শিক্ষা ও সাহিত্য

  • মানহীন খাবার সরবরাহের দায়ে গ্রেফতার দুই

    মানহীন খাবার সরবরাহের দায়ে গ্রেফতার দুই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) প্রকল্পে অনিয়ম ও মানহীন পচা খাবার সরবরাহের জড়িত থাকার দায়ে এএফএম আহসানুল হাবিব (৫১) ও মো. নুরুজ্জামান (৪৩) নামে দু’জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৮ জুন) মাদারীপুর পৌরসভার চাঁদমারি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এএফএম আহসানুল হাবিবের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় ও মো. নুরুজ্জামানের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃতরা সমতা ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নষ্ট ও খাবার অযোগ্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের ঘটনায় তাদের ভূমিকা ও দায়-দায়িত্বের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

    উল্লেখ্য, মাদারীপুর সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি স্কুলে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এরপর সরকার এ বিষয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাদারীপুরের জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন। তিনি অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানান।

  • কী থাকবে যুক্ত হওয়া চার নতুন বইয়ে

    কী থাকবে যুক্ত হওয়া চার নতুন বইয়ে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সেখানে নতুন আরও চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে।সেগুলো হলো– আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।

    শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দু’টি চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদেরকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পড়তে হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় দু’টো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা চালু থাকলেও এগুলোর কোনোটিই বর্তমান শিক্ষাক্রমের অংশ না এবং আগেও কখনও ছিল না। কিন্তু ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সবসময় শিক্ষাক্রমে থাকা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেজন্যই সরকার যত শিগগির সম্ভব এই বিষয় দু’টোকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করবে।

    তবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সবগুলো বিষয় প্রথম দিন থেকেই কার্যকর করতে পারবে না সরকার। যেমন, আমরা প্রাথমিকে আটটি খেলা যুক্ত করতে চাই। কিন্তু একবারে এটি সম্ভব না। তাই, আমরা চেষ্টা করবো অন্তর দুই-তিনটি খেলাকে যোগ করতে, বলেন তিনি।

    অর্থাৎ, আপাতত ফুটবল, দাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলো পরে যোগ করা হবে।

    অবশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, ক্রিকেটকেও এখন থেকেই যুক্ত করা যেতে পারে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই। গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা্র মতো বিষয়গুলো থাকবে।

    তবে সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক. পারফরমেটিভ। দুই. এক্সপ্রেসিভ।

    গান, নাচ, বক্তৃতা, পেইন্টিং, সাহিত্য ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা বাছাই করতে পারবে যে সে কোনটি নিবে। পাইলটের পরে এগুলো পরিবর্তন হবে, বলেন ববি হাজ্জাজ।

    পারফরমেটিভ বলতে বোঝানো হচ্ছে যে শিক্ষার্থীরা কোনো শিল্প বা সাংস্কৃতিক কাজ সরাসরি পরিবেশন করবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে অন্যদের সামনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। আর এক্সপ্রেসিভে মঞ্চে পরিবেশনের চেয়ে নিজের ভাবনা বা অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো সৃজনশীলভাবে নিজেকে প্রকাশ করা।

    ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ কী? জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের চোখে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। এই ধারণা ভেঙ্গে আমরা এটিকে মূলধারার শিক্ষায় আনতে চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশের সব স্কুলে যেন একটি করে কারিগরি ল্যাব থাকে।

    এতে করে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাটা সুনিশ্চিত করা যাবে বলে মত তার।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একমাত্র পথ নয়। অনেক শিক্ষার্থী যদি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং স্বাবলম্বী হতে পারবে।

  • একনেক সভায় মাদরাসা শিক্ষকদের ইএফটি বেতন প্রসঙ্গ

    একনেক সভায় মাদরাসা শিক্ষকদের ইএফটি বেতন প্রসঙ্গ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আজকের একনেক সভায় আমাদের মাদরাসা শিক্ষকদের যে প্রকল্পটি রয়েছে, ইএফটিতে বেতন- সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের প্রিভিয়াস বিল আটকে পড়েছিলো সেটা নিয়ে, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের বিল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকমের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সমস্যা আমি কিছু দেখছি না। আমরা সবকিছু দেখেই করছি। স্পেসিফিক কিছু একটা বলেন আমরা সেটা দেখবো।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা সেটা বাদ দেয়া যেতে পারে? এমন কোনো আলোচনা হয়নি এবং আমার জ্ঞাতসারে হয়নি। আমি জানি না এই খবর কোথা থেকে আসলো।

    আমরা কারিগরিকে ইমপোর্ট্যান্ট দিচ্ছি। আমরা মোর সাবজেক্ট যেগুলো মাকের্ট ডিমান্ড রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বাদ পড়বে এই আলোচনা আমরা কোথাও শুনিনি। আমরাও কোথাও করিনি। মাকের্ট ডিমান্ড অনুযায়ী তো রেগুলার কোর্স আমরা ইন্ট্রোডিউস করছি। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ইন্ট্রোডিউস করছি। বাট বাংলাকে বাদ দিয়ে, ইতিহাসকে বাদ দিয়ে এমন কথা তো কোথাও বলা হয়নি।

  • এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে

    এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ডিপিপি অনুমোদিত হইলে আগামী অর্থ-বছর আপনার সংসদীয় আসনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

    নোয়াখালী-৬ আসনের আবদুল হান্নান মাসউদ প্রশ্ন রেখে বলেন, উপকূলীয় দ্বীপ হাতিয়া এই অঞ্চলের পিছাইয়া পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী?

    জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় বর্তমানে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় মোট ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

    এছাড়া উক্ত প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে আরো ১,০০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করার জন্য ডিপিপি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • অনার্স কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: ভিসি

    অনার্স কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: ভিসি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কোনো বিষয় বন্ধের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ ধরনের খবর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

    অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কোনো বিষয় বন্ধের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ ধরনের খবর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনার্স কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলেছেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। মঙ্গলবার (৯ জুন) দৈনিক শিক্ষাডটকমের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি এ কথা বলেন।

    ভিসি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অনার্স কোর্স বন্ধের ব্যাপারে সরকার কিংবা আমাদের কোন সিদ্ধান্ত নেই। তিনি বলেন, অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কোনো বিষয় বন্ধের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ ধরনের খবর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

    দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সনদ নির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতা ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে—এমন খবর আজ মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন একটি খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ের প্রথাগত অনার্স কোর্স বাতিল করে অন্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে।

    খবরে আরও বলা হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি বিদেশি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখকরা হয়।

  • জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে। বাজেটে জনপ্রশাসন, শিক্ষা-প্রযুক্তি এবং ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।

    প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ২৪.০৯ শতাংশ জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫.১৯ শতাংশ। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি জুলাই-আগস্ট থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতো, মোজা এবং স্কুল ব্যাগ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রজেক্টের আওতায় মোট সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তবে কার্যক্রমটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে অন্তত ১ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এসব সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্টের যাত্রা শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি শিক্ষার্থীদের কাছে সামগ্রীগুলো পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রজেক্টের পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই পাইলট প্রজেক্টের আওতায় থাকবে।

    তিনি জানান, পাইলট প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরোদমে সামগ্রী বিতরণ শুরু হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করতে পারেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • আসছে নতুন পাঠ্যবই

    আসছে নতুন পাঠ্যবই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণিশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি নতুন পাঠ্যবই, খেলাধুলা বিষয়ক একটি, অন্যটি সংষ্কৃতি। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারগারি ও বৃতি্তমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।

    সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আরো উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

  • ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শের ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলার পর রোজার আগেই পরীক্ষা শুরু এবং শেষ করার ঘোষণা দিয়েছি। স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে কোনো বিরোধিতার তথ্য নেই তবে, আপনাদের [সাংবাদিক] কাছ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন শুনেছি। একমাস পেছানোর দাবির কথা শুনেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য কোর্স শেষ হওয়ার পরে অহেতুক দেরিতে পরীক্ষা নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট না হয়।

    সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণিশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। য

    আরো উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

    এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এসএসসি এক্সাম তাদের সিলেবাস শেষ হয়ে যাচ্ছে জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে। আমরা চেয়েছি ২০২৭ এর কোনো একটি সময়, হয় রোজার আগে বা রোজার পরে নেয়ার। আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম সেখানে সাজেশন আসছে রোজার আগেই শেষ হয়ে যাক পরীক্ষাটা সেই অর্থে আমরা ৭ জানুয়ারি শুরু করতে চেয়েছিলাম আর ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করতে। বাট ইন দ্য মিনটাইম আপনারা রিঅ্যাক্ট করছেন সেটাও আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা চাচ্ছিলাম পরীক্ষাটা হয়ে যাক এবং অনেকেই চাচ্ছেন। অতএব আপাতত আমরা রুটিও দিয়েছি এবং আশাকরছি এটাই রয়েছে এটাই থাকবে যেহেতু স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

    তিনি বলেন, পরবর্তীতে যদি আপনারা সবাই মনে করেন এক মাস আগানো পিছানোতে আমাদের কিছু যাবে না, বাট ২০২৭ এসএসসি পরীক্ষাকে বেইজড নিয়ে আগামীদিনের সেশনজট এবং ইউনিভার্সিটিগুলো তাদের টাইমলি কোর্স-কারিকুলাম শেষ করতে হবে। অর্থাৎ থ্রি ইয়ারস কোর্স থ্রি ইয়ারসই হবে আর ফাইভ ইয়ারস কোর্স ফাইভ ইয়ারস হবে কোনো রকম ডিলে ওয়েটিং সেশনজট চলবে না। এট দ্যা সেইম টাইম ইন্টারমিডিয়েড পরীক্ষাও একইভাবে সিম্পটোমাইজ করার চেষ্টা করছি যেনো কোনো রকম সময় নষ্ট না হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট টুয়েন্টি জুলাই আউট করবো সেই নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষার রুটিন ও সবকিছু আমরা অ্যানাউন্স করেছি।

  • এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই

    এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই

    শিক্ষো ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    আজ সোমবার ( ৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে সারাদেশের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

  • তুরস্কের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে আলোচনা

    তুরস্কের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে আলোচনা

    বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দপ্তরে তার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধান দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।

    ড. আলি এরজান বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ শিক্ষা খাতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেডাগজিক্যাল পদ্ধতি নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে একমত হন।

  • সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের (এস‌এইচ‌এস‌এমসি) শিক্ষার্থীরা।

    সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

    বিক্ষোভকালে ‘ডাক্তারদের অপমান, মানি না মানব না’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ইন্টার্নদের কর্মবিরতি চলছে চলবে’, ‘ইন্টার্নদের কর্মঘণ্টা বেশি কেন, জবাব চাই চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    সমাবেশকালে মেডিক্যালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহফুজুর রহমান ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা ঘরে ফিরে যাবে না।

    উল্লেখ্য, ৬ দফা দাবি আদায়ে গতকাল রোববার কর্মবিরতি শুরু করেন সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই দিন থেকে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনও চলছে। এ নিয়ে সোমবার (৮ জুন) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আজ কর্মবিরতি শুরু করেছেন পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরাও।

    পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি হলো— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনিদের ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।

  • যশোর শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম। তিনি খুলনার হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের প্রিন্সিপাল পদে কর্মরত রয়েছেন।

    রোববার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফখরুল মাওলা

    পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফখরুল মাওলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে কর্মরত।

    রোববার (৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি: টিআইবি

    মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি: টিআইবি

    (৭ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।

    বিএনপি সরকার গঠনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

    রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।

    শিক্ষাখাত নিয়ে টিআইবি পর্যবেক্ষণে জানায়, ক্ষমতাসীন দলের গুরত্বপূর্ণ পদে থাকা একজনকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন ও প্রভোস্ট পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিবর্তন, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন, সংঘর্ষ ও সহিংসতা। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ইত্যাদি ইস্যুতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র দুইটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘঠনা ঘটেছে।

    টিআইবি জানায়, শিক্ষাখাতে সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির পুনর্গঠন, প্রতি বছর বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি, শিক্ষকদের প্রতিবন্ধি শিশুবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

  • “ইনকিলাব জিন্দাবাদ ”শ্লোগানে মুখরিত

    “ইনকিলাব জিন্দাবাদ ”শ্লোগানে মুখরিত

    ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘জয় ভীম’ স্লোগানে তাকে স্বাগত জানায়।

    ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ করে জানায়, দেশের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘সরাসরি দায়ী’। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার ভোরে দিল্লিতে পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। দিল্লি পুলিশ তাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছে।

    বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের পর অনলাইনে ব্যঙ্গধর্মী আন্দোলন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ যাত্রা শুরু হয়। এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এক শ্রেণির তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন।

    সময়ের সঙ্গে আন্দোলনটি বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির সমর্থন পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক, চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী সোনাক্ষি সিনহা, দিয়া মির্জা, ফাতিমা সানা শেখ সহ অনেকেই।

  • চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা

    চৌগাছায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা

    যশোরের চৌগাছায় সামাজিক সংগঠন জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠনের আয়োজনে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্যাম্পে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।

    শনিবার (৬ জুন) উপজেলার গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠ মাঠ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে যশোর মেডিসিন ব্যাংক বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবারাহ করে।

    এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন। জাগজাপিডা প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

    সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পে যশোরের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেন। এ ক্যাম্পে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর, জামলতা, জাহাঙ্গীরপুর, পিতাম্বরপুর ও হুদাফতেপুর গ্রামসহ বেশকটি গ্রামের সহস্রাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    এতে সভাপতিত্ব করেন জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠনের সভাপতি আশানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিসিন ব্যাংকের সভাপতি ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সুপার হুসাইন সাফায়াত। বিশেষ অতিথি ছিলেন গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল আরিফ শান্তি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস আলী দফাদার, সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ ও যশোর এম এম কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান, গরীবপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম, জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ওরাল ও ডেন্টাল সার্জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা: ইয়াকুব আলী মোল্লা, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা: মাসুম রেজা, সার্জন ও প্রসূতি-স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জিয়াসমীন আক্তার তনিমা, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা: সাইফুর রহমান, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা: জসীম উদ্দীন সরকার এবং শিশু গ্যাস্ট্রো-লিভার, পুষ্টি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: উম্মে জান্নাতুল ফেরদৌস।

    উল্লেখ্য, ২০০১ সালে সিংহঝুলি ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের শিক্ষার্থীদের ঐক্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গঠিত হয় জাগজাপিডা শিক্ষার্থী সংগঠন। জাহাঙ্গীরপুর, গরীবপুর, জামালতা, পিতম্বরপুর ও ডাইনে (হুদাফতেপুর) গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন চৌগাছার সন্তান সাংবাদিক মুরসালিন নোমানী। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিটি এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি

    মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি

    শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মোদি

    ডেস্ক নিউজ:

    ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্কুল সমাপনী পরীক্ষার বোর্ড ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (সিবিএসই)-এর ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষার্থী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল গত ১৩ মে প্রকাশের পর থেকে একের পর এক জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে আসায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে চালুর জেরে ১৭ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

    ৩০ হাজারেরও বেশি স্কুল অনুমোদিত সিবিএসই বোর্ড এ বছর কোটি কোটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) পদ্ধতি চালু করে। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করে ডিজিটাল ইমেজে রূপান্তর করে একটি প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয় এবং পরীক্ষকেরা কম্পিউটারে তা মূল্যায়ন করেন। তবে ঝাপসা স্ক্যান, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার ডাউন এবং সময়মতো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পুরো ফলাফল ব্যবস্থার ওপর সন্দেহের ছায়া নেমে এসেছে।

    পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে সিবিএসই নিয়ম শিথিল করে হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোয়েম্পট এদু তেক’-কে এই কাজের দায়িত্ব দেয়। এই প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক পরীক্ষার খাতা ডিজিটালাইজেশনের দায়িত্বে ছিল ‘গ্লোবারেনা টেকনোলজিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ত্রুটিপূর্ণ ফলের কারণে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করে এবং অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানটিই নাম পরিবর্তন করে ‘কোয়েম্পট এদু তেক’ রাখা হয় এবং তারা সিবিএসই-এর এই কাজের কাজ পায়।

    একাডেমিক ও শিক্ষকেরা ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এবার শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতি ও অবহেলা প্রকাশ্যে এনেছে।

    বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতা পর্যালোচনার আবেদন করার পর দেখতে পান, সিবিএসই তাকে যে স্ক্যান কপি পাঠিয়েছে তা আসলে তার খাতাই নয়, হস্তাক্ষর সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্সে (সাবেক টুইটার) তার এই পোস্ট ১৩ হাজারের বেশি বার শেয়ার হওয়ার পর সিবিএসই ভুল স্বীকার করে এবং ম্যানুয়ালি খাতা দেখে তার ফল সংশোধন করে।

    রাঁচির ১৮ বছর বয়সি তরুণ শিক্ষার্থী সার্থাক সিদ্ধান্ত তার ব্লগে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে দেখান যে, কীভাবে একটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মাবলী পরিবর্তন করে একটি কালো তালিকাভুক্ত বা বিতর্কিত সংস্থাকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।বেঙ্গালুরুর ১৯ বছর বয়সি তরুণ নিসর্গ অধিকারী সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা উন্মোচন করেন। তিনি দেখান যে কীভাবে মাস্টার পাসওয়ার্ড ভেঙে পরীক্ষক হিসেবে সিস্টেমে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সিবিএসই-কে বিষয়টি জানালেও ফল প্রকাশের পর পর্যন্ত তার সমাধান করা হয়নি।

    ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটি কেন্দ্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রণেশ প্রকাশ আল জাজিরাকে জানান, ভারতের সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য গবেষকদের উৎসাহিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ বলেন, ‘এই বিপর্যয় কোনো একক ঘটনা নয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ) জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আগে থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং যেকোনো ধরণের ভিন্নমতের প্রকাশকে এখানে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি এক শিক্ষার্থী খাতার অমিল নিয়ে সরব হলে সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনের এক সঞ্চালক তাকে ‘পাকিস্তানি’ বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে সিবিএসই ভুল স্বীকার করার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

    এই তীব্র বিতর্কের মুখে সরকার গত মঙ্গলবার সিবিএসই-এর চেয়ারম্যান ও সচিবকে অন্য দপ্তরে বদলি করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো একে ‘আসল অপরাধী’ শিক্ষামন্ত্রীকে বাঁচানোর এবং আমলাদের বলির পাঁঠা বানিয়ে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।

    লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের দাবি এখনো একই, শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হোক এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।’

    আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বদলি কোটি কোটি শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষতে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো এবং এর মাধ্যমে সরকার বার্তা দিচ্ছে যে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে পরিবর্তন করবে না।

    এদিকে ফল প্রকাশের পর থেকে সিবিএসই-এর খাতা পুনঃমূল্যায়নের ওয়েবসাইটটি ডাউন থাকায় অনেক অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থী আবেদনও করতে পারছে না, যার ফলে তাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • মাদরাসা শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ

    মাদরাসা শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করেছে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভুল সংশোধন করে নতুন করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ বদলি নীতিমালা জারি করা হয়।

    এর আগে, গত ২ জুন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশিত হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ইনডেক্সধারী সব শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। নীতিমালায় ভাষাগত ভুল থাকায় বিষয়টি সংশোধন করে পুনরায় নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল চালুর আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল চালুর আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের মধ্যে সারাদেশে শিশুদের মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে বলে আস্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা স্কুলে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    বিগত সরকারের সময় শিক্ষার্থীদের ড্রপ আউটের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিলো, বর্তমান সরকার সবার আগে শিশুদের শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে – এ কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে শিশুদের স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করা হবে এবং এ বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষাকে আনন্দময় করতে খেলাধুলাকে কারিকুলামে যুক্ত করা হবে, শিক্ষার্থীরা যাতে হাসতে হাসতে শিখতে পারে সেজন্য সকল পদক্ষেপ নিবে সরকার।

    আজকের শিশুরাই আগামীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    আর প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেন শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমত বিষয় নিয়ে নিজেকে তৈরি করতে পারে।

  • গায়েব মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা!

    গায়েব মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উধাও হয়ে গেছে মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালার প্রজ্ঞাপন। তবে কী কারণে এমন হলো তা জানা যায়নি।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি পাওয়া যায়নি।

    এর আগে এদিন বিকেলে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে।

    কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, টেকনিক্যাল কোনো কারণে এটা হতে পারে। অগামীকাল ফের শিক্ষকরা এ নীতিমালা দেখতে পাবেন।

    এদিকে প্রকাশিত নীতিমালায় বলা হয়েছিলো, শুধুমাত্র এনটিআরসিএ’র সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ নীতিমালার আওতায় বদলি আবেদন করতে পারবেন।

  • মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    নিউজ,

    রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), ওই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মরহুম মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মরহুম কফুর উদ্দিনের ছেলে মো: সাজু মিয়া (৫৫)।

    এছাড়া বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মরহুম সুলতান আলীর ছেলে মো: এরশাদ মিয়া (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি একসাথে অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং ধীরে ধীরে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে রাতেই দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজুর আলীর মৃত্যু হয়।

    ছাত্তার মিয়া নামের অপর একজনের কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে রাখা হয়। এছাড়া আজ সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: সাজু মিয়া নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: মাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের মূলত অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ যাতে ময়নাতদন্ত করাতে না হয়, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: পারভেজ ও মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • খুদে বিজ্ঞানীদের সন্ধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিজ্ঞান মেলা

    খুদে বিজ্ঞানীদের সন্ধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিজ্ঞান মেলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে দেশব্যাপী বিশেষ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ‘পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (পিবিজিএসআই) স্কিমের অধীনে এ আয়োজন করা হবে।

    সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দীপায়ন দাস শুভর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে বাস্তবমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যেকোনো শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এবং তাদের দিকনির্দেশনার জন্য দুজন শিক্ষককে নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। তবে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক দলও অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    এই শোকেসিং বা মেলা তিনটি প্রধান বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগগুলো হলো-স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং ইনোভেশন আইডিয়া।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ জুনের মধ্যে দেশের সব উপজেলা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরের আওতাধীন শিক্ষা থানাগুলোতে এ মেলা আয়োজন করতে হবে। উপজেলা বা থানা পর্যায়ের নির্ধারিত কমিটি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ একটি প্রকল্পকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করবে।

    ২৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দল-যার মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক থাকবেন-সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হবে।

    জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দলগুলোর তালিকা ও হার্ডকপি ২৬ জুনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষরসহ স্ক্যান করে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা (pbgseaward2026@gmail.com)-এ পাঠাতে হবে।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪টি মহানগরী থেকে মোট ৭৫টি দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। এসব দলের সদস্যসংখ্যা হবে মোট ৫২৫ জন। জাতীয় পর্যায়ের মূল আয়োজন আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নির্বাচিত বিজয়ী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হবে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি পুরস্কার গ্রহণ করবে।

    জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর জন্য থাকছে আর্থিক প্রণোদনা। প্রতিটি শিক্ষার্থী ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে পাবে। এই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে সনদ দেয়া হবে।

    অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষক ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে তাদের একটি করে সনদ প্রদান করা হবে।

  • নড়াইলে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    নড়াইলে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    ‘সিটবাণিজ্য ও কোনো নেতার আনুগত্য পাওয়ার আশায় রাজনীতি করবেন না’-জিএস সালাউদ্দিন আম্মার

    নড়াইল প্রতিনিধি
    নড়াইলে ঊষার আলো সূর্য সংঘের আয়োজনে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, সিটবাণিজ্য ও কোনো নেতার আনুগত্য পাওয়ার আশায় রাজনীতি করবেন না। নিজে ব্যক্তিগত ভাবে এগিয়ে যান। এতে নিজের অবস্থান ভালো হবে। নেতার জন্য গলা ফাটিয়ে মিছিল করার দরকার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে শুধু বিসিএস ক্যাডার বা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার আশা করা ঠিক নয়। আগে দরকার একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়ার। কারণ, অনেকে হয়ত বলতে পারেন, ম্যাজিস্ট্রেট হলে সরকারি বেতনের পাশাপাশি সম্মান পাওয়া যায়। আমি এটা সমর্থন করি না। কারণ, একজন ম্যাজিস্ট্রেটকেও অনেক ক্ষেত্রে এইট (অষ্টম) পাস পাতি নেতাকে এক মিনিটে ৪১ বার স্যার, স্যার… সম্বোধন করে উঠে দাঁড়াতে হয়।

    তাই শুধু বিসিএস ক্যাডার বা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট হলেই সবকিছু পেয়ে যাবেন, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। অনেক বেসরকারি চাকরি বা উদ্যোক্তা ম্যাজিস্ট্রেটের চেয়েও বেশি বেতন পান। তাই সবার আগে সবাইকে ভালো ও মানবিক মানুষ হতে হবে। যে যেটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ভালো ভাবে সেইদিকে এগিয়ে যেতে হবে।

    জিএস সালাউদ্দিন আম্মার নবীন ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বিজ্ঞান ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চাসহ সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব ভালো দিক গ্রহণের পাশাপাশি খারাপ দিকও রয়েছে।
    এখানে (বিশ্ববিদ্যালয়) এসে অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়েন। বিপথে চলে যান। তাই সর্তক থেকে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া নবীন বয়সে প্রেমে পড়ে নিজের জীবন নষ্ট করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা ঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিজেকে যোগ্য ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

    ঊষার আলো সূর্য সংঘের সভাপতি তরুণ কবি ও কলাম লেখক মিনহাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাফায়াত উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন-ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ধর্মতত্ত অনুষদের সাবেক ডিন ড. আকবর মাহমুদ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ছায়েম আলী খান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আলমগীর হুসাইন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, প্রকৌশলী গোলাম রাব্বি, সাবিব অটো গ্যালারির স্বত্তাধিকারী আনিসুল আজম, নড়াইলের প্যারাডাইস একাডেমির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু মুসা, বুয়েট শিক্ষার্থী শেখ ইমতিয়াজ, শিক্ষার্থী রাফাত জামিল, ঊষার আলো সূর্য সংঘের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খান মাসুম বিল্লাহ, আমিরুল ইসলাম রানা, আল আমিন মন্ডল, এস এম তন্ময় রেজা, আবির, তাফহিম, মুজাহিদ, বায়েজিদ খন্দকারসহ অনেকে।

    বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদের বাড়ি নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়।

    প্রসঙ্গত সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঊষার আলো সূর্য সংঘ প্রতিবছর নড়াইলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে আসছে।

  • কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদী থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদী থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ডাকাতিয়া নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডুবুরি দল নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে শিহাব হোসেন (১৮) নামে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান।

    নিহত শিহাব হোসেন উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম শিপনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন শিহাব। শুক্রবার দুপুরে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ঘুরতে যান তিনি। পরে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তল্লাশি চালায়। তবে শিহাবের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চাঁদপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে ডাকা হয়। ডুবুরি দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। পরে রাতের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।শনিবার সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের যৌথ উদ্ধার অভিযানে সকালে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • শিক্ষা সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে

    শিক্ষা সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে

    দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টির জন্য সরকার শিক্ষার্থীদের সনদের সমমান নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলমান রয়েছে, যা শিগগিরই কার্যকর করা হবে।

    উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরো জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ক্যারিয়ার সার্ভিস দেয়া, কাউন্সেলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগানকে সমন্বিত করা। প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করে আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা। পাশাপাশি সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

  • পহেলা জানুয়ারিই বই বিতরণ

    পহেলা জানুয়ারিই বই বিতরণ

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অবশ্যই শিক্ষার্থীদের পহেলা জানুয়ারি বই দেয়া হবে। জানুয়ারির ৭ তারিখে এসএসসি পরীক্ষা এর আগেই আমরা বই বিতরণ কার্যক্রম শেষ করবো। শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের গন্ধ নেবেন। বই পড়বেন। পরীক্ষার মাঝে মাঝেই ক্লাসও হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

    এসময় ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়। এ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। আর ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি এ পরীক্ষা শেষ হবে। প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। একইসঙ্গে এইচএসসি ২০২৭ এর প্রস্তাবিত রুটিনও দেয়া হয়। এ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৬ জুন। শেষ হবে ১৩ জুলাই। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আপনারা বলছেন শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি না। শিক্ষায় পরিবর্তন আসতে অনেক সময় লাগবে। আমরা কাজ করছি আপনারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

  • স্কুল ফিডিং: যাচাই করে খাবার নিতে নির্দেশ

    স্কুল ফিডিং: যাচাই করে খাবার নিতে নির্দেশ

    ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের ফিডিং কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রধান শিক্ষককে খাবারের মান যাচাই করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বুঝে নিতে হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। অফিসাররা তাদের আওতাধীন প্রকল্পভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এ চিঠি পৌঁছে দিয়ে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ‘প্রকল্পভুক্ত সকল প্রধান শিক্ষকের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে’ প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাবেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানা যায়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঁচা বনরুটি, পঁচা ডিম, আকারে ছোট ও পঁচা কলা বিতরণসহ নানা প্রকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।

    খাদ্যের মান যাচাইয়ে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে- খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের পূর্বে সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে; নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে (কল অফ বা কার্যাদেশ অনুযায়ী) খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে; খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে; বিশেষ করে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে; প্যাকেজিং অক্ষত, ছিঁড়ে যাওয়া বা আর্দ্রতা মুক্ত এবং পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে।

    প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে; ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান দূষণ আছে কিনা দেখতে হবে; কলা দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে, বেশি পাকা বা পঁচা কলা গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না; ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত, প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।

  • ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

    ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

    দেশের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১০টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    নতুন ভিসি পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. মো. মামুন অর রশিদ।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইন্সটিটিউট অব সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক হিসিবে কর্মরত ছিলেন।

    ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ছিলেন।

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

    এছাড়া জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন ভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।

    নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নবনিযুক্ত উপাচার্যরা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারা তাদের বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর ঘোষণা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর ঘোষণা

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না সরকার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রাজধানীর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক স্তর শেষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে যেন ১০ বছরের বেশি সময় ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে। সেশনজট কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের জীবনে এসএসসি পাস করতে যেন ১০ বছর স্কুলিং ১০ বছরেই থাকে, ১২ বছরে না যায়। কোনো সেশনজট যেন না হয়। তোমরা যেন পিছিয়ে না পড়। সে লক্ষ্যেই আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তোমাদের স্বার্থে যা প্রয়োজন, সেটাই করা হবে।

    শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু জিপিএ-৫-এর কথা বলব না, শিক্ষার্থীরা কী শিখেছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।’

    এর আগে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ-এ ‘নেট জিরো ক্যাম্পাস’ গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৬০০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ‘অন-গ্রিড ওপেক্স মডেল’ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

  • চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজিউল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খুব শিগ্‌গির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিটি ক্যাম্পাসে সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

  • ২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

    ২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

    ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত রুটিন থেকে জানা গেছে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি শুরু হবে ৬ জুন।

    প্রস্তাবিত এ রুটিনটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় কোনো সংশোধনী বা পরিবর্তন করে তাহলে সেগুলো সংশোধন করে রুটিন চূড়ান্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে যৌথভাবে জারিকৃত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

    প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র এবং সহজ বাংলা-১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে। এসএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংগীতসহ অন্যান্য সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সময়সূচি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

    SSC 2027-20260514154406

    এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি

    ৬ জুন সকালে বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসির তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ জুলাই। রুটিন অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিদিন দুটি শিফটে অনুষ্ঠিত হবে; সকালের শিফট সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এবং বিকালের শিফট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। লিখিত পরীক্ষা শেষে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসির সকল বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

    সময়সূচি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

    HSC 2027-20260514154407

    শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই সময়সূচি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে। ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জী অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসাগুলোতে একযোগে এ ছুটি শুরু হবে। তবে শিক্ষার্থীরা কার্যত ২১ মে বৃহস্পতিবার ছুটির আগে শেষ দিনের মত ক্লাসে অংশ নেবেন। ২২ ও ২৩ মে পড়েছে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

    ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ২৪ মে থেকে ৪ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান পুনরায় শুরু হবে ৭ জুন রোববার থেকে। এ হিসেবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের ছুটি পাচ্ছে।

    অন্যদিকে, দেশের সব মাদ্রাসার আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরে ছুটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। পরবর্তী ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৪ জুন রোববার থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষ খুলবে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ২৩ দিনের দীর্ঘ অবকাশ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছে।

    এদিকে, রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদেও টানা সাত দিনের অবকাশ পাচ্ছেন দেশের মানুষ। সরকার ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

    মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা থাকবে।

  • প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য; প্রধানমন্ত্রী

    প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য; প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাও বদলাতে হবে। জ্ঞান এখন আর একক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়েই নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সঠিক পরিকল্পনা ও মেধার সঠিক ব্যবহার করে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, মেধা পাচার রোধ করে দেশের ভেতরেই মেধা লালন ও বিকাশ করতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা কারিকুলাম সময়োপযোগী করে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয় এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে।

    তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন হবে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড’— এই মন্তব্য তুলে ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার বেশি। এর অন্যতম কারণ একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করা।

    সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে যুগোপযোগী করার কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক করতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

    তিনি আরও জানান, সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ দক্ষতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনকে উৎসাহিত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যাবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

    চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিগ ডাটা, ন্যানো টেকনোলজি ও পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। এসব প্রযুক্তি যেমন প্রচলিত চাকরির বাজারে পরিবর্তন আনছে, তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের চর্চা আর একক কোনো বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন ডাটা সায়েন্সের সঙ্গে বায়োলজি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটছে। ফলে জ্ঞানের পরিধি আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে

    বক্তব্যে ব্রিটিশ লেখক ও ডিজিটাল বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট টম উইন-এর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজস্ব ট্যাক্সি নেই, ফেসবুক নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না, আলিবাবার কোনো মজুত পণ্য নেই এবং এয়ারবিএনবির নিজস্ব রিয়েল এস্টেট নেই। তারা মূলত প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’ হিসেবে কাজ করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বর্তমান সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

    বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে, তবে একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধও ধরে রাখতে হবে।

    এ বিষয়ে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পদত্যাগ দিয়ে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত হয়েছে উপউপাচার্য, প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে। ধারাবাহিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে একধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের এই পুনর্বিন্যাস কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ। আর এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

    তিনি জানান, দায়িত্বের একটি পর্যায় শেষ হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য জায়গা করে দেওয়াই সমীচীন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২৭ আগস্ট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার পদত্যাগের পর নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সায়মা হক বিদিশা এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর বিশ্ববিদ্যালয় এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং এই সময়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যৌক্তিক।

    তার পদত্যাগের পর চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)-কে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এদিকে প্রক্টরের পদত্যাগের পরদিনই সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন মোনামীও পদত্যাগ করেছেন। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শুধু শীর্ষ পর্যায়েই নয়, রেজিস্ট্রার ভবনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইতোমধ্যে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা বদলি, পদায়ন এবং নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

    একচেটিয়া রাজনৈতিক মেরূকরণে উদ্বেগ

    এদিকে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনে একচেটিয়া রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একচেটিয়া স্থলাভিষিক্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরূকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, যদি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে আসীন হন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক একটি একমুখী ক্ষমতা কাঠামো গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।

    তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে বহুমাত্রিক মত, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। অন্যথায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    তিনি বলেন, যারা পদত্যাগ করেছেন তারা স্বেচ্ছায় করেছেন এবং কাউকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক প্রশাসনেরই নিজস্ব কাজের ধরন থাকে। যাদের সঙ্গে কাজ করলে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব, তাদেরই বেছে নেওয়া হয়।’

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি, ১৭ দিনে আটক ৩ চোর

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি, ১৭ দিনে আটক ৩ চোর

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন চোর আটক হওয়ায় শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ সংলগ্ন একটি মেয়েদের মেসে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করতে গিয়ে এক যুবক শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন। পরে তাকে প্রক্টরিয়াল বডির হেফাজতে নেওয়া হয়।

    এর আগে, ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের ওয়াশরুম থেকে পানির কল চুরির সময় সালমান রাফি নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন। পরে তাকে ত্রিশাল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    ওই ঘটনার তিন দিন পর, ২২ এপ্রিল একই এলাকায় আবারও চুরি এসে ধরা পড়ে আরেক যুবক। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা ও একাডেমিক ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলছেন তারা।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত টহলের অভাব এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকায় চুরির ঘটনা বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    A M

  • ঢাবির সহকারী প্রক্ট র শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

    ঢাবির সহকারী প্রক্ট র শেহরীন মোনামির পদত্যাগ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়লেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

    সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লেখেন, ‘I have officially resigned from my position as the Assistant Proctor at the University of Dhaka.’

    তিনি জানান, শিক্ষকতা পেশার সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবেননি কখনো।

    তবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ আগস্ট প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের ফোন পাওয়ার পর দায়িত্বটি নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!!

    তিনি আরও লেখেন, একে তো নতুন বাংলাদেশ অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার উপর আমার ডিপার্ট্মেন্টের বড় ভাই -স্যার, আমি মানা করবো!???

    সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, গত ২ টি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছি, কিভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যেকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।

    তিনি আরও লেখেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।

    নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করবো না। আমি জানিও না ট বি ট্রু।

    তিনি লেখেন, আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সাথে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।

    নতুন প্রক্টর ও তার টিমকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, It was an absolute honour to serve with my team and under the leadership of our Proctor Saifuddin Ahmed sir.

    এছাড়া তিনি আরও লেখেন, Congratulations to our new Proctor and his team. Wishing this team all the best in carrying out this significant responsibility

  • আলিমে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়লো

    আলিমে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়লো

    ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের আলিম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় এ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ১৯ মে পর্যন্ত। তথ্য (eSIF) এন্ট্রি চলবে ২১ মে পর্যন্ত।

    রোববার (১০ মে) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    এতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (পরীক্ষা-২০২৭) আলিম শ্রেণিতে যে সব শিক্ষার্থী অনলাইনে কোন মাদরাসায় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেনি, সে সব শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন অত্র বোর্ডের eSIF পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    আলিম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য ফি ৬৮৫ টাকা এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাঠ বিরতি ফি ১৫০ টাকাসহ ৮৩৫ টাকা।

    ফি প্রদান ও eSIF পূরণে যে কোন ব্রাউজার থেকে সরাসরি www.ebmeb.gov.bd তে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের EIIN ও Password দিয়ে লগইন করতে হবে। অত:পর পেমেন্ট অপশনে ক্লিক করে শিক্ষার্থী সংখ্যা এন্ট্রি দিয়ে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত বোর্ড ফি দিতে হবে। নির্ধারিত ফি সিস্টেমে জমা হওয়ার পরই কেবলমাত্র শিক্ষার্থীর তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রির অপশন পাওয়া যাবে এবং সতর্কতার সাথে নতুন এন্ট্রি করা শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এখানে শুধু বিলম্ব ফি দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। আগে এন্ট্রি করা শিক্ষার্থী ডিলেট করার সুযোগ থাকবে না। পূর্বে রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভুল বিভাগ, বিষয় ও ছবি সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।আরো বলা হয়েছে, শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান ও তথ্য এন্ট্রি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য অফিস সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের EIIN ভিত্তিক সিম নম্বর দিয়ে ০১৭১৩-০৬৮৯০৯, ১৫১-৬১১৯৩৬০ যোগাযোগ করতে হবে।

  • পদত্যাগ করেছেন ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ

    পদত্যাগ করেছেন ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ। আজ রোববার দুপুর ২টার দিকে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

    আজ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সমকালকে এ তথ্য জানান তিনি নিজেই। সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে কাজ করেছি। প্রশাসনে ঝুঁকি ছিল সেই ঝুঁকির সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই শান্ত। এখন সবকিছু একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় এসেছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রক্টর হিসেবে অনেক দায়িত্ব; সেই দায়িত্ব থেকে আমি একটু মুক্ত থাকতে চাই। তাই, পদত্যাগ করেছি।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো চাপে নয়; ব্যক্তিগত কারণেই আমি পদত্যাগ করছি।

    এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ অগাস্ট প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।

  • প্রকাশ্যে ধূমপান করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, কলেজছাত্র বহিষ্কার

    প্রকাশ্যে ধূমপান করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, কলেজছাত্র বহিষ্কার

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রকাশ্যে ধূমপান করা এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার কারণে এক কলেজছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) উপজেলার প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো: আবছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র মো: আবিদ হোসাইন কলেজের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে ধূমপান করা এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার কারণে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এছাড়া কলেজের সব শিক্ষার্থীকে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও প্রতিষ্ঠানের সুনামবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশের কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো: আবছার উদ্দিন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের কলেজের সুনাম রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডে ভালো ফলাফল করে আসছে। কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনীতি ও ধূমপান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। একজন শিক্ষার্থী নির্দেশ অমান্য করে ধূমপান করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার কারণে কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

  • শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    পদোন্নতির জটিলতা সিন্ডিকেট সভায় নিরসন না হওয়ায় ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ফের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা।

    রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের পক্ষে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

    বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছিলো।

    তবে শিক্ষক সমাজের দাবি, ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন।

    এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

    শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন।

    কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

    তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    সার্বিক বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

  • কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কামিল মাদ্রাসা সমূহের দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় মোট ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

    এবারের ফলাফলে পরীক্ষার মেধাতালিকায় চূড়ান্ত বর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ছারছীনা দারুসুন্নত কামিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এছাড়াও প্রথম বর্ষে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থানে রয়েছে।

    রোববার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ভাইস-চ্যান্সেলর এর কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

    ফলাফল প্রকাশকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।

    এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউর রহমানসহ পরীক্ষা দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো সনদ ও নম্বরপত্র পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, বর্তমানে এক বছর মেয়াদি কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এ পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

    মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু পরীক্ষা পরিদর্শনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, পরীক্ষা গ্রহণে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব মাদরাসাকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে দ্রুত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে সেশনজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    পর্যন্ত সারাদেশের ১৬৭টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও চূড়ান্ত বর্ষ মিলিয়ে মোট ৪২ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬২২ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম বর্ষে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং চূড়ান্ত বর্ষে ৯৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

    পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

  • আগামী কাল কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    আগামী কাল কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি) পরিচালিত কামিল মাদরাসাগুলোর দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার প্রকাশ করা হবে।

    শনিবার (৯ মে) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় পর্ব-২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষা গত ৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।

    সারাদেশের মোট ১৬৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রায় ৪২ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আল হাদিস, তাফসির, ফিকাহ এবং আদব বিষয়ে কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

  • এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

    এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ জনবল তৈরি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার এই দুই খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হচ্ছে। দুই খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৯২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বেশি

    অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়সীমার মধ্যে শিক্ষা খাতকে শীর্ষে রাখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ব্যয়ের ১০টি খাতের জন্য মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এসব খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই খাতগুলোতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এই তালিকায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের বরাদ্দ ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

    শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের এক সিকিউরিটি গার্ডকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত জুলহাস মিয়া নিজেও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে দাবি করেছেন।

    গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে ২ মে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তালিকায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়ার নাম দেখা যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মেইন গেটে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ‘সম্মানসূচক’ একটি পদ চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় মাস আগে মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে সিভি জমা দেন।

    তবে কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে তিনি কোনো ফেসবুক পোস্টও দেননি।

    ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক-দেড় বছর আগে আক্তার ভাইয়ের কাছে সিভি দিয়েছিলাম। পরে কীভাবে কমিটিতে নাম এসেছে, সেটি আমি নিশ্চিত না। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

    তবে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাসের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “তিনিই জুলহাস। তিনি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সহ-সভাপতি আক্তার জানিয়েছিলেন, তিনি একজন রানিং স্টুডেন্ট।”

    এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন বলেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আমি শুধু সিভি গ্রহণ করেছি। তিনি যে সিকিউরিটি গার্ড, তা জানতাম না।

    একই কথা জানিয়েছেন মহানগর পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার।

    তিনি বলেন, “আমরা তার সিকিউরিটি গার্ড পরিচয় জানতাম না। বর্তমানে ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক না হলেও একাডেমিক সনদ প্রয়োজন হয়। তিনি আমাদের কাছে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।”

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনারা তালিকাটি পাঠিয়ে দিন, বিষয়টি দেখে পরে মন্তব্য করব।”

  • শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে।‌

    তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে।

    শনিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চীন দূতাবাস ও চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন ফোরাম-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এর জন্য আমরা চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধ আরো সুদৃঢ় করতে চাই। সেই সেতুর মূল উপকরণ হবে শিক্ষা।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

    এ সময় ফোরামে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম বদরুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন। বাংলাদেশে শিক্ষাখাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে চায়না–বাংলাদেশ রাউন্ড টেবিল অন গভর্ন্যান্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ বৈঠকে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাসহ সব খাতের উন্নয়নে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে জোর দিচ্ছে। এছাড়া, দেশের জিডিপি’র ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে,যা কার্যকারিতা বিবেচনায় বিনিয়োগ করা হবে। দেশের বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা আরও জোর দিতে চায় সরকার।’

    ই দেশের সুসম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এসম্পর্ক নির্মাণে জোর দিয়েছিলেন। এ সম্পর্ক আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সরকারের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের আশা প্রকাশ করেন। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং যেকোন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সিসিএস একাডেমিক বোর্ড চেয়ারম্যান চেন ডংশিয়াও, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক আ স ম রিদওয়ানুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

  • সিঙ্গাপুরে বুলিং ঠেকাতে স্কুলে ফিরছে বেত

    সিঙ্গাপুরে বুলিং ঠেকাতে স্কুলে ফিরছে বেত

    সিঙ্গাপুরে চালু হয়েছে নতুন স্কুল শৃঙ্খলাবিধি। এই বিধির আওতায় বুলিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ছেলে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নতুন নিয়ম নিয়ে চলতি সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলে শিক্ষার্থীদের এক থেকে তিনবার পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতে পারবে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লী বলেছেন, বেত্রাঘাত হবে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনায় অন্য সব ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হলে’ তখনই এই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেত্রাঘাতের অনুমোদন দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবং এটি কার্যকর করতে পারবেন শুধুমাত্র অনুমোদিত শিক্ষকরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা এবং বেত্রাঘাত তাকে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে ও তার কাজের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে কি না, সেসব বিষয়ও স্কুল বিবেচনায় নেবে।’

    শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে এক বছরের পর্যালোচনার পর এই কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বহুল আলোচিত বুলিংয়ের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

    মন্ত্রী জানান, এই ব্যবস্থা শুধু উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং তার চেয়ে বড় ছেলেরা এর আওতায় পড়বে। তিনি আরো বলেন, সিঙ্গাপুরের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নারীদের বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ‘কল্যাণ ও অগ্রগতি’ পরবর্তী সময়েও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে তাদের কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তা সেবাও দেওয়া হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার, আচরণগত গ্রেড কমিয়ে দেওয়া এবং স্কুলভিত্তিক অন্যান্য শাস্তি’ প্রয়োগ করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরে স্কুল ও বৃহত্তর বিচারব্যবস্থায় শারীরিক শাস্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের দাবি, গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ ঠেকাতে বেত্রাঘাত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

    সিঙ্গাপুরে বেত্রাঘাতের প্রচলন শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। যদিও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য নিজ দেশেই শারীরিক শাস্তি বাতিল করে। অস্ট্রেলিয়াও কয়েক দশক আগে সরকারি স্কুলগুলোতে বেত্রাঘাত বন্ধ করে দেয়। দেশটির কিছু বেসরকারি স্কুলে অবশ্য ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে গিয়ে এই প্রথার অবসান ঘটে।

  • প্রাথমিকের অর্ন্তভুক্তি হচ্ছে ইবতেদায়ি মাদরাসা: গণশিক্ষা মন্ত্রী

    প্রাথমিকের অর্ন্তভুক্তি হচ্ছে ইবতেদায়ি মাদরাসা: গণশিক্ষা মন্ত্রী

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রাথমিকের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ এক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, তবে এই মুহূর্তেই আমরা এই কার্যক্রমটি শুরু করছি না কারণ হলো আমাদের নিজেদেরও গোছানোর আছে। গত কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেক মেরামতের কাজ আছে। এই মেরামতের কাজগুলো হাতে নেওয়ার অগে আরও বড় বড় দায়িত্ব হাতে নেওয়া খুব মুশকিল।

    তিনি আরও বলেন, তাই আমরা আগে একটা একটা করে মেরামতের চেষ্টা করছি। তবে এটুকু নিশ্চিত করছি আগামী দিনগুলোতে আন্ডার টেন ইয়ার ওল্ড সব এডুকেশন আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনব মানে সিমিলার কারিকুলাম স্ট্যান্ডার্ড, সিমিলার স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে আসার কাজ করছি এবং আগামীতে এটা হবে ইনশাআল্লাহ।

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • চৌগাছায় একীভূত শিক্ষা বিষয়ে প্রশিণ

    চৌগাছায় একীভূত শিক্ষা বিষয়ে প্রশিণ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় একীভূত শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশরাফ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বুধবার সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ভবনে এ কর্মশালা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক রহিদুল ইসলাম খান।

    কর্মশালা সঞ্চালনা করেন আশরাফ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী আশিষ কুমার চ্যার্টাজি।

    আলোচনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ , মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ, ফাউন্ডেশনের ফিল্ড ট্রেইনার নজরুল ইসলাম, জোহরা খাতুন প্রমুখ।

    কর্মশালায় উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় মৌলিক আলোচ্য বিষয় ছিল দেশে সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারিরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ,মেধাবী, কম মেধাবী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একই রকম শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা। কর্মশালা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন লিলিয়েন্স ফনডস ও সেন্টার ফর ডিসএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট নামে দুটি সংস্থা।

  • ভূয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

    ভূয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

    বহু বছর ধরে জাল সনদে শিক্ষকতা করে আসা শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের নেয়া টাকা ফেরত ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪৮৭ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে প্রাথমিকভাবে তাদের লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। কেনো এসব জাল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

    বুধবার এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি মাধ্যমিক ও শিক্ষার সব আঞ্চলিক উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের পাঠানোর হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৪৭১ জন জাল, ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ অনুসারে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো ৪৭১ (মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন) জন জাল, ভুয়া সনদধারী তালিকাভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হেয়েছে।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ নীতিমালা জারি করে।

    বিস্তারিত আসছে———-

  • যুদ্ধের কারনে আত্মহত্যায় ঝুকছে ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী

    যুদ্ধের কারনে আত্মহত্যায় ঝুকছে ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী

    ইসরাইলের ভেতরেই এখন ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে এদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীই এখন আত্মহত্যার কথা ভাবছে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের এই অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘ইসরাইল হাইয়োম’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

    এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ ডিউটি বা সংরক্ষিত সেনাদের দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালনকে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। যুদ্ধের ময়দানে ভয়াবহ সব দৃশ্য দেখা, নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং সরকার তাদের ‘ভুলে গেছে’- এমন বোধ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা তৈরি হয়েছে। ফলে তারা বিষণ্ণতা ও একাকীত্বে ভুগছেন। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, তাদের স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে।

    ইসরাইলে আত্মহত্যার ওপর আয়োজিত বার্ষিক এক বিজ্ঞান সম্মেলনে এই গবেষণার তথ্যগুলো উপস্থাপনের কথা রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছেন। এই হার সারা বিশ্বের গড় হারের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য দেশে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষণ্ণতা এবং ১৮ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা দেখা যায়। কিন্তু ইসরাইলি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগুলো আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

    গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা শিক্ষার্থীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থন ও উসকানি, যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে এবং পরোক্ষভাবে এই তরুণ প্রজন্মের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ৭ অক্টোবরের আগে ও পরের পরিস্থিতি তুলনা করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কয়েক গুণ বেড়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের বলি হয়ে ইসরাইলের শিক্ষিত সমাজ এখন এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি

  • রাবিপ্রবির ভিসির কার্যালয়ে তালা

    রাবিপ্রবির ভিসির কার্যালয়ে তালা

    শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে (ভিসি) অপসারণের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ভিসি কার্যালয়ে তালা দিয়েছে ছাত্রদল।

    মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ক্যাম্পাসে ভিসি কার্যালয়ের সমানে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন অর্ণব। এসময় সদস্যসচিব জিশান আহম্মেদ, শরিফ উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন না মেনে নিজের খেয়াল খুশি মত নিজের পছন্দের লোককে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নয় বরং দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে জামায়াতিকরণ করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী শিক্ষকদের বিভিন্ন পদে পদায়নও করেছেন।

    এসব অভিযোগে ভিসির পদত্যাগে আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল।

  • ঢাকা বোর্ডে এসএসসির উত্তরপত্র সংগ্রহে অনীহা

    ঢাকা বোর্ডে এসএসসির উত্তরপত্র সংগ্রহে অনীহা

    পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র সংগ্রহ থেকে মূল্যায়নে সীমাহীন অবহেলা দেখা যায় পরীক্ষকদের মধ্যে। এর খেসারত দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের।

    বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত দিনে উত্তরপত্র সংগ্রহ করেননি ২৩৫ জন পরীক্ষক। তাই তাদের আগামীকাল ৫ মে উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সোমবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলা ১ম পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ই-টিআইএফভুক্ত শিক্ষকদের পরীক্ষক হিসেবে বোর্ড থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। আজ ৪ মে পরীক্ষার উত্তরপত্র গ্রহণ করার জন্য গত ৩০ এপ্রিল বোর্ড থেকে তাদের মোবাইলে এসএমএস দেয়া হলেও উল্লিখিত পরীক্ষকরা অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতি, আপনার প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষকদের আগামী ৫ মে সকাল ১১টার মধ্যে বোর্ডে উপস্থিত হয়ে উত্তরপত্র গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক হাই কোর্টে আটকে আছে, ওদেরকে ‘প্রমোশন’ দিতে পারছি না। আবার ৩২ হাজার নিতে (নতুন নিয়োগ দিতে) পারছি না। এদিকে ৭৭ হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নিতে হবে। কাজ চলছে।

    সোমবার (৪ মে) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন,

    তিনি আরো বলেন, আদালতে (শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাত নিয়ে) প্রায় ১৩ হাজার মামলা আটকে আছে। এই মামলার জট কীভাবে খুলব? মানে কী করা যাবে বলেন? কিছুটা সময় দেন।

    ১৮০ দিনের মধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টাইম ফ্রেইম হচ্ছে ১৮০ দিনের ভেতরে। সবগুলো দেখবেন যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই শুরু হওয়াটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম ধাপ।

    গাছ একবার লাগালে ফল দিতেই থাকবে। আমরা চাচ্ছি যে শুরুতে যেন আমাদের গতিটা বেশি থাকে। আমাদের কর্ম পরিসর যেন অনেক ব্যাপক থাকে। শুরুটা যদি ভালো হয়, তারপর আমরা আস্তে আস্তে শেষের দিকে চাপমুক্ত থাকব।

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পাচ্ছেন ২৮৯৭ শিক্ষার্থী

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পাচ্ছেন ২৮৯৭ শিক্ষার্থী

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩৭ কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৪ মে) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টে আরো জানানো হয়, গত ২৭ জানুয়ারি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

    তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৬৩৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থী, ১৪৩ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, ৩ জন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের শিক্ষার্থী ও ১৫ জন অন্যান্য আবেদনকৃত শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

  • শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যামান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে শেষ করার কাজ চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা
    হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’

    মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে; ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

    দেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন।

    তিনি বলেন, ‘চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।

    প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা ও উদ্ভাবন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয় শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা টিএপিপি তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীনা পক্ষ যৌথভাবে প্রণয়ন করবে।’

    সিফাতুল ইসলাম আরও জানান, টিএপিপি প্রণয়নের পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে পিইসি (প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

    এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আর এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়াও মাউশি থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই তদারকির জন্য একজন কন্টাক্ট পারসন মনোনীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের সাথে চীনা পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হুয়াওয়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুর সফর করেছেন বলে জানিয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে, যা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

  • শিক্ষার মানোন্নয়ন কেন জরুরি

    শিক্ষার মানোন্নয়ন কেন জরুরি

    বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উদ্বেগজনক সংকটের আবর্তে নিপতিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষত বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসমূহ আমাদের চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দিতেছে এক রূঢ় ও অপ্রিয় সত্য। তাহাদের মতে, বাংলাদেশে শিক্ষার হার কাগজে কলমে বৃদ্ধি পাইলেও গুণমানের দিক হইতে পশ্চাৎপদ। ইহা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একজন উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর লব্ধ জ্ঞান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মাত্র সপ্তম শ্রেণির সমতুল্য বলিয়া বিবেচিত হইতেছে। এই যে বিশাল ‘শিক্ষণ ঘাটতি’, ইহাতে জাতির মেরুদণ্ড ভাঙিয়া পড়িবার উপক্রম বলিলে কি অত্যুক্তি হইবে?

    শিক্ষার মানে এই অধোগতির মূলে রহিয়াছে বহুবিধ কারণ। প্রথমত, মানসম্মত শিক্ষার প্রধান অন্তরায় হইল দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের অভাব। ইউনেস্কোর এক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মাধ্যমিক স্তরে দক্ষ শিক্ষকের হারে বাংলাদেশ অবস্থান করিতেছে সর্বনিম্নে। কারণ এই স্তরে ৫৫ শতাংশ শিক্ষক পূরণ করিতে পারিতেছেন না ন্যূনতম দক্ষতার মান। তাহা ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এই সংকটকে করিয়াছে আরও ঘনীভূত। দ্বিতীয়ত, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আজ কেবল ‘সার্টিফিকেট’-সর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছে। পরীক্ষার জন্য পড়া নাকি পড়ার জন্য পরীক্ষা-ইহাই হইয়া উঠিয়াছে বড় প্রশ্ন। একমুখী শিক্ষার অভাবে তৈরি হইয়াছে বিশৃঙ্খলা। বেসরকারিকরণের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবন করিতে না পারিবার কারণে বৃদ্ধি পাইয়াছে ইহার বাণিজ্যিকীকরণ। সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় তৈরি হইয়াছে অব্যবস্থাপনা। বেসিক শিক্ষা বলিতে গেলে আজ খুবই অবহেলিত। আগের মতো শিক্ষকদের শিখানোর প্রতি আগ্রহ ও আন্তরিকতা তেমন নাই। বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপর চাপ ক্রমবর্ধমান। কোচিং, প্রাইভেট টিউটর দিয়াও কুলানো যায় না; কিন্তু কেন, সেই প্রশ্ন কি কেহ করিতেছেন? শিক্ষাবাণিজ্যের কদর্য রূপ লক্ষণীয়। আদর্শ শিক্ষকের সংকট সর্বত্র। ইহা ছাড়া জীবনমুখী ও বাস্তবধর্মী শিক্ষা অনেকটাই অনুপস্থিত। শিক্ষার্থীরা ঘুরপাক খাইতেছে জিপিএ-৫ লাভের গোলকধাঁধায়। ফলে উচ্চশিক্ষিত বেকারগোষ্ঠী গড়িয়া উঠিলেও কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হইতেছে না দক্ষ জনশক্তি।

    শিক্ষাব্যবস্থার এই কাঠামোগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যর্থতা হইতে উত্তরণ আজ সময়ের দাবি। প্রথমত, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করিয়া মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হইবে। নিশ্চিত করিতে হইবে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখী ও ৯০ শতাংশ সরকারি করা উচিত। মাত্র ১০ শতাংশ থাকিতে পারে বেসরকারি ও দাতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা মনে করি, শিক্ষকের মানোন্নয়নই শিক্ষার মানোন্নয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ পথ। তাই তাহাদের মানসম্মত বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতির সংকীর্ণ গণ্ডি হইতে মুক্ত করিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে আনিতে হইবে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেন শিক্ষানীতি বা পাঠ্যসূচির আমূল পরিবর্তন না ঘটে, তাহা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যদক্ষতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করিতে হইবে।

    চতুর্থত, শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে একটি সুদৃঢ় সংযোগ স্থাপন করিতে হইবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এখন অনিবার্য হইয়া পড়িয়াছে। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মান তদারকির মাধ্যমে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান সুসংহত করিতে হইবে।সত্যি বলিতে কি-বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়াইয়া আছে। কেবল পাশের হারের ‘সস্তা পরিসংখ্যান’ দিয়া জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নহে। আমাদের এই কথা অনুধাবন করিতে হইবে যে, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গুণগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। মূলত আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা হইতে হইবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও জীবনব্যাপী শেখার সুযোগ প্রদানকারী। কারিকুলামকে আউটকাম ও কমপিটেন্সি বেজড করিয়া শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়ক করিয়া তুলিতে হইবে।