওয়াপদা সংলগ্ন স্লুইচ গেট।

    পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অন্যদিকে চকরিয়া কাকারা ফাহাশিয়া খালী লক্ষেশ্বর করইয়া ঘোনা বমুবিলছড়ি চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি চকরিয়া সরকারি কলেজেও হাঁটু পরিমাণ পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ক্লাসসহ দাপ্তরিক কাজ করতে পারছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    আশ্রয়ে যাওয়া হলো না, নৌকা উল্টে দুই বোনের মৃত্যু

    বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল আবদুল মালেক পরিবারের। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল মৃত্যুর ফাঁদ। ঝড়ো বাতাসে ডিঙি নৌকা উল্টে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা ও ৭ বছর বয়সী শাওরিন মনি। টানা চার ঘণ্টার উদ্বেগ, কান্না আর অপেক্ষার পর অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে।

    শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে। মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শাওরিন মনিকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    নিহত হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১৩) ও শাওরিন মনি (৭) ওই এলাকার কৃষক আবদুল মালেকের মেয়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বাড়ির চারপাশ তলিয়ে যায়। পানি বাড়তে থাকায় স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আবদুল মালেক। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিয়ে একটি ছোট ডিঙি নৌকায় রওনা হন তারা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঝড়ো বাতাসে নৌকাটি ডুবে যায়।

    এদিকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়।

    পরিবারের সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করে বাঁচতে সক্ষম হলেও স্রোতের পানিতে ভেসে যায় কিশোরী ঝর্ণা। তার মা লাকি আক্তার (৩১) এবং দুই বোন জেরিন মনি (৯) ও শাওরিন মনি (৭) সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও ঝর্ণাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল এনে পানির নিচে তল্লাশি চালানো হয়।

    চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার পানিতে নৌকাডুবির ঘটনায় এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পরে ডুবুরি দলের সহায়তায় প্রায় ৪ ঘণ্টা পর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাইছার উদ্দিন বলেন, পরিবারটি শুধু নিরাপদ জায়গায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যে সেই যাত্রাই তাদের জীবনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনায় আহত দুই বোন জেরিন মনি ও শাওরিন মনিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

    টানা বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার জেলায় গত পাঁচদিনে পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা পড়ে ও বন্যার পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাঁচ দফা পাহাড় ধসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া কক্সবাজার শহরে দুজন, চকরিয়া উপজেলায় তিনজন, পেকুয়া উপজেলায় একজন, উখিয়ার মরিচ্ছা এলাকায় একজন, মহেশখালী উপজেলায় একজন ও কুতুবদিয়া উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন পাহাড় ধসে ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান।

    রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। যাদের মধ্যে গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় পাহাড় ধসে ৫ শিশু শিক্ষার্থী মারা যায়।

    এদিকে বৃহস্পতিবার দিনপূর্ব রাত দেড়টার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডবলতলী এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই শিশু মারা যায়।

    দুই নদীর পানি দুই দিন ধরে বিপৎসীমার উপরে

    কক্সবাজার জেলার দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি অতিবৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দিনের মতো বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।

    কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর দ্বিতীয় দিনের মতো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    বাঁকখালী নদীর বিপদসীমা ৫ দশমিক ৭৯ মিটার ও মাতামুহুরী নদীর বিপদসীমা ৫ দশমিক ৮০ মিটার বলে জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি জানান, জেলার কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছিল।

    পাঁচ দিনে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

    কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেলো ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    ইতোপূর্বে গত রোববার থেকে টানা ৫ দিনে ক

    ক্সবাজার জেলায় ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

    জেলা প্রশাসনের সতর্কতা

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় যে কোনো ধরনের প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সময়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

  • দেশের ৫ শিশু হাসপাতালকে বিশেষায়িত ঘোষণা

    দেশের ৫ শিশু হাসপাতালকে বিশেষায়িত ঘোষণা

    দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি শিশু হাসপাতালকে ‘বিশেষায়িত হাসপাতাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত হাসপাতালগুলো হলো—রংপুর শিশু হাসপাতাল, খুলনা শিশু হাসপাতাল, কুষ্টিয়া শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল ও বরিশাল শিশু হাসপাতাল।

    জানা যায়, বিশেষায়িত হাসপাতালের মর্যাদা পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গতি আসবে। এতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

  • গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

    গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ নিয়ে গত প্রায় চার মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সরকারি হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৮৯, সিলেটে ৮৮, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪২, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১১, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১১০, সিলেটে ৬৫, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪৬, রাজশাহীতে ১৭ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জন ভর্তি হন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২৬।

    এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হাম মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফিল্ড হাসপাতাল এবং জরুরি আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন কোনো হামের জেনোটাইপ ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে জেনোটাইপ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।

    অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন শিশুদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর একটি অংশ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো অক্সিজেন সেবার ব্যবস্থা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।

    তার মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় হাই-ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিশুদের চিকিৎসায় একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউ ও শিশু হাসপাতালের সক্ষমতাও কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।