শিরোনাম

  • মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    বিয়ে করলেন সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘চ্যানেল আই বাংলার গান ২০১৬’র চ্যাম্পিয়ন শারমিন আক্তার ও সংগীতশিল্পী সাব্বির কোরাইশী। গতকাল সোমবার রাজধানীর গাউসুল আজম মসজিদে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের সুখবরটি দিলেন শারমিন আক্তার নিজেই।

    জানান, দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

    গায়িকা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করলাম। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।’

    শারমিন আরও বলেন, ‘বিয়ে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। নতুন দায়িত্ব, নতুন সম্পর্ক- সব মিলিয়ে অনুভূতিটা অন্যরকম। পরিবার ও কাছের মানুষদের ভালোবাসা এবং দোয়া নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করেছি। সবার কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই।’

  • ‘তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!’

    ‘তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!’

    শোবিজের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সক্রিয়। ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে নিয়মিতই মত প্রকাশ করে থাকেন এই মাধ্যমে।

    গতকাল মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। বিষয়টি স্মরণ করে প্রধান সড়কে মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া।

    আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, ‘গতকাল ঠিক যে সময়ে আমি আইইউবি থেকে মাস্টার্স শেষ করার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময়ই আইইউবি-এর আরেকজন ছাত্র ওলি নুর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছিলেন। আমাদের সরকার, আইনপ্রণেতা আর প্রশাসনের চেয়ে কি মোটরচালিত রিকশা চালকেরা বেশি শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না? আমাদের এই চাওয়াটা তো বহুদিনের, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দেখতে চাই না। এটা কি খুব বড় কোনো দাবি?’

    কয়েক দিন আগের একটি ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছুদিন আগে ৩০০ ফিটের একটা ভিডিও দেখছিলাম। এআই ক্যামেরা বসানোর পর রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গাড়িচালকেরা সিগন্যাল মেনে থামছেন। ভাবছিলাম, প্রযুক্তি এই কয়েকদিনের মধ্যে মানুষের আচরণ কি চমৎকারভাবে বদলে দিতে পারে, আর তখনই চোখে পড়ে আমাদের “বিশেষ” কিছু মোটররিকশা চালক। গাড়ি থেমে আছে, সিগন্যাল লাল, কিন্তু তারা দিব্যি চলে যাচ্ছে। তাদের আবার কিসের সিগন্যাল? তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু তারা পারেন না!’

    বহুদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে অথচ বাস্তবায়ন নেই। একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, ‘ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং ও রুট নির্ধারণের কথা বহুদিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফারাক, তার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রশ্ন হলো, নুরের মতো আর কতজনের মৃত্যুর পর একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? আর কত পরিবার তাদের সন্তান, স্বামী, বাবা কিংবা ভাইকে হারানোর পর আমরা বলব, “দুঃখজনক দুর্ঘটনা?” না কি শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলে তবেই আমাদের পলিসি মেকারদের মনে হবে, এবার কিছু একটা করা দরকার?’

    মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ করে কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছেন না শবনম ফারিয়া। বরং আইনসম্মত-নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার পক্ষে তার মত। তিনি বলেন, ‘কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছি না। আমরা চাই- নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে কোনো গোষ্ঠীর রাস্তার ওপর প্রভাব যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু সড়ক নিরাপত্তার থাকে না, প্রশ্নটা হয়ে যায়, এই শহরের রাস্তায় আসলে কার অধিকার বেশি? আর কত মৃত্যু লাগবে উত্তরটা পাওয়ার জন্য?’

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুজন প্রার্থীর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট (বৃহম্পতিবার) প্রায় ৩৫ বছর পরে দেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়।

    বিকেল চারটার পরে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে ভোটের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

    ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ প্রতদ্বিন্দ্বিতা করছেন।

    ইসি সচিব বলেন, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোটগ্রহণের পদ্ধতিটা সম্পর্কে জানাবেন।

    ইসি সচিব জানান, আজই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে সংসদ সদস্য ব্যালট গ্রহণ করবেন।

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটা স্পেসে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটটা গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম প্রিন্ট করা থাকবে এবং প্রিন্টের পাশে ডানদিকে স্পেস থাকবে যেখানে তাঁরা সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে তাঁরা ব্যালট পেপারটা জমা দিবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ৫টার পরে ব্যালট কাউন্ট করা হবে। ব্যালটের রঙটা হচ্ছে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।’

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন এমপি। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

  • মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    ২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে—এমটিই দাবি করেছেন
    সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আপনি একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন, যেখানে ২০২৪ সালে একটি সরকার গঠিত হতে পারে। তার একটি রূপরেখা আপনি দিয়েছিলেন। কারা কারা থাকতে পারে তাও কি দিয়েছিলেন—মনিরুল ইসলামের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি।

    জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ এবং যাদের নাম ওখানে উল্লেখ ছিল, তারা অনেকেই উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারপার্সন, চেয়ারম্যান হয়েছেন বা সদস্য হয়েছেন। বাকিরা না হলেও যেমন দুই একটা পত্রিকার সম্পাদকেরও নাম ছিল। পরবর্তীতে যদিও তারা শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি। তারাও এই কলঙ্কিত সরকারের, মানে এই করাপটিং এজেন্টদের হামলার শিকার হয়েছেন তাদের নামও ওখানে ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘২৩ সালে যখন বিভিন্ন জনের নামে ভিসা স্যাংশন হলো। ভিসা স্যাংশন দেবে যারা এইরকম একটা, মে মাসের শেষ দিকে ইউএস গভর্মেন্ট ইস্যু করে বা ইউএস অ্যাম্বাসি, ঢাকা ইস্যু করে। সেটার দুই একদিন আগে আমি আরেকটা রিপোর্ট দিই যে, একটা কিছু আসছে। এই বিষয়টা আমরা অবহিত ছিলাম এবং কোন কোন দেশ এটার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে। এই রিপোর্টটা যেকোনোভাবে মনে হয়, আমার কোনো ডিভাইসে থেকে গিয়েছিল। রিপোর্টটা আমি পরে মিলিয়ে দেখলাম। যেহেতু ২০২৩ সালের ঘটনা, মানে এটা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসের দিকে আমি রিপোর্টটা রিট্রিভ করতে পারি। রিপোর্টের কপিটা যেহেতু ড্রাফট, কপিটা দেখলাম, বলা যায় যে, কম বেশি ৯০ ভাগ মিলে গেছে।’

    সরকারের রেসপন্স কী ছিল সেই রিপোর্টের পরে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যেহেতু আর আমি সরকারি চাকরিতে নেই, এখন তো বলাই যায়। আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন। এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় যেটা শেয়ার করা যায় সেটি হলো—রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ড. ইউনূস বয়সজনিত কারণে, তখন আমার বক্তব্য ছিল জাতীয় সরকার। কিন্তু হয়েছে ইন্টেরিম সরকার বাদবাকি সব মিলে গেছে। তিনি হয়তো বয়সজনিত কারণে সরাসরি নিজে থাকবেন না। তার প্রতিনিধি হিসেবে দুই তিনজনের নাম ছিল। যে এদের কাউকে এই জাতীয় সরকারের প্রধান করতে পারেন ডি পলিটিসাইজেশন যেটা আর কি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) পুরো রিপোর্টটা পড়েছিলেন, বোধহয় সাত আট পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট। এটা একটা গবেষণা পত্রের মতো বলতে পারেন। তো উনি পুরোটা পড়লেন। পড়ে ওই জায়গায় এসে উনি আমাকে বললেন—তুমি জানো না ইউনূসের মতো লোভী লোক, ক্ষমতালোভী। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন। তখন আমার একটু খটকা লেগেছিল। কারণ আমি ড. ইউনূসকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। তার সাথে কখনো আমার কথা হয়নি। তার কোনো সভা সেমিনারে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আমি দূর থেকে দেখেছি। কিন্তু আমি আসলে তাকে ওই সময়ও চিনতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ওই সময় আমাকে বলেছিলেন যে, তুমি চিনো না ওনারে, ওনার মতো লোভী লোক, উনি মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না। ওই এটা মূল হবে দেখবা, যদি এরকম একটা কিছু হয়। সেই কথাটা পরবর্তীতে আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আসলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ড. ইউনূসকে চিনতে পেরেছিলেন। যে এরকম একটা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার।’

    উনি (শেখ হাসিনা) জানতে পারলেন, আপনারা রিপোর্ট দিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন উনি (হাসিনা) পুরোপুরি রিপোর্টটা এনডোর্স করেছিলেন এবং একনলেজও করছিলেন বেশিরভাগ পয়েন্টসের সঙ্গে। এটা প্রেডিকশন ছিল যে, ইলেকশনটাই হতে দেবে না ২০২৪-এর। এই ইলেকশনের আগে বা পরে এটা হবে। ইলেকশনটা তো আসলে হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত এবং ইলেকশনের আগে এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে যেটা মিলিয়ে দেখেছি সেটা হল—২৮শে অক্টোবর ২০২৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশ। ওইটাকে টার্গেট করে, যেহেতু ওটা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। কন্ট্রোল করে ফেলার কারণে ওই ছকটা, ওই ব্লু-প্রিন্টটা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে ইলেকশন পর্যন্ত সরকার এবং মানে সরকারি দল এবং মানে গভর্মেন্ট মেশিনারি যারা ছিল গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই, কিন্তু ইলেকশনটা হয়ে গেল। নতুন সরকার হয়ে যাওয়ার কারণে তখন কিছুটা কমপ্লেসেন্ট হয়ে গিয়েছিল।’

    গা ছেড়ে দিয়েছিল? প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি। তিনি বলেন, ‘গা ছেড়ে দিয়েছিল সেটা বললেই বোধহয় ভালো হয়। আন্দোলন হইলেও তিন বছর পরে চতুর্থ বছর বা শেষ বছরে গিয়ে আন্দোলন হবে। এটাই তো আসলে আমরা রেওয়াজ দেখেছি। ওই রকম একটা গা ছাড়া ভাব আসলে চলে এসেছিল। এই কমপ্লেসেন্সির কারণেই তখন অনেকে বলেছে যে, এই সরকার টিকবে। কিন্তু আমরা মিলাতে পারিনি। পরবর্তীতে মিলাতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি, আসলে এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। এই যে ডিপ স্টেট যেটা বলা হয়, এই কথিত ডিপ স্টেট এইটা তো অফিশিয়াল কিছু না, অফিশিয়াল না, আবার অফিশিয়ালও। এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ থেকে। আমরা দেখেছি সাত আটে এটা ফেল করল। ফেল করার পর তারা দেখেছে এবং তারা চিন্তা করেছে যে, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন করতে হবে। তারা মনে করেছিল ২০১৮ তে এই সরকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। ইলেকশনের মাধ্যমে ২০১৮ সরকার দেখলো যে, এই সরকারকে ইলেকশনের মাধ্যমে আউট করা সম্ভব নয়।’

    সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিপ স্টেট তাদের গবেষণায় এবং তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছিল এবং তাদের লোক তো নানা স্তরে ছড়ানো ছিটানো ছিলই। দেখেছিল যে রাজনৈতিক দলের পক্ষে সরকারের পতন ঘটানো অর্থাৎ কনভেনশনাল সরকারের পতন ঘটানো ও কনভেনশনাল মুভমেন্ট এর মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না। সেই কারণেই দুটো আন্দোলনকে তারা আসলে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিল। একটা হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, যখন সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন। তখনই এই ডিপ স্টেট এবং যারা তাদের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আছে তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যদি কোনো কিছু করতে হয়, পরিবর্তন ঘটাতে হলে, এটা ছাত্রদেরকে, তরুণদেরকে কাজে লাগাতে হবে।’

    ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে যতদূর মনে পড়ে মির্জা ফখরুল সাহেব যখন ঘোষণা দিলেন যে, সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন। তখন আসলে এই আন্দোলনটা ছাত্র আন্দোলনে ছিল না। তখন সেনাবাহিনী অনেকটা ইনক্টিভ হয়ে গিয়েছে।’

    এসবি আসলে সরকার পতনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত আগে থেকেই পেয়ে গেল, তাহলে ৫ আগস্ট রাষ্ট্র এত দ্রুত ভেঙে পড়লো কী করে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে বলতে হবে যে, এটি ডিপ স্টেটের একটা ইনফ্লুয়েন্স। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরেও ছিল। সেনাবাহিনীতে একটা ডিপ স্টেট, যেহেতু সেনাবাহিনী বাংলাদেশে মানে এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা পুলিশ বা অন্যান্য জুডিশিয়ারি সবার চাইতে ওখানে তারা অপেক্ষাকৃত একটা ইনস্টিটিউশনালাইজড অর্গানাইজেশন। শক্তিশালী অর্গানাইজেশন। পাঁচ তারিখের পরে ইভেন স্কুলের হেডমাস্টার পর্যন্ত বদল হয়ে গেছে। কিন্তু তিন বাহিনীর প্রধান কিন্তু রয়ে গেছে। বিজেবির যে ডিজি, এই আন্দোলন দমন করার জন্য যার আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে বেশি যিনি তৎপর ছিলেন তিনিও থেকে গেছে নঅর্থাৎ এখানে রিটায়ার্ড এবং সার্ভিং গ্রুপের ভেতরে ডিপ স্টেট কাজ করে। তাদের একটা মিনি ডিপ স্টেট আছে। যেটা সবসময় সরকারের পক্ষে কাজ করে তা নয়, সরকারের বিপক্ষেও কাজ করে। তারা মূল ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করেন।’

    তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা দেখেছি যে, সেনাবাহিনীর একটা অংশ আসলে বলা যায় যে, এই সরকারের যে একটা পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে এই আন্দোলনটা থামিয়ে দেওয়া যাবে। সেটার পেছনে ছুরিকাঘাত করেছে।’

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৩ আগস্ট রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের গত ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।

  • মহেশপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান। 

    মহেশপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান। 

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের মোঃ মাহিনুর রহমান (মাহি) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

    তিনি লিখিত অভিযোগে দাবী করেন ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। গোপনে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, মেধা ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয়করণ করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যার কারণে স্থানীয় যোগ্য ও বেকার শিক্ষিত যুবরা বাদ পড়েছে। আর তাতে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি বর্তমান অস্বচ্ছ ও ত্রুটিপূর্ণ চূড়ান্ত ফলাফল অবিলম্বে স্থগিত করে সুস্থ নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবী জানান।

  • দেওয়ানগঞ্জে নালা খনন, ৫ হাজার একর জমিতে ফিরবে ফসল

    দেওয়ানগঞ্জে নালা খনন, ৫ হাজার একর জমিতে ফিরবে ফসল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরবাদ ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার একর ফসলি জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা খনন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পোল্যাকান্দি এলাকায় এই খননকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন।

    স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, পোল্যাকান্দি থেকে নাজিরপুর হয়ে ঝালোরচর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় পাঁচ হাজার একর ফসলি জমি গত ৮-১০ বছর ধরে জলাবদ্ধ ছিল। পোল্যাকান্দি খালের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগকারী নালাটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব জমিতে কোনো ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়নি। নালাটি খনন করায় এখন দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে এবং ধান, ভুট্টা, সরিষা ও পাট চাষের সুযোগ তৈরি হবে।

    উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাহাদুরবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

    ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে ও জনস্বার্থে নালাটি খনন করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং ওই বিশাল এলাকায় কৃষি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে।’

  • ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মাঠেই ঢলে পড়েন বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান সবাই। তেইশ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গোল করার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনা ঘটে। তবে বায়ার্ন জানিয়েছে, তাদের এই তারকা খেলোয়াড় এখন ভালো আছেন।

    বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোল করেন তিনি। এই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় বায়ার্ন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুসিয়ালাকে নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবারল।

    এবারল বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভালো আছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।’ তবে মুসিয়ালা কেন মাঠে ঢলে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

    মাঠে নামার প্রায় পনেরো মিনিট পরই ঢলে পড়েন মুসিয়ালা। এরপর দুই দলের চিকিৎসক দলই তার শুশ্রূষায় এগিয়ে আসেন। পরে নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ান তিনি এবং হেঁটে টানেলের দিকে চলে যান। তবে তাকে বেশ ভীত দেখাচ্ছিল। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয় মাঠ থেকে।

    জার্মানির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ মাথা ঘোরার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেসময় মিউনিখের তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তবে এই ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি বায়ার্ন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখবে ক্লাবটি।

    এই ঘটনার সময় নিয়েই স্বাভাবিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে মুসিয়ালার সাম্প্রতিক ইনজুরি সমস্যার কথা। গত গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে গুরুতর পায়ের চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

    জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা এবং এরপর থেকে নিজের সেরা ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন তিনি। তার রিকভারি নিয়ে যেভাবে সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তাতে এই সাম্প্রতিক ঘটনা সবাইকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

    ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণের পর সম্প্রতি দলগত অনুশীলনে ফেরেন তেইশ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার খেলার চাপ নিয়েও সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করছিল বায়ার্ন। পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জন্য গ্রীষ্মের ছুটিও কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে আপাতত প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিবাচক। বায়ার্ন আশা করছে, গরম বা মাথা ঘোরার কারণে সাময়িক এই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, এই মৌসুমে যাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে সেই খেলোয়াড়ের জন্য এটি নতুন কোনো ধাক্কা নয়।

  • ফজরের সুন্নত নামাজে সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু

    ফজরের সুন্নত নামাজে সেজদায় গিয়ে ইমামের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীতে ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেন আতাউল্লাহ। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যাওয়ার পর তিনি আর ওঠেননি। পরে মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

    হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। বাবার একমাত্র সন্তান আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আতাউল্লাহ। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল। নম্র স্বভাব ও সুন্দর ব্যবহারের কারণে মুসল্লিদের কাছেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়।

    এক প্রতিবেশী জানান, আতাউল্লাহ শান্ত ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন এবং কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায়নি। নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন তিনি।

    আতাউল্লাহর মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। আকস্মিক এ মৃত্যুতে স্বজনরা গভীরভাবে শোকাহত।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আসরের নামাজের পর নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশুরা হলো- সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তারা পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে পুকুর থেকে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

    ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন অভিনেত্রী অনন্যা রাজ

    ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন অভিনেত্রী অনন্যা রাজ

    ভারতীয় অভিনেত্রী অনন্যা রাজ মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। ‘থাগ্গেদে লে’, ‘৭ আওয়ার্স টু গো’ ও ‘ঘোস্ট’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। খবর বলিউড হাঙ্গামার

    অনন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৫ জুলাই ভোরে ঘুমের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর গত রোববার তাঁর পরিবারের সদস্যরা অনন্যার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বিষয়টি জানান।

    বিবৃতিতে পরিবারের সদস্যরা লিখেছেন, ‘অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে জানাচ্ছি, ১৫ জুলাই ভোরে অনন্যা মারা গেছে। ঘুমের মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেসব কাটিয়ে ওঠার জন্য একজন যোদ্ধার মতো লড়াই করেছে সে।’

    মৃত্যুর খবর প্রকাশের পাশাপাশি অনন্যার শেষকৃত্যের কয়েকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছে তাঁর পরিবার। তাঁকে ‘দৃঢ়চেতা মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবারের সদস্যরা বলেন, অনন্যা নিজের জীবন নিজের মতো করে, ‘রানির মতো’ বাঁচতেন।

    অনন্যা রাজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    পরিবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমার অনুপস্থিতি আমরা গভীরভাবে অনুভব করব। সবাইকে অনুরোধ করছি, তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করুন। এই কঠিন সময়ে আমরা গোপনীয়তা ও নীরবতা বজায় রাখতে চাই।’

    অনন্যা রাজ শুধু সিনেমাতেই অভিনয় করেননি। বিভিন্ন সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মিউজিক ভিডিওতেও তাঁকে দেখা গেছে। টি-সিরিজ, জি মিউজিক ও টাইমস মিউজিকের মতো প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন তিনি। ‘দ্য ফাইনাল এক্সিট’ও তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলোর একটি।

    তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার বিস্তারিত কিছু জানায়নি। শুধু জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
    অনন্যার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • তিন মাস কাদায় বাঁধা চার মহিষ, উদ্ধার করলেন ইউএনও

    তিন মাস কাদায় বাঁধা চার মহিষ, উদ্ধার করলেন ইউএনও

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    বাড়ির চারপাশ কাদায় সয়লাব। গত তিন মাস সেই কাদার মধ্যে ২৪ ঘণ্টা বাঁধা ছিল আবদুল আলিমের চারটি মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পেয়ে গতকাল রোববার রাতে মহিষগুলোকে উদ্ধার করলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

    উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের আবদুল আলিমের বাড়িতে গিয়ে মহিষগুলো উদ্ধার করে বাড়ির পাশেই শুকনা জায়গায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন। সেই সঙ্গে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলো রাখার জন্য ভালো জায়গা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।

    সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই পরিবারকে মহিষগুলোর জন্য নিরাপদ জায়গা ও পর্যাপ্ত খাবারের সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রাণীগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গোকুলনগর গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আবদুল আলিম তাঁর চারটি মহিষ বাড়ির পাশে প্রচণ্ড কাদার মধ্যে বেঁধে রাখেন। আগে মহিষগুলো মাঠে চরাতে নিয়ে গেলেও বর্ষা মৌসুমের তিন মাস ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। সারাক্ষণ এই কাদার মধ্যে বাঁধা ছিল, বিষয়টি এলাকার অনেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। মহিষগুলোকে কাদা থেকে সরানোর জন্য আবদুল আলিমকে কেউ কেউ অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আলিম কোনো ব্যবস্থা নেননি।

    বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানের। তিনি মহিষগুলোর অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। তা নজরে আসে মহেশপুরের ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের। পরে গতকাল সন্ধ্যার পর আবদুল আলিমের বাড়িতে ছুটে যান। সঙ্গে নেন পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানকে। কাদায় বন্দিদশা থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করেন ইউএনও।

    এ সময় বাড়িতে ছিলেন না আবদুল আলিম। তাঁর মা সত্য খাতুন বলেন, ‘আমরা এভাবে প্রাণীগুলোকে কষ্ট না দিয়ে বেচে ফেলতে বলেছিলাম, কিন্তু কথা শোনেনি আলিম। বাড়ির মেয়েরা ভয়ে মহিষগুলোর কাছে যেতে পারেনি, তাই সরানো সম্ভব হচ্ছিল না।’

    পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসান জানান, গ্রামের লোকজনও এই মহিষগুলোর কষ্ট দেখে কষ্ট পেতেন। কিন্তু আবদুল আলিম জীবন্ত প্রাণীগুলোকে এই কাদার মধ্য থেকে বের করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি মহিষগুলোর এই অবস্থা দেখে ফেসবুকে পোস্ট করি। বিষয়টি নজরে এলে গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এসে মহিষগুলোকে কাদা থেকে মুক্ত করেন।’

  • কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    মো. খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি:

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা নম্বর-০৮ দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট (৩৯) নামে এক কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট ওই এলাকার মইনুল হক রতনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজের শিক্ষক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার বাড়ির পাশে মসজিদের পুকুরে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

    কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করি। এরপর ঘটনাস্থলেই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

    তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলে ডুবে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে ডোমার-জলঢাকা সড়কে নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিমলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় খেলতে গিয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলে পড়ে যায় শিশু সিনহা আক্তার (৪)। তাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তার খালা পাখি আক্তার (১২)ও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করলেও তাদের মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহাজান ইসলাম (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, শাহাজান তার চাচা ও ফুফার সঙ্গে মোটরসাইকেলে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে গরুবোঝাই একটি নসিমন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তিনজন চাপা পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শাহাজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনায়ই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • পুলিশ দেখে প্রাইভেটকার রেখে পালাল মাদক কারবারিরা, গাড়িতে মিলল ৫০ কেজি গাঁজা

    পুলিশ দেখে প্রাইভেটকার রেখে পালাল মাদক কারবারিরা, গাড়িতে মিলল ৫০ কেজি গাঁজা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কারসহ ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় বেদেপাড়া এলাকায় আরসিএল ফিল্ডের সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো: সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সিলভার রঙের একটি প্রাইভেট কার (চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯৯৬৪) তল্লাশি করে প্লাস্টিকের তিনটি বস্তায় থাকা ২৫টি পোঁটলা থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    প্রতিটি পোঁটলায় ছিল দুই কেজি করে গাঁজা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ মাদক কারবারি পালিয়ে যায়।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

  • টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আছে বাংলাদেশসহ ৭টি দল। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা সমীকরণ।

    পয়েন্টের শতাংশ অনুযায়ী শীর্ষে থাকা দুটি দল টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কার সামনে কী অঙ্ক তা দেখে নেওয়া যাক।

    ১) অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৮৪, পয়েন্টের শতাংশ ৭৭.৭৮)

    সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বাকি আর ন’টি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলেই ফাইনালে ওঠার পাকা প্যাট কামিন্সদের।

    ২) দক্ষিণ আফ্রিকা (পয়েন্ট ৩৬, পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০)

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকারও বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তার মধ্যে ছ’টি জিততে হবে টেম্বা বাভুমাদের।

    ৩) নিউজিল্যান্ড (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৭২.২২)

    প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন নিউ জ়িল্যান্ডের সামনে রয়েছে আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলে আরও এক বার ফাইনালে উঠবে তারা।

    বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৪) বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৫) ভারত (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৪৮.১৫)

    শুভমন গিলদের বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তাঁদেরও অন্তত সাতটি টেস্ট জিততে হবে। নইলে আরও এক বার ব্যর্থ হতে হবে ভারতকে।

    ৬) শ্রীলংকা (পয়েন্ট ২০, পয়েন্টের শতাংশ ৪১.৬৭)

    বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিততে হবে তাদের। ড্র করতে হবে দু’টি। একটির বেশি টেস্ট হারলেই শ্রীলঙ্কার সুযোগ শেষ।

    ৭) ইংল্যান্ড (পয়েন্ট ৩৮, পয়েন্টের শতাংশ ২৪.৩৬)

    বাকি সব টেস্ট জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তবেই তাদের ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

    এই সাত দেশের নিজেদের মধ্যে খেলা রয়েছে। ফলে এক দল জিতলে অপর দল হারবে। তাই পরিসংখ্যান প্রতি ম্যাচের পরেই বদলে যাবে।

  • ‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’ তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

    ‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’ তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

    নরসিংদীর রায়পুরায় অসহায় এক শিশুর আবদারে তার প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইলচেয়ার এবং শিশুটিসহ তার সঙ্গীর জন্য নতুন জামাকাপড় দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।

    সোমবার দুপুরে তুলি পাল নামে শিশুটি খালি গায়ে ইউএনও কার্যালয়ে এসে তার প্রতিবন্ধী দিদির জন্য হুইলচেয়ার চায়। সরল মনে ইউএনওকে সে বলে- ‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন।’

    পরে কথা বলে জানা যায়, তুলির মা নেই। তার দিদি হাঁটতে পারেন না। অসহায় পরিবারের এ অবস্থার কথা শুনে তুলির দিদির জন্য একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউএনও।

    তুলির সঙ্গে থাকা কৃষ্ণ নামের আরেক শিশুর অবস্থাও নজরে আসে ইউএনওর। পরে তুলি ও কৃষ্ণ দুজনের জন্যই নতুন জামাকাপড় কিনে দেন তিনি।

    নতুন জামা গায়ে দিয়ে এবং দিদির জন্য হুইলচেয়ার নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তুলির মুখে ফুটে ওঠে মায়াভরা হাসি। পরে ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফরা রিকশায় করে তুলি, কৃষ্ণ ও হুইলচেয়ারটি রায়পুরা পৌরসভার হরিপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

    তুলির সেই নির্মল হাসি উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও মো. মাসুদ রানার এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

  • ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

    ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় বিষধর সাপের কামড়ে তানভীর আহমেদ (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশু তানভীর মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের রাশিদুল ইসলামের ছেলে।

    পারিবার সূত্রে জানা যায়, শিশু তানভীর রোববার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘুমিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সাপের কামড়ের শিকার হয় সে। বিষয়টি পরিবারের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেনি। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    সেখানে সোমবার ভোরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তানভীরের বাবা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে তানভীরকে সাপে কামড়েছিল, যা আমরা প্রথমে বুঝতেই পারিনি। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি, কিন্তু ততক্ষণে সে মারা যায়।’

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: গোলাম মোর্শেদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • শ্রীপুরে জঙ্গলে জবাই করা ঘোড়ার মাথা-চামড়া উদ্ধার

    শ্রীপুরে জঙ্গলে জবাই করা ঘোড়ার মাথা-চামড়া উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর জঙ্গলের ভেতর থেকে প্রায় ১২টি জবাই করা ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা ও হাড় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এসব মাংস গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও গাজিয়াড়ন গ্রামের গভীর জঙ্গলের ভেতর এসব ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও পা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল বলেন, ‘আমার জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি। এগুলো কেমন মানুষের কাজ, তা বুঝতে পারছি না।’

    গোসিংগা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন প্রধান বলেন, ভোরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বেশ কয়েকটি ঘোড়ার মাথা ও হাড় পড়ে থাকতে দেখেছেন। কারা এসব ঘোড়া জবাই করেছে, তা খুঁজে বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা, এসব মাংস আশপাশের হোটেলে সরবরাহ করা কিংবা গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হতে পারে। তবে স্থানীয়দের এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘জঙ্গলের ভেতরে অনেকগুলো ঘোড়া জবাই করার বিষয়টি স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমি লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তিনি আরও জানান, জঙ্গলের ভেতরে পড়ে থাকা ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা জবাই করেছে এবং মাংস কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে-এসব বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ উক্ত সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

    বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানিসংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

    সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

  • মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শাওন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-রাজাবিরাট আঞ্চলিক সড়কের ইসলামপুর কারেন্টের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাওন বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দাড়িদহ সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

    স্থানীয় যুবক আবদুল আলীম বলেন, শাওন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করতেন বলে শুনেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাওনের মৃত্যু হয়।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    সরকারের ১৮০ দিনের মতবিনিময়

    জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে প্রশাসনে আগের সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘মব কালচার’কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

    আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তারা।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনকে যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি দরকার। এসব কাজ শেষ করে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের দলীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসন সংস্কারের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়-এমনটাও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রশাসনকে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

    ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তারা পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা হবে।

    ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না

    অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ এটিকে অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের মব কালচার সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মব কালচার নেই বললেই চলে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে গেছে। দেশে আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচারও তত কমে আসবে।

    গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগোচ্ছে

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরবর্তী ধাপে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করার পর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম পর্যায়ের সময়টি নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসস্তূপ’ মেরামত করে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১ হাজার ৮২৫ দিনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিন ধ্বংসস্তূপ মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে। মেয়াদের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় নির্বাচন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে যুবকের পচাগলা মরদেহ

    মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে যুবকের পচাগলা মরদেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জানান, আজ সোমবার সকালে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা একটি পরিত্যক্ত ভবন পরিষ্কার করতে যান। এ সময় ভবনের ভেতরে লোহার হুকের সঙ্গে কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তারা। মরদেহটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস খসে পড়েছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    মাধবপুর থানার এসআই প্রদীপ চন্দ্র সরকার জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক মাস আগে ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, মরদেহটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় পচে গেছে এবং শরীরের মাংস খসে পড়েছে। ফলে মরদেহটি অত্যন্ত বীভৎস অবস্থায় ছিল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    এ,আর

  • নাইটগার্ডকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতি, লুট ২১ লাখ টাকার মালামাল

    নাইটগার্ডকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতি, লুট ২১ লাখ টাকার মালামাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর পাংশায় নাইটগার্ডের হাত-মুখ বেঁধে তিনটি জুয়েলারি ও একটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হাট বনগ্রাম বাজারের রফিক উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

    দোকান মালিক ও স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কালু ও জাকির নামে দুই নাইটগার্ডের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তারা দোকানগুলোর তালা কেটে স্বর্ণ, রুপা, নাকফুল ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    দোকান মালিকদের দাবি, চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে। এর মধ্যে গ্যারান্টি জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, সুস্মিতা জুয়েলার্স থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার এবং লক্ষী জুয়েলার্স থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপা লুট হয়েছে। এছাড়া রাহুল ফার্মেসি থেকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সন্দেহজনক একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • বকশীগঞ্জে রাস্তার কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে পথচারী

    বকশীগঞ্জে রাস্তার কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে পথচারী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড বটতলা থেকে পুরাতন গরুহাটি হয়ে জব্বারগঞ্জ বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ ফেলে রেখে এক বছর ধরে উধাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার মানুষ।

    প্রতিদিন পৌরসভার এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

    উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড বটতলা থেকে পুরাতন গরুহাটি হয়ে জব্বারগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই কাজের দরপত্র পায় ‘শওকত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শওকত।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় পুরাতন গরুহাটি হয়ে বাসস্ট্যান্ড সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পৌরবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

    কাজ শুরু করে সড়কটি খুঁড়ে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ করলে এতে স্থানীয়রা বাধা-নিষেধ দিলে কাজ দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান। অথচ ২০২৫ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি খুঁড়ে কেবল খোয়া ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব খোয়াও সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে খানাখন্দে পানি জমে থাকে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

    পৌরসভার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যেত। এখন বাজারে যাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

    ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক সবুজ বলেন, ‘এই সড়কে প্রায় দুই বছর ধরে রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। পরিবারের বউ-বাচ্চাদের বাঁচাতে কষ্ট করেই আয়-রোজগার করতে হয়। রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রেখে ঠিকাদার নাকি পালিয়ে গেছে। আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে।’

    ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শওকত এন্টারপ্রাইজের মালিককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    জামালপুর জেলা প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, ‘জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিশ করেও রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু করাতে পারিনি। ঠিকাদারকে জরিমানা ও কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এটা ঠিকাদারের গাফিলতির কারণ।’

    এখন সেই টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে বলে আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

  • চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে গাজীপুরের দুই বন্ধুর লাশ।

    কলকাতার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। পরে ভারতে সাথে থাকা অপর এক বন্ধু আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৬ আগস্ট রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে লাশ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনেন।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো: হাবিবুর রহমান (৫৮) এবং কালীগঞ্জ এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০)।

    ইমিগ্রেশন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান হাবিবুর রহমান ও বিল্লাল মাঝি। সেখানে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত বিল্লাল মাঝি মারা যান। এর পরদিন ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে স্ট্রোকজনিত জটিলতায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

    দুই বন্ধুর মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সাথে থাকা তাদের অপর বন্ধু মো: আবু নাহিদ (৪৫)।

    পরে গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে লাশ দুটি এসে পৌঁছায়। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: তারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সমস্ত আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

  • রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ক্বারী ইব্রাহীম নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মধ্য সাগরদী এলাকার হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

    মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    আরো জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম প্রায় ২০ বছর ধরে মধ্য সাগরদী হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কোরআন শিক্ষাদানেও যুক্ত ছিলেন।

    সোমবার জোহরের নামাজের পর মধ্য সাগরদী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাপুরের চর লরেঞ্চ এলাকায় নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    মাদরাসার সুপার মাওলানা ইমরান বিন নাজির বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই মাদরাসায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে শিক্ষকতা করেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ভালো মানুষকে হারালাম। তার মৃত্যুতে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’

    মাদরাসার সহ-সভাপতি ও রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক। কর্মস্থলে ক্লাস নেয়ার সময় তার এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তৌফিক দেন।’

    মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হবে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে পে কমিশন নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, পে-কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে। সবগুলো বিবেচনা করছি আমরা। আজ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে আমরা পরে আবার বসব।

    এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বছরই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে এটি হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার কী পদ্ধতি অবলম্বন করবে, তা পে স্কেল ঘোষণার পর জানানো হবে।

    একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার সক্ষম হয়েছে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে। ১৮০ দিনের মধ্যে সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ও শুরু করেছে, সেগুলো প্রশংসিত হয়েছে। দুই-একটি সংকটময় পরিস্থিতিও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সারা পৃথিবী থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও হবে। মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালীতে আরেকটি এফএসআরইউ’র জায়গা নির্ধারণ করতে জরিপ চলছে।

    গ্যাস খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ দিয়েই গ্যাসের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

  • কামিল মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধীনে অনুষ্ঠিত কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা-২০২৪-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

    শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল দেখতে পারবেন।

    এ বছর সারা দেশের ৫১টি কেন্দ্রে কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ মে পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়। প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • আমরা কি জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি

    আমরা কি জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি

    জুলাই শেষ হয়ে গেছে—এ কথা শুধু ক্যালেন্ডারই বলতে পারে। ইতিহাস তা বলে না। ইতিহাস জানে, কিছু মাস কখনো শেষ হয় না। কিছু রক্ত শুকিয়ে গেলেও তার দাগ মুছে যায় না। কিছু নাম কবরের নিচে চাপা পড়ে না; তারা ফিরে আসে বাতাসে, দেয়ালের স্লোগানে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কোনো তরুণের কণ্ঠে। তাই জুলাই শুধু একটি মাস নয়; এটি একটি জাতির বিবেক, একটি চলমান প্রশ্ন, একটি অসমাপ্ত দায়িত্ব।

    জুলাই শুধু একটি আন্দোলন ছিল না । এটি ছিল রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে উচ্চারিত একটি সত্য—গণমানুষের সম্মিলিত জাগরণের কাছে ক্ষমতাধররাই অসহায়, পরাজিত। সেই সত্যের সাক্ষী ছিল রাজপথ, অসংখ্য আহত-নিহতের আত্মত্যাগ। শহীদ আবু সাঈদের মতো তরুণরা শুধু জীবন হারাননি; তারা একটি জাতিকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন—রাষ্ট্রের শক্তি কি মানুষের ওপর, নাকি মানুষের জন্য?

    সমস্যা হলো, ক্ষমতা প্রশ্নকে সহজে মেনে নিতে পারে না। ক্ষমতা আনুগত্য পছন্দ করে, করতালি ভালোবাসে আর ভিন্নমতকে সন্দেহের চোখে দেখে। ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি সময়েই দেখা গেছে, যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তাদের কখনো উচ্ছৃঙ্খল, কখনো ষড়যন্ত্রী, কখনো রাষ্ট্রবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হয়। অভিধান বদলায়, ভাষা বদলায়, কিন্তু রক্তের রঙ বদলায় না।

    আজও যখন বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা, সহিংসতা কিংবা বিভাজনের খবর আসে, তখন অনিবার্যভাবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছি? যে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে যদি মতের বদলে পরিচয় বিচার হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণ।

    জুলাইয়ের চেতনা শুধু স্মরণসভা, শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শহীদদের ছবি টাঙিয়ে তাদের স্বপ্নকে বিস্মৃত করা, সনদ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা, কিংবা শহীদ পরিবারের প্রত্যাশাকে দীর্ঘ অপেক্ষায় ফেলে রাখা—এসব কোনো জাতির জন্য গৌরবের বিষয় হতে পারে না। আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা হয় বাস্তব পদক্ষেপে, ন্যায়বিচারে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে।

    আরো একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরি। ইতিহাসকে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ইতিহাসকে প্রতারিত করা যায় না। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মনে রাখে কে ক্ষমতায় ছিল, তা নয়; মনে রাখে কে ক্ষমতার কাছে সত্যকে বিসর্জন দিয়েছিল আর কে সত্যের জন্য মূল্য দিয়েছিল। তাই শহীদদের রক্ত কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি হতে পারে না। সেটি সমগ্র জাতির নৈতিক অঙ্গীকার।

    ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস দীর্ঘজীবী। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, কাল তারা থাকবেন না; কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত, তাদের ন্যায়বোধ কিংবা তাদের নীরবতা ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে। ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে—রক্তের মর্যাদা কি রক্ষা করা হয়েছিল? শহীদদের স্বপ্ন কি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছিল? মেধা, মতপ্রকাশ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি কি সম্মান দেখানো হয়েছিল?

    জুলাই তাই কোনো উৎসবের নাম নয়, কোনো রাজনৈতিক স্লোগানেরও নাম নয়। জুলাই একটি নৈতিক মানদণ্ড, যা প্রতিটি ক্ষমতাকে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এবং প্রতিটি নাগরিককে বারবার নিজের সামনে দাঁড় করায়। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র উপায় হলো—মানুষকে ক্ষমতার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, সত্যকে ভয় না করা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মৃতিতে নয়, রাষ্ট্রচর্চায় ধারণ করা।

    কারণ শহীদরা ফুল চাননি। তারা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে সত্য বড় হবে, দলের চেয়ে দেশ বড় হবে ।

  • চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    ভালো কাজের পুরস্কার

    হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

    ডিজিটাল হবে হাসপাতালের ফি আদায়

    হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে।

  • সৌরবিদ্যুতে চার্জ বাধ্যতামূলক, নিবন্ধনে আসছে অটোরিকশা

    সৌরবিদ্যুতে চার্জ বাধ্যতামূলক, নিবন্ধনে আসছে অটোরিকশা

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর এমনটি করলে নবায়নও করা হবে না।

    সোমবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটো রিকশাগুলো আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। সেখানেই কিছু শর্ত দেওয়া হবে যে, তারা যে চার্জ দেবে, সেটি অবশ্যই সৌরবিদ্যুতে হতে হবে।

    তিনি বলেন, এখন আর অটোরিকশার নিবন্ধন বিআরটিএ দেবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নিবন্ধন দেবে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে এবং সেই আইনের আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করা হবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশার ফিটনেস সম্পর্কে তিনি বলেন, নিবন্ধন ও নবায়নের জন্য বুয়েট অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। ফিটনেস সার্টিফিকেটের পর ট্রাফিক পুলিশের প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে সেটি সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে।

  • আবাসন সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    আবাসন সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। চাহিদার তুলনায় আবাসিক হল কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ সমস্যা। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর থাকার সুবিধা রয়েছে। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী তীব্র আবাসন সংকটে রয়েছেন। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিক সুবিধা থাকলেও ১০টিতে আবার মোটেও নেই। বাকিগুলোতে কমবেশি সুবিধা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই নিজস্ব উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় মেস, ভাড়া বাসা বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে থাকতে হয়।

    এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাছাড়া পড়ালেখা বিঘ্নসহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। আবাসন সংকটের কারণে হল ও সিট দখল ঘিরে ক্যাম্পাস রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি কোনো কোনো সময় সংঘাত সৃষ্টি হয়। এসব সংকট কাটাতে পর্যাপ্ত নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলোতে সিট বাড়ানোর ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ এবং তাতে থাকার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি তাদের।

    বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬২টি ছাত্র ও ১০০টি ছাত্রী হল আছে। এতে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন ৩৯.৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শতভাগ আবাসিক সুবিধা আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    এছাড়া মোটেও আবাসিক সুবিধা নেই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    অন্যদিকে নামমাত্র আবাসিক সুবিধা আছে, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (৪.৪৪ শতাংশ), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৪.৯৪ শতাংশ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একমাত্র ছাত্রী হলে (৭.৩৪ শতাংশ)। বাকিগুলোতে বিভিন্ন সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধা রয়েছে।

    সূত্রমতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাহিদার তুলনায় আবাসিক সুবিধা কম থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্যতম স্বপ্ন থাকে হলের সিট পাওয়া। মেধার ভিত্তিতে এসব সিট বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তার কোনো বাস্তবায়ন ছিল না। এমনকি নিয়মানুযায়ী সিট বরাদ্দ পেলেও ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্বের কারণে তাতে থাকার সুযোগ পাননি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দখলদারদের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলে বরাদ্দ ছাড়াও আবাসিক সুবিধা, এমনকি ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও অনেকেই হলে থেকেছেন। আর অবৈধ আবাসিক সুবিধাপ্রাপ্তরা হলে ও ক্যাম্পাসে নানা সংঘাত-সংঘর্ষ ও অরাজক পরিবেশ সৃষ্টিতে জড়িত থাকতেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনেকটাই নির্বিকার দেখা গেছে।

    চব্বিশের বিপ্লবপরবর্তী সব ক্যাম্পাস থেকে ফ্যাসিবাদী ছাত্রসংগঠনÑছাত্রলীগ বিতাড়িত ও পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে বৈধ সিটধারীদের থাকার সুযোগ নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনÑছাত্রদলের প্রভাব বিস্তারের শঙ্কায় বর্তমান পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় অনেকে। যদিও বর্তমান ছাত্র সংসদগুলোর নেতৃত্বে থাকা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল নীতিমালা অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    শিক্ষার্থীদের আসান সংকট ও সিট বণ্টন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যে সিট আছে, তা খুব অপ্রতুল। সারা দেশ থেকে এসে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বছরেই তাদের কষ্ট হয়। বিশেষ করে এখানে নারীশিক্ষার্থী বাড়ছে, অথচ তাদের হলসংখ্যা কম (১৯টি ছাত্র ও পাঁচটি ছাত্রী হল আছে)। এ অবস্থায় আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এছাড়া পুরোনো হলেও সিট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে আবাসিক হল নির্মাণের জন্য থোক বরাদ্দ দেয়, তাহলে এ সংকট দ্রুত কাটানো সম্ভব।

    এদিকে ক্যাম্পাসে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে আবাসিক হলগুলোতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন এ শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, হল ঘিরে যেকোনো ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভিন্নমতের কাউকে বের করে দেওয়া যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে নীতিমালা অনুযায়ী সিট বণ্টন নিশ্চিতসহ সার্বিকভাবে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    সূত্রমতে, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি ছাত্র ও সাতটি ছাত্রী হলে মোট ৪৩.৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা আছে। যে কারণে এখানে হলের সিটপ্রাপ্তির শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

    জানা গেছে, হল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রীদের পাঁচটি ও ছাত্রদের ১০টি হল-ডরমেটরিতে মাত্র ২১.৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা আছে। এতে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ও বাড়তি খরচসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

    এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আবাসিক সংকট কাটাতে আমরা নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১০ শতাংশ আবাসন বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছি। সে অনুযায়ী শিক্ষক কোয়ার্টারে ৯০ জন, সোহরাওয়ার্দী হলে ৩০ জন ও শামসুন্নাহার হল সংস্কারসহ নানাভাবে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া ১০তলা একটি হল নির্মাণের জন্য ৬৯০ কোটি টাকার বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে আসার প্রক্রিয়া চলছে। আরেকটি বড় প্রকল্পে ১০টি হল (পাঁচটি ছাত্রীদের ও পাঁচটি ছাত্রদের) নির্মাণের প্রকল্প পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এটি হলে আবাসন সংকট দীর্ঘমেয়াদে কেটে যাবে।

    এছাড়া পতিত ছাত্রলীগের দখলনীতির পরিবর্তে বর্তমানে হলগুলোতে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা চাই এ ধরনের পরিবেশ যেন বজায় থাকে। কেউ ছাত্রলীগের মতো দখলদারিত্বের চিন্তা করলে, তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

    শতভাগ আবাসনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এখন ২৬.১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পান। তাই, হলে সিট পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও অনেকেরই সেই সৌভাগ্য হয় না। এজন্য আবাসিক হল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    হল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম জানান, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল আবাসিক হলগুলো। তখন মেধাবীরা সিট বরাদ্দ পেলেও তাদের সম্মতি ছাড়া তাতে থাকার সুযোগ মিলত না। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ পরিবেশ যেন অব্যাহত থাকে, সেই প্রত্যাশা সবার।

    দেশের অন্যতম পুরোনো ও বড় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ছাত্রদের ১২টি ও ছাত্রীদের ছয়টি আবাসিক হলে ৪৬.৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা আছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী হলগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মে সিট বরাদ্দ হলেও সম্প্রতি নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৯ জুন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হলে অবৈধভাবে সিট দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করে ছাত্রশিবির। এ সময় শতভাগ আবাসন নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন তারা। যদিও সিট দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। সম্প্রতি ছাত্রসংগঠন দুটি হল ও ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এছাড়া ঢাকার সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুধু ছাত্রীদের জন্য একটি হল নির্মাণ করা হয়।

    জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আবদুল আলিম বলেন, জবিতে আবাসন সমস্যা চিরস্থায়ী একটি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন আর বাজেট আসে যায়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। তিনি বলেন, এখানে ছাত্রীদের একটি আবাসিক হলে ধারণ ক্ষমতার বেশি অবস্থান করছেন। তবে ছাত্রদের মোটেও হল না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

    এ ছাত্র সংসদ নেতা আরো বলেন, বর্তমানে পানি ভবন ও ডা. হাবিবুর রহমান নামে দুটি ছাত্র হলের কাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। এটি ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। যেখানে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত একর জমিতে টিনশেড অস্থায়ী হল নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। যেটা চার মাসেই নির্মাণ করা সম্ভব। আমরা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এ কাজ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। এতে ১৭০০ শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন।

    কিন্তু ছাত্রদল চাচ্ছে সেখানে ১০তলা ভবন নির্মাণের জন্য, যাতে ৬০০-৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসন হবে। এটা শেষ হতেও দীর্ঘ সময় লাগবে। আবদুল আলিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে অশ্চিয়তা রয়েছে।

    একইভাবে দেশের বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটে ৫৩.০৩ শতাংশ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩.৫৭ শতাংশ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩.৪০ শতাংশ, হাবিপ্রবিতে ৪৭.৫০ শতাংশ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪.৭০ শতাংশ, কুয়েটে ৩৩.৯২ শতাংশ, ডুয়েটে ৪৭.২১ শতাংশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭.০১ শতাংশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০.৮৪ শতাংশ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯.৪০ শতাংশ আবাসিক সুবিধা রয়েছে।

    তবে বেশি আবাসিক সুবিধার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছেÑজাহাঙ্গীরনগরে ৯৮.৯১ শতাংশ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮.১৫ শতাংশ, চুয়েটে ৭০.৭৮ শতাংশ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৬.২২ শতাংশ। এছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ১৩ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের মতো আবাসিক সুবিধা রয়েছে বলে ইউজিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে।

  • মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬

    মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ)

    মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। ১৬ই আগস্ট রবিবার সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ থেকে ১৮ই আগস্ট ২০২৬ জাতীয় মৎস্যপক্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য (ঝিনাইদাহ -৩) মতিয়ার রহমান। জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ এর উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার আনোয়ার হোসেন, উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অফিসার দীন ইসলাম, মহেশপুর উপজেলা বিআরডিবির কর্মকর্তা বাহাউল ইসলাম, মৎস্য অফিসের মোঃ আব্দুল আলিম, ফতেপুর বাওর এর ম্যানেজার মোহাম্মদ রিপন হোসেন, উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মহেশপুর পৌর শাখার আমির মোঃ নওফেল হোসেন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২-০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।জাতীয় মৎস্যপক্ষ -২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন ,বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হল মহেশপুর কোটচাঁদপুর। প্রধান অতিথি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, মৎস্য সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে দেশীয় চাহিদা পূরণ করার পরেও বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমরা লাভবান হতে পারি। সংসদ সদস্য একটি পরিসংখ্যান দেন যে, বাংলাদেশে রেনু পোনা উৎপাদনে বলুহর মৎস্য প্রজেক্ট থেকেই ৩৬ শতাংশ রেনু পোনা উৎপাদন হয়। যা দেশের অর্থনীতিতে দারুন ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আমাদের এই এলাকা ভৈরব তিস্তা করতোয়া কপোতাক্ষ নদসহ প্রায় সাতটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। সুতরাং ,অপার সম্ভাবনামায় এই এলাকাকে কাজে লাগাতে পারলে, এখানে যেমন খাল বিল বা বাওড় প্রচুর পরিমাণে রয়েছে সেই দিক থেকে মৎস্য উৎপাদন সেভাবে আমরা যদি বৃদ্ধি করতে পারি, রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি, তাহলে আমরা যেমন আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারব দেশীয়ভাবে, ঠিক তেমনি অর্থনৈতিকভাবে বিদেশে রপ্তানি করে সমৃদ্ধ হতে পারব। জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার এক পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন তথা বিপণন , ব্যবসা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের , যারা এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে তাদের মধ্য থেকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি এমপি মতিয়ার রহমান উদ্যোক্তাদের মধ্যে থেকে ইঞ্জিনিয়ার জহুরুল হককে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। ইঞ্জিনিয়ার জহুরুল হক এর বাড়ি কাজীরবেড় ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামে। উদীয়মান এই যুবক তার এলাকাতে মৎস্য উৎপাদন ব্যবসা ও যুবকদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক বিভিন্ন কাজে অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকদ্রব্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকদ্রব্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে বিজিবি। শনিবার (১৫ই আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজাপুর বিওপির আওতাধীন মানিকপুর সীমান্ত এলাকা হতে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব সিরাপ ও গাঁজা জব্দ করা হয়।

    রবিবার (১৬ আগস্ট ) সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধীন রাজাপুর বিওপির একদল বিজিবি শনিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের সময় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৭২/৩-এস হতে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের শরিফের পেয়ারা বাগানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে ওই বাগানের ভেতর হতে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয় ১১২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এসকাফ সিরাপ ও ৩ কেজি গাঁজা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নায়েব সুবেদার আবুল কালাম আজাদ।

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর রেলস্টেশনের অদূরে ট্রেনে কাটা পড়ে মিনি খাতুন (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিনি খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার শিয়ালমারী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে মোমিনপুর রেলস্টেশনে যান মিনি খাতুন। পরে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় রাজশাহী থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের বড় ছেলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ পরিমাণ টাকার চেক ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজন ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

    বিআরটিএ সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) যুগ্ম সচিব মোছাম্মদ মমতাজ বেগম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ খুলনার উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুর রহমান রফিক, কুষ্টিয়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুবুল আলম ও বিআরটিএ কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক প্রমুখ।

    এবার ৮৩টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জন নিহতের পরিবারের মাঝে ৫ লাখ টাকা করে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং আহত ২৮টি পরিবারের জন্য ৪২ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বা অঙ্গহানিদের ৩ লাখ টাকা এবং সামান্য আহতদের ১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

  • আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. নূরুল করিম। রোববার রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে নূরুল করিম ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি লেখেন, আমার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আমি আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই। অতএব, আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।

    এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, নূরুল করিম ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কিছু তথ্য ও ছবি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। পরে আমি তাকে ডেকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বিষয়গুলো অস্বীকার করেননি এবং এএজি পদে না থাকার বিষয়ে আমাকে জানান।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, নূরুল করিম রাষ্ট্রপতি বরাবর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং সেটি তার কার্যালয়েও গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

  • জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে ১৪ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।

    সেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা, অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা, দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবার ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

    একই সঙ্গে অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, নাগরিক সনদ, তথ্য বোর্ড ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রাখা, আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভূমি আইন, বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করা, ‘ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র’-এর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম তদারকি, আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, অগ্রগতি এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

    ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ভূমিসেবার গুণগত মান আরও উন্নত করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

    আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’

    বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’

    উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

    মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

  • অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট। রোববার দুপুরের তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় জেনারেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা। ‘দফা এক, দাবি এক—অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ’ স্লোগানে রোববার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তারা ডিএজি ও এএজি নিয়োগে অনিয়ম ও কথিত নিয়োগ-বাণিজ্যের তদন্ত, ফোরামের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

    বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগ চাই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন না। কিন্তু এখন তিনি ফ্যাসিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং তাদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।’
    তিনি আরও বলেন, ‘রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থাকার সব ধরনের যোগ্যতা হারিয়েছেন।’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে’—এমন অভিযোগ করে তিনি এর তদন্ত দাবি করেন।

    শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আজকের এই সভা থেকে আমরা রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

    বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবীরা বলেন, ‘‘তারা ‘ফ্যাসিস্ট, গুপ্ত, সুপ্ত ও দুর্নীতিমুক্ত’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় চান।’’ এ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়েছে। ২০ আগস্ট ভোট হবে। প্রাথমিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ২৪৭ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

    সংখ্যার এই ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা নেই। মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। এরপরও ভোটটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। তবে সেটি ফলাফলের চেয়ে অলি আহমদ কত ভোট পান, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকে কি না এবং দুই শিবিরের বাইরের সংসদ সদস্যরা কোন দিকে যান—এসব প্রশ্নকে ঘিরে।

    আজ রোববার রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ—দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নাই। ফলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে। ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ; রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী তাঁরা ফাইল ছবি

    সংখ্যার চেয়ে ভোটের বিন্যাসে নজর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। ফলে আসনটি শূন্য রয়েছে।

    দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র; তাঁদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এই সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বাকি ১২টি ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের ভোট পেলে ক্ষমতাসীন দল তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দিতে পারবে।

    অলি আহমদের সামনে মূল লক্ষ্য তাই রাষ্ট্রপতি হওয়া নয়; নিজের জোটের ভোট অটুট রেখে এর বাইরে কতটি ভোট পাওয়া যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ভোট প্রকাশ্য, ৭০ অনুচ্ছেদে বিতর্ক

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশাপাশি ভোটদাতা সদস্যের নাম ও আসন নম্বরও উল্লেখ করতে হয়। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা যায়।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ১১ আগস্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

    জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি ফাইল ছবি

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এতে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন আইনি মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া বৈধ ভোট বাতিলেরও কোনো বিধান নেই।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আইনি ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দেবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছিল। ওই সংসদে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের সদস্য ছিলেন। মোট ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেননি। এবারের সংসদের প্রায় সব সদস্যই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—এই দুই রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত। ফলে বড় ধরনের ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা আরও কম।

    অলির প্রার্থিতায় রাজনৈতিক বার্তা

    অলি আহমদ শুধু একজন বিরোধী প্রার্থী নন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

    অর্থাৎ একসময়ে বিএনপির ঘরের মানুষ অলি আহমদ এখন বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতার এই প্রতীকী দিকটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে জোটটি আলাদা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেও অলি আহমদকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিল জামায়াত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

    জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এসেছিল। ফলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তাঁকে প্রার্থী করা একদিকে সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিরোধী পক্ষের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা।

    জাতীয় নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলোর ঐক্য কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেই ঐক্যের পরীক্ষা হবে। অলি আহমদ জোটের ৯০টি ভোটের সব কটি পেলে বিরোধীরা ঐক্যের বার্তা দিতে পারবে। ভোট কমে গেলে জোটের ভেতরের দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে থাকার সময়ে তিনি দলের কঠিন সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিনের একজন পরীক্ষিত নেতাকে সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর ভিন্ন ভূমিকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রায় নিশ্চিত হলেও ২০ আগস্টের ভোট তাই অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফখরুলের জয়ের চেয়ে অলি কত ভোট পেলেন, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকল কি না, দুই শিবিরের বাইরের ভোট কোন দিকে গেল এবং কোনো ভোট-বিচ্যুতি ঘটল কি না, ভোটের পরের রাজনীতিতে এসব প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমমর্যাদার বার্তা দিতে কলকাতায় আয়োজিত হয় ‘ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইট’ শীর্ষক পদযাত্রা। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ছিল গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ১৪ আগস্ট রাতে অনুষ্ঠিত নারীদের এই আয়োজনে টালিউডের নারী শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান।

    পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ দ্য ওয়াল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই পদযাত্রায় অংশ নেন প্রায় ৫ হাজার নারী। উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, ইন্দ্রাণী হালদার, ইমন চক্রবর্তী, পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়, লাজবন্তী রায়, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌবনী সরকার, মুমতাজ সরকার, রিচা শর্মার মতো তারকারাও।

    এ পদযাত্রায় জয়াকে হাঁটতে দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকেই আবার করছেন সমালোচনা। টালিপাড়ার অন্যতম ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তাদেরই একজন। জয়া আহসানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। নবমিতা বসুর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে লেখা আছে, ‘জয়া আহসান কবে থেকে ভারতীয় হয়ে উঠল, প্লিজ জানাবেন। আজন্ম আমি জেনে এসেছি- ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল? আর কদিন আগে অবধি “দিপু দাস হত্যাকাণ্ড” নিয়ে ভারতবর্ষ তোলপাড় হয়েছিল। রিসেন্টলি দিলীপ ঘোষ মহাশয় ভারতীয় মুসলমান গোষ্ঠীকে নামাজ পড়তে হলে পাকিস্তান চলে যাওয়ার সাজেশন অবধি দিয়েছেন। জয়া আহসান হচ্ছেন সনাতনী, পিউর, আদি ও আসল ভারতীয়। নেতাজির পূর্বপুরুষ। আমার উত্তর চাই কেন? জয়া আহসান থেকে তাসলিমা নাসরিন, তা হলো- তাদের জন্মভূমির কাছে দেশদ্রোহী।’

    আর পোস্টটি শেয়ার করে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘ধর্ম… ধান্দা… ও দেশপ্রেম…। বাকিরা দেশদ্রোহী…। হিংটিংছট।’

  • চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছায় এক কৃষকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

    চৌগাছা প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আব্দুল জব্বার (৫০) নামে এক ব্যাক্তিকে দা দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত আব্দুল জব্বার বুন্দলীতলা গ্রামের আব্দুল খালেক বিশ্বাসের ছেলে।

    আহত কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের রমজান আলী তার ছেলে রিংকু (৪২) ও রিপন হোসেন (৩৮) আমার উপর হামলা চালায়।

    এ সময় তারা আমাকে লোহার রড ও দা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে আমার দুই হাত ভেঙ্গে যায়।

    পরে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আমার অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন।

    এদিকে আমার প্রতিপক্ষ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিতে পারছিনা। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।

  • অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

    অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

    মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানমুখী করতে দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে স্থানীয় তরুণদের মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় কাজে লাগিয়ে কিংবা অল্প জমিতে মাছ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক জলাশয় পড়ে আছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে পুকুরগুলো, যে হাওর-বিলগুলো, জলাশয়গুলো যে এলাকায় হবে, সেই এলাকার তরুণ যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে সুন্দরভাবে আমরা এটা বণ্টন করতে চাই, যাতে করে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’ এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাত দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এই অর্জনের কৃতিত্ব মৎস্য উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও চাষিদের।

    তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গত জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৎস্য ও জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে এ খাত থেকে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের ফলে ৭ হাজার ৫০০ ঘেরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাত হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম সিটি মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ও অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান ১০ শতাংশ এবং জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন।

  • এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    সেই কবে ১৮৮২ সালের ওভালে গিয়ে প্রথমবার ব্রিটিশ সিংহকে খাঁচায় পুরেছিল অসিরা, আর বুক চাপড়ে দ্য স্পোর্টিং টাইমস লিখেছিল ইংরেজ ক্রিকেটের ‘মৃত্যুসংবাদ’। কল্পনায় সেই মৃতদেহ দাহ করে ছাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছে বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন সাংবাদিক রেজিনাল্ড শার্লি ব্রুকস। সেই থেকেই তো ছাই-ভস্মের সেই অ্যাশেজ সিরিজ। দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের বাইশ গজে আজ কি তবে ক্যাঙারু-বধের পর অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও নিজেদের ক্রিকেটের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করবে?

    ডেভিড হুকস (ইনি সেই ভদ্রলোক, যিনি কিনা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেছিলেন– এক দিনের টেস্টের জন্য সবাই প্রস্তুত হও) বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ঠিক এই হাহাকারটাই করতেন। অথচ কী আশ্চর্য, মাররা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো শোরগোল হলো না, কোনো আগাম দামামা বাজল না; অথচ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ মহাকাব্যে ঘটে গেল এক নিঃশব্দ রূপান্তর-পর্ব!

    কোনো সমঝদার বাংলাদেশি চাইলে ডারউইনের এই পুণ্যমাটি মুঠোভরে দেশে নিয়ে আসতেই পারেন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে সেই প্রত্যাশার কথা রাখতেই হাসিতে সম্মতি দিয়েছেন। এই শতাব্দীর পাকিস্তান যা পারেনি, আধুনিক ক্রিকেটের কোনো শ্রীলঙ্কান মায়াজাল যা করতে পারেনি, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অসি মুলুকে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত থাকার পর মাত্র এক সপ্তাহের আমন্ত্রণে এসে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেটাই করে দেখাল! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই টেস্টে হারাল। পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ করে বাঘেদের এই জিগীষা দেখে আজ ডারউইনের গ্যালারি ছাড়িয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সুকান্তের সেই লাইনগুলো খুব মনে পড়ছে– ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়: জ্বলে-পুড়ে মর ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ডারউইনের সবুজগালিচায় আজ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন সেই অবিনাশী স্পর্ধার এক মহিমান্বিত উপাখ্যানই লিখে গেল!

    কোথায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের মগজে বসে থাকা ক্রিকেটের এক নম্বর রাজাধিরাজ অস্ট্রেলিয়া, আর কোথায় তলানির নবমতম স্থানে ধুঁকতে থাকা এক লড়াকু বাংলাদেশ! বোদ্ধাদের ক্রিকেটীয় খেরোখাতায় এই ম্যাচের ফলাফল তো টসের আগেই একতরফা লিখে রাখা হয়েছিল। অসম, অসমঞ্জস্য এবং অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ। হয়েছেও অবশ্য তাই– অসম লড়াইয়েই জিতেছে বাংলাদেশ, প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে; অসমঞ্জস্যও হয়েছে– সেখানে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর দিয়ে চার শতাধিক(৪২৬) রান তুলেছে বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন দিনের অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ– অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসানরা। যদিও এই জয়টিকে কেউ কেউ ‘আপসেট’ বলছেন। কিন্তু যেভাবে পুরো টেস্টের এগারো সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন শান্তরা, তাতে আপসেট বলাটা অসম্মানের মতোই।

    টেস্টটি শুরু হওয়ার আগেও অসি মিডিয়া দুদিন, না তিন দিনে তা শেষ হবে– প্যাট কামিন্সের কাছে জানতে চেয়েছিল। অতিথিদের নিয়ে একটা অবজ্ঞা ছিল তাদের মধ্যে। সেই জেদেই কিনা ট্রাভিস হেড-স্টিভ স্মিথদের অস্ট্রেলিয়াকেই কিনা সাড়ে তিন দিনে স্রেফ মুড়ি-মুড়কির মতো শাসন করল শান্তর বাংলাদেশ! হাসান মাহমুদের সেই সুইং আর মিরাজের ঘূর্ণিজালে যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যাঙারুদের দর্প, ডারউইনের আকাশ-বাতাস তখন সাক্ষী থাকল এক নতুন মহাজাগরণের। কোনো অলৌকিক মোজেজা বা ফ্লুক নয়; সাড়ে তিন দিন ধরে ক্রিকেটের কুলীন রাজাদের এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া– তা তো আসলে বাঘেদের এক পঞ্জরীভূত লড়াকু মানসিকতা এবং ক্রিকেট ইতিহাসের তীব্রতম এক বৈপ্লবিক বিবর্তনের নাম! তা ছাড়া এটি অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ দল খেলেছে বলেও জয়ের মাহাত্ম্য হালকা করা যাবে না। ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্মিথ, গ্রিন, ক্যারি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন– রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ী দল এটা।

    ম্যাচের মাঝে অসি পেসার হ্যাজেলউড অসহায়ের মতো স্বিকারক্তি দিয়েছিলেন এই বলে যে বাংলাদেশের এই দলের অনেক ক্রিকেটারের ভিডিও তাদের কাছে ছিল না। তারা অনেকটা অচেনা ছিল ! টেস্টের এক নম্বর দলের কেউ যখন এই কথা বলে তখন তার পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। নয়তো তারা যে বাংলাদেশকে নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেটা বোঝা যায়। তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অথচ তারা ডারউইনে এসেই ছিল দুই দিন আগে। ব্রিজবেনে দলের কেউ কেউ একসঙ্গে হলেও ক্যাম্পটি বেশি দিনের ছিল না। হয়ত তারা বাংলাদেশের নাম ভেবেই ধরে নিয়েছিল অত পড়ালেখার দরকার নেই। এমনও হতে পারে তারা পড়ে এসেছিল মুশফিক, তাসকিনদের মতো ক্রিকেটারদের, কিন্তু টেস্টের পরীক্ষায় এসেগেছে হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যারা কিনা প্রায় দুই বছর ধরে এই সিরিজের জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তাদের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কাউন্ট খেলার সেই অভিজ্ঞতাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন এই ম্যাচে।

    ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সেই যে বাঁধভাঙা কান্না, কিংবা ২০০৭-এর ত্রিনিদাদে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে পরাক্রমশালী ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি—বাঙালির আবেগের মণিকোঠায় এদের স্থান চিরন্তন। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৯ সালে খোদ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উইন্ডিজদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই মহাকাব্য, কিংবা ঘরের মাঠে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়—সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখুন, সেগুলোর কোনটির মূল্য কিন্তু এক রত্তি কম নয়! প্রতিটি জয়ই ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে, তখনকার চড়াই-উতরাইয়ের বাস্তবতায় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একেকটি ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন।

    মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ২০২২ সালে সেই বিখ্যাত টেস্ট জয় কিংবা ২০২৪ রাওয়ালপিন্ডির বুক চিরে ইতিহাস ছিনিয়ে আনা—সবকিছুকে এক লহমায় ম্লান করে দিল ডারউইনের এই ৯ উইকেটের জয়। একে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ জেতা বললে ক্রিকেটের ব্যাকরণকে অপমান করা হয়; এটি আসলে বাইশ গজের এক নিঃশব্দ, নির্মম সাম্রাজ্য-খর্বতার উপাখ্যান! দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যে ক্রিকেটীয় অস্পৃশ্যতার দেয়াল তুলে লাল-সবুজকে নিজেদের আঙিনায় ঢুকতে দেয়নি অজিরা, সিডনি–মেলবোর্নের মতো স্টেডিয়ামে আমন্ত্রন না জানিয়ে ডারউইনের মতো পার্কে খেলতে ডাকার মতো অবজ্ঞাকে পায়ে মারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্তরা।

    ডারউইনের এই মহাকাব্যিক বিজয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিটাই চিরতরে বদলে গেল; এখন থেকে লাল-সবুজের এই দলটিকে সবাই সমীহ আর পরম সম্মানের চোখে দেখবে। এতকাল যারা বাংলাদেশকে কেবলই ‘কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়া’ হোম-টিম কিংবা অঘটন ঘটানো কোনো ক্ষণস্থায়ী দল হিসেবে ভাবত, তাদের সেই পুরনো চশমাটা আজ ভেঙে চুরমার। বিশ্ব ক্রিকেটের কুলীন প্রধানদের ডেরায় গিয়ে, তাদেরই পাতা ফাঁদে তাদের ধুলিসাৎ করে শান্তর দল প্রমাণ করল—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ব্রাত্য বা করুণাপ্রার্থী দল নয়, বরং বাইশ গজের এক নতুন পরাশক্তি। ডারউইনের সবুজ গালিচায় আজ যে সম্মানের রাজমুকুট বাঘেরা মাথায় পরল, তা ক্রিকেট বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিল এক পরম স্বীকৃতি ও চিরস্থায়ী কৌলিন্য।

  • মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ মামলার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

    পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশংসা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরাজ বলেন, ‘যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখেছি। আজ আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে।’

    গিলক্রিস্ট বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান মিরাজ। ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

    গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’

    মিরাজের মত গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। ‘এমন একজন কিংবদন্তি যখন আমাদের দল সম্পর্কে এত ভালো কথা বলেন, তখন নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’

  • বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য

    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ৮ নম্বর জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১১ ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোমনায় কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার বাসভবনে গিয়ে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারীরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    যোগদানকারীরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুনুর রশিদ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমীর হোসেন গাজী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাবেদ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হান্নান মিয়া এবং সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রিপা বেগম ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোজিনা আক্তার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া, তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মোল্লা এবং তিতাস উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম।

    যোগদানের পর বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মো. বিল্লাল মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, দূর থেকে আমরা অনেকেই অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করি। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া সত্যিই ভালো মনের মানুষ। তাই আজ জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য (মেম্বার) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করলাম।

  • ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ রোববার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

    টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

  • অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।

    ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…

    ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়

    বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়

    দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়

    পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়

    নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়

    ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়

    শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি

    জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি

    বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।

    তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর: গয়েশ্বর

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অবান্তর।

    রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কনফারেন্স রুমে নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। এ মাসের ১৩ তারিখে আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং আজকে বাছাই পর্ব ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে ছিলাম আমি।

    তিনি বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকবো, ২০ তারিখের নির্বাচনের জন্য।

    জামায়াতের প্রতিনিধি, অর্থাৎ ১১ দলের প্রতিনিধিরা বলছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘সেটা পরের চ্যাপ্টার। পরবর্তী সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই প্রশ্নটা অবান্তর। একটা কনফিউশন সৃষ্টি করে লাভ নেই।’

    ‘১১ দলীয় জোট বলছে এটা বড় অন্তরায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটা বড় বাধা’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘না, বড় বাধা না। প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী, আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকেই সংশোধন করতে হবে।’

    এ সময় দলের মহাসচিব নিয়ে কি কোনো চিন্তাভাবনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের মহাসচিব তো নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা না। ওটা আমাদের গুলশান অফিসে আমাদের স্থায়ী কমিটির চিন্তা।’

    এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অতীত থেকে পাওয়া। এ সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই বছর সময় লাগবে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানে সরকার কোনো সময় নষ্ট করছে না।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

    সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি এনার্জি মিক্স তৈরি করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারও আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ঝটিকা সফর করেছেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং হাসপাতালের জনবল সংকট,তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধানের নির্দেশ প্রদান দান করেন।

    রবিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ ঝটিকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি রোগীদের ওয়ার্ডে যান এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে ঔষধের স্টোর,স্টোক রেজিষ্টার, অপারেশন থিয়েটার এবং অফিসের বিভিন্ন রুম ঘুরে ঘুরে দেখেন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ম্যানেজম্যান্ট ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের অফিস রুমে ডাক্তার ও কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নেলেনা আক্তার নিপা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান হাসপাতালে ডাক্তার,নার্স ও পরিচ্ছন্ন কর্মী সংকট। তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমডিকে ফোন করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত লোকজনের কাছে জনৈক ঠিকাদার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করায় তাৎক্ষণিক টাকা না দেওয়ার নির্দেশ দেন ও ঠিকাদার মনিরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেন।

    এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আউটসোর্সিংয়ে যারা এখনো বেতন পায়নি তাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা ও হাসপাতালের সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মহেশপুরের ভৈরবা হাসপাতালটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের নানা প্রকার পরিকল্পনা রয়েছে। তাতে প্রতিটা ইউনিয়নের একটি করে হেলথ সেন্টার চালু করা হবে।

    এছাড়া তিনি আরো বলেন সারাদেশে ২ থেকে আড়াই হাজার বেডের ১০/১২ টি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। যার মধ্যে ২ টি থাকবে মহিলাদের জন্য। আকস্মিক পরিদর্শন কেনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকেন, সরকারি ঔষধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে হয়। হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা থাকে। এসকল রোধ করার জনই এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে।

  • হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে এবং প্রত্যর্পণের বিষয়ে বর্তমান কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে যে অনুরোধ জানিয়েছে, সেটি ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। ভারতের আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত দেখা হবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

    আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধকে ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধের বিষয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, তার সঙ্গে ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

    আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যের দাবি, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে মাঝে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করছেন। তাদের ভাষ্য, ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

    শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই রায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই রায়কে বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

    ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। চুক্তিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হলে তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।

    তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের সুযোগ না রাখার বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিকে ফেরত দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন কেবল দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    ঢাকায় রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

    এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছিল, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    প্রসঙ্গত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

    এছাড়া ভারতের দিক থেকে আরও একটি আমন্ত্রণ ছিল। সেটি হলো, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের যে সম্মেলন হবে, সেখানে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর এসব আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তারা তখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

    কিন্তু এর মধ্যেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

    রোববার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ‘উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।’

    ‘তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    শহীদুল করিম বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

  • নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সব খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।

    তিনি বলেন, এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়

    ২৩ বছরের পুরোনো গল্পটা এবার বদলে দিল বাংলাদেশ। যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এতদিন জয় বা ড্র ছিল অধরা, সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ডারউইনে হারিয়ে ইতিহাস লিখল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের পরিস্কার এবং শক্তিশালী একটা বার্তা।

    ম্যাচের তৃতীয় দিনেই জয়ের ভিতটা শক্ত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন লাঞ্চের পর শুধু শেষ পেরেকটা ঠোকার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। ছোট্ট সেই পথ পেরোতে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন শূন্য রানে।

    তাতে অবশ্য জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। সাদমান ইসলামকে পাশে নিয়ে মুমিনুল হক ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটা শেষ করেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ ৯ উইকেটে। মুমিনুলের ব্যাটে জয়সূচক রান আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট পুরো বাংলাদেশ দল আনন্দ উদযাপনে আত্মহারা। মারারা স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণে প্রবাসীরা তখন গলা ফাটাচ্ছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে।

    এই জয়ের নায়ক বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ ইনিংসে চাপের মুখে স্পিন কতটা ভয়ংকর হতে পারে। হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট। দুই ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি তাদের ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বড় পুঁজি এনে দিতে পারেনি। ২৮৪ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার লড়াই।

    সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল তারা। বাংলাদেশ সেখানে নয় নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সেই বিশাল ব্যবধানকে মাঠে মুছে দিল শান্তর দল। ডারউইনের চারদিনে বারবার মনে হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নয়, ক্রিকেটটা খেলছে বাংলাদেশই।

    প্রথম দিন প্রথম বল থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয়নি তারা। অথচ সিরিজ শুরুর আগে শান্ত বলেছিলেন, ম্যাচটাকে পঞ্চম ও শেষ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান। বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়াই পঞ্চম দিনে যেতে পারল না!

    ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ফেরা যে ইতিহাস হয়ে যাবে, হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু ডারউইনে বাংলাদেশ শুধু একটি টেস্ট জেতেনি। তারা বদলে দিয়েছে নিজেদের গল্পও।

    এবার সেই গল্পে লেখা থাকবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বাংলাদেশ পারে।

    দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। সামনে আরও একটি টেস্ট। ইতিহাসের দরজা একবার খুলেছে। এবার সেটি আরও বড় করে খোলার পালা।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮, লায়ন ১৫; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৬, তাসকিন ১/৬৬, তাইজুল ১/৫১, ইবাদত ০/৩৮)

    বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০, সাদমান ২৫, তানজিদ ০; হ্যাজলউড ১/৫, স্টার্ক ০/১৫, লায়ন ০/২৩)।

    ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

    ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ।