স্বাস্থ্য

  • আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

    আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

    শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি পালিত হচ্ছে।

    মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্তন্যদানে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

    বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ প্রথমবার পালন করে ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ)। ১৯৯২ সালে এ উদ্যোগ শুরু হলেও এর ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যখন বিশ্বজুড়ে স্তন্যদানকে উৎসাহিত করতে ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন দেশ ও সহযোগী সংস্থার অংশগ্রহণে বিশ্বব্যাপী এ সপ্তাহ পালন করা হয়।

    বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবারও সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

    আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, মেধা বিকাশে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    একই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়মিত স্তন্যদান মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দিলে সংক্রমণজনিত রোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই জন্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

    বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

  • মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

    মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

    প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করা, বোতলজাত পানি পান, রাস্তায় ধুলাবালির মধ্যে চলাফেরা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা খাবার খাওয়া—এসব স্বাভাবিক অভ্যাসের মাধ্যমেই অজান্তে শরীরে প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। খালি চোখে দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত, প্লাসেন্টা এমনকি মস্তিষ্কের টিস্যুতেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টুথপেস্ট এই দূষণের একমাত্র উৎস নয়। প্রতিদিনের খাবার, পানি, বাতাস, প্রসাধনী, পোশাক এবং বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্যের মাধ্যমেও এই ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে বোঝায়। এর একটি অংশ শিল্পকারখানায় ছোট আকারেই তৈরি হয়, অন্য অংশ তৈরি হয় প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাদ্য মোড়ক, টায়ার ও সিনথেটিক কাপড়সহ বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্য সময়ের সঙ্গে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ার মাধ্যমে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশে একবার ছড়িয়ে পড়লে এসব কণা সহজে নষ্ট হয় না। বরং নদী, সমুদ্র, মাটি ও বাতাসে দীর্ঘদিন থেকে খাদ্যচক্রের অংশ হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, ঝিনুক, লবণ, বোতলজাত পানি, কলের পানি, চা-ব্যাগ এবং কিছু টুথপেস্ট ও প্রসাধনীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। আবার গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা বা দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের বোতলে পানি সংরক্ষণ করলেও খাবার ও পানীয়তে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কয়েক বছর আগেও বিষয়টি মূলত পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থও শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া প্রদাহ, কোষের ক্ষতি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, প্রজননস্বাস্থ্যের জটিলতা, অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্যহীনতা এবং হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের শরীর বিকাশমান হওয়ায় দূষণের প্রভাব তাদের ওপর বেশি পড়তে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো যায়। প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার, গরম খাবার প্লাস্টিকে না রাখা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, নিরাপদ পানি পান, ঘরের ধুলাবালি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক ব্যবহার এবং টুথপেস্ট ও প্রসাধনী কেনার আগে উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

    পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারে কার্যকর নীতিমালা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্পকারখানার ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিরাপদ বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রকৃত মাত্রা ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

  • শ্বাসনালিতে খাবার আটকে ঢাবি শিক্ষিকার মৃত্যু

    শ্বাসনালিতে খাবার আটকে ঢাবি শিক্ষিকার মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর একটি হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপ্তি সাহা পরলোকগমন করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে নাস্তার সময় শ্বাসনালিতে খাবার আটকে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অধ্যাপক ড. দীপ্তি সাহার পরলোকগমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বাণীতে উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক ড. দীপ্তি সাহা একজন প্রথিতযশা শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন। দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপকের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়াত অধ্যাপকের মরদেহ শুক্রবার বিকেলে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে আনা হয়। উপাচার্যের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রয়াত অধ্যাপকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে পোস্তগোলার শ্মশানে প্রয়াত অধ্যাপকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

  • রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১,৩৮৪

    রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১,৩৮৪

    গত ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৪ জন (৭৪.৭১ শতাংশ), নারী ২১৯ জন (১৫.৮২ শতাংশ) এবং শিশু ১৩১ জন (৯.৪৬ শতাংশ)।

    আজ (শনিবার, ১ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন পথচারী। মোট নিহতের ৫৯২ জন (৪২.৭৭ শতাংশ) পথচারী, ৫৩৬ জন (৩৮.৭২ শতাংশ) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ২৫৬ জন (১৮.৪৯ শতাংশ) বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-যাত্রী।

    দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। মোট নিহতের ৫১৯ জন (৩৭.৫ শতাংশ) রাতের সময়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এছাড়া সকালে ২৫৮ জন (১৮.৬৪ শতাংশ), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪.০৮ শতাংশ), বিকেলে ১৭৪ জন (১২.৫৭ শতাংশ), ভোরে ১৪২ জন (১০.২৬ শতাংশ) এবং সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬.৯৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.২৫ শতাংশ। এছাড়া মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১.৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২.৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ ৬.২৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

    দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাত ও সকাল সময়ে দুর্ঘটনার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীতে বাইপাস সড়কের অভাবে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত মালবাহী ভারী যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে, ফলে রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে দ্রুত ও ধীরগতির বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ না থাকা বা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়া এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক বর্তমানে রাজধানীর দুর্ঘটনাপ্রবণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর পাশাপাশি বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

    তারা বলেছেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই, সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও নেই। তবে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

    দেশব্যাপী ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। কারণ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল হলো আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইর, ছাদ এবং বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি। তাই আমাদের উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার রাখা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া।

    তারা বলেন, ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন- ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি ভর্তি পাত্রে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

    এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে নয়, শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

    তিনি বলেন, বৃষ্টিকে যদি আমরা ডেঙ্গুর জন্য শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, তাহলে সংকট আরও গভীর হবে। কিন্তু বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে ধীরে ধীরে মুক্ত করা সম্ভব।

    ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমানে বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশে আছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এছাড়া ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত প্রভৃতি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

    ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭২ জন শিশু।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এছাড়া, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮৬। এদিকে, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত রোগীদের ভিড় রয়েছে।

  • ‘আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’: ফিলিস্তিনি অধ্যাপক

    ‘আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’: ফিলিস্তিনি অধ্যাপক

    ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে হাজার হাজার ক্যানসার রোগী জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    দক্ষিণ গাজার একটি স্কুলকে রূপান্তর করা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। সেই ভবনের সিঁড়ির নিচে একটি ছোট্ট, ঘিঞ্জি জায়গায় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে ধীরে ধীরে হেরে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খুলুদ আবু সাহমুদ।

    ১৫টি কেমোথেরাপি সেশনের পর ৩৩ বছর বয়সি এই ফিলিস্তিনি মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না। কারণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ছিটমহলে বর্তমানে যেসব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো তার ক্যানসারের ধরনের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি দুই সন্তানের জননী।

    মিডল ইস্ট আইকে আবু সাহমুদ বলেন, প্রায় নয় মাস আগে আমার মেয়ের জন্মের পরপরই আমার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু কয়েকটি কেমোথেরাপি সেশনের পর আমার শারীরিক অবস্থার শুধু অবনতিই হতে থাকে।

    তিনি বলেন, চিকিৎসক আমাকে জানান যে, এই চিকিৎসা আমার শরীর বা অবস্থার জন্য মানানসই নয়। কেমোথেরাপি কখনো আমার ক্যানসার নিরাময় করেনি; এটি কেবল আমার চুল ও নখ ঝরে যাওয়ার কারণ হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই আমার নখের কিছু অংশ খসে পড়ে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় ১০ মাস পরও গাজায় জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসারের ওষুধ, কেমোথেরাপি, অ্যান্টিবায়োটিক, চেতনানাশক, পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি এবং সার্জারির বিভিন্ন উপকরণ।

    জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত মার্চের মধ্যেই গাজায় প্রায় ৪৬ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং ৬৬ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

    চলতি মাসে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যানসারের বিশেষ ওষুধের মজুত তলানিতে ঠেকায় স্তন, কোলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার, মাথা ও ঘাড়ের টিউমার এবং সারকোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের কেমোথেরাপি চিকিৎসা অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গাজার প্রায় ১১ হাজার ক্যানসার রোগীর মধ্যে অন্তত ৪ হাজার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার মেডিকেল রেফারেল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।

    গাজা সেন্টার ফর ক্যানসারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, চরম সংকটের কারণে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখন সেগুলোও ফুরিয়ে গেছে। এতে স্পষ্টতই মৃত্যুর হার বাড়ছে।

    আবু নাদা জানান, গাজায় বর্তমানে কেমোথেরাপির ওষুধের যে চরম সংকট চলছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম।

    উদাহরণস্বরূপ, স্তন ক্যানসারের জন্য আমাদের কাছে যেটুকু ওষুধ অবশিষ্ট আছে, তা বর্তমান রোগীদের জন্যই যথেষ্ট নয়। নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হলে তাদের দেওয়ার মতো কোনো চিকিৎসা আমাদের কাছে নেই।

    প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণের বদলে চিকিৎসকেরা এখন বাধ্য হয়ে ক্রমবর্ধমান হারে ‘সিঙ্গেল-ড্রাগ থেরাপি’ বা একটি মাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করছেন।

    আবু নাদা বলেন, এটি পরিষ্কারভাবেই চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ করে এবং আরও জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। আমরা ইমিউনোথেরাপির ওষুধেরও তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি, যা আমাদের রোগীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ‘অন্তহীন অপেক্ষা’

    রোগ নির্ণয়ের পরপরই আবু সাহমুদের মেডিকেল রেফারেল অনুমোদন করা হয়েছিল, কারণ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গাজায় ছিল না। নয় মাস পরও তিনি গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন।

    তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা আমাকে বলেছিলেন, আমার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা জর্ডান বা তুরস্কে পাওয়া যায় এবং এখানে থেকে আমার অবস্থার উন্নতির কোনো উপায় নেই। আমি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের আশায় নয় মাস ধরে অপেক্ষা করছি।

    মেডিকেল রেফারেলের মাধ্যমে গাজার রোগীরা অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, মিসর ও জর্ডানের হাসপাতালগুলোতে গিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান, যা গাজায় পাওয়া যায় না।

    যদিও সাধারণত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই রেফারেল ইস্যু ও এর অর্থায়ন করে, তারপরও রোগীদের ইসরায়েল বা মিসরের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রসিংগুলো পার হওয়ার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল চিকিৎসাজনিত রেফারেল এবং গাজা থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে হাজার হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি স্থানীয়ভাবে অপ্রতুল চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চার মাস পর, ইসরাইল কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে চিকিৎসাজনিত কারণে মিসর সীমান্ত দিয়ে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাফা ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেয়। এর আওতায় প্রতিদিন মাত্র প্রায় ৫০ জন রোগীকে গাজা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়—তাও ইসরাইলি অনুমোদনের সাপেক্ষে।

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় চার হাজার শিশুসহ ২০ হাজারের বেশি মানুষ জরুরি চিকিৎসাজনিত স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারিতে রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার পর, গত ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৬৫৫ জন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ১ হাজার ৫৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

    আবু সাহমুদ বলেন, এই অন্তহীন অপেক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই আমার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। আমার আগে আরও অগণিত রোগী স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমি শ্বাসকষ্টে ভুগছি এবং শরীরে তরল জমার কারণে আমার পেট ফুলে গেছে। আমার ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে; এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছি। এমন অনেক সময় যায় যখন পেটে তরল জমার কারণে আমি কিছুই খেতে পারি না; যখনই কিছু খাই, তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়।

    পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং নয় মাসের এক মেয়ের এই মা জানান, সন্তান জন্মের পর থেকে তিনি ছোট মেয়েটিকে একবার কোলেও নিতে পারেননি।

    তিনি বলেন, আমি আমার সন্তানদের প্রতি কোনো দায়িত্বই পালন করতে পারছি না। অসুস্থতার কারণে আমি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছি। আমি কখনোই বিছানা ছেড়ে উঠি না এবং বিন্দুমাত্র শারীরিক পরিশ্রমও করতে পারি না। এখন আমি বেশিক্ষণ হাঁটতেও পারি না। সামান্য একটু হাঁটলেই প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

    মেডিকেল স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা অনেক রোগীর অবস্থারই অবনতি হয়েছে। কারণ, ইসরাইলি হামলা গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে এবং মানুষদের বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে গাদাগাদি করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকতে বাধ্য করেছে, যেখানে বিশুদ্ধ পানি বা পয়োনিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেই।

    আবু সাহমুদ জানান, গণহত্যা শুরু হওয়ার পর নিজের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাকে প্রায় ৩০ বার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

    অতি সম্প্রতি তাকে খান ইউনিসের পশ্চিমে মাওয়াসি আল-কারারা এলাকার একটি তাঁবুতে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে যাওয়ার পরপরই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে।

    তিনি বলেন, আমি তাঁবুর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। সেখানকার পরিবেশ ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর এবং আমার আরও ভালো একটি জায়গা দরকার ছিল। তাই আমি আমার বড় বোনের শরণাপন্ন হই।

    আমার বোনও বাস্তুচ্যুত এবং সে আহমেদ বিন আবদুল আজিজ স্কুলের সিঁড়ির নিচে থাকে। তার সঙ্গে গিয়ে ওঠা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আজ আমাদের দুটি পরিবারের মোট প্রায় ১০ জন মানুষ এখানে একসঙ্গে বাস করছি।

    আমার মতো শারীরিক অবস্থার একজন মানুষের জন্য এই পরিবেশ একেবারেই অনুপযুক্ত। এখানে একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে টিকে থাকাই কঠিন, ক্যানসার রোগীর কথা তো বাদই দিলাম।

    তার বিছানার পাশেই রাখা আছে ওষুধের একটি বাক্স, যা ইঁদুর থেকে সাবধানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার পাশেই রয়েছে একটি ব্যাগ, যার ভেতর রয়েছে বছরের পর বছর ধরে পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করা তার প্রায় ৫০টি একাডেমিক সনদ।

    ক্যানসার তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার আগে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তিনি ‘বইপোকা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পর, গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি আমাকে তাদের ইতিহাসের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মানিত করেছিল, যে কিনা দুই বছরের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম মাত্র এক বছর চার মাসে শেষ করেছিল।

    এরপর তিনি পিএইচডি শুরু করেন এবং পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

    তিনি বলেন, আমি শিখতে ভালোবাসি। আমার পুরো জীবনটাই শিক্ষার প্রতি নিবেদিত ছিল। আমার স্বপ্ন ছিল একজন অধ্যাপক হওয়ার এবং পিএইচডির পরও আমার একাডেমিক যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার। আমি কখনোই শেখা থামাতে চাইনি।

    কিন্তু এই অসুস্থতা আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো চিকিৎসার জন্য এই অপেক্ষা, যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না।

  • আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ, তদন্তে সিবিআই

    আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ, তদন্তে সিবিআই

    ভারতের কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অভয়া (ছদ্মনাম) ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নতুন করে তদন্ত করবে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এ মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাসহ তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজাকে সরিয়ে সিবিআইর কর্মকর্তা সন্দীপনী গর্গকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই গতকাল বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার নাম পাঠিয়েছে।

    পাশাপাশি নতুন করে গঠিত তদন্ত দলে আরও দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সিবিআইয়ের যুগ্ম পরিচালক অনুরাগ কুমার ও মণীশ উপাধ্যায়। নতুন তদন্ত দল এই মামলার হাজার পাতার নথি আবার পর্যালোচনা করবে।

    এদিকে অভয়ার আইনজীবী অমর্ত্য দে গতকাল শিয়ালদহের আদালতে বলেছেন, এই মামলায় পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়ে বারবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা আমলে নেননি।

    নতুন করে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অভয়ার মা ও বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেছেন, ‘এবার আমি আমার মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায়বিচার পাব।’

    এর আগে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত না করার প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন অভয়ার মা।

    এ ছাড়া গত মে মাসে এই মামলায় তথ্য–প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে সীমা পাহুজাকে অভিযুক্ত হিসেবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য ও সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক অভয়াকে (৩১) দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরদিন হাসপাতালের সেমিনার হলে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

    এ ঘটনায় একদল চিকিৎসক প্রতিবাদে সোচ্চার হন। দাবি তোলেন মরদেহের ময়নাতদন্তের। কিন্তু সব দাবি উপেক্ষা করে ১০ আগস্ট ওই নারী চিকিৎসকের দেহ সৎকার করা হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি শ্মশানঘাটে। এই সৎকারের পেছনে পানিহাটির তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ অন্যরা ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এদিকে চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পুলিশ হাসপাতালের কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন শিয়ালদহ আদালত।

    তবে আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথ। অভয়ার মা বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসনে বিজেপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই মামলার আবার তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন তিনি।

  • জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির

    জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির

    হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ও একটি চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এর আগে, হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’য় হামলার ঘটনায় কিশোর আলিফ গুরুতর আহত হন। চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার একটি চোখ রক্ষা করতে পারেননি।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৫টি শিশু।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৪০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৩৭টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৮৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯০০। এই সময়ে ৮০৫টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮০৬টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো

    রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো

    রাশিয়ার উদ্ভাবিত ক্যানসার ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’ প্রথম প্রয়োগেই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দার গিনজবার্গ।

    ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন রেসপন্স) তৈরি হয়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন এই প্রতিষেধক তৈরির নেপথ্যে থাকা আলেক্সান্দার গিনজবার্গ।

    এ খবর দিয়েছে আরটি ইন্টারন্যাশনাল। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যক্তিগত (পার্সোনালাইজড) ক্যানসার চিকিৎসার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি হলো মেলানোমার (ত্বকের ক্যানসার) জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি কোলরেকটাল ক্যানসারের জন্য পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’।

    চলতি বছরের এপ্রিলে ৬০ বছর বয়সী এক তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে প্রথমবারের মতো নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। প্রতিষেধকটির কার্যকারিতা সম্পর্কে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, তার শরীর ইতোমধ্যে ক্যানসারের টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সক্রিয় যৌগ তৈরি করতে শুরু করেছে। চিকিৎসাসূচি অনুযায়ী তাকে আরও দুটি ডোজ প্রদান করা হবে। এ ছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও ১০ জন রোগীর জন্য এই মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    রাশিয়ার জাতীয় চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রে কাপ্রিন জানান, প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার চেয়ে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে রোগীর নিজস্ব টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে একটি কাস্টমাইজড বা রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

    যা রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সরাসরি ক্যানসার কোষ চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়। গামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরিতেও কাজ করছে।

  • ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ৩৬, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৩ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ৩ জনের মৃত্যু এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৬৭ জন। এনিয়ে চলতি মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ২০৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন ১৫৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৩১২ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬৩ জন।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৫৩ জন।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, আগামী আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তেই থাকবে।

    সরকারের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুতে যত মৃত্যু হয়েছিল, জুলাই মাসের ৩০ দিনেই সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

  • আ.লীগের পথেই বিএনপি- এনসিপি

    আ.লীগের পথেই বিএনপি- এনসিপি

    জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ দাবি জানান।

    আখতার হোসেন বলেন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরী হামলায় এক চোখ হারিয়েছেন। অপারেশনের পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখ আর কখনো ভালো হবে না। এছাড়া অন্য চোখেও তিনি ঝাপসা দেখছেন, ফলে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু হবিগঞ্জের ঘটনাই নয়, সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক আগে সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরের ওপরও হামলা হয়েছে। ওই সময় এনসিপির নেতারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফিরছিলেন। ফেরার পথেই তাদের বহরে হামলা চালানো হয়।

    এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, বুধবার হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদেরও হেনস্তা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। একইভাবে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশে একটি ভয়াবহ ও বীভৎস রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে বিরোধী দলের ওপর হামলা-নিপীড়ন চালানো হতো, বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথে হাঁটছে। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলা, মামলা ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্ত্রের মহড়া ছিল না। তারপরও পুলিশ ব্যারিকেড ও ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হতো, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই রকম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় জড়িত ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এনসিপিসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, জুলাই পদযাত্রাসহ সব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • চর্বি কমে গেলেও বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: গবেষণা

    চর্বি কমে গেলেও বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: গবেষণা

    সাধারণভাবে শরীরের মেদ বা চর্বিকে (ফ্যাট) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়। অনেকেই ভাবেন, চর্বির পরিমাণ যত কম হবে, শরীর তত বেশি সুস্থ থাকবে।

    অতিরিক্ত ওজন, হৃদরোগ কিংবা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য অতিরিক্ত চর্বি দায়ী—এ কথা সত্যি হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, সব চর্বি ক্ষতিকর নয়। বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট কিছু ভালো বা কার্যকর ফ্যাট টিস্যুর অত্যন্ত প্রয়োজন।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর থেকে এই ‘উপকারী’ চর্বি কমে গেলে অজান্তেই বৃদ্ধি পেতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ডায়াবেটিস শুধু অতিরিক্ত মেদের কারণেই হয় না; বরং কোনো রোগের কারণে উপকারী ফ্যাট টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত বা উধাও হয়ে গেলেও এই রোগ থাবা বসাতে পারে।

    নিচে বিষয়টির বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। ভালো চর্বি কেন শরীরের জন্য জরুরি?

    আমাদের শরীরের ফ্যাট টিস্যু (অ্যাডিপোজ টিস্যু) কেবল অতিরিক্ত ক্যালরি জমিয়ে রাখে না, এটি একটি সক্রিয় অঙ্গের মতো কাজ করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হরমোন নিঃসরণ এবং প্রদাহ দূর করতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো ফ্যাট সেলগুলো খাবার থেকে আসা অতিরিক্ত মেদ নিরাপদে নিজের মধ্যে জমা রাখে। এর ফলে লিভার, মাংসপেশি বা অগ্ন্যাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ক্ষতিকর চর্বি জমতে পারে না এবং শরীর ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয়।

    সুস্থ চর্বি কমে গেলে শরীরে কী ঘটে?গবেষকেরা ‘ফ্যামিলিয়াল পারশিয়াল লিপোডিস্ট্রোফি টাইপ ২’ নামের একটি বিরল জিনগত রোগ নিয়ে গবেষণা করেন। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে ধীরে ধীরে ভালো চর্বি উধাও হয়ে যায়। ফলে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন না থাকা সত্ত্বেও তারা ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং রক্তে অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় উপাদানের সমস্যায় ভোগেন।

    রোগীদের ফ্যাট টিস্যু পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চর্বি কোষগুলো বিলুপ্ত হওয়ার অনেক আগেই তা ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর হতে শুরু করে।

    ফ্যাট সেল ধ্বংস হওয়ার ৩টি ধাপ

    গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যাট সেল ধ্বংস হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:

    ১. ফ্যাট সংরক্ষণে অক্ষমতা: চর্বি কোষগুলো ধীরে ধীরে চর্বি জমা রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ২. প্রদাহ সৃষ্টি: ফ্যাট টিস্যুর মধ্যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ইমিউন কোষগুলো অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ফ্যাট সেলগুলোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    ৩. মাইটোকন্ড্রিয়ার অকার্যকারিতা: কোষের শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্র ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে শক্তির অভাবে ফ্যাট সেলগুলো শুকিয়ে উধাও হয়ে যায়।

    কীভাবে এটি ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দেয়?

    সুস্থ ফ্যাট সেলগুলো নষ্ট হয়ে গেলে মেদ আর নিরাপদে জমা থাকতে পারে না। তখন এগুলো লিভার ও পেশিতে গিয়ে জমতে শুরু করে, যা ইনসুলিনের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। ফলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে পারে না।

    এ ছাড়া, উপকারী ফ্যাট টিস্যু থেকে নিঃসৃত হরমোন কমতে থাকায় ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়—এমনকি ব্যক্তি শারীরিকভাবে মোটা না হলেও।এতদিন মনে করা হতো ডায়াবেটিস মূলত স্থূলতা এবং অগ্ন্যাশয়ের বিটা সেলের সমস্যার কারণে হয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করল যে, ভালো ফ্যাট সেলের মান ও কার্যকারিতা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ওজন কমানো কি তবে ঝুঁকিপূর্ণ?

    না, সুস্থ উপায়ে ওজন কমানো একদমই ক্ষতিকর নয়। অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের জন্য সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে বাড়তি মেদ ঝরানো এখনো ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধের সেরা উপায়।

    গবেষণার মূল বার্তা হলো—রোগ বা জিনগত সমস্যার কারণে ফ্যাট সেলের যে ক্ষতি হয় তা প্রতিরোধ করা, সাধারণ স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করা নয়।

  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫টি শিশু।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম–বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে মোট ৭৩৯ শিশু। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৬ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৮৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৫ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গজনিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৭০ জন। এ সময়ে ৮১৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৫৫ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭৪ জনের।

    এ সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৮২ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • তেল, দুধ, চিনি থেকেও শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

    তেল, দুধ, চিনি থেকেও শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

    প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ০৮আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৩৩মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে দুধ, চিনি এবং সয়াবিন তেলেও।

    টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা সয়াবিন তেল, দুধ ও চিনিতেও উচ্চ মাত্রায় এই উপাদানের প্রমাণ মিলেছে। গবেষণার এমন উদ্বেগজনক তথ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিকের মোড়ক এবং পরিবেশদূষণের কারণেই এসব জরুরি খাদ্যপণ্যে অনায়াসে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা।

    খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের হার

    গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, কেবল সয়াবিন তেলের মাধ্যমেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন।

    শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরো আশঙ্কাজনক। একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭ দশমিক ২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি প্লাস্টিক কণা খাদ্যের সঙ্গে পেটে পাঠাচ্ছে।

    সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তথ্যানুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে, যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেলে এর পরিমাণ প্রতি লিটারে ৪৪ হাজার থেকে ৫৪ হাজার কণা। দুধেও পাওয়া গেছে এই ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি; প্রসেসড বা প্যাকেটজাত দুধের প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬.০৬টি কণা থাকলেও কাঁচা দুধে তা কিছুটা কম—প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ৯৩.৩৯টি।

    এছাড়া, চিনির ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রতি কেজি খোলা চিনিতে গড়ে প্রায় ৪০৩টি এবং ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিতে গড়ে প্রায় ৩২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বিদ্যমান।

    তিন উপায়ে খাবারে মিশছে প্লাস্টিক

    গবেষকেরা খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের তিনটি প্রধান পথ চিহ্নিত করেছেন।

    ১. প্যাকেজিং ও মোড়ক

    প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও বস্তার সরাসরি সংশ্রব।

    ২. কারখানার যন্ত্রাংশ

    প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় মেশিনের ঘর্ষণ, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পাইপ এবং কর্মীদের প্লাস্টিকের গ্লাভস ব্যবহারের মাধ্যমে।

    ৩. পরিবেশ দূষণ

    বাংলাদেশে প্রতিদিন তৈরি হওয়া প্রায় আট হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্যের অর্ধেকের বেশি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা হয় না। পরিবেশের মাটি, পানি ও বাতাসে থাকা এই বর্জ্য ভেঙে খাদ্যচক্রে ঢুকছে।

    গবেষণা যা বলছে

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে এক গবেষণায় দুধের নমুনায় ক্ষতিকর পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬ ও পিভিসির মতো পলিমার পাওয়া গেছে।

    তিনি জানান, খামার থেকে সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে দুধ প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসছে। শিশুখাদ্যে দুধের বড় ভূমিকা থাকায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালিসিস-এ প্রকাশিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় সয়াবিন তেলে অকল্পনীয় মাত্রায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি উঠে এসেছে।

    গবেষণা দলের প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক এই মাত্রাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন।

    একই সাময়িকীতে প্রকাশিত ঢাকার সাত ধরনের চিনির ওপর চালানো অপর এক গবেষণায় দেখা যায়, কণাগুলোর আকার ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। পরিবহন ও প্লাস্টিকের বস্তাই এর মূল কারণ।

    এর আগে বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই প্লাস্টিক কণা পেয়েছিলেন গবেষকরা। যার মধ্যে শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেই এই উপাদান বিদ্যমান ছিল।

    মানবদেহে প্রবেশের পথ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

    আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাগুলো সরাসরি মানুষের রক্তে মিশে যেতে পারে।

    লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষক স্টেফানি রাইট জানান, হিটিং বা উচ্চ তাপমাত্রা এবং গরম পানি প্লাস্টিক থেকে কণা নির্গমন ত্বরান্বিত করে। রক্তে পৌঁছানো অতি ক্ষুদ্র কণা পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোষের ক্ষতি করতে পারে।

    বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের হৃদযন্ত্রের ধমনী, জয়েন্টের হাড় ও কঙ্কাল পেশি এবং মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেন জানান, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বাস্তুতন্ত্র বিভাগের পরিচালক সুসান গার্ডনার জানান, ২০২০ সালে বিশ্বে ২৭ লাখ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে মিশেছে, যা ২০ ৪০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। তিনি খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং ও ট্রান্সপোর্টে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেন।

    বিএসটিআই ও সরকারের বক্তব্য

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। প্রতিষ্ঠানটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা পণ্যকে অনিরাপদ বলা ঠিক হবে না। টুথপেস্টে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে থাকা কণার কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং মানদণ্ড অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিষয়টিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট উল্লেখ করে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার এই জননিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এটি কেবল টুথপেস্ট বা নির্দিষ্ট পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, খাবার ও পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • জেনে নিন ফেসবুক থেকে আয় করবেন কীভাবে

    জেনে নিন ফেসবুক থেকে আয় করবেন কীভাবে

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ফেসবুক এখন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা নয়, বরং অনেকের জন্য আয়ের একটি বড় মাধ্যমও হয়ে উঠেছে। নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে হাজার হাজার মানুষ ফেসবুক থেকে অর্থ উপার্জন করছেন। আপনি যদি ভিডিও বানান, ছবি পোস্ট করেন, গল্প শেয়ার করেন কিংবা তথ্যভিত্তিক পোস্ট লেখেন, তাহলে আপনার জন্যও রয়েছে আয় করার সুযোগ।

    ফেসবুক কীভাবে আয় করার সুযোগ দেয়

    ফেসবুক বর্তমানে Content Monetization নামে একটি একীভূত মনিটাইজেশন প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট থেকে আয় করা যায়। আগে ভিডিও, রিলস বা অন্যান্য কনটেন্টের জন্য আলাদা আলাদা প্রোগ্রাম ছিল। এখন সেগুলো এক জায়গায় আনা হয়েছে, ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয় করা আরও সহজ হয়েছে।

    কোন কোন কনটেন্ট থেকে আয় করা যায়

    ফেসবুকের মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিচের ধরনের কনটেন্ট থেকে আয় করার সুযোগ রয়েছে-

    ফেসবুক রিলস
    দীর্ঘ ভিডিও
    স্টোরি
    ছবি পোস্ট
    টেক্সট পোস্ট
    অর্থাৎ শুধু ভিডিও নয়, ভালো মানের ছবি বা তথ্যবহুল লেখাও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    আয় নির্ভর করে কীসের ওপর

    ফেসবুকের আয় ব্যবস্থা মূলত পারফরম্যান্সভিত্তিক। অর্থাৎ আপনার কনটেন্ট কত মানুষ দেখছে, কতক্ষণ দেখছে এবং কতটা সম্পৃক্ততা তৈরি করছে, তার ওপর আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে।

    যেসব কনটেন্ট বেশি ভিউ, ওয়াচ টাইম ও এনগেজমেন্ট পায়, সেগুলো সাধারণত বেশি আয় এনে দেয়। তাই শুধু বেশি পোস্ট করলেই হবে না, দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি করাও জরুরি।

    মনিটাইজেশনের জন্য কী করতে হবে

    প্রথমেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইল বা পেজকে পেশাদারভাবে পরিচালনা করতে হবে। এরপর ফেসবুকের Professional Dashboard বা Monetization সেকশনে গিয়ে দেখতে হবে আপনি মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য কি না।

    যদি আপনার অ্যাকাউন্ট বা পেজ ফেসবুকের শর্ত পূরণ করে, তাহলে মনিটাইজেশন ফিচারে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যোগ্য না হলেও আগ্রহ প্রকাশ করার ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ এলে ফেসবুক আপনাকে বিবেচনা করতে পারে।

    কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি

    ফেসবুক থেকে আয় করতে চাইলে কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলো-

    মৌলিক বা নিজের তৈরি কনটেন্ট প্রকাশ করুন।
    অন্যের ভিডিও বা পোস্ট কপি করে আপলোড করবেন না।
    বিভ্রান্তিকর, ক্ষতিকর বা নীতিমালা বিরোধী কনটেন্ট এড়িয়ে চলুন।
    নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করুন।
    দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
    ফেসবুক ইতোমধ্যে জানিয়েছে, যারা বারবার অন্যের কনটেন্ট কপি বা পুনরায় প্রকাশ করে, তাদের মনিটাইজেশন সুবিধা সীমিত বা বাতিল করা হতে পারে।

    নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ

    ফেসবুকে আয় শুরু করতে চাইলে প্রথম দিন থেকেই টাকার দিকে না তাকিয়ে দর্শক তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিন। এমন একটি বিষয় বেছে নিন যেটি সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞান বা আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করুন, ভিডিওর মান উন্নত করুন এবং দর্শকের মন্তব্যের উত্তর দিন।

    সময়ের সঙ্গে যদি আপনার কনটেন্ট মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে ফেসবুকের মনিটাইজেশন সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

    বর্তমানে ফেসবুক শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি দক্ষ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় আয়ের ক্ষেত্র। রিলস, ভিডিও, ছবি কিংবা তথ্যভিত্তিক পোস্টের মাধ্যমে নিয়ম মেনে কাজ করলে এবং মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করলে ফেসবুক থেকে আয় করা সম্ভব। ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং মানসম্মত কনটেন্টই এই যাত্রায় সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

  • ডেঙ্গু সম্পর্কে যা জানা দরকার

    ডেঙ্গু সম্পর্কে যা জানা দরকার

    জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, আর্দ্র আবহাওয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এ বছর বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

    কীভাবে ছড়ায়

    এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা আবার সুস্থ মানুষকে কামড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

    লক্ষণ

    হঠাৎ বা অনিয়মিত জ্বর, শরীরব্যথা, বমি, তীব্র পেটব্যথা, চোখে ব্যথা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং প্লাটিলেট হ্রাস ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় র্যাশ বা তীব্র শরীরব্যথা না থাকায় রোগীরা সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসায় দেরি করেন, যা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    চিকিৎসা

    ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে। রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, অতিরিক্ত বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

    পরীক্ষা

    জ্বরের প্রথম ১-২ দিনের মধ্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং ৪-৬ দিন পর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা যায়। সিবিসি ও প্লাটিলেট কাউন্ট সাধারণত যথেষ্ট। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার প্লাটিলেট পরীক্ষা করার দরকার নেই।

    প্লাটিলেট ও রক্ত

    শুধু প্লাটিলেট কমলেই প্লাটিলেট বা রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রক্তক্ষরণ বা চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরামর্শ থাকলেই এগুলোর প্রয়োজন হয়।

    প্রতিরোধই সেরা উপায়

    ডেঙ্গুর কার্যকর প্রতিরোধ হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশারি ব্যবহার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    মনে রাখুন

    ডেঙ্গু ছোঁয়াচে নয়; আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এ রোগ ছড়ায় না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

  • আইসিইউতে চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা

    আইসিইউতে চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা

    রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা। তার জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো হচ্ছে যে, মেঘলা মুক্তা ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন তিনি এবং তার অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুতি চলছে। আর এই কঠিন সময়ে তাকে আপনারা সবাই প্রার্থনায় রাখুন। আমরা তার সফল অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

    এছাড়াও বিবৃতিতে তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে কোনো ধরনের অপপ্রচার না চালানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অনুগ্রহ করে কোনো যাচাইহীন তথ্য বা গুজব ছড়াবেন না কেউ। নতুন কোনো আপডেট পাওয়া মাত্রই আপনাদের তা অফিশিয়াল পেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

    এর আগে, গত ২৭ জুলাই ফেসবুকে ভাঙা ফোনের কয়েকটি ছবি দিয়ে মেঘলা মুক্তা লিখেছিলেন, আমার ফোনটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য কিছুদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকব। আপনারা ফেসবুক বা হোয়াসঅ্যাপে আমাকে পাবেন না। তবে জরুরি বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে সরাসরি নম্বরে ফোন করবেন।

    উল্লেখ্য, তেলেগু সিনেমা ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’ সিনেমায় অভিনয় করে বেশি আলোচনায় আসেন মেঘলা মুক্তা। তবে শুরুর দিকে র‍্যাম্পে কাজ করেছেন তিনি। আর মডেল হিসেবে বিলবোর্ড এবং মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে- ‘পায়ের ছাপ’, ‘কাঠগোলাপ’ ও আগুনের পাখি’।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বুড়োদের ওষুধে ভর্তুকি নয়

    যুক্তরাষ্ট্রে বুড়োদের ওষুধে ভর্তুকি নয়

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মেডিকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য প্রেসক্রিপশনে ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় দেওয়া ফেডারেল ভর্তুকি বন্ধ করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রায় আড়াই কোটি প্রবীণ নাগরিকের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া ওষুধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, মেডিকেয়ার বিমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ঠেকাতে ফেডারেল সরকার যে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিত, তা চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।

    যারা বর্তমানে এই ভর্তুকিপ্রাপ্ত পরিকল্পনার আওতায় রয়েছেন, তারা শরৎকালে নতুন প্রিমিয়ামের হার জানতে পারবেন। আগামী নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। কারণ, প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

    স্বাস্থ্যনীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ জানিয়েছে, ভর্তুকিপ্রাপ্ত একটি পরিকল্পনার গড় মাসিক প্রিমিয়াম প্রায় ৩৬ ডলার।

    ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত পরিকল্পনার আওতাভুক্ত প্রায় এক-চতুর্থাংশ গ্রাহকের প্রিমিয়াম ২০২৭ সালে কমবে অথবা অপরিবর্তিত থাকবে। আরও ৩০ শতাংশের মাসিক প্রিমিয়াম ১০ ডলারের কম বাড়বে।

    ওই কর্মকর্তা জানান, অবশিষ্ট ৪৫ শতাংশ গ্রাহকের মাসিক প্রিমিয়াম ১১ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়বে।

  • সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে টেস্ট করানো ও বাণিজ্যিক চিকিৎসা বন্ধে কঠোর নজরদারি করা হবে। টেন্ডারে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট সরবরাহ করা হবে।

    অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন ও অনিয়মে পরিচালিত প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  • ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অভিনেত্রী মেঘলা

    ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অভিনেত্রী মেঘলা

    আইসিইউতে অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে তার। খবরটি মেঘলার ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) মেঘলার ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে মেঘলা মুক্তা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

    বর্তমানে তিনি আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আছেন এবং তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। এই কঠিন সময়ে সবাই তাকে প্রার্থনায় রাখুন। আমরা তার সফল অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

    অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও লেখা হয়, ‘দয়া করে কোনো যাচাইহীন তথ্য বা গুজব ছড়াবেন না। আমরা নতুন কোনো আপডেট পাওয়ামাত্রই তা অফিশিয়াল পেজে জানিয়ে দেব।’

    খবরটি শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেঘলা মুক্তার অনুসারীরা। মন্তব্যের ঘরে অনেকে সুস্থতা কামনা করেছেন অভিনেত্রীর।

    র‍্যাম্পে কাজ করতেন মেঘলা। ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’ নামের একটি তেলেগু ছবিতেও অভিনয় করেছেন। দেশের ‘পায়ের ছাপ’, ‘কাঠগোলাপ’ ও ‘আগুনের পাখি’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে তাকে।

    সবশেষে ‘চক্র ২’ ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে আলোচিত হন মেঘলা।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫ জন।

    বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

    সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩১ জনে।

    এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫৩৪ জন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • হাড়ের ক্ষয় রোধে খাবারের ভূমিকা

    হাড়ের ক্ষয় রোধে খাবারের ভূমিকা

    লাইফস্টাইল

    দুধ খেলে হাড় মজবুত হয়—এ কথা ছোটবেলা থেকেই প্রায় সবাই শুনে বড় হয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দুধ নয়; সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাই দীর্ঘমেয়াদে হাড়কে সুস্থ ও শক্ত রাখার মূল চাবিকাঠি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড় দুর্বল হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার অনেক আগেই এর ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল মাসকিউলোস্কেলেটাল হেলথের অধ্যাপক কেট ওয়ার্ড বলেন, শৈশব ও কৈশোরে যত বেশি শক্তিশালী ‘বোন রিজার্ভ’ তৈরি হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি তত কম থাকে।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন। এই রোগে হাড় ধীরে ধীরে পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। রয়্যাল অস্টিওপোরোসিস সোসাইটির জুলি থম্পসনের ভাষ্য, এটি একটি ‘নীরব রোগ’। কারণ হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত সাধারণত এর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

    বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হিপ ফ্র্যাকচার বা কোমরের হাড় ভাঙা একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর এক কোটিরও বেশি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। হাড় ভাঙার পর নিউমোনিয়া বা হৃদরোগের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ঝুঁকি আরও বেড়ে গেলেও পুরুষরাও অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হতে পারেন।

    টাফটস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বেস ডসন-হিউজ বলেন, একসময় অস্টিওপোরোসিসকে শুধু নারীদের রোগ মনে করা হলেও বর্তমানে দীর্ঘায়ুর কারণে পুরুষদের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে।

    হাড় ভালো রাখতে কী খাবেন?

    দুধ, দই ও পনির

    দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ডির অন্যতম ভালো উৎস। ২০০ মিলিলিটার এক গ্লাস দুধে প্রায় ২৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বেশি দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং কোমরের হাড় ভাঙার ঝুঁকি ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা প্রায় ১,২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

    সয়া ও টোফু

    দুগ্ধজাত খাবার না খেলেও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। ১০০ গ্রাম টোফুতে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। সয়াতে থাকা আইসোফ্ল্যাভোন নামের উদ্ভিদ-যৌগ ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে, যা বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ফারমেন্টেড সয়া খাবার ‘টেম্পে’ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণেও সহায়তা করে।

    চিয়া বীজ

    চিয়া বীজে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। মাত্র এক টেবিল চামচ চিয়া বীজেই প্রায় ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ শরীরের প্রদাহ কমিয়ে হাড় ক্ষয়ের গতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    শুকনো ফল

    প্রুন, ডুমুর ও এপ্রিকটের মতো শুকনো ফলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পলিফেনল। গবেষণায় দেখা গেছে, এক বছর নিয়মিত প্রুন খাওয়া নারীদের হাড়ের ক্ষয় তুলনামূলক কম হয়েছে।

    ক্যানজাত সার্ডিন ও স্যামন

    কাঁটাসহ ক্যানজাত সার্ডিন ক্যালসিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস। ৬০ গ্রাম সার্ডিনে প্রায় ২৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। পাশাপাশি এসব মাছে রয়েছে ভিটামিন ডি ও উচ্চমানের প্রোটিন, যা হাড়ের পাশাপাশি পেশিও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী পেশি থাকলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং হাড় ভাঙার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

    সাপ্লিমেন্ট কি প্রয়োজন?

    গবেষকদের মতে, সবার জন্য ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না। যাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নেই বা যাদের শরীরে সূর্যালোকের অভাবে ভিটামিন ডি ঘাটতি রয়েছে, মূলত তাদের ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে এবং এতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

    ভেগানদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি, তিল, ডাল এবং ক্যালসিয়াম-ফর্টিফাইড খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্টও নেওয়া যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড় সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, নিয়মিত ওজন বহনকারী (ওয়েট-বেয়ারিং) ব্যায়াম করা এবং শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি নিশ্চিত করা। এতে বয়স বাড়লেও হাড়ের ক্ষয় ও ভাঙার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে রাখা সম্ভব।

  • ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকানো সম্ভব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকানো সম্ভব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ধূমপান, বায়ুদূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো মোকাবিলা করা গেলে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ কিংবা বিলম্বিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বুধবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে একটি হালনাগাদ নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ ডিমেনশিয়া। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে এটি শারীরিক অক্ষমতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। রোগটি স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।

    বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে প্রচলিত ধরন আলঝেইমার্স, যা মোট রোগীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অসংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দেবোরা কেস্টেল বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকেই নয়, তার পরিবার ও সমাজকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষের স্বাস্থ্য, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জীবনমানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগ।

    স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তার জন্য প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সালের পর ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস বলেন, মানসিক ও জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন দেশগুলোর জন্য তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর সুপারিশ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছরের পর বেশি দেখা দিলেও এটি বার্ধক্যের অনিবার্য অংশ নয়।

    ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী, মৃদু মানসিক ও জ্ঞানীয় সমস্যায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কগনিটিভ স্টিমুলেশন বা মানসিক উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডিমেনশিয়ার কারণে প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এর প্রায় অর্ধেকই রোগীদের পরিবার ও স্বজনদের দেওয়া অবৈতনিক পরিচর্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    দেশের বাজারে ২৬টি টুথপেস্টে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫১২ জন।

    চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৯ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৮৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, রংপুর বিভাগে ২৮ ও সিলেট বিভাগে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৫২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

  • হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৭৯৯ শিশু। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৮২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জন এবং হামের উপসর্গে ৭৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৫৬ জন।

    এ ছাড়া, চলতি প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের সংক্রমণ রোধে শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গার ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার আসমানখালী এলাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এ সময় ওই এলাকার ওষুধ, সার, গ্যাস ও বীজের দোকানে তদারকি চালানো হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা গেছে, তদারকিকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে লাইসেন্স ব্যতীত গ্যাস বিক্রি করার অপরাধে মো: মফিজ উদ্দীনের মালিকানাধীন মেসার্স তিতাস সাইকেল স্টোরকে দুই হাজার টাকা, মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও বেআইনিভাবে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করায় মো: আশরাফুল আলমের মেসার্স সামিরন ফার্মেসীকে ১০ হাজার টাকা ও মেয়াদউত্তীর্ণ বীজ বিক্রির অপরাধে মো: রবিউল হকের মেসার্স রবিউল বীজ ভান্ডারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে মো: হুমায়ুন কবিরের মেসার্স বিসমিল্লাহ হোমিও ক্লিনিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

    অভিযান পরিচালনাকালে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান সংশ্লিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদউত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশু খাদ্য বিক্রি না করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা, কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জেলা প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস টিম।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামনুন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সাড়ে সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

    সাড়ে সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি চলছেই। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এ তথ্য সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের।

    প্রতিষ্ঠানটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, নিহতের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশই ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী। এই বয়সী নিহত শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৮। তারা স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬ জন, অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কম বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায়–চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে।অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।

    বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও মালবাহী অনিরাপদ যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছেন। অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার মতো ব্যক্তিগত অসতর্কতার কারণেও প্রাণহানি ঘটেছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দেশের অমিত সম্ভাবনাময় গোষ্ঠী হচ্ছে শিক্ষার্থী। আর কর্মক্ষম গোষ্ঠী হচ্ছেন যুবকেরা। এ দুই শ্রেণির মানুষই সড়কে বেশি মারা যাচ্ছেন। এটা রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।তিনি বলেন, বক্তৃতা করে এর সমাধান করা যাবে না। এর জন্য দরকার টেকসই পরিবহন কৌশল এবং এর কঠোর বাস্তবায়ন। স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। তাদের চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারকে কাজ করতে হবে।

    শিক্ষার্থী মৃত্যুর চিত্র
    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন।

    যে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ৬৯৩ জন ২০১৯ সালে, ৭১৯ জন ২০২০ সালে ও ৯৩৬ জন ২০২১ সালে নিহত হন। গত সাড়ে সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী মারা গেছেন ২০২২ সালে। ২০২৩ সালে শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৫৩ জন।২০২৪ ও ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৭৩ ও ১ হাজার ১৪ জন। গত ছয় মাসে ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

    এর বাইরে অসাবধানে রেললাইন পারাপারের সময় ও হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ
    সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিকারে সাতটি সুপারিশও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ সম্পর্কে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং অনিরাপদ যানবাহন; সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা; সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা; শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া বাইক চালানোর মানসিকতা; ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।এগুলো দূর করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সুপারিশ হচ্ছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং ক্লাস–পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন থাকতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অনিরাপদ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্তবয়স্করা বাইক চালাতে না পারে, সে জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ দরকার।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়দি কোনো টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তা অনেকটা অবৈজ্ঞানিক ও সমন্বয়হীন।প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, সড়ক পরিবহন আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। মাঝেমধ্যে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো সুপারিশই আলোর মুখ দেখে না। মূলত কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরির মধ্যেই সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।

  • স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরিকারকদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিকিৎসাসামগ্রীগুলো ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, আলাদা দুটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা যাবে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করবে।বিশেষজ্ঞরা জানান, গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম হিসেবে ভেন্টিলেটর মেশিনটি ব্যবহৃত হয়। এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। অন্যদিকে, শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ সমস্যায় ব্যবহারোপযোগী হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিদ্যুতের সংযোগ ছাড়াই চালানো যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই যন্ত্রগুলোর সফল উৎপাদন শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমে আসবে।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

  • যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি ভারতের হায়দরাবাদসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও প্রচার মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত মিডিয়া উইংয়েও দেওয়া হয় একটি পোস্ট।

    জামায়াত মিডিয়া উইং থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে আরো বলা হয়, একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত নারীর বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং তার বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইন্ধনে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে চলছে টার্গেটেড অপপ্রচার।

    মেহজাবিন জান্নাত অনন্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু নথি এই পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়

  • বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার: ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতার প্রস্কাব

    বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার: ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতার প্রস্কাব

    যুক্তরাষ্ট্রে বেবি পাউডারসহ অন্যান্য ট্যালকমযুক্ত পণ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে সাড়ে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় সাড় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক হেলথকেয়ার জায়ান্ট জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)।

    দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই বহুল আলোচিত আইনি লড়াই চূড়ান্তভাবে বন্ধ করতেই মার্কিন ভিত্তিক নিউ জার্সির এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিক এ সমঝোতার প্রস্তাব এনেছে।

    তবে সংস্থাটি শুরু থেকেই তাদের ট্যালকম-ভিত্তিক পণ্যের কারণে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ইতিমধ্যে তাদের জনপ্রিয় বেবি পাউডারের ফর্মুলায় পরিবর্তন এনেছে।

    গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন’। তবে বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই তারা এই সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক।

    প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছর ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করবে জনসন অ্যান্ড জনসন এবং ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে রাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সম্পর্কিত অন্তত ৯৫ শতাংশ মামলাকারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনি ফার্মগুলোর সম্মতি প্রয়োজন হবে বলে জানায় জে অ্যান্ড জে।

    এরিক হাস বলেন, ‘আদালতে চূড়ান্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রাখলে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিই জয়ী হতো, ঠিক যেভাবে অতীতের বেশিরভাগ মামলায় জয়ী হয়েছে।’

    তিনি আরও যোগ করেন, এই সমঝোতার ফলে কোম্পানিটি আইনি জটিলতা পেছনে ফেলে মানবজীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে তাদের মনোযোগ বজায় রাখতে পারবে।

    জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার সংক্রান্ত প্রথম মামলা করা হয়েছিল ২০০৯ সালে।

    সম্প্রতি চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি ফেডারেল আদালত এক পর্যবেক্ষণে জানায়, স্বতন্ত্র মামলাকারীরা ট্যালকম পাউডারের কারণে সরাসরি তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন প্রমাণ দিতে পারছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    ট্যালকম হলো প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান, যা ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন সমন্বয়ে গঠিত। মসৃণ অনুভূতির জন্য এটি সাধারণত বেবি পাউডারে ব্যবহার করা হয়।

    তবে মামলাকারী ভোক্তা ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ট্যালকম উত্তোলনের সময় ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস বা অভ্রের সংস্পর্শে আসায় এর থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হয়। ট্যালকম এবং অ্যাসবেস্টস মাটির একই স্তরে পাশাপাশি পাওয়া যায়। অ্যাসবেস্টস ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।

    অবশ্য জে অ্যান্ড জে এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, গবেষণায় দেখা গেছে ট্যালকম নিরাপদ, এতে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসারের কারণ নয়।

    এর আগে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালকম-ভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় জে অ্যান্ড জে।

    সে সময় বৈশ্বিক পোর্টফোলিও পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তারা সম্পূর্ণ ভুট্টার স্টার্চভিত্তিক বেবি পাউডারে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনস বেবি পাউডারে উদ্ভূত যেকোনো আইনি দায়ভার এখন ‘কেনভিউ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যাস্ত। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘ব্যান্ড-এইড’, ‘লিস্টারিন’ ও ‘ক্যালপল’-এর মালিক কেনভিউ ২০২২ সালে মূল প্রতিষ্ঠান জে অ্যান্ড জে থেকে আলাদা হয়ে যায়।

  • নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

    নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

    বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ। প্রতি বছর ২৮ জুলাই দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়। ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। সাভারের বাসিন্দা ছিদ্দিক হোসেন (৪২) দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন । বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে চলছিল সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিলেও দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটে তার।

    তিনি জানান, এক বছর আগেও জানতাম না আমি ভয়াবহ এ রোগে আক্রান্ত। শরীরে কোনো ধরনের লক্ষণ ছিল না। শুধু পেটে মাঝেমধ্যে ব্যথা হতো এবং বমি বমি ভাব হতো। তবে শরীর খুব দুর্বল এবং ক্লান্তি লাগত। এরই মধ্যে আমার লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো টাকা যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনাসহ গ্রামের বাড়িতে জমিও বিক্রি করেছি। এখন নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই।

    শুধু ছিদ্দিক নয়, তার মতো দেশের অধিকাংশ মানুষই জানেন না হেপাটাইটিস কি, কীভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় কিংবা চিকিৎসা কি। যেহেতু এ রোগের উপসর্গ খুব কম, তাই এতে আক্রান্ত হলেও সহজে ধরা পড়ে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এটা শরীরের ভেতর নীরবে থেকে যায়, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে অনেকেই রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই জটিল অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস নীরব ঘাতকে পরিণত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    চিকিৎসকরা জানান, দেশে অধিকাংশ মানুষ হেপাটাইটিসকে ‘জন্ডিস রোগ’ নামেই চেনেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহ। হেপাটাইটিসের এ, বি, সি, ডি এবং ই—এ পাঁচটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ খাদ্য ও পানিবাহিত, যা থেকে স্বল্পমাত্রার জন্ডিস হয়ে থাকে। তবে এটি সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে শরীরে ইমিউন সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) মাধ্যমে সেরে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক লিভার ফেইলিউর হতে পারে। তবে হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘমেয়াদে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত জটিলতায় প্রায় ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার প্রায় এক শতাংশ, যার সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার। আবার দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রায় ১৮ লাখ নারী হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত। এছাড়া দেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে, তারা এ রোগে আক্রান্ত। ফলে তারা চিকিৎসার বাইরে থেকে যান এবং অজান্তেই জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাংশেরও কম মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন। লিভার ক্যানসারে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে দায়ী বি এবং সি ভাইরাস। এছাড়া উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। হেপাটাইটিস বি ও সি-জনিত মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে—প্রথমে চীন এবং দ্বিতীয় ভারত। আর ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সারা বিশ্ব থেকে হেপাটাইটিস বি, সি ভাইরাস প্রতিরোধ এবং লিভার ক্যানসার নির্মূলের কথা বলা হয়েছে।হেপাটইিটিসে আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাঈদুল হক আমার দেশকে বলেন, হেপাটাইটিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে অসচেতনতার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘদিন বুঝতে পারেন না যে, তারা হেপাটাইটিস বি বা সিতে আক্রান্ত, কারণ রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত উপসর্গহীন থাকে। বেশিরভাগ রোগী অন্য রোগের পরীক্ষা, গর্ভাবস্থার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চাকরির মেডিকেল চেকআপের সময় সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন। আবার অনেক রোগী লিভার জটিল আকার ধারণ করার পর, যেমন পেটে পানি আসা, রক্তবমি বা কালো পায়খানার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন।

    তিনি বলেন, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ সম্ভব। বর্তমানে হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায় এবং হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি মূলত রক্তবাহিত ভাইরাস। অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ, দূষিত ব্লেড বা জীবাণুমুক্ত না করা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাধ্যমে এ সংক্রমণ ছড়ায়। তিনি বলেন, অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নেন না, ফলে জটিলতা বাড়ে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই হেপাটাইটিসের প্রাথমিক পরীক্ষা করা যায় আর বিশেষায়িত কিংবা শহরের হাসপাতালে উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহজলভ্য। আবার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরীক্ষার খরচ ও ওষুধের দামও তুলনামূলক কম। তাই তিনি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপরে একে-৪৭ দিয়ে পুলিশের গুলি

    ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপরে একে-৪৭ দিয়ে পুলিশের গুলি

    গত ২৫ জুলাই বিহার বন্‌ধ বা ধর্মঘট চলাকালে সিওয়ান জেলায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ রাইফেল থেকে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনার জেরে বিহারের এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রাজ্যজুড়ে ডাকা ওই ধর্মঘটে বিভিন্ন জেলায় ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। সে সময় একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় বিহার পুলিশ সদর দপ্তর। ফুটেজে এক পুলিশ কনস্টেবলকে বিক্ষোভ চলাকালে একে-৪৭ থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এরপরই অবিলম্বে তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে, পাটনার জয়প্রভা মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তিন বিক্ষোভকারীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সি মো. আরিফও রয়েছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, আরিফ স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করে। তার স্বজনেরা জানান, ধর্মঘটের সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায় সে, এ সময় তার ঘাড়ে গুলি লাগে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে সফলভাবে গুলিটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত।

    বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে এক পুলিশ সদস্যকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

    লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি সামনে এনেছেন। দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পেলেট গান এবং বিহারে একে-৪৭ ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সব জায়গায় একই ছক দেখা যাচ্ছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতির যেকোনো লঙ্ঘন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তারা আরও জানান, এ ঘটনায় একটি বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার পুলিশের প্রোটোকল মেনে করা হয়েছিল কিনা এবং এর জন্য আরও কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কিনা, তা এই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

    রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ওইদিন শহরে জড়ো হয়ে গান্ধী ময়দানের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেওয়ার সময় একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।

  • খাদ্যাভ্যাসে বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

    খাদ্যাভ্যাসে বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

    দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় থাকা সাধারণ কিছু খাবার অজান্তেই বাড়িয়ে দিচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করার জোর তাগিদ দিয়েছেন। মানুষের অসচেতনতার সুযোগেই এই নীরব ঘাতক শরীরে বাসা বাঁধছে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

    উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রায়শই নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সহজে প্রকাশ পায় না। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এমনকি দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ক্যানজাত স্যুপ, চিপস, মিষ্টি পানীয় এবং ফাস্টফুডের মতো দৈনন্দিন খাবারগুলো উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করলে পানি জমে যায়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।

    বর্তমানে মানুষের শরীরে যে পরিমাণ সোডিয়াম প্রবেশ করে, তার সিংহভাগই আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে।

    লবণের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং মিষ্টি পানীয়র নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা ওজন বৃদ্ধি পায়, যা হাইপারটেনশনের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ভাজাপোড়া, পেস্ট্রি, কেক এবং ফাস্টফুডের মতো খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    বিশেষ করে বেকন, সসেজ, হ্যাম, সালামি এবং হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের সাথে সরাসরি জড়িত। তাই এসব খাবার পরিহার করে তাজা চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল এবং চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ হৃদপিণ্ড পেতে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেবুজাতীয় খাবার, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে কলা, পালং শাক, টমেটো, আলু এবং শিম জাতীয় খাবারে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে, যা সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিহত করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং হাইপারটেনশন থেকে মুক্ত থাকতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রসেসড ফুড ও লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়র পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সঠিক ওজন বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

  • ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন

    ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। একই সঙ্গে ৩টি শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখা থেকে সোমবার (২৭ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে সই করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে ১৯ জুলাই জারি করা এক নির্দেশনায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালটির জন্য কয়েকটি শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982–এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    এর আগে গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা জারি করেছিল। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হলো।

  • নির্যাতন নয়, স্নেহ ভালোবাসায় বিকশিত হোক প্রতিটি শিশু

    নির্যাতন নয়, স্নেহ ভালোবাসায় বিকশিত হোক প্রতিটি শিশু

    আজকের শিশুই আগামীর দেশ ও জাতির প্রকৃত সম্পদ। তারাই মূলত দেশ ও জাতি গঠনের কারিগর। একটি শিশুর জন্মের সঙ্গে শুধু একটি পরিবারের নতুন সদস্যের আগমন ঘটে না; জন্ম হয় একটি জাতির নতুন সম্ভাবনার।

    আজ যে শিশু মায়ের কোলে, আগামীকাল সেই-ই হতে পারে একজন আলিম, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, বিচারপতি, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এমপি মন্ত্রী, সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান কিংবা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত উন্নত মানবিক চরিত্রের অধিকারী সুনাগরিক।

    তাই শিশুদের নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা কেবল পারিবারিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ এবং সমগ্র মানবসমাজের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও অসংখ্য শিশু এখনো শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতন কেবল দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিত্তবান পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, এমনকি ডিজিটাল জগতেও শিশুরা নানা ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে।

    অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই “শাসন”, “শিক্ষা” কিংবা “শৃঙ্খলা”র নামে শিশু নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। অন্যথায় নিষ্পাপ ও সম্ভাবনাময় এই শিশুদের উজ্জল ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

    শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে

    শিশু সন্তানকে সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রতিটি অভিভাবকের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। একইভাবে তাদের চরিত্র গঠন ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মানিত শিক্ষকগণের ভুমিকা নি:সন্দেহে অপরিসীম।

    তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনে শাসন করবেন। তবে শাসনের নামে তাদেরকে অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কোনরূপ ভয় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    শাসনের উদ্দেশ্য হলো ভুল সংশোধন, নৈতিক শিক্ষা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলা। অপরদিকে নির্যাতনের ফল হলো ভয়, অপমান, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং মানসিক ক্ষত।

    একজন শিশু যদি তার অভিভাবক বা শিক্ষককে সম্মান নয়, বরং ভয় করতে শেখে, তাহলে সেখানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। ভয় সাময়িক আনুগত্য সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তা কখনো সুস্থ ব্যক্তিত্ব গঠনে ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে না।

    মানসিক নির্যাতন নীরব কিন্তু ক্ষত অত্যন্ত গভীর

    আমাদের সমাজে শারীরিক আঘাতকে নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মানসিক নির্যাতনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে অবহেলা করা হয়ে থাকে।

    “তুমি কিছুই পারবে না”, “তুমি অন্যদের মতো নও”, “তুমি আমাদের লজ্জা” “ তুমি অথর্ব অকর্মণ্য ইত্যাদি বাক্যের বহুল ব্যবহার শিশুর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।

    সবার সামনে অপমান করা, ভাই-বোন বা সহপাঠীর সঙ্গে তুলনা করা, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা, শিশুর মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা তার প্রতিটি ভুলকে ব্যক্তিত্বের ব্যর্থতা হিসেবে উপস্থাপন করা—এসব আচরণ দীর্ঘমেয়াদে শিশুর আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

    অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আজও শৈশবে শোনা অপমানজনক কথাগুলো ভুলতে পারেন না। শারীরিক আঘাতের ক্ষত একসময় সেরে যায়, কিন্তু মানসিক আঘাত কখনো সখনো সারাজীবন বহন করতে হয়।

    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে নির্যাতনের নেতিবাচক প্রভাব

    মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশের সময় হলো শৈশবকাল। এ সময় নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও ইতিবাচক সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে তোলে।

    অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভয়, অপমান ও সহিংসতার পরিবেশে বেড়ে উঠলে শিশুর শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    ইসলামের শিক্ষা: দয়া, ভালোবাসা ও মর্যাদা

    ইসলামের মূল শিক্ষা হলো রহমত, ন্যায় ও মানবিকতা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি অসাধারণ স্নেহ, ভালোবাসা, ধৈর্য ও কোমলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    তিনি শিশুদের সালাম দিতেন, তাদের সঙ্গে খেলতেন, কোলে নিতেন এবং তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতেন। তিনি বলেছেন:

    “যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (জামে তিরমিজি)

    পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তাআলা ন্যায়, দয়া ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা তাই ইসলামের নৈতিক আদর্শের সঙ্গে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    আইন ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি

    শিশুদের সুরক্ষায় যথাযথ আইন প্রণয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যকর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    যেখানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়, সেখানে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে শিশু সুরক্ষায় “শূন্য সহনশীলতা” নীতি গ্রহণ করতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক নিরাপদ আশ্রয়

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে হবে এমন, যেখানে শিশুরা আনন্দ উৎসাহ নিয়ে শিখবে, প্রশ্ন করবে এবং নিজের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ লাভ করবে।শিক্ষকের হাতে যদি ভয়, অপমান বা সহিংসতার উপাদান থাকে, তবে শিক্ষা তার মানবিক উদ্দেশ্য হারায়।

    শিক্ষককে কেবল পাঠদাতা নয়, একজন পথপ্রদর্শক ও চরিত্র নির্মাতা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। ইতিবাচক শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণই শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।

    ডিজিটাল যুগে নতুন চ্যালেঞ্জ

    আজকের শিশুরা বাস্তব জগতের পাশাপাশি ডিজিটাল জগতেও বেড়ে উঠছে। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান—এসবও মানসিক নির্যাতনের আধুনিক রূপ। তাই শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।

    সমাজের করণীয়

    শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য—

    * পরিবারে অহিংস ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা।

    * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।

    * শিশুদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা।

    * শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ।

    * শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।

    * গণমাধ্যমে শিশু অধিকারবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি।

    * নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত শক্তি তার শিশুদের হাসিতে, তাদের আত্মবিশ্বাসে এবং তাদের নিরাপদ শৈশবে। শিশুদের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন শুধু একটি শিশুর ক্ষতি করে না; ক্ষতি করে একটি জাতির ভবিষ্যতের অমিত সম্ভাবনাকে।

    আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা দুর্বল নয়; তারা সম্ভাবনার বীজ। সেই বীজকে সহিংসতার আগুনে পোড়ানো নয়, বরং ভালোবাসা, নৈতিক শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।

    শিশুকে ভয় নয়, স্বপ্ন দেখাতে হবে; হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি নয়, ভালোবাসার বীজ বপন করতে হবে ; নির্যাতন নয়, মানবিকতার স্পর্শ দিয়ে আগলে রাখতে হবে। একটি নিরাপদ শৈশবই একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করতে পারে।

    লেখক: মো. মুখলেছুর রহমান, সাবেক প্রিন্সিপাল, জামেয়া দ্বীনীয়া ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তা’মিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা টঙ্গী শাখা।

  • অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তারা উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন দুই বোন। কাজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর বলছিলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

    রামু হাইওয়ে থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।

  • ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    হাইকোর্টে রিট

    দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।

    স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুনhttps://bdglobaltimes.com/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A7%AB-%E0%A6%B6/

    এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।

    গবেষকরা জানান, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে না।‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

    দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

    কোন টুথপেস্টে কী পরিমাণ

    গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

    এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

    যে আট নমুনায় পাওয়া যায়নি

    গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশভ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ ও ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।

    এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট।

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০৫

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০৫

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৫ শিশু।

    সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৫ জন শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১১৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৯২। এই সময়ে ১ হাজার ৪১৫টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় নারীকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

    চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় নারীকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

    যশোরের চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় তাসলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করেছেন ক্ষেত মালিকরা।

    রোববার (২৬ জুলাই) এ ঘটনায় আহত তাসলিমা খাতুন চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামে। আহত তাসলিমা খাতুন বর্তমানে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন তাসলিমা খাতুন গ্রামের মাঠ থেকে তার গরু বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। এ সময় গরুটি দুলালপুর গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে হাসান হোসেনের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে।

    ক্ষেতের কোনো ক্ষতি করার আগেই তাসলিমা খাতুন গরুটি ক্ষেত থেকে বের করে নিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুলালপুর গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে হাসান হোসেনের (৪২) নেতৃত্বে তার ভাই আলী হোসেন (৪৫) ও আমছার গাজীর ছেলে নুর ইসলাম গাজী (৪৮) হামলা চালান।

    এ সময় তারা বাঁশের লাঠি, লোহার রড ইত্যাদি দিয়ে পিটিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করেন। তাসলিমা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়।

    একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তাসলিমা বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করছে আকিজ গ্রুপ

    বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করছে আকিজ গ্রুপ

    রোগী ও যাত্রী পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবসায় নামল দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রুপ। করপোরেট, ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন ও শিল্প খাত, ব্যক্তিগত যাত্রা এবং চিকিৎসা–সেবার জন্য বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করেছে আকিজ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকিজ এভিয়েশন লিমিটেড। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আকিজ এভিয়েশনের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা, আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন বলে জানিয়েছে আকিজ এভিয়েশন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে এই সেবা চালু করেছে আকিজ এভিয়েশন। রোগী পরিবহনের জন্য বেল-৫০৫ মডেলের একটি হেলিকপ্টার এবং যাত্রী পরিষেবার জন্য রবিনসন-৬৬ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে।

    আকিজ এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত যাতায়াত ও জরুরি প্রয়োজনে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অনেকে এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি উদ্ধারকাজ, মুমূর্ষু রোগী পরিবহন, জরুরি ভ্রমণ, নাটক কিংবা সিনেমার শুটিং, রাজনৈতিক নেতাদের সফর, বিবাহ অনুষ্ঠানে বরযাত্রী পরিবহন কিংবা ব্যক্তিগত যাতায়াতকে সহজ করতে দেশে এখন হেলিকপ্টারের চাহিদা বেড়েছে। তাই বিশেষ প্রয়োজনে নিরাপদ ও সময়-সাশ্রয়ী যাত্রার জন্য সব সময় পাশে থাকবে আকিজ এভিয়েশন লিমিটেড।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খুলনা বিভাগের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিনা মূল্যে ‘ফ্রি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা’ চালু রয়েছে। আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এ হেলিকপ্টার সেবা পরিচালনা করছে আকিজ এভিয়েশন।

  • নিয়মিত শসা খাওয়ার যত উপকারিতা

    নিয়মিত শসা খাওয়ার যত উপকারিতা

    তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে নিয়মিত শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। গ্রীষ্মকালীন ফল ও সবজির মধ্যে শসাকে অন্যতম সেরা খাবার হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, গরমের নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    পুষ্টিবিদদের মতে, শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। ফলে প্রচণ্ড গরমে এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি ও গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ এই সবজিটি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।

    শসায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্যানিন এবং পলিফেনলের মতো প্রচুর পরিমাণে জৈবিকভাবে সক্রিয় উপাদান, যেগুলোতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহরোধী) গুণাগুণ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

    শুধু অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যই নয়, গরমের দিনে ত্বকের সুরক্ষায়ও শসা সমান উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে। পুষ্টিবিদরা জানান, শসার শীতলকারী উপাদান ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এর প্রদাহরোধী গুণ ত্বকের যেকোনো ধরনের জ্বালাপোড়া শান্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শসাকে একটি আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় মাত্র ১৬ ক্যালরি থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকা আঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয় এবং হজমে সহায়তা করে।

    প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (ডাইইউরেটিক) গুণের কারণে শসা শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সরাসরি কিডনির কার্যকারিতাকে সচল রাখে। এছাড়া শসায় থাকা ভিটামিন বি (বি১, বি৫ এবং বি৭), পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরকে ক্লান্তিমুক্ত রেখে সারাদিন হালকা শক্তির জোগান দেয়।

    মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও শসা উপকারী। শসার টুকরো চিবিয়ে খেলে মুখে লালা উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

  • ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো  অবহেলা করা যাবে না

    ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

    দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যায়, ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গ ও রোগের ধরনে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে ডেঙ্গু বলতে অনেকেই ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তীব্র জ্বরকে প্রধান লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জ্বর নাও থাকতে পারে, এমনকি মাঝারি বা তুলনামূলক কম জ্বর নিয়েও তারা গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা কিংবা শরীরে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    * ডেঙ্গু এখন কেন ছদ্মবেশী

    ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকার কারণে রোগের প্রকৃতি বদলেছে। অনেক রোগীরই এখন মৃদু জ্বর, অল্প সময়ের জ্বর বা শুধু জ্বর-জ্বর ভাব থাকে। ফলে রোগী ও স্বজনরা ভাবেন, ‘সামান্য জ্বর, এমনিই সেরে যাবে’। কিন্তু এ অবহেলার কারণেই ডেঙ্গু শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    * সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় কখন

    জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত হবেন না। ডেঙ্গু জ্বরে ৩-৭ দিনের মাথায় জ্বর আপনাআপনি কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে ‘Critical Phase’ বা বিপজ্জনক সময়। জ্বর কমার পরের ১-২

    দিনেই রক্তনালি থেকে প্লাজমা লিক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বা শকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় রোগীকে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ভেতরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে।

    * এ লক্ষণগুলো কখনো অবহেলা করবেন না

    জ্বর থাকুক বা না থাকুক, নিচের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যান-

    ▶ বারবার বমি : দিনে ৩ বারের বেশি বমি, কিছুই পেটে রাখতে না পারা।

    ▶ তীব্র পেটব্যথা : বিশেষ করে পেটের ডানদিকে চেপে ধরার মতো ব্যথা। এটি লিভার ফুলে যাওয়ার সংকেত।

    ▶ অতিরিক্ত দুর্বলতা : উঠে দাঁড়াতে না পারা বা হঠাৎ ভেঙে পড়া।

    ▶ শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব : অস্থিরতা, ছটফটানি বা অতিরিক্ত ঘুম।

    ▶ শরীরে র‌্যাশ, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত।

    * প্রতিরোধের উপায় : এডিসকে জায়গা দেবেন না

    ডেঙ্গুর মূল উৎস এডিস মশা, যা পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। বাসার টব, এসির পানি, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রীর নিচে জমা পানিই এডিসের প্রজননক্ষেত্র।

    * যা করবেন

    ▶ প্রতি সপ্তাহে একদিন বাসার সব জায়গায় জমা পানি ফেলে দিন।

    ▶ মশার কামড় এড়ান : দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকালে ফুলহাতা জামা পরুন। মশারি বা মশা নিরোধক ব্যবহার করুন।

    ▶ দ্রুত পরীক্ষা করান : জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে NS1 টেস্ট করলে ডেঙ্গু দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যায়।

    * যা করবেন না

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জ্বর কমানোর জন্য ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাবেন না। এগুলো ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল নিরাপদ।

    * পরিশেষে

    ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা। জ্বর মৃদু হলেও, জ্বর চলে গেলেও শরীরের ভাষা বুঝতে হবে। একটু দেরি হলেই রোগীকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হতে পারে। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এডিস মশার বিস্তার রুখতে। সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    সাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৯ জন । এর আগের দিন শুক্রবার কারো মৃত্যু হয়নি তবে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮১ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬ হাজার ৫৩৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৪১৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৪০ জনে। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৮২০ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ।

  • জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ফিচার, স্বাস্থ্য

    দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, শরীরে সাধারণ জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা উচিত। জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা এবং গায়ে রেশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার লক্ষণ।

    এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ না খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হলো সতর্কতা ও জনসচেতনতা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হলো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

    রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ইতোমধ্যে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১০ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    ডেঙ্গু চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বাসস’কে বলেন, জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করতে হবে। জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা, গায়ে রেশ দেখা দিলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার লক্ষণ। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাব্যবস্থা নেওয়া নিরাপদ। নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো ওষুধ ক্রয় করে খাবেন না। শিশুদের জ্বর হলে ডাবের পানি, শরবতসহ বেশি বেশি পানি পান করাবেন। এছাড়া বাইরে বের হলে শিশুদের ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট, পায়ে মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক ভাইরাস বাড়ছে— করোনা, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে যে কোনটা কোন রোগ। এজন্য ভয়ের কিছু নেই, সচেতনতা জরুরি। লক্ষণ দেখা দিলেই পরীক্ষা ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, প্রতি বছরই ডেঙ্গু হচ্ছে, ভাবছি আগামী বছর হবে না। একটা সাময়িক ব্যবস্থা করে সন্তুষ্ট থাকছি। সিটি কর্পোরেশনের এত কম জনবল দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা যাবে না। সিটি কর্পোরেশনের লোকজন শুধু কীটনাশক প্রয়োগ করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারকে মূল উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণ মশার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন স্বভাবের। এটি গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি বসবাস করতে পছন্দ করে। এর অন্যতম কারণ হলো প্রজননের জন্য এডিস মশা অল্প গভীর ও স্বচ্ছ পানিকে বেছে নেয়। কাদা বা ময়লাযুক্ত পানিতে এটি ডিম পাড়ে না। ফলে ফুলের টব, ছাদ বা বারান্দায় রাখা পাত্র, টায়ার কিংবা অন্যান্য ছোট পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার আদর্শ প্রজননস্থল হয়ে ওঠে।

    তিনি বলেন, এডিস মশার একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ রয়েছে। সূর্যোদয়ের পরের প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এদের সবচেয়ে সক্রিয় সময়। এ সময়ই এডিস মশার কামড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ডেনভ-৩ সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এতে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নিতে অনীহা:ভয়াবহ হামের প্রকোপের আশঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নিতে অনীহা:ভয়াবহ হামের প্রকোপের আশঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ চলছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। টিকার প্রতি অনীহা বাড়তে থাকায় দেশটিতে রোগটির সংক্রমণও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) গতকাল শুক্রবার বলেছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৮টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই বছর রেকর্ড ২ হাজার ২৮৯টি সংক্রমণ শনাক্ত এবং দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

    আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেসিন বলেন, ‘আমরা এমন একটি সংকটের মুখোমুখি হয়েছি, যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল। অথচ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে কোনোভাবেই আমাদের নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।’

    হামের কারণে সাধারণত জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ এবং ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস), যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

    টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে আবার উদ্বেগজনকভাবে হামের সংক্রমণ ফিরে এসেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের এ প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেলিসা নোলান বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অনেক হামের সংক্রমণ শনাক্তই হচ্ছে না।’

    চলতি বছর সাউথ ক্যারোলাইনাতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মেলিসা নোলান এএফপিকে বলেন, ‘যেসব মানুষ সন্তানদের টিকা দেন না, সাধারণত চিকিৎসা নিয়েও তাঁদের মধ্যে অনীহা বা দ্বিধা থাকে।’

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও অনেক অঙ্গরাজ্যে ধর্মীয় কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণ দেখিয়ে এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সুযোগ আছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে টিকা না নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে টিকা নিয়ে ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বেড়েছে।

    উদাহরণ হিসেবে সাউথ ক্যারোলাইনার কথা উল্লেখ করেন নোলান। বলেন, ‘সেখানে এমন অসংখ্য জায়গা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক গ্রুপ ও পেজ আছে, যেখানে মানুষকে শেখানো হয় কীভাবে টিকা না নেওয়ার জন্য আইনি ছাড় পাওয়া যায়।’

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট ও অলাভজনক সংস্থা কেএফএফের একটি যৌথ জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রতি ছয় মার্কিন অভিভাবকের একজন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার অভাবের কারণে সন্তানদের টিকা দিতে চান না বা দেরি করেন।

    বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

    নোলানের মতে, এখন যে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে, তা সম্ভবত আরও বড় সংকটের সূচনা মাত্র। তাঁর আশঙ্কা, আগামী দিনে হুপিং কাশি এবং টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্য রোগগুলোর সংক্রমণ ক্রমে বাড়তে দেখা যাবে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭২১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮১৬টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৬১৩। এই সময়ে ৫৮১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৭৯ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৭২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও রাখা হয়েছিল।

    শনিবার সকালে মা-বাবাকে নিয়ে বাইরে যায়। পরে সকাল পৌনে ১২টার দিকে তারা বাড়িতে ফেরে।
    কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ছেলেটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বাবা এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তখন স্থানীয়রা চিৎকার করে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার মা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত বাবাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • ভারতের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরীরে ছররা গুলি, পুলিশের অস্বীকার

    ভারতের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরীরে ছররা গুলি, পুলিশের অস্বীকার

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহার করেছে। এ দাবির পক্ষে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে একাধিক আহতের শরীরে পেলেটের আঘাতের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে ২৮ বছর বয়সী এক আন্দোলনকারীর ডান কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষতস্থানের চারপাশের চামড়া কালচে হয়ে গেছে, ব্যথা রয়েছে এবং শরীরের ভেতরে ছররার টুকরো আটকে আছে। ওই ব্যক্তিকে ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), যা সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) একটি বিশেষ ইউনিট, প্রয়োজন হলে পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভের দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল। তবে এ ঘটনায় পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়ে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।

    ভারতে প্রথম ২০১০ সালে কাশ্মীরের সহিংসতা দমনে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। পরে তা বন্ধ করা হলেও ২০১৬ সালে হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে আবারও এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

    পেলেট গানে একটি কার্তুজ থেকে শত শত ধাতব বা রাবারের ছোট ছররা উচ্চগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং কোমরের নিচের অংশ লক্ষ্য করে এটি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিওবার্তায় জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

    শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সরকারের উচিত প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং যদি সত্যিই পেলেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

    অন্যদিকে দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকার অযৌক্তিক কঠোরতা দেখিয়েছে। তিনি ২০ জুলাইয়ের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত এবং একটি ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেদিন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ফলে বহু মানুষ আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিক্ষোভে আহতদের মধ্যে সাহিল লোচাব নামে এক কিশোরের ডান চোখে পেলেট বিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, আহত ৬০ জনের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এনডিটিভি জানায়, তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং আরও একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমে তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ, পরে সফদরজং হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত এইমস ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

    সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, সাহিলের মুখ, গলা, বুক, ডান কাঁধ ও হাতে একাধিক পেলেটের আঘাত রয়েছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, একটি ছররা তার ডান চোখের কর্নিয়ায় গুরুতর ক্ষতি করেছে এবং আরেকটি ডান ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদপিণ্ডের চারপাশের টিস্যুতেও পাওয়া গেছে।

    এ ছাড়া গুরুগ্রামের ২৫ বছর বয়সী শেখ মনসুরিও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নাক, কপাল, দুই চোখ ও গালে মোট সাতটি পেলেটের আঘাত লেগেছে। তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

  • গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। স্পিকার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন

    আজ বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    রাষ্ট্রপতি আরও লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহের মুখোমুখি হয়েছেন তার বাবা, যিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এক পুলিশ সদস্য।

    আজ (শুক্রবার, ২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হয় তুহিন (১০)।

    সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি পাশ্ববর্তী নেত্রকোণা জেলা সদরে।

    সকালে বাসা থেকে নিজের সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোডে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হয় তুহিন। পথে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কনস্টেবল সামসুর। তখনও তিনি জানতেন না, যে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করতে যাচ্ছেন, সেটি তার নিজের ছেলে।

    ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। নিজের সন্তানের নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ‘সামসুল আমাদের থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

    তিনি বলেন, ‘মরদেহ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন।

    আজ শুক্রবার২৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে। এরই মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১৫ হাজার ১৯৪ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    সাবেক এই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুকসেদুর রহমান আবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    এর আগে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশজুড়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।

    বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সরকার নিশ্চিত করবে যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। এ লক্ষ্যেই সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

    তিনি জানান, “নিয়োগপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে শনাক্তের বিষয়ে সচেতন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পদ্ধতি শেখাবেন। পাশাপাশি তারা বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কিট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।”

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া একটি সুস্থ, দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

    অনুষ্ঠানে তিনি দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বর্তমানে অনেক শিশুর জন্ম সিজারের মাধ্যমে হচ্ছে এবং জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক মাতৃদুগ্ধ, বিশেষ করে শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মায়েদের কর্মব্যস্ততা, সচেতনতার ঘাটতি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান কমে যাচ্ছে, যা তাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর বিজয়ী সামানজার সাঈদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মৃধাসহ অন্যান্য অতিথিরা।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৪৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সাথে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।