অর্থ ও বাণিজ্য

  • ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে আমিরাত

    ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে আমিরাত

    ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত । মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে এসব সম্পর্ক বন্ধ করা হয়েছে।

    আমিরাতের প্রথম সরকারি বিবৃতির প্রায় দুই ঘণ্টা আগে দেশটির বাসিন্দাদের মোবাইলে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি রয়েছে এবং সবাইকে নিকটতম নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য সেই সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। জুনের একটি ভুল সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে আমিরাতের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করা একটি হামলার সতর্কবার্তার পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম সতর্কতা।

    ওদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসি-এর জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারগুলো গত কয়েক সপ্তাহে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানি হামলার সবচেয়ে বড় টার্গেট হয় আমিরাত। প্রায় ৩০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আমিরাতের দিকে নিক্ষেপ করা হয়।

    তবে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর, সেটি পরে ভেঙে গেলেও আমিরাত জানিয়েছিল যে- তাদের ওপর আর হামলা হয়নি। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো অবশ্য হামলার শিকার হয়েছিল।

    মঙ্গলবার আমিরাত অভিযোগ করে যে ইরান উপসাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের ভূখণ্ডের জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে।

    অন্যটি ভূখণ্ডীয় জলসীমার মধ্যে পড়ে। পরবর্তী মূল্যায়নে আমিরাত দাবি করে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরান অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।

  • একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল অয়েল ট্যাংকার কেনা

    একনেকে ৯,৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল অয়েল ট্যাংকার কেনা

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন ও চারটি সংশোধিত।

    আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।

    প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাংকার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, সেটা দেখে এই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে তুরাগ নদ রক্ষার বদলে তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্পের চিন্তা করা হচ্ছে। আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কী

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করা, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন), ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) ও রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

    ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণ করেছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি। এ লক্ষ্যে ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকের মধ্যে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    তিন বছর মেয়াদি এ রিভলভিং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষি ও পল্লী খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতিসহ পল্লীভিত্তিক আয়বর্ধক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    স্কিমের আওতায় কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দেয়ার বিধান রয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।

    যমুনা ব্যাংকের পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিআরও মো. শাহিদুল ইসলাম এবং হেড অব এগ্রিকালচারাল লোন ইউনিট মো. আবু বক্কর সিদ্দিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রি ক্রেডিট বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক-২ মো. সাখাওয়াত হোসেন ও অতিরিক্ত পরিচালক রাফিয়া সুলতানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজতর অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় যমুনা ব্যাংক।

  • এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

    এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

    বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অংশ ছাড় করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশ হিসেবে থাকা ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার ঋণ ছাড় এবং প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি নির্দিষ্ট বিধান কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্কুলার লেটার পাঠানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার ছাড় করা যাবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।

    তবে এ অনুমতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনও দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক এ ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনও ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ বিধানের আওতায় এ অনুমতি দেওয়ার ফলে রূপালী ব্যাংক এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে আগে অনুমোদিত সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় এলসি খোলার সুযোগ তৈরি হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের জারি করা সার্কুলার লেটারে বলা হয়েছে, ১৯ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ক্ষমতার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের যে অংশ এখনো ছাড় হয়নি, তা ছাড় করার পথ খুলেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রমের জন্য এলসি খোলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    তবে ঋণ সুবিধাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনও আর্থিক দায় থাকবে না— এ বিষয়টি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঋণটির ঝুঁকি ও দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে।

  • বাংলাদেশের সরকার কী বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়াতে চায়?

    বাংলাদেশের সরকার কী বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়াতে চায়?

    বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে এক ধরনের লম্বা ঘাস দেখা যায়। বাংলায় যার নাম বিন্না ঘাস। পতিত জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই ঘাসকে ব্যাপকহারে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার।

    মূলত বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস বন্ধে পার্শ্বঢালে এই বিন্না ঘাস লাগানো হয়ে থাকে।

    যে কারণে বিন্না ঘাস কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় তা পর্যালোচনার জন্য সোমবার সরকার একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে এই ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন।

    যে কারণে সরকার এই ঘাসের উপযোগিতা যাচাই করতে যে কমিটি গঠন করেছে সেখানেও যুক্ত করা হয়েছে অধ্যাপক ইসলামকে।

    মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘাসের লম্বা মূল বা শেকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে ঢুকে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। যে কারণে প্রকৌশল বিদ্যায় এই ঘাস ব্যবহার করে রাস্তা ঘাট, পাহাড় ধ্বস, নদীর ভাঙনও রক্ষা করা হয়।’

    যে কারণে বর্তমান সরকারও এই ঘাসটি কোন কোন খাতে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য একটি গাইডলাইন তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার বাংলাদেশজুড়ে খাল খননের কার্যক্রম শুরু করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির সময় এই খালগুলো ভরাট হয়ে যাবে। যে কারণে বাঁধ রক্ষা ও খাল ভরাট রোধে এই বিন্না ঘাসই সাশ্রয়ী এবং টেকসই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

    এছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাহাড় ধস রক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে এই ঘাসকে ব্যবহারের কথা বলছেন তারা।

    তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পথে ঘাটে পতিত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাস দামি সুগন্ধিসহ নানা কাজেই ব্যবহার হয়ে থাকে এই ঘাসের শেকড় বা অন্যান্য অংশ।

    বিন্না ঘাস বা ভেটিভার কী?
    বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে পথে ধারে, পরিত্যক্ত জমি কিংবা চর এলাকায় গুল্মজাতীয় এই ঘাসটি দেখা যায়। এর ইংরেজি নাম ভেটিভার, তবে বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নামেও পরিচিত।

    গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও এই ঘাসটি বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এই ঘাস একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদও।

    ভেটিভার বা বিন্না ঘাস দেখতে লম্বা সরু পাতা, ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে। এটি সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কিন্তু এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর শিকড়।

    প্রায় দুই দশকের গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘাসের শেকড়গুলো অত্যন্ত লম্বা ও শক্তিশালী হয়। শেকড় দুই থেকে তিন মিটার কখনো কখনো চার মিটার পর্যন্ত মাটির ভেতর ভেদ করতে পারে।

    লম্বা ও সরু এই ঘাসের পাতাগুলো লম্বা সরু হয়ে থাকে। পথে ঘাটে কিংবা পতিত জমিতে ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এই ঘাসটি।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রিন্সিপাল এক্সপেরিমেন্টাল অফিসার মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, ‘এই ঘাস দেখতে সাধারণ হলেও এর ক্ষমতা অসাধারণ। এর শিকড় শুধু মাটিকে আঁকড়ে ধরেই রাখে না, বরং ভূমির স্তরগুলোকে একটি প্রাকৃতিক জালের মতো ধরে রাখে।’

    গবেষকদের মতে, এর শেকড়গুলো মাটির ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে থাকার কারণে মাটি, পাহাড় কিংবা ভূমির ক্ষয়রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে কারণে বাংলাদেশের অন্য ঘাস থেকে এই বিন্না ঘাসকে একেবারেই আলাদা মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    গবেষকরা বলছিলেন, শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রাকৃতিক ওষুধি গুণও রয়েছে এই বিন্না ঘাসের। বিশেষ করে এর শিকড় থেকে পাওয়া যায় সুগন্ধযুক্ত তেল। সুগন্ধি, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্যেও এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই বিন্না ঘাস।

    ভূমির ক্ষয়রোধে ঘাস যখন প্রযুক্তি
    গবেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেটিভার বা বিন্না ঘাস ভূমির ক্ষয়রোধ, পাহাড় ধস কিংবা নদীর ভাঙন রোধে কাজ করে।

    থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকান দেশগুলোতে এই ঘাস ভূমিধ্বস রোধ, রাস্তার বাঁধ স্লোপ সুরক্ষা, নদীতীর সংরক্ষণ ও কৃষি জমি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    গবেষকরা বলছেন, এই ঘাসটি জন্মের চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে এর শেকড় মাটির গভীরে পৌঁছে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই এই ঘাস ঢাল, বাঁধ কিংবা মাটির ক্ষয়রোধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

    এই হিম ঠাণ্ডা কিংবা খরতাপ-সব পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে বলেও মনে করেন গবেষক ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

    গবেষকদের মতে, বৃষ্টির সময় পানির স্রোত যখন ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে নামে তখন সেখানে এই জাতীয় ঘাস বা গুল্ম থাকলে সেটি মাটির ক্ষয়রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম নিজেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকল্পে এই ঘাসটির ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় রড, সিমেন্ট, জিও ব্যাগ কিংবা বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল দিয়ে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হয়েছে থাকে। কিন্তু এই ঘাসের শেকড় এতটাই শক্তিশালী যে এটিই বাঁধ রক্ষায় আরো কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।’

    তবে তার মতে, সব ধরনের পরিস্থিতি বা সব জায়গায় আবার এই ঘাস ব্যবহার করে মাটির ক্ষয়রোধ বা বাঁধ রক্ষা সম্ভব হবে না।

    কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘ধরেন একটা খরস্রোতা নদীর বাঁধ রক্ষা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে যদি আপনি এই ঘাস রোপন করেন সেটি কোনো কাজে লাগবে না। তবে এটি পাহাড়ের ক্ষয়রোধ কিংবা সড়ক ও জনপথের রাস্তার পাশে এই ঘাসগুলো লাগালে তা মাটির ক্ষয়রোধে বেশ ভালো কাজে দিবে।’

    এই ঘাসের সবচেয়ে বড় দুইটি উপকারিতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন গবেষকরা। তার প্রথমটি হলো সাশ্রয়ী আর দ্বিতীয়টি পরিবেশবান্ধব।

    একটি উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ‘ধরেন আপনি একটা বাঁধরক্ষায় রড সিমেন্ট বা কনক্রিটের ব্যবহার করলেন। সেখানে যদি আপনার খরচ হয় ১০০ টাকা। তার বিপরীতে আপনি যদি এই বিন্না ঘাসের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন তাহলে সেটি করতে পারবেন মাত্র দশ টাকায়।’

    তবে, তার মতে সব জায়গায় যে এই ঘাস ব্যবহার করেই ক্ষয়রোধ বা ভুমি ধস ঠেকানো যাবে না। সে সব জায়গায় জিও ব্যাগ, কিংবা সিমেন্টের ব্লক বা রড দিয়েই বাঁধ রক্ষা করতে হবে।

    হঠাৎ বাংলাদেশে আলোচনা যে কারণে
    বাংলাদেশে বিশেষত চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চল এবং পদ্মা, যমুনা, মেঘনা নদীতীরবর্তী এলাকা ধস ও ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে বছরজুড়েই।

    গত ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই নির্বাচনে জিতলে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিশ্রুতি ছিল খাল খনন।

    যে কারণে নির্বাচনের পরই এই খাল খননের কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প খরচে ও পরিবেশ বান্ধব উপায়ে এই বাঁধ ও খালের নাব্যতা রক্ষায় কি করা যায় সেটি নিয়ে নানা আলোচনাও হয়।

    বিশেষ করে নদী ও খালের তীর, বাঁধ, পাহাড়ি ঢল ও হাওর অঞ্চলে বিন্না ঘাসের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে সেটি নিয়ে কয়েকটি বৈঠকে এই বিন্না ঘাসের ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় সরকার।

    গত সপ্তাহে ঢাকায় এ নিয়ে একটি বৈঠক হয়। যেখানে বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছে, নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও মাটির ক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস একটি কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পব্যয়ী প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।

    পরে গত সোমবার সচিবালয়ে এ নিয়ে একটি বৈঠকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে এই বিন্না ঘাস ব্যবহার করা যায় তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে টেকনিক্যাল কমিটি হয়েছে।

    ওই কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বেশ কয়েকটি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছে কোন কোন খাতে বা কোন কোন জায়গায় এই বিন্না ঘাসের ব্যবহার করা যায় সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করা।’

    তার মতে, খালের পাড়, বড় বড় রাস্তার পাশের মাটির ক্ষয়রোধ কিংবা পাহাড়ি এলাকায় যে সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে তা রক্ষায় এই ঘাসের ব্যবহার করা যেতে পারে।

    অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘কোন কোন সেক্টরে আমরা এটা ব্যবহার করতে পারি, কতখানি ব্যবহার করতে পারবো সেটা নির্ধারিত হবে সবার সাথে আলোচনার পর। বিশেষ করে এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কিংবা সরকারের কৃষি এগুলোতে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আপাতত এসব জায়গায় ব্যবহার হবে এই ঘাস।

  • জ্বালানি সংকটে পোশাক উৎপাদন ৩৫% কম হচ্ছে

    জ্বালানি সংকটে পোশাক উৎপাদন ৩৫% কম হচ্ছে

    দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার ও নীতির ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের চাপে রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা চালু করায় একদিকে বাড়ছে ব্যবসার ব্যয়, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত ঝুঁকি।

    বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০২৫-২৭ মেয়াদের সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের মতে, পোশাক খাতের তিনটি বড় সমস্যা হলো জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন। এর মধ্যে জ্বালানি সমস্যার দ্রুত সমাধান সবচেয়ে জরুরি। কারণ পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কারখানাগুলো চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না।

    তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে একটি কারখানায় দৈনিক ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করা হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে এখন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। অর্ডার ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা চালাতে হচ্ছে কারখানাগুলোকে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজের সময়সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারেও পোশাকের চাহিদা কিছুটা কমেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন ও আমেরিকা-ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর পোশাক কেনায় তারা তুলনামূলক কম অর্থ ব্যয় করছেন। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আদেশে।

    অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে আগ্রহী নয়। কারণ বাংলাদেশকে ভারত, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতায় থাকতে হচ্ছে। ক্রেতারা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনমূল্যের পাশাপাশি পরিবহন, আমদানি শুল্কসহ সার্বিক ‘ল্যান্ডেড কস্ট’ বিবেচনা করে। ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলো বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিজেদেরই বহন করছে।

    এই পরিস্থিতিতে সুদের হার কমানো অথবা কম সুদের তহবিল দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারের কিছু অংশ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    পোশাকশিল্পের আরেকটি বড় দুর্বলতা অবকাঠামো। পণ্যের বৈচিত্র্য, বাণিজ্যনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রবন্দরের সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে লিড টাইম তুলনামূলক বেশি।

    বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পণ্য জাহাজে পাঠাতে অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, কলম্বো অথবা মালয়েশিয়া হয়ে যেতে হয়। গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা থাকায় ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের রপ্তানিকারকদের এ ধরনের বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয় না। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের লিড টাইম কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঋণের সুদের হার কমানো, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ডার ও বাজার ধরে রাখা উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি বাড়বে।

  • চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা

    চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা

    অভিনয়ের পাশাপাশি এবার ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী তমা মির্জা। প্রায় তিন মাস ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি-ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে নতুন পেশায় যুক্ত হলেও অভিনয় ছাড়ছেন না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

    তমা মির্জা জানান, অভিনয়ই তার প্রথম ভালো লাগা ও ভালোবাসার জায়গা। তাই অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    তমা মির্জা বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালো লাগা এবং ভালোবাসার জায়গা। এখানে সব সময় কাজ করে যাব। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমার অভিনয়ের ব্যাপারে আন্তরিক। তাই অভিনয় চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই।’

    তমা মির্জা। ছবি: ফেসবুক

    আফরান নিশোর বিপরীতে ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তমা। তবে বর্তমানে চলচ্চিত্রে তাকে খুব বেশি ব্যস্ত দেখা যায় না। অভিনেত্রী জানান, তিনি বেছে বেছে বছরে এক-দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন।

    অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগকে জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তমা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেছে বেছে বছরে দুই-একটি সিনেমা করি। জীবনের বাকিটা অন্য কিছুতে এক্সপ্লোর করতে পারার এই সুযোগটা দারুণ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।’

    শুধু বড় পর্দায় নয়, ওটিটিতেও অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তমা মির্জা। তার অভিনীত ‘জানোয়ার’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ও ‘ফ্রাইডে’ দর্শকের মধ্যে আলোচিত হয়েছে।

    তমা মির্জা। ছবি: ফেসবুক

    এদিকে অভিনয়ে নতুন কাজও আসছে তার হাতে। শিগগিরই ভিকি জাহেদের পরিচালনায় ‘খলনায়ক’ সিনেমার কাজ শুরু করবেন তমা। এতে তার বিপরীতে থাকবেন আফরান নিশো।

    প্রসঙ্গত, এম বি মানিকের ‘বলো না তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে ২০১০ সালে তমা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এরপর অনন্ত হীরা পরিচালিত ‘ও আমার দেশের মাটি’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তমা।

  • ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

    ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার কথাও উঠে এসেছে বলে ইরানি সরকারের দুই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে আলোচনা শুরুরও কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিকে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের ‘বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন’ স্থগিত থাকবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এখন হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। কিন্তু বাস্তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো খুবই কম।

    চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর হালে ‘কয়েকটি সুন্দর গর্ত’ দেখা যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষা ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। ওমানকে তার মধ্যপ্রাচ্য নীতির পথে বাধা সৃষ্টি না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

  • রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

    রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি

    আগামী রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দিতে অগ্রিম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান এলেই নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছয়টি পণ্যের চাহিদা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতি বছর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাড়তি চাপের মুখে পড়েন রোজাদাররা। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে একশ্রেণির সিন্ডিকেটের তৎপরতা দেখা যায়। এ জন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।

    অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামী রমজান উপলক্ষে ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা ও ৩,৩০০ টন খেজুর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কিনতে চায় টিসিবি। সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

    জানা গেছে, আগামী রমজান উপলক্ষে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮ কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী রজমান মাসে ৮৫ লাখ সক্রিয় হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কার্ডধারী পরিবারের কাছে এক কেজি ছোলা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের মাঝে এক কেজি খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি। পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে এক কেজি করে খোলা ও আধা কেজি করে খেজুর ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

    প্রসঙ্গত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার কথা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর রোজার আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে। দেশে পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও রমজান এলেই দাম বাড়তে শুরু করে, আর ভোক্তারা পড়েন ভোগান্তিতে। পরে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও কোনো বছরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট চক্র। এবার যাতে সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই কার্যকর মনিটরিং এবং অনিয়ম পেলেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি আমার দেশকে বলেন, রমজানের পণ্যে দেশে কোনো সরবরাহ সংকট যাতে না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী রমজানে মানুষ যাতে স্বস্তি রমজানে রোজা পালন করতে পালেন করতে পারেন এবং ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি কোনো সংকট হবে না।

    জানা গেছে, আগামী বছরের ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসে চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ টন। মসুর ডালের ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে প্রয়োজন হয় ৮০ হাজার টন। এরই মধ্যে স্থানীয় উৎপাদন হয় প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০-২১ লাখ টন। রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় তিন লাখ টন। ছোলার ক্ষেত্রে বছরে চাহিদা সর্বোচ্চ দুই লাখ টন, যার বড় অংশই রমজানে প্রয়োজন খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। রমজানে প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো বলা হবে—‘রমজানে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না’। কিন্তু সরকারের সে আশ্বাসে ভোক্তারা কতটুকু আশ্বস্ত হবে, সেটাই এখন বড় বিষয়। কারণ, সরকারের সব প্রস্তুতি যদি আগের সনাতনী ছকেই হয়, তবে মাঠপর্যায় থেকে হয়তো বলা হবে ‘সব ঠিক আছে’, অথচ এর মধ্যেই বড় বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে। আর মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি আরো বলেন, আমরা ক্যাব থেকে বারবার বলে আসছি—আমদানি ও চাহিদার বিষয়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি ও মজুতকৃত পণ্য দেশের সর্বত্র সরবরাহে যেকোনো বাধাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং চাহিদা ও জোগান বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

  • ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

    ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

    আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

    তার দেওয়া তথ্য মতে, সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

  • বিদেশি কর্মীদের ব্যাংক হিসাব খোলায় নতুন নির্দেশনা

    বিদেশি কর্মীদের ব্যাংক হিসাব খোলায় নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ‘এ-৩’ ভিসাসহ বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিট থাকলে প্রচলিত গ্রাহক পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি বিধি পরিপালন সাপেক্ষে তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

    বাংলাদেশে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে আগত বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করতে হয়। এ ওয়ার্ক পারমিটে ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা গ্রহণের শর্তও আরোপ করা থাকে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, শুধু ‘এ-৩’ ভিসাধারী বিদেশি নাগরিক নন, অন্যান্য এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কর্মরত ‘এ-৩’ ক্যাটাগরিসহ অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরির বিদেশি নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট হালনাগাদ থাকলে তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে প্রচলিত কেওয়াইসি বিধি পরিপালন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের চুক্তি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের চুক্তি

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি।

    আলমগীর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি এবং একেএম সাইদুজ্জামান, পরিচালক, কৃষি ঋণ বিভাগ-২, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটিজেনস ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল লতিফ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এসএমআর ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিজয় চন্দ্র দাস; বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর অতিরিক্ত পরিচালক রাফিয়া সুলতানাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এই চুক্তির আওতায় সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের অধীনে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিটিজেনস ব্যাংক দেশের কৃষি খাতকে শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    চুক্তির আওতায় সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে সাশ্রয়ী সুদহারে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তা ও গ্রামীণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। অর্থায়নে সহজতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ সুবিধা কৃষি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • উট পালন করতে চান? টাকা দেবে ব্যাংক

    উট পালন করতে চান? টাকা দেবে ব্যাংক

    উট পালন করতে চান; এমন উদ্যোক্তাদের জন্যও এবার কৃষিঋণের দরজা খুলে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় উট পালনকে কৃষিঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে উট পালনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কৃষক ও খামারিরা।

    একই সঙ্গে হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের মতো কার্যক্রমও কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার তা প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নতুন ‘কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উট পালনেও ব্যাংকের ঋণ

    বাংলাদেশে প্রচলিত কৃষিঋণের বাইরে নতুন কিছু সম্ভাবনাময় খাতকে এবার কর্মসূচির আওতায় এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে উট পালন। অর্থাৎ কেউ বাণিজ্যিকভাবে উট পালন করতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    শুধু উট পালন নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারিদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনও নতুন করে কৃষিঋণের আওতায় এসেছে।

    এর ফলে কৃষিঋণের পরিধি শুধু ধান, গম, সবজি বা প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও নতুন ধরনের কৃষিভিত্তিক উদ্যোগেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।

    কৃষকের ঋণ পাওয়া সহজ হবে

    প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দিতে এবার বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষক কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    শস্য ও ফসল উৎপাদনসহ আয় সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে যুক্ত কৃষকদের পল্লি ঋণ দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমাও শিথিল করা হয়েছে।

    কৃষিঋণ নিতে বাধ্যতামূলক পাস বই থাকা বা ইস্যু করার বিষয়টিও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে।

    পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে নারী ও প্রান্তিক কৃষক অগ্রাধিকার

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এসব কৃষকের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখার পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে যেসব কৃষক বা খামারির জমি-জমা কম, কিন্তু কৃষিভিত্তিক ব্যবসা করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের ব্যাংক ঋণের আওতায় আনার সুযোগ বাড়বে।

    ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কৃষি ও পল্লি খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে এই ঋণ কর্মসূচি।

    এ জন্য চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

    থাকছে পুনঃঅর্থায়ন ও বিমা সুবিধা

    নতুন নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা ও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিঋণ গ্রহীতাদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টিও নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে। ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সারা বছর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচুর মতো ফল চাষে ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও ফসল সংগ্রহের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে কৃষি ও পল্লি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করা। আর সেই উদ্যোগে এবার প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি উট পালন থেকে শুরু করে মাছের পোনা ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের মতো নতুন উদ্যোগেও ব্যাংকের ঋণের সুযোগ তৈরি হলো।

  • বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

    বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ

    দেশের বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

    সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব হলো আমদানি-রফতানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।

    তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন তিনি । এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

    অস্থায়ী ওয়্যারহাউজের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে জায়গা নিতে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করা।

    সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন অগ্রাধিকার। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমাতে অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বিমান বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি অস্থায়ী ওয়‍্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়‍্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

    কৃষি ও পল্লি খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার এ লক্ষ্য ৫৩ দশমকি ৮৫ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতে এই ঋণ নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ নীতিমালা ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক এবং কৃষি ঋণ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নীতিমালা প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুত করা কৃষি ঋণসংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধনও করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন নীতিমালায় প্রকৃত কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়নকে কৃষক কার্ড সংগ্রহের তথ্য হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শস্য ও ফসল খাতে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের জন্য পল্লি ঋণ বিতরণের নির্দেশনা এবং কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমা শিথিল করা হয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ আবেদনের ক্ষেত্রে ২.৫ একর পর্যন্ত জমিতে লবণ উৎপাদনের জন্য নীতিমালায় বার্ষিক ডকুমেন্ট চার্জ ছাড়া কোনো চার্জ আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণে যথাসময়ে ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিকে কৃষককে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পাশ বই থাকা বা ইস্যুর বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। কৃষি ঋণ বিতরণ সহজ করতে ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি গ্রহণের বিষয়টিও শিথিল করা হয়েছে।

    নীতামালায় বলা হয়েছে, মৎস্য চাষ ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাংকগুলো একক বা দলবদ্ধ কৃষক/খামারির অনুকূলে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এ ছাড়া হ্যাচারি মাছে পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের বিষয়টি কৃষি ঋণ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুনঃঅর্থায়ন সংক্রান্ত নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও কৃষক বা গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে গ্রাহককে বীমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে সারাবছর ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচু চাষে ঋণ বিতরণকাল এবং ফসল সংগ্রহের পর ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি ও পল্লী খাতে যথাসময়ে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান প্রয়োজন। দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ

    প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

    এর আগে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

  • চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল; অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি বছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হবে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে পে কমিশন নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, পে-কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে। সবগুলো বিবেচনা করছি আমরা। আজ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে আমরা পরে আবার বসব।

    এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বছরই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে এটি হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার কী পদ্ধতি অবলম্বন করবে, তা পে স্কেল ঘোষণার পর জানানো হবে।

    একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার সক্ষম হয়েছে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে। ১৮০ দিনের মধ্যে সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ও শুরু করেছে, সেগুলো প্রশংসিত হয়েছে। দুই-একটি সংকটময় পরিস্থিতিও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সারা পৃথিবী থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও হবে। মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালীতে আরেকটি এফএসআরইউ’র জায়গা নির্ধারণ করতে জরিপ চলছে।

    গ্যাস খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ দিয়েই গ্যাসের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

  • আদমজী ইপিজেড থেকে বিয়ের গাউন, খনিশ্রমিকের জুতাসহ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    আদমজী ইপিজেড থেকে বিয়ের গাউন, খনিশ্রমিকের জুতাসহ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা আসতে থাকেন আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (এইপিজেড)। কারও হাতে টিফিন বক্স, কারও হাতে ব্যাগ। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে একসময়ের আদমজী জুট মিল এলাকা।

    এই ইপিজেডের ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাঁরা। আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত ভূমিতে গড়ে ওঠা ইপিজেড এখন দেশের অন্যতম বড় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিকের হাতের নৈপুণ্যে এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে সেফটি জ্যাকেট, ব্লেজার, ইউরোপের নবদম্পতিদের ব্রাইডাল গাউন।

    এ ছাড়া গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, লেজার প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের অপিসি ড্রাম এবং গাড়ির সিট কভারের মতো নতুন নতুন পণ্য, যার মাধ্যমে এখান থেকে বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

    শুধু রপ্তানি আয় নয়, বদলে যাচ্ছে এখানকার শ্রমিকদের জীবনমানও। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে আদমজী ইপিজেডের নানা চিত্র পাওয়া গেছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এই ইপিজেডে কাজ করতে এসেছেন ফারজানা আক্তার। এই তরুণীর মাসিক বেতন এখন ১৯ হাজার টাকা। যদিও প্রথম দিকে বেতন ছিল ৮ হাজার ২০০ টাকা। কদমতলীতে থাকা এ নারী মা-বাবার জন্য মাসে চার হাজার টাকা পাঠান। কাজের পরিবেশ ভালো হওয়ায় সাত বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলে তিনি প্রথম আলোকে জানান।

    নতুন আরও ১০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে আসছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্যমতে, এ বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করায় বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা হচ্ছে।’

    বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    আদমজী ইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, নদীতীরবর্তী ২৯২ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে আদমজী ইপিজেড। যেখানে রয়েছে ২৭৬টি শিল্প প্লট। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর রপ্তানি হয়েছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

    আদমজী ইপিজেডেই রয়েছে দেশের একমাত্র ব্রাইডাল পোশাক তৈরির কারখানা। টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল কর্স ও ভ্যান হিউসেনের মতো ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় এই ইপিজেডে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের অর্থবছরেও রপ্তানির পরিমাণ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

    বিনিয়োগ কোন কোন দেশের

    এখানকার ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৬টি। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর দেশীয় বিনিয়োগ রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে কানাডার একটি, চীন–হংকংয়ের ৯টি, জার্মানির একটি, দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি ও ভারতের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচটি করে প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। একটি করে কারখানা রয়েছে মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, শ্রীলঙ্কা ও ইউক্রেনের।

    নতুন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে চায়। ইউক্রেনের সুপার প্রটেকটিভ শু কোম্পানি এখানে সেফটি জুতা তৈরি করে, যা নির্মাণ, কেমিক্যাল ও খনিশ্রমিকেরা ব্যবহার করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন।

    প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. আসলাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নতুন বিনিয়োগের জন্য জায়গা খুঁজছি। ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এখানে না হলে অন্য কোথাও হয়তো জমি নিতে হবে।’

    এখানকার উন্নত কর্মপরিবেশের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বাচ্চার জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

    জাপানি প্রতিষ্ঠান টিএস টেক গাড়ির সিট কভার তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন প্রায় ৪০০ শ্রমিক। প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১৯ জন বাচ্চার জন্য সাজানো একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। তাদের দেখাশোনার জন্য রয়েছেন চারজন প্রশিক্ষিত নারী কর্মী।

    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের দুধ সরবরাহ করা হয়। তাঁদের কাজের সহায়তা করতে সার্বক্ষণিক চেয়ার দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁদের মাথায় আলাদা সবুজ ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যাতে সহজে সেবা দেওয়া যায়।’

  • মার্কিন সেনাকে বন্দি বা হত্যায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ইরানের

    মার্কিন সেনাকে বন্দি বা হত্যায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ইরানের

    ইরানের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বন্দি বা হত্যা করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা) পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি। রোববার (১৬ আগস্ট) তিনি এই অনন্য উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন, যা ইরানের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে অর্থায়ন করা হবে।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা জানায়, মেজর জেনারেল হাতামি দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের উৎসাহিত করতে এই পুরস্কার তহবিল গড়ে তোলার কথা বলেছেন।

    মেজর জেনারেল হাতামি জানান, ইরানের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের দেওয়া সহযোগিতায় এই অর্থ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ইরানের সীমানায় অনধিকার প্রবেশকারী বা আক্রমণকারী কোনো মার্কিন সেনাকে জীবিত আটক অথবা নিকেশ করতে পারলে যেকোনো ইরানি বাহিনীর সদস্যকে জনগণের পক্ষ থেকে এই ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে।

    ইরানের ভূখণ্ড ও সামরিক নিরাপত্তার ওপর মার্কিন সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। সেনা প্রধানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি উত্তেজনার পারদ আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড, তবুও ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

    ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড, তবুও ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

    ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, কিন্তু সেই অর্থ ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ হচ্ছে না। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে জমছে অতিরিক্ত তারল্য। গত জুন শেষে এই অলস বা উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। মে শেষে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসেই উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    অন্যদিকে জুনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। অর্থাৎ ব্যাংকে যে হারে টাকা জমা হচ্ছে, সেই তুলনায় ঋণ হিসেবে অর্থ বের হচ্ছে অনেক কম।

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত টাকা জমে থাকার বিষয় নয়; বরং এটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির দুর্বলতারও বড় একটি সংকেত। উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে চাইছেন না, আবার ব্যাংকগুলোও অতীতের ঋণ অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের অভিজ্ঞতায় নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক। ফলে ঋণের চাহিদা ও সরবরাহ— দুই দিক থেকেই বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে।

    কেন ঋণ নিতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা?

    ব্যাংকারদের মতে, নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ। একটি শিল্পকারখানা স্থাপন করে নিয়মিত উৎপাদন করা না গেলে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ করাই উদ্যোক্তার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    এর সঙ্গে রয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যবসা পরিচালনার বাড়তি খরচ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কর ও নীতির অনিশ্চয়তা। এসব কারণে নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেক উদ্যোক্তা।

    ব্যাংকাররা জানান, বর্তমানে যে ঋণ বিতরণ হচ্ছে, তার বড় অংশই যাচ্ছে চলতি মূলধন, কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবসার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে। নতুন শিল্প স্থাপন বা বড় ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।

    ব্যাংকেও বাড়ছে সতর্কতা

    উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। অতীতে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এর একটি বড় অংশ প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যবহার হয়নি। পরে এসব ঋণের অনেকটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

    বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ অনেক বেশি। ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার আগে উদ্যোক্তার ব্যবসা, জামানত, নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ে ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে ভালো ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থ থাকলেও তারা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি বিল ও বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ করছে।

    টাকা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের জায়গা নেই

    ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই সব টাকা নগদ অবস্থায় পড়ে আছে– বিষয়টি এমন নয়। এই অর্থের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল, বন্ড, কলমানি মার্কেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা থাকে। প্রয়োজন হলে এসব বিনিয়োগ নগদায়ন করা যায়। তবে ব্যাংকের দৃষ্টিতে মূল সমস্যা হলো, উৎপাদনশীল খাতে ঋণের চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। ফলে আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত হারে ঋণ বিতরণ করা যাচ্ছে না।

    ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফান আলী বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন ঋণ নিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একইসঙ্গে উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের কাছে রয়েছে। এসব ব্যাংক ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি বিল ও বন্ডে অর্থ খাটানোকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে না। ঋণের সুদহার কমলেও বিনিয়োগের পরিবেশ ঠিক না হলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হবে না।

    আমানত বাড়ছে, ঋণ বাড়ছে না

    ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির তুলনা করলে।

    জুনে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখছেন, কিন্তু উদ্যোক্তারা সেই অর্থ ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করছেন না।

    এই ব্যবধান যত বাড়ছে, ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্যও তত বাড়ছে।

    দুই বছর আগেও ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জুনে এসে তা ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

    সুদ কমলেই কি বিনিয়োগ বাড়বে?

    বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়েছে। রেপো হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

    এছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগে ঋণের সুদ কমে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটানো সম্ভব নয়।

    একজন উদ্যোক্তার কাছে ঋণের সুদহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ঋণ নিয়ে উৎপাদন চালানোর পরিবেশ। গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে, পণ্য পরিবহনে সমস্যা হলে, ব্যবসার খরচ বাড়লে কিংবা নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে কম সুদের ঋণও বিনিয়োগে উৎসাহ তৈরি করবে না।

    গ্যাস-বিদ্যুৎই বড় বাধা

    অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান অতিরিক্ত তারল্য স্থায়ী নয়। বাজেট পাস হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে। তবে এসব অর্থ আমানতকারীদের, তাই ব্যাংকগুলোকে তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রো, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপাতত কিছুটা সতর্ক থাকা উচিত।

    বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো দরকার। এসব ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    শিল্পায়ন না হলে অলস টাকা আরও বাড়তে পারে

    ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা আপাতদৃষ্টিতে ব্যাংকগুলোর তারল্য সক্ষমতার ভালো দিক মনে হতে পারে। কিন্তু অর্থনীতির জন্য এটি সবসময় সুখবর নয়।

    কারণ ব্যাংকের টাকা যদি শিল্প, ব্যবসা ও উৎপাদনে না যায়, তাহলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। উৎপাদন বাড়বে না। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। অর্থনীতিতে চাহিদা সৃষ্টি হবে না। এর ফলে ব্যাংকেও নতুন ঋণের চাহিদা তৈরি হবে না।

    বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখানে একদিকে ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ কমছে। ফলে ব্যাংকের অর্থ সরকারি ঋণ বা নিরাপদ বিনিয়োগে আটকে থাকছে। এতে বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    সমাধান কোথায়?

    ব্যাংকে জমে থাকা ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত অর্থ অর্থনীতির উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে হলে প্রথমে বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্থিতিশীল করনীতি, উন্নত অবকাঠামো, নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ব্যবসার খরচ কমানো– এসব বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন।

    একইসঙ্গে ব্যাংক খাতেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকে টাকা থাকলেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় না। সেই টাকা যখন কারখানার মেশিন কেনা, নতুন ব্যবসা শুরু, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তখনই তা অর্থনীতির জন্য কার্যকর হয়।

    তাই ব্যাংকে অলস টাকার নতুন রেকর্ড আসলে শুধু ব্যাংক খাতের সমস্যা নয়; এটি দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও একটি বড় সতর্কবার্তা। উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে ব্যাংকে জমে থাকা এই বিপুল অর্থ অর্থনীতির গতি বাড়ানোর বদলে আরও দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

  • বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ঋণ ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই ঋণ আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে ডাকা হয়েছে। গত শুক্রবার এই নিলাম বিজ্ঞপ্তির কথা জানানো হয়। রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে রূপালী ব্যাংকের সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ আদায়ের জন্য তফসিলে বর্ণিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস এবং বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের এই নিলামের কথা আমি জানি না। তবে কোম্পানি বন্ধ করে দিলে আমরা ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমরা কোনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। এরপর ড. ইউনূস সরকার আমাদের কোম্পানি বন্ধ করে দেয়। তার মতে, ‘কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসা না করতে পারলে টাকা আসবে কীভাবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। এখন কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি হলে আমরা ব্যাংকের টাকা কীভাবে দেব।’

    নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফসিলের জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির মধ্যে কোথাও একরের হিসাবে, আবার কোথাও শতাংশের হিসাবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, আরেকটিতে ৪৮ শতাংশ এবং অন্য এক তফসিলে ৩.৬৬ একর জমির উল্লেখ রয়েছে। আরো কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসাবে জমি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮.৫৫ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজাতেও বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেক তফসিলে ৯.২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু এ তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে ১৭.৪১ একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ তফসিলে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

    জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওইদিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ওপর নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে এর ওপর ২০ শতাংশ; ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ; ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

    বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে, সেটিই এ নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক পাওনা। সার্বিকভাবে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির সঠিক মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় গ্রাহক ও ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

  • বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান আইসিটি খাত, দক্ষ তরুণ জনশক্তি এবং ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। দেশে বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার (Repatriation) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।

    লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, লিথুয়ানিয়া বিশ্বমানের লেজার প্রযুক্তি, গভটেক (GovTech) এবং ফিনটেক সেবায় অন্যতম অগ্রগামী দেশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে লিথুয়ানিয়া অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময়ে আগ্রহী।

    তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর মারধর, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    শনিবার রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রধান গেটসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

    শিক্ষার্থীরা জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র‌্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে মুসাকে মারধরের পর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

    রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাদের মারধর করা হয়।

    অভিযোগ অস্বীকার করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, মূল ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে। অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, দুই পক্ষকে থামানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; গ্যাস-বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও দুই বছর পোহাতে হবে

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অতীত থেকে পাওয়া। এ সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই বছর সময় লাগবে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধানে সরকার কোনো সময় নষ্ট করছে না।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচেম আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

    সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি এনার্জি মিক্স তৈরি করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, দুর্নীতি ও হয়রানি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারও আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • যেকোনো সময় পে-স্কেল ঘোষণা; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

    যেকোনো সময় পে-স্কেল ঘোষণা; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

    নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং যেকোনো সময় ঘোষিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

    রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, ‘গত ১১ বছর পে-স্কেল না হওয়ায় ১৮ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মুদ্রাস্ফীতির চাপে আছেন। জনগণের জন্য কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার সমন্বয় করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। সংকট সমাধানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।’

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পূর্ববর্তী সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, ‘রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সাপ্লাই চেইন তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।’

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

    একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দশম সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একীভূত হওয়া এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান। ব্যাংকটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, পরিচালক মো. খান সুবায়েল বিন রফিক, আসমা আখতার, কে এম জাকারিয়া, মোহাম্মদ আহসান হাবিব চৌধুরী ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাসেম, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং কোম্পানি সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. মনিরুল ইসলাম।

    সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং ব্যাংককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রস্তাবনাও পাস করা হয়।

  • চীনের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ: হোয়াইট হাউস

    চীনের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ: হোয়াইট হাউস

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে চীনকে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ। এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্য ছিল, তুলনামূলক কম হারে আমদানি শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য বিক্রি করা। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

    যেসব দেশ চীনকে সহায়তা করেছে, সেই তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ আছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীন কয়েক হাজার কোটি ডলারের মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, এর ফলে যেমন ‘মার্কিন কর্মসংস্থানে’ প্রভাব পড়েছে, তেমনি হাজার হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

    তবে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো নিয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ বা চুক্তি যেন অন্য দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন ওই মুখপাত্র।

    এদিকে বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত আছে। এর মধ্যে কয়েক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

    হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই প্রক্রিয়া ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ নামে পরিচিত। এর অর্থ হলো, পণ্য চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার পথে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাঠানো। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশগুলোকে ব্যবহার করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের দাবি, চীন তৃতীয় দেশকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেই সঙ্গে পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন করে প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করেছে। ফলে এসব পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকেছে। প্রতিবেদনে এ প্রক্রিয়াকে ‘কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

    সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লির মতে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    লি বিবিসিকে বলেন, চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ ধরে রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই যুক্তি দিতে পারে। ভবিষ্যতে বড় বাণিজ্য চুক্তি হলে সরাসরি চীনা রপ্তানির পাশাপাশি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    তবে চ্যাং বলেন, বাণিজ্যপ্রবাহের এই পরিবর্তনের কিছু অংশ বৈধও হতে পারে। উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া বা সরবরাহব্যবস্থার পুনর্গঠনের কারণে এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে। ফলে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যেসব দেশ গভীরভাবে যুক্ত, সেই দেশগুলো ঝুঁকি ও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের আলোচনার পর বেশির ভাগ শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ অব্যাহত আছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাকৃতির রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার জেরে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

    ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ১৫৭টি দেশের পণ্যে পাইকারি হারে শুল্ক আরোপ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সম্ভব, তেমনি অর্থনীতিও শক্তিশালী করা সম্ভব। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিলেও বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প।

  • গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের এ সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। সমাধানে সময় লাগবে।’

    আজ শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বাস্তবতা স্বীকার করে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। আর এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

    বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি জানান।’

    এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে খন্দকার মুক্তাদির জানান, ‘চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

  • টানা তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

    টানা তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে টানা তিন দফা বাড়ার পর এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।

    শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দাম

    নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা করা হয়েছে।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

    এক দিন আগেই বেড়েছিল দাম

    এর আগে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।

    সেদিন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। ওই দামও সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    ১০৩ বার সমন্বয় এ বছর

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে। সমানসংখ্যক ৫১ দফা দাম কমানো হয়েছে। আর এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়। কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

  • কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; প্রধানমন্ত্রী

    কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; প্রধানমন্ত্রী

    ‘সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরেও হয়তো যেতে হবে না।’ এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।

    সরকারপ্রধান বলেন, রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

  • ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে দেওয়া ঋণের টাকা সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

    ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে দেওয়া ঋণের টাকা সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

    সেটা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধরত ভারতীয় সৈন্যদের ভরণপোষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল সরকার। হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এক ব্যবসায়ী। সরকারকে ‘ধার’ দিয়েছিলেন ৩৫ হাজার টাকা।

    দীর্ঘ ১০৯ বছর পরে তার পরিবার যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছে সেই অর্থ সুদসহ ফেরত চেয়েছে। ওই পরিবার দাবি করেছে, তাদের পূর্বপুরুষ জুম্মালাল রুঠিয়া যে ব্রিটিশ সরকারকে এই অর্থ ঋণ দিয়েছিলেন, তার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র তাদের কাছে আছে। চৌঠা জুন ১৯১৭ তারিখে দেওয়া একটি শংসাপত্রই ৩৫ হাজার টাকার এই আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বলে দাবি করেছে রুঠিয়া পরিবার।

    পরিবারটির দাবি, এই অর্থ ভোপাল এজেন্সিতে কর্মরত ব্রিটিশ সরকারের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। এই দাবির পরে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট দপ্তর বা ডিএমও পরিবারটির কাছ থেকে এ বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে।

    যেভাবে সামনে এল এ ঘটনা

    জুম্মালাল রুঠিয়ার প্রপৌত্র গৌতম রুঠিয়া জানিয়েছেন, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনার আরো বিস্তারিত মূল্যায়ন করবেন বলে সে দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন। এছাড়া পরিবারটির কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

    গৌতম রুঠিয়া ফোনে বিবিসিকে বলেছেন, ‘দেখুন, আমরা ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে একটি ইমেইল পেয়েছি, যেখানে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তারা আরও বলেছে যে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যাচাইয়ের জন্য তাদের যা যা তথ্য প্রয়োজন, আমরা তা পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

    তবে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি যে তারা পরিবারটির দাবি গ্রহণ করবে কি না। নথিপত্রের এই অনুরোধ বর্তমানে দাবি যাচাই প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

    জুম্মালালের নাতি এবং গৌতমের বাবা বিনয় রুঠিয়া বলেন, ব্রিটিশ সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় পরিবারটি খুবই উচ্ছ্বসিত।

    ‘কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম আমরা যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। আমাদের আশা জেগেছে। বিষয়টি টাকার ঊর্ধ্বে। আমাদের কাছে এটি আমাদের পৈতৃক ঐতিহ্যের বিষয়।’

    পরিবারটি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই নথির বিষয়ে জানতে পারে বলে জানিয়েছেন বিনয় রুঠিয়া।

    তিনি বলেন, ‘এই বছরের শুরুতে, আমরা অন্য একটি মামলার জন্য পুরোনো নথি ঘাঁটতে গিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া একটি ঋণসংক্রান্ত এই নথি খুঁজে পাই। এরপর আমরা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’

    কেন একজন ভারতীয়র কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারকে?

    পরিবারের ভাষ্যমতে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জুম্মালাল রুঠিয়া এই টাকা ব্রিটিশ সরকারকে দিয়েছিলেন।

    আমরা যখন বিনয় রুঠিয়াকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তিনি বলেন, ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ভারতীয় সৈন্যরাও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তখন ব্রিটিশ সরকার সৈন্যদের ভরণপোষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল। এই সূত্রে আমার দাদু, জুম্মালাল, যুদ্ধে যাওয়া ভারতীয় সৈন্যদের খরচের জন্য এই অর্থ ব্রিটিশ সরকারকে দিয়েছিলেন।’

    পারিবারিক নথিপত্রে ঋণ গ্রহণের তারিখ হিসেবে চৌঠা জুন, ১৯১৭ উল্লেখ আছে।

    জুম্মালালের পরিবার এটিকে যুদ্ধকালীন ঋণ বলে দাবি করেছে। অর্থাৎ, এই ঋণ সাধারণ ব্যাংক ঋণের মতো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শোধ করতে হয়।

    গৌতম রুঠিয়া বলেন, ‘যদি এটি একটি ব্যাংকিং নথি হতো, তাহলে পরিশোধের জন্য পাঁচ বছর বা দশ বছরের মতো একটি সময়সীমা উল্লেখ করা থাকত। কিন্তু এটি ছিল একটি যুদ্ধকালীন ঋণ, অর্থাৎ যুদ্ধের জন্য দেওয়া ঋণ। যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কখন শেষ হবে, তা নিশ্চিত ছিল না।’

    ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন রুঠিয়া পরিবারের পারিবারিক নথিপত্র, বংশতালিকা, পুরোনো সনদপত্র, ঋণের পরিমাণ এবং সেই সময়ের ফর্ম সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

    গৌতম রুঠিয়ার মতে, কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখতে চায় যে, ১৯১৭ সালে যে পরিবার টাকা দিয়েছিল এবং যে পরিবার এখন তা দাবি করছে, তারা একই পরিবার কি না।

    ৩৫ হাজার টাকার মূল্য এখন কত?

    রুঠিয়া পরিবার ১৯১৭ সালে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকার বর্তমান মূল্যও হিসাব করছে।

    গৌতম রুঠিয়ার মতে, পরিবারটি তাদের আর্থিক দাবিতে সুদ, আসল, চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত করবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা সব টাকাই দাবি করব। ৩৫ হাজার হলো আমাদের দেওয়া ঋণের আসল, তার সঙ্গে যোগ হবে সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং উদ্ভূত যেকোনো খরচ।’

    ‘এই সবকিছু হিসাব করার পর আমরা আজকের বাজারে টাকার অর্থমূল্যের সঙ্গে তুলনা করব।’

    অর্থাৎ বর্তমান মুদ্রাস্ফীতিজনিত আর্থিক হিসাবও এই দাবিকৃত টাকার অঙ্কে যোগ হতে চলেছে।

    এই হিসাবটা এখনো হওয়া বাকি, তাই ১০৯ বছর পর এই কথিত ঋণের বিনিময়ে তারা কত টাকা দাবি করবে, পরিবারটি এখনো তা স্থির করেনি।

    ২২০ কোটি পাউন্ড ইতোমধ্যেই পরিশোধ করেছে ব্রিটেন

    বিনয় রুঠিয়া দাবি করেছেন ২০১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য নেওয়া বিভিন্ন ঋণের মোট ২২০ কোটি পাউন্ড পরিশোধ করেছে।

    তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন যে, ‘২০১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের অনেকটা অংশই পরিশোধ করেছে। এই ঋণগুলো ১৯১৭ সাল নাগাদই নেওয়া হয়েছিল।’

    ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া সরকারের এক জবাব অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত সরকারের প্রায় ২২০ কোটি পাউন্ডের বকেয়া ঋণ ছিল। এর কয়েক শতাংশ ছিল যুদ্ধকালীন ঋণ, যা ২০১৫ সালের ৯ই মার্চ পরিশোধ করা হয়। আরও ১০ লাখ পাউন্ড ছিল একটি কনসোলিডেটেড ঋণ এবং একটি কনভার্শন ঋণ, যা ২০১৫ সালেই পরিশোধ করা হয়েছিল।

    ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া আরেকটি জবাব অনুযায়ী, কনসোলিডেটেড ঋণের ৪ শতাংশ এবং যুদ্ধকালীন ঋণের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশে জারি করা সরকারি বন্ড। সেই সময়ে জারি করা মোট যুদ্ধকালীন বন্ডের প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল এই দুটি বন্ড।

    তবে, ২০১৫ সালে ব্রিটেনের এই পুরোনো ঋণগুলো পরিশোধ করা হলেও ১৯১৭ সালে জুম্মালাল রুঠিয়ার দেওয়া ৩৫ হাজার টাকাও এই বন্ডগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না তা এখনো প্রমাণ সাপেক্ষ।

    কে ছিলেন এই জুম্মালাল রুঠিয়া?

    পরিবারের ভাষ্যমতে, জুম্মালাল রুঠিয়া সেই সময়ে এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন।

    তার নাতি, বিনয় রুঠিয়া জানান যে, জুম্মালাল রুঠিয়ার প্রায় তিন হাজার গরুসহ একটি গোশালা ছিল।

    পরিবারের কাছে জুম্মালাল রুঠিয়ার একটি পুরনো ছবি এবং সেই সময়ে তার ব্যবহৃত গাড়ির একটি ছবিও রয়েছে।

    পরিবারটি জানায় যে তাদের পুরোনো ব্যবসা ও পরিবার সম্পর্কিত অন্যান্য নথিও রয়েছে।

    বিনয় রুঠিয়া বলেন, ‘এগুলো ছাড়াও আমার দাদুর একটি বিশাল ব্যবসা ছিল। তিনি সে সময়ে আফিম চাষও করতেন। তার একটি রোলস রয়েস গাড়ি ছিল। সুতরাং, তিনি ঋণ দিয়েছিলেন কি না, তা প্রশ্ন নয়। তার কাছে টাকা ছিল এবং ঋণের নথিও রয়েছে। প্রশ্ন হলো, এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।’

    ঋণ দেওয়ার প্রায় দুই দশক পর, ১৯৩৭ সালে শেঠ জুম্মালাল রুঠিয়া মারা যান। প্রায় ১০ বছর পর, ১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ সরকার ভারত ছেড়ে যায়। পরিবারটির দাবি, এই অর্থ কখনও পরিশোধ বা নিষ্পত্তি করা হয়নি।

    নথিপত্র এখনো যাচাই হওয়া বাকি

    আপাতত ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ পরিবারটির দাবি মেনে নেয়নি। কারণ, পরিবারটির কাছে চাওয়া নথি ও তথ্য যাচাই করতে হবে।

    তথ্য যাচাই করে ১৯১৭ সালে দেওয়া ৩৫,০০০ টাকা সংক্রান্ত নথিগুলো ব্রিটিশ সরকারের নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

    পরিবারটি অবশ্য এক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ এবং আরবিট্রেশনের পথেও হাঁটতে পারে বলে জানিয়েছে।

    বিনয় রুঠিয়ার মতে, মূল নথিগুলো যাচাই হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

    ১০৯ বছরের পুরনো এই ঘটনায় পরিবারটি বর্তমানে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তরফে অনুরোধ করা নথিগুলো সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • আমদানি নীতিতে বড় ছাড়, বাড়ছে বাণিজ্য অর্থায়নের সুযোগও

    আমদানি নীতিতে বড় ছাড়, বাড়ছে বাণিজ্য অর্থায়নের সুযোগও

    আমদানি-সংক্রান্ত আগের বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত ও হালনাগাদ করে জারি করা নতুন সংকলিত প্রজ্ঞাপনে এলসি ছাড়াই আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি বাকিতে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল বাণিজ্য নথি এবং ফ্রি ট্রেড জোনে (এফটিজেড) আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সুদহার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ফরওয়ার্ড রেট এগ্রিমেন্টের (এফআরএ) সুযোগও দেয়া হয়েছে।

    গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্টের আমদানি-সংক্রান্ত সংকলিত প্রজ্ঞাপন এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আগের সংকলিত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের গাইডলাইনস ভলিউম-২-এর রিপোর্টিং-সংক্রান্ত নির্দেশনা বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপনটি এক বছর কার্যকর থাকবে।

    নতুন নীতিমালার অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো এলসি-নির্ভরতার বাইরে আমদানি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো। নির্ধারিত শর্তে ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় ডকুমেন্টস এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্টস এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ) পদ্ধতিতে আমদানি করা যাবে। ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তির আওতায় এলসি ছাড়াও আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক আমদানিতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের ইউজেন্স বা বিলম্বিত পরিশোধের সুবিধাও দেয়া হয়েছে।

    শিল্প খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এসেছে কাঁচামাল আমদানিতে। নিজস্ব ব্যবহারের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ইউজেন্স সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ক্যাশ কনভার্সন সাইকেল এর চেয়ে কম হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক সার আমদানিতেও ২৭০ দিনের ইউজেন্স সুবিধা রাখা হয়েছে। স্পেয়ার পার্টস, জাহাজ স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য জাহাজ, এপিআই ও ল্যাবরেটরি রিএজেন্টসহ কয়েকটি পণ্যে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও কিছু মেডিকেল সরঞ্জামে ১৮০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আমদানির সুযোগ রয়েছে।

    মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মূলধনি পণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ইউজেন্স সুবিধা দেয়া হয়েছে। ইপিজেড, প্রাইভেট ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কসহ সরকারি ঘোষিত বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানও এ সুবিধা পাবে। এতে আমদানির সময় এককালীন অর্থ পরিশোধের চাপ কমার পাশাপাশি শিল্পের কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনাও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    আমদানির আগাম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যাংক গ্যারান্টি থাকলে নির্ধারিত শর্তে আগাম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আগাম পরিশোধে রিপেমেন্ট গ্যারান্টির প্রয়োজন হবে না। জরুরি ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার বেশি আগাম অর্থ পরিশোধের অনুমোদনের আবেদনও করা যাবে।

    সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বায়ার্স ক্রেডিট, সাপ্লায়ার্স ফাইন্যান্সিং ও পে-এবলস ফাইন্যান্সিংয়ের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি অর্থায়নের বিকল্প বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকের পাশাপাশি বিদেশী সরবরাহকারীরও দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হবে।

    এদিকে এফটিজেডে আমদানি বাণিজ্যের জন্য পৃথক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এফটিজেডের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনুমোদিত ট্রেডার ও লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারীরাও আমদানি করতে পারবে। কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য নির্দিষ্ট শর্তে ৪৮-৬০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তরেও নতুন নীতিমালায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে ইনভয়েস, পরিবহন নথি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিল ইলেকট্রনিকভাবে গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরে ডিজিটাল ট্রেড ডকুমেন্টের পাইলট কার্যক্রম চালুর সুযোগও দেয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিং, বাণিজ্যিক ইনভয়েস ও বিল অব এক্সচেঞ্জ এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০ সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

    ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০ সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

    চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০ টিরও বেশি অলাভজনক ও অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের গত ৩০ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

    আজ শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট প্রাবোও তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো মূলত ‘অনুৎপাদনশীল’। এগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনলেও তা আড়াল করতে কাগজে-কলমে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে আসছিল।

    তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়তো ৩০০ বা ৪০০টি হবে। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা ১ হাজার ৭৪ টি।’ তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই রাষ্ট্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না রেখে নিজেদের মতো পরিচালিত হচ্ছিল।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষায় ‘দানান্তারা’ নামে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে ইন্দোনেশিয়া। ওই তহবিলের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়েই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিপুল এই সংখ্যা প্রকাশ পায়।

    প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা সব সময় লোকসান করছে, অথচ মুনাফা দেখাচ্ছে। এসব মুনাফা আসলে কাগজে-কলমে তৈরি করা।’

    প্রেসিডেন্ট জানান, রাষ্ট্রীয় খাতের এই ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ২৯০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা ৩০০-র মধ্যে নামিয়ে আনা হবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ৭৫০ টির বেশি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব। কেবল সেগুলোই রাখা হবে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনশীল।’

    এই পুরো উদ্যোগকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠনগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন প্রেসিডেন্ট।

    ইন্দোনেশিয়া সরকারের হিসাব মতে, পরিচালনা পর্ষদের বেতন-ভাতা হ্রাস, ভবন ও গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ কাটছাঁট করার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ (প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে সরকারের লক্ষ্য হলো এই সাশ্রয়ের পরিমাণ ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহর ওপরে নিয়ে যাওয়া।

    রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রুখতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ৩০ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গঠনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে পেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তবে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি নমনীয় পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাবোও। তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যেসব কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক নিজেদের অনিয়ম ও ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হবেন, তাঁদের জন্য যেন একটি ‘বিশেষ সাধারণ ক্ষমা’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

  • ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা স্থলবন্দরে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য কমেছে। পণ্যবাহী ট্রাক আসা–যাওয়া কমেছে। কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। আমদানি–রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ।

    সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর। বন্দরের ওপারেই ভারতের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর।

    গত রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক একে একে বন্দরে ঢুকছে। পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    ভোমরা বন্দর সড়কের পাশে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের কার্যালয়ের সামনে বসে ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। কাজের অপেক্ষায় তাঁরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অপেক্ষায় থাকা আজিজুল ইসলাম বলেন ‘এখন কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর মজুরিও কম। সংসার চলে না। অনেক শ্রমিক কাজের খোঁজে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। আগে যেভাবে আমদানি-রপ্তানি হতো, এখন আর তা হয় না।’

    শুধু হ্যান্ডলিং শ্রমিক নন, বন্দরের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদেরও একই সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, কিছুদিন আগেও বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এতে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েন।

    আবু মুসার মতে, ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

    বাণিজ্য কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্য বেড়েছে

    ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এ বন্দরের জন্য ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। এ ধারা চলতে থাকলে বছর শেষ লক্ষ্যের ৫০ শতাংশও পূরণ হবে না।

    ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টনে। এক বছরে কমেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন।

    রপ্তানিতে পতন আরও বড় হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভোমরা দিয়ে ভারতে ১৯ হাজার ৮৯টি ট্রাকে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

    এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৮ লাখ ৬ হাজার টন পণ্য। আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন। রপ্তানি আয় কমেছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা।

    কারণ কী

    এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শুল্ক কর্মকর্তা, আমদানি–রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত অবকাঠামোসংক্রান্ত অসুবিধার কারণেই ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি–রপ্তানি কমেছে।

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কিছু কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বন্দরে ভারী ক্রেন, পর্যাপ্ত ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদাম সুবিধার ঘাটতিও বাণিজ্যের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নাসিম ফারুক খান আরও বলেন, অবকাঠামোগত দিক থেকে ভোমরা বন্দরের তুলনায় ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দরের অবস্থা অনেক দুর্বল। কিন্তু দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। এ জন্য অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

    কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমানের মতে, ব্যবসায়ীদের সেবার মান উন্নয়ন, হয়রানি কমানো এবং দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে কাস্টমস কাজ করছে।

    সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথাও জানান মুশফিকুর রহমান। সেখানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    টানা কয়েক সপ্তাহের বাড়তি দামের পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচ ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মরিচের দাম কমেছে। তবে বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো চড়া। আগাম শীতকালীন সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ বাজারে কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দেয়। এতে দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ভারত থেকে আমদানি বাড়ার পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে মানভেদে কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা কমে ফার্মের লাল ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

    এদিকে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, বেগুন ও করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, পটল, ঢেঁড়শ ও শসা ৬০ টাকা এবং ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে।সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছের বাজারে চাষের পাঙাস ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৪০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম কমেছে, এটা স্বস্তির। তবে অন্যান্য সবজি, মাছ ও মাংসের দাম এখনো বেশি। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার।”

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পুরোপুরি পড়েনি। ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও তা এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

  • ইরান নয়, তেলের দাম কমানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান নয়, তেলের দাম কমানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে তেলের দাম কমানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বলছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার চেয়েও এই যুদ্ধে মার্কিনিদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি জানি, আজ তেলের দাম কমেছে এবং সংঘাতের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এখন তা অনেকটাই কম।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো—সারা দেশের মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম সাশ্রয়ী রাখা।’

    ভ্যান্স আরো বলেন, ‘এরপর, অবশ্যই দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো—ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অজু স্টেশন, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা

    যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অজু স্টেশন, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা

    যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শৌচাগারে মুসলিম যাত্রীদের অজুর সুবিধার্থে বিশেষ ফুট ওয়াশ স্টেশন স্থাপন বা পা ধোয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টার্মিনাল ডি-এর শৌচাগারে এসব অজু স্টেশন স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক অজুর স্থান তৈরি করা হবে।

    টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের নথি অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় পুরুষদের শৌচাগারে একটি এবং নারীদের শৌচাগারে একটি করে বিশেষ অজু স্টেশন বসানো হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এর অর্থায়ন বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে নয়; প্রকল্পটি ব্যক্তিগতভাবে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ শৌচাগারের বেসিনে পা ধোয়ার কারণে অনেক সময় মেঝে ভিজে ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে এবং বেসিনের ক্ষতিও হতে পারে। নতুন অজু স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে শৌচাগার পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখা সহজ হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে এ ধরনের নিচু বেসিন ও আন্তধর্মীয় প্রার্থনার স্থান রয়েছে। শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এর মধ্যে অন্যতম।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এর সমালোচনা করলেও অন্যরা বলছেন, এটি কোনো ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচারের উদ্যোগ নয়; বরং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা।

  • পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বৈশ্বিক শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ

    পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বৈশ্বিক শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ

    নানা আয়োজনে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদে ৩১ ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। করাচিতে মাজার-ই-কায়েদে অনুষ্ঠিত হয় গার্ড পরিবর্তন অনুষ্ঠান। স্বাধীনতা দিবসে স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ।

    দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তার বার্তায় স্বাধীনতাকে শুধু ঐতিহাসিক অর্জন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অর্থনীতি শক্তিশালী করা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত এবং আফগানিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করেন।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, গত আড়াই বছরে পাকিস্তান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তিনি জানান, গত দুই বছরে প্রবাসী আয় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিল্প ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের জন্য ‘রেড লাইন’। ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে দেশটিকে সরাসরি জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, কাশ্মীর সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান এবং ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।

    স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    রাজধানীর মগবাজারের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। ওই ভবনটিতে আবাসিকের পাশাপাশি বাণ্যিজ্যিক কার্যক্রমও রয়েছে।

    জানা গেছে, আগুন লাগা ওই ভবনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি, পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভবনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। এরা বেশিভাগই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ছয়টা ২৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভবনের ভেতরে এখনও অনেকেই আটকা আছেন।

  • ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪২ দশমিক দুই শতাংশ।

    গতকাল ১২ আগস্ট এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির

    ব্যাংকিংসহ সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস এডিবির

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের সাথে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ আশ্বাস দেয়া হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে এডিবির সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

    এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় এডিবির সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশে আরো শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো: হাবিবুর রহমান ও ড. মো: কবির আহমেদ ও ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আমদানি বিধিবিধান একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

    আমদানি বিধিবিধান একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

    আমদানি লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরো সহজ ও সুসংহত করতে গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জারি করা এ সার্কুলারের মাধ্যমে আমদানি-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

    নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৩ হালনাগাদ করা হয়েছে। গত এক বছরে জারি হওয়া পরবর্তী নির্দেশনাগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকার, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পৃথক পৃথক সার্কুলার অনুসরণের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। নতুন সার্কুলার কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা বহাল থাকবে।

    নতুন কাঠামোয় আমদানি বাণিজ্য ও অনলাইন রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ এবং বিল অব এন্ট্রি দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সংক্রান্ত নিয়মও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি-সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি ব্যবহারের বিধানও নতুন কাঠামোয় রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, স্বর্ণ, রুপা, গহনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে। এর নির্দেশনা আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এ সময়ে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা নতুন সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে।

    ব্যবসায়ী মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ডিজিটাল নথি প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি আমদানি বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর সুফল পেতে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

  • সুগন্ধি চালের রফতানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

    সুগন্ধি চালের রফতানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

    দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রফতানিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আগে অনুমোদন দেয়া রফতানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে রফতানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রফতানি করেছে, সে তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারিকৃত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

    মন্ত্রণালয়ের স্মারকে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগে দেয়া রফতানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রফতানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

    মূলত যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রফতানি করেছে, মূলত তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগে, ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রফতানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি সহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    গত ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রফতানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রফতানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রফতানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রফতানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে মন্ত্রণালয়।

    ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছেড়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের।

    সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একইসাথে রফতানির অনুমতি পেয়েও যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রফতানি পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করবে সরকার। এজন্যই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত রফতানির তথ্য চাওয়া হয়েছে।

    এসব তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদিত রফতানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর মাধ্যমে একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে প্রকৃত সক্ষম রফতানিকারকদের সুযোগ অব্যাহত রাখার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে সরকার।

  • আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    চলতি আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। যার মোট পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ তিন ধরনের উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে।

    মিজানুর রহমান আরো জানান, আগস্ট মাসে মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে চার কার্গো দেশে পৌঁছেছে। বাকিগুলো এ মাসেই চলে আসবে। আমদানি করা নয় কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ রয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

    পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এক, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় পাঁচ এবং স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের দেশে পৌঁছাবে।

    এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

    এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

    উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

  • দেশে ফিরলেন জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের প্রধানমন্ত্রী

    দেশে ফিরলেন জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের প্রধানমন্ত্রী

    সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পাঁচ মাস পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

    তবে দেশে ফেরার সময় দেউবা একদিকে রাজনৈতিক, অন্যদিকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে বিতর্কিত বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পুড়িয়ে দেওয়ার পর অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘চিকিৎসা পরীক্ষা’র জন্য সিঙ্গাপুরে যান দেউবা এবং এরপর কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন।

    তদন্তের অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তার দেশের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পর অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের আবেদনের ভিত্তিতে দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

    বিদেশে অবস্থানকালে দেউবার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির চেষ্টা করেছিল নেপাল সরকার। তবে পরে ২৫ মে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে। এরপরই দেউবা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে দেউবার দেশে ফেরায় তার রাজনৈতিক অংশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠলেও চলমান অর্থপাচার তদন্তের কারণে রাষ্ট্র তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    দেউবার স্ত্রী আরজু দেউবা ও ছেলে জয়বীর এখনো বিদেশে রয়েছেন। গত বছরের জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় দেউবা দম্পতি গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসার কথা বলে বিদেশে যান। তবে দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    তাদের বিদেশে অবস্থানের সময় সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ে যাওয়ার কথাও শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হংকংয়ে দেউবা দম্পতির ঘোরাফেরার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও তারা সেখানে থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি।

    সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তাদের দীর্ঘ বিদেশযাপন ও চিকিৎসার খরচ কে বহন করেছে, তা নিয়ে। দেউবা পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান অর্থপাচার তদন্তের কারণে এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে

  • চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শহর এলাকাগুলোতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র করুণ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার শহর এবং উপজেলা সদরে দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তবে তা প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়। কিন্তু গ্রামীণ জনপদে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে আসার কোনো লক্ষণ থাকে না। এতে তীব্র গরমে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।

    কৃষিপ্রধান এই জেলায় বর্তমানে মাঠে মাঠে সেচ পাম্প চালু রাখার ব্যস্ত সময়। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসলের সেচ কার্যক্রম।

    পৌর এলাকার কৃষক শাহাবুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পাম্প চালুর পরই বিদ্যুৎ চলে যায় ও কখন আসবে তা অনিশ্চিত থাকে। ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ করে ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সঙ্কটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা রাতে গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে দিনে রাস্তায় নামতে পারছেন না। পাশাপাশি চালের মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায় ক্ষতির ধস নেমেছে। বাতাস চলাচলের অভাবে বেশ কিছু পোল্ট্রি খামারে মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

    সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকেই চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলিয়ে ওজোপাডিকোর প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মেলে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট।

    চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাহিদার এই ঘাটতির কারণে নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

    অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৮৪ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

    ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপাডিকো ও ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বন্টন করা হলেও দুই সংস্থায় চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে পারছে না।

    এদিকে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যুৎ সেবার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।

    বৈঠকে বিশেষ করে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখার প্রতি জোর নির্দেশ দেয়া হয়।

    সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালসহ জরুরি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

    মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, ছাড়াল ৮৫ হাজার কোটি

    টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ধার, ছাড়াল ৮৫ হাজার কোটি

    দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন মাসে নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এসব ব্যাংককে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ধার ছাড়িয়েছে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর চরম তারল্য সংকট সামাল দিতে এই অর্থ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও বড় অঙ্কের এই ধার পরিশোধ করতে পারেনি।

    জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডজনখানেকের বেশি ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছিল। এসব লুটপাটে এস আলমসহ কয়েকটি গ্রুপ জড়িত ছিল। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি গ্রাহকের আমানতের অর্থও ফেরত দিতে পারছে না।

    এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে টাকা ছাপিয়ে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকগুলোর সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠলে তখনও তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও বিএনপি সরকারের সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আবারও তারল্য সহায়তা দিতে হয়।

    সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত ১৩টি ব্যাংককে টাকা ছাপিয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে দেওয়া হয় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, অন্তর্বর্তী সরকারের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সময়ে দেওয়া হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সময়ে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকগুলো লুটপাটের কারণে সংকটে পড়েছে—এটি সত্য। তবে যেভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। এভাবে টাকা ছাপিয়ে দিয়ে কতদিন ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ব্যাংক একীভূত করা হলেও এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি খুবই কম।

    সংকটের নেপথ্যে

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের ক্ষত লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের শেষদিকে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে। তখন ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন। এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলো বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর এবং সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতেও ব্যর্থ হয়। এরপরও ব্যাংকগুলোকে নানা অবৈধ সুবিধা দিয়ে টিকিয়ে রাখেন তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের একটি চলতি হিসাব থাকে। এই হিসাব থেকে ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য সংরক্ষণ হিসেবে সিআরআর ও সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতে হয়। আবার আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া পুনঃঅর্থায়নসহ যাবতীয় লেনদেনও হয় এ হিসাব থেকে।

    সাধারণভাবে সিআরআর ও এসএলআরে ঘাটতি হলেও চলতি হিসাবে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। তবে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোতে ঋণযোগ্য তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ বেআইনিভাবে লেনদেনের সুযোগ দেন। ২০২২ সালের শেষদিকে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের চলতি হিসাব ঋণাত্মক করে লেনদেনের এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো বাধা ছাড়াই লেনদেন চালিয়ে যায় ব্যাংকগুলো।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বেআইনি এসব সুবিধা বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে আগের মতো টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তে বেশিদিন অটল থাকতে পারেননি তিনি। কারণ, চলতি হিসাবে ঘাটতি এবং টাকা ছাপিয়ে ধার দেওয়া বন্ধ করায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খেতে থাকে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের শাখায় শাখায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হলে আবারও নতুন করে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কোন ব্যাংকের কত ধার

    টাকা ছাপিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ধার দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে। ব্যাংকটিকে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এরপর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এছাড়া এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংককে ৫ হাজার ৪২০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংককে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে।

    এর বাইরে এবি ব্যাংককে ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে ৩ হাজার ৩ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে ৬২৪ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা এবং পদ্মা ব্যাংককে ২৫২ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া আর ঠিক হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একপ্রকার বাধ্য হয়ে এসব সহায়তা দিচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা অর্থ ফেরত না পেলে ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। এতে সংকট আরো গভীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

  • শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা কি স্ত্রীর জন্য ফরজ, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

    শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা কি স্ত্রীর জন্য ফরজ, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

    ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, আক্ষরিক অর্থে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা পুত্রবধূর ওপর ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। তবে, একজন ভালো মুসলমান হওয়ার জন্য তাদের প্রতি সাধ্য অনুযায়ী সদাচরণ করা একটি মহৎ কর্তব্য। তারা যেহেতু বয়সে বড় এবং বাবা-মায়ের সমতুল্য, তাই তাদের সম্মান করা ও যত্ন নেওয়া দ্বীনদার মানুষের পরিচায়ক।

    সাম্প্রতিক একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, স্বামী তার স্ত্রীর সুখের জন্য এবং সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য অনেক কিছু করেন, যা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়—যেমন শহরে বাড়ি করা, গাড়ি কেনা বা ব্যাংক ব্যালেন্স করা। স্বামী যখন ফরজের বাইরে স্ত্রীর জন্য এত কিছু করেন, তখন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদের সেবা করা।

    তিনি আরো বলেন, স্বামী যেহেতু সংসারের উন্নতির জন্য বাইরে ব্যস্ত থাকেন এবং নিজের বাবা-মাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না, তাই স্ত্রীর উচিত মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পাশে দাঁড়ানো। আজকের পুত্রবধূ একসময় নিজেই শাশুড়ি হবেন। তখন তিনি যেমন তার পুত্রবধূর কাছ থেকে সেবা ও আদর-আপ্যায়ন আশা করবেন, তেমনি বর্তমানে তারও উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি একই রকম আচরণ করা।

    হাদিসে যা এসেছে

    পুত্রবধূ যদি নিজের সদিচ্ছা ও ভালোবাসা থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করেন, তাহলে তা প্রশংসনীয়, এতে রয়েছে সওয়াবও। তবে তাকে এ কাজ করতে বাধ্য করা কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ, হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মা-বাবার সেবা-শুশ্রূষা করা সন্তানের দায়িত্ব—কোনোভাবেই পুত্রবধূর নয়।’ (আল-বাহরুর রায়েক : ৪/১৯৩; কিফায়াতুল মুফতি : ৫/২৩০)

  • চীনের অর্থনীতির রূপকার ঝু রংজি আর নেই

    চীনের অর্থনীতির রূপকার ঝু রংজি আর নেই

    চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থানের অন্যতম রূপকার ঝু রংজি মারা গেছেন।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

    ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ঝু রংজি। চীনের অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কাঠামো থেকে আরও বাজারমুখী ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, দুর্নীতি দমন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, আর্থিক ও করব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মত বড় সংস্কারের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে আছে।

    বিশেষ করে ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চীনের যোগদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক। দীর্ঘ আলোচনার পর ডব্লিউটিওতে প্রবেশের মাধ্যমে চীনা অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য আরও উন্মুক্ত হয়।

    তার আমলেই চীনে দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যাপক বিকাশ এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য বাজার উন্মুক্ত করার মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    ‘ইকোনমিক জার’

    ঝু রংজিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রায়ই চীনের ‘ইকোনমিক জার’ হিসেবে বর্ণনা করা হত। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকেই তিনি দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন—প্রথমে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে, পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

    সে সময় চীনের অর্থনীতি দ্রুত বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা ঋণ এবং লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। ঝু আর্থিক নীতি আরও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বেসরকারিকরণের মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলার উদ্যোগ নেন।

    তবে এসব সংস্কারের সামাজিক মূল্যও ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ সংখ্যা কয়েক কোটি পর্যন্ত বলা হয়। তবে ঝু ছাঁটাই হওয়া ও বেকার শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দিয়েছিলেন।

    চীনের আর্থিক ব্যবস্থাতেও তিনি বড় পরিবর্তন আনেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুর সময়ে চীন প্রায় ২৭ শতাংশের উচ্চতায় পৌঁছানো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং মুদ্রাব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকট সামলাতেও ঝু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সে সময় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও চীনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকার সক্রিয় রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করে।

    চীনের সরকারি শোকবার্তায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখায় ঝুর ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে।

    একই বছর হংকংয়ের ব্রিটিশ শাসন থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াতেও ঝু ভূমিকা রাখেন।

    ডব্লিউটিওতে চীনের প্রবেশ

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঝুর সবচেয়ে বেশি আলোচিত সাফল্যের একটি ছিল ডব্লিউটিওতে চীনের প্রবেশ।

    চীনকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে ১৫ বছর ধরে আলোচনা চলার পর ২০০১ সালে দেশটি ডব্লিউটিওর সদস্য হয়।

    ঝু ওই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং দেশের অভ্যন্তরে সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, তার ওই উদ্যোগ দেশীয় রাজনীতিতে বিতর্কও তৈরি করেছিল। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করতেন, ডব্লিউটিওতে প্রবেশের জন্য চীন অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে।

    তবে পরে চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দ্রুত বিস্তারের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হয়।

    কঠোর সংস্কার, স্পষ্টভাষী নেতা

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও আপসহীন সংস্কার নীতির জন্য ঝু একই সঙ্গে প্রশংসা ও সমালোচনা পেয়েছেন।

    তার স্পষ্টভাষী বক্তব্য এবং কখনও সরস, কখনও উত্তেজক বক্তৃতার ধরনও তাকে চীনের অন্য অনেক নেতার তুলনায় আলাদা পরিচিতি দেয়।

    ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সামনে মাইনফিল্ড বা গভীর খাদ থাকলেও তিনি দ্বিধা না করে এগিয়ে যাবেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের কাজ করে যাবেন। তার ওই বক্তব্য পরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

    সাউথ চায়না মরনিং পোস্ট লিখেছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রকাশিত শোকবার্তায় ঝুকে দল ও রাষ্ট্রের ‘একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি’ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।

    শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনি দেশের পরিকল্পিত অর্থনীতি থেকে ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে’ রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    শুরুর জীবন

    ১৯২৮ সালে মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের রাজধানী চাংশায় ঝু রংজির জন্ম। ১৯৫১ সালে তিনি বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি পান।

    এরপর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থায় কাজ শুরু করেন। মাও জেদংয়ের আমলের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তার কর্মজীবনও বাধাগ্রস্ত হয়।

    ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনার কারণে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং পরে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় আবারও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হন। মাওয়ের মৃত্যুর পর ঝু পুনর্বাসিত হন এবং আবার পার্টিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান।

    ১৯৮৮ সালে তিনি সাংহাইয়ের মেয়র হন। সেখানে তার কাজ তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের নজরে আসে।

    ১৯৯১ সালে তাকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হয় এবং দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাত বছর পর, ১৯৯৮ সালে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

    ২০০৩ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেন ঝু। এরপরও হু জিনতাও ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তিনি সমর্থন অব্যাহত রেখেছিলেন।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোাস্ট লিখেছে, ঝু রংজির নেতৃত্বে নেওয়া সংস্কারগুলো পরবর্তী দুই দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঝু রংজি ছিলেন অত্যন্ত সমাদৃত। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার একটি বইয়ের মুখবন্ধে ঝু রংজিকে ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    তিনি লিখেছিলেন, “আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ এক সংস্কার কর্মসূচির সফল রূপায়ণ করেছেন তিনি।”

  • সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা

    সম্মানী পাচ্ছেন আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতা

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মী মাসিক সম্মানী ভাতা পাবেন। এ জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

    চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা।

    ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয়কে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। পরে তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবাইতসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবার রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হয়।

    সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানো হবে।

  • ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় বসছে এআই সংকেতবাতি, একেকটিতে খরচ ২ কোটি

    ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় বসছে এআই সংকেতবাতি, একেকটিতে খরচ ২ কোটি

    ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর আরও ৫০টি স্থানে স্বয়ংক্রিয় (এআই) সংকেতবাতি (ট্রাফিক সিগন্যাল) বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি সিগন্যালে গড়ে ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি টাকা।

    তবে এই অর্থ শুধু সংকেতবাতি বসাতে খরচ হবে না। সিগন্যালের খুঁটি, ভিত্তি, স্টিলের বেড়া, বিদ্যুৎ–সংযোগ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, সড়ক খনন, ক্যামেরা, নিয়ন্ত্রণ বক্স, ট্যাবসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কেনার পেছনেও ব্যয় হবে।

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় ২৮টি স্থানে ট্রাফিক সংকেতবাতি বসাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি স্থানে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। দুই সিটি মিলিয়ে ৫০টি সিগন্যালে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। এর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় ২৮টি স্থানে ট্রাফিক সংকেতবাতি বসাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি স্থানে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। দুই সিটি মিলিয়ে ৫০টি সিগন্যালে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। এর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও ৫০টি স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতি চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুই সিটি করপোরেশনকে ৫০ কোটি টাকা করে মোট ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

    পরে এসব সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা যুক্ত করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা এলাকায়

    দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বাতি স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে। তবে কাজ শুরুর সময় নিয়ে দুই সিটির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

    দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

    রাজিব খাদেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ডিএসসিসি

    এক সিগন্যালে ব্যয় ২ কোটি টাকা

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের কাজ মূলত দুই ভাগে করা হবে। একটি অংশের কাজ করবে সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদার। অন্য অংশের কাজ করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

    সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারের কাজের মধ্যে রয়েছে সিগন্যালের দুই পাশে ৫০ মিটার করে স্টিলের বেড়া নির্মাণ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি, বাতির খুঁটির ভিত্তি ও খুঁটি নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন এবং সড়ক খনন বা কাটার কাজের মতো পূর্তকাজ।

    অন্যদিকে বুয়েট ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার নকশা প্রণয়ন করবে। সংকেতবাতি, নিয়ন্ত্রণ বক্স, ট্যাব, ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। পাশাপাশি যানবাহনের চলাচলসংক্রান্ত জরিপও করবে প্রতিষ্ঠানটি।

    অর্থাৎ শুধু সিগন্যাল বাতি স্থাপন নয়, এর সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের কাজ মূলত দুই ভাগে করা হবে। এর একটি অংশের কাজ করবে সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদার। অন্য অংশের কাজ করবে বুয়েট।

    ডিএনসিসির হিসাব বলছে, ২৮টি স্থানে ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের পূর্তকাজে ব্যয় হবে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে স্টিলের বেড়া নির্মাণে। সংকেতবাতির খুঁটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। খুঁটির ভিত্তি তৈরিতে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ এবং বিদ্যুতায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বক্স, সড়ক খনন, ট্রাফিক সাইনসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

    এর বাইরে বুয়েটের পরামর্শ, সংকেত বাতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হবে প্রায় ১২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ডিএনসিসির ২৮টি সিগন্যালে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে ডিএসসিসির ২২টি স্থানে সিগন্যাল বাতি বসানোর পূর্তকাজে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। আর বুয়েটকে দেওয়া হবে প্রায় ৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা।

    এই হিসাবে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির প্রতিটি স্থানে একটি সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনে গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা করে ব্যয় হচ্ছে।

    নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করলে ফলাফল আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যেত। তবে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি প্রয়োজন; পাশাপাশি লেন ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য ট্রাফিক শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে হবে।

    আদিল মুহাম্মদ খান, নগর পরিকল্পনাবিদ

    সাত সিগন্যালের পর এবার আরও ৫০

    যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২২টি মোড়ে নতুন করে সংকেতবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব বাতি বসাতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

    প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ও বাংলামোটর এবং ঢাকা উত্তরের সোনারগাঁও, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাহাঙ্গীর গেট মোড়ে এসব সিগন্যাল বসানো হয়েছিল। পরে এসব সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা যুক্ত করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। দুই সিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ভাষ্য, এতে যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

    গত মে মাসে কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ছোটন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আগে গাড়ি থামাতে যুদ্ধ করতে হতো। এখন লাল বাতি জ্বলে উঠলেই থেমে যাচ্ছে। শান্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারছি। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো সমস্যা সৃষ্টি করছে।’

    সিগন্যালে এআই ক্যামেরা চালুর পর চালকেরা এখন জেব্রাক্রসিংয়ের আগেই থামছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা এলাকায়

    বুয়েট এসব বাতি তৈরি করে। পরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বুয়েট এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে এ পরীক্ষামূলক সিগন্যাল ব্যবস্থার তদারকি করে।

    জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সংকেত ভঙ্গকারীদের তাৎক্ষণিক জরিমানা করায় আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। তাঁর মতে, আইনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

    দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

    নাঈম রায়হান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল, ডিএনসিসি

    যেসব মোড়ে বসছে নতুন বাতি

    ডিএনসিসির যে ২৮টি স্থানে নতুন ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপন করা হবে, সেগুলো হলো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, গণভবন, মোহাম্মদপুর থানা, কলেজ গেট, টেকনিক্যাল, মাজার রোড, মিরপুর-১, সনি সিনেমা হল, মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মিরপুর-৬, মিরপুর-১৪, আগারগাঁও, আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিকল্পনা কমিশন, গুলশান ক্লাব, গুলশান আজাদ মসজিদ, গুলশান-১, গুলশানের ডোমিনোজ ক্রসিং, পুলিশ প্লাজা, নিকেতন, তেজগাঁওয়ের পুরোনো আড়ং, শান্তা টাওয়ার, তেজগাঁও-মহাখালী লিংক রোড, বিওয়াইডি শোরুম, রেইনবো ক্রসিং এবং হাতিরঝিল-মগবাজার ক্রসিং।

    আর ডিএসসিসির ২২টি আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি-৬, ধানমন্ডি-৭, কলাবাগান, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি-২৭, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, কাকরাইল, বিজয়নগর, ফকিরেরপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, বঙ্গভবন, গুলিস্তান স্কয়ার, জিপিও, পল্টন মোড়, গ্রিন রোড, মগবাজার মোড়, মিন্টো রোড ও অফিসার্স ক্লাব ক্রসিংয়ে নতুন বাতি বসবে।

    নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নতুন সিগন্যালব্যবস্থা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করলে ফলাফল আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যেত। তবে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি প্রয়োজন। পাশাপাশি লেন ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য ট্রাফিক শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে হবে।

    সিগন্যালে এআই ক্যামেরা চালুর কারণে চালকেরা জেব্রাক্রসিংয়ের আগেই থেমে আছেন। রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় ফাইল ছবি

    কাজ শুরু নিয়ে দুই সিটির বক্তব্য

    নতুন সংকেতবাতি স্থাপনের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

    ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম প্রথম আলোকে বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

    অন্যদিকে ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান বলেন, দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

    ঢাকার দুই সিটির ট্রাফিক প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বুয়েট যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

  • ১২ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    ১২ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের সঙ্গে ১২টি দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ ১২টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।

    তিনি বলেন, রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। একইসঙ্গে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগসহ ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের হালাল পণ্যের বাজারে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও এ বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ নীতিমালা, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও অর্থায়নের অভাবে বাংলাদেশ এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

    বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে মাননিয়ন্ত্রণ, সনদ প্রদান, রফতানি ও বিপণন– সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে দেশে হালাল সনদ প্রদানের বর্তমান ব্যবস্থার জটিলতার কথাও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন– দুটি প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ দেওয়ায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান বক্তারা।

    হালাল সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করতে একটি স্বাধীন হালাল সার্টিফিকেশন এজেন্সি গঠনের প্রস্তাবও দেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং রফতানি আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

  • ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস

    ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ২৬টি ভবন ভাঙার ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র প্রশংসা করেছেন দেশটির অতি-উগ্রপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। উত্তর পশ্চিম তীরে এসব ফিলিস্তিনি অবকাঠামো ধ্বংসের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

    স্মোট্রিচ বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বসতি স্থাপন জোরদার করতে এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ, যা দেশের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।’

    তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও (আইসিজে) ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের এমন উপস্থিতি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের রুলিং দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইল পশ্চিম তীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি ও নতুন বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

  • দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ দর ঘোষণা করে বাজুস। একই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত দাম কার্যকর করা হয়।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এর আগে গত ৮ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ৫০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫০ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

    হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে তিনি আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হালাল অর্থনীতিকে এখন আর শুধু খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

    তিনি বলেন, “রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রথমে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম প্রধান শর্ত। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং নতুন বাজার তৈরিতে সহায়তা করবে।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকনির্ভর হলেও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। হালাল অর্থনীতি হতে পারে সেই নতুন সম্ভাবনার অন্যতম বড় ক্ষেত্র।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু খাদ্য নয়, বরং ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্যেও হালাল মানের গুরুত্ব বাড়ছে। এই বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা।

    আলোচনায় উঠে আসে, আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেম বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। দেশটি হালালকে শুধু একটি পণ্য হিসেবে দেখেনি; বরং উৎপাদন থেকে শুরু করে গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, শক্তিশালী কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত, ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প এবং পোশাক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

    সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়—

    ১. আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি করা।

    ২. আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা।

    ৩. বিদ্যমান উৎপাদন খাতগুলোকে আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করা।

    ৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা।

    ৫. অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করা।

    বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

    প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন (লাইভস্টক) বিভাগের উপপরিচালক আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এস এম আবু সাঈদ।

    বক্তারা বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পণ্যের মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা নিশ্চিত করতে পারলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রপ্তানির নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

    এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিকারক নয়, বরং বৈশ্বিক হালাল বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

  • আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, সন্ধ্যা নাগাদ লোডশেডিংও কমে আসবে। তবে জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কবে সমাধান হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

    আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি টার্মিনালও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা যাচ্ছে না। এতে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বললেন, বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিমন্ত্রী বললেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়।

    বর্তমান সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি। যেকোনো সময় দেশকে এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হতো।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকট শুরু হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে মানুষের কাছে পুনরায় ক্ষমা চেয়েছেন।

    তিনি জানান, একটি এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি সীমিত সক্ষমতায় চলায় গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

  • আজ আখেরি চাহার সোম্বা

    আজ আখেরি চাহার সোম্বা

    আখেরি পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। আরবি ও ফারসি বাক্য। এর অর্থ হলো, শেষ। ফারসি ‘চাহার’ শব্দের অর্থ হলো, সফর মাস এবং ফারসি ‘সোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো, বুধবার। এখন অর্থ দাঁড়ায় ‘আখেরি চাহার সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়, সফর মাসের শেষ বুধবার।

    হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার সোম্বা বলে।

    আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আখেরি চাহার সোম্বা।

    সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) প্রচণ্ড অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করলে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান সদকা করেন ও শুকরিয়া আদায় করেন বলে মত পাওয়া যায়। এ জন্য কোনো কোনো দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনে দান সদকাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত পালন করেন। বাংলাদেশে এ দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সরকারি ছুটির তালিকায় একটি ঐচ্ছিক ছুটি উল্লেখ আছে। তবে বাংলাদেশে এ দিবস পালন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা যায়।

    কারো মতে মহানবী (সা.) কোন দিনে সুস্থ হয়েছিলেন, কোন অসুস্থতার পর সুস্থ হয়েছিলেন ইত্যাদি স্পষ্ট করে ইতিহাসে বর্ণিত নেই। আবার মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর কোনো সাহাবি এই দিবস পালন করতেন না। তাই এই দিবস পালনে তারা নিরুৎসাহিত করেন।

    এই দিবস পালন করে থাকেন তারা দুই সময়ের অসুস্থতার কথা বলে থাকেন। কেউ বলেন সপ্তম হিজরিতে মহানবী (সা.)-এর জাদুতে আক্রান্ত হওয়ায় অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    এবং সফর মাসের শেষ বুধবারে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। আবার কেউ কেউ বলেন, মহানবী (সা.) মৃত্যুর আগে যে অসুস্থ হয়েছিলেন সে সময় সফর মাসের শেষ বুধবারে সুস্থতা অনুভব করেন এবং মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। এ সময় হজরত আবু বকর (রা.)-কে ইমামতির দায়িত্ব দেন তিনি। সে বুধবারের পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    মহানবী (সা.) যখন সুস্থ হয়ে মসজিদে আসেন তখন উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম অনেক আনন্দিত হন এবং শুকরিয়া স্বরূপ দান সদকা করেছিলেন। সে ঘটনাকে স্মরণ করে অনেকে সফর মাসের শেষ বুধবারে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পালন করে থাকেন। তবে মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পরে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িদের মধ্যে কেউই কখনো এই দিন উদযাপন করেননি।

    বর্ণিত আছে, আবু বকর (রা.) খুশিতে ৭ হাজার দিনার এবং ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ৫ হাজার দিনার, ওসমান (রা.) ১০ হাজার দিনার, আলী (রা.) ৩ হাজার দিনার, আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) ১০০ উট ও ১০০ ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেছিলেন। এসব বর্ণনা ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ ইত্যাদি বইয়ে বলা আছে। তবে উল্লিখিত কিতাব দুটিতে বর্ণিত ও বহুল প্রচলিত সফর মাসের শেষ বুধবারের বিষয়টিকে ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষকগণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

    তাদের বক্তব্য হলো, মহানবী (সা.) অসুস্থ হওয়ার দিনক্ষণ নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য থাকায় নির্দিষ্ট কোনো দিনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অথচ রসুল (সা.)-এর অসুস্থতাজনিত বর্ণনা অসংখ্য হাদিসে রয়েছে, তবে কোথাও দিন-তারিখ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। তা ছাড়া প্রখ্যাত তাবেয়ি ইবনে ইসহাক বলেন, মহানবী (সা.) যে অসুস্থতায় ইন্তিকাল করেন, সেই অসুস্থতার শুরু হয়েছিল সফর মাসের শেষ কয়েক রাত থাকতে অথবা রবিউল আউয়াল মাসের শুরু থেকে। (ইবনে হিশাম, সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ : ৪/২৮৯)

    এ ছাড়া ইবনে হিশাম বিভিন্ন বর্ণনার আলোকে মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিন ঠিক করেছেন ১৮ সফর থেকে একনাগাড়ে ১৩ দিন পর্যন্ত। (ইবনে হিশাম ৯৯৯) এই মতের মতোই হুবহু পাওয়া যায় ইসলামি বিশ্বকোষের ১৩নং পৃষ্ঠায়।

    শুধু তা-ই নয়, মহানবী (সা.) কোন দিন থেকে অসুস্থ হয়েছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তর মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন শনিবার, কেউ বলেছেন বুধবার এবং কেউ বলেছেন সোমবার। এমনকি কত দিনের অসুস্থতার পর তিনি ইন্তিকাল করেন, সে বিষয়েও রয়েছে মতভেদ। কেউ বলেছেন ১০ দিন, কেউ বলেছেন ১২ দিন, কেউ বলেছেন ১৩ দিন, কেউ বলেছেন ১৪ দিন। এরপর তিনি ইন্তিকাল করেন। (জারকানি/শারহুল মাওয়াহিব-১২/ ৮৩; কাসতালানি, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া : ৩/ ৩৭৩)

    সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, মহানবী (সা.)-এর ওপর জনৈক ইহুদির জাদুর প্রভাব ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে সপ্তম হিজরির মহররম মাসের প্রথম দিকে। এই জাদুর প্রভাব কোনো বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, আর কোনো বর্ণনায় এসেছে ৪০ দিনের কথা। সুতরাং সুস্থতার তারিখ কোনোভাবেই ১১ হিজরির সফর মাসের ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ বা ‘শেষ বুধবার’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত অনেক গবেষক আলেম। (ফাতহুল বারি : ৭/৭৪৮, কিতাবুল মাগাজি : ৪৪৪২, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৪/১৯৩, সিরাতুন নবী, শিবলী নোমানী : ২/১১৩)

    এ কথাও ঠিক নয় যে, বুধবারের পর সুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। বরং এরপর আরেক দিন সুস্থতা বোধ করেছিলেন এবং জোহরের নামাজ আদায় করেছিলেন। (বুখারি ৬৬৪, ৬৮০, ৬৮১; মুসলিম ৪১৮) এমনকি সোমবার সকালেও সুস্থতা অনুভব করেছিলেন, যার কারণে আবু বকর (রা.) অনুমতি নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। (সিরাতে ইবনে ইসহাক ৭১১-৭১২, আর রাওজাতুল উলুফ ৭/৫৪৭-৫৪৮)

    এই দিনটি যদি আমলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতো তাহলে এ দিনটি সম্পর্কে হাদিসে বা সাহাবিদের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতো। আর ধর্মীয় সব রীতিনীতি নির্ভরযোগ্য সনদে পাওয়া না গেলে সেটার অনুকরণ-অনুসরণ উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সেটা শরিয়তে বিদআত এবং নিষিদ্ধ।

    কেননা ইসলামে কেউ যদি নিজের থেকে ভালো মনে করে ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করে সওয়াবের আশায় পালন করে তাহলে সেটা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হয়। কেননা, মহানবী (সা.) বলেন, কেউ যদি এমন কোনো আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭; মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)

  • বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালার খসড়া করছে সরকার

    বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালার খসড়া করছে সরকার

    দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ করতে বেসরকারি খাতে আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’ নামে প্রস্তাবিত নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

    তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জরুরি বা সংকটকালীন সময়ে শুধু সরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকেও কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

    তবে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ।

    বিভাগটি জানিয়েছে, নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। তাদের মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে।

  • ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর ফের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলে ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে—এমন পরিসংখ্যান ও তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার মাধ্যমে।

    তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব না হওয়ায় সামরিক হামলার পথ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না আসায় কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার চেষ্টা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি।

    সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আমি এখনই আগ্রহী নই।’ ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন কৌশলকে ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটির ওপর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি করেছে ইরান। ট্রাম্প এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

    অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল মূলত সামরিক সংঘাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানকে আলোচনায় বসাতে না পারলে ওয়াশিংটনের সামনে আবার সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নটি ফিরে আসতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

  • সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দফতরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা পরিপত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বাস্তবায়ন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাফতরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দফতরে পর্যায়ক্রমে সৌর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কমিশন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।