শিরোনাম

  • এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে  দুইটি হত্যা

    এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠের কাছে পরপর এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। নগরীর টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেফতারের পর র‌্যারেব কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

    এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলার মাঝিগাতী বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদ নামে সাইফির আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নগরীর টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির হয়ে কাজ করে। অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদকের কারবার করে। এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।’

    তিনি বলেন, “গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো: নাজমুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। তদন্তের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী আলমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নাজমুল তার দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সাথে ছিল।”

    তিনি জানান, ‘সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন প্রতিশোধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তাকে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিরাদেরকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

  • আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    আলোচনায় চার সিনেমা, বড়পর্দায় কি নিয়মিত হচ্ছেন অপূর্ব?

    ছোটপর্দার ব্যস্ততা, ওটিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত— সব মিলিয়ে অভিনয় জীবনে নানা ব্যস্ততার মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তবে এবার বড় পর্দাকে ঘিরেও নতুন করে ভাবছেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ বিরতির পর সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৪টি সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে।

    অপূর্বর চলচ্চিত্রযাত্রা অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০১৫ সালে ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ দিয়ে সিনেমায় অভিষেকের পর বড় পর্দা থেকে প্রায় এক দশক দূরে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে টালিউডের ‘চালচিত্র’ দিয়ে আবারও সিনেমায় ফেরেন। এবার সেই বিরতি আর দীর্ঘ করতে চান না। যদিও আলোচনায় থাকা চার সিনেমার কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    এ বিষয়ে অপূর্বের অবস্থানও বেশ সতর্ক। তিনি বলেন, ‘এখনো আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। শুধু এতটুকু বলতে পারি, একসঙ্গে ৪টি সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, শুটিং শুরু হওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আর হয় না। এ কারণে আগে থেকে বলতে চাই না। কোনো কারণে পরবর্তী সময়ে সিনেমাটি না হলে দর্শকের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। যখন বুঝতে পারব আসলেই হচ্ছে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাব।’

    এদিকে দেশে ফিরেই নাটকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অপূর্ব। বর্তমানে মাসরিকুল আলমের পরিচালনায় একটি নাটকের শুটিং করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী শার্লিন ফারজানা। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই জুটিকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দায়।

    একটি নাটকের কাজ শেষ করেই থামছেন না অপূর্ব। পরপর আরও ৭টি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি। এসব নাটকের নির্মাতা হিসেবে থাকছেন জাকারিয়া সৌখিন, সৈয়দ শাকিল, মুরসালিন শুভ, মাহমুদুর রহমান হিমি ও রুবেল হাসান। এই ব্যস্ততা শেষ করে ফের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। বছরের শেষ দিকে দেশে ফিরে ঈদের ওটিটি কনটেন্ট ও টেলিভিশন নাটকের কাজে যুক্ত হবেন তিনি।

    অভিনয়ের বাইরে গান নিয়েও সম্প্রতি দর্শকদের সামনে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন অপূর্ব। ৮ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব মিউজিক্যাল নাইট’-এ প্রায় দুই ঘণ্টা দর্শকদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। গান পরিবেশনের পাশাপাশি গল্পের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি জমিয়ে তোলেন এই অভিনেতা।

    নিউইয়র্কের ওই আয়োজনের সাফল্য এবার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি শহর থেকে কনসার্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন অপূর্ব। তবে একসঙ্গে সব প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নেই তার। সময় নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই পরবর্তী কনসার্টগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।

    ফলে সামনে অপূর্বর ব্যস্ততা শুধু নাটককেন্দ্রিক থাকছে না। সিনেমায় নতুন কাজ, ওটিটি, টেলিভিশন এবং কনসার্ট—সব মাধ্যমেই নিজের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন এই অভিনেতা।

  • শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চাই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চাই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ এখনই শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই তিনি বলেছেন, ইরান এখন ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখন শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছি, তাই এখনই এই যুদ্ধ শেষ করা আমাদের জন্য ভালো।’

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে। সবাই বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এ কারণে তারা এখন বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত।’

    গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন পেজেশকিয়ান। ইরানের পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সরকার ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছে।

    জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই সমঝোতার একটি ধারাও তাঁরা দেখাতে পারবেন না, যেখানে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে; বরং সব প্রতিশ্রুতি অপর পক্ষকেই পূরণ করতে হবে।’

    তবে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন কোনো হুমকি এলে পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহিকে উদ্ধৃত করে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা, এমনকি সাইবার হামলা চালাতেও ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা

    ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রী আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপ আবার শুরু করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

    ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো আংশিক বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের গোপন বহর চলাচল করছে। এসব ট্যাংকারকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি

    আলোচনায় বসতে ইরান আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের স্থলভূমিসহ পুরো অঞ্চলের ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়।’

    ইরানকে সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সরকারকে ‘ধসিয়ে দেওয়া’ হবে।

  • লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    লজ্জার রেকর্ডে পাকিস্তানের নাম

    হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের মালিক হয়েছে পাকিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলীয় রান শূন্য থাকা অবস্থায় প্রথম উইকেট হারিয়েছে তারা।

    প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ওপেনার আজান ওয়াইসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ওলি রবিনসন। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে—ইমাম-উল-হক কোনো রান না করেই জফরা আর্চারের শিকার হন। টেস্টে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো নতুন কিছু নয়, তবে একই ম্যাচে দুই ইনিংসেই এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে পাকিস্তানই এখন সবার ওপরে। দলটি মোট সাতবার একই টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ৫ বার, অস্ট্রেলিয়া ৪ বার, ভারত ২ বার এবং নিউজিল্যান্ড ১ বার।

    হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চরম। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৫ রানে। বিপরীতে ইংল্যান্ড এক ইনিংসেই সংগ্রহ করে ৪০৬ রান। ফলে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা।

    পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ৫/৫১।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুতেই আর্চারের বলে ইমাম-উল-হক শূন্য রানে ফিরলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর শান মাসুদ কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। আবদুল্লাহ শফিকও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

    এরপর জশ টাং পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে বড় ধাক্কা দেন। সাউদ শাকিলকে ফেরানোর পর একই ওভারে শান মাসুদ ও সালমান আগাকে সাজঘরে পাঠিয়ে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দেন।

    মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে রবিনসনের আঘাত অব্যাহত থাকে। পরে গাস অ্যাটকিনসন রিজওয়ানের ইনিংস শেষ করেন এবং ৩৮তম ওভারে আর্চার শেষ ব্যাটারকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।

    প্রথম ইনিংসেও পাকিস্তান ইংলিশ পেসারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। রবিনসন ৫/৫১ এবং জশ টাং ৫/৪৬ নিয়ে পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে দেন। জবাবে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে। হ্যারি ব্রুক ৯১, জর্ডান কক্স ৭৩, জো রুট ৬৬ এবং ড্যান লরেন্স ৫১ রান করেন।

  • সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

  • হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওরের ‘নিরালা’ হয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

    হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘জলপবন’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা রাজন তালুকদার। আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ থেকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় শুরু হয়েছে দৃশ্যধারণ।

    এতে ‘নিরালা’ নামে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

    চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে রুনা খান সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‌‘জলপবন’ মূলত অপেক্ষার গল্প। এতে তিনি অভিনয় করছেন ‌নিরালা চরিত্রে। হাওর এলাকার মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসবে এ চলচ্চিত্রে। দর্শকরা একটি ভালো মানের ছবি উপহার পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

    চলচ্চিত্রটিতে রুনা খানের পাশাপাশি প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রাচ্যনাটের সদস্য সুশান্ত পৃথ্বীরাজ ও জাবির নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষার্থী সামিউল হক। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও যুক্ত হয়েছেন সিনেমাটিতে, তাদের অনেকেই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত।

    জানা যায়, রুনা খান অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘লীলা মন্থন’ ও মাসুদ পথিকের ‘বক’ অন্যতম।

    উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে জনপ্রিয় শিশুতোষ ধারাবাহিক সিসিমপুর-এ ‘সুমনা’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুনা খান অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটপর্দায়ও সফলভাবে কাজ করে চলেছেন। ২০১৭ সালে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি।

  • ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন অজি পেসার। তবে তার আগুনে বোলিংয়ের দারুণ জবাব দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

    ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন শরিফুল। দিন শেষে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুলও।

    ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১০১ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।

    শরিফুলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস একসময় ১৪৮ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয়। নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই মিচেল স্টার্ককে আউট করে নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে নেন শরিফুল। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি।

    এর আগে দ্বিতীয় সেশনেও দুই দলের মোট সাতটি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর চা-বিরতির আগেই অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে। শরিফুলের জোড়া আঘাতে মাত্র ৪১ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে পালটা চাপে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটিও ভাঙেন শরিফুল।

    এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই ভালো বোলিং করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ। জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার করেন মাত্র ৮ রান।

    এরপর অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলেই ট্র্যাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র ২২ রান করে ফেরেন অজি ওপেনার। এরপর চার বলের ব্যবধানে মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করেন শরিফুল। ৯ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন লাবুশেন। ফলে ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

    এর আগে স্টার্কের তাণ্ডবে মাত্র ৬৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। এরপর বল হাতেও শুরু থেকেই কার্যকর ছিলেন তিনি।

    শেষ সেশনে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে স্মিথ ও গ্রিনের জুটি ভাঙেন শরিফুল। স্মিথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে আউট দিলে রিভিউ নেন স্মিথ, কিন্তু আম্পায়ার্স কল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফিরতে হয় অজি ব্যাটারকে। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

    এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ২৭ রান যোগ হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে আউট হন ক্যারি।

    এরপর দ্রুত ব্যাটিং ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় তারা। শরিফুলের পরের ওভারে বেউ ওয়েবস্টার গোল্ডেন ডাকে ফেরেন। এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল। নতুন ব্যাটার কামিন্সের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১ রান।

    সবশেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ককেও নিজের ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে দুর্দান্ত এক বোলিং পারফরম্যান্সের পূর্ণতা দেন শরিফুল ইসলাম।

  • কাজের গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

    কাজের গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সেদিনই তাকে এ দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে গত ৬ মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। নতুন নতুন উইং চালু করেছি। অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে যেগুলো আগে ছিল না।

    তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং আইন প্রণয়ন শাখা-২-এর সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত (২১ আগস্ট, শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো।

    বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

    একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

  • শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন নতুন চার সদস্য। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪ জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজে’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়া কারাবন্দী ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি। পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল।

    দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত।’

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পান নি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল – এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল।

    চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি। এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনু্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি। ।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, ‘এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায় নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুলের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন’।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই। কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন’।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী। মির্জা ফখরুলের বাবা আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারু। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দি

    য়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র। ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন ২ জন প্রতিমন্ত্রী হলেন, শামীম কায়সার লিংক। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, ওই দিনই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় আগেই নিশ্চিত ছিল। তবু প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় তফসিল অনুযায়ী গতকাল ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট ও এগারো দলীয় প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। সরকারি ও বিরোধী দলের ৬ জন এমপি ভোট দানে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল রাষ্ট্রপতি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

  • শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে

    শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই বঙ্গভবনে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    শপথ নিতে যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

    নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- ড. আবদুল মঈন খান (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী), ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (তথ্যমন্ত্রী), সাচিং প্রু জেরী (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী)।

    হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী)।

    শপথ গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হবে।

    বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০’র বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পর একই দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • মেহেরপুর শহরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

    মেহেরপুর শহরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুর শহরের মানিক টাওয়ারের সামনে নছিমন ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রোকেয়া খাতুন (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রোকেয়া খাতুন মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়া এলাকার আবু মন্ডলের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিক টাওয়ারের সামনে নছিমনের সাথে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নসিমনের যাত্রী রোকেযা খাতুন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কর্মকর্তা হুমায়ুন বলেন, ‘পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    রয়টার্সের প্রতিবেদন

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এ তথ্য জানান।

    এর আগে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করবেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়াদিল্লিতে এটি হতে পারে তার প্রথম সফর। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে।

    রয়টার্সকে এ এ এম সালেহ বলেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেখ হাসিনা এবং ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের ব্যাপারে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি তারা পর্যালোচনা করছে।

    এদিকে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে তারেক রহমানের সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দেয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

    এর কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

    ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তার সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরে গত বছরের নভেম্বরে একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন।

  • সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

    সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও ৩৫-৪০টি দোকান কোঠা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সিলাম এলাকার চকবাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যান। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও দোকান কোঠা নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও হামলা-পাল্টা হামলা হয়। এতে ওসি মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ২৫-৩০ জনও আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদিসহ আরো অনেকে। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    জানা গেছে, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরো আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি ও মো: ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়।

    এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

    ওই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নম্বর ১০৭৬৭/২৬ দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়। বিচারপতি মো: হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো: তাজরুল হোসাইনের আদালত বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন।

    তবে সাময়িকভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। যা শুক্রবার সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    শুক্রবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনিসহ আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং সাত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    সরকারের তিন সচিব পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১১ দিন আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব হিসেবে বদলি করা রফিকুল আই মোহাম্মদকে আবারও বদলি করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তাকে এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাৎ শওকত রশীদ চৌধুরীকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে। আর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে ১০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন করেছিল সরকার। চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োজিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছিল। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়।

    অন্যদিকে সেদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি চারতলা ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। দিনব্যাপী অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াচুব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম পাওয়া গেছে ও আটক করেছে তারা হলেন হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুল এর ছেলে মোঃ রাকিব (২৪) আঃ রহমান এর ছেলে মোঃ আলভী (২৩),
    মোঃ মোস্তাফিজুর এর ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দার এর ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (৩০)

    মোঃ আল আমিন এর ছেলে মোঃ নাফি (১৮) ও কোটমোড় এলাকার আলী কদর এর ছেলে মোঃ রিফাত (১৯),এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪) তাদের সবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

    স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে ’-এর আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

    তাদের দাবি, সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    তবে দুই যুবককে পরিকল্পিত ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে , মাদক কেনাবেচা ও মাদক সেবনের অভিযোগ এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির নলছিটিতে অটোরিকশার চার্জিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সজল চন্দ্র দেবনাথ (১২) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তাহসিন (৯) নামে আরও এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেওপাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওপাশা গ্রামের একটি অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত দুই শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    এতে তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেওপাশা গ্রামের বাবুল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে সজল চন্দ্র দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপর আহত শিশু তাহসিনের (৯) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।

    নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া

    কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। হারের হতাশার মধ্যেই অবসরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

    বৃহস্পতিবার কোপা লিবার্তাদোরেসের রাউন্ড অব ১৬-এর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন দি মারিয়া। আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে মুহূর্তটি, কারণ ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলই তাকে নিয়ে গিয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।

    ম্যাচ শেষে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান দি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি একটি কঠিন মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। ইচ্ছা ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তবে এটাই ফুটবল। এখন আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে আমি সামনে কী করতে চাই।’

    ফক্স স্পোর্টসের কাছেও ম্যাচের হতাশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। আমরা বেশ লড়াই করেছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

    দীর্ঘ ১৮ বছর ইউরোপের ফুটবলে দাপট দেখানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। এরপর গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তার। সে সময় তার বয়স হবে ৩৯ বছর।

    তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সফল এই ফুটবলার। সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেছে।

    রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন দি মারিয়া। এই সময়ে ১৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল। তবে কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে ভক্তরা।

  • টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ কিংবা সাগরে থাকা মানুষকে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা চালু করেছিল বাংলালিংক। এ কার্যক্রম সফল হয়েছে দাবি করে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবা এবার বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে চায় অপারেটরটি। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলালিংক।

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি।

    যেভাবে কাজ করে ডিটুসি

    সাধারণ মুঠোফোনের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত ভূমিতে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল। ফোন থেকে পাঠানো সংকেত প্রথমে কাছের মোবাইল টাওয়ারে যায়। কিন্তু কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায়। এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বার্তা বা ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। এ প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, সেবা পেতে আলাদা স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

    প্রযুক্তিগতভাবে উপযোগী সাধারণ ফোর–জি মুঠোফোন ব্যবহার করেই সেবা নেওয়া সম্ভব। মোবাইল টাওয়ারের কভারেজের বাইরে গেলে ফোনটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে।

    কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    কেন দরকার

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট মুঠোফোন গ্রাহক ১৯ কোটির কাছাকাছি। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার রয়েছে ২১ হাজার ৩৬৯টি। এর বাইরে সাত হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে কম জনসংখ্যার বা দুর্গম এলাকায় টাওয়ার স্থাপনে অপারেটরদের আগ্রহ কম থাকে।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেখানে টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে সীমিত যোগাযোগসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে।

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। গত মে মাসে সরকার দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট (পিওসি) পরীক্ষার অনুমতি দেয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে মোবাইল সংযোগ দেওয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সময় বান্দরবান, সন্দ্বীপসহ নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সেখানে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং, ওটিটি ভয়েস কলসহ বিভিন্ন কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।

    সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে

    বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান

    বাণিজ্যিক অনুমোদন চেয়ে চিঠি

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলালিংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত এলটিই-সক্ষম মুঠোফোন কোনো বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি ডিটুসি সেবায় যুক্ত হতে পারে—পিওসিতে তা প্রমাণিত হয়েছে। এই ভিত্তিতে বিদ্যমান সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস অপারেটর লাইসেন্সের আওতায় প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি চেয়েছে তারা।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও অন্য সামুদ্রিক পেশাজীবীরা, যাঁরা বর্তমানে স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের বাইরে থাকেন, তাঁরাও এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলালিংক আরও জানিয়েছে, সেবা চালুর ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত সব শর্ত ও নির্দেশনা মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    জানতে চাইলে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।’

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    শুরুতে যে সেবা মিলবে

    বাংলালিংক সূত্র বলছে, বাণিজ্যিক অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতেই সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিরেক্ট-টু-সেলের বর্তমান ব্যবহারে মূল সুবিধা হলো, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায়ও সীমিত ব্যান্ডউইথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

    নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে প্রশ্ন

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পরও বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসি বাংলালিংককে যে অনুমতি দিয়েছিল, তা ছিল শুধু পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য। সেই অনুমোদনকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না—এমন শর্তও ছিল।

    এর বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার জন্য ব্যবহৃত স্পেকট্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আওতায় মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি ব্যান্ড স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক কাঠামোতেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিটিআরসির এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) স্যাটেলাইট সার্ভিসের গাইডলাইনে এই লাইসেন্সের আওতায় ‘স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইএমটি বলতে মূলত মুঠোফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও স্পেকট্রামকে বোঝায়।

    যদিও বিটিআরসির একটি সূত্র বলছে, ডিটুসি প্রযুক্তির বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখনো কমিশনের হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান কী?

    বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান কী?

    কারেন্ট যেমন যাইতেছে, আবার টাকাও বেশি কাটতেছে। বিদ্যুতের কার্ড ভরেই সারতে পারি না। অনেক টাকা নিতেছে।’

    সাভারে পল্লী বিদ্যুতের একজন গ্রাহক রোজিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানান। রোজিনার মতো আরো বেশ কয়েকজন ভোক্তার অভিযোগ, দিনে-রাতে বিদ্যুৎ সঙ্কট অনেক বেশি।

    লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিল দুটোই বেড়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুতের গ্রাহকদের।

    বিশেষ করে গ্রামে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কিছু এলাকায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে বা এখনো হচ্ছে।

    বাংলাদেশে বিদ্যুতের মোট পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা তিন কোটি ৭১ লাখ। সেই হিসেবে লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামে-গঞ্জে-মফস্বলের সাধারণ গ্রাহকরাই বিদ্যুতের বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

    বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতেও সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

    শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানা চালু রাখে, যেটি ক্যাভটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে পরিচিত। গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পকারাখানায় বিদ্যুতের ঘাটতিও এবছর তুলনামূলক বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

    গাজীপুরের একজন কারখানা মালিক বলেন, আমরা ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাচ্ছি। সেটার কারণে আমাদের প্রোডাকশন কস্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে। বিদ্যুতের কারণে প্রোডাকশন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অনেকের ডিজেল জেনারেটর দিয়ে চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণে এখানে খরচ অনেক বেশি।

    তিনি জানান, বিদ্যুতের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের থেকে অর্ডার পেলেও সঠিক সময় কাজ শেষ করতে পারছে না অনেকে, তারফলে চাপ বাড়ছে। বায়ার এয়ার শিপমেন্টের কথা বলছে। অথবা বলছে- যদি তোমরা সময়মত শিপমেন্ট না দিতে পারো আমরা অন্যত্র অর্ডারটা নিয়ে যাবো।

    এদিকে, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে এ মাসে দেশের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যে কারণে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

    এছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাছে পৃথক আবেদন করেছে গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিস।

    বিদ্যুৎ সক্ষমতা এবং সঙ্কট
    বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ ৩৩ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য হলো নেপাল ও ভারত থেকে আমদানিসহ গ্রিড পর্যায়ে সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।

    বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে চলতি বছর মে মাসে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

    তবে উৎপাদনে রেকর্ড করার সাথে এবছর লোডশেডিং বা ঘাটতির দিক থেকেও গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

    পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ বা পিজিসিবি’র তথ্যে গত ১০ই অগাস্ট একদিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।

    বিদ্যুৎ বিভাগের হিসেবে এ বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

    সরকার বলছে, প্রাথমিক জ্বালানির সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এবছর এলএনজি আমদানিতে সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়েছে।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির পরিস্থিতির উন্নতি করতে তাদের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। বিদ্যুৎ খাতের দশ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

    বাংলাদেশে মারাত্মক বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বিগত সরকার জরুরি ভিত্তিতে তেলভিত্তিক, আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ আইন প্রণয়ন করে বিনা দরপত্রে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেয় তারা।

    দেশে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয় ওই সরকারের সময়। স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নে নানা প্রচারও তারা করে গেছে।

    বাস্তবতা হলো– উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলেও গ্যাস উত্তোলন বাড়েনি; কয়লা উত্তোলন করা হয়নি, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে। বড় সমস্যা তৈরি হয় ব্যয়বহুল প্রাথমিক জ্বালানি এবং আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে।

    এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসেনি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

    এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা থাকা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ খরচ বেড়েছে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুতের সঙ্কট ক্রমাগত জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।’

    বিগত সরকারের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত নির্মাণ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন পরিকল্পনা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারেনি। শেষ দিকে এসে ডলার ও জ্বালানি সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মোটামুটি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে গেলেও দায়দেনা ও ভর্তুকি বেড়েছে। নতুন সরকার এসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি অবকাঠামোর যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

    কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা, নীতি ও দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।

    তার বিশ্লেষণ হলো– বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকার ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারেনি, গ্যাসের আমদানি বেড়েছে এবং নবায়নযোগ্য খাত থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারেনি।

    অতীতে একদিকে ব্যয়বহুল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ওদিকে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে। আর সেটা করতে গিয়ে আইন পরিবর্তন করেছে, প্রতিযোগিতা শূন্য করে ফেলেছে। খুব কস্টলি বিনিয়োগ আনা হয়েছে। ব্যাপকহারে লুটপাটের ক্ষেত্র কাঠামোগতভাবে তৈরি হয়েছে, যে কাঠামো এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়নি এবং ভাঙার কথা সরকারের মাথায় আছে কি না তা কোনোভাবেই দেখা যাচ্ছে না।

    শামসুল আলমের বিশ্লেষণে কাঠামোগত দিক থেকেও বিদ্যুৎ খাত সরকারের সেবাখাতের জায়গা থেকে সরে মুনাফাভিত্তিক একটা খাতে পরিণত হয়েছে, যা সঙ্কট বৃদ্ধি করেছে।

    তার মতে, সরকার জনগণকে সেবা দেবে সেটা কস্ট প্রাইসে, বিদ্যুৎখাতে সরকারকে মুনাফা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    মুনাফা সব জায়গা হচ্ছে। বিতরণে হচ্ছে, সঞ্চালনে হচ্ছে, উৎপাদনে হচ্ছে, ফুয়েল সাপ্লাইয়ে হচ্ছে। সরকার সব জায়গা থেকে মুনাফা খাচ্ছে। সরকার যেখানে যা কাজ করছে সমস্ত জায়গা থেকে ন্যায্য ব্যয় এবং প্রকৃত ব্যয় অপেক্ষা কস্ট প্লাস রেভিনিউ আর্ন করে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে এ খাতটাকে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যে পরিমাণ জ্বালানি দরকার বিদ্যুতের জন্য সে পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করার মতো পরিস্থিতি আমাদের নেই। যে বিকল্প উৎসগুলো রয়েছে সেটার ব্যাপারে তড়িৎ উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রেও সরকার বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ছে।

    নতুন সরকার বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিয়ম করছে জানিয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোক্তাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সমস্যা মোকাবিলায় কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমাদের কয়লাভিত্তিক যে ক্ষমতা আছে সেটা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। সেটা বাড়াতে হবে। আমরা তেলটা বাতিল করতে দিতে বলেছি। আমরা পারমাণবিক থেকে বিদ্যুৎ আনতে বলেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিশ পার্সেন্টের কথা বলেছি এবং এফিসিয়েন্সি বাড়াতে বলেছি। এভাবে পুরো জিনিসটাকে মোকাবিলা করতে বলেছি। আর বলেছি যে, প্রয়োজনে আরো বেশি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাড়ানো হোক। বাড়িয়ে এই যে জ্বালানি নিরাপত্তার নামে যে ফাঁদ তৈরি করে আমাদেরকে লুন্ঠন করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরকম কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন সরকারকে আনতে হবে।’

    সমস্যা সমাধানে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমাদের আসলে গ্যাস ভিত্তিক সিস্টেম থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ইলেকট্রিসিটি বেইজ সিস্টেমের দিকে যাওয়া-সেটা একটা সমাধান। যেমন গ্যাস ভিত্তিক বয়লারের যায়গায় ইলেকট্রিক বয়লারে শিফট করা প্রয়োজন। একইভাবে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে ইলেকট্রিক ভিইকেলে যাওয়া। একইভাবে সোলার বেজ ইরিগেশনে গিয়ে ডিজেল সেচ থেকে সরে আসা। বাসাবাড়িতে রান্না হচ্ছে, সেটাতে গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক চুলায় রান্নায় যাওয়া।’

    বিদ্যুৎ আমদানি
    বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকরা।

    সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা যেটা আমদানি করি সেটা মোট বিদ্যুৎ চাহিদার নয় শতাংশের মতো। সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যদি এই মুহূর্তে রিজিওনাল গ্রিডটি সক্রিয় থাকতো এবং আরো বেশি পরিমাণে ক্যাপাসিটি সম্পন্ন হতো, তাহলে কিন্তু আমরা ভারতে আরো যেসমস্ত উদ্বৃত্ব বিদ্যুৎ অন্যান্য যায়গায় রয়েছে, সেটা এই ঘাটতি পূরণের জন্য কিন্তু আমরা জরুরি ভিত্তিতে নিতে পারতাম। সুতরাং রিজিওনাল এই গ্রিডটি আগামীতে আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে এম শামসুল আলম আদানি চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, ‘এই চুক্তি সংশোধন করে ট্যারিফ কমাতে হবে।’

    তবে গ্রিড ব্যবহার করে আমদানির পক্ষে তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আদানির সাথে নেগোসিয়েশন করে যদি ট্যারিফ না কমায় তাহলে ওই চুক্তি বাতিল করে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে না। কিন্তু জিটুজি চুক্তির আওতায় সরকার যেটা আমদানি করছে এবং নেপাল বা ভুটান থেকে জলবিদ্যুতের সুযোগ আছে সরকার সে উদ্যোগ নিয়েছে কিছু এরই মধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আনার সুযোগ আছে গ্যাস বা বিদ্যৎ । এমনকি তেলও আনার সুযোগ আছে কয়লাও আনার সুযোগ আছে ইন্ডিয়া থেকে। যদি কমপিটিটিভ প্রাইসে সেখান থেকে আনার সুযোগ থাকে, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা সংরক্ষণের স্বার্থে তা আনার বিষয়টি অবশ্যই জ্বালানি মিক্সের যে বৈচিত্রের কথা বলছি সে প্রশ্নে অবশ্যই সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।’

  • নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জের ধরে রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল ২২নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলা তুলে না নেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকালে বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা বেলা পৌনে ১১টায় অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে জুমার নামাজের কিছু আগে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

    এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে ২৩নং ওয়ার্ড বন্দরে কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ (২৮) ওই বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার শেখ সিফাত ২১নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বন্দরের বারপাড়া এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২) নবীগঞ্জ কদমরসুল ফকিরবাড়ি এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার আবদুস সোবহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার সুলাইমানের ছেলে সিয়াম (২৫), বন্দর চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার মাসুদের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৬) ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬)।

    এ ব্যাপারে নিহত বুলবুলের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিনকে বাদী করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বুলবুলের গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন জানান।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে চাপ প্রয়োগ করে তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে সড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাত ও তার আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন

    মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন

    তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও পাঁচজন যুক্ত হতে যাচ্ছেন। যে পাঁচজনকে ঘিরে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাদের একজন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। নতুন মন্ত্রীদের বিষয়ে যে সূত্রটি তথ্য দিয়েছে, তার বর্ণনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন আবদুল মঈন খান, হুমায়ুন কবির, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

    সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

    হুমায়ুন কবির বর্তমান সরকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর এই পদটি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।

    সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে জয়ী হন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

  • আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    আমার শরীর ও মনে এমন ক্ষত আছে, যা কখনো সারবে না: অনুপমা

    ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তার সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগেছেন। এমনকি আতঙ্কের সময় শরীর কাঁপা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খাওয়ার পর বমি, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাকে। একপর্যায়ে চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।

    সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনুপমা এসব কথা বলেন। তার ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কে মানসিক চাপ ধীরে ধীরে তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

    অনুপমা বলেন, আগে কখনো এমন সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি সুখী শিশু ছিলাম। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতাম। এর আগে এমন কিছুই ঘটেনি।’

    আতঙ্কে কাঁপত শরীর
    অনুপমার দাবি, ওই সময়ে নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক ও তীব্র উদ্বেগে আক্রান্ত হতেন তিনি। তখন নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণও থাকত না।

    তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের পা কাঁপতে শুরু করত, হাত কাঁপত, এমনকি আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারতাম না।’ এ সময় কয়েকবার জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

    মানসিক চাপের প্রভাব পড়েছিল তার খাওয়ার অভ্যাসেও। সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অনেক কিছু তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। অনুপমা বলেন, কিছু খাওয়ার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কথা বা ঘটনা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুললে তিনি বমি করে ফেলতেন।

    ওজন কমে যাচ্ছিল, শুটিংয়েও সমস্যা
    অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে তার ওজনও দ্রুত কমে যাচ্ছিল। আশপাশের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন নিজের ভেতরের পরিস্থিতি কাউকে বোঝাতে পারছিলেন না বলে জানান অনুপমা।

    শুটিংয়ের সময়ও এর প্রভাব পড়েছিল। তার ডান চোখ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপত। এতে কখনো কখনো শুটিং বন্ধ করে দিতে হতো।

    অনুপমা বলেন, ‘আমার ডান চোখে সমস্যা শুরু হতো। চোখ এমনভাবে কাঁপত যে শুটিং বন্ধ করতে হতো। এটা থামানোর কোনো উপায় ছিল না।’

    দীর্ঘক্ষণ কান্না, শেষে অস্ত্রোপচার
    অনুপমার ভাষ্য, ওই সময় তিনি প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। এর প্রভাব পড়ে তার চোখের অশ্রুগ্রন্থিতে। একপর্যায়ে অশ্রুগ্রন্থিটি স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ফুলে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো। হঠাৎ আমার অশ্রুগ্রন্থি নিচের দিকে নেমে আসে। সেটি ফুলে গিয়েছিল। আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।’

    ‘পর্দা’ সিনেমার প্রচারের সময় তার চোখের এক পাশ ফুলে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনুপমা। তিনি জানান, অশ্রুগ্রন্থিটি পুরোপুরি নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করে সেটিকে আবার সেলাই করে ঠিক জায়গায় বসাতে হয়।

    অনুপমা আরও বলেন, ওই সম্পর্কের প্রভাব শুধু চোখের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার শরীর ও মনে এমন কিছু ক্ষত তৈরি হয়েছে, যেগুলো হয়তো কখনো পুরোপুরি সেরে উঠবে না।

    ‘নার্সিসিস্টিক নির্যাতন’ বলছেন অনুপমা
    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টেও সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা নার্সিসিস্টিক নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন অনুপমা।

    তার দাবি, সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তাকে এমনভাবে আবেগগতভাবে জড়িয়ে ফেলা হতো যে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে হতো। পরে আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসত এবং সম্পর্কটি হয়ে উঠত অত্যন্ত কঠিন।

    অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আবার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, কান্নাকাটি ও আর এমন হবে না-এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এরপর আবার আগের মতোই ভালোবাসা ও নির্যাতনের চক্র চলত।

    সাবেক সঙ্গী কে, জানাননি
    অনুপমা তার বক্তব্যে সাবেক সঙ্গীর নাম প্রকাশ করেননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তার সঙ্গে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সম্পর্ক নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল। ২০২৫ সালে মারি সেলভারাজের বাইসন কালামাদান ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ে।

    তবে অনুপমা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধ্রুব বিক্রমের নাম উল্লেখ করেননি। ধ্রুবও এমন কোনো সম্পর্ক বা অনুপমার অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা মন্তব্য করেননি। সূত্র: এনডিটিভি

  • নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা

    নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা

    রাজধানীর বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। একই সঙ্গে ডিমের দাম বেড়ে ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার খরচ বেড়েই চলেছে। হিমশিম খাচ্ছেন সংসার চালাতে গিয়ে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র। বাজার ও এলাকাভেদে পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্যও দেখা যায়।

    মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

    মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মিলছে। দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি।

    ইলিশের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

    ক্রেতারা বলছেন, ২৫০ টাকার নিচে এখন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তেলাপিয়াও কেজিপ্রতি আড়াইশ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিক্রেতারা জানান, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যায়। যেদিন যেমন আসে সেদিন তেমন দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই এখন বড় অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। এক পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।

  • দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনসহ (৬০) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে ৬ আগস্ট দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি জয়রামপুর কলোনীপাড়ার মৃত রহিম বক্সের ছেলে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনকে ২১ আগস্ট ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে জয়রামপুর কলোনীপাড়া এলাকার পাকা সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ছাড়া ২৮ জুলাই দায়ের করা অপর একটি মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হুদাপাড়ার মৃত আনসার আলীর ছেলে মো: ইয়াসিন আলী ওরফে কালুকে (৩৪) ২১ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং একই মামলার আরেক আসামি জয়রামপুর মালিথাপাড়ার মো: বিপ্লবকে (২২) ২০ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে ঠেলা জালে ধরা পড়ল ইলিশ

    ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে ঠেলা জালে ধরা পড়ল ইলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ঠেলা জালে অবিশ্বাস্যভাবে ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর এলাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তি নিকটবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদে ঠেলা জাল দিয়ে ছোট মাছ ধরতে গেলে জালে অন্যান্য ছোট মাছের সাথে একটি ইলিশ মাছও ধরা পড়ে। ইলিশটি ৬ থেকে ৭ শ’ গ্রাম ওজনের। মাছটি দেখতে একটু লম্বাটে।

    ইলিশ মাছ সাগর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর মাছ হিসেবে পরিচিত বলে ব্রহ্মপুত্র নদে এই মাছ দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছেন।

    ইলিশ মাছটি ব্রহ্মপুত্রে কিভাবে এলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও মৎস্য বিজ্ঞানী ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘ইলিশ ডিম দেয়ার জন্য সাগর থেকে মেঘনা নদীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে পরিভ্রমণ করে। মেঘনা নদীর সাথে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সংযোগ থাকায় সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে হয়তো পথ ভুলে ইলিশ মাছটি এখানে চলে এসেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ মাছের খাবার উপযোগী প্লাঙ্কটনের উপস্থিতি কম থাকায় এই মাছটি খেতে মেঘনার ইলিশের মতো এতটা সুস্বাদু হওয়ার কথা নয়।’

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদকে হারিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং এই পদের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে নতুন করে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে, সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক হয়েও রাষ্ট্রপতি আসলে কী করতে পারেন আর কী পারেন না?

    এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে বিবিসি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদটির ভূমিকা অনেকটাই ‘আলংকারিক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতে, আর রাষ্ট্রপতি হন কেবল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান।

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা জানায়, রাষ্ট্রপতি কেবল দুটি কাজ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করতে পারেন। আর এই কাজ দুটি হলো, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব কাজ সম্পাদনে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। সংসদ আহ্বান করা, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, বিলে সই করা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা বা ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ চূড়ান্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আসলেই রাষ্ট্রপতিকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে দেশের কোনো আদালতও প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো ক্ষমতা নাই।’ তিনি মনে করেন, শাসন ব্যবস্থায় যারা বাস্তবে ক্ষমতায় থাকেন, তাদের ইচ্ছার বাইরে রাষ্ট্রপতির তেমন কিছু করার সুযোগ থাকে না।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমতার মূল উৎস

    কাগজে-কলমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ বা আপদকালীন পরিস্থিতিতে এই পদটিই হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার মূল উৎস। বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ক্ষমতার নেপথ্যে থাকা কোনো শক্তি, আন্তর্জাতিক চাপ বা সমর্থন থাকে, তবে রাষ্ট্রপতি অনেক সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

    অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ক্ষমতার আড়ালে থাকা খেলোয়াড়রা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে যদি কিছু করাতে চান, তাহলে ওনার অনেক ক্ষমতা। উনি সেনা সমর্থিত সরকার আনতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।’

    এছাড়া সংবিধানই রাষ্ট্রপতি পদকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। অর্থাৎ,অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে যেমন কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তেমনি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা যাবে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সব বিধিনিষেধের ঊর্ধ্বে উঠার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতিরই আছে। তার যেকোনো উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে না কেউ।

    ঐতিহাসিক সংকট ও রাষ্ট্রপতিদের ভূমিকা

    সংসদীয় পদ্ধতি চালু হওয়ার পরও বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বেশ কয়েকটি সংকটময় মুহূর্ত এসেছে, যখন রাষ্ট্রপতিকে একক বা স্বাধীনভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বিবিসি বাংলার সংকলিত তথ্যে এমন কিছু নজির উঠে এসেছে।

    ১৯৯৬ সালের সেনা বিদ্রোহ প্রতিহতকরণ: ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাথে তৎকালীন সেনাপ্রধানের তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেনাপ্রধানের নির্দেশে ঢাকায় সৈন্য সমাবেশ করার চেষ্টা করা হলে রাষ্ট্রপতি অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেন এবং সেনাপ্রধানকে অব্যাহতি দিয়ে আটক করা হয়।

    সাহাবুদ্দীন আহমদের দৃঢ়তা: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ‘জননিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান, যা সরকারের সাথে তার তিক্ততা তৈরি করে। পাঁচ বছরের মেয়াদে তার নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ছিলেন।

    বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ: ২০০২ সালে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে তার দল জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরে শ্রদ্ধা না জানানো এবং স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করার জেরে মাত্র ৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করে ।

    ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ: ২০০৬ সালে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রয়োগ।

    দলীয় আধিপত্য বনাম ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দলীয় আধিপত্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে তার স্বাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে দেওয়া হয় না, কারণ দলগুলো সবসময়ই তাদের অনুগত বা পছন্দের ব্যক্তিকে এই পদে বসাতে চায়।

    অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাষ্ট্রপতি, যদি তিনি কাজ করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তা করতে দেওয়া হয় না। দলগুলোই রাষ্ট্রপতিকে পদে বসায়, তাই তিনি স্বাধীন নন।’

    একই সুর শোনা যায় লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের কণ্ঠেও। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একসময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতি চালুর পর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংকুচিত করা হয় এবং দলগুলো তাদের অনুগতদেরই এই আসনে বসাতে পছন্দ করে। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষতার পুরো বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এবং তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ধরনের ওপর। নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য বজায় রাখার এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

  • চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে এক মুদিদোকানি ও বিকাশ এজেন্টকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়া এবং পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

    আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: কাওছার আলী।

    অভিযুক্তরা হলেন—তপু, তিতাস, সজল, মুন্না, ইকবাল, সজীব ও আশা। ভুক্তভোগী কাওছার আলী সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় নীলার মোড়ে মুদি ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তিতাস ও আশা ইয়াবা সেবনের কথা বলে কাওছারের ছোট ভাই সুমনের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। সুমন বিষয়টি তার ভাইকে জানালে অভিযুক্তরা কাওছারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত তপু মোবাইল ফোনে কল করে কাওছারের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কাওছার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

    একই দিন দুপুরে তপু, তিতাস ও সজল দোকানে এসে ড্রয়ার থেকে জোরপূর্বক ৪০০ টাকা নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে আবারো আসবেন বলে হুমকি দেন। এরপর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আশা দোকানে এসে টাকার জন্য তাগিদ দেন এবং রাতে তপু ফোনে পুনরায় টাকা চান।

    রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওছার দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিলে তপু ও তিতাস এসে তাকে মারধর করেন এবং জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়, স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগরের সহযোগিতায় স্কুলের গেট খুলে ভেতরে নিয়ে কাওছারকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সেখানে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

    অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প সই করে দিতে হবে। তা না করলে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত বাংগালপাড়া-চাতলপাড় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এখন সীমাহীন ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

    অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার কথা। হাওরাঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই রূপের কারণে সারা বছর সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সাথে বছরজুড়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭৮ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    শুরুর দিকে দ্রুত গতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে আসে প্রকল্পটিতে।

    একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করা শুরু করে। বর্তমানে নদীর বুকে সেতুর মাত্র কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

    ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার কিংবা নৌকাই একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সঙ্কটাপন্ন রোগীদের। এতে সারাদেশের সাথে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

    সেতুটি চালু হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি পণ্য সহজে সারা দেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

    এদিকে হাওরাঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার কাজ চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

  • মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে রড বহনকারী চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: রিয়াদ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার হাফিজ মোল্লার ছেলে ট্রাকের হেলপার মো: হাদিছ মোল্লা ও নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর থানার মরহুম কাঞ্চন শেখের ছেলে আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড একটি ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে রডবোঝাই ট্রাক চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই চুরি যাওয়া রড উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করি। পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একইসাথে আন্তঃজেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর বাজারের আয়ান এন্টারপ্রাইজ থেকে ১২ টন ১০০ কেজি চুরি যাওয়া রড উদ্ধার করা হয়। পরে ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড বহনকারী ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা ও চুরি যাওয়া বাকি রডের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া রড ও ট্রাক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেফতারদের মধ্যে রিয়াদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জজ মিয়াকে (৫৫) দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো: জজ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে। শিশুটিকে তার বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন।

  • সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    অমর নায়ক সালমান শাহর জীবনী নয়, তাঁর মৃত্যুরহস্যও নয়। বরং নব্বইয়ের দশকে এই নায়ককে ঘিরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ আর ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    নির্মাতা জানান, সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দুদিন আগে মুক্তি দেওয়া হবে সিনেমাটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর ভক্তদের মধ্যে যে গভীর শোক ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, সেই সময়কেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এ।

    গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। নির্মাতা ইভান মল্লিক বলেন, ‘সিনেমাটি যেহেতু সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।’

    সিনেমটির গল্পে উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের সেই চেনা সময়। ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা দেখা, ভিউকার্ড সংগ্রহ, ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা রেডিওতে পছন্দের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা—সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এসব স্মৃতির আবহেই এগিয়েছে গল্প।

    সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে সালমান শাহর। অভিনয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিক উপস্থিতিতে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় নায়ক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। প্রিয় নায়ককে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন।

    সেই সময়ের আবেগ, সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এবং এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।

    রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।

    ইভান মল্লিক বলেন, ‘অডিশনের মাধ্যমে একেবারে নতুন দুজনকে নির্বাচন করেছি। অডিশনের ক্ষেত্রে পরিচালক সমিতিও সহযোগিতা করেছে। “লাভ ৯৬” পুরোপুরি রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা। দর্শকরা টানটান উত্তেজনা পাবেন। আমি মনে করি, এই চলচ্চিত্রটি দেখলে প্রত্যেক সালমান শাহ ভক্তই নিজের কোনো না কোনো অনুভূতিকে খুঁজে পাবেন।’

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন সেলিম

    দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন সেলিম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার সময় ট্রাকেরচাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ও মেয়েটির বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যায়।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মা সম্পা বেগম ও মেয়ে নুছাইফা আক্তার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সরকার স্ত্রী সম্পা ও মেয়ে নুছাইফাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি থেকে ঘোড়াঘাটের হমিদপুর চিত্তিপাড়া এলাকায় মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সেলিমসহ তার স্ত্রী ও মেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় ট্রাকেরচাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সম্পা ও নুছাইফার মৃত্যু হয়। এতে সেলিম গুরুতর আহত হন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে পুলিশকে জানানো হয়।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের পর এবার আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়।

    এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।

    এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

    এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খান, ডালিম আহত হয়।

    এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল পক্ষের আহত সবুর খান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, ক্যাবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।

    অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুর রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্রিল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপির সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

    সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।’

  • ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মো: ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসাথে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।

    এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার মো: ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো: রতন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২)। শুক্রবার ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আনাসের।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাসের সাথে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।

    আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিলন হোসেন বলেন, ‘স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।’

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

  • রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানী ঢাকায় যানজট বেশ পুরনো সমস্যা। এতে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেলেনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধান। তবে সম্প্রতি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার ব্যবহার কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উদ্যোগ নিয়েছে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর।

    সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশ কমে আসবে বলে আশা করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্ত করেন এ আশাবাদ।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তার ভাষ্য, পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে, এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, ড্রোনে যদি অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে অফিসে বসে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ঢাকায় বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থামে না। বাসের কন্ডিশন অনুযায়ী ‘পার ডে’ তারা মালিককে টাকা দেয়। এই টাকা দেওয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন করে তারা। কম্পিটিশনের কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের পুরো রাস্তা ব্লক করে দেয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, উন্নত দেশগুলোয় নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে— সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকার প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। এটা যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন— এই দুটি কাজ যতদিন আমরা যথাযথভাবে করতে না পারব, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

    ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান জানালেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন— কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’

    ‘ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তবে এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব’, যোগ করেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তা।

    ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডাটা সরাসরি পাওয়া যাবে কি না— জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বললেন, একদম রিয়েল টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব। তবে, এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো লাগবে। কারণ এগুলো সবই হচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস দরকার, অবকাঠামো দরকার। এগুলোর জন্য ব্যয় আছে।

    ড্রোন পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দরকার আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা এরই মধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    এ প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে চ্যালেঞ্জের কথা জানাতে গিয়ে আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।

    ‘আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কি না। আপাতত কাজ করছে। তবে সমস্যা যে নেই, তা নয়। সমস্যা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। তবে এই অভ্যাস তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে। আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। যদি কোনো নেতিবাচক দিক দেখা যায়, তাহলে এটি চালু করা হবে না’, যোগ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    নিজের গান রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এবার তাঁর ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইয়োর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি গ্রান্দে।

    বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।

    পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’

    দুই মাসে দ্বিতীয়বার
    ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

    সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
    তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।

    শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
    গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।

    এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
    আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।

    বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

  • শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়া শেষে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

    এ সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় সমাধি প্রাঙ্গণে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

    রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখানে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।

  • রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    জোড়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। আর রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে।

    বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে আসবেন। তারপর সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করবেন।

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

    বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করার জন্য বসবেন। এ সময় দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ তখন থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন। এ সময় মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন।

    শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর আছে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার সদস্যের শপথ পাঠ করাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। তাঁদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।

  • গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে পাচারকালে ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যান আটক করেছে স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো উদ্ধার করে এবং অটোভ্যান চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে উদ্ধার করা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধানখোলা বাজার থেকে আজান যাওয়ার পথে ধানখোলা ইউনিয়নের যুগিন্দা বাজার থেকে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি গাংনী উপজেলায় সারের সঙ্কট দেখা দেয়ায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সার পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা যুগিন্দা বাজারে সারবোঝাই একটি অটোভ্যান আটকিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০ বস্তা সার উদ্ধার করেন। এ সময় অবৈধভাবে সার পরিবহনের অভিযোগে অটোভ্যানচালক শাহাবুল ইসলামকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। অটোভ্যান চালক থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার যেন কোনোভাবেই অন্যত্র পাচার না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার বাবা-মা ও আট বছরের মেয়ের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে যান। এ সময় মুফতি আমীর হামজা দেবাশীষ দত্তের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যাকে স্নেহের মমতায় জড়িয়ে ধরেন। শান্তনা দেন তাকে।

    এ সময় মেয়েটিকে দেখাশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারেও মুফতি আমীর হামজা কথা বলেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেখে আসলাম সাক্ষাৎ করে আসলাম। আমাদের সরকারি যেটুকু সাহায্য আছে আমি দেখব। ব্যক্তিগতভাবে মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব যতটুকু পারা যায় আমরা সর্বোচ্চটা দেখছি। উনাদের পারিবারিকভাবে আমি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেব আমার পিএ কে দিয়ে, আমার যারা পার্সোনাল আছে তাদেরকে দিয়ে। আমরা তো দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ দেখি না। আল্লাহ আমাদের বের করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। সুতরাং উনাদের কল্যাণে যতটুকু লাগানো যায় চেষ্টা করব।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটার দায়িত্ব ইনশাল্লাহ দেখছি। দোয়া করেন, উনার জন্য যেন কিছু করতে পারি। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব খারাপ লাগছে। মানুষের মরণ আজ হোক কাল হোক বিদায় তো নিতেই হবে। মেয়েটা তো অসহায় হয়ে গেল একেবারে। আমি মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যতদূর এখানে পড়া আছে, পড়ার ব্যবস্থা করব। মেয়েটির পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।

    কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

    দৈনিক সম্পাদকীয় কলাম

    অপরদিকে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী এনামুল হকসহ জেলা নেতৃবৃন্দও তার বাড়িতে ছুটে যান। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আংদিয়া চড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সুরুজকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমের ছোট ভাই আলম ও অনলাইন জুয়ার ডিলার তপুর কাছে কমিশনের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলমের সঙ্গে তার ভাতিজার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা পাওনা টাকা দাবি করলে আলম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তপু গুলি চালালে সুরুজ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

    মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই জুয়ার টাকাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

  • যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক লোকসমাজের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হানিফ ডাকুয়াকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যশোরের সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    হানিফ ডাকুয়া অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাজী রুহুল আমিন (৬৮), পিতা-মৃত তফসির উদ্দিন বিশ্বাস, সাং-নাজির শংকরপুর, বর্তমান ঠিকানা-রেল রোডের শাহানাজ হোটেল, কোতোয়ালী থানা, যশোর তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জীবননাশের হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ঘটনায় হানিফ ডাকুয়া গত ১৮ আগস্ট যশোর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর-১৬১৬। তিনি জানান, হুমকির পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

    এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

    অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সভাপতি গোপীনাথ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এম আর খান মিলন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন সাংবাদিককে এভাবে মোবাইল ফোনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    হানিফ ডাকুয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ‘ডাকুয়া রিয়েল এস্টেট সেল লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী।

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোর্স

    সাংবাদিক মহল বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    তারা হানিফ ডাকুয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: ফয়সাল মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলছাত্র ফয়সাল মিয়া লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আওয়াল মিয়ার ছোট ছেলে। সে স্থানীয় লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ফয়সাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের কাছ থেকে লাশ দাফনের অনুমতি আনার পর লাশ দাফনের ব্যবস্থা করবে পরিবারের সদস্যরা।

  • মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর জহুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙা মোড়ের প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রিকশাচালক জহুরুল ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায়। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে ঘুঘুমারী এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে বালিজুড়ী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম। পথে আমলীতলা এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

    এদিকে আমলীতলা এলাকার সড়কের পাশে অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। অটোরিকশাটিতে মরিচের গুঁড়া পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে মাথাভাঙা মোড়ের পশ্চিম পাশে ডোবায় একটি লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা লাশটি জহুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশাচালক জহুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটি উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জহুরুল ইসলামকে কোথায় এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার সাথে কারা জড়িত— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর আগে তিনি বঙ্গভবনের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন

  • সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা সরকারি চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চালগুলো জব্দ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. মোসলেম সরকারকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রাম থেকে চালগুলো আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন চালবোঝাই একটি গাড়ি আটক করে বিষয়টি পুলিশ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জব্দ করা চালের প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে চাল রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, অসহায়দের মধ্যে বিতরণ না করে এসব চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চাল পরিবহনের সময় ডিলার মোসলেম সরকারের সহযোগী আসাদুল্লাহকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালগুলো গৌরীপুর থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে গাড়িচালক জানান, দড়িচরের ডিলারের গোডাউন থেকে চালগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছে এবং দুলালপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, চালবোঝাই গাড়িটি সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা আটক করেন। পরে খাদ্য কর্মকর্তাকে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, চালগুলো দুলালপুর বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

    এদিকে সরকারি চাল আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম (হিমেল) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মো. মোসলেম সরকারকে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই, তাদের পরিচয় তারা অপরাধী।’ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অনিয়ম করার জন্য নয়। এ ঘটনায় মোসলেম সরকারকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসলেম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

    হোমনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাল আটকের খবর দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোসলেম সরকারের ডিলারশিপ বাতিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সরকারি চাল অন্যত্র পাচারের অভিযোগে বাদী হয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।’

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন ২৫ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা সরকারি চাল আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে চালগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা বের করা হবে।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে একটি দল নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন– ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা। তাদের মধ্যে জলিলকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য একটি লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নেয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতেরা গাড়িটির পথরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএল ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াত করতেন কাওসার। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। পরে এই তথ্য তিনি ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের জানান।

    জেলে পরিচয়, পরে ডাকাতির পরিকল্পনা
    র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় কারাগারে থাকার সময় ১৮টি মামলার আসামি হাকিমের সাথে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২ আগস্ট হাকিম, কাওসার ও জলিল মোল্লা ডিএল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পুরো এলাকা রেকি করেন। পরে মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন। আর একজন ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করে টাকা বহনকারী গাড়ির গতিবিধি জানাতে থাকেন।

    র‌্যাব জানায়, মুস্তাফিজ নামের ওই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান, টাকা নিয়ে লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়েছে। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে ভ্যানটির পথরোধ করে টাকা লুট করা হয়।

    জলিলের কাছে ছিল ৫৩ লাখ
    র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন চক্রের সদস্যরা। মূল সর্দার জলিল মোল্লার কাছে ছিল ৫৩ লাখ টাকা। ডাকাতির সময় তার হাতে একটি পিস্তল ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    আরেক সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা পান। ডাকাতির সময় তার কাছেও পিস্তল ছিল। তাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    মুস্তাফিজ ১৪ লাখ, শওকত হোসেন দিপু ১০ লাখ, সোহেল ১০ লাখ এবং চাপাতি হাতে থাকা আলী ১০ লাখ টাকা পান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। শওকত হোসেন দিপুর সাথে থাকা আরো একজন সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    র‌্যাব বলছে, হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই রাখা হয়েছিল। তবে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    তিন ধাপে গ্রেফতার
    র‌্যাব জানায়, ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি আগের দুটি মামলার নথি যাচাই করে গত ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।

    জলিলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারাবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল আরো জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মর্মে সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মহাসিচব ও দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রুহুল কবির রিজভী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটি হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থেকে তিনি মূলত দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

    রুহুল কবির রিজভীর পৈত্রিক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি

    বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া বাংলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

    রাজনীতি জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনটিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে এর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

    রুহুল কবির রিজভী ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।