কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

রাশিয়ার নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট দুমা’য় প্রথম ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সামাজিক ব্যয়, প্রতিরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নবম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় পুতিন আইনপ্রণেতাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ এবং ‘ধ্বংসাত্মক জনতুষ্টি’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাশিয়ার প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। পুতিন বলেন, রাশিয়া সারা বিশ্বে ‘হাত পেতে দান-খয়রাতের জন্য ভিক্ষা করবে না’।

দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন ফেডারেল বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমত, এটি অপমানজনক। দ্বিতীয়ত, কেউ আমাদের কিছু দেবে না। এটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোম আমাদের এর প্রয়োজন নেই। পুতিন রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের ভুল একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় প্রকল্প ও ফেডারেল কর্মসূচিগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ পুরোপুরি বরাদ্দ এবং সরকারের সব সামাজিক অঙ্গীকার পূরণের ওপর জোর দেন। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক বাধা কমানোর আহ্বান জানান আইনপ্রণেতাদের প্রতি।


প্রতিরক্ষা এবং রুশ সেনাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য সহায়তা পার্লামেন্টের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন পুতিন। তার মতে, আইনপ্রণেতাদের ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে এবং ‘আমাদের বিজয়ের জন্য সবকিছু করতে হবে’। ইউক্রেন সংঘাতে অংশ নেয়া এবং পরে নতুন পার্লামেন্টে নির্বাচিত রুশ সেনা ও সাবেক যোদ্ধাদেরও স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, তারা ইতিমধ্যেই ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ দেশের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছেন।