স্বাস্থ্য

  • এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবে, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবে, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মানুষের ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই নিয়োগ পাবেন নারী। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তা থেকেই এই বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠান থেকে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের মোট ১০টি জেলায় একযোগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন করা হয়।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে বেশ কিছু মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এখন থেকে ঘরে ঘরে আধুনিক মেশিন নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে শুধুমাত্র নারীদের চিকিৎসার জন্য ১৫০০ বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এই হাসপাতাল দুটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস, ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ইউরিনারি ক্যান্সার, পঙ্গুত্ব এবং উন্নত ডেলিভারি ইউনিট থাকবে।”তিনি আরও জানান, সারা দেশে ১০০০ বেডের আরও ২০টি নতুন হাসপাতাল তৈরি করা হবে। জরুরি রোগীদের দ্রুত সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য এসব হাসপাতালে ৫টি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স এবং ৪টি হেলিকপ্টার নিয়োজিত থাকবে।

    বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি বিপর্যস্ত রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করি। বিগত স্বৈরাচার এবং অদক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের টিকা কার্যক্রমের পর্যাপ্ত স্টক রেখে যায়নি। ভিটামিন ট্যাবলেট ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট ছিল। তবে আমাদের নেতা ও পথপ্রদর্শক তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে আমরা ভয়ের পরিবর্তে সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য ওষুধ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।”বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেটে আমাদের নেতা তারেক রহমান শুধু টাকার হিসাব না দিয়ে কীভাবে দেশটাকে উন্নত করা যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া যায়—সেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯,৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • রাত জাগালে কমতে পারে স্মরণশক্তি

    রাত জাগালে কমতে পারে স্মরণশক্তি

    বর্তমান সময়ে অনেকেই কাজের চাপ, অভ্যাস কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে রাত জেগে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস যে ধীরে ধীরে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।

    বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রাত জাগা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব স্মৃতিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে এটি ডিমেনশিয়া বা পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।


    বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে কাজ করেন, বিশেষ করে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত কাজের অভ্যাস রয়েছে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যায়। চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে।

    অনেক ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। এক গবেষণায় প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, অনিয়মিত ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


    মানবদেহের প্রতিটি কোষ একটি নির্দিষ্ট জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। এই জৈব ঘড়ি আমাদের ঘুম, হজম, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু যখন কেউ নিয়মিত রাত জেগে থাকে, তখন এই স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায়। ফলে শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।


    দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে তা শুধু স্মৃতিশক্তির ওপরই নয়; বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তি সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনোযোগ কমে যায় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। মধ্যবয়সেই স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা পরে গুরুতর স্নায়বিক রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।


    তাই সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। রাত জাগার প্রবণতা কমিয়ে এনে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ বজায় রাখা গেলে স্মৃতিশক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।


    বি/ এ

  • মাংসপেশিতে ব্যথা: কারণ ও করণীয়

    মাংসপেশিতে ব্যথা: কারণ ও করণীয়

    মাংসপেশির ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। যেকোনো বয়সের মানুষ এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন। অনেক সময় ব্যথা সাময়িক হলেও কখনও কখনও তা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করার মতো তীব্র হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হাত-পা, ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের পেশিতে ব্যথা হলে স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
    সাধারণত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ভারী জিনিস বহন, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা কিংবা কোনো ধরনের আঘাতের কারণে মাংসপেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াও এ সমস্যা হতে পারে। মাংসপেশির ব্যথার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

    মানসিক চাপ
    অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ওপর যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি পেশির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পেশিকে টানটান ও ক্লান্ত করে তোলে। ফলে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা অন্যান্য স্থানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের মধ্যে পেশি ব্যথার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

    পানিশূন্যতা
    শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মাংসপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, অবসাদ এবং মনোযোগের ঘাটতিও হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা শরীর ও পেশির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পুষ্টির ঘাটতি
    শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে ভিটামিন ডি পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস। এছাড়া তৈলাক্ত মাছ, দুধ, ডিমের কুসুম, মাশরুম ও কিছু দুগ্ধজাত খাদ্য থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

    ঘুমের অভাব
    পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ক্ষয়পূরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম সাধারণত প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরে ক্লান্তি বাড়ে, মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং পেশিতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
    যদি মাংসপেশির ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তীব্র আকার ধারণ করে, কোনো কারণ ছাড়াই বারবার ফিরে আসে অথবা এর সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা বা পেশি ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
    মাংসপেশির ব্যথা প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন জীবনযাপনই এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করে।
    লেখক: মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ

  • প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার উপায়

    প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার উপায়

    লাইফস্টাইল

    শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন।

    প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

    রসুন খান
    রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন।

    বিষাক্ত খাবার বাদ দিন
    আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

    লেবু যোগ করুন
    শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

    পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান

    আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন। ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ
    লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স

  • ফ্রিজ ছাড়াই আম সংরক্ষণের উপায়

    ফ্রিজ ছাড়াই আম সংরক্ষণের উপায়

    লাইফস্টাইল

    বাজারে এখন নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা হাতের নাগালে হওয়ায় অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা আম কিনে রাখছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে সংরক্ষণে। ফ্রিজে অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি সব আম রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আবার প্রচণ্ড গরমে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আম বাইরে ফেলে রাখলেও দ্রুত মজে যাওয়া বা পচে যাওয়ার ভয় থাকে। এ সমস্যা সমাধানে আম সংরক্ষণের উপায় জানানো হয়েছে ‘আনন্দবাজারের’এক প্রতিদেনে। এতে বলা হয়েছে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই আম কিছু দিন ভালো রাখা সম্ভব। যেমন-

    ১. বাজার থেকে আনার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা একটি বালতি বা গামলায় ঠান্ডা পানি দিয়ে তাতে আমগুলো ডুবিয়ে রাখুন। এতে আমের ভিতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে যায়। এর ফলে দ্রুত পাকতে শুরু করে না। এরপর পানি থেকে তুলে প্রতিটি আম শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে।

    ২. আমের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বাইরের অতিরিক্ত গরম হাওয়া থেকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি আম যে কোনও সাধারণ কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। এর পর পিচবোর্ডের বাক্সে বা ঝুড়িতে সেগুলো পাশাপাশি সাজিয়ে রাখুন। এতে আম সহজে মজে যাবে না বা কালো দাগও ধরবে না।

    ৩. প্লাস্টিকের ব্যাগে কখনই আম রাখা ঠিক নয়। বাক্স না থাকলে মেঝেতে চট বা খবরের কাগজ বিছিয়ে তার উপর আমগুলো ছড়িয়ে রাখতে পারেন।

    ৪. আম সংরক্ষণের জন্য ঘরের এমন একটি কোণ বেছে নিন যেখানে সরাসরি রোদ বা তাপ আসে না, কিন্তু বাতাস চলাচল করে।

    ৫. আম সাজিয়ে রাখার সময় গাদাগাদি করে রাখা যাবে না। একটু দুরত্ব রেখে আরেকটি আম রাখুন।

    ৬. প্রতিদিন এক বার করে আমগুলি পরীক্ষা করুন। কোনও আমে কালো দাগ দেখলে বা নরম হতে শুরু করেছে বলে বুঝতে পারলে, সেগুলি বাকি আম থেকে সরিয়ে ফেলুন।

  • হাম ও হামের উপসর্গে ৩ মাসে ৬৪৮ জনের মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে ৩ মাসে ৬৪৮ জনের মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ জনে।

    শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ৬৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৬৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯২ শিশু। একই সময়ে হাম সন্দেহে মারা গেছে আরও ৫৫৬ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ জনে।

    একই সময়ে দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২৪৮। আর সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৮৯৯।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চের পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯ হাজার ৬০৬ জন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ৮৫২ জন।

  • আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে

    আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে

    আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির ।

    শুক্রবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিল আদেশের কপি সংযুক্ত করে তিনি এ দাবি করেন ।

    তিনি দাবি করেন, গত ৪ জুন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে হাসপাতালটির লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059 উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

    শিশির মনিরের দাবি, উক্ত লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়, এটা প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বরটি হলো HSM 4310058। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য সরকার দুটি লাইসেন্স জারি করেছে। যার মধ্যে একটি হাসপাতাল, অন্যটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির জন্য।

    ফেসবুক পোস্টে হাসপাতাল ও প্যাথলজির লাইসেন্স সংযুক্ত করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ (সরকার) কোনটার লাইসেন্স বাতিল করল। সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। এটা তাদের অবহেলা না কি ইচ্ছাকৃত? অবহেলা হলে কেমন ধরনের অবহেলা? বিচারের ভার আপনাদের ওপর রইল।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, আমরা আদেশে স্পষ্টতই উল্লেখ করে দিয়েছি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। আমরা আগামীকাল গিয়ে দেখবো। আর আদেশে সংশোধন করার প্রয়োজন হলে সেটাও পরে করা হবে।

    এর আগে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হাসপাতালটিকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন। তাই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাতিলের আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল হাবে না এ মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিশের জবাব দিতে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলেও আরো ৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়ে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গত ৯ জুন শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

    উক্ত অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

    বি. এ

  • খুলনা সিটি হাসপাতালের মুমূর্ষু ৭ রোগীকে নেওয়া হলো আদ-দ্বীনে

    খুলনা সিটি হাসপাতালের মুমূর্ষু ৭ রোগীকে নেওয়া হলো আদ-দ্বীনে

    খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাগা আগুন আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১২টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত আড়াইটার মধ্যে এ হাসপাতালের ২৫০ এর বেশি রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে উদ্ধার কাজও সম্পন্ন করেছেন।

    হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের কোনও রোগীর ক্ষতি হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সব রোগীকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালে ২৫০ এর বেশি রোগী ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্রিটক্যাল অবস্থায় থাকা ৭ রোগীকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী হাসপাতাল, গাজী মেডিক্যালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। ক্ষতি নিরূপণ ও কারণ অনুসন্ধান চলছে।

    খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম বলেন, ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সাড়ে ১০টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ শেষ হয় রাত ১২টায়। আগুনে কোনও হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার কাজ রাত ৩টার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভবনে আগুন লাগে। আগুনের ধোঁয়া গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে নিচে নেমে আসেন। আর অনেকে ভবনের ওপরের দিকে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দ্রুত সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বি. এ

  • স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব

    স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আর এই বাজেট গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৩৪ হাজার কোটি বেশি, যা প্রায় দ্বিগুণ।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট প্রস্তাবনা করেন।

    অর্থমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, জিডিপি’র ০.৫৮ শতাংশ।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার একটি বড় অংশই দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। তাই স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন হয়নি। সেই কারণে আজ দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোগী বিদেশমুখী হওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

    আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশব্যাপী একটি টেকসই ও আধুনিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়। দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাজেটে সীমিত আয়ের মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা কমানো, মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

  • নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ কমে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা

    নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ কমে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা

    নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার তুলনায় ১৭৫ কোটি টাকা কম। তবে ২০১৪ সালের ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক।” নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

    দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, এই ডাটাবেজ নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

    অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ভিজিডব্লিউবি (ভার্নারেবল উইম্যান বেনিফিট) কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

    বাজেট বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন আরও জোরদার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

    জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উপজেলা পর্যায়ে ‘আয়-বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

    অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট) কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল ও পুষ্টিচাল দেওয়া হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।

    মাতৃগর্ভ থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যথাযথ বিকাশ, সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং ‘প্যারেন্টিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    কর্মজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৮০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়।

    বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। তাঁর ভাষ্য, এ উদ্যোগ শ্রম অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

    পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিশুদের পরিবারে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

    আইনের সংঘাতে জড়িত কন্যা-শিশুদের সংশোধন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ৩৫০ জন কন্যা-শিশুকে আবাসন প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথাও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

    ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুদানে চলা এসব কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩০০ জন ছেলে ও ৩ হাজার ৩০০ জন মেয়ে শিশুর আলাদা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যবস্থা রয়েছে।

    বাক্, শ্রবণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় জানান অর্থমন্ত্রী।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের প্রণোদনা কার্যক্রম:

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ শিশুদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে ৮৪টি পরিবারকে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহে এককালীন ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে।” আহত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা

    দেশের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো শক্তিশালী করা, চিকিৎসার মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটের তুলনায় ২০ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বেশি।

    প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বরাদ্দ প্রস্তাব তুলে ধরবেন।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, আর মূল বাজেটে ছিল ১৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। নতুন বরাদ্দের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা।অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটে ছিল ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ বিভাগের জন্য ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

    স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত ব্যয় ছিল মাত্র ২ হাজার ১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বাজেটে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে।
    স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এডিপি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকৃত ব্যয় ছিল ৪১২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকায়।

    দুই বিভাগের সম্মিলিত উন্নয়ন বরাদ্দ হিসেবে মোট ৩৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো ও সেবার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডাবে পানিভর্তি কিনা, বুঝবেন কীভাবে?

    ডাবে পানিভর্তি কিনা, বুঝবেন কীভাবে?

    লাইফ স্টাইল:

    গরমে পানিশূন্যতা দূর করতে কিংবা শরীর ঠান্ডা রাখতে ডাবের জুড়ি নেই। এতে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য দারুন উপকারী। কিন্তু অনেকেই ডাব কিনতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক সময় বড় আকৃতির ডাব কেনার পরও দেখা যায় তাতে পর্যাপ্ত পানি নেই। কেনা ডাবে পর্যাপ্ত পানি পাবেন কিনা তা বুঝতে কিছু কৌশল জেনে রাখতে পারেন। যেমন-

    আকার না দেখে ডাবের ওজন দেখুন। যদি একই আকৃতির দুটি ডাবের মধ্যে কোনটি বেশি ভারী লাগে তাহলে বুঝতে হবে তাতে পানির পরিমাণ বেশি আছে। ডাব ডালকা মানে হলো ভেতরের পানি শুকিয়ে শাঁস বেড়ে গেছে।

    উজ্জ্বল সবুজ রঙের ডাব দেখলেই বুঝবেন এটি সদ্য গাছ থেকে পেড়ে আনা হয়েছে। ধূসর, বাদামি দাগ বা ফ্যাকাসে রং দেখলে বুঝতে হবে ডাবটি পুরোনো। পুরনো ডাবে পানি কমে যায়। এতে শাঁসও বেশি হয়।

    ডাবের মাথার তিনটি দাগ ভালোভাবে খেয়াল করুন। টাটকা ডাবের এই প্রাকৃতিক রেখাগুলো স্পষ্ট ও কিছুটা উঁচু থাকে। যদি দাগগুলো ভেতরে বসে যায় বা ভোঁতা লাগে, তাহলে বুঝতে হবে এটি পুরনো। এ ধরনের ডাবে পানি কম, শাঁস বেশি থাকে।

    ডাব কেনার আরেকটি ভালো উপায় হলো কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে শব্দ শোনা। ভালো ডাবে কোনও শব্দ হয় না। এর কারণ এর পুরোটাই প্রায় পানি দিয়ে ভর্তি থাকে। জোরে শোঁ শোঁ বা পানি নড়ার শব্দ মানেই ভেতরে ফাঁকা জায়গা আছে। এর মানে হচ্ছে ভিতরে পানি কম রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম্বাকৃতি বা সামান্য লম্বাটে ধরনের ডাবে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। পুরোপুরি গোলাকার ডাবে অনেক সময় শাঁসের পরিমাণ বেশি হয়। এমন ডাবে পানি কম পাওয়া যায়।

    ভেজা বা ছিদ্রযুক্ত ডাব না কেনাই ভালো। উপরের অংশ স্যাঁতসেঁতে লাগলে সেটি নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। মাথার কাছে ছোট ছিদ্র থাকলেও ডাবটি নষ্ট হতে পারে। তাই কেনার সময় সতর্ক হোন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে অভি ফুড প্রোডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে অভি ফুড প্রোডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার অভি ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়।

    বুধবার (১০ জুন) দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যপণ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নমুনা সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

    পরে এসব অপরাধে অভি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক অভিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

    সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযানকালে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।

    অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়।

  • সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্যপদ ৯,৪০৭

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্যপদ ৯,৪০৭

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১টি হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে শূন্য নয় হাজার ৪০৭টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১ টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুমোদিত ২৬ হাজার ৫৪৪টি পদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

    যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে সাত হাজার ৪২৯ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৫ হাজার ৭৮২টি। নার্সের ১৩ হাজার ৮০৯টি পদের মধ্যে ১২ হাজার ১৪৬ জন কর্মরত আছে। নার্সের শূন্য পদ এক হাজার ৬৬৩টি। অন্যান্য কর্মচারীদের তিন হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত দুই হাজার ১২০জন কর্মরত। শূন্যপদ এক হাজার ৬৬টি।

    মন্ত্রী জানান, সারা দেশের ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের এক হাজার ১৩৪টি পদের মধ্যে ৬৪৪ জন কর্মরত ও ৬৭০টি পদ শূন্য রয়েছে। মিডওয়াইফের এক হাজার ৩১২টি পদের মধ্যে কর্মরত ৭৪৬ জন এবং শূন্যপদ ৪৬৬টি। অন্যান্য কর্মচারীদের দুই হাজার ৬২৭টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৬৮২ জন কর্মরত এবং শূন্যপদ ৯১৫টি। সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের তিন হাজার ১৬৭টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৪৬০ জন, শূণ্যপদ এক হাজার ৭০৭টি। স্যাকমো তিন হাজার ১৬৫টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৬৪৫ জন কর্মরত এবং শূণ্যপদ এক হাজার ৫২০টি।

    সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষধ সরবরাহ করা হয়।

    নিলোফার চৌধুরী মনির অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

    নিলোফার চৌধুরী মনি জানতে চান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেবে কি না।

    জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ‘ক্রোমিয়াম’সহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত চামড়ার বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকে।

    মন্ত্রী জানান, এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ (Cr-VI) জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে।

    তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাই কোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা গতিশীল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নআরাউন্ড সময় ইতোমধ্যে হ্রাস পেয়েছে। ভবিষ্যতে আরো হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বে-টার্মিনাল চালু হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

    চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ পরিবেশনা নিয়ে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে নমিনেশন ফাইল তৈরির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জাতীয় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐহিত্যের ইনভেন্টরিতে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।

    সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, দেশে গেজেটভুক্ত ৫০টি নৃ-গোষ্ঠী এবং অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ।

  • হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৮ শিশুর

    হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৮ শিশুর

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯ জনের।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৪৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯ জন। আর নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৯২৭ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৩ হাজার ১৪৫ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

  • আমরা কেন ফল খাব

    আমরা কেন ফল খাব

    সৃষ্টির পর থেকেই ফল মানুষের খাদ্যতালিকায় অতি প্রয়োজনীয় পদার্থ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে যখন অস্বাস্থ্যকর খাবার নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ফলের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। তাই আজ থেকেই আমরা ফল খাওয়ার উপকারিতা জানার মাধ্যমে আমাদের জীবনকে আরো সুখময় এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলব।

    ফল খাওয়ার উপকারিতা : প্রতিটি ফলেই ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে, যা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের শরীরের উপকার করে। ফল হলো প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎকৃষ্ট উৎস। যেমন : কমলালেবু ও আমলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। কলা এবং আঙুরে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের সবলতা বজায় রাখে। আপেল, পেয়ারা এবং বেরিজাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

    হৃদরোগ প্রতিরোধে : ফল খাওয়ার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরি এবং আঙুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, পেয়ারায় থাকা লাইকোপিন হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে : ফল সাধারণত কম ক্যালোরিযুক্ত এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায়, এটি ক্ষুধা নিবারণ করতে সাহায্য করে। ফল খাওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। যেমন : তরমুজ ও স্ট্রবেরির মতো ফলগুলোয় ক্যালোরি কম এবং পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।

    রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: ফলে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে, কমলালেবু, পেয়ারা এবং কিউই ফলে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং ঠান্ডা-কাশি থেকে বাঁচাতে সহায়ক।

    হজমে সহায়ক : ফল খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। আপেল, পেয়ারা, পেঁপে এবং আমলকীর মতো ফলগুলোয় থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। পেঁপে এবং আমলকীর মধ্যে থাকা এনজাইম হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং পেটের সমস্যা কমায়।

    ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা : ফল ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তরমুজ, কমলালেবু এবং পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ এবং সি ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখতে সহায়ক। এছাড়া, বেরি-জাতীয় ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করে।

    দেহের পানিশূন্যতা দূর করা : ফল শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। তরমুজ, শসা, এবং তালের মতো ফলে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং গরমের দিনে পানির অভাব পূরণ করে।

    সার্বিকভাবে ফল আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যা আমাদের সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল যুক্ত করলে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

  • পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

    তিনজন হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে মোট ৬৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জন শিশুর, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৩৯ জন।

    এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৩ জনে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ হাজার ১৭০ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮৫ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৭৯ হাজার ১২ জনের এবং এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৬৮৬ জনের।

    আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ হাজার ২৬৩ জন। এছাড়া এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৪ জন।

  • আদ-দ্বীনে মৃত ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা- শিশির মনির

    আদ-দ্বীনে মৃত ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা- শিশির মনির

    আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, ‘রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী পরিবার ও কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

    রোববার (৭ জুন) গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ ছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আগে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

    উল্লেখ্য, শিশির মনির ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।

  • হামে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর

    হামে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৭ শিশুর। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জন । আর সন্দেহজক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ২২১ জনের। এতে মোট হামের রোগী পাওয়া গেল ১ হাজার ২৮৭ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯১ জন এবং সন্দেহজনক হামে ৫২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬২০ জনে।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৭৯ হাজার ১২ জনের এবং এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৬৮৬ জনের । আর এই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ হাজার ২৬৩ জন। এছাড়া এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৪ জন।

    অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৪ জন ঢাকা বিভাগের এবং চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগের একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫০৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী রয়েছে ৫১ জন। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৫ শিশু এবং ‘সন্দেহজনক হামে’ মৃত্যু হয়েছে ২২০ জনের। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ মোট ৮৭ জন, সিলেটে নিশ্চিত হামে তিনজনসহ ৬৬ জন, বরিশালে নিশ্চিত হামে ১৯ জনসহ ৫৬ জন, চট্টগ্রামে নিশ্চিত হামে ১০ জনসহ ৫৬ জন, ময়মনসিংহে নিশ্চিত হামে দুইজনসহ ৫০ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ২৩ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • সুস্থ থাকতে যা খাবেন থাইরয়েডের রোগীরা

    সুস্থ থাকতে যা খাবেন থাইরয়েডের রোগীরা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    গলার সামনে অবস্থিত প্রজাপতির মতো ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্ল্যান্ড হলো থাইরয়েড। যা থেকে নিঃসৃত হয় ট্রাই আরোজে থাইরনিন এবং থাইরক্সিন হরমোন। এ হরমোনের কাজ শর্করা ও চর্বির বিপাক ক্রিয়াকে সাহায্য করা। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যাওয়াকে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম। আর অতিরিক্ত হরমোন নিঃসৃত হওয়াকে বলে হাইপার থাইরয়েডিজম। বর্তমানে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে। থাইরয়েড জটিলতার কারণ হিসাবে অটোইমিউন বা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করা হয়। কিছু কিছু খাবার থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। যেমন-আয়োডিন, ভিটামিন সি, জিঙ্ক, থায়ামিন, ভিটামিন বি২ রাইবোফ্লাভিন, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬ বা পাইরডক্সিন এবং সেলেনিয়াম।

    আয়োডিন পাওয়া যাবে-সামুদ্রিক মাছ, স্পিরিলুনা, দুধ, ডিম, চিংড়ি মাছ ও আয়োডিনযুক্ত লবণ থেকে। ভিটামিন সি পেতে হলে আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কাঁচামরিচ, কমলা, আলু ইত্যাদি খেতে হবে। জিঙ্ক পাবেন গরুর মাংস, কলিজা, মুরগির মাংস, কুমড়ার বীজ, সরিষা ও ডিম থেকে।

    ভিটামিন বি১, বা থায়ামিন পাওয়া যাবে ভুসিসহ আটার রুটি, লাল চাল, ওটস, চিনাবাদাম, ইত্যাদিতে। ভিটামিন বি২ বা রাইবোফ্লাভিন আছে দুধ, দই ও দুধজাত খাদ্যতে।
    নায়াসিন লাল চাল, ডালিম, মুরগির মাংস, টুনামাছ ইত্যাদিতে আছে। ভিটামিন বি৬ বা পাইরডক্সিন আছে কলিজা, লাল আটা ও লাল চাল, ওটস, আখরোট, পাকাকলা, আম, মিষ্টি আলু থেকে।

    মেলেনিয়াম পাওয়া যাবে মাশরুম, ডিম, রসুন, পেঁয়াজ, মাছ, মুরগির মাংস, টমেটো টুনামাছ, ব্রকলি, দুধ ও দুধজাত খাদ্য থেকে। কিছু কিছু খাবার থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন-সয়াবিন, বাঁধাকপি, পালংশাক, ফুলকপি, মুলা, পান, সিগারেট, এলকোহল, অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার। এ খাবারগুলো ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

    হাইপোথাইরয়েডের রোগীদের দ্রুত ওজন বাড়াতে থাকে। বুক ধড়ফড় করে, হঠাৎ হঠাৎ গরম লাগে, অস্থিরতা অনুভব হয়। এদিকে হাইপার থাইরয়েডের রোগীদের ওজন কমে যায়, রক্তের চাপ বাড়ে, ডায়রিয়া ও স্মরণশক্তি কমে যায়।দুই ধরনের রোগীরই সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এদের প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। মাছ-মাংস-ডিম-ননীবিহীন দুধ চাহিদামতো খেতে হবে। মেটাবলিক রেট বেড়ে যায় বলে চা-কফি-চিনি বাদ দিতে হবে। তবে গ্রিন টি পান করা যায়। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা উচিত।

  • আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি : এ্যাড. শিশির মনির

    আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি : এ্যাড. শিশির মনির

    রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো লাইসেন্স বাতিলের নোটিশকে ‘বেআইনি’ ও আইনবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।

    আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নোটিশটি প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পেশাগত অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় দুই নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, কোনো পক্ষই হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক বা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হোক—এমনটি চায় না। তবে ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন নিহত নবজাতকদের স্বজনরা।

    নিহত নবজাতকদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে আজীবন থাকবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিবারগুলোর যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ এবং সম্মানজনক আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

  • শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘আগামীকাল রোববার বিকালের মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে হবে, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোববার বিকালের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে আইন অনুযায়ী শান্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, তার ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’

    তিনি বলেন, মূলত তিন পর্যায়ে এই সেবা দেওয়ার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে থাকবে- গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহণের জন্য তিন ধরনের আলাদা ডিজাইনের অ্যাম্বুলেন্স। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অত্যন্ত কম খরচে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্থানীয়ভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ডিজাইন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সব আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো তৈরিতে কারিগরি ও ডিজাইন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্র সরণি থেকে শুরু করে ঢাকা শহরসহ সারা দেশের জেলা শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক র‌্যালি করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা

    চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা

    যশোরের চৌগাছায় সামাজিক সংগঠন জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠনের আয়োজনে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্যাম্পে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

    শনিবার (৬ জুন) উপজেলার গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠ মাঠ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে যশোর মেডিসিন ব্যাংক বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবারাহ করে।

    এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন। জাগজাপিডা প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

    সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পে যশোরের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেন। এ ক্যাম্পে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর, জামলতা, জাহাঙ্গীরপুর, পিতাম্বরপুর ও হুদাফতেপুর গ্রামসহ বেশকটি গ্রামের সহস্রাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    এতে সভাপতিত্ব করেন জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠনের সভাপতি আশানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিসিন ব্যাংকের সভাপতি ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সুপার হুসাইন সাফায়াত। বিশেষ অতিথি ছিলেন গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল আরিফ শান্তি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস আলী দফাদার, সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ ও যশোর এম এম কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান, গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম, জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ওরাল ও ডেন্টাল সার্জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা: ইয়াকুব আলী মোল্লা, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা: মাসুম রেজা, সার্জন ও প্রসূতি-স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জিয়াসমীন আক্তার তনিমা, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা: সাইফুর রহমান, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা: জসীম উদ্দীন সরকার এবং শিশু গ্যাস্ট্রো-লিভার, পুষ্টি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: উম্মে জান্নাতুল ফেরদৌস।

    উল্লেখ্য, ২০০১ সালে সিংহঝুলি ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের শিক্ষার্থীদের ঐক্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গঠিত হয় জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠন। জাহাঙ্গীরপুর, গরীবপুর, জামালতা, পিতম্বরপুর ও ডাইনে (হুদাফতেপুর) গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন চৌগাছার সন্তান সাংবাদিক মুরসালিন নোমানী। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিটি এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ-দ্বীনের হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

    ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

    ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে এমন একটি “স্মার্ট ড্রাগ”, যা ক্যানসার কোষের লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা নষ্ট করে ইমিউনোথেরাপিকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ টিউমারের আকার অন্তত ৩০% পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    গবেষকদের মতে, ক্যানসার কোষ সাধারণত শরীরের ইমিউন সিস্টেমের চোখ এড়িয়ে নিজেকে “অদৃশ্য” করে রাখে। নতুন এই ওষুধ সেই অদৃশ্যতা বা “ইনভিজিবিলিটি ক্লোক” ভেঙে দেয়, ফলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    ৬ ধরনের ক্যানসারে ইতিবাচক ফল

    যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৮৩ জন রোগী অংশ নেন। তারা ছিলেন জরায়ু, মূত্রথলি, লিভার, অন্ত্র, ফুসফুস এবং মাথা-ঘাড় ক্যানসারে আক্রান্ত।

    রোগীদের দেওয়া হয় পরীক্ষামূলক ওষুধ জিআরডব্লিউডি ৫৭৬৯, যা ইমিউনোথেরাপি ওষুধ সেমিপ্লিম্যাবের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, ২৬ জন রোগীর টিউমার সঙ্কুচিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার কমেছে অন্তত ৩০%।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া সব রোগীই আগে প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া পাননি এবং অনেকের জন্য অন্য কোনো চিকিৎসার পথও ছিল না। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—যাদের ওপর ইমিউনোথেরাপি আগে কাজ করেনি বা পরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধ কার্যকর হয়েছে।

    কীভাবে কাজ করে এই ওষুধ

    ক্যানসার কোষ সাধারণত একটি এনজাইম ইআরএপি১ (এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম অ্যামিনোপেপটিডেজ-১) পরিবর্তন করে নিজেকে ইমিউন সিস্টেমের চোখ থেকে আড়াল করে। নতুন ওষুধটি এই এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে ক্যানসার কোষের “অদৃশ্যতা ঢাল” ভেঙে যায় এবং টি-সেলগুলো সহজেই কোষগুলোকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

    গবেষণার প্রধান গবেষক প্রফেসর ফিওনা থিস্টলথওয়েট বলেন, এটি মুখে খাওয়ার ওষুধ হওয়ায় রোগীদের জন্য সহজ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে খুবই আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

    আরেক গবেষক প্রফেসর স্টেফান সিমেওনাইডস এটিকে “উত্তেজনাপূর্ণ অগ্রগতি” বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা হলেও বিভিন্ন ধরনের কঠিন ক্যানসারে একসঙ্গে ইতিবাচক ফল পাওয়া অত্যন্ত বিরল।

    গবেষকরা বলছেন, ওষুধটি এখনো বৃহত্তর পর্যায়ের পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি সফল হলে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বহু রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

    তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কারো মৃত্যু হয়নি। এনিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯৪।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯০। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

    একই সময়ে ১ হাজার ২৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে।

  • মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    নিউজ,

    রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), ওই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মরহুম মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মরহুম কফুর উদ্দিনের ছেলে মো: সাজু মিয়া (৫৫)।

    এছাড়া বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মরহুম সুলতান আলীর ছেলে মো: এরশাদ মিয়া (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি একসাথে অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং ধীরে ধীরে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে রাতেই দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজুর আলীর মৃত্যু হয়।

    ছাত্তার মিয়া নামের অপর একজনের কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে রাখা হয়। এছাড়া আজ সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: সাজু মিয়া নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: মাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের মূলত অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ যাতে ময়নাতদন্ত করাতে না হয়, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: পারভেজ ও মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৭৯টি শিশু।

    আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৯৮ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৮৮টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৪৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৩৪। এই সময়ে এক হাজার ১৬ জন শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৮১টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৭০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৯৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৫৭ হাজার ৯০২ রোগী, যাদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৭২২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর, মোট মৃত্যু ৫৮৫

    হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর, মোট মৃত্যু ৫৮৫

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। গত ৭৭ দিনে হাম ও উপসর্গে ৫৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৩১ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৮৫ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৯৫ জন।

    এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ শিশু। একই সময়ে ১ হাজার ৩২৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪৯ শিশু আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ৯৩৬।

  • নড়াইলে ‘তরফদার বাড়ি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা-ঔষধ প্রদান

    নড়াইলে ‘তরফদার বাড়ি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা-ঔষধ প্রদান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘তরফদার বাড়ি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।

    ‘আমরা তরফদার এক পরিবার’ স্লোগানে শনিবার (৩০ মে) দিনব্যাপী সদর উপজেলার তুলারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ চিকিৎসাসেবা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরকে ওষুধসহ চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

    গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. তরফদার শামসুন্নাহার লাকী ও তরফদার মারিয়া হোসাইন, মেডিসিন, হরমোন ও ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. দীপ বিশ্বাস সুদীপ, মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাইন মহসিনুল হক এবং নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম আযম রাসেল চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে চিকিৎসাগ্রহণকারীরা সবাই খুবই খুশি হয়েছেন।

    তুলারামপুর গ্রামের চম্পা আরা (৩০) বলেন, বাড়ির কাছে চিকিৎসা পেয়ে খুশি হয়েছি। ঈদের ছুটিতে এলাকার সন্তানরা বাড়িতে এসে আমাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। এমন আয়োজন করলে গ্রামের মানুষের উপকার হয়।

    ডায়াবেটিক রোগী আফজাল হোসেন বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ পেয়েছি। খুব ভালো লেগেছে।

    মেডিকেল ক্যাম্পের পৃষ্ঠপোষক প্রকৌশলী হাবিব তরফদার শাহীন বলেন, তরফদার বাড়ির আয়োজনে এবং স্থানীয়নের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে। এ ধরণের চিকিৎসাসেবা পরবর্তীতেও করা হবে।

  • এড়নো যেতে পারে স্তন ক্যান্সারের কেমোথেরাপি

    এড়নো যেতে পারে স্তন ক্যান্সারের কেমোথেরাপি

    স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখ লাখ রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর একটা সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, এমন এক ডিএনএ পরীক্ষা তারা উদ্ভাবন করেছেন, যেটা বলে দেবে, কেমোথেরাপি কোন রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করবে, কার ক্ষেত্রে করবে না।

    ইংল্যান্ডের ইউনিভার্টি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে এ গবেষণা হয় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    গবেষণায় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া চার হাজারের বেশি রোগীকে যুক্ত করা হয়। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রোগীরা ছিলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি।

    আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

    কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে সাধারণত একজন রোগীর মধ্যে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    গবেষকরা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’। এই পরীক্ষায় ৫০টি জিনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো মূলত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষণে মূলত এটাই হিসাব করা হয়, রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা।

    স্কোর যাদের কম, তাদের কেমোথেরাপি নেওয়া ছিল না। এই হার চার হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ। এই দলে পাঁচ বছর পর্ন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

    স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

    ক্যান্সার কোষ শুধু লিম্ফ নোডের আশপাশে ছড়িয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন রোগীদেরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ইউসিএল বলেছে, চিকিৎসকরা একটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সেটা হলো- স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সামান্যই কাজে আসে।

    ইংল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) অধীনে থাকা ৫ হাজারের বেশি রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কার্ডিফের বাসিন্দা কারেন বনহ্যাম। তিনি বলেন, গবেষণার ফল তার জন্য ‘খুবই স্বস্তির’ একটা খবর; অনেকটা ‘বড়দিনের উপহার’ পাওয়ার মতো।

    ‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার কারণে কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন ৬৪ বছরের এই রোগী। তিনি গত আট বছর রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন।

    নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা শুরু হওয়া— দুটোই জীবনে ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা। এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ঠেলে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে যায়; একটাই ইচ্ছা বেঁচে থাকে, সেটা বেঁচে থাকা।’

    গবেষণার ফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সারবিষয়ক সম্মেলন— আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির’ বার্ষিক সভায় তুলে ধরার কথা।

    পরীক্ষা কার্ক্রমের প্রধান ছিলেন ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোব স্টেইন। তিনি বলেন, এই ফল ক্যান্সার চিকিৎসাকে ব্যক্তিভেদে আলাদা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই গবেষণায় শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। পাশাপাশি টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়েছে।

    গবেষক রোব স্টেইন আরও বলেন, রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও যথাযথ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

    তবে ইউসিএলের মতে, ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।

  • আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাউরুটি তৈরির একটি ফ্যাক্টরির (বেকারি) সন্ধান পাওয়া গেছে।

    শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালটি পরিদর্শনে গেলে এ বিষয়টি সামনে আসে।

    পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ভেতরে পাউরুটি উৎপাদনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

    এ সময় ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেশের কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হয়, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৩ জন ও নিশ্চিত হাম রোগী ৫৩ জন।

    আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকায় তিনজন, সিলেটে দুজন, চট্টগ্রামে একজন ও ময়মনসিংহে দুজন মারা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৮৩ শিশুর। এর মধ্যে হামের উপসর্গে দেশে ৪৯৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৬১২। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৭০৫ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৫২ হাজার ৫০ শিশু বাড়ি ফিরেছে। অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯৯৬।

  • আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আজ শনিবার দেওয়া হচ্ছে না।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ প্রথম আলোকে জানান, প্রতিবেদন দেওয়ার আগে ছয় নবজাতকের মায়েদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কথা বলার পর প্রতিবেদনটি আগামী ৩ জুন দেওয়া হবে।

    গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান প্রথম আলোকে জানান, শনিবার (আজ) তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    তবে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, যে ছয় নবজাতক মারা গেছে, তাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুদের মায়েরা বিভিন্ন এলাকায় আছেন। তাঁদের কাছ থেকে কথা শোনা হবে। তারপর এসব বিষয় তদন্তের মধ্যে থাকবে।’

    তদন্তে এখন পর্যন্ত কী পাওয়া গেল, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ছয়টি বাচ্চা একবারে মারা গেছে। বুঝতে পারছেন তদন্তে কী আসবে। বাচ্চাগুলো তো আর হাইপার সিনড্রোমে (গুরুতর কোনো লক্ষ্মণযুক্ত উপসর্গ) মারা যায়নি। আমরা সমস্ত আলামত, সমস্ত ব্যাখ্যা পেয়েছি। কিন্তু সামারিটি (মূল বিষয়) বলব না। মায়েদের স্টেটমেন্টটা নিয়ে দেখি। যদি কিছু যুক্ত হয়, তবে সবকিছু এক করে পরে কথা বলব। ৩ জুন দেওয়া হবে প্রতিবেদন।’

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

    কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। গতকাল আশিক প্রথম আলোকে বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে কাউকে এখনো আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

  • আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

    আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

    ডেস্ক নিউজ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ৩ জুন জমা দেওয়া হবে।

    শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দিতে পারছে না। এজন্য আরও তিন দিন সময় দিয়েছি কমিটিকে। কারণ সেখানে অবস্থানরত সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

  • কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে রাজধানীতে দুইশো জন আহত

    কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে রাজধানীতে দুইশো জন আহত

    পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাজধানীতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গরুর লাথি, গুঁতা ও দড়ির টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা ও রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো আহত হয়ে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়েছেন আরও ১৬৮ জন, যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

    জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) তথ্য বলছে, সকালে নামাজের পরবর্তী কোরবানি শুরুর পর থেকে এমনই সব ভাঙা কাটা ক্ষত নিয়ে রাজধানীর পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এছাড়াও গেল গেলো ১৫ ঘণ্টায় কোরবানি জানিতো কারণ ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬৮ জন। আর এদের মধ্যে কিছুটা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ৮৯ জনকে ভর্তি নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁও অবস্থিত পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতাল ঘুরে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিত্র দেখা গেছে।

    নিটোর-এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার জীবনানন্দ হালদার বলেন, গতকাল রাত বারোটা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত আমাদের এখানে মোট ১৬৮ জন রোগী এসেছে। আর আজ সকাল থেকে কোরবানি জনিত কারণে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এই মোট রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৮৯ জন।

    তিনি বলেন, আজ গুরুতর আহত হয়ে রোগী কম এসেছে। কোরবানি দিতে গিয়ে আঙুল কাটা, রগ কাটা, হাত কাটা, পা কাটা, কোমরে কাটা, এই ধরনের রোগী আসছে। কোরবানি দিতে গিয়ে যে সমস্যাগুলো হয় সেই ধরনের রোগীই বেশি এসেছে। মেজর অ্যাক্সিডেন্টের রোগে গতকাল বেশি ছিল। আবার গতকাল দুজন এক্সপেয়ার করছে (নিহত হয়েছেন)। গতকাল যে পেশেন্ট এসেছে এর মধ্যে কোরবানি জনিত পেশেন্ট ছিল কিছু আর বেশি ছিল মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট পেশেন্ট।

  • আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিআইডির কর্মকর্তারা রয়েছেন।

    আজ বুধবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও এনআইসিইউ’র কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

    এরইমধ্যে কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল।

  • হাম উপসর্গে মোট মৃত্যু ৫৫৫ জন

    হাম উপসর্গে মোট মৃত্যু ৫৫৫ জন

    সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে হামে ও হামের উপসর্গে আরও ১০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এতে করে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে দেশে ৫৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশে নিশ্চিত হামে একজন এবং সন্দেহভাজন হামে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৮৮ জন এবং সন্দেহভাজন হামে ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ জন এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ হাজার ২৩ জন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৩০ জনকে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৮ হাজার ৮০০ জন।

    বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৫২ জনের। এরপর বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ৩ এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে ২ জন করে মারা গেছে।

    সন্দেহভাজন হামেও সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৮৪ জনের। এছাড়া রাজশাহীতে ৮৩, সিলেটে ৫৪, চট্টগ্রামে ৪৪, ময়মনসিংহে ৪০, বরিশালে ৩৫, খুলনায় ২১ এবং রংপুরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

    গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

    নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা- ঈদ এলেই চিরচেনা এই প্রথা অনুসরণ করে গ্রামের পথ ধরেন অনেক শহরবাসী। ছুটিতে ঘরে যাওয়া আর পাড়াপড়শি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ কেউ সহজে হাতছাড়া করতে চান না।

    তবে এবার ছোট শিশুদের অভিভাবকদের এমন ঈদযাত্রায় বের হওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তীব্র গরম ও হামের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে বাচ্চাদের সুরক্ষার স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

    আমাদের দেশে ঈদযাত্রার সময় বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেন- সব পরিবহনেই থাকে গাদাগাদি ভিড়। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, গাড়ির ছাদে চড়েও মানুষ বাড়ি ফেরে। এমন পরিস্থিতিতে যাতায়াতে চরম ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

    এছাড়া, প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে শিশু হামে আক্রান্ত হলে সেখানে তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। সেই সঙ্গে বর্তমানে চলছে গরমের মৌসুম। ফলে যেসব পরিবারে ছোট বাচ্চা আছে, তাদের এবার সম্ভব হলে ঈদে বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    ৫ বছরের কম বয়সীদের ভ্রমণ না করাই উত্তম

    সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, চরমভাবাপন্ন বৈরী আবহাওয়ায় ছোট বাচ্চাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বড়দের মতো কাজ করে না। ফলে তারা সহজেই সর্দি-কাশিসহ নানান গরমজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এমন আবহাওয়ার ওপর দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। যার ফলে কোনো এলাকাই এখন বাচ্চাদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে এই ঈদে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ না করাই উত্তম।

    তিনি সতর্ক করেন যে ভ্রমণকালে বা প্রত্যন্ত কোনো স্থানে গিয়ে শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভালো চিকিৎসার অভাব ঘটতে পারে। সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হামের নানান জটিলতা থেকে শিশুর জীবনশঙ্কা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। সুতরাং, বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা এড়াতে এমন বাচ্চাদের মা-বাবাকে এই সময়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

    বাইরে বের হলেই পরতে হবে মাস্ক

    এদিকে বাসার বাইরে, গ্রামের বাড়ি বা লোকসমাগমে গেলে শিশুদের মাস্ক পরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

    তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে রোগের সংক্রমণঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। হামে মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।

    ঈদের ছুটি ঘিরে শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে নিয়ে ঘোরাফেরা এবং পার্ক, রেস্তোরাঁ বা জনসমাগমস্থলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে নিয়ে গেলে শিশুদের মাস্ক পরানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহর কিংবা গ্রাম- সব জায়গাতেই সবাইকে সমানভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

    অধ্যাপক আব্দুল্লাহ জানান, কোনো শিশুর সামান্য জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসায় ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। ছোট শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসকদেরও গভীরভাবে ব্যথিত করে উল্লেখ করে তিনি শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার ও অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন।

    টিকা দিলেও শতভাগ নিশ্চয়তা নেই

    শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই নন, স্বাস্থ্যখাতের অভিভাবক হিসেবে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঈদ সামনে রেখে গণপরিবহনে বাড়তি ভিড় ও অবাধ যাতায়াতে হামের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

    সচিবালয়ে শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সংস্পর্শ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বা সম্প্রতি সুস্থ হয়েছে, তাদের ঈদের সময় জনাকীর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য আমি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, টিকা দিলেই যে রোগ থেকে সুরক্ষার ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় তা নয়। ভাইরাসের তীব্রতা বেশি হলে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব ও পারস্পরিক সচেতনতাই হলো প্রধান প্রতিরোধ।

    হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৩ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৪৪২। এছাড়া, একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জন এবং সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮১৩। উল্লেখিত সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ জনকে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৬ হাজার ২১৪ জন।

    বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫০ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া, বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮০ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৫০, চট্টগ্রামে ৪২, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩২, খুলনায় ২১ ও রংপুরে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছে।

  • ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ৭১ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৫৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৮৭ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ২৪ মে সকাল আটটা থেকে আজ ২৫ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিন জন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দুই জন করে এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২০৮), বরিশাল (১২৮) ও খুলনা (৯৫)। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭১ দিনে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জনের। এ ছাড়া ৭১ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ শিশুর মৃত্যু হলো।

    গত একদিনে সারাদেশে আরও এক হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়। বাকি ১২ শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে বরিশালে হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং হামের উপসর্গে আরও এক শিশুসহ ২ জন; ঢাকায় হামের উপসর্গে ৪, সিলেটে ৪, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল ৫১২ শিশু। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও এক হাজার ৯৬৭টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি শিশুরা চিকিৎসাধীন।

    চিকিৎসকরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত হামের টিকা নিশ্চিত করার এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে থামছে না হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সিলেটে কোনো মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৭৪ শিশু। এছাড়া এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায়ও কারো হাম নিশ্চিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও হাম উপসর্গে আরো ৭৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪৮। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৬ জন (রুবেলা দু’জন), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭৪ জন ও সিলেট জেলার রোগী ৪২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৫ জন, ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে ২২ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে একজন, পার্ক ভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে দু’জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দু’জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছে।

    বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৯৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৯৯ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, আল হারামাইন হাসপাতালে একজন, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ১০ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চারজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, পার্কভিউ হাসপাতালে চারজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫২ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

    এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে টিকা কার্যকর হতে শুরু করলে হামের প্রকোপ কমে আসবে। ২০ মে পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন চলবে। শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

  • তরমুজ কখন খাবেন?

    তরমুজ কখন খাবেন?

    লাইফস্টাইল

    গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। গ্রীষ্মকালের মৌসুমি ফল তরমুজ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর। এই ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। গরমে প্রতিদিন তরমুজ খেলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য থাকে এবং মাথা ঘুরে যাওয়ার বা দুর্বলতার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত এই ফল খেলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা কমে যায়। বিভিন্ন সময়ে তরমুজ খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, খাবারের আগে না পরে তরমুজ কখন খেলে বেশি উপকার পাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। খালি পেটে এটি খেলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আবার দুপুরের খাবারের এক ঘণ্টা আগে ফলটি খাওয়া যেতে পারে। এটি হজম ব্যবস্থা ভালো করে, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা প্রতিরোধ করে। ব্যায়ামের পরেও তরমুজ খাওয়া ভালো। এতে শরীরের পানির র এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ হয়। গ্রীষ্মে দুপুরে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

    খাবারের আগে পরে?
    তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এটি খেলে পেটও ভর্তি থাকে। খাবারের আগে তরমুজ খেলে পেট শান্ত এবং ঠান্ডা থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ সবসময় খাবারের আগে খাওয়া উচিত।

    কখন তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়
    রাতে তরমুজ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় বারবার মূত্রত্যাগের কারণ হতে পারে। খাবারের পরে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গ্যাস এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর সতেজ থাকে। অনেকেরই ফ্রিজ থেকে বের করে সাথে সাথে তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস আছে, এটা ঠিক নয়। কারণ এটি গলা এবং হজম ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    ওজন কমাতে চাইলে
    যারা ওজন কমাতে চান, তাদের দুপুরে তরমুজ খাওয়া উচিত। এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকায় পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে এবং হালকা অনুভূতি হয়। এতে কম ক্যালোরি থাকে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক। গ্রীষ্মকালে নিয়মিত তরমুজ খেলে ওজন কমানো সহজ হয়ে ওঠে।

    এই ফলগুলোর সাথে তরমুজ খাবেন না
    গরম ফলের সাথে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পেটের সমস্যা হতে পারে এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যান্য ফলের সাথেও তরমুজ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এর প্রকৃতি শীতল এবং অন্যান্য ফলের প্রকৃতি গরম হতে পারে; অন্য ফলের সাথে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কলা, কমলা এবং আঙুরের সাথে তরমুজ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এগুলোর সাথে তরমুজ খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম এবং অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই, অন্যান্য ফলের সাথে তরমুজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৬৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৩০৫ জন।

    ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজার ১৬০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরো এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৭ হাজার ১৫০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদে

  • গাংনীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

    গাংনীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

    দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও এখনো সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। পেশাগত সম্মান, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মেহেরপুরের গাংনীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

    গাংনী উপজেলা ফারিয়ার উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে গাংনী শহরের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে তারা বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে ওষুধ কোম্পানি ও চিকিৎসকদের সমন্বয় রক্ষায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার মানুষকে নানা অবমূল্যায়ন ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির সময় যখন সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি ছিল, তখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ এবং চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। দেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

    গাংনী উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মোঃ আলী হোসেন (কনকর্ড ফার্মা) বলেন,
    “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোনো দালাল নন, তারা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যবাহক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ পেশাকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হলেও বাংলাদেশে এখনো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।”

    সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী (বায়ো ফার্মা) বলেন,
    “আমরা চাই কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক। দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও আমরা ন্যায্য সম্মান থেকে বঞ্চিত।”

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মোঃ আবুশামা (গ্লোব ফার্মা), সদস্য মোঃ হারুন অর রশিদ (স্কয়ার ফার্মা), সদস্য মোঃ লিটন হোসেন (সোমাটেক ফার্মা), সদস্য মোঃ সোহেল রানা সহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

    মানববন্ধন শেষে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত এ পেশাকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

  • স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে প্যাকেটজাত খাবার

    স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে প্যাকেটজাত খাবার

    দোকানের তাকজুড়ে সারি সারি রঙিন প্যাকেট— বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, কোমল পানীয়। ব্যস্ত জীবনে এগুলোই যেন সহজ সমাধান— সহজে পাওয়া যায়, দামও নাগালের মধ্যে। প্যাকেটজাত এসব খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা শিশু-কিশোর, তথা তরুণ প্রজন্মের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    অতি প্রসেসড খাবারে থাকে উচ্চমাত্রার পরিশোধিত চিনি এবং ট্রান্সফ্যাট। এগুলো শরীরে প্রবেশের পর ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যাকে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বলা হয়। এটি কেবল ডায়াবেটিসের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং হার্টের পেশিকে দুর্বল করে দেয়।

    আগ্রাসী বিপণন ও শিশুদের আসক্তি

    বাংলাদেশে অতি প্রসেসড খাবারের প্রসারের পেছনে বড় কারণ হলো, কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশল। বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি করা চটকদার বিজ্ঞাপন এবং উপহারের প্রলোভন শিশুদের এ খাবারে আসক্ত করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ খাবারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় (লবণ, চিনি ও টেস্টিং সল্টের মিশ্রণে), যা মস্তিষ্কে এক ধরনের সাময়িক আনন্দ দেয়। ফলে শিশুরা একবার এ স্বাদ পেলে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

    দেশের বাজারে বিপণন করা প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬১ শতাংশে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণ স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ, সেখানে এসব খাবারে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। এসব প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, নুডুলস, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ঝালমুড়ি, আচার, চাটনি ইত্যাদি। এসব খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও কেমিক্যাল হৃদরোগের পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি আমাদের শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে এক নীরব বিপর্যয় ডেকে আনছে। টিফিনে দেওয়া চিপস বা কৃত্রিম জুস তাদের স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    ২০২৫ সালের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ পরিচালিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সল্ট কন্টেন্ট অ্যান্ড লেবেল কমপ্লায়েন্স অব কমনলি কনজিউমড প্রসেসড প্যাকেজড ফুডস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের (এনএইচএফবি) একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে থাকা প্যাকেটজাত খাবারের প্রায় ৯৭ শতাংশই উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে ‘পুষ্টিগুণ’ বা ‘লবণের মাত্রা’ সংক্রান্ত যে তথ্য

    দেওয়া থাকে, ল্যাবে পরীক্ষার পর তার সত্যতা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘সুগার ফ্রি’ বা ‘লো ফ্যাট’ দাবি করা অনেক খাবারেও হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যালের উপস্থিতি মিলেছে।

    গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব পণ্যে উচ্চমাত্রার লবণ রয়েছে। আরো উদ্বেগের বিষয় হলোÑপণ্যের মোড়কে এ তথ্য সব সময় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে না।

    প্যাকেটজাত খাবার সুস্বাদু করতে এতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বা লবণ ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি প্যাকেটজাত চিপস বা নুডুলসে যে পরিমাণ লবণ থাকে, তা একজন মানুষের সারাদিনের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত সোডিয়াম সরাসরি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃৎপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট ফেইলিউরের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    শিশুরা পছন্দ করে এমন এক হাজার প্যাকেটজাত শিশুখাদ্য বেছে নেওয়া হয় এ গবেষণায়। এর মধ্যে ছিল ম্যাকারনি, প্যাকেটজাত পনির, মিনি হট ডগস, কেক, ক্রেকার্স এবং প্যাকেটজাত দই। তবে এক্ষেত্রে কোনো ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করেননি গবেষকরা।

    গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেটজাত ১০ ধরনের শিশুখাদ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে ২১০ মিলিগ্রাম লবণ ও সোডিয়াম থাকা দরকার। কিন্তু এসব প্যাকেটে রয়েছে ৩৬১ মিলিগ্রাম লবণ ও সোডিয়াম যা সাধারণ পরিমাণের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ভাগ বেশি।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মূলত বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণের সর্বোচ্চ কোনো সীমা নির্ধারণ করা নেই। যার ফলে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যে ইচ্ছেমতো লবণ যোগ করে। যদিও মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭ অনুসারে প্রক্রিয়াজাত খাবারে বিদ্যমান লবণের পরিমাণ মোড়কের লেবেলে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

    অতি প্রসেসড খাবার রক্তে ‘হাই সেনসিটিভ সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন’ বা এইচএস-সিআরপির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ প্রোটিনকে হৃদরোগের অন্যতম বড় পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়। রক্তে এর উপস্থিতি মানেই হলো, আপনার হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালিতে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে, যা যেকোনো মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটাতে পারে।

    এ খাবারগুলোকে আকর্ষণীয় রঙ, স্বাদ এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে যে ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শরীরের কোষের জন্য অপরিচিত। রক্তে এগুলো মেশার পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এগুলোকে ‘বহিরাগত আক্রমণকারী’ মনে করে। ফলে রক্তনালির ভেতরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়। এ প্রদাহ ধমনীর দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, আমরা বর্তমানে এক ধরনের খাদ্যবিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের তরুণদের মধ্যে অকাল হার্ট অ্যাটাকের হার বেড়ে যাওয়ার প্রধানতম কারণ হলো, অতি প্রসেসড খাবার এবং শরীরচর্চার অভাব। মানুষ এখন বাড়ির রান্নার চেয়ে প্যাকেটজাত এবং খোলা খাবার বেশি পছন্দ করছে, যা তাদের ধমনীকে ধীরে ধীরে শক্ত বানিয়ে ফেলছে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকার বলেন, দেশে অনেক প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে পুষ্টিমান বা উপাদানের সঠিক তথ্য লেখা থাকে না। লবণের পরিমাণ আড়াল করা হয়, যা সাধারণ মানুষের অজান্তেই তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এ বাস্তবতায় একটি সহজ, কিন্তু কার্যকর সমাধান পণ্যের প্যাকেটের সামনের অংশেই স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তায় (এফওপিএল) জানিয়ে দেওয়া—কোনো খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে কি না। বর্তমানে পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে, জটিল সংখ্যায় লেখা থাকে, যা দ্রুত বোঝা প্রায় অসম্ভব। ফলে ভোক্তা অনেক সময় অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য নিরাপদ ভেবে কিনে ফেলেন। এফওপিএল সে জটিলতাকে কমিয়ে সহজ, সরাসরি এবং দৃশ্যমান তথ্য দেয়। বাংলাদেশেও এফওপিএল চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্সফ্যাট থাকার কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, শিশুদের খাবার কেনার সময় মা-বাবাকে সতর্ক থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকে শিশুর খাবারে সোডিয়াম ও চিনির মাত্রা সঠিক পরিমাণে থাকলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই প্যাকেটের গায়ে পুষ্টির মাত্রা দেখে খাবার কেনার পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞ।

    বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকÑপ্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস ও ২৩ দশমিক ৫ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং মোট মৃত্যুর বড় অংশই প্রায় ৭১ শতাংশ, ঘটছে এসব অসংক্রামক রোগের কারণে।

    গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, এ অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যাতে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্যাকেটের সামনের একটি সহজ সতর্কবার্তাই হতে পারে সচেতন সিদ্ধান্তের সূচনা।

    গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট অফ প্যাক লেবেলিংয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়েই খাদ্য নির্বাচন করেন।

    কর্মশালায় আরো জানানো হয়, বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত কার্যকর ও ব্যয় সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। তাই একটি ছোট সতর্কবার্তা পুরো খাদ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

    প্রগতির জন্য জ্ঞানের (প্রজ্ঞা) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ অপ্রতুল। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের দৈনিক পাঁচ গ্রাম লবণের প্রয়োজন থাকলেও আমরা গড়ে ১০ গ্রামের বেশি গ্রহণ করছি। বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিপস বা স্ন্যাকসগুলোতে মোড়কের তথ্যের চেয়েও বেশি লবণ থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

    তিনি জানান, বিএসটিআই মূলত একটি সার্টিফায়িং অথরিটি হিসেবে বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য যাচাই করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা বড় কোম্পানিগুলোকে সাধারণ লবণের পরিবর্তে ‘লো সোডিয়াম সল্ট’ বা পটাশিয়াম যুক্ত লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোম্পানিগুলোকে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এছাড়া হার্ট ফাউন্ডেশনও এ ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের প্রসারে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। চিনি ও লবণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি না হলে অসংক্রামক ব্যাধির এ প্রকোপ কমানো কঠিন হবে।

  • দেশে হামের টিকা নিয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ শিশু

    দেশে হামের টিকা নিয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ শিশু

    বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচিসহ বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ। সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ জন, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৩৯ হাজার ৫৩ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ৪৭ হাজার ৬১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৪৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৯ জন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬১ জন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৭৭ হাজার ৮৮ জন, খুলনা সিটি করপোরেশনে ৮২ হাজার ৮৯৭ জন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৫৩ হাজার ৮১ জন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৫৩ হাজার ৬৮৭ জন, রংপুর সিটি করপোরেশনে ৭৫ হাজার ৫৯৮ জন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৮ হাজার ২৯ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা নিয়েছে।

    গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যেই এই ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শেষ হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়া উপজেলাগুলোতে হামের রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তররের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যে সব জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে, সে সব এলাকায় ইতোমধ্যেই হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

    দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটিছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলছে এই কার্যক্রম। দেশব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। যেসব জায়গায় শতভাগ টিকা দেওয়া হয়েছে সেসব এলাকায় হাম নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। আশা করি দ্রুত হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি, টিকা দেওয়া শুরু করেছি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অনেক বেশি। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রাদুর্ভাব থাকবে না, আশা করা যায়। মহামারি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব কাজ করছে বলেও জানান তারা।

  • জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে: জামায়ত এমপি

    জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে: জামায়ত এমপি

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি।

    শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ এবং আবাসিক ভবন সংস্কার ও মেরামত কাজ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন সুবিধারও উন্নয়ন ঘটবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. নাজমা আক্তার, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এইচইডি)। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর মধ্যে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা যাওয়া নয় শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। দেশজুড়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই বরিশাল বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, দুজন খুলনা এবং একজন সিলেট বিভাগের।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৪৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৯ জন।

    এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।

  • হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রোগটি ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১ হাজার ৪৯৪ শিশু।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২১২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭১০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৮২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৯০ জন।

    এছাড়াও ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৮৬২ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৫২ শিশু।

  • হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ২ জন ছাড়াও বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ২০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশ পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। দূষিত পানি, ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা বর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর সংকটে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

    কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইঁদুর, মশা ও বিভিন্ন পরজীবীর বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চর্মরোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। খোসপাঁচড়া, উকুন, পোকামাকড় ও চামড়াজনিত নানা সংক্রমণে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সংস্থাটি বলছে, এসব রোগ সাধারণ ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইঁদুর ও পরজীবীজনিত সংক্রমণের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতিকে ‘নৈরাশ্যজনক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

    এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। বড় হাসপাতালসহ এক হাজার ৮০০-র বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও আশ্রয় উপকরণ প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধের কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

  • বিশ্বজুড়ে  তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    ইঁদুরবাহিত প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এখন বিশ্বজুড়ে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাইরাসটির সংস্পর্শে শত শত মানুষ এসে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজ জাহাজটি শনিবার থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আতঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে। জাহাজটিতে বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল

    এতে বলা হয়, যদিও সাধারণত ইঁদুরের মূত্র, মল ও লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হলো হান্টাভাইরাসের বিরল ‘অ্যান্ডিস’ ধরন। এটিই একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

    ডব্লিউএইচও চেষ্টা করছে কীভাবে হান্টাভাইরাসটি জাহাজে এল, তা নির্ধারণ করতে। প্রথম মৃত ব্যক্তি- ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক ৬ এপ্রিল অসুস্থ হন। তিনি ১১ এপ্রিল মারা যান। এ সময় জাহাজটি ট্রিস্টান দা কুনহার দিকে যাচ্ছিল। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, তার মরদেহ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজেই রাখা হয়েছিল। পরে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয় তা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় আরও ২৩ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছিলেন এবং পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন।

    ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে, ওই নারী ২৫ এপ্রিল এয়ারলিংক পরিচালিত একটি বিমানে জোহানেসবার্গে যান। ওই বিমানে ৮২ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তিনি গুরুতর উপসর্গ থাকা অবস্থায় জোহানেসবার্গ থেকে নেদারল্যান্ডসগামী আরেকটি বিমানে ওঠেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে কর্মীরা তাকে নামিয়ে দেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন অন্তত ৮০ জন যাত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যারা ওই নারীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন। ২৭ এপ্রিল ক্রুজের এক বৃটিশ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অ্যাসেনশন দ্বীপ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় নেয়া হয়। কয়েক দিন পর আরেক যাত্রী এক জার্মান নাগরিক মারা যান।

    ৩রা মে এমভি হন্ডিয়াস কেপ ভার্দেতে পৌঁছালেও জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়া হয়নি। ফলে যাত্রীরা কার্যত সমুদ্রে আটকা পড়েন। এরপর তিনজন রোগীকে নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট হেলেনা থেকে দেশে ফেরা দুই বৃটিশ যাত্রী বর্তমানে বৃটেনে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। বৃটিশ সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাইরাসটির উপসর্গ সাধারণত সংস্পর্শে আসার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে দুই দিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে আরও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

    সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার চুবুত প্রদেশের এপুয়েন শহরে অ্যান্ডিস ভাইরাসের আরেকটি প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণের হার ছিল ২ দশমিক ২। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আরও দুজনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করা হয়েছে, জাহাজে থাকা এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকও ২১ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় নেমে দেশে ফিরে গেছেন।

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস ক্রমেই বাড়ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানকারী নারীরা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পুরুষদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। এমনকি যারা ধূমপান করেন না, তাদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি থাকে। অর্থাৎ একই অভ্যাস হলেও নারীদের শরীরে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে মারাত্মক।

    বর্তমানে অনেকেই ধূমপানকে আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে সিগারেটের দিকে ঝুঁকেন। বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব বা আশপাশের পরিবেশও এ অভ্যাস গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ধূমপানের ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, দ্রুত বলিরেখা পড়ে এবং অকালেই বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যার কারণে মুখের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে।

    মানসিক দিক থেকেও ধূমপান ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রভাব পড়ে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে। ধূমপান সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাত, অকাল প্রসব কিংবা মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই নিজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। ধূমপান কোনো স্টাইল বা আভিজাত্যের প্রতীক নয় এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ধ্বংস করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

  • শসা খোসাসহ খাবেন? নাকি ছাড়িয়ে

    শসা খোসাসহ খাবেন? নাকি ছাড়িয়ে

    ওজন কমাতে বা গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে শসা অনেকেরই প্রিয় খাবার। তবে শসা খাওয়ার একটি সাধারণ অভ্যাস খোসা ছাড়িয়ে ফেলা। কিন্তু আসলে তা কতটা সঠিক, এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। অনেকেই ভাবেন খোসা বাদ দিলে শসা বেশি নিরাপদ বা সুস্বাদু হয়, কিন্তু এতে কি পুষ্টিগুণ কমে যায়?

    সম্প্রতি এক পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, শসার প্রকৃত উপকারিতা পেতে হলে এটি খোসাসহ খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তার মতে, শসার খোসাতেই থাকে এর গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের বড় অংশ যেমন ফাইবার, সিলিকা, ভিটামিন কে এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। খোসা ছাড়িয়ে ফেললে এই পুষ্টিগুলো অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়, ফলে শসা মূলত পানিসমৃদ্ধ একটি খাদ্যে পরিণত হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শসার খোসায় থাকা ইনসলিউবল ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

    তবে খোসাসহ শসা খাওয়ার আগে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে গরম পানি ও ব্রাশ ব্যবহার করে পরিষ্কার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে ভালো শসা বেছে নেওয়াই উত্তম।

    পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, শসা খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খোসাসহ খাওয়া। এর সঙ্গে সামান্য লবণ যোগ করলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা বিশেষ করে গরমে শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে উপকারী।

  • ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেট মূলত একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র। এতে থাকা তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারকারী নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। একেই বলা হয় ‘ভ্যাপিং’। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই তরলে সাধারণত নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে।

    ই–সিগারেট ব্যবসায়ীদের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রথম ই–সিগারেট আমদানি হয়েছিল ২০১২ সালে। পরবর্তী কয়েক বছরে এই সিগারেট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তার বড় কারণ, ই-সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়া দৃশ্যত নিরীহ প্রকৃতির এবং এর মিষ্টি সুবাস। তার পাশাপাশি ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিক্রেতারা দাবি করেন, এটি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় বেশি নিরাপদ।

    তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বাস্তবে অধিকাংশ ই-সিগারেটেই নিকোটিন থাকে এবং এটি ব্যবহারকারীর আসক্তি তৈরির প্রধান কারণ।

    জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেট ব্যবহারে নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এটি বারবার ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী মনে করেন তরুণ ও কিশোরেরা সহজেই এই পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলোতে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন

    ই–সিগারটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো অজানা, তবে বিগত কয়েক বছরের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই পণ্য নিরাপদ নয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব তামাক মহামারি প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের ভবিষ্যতে সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    দেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৫ সালে প্রথম আইন (ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করে বিএনপি সরকার। ওই আইনের মধ্য দিয়ে তামাকজাত পণ্যের যত্রতত্র বিজ্ঞাপন সীমিত হয় এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রথমবারের মত আইনে স্বীকৃতি পায়।

    পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে আইনে সংশোধন আনা হয় এবং সিগারেটের প্যাকেটের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়।

    তবে আইনে কড়াকড়ি করেও বন্ধ করা যায়নি সিগারেট সেবন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সিগারেট ফুঁকে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর দেন ধূমপায়ীরা।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠানো ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের ওই চিঠিতেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তামাকজনিত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে; যা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ।