স্বাস্থ্য

  • ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

    ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। আর একইসময়ে আক্রান্ত হয়ে ১২৪ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এনিয়ে চলতি মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৭২৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১০০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। আর এ বছরে ডেঙ্গুতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের বছর ২০২৫ সালের মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

  • চিনাবাদামরে উপকারিতা

    চিনাবাদামরে উপকারিতা

    পার্কে বসলে কিংবা খোলা কোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে অনেকেই বসে বসে চিনাবাদাম খেতে পছন্দ করেন। যদিও বাড়িতে সবার খাওয়া হয় না। কিন্তু অনেকের হয়তো জানা নেই অনেক খাবারের চেয়ে পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা বেশি। এটা শুধু স্বাদেই ভালো তা নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী।

    চিনাবাদাম পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে ফাইবার, বি ভিটামিন, ভিটামিন ই এবং আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

    রোজ অল্প পরিমাণে চিনাবাম খেলে যেসব উপকারিতা মেলে-

    হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী
    গবেষণায় দেখা গেছে, হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য দামি বাদামের মতোই চিনাবাদাম উপকারী। এটি মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, সেইসাথে ফাইবার এবং প্ল্যান্ট স্টেরলের একটি ভালো উৎস। এই স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো অস্বাস্থ্যকর এলডিএল কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এসব উপাদান রক্ত জমাট বাঁধাও প্রতিরোধ করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এছাড়াও চিনাবাদাম শরীরের প্রদাহ কমায়, যা হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত।

    ত্বকের যত্ন নেয়

    ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য চিনাবাদাম খুবই উপকারী। এটি ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্রতা জোগায়, কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। সেই সঙ্গে ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

    মস্তিষ্কের জন্য উপকারীhttps://bdglobaltimes.com/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%87/
    চিনাবাদামে থাকা নিয়াসিন ও ফোলেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়াসিন স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতেও ভূমিকা রাখে।

    ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

    বাদাম একটি লো-গ্লাইসেমিক খাবার, যার অর্থ হলো এটি খেলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাদাম খেলে এই রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

    অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে বাঁচায়
    চিনাবাদামে পলিফেনল ও ভিটামিনই-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের হাত থেকে রক্ষা করে।

    পিত্তথলির স্বাস্থ্য

    নিয়মিত বাদাম খেলে পিত্তথলি সুরক্ষিত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা নিয়মিত বাদাম খেতেন,তাদের পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ার ঝুঁকি তাদের চেয়ে কম ছিল যারা বাদাম খেতেন না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে , যেসব পুরুষ প্রায়শই বাদাম খান, তাদের পিত্তপাথরের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম।

    স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস

    চিনাবাদাম পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার। এতে বেশ স্বাস্থ্যকরও । নিয়মিত এই বাদাম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সূত্র: এশিয়ান নেট, ওয়েব এমডি

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু,

    হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু,

    দেশে হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশু মারা গেছে। এ সময় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ শিশু। হাম শনাক্ত হয়েছে ৪৫ শিশুর। ছয় শিশুর মধ্যে চারজনই মারা গেছে ময়মনসিংহে। এ ছাড়া ঢাকা ও খুলনায় দুই শিশু মারা গেছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬১৫ শিশু মারা গেছে। নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ শিশু। এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৯৩ শিশুর শরীরে।

    এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২ হাজার ৪৪২ শিশু। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ১৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ শিশুর। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯৪ শিশুর। হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৮৬০ শিশু। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৮ হাজার ২৮৭ শিশু।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু মারা গেছে। তবে এসময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এসময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।

    তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • অন্তহীন ভোগান্তিতে চিকিৎসাসেবা ম্লান ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল

    অন্তহীন ভোগান্তিতে চিকিৎসাসেবা ম্লান ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল

    দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। জরুরি বিভাগের একটু ভেতরে স্ট্রেচার ওঠানামার সিঁড়ি। এই সিঁড়ির দুই পাশে মাদুর বিছিয়ে শুয়ে আছেন অন্তত ৪৫ জন রোগী। সঙ্গে রয়েছে তাদের স্বজন। নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত একই দৃশ্য। দ্বিতীয় তলায় নিউরো সার্জারি বিভাগে টয়লেটের দুই পাশেও ঠাঁই নিয়েছেন কেউ কেউ। টয়লেটের নোংরা পানি, ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট, ময়লা-আবর্জনা আর বৃষ্টির পানি মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে তাদের থাকার জায়গা। দুর্গন্ধ, কাদা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই চলছে চিকিৎসা আর জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম। দৃশ্যটি দেখে সহজেই মনে হতে পারে, এটি কোনো হাসপাতাল নয়, যেন ময়লার ভাগাড় ।

    একই চিত্র শিশু ওয়ার্ডেও। দোতলার ২০৭ নম্বর কক্ষে ১৮ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১১৫ শিশু, ২০৮ নম্বর কক্ষে ১৯ শয্যার বিপরীতে ৯১ জন এবং ২১০ নম্বর কক্ষে ১৪ শয্যার স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮২ শিশু। অর্থাৎ প্রতিটি রুমেই শয্যার চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি রোগী ভর্তি। এসব রুমে হাম, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে দিশেহারা স্বজনরা।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিদিন এখানে ছুটে আসেন দেশের নানা প্রান্তের হাজারো মানুষ। রোগীর চাপে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নেওয়ায় হাসপাতালে প্রতিটি ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অনেককে মেঝেতে, আবার কাউকে করিডোরে সিঁড়ির অংশে, এমনকি শৌচাগারের পাশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিছানা ও খাবার রাখার ড্রয়ারে কিলবিল করছে একগাদা তেলাপোকা ও ছারপোকা। থাকতে হচ্ছে ময়লা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে। বেসিন আর ওয়াশরুমে দুর্গন্ধে টেকা যায় না। নাক-মুখে কাপড় চেপে সেখানে যেতে হয়।

    এগুলো যেমন নোংরা, তেমনি ভাঙাচোরা। ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। কোনোটাতে লাইট নেই কিংবা পানি নেই। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে টিস্যু, তুলা, কাগজের টুকরো, পানির বোতল, ময়লাভর্তি পলিথিন ব্যাগ, ফলের খোসা। দেয়ালে কফ, থুতু, পানের পিকের ছোপ। ডাস্টবিনগুলোয় ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে। তাতে মশা-মাছি ভনভন করছে। এর মধ্যেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ, টিকিট কাউন্টার এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভোগান্তি তো নিত্যদিনের ঘটনা। অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। তার মধ্যে রয়েছে দালালচক্রের উৎপাত। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার কথা।

    এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রোগী-স্বজনরা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। টিকিট সংগ্রহ, ডাক্তার দেখানো এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিটি ধাপে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে। আর আবর্জনার দুর্গন্ধে পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। নাক-মুখ চেপে হাসপাতালের টয়লেটে গেলে যে কারো বমি চলে আসে। নোংরা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে একজন সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

    নিউরোসার্জারি বিভাগে দ্বিতীয় তলায় টয়লেটের পাশে থাকা ইসমাইল নামে এক রোগী আমার দেশকে বলেন, এখানে অভিযোগ করেও লাভ দেখি না, অনেকটা মেনেই নিয়েছি। দুর্ভোগ আর ভোগান্তিই যেন আমাদের নিয়তি। পাঁচ বছর আগেও যেমন দেখেছি এখনো তাই দেখছি। সরকার আসে যায় কিন্তু কোনো পরিবর্তন নেই। অনেক উন্নয়নের কথা শুনি, কিন্তু হাসপাতালে এসে সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া পাই না। কষ্ট হলেও চিকিৎসার জন্য এখানেই আসতে হয়, তাই বাধ্য হয়ে সব মেনে নিই।

    সিঁড়ির মধ্যে বিছানা পেতে ছেলেকে নিয়ে বসে আছেন শেরপুরের শ্রীবরদীর বাসিন্দা ওমর ফারুক। তিনি আমার দেশকে বলেন, আমার ১৩ বছরের ছেলে আবু হোরায়রার মাথায় সমস্যা। সিট পাইনি তাই এখানে জায়গা দিয়েছে। একটা বিছানার চাদরও দেয়নি। রাস্তার পাশে যেমন ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকে, ছেলে নিয়ে তেমন পরিবেশেই আছি। রাস্তার ওপরে ছাদ নেই কিন্তু এখানে আছে, শুধু এটুকুই পার্থক্য। ডাক্তার কখন আসে, আর কখন যায় কিছুই বুঝি না। এখন পর্যন্ত শুধু ছেলেকে একবার দেখেছে। আর কিছুই বলেনি।

    শিশু ওয়ার্ডে ২১০ নম্বর সিটে নিজের শিশুকে নিয়ে ভর্তি দুই মাÑলিমা ও কোহিনূর বেগম। পাশাপাশি থাকার কারণে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, সিটের ডানে-বামে সবদিকেই রোগী। একটু ঘুরে দাঁড়ানোর মতো অবস্থা নেই। আসলে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই। নিজেকে আমাদেরও অসহায় লাগে। এমন পরিবেশে বাচ্চার সঙ্গে থাকতে থাকতে আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

    শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত এক চিকিৎসক বলেন, ‘এখানে হাম-ডেঙ্গু-নিউমোনিয়া-সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি রয়েছে। আমরা জানি হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। অন্য যেকোনো শিশু সংক্রমিত হতে পারে। আবার সিটের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি শিশু ভর্তি। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অভিভাবকরা রয়েছে। সুতরাং এই ধরনের পরিবেশে রোগ-জীবাণু থেকে সংক্রমণ হতে পারে। এই জীবাণুর সংক্রমণ এত ভয়াবহ যে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমিত হলে রোগীরা আর ভালো হন না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই ওই রোগীদের ওপর কাজ করে না। কিন্তু এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৬০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন পাঁচ থেকে সাত হাজার রোগী। এর বাইরে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় দিনে ভর্তি হন এক হাজারের বেশি।

    হাসপাতালের মেডিসিন, বার্ন বিভাগসহ মোট আটটি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ইউনিটে শয্যা রয়েছে ১৪০টি। তবে এসব শয্যার চাহিদা এত বেশি যে, একটি বেড খালি হওয়ার অপেক্ষায় গড়ে ৪০ জনেরও বেশি রোগীকে সিরিয়ালে থাকতে হয়। এছাড়া দুটি এমআরআই মেশিনের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে একমাত্র সচল মেশিনটির ওপরই পুরো চাপ পড়েছে। এতে প্রতিদিন মাত্র ১৮ থেকে ২০ জন রোগী এমআরআই সেবা পেলেও ১২০ থেকে ১৩০ জনকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। আর এই সুযোগে দালাল চক্র টাকার বিনিময়ে আশপাশের ক্লিনিকে রোগীদের ভাগিয়ে নিচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    নতুন ভবনে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হওয়া নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে কিডনি সমস্যায় ভুগছে। চারদিন হলো ভর্তি হয়েছি। দালালরা শয্যা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। কিন্তু টাকা দিইনি, তাই পাইনি। তাই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, দেশের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালে এক্স-রে , ইসিজি, এনজিওগ্রাম যন্ত্র, এমআরআই যন্ত্র, সিটি স্ক্যান, ওটি লাইট (পোর্টেবল), অ্যানেস্থেসিয়া, ডায়াথার্মির মতো প্রয়োজনীয় ১০০টির মতো যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে আছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে তিন শতাধিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও শয্যা না থাকায় অপারেশনের জন্য রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

    হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি ও নোংরা পরিবেশের বিষয়ে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, এখানে শয্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। আবার একেকজন রোগীর সঙ্গে অ্যাটেনডেন্ট থাকেন চার-পাঁচজন করে। ফলে ভোগান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবার চিকিৎসক থেকে শুরু করে টেকনোলজিস্ট, নার্সসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে প্রতিদিন নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রাংশের ঘাটতি রয়েছে। তবু আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার করছি।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২৩৫

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২৩৫

    ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন শত শত মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরো বহু মানুষ।

    বৃহস্পতিবার হালনাগাদ তথ্যে ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলভারো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা আমাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২৩৫ জন রোগী পেয়েছি, যারা এখানে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন অথবা হাসপাতালে আসার পরপরই প্রাণ হারিয়েছেন।’

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ১৯০০ সালের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

    বহু বছরের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল। এর মধ্যে দফায় দফায় আফটারশকের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

    ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৫০টির বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে অন্তত আটটি হাসপাতাল, ভেনেজুয়েলার রেড ক্রসের সদর দপ্তর এবং ফরাসি দূতাবাস রয়েছে।

    দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা রাজ্যে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিপর্যয় অঞ্চল লা গুয়াইরা

    কারাকাসের পাশেই অবস্থিত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। এই রাজ্যেই রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পে এই এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ‘বিপর্যয় অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

    তিনি জানান, উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কারাকাস বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    সেখানকার জরুরি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা রাত জেগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। লা গুয়াইরা শহরের বাসিন্দা ইয়ামিলেথ জিমেনেজ জানান, তার ১৯ বছর বয়সি ছেলে একটি সাত তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচে আটকে আছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো কোনো যন্ত্রপাতি সেখানে নেই। তিন দিন আগে তার বাবাও মারা গেছেন।

    লা গুয়াইরা শহরের মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। সাহায্য না পেয়ে সাধারণ মানুষ নিজেরাই কারাকাস-লা গুয়াইরা হাইওয়ে দিয়ে উপকূলের দিকে পানি, খাবার ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন।

    পেড্রো পেরেজ নামে ৬৪ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি বাড়ি ও ব্যবসা দুটোই হারিয়েছেন। এখন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন।

    রাস্তায় নামেন বাসিন্দারা

    সরকারি ছুটির দিন থাকায় ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে ছিলেন। কম্পন শুরু হতেই বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মারিয়া আলেজান্দ্রা নামের এক বাসিন্দা জানান, সেখানের পরিস্থিতি হরর সিনেমার মতো ছিল।

    ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে কারাবোবো রাজ্যের মোরন শহরেও বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। সেখানে পানি ও বিদ্যুৎ নেই। একটি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক এলাকার প্রায় ২০০ পরিবার তাদের তোশক, টেলিভিশন ও ওয়াশিং মেশিন নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

    ৪৭ বছর বয়সি দেনিস সেকেরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হতেই তার ৫ বছরের নাতনি তার ৭৯ বছর বয়সি দাদাকে হাত ধরে উঠানে নিয়ে যায়। তারা রাতে বাইরে ঘুমিয়াছেন এবং এখন সাহায্যের অপেক্ষায় আছেন।

    নিখোঁজ ৪৬ হাজারেরও বেশি

    ইউএসজিএসের ধারণা অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এবং তা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিরোধী নেতাদের তৈরি করা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে ৪৬ হাজার জনেরও বেশি মানুষের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে রয়টার্স এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও, এই বিপদে বিশ্বের অনেক দেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে।

    হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল দ্রুতই পৌঁছাবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।

    যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে, যাতে ভূমিকম্পের সাহায্য পাঠাতে কোনো বাধা না থাকে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা উদ্ধারকারী দল পাঠাবেন এবং পেন্টাগন কারাকাস বিমানবন্দর সচল করতে লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে।

    ভেনেজুয়েলার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, তারা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করছেন। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কারণ ভূমিকম্পের আগেই দেশটিতে ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল।

    পোপ লিও চতুর্দশ ভেনিজুয়েলার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন।

    জাতিসংঘের ভেনিজুয়েলা মানবাধিকার মিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা একে ‘জীবন-মরণের বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে ওয়াশিংটন সরাসরি জড়িত। এই দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে। সেই সাথে দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘আমাদের সাড়া হবে অনেক বড়, দ্রুত এবং কার্যকর।’

    এছাড়া সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল এবং মেক্সিকো ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। চীন, ভারত, ব্রাজিল এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানও ভেনেজুয়েলাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।

    তবে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতে কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের তেল অবকাঠামোগুলো সুরক্ষিত রয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, এনডিটিভি, এবিসি নিউজ

  • হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৭০০ শিশুমৃত্যু!

    হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৭০০ শিশুমৃত্যু!

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮৯৩ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। এতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী পাওয়া গেল ৯৪৫ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে অর্থাৎ একশ তিনদিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭ হাজার ১৫০ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৯৮ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। বাকী ৬০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৪২ জন। আর এ সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮০ হাজার ৪৯৭ জন। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। আর ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে রোগী পাওয়া গেছে ৩৪৮ জন। এর মধ্যে ৩৬ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ৩১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৭ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ২৬২ জনের। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ মোট ৯০ জন, সিলেটে তিনজনসহ ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৬০ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৫৮ জন, ময়মনসিংহে দুজনসহ ৫৭ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১৯৮

    ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১৯৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ভর্তি হয়েছে ১৯৮ জন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিটি পুরুষ। এছাড়া ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত ১৯৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১২৬ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৫ জনে। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর মারা যাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটজন মারা গেছেন জুন মাসে। এ ছাড়া, মে মাসে একজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন এবং জানুয়ারিতে মারা গেছেন দুইজন।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

  • ক্যান্সারের ভয়াল থাবা: বছরে ঝরছে ১ লাখ ১৬ হাজার প্রাণ

    ক্যান্সারের ভয়াল থাবা: বছরে ঝরছে ১ লাখ ১৬ হাজার প্রাণ

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হন। আর বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন ক্যান্সারে মারা যান। বর্তমানে আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যান্সার রোগী জীবিত অথবা চিকিৎসাধীন আছেন।

    তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা আইএআরসি প্রকাশিত গ্লোবোক্যান ২০২২ প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হলে মন্ত্রীর লিখিত জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার এবং পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সার ও মুখ-ঠোঁটের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। ক্যান্সার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মাধ্যমে পপুলেশন-বেইজড ক্যান্সার রেজিস্ট্রি এবং হসপিটাল-বেইজড ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলছে।

    মন্ত্রী জানান, ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগীয় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। এর মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি এবং সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবা সম্প্রসারিত হবে।

    ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। কমিউনিটি ক্লিনিক নেই এমন শূন্য ওয়ার্ডে জমি প্রাপ্তি এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে আরও ৫৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে টেবিলে উপস্থাপন করা জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৩১০টি হাসপাতালে অকেজো মেশিনের সংখ্যা প্রায় ৪৮৫টি, যার প্রায় ৪০ শতাংশ মেরামত অযোগ্য ও বাকী ৬০ শতাংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। ২৫২টি হাসপাতেল অকেজো আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের সংখ্যা প্রায় ৩৯৫টি, যার প্রায় ৩৫ শতাংশ মেরামত অযোগ্য এবং বাকি ৬৫ শতাংশ মেরামতযোগ্য এবং সেগুলো মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে।।

    নরসিংদী–১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবিরের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি লাখে আনুমানিক ৪ হাজার ৩৫৩ জন মা সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করেন। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মা মারা গেলে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাকে কোনো ক্ষতিপূলন দেওয়া হয় না।

    ফেনী–২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী জীবানুর প্রাদুর্ভাব একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিকক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এ সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসময় জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

    গাজীপুর–৪ আসনের সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি, শূন্যপদ রয়েছে ৯ হাজার ৪০৭টি।

    কুমিল্লা–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যার চেয়ে ৪–৫ গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়ে থাকে। এত বিপুল জনসংখ্যার জন্য সরকারি হাসপাতালের টয়লেটগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়।

    সংরক্ষিত নারী আসনের আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বা্থ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

  • ৩০০ শিশু মৃত্যুতে মন্ত্রীর পদত্যাগ কই, প্রশ্ন শফিকুল ইসলাম মাসুদের

    ৩০০ শিশু মৃত্যুতে মন্ত্রীর পদত্যাগ কই, প্রশ্ন শফিকুল ইসলাম মাসুদের

    প্রস্তাবিত বাজেটের সাফল্য কেবল সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর ওপর নির্ভর করে না; বরং সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতেই বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ এর কোনো সুফল পায় না।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি এলাকায় বাজেটের আগে ‘নাগরিক ভাবনা’ নামে মতবিনিময় করেছি। সেখানকার মানুষ ও সাংবাদিকরা বলেছেন, সংসদে আপনাদের আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

    কিন্তু বাস্তবে বাজারে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সমস্যাগুলো আপনাদের বক্তৃতায় নেই।
    বাজেটের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষ, এমনকি সংসদ সদস্যদেরও তেমন কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হয় না।
    বাজেট উপস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে বাজেট উপস্থাপনায় ইনফোগ্রাফিক, ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ও সহজ টেবিল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।

    স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি মানবিক হাসপাতালে, যেখানে ৭০০ শয্যার মধ্যে ১৮০টি বিনামূল্যে, প্রতিদিন ২৩টি স্বাভাবিক প্রসব হয় এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়, সেখানে মাত্র ৬টি শিশু মারা যাওয়ার অজুহাতে লাইসেন্স বাতিল করা হলো। অথচ দেশে হামে ৩০০ শিশু মারা গেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন?

    তিনি আরও বলেন, ওই হাসপাতালে অধ্যয়নরত ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সচিবের দেখা পাচ্ছেন না। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

    শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষায় অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও ৫১১ কোটি টাকার জায়গায় মাত্র ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এমপিওভুক্ত ২ লাখ শিক্ষক মে মাসের বেতনও এখন পর্যন্ত পাননি। পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ৫ শতাংশ বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।

    মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই। ১৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৪৫ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়। এই মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি।

    তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলা হলেও ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক সিঙ্গাপুরের মতো মনে হয়, কিন্তু এরপর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের মতো।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, সেখানে গিয়ে সড়কের অবস্থা দেখে আসুন। মেগা প্রকল্পের অর্থ তখনই সার্থক হবে, যখন তৃণমূলের মানুষ এর সুফল পাবে।

  • হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯৪৫ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬০৫ শিশুর। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৯৮ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫২ শিশু আর হামের উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা ৮৯৩। এই সময়ে ৮৬০ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯০৬ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৬৫৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৪৪২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮০ হাজার ৪৯৭ রোগী।

  • ২৮শে জুন সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

    ২৮শে জুন সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

    সারা দেশে আগামী ২৮শে জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পেইনটি ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। জাতীয়ভাবে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় জেলায় টার্গেট নেয়া হয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ শিশুকে।মঙ্গলবার ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সরকার ফারহানা কবীর, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান, ডা. রিফাত শামীম, ডা. নূরেন মুবাশশিরা প্রভা এবং ডা. ফাবলিনা নওশীন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে মেধাভিত্তিক সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেই দিকে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে নজর দিতে হবে। সুস্থ ও মেধাভিত্তিক প্রজন্ম তৈরি করার জন্যই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। শিশুরা যাতে দীর্ঘ মেয়াদে অপুষ্টি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না ভোগে সেই জন্যই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি। ঢাকায় কোনো টিকার সংকট নেই বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। সরকারের এই কাজে আমাদের সকলের সহযোগিতা করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, কোন শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মারা যাক এটা আমরা কামনা করি না। পৃথিবীতে শিশুরা সুস্থ থাক, এটাই চাই। ক্যাম্পেইনের সফলতা কামনা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা প্রচারণার অংশে তার আওতাধীন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

    সিভিল সার্জন জানান, আগামী ২৮শে জুন সারাদেশের ন্যায় ঢাকা জেলাতেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের (১,০০,০০০ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের (২,০০,০০০ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ঢাকা জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৭৫ হাজার ১১৭ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮২ জন শিশুসহ মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলায় মোট ১,৭৪৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৬১৮টি আউটরিচ কেন্দ্র এবং ১২৫টি অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। ভাসমান জনগোষ্ঠীর শিশুদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট এলাকায় এসব অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৩,৪৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৯২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইনের পূর্বে মাইকিং করা হবে। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে এবং এটি শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন।ভিটামিন ‘এ’ শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রাতকানা রোগ ও অন্যান্য দৃষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণের ফলে হাম, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস পায়। এটি ত্বক, শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং অপুষ্টিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কার্যকারিতা বজায় রাখে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং ভিটামিন ‘এ’ -এর ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বলে তুলে ধরেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

    ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাদ্যের মধ্যে রয়েছে-কলিজা (গরু, খাসি, মুরগী), মাছের তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য, ডিমের কুসুম, মাখন, পনির, গাজর, পাকা পেঁপে, পাকা আম, লাল ও হলুদ রংয়ের ফলমূল, মিষ্টিকুমড়া, লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক এবং অন্যান্য গাড় সবুজ শাকসবজি।

    অভিভাবকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুকে অবশ্যই ভরাপেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। প্রশিক্ষিত কর্মী কাঁচির সাহায্যে ক্যাপসুলের মুখ কেটে ভেতরের তরল অংশ শিশুকে খাওয়াবেন। জোরপূর্বক অথবা কান্নারত অবস্থায় শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। ৬ মাসের কম বয়সী শিশু, ৫ বছরের অধিক বয়সী শিশু এবং অসুস্থ শিশুদের ক্যাম্পেইনের দিন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না। ক্যাম্পেইনের দিন কোনো শিশু অসুস্থ থাকলে সুস্থ হওয়ার পর নিকটস্থ স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ করতে পারবে।

  • গরমে হজমশক্তি দুর্বল হয় কেন? প্রতিকারে যা করবেন

    গরমে হজমশক্তি দুর্বল হয় কেন? প্রতিকারে যা করবেন

    লাইফস্টাইল

    গরমের দিন তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। তবে কী কারণে এমন হয় অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। অধিকাংশ মানুষেরই প্রচণ্ড গরমের সময় অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব এবং ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যাগুলো বেড়ে যায়।

    ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ুর্বেদ অনুসারে, এই উপসর্গগুলির মূল কারণ শরীরের পাচনশক্তির মধ্যে নিহিত। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ আচার্য মনীশের মতে, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হজমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । এর ফলে শরীর ঠিকমতো খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। গ্রীষ্মের তাপ কীভাবে আপনার হজমতন্ত্রকে প্রভাবিত করে
    আয়ুর্বেদ অনুসারে, গ্রীষ্ম ঋতু এমন একটি সময় যা স্বাভাবিকভাবেই হজমশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। ঘন ঘন ঘাম, পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস পাকস্থলী এবং এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে, গরম আবহাওয়ায় হজম ব্যবস্থা কম কার্যকর হয়ে পড়ে।খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে কী হয়?
    আয়ুর্বেদ অনুসারে, খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ার ফলে শরীরে টক্সিন পর্দার্থ জমা হতে থাকে। এর ফলে ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, দুর্বল বিপাক, অ্যাসিডিটি এবং হজমের অস্বস্তি হতে পারে। যেহেতু শরীরের প্রতিটি টিস্যু হজমের মাধ্যমে প্রাপ্ত পুষ্টির উপর নির্ভরশীল, তাই শরীরে সুস্থতার জন্য হজম ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকর হওয়া দরকার বলে মনে করা হয়।

    যা হজমের অবনতি ঘটাতে পারে
    আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও স্বীকার করে যে, গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজা খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, চা, কফি এবং অনিয়মিত খাবার গ্রহণ হজমের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সেই সঙ্গে মানুষকে অলস ও ক্লান্ত বোধ করাতে পারে।

    তবে, আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, গরম আবহাওয়ায় কয়েকটি সাধারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন হজমশক্তি এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-

    সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
    ডাবের পানি, ঘোল এবং লেবুর পানি পান করা
    হালকা, তাজা তৈরি খাবার খাওয়া
    ভাজা, মসলাদার এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা
    তরমুজ, খরমুজ, শসা এবং ডালিমের মতো পানিযুক্ত ফল খাওয়া
    অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা এবং হজম ক্ষমতা অনুযায়ী খাওয়াযোগব্যায়াম এবং প্রাণায়াম
    আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় হজমের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রাণায়ামসহ বেশ কিছু আসন স্বাভাবিকভাবে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। সকালের হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিনও গ্রীষ্মকালে বিপাকক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কায় সেনা মোতায়েন, বিশেষ ইউনিট গঠন

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কায় সেনা মোতায়েন, বিশেষ ইউনিট গঠন

    মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে শ্রীলঙ্কায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। এই ইউনিট মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের কাজ করবে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শ্রীলঙ্কা-এ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা সতর্ক করে বলেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় রোধে শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। এজন্য শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ড. মিলন বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে আত্মপ্রেরণা ও পেশাগত মর্যাদা অর্জনের মানসিকতা থাকতে হবে।

    পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। অনেকেই ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে। তাই কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থেকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য এলাকাতেও শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

    চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদে‌শি রোগীদের কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসা দেবে চীন

    বাংলাদে‌শি রোগীদের কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসা দেবে চীন

    বাংলাদেশি ক্যানসার রোগীদের জন্য সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের তুলনায় কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি করেছে চীনের গুয়াংজু মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল।

    প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

    রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাব ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান হাসপাতালটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক হি ল্যাংবিং।

    অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির অনকোলজি বিশেষজ্ঞ উ উই এবং বিএইচআরএফের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ উপস্থিত ছিলেন।

    হি ল্যাংবিং বলেন, বিদেশি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুয়াংজু মডার্ন ক্যানসার হাসপাতালের দুই দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। হাসপাতালটি আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জেসিআইয়ের সনদপ্রাপ্ত। এখানে ক্যানসারের আধুনিক ও ন্যূনতম আক্রমণাত্মক চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে লিভার ও অগ্ন্যাশয়ের রোগের জন্য পৃথক বিভাগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০৩টি দেশের রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশি রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। তবে গত বছর থেকে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    হি ল্যাংবিংয়ের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের অনেকের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে এবং কেউ কেউ ক্যানসারমুক্তও হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

    অনকোলজি বিশেষজ্ঞ উ উই বলেন, চিকিৎসার সময় রোগীদের শারীরিক অবস্থা যেন আরও খারাপ না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতালটি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে আনতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের হাসপাতালের ব্যয় ভারতের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দীর্ঘদিন ধরে সুনাম ও আস্থার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধার্থে ঢাকায় একটি পরামর্শক কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

  • এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই এক পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। এই বাগানে চাষ করা হয়েছে ৫০ জাতের আম। শুধু আম নয় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে এই বাগান।

    এই কাজ নীরবেই করে দেখিয়েছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের এক ঢালে মাত্র কয়েকটি আমের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বাগানের গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি তো অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন আর সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

    রেজাউল করিম জানান, তিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি। গাছপালা, ফল ও ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই বাগানের শুরু। তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ আমের প্রথম ফলন পেয়ে তার কৌতূহল বাড়ে। এরপর তিনি বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুরু করেন বিদেশি জাতের ফলের আবাদ। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করার কথা জানান তিনি।

    রেজাউল করিমের দুই একরের এই বাগানে এখন শুধু আমেরই ৫০টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, ন্যাচ ১, ২ ও ৩, বৈশাখী, বান্দি নুরি, গৌড়মতি, কাটিমন, থাই কাঁচামিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, নাম ডক মাই ইয়েলো, নাম ডক মাই মুন, সীতভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেঙ্গা।

    এ ছাড়া তার বাগানের আরেকটি অংশজুড়ে রয়েছে ১০ জাতের মালটা ও কমলা। এর মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা। এর বাইরে আরও আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, লকেট, জামরুল, রোজ জাম, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, আতা, শরিফা, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট ও বরই। তবে এখানেই শেষ নয়।

    এই বাগানের দুটি ফল সবার বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ নামের ফল দুটি রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। তিনি জানান, ‘হানি কাপোর্ড’ দেখতে অনেকটাই লিচুর মতো, তবে পুরোপুরি পাকলে এটি জেলির মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে ‘চুপাচোপা’ ফলটি মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফলের কোনোটিই সচরাচর দেখা যায় না।

    ফলের পাশাপাশি রেজাউলের বাগানে রয়েছে নানা রকম সবজি। নিজেদের পরিবারের জন্য এখানে বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং বেশ কয়েক জাতের মরিচ চাষ করা হয়।

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দারুণ। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, অনেক বিদেশি চারাও তিনি সংগ্রহ করেছেন।’

    রেজাউলের এই বাগান দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন। সম্প্রতি বাগানটি ঘুরে দেখা স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার কাছ থেকে অনেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।’

    রেজাউল বলেন, এখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এটি ভবিষ্যতে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাতের ফল ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। এগুলো খুব যত্ন করে রাখতে হয়। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

    এ এম

  • প্রতিবন্ধী হয়েও যারা স্বনামখ্যাত

    প্রতিবন্ধী হয়েও যারা স্বনামখ্যাত

    ফিচার >

    আমরা যারা খুবই সাধারণ তারা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ি; কোনো কাজে দু-একবার ব্যর্থ হলে ভাবি ‘আমাকে দিয়ে আর কিছু হবে না।’ কিন্তু এমন হতাশা প্রকাশ করার পেছনে কোনো যুক্তি নেই। কারণ কাজ করার জন্য আমাদের হাত, পা, চোখ, মস্তিষ্কসহ আরো অনেক কিছু রয়েছে। অথচ এমন অনেক মানুষ ছিলেন যাদের পুরোপুরি শারীরিক সক্ষমতা ছিল না। কোনো না কোনোভাবে তারা প্রতিবন্ধী ছিলেন। তবুও নিজেকে সফল করার জন্য প্রাণপণ লড়েছেন তারা। অবশেষে সফলও হয়েছেন। আজ আমরা এমন কয়েকজন সফল মানুষের কথা জানব।

    মাইগেল ডি কারভেনটিস (১৫৪৭-১৬১৬)

    কারভেনটিস (Miguel De Cerventics) ছিলেন স্পেনের এক বিখ্যাত লেখক। ‘ডন কুইকসট’ নামে এক গল্পের জন্য বিশ্ববিখ্যাত তিনি। এক যুদ্ধে তিনি তার এক হাত হারিয়েছিলেন; কিন্তু সেজন্য তার সৃষ্টিকর্ম থেমে থাকেনি। এক হাত না থাকা সত্ত্বেও লিখে গেছেন বহু গল্প-উপন্যাস।

    লুইগ ভ্যান বেথোফেন (১৭৭০-১৮২৭)

    বিশ্বের এক বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ হিসেবে আজও মানুষ বেথোভেনকে স্মরণ করে। বেথোভেন ছিলেন অকল্পনীয় সব সুরের সুরকার। অথচ ১৮১৭ সালে তিনি পুরোপুরি বধির হয়ে যান। শ্রবণ প্রতিবন্ধী একজন মানুষ কীভাবে সুরের সৃষ্টি করতেন, তা আজও মানুষের মনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বলা হয়, বেথোভেন সুর সৃষ্টি করতেন হৃদয় থেকে। হয়তো এ কারণেই নিজের কানে না শুনেই তিনি অমর সব সুর সৃষ্টি করে যেতে পেরেছেন।

    লুইস ব্রেইল (১৮০৯-১৮৫২)

    ব্রেইল (Louis Brille) ছিলেন অন্ধ । তবে অন্ধদের জন্য পড়ালেখা করা অসম্ভব, এ কথা তিনি বিশ্বাস করতেন না। তাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য তিনি আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে পড়ে যাওয়া সম্ভব—এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই পদ্ধতির নাম ব্রেইল পদ্ধতি।

    সারাহ বার্নহারড (১৮৪৪-১৯২৩)

    সারাহ বার্নহারড (Sarah Bernhard) ছিলেন এক ফরাসি অভিনেত্রী। ১৯১৪ সালে এক দুর্ঘটনায় তিনি তার এক পা হারিয়েছিলেন। তবে সেজন্য সারাহ অভিনয়জগৎ থেকে বিদায় নেননি। এর পরও আমৃত্যু তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন।

    টমাস আলভা এডিসন (১৮৪৭-১৯৩১)

    টমাস আলভা এডিসন (Thomas Alva Edison) ছিলেন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী। কিশোর বয়সে রেলগাড়ির বগিতে বসে এসিড নিয়ে কাজ করার সময় বগির ভেতর আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গার্ড তাকে থাপ্পড় মারে। ফলে তিনি বধির হয়ে যান এবং চিরদিনের জন্য শ্রবণক্ষমতা হারান। এত বড় ক্ষতি হওয়ার পরও ‍আত্মবিশ্বাসের জোরে গবেষণা চালিয়ে তিনিই বৈদ্যুতিক বাতি, সিনেমা প্রজেক্টর, গ্রামোফোনসহ দুইশরও বেশি আবিষ্কার করেন।

    হেলেন কেলার (১৮৮০-১৯৬৮)

    হেলেন কেলারের নাম জানে না, শিক্ষিত সমাজে এমন মানুষ নেই বললেই চলে। তার পুরো নাম হেলেন অ্যাডামস কেলার (Helen Adams keller)। তিনি চোখে দেখতে পেতেন না, সেইসঙ্গে কানেও শুনতে পারতেন না। অন্ধ ও বধির হওয়া সত্ত্বেও ২৪ বছর বয়সে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। কী দুর্নিবার মনের জোর থাকলে কোনো মানুষ একসঙ্গে দুটি প্রতিবন্ধকতা জয় করতে পারেন—হেলেন কেলার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন বিখ্যাত লেখক, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। আমৃত্যু তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমে ভূষিত করা হয়।

    ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট (১৮৮২-১৯৪৫)চারবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট (Franklin D. Roosevelt)। অথচ তিনি ছিলেন পোলিও-আক্রান্ত রোগী। জীবনের বেশিরভাগ সময় তাকে হুইলচেয়ারে বসে কাটাতে হয়েছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্রাঙ্কলিনের এ রোগ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি সব সমস্যাকে জয় করেছিলেন।

  • হামে প্রাণ গেল আরো তিন শিশুর, নতুন আক্রান্ত ১১৩৫

    হামে প্রাণ গেল আরো তিন শিশুর, নতুন আক্রান্ত ১১৩৫

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৯ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের। সবমিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ১৩৫ জন।

    এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে অর্থাৎ একশ একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬ হাজার ৬১ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৮৬ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর এবং ৫৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৯৪ হাজার ৭৬৪ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ২৯৭ জন। আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ হাজার ৭১৬ জন। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৯৭১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে রয়েছে। আর ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে রোগী পাওয়া গেছে ৪৫৩ জন। এর মধ্যে ৭৬ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ৩০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৭ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ২৫১ জনের। এরপরেই রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে দুইজনসহ মোট ৯০ জন, সিলেটে তিনজনসহ ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৬০ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৫৮ জন, ময়মনসিংহে দুইজনসহ ৫৭ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

    ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সটি বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় বৃদ্ধি ও জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

    সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    ১. বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ।

    ২. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

    ৩. স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা।

    ৪. ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা।

    ৫. এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।

    ৬. নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি করা।

    ৭. গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা।

    ৮. ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    ৯. ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা।

    ১০. ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

    জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

  • হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) দেশে আরও তিন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১২৫ জন। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬০ জনের।

    হামের উপসর্গে তিন শিশু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে মারা গেছে।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৯০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট ৬৮৩ শিশু মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৩ হাজার ৭৫৫ শিশুর। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৭১ শিশুর। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৯২৬ শিশু।

    এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৭৩ হাজার ৯৮৫ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ৮৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতাল ছেড়েছে এক হাজার ১৩৬ শিশু।

  • হাসপাতাল নির্মাণে ইরানকে প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতা

    হাসপাতাল নির্মাণে ইরানকে প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতা

    বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল চালু করতে ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সংসদ ভবনের কার্যালয়ে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন জামায়াতে ইসলামী আমির।

    জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠন, তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট, মেডিকেল টুরিজম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধে নিহত ইরানের সব নাগরিকের জন্য শোক প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত।

    জামায়াত আমির যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করতে শান্তি চুক্তি সাক্ষর করায় ইরানকে ধন্যবাদ জানান। শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। চুক্তি কার্যকর থাকবে বলেও আশা করেন।

    ইরানের রাষ্ট্রদূত দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁর দেশের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর, ইরান দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন দিগন্তে ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬

    স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন দিগন্তে ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬

    মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড, অ্যাবট ডায়াগনস্টিকস-এর সহযোগিতায় সফলভাবে ডিজিটাল ডিসকভারি ডে-২০২৬ আয়োজন করেছে। রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ, হাসপাতাল প্রশাসক এবং শিল্পখাতের নেতারা অংশ নেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার অগ্রযাত্রা’।

    অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চন্দ্রেশ মাদানি, ডিস্ট্রিবিউটর অপারেশন ম্যানেজার, কোর ডায়াগনস্টিকস, অ্যাবট এবং মি. শামসুদ্দিন জিয়া, চিফ অপারেটিং অফিসার, মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড। তারা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে মি. শামসুদ্দিন জিয়া বলেন, ‘ডিজিটাল রূপান্তর এবং ইন্টেলিজেন্ট ডায়াগনস্টিকসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা বৈশ্বিক উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, জ্ঞান বিনিময় করতে পারবেন এবং এমন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবেন যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার দক্ষতা, নির্ভুলতা এবং রোগীসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা প্রদান করেন:

    • মি. সিহি পার্ক, মার্কেটিং ম্যানেজার, ডিএইচএস অ্যান্ড ‍সিস্টেমস কোর ডায়াগনস্টিকস অ্যাবট • মিস ক্রিস্টিন গোপালাকৃষ্ণন, ডিজিটাল হেলথ সল্যুশনস এক্সিকিউটিভ, কোর ডায়াগনস্টিকস অ্যাবট • প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এস. এম. মাহবুবুল আলম, এমবিবিএস, এমসিপিএস (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি), এফসিপিএস (হিস্টোপ্যাথলজি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা। বক্তারা ল্যাবরেটরি অটোমেশন, ডিজিটাল হেলথ সল্যুশনস, কানেক্টেড ডায়াগনস্টিকস এবং স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা ও রোগীর সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীরা ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি, ল্যাবরেটরি ইনফরমেটিক্স, ওয়ার্কফ্লো অপ্টিমাইজেশন এবং ডিজিটাল হেলথকেয়ার সল্যুশনসের সর্বশেষ উদ্ভাবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

    অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবীদের জন্য জ্ঞান বিনিময়, মতবিনিময় এবং নেটওয়ার্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষতা বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সমাপনী বক্তব্যে নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড, অনুষ্ঠানের সকল বক্তা, অংশগ্রহণকারী এবং সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ইন্টেলিজেন্ট ডায়াগনস্টিকস, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের ওপর। ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বাংলাদেশের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই, যাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষ, নির্ভুল এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবা প্রদান করতে পারে।’

    ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মাধ্যমে মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড এবং অ্যাবট ডায়াগনস্টিকস উদ্ভাবননির্ভর, স্মার্ট ও সংযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকাশে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই ডেঙ্গুর থাবা; ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

    হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই ডেঙ্গুর থাবা; ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

    এক সময় ডেঙ্গুর মৌসুম বলতে শুধু বর্ষাকালকেই বোঝানো হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সে ধারণা পাল্টে গেছে। এডিস মশার জীবনচক্রের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে এখন শীত-গ্রীষ্মেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

    রাজধানী ছাড়িয়ে রোগটি এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছর হামের ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যেই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু। ইতোমধ্যে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ডেঙ্গুর রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ২১ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৭০৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২২০ জন—যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে মে মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৭১৪ জন এবং এপ্রিলে ৬৪০ জন। অর্থাৎ, সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছেই।

    আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে। যদিও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবুও মৌসুম শুরুর আগেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদরা। একইসঙ্গে খোদ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এবার ডেঙ্গু মোকাবিলা সহজ হবে না। ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডিস মশার প্রজননের অনুকূল সময়। মে মাসের পর জমে থাকা পানিতে মশার ডিম দ্রুত লার্ভায় পরিণত হয় এবং থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে প্রজনন আরো বাড়ে। আগে ঢাকাকে ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মতে, বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রমে উদাসীনতা, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

    দেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ২০০০ সালে। সে সময় রোগটি ‘ঢাকা ফিভার’ নামে পরিচিত ছিল। পরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটি ডেঙ্গু জ্বর বলে শনাক্ত করেন এবং সে বছর থেকেই প্রথম ডেঙ্গু রোগীর তথ্য রেকর্ড করা হয়। ওই বছর ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হন পাঁচ হাজার ৫৫১ জন। পরবর্তী এক দশকের বেশি সময় রোগটির প্রকোপ সীমিত থাকলেও ২০১৯ সালে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত হন এবং ১৭৯ জন মারা যান।

    তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ২০২৩ সালে। সে বছর ডেঙ্গুতে মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। তখন দেশের ৬৪ জেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ এবং মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন মোট চার হাজার ৯০০ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে। সেখানে রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৯৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে রোগী ৯৭২ জন। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় আক্রান্ত ৩৪৪, পিরোজপুরে ২৯৭, পটুয়াখালীতে ২৪৪, ঝালকাঠিতে ২৩০, বরগুনায় ১১৮ এবং ভোলায় ৬৪ জন।

  • রাজশাহী ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

    রাজশাহী ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

    রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের পিটুনিতে রেজাউল করিম (৬০) নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে নগরীর মেহেরচণ্ডী বেড়া মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তরের (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলছিল। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে রাকিবুল চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ঘরে থাকা একটি কাঠ দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়।

    বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাকিবুল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে।

    এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • আম খাওয়ার সঠিক পরিমাণ জেনে নিন

    আম খাওয়ার সঠিক পরিমাণ জেনে নিন

    স্বাদের জন্য জনপ্রিয় হলেও আম শুধু মিষ্টি ফল নয়, বরং এটি একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। তবে প্রাকৃতিকভাবে এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় অনেকে এটি নিয়ে সতর্ক থাকেন।

    আমে কী কী পুষ্টি থাকে

    পুষ্টিবিদদের মতে, পাকা আমে থাকে—

    এই উপাদানগুলো হজম শক্তি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে।

    আমের গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা

    চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে

    ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ রাখে

    হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে

    কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

    লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়

    শরীরে শক্তি যোগায়

    কিছু গবেষণায় ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বলেও উল্লেখ আছে

    দিনে কতটা আম খাওয়া নিরাপদ

    পুষ্টিবিদদের মতে—

    একজন সুস্থ মানুষ দিনে ১ থেকে ২টি মাঝারি আম খেতে পারেন

    ফজলি আম তুলনামূলক বেশি উপকারী বলে ধরা হয়

    অতিরিক্ত খেলে ক্যালরি ও শর্করা বেড়ে শরীরে ফ্যাট জমতে পারে

    চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা একেবারেই আম খেতে পারবেন না—এটা ঠিক নয়। তবে পরিমাণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম আম খাওয়া যেতে পারে

    একবারে বেশি না খেয়ে অল্প করে ভাগ করে খাওয়া ভালো

    খাবারের ২ ঘণ্টা পর আম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়

    একটি ছোট আম বা অর্ধেক মাঝারি আম নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়

    অতিরিক্ত আম খেলে কী হয়

    ওজন বেড়ে যেতে পারে

    শরীরে অতিরিক্ত শর্করা ফ্যাটে রূপ নিতে পারে

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে

    তবে পরিমিত খেলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

    পুষ্টিবিদদের মতে, আম একদিকে যেমন পুষ্টিকর ও উপকারী, অন্যদিকে অতিরিক্ত খেলে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই “পরিমাণই আসল চাবিকাঠি”—এই নিয়ম মেনে খেলে আম শুধু স্বাদ নয়, শরীরের জন্যও দারুণ উপকারী একটি ফল।

  • কাঁঠালের বিচিতেই মজার সন্দেশ !

    কাঁঠালের বিচিতেই মজার সন্দেশ !

    কাঁঠালের বিচিগুলো দিয়ে তৈরি করা যায় নরম, সুগন্ধি ও পুষ্টিকর এক মিষ্টান্ন—কাঁঠালের বিচির সন্দেশ।

    ঘরে থাকা সহজ উপকরণ আর কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই তৈরি হবে ভিন্ন স্বাদের এই ঘরোয়া মিষ্টি। যা বিকেলের নাশতা বা অতিথি আপ্যায়নে হতে পারে দারুণ চমক।

    যেভাবে তৈরি করবেন কাঁঠালের বিচির সন্দেশ

    প্রথমে কাঁঠালের বিচির খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হলে এর বাদামি আবরণ সরিয়ে ফেলুন। এরপর বিচিগুলো ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।

    এবার সেই পেস্টের সঙ্গে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নিন। একটি ননস্টিক প্যানে সামান্য ঘি গরম করে তাতে মিশ্রণটি দিন।

    এরপর চিনি মিশিয়ে মাঝারি আঁচে প্রায় ১০ মিনিট নেড়ে রান্না করুন। ধীরে ধীরে মিশ্রণটি ঘন হয়ে প্যানের গা ছেড়ে উঠতে শুরু করবে।

    চুলা বন্ধ করে শেষে এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। তারপর মিশ্রণটি একটি পাত্রে ঢেলে ঠান্ডা হতে দিন।

    ঠান্ডা হয়ে গেলে পছন্দমতো আকারে কেটে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু কাঁঠালের বিচির সন্দেশ।

    এই সন্দেশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে ৪–৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। কাঁঠালের বিচি পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন হিসেবেও বিবেচিত।

  • শিশু লালন পালনে সেরা ৫ দেশ

    শিশু লালন পালনে সেরা ৫ দেশ

    শিশুর স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি, শিক্ষা, নিরাপত্তা, পারিবারিক সুবিধা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ—এসব বিষয় বিবেচনায় বিশ্বের কয়েকটি দেশ শিশু লালন-পালনের জন্য সেরা হিসেবে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এসব দেশে শিশুরা তুলনামূলক নিরাপদ ও সুন্দর শৈশব পায়।

    জাপান

    জাপানে ছোট বয়স থেকেই শিশুরা অনেকটা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। এমনকি অনেক শিশু নিজেরাই স্কুলে যায়, কারণ দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী।

    শিক্ষার ক্ষেত্রেও জাপান বিশ্বের এগিয়ে থাকা দেশগুলোর একটি। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য রয়েছে দীর্ঘ বেতনসহ ছুটির সুবিধা, যা সন্তান লালন-পালনে বাড়তি সহায়তা দেয়।

    এস্তোনিয়া

    শিশুদের জন্য পরিষ্কার পরিবেশ, সবুজ জায়গা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে এস্তোনিয়া বিশেষভাবে এগিয়ে। এখানকার শিশুরা কম বায়ু ও শব্দ দূষণের মধ্যে বড় হয়। স্কুল শিক্ষায় গণিত, বিজ্ঞান ও ভাষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের মানসিক বিকাশেও দেশটির শিক্ষা পদ্ধতি বেশ কার্যকর। বাবা-মায়ের জন্যও রয়েছে বিশ্বের অন্যতম উদার পারিবারিক ছুটির ব্যবস্থা।

    স্পেন

    শিশুদের সুস্থতা ও সামাজিক পরিবেশের জন্য স্পেন অন্যতম ভালো দেশ। কম দূষণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের প্রতি ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশটিকে এগিয়ে রেখেছে। স্পেনে পরিবার নিয়ে বাইরে যাওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। শিশুদের রেস্তোরাঁ বা বিভিন্ন সামাজিক স্থানে নিয়ে যাওয়া নিয়ে তেমন কোনো বাধা নেই। এখানে বাবা ও মা দুজনই সন্তানের জন্মের পর বেতনসহ দীর্ঘ ছুটি পান। তবে শিশুদের জন্য আরও বেশি পরিচর্যা কেন্দ্র প্রয়োজন বলে অনেক অভিভাবক মনে করেন।

    ফিনল্যান্ড

    বিশ্বের অন্যতম উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে ফিনল্যান্ড শিশুদের জন্য খুবই উপযোগী একটি দেশ। এখানে বায়ুর মান ভালো, প্রচুর সবুজ জায়গা রয়েছে এবং শিশুরা প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে বেড়ে ওঠে। শিক্ষায় শিশুদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাবা-মায়ের জন্য রয়েছে দীর্ঘ সময়ের বেতনসহ ছুটির সুযোগ, যা পরিবারকে আরও কাছাকাছি রাখে।

    নেদারল্যান্ডস

    শিশুদের মানসিক সুখ ও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির দিক থেকে নেদারল্যান্ডস বিশ্বের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি। এখানকার শিশুরা কম চাপের মধ্যে বড় হয়। পরিবার, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশটির সংস্কৃতিতে শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। বাবা-মায়ের জন্যও রয়েছে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়—একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ, ভালো শিক্ষা, মানসিক শান্তি ও পরিবারের সহযোগিতা। আর এসব দিক বিবেচনায় বিশ্বের এই দেশগুলো শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে।

  • স্বাস্থ্যকর ভেবে চিনি ছাড়ছেন? বাড়তে পারে ঝুঁকি!

    স্বাস্থ্যকর ভেবে চিনি ছাড়ছেন? বাড়তে পারে ঝুঁকি!

    খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বা শর্করা কমানো সাধারণত স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হলেও, নতুন এক গবেষণা বলছে—চিনি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সবসময় উপকারী নাও হতে পারে। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত ‘এন্ডো ২০২৬’ চিকিৎসা সম্মেলনে এ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি মূলত প্রাণীর ওপর পরিচালিত হয়েছে, যেখানে সুক্রোজ বা সাধারণ টেবিল সুগার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।

    গবেষকরা ইঁদুরের ওপর দীর্ঘ ১৬ সপ্তাহ ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এ জন্য ইঁদুরগুলোকে দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল।

    প্রথম দলের ইঁদুরগুলোকে কম চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়, যার মধ্যে চিনি (সুক্রোজ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দলের ইঁদুরগুলোকেও প্রায় একই রকম কম চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়, তবে তাতে কোনো চিনি ছিল না।

    ১৬ সপ্তাহের এই পুরো সময় জুড়ে উভয় দলের ইঁদুরের শরীরের ওজন প্রায় একই রকম ছিল। তবে বিপত্তি ঘটে অন্য জায়গায়—যারা সম্পূর্ণ চিনিহীন খাবার খেয়েছিল, তাদের শরীরে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।

    গবেষকদের তথ্যমতে, চিনি থেকে বঞ্চিত ইঁদুরগুলোর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তাদের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।

    মেটাবলিক ডিসফাংশন বা বিপাকীয় এই কর্মহীনতা ইঙ্গিত করে যে, খাদ্যতালিকা থেকে চিনি সম্পূর্ণ দূর করে দিলে শরীর তার শক্তি প্রক্রিয়াকরণ এবং তা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

    অন্ত্রের স্বাস্থ্যের অবনতি

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চিনি বর্জনকারী ইঁদুরগুলোর অন্ত্রে থাকা উপকারি ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি তাদের অন্ত্রে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বৃদ্ধির লক্ষণও দেখা গেছে।

    গবেষকদের মতে, মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া পুরো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চিনি একেবারে বাদ দেওয়ার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার একটি সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে।

    লিভারেও ক্ষতিকর পরিবর্তন

    বিপাকীয় এবং পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি, চিনিহীন খাবার খাওয়া ইঁদুরগুলোর লিভার বা যকৃতেও পরিবর্তন ধরা পড়েছে। গবেষকরা জানান, এই পরিবর্তনগুলো সাধারণত ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা লিভারে চর্বি জমার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি খাদ্যতালিকা থেকে নির্দিষ্ট কোনো উপাদান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

    প্রয়োজন সুষম খাদ্যতালিকা

    প্রধান গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফলগুলো মূলত একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্যের গুরুত্বকে তুলে ধরে। গবেষণা দলের মতে, কেবল একটি উপাদানকে জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দিলেই শরীর সুস্থ হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়; বরং এটি শরীরের মেটাবলিক সিস্টেমে উল্টো ও অপ্রত্যাশিত ধাক্কা দিতে পারে। সুক্রোজ সম্পূর্ণ বাদ দিলে তা উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার গঠনকে ব্যাহত করে, যা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

    তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেহেতু এই গবেষণাটি প্রাণীদের (ইঁদুর) ওপর করা হয়েছে, তাই এর ফলাফল এখনই সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না। যারা চিনি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রভাব পড়ে কিনা, তা নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণার প্রয়োজন।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—ভবিষ্যতের ডায়েট চার্ট বা খাদ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলো শুধুমাত্র চিনি বর্জনের ওপর জোর না দিয়ে সামগ্রিক পুষ্টির ভারসাম্য, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার ওপর ফোকাস করা উচিত।

    অতিরিক্ত চিনি খাওয়া অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তবে সব পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ বর্জন করা হয়তো সেরা কৌশল নাও হতে পারে। বরং পরিমিতিবোধ এবং একটি সুষম খাদ্যতালিকাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।

  • বর্ষায় পিছলে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন

    বর্ষায় পিছলে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন

    বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মের উত্তপ্ত প্রকৃতি হয় শান্ত। তবে এর সাথে সাথে বিপদের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল থাকায় হঠাৎ করে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিসহ যাতায়তে নানা বিড়ম্বনা দেখা দেয়।

    পিছলে পড়লে অনেকের ক্ষেত্রে আঘাত সামান্য হলেও, বয়স্কদের জন্য তা অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। ভারতের পুনের অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালটেন্ট অর্থোপেডিকস এবং স্পোর্টস ইনজুরি ও রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বিশেষজ্ঞ ডা. নিশিত জয়ন্ত শাহের মতে, বর্ষাকালে পড়ে যাওয়ার ফলে দ্রুত চিকিৎসা না করালে হাড় ভাঙা, লিগামেন্টের আঘাত এবং দীর্ঘমেয়াদী চলাফেরার সমস্যা হতে পারে।

    বর্ষাকালে তরুণরা কেন প্রায়ই লিগামেন্টের আঘাতে ভোগেন

    বৃষ্টির পানি রাস্তা, সিঁড়ি, ফুটপাত এবং খেলার মাঠ পিচ্ছিল করে তুলতে পারে। এর ফলে, শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা বর্ষাকালে প্রায়শই গোড়ালি মচকানো, হাঁটুর আঘাত এবং পা মচকে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার শিকার হন।

    ডা. শাহ বলেন, গোড়ালি মচকানো বর্ষাকালে হওয়া সবচেয়ে সাধারণ আঘাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। অসমতল পৃষ্ঠ এবং পিচ্ছিল মাটির কারণে পা অপ্রত্যাশিতভাবে মোচড় খেতে পারে।

    তার মতে, দৌড়ানোর সময় বা খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন করলে হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত লাগতে পারে। বর্ষাকালে রাস্তার ঘর্ষণ কমে যাওয়ায় মোটরসাইকেল এবং সাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

    জোড়ের চারপাশে ব্যথা
    ফোলাভাব
    হাঁটতে অসুবিধা
    অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
    কালশিটের দাগ
    অস্থিরতা বোধ করা

    বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি কেন
    বয়স্কদের জন্য ,সামান্য পিছলে পড়ে যাওয়াও দ্রুত একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশি শক্তি স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়, ভারসাম্য কম স্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বয়স্করা হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলে তা সামলে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

    ডা. শাহ বলেন, বর্ষাকালে বয়স্ক রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আঘাতগুলোর মধ্যে হিপ ফ্র্যাকচার অন্যতম।

    ডা. শাহ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন-
    ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো পরুন
    যখনই সম্ভব হ্যান্ডরেল ব্যবহার করুন
    ভেজা জায়গায় সাবধানে হাঁটুন
    পিচ্ছিল সিঁড়িতে তাড়াহুড়ো করবেন না
    পড়ে যাওয়ার পর, আঘাত সামান্য মনে হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
    শক্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন
    তিনি বলেন, বর্ষাকালে পড়ে যাওয়া প্রাথমিকভাবে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। বেশিরভাগ আঘাতেরই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব
    বর্ষাকালে হওয়া অনেক আঘাত বিশ্রাম, ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সামলানো যায়। তবে, গুরুতর ফ্র্যাকচার বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

  • ডেঙ্গু চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

    ডেঙ্গু চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

    বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা মারাত্মক হতে পারে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য আলাদা ডেঙ্গু চিকিৎসা উন্নয়নে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

    ১৫ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিশু-কেন্দ্রিক ডেঙ্গু চিকিৎসা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত চিকিৎসা নেই। সাধারণত রোগীদের সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা হয়, যা অনেক সময় শিশুদের জন্য যথেষ্ট নয়।

    শিশুদের জন্য আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন কেন

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, শিশুদের শরীর ডেঙ্গু ভাইরাসে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত গুরুতর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। ফলে তাদের জন্য আলাদা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের ডেঙ্গু ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি যেন শিশুদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। এটি শুধু ডোজের বিষয় নয়, বরং ওষুধের ফর্মুলেশন, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।

    নতুন পিএডিও (PADO) উদ্যোগ কী বলছে

    এই নির্দেশনা এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Paediatric Drug Optimization বা PADO প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এর উদ্দেশ্য হলো শিশুদের জন্য উপযুক্ত ওষুধ ও চিকিৎসা উন্নয়নের পথ নির্ধারণ করা।

    এই উদ্যোগে বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু চিকিৎসার বিভিন্ন সম্ভাব্য ওষুধ, গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। এতে কিছু উন্নয়নাধীন চিকিৎসা পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিশুদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডেঙ্গু চিকিৎসার ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়ে গবেষণা আরও দ্রুত শুরু করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল পাওয়ার পরই শিশুদের ওপর গবেষণা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর লক্ষণ, পুষ্টিগত অবস্থা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে আলাদা গবেষণা ও চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতামতবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করতে হলে শুরু থেকেই তাদের কথা বিবেচনায় নিতে হবে। পরবর্তীতে যুক্ত করা হলে চিকিৎসা কাঠামো যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে।

    বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থা এই উদ্যোগকে শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

    কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ

    বিশ্বে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং এর একটি বড় অংশ শিশু। অনেক দেশে এখনো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা সীমিত। ফলে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা ভবিষ্যতে চিকিৎসা উন্নয়ন, গবেষণা এবং স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই নতুন নির্দেশনা শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থার পথ তৈরি করতে পারে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর বাড়ি সিলেটে

    কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর বাড়ি সিলেটে

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবার বাড়ি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলায়। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) ভোরে কাতারের একটি মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।

    কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রোববার ভোরে নিজেদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ওই প্রবাসীরা। পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। গাড়িটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়; দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

    এদিকে, জীবিকার তাগিদে মরুভূমির দেশে পাড়ি জমানো এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কানাইঘাটের বাতাস। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেশে থাকা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুঃসংবাদ জানানো হয়েছে।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান। তারা সেখানে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার উদ্যোগ নেন।

    দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিদের আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক কাগজপত্র সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পরিবারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কাতার প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতার’-এর সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানান, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ যতো দ্রুত সম্ভব স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

    কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

    কাতারে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশিসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত পাঁচ বাংলাদেশিই সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে শাহানিয়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই ছয় আরোহীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে কাতারস্থ একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতার’-এর সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানান, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩টি শিশু হাসপাতালে এসেছে।

    রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮০ জন শিশু মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১। এ সময়ে ৯৫৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৯ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৬ হাজার ৮৫৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৮৪৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • সন্তানের জন্মের আগেই বদলে যায় বাবার শরীর-মন

    সন্তানের জন্মের আগেই বদলে যায় বাবার শরীর-মন

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সন্তানের জন্মের আগে থেকেই পুরুষদের শরীরে মারাত্মক হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, যা তাদের আচরণকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের সন্তানের সুস্থতার ওপর।

    আমার ছেলের জন্মের আগের মাসগুলোতে, আমার স্ত্রী ও আমি একটি ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ ওয়ার্কশপ (শিশুর জন্মের আগে প্রসব সংক্রান্ত বিষয়ে মা-বাবার প্রশিক্ষণ), একটি ‘ব্রেস্টফিডিং সেশন’ এবং হাসপাতাল পরিচালিত প্রসব-পূর্ব কোর্সে অংশ নিয়েছিলাম।

    আমরা গর্ভাবস্থা ও শিশু বিষয়ক এক গাদা বই পড়েছিলাম এবং অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেছিলাম। আমাদের নোটপ্যাডগুলো দ্রুতই তথ্যে ভরে গিয়েছিল।

    আমার সেই সময়ের নোটগুলোর মধ্যে নারীদের শরীর কীভাবে প্রসব এবং মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হয় – তার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। যেমন হরমোনের ওঠানামা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থান পরিবর্তন এবং মস্তিষ্কের পুনর্গঠন।

    তবে কেউ আমাকে বলেনি যে, আমার নিজের মস্তিষ্ক ও শরীরও পিতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

    আমার ছেলের বয়স যখন এক বছরের বেশি, তখন প্রিম্যাটোলজিস্ট সারাহ ব্লাফার হার্ডির লেখা ‘ফাদার টাইম’ নামক একটি বই পড়ার পর আমি প্রথম এ ধারণার মুখোমুখি হই।

    সেখানে লেখক যুক্তি দিয়েছেন যে, পুরুষদের মধ্যেও “যেকোনো নিবেদিতপ্রাণ মায়ের মতোই সুরক্ষামূলক ও যত্নশীল” হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় জৈবিক গঠন বা ওয়্যারিং রয়েছে।

    এটি আমার কৌতূহলকে জাগিয়ে তোলে।

    আমি সক্রিয়ভাবে বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী ও বিশ্বাসী, তবে আমি ভেবেছিলাম এটি হয়তো আমাদের প্রজন্মের পুরুষদের একটি সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত।

    কিন্তু হার্ডির বই আমাকে একটি সম্পূর্ণ নতুন একাডেমিক ধারনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, যা বলছে যে আমাদের এই আচরণটির শেকড় আসলে জীববিজ্ঞানের গভীরে, যা কেবল সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং সঠিক সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং বিভিন্ন গবেষণা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখার পর আমি একটি সহজ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি – পিতৃত্ব একজন পুরুষকে এমনভাবে পরিবর্তিত করে, যা মাতৃত্বের রূপান্তরের মতোই একদম একই রকম।

    একজন বাবা তার সন্তানের যত্নে যত বেশি সম্পৃক্ত হন, এ রূপান্তর তত বেশি গভীর হয়। পুরুষের এন্ডোক্রাইন (হরমোন) এবং স্নায়ুতন্ত্রের পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, একজন যত্নশীল বাবা কোনো আধুনিক ব্যতিক্রম নন, বরং এটি তার একটি গভীর জৈবিক বৈশিষ্ট্য।

    টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস

    শিশুদের কারণে বাবারা শারীরিকভাবে কীভাবে পরিবর্তিত হন, সে বিষয়ে প্রাথমিক গবেষণাগুলো এসেছিল অন্যান্য প্রাণীদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

    বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের এসব গবেষণায় দেখা গেছে যে, অনেক স্তন্যপায়ী পুরুষ (অন্যান্য প্রাইমেটসহ) যখন সক্রিয়ভাবে সন্তানের যত্ন নেয়, তখন তাদের শরীরে স্পষ্ট হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে।

    এর মধ্যে টেস্টোস্টেরন, ভ্যাসোপ্রেসিন ও প্রোল্যাকটিনের মতো হরমোনের ওঠানামা অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণত মাতৃত্বের সাথে জড়িত।

    আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী লি গেটলার যখন ২০০০-এর দশকের শুরুতে আন্ডারগ্রাজুয়েট ছাত্র হিসেবে এসব ফলাফলের কথা শোনেন, তখন তিনি এতে মগ্ন হয়ে পড়েন।

    ইন্ডিয়ানার ইউনিভার্সিটি অফ নটর ডেমের হরমোন, স্বাস্থ্য এবং মানব আচরণ গবেষণাগারের পরিচালক গেটলার বলেন, “আমি আমার লেকচারারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, কেউ মানুষের পিতৃত্বের ক্ষেত্রে এ প্রশ্নগুলো নিয়ে গবেষণা করছে কি-না, এবং যার উত্তর ছিল – না।”

    ২০০০ সালে দুইজন কানাডিয়ান গবেষক – ক্যাথরিন উইন-এডওয়ার্ডস এবং অ্যান স্টোরি, তারা পুরুষদের হরমোন পরিবর্তনের ওপর প্রথম গবেষণা প্রকাশ করেছিলেন।

    গেটলার যখন এ ক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন, ততদিনে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য ছিল যে সন্তানহীন পুরুষদের তুলনায় সন্তান আছে এমন পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে।

    “কিন্তু সেখানে একটি ‘ডিম আগে না মুরগি আগে’ মার্কা সমস্যা ছিল,” গেটলার ব্যাখ্যা করছিলেন, “টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকা পুরুষদেরই কি বাবা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? নাকি পিতৃত্বের রূপান্তরই পুরুষদের মধ্যে এই জৈবিক পরিবর্তনের ধারা তৈরি করে?”

    এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেটলার ফিলিপাইনের সেবু সিটিতে কয়েক দশক ধরে চলা একটি প্রকল্পের বিজ্ঞানীদের সাথে যুক্ত হন।

    ২০০৫ সালে, এই দলটি ২১ বছর বয়সী এবং কোনো সঙ্গীহীন ৬২৪ জন পুরুষের লালার নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করে। চার বছর পর তারা আবার পরীক্ষা করেন।

    তারা দুটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলেন – অন্তর্বর্তী সময়ে যারা বাবা হয়েছেন তাদের টেস্টোস্টেরন কম হবে কি-না, এবং যারা শিশু যত্নে বেশি সময় ব্যয় করেছেন তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও কম হবে কি-না।

    যখন ফলাফল এলো, দুটি প্রশ্নের উত্তরই ছিল ‘হ্যাঁ’।

    যারা বাবা হয়েছিলেন তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সন্তানহীন পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।

    এবং যে পুরুষরা শিশুদের দেখভালে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন, তাদের টেস্টোস্টেরন সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছিল।

    যারা তাদের সন্তানদের সাথে একই বিছানায় ঘুমাতেন, তাদের মাত্রাও ছিল কম।

    গেটলার আমাকে বলেন, “আমি মনে করি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটিই প্রথম স্পষ্ট বার্তা ছিল যে পুরুষদের পিতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার এ ক্ষমতা রয়েছে।”

    এক অর্থে, জৈবিক প্রক্রিয়াই সন্তান যত্নের জন্য তাদের প্রস্তুত করে তোলে।

    তাদের এই অনুসন্ধান অনন্য নয়। বিজ্ঞানীদের আরো কয়েকটি দলও দেখেছে যে সঙ্গীর গর্ভাবস্থায় টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া শিশুর জন্মের পর তাকে বাবার বেশি সময় দেওয়া, সন্তান লালনে সুস্পষ্ট আগ্রহ এবং সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কিত।

    এমনকি এ হরমোনের মাত্রা শিশুর কান্নায় পুরুষদের প্রতিক্রিয়ার সাথেও সম্পর্কিত ছিল – এটি তাদের আরও সতর্ক ও স্পর্শকাতর করে তুলেছিল।

    ২০১৮ সালে গেটলারের ল্যাবের একটি দল এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, কম টেস্টোস্টেরন যে বাবাদের তারা কম বয়সী বাচ্চাদের যত্নে বেশি জড়িত থাকেন।

    কিন্তু এটি কখন ঘটে? জন্মের আগে নাকি পরে – এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি ইউনিভার্সিটির ল্যাবরেটরি ফর হিউম্যান সোশ্যাল নিউরোসায়েন্সের পরিচালক জেমস কে. রিলিংয়ের মনে।

    রিলিং আমাকে বলেন, “আমার ধারণা ছিল যে এটি মায়ের সন্তান প্রসবের পর ঘটবে, যখন বাবারা তাদের শিশুদের সাথে কিছুটা সময় কাটাবেন।”

    গবেষণায় যা তারা পেয়েছিলেন তা তাদের অবাক করে দিয়েছিল।

    যখন তাদের স্ত্রী বা সঙ্গীর গর্ভধারণের চার মাস পরে হবু বাবাদের পরীক্ষা করা হয়, তখন তাদের টেস্টোস্টেরন ও ভ্যাসোপ্রেসিন – দুটি হরমোন ইতোমধ্যেই কম ছিল।

    রিলিং, যিনি ২০২৪ সালে পিতৃত্বের বিজ্ঞান নিয়ে ‘ফাদার নেচার’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন, তিনি বলেন যে ভ্যাসোপ্রেসিনেরও একই রকম প্রভাব ছিল।

    রিলিং জানতে চান যে এটি কেন ঘটে। হবু বাবারা কি তাদের গর্ভবতী সঙ্গীদের কাছ থেকে কোনো ফেরোমনাল সংকেত (দুই জন মানুষের মধ্যে এক ধরনের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া যা আচরণ বা শারীরিক পরিবর্তনকে প্রভাবিত করে) পান?

    নাকি সন্তান আসার খবর জানার পর এটি একটি মানসিক পরিবর্তন?

    এগুলো আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে যা নিশ্চিত তা হলো, পরিবর্তনগুলো টেস্টোস্টেরনের বাইরেও বিস্তৃত।

    ভালোবাসার হরমোনের তরঙ্গ

    উদাহরণস্বরূপ, অক্সিটোসিন বা তথাকথিত ‘লাভ হরমোন’ এর কথাই ধরা যাক।

    প্রসব-পূর্ব কোর্স থেকে মনে আছে – আমাদের উৎসাহিত করা হয়েছিল যাতে প্রসবের সময় আমার সঙ্গী শান্ত ও শিথিল থাকে, যাতে করে তার অক্সিটোসিন হরমোন প্রবাহিত হতে পারে এবং প্রসব সহজ হয়।

    আমাদের সন্তান জন্মের পর আমাদের বলা হয়েছিল যে, জন্মের সময় অক্সিটোসিনের একটি বিশাল ঢেউ তৈরি হবে এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে বারবার এই হরমোন বাড়বে যা মা ও শিশুর বন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করবে।

    কিন্তু আমি জানতাম না যে জন্মের প্রথম কয়েক ঘণ্টায়, যখন সে আমার খালি বুকে ঘুমাচ্ছিল, তখন আমার মধ্যেও অক্সিটোসিন বাড়ছিল।

    বিশ্বজুড়ে অনেক গবেষণায় বাবাদের মধ্যে উচ্চ মাত্রার অক্সিটোসিন পাওয়া গেছে – এমনকি যাদের সন্তানের বয়স এক থেকে দুই বছর বা যারা ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের যত্ন নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে।

    সন্তানদের সাথে কী পরিমাণ সময় কাটানো হচ্ছে তার ওপরই এটা নির্ভর করে।

    উদাহরণস্বরূপ, যে বাবারা তাদের সন্তানদের সাথে বেশি খেলাধুলা করেছেন ও কাছাকাছি থেকেছেন তাদের অক্সিটোসিন বেড়ে গিয়েছিল।

    এমনকি বাবারা যখন প্রথমবার তাদের নবজাতককে কোলে নিয়েছিলেন, তখনও একই রকম পরিবর্তন স্পষ্ট ছিল।

    অক্সিটোসিন আমাদের বাবার ভূমিকা পালনের সহজাত প্রবৃত্তিকে বাড়িয়ে তোলে। রিলিং ব্যাখ্যা করেন যে, আপনি পুরুষদের নাকে এই হরমোন স্প্রে করে কী ঘটে তা নোট করে এটি পরীক্ষা করতে পারেন।

    তিনি বলেন, “সেখানে একটি গবেষণা আছে যা আমি দারুণ পছন্দ করি। তারা বাবাদের তাদের শিশুর সাথে যোগাযোগ করার সময় ইনট্রানাসাল (নাকের মাধ্যমে) অক্সিটোসিন দেয় এবং দেখতে পায় যে এটি বাবাদের মাথা দ্রুত ঘোরাতে সাহায্য করে।”

    রিলিং ভিডিও কলে তার মাথা বাম থেকে ডানে এবং ওপরে-নিচে দোলালেন, যা দেখতে একজন অতি-উৎসাহী বাবার মতো লাগছিল।

    এ ধরনের ফলাফল অক্সিটোসিনের সাথে একটি ইতিবাচক চক্রের ইঙ্গিত দেয় – হরমোন যত বাড়ে, একজন বাবার তার সন্তানের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়ে, আর সন্তানের কাছাকাছি থাকার কারণে পরে এই হরমোন আরো বাড়তে পারে।

    বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে যত বেশি অনুসন্ধান করছেন, অন্যান্য হরমোনেও তত বেশি পরিবর্তন পাচ্ছেন।

    ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় রিলিং এবং তার দল দেখতে পান যে ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোনের পরিমাণ শিশুর জন্মের আগেই নতুন বাবাদের মধ্যে কমে গিয়েছিল।

    পুরুষে-পুরুষে বিবাদ বা তাদের প্রাধান্য ধরে রাখার অনুভূতির সঙ্গে জড়িত এই হরমোন।

    আরেকটি বিস্ময়কর হরমোন হলো প্রোল্যাকটিন। মানুষের মধ্যে এই রাসায়নিকটি ল্যাকটেশন (দুগ্ধক্ষরণ) এবং মাতৃকালীন যত্নে ভূমিকার জন্য পরিচিত। তবে জীববিজ্ঞানীরা পাখি, মাছ এবং মারমোসেটসহ (এক জাতের দক্ষিণ আমেরিকান বানর, যা তার পিতৃত্বের প্রবৃত্তির জন্য পরিচিত) অন্যান্য প্রাণীদের পিতৃত্বের যত্নের সাথে একে যুক্ত করেছেন।২০২

    ৩ সালে, আমেরিকান ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ডার্বি স্যাক্সবের নেতৃত্বে একটি দল হবু বাবাদের প্রোল্যাকটিনের মাত্রা পরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, যারা তাদের অনাগত সন্তানের সাথে দৃঢ় বন্ধন অনুভব করেছিলেন তাদের এই হরমোনের মাত্রা বেশি ছিল।

    আবার, সন্তান জন্মের আগের প্রোল্যাকটিনের মাত্রা নির্ধারণ করেছিল এই বাবারা সন্তানের যত্নে কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন।

    আমরা ইতোমধ্যে অক্সিটোসিনের মাত্রার ক্ষেত্রে যা দেখেছি, এই দুটি হরমোনজনিত পরিবর্তনই সেই বাবাদের মধ্যে বেশি স্পষ্ট, যারা তাদের শিশুদের বেশি যত্ন নিচ্ছেন।

    ডার্বি বলেন, “এমন নয় যে কেবল নতুন মায়েরাই হরমোনজনিত পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যান। মনে হচ্ছে, পুরুষরাও একই ধরনের অভিযোজন এবং একই ধরনের ফলাফল দেখাচ্ছেন।”

    পুরুষের দ্বিতীয় কৈশোর

    স্যাক্সবে পরীক্ষা করে দেখছেন যে, এই হরমোনজনিত পরিবর্তনের প্রভাব বাবাদের মস্তিষ্কে কোনো ছাপ ফেলে কি-না।

    তিনি আমাকে বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বাবারা আসলে একটি খুব কৌতূহলপূর্ণ, বলতে গেলে একটি বিশেষ জনসংখ্যা – এই অর্থে যে তারা গর্ভাবস্থার মধ্য দিয়ে না গিয়েও অভিভাবকত্বের রূপান্তরগুলো অনুভব করেন।”

    জন্মদাত্রী মায়েরা সন্তান গর্ভে ধারণ করার সময় হরমোনের এক বিস্ফোরণ অনুভব করেন এবং সন্তান প্রসবের সময় আরেক দফা সেগুলো বাড়ে। কিন্তু তাদের সঙ্গীদের অভিজ্ঞতা আরও সূক্ষ্ম।

    স্যাক্সবের বই ‘ড্যাড ব্রেন’ ২০২৬ সালে প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “গর্ভাবস্থার প্রভাবগুলোর সাথে সন্তান লালনপালনের অভিজ্ঞতার তফাৎ আলাদা করে বুঝতে বাবাদের ভূমিকা আমাদের সুযোগ করে দেয়।”

    কয়েক বছর আগে, তার গবেষক দল স্পেনের সহকর্মীদের সাথে প্রথমবার বাবা হওয়া পুরুষদের সন্তান জন্মের আগে এবং পরে তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করার কাজটি করেছিল।

    তারা দেখতে পান যে সেখানে স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটছে। নতুন অভিজ্ঞতা এবং তথ্যের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তাদের মস্তিষ্ক অভিযোজিত হচ্ছিল।

    স্যাক্সবে পিতৃত্বের এই রূপান্তরকে কৈশোরের সাথে তুলনা করেন, যা আমাদের বিকাশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে আমাদের মস্তিষ্ককে নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্দীপনা ও ধারণার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।

    এবং একটি ফলো-আপ গবেষণায় তিনি আবিষ্কার করেন যে, যে পুরুষরা তাদের অনাগত সন্তানের সাথে বেশি বন্ধন অনুভব করেছিলেন বা বেশি দিন পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের মস্তিষ্কে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

    ২০২৬ সালে রিলিং নতুন বাবাদের মস্তিষ্কের পরিবর্তনের অনুরূপ প্রমাণ রিপোর্ট করেন, যা এই স্নায়বিক রূপান্তরকে নিশ্চিত করে।

    আমাদের পিতৃত্বকালীন মস্তিষ্ক এবং শরীরের অনেক পরিবর্তনের মতোই, এখানে একটি বিষয় রয়েছে – আপনি যত বেশি সম্পৃক্ত হবেন, আপনার মধ্যে তত বেশি পরিবর্তন আসবে।

    ‘ফাদার টাইম’ বইয়ের লেখক, প্রিম্যাটোলজিস্ট সারাহ হার্ডি বলেন, সমস্ত মানুষের মস্তিষ্কেই সন্তান লালন-পালনের একটি সুপ্ত ক্ষমতা রয়েছে, যাকে তিনি “অলপ্যারেন্টাল সাবস্ট্রেট” বলেন, যা সঠিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় হতে পারে।

    ফাদার টাইম বইয়ে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, মানুষ যখন আরও জটিল সমাজে বিবর্তিত হয়েছিল, তখন সম্মিলিত যত্নই মানুষকে বিকশিত হতে সাহায্য করেছিল।

    একটি শিশুকে প্রাথমিক যত্ন করতে পারে এমন পুরুষদের থাকাটা মূল্যবান ছিল এবং তাই আমরা এটি করার ক্ষমতা অর্জন করেছি – যা আমরা এখনো ধরে রেখেছি।

    ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় রুথ ফেল্ডম্যানের নেতৃত্বে ইসরায়েলি শিক্ষাবিদদের একটি দল বিষমকামী দম্পতিদের যুক্ত করেছিলেন যেখানে একজন নারী প্রাথমিক যত্ন প্রদান করতেন এবং বাবা ‘সাহায্য’ করতেন।

    পাশাপাশি কোনো নারী ছাড়াই সন্তান লালন-পালন করা সমকামী পুরুষ দম্পতিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারা যখন তাদের শিশুদের ভিডিও দেখছিলেন তখন তাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়।

    বিষমকামী দম্পতিদের ক্ষেত্রে, প্রাথমিক যত্ন নেওয়া নারীদের মস্তিষ্ক গভীর সহজাত প্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত অঞ্চলগুলোতে (যেমন অ্যামিগডালা) উদ্দীপিত হয়েছিল।

    অন্যদিকে, তাদের সহয়তাকারী পুরুষদের মস্তিষ্কের সামাজিক অঞ্চলগুলোতে বেশি সক্রিয়তা দেখা গিয়েছিল, যার অর্থ হতে পারে তারা পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছিলেন।

    কিন্তু প্রাথমিক যত্ন প্রদানকারী সমকামী পুরুষরা মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা এবং ‘মাতৃসুলভ’ অনুভূতির একই ধরনের সক্রিয়তা দেখিয়েছেন, পাশাপাশি সামাজিক উপাদানটিও বজায় রেখেছেন।

    পিতৃত্ব আক্ষরিক অর্থেই তাদের মস্তিষ্ককে নতুন রূপ দিচ্ছিল।

    সামাজিক পরিবর্তন

    আমি যেসব বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলেছি এবং এ ক্ষেত্রের বেশিরভাগ গবেষণা একমত হয়েছে যে, পিতৃত্বের জৈবিক এই বিকাশগুলোর ওপর পরিবারের জন্য তৈরি সরকারি নীতির ওপর নতুন করে নজর দেওয়া উচিত।

    স্যাক্সবে বলেন, “বাবাদের সেই বন্ধনগুলো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য জরুরি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাজের কাজ করা উচিত।”

    তিনি বলেন যে, পিতৃত্বকালীন ছুটি বাবা ও সন্তানের মধ্যে বন্ধন সহজতর করতে পারে।

    গেটলার আমাকে বলেন, আরেকটি মূল পরিবর্তন হলো শুরু থেকেই পুরুষদের যুক্ত করা, যেমন আল্ট্রাসাউন্ডে অংশ নেওয়া, ডাক্তারের কাছে যাওয়া এবং গর্ভাবস্থায় তাদের সঙ্গীর সাথে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখা।

    তিনি আমাদের বলেন, “আমরা জানি যে এই জীববিজ্ঞান সম্ভাব্যভাবে গর্ভাবস্থার সময় থেকেই কার্যকর হতে শুরু করে, যখন একটি পরিবার তাদের শিশুকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেয়।”

    সক্রিয় বাবারা পরিবারের জন্য দারুণ উপকারী।

    পাকিস্তান, কেনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে যে মায়েদের সঙ্গীরা বেশি সক্রিয়, তারা উন্নত মানসিক স্বাস্থ্যের কথা জানিয়েছেন। আর গুরুত্বপূর্ণভাবে, শিশুরা এতে উপকৃত হয়।

    ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত একটি বড় গবেষণা, যা সাত বছর ধরে ২৯২টি পরিবারের ওপর চালানো হয়েছিল, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সন্তান লালনপালনে অধিক মনোযোগী বাবাদের সন্তানদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো ছিল।

    মজার ব্যাপার হলো – মায়েদের ওপর একই ধরনের প্রভাব দেখা যায়নি।

    গেটলার বলেন, “আমি মনে করি শুরু থেকেই শক্তিশালী এবং সুস্থ পরিবার গঠনের ভিত্তি হিসেবে পিতৃত্বের জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে।”

  • স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ ২৫ হাজার  জনবল  নিয়োগের প্রস্তুতি

    স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ ২৫ হাজার জনবল নিয়োগের প্রস্তুতি

    আগামী এক বছরের মধ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতাল ও প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা নিশ্চিতে আগামী তিন বছরের মধ্যে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়া হবে।

    রোববার পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে দেশে ফিরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

    ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, এই বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

    তবে দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।

    তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই সচল থাকবে। তবে সেবার পরিধি আরও বাড়াতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক কাজ করবে।

  • লাল আলুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

    লাল আলুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

    সাধারণ সাদা আলুর পাশাপাশি লাল আলুও আমাদের দেশে সহজলভ্য। সাদা আলুর মতোই এটি রান্না, সিদ্ধ কিংবা বেক করে খাওয়া যায়। তবে লাল আলুর খোসায় সাধারণ আলুর চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এ কারণে খোসাসহ লাল আলু খেলে বেশি উপকারিতা মেলে।

    নিয়মিত লাল আলু খেলে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা মিলবে তা জানানো হয়েছে ‘হেলদি বিল্ডার্জড’ এর এক প্রতিবেদনে।

    শক্তি বৃদ্ধি
    লাল আলু জটিল শর্করার চমৎকার উৎস। এটি কোষকে শক্তি জোগায়।

    মানসিক চাপ কমায়
    আজকাল মানসিক চাপে থাকা একটি সাধারণ ব্যাপার। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ায়। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত লাল আলু খেতে পারেন। কারণ এটি মানসিক চাপ কমানোর জন্য উপকারী বি ভিটামিনের একটি চমৎকার উৎস।

    উচ্চ রক্তচাপ কমায়

    লাল আলু কলার মতোই পটাশিয়ামের একটি অসাধারণ উৎস। নিয়মিত লাল আলু খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
    লাল আলু ভিটামিন সি-এরও একটি চমৎকার উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। আপনি যদি প্রায়ই সর্দি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হন তাহলে নিয়মিত লাল আলু এবং অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

    ওজন কমায়
    আপনার খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে আলু—তা লাল হোক বা অন্য যেকোনো রঙের—অন্তর্ভুক্ত করলে তা অবাঞ্ছিত ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ এগুলো চর্বিহীন এবং ফাইবারে ভরপুর খাবার।

    কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়
    লাল আলুর মতো ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।

  • হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৭

    হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৭

    দেশে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৭টি শিশু।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৮৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৭৭টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮০৭। এই সময়ে ৭৪৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৭৪টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৫ হাজার ৯০২ রোগী, যাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৯৭০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

    শনিবার (২০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ  : প্রধানমন্ত্রী

    শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

    তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

    আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

    তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারাদেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সাথে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি

  • চীনের ল্যাবে আমেরিকার তহবিল  সেখান থেকেই করোনা:গোয়েন্দা তথ্য

    চীনের ল্যাবে আমেরিকার তহবিল সেখান থেকেই করোনা:গোয়েন্দা তথ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসির বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের উৎপত্তির উৎস-সংক্রান্ত ‘ল্যাব-লিক’ (গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া) তত্ত্ব ধামাচাপা দেওয়া এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের বিদায়ী পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড বেশ কিছু নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করে এই দাবি করেছেন।

    ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ডের দাবি অনুযায়ী, করোনাকালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ক্যারিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড. ফাউসি ভাইরাসের গবেষণাগারভিত্তিক উৎস ও মার্কিন অর্থায়নে চীনের উহানে পরিচালিত বিতর্কিত ভাইরোলজি গবেষণার তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।

    তবে ফাউসি এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া শুনানিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।

    প্রকাশিত নথির বরাতে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তর দাবি করেছে, কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার আগে ড. অ্যান্থনি ফাউসির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি) চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর গবেষণা) প্রকল্পের জন্য লাখ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল জুগিয়েছিল।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত ল্যাব-লিক বা গবেষণাগার থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়।

    নতুন প্রকাশিত শত শত ই-মেইল ও নথির ভিত্তিতে তুলসী গ্যাবার্ড অভিযোগ করেছেন, ড. ফাউসি নিজের বিতর্কিত গবেষণাকে আড়াল করতে মহামারি চলাকালে তিনটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, এর মধ্যে রয়েছে:

    ১. তহবিল সচল রাখা: ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক টিকা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ করোনাভাইরাস গবেষণার পথ সুগম করা।

    ২. গোয়েন্দাদের প্রভাবিত করা: নিজের পছন্দের বিজ্ঞানীদের দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বোঝানো যে—করোনার উৎপত্তি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বা প্রাণীবাহিত।

    ৩. তথ্য নিয়ন্ত্রণ: জনসম্মুখে মহামারির প্রধান মুখপাত্র বা ‘পণ্ডিত’ সেজে ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে থাকা বিজ্ঞানীদের কণ্ঠরোধ ও সেন্সর করা।

    ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও সত্য গোপনের শিকার হয়েছে। ফাউসির মতো অনির্বাচিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আমলারা নিজেদের অপকর্ম লুকাতে গোয়েন্দা তথ্য ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করেছেন, কংগ্রেসে মিথ্যা বলেছেন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে বাধা দিয়েছেন।’

    বর্তমানে প্রকাশিত নথিপত্রগুলো ২০২৪ সালে করোনার উৎস নির্ধারণে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস সিলেক্ট সাবকমিটি) শুনানিতে ড. ফাউসির দেওয়া জবানবন্দির সম্পূর্ণ বিরোধী বলে দাবি করছে গোয়েন্দা দপ্তর।

    তৎকালীন শুনানিতে শপথ নিয়ে ফাউসি দাবি করেছিলেন, মহামারি চলাকালে বা তার আগে-পরে ভাইরাসের গবেষণা নিয়ে সিআইএ, এফবিআই বা ডিআইএর মতো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কিন্তু বর্তমান নথিপত্রগুলো প্রমাণ করে যে—ফাউসি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

    তথ্য ফাঁসকারী বা হুইসেলব্লোয়ারদের ওপর প্রতিশোধ

    ডিএনআই গ্যাবার্ডের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা’ নির্দেশনার অধীনে গত এক বছর ধরে মার্কিন গোয়েন্দা দলগুলো এই নথিগুলো নিয়ে কাজ করছিল। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    তাঁরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভেতর যাঁরা প্রাকৃতিক উৎপত্তির বাইরে গিয়ে ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিলেন, তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি তাঁদের পদোন্নতি আটকে দেওয়া বা চাকরিচ্যুত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। গ্যাবার্ড এই প্রতিবেদনগুলো স্বাধীন তদন্তের জন্য গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শকের (আইজি) কাছে পাঠিয়েছেন।

    এর আগে তুলসী গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন, বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে (বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি) যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে অর্থায়ন করেছে। এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাস বা জীবাণুর কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণযোগ্যতা বৃদ্ধির কৃত্রিম গবেষণা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই জটিল গবেষণাগুলো অত্যন্ত নামমাত্র বা সামান্য নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হতো।

    করোনার উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মহলে চরম মেরুকরণ এবং বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ল্যাব-লিক তত্ত্ব ও প্রাকৃতিক উৎপত্তি তত্ত্ব উভয় দিকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আংশিক সমর্থন ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের এই প্রকাশ্য অভিযোগ ও ডিক্লাসিফায়েড নথি প্রকাশ ড. ফাউসি এবং সাবেক স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • সুস্থতার মহৌষধ ভিটামিন ডি

    সুস্থতার মহৌষধ ভিটামিন ডি

    ভিটামিন ডি হলো চর্বিতে দ্রবণীয় একগুচ্ছ সেকোস্টেরয়েড। মানবদেহে এর দুটি প্রধান রূপ কার্যকর। ভিটামিন ডি২ এবং ডি৩ । ডি২ মূলত উদ্ভিদজাত উৎস থেকে আসে। ভিটামিন ডি৩ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির (UVB) প্রভাবে আমাদের ত্বকে সংশ্লেষিত হয় এবং প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়।

    শরীরের অভ্যন্তরে এর রূপান্তর প্রক্রিয়া

    আমরা সূর্য বা খাবার থেকে যে ভিটামিন ডি পাই, তা সরাসরি কাজ করতে পারে না। এটি যকৃতে (Liver) গিয়ে ‘calcidiol’ এবং পরে কিডনিতে গিয়ে ‘calcitriol’ বা সক্রিয় ভিটামিন ডি’তে রূপান্তরিত হয়। এই সক্রিয় রূপটিই শরীরের কোষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।

    মানবদেহে ভিটামিন ডি’র বহুমুখী কাজ

    * হাড় ও কঙ্কালতন্ত্রের সুরক্ষা। ভিটামিন ডি’র প্রধান কাজ হলো অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণে সহায়তা করা। এই উপাদানগুলো ছাড়া হাড়ের খনিজকরণ (Mineralization) সম্ভব নয়।

    • শিশুদের ক্ষেত্রে : অভাব হলে ‘রিকেটস’ হয়, যার ফলে হাড় নরম ও বাঁকা হয়ে যায়।
    • বড়দের ক্ষেত্রে : ‘অস্টিওম্যালাসিয়া’ বা হাড়ের ব্যথা এবং ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

    * রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম। ভিটামিন ডি আমাদের শ্বেত রক্তকণিকাকে (T-cells এবং Macrophages) সক্রিয় করে। এটি অটো-ইমিউন রোগ, যেমন টাইপ ১ ডায়াবেটিস, মাল্টিপল স্কলেরোসিস এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক গবেষণায় কোভিড ১৯-সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

    * পেশির কার্যকারিতা ও ভারসাম্য। পেশির শক্তি বৃদ্ধিতে ভিটামিন ডি সরাসরি কোষের রিসেপ্টরের মাধ্যমে কাজ করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ভাঙার অন্যতম কারণ হলো ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেশির সমন্বয় বাড়িয়ে এই ঝুঁকি কমায়।

    * মানসিক স্বাস্থ্য ও বিষণ্ণতা। মস্তিষ্কের যে অংশগুলো মেজাজ বা ‘মুড’ নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে ভিটামিন ডি রিসেপ্টর থাকে। শীতকালীন বিষণ্ণতা (Seasonal Affective Disorder) এবং সাধারণ ডিপ্রেশন কাটাতে সূর্যের আলোর ভূমিকা অপরিসীম।

    * হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ। এটি রক্তনালির প্রদাহ কমায় এবং রেনিন-অ্যানজিওটেনসিন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

    * দাঁত শক্ত হয়। গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শিশু ও বয়স্কদের দাঁতের ক্ষয়রোধ করে । এটি দাঁতের মিনারেলের উন্নতি ঘটায় এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

    * অত্যধিক ক্লান্তি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে শরীর সারাক্ষণ ক্লান্ত ও দুর্বল মনে হওয়া।

    * মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়াও ভিটামিন ডি’র ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে।

    * ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া। ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে শরীরে কোনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি সময় লাগে।

    ১০. ওজন কমাতে সাহায্য করে । ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, ফলে ওজন কমানো সহজ হয়। এছাড়া এটি কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে, যা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে।

    ভিটামিন ডি’র অভাবের কারণ

    ভিটামিন ডি’র অভাব কেবল ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। নিচে এর প্রধান তিনটি কারণ বিশ্লেষণ করা হলো—

    ক. ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত বিশ্লেষণ

    * অক্ষাংশ (Latitude) : নিরক্ষরেখা থেকে যত উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যের রশ্মি ততটাই তির্যকভাবে পৃথিবীতে পড়ে। ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি (UVB) শোষণ করে নেয় এবং ত্বক পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে না।

    * ঋতু পরিবর্তন : শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয় এবং মানুষ বেশি কাপড় পরে থাকে। এছাড়া মেঘলা আকাশ বা কুয়াশার কারণেও UVB রশ্মি বাধাগ্রস্ত হয়।

    * বায়ুদূষণ : শিল্পোন্নত এলাকা বা ঘনবসতিপূর্ণ শহরে (যেমন ঢাকা বা দিল্লি) বায়ুর কণা এবং ধোঁয়াশা সূর্যের আলোকে ফিল্টার করে দেয়, যার ফলে ত্বকে প্রয়োজনীয় রশ্মি পৌঁছাতে পারে না।

    খ. সামাজিক ও জীবনযাত্রার বিশ্লেষণ

    * গৃহবন্দি জীবন : আধুনিক নগরায়ণে মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় অফিস, বাসা বা শপিং মলে কাটায়। শিশুদের খেলার মাঠের অভাব এবং অনলাইন গেমের আসক্তি তাদের সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত করছে।

    * পোশাক ও সংস্কৃতি : ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে শরীর ঢেকে রাখার পোশাক পরলে ত্বকের সংস্পর্শে আলো আসার সুযোগ কমে যায়।

    * সানস্ক্রিনের ব্যবহার : SPF 30 বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির ক্ষমতা প্রায় ৯৫-৯৮ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

    * খাদ্য নিরাপত্তা ও অভ্যাস : উন্নয়নশীল দেশে পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং উন্নত বিশ্বে প্রসেসড ফুডের আধিক্য—উভয়ই ভিটামিন ডি’র পর্যাপ্ত উৎস থেকে মানুষকে দূরে রাখে।

    গ. জৈবিক ও জিনগত বিশ্লেষণ

    * ত্বকের রঙ : মেলানিন একটি প্রাকৃতিক সানব্লক। যাদের ত্বকের রঙ গাঢ়, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য ফর্সা মানুষের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি সময় রোদে থাকা প্রয়োজন।

    * স্থূলতা (Obesity) : ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয়। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ভিটামিন ডি’কে রক্তের প্রবাহে মিশতে না দিয়ে চর্বিকোষে আটকে রাখে (Sequestration)।

    * বয়স : বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল (7-dehydrocholesterol) নামক উপাদানটি কমে যায়, যা ভিটামিন ডি তৈরির প্রধান কাঁচামাল।* জিনগত মিউটেশন : কারো কারো শরীরে ‘Vitamin D Receptor’ (VDR) জিনে ত্রুটি থাকে, ফলে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা সত্ত্বেও শরীর তা গ্রহণ করতে পারে না।

  • রাতে পায়ে তেল মালিশের   উপকারিতা 

    রাতে পায়ে তেল মালিশের উপকারিতা 

    লাইফস্টাইল

    পা শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের যত্ন নেওয়া হলেও খেুব কম মানুষই পায়ের যত্ন নেন। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভালো রাখতে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে ম্যাসাজ করার কথা ভাবতে পারেন। পায়ে ম্যাসাজ করার জন্য নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হবে। যেমন-

    গভীর এবং আরামদায়ক ঘুম

    অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য পায়ের ম্যাসাজ দারুন সমাধান। পায়ে ম্যাসাজ করলে মনকে শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমায় এবং শরীর ও স্নায়ুগুলিকে শিথিল করে। এই অভ্যাস গভীর, আরামদায়ক ঘুম পেতে সাহায্য করে।

    রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
    দিনের বেলা দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটার ফলে পায়ে সৃষ্ট ক্লান্তি এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা দূর করতে পায়ের ম্যাসাজ সাহায্য করে। নিয়মিত ম্যাসাজ করা পায়ে রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এর ফলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়। সেই সঙ্গে সতেজ লাগে। শীতকালে পায়ে ঠান্ডা লাগা রোধ করতেও এটি সাহায্য করে।

    রক্তচাপ হ্রাস
    যখন আপনি মানসিক চাপে ও ক্লান্ত থাকেন, তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যদি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে ম্যাসাজ করুন — এটি উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ মোকাবেলায় সাহায্য করার মাধ্যমে রক্তচাপ কমাতে পারে।

    মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমায়

    পায়ের ম্যাসাজ করলে আরাম বোধ হয়। এই অভ্যাস মন শান্ত করে, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। একিউপ্রেশার পয়েন্টগুলি উদ্দীপিত হওয়ার ফলে, শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয় যা মেজাজ উন্নত করে। এটি একটি প্রাকৃতিক মানসিক চাপ উপশমকারী হিসেবে কাজ করে।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
    নিয়মিত পায়ে ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে । এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

    শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

    প্রতিদিন পায়ে ম্যাসাজ করলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ উদ্দীপিত হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

    মাংসপেশির ব্যথা এবং টান কমায়
    দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা টাইট জুতা পরার ফলে সৃষ্ট পায়ের ব্যথা, মাংসপেশির টান এবং ফোলাভাব কমাতে পায়ের ম্যাসাজ খুবই উপকারী। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেলের মতো প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত তেল ব্যবহার করলে আরাম হয়। সেই সঙ্গে ব্যথাও কমে।

    কোন তেল ব্যবহার করা যেতে পারে?
    আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত তেলের মধ্যে সরিষার তেল বেশ জনপ্রিয়। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

    অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত নারকেল তেল ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। ত্বক কোমল করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধেও এই তেল বেশ কার্যকর।

    ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম তেল ত্বক কোমল এবং পুষ্ট করতে সাহায্য করে।

    গভীর ঘুম আনতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ল্যাভেন্ডার তেল। এটি অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

    আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে। এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।

    একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।

    গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

    এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

    নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

    এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

    এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।

    ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    সূত্র: বাসস

  • হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১ হাজার ১৭৪

    হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১ হাজার ১৭৪

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬১ জনে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৭৪ জন হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন।

  • শিশুস্বাস্থ্যে সেবায় চালু হচ্ছে ৫ হাসপাতাল

    শিশুস্বাস্থ্যে সেবায় চালু হচ্ছে ৫ হাসপাতাল

    > জাতীয়

    আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

    আমার দেশ অনলাইন

    প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৬: ০৯আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৬: ১২

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।

    এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

    পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন।

    বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

    এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।

    একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।

    গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

    এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

    নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

    এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

    এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।

    ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

  • করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি করে করলা খান। কখনো জুস করে আবার কখনো করলার ভাজি বা তরকারি খেয়ে থাকেন। ডায়াবেটিক রোগী ছাড়াও গরমে আরাম পেতে অনেকেই উচ্ছে বা করলার তরকারি ও ঝোল রাঁধেন। এই সবজি অনেক উপকারী, তবে বেশি করলা হতে পারে বিপদের কারণ। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি করলা খাওয়ার অভ্যাস লিভার ও অন্ত্রের মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    বেশি করলা খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

    রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া
    উচ্ছে বা করলার বড় গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত সুগারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাত্রায় করলা, উচ্ছে বা উচ্ছের রস খান, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। এর ফলে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন।

    লিভার বা যকৃতের ক্ষতি
    উচ্ছে ও করলায় ‘মোমোরচারিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এই উপাদানটি লিভারের এনজাইমগুলোর ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকরা একে লিভার টক্সিসিটি বা যকৃতের ক্ষতি বলে থাকেন। ডায়রিয়া ও পেটের তীব্র সমস্যা
    উচ্ছেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ল্যাক্সেটিভ উপাদান থাকে। তবে অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে পাকস্থলীর কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা, বদহজম, গ্যাসের সমস্যা এবং বারবার পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।গর্ভবতী নারীদের জন্য ক্ষতিকর
    গর্ভবতী নারীদের জন্য উচ্ছে অতিরিক্ত খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উচ্ছের মধ্যে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান জরায়ুকে সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত শুরু হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে গর্ভপাতের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়েটে উচ্ছে রাখার আগে অবশ্যই গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায়

    বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায়

    বর্ষাকাল প্রকৃতির জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য নানা ধরনের ঝুঁকিও নিয়ে আসে। বিশেষ করে নারীরা এ সময়ে সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ত্বকের সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত রোগ, ডেঙ্গু, মশাবাহিত রোগ এবং পুষ্টিজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হতে পারে। তাই বর্ষাকালে নারীদের প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যচর্চা।সকাল : দিনের শুরু হোক স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে

    ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এক থেকে দুই গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে।

    সকালের নাশতায় পুষ্টিকর খাবার, যেমন ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার রাখা জরুরি। বর্ষাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন আমলকী, পেয়ারা, মাল্টা ও লেবু উপকারী। বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, কারণ এসব স্থানে মশার বংশবিস্তার ঘটে।

    কর্মস্থল বা বাইরে যাওয়ার সময়

    বৃষ্টি হলে ভেজা কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা উচিত নয়। ভেজা পোশাক দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। সম্ভব হলে অতিরিক্ত কাপড়, ওড়না বা স্কার্ফ সঙ্গে রাখা ভালো। পা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি ও দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই বাইরে থেকে ফিরে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকনো রাখতে হবে।

    বাইরের খোলা খাবার, কাটা ফল, অপরিষ্কার শরবত বা দূষিত পানি এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ বর্ষাকালে খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

    দুপুর : খাদ্য ও বিশ্রামে সচেতনতা

    দুপুরের খাবারে ভাত, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও সালাদের সমন্বয় থাকা উচিত। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে হজমজনিত সমস্যা কম হয়। খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। এটি ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

    বিকাল : শরীরচর্চা ও মানসিক সুস্থতা

    অনেকে বর্ষাকালে ঘরে বেশি সময় কাটান, ফলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক ও জীবাণুর বৃদ্ধি বেশি হয়, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক সুস্থতার জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির বা সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণ উপকারী।

    সন্ধ্যা : পরিচ্ছন্নতার বিশেষ যত্ন

    বাইরে থেকে ফিরে হাত, মুখ ও পা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজন হলে গোসল করা উত্তম।

    বর্ষাকালে নারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ত্বক ও পায়ের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। সামান্য ক্ষত বা সংক্রমণও অবহেলা করা যাবে না।

    রাত : সুস্থ ঘুম ও রোগ প্রতিরোধ

    রাতের খাবার হালকা ও সহজপাচ্য হওয়া উচিত। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা ভালো। ঘুমানোর আগে মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

    বর্ষাকালে নারীদের সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি

    ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)

    কম পানি পান, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরা এবং অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

    ছত্রাকজনিত সংক্রমণ

    শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থান, পায়ের আঙুলের ফাঁক ও গোপনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। শরীর শুকনো রাখলে ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে।

    ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ

    জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ত্বকের সমস্যা

    অ্যালার্জি, ঘামাচি, চুলকানি ও বিভিন্ন ত্বকসংক্রান্ত সংক্রমণ বর্ষায় বেশি দেখা যায়। পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পোশাক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করাই উত্তম।

    পরিশেষে বলা যায়, বর্ষাকালে নারীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, বিশুদ্ধ পানি পান, মশা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক প্রশান্তি। দিনের প্রতিটি সময় সচেতনভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বর্ষার সাধারণ রোগব্যাধি থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • তিন মাসে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত এক লাখ ছাড়ালো

    তিন মাসে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত এক লাখ ছাড়ালো

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৯ জন এবং নিশ্চিত হামে শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জনের। তাতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী পাওয়া গেল এক হাজার ১৪৮ জন।

    এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে অর্থাৎ ৯৬ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৭৭ জনে এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৬৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। বাকী ৫৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৮৯ হাজার ৯০৪ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১০ হাজার ৭৭৩ জন। আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ হাজার ১৮৪ জন। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুই জন সিলেট বিভাগের, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে রোগী পাওয়া গেছে ৪২৭ জন। এর মধ্যে ৮৪ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ২৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৭ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ২৪০ জনের। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ মোট ৮৯ জন, সিলেটে তিনজনসহ ৭৫ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৫৮ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৫৭ জন, ময়মনসিংহে দুইজনসহ ৫৫ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • গবেষণা;এইচপিভি টিকার নতুন চমক

    গবেষণা;এইচপিভি টিকার নতুন চমক

    হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকা ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সে নেওয়া মেয়েদের ৩০ বছরের আগে জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। নতুন এক যুগান্তকারী গবেষণায় এমন তথ্য জানা গেছে।

    গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের জন্য এইচপিভি টিকা কর্মসূচি চালুর পর থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গবেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত এই টিকার কারণে অন্তত ২০০ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারে কোনো মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি। পাঁচ বছরের কোনো সময়ে এই বয়সী নারীদের মধ্যে মৃত্যুশূন্যতার এমন ঘটনা এই প্রথম। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, টিকা কর্মসূচি না থাকলে একই সময়ে প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল।

    বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার ১৪তম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যান্সার। প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন এই রোগে আক্রান্ত হন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনিষ্ঠ ত্বক-সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ানো এইচপিভি ভাইরাসই প্রায় ৯৯ শতাংশ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে বহু বছর পর ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

    গবেষণার অর্থায়নকারী ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে এই ফলাফলকে অবিশ্বাস্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ইংল্যান্ডে এখনো টিকাদানের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

    সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেন, আমরা জানতাম এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এবার প্রথমবারের মতো প্রমাণ মিলল যে এটি সরাসরি মানুষের জীবনও বাঁচাচ্ছে।

    গবেষকদের মতে, বর্তমানে যে মৃত্যুহার কমেছে তা কেবল শুরু। টিকা পাওয়া প্রজন্ম বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বহু মানুষের জীবন রক্ষা পাবে। যুক্তরাজ্য সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে কার্যত নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

    তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশ মেয়েকে টিকা দিতে হবে। অথচ ২০২৪-২৫ সালে ইংল্যান্ডে এই হার ছিল ৭৬ শতাংশ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব তরুণ-তরুণী এখনো টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়া উচিত। বর্তমানে ইংল্যান্ডে ছেলেদেরও এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। এটি পায়ুপথ, লিঙ্গ, গলা ও মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং ভাইরাসের সংক্রমণও হ্রাস করে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং চালিয়ে যাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।ক সূত্র : বিবিসি

  • জীবনরক্ষাকারী টিকা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা

    জীবনরক্ষাকারী টিকা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা

    হামের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা আজ একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ক্লিনিকসমূহ মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সূর্যের হাসির স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে হাজারো শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হচ্ছে, যা রোগ প্রতিরোধ, শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    প্রতি বছর সরকারের নিয়মিত এক্সপান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন (ইপিআই) কর্মসূচির সমর্থনে ও নিজস্ব কর্মসূচির অধীনে সূর্যের হাসি লাখ লাখ শিশুকে বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী টিকা প্রদান করে থাকে। এসব টিকার মধ্যে রয়েছে যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টঙ্কার, হেপাটাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, পোলিও, হাম, রুবেলা, ডায়রিয়া, চিকেনপক্স এবং কলেরার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকা।

    এই কার্যক্রম শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং রোগ ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা সূর্যের হাসি গত পাঁচ বছরেই শুধুমাত্র রেকর্ড অনুযায়ী প্রায় ৫০ লক্ষ টিকা প্রদান করেছে। তবে টিকাদান ক্যাম্পেইনের সময় অতিরিক্ত কর্মচাপ ও সীমিত সময়ের কারণে মাঠপর্যায়ে প্রদত্ত সব টিকার হিসাব নথিভুক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে বাস্তবে প্রদত্ত টিকার সংখ্যা রেকর্ডকৃত সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়াও কিশোরী ও মায়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার, ধনুষ্টঙ্কার ও হেপাটাইটিস-এর মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকাও প্রদান করে সূর্যের হাসি।

    ইউএসএইড-এর অর্থায়নে যাত্রা শুরু করা সূর্যের হাসি ক্লিনিকসমূহ গত ২৯ বছর ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহর ও মফস্বল পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লাখো মানুষের আস্থার ঠিকানা হয়ে আছে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য গর্ভকালীন সেবা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ, নিরাপদ প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী মা ও নবজাতকের সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

    একটি সুস্থ মায়ের হাসি, একটি নিরাপদ নবজাতকের কান্না এবং একটি পরিবারের স্বস্তির পেছনে সূর্যের হাসির রয়েছে অনন্য ভূমিকা। নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ ও মা-শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে দীর্ঘদিনের এই অবদান দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে সূর্যের হাসি জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। অনুদানবিহীন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে চলেছে।

    বর্তমান হাম পরিস্থিতিতে সকল অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন তাদের শিশুদের বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করেন। নিকটস্থ সূর্যের হাসি ক্লিনিক, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা অন্যান্য অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের হামসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। সময়মতো টিকাদান একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম কার্যকর উপায়।

  • হাম উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৬৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮৮ হাজার ৮৯৫ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৩৪ জন।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হাম রোগে এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৩ জন।

  • মুখে ঘা কেন হয়?

    মুখে ঘা কেন হয়?

    মুখে ঘা কেন হয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    মুখে ঘা বা আলসারের সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। দেখতে ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও এটি দৈনন্দিন জীবনে বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একবার মুখে ঘা হলে কথা বলা, খাবার খাওয়া এমনকি প্রিয় ঝাল খাবার উপভোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত আরাম পেতে নানা ধরনের ঘরোয়া ও চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন ভুক্তভোগীরা।

    সাধারণত মুখের ঘা এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। এ কারণে অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবহেলা কখনো কখনো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

    ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনিকেত মুলে জানিয়েছেন, মুখের ঘা সব সময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর কোনো রোগ বা স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইঙ্গিত বহন করে। তাই ঘন ঘন মুখে ঘা হওয়া বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    মুখে ঘা হওয়ার কারণ: মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মুখে এ ধরনের ঘা হয়ে থাকে। আবার খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গালে বা জিভে কামড় লাগা, অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং শরীরে ভিটামিন বা পুষ্টির কিছুটা অভাব থাকলেও এ ধরনের ঘা হয়ে থাকে।

    কোন কোন রোগের কারণে এমন হতে পারে: মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য অনেক সময় শরীরের ভেতরের বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। যেমন, বারবার মুখে ঘা হওয়া শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউন ডিজঅর্ডার) সমস্যা থাকলে, মেটাবলিক কন্ডিশন বা অন্য কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্রনিক রোগের সংকেত হিসেবেও মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।

    কখন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হবেন: এ ব্যাপারে চিকিৎসক অনিকেত জানিয়েছেন- মুখের ঘা যদি দু-এক সপ্তাহের মধ্যে মিলিয়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু ঠিক না হয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। যেমন- মুখের ঘা যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং তা যদি না কমে। আবার ঘা যদি বারবার হতে থাকে বা আকারে বেশ বড় হতে থাকে। ঘা থেকে রক্ত বের হতে থাকলে। এছাড়া ঘা হওয়ার পর যদি ক্রমশ মুখে ব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।সঠিক চিকিৎসা: অনেকেই মুখে ঘা হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিকটস্থ কোনো ফার্মেসি বা দোকান থেকে জেল বা ঘরোয়া টোটকা পালন করেন। এসবে সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তি মিললেও পরিপূর্ণ সুস্থতা পাওয়া যায় না। ফলে পরবর্তীতে সমস্যা জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘার স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ঘা ঠিক হওয়ার পরিবর্তে যদি বাড়তে থাকে বা জটিলতা দেখা দিতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • গরমে মাথাব্যথা বাড়ছে কেন?

    গরমে মাথাব্যথা বাড়ছে কেন?

    গরমের সময়ে মাথাব্যথা অনেকের জন্যই নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়। আবহাওয়ার অস্থিরতা—কখনো তীব্র রোদ, আবার কখনো প্রবল বৃষ্টি—এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কারও রোদে বেরোলেই মাথাব্যথা শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে বৃষ্টিতে ভেজার পর একই উপসর্গ দেখা দেয়। ব্যথা কখনো মাথার এক পাশে, কখনো মাঝখানে, আবার কখনো একদিক থেকে অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকেই বুঝতে পারেন না, এ ব্যথার কারণ সাইনাস নাকি মাইগ্রেন।

    গরমকালে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাইনাসের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম ও রোদের প্রভাব মাইগ্রেনের আক্রমণও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

    চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় মাথাব্যথার পেছনে ডিহাইড্রেশনও একটি বড় কারণ হতে পারে। তবে সাইনাস বা মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। সাইনাসের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকে জ্বালাপোড়া, এমনকি কখনো নাক থেকে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া দাঁত, চোখ ও চোয়ালের হাড়েও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, ত্বকে চুলকানি বা সংক্রমণও দেখা দেয়। কিছু রোগীর জ্বরও হতে পারে।অন্যদিকে মাইগ্রেনের ব্যথার ধরন ভিন্ন। সাধারণত মাথার এক পাশেই তীব্র ও ধকধকে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। শুধু মাথা নয়, ঘাড় ও মাথার পেছনের অংশেও অস্বস্তি বা যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব থাকতে পারে এবং আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়। অনেক সময় চোখ খুলে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। কারও ক্ষেত্রে চা-কফি, আবার কারও ক্ষেত্রে ধূমপান বা মদ্যপান মাইগ্রেনের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • জেনে নিন লটকনের উপকারিতা

    জেনে নিন লটকনের উপকারিতা

    বাজারে অন্যান্য সাথে এখন মিলছে লটকনও। টক মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি অনেকেই খেতে পছন্দ করেন। অনেকের কাছে আবার এর স্বাদ বেশি পছন্দের না। তবে রসালো এই ফলটি খেলে অনেক ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। যেমন-

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    লটকনের অন্যতম প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি আপনাকে সাধারণ সর্দি-কাশি এবং ফ্লু-এর মতো সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

    ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর করে তোলে
    ভিটামিন সি শুধুমাত্র রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও তরুণ দেখাতেও সাহায্য করে। এর কারণ হলো, এই পুষ্টি উপাদানটি ক্ষত নিরাময়ে এবং কোলাজেন সংশ্লেষণে সাহায্য করে। কোলাজেন এমন এক ধরনের প্রোটিন যা আপনার ত্বকে বলিরেখা পড়া কমাতে সাহায্য করে।

    মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখে

    লটকনে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি মাড়ির চমৎকার স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। সুন্দর হাসির জন্য দাঁত ও মাড়ির ভালো যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করে
    আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা হলো রক্ত সম্পর্কিত একটি সমস্যা। লোহিত রক্তকণিকা কমে গেলে রক্ত শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়,তখন শরীর দুর্বল লাগে। লটকনে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আপনার খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করলে তা আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ কমায়
    উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে এই চমৎকার ফলগুলো কলার মতোই কার্যকর। কারণ এতে পটাশিয়াম থাকে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

    অস্টিওপোরোসিস দূর করতে সাহায্য করে

    লটকন শরীরে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। এই পুষ্টি উপাদানটি হাড়কে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এটা সবারই জানা। খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না থাকলে, হাড় দুর্বল হয়ে পড়া এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। নিয়মিত লটকন এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    হজমশক্তি উন্নত করে
    নিয়মিত লটকন খেলে তা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সাহায্য করে — এর কারণ হলো এতে থাকা ফাইবার পাচক রসের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। এর ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে যায়।

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান;উপ-পরিচালক প্রত্যাহার

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান;উপ-পরিচালক প্রত্যাহার

    নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা, নোংরা পরিবেশ এবং চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের পুরুষ, নারী, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন।

    পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ভেতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নোংরা টয়লেট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও তার নজরে আসে।

    এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনস্থল থেকেই তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করে এ নির্দেশ দেন।রে তিনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামানের সঙ্গেও কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।

    সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কাউকে পদে রাখা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এ সময় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • যে কারনে হামের অপ্রতিরোধ্য ভয়াবহতা

    যে কারনে হামের অপ্রতিরোধ্য ভয়াবহতা

    দেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিদিনই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। খবর বিবিসি বাংলার।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাম ও এই রোগের উপসর্গে সংক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২ শিশু। দীর্ঘ সময় পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং এত বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যুর জন্য অব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বেনজির আহমেদ এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সরকারের ‘মিস ম্যানেজমেন্ট’ বা অব্যবস্থাপনার কারণেই এত বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে ‘মহামারি’ ঘোষণা না করা এবং দেশজুড়ে ‘স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ জারি না করাটা সরকারের একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

    জরুরি অবস্থা জারি না করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডা. বেনজির আহমেদ জানান, মহামারি ঘোষণা করলে এটিকে নিজেদের ব্যর্থতা বা দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা হবে- এমন একটি অমূলক রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সরকার এই সিদ্ধান্ত এড়াতে পারে। অথচ শুরুতেই যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো যেত এবং ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে একসঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করা হতো, তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম হতো।

    বাংলাদেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম পুনরায় ফিরে আসার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুমুল বিতর্ক চলছে। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই সংক্রমণের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, প্রতি চার বছর পর পর ‘এমআর টিকা’ ক্যাম্পেইন করার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর পূর্ববর্তী সরকারগুলো তা করেনি, যার প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আগের দুই সরকারের দায় কতটুকু, তা জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) একটি স্বাধীন তদন্ত করার অনানুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের পেছনে আগের সরকারের ভূমিকা থাকলেও গত তিন মাসে এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পূর্ণ দায় বর্তমান সরকারের।

    সরেজমিনে ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলো রোগী দিয়ে প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর চাপ গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

    চিকিৎসকদের মতে, ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীরা মূলত নিউমোনিয়ার মতো বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা (কমপ্লিকেশন) নিয়ে দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণে তাদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের পরিবারগুলো চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিনমজুর আব্দুল গণির মতো অনেক অভিভাবক ধার-দেনা করে সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছেন, আবার অনেকের প্রথম সন্তান হামে মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় সন্তানও একই লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে লড়ছে।

    বিশেষজ্ঞদের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিন পর এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয় এবং সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা হাজার হাজার না হয়ে তুলনামূলক কম রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের চেষ্টার কমতি নেই বলেও তিনি জানান।

    বর্তমানে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। তবে দুই মাস আগে এই কর্মসূচি শুরু হলেও এখনো শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আবার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করায় সামনের দিনগুলোতে হাম পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার আরও বেশকিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগি প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, রোগির চাপ আরও অনেক বেশি ছিল। গত সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

  • হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এনিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৫৭। মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৬৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩৬ জন। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৫২৩ জন। অন্যদিকে, মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮৭ হাজার ৯২৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

  • টেকনাফে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মশালা

    টেকনাফে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মশালা

    টেকনাফে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর যৌথ উদ্যোগে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি আজ সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ টেকনাফ উপজেলা কৃষি বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার সাজিয়া নাসরিনের সার্বিক সহযোগিতায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউণ্ডেশন টেকনাফ উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো: আশরাফ উল্লাহ, বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল হামিদ, রেডিও নাফ ৯৯.২ এফএম এর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন।

    এতে ধর্মীয় নের্তৃবৃন্দ ও স্থানীয় কমিউনিটির ২৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। কর্মশালায় টেকনাফের শিশু শিক্ষা, বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রম, শিশু স্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি নিরাপত্তা, শিশুর অপুষ্টিজনিত কারনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত সহ আরও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকলের উপস্থিতিতে একটি কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

    এ এম

  • মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

    মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

    রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘোরার বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    সোমবার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কতৃপক্ষ আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে হাসপাতালে নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, এ কথা সত্য নয়, আমরা কেন টাকা নিয়ে ঘুরবো। আমাদের টাকা নিয়ে ঘুরার কোনো প্রশ্নই উঠে না। তার পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরেছি এটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় টাকার প্রতি কোনো লোভ হয় নাই আমার। আমাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, পূর্ণ সমর্থন দেবো। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।

    হাইকোর্টে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এক আইনজীবীর করা রিটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবে জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।

    শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঠিক কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও সুস্পষ্ট করা হয়নি কী কারণে মারা গেছে। যেসব শিশু মারা গেছে তাদের ময়নাতদন্তও হয়নি।

    শেখ মহিউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে তা সংস্কার শুরু হয়েছে। হাসপাতালের জন্য অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনো অক্সাইড যন্ত্র কেনা হয়েছে। আমরা বের করার চেষ্টা করছি যে। শিশু ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে, সেটিও ঠিক করতে চাবি চাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এক সপ্তাহেই সংস্কার করা যাবে।

  • ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাম ও এই রোগের উপসর্গে সংক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২ শিশু। এত মৃত্যুর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘সরকারের মিস ম্যানেজমেন্টের জন্যই এত মৃত্যু হয়েছে। যদি ম্যানেজমেন্টটা ভালো করা যেত, তাহলে এত মৃত্যু হতো না।’

    তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা করে সারা দেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি না করাটা সরকারের একটা ‘বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’।

    তবে অব্যবস্থাপনার কারণে হামে মৃত্যু বেড়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে হামে তুলনামূলক কম শিশু মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিন পরেই হামের এটা শুরু হলো। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতো।’

    হাসপাতালের পরিস্থিতি এখন কেমন?

    সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন সালমা বেগম ও আব্দুল গণি দম্পতি। তার পরও বাঁচাতে পারেননি প্রথম সন্তান ইব্রাহীমকে। সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে তিন সপ্তাহ আগে মারা গেছে আড়াই বছর বয়সি শিশুটি।

    শিশুর মা সালমা বেগম বলেন, ‘শুরুতে ওর জ্বর আর ঠান্ডা ছিল। পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমরা প্রথমে একটা ক্লিনিকে নিলাম। শ্বাসকষ্ট না কমায় পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার পরও আমার বড় ছেলেটারে বাঁচাতে পারলাম না।’

    সেই শোক না কাটতেই আরেক ছেলের শরীরেও দেখা দিয়েছে হামের লক্ষণ। তীব্র জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা আট মাসের ওই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে রাত-দিন এক করে এখন ঢাকার শেরেবাংলা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে পড়ে আছেন এই বাবা-মা।

    সালমা বেগম বলেন, ‘বড় বাচ্চাটা কিছুদিন আগে মারা গেছে, আর ঈদের পর এই বাচ্চাটারও গায়ে হাম, ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট—এগুলা শুরু হইছে। এখন এক সপ্তাহের মতো হইলো আমরা এই হাসপাতালে ভর্তি করছি।’শিশুটির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। ধার-দেনা করে তিনি ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন বলে জানা

    ন তিনি।

    শিশুর বাবা আব্দুল গণি বলেন, ‘কাছে টাকা-পয়সা যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করতেছি। কত দিন পারব, কইতে পারি না। দোয়া কইরেন, আল্লাহ যেন সুস্থ করে দেয় আমার ছেলেটারে।’

    হাসপাতালে তাদের বিছানার সামনেই আরেকটি বিছানায় মেয়ের সঙ্গে খেলছিলেন সাইমা খান। ফরিদপুর থেকে আসা এই মা জানাচ্ছিলেন গত এক সপ্তাহে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব। সে কারণে হাসপাতালে আনার পরেই ওরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশপাশের বেডে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, লাইফ সাপোর্টে নিচ্ছে। এগুলো দেখে আমার মনে অনেক ভয় কাজ করতেছিল। একপর্যায়ে এটাও মনে হচ্ছিল না যে, ও সুস্থ হবে।’

    কিন্তু তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখার পর সাইমা খানের মেয়ের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়।

    আমার বাচ্চাটা এখন আল্লার রহমতে ভালোই খাচ্ছে-দাচ্ছে, হাসতেছে-খেলতেছে। মা হিসেবে এই দৃশ্য দেখাটা যে কত শান্তির, বলে বোঝাতে পারবে না’, বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাইমা খান।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার আরো বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগী প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।

    রোগীর চাপ আরো অনেক বেশি ছিল। গত সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।

    সরকারের দায় কতটা?

    চলতি বছরের মার্চে প্রাদুর্ভাব ঘটার পর গত তিন মাসে হামে ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে পৌনে এক লাখে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা গেছে প্রায় ৩৬ জনের মতো, যাদের বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    যথা সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ইসলাম বলেন,‘ঢাকার বাইরে থেকে কিছু কিছু মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আসতেছে। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছে, এখন কমপ্লিকেশন ডেভেলপ (জটিলতা তৈরি) করেছে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া। এ জন্য আতঙ্ক ও শঙ্কা থেকে ভালো চিকিৎসার জন্য অনেকেই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় আসতেছে। কিছু কিছু রোগি এর মধ্য থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মারা যাচ্ছে।’

    বাংলাদেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম পুনরায় কীভাবে ফিরে এলো এবং এর জন্য দায়ী কারা, সেটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও বিতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে।

    বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলমান হাম পরিস্থিতির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ এবং অর্ন্তবর্তী সরকার দায়ী।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই হাম সংক্রমণের পেছনে বিগত দুই সরকার দায়ী। প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইনিং করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০-এর ডিসেম্বরের পরে তারা সেটি করেনি। এর প্রভাব আমাদের ওপরে এসে পড়েছে।’

    হামের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আগের দুই সরকারের মধ্যে কে কতটুকু দায়ী, সেবিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    সেই সঙ্গে, হাম পরিস্থিতি কীভাবে এবং কেন এমন পর্যায়ে এলো, তা জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে।

    কিন্তু প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে ভূমিকা না থাকলেও হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাসেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা এবং এর ফলে যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য বর্তমান সরকারের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষ করে, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা জারি না করা এবং জেলা পর্যায়ে হামের ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এটা মহামারি ঘোষণা করে দেওয়া বা একটা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। সেটা করলে সর্বাত্মক একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেত সবগুলো ফ্রন্ট থেকে। আর সবগুলো ফ্রন্ট থেকে যদি হামের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করা যেত, তাহলে হাম এত দীর্ঘায়িত হতো না।’

    প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হামকে মহামারি ঘোষণা করে সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করলে এত বিপুলসংখ্যক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হতো না বলেও মনে করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে সরকার যদি হামকে মহামারি ঘোষণা করতো এবং মিস ম্যানেজমেন্টের বদলে আরো বেশি ফোকাসড ম্যানেজমেন্ট করতে পারতো, আইসিইউ ফ্যাসিলিটিস বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ানো যেত এবং ডাক্তার ও নার্সদের এ বিষয়ে ট্রেনিং দিতে পারতো, তাহলে হাম এত বেশি ছড়াতো না, মৃত্যুও কম হতো।’

    সরকার কী বলছে?

    বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি অস্বীকার করেছে সরকার।

    কর্মকর্তারা উল্টো দাবি করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পরপরও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    ‘কিন্তু এত শিশু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার পরও সরকার কেন হামকে মহামারি ঘোষণা করল না কিংবা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা কেন হলো না?’ প্রশ্ন তোলেন ডা. আহমেদ।

    বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের চেষ্টার কমতি নেই।

    তবে বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘এটা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করলে সরকারের দিক থেকে সত্যিকার অর্থে কোনো ক্ষতি ছিল না। এটা একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বা অবস্থান।’

    বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সে অবস্থানটা এরকম যে, আমাদের সময় একটা হেলথ ইমার্জেন্সি বা একটা মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে, এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। কেননা এখন পর্যন্ত কেউই বলছে না যে, এই মহামারিটা হওয়ার দায় এই সরকারের। বলতেছে, এটা পূর্বাতন সরকারের।’

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘কাজেই মহামারি যদি ঘোষণা করা হতো, কিন্তু দায় তাদের হতো না- এটা ধরেই নেওয়া যায়। বরং মহামারি ঘোষণা করার পরে যদি এই অল আউট ইফোর্টস গুলো নিতো, তড়িৎ ব্যবস্থা নিতো এবং খুব দ্রুত মহামারিটাকে থামিয়ে আনতো, মৃত্যু হতে দিতো না এত, তাহলে কিন্তু বরঞ্চ সরকার প্রশংসা পেত এবং তাদের এটা ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতো।

    কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলার মাধ্যমে হাম পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য দুই মাস আগে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখনও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

    এর মধ্যে আবার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে হাম পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের জন্য সামনের দিনগুলোতে কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা