স্বাস্থ্য

  • বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দুই বছর

    বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দুই বছর

    বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুই বছরের লাইসেন্স ফি ও ভ্যাট একসঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (HSM) ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র/পরিবেশ ছাড়পত্র অনলাইনে গ্রহণ করতে হবে। নতুন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার পর যেসব প্রতিষ্ঠান নারকোটিকস বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নারকোটিকস লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সও দুই বছরের জন্য কার্যকর করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনে অনিয়ম বা শর্তের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে।

  • দেশে ফিরলেন জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের প্রধানমন্ত্রী

    দেশে ফিরলেন জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের প্রধানমন্ত্রী

    সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পাঁচ মাস পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

    তবে দেশে ফেরার সময় দেউবা একদিকে রাজনৈতিক, অন্যদিকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে বিতর্কিত বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পুড়িয়ে দেওয়ার পর অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘চিকিৎসা পরীক্ষা’র জন্য সিঙ্গাপুরে যান দেউবা এবং এরপর কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন।

    তদন্তের অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তার দেশের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পর অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের আবেদনের ভিত্তিতে দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

    বিদেশে অবস্থানকালে দেউবার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির চেষ্টা করেছিল নেপাল সরকার। তবে পরে ২৫ মে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে। এরপরই দেউবা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে দেউবার দেশে ফেরায় তার রাজনৈতিক অংশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠলেও চলমান অর্থপাচার তদন্তের কারণে রাষ্ট্র তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    দেউবার স্ত্রী আরজু দেউবা ও ছেলে জয়বীর এখনো বিদেশে রয়েছেন। গত বছরের জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় দেউবা দম্পতি গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসার কথা বলে বিদেশে যান। তবে দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    তাদের বিদেশে অবস্থানের সময় সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ে যাওয়ার কথাও শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হংকংয়ে দেউবা দম্পতির ঘোরাফেরার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও তারা সেখানে থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি।

    সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তাদের দীর্ঘ বিদেশযাপন ও চিকিৎসার খরচ কে বহন করেছে, তা নিয়ে। দেউবা পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান অর্থপাচার তদন্তের কারণে এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে

  • ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মাদকাসক্তি, বলছে গবেষণা

    ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মাদকাসক্তি, বলছে গবেষণা

    বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই নয়, মদ ও কিছু মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে নতুন গবেষণায়।

    ওষুধ দুটি জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এসব ওষুধ শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন জিএলপি-১ হরমোনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া ধীর করা এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    তবে বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-এর ওপরও প্রভাব ফেলে কি না। এই সিস্টেমই ক্ষুধা, আনন্দ অনুভূতি এবং আসক্তিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আসক্তি কমাতে সম্ভাবনা

    গবেষণায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে অ্যালকোহল পান করেন। এছাড়া প্রাণীদের ওপর পরিচালিত প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এসব ওষুধ কোকেন, অ্যামফেটামিন, ওপিওয়েড ও নিকোটিনের মতো পদার্থের ব্যবহারও কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের পুরস্কার ও প্রেরণাসংক্রান্ত স্নায়ুপথের সঙ্গে জিএলপি-১ ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়ার কারণেই এমন প্রভাব দেখা যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা মাদক গ্রহণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ তৈরি হয় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের কারণে। এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠলে স্থূলতা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মাদকাসক্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তবে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, আসক্তি কমানোর ক্ষেত্রে জিএলপি-১ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, বিশেষ করে মানুষের ক্ষেত্রে।

    গবেষকদের মতে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির মতো ওষুধ ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি বা পদার্থ-নির্ভরতার চিকিৎসায় ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় পরিসরের এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।

    বর্তমানে এসব ওষুধ প্রধানত টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসার জন্যই অনুমোদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

  • হাম উপসর্গে  আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৮৯০

    হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৮৯০

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯০ জনে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী ১ হাজার ২৫ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৯১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৫১। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৪৩।

  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

    স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

    প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশায় নির্মাণ করা হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। উদ্বোধনের সময় এলাকাবাসীর চোখে ছিল স্বস্তির স্বপ্ন—কাছেই মিলবে চিকিৎসা, ওষুধ ও মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ধুলোয় মিশেছে।

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হলেও ৫ বছর ৯ মাস পরও কার্যকরভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ। উদ্বোধনের পর হাতেগোনা কয়েক দিন ভবনটি খোলা হলেও অধিকাংশ সময়ই থাকে তালাবদ্ধ।শুধু তালাই নয়—অযত্ন আর অব্যবস্থাপনায় সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    যে মাঠে রোগী ও স্বজনদের আনাগোনা থাকার কথা, সেখানে এখন অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথে জন্মেছে ঘাস-আগাছা। বিভিন্ন স্থানে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেয়ালের রঙও বিবর্ণ হয়ে গেছে।

    বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চারটি পদের মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়া—এই দুটি পদের জনবল অনুমোদিত হয়েছে। অপর দুটি পদ—উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও এমএলএসএস—এখনও অনুমোদন করা হয়নি।

    সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার সপ্তাহে দুই দিন বর্ণি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাস্তবে তিনি সপ্তাহে এক দিনের বেশি কেন্দ্রে আসেন না। কখনো কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান, আবার কোনো কোনো সপ্তাহে তাকে দেখাই যায় না।

    সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভবনের মূল দরজায় ঝুলছে তালা। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথের চারপাশে বেড়ে উঠেছে ঘাস-আগাছা। এখানে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।

    স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। মাঠের ঘাস খাচ্ছে গবাদিপশু। ভবনের দেয়ালের বিবর্ণ রঙ ও চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

    একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন চিত্র দেখে প্রশ্ন উঠেছে—মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এই ভবন কি শেষ পর্যন্ত গবাদিপশুর চারণভূমিতেই পরিণত হবে?

    স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জবলুর অভিযোগ, সপ্তাহে একদিন একজন স্বাস্থ্যকর্মী কেন্দ্রে আসেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে এক দিন একজন আসেন। খুলেন, মানুষ আসলে বলেন ওষুধ নেই। এরপর আধা ঘণ্টা-৪০ মিনিট বসে চলে যান। আর কোনো খবর মেলে না। কোনো সপ্তাহে আসেন, কোনো সপ্তাহে আসেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    জবলু বলেন, ‘ভবনটি উদ্বোধনের সময় আমরা খুশি হয়েছিলাম। প্রতিদিন ডাক্তার থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছর হলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না। আমাদের বর্ণিতে অনেক নেতা, কিন্তু কাজের কোনো নেতা নেই।’

    কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে চালু না থাকায় ইউনিয়নের মানুষ শুধু সাধারণ চিকিৎসা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না; হারাচ্ছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও।

    পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, প্রসবপূর্ব সেবা, প্রসবকালীন সেবা, নবজাতকের পরিচর্যা, শিশুস্বাস্থ্য সেবা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, সীমিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা—এসব সেবা পাওয়ার কথা ছিল এই কেন্দ্র থেকে।

    বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাছাকাছি একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ভবন নির্মাণের পরও যদি সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধ না থাকে, তাহলে অবকাঠামো থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা থেকে যায় অধরাই।

    বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা বলেন, ‘বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নতুন। এখানে পদ সৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। জনবল পাওয়া গেলে যথাযথভাবে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

  • গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৯

    গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৯

    গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৬০ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১৫৪ জন আহত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৩৮৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অব্যাহত হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • অল্প রোদেই মিলতে পারে বড় উপকার

    অল্প রোদেই মিলতে পারে বড় উপকার

    সূর্যের আলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিন হাড় ও পেশি ভালো রাখতে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে প্রয়োজন। তবে বেশি সময় রোদে থাকলেই বেশি উপকার পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বক ও চোখের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই অল্প সময় নিয়মিত রোদে থাকা এবং অতিরিক্ত রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাই ভালো।

    কতক্ষণ রোদে থাকা প্রয়োজন, তা সবার জন্য এক নয়। বয়স, ত্বকের রং, শরীরের কতটা অংশ রোদে থাকছে, ঋতু এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রার ওপর প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে। গাঢ় ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ফর্সা ত্বকের মানুষের শরীরে কম সময়েই ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে।

    ভিটামিন ডির জন্য রোদ কেন দরকার

    সূর্যের অতিবেগুনি বি রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে। এই ভিটামিন হাড় ও পেশির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন, খুব কম বাইরে বের হন বা শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখেন, তাদের শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে ভিটামিন ডির ঘাটতি পূরণের জন্য দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে অল্প সময় সূর্যের আলোতেও শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা পাওয়া যায়। কতক্ষণ রোদ প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা।

    ল্প সময় নিয়মিত রোদে থাকুন

    রোদে থাকার ক্ষেত্রে একবারে অনেকক্ষণ বাইরে থাকার চেয়ে নিয়মিত অল্প সময় বাইরে থাকা ভালো। বাইরে হাঁটা, ছাদ বা খোলা জায়গায় কিছু সময় থাকা কিংবা দৈনন্দিন কাজের সময় পাওয়া সূর্যের আলোও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ত্বক পুড়ে যাওয়ার মতো দীর্ঘ সময় রোদে থাকা উচিত নয়। অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি রোদে থাকলে ত্বকে কালচে দাগ, অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    সবার জন্য একই সময় নয়

    ত্বকের রং রোদে থাকার প্রয়োজনীয় সময়ের ওপর প্রভাব ফেলে। গাঢ় ত্বকে মেলানিন বেশি থাকায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে কিছুটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে গাঢ় ত্বকের মানুষও অতিরিক্ত রোদের ক্ষতি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নন। অন্যদিকে ফর্সা ত্বক, সহজে রোদে পুড়ে যাওয়ার প্রবণতা, শরীরে বেশি তিল বা আঁচিল থাকা কিংবা নিজের বা পরিবারের ত্বকের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    অতিরিক্ত রোদে বাড়ে ঝুঁকি

    অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বক পুড়ে যেতে পারে। ত্বকে কালচে দাগ ও অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। শুধু ত্বক নয়, চোখও অতিরিক্ত রোদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বয়সে অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ ভবিষ্যতে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তীব্র রোদে সুরক্ষা জরুরি

    সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝার একটি উপায় হলো অতিবেগুনি রশ্মির সূচক। এই সূচক ৩ বা তার বেশি হলে বাইরে থাকার সময় সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তীব্র রোদে ছায়ায় থাকা, শরীর ঢেকে রাখা, টুপি বা ছাতা ব্যবহার করা এবং অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী চশমা পরা যেতে পারে। খোলা ত্বকে প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিনও ব্যবহার করা ভালো। তবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে আরও দীর্ঘ সময় রোদে থাকার চেষ্টা করা ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে পোশাক, ছাতা বা ছায়ার মতো সুরক্ষার ব্যবস্থাও নিতে হবে।

    রোদ একেবারে এড়িয়ে চলাও ঠিক নয়

    যারা দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকেন, তাদের শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হয়েছে কি না, তা শুধু অনুমান করে বোঝা যায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে। ঘাটতি থাকলে খাবার ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন ডির ওষুধের মাধ্যমে তা পূরণ করা যায়। নিজের ইচ্ছায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করাও ঠিক নয়। অল্প সময় নিয়মিত বাইরে থাকুন। তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান এড়িয়ে চলুন। রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা জ্বালা শুরু হলে ছায়ায় চলে যান। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে পোশাক, টুপি, ছাতা, চশমা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

    রোদ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু বেশি রোদ মানেই বেশি উপকার নয়। অল্প সময় নিয়মিত রোদে থাকা এবং অতিরিক্ত রোদ থেকে সুরক্ষা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে ভালো উপায়।

  • কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা, ৫ মাসে ১১ রোগীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক জীবনহানি ঘটছে। গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১১ জন রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলায় দুই শতাধিক এমন প্রতিষ্ঠান থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির।

    জানা যায়, চিকিৎসা সেবার নামে কুষ্টিয়া জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় ২ শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। যার ফলে তারা সরকারি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একের পর এক দূর্ঘটনা। গত ৫ মাসে এসব সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা ১১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গা ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে লোটাস হাসপাতাল, লোটাস চক্ষু হাসপাতাল ও লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির ভবনের সিঁড়ি অত্যন্ত অপ্রশস্ত এবং লিফটে রোগীর ট্রলি পর্যন্ত ঢোকে না। ফলে অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার পর রোগীদের হুইল চেয়ারে করে ওঠানো-নামানো হয়। সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে একজনও থাকেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত ৭ আগস্ট এই হাসপাতালেই ডাক্তারের অভাবে পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত রোগীর ছেলের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকালে ভর্তির পর তড়িঘড়ি করে ওইদিন বিকালেই তাঁর মায়ের অপারেশন করা হয়।

    পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ার আরেকটি চক্ষু হাসপাতালেও সম্প্রতি অপারেশন করতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, লোটাস হাসপাতাল মালিকপক্ষের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এই সখ্যের সুবাদেই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্নে চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই হাসপাতাল চালাচ্ছেন এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা জমা দিয়ে আবেদন করা আছে। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর দাবি, ওই রোগী হাসপাতালে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তাঁর ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস দাবি করেন, শ্বাসকষ্টের ওই রোগী দুই সপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন, যা নিছকই দুর্ঘটনা।

    জেলার অন্যান্য ক্লিনিকের অবস্থাও একই রকম। কুমারখালী চক্ষু হাসপাতাল পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকলেও মালিক আলিমুজ্জামান বদর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

    তিনি জানান, লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে মোসাব্বির নামের এক চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের দেখছেন। তবে ওই চিকিৎসকের ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, যা জনমনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

    এসব তুঘলকি কাণ্ড ও অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হাবিব চৌহান জানান, লাইসেন্স ও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়াই সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এসব ব্যবসা চলছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব হাসপাতালে অনেক সময় গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করানো হয়, যা সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

    এদিকে, ২৮ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় একতা ক্লিনিকে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক—একতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, সামান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশনের পরামর্শ দেন। তবে অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত এনেস্থিসিয়া সুবিধা ছিল না—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, যথাযথ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ছাড়াই অজ্ঞান করার পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। এরপর শিশুটি মারা যায়।

    সে সময় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক ডাক্তারকে আটক করা হয়। সিলগালা করা হয় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা মান, লাইসেন্সিং ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। তারা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।

    সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল জেলার বেহাল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার কথা স্বীকার করেছেন।

    তিনি জানান, জেলায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকলেও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১৪টির। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রায়শই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও চাপে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অতি সম্প্রতি স্থানীয় এক শীর্ষ নেতা সুপারিশ নিয়ে তাঁর অফিসেও এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সিভিল সার্জন দাবি করেন।

    এত অনিয়ম ও প্রাণহানির পরও এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে টিকে আছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে যেন এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য অবিলম্বে এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

  • দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান : ৩ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না থাকা, আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী এ তদারকি অভিযানে দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন সার, বীজ, ওষুধের দোকান, হোটেল ও মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন না করার অপরাধে কার্পাসডাঙ্গার মেসার্স গাউছিয়া স্টোরের মালিক মো: আব্দুল হাই সিদ্দিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া আয়োডিনহীন লবণ ব্যবহার করে খাবার রান্না করায় দামুড়হুদা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই হোটেলের মালিক মো: লিটন আলীকে ১০ হাজার টাকা এবং উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ না করা, লাইসেন্স ছাড়া দই তৈরি ও নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি সংরক্ষণ করে বাজারজাত করার অপরাধে মেসার্স সেলিম মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মো: সেলিম উদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

    অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ মূল্য তালিকা টাঙানো, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন বীজ, ওষুধ বা শিশুখাদ্য বিক্রয় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর  মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৪১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৭ হাজার ৪৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮০ জনে। যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই শিশু।

    আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮২ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন রোগী ৯৭৯

  • সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি সংক্রান্ত খাতভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় ২৭ সদস্যের ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

    রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বাণিজ্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সদস্য করা হয়েছে।

    এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রতিনিধিদের কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।

    উদ্যোক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেলকে সেক্টর স্পেশালিস্ট হিসেবে সদস্য করা হয়েছে। আরো একজন সেক্টর স্পেশালিস্ট সদস্য হিসেবে এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের রোডম্যাপ অনুমোদন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। একইসাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।

    বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির কার্যক্রমও পর্যালোচনা করবে এ কমিটি। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির প্রয়োজন অনুসারে সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। সে জীবনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চাই। ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • অনিয়ম-দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট স্বাস্থ্যের সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত

    অনিয়ম-দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট স্বাস্থ্যের সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত

    স্বাস্থ্য খাতের সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পুরোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্রায় সব সেক্টরেই অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে আসছিল। এখাতের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ছিল সীমাহীণ প্রশ্ন। সরকার এসব কিছু আমলে নিয়ে সব টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

    মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) পক্ষ থেকে টেন্ডার মূল্যায়নে একই ব্যক্তি একাধিক কমিটিতে দফায় দফায় থাকা এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ করার অভিযোগ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিএমএসডি, নিমিউসহ সংশ্লিষ্ট অধীনস্থ সংস্থার প্রধানরা বৈঠকে বসেন।

    সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা দরকার। পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পরিবর্তন-পরিবর্ধন আনা প্রয়োজন। এজন্য তারা ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করা হবে। সমস্যা থাকলে তা সমাধানের পর টেন্ডার কার্যক্রম চালু করবে সরকার।

    প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুটি কয়েক ব্যক্তি ঘুরেফিরে বিভিন্ন হাসপাতালের টেন্ডার মূল্যায়ন করেন। যার কারণে অসদুপায়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেন। এসব কিছু খতিয়ে দেখতে এবং দুর্নীতি তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সরকার এ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • ছেলে ডাক্তার, ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাস

    ছেলে ডাক্তার, ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ছেলেকে ডাক্তার, মেয়েকে নার্স বানিয়ে ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে নিজের অপূর্ণতা পূর্ণ করলেন এক বাবা।

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন আলী আকবর। জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

    ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়ার বাসিন্দা আলী আকবর।

    ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ।

    মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ।

    আলী আকবর জানান, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে একসময় পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। কিন্তু লেখাপড়া করার স্বপ্ন ৫৪ বছর তাড়া করেছে তাকে।

    তিনি বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালান। এখন তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আবার পড়াশোনা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে প্রথমবারেই এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি।

    বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। সফল হতে হলে প্রয়োজন মনোবল, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলন।

    আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, বাবার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করার। আমাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। এখন তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। বাবাকে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি করানো হবে।

    স্থানীয়দের মধ্যে, আলী আকবরের এসএসসি পাস নিয়ে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গ্রামজুড়ে আলোচনায় এখন তিনি।

  • পোশাকের বাইরে নিউজিল্যান্ডে ওষুধ ও আইটি পণ্যের বাজার চায় বাংলাদেশ

    পোশাকের বাইরে নিউজিল্যান্ডে ওষুধ ও আইটি পণ্যের বাজার চায় বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি এখনও মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। এই নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, পাট, চামড়া ও টেকসই বস্ত্রসহ অ-পোশাক পণ্যের বাজার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবুজ জ্বালানি ও কোল্ড-চেইন খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

    এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি সংযোগ, ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠক এবং সরকারি পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বিজনেস কাউন্সিল গঠন এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    সোমবার (১১ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠকে এনজেডটিই-এর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

    বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের রফতানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ মূলত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য আমদানি করে।

    এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে অ-পোশাক পণ্যের রফতানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরিতে এনজেডটিই-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    ওষুধ ও ভ্যাকসিন রফতানিতে আগ্রহ

    বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান ও সনদ অনুসরণ করে উৎপাদন করছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য ও ওষুধের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ বাড়ানোর আগ্রহ জানানো হয়।

    আইটি খাতেও বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেও সম্ভাবনাময় রফতানি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, দেশে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক এবং ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

    শুধু রফতানি নয়, বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকা সুযোগ-সুবিধাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু স্থানীয় বাজার নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ নিতে পারে।

    আলোচনাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এনজেডটিই-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রফতানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন।

    তৃতীয়ত, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এম এফ এ টি) সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা।

    এ ছাড়া দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একটি দ্বিপাক্ষিক বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য মেলা আয়োজন এবং একে অপরের দেশে অনুষ্ঠিত মেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বড় বাজারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি, কৃষি ও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দক্ষতাকে যুক্ত করে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

    ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন। পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে স্বামীর মৃত্যু হয়।

    নিহতরা হলেন যশোর চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬) এবং তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুন (৩৩)। বর্তমানে নিহত আব্দুর রশিদ চৌগাছা পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহত আব্দুর রশিদ দীর্ঘ

    দিন যাবৎ প্রবাসী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রশিদ রোববার সকালে মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রী সাবিরা খাতুনকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর শহরের দিকে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যশোর সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাবিরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

    এরপর স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

    স্বজনরা জানান, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা আর হলো না। দুর্ঘটনাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল ও বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতয়ালী থানার ওসি মাছুম খান।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি শিশু।

    রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৭৫টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৭৩টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৮। এই সময়ে ৯৩৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪২টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সাথে পরীক্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। এ বছর বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নিয়ে এসেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন এবং মারা গেছে ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০ হাজার ৮২৭ জন; এ বয়সী মারা গেছে ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৩৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। ২০২৫ সালে যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এতে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার তুলনায় বর্তমান বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটোই কম।

    ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় এডিস মশা ধ্বংস করা। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই আমাদের সবার উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যাতে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি জমে না থাকে। এডিস মশা ধ্বংসে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরে

    র তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।

    পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।

  • দেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা

    দেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা

    বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ‘অবশিষ্টাংশ’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন এক গবেষণায়। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) এ গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু নমুনা ছিল, যেখানে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যবহার এ সমস্যার মূল কারণ। প্রাণীর শরীরে প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা না করলে জবাই করার পরও মাংসে এসব ওষুধের অংশ থেকে যেতে পারে। এই অবশিষ্ট অংশ মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলা হয়। ফলে এসব অঞ্চলে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়ার ঘটনা বিরল। কিন্তু উন্নয়নশীল অঞ্চলে এর প্রকোপ কতটা, সেটা নিয়ে খুব একটা তথ্য নেই। এসব দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি নিয়ে সচেতনতাও কম।

    এই বাস্তবতা সামনে রেখে গবেষণাটি চালায় রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১-২২ সালে এসব দেশের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

    নমুনা মাংস পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড।

    মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি।

    কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

    গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

    অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, “আশা করি, এ গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।” ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

  • সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে এ বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ ও হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া দুই শিশু হলো মো. এহসানুল ও আয়ান। এছাড়া নিহত নারী বর্ণা রাণী। এর মধ্যে এহসানুলের বয়স ৩ বছর ৪ মাস, আয়ানের বয়স ৮ মাস ও বর্ণা রাণীর বয়স ১৮ বছর।

    এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন এবং এই সময়ে ৯১ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রোববার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত এ বিভাগে মোট ৮২৭ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে। বাকিরা সন্দেহভাজন।

  • গ্রামেই গড়ে উঠবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    গ্রামেই গড়ে উঠবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের গ্রামাঞ্চলে ‘হেলথ হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার (৮ আগস্ট) সকালে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

    হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে চাঁদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নুর আলম দীনকে স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ভঙ্গুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই সময়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম অতিরিক্ত দামে কেনার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা সামনে আসে। সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান

    মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ঐতিহ্য, পেশাগত সক্ষমতা ও মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি।

    ড্যাব দেশের চিকিৎসক সমাজের মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

    শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে ড্যাবের সব সদস্য ও দেশের চিকিৎসক সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ দেশের চিকিৎসক সমাজের মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

    তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঐতিহ্য, পেশাগত সক্ষমতা ও মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও চিকিৎসকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ড্যাবের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংগঠনের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

    এর আগে সকালে এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

    ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

  • মাথা ব্যথায় চা-কফি কতটা উপকারী

    মাথা ব্যথায় চা-কফি কতটা উপকারী

    ব্যস্ত জীবনযাপন, কর্মক্ষেত্রের চাপ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপ—এসব কারণে মাথা ব্যথা অনেকের নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মাথা ধরলেই কেউ কেউ এক কাপ গরম চা, আবার কেউ কফির ওপর নির্ভর করেন। এমনকি নিয়মিত কফি পান করেন এমন অনেকের ক্ষেত্রে সকালে কফি না খেলেও মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে।

    তবে মাথা ব্যথা কমাতে চা বা কফি কতটা কার্যকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে মাথা ব্যথার ধরন, ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ এবং ব্যক্তির দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর।

    ক্যাফেইন কেন মাথা ব্যথা কমাতে পারে

    চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উত্তেজক উপাদান। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। মাইগ্রেনের প্রাথমিক পর্যায় কিংবা টেনশন-টাইপ মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণ ক্যাফেইন কিছু মানুষের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    এ কারণেই কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথানাশক ওষুধে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়। ক্যাফেইন এসব ওষুধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ব্যথা দ্রুত উপশমে সহায়তা করতে পারে। তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব এক রকম নয়।

    অতিরিক্ত ক্যাফেইনে বাড়তে পারে মাথা ব্যথা

    মাথা ব্যথা হলেই বারবার চা বা কফি পান করলে দ্রুত আরাম মিলবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে রিবাউন্ড হেডেক বা ওষুধ-অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    নিয়মিত বেশি পরিমাণে চা

    বা কফি পান করলে শরীর ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। ফলে হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে উইথড্রয়ালের কারণে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও বিরক্তিভাব দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ যে ক্যাফেইন একসময় মাথা ব্যথা কমাতে সহায়তা করছিল, অতিরিক্ত অভ্যাসের কারণে সেটিই পরবর্তী সময়ে ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    সব ধরনের মাথা ব্যথায় কফি সমাধান নয়

    সব ধরনের মাথা ব্যথায় চা বা কফি সমানভাবে কার্যকর নয়। পানিশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ, সাইনাসের সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাথা ব্যথা হলে শুধু কফি পান করে সমস্যার সমাধান হবে না।

    আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন উদ্বেগ বাড়াতে, হৃদস্পন্দন দ্রুত করতে কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এসব কারণেও মাথা ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

    মাথা ব্যথা হলে যা করতে পারেন

    মাথা ব্যথা শুরু হলে প্রথমে শরীরে পানিশূন্যতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সম্ভব হলে কিছুক্ষণ শান্ত ও কম আলোযুক্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন।

    দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলেও চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়তে পারে। তাই মাথা ব্যথার সময় কিছুক্ষণ স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উপকারী।

    এ ছাড়া দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে সময়মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেও অনেকের মাথা ব্যথা হতে পারে।

    যেসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

    হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। মাথা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা কিংবা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

    এ ছাড়া নিয়মিত মাথা ব্যথা হলে, ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের পরও ব্যথা না কমলে কিংবা মাথা ব্যথার ধরন হঠাৎ পরিবর্তিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    পরিমিত ক্যাফেইনই ভালো

    মাথা ব্যথার শুরুতে এক কাপ চা বা কফি কিছু মানুষের সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এটিকে মাথা ব্যথার স্থায়ী চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে বরং মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    তাই মাথা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে পরিমিত চা-কফি পান করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

  • রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ; প্রধানমন্ত্রী

    রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ; প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সচেতনতা ও মতাদর্শগত অবস্থান স্বাভাবিক বিষয়। তবে রাজনীতি করতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত থাকতে পারেন। এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই।

    তবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে নিজ নিজ পেশার দায়িত্ব পালনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

    জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    ‘ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতি পেয়েছি’

    চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ধ্বংসস্তূপের মতো একটি পরিস্থিতি পেয়েছে।

    ‘দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা’—সব মিলিয়ে কঠিন একটি পরিস্থিতি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে। এর জন্য সময় প্রয়োজন এবং সব খাতকে ধীরে ধীরে পুনর্গঠন করতে হবে।

    বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কথাও স্বীকার

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, মানুষ যে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কষ্ট ভোগ করছে, সরকার তা জানে। তবে সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ায় এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

  • কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

    কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সড়কের ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে মধু মিয়া (৫৮) নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মধু মিয়ার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    নিহত মধু মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত হরমুজ আলীর ছেলে।

    শনিবার নিহতের স্ত্রী সাফিয়া বেগম জানান, গত ২৬ জুলাই সকালে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে ও মধু মিয়ার আপন চাচাতো ভাই আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে তার স্ত্রী, ছয় ছেলে-মেয়ে, ছেলের স্ত্রীসহ ১০ জন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদাঘাট-সুন্দর পাহাড়ি সড়কের ওপর মধু মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে আসেন তিনি। এ সময় আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যরা রামদা দিয়ে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। একই ঘটনায় মধু মিয়ার ছেলে শের আলী, ভাই আবু ছালাম ও কাশেম এবং কাশেমের ছেলে বিপ্লবও আহত হন।

    ঘটনার পর আহত চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধু মিয়া ও তার ভাই কাশেমের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ২৬ জুলাই বিকালে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মধু মিয়ার মৃত্যু হয়।

    তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবু ছালাম বাদী হয়ে আব্দুল হাইকে প্রধান করে নয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ জনসহ মোট ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

    মধু মিয়ার প্রতিবেশী হুমায়ুন জানান, সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে হাওরে থাকা ৫৫ শতক দুই ফসলি জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এ নিয়ে আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল হাইয়ের মোবাইলে কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, থানায় রেকর্ড করা পূর্বের মামলার এজাহারের সঙ্গে হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

    অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

    করোনা ভাইরাসের টিকার পর এবার ফ্লু সারাতেও আশার আলো দেখাচ্ছে আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার এমআরএনএ টিকা।

    বিশ্বে প্রথম জিনগত উপাদান মেসেঞ্জার আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে এমন টিকা তৈরি করেছেন গবেষকেরা, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়ার মতো যে কোনও ধরনের ফ্লু ঠেকাতে কাজে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জিনগত উপাদান আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছিল কোভিডের প্রতিষেধকও। তখনই আশার আলো দেখেছিলেন গবেষকরা।

    তারা জানিয়েছিলেন, এই এমআরএনএ টিকা ভবিষ্যতে ক্যানসারের বিরুদ্ধেও কাজে আসতে পারে। সেই আশা যে খুব একটা ভিত্তিহীন ছিল না, তেমনই ইঙ্গিত মিলল আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার নতুন একটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফলে।

    মডার্নার তৈরি নতুন ফ্লু টিকায় এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। এই টিকা তৈরি হয়েছে প্রবীণদের জন্য। মডার্না জানিয়েছে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যই এই টিকা।

    বয়সকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাধারণ ফ্লু টিকায় সংক্রমণ ঠেকানো যায় না অনেক সময়। তাই মেসেঞ্জার আরএনএ দিয়েই টিকা তৈরি করা হয়েছে, যা শরীরকে আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্দীপিত করে।

    বিশ্বে প্রথমবার ফ্লুয়ের টিকা তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে। এখন যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরি করা হচ্ছে। টিকাটির নাম ‘এমফ্লুসিভা’।

    প্রাথমিক ভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের জন্য টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যেও টিকাটির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

    টিকাটির ট্রায়াল করে দেখা গিয়েছে, সাধারণ ফ্লু টিকার চেয়ে নতুন টিকাটি ভাইরাস ঠেকাতে অনেক বেশি সক্ষম। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক প্রজাতির সংক্রমণও এই টিকা ঠেকাতে পারবে বলে দাবি।

    ভারতের দিল্লির এমসের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বিশ্বে নিউমোনিয়ায় সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পাঁচ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষজন।

    তাদের মধ্যেই এই রোগে মৃত্যুর হার বেশি। দেশের যে-কোনও হাসপাতালে আইসিইউয়ের রোগীদের হিসেব নিলে দেখা যাবে, ৬৫-৭০ শতাংশ শয্যায় রয়েছেন নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত বয়স্কেরা।

    তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই ‘ইনভেসিভ নিউমোনিয়া’র রোগী। এতে রোগের জীবাণু রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে শরীরে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর সেপসিস হয়ে যায়।

    তাই বয়সকালে নিউমোনিয়া বিপজ্জনক। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই টিকাটি কার্যকর হলে প্রবীণদের ভাইরাসঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

  • হাম ও উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নিশ্চিত হামে দুইজন এবং হাম উপসর্গে দুইজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৭৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪০ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৭৬৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    জুলাই যোদ্ধার পাশে যশোর জেলা জামায়াত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় যোদ্ধা রাশেদ খান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শুক্রবার (৭ই আগস্ট) তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    একটি সূত্র জানায় গত ৪ আগস্ট সকালে যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে রাশেদ খানের বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

    হাসপাতালে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি আহত রাশেদ খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। তিনি মহান আল্লাহর কাছে রাশেদ খানের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

    এ সময় অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে যারা সাহসিকতার সঙ্গে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জুলাই বিপ্লবের আহত যোদ্ধাসহ সকল অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও খোঁজখবর অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার অন্যতম সমন্বয়ক সুয়াইব হুসাইন, সরোয়ার গাজী, আবু হুরায়রা এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মী।

    পরিদর্শন শেষে আহত রাশেদ খানের দ্রুত সুস্থতা, পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত সবাই মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করেন।

  • হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্যের স্তূপ দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    জনবল সংকট ও ২০০ রোগীর চাপ


    ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন:

    “হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স ও ডাক্তার—সব পদের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে।”

    হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ


    হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জট কমাতে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান সংসদ সদস্য। ইতোমধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (DO) চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাস হলেই ধাপে ধাপে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।

    জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জবাবদিহির অভাব ছিল, তবে এখন আমরা জবাবদিহির জায়গায় এসেছি। যে এলাকার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতাল বা রাস্তার এই দুরবস্থা থাকলে জনগণ তো জবাব চাইবেই। ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ফরিদপুরবাসী এখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

    ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (সিভিল সার্জন), মো. সোহরাব হোসেন (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক – সার্বিক), ফাতেমা ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার – প্রশাসন), কাজী ফারুক আহমেদ (উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর), এ এস এম আনিছুর রহমান (উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), মো. এহিয়াতুজ্জামান (উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।


  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ২১৮ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময় নতুন করে আরও ১ হাজার ২১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

  • দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যে কোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অবিলম্বে একটি পরিপত্র জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত জারি করা এক রুল আংশিক মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার বিষয় নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

    রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশ জারি করে সার্কুলার ইস্যু করেন। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর আক্রমণ বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি আসলে তাকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; পরবর্তীতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট আবেদন দায়ের করে।

  • খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বশোয়া গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় তার বাবা-মা নিকটবর্তী বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্রতিবেশী সৈকত শেখ (১৫) শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর পাংশা সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

    সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে পটেটো চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে সে কান্নাকাটি করতে করতে ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুকে ও তলপেটে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।

    পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

    অভিযুক্ত সৈকত শেখ বশোয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ এরশাদ শেখের ছেলে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায় এক চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

    এ সময়ে খেলাফত মজলিসের আমিরের সাথে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সানোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিষাক্ত খাদ্যে ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক পোলট্রি!

    বিষাক্ত খাদ্যে ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক পোলট্রি!

    আধুনিক বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার নামের একটি বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার দ্রুততর করতে পারে। বিষয়টি উঠে এসেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়। এই ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বিষক্রিয়া, রক্তে সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

    গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৩৫ বছরে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা মুরগির মধ্যে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে।

    গবেষকদের মতে, অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা বা দূষিত মুরগির মাংসে সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার সবচেয়ে বড় কারণও এটি। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ রোগী এক সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি কিছু গবেষণায় এই সংক্রমণের সঙ্গে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধিরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    ফুড হাইজিন সার্টিফিকেট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার সংক্রমণের কারণে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ডায়রিয়া, বমি ও তীব্র পেটব্যথাসহ এ সংক্রমণের রিপোর্ট হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

    গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিল্পকারখানার আদলে পরিচালিত বৃহৎ পোলট্রি খামারের পরিবেশে মুরগির মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে বাজারে পৌঁছানোর আগেই বিপুল সংখ্যক মুরগি সংক্রমিত হতে পারে।

    গবেষকদের ভাষ্য, নিবিড় খামার ব্যবস্থাপনাসহ মানুষের সৃষ্টি করা বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তন সংক্রামক রোগের উদ্ভব ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    তাদের মতে, এই ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনা এবং মুরগির মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ভালোভাবে রান্না করার বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৬ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৩৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জন।গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৬৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হামে।

  • জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

    জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

    দেশে গত জুলাই মাসে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

    বুধবার প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংস্থাটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০৬ জন পথচারী এবং ৫১ জন চালক ও পরিবহন সহকারী ছিলেন। একই সময়ে দেশে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন।

    সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৬৬টি শহরের সড়কে ঘটেছে। সংস্থাটি দুর্ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, সড়কের দুর্বল অবকাঠামো, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ব্যবহার এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৪৭ জন।

    সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১২ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি।

    সংস্থাটির মতে, সময়োপযোগী নীতিমালা, উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়েই দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিরোধীদলীয় নেতা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল টিম ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৫ আগষ্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৩ জন। এই হিসাব মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতারণা করছে; ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতারণা করছে; ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জুলাই ও জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে। গণভোট নিয়ে সরকার ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে জুলাই এবং আহত ও শহীদ পরিবারের কোনো মূল্য নেই। সরকার যদি স্বৈরাচারী আচরণ থেকে সরে না আসে, তাহলে আরেকটি জুলাই আসন্ন।’

    বুধবার ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। তাদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করতে হবে। এখনো অনেক যোদ্ধা ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেকে বিছানায় কষ্ট পাচ্ছেন। কিন্তু সরকার তাদের দিকে নজর দিচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের কোনো একক মাস্টারমাইন্ডে আমরা বিশ্বাস করি না। দিনমজুর থেকে শুরু করে দেশের সব নাগরিকই জুলাই আন্দোলনের অংশীদার।’

    শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অনেক আশার কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই আশার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এসব আশা কোন চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে, তার জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে। এমনকি সংসদেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘এখন শুধু আপনারা (বিএনপি) জাতির সামনে প্রতারক হিসেবে নিজেদের নিবন্ধিত করবেন।’

    বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে বলেই ফ্যাসিবাদ বলা হচ্ছে। এই আচরণ বন্ধ করলে জনগণ ফুল দিয়ে বরণ করবে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না।

  • গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জাতিসংঘের

    গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জাতিসংঘের

    গাজা উপত্যকায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, ‘আমরা বেসামরিক মানুষের সব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’

    তিনি জানান, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইসরাইলি হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এটি এক মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।

    ফারহান হক শুক্রবার আল-আকসা হাসপাতালের কাছে একটি চিকিৎসাসামগ্রীর গুদামে ইসরাইলি হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই হামলায় গুদামটি ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়।

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় কখনো হামলা চালানো বা এগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।’

    জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা গাজায় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন এবং হৃদ্‌রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণের মজুত কমে যাচ্ছে।

    ফারহান হক আরো বলেন, হাত পরিষ্কার রাখা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালকোহলভিত্তিক জীবাণুনাশকও এখন প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না।

    তিনি জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আরো অনেক চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশের জন্য ইসরাইলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার চিকিৎসাকেন্দ্র ও জরুরি সেবার অবকাঠামো সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

  • বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ ‘ভীমরতি’, নৈতিক স্খলন নাকি মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে বিরল রোগ?

    বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ ‘ভীমরতি’, নৈতিক স্খলন নাকি মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে বিরল রোগ?

    ধরা যাক, সেন্টুর (ছদ্মনাম) বয়স ৭০ বছর। হঠাৎ করেই তার বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠল। সুযোগ পেলেই তিনি পরিবারের কম বয়সি নারী সদস্যদের জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চুমু দেন, এমনকি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তাও বলেন। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে শুরু হয় তীব্র অস্বস্তি, ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝি। অনেকেই মন্তব্য করেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে মানুষটার চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে!’

    কিন্তু একজন স্নায়ু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার কাছে মাঝেমধ্যেই এমন রোগী আসেন। অভিযোগগুলো প্রায় একই রকম—অশালীন কথাবার্তা, অনুপযুক্ত অঙ্গভঙ্গি, নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীদের প্রতি অনভিপ্রেত যৌন আচরণ এবং সামাজিক সীমারেখা অতিক্রম করা।

    কিন্তু রোগীর অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র উঠে আসে।

    পরিবারের সদস্যরা বিস্ময়কর একটি তথ্য জানান। এই মানুষটিই কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন ও প্রৌঢ়—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরহেজগার, সৎ ও আত্মসংযমী। তার সততা ও শালীনতা ছিল পরিবারের গর্ব। জীবনের সাত দশকে তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ কখনোই ওঠেনি।

    তখন প্রথম প্রশ্ন আসে—এটি কি সত্যিই চরিত্রের পরিবর্তন, নাকি মস্তিষ্কের কোনো রোগের লক্ষণ?

    কারণ, বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ শুরু হওয়া এ ধরনের আচরণ অনেক সময় ডিসইনহিবিশন (Disinhibition) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোসাইকিয়াট্রিক উপসর্গের প্রকাশ হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ায় আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ফলে ব্যক্তি অশালীন কথা বলতে পারেন, যৌন আচরণে সংযম হারাতে পারেন, সামাজিক নিয়ম ভঙ্গ করতে পারেন, এমনকি নিজের আচরণ যে অনুপযুক্ত, সেটিও বুঝতে নাও পারেন (Stuss & Knight, 2013; Miller & Boeve, 2017)।ডিসইনহিবিশন কোনো রোগ নয়; এটি বিভিন্ন রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Behavioral Variant Frontotemporal Dementia (bvFTD)-এ। এছাড়া ফ্রন্টাল লোব স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কের টিউমার, আলঝেইমার রোগ, লিউই বডি ডিমেনশিয়া, হান্টিংটন রোগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ম্যানিক পর্ব, অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাব এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এ ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে (Rascovsky et al., 2011; American Psychiatric Association, 2022)।

    তাই কোনো বয়োবৃদ্ধ মানুষের আচরণে যদি হঠাৎ ও স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়, বিশেষ করে যার অতীত জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাহলে তাঁকে দ্রুত “চরিত্রহীন” বা “নৈতিকভাবে অধঃপতিত” বলে দাগিয়ে দেওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা জরুরি। Mental State Examination (MSE), স্নায়ুবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে MRI of the Brain রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে (Darby & Dickerson, 2017)।

    মনে রাখবেন—সব অনৈতিক বা সামাজিকভাবে অনুপযুক্ত আচরণ চরিত্রের ত্রুটি নয়; কখনও কখনও তা মস্তিষ্কের অসুস্থতার নীরব সংকেত। দ্রুত বিচার নয়, আগে প্রয়োজন সঠিক মূল্যায়ন।

    লেখক: ডা. মোহাম্মদ সাঈদ এনাম

    এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), এমফিল (সাইকিয়াট্রি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

    অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, মনোরোগবিদ্যা

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

    ইন্টারন্যাশনাল ফেলো, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন

    তথ্যসূত্র

    – American Psychiatric Association. Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM-5-TR). 5th ed. Text Revision. APA Publishing; 2022.

    – Darby RR, Dickerson BC. Continuum (Minneap Minn). 2017;23(2):440–456.

    – Miller BL, Boeve BF, eds. The Behavioral Neurology of Dementia. 2nd ed. Cambridge University Press; 2017.

    – Rascovsky K, Hodges JR, Knopman D, et al. Brain. 2011;134(9):2456–2477.

    – Stuss DT, Knight RT, eds. Principles of Frontal Lobe Function. 2nd ed. Oxford University Press; 2013.

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯ শিশু।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৫ শিশুর। আর নিশ্চিত হামে আরও ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৪৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত শিশুর সংখ্যা ৮৯৬। এই সময়ে ৮৬ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৯৯৮ শিশু।গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৩১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৩ শিশু, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ১৮৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • সিঁড়ি ভাঙলেই শ্বাসকষ্ট?

    সিঁড়ি ভাঙলেই শ্বাসকষ্ট?

    ফিচার:

    সিঁড়ি ভাঙা বা দ্রুত হাঁটার সময় অনেকেরই শ্বাসকষ্ট হয়। বয়স, অতিরিক্ত ওজন বা শারীরিক অনুশীলনের অভাবে এমনটা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে সহজে করা যেত এমন কাজ করতে গিয়ে যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা সময়ের সঙ্গে সমস্যা বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, পরিশ্রমের সময় শ্বাসকষ্ট হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, রক্তাল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি অনেক সময় হৃদরোগের প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়, এমনকি বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই।

    যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা রয়েছে বা যারা ধূমপান করেন, তাদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে চাপ, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ঘাম বা পা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    কীভাবে নির্ণয় করা হয় কারণ

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উপসর্গ দেখে শ্বাসকষ্টের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। রোগীর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য ইতিহাস জানার পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে রক্তচাপ, ইসিজি, বুকের এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন, রক্তে শর্করা, থাইরয়েড, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। হৃদরোগের সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্ট বা সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফির মতো পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষাও করা হয়।

    দ্রুত রোগ শনাক্তের গুরুত্ব

    চিকিৎসকদের মতে, বিশ্রামের পরও শ্বাসকষ্ট না কমা বা হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া গুরুতর লক্ষণ। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে হার্ট ফেলিওর, করোনারি ধমনীর রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের অসুখ, রক্তনালিতে জমাট বাঁধা এবং রক্তাল্পতার মতো সমস্যার চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়। এতে বড় ধরনের জটিলতা ও বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

    মুম্বাইয়ের নিউবার্গ অজয় শাহ ল্যাবরেটরির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. অজয় শাহ বলেন, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীর উপসর্গের ধরন, স্থায়িত্ব, তীব্রতা, জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

    অন্যদিকে, পুণের মণিপাল হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অভিজিৎ যোশীর মতে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে—বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিস রোগীদের—বুকে ব্যথার আগেই শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের প্রথম সতর্কবার্তা হতে পারে।

    মুম্বাইয়ের গ্লেনেগলস হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাহুল গুপ্তা বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের বড় ঝুঁকির কারণ। আগে সহজে করা যেত এমন কাজ করতে গিয়ে যদি এখন শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    অবহেলা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে নতুন করে বা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট চলতে থাকলে সেটিকে শুধুমাত্র বয়স বা দুর্বলতার ফল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    তারা আরও বলেন, স্মার্টওয়াচ বা নিজস্ব পর্যবেক্ষণ কখনো চিকিৎসকের মূল্যায়নের বিকল্প হতে পারে না। শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে বা তা বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বা জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  • প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

    প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

    বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ডিম অন্যতম জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। সহজলভ্য, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং রান্না সহজ হওয়ায় অনেকেরই প্রতিদিনের খাবারে থাকে ডিম। তবে নিয়মিত ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।

    হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, ডিম উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’-এর অন্যতম উৎস। একটি ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। তাঁর মতে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

    চোখের সুরক্ষায় সহায়ক

    ডা. শেঠির মতে, ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব উপাদান বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী

    ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত ধারণা

    ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির দাবি, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম শরীরের উপকারী বা এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।

    যারা ডিম খান না, তাদের জন্য টোফু ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই, তবে সেই তথ্যের কতটা সত্য আর কতটা গুজব, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যগুলো নারীদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্তন ক্যানসারের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও এমন অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যা বছরের পর বছর ধরে নারীরা বিশ্বাস করে আসছেন।

    সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ড. ক্রিস্টিন লাই স্তন ক্যানসার নিয়ে এমন কিছু বহুল প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভয় কখনো ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে না, বরং সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞানই পারে সচেতনতা বাড়াতে। ড. লাইয়ের মতে, ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যের ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ওপর নির্ভর করা উচিত।

    নিচে স্তন ক্যানসার নিয়ে ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের আলোচিত ৮টি ভুল ধারণা ও সেগুলোর প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলো:

    ১. অন্তর্বাস বা ব্রা পরলে কি ক্যানসার হয়?

    অনেক নারীই মনে করেন দীর্ঘক্ষণ ব্রা পরে থাকা, বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার ব্রা বা ব্রা পরে ঘুমানো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ড. লাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বাসের সাথে ক্যানসারের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। ক্যানসার অস্ট্রেলিয়ার তালিকাতেও এটিকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

    ২. কফি পান ও স্তনের ব্যথা

    অনেকে মনে করেন কফি খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যাফেইন পানের ফলে কিছু নারীর স্তন কিছুটা নরম বা পিণ্ডাকৃতির মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়, ক্যানসারের জন্য নয়। তাই ক্যানসারের ভয়ে প্রিয় পানীয়টি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

    ৩. চিনি কি ক্যানসারের খাবার?

    ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় মিথ হলো, চিনি ক্যানসারকে পুষ্ট করে। ড. লাইয়ের মতে, আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ বা চিনির ওপর নির্ভর করে চলে। কেবল চিনি বর্জন করলেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সুস্থ কোষগুলোকেও প্রভাবিত করবে। কার্বোহাইড্রেট বা চিনি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

    ৪. সয়াবিন জাতীয় খাবারের প্রভাব

    সয়াবিন, টফু বা সয়া মিল্ক স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলছে। সয়াবিনে থাকা উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন শরীরের প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে না এবং কিছু গবেষণায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবেও দেখা গেছে।

    ৫. স্তনের আকার ও ক্যানসার ঝুঁকি

    অনেকে বিশ্বাস করেন স্তনের আকার বড় হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ড. লাই জানিয়েছেন, স্তন ছোট বা বড় হওয়ার ওপর ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ভর করে না। এটি একটি শারীরিক গঠনগত বিষয় মাত্র।

    ৬. আঘাত বা ক্ষত থেকে ক্যানসার

    হঠাৎ কোথাও পড়ে যাওয়া বা গাড়ির সিটবেল্ট থেকে স্তনে কোনো আঘাত পেলে অনেকেই ক্যানসারের ভয় পান। ড. লাই জানান, আঘাতের ফলে স্তনে সাময়িকভাবে কোনো পিণ্ড বা দলা তৈরি হতে পারে যা নিরাময়যোগ্য, তবে এটি ক্যানসারে রূপান্তর হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

    ৭. গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ

    ১৬টি দেশের প্রায় ৮৩ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভপাতের সাথে স্তন ক্যানসারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যা কেবল মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে।

    ৮. আইভিএফ বা প্রজনন চিকিৎসা

    অনেকের ধারণা আইভিএফ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোনগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ড. লাইয়ের মতে, এই চিকিৎসার সাথে ক্যানসারের ঝুঁকির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি, তাই যারা আইভিএফ করার কথা ভাবছেন তাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

    শেষ কথা

    ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্য হলো নারীদের মন থেকে ভয় দূর করা, ভয় বাড়িয়ে দেওয়া নয়’। স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত চেকআপ করানোই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়। ভুল তথ্যের মায়াজাল ছিন্ন করে সঠিক জ্ঞানে সচেতন হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

  • ওয়াশিংটনে দাবানলে ৬০০ স্থাপনা পুড়ে ছাই

    ওয়াশিংটনে দাবানলে ৬০০ স্থাপনা পুড়ে ছাই

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেইন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি স্থাপনা ধ্বংস এবং ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে দাবানলে ৮.২ বর্গমাইল এলাকা পুড়লেও ওয়াশিংটন জুড়েই প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলো। দাবানলের তীব্রতা এতটাই বেশি যে একটি ভেটেরানস হাসপাতালের রোগীদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে।

    আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগামী দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং স্পোকেইনের কনভেনশন সেন্টারে একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

    ওল্ড ট্রেইলস, ফেয়ারভিউ ও মিডউভিউসহ কয়েকটি সক্রিয় দাবানলের কারণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে হাজার হাজার মানুষ এবং ইউটিলিটি লাইন মেরামতের কাজ চলছে।

    এদিকে স্পোকেইন ছাড়াও পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনে বজ্রপাতে সৃষ্ট আরেকটি বিশাল দাবানল গত ১০ দিন ধরে ৫২৫ বর্গমাইল তৃণভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে, যা শত শত বাড়ি ও গবাদি পশুর খামারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ওই অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস একাধিক রাজ্যে বায়ুমানের অবনতি, চরম তাপপ্রবাহ এবং রেড ফ্ল্যাগ ফায়ার সতর্কতা জারি করেছে।

  • চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

    চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

    যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবরটি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

    তিনি বলেন, ‘রোববার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই। আজ বিকেল পাঁচটায় তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।’

    ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তার চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেনি। পরে চিকিৎসক জানান, তার ব্রেন ক্যানসারের কথা।

    পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

    লিটন এরশাদ বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে ওঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তার মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাকে দেশে আনা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’

    কতদিন দেশে থাকবেন—এ প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সম্ববত ৭ থেকে ১০ দিন দেশে অবস্থান করবেন। এরপর আবার যুক্তরাজ্যে যাবেন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের দংশনে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজের কাছে ভুল চিকিৎসা ও সময় অপচয় করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের আল আমিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং স্থানীয় ঘোলদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহকে একটি বিষধর সাপ দংশন করে। তবে অন্ধকার থাকায় পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় স্বজনরা তাকে তড়িঘড়ি করে গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ওই কবিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাপে কাটেনি বলে দাবি করেন।

    যন্ত্রণা আরো বাড়লে তাকে দ্বিতীয় আরেক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে সময়মতো হাসপাতালে না নেয়াতেই এমন মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

  • হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কী পরিমাণ আর্থিক ভার বইতে হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

    পৌনে তিন হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত এই মূল্যায়ন জরিপে দেখা গেছে, হামের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে।

    পাশাপাশি প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টিকেই (প্রায় ৬১ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ চালিয়েছে।

    সোমবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

    জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৪ বছরের নিচে। এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী রয়েছে ৬ শতাংশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে ব্যয় করেছে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই বলেছে, ধকল সামলে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

    এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে ওষুধের কথা বলেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।

    পেশাগত তথ্য দেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

    অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে অনেকে আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।

    রংপুরের হাজেরা খাতুন গত জুন মাসে তার ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। মেয়ের হামের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তাদের ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

    হাজেরা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও এর বাইরে অনেক খরচ থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

    প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে, সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।

    “আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে,” বলেন হাজেরা।

    জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা) দেওয়ার জন্য নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, “এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।

    “আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

    বাংলাদেশে আইএফআরসি এর হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, “হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে।

    “এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা–দুটোই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।”

    আইএফআরসি ও অংশীজনদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে বিডিআরসিএস।

    পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৮৪৭

    হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, মৃত্যু বেড়ে ৮৪৭

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮০ জন রোগীর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আজ সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একদিনে হাম ও হামের উপসর্গের নতুন রোগী ১ হাজার ৮০ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৫১ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪০৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮০ জন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়– গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৮ জন, খুলনা বিভাগে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, রংপুর বিভাগে ৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    আর চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।

  • গরম পানি পানে কী পেটের চর্বি কমে?

    গরম পানি পানে কী পেটের চর্বি কমে?

    ওজন কমাতে, পেটের মেদ দূর করতে অনেকেই গরম পানি পান করেন। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস গরম পানি পান করলে কী আসলেই পেটের চর্বি কমে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এই ধারণার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গরম পানি সরাসরি শরীরের চর্বি গলিয়ে দেয় বা শুধু গরম পানি পানেই পেটের চর্বি কমে যায়, এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে।

    গরম পানি সরাসরি ওজন কমায় না, তবুও এর কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীরের পর্যাপ্ত জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। হজম প্রক্রিয়াকে কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরার অনুভূতি দিতেও সাহায্য করে গরম পানি। ফলে নিয়মিত গরম পানি পানে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া গরম পানি গলা ও পরিপাকতন্ত্রে আরামও দিতে পারে।

    ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. অভিদীপ্ত হাজরার মতে, পেটের চর্বি কমানোর জন্য কোনো একটি খাবার বা পানীয়ের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ এই চারটি বিষয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সংক্ষিপ্ত পদ্ধতির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্থায়ী সমাধান।

    ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা উচিত। তেল-চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।

  • জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত

    জুতা-মোজা থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত

    ষড়ঋতুর সবসময়ই জুতা পরতে হয়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ—যে ঋতুই হোক, পায়ে জুতা-মোজা পরা ছাড়া তো চলবে না। বিশেষ করে, কর্মজীবী পুরুষ ও নারীদের প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়। তবে বর্ষাকালে যাদের জুতা পরে বাইরে হাঁটতে হয়, তাদের ভোগান্তির অন্ত নেই।

    কাদা ও বৃষ্টির পানিতে জুতা ময়লা হওয়ার সমস্যা প্রকট হয়। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো জুতা-মোজার দুর্গন্ধ। তবে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি এর সমাধানও আছে। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে নিচে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো।

    * প্রতিদিন একই জোড়া জুতা না পরে পালা করে পরতে পারেন। এতে কিছুটা সমাধান মিলতে পারে।

    * মোজা পরার আগে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন।

    * সাধারণত পা ঘামার প্রবণতা থাকলেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। ঘামে ভেজা স্যাঁতসেঁতে পায়ে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার দ্রুত হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে দুর্গন্ধও বাড়তে থাকে। তাই অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পাউডার লাগিয়ে নিলে এ সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

    * বাড়ি ফিরে লবণ মেশানো কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন।

    * স্ক্রাব করে পায়ের মৃত কোষ সরিয়ে ফেললেও দুর্গন্ধ কমবে।

    * প্রতিদিন একই মোজা না পরে পালা করে পরলেও কিছুটা সমাধান মিলতে পারে। সবসময় পরিষ্কার মোজা পরা উচিত। আর ত্বক সংবেদনশীল হলে মোজা একদিনের বেশি না পরাই ভালো।

    * দীর্ঘ সময় জুতা বা মোজা পরে না থেকে মাঝেমধ্যে জুতা খুলে পায়ের পাতায় বাতাস লাগালে দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

    * বাইরে থেকে ঘরে ফিরে মোজা বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। আর সাবান-পানিতে ধোয়ার পরও ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে, নইলে দুর্গন্ধ ফিরে আসবে।

    * জুতা বদ্ধ জায়গায় না রেখে আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখা উচিত।

    * অনেকক্ষণ জুতা পরে থাকতে হলে ফিতা আলগা করে বাঁধতে পারেন, যাতে সুযোগ পেলেই জুতা খুলে ফেলা যায় এবং আবার সহজে পরা যায়।

    * সিনথেটিক মোজা পায়ের দুর্গন্ধ বাড়ায়। তাই এ ধরনের মোজা পরা থেকে বিরত থাকুন; সুতি মোজা পরুন।

    * বর্তমানে বাজারে পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার বিভিন্ন সুগন্ধি পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের প্রতি যত্নবান হলে দুর্গন্ধ সহজেই এড়ানো যায়।

  • সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভিমরুলের কামড়ে রাফসান (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু রাফসান ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকার আরশাদ আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের উঠানে খেলার সময় রাফসান একটি পাতাযুক্ত ডাল টান দেয়। এতে ঝোপের ভেতরে থাকা ভিমরুলের চাক থেকে অসংখ্য ভিমরুল বের হয়ে তাকে একযোগে আক্রমণ করে। এতে শিশুটির চোখ-মুখ ফুলে লাল হয়ে যায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। পরে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: সাবিনা জানান, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিমরুলের কামড়ে রাফসান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪২৩ জন।

    রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯, ঢাকা বিভাগে ১৫৪, খুলনা বিভাগে ৮১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬, রাজশাহী বিভাগে ২৯, রংপুর বিভাগে ১৬ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    লতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৬ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • দিনভর শক্তি পেতে সকালে যা খাবেন

    দিনভর শক্তি পেতে সকালে যা খাবেন

    সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়, বাড়ায় কর্মক্ষমতা এবং কমায় নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। অথচ অনেকেই সকালের নাশতা এড়িয়ে যান বা পুষ্টির বদলে স্বাদকে প্রাধান্য দেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন—এই তিনটি বিষয়ই সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সকালের খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে দুর্বলতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং বিভিন্ন পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    সকালে খালি পেটে যেসব খাবার উপকারী:লেবু ও মধু মেশানো পানি:
    ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু ও মধু মিশিয়ে পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে। যাদের লেবুতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা শুধু মধু মিশিয়ে পানি পান করতে পারেন। মধুতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও এনজাইম শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করে।

    ভেজানো কাঠবাদাম:
    সারারাত ভিজিয়ে রাখা কয়েকটি কাঠবাদাম সকালে খালি পেটে খেলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায়। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-ই, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

    ডিম:
    সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম বা অমলেট রাখা ভালো। ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে এবং শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়।ওটস ও পাকা কলার পরিজ:
    ওটস ও পাকা কলা দিয়ে তৈরি পরিজ স্বাস্থ্যকর সকালের খাবার হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। চাইলে এতে সামান্য দুধ, মধু বা গুড় এবং বাদাম যোগ করা যেতে পারে।

    তাজা ফল:
    সকালের নাশতায় মৌসুমি ফল রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ফল খেলে শরীর দ্রুত ভিটামিন, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শক্তি পায়। এতে সারাদিন সতেজ থাকা সহজ হয়।

  • হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৩৭ শিশু। রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম–সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৪৮ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৬ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ২২। এই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৮৬ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৬ হাজার ২৯৫ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ রোগী, যার মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন বাড়ি ফিরেছে।