শিক্ষা ও সাহিত্য

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে এনএস১ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএস১ পরীক্ষা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এদিকে, বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করেছে। মশাবাহিত এই রোগে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • এমপিও শিক্ষকদের জাতীয়করণসহ ৮ দাবি

    এমপিও শিক্ষকদের জাতীয়করণসহ ৮ দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈষম্য নিরসনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান সচেতন শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য দূর করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

    আটটি দাবি হলো- শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তিকরণ, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকদের প্রেষণে নিয়োগ বন্ধকরণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আওয়ামী দোসরদের অপসারণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি না করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থাকরণ এবং শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া প্রদান এবং কল্যাণ-অবসরের টাকা দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. মোকলেছুর রহমান, মোল্লা নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল হক, আব্দুল আউলিয়া, প্রভাষক হালাদার আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, অধ্যাপক আব্দুল মফিজ, মো. বোরহান উদ্দিন, শাহাজ পারভীন, এএইসএম সাইদুজামন, মো. আজিজুল হক রাজা প্রমুখ।

  • মাধ্যমিকেও ‘মিড–ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা, শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস

    মাধ্যমিকেও ‘মিড–ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা, শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিকের পর এবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ঝরে পড়া রোধ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড ডে মিল’ এবং বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও মোজা বিতরণ কর্মসূচি। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ শিরোনামে বিশাল এই স্কিমটি হাতে নিয়েছে।

    জানা গেছে, দেশের পিছিয়ে পড়া ১ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছর থেকেই এই কর্মসূচি চালু হবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে উপকৃত হবে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী।

    উদ্যোগটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখলো শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কার্যক্রমে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ ওঠায় কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খাবারের মান তদারকি করতে গিয়ে অনেক শিক্ষককেই বাড়তি মানসিক ও কাজের চাপ পোহাতে হচ্ছে। তাই মাধ্যমিক স্তরে এই কর্মসূচি সফলভাবে চালুর ক্ষেত্রে আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং একটি কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মাউশি সূত্রের খবর, জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতায় এই নতুন স্কিমটি চালু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় স্কিমটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এর দলিল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই স্কিমটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও ধরে রাখার হার বাড়াতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই এই স্কিমের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণের সমন্বিত বিকাশ ঘটিয়ে তাদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয়ে একটি স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের প্রধান কাজ।

    আরও বলছেন, স্কুল ড্রেস ও মিড ডে মিলের পাশাপাশি কমন রুম তৈরির কারণ হলো আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলোয় অনেক দূর থেকে শিক্ষার্থীরা আসে। অনেক সময় বৃষ্টিতে ভিজে যায় আবার কখনো দূর থেকে হেঁটে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই স্কুলে এসে যাতে একটু বিশ্রাম নিতে পারে, সেজন্য কমনরুম তৈরি করা হয়েছে। আর সরকার আনন্দময় শিক্ষার পাশাপাশি ডিভাইস-নির্ভরতা কমাতে সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে চায়। এজন্য খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কিছু নির্ধারিত ক্লাসে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকছে।

    সূত্রমতে, সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। অর্থাৎ চলতি জুলাই থেকে ২০৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার এক হাজারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে দুপুরের খাবার। জনপ্রতি একজন শিক্ষার্থীর খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হবে ১২০ টাকা। এতে মোট খরচ হবে ২ হাজার ৮৭২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর এসব স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার টাকা দামে বছরে দেওয়া হবে দুই সেট স্কুল ড্রেস, আর দেড় হাজার টাকা দামের এক জোড়া জুতা ও মোজা। এতে পাঁচ বছরে স্কুলে ড্রেসের পেছনে ৪১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জুতা-মোজার পেছনে ব্যয় হবে ১৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। বাকি টাকা খরচ হবে কমনরুম, স্বাস্থ্য উপকরণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ আনুষঙ্গিক খাতে। তবে এসব বরাদ্দ অনুমান করে ধরা হয়েছে, তা বাড়তে বা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    স্কিমটির অগ্রগতি সম্পর্কে মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, ইতিমধ্যে স্কিমটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই আরেকটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই মাঠপর্যায়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা। এজন্য শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, দুপুরে পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার, বিশ্রামের জন্য পৃথক কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসিমুখে বিদ্যালয়ে আসে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে যে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব দ্রুতই স্কিমটি অনুমোদন পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • এইচএসসিতে ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

    এইচএসসিতে ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রথমবারের মতো শিক্ষাবোর্ডগুলোর মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা থেকে বিপুল শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে গত রোববার মাধ্য্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেলের সভাপতিত্বে সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সরাসরি ও জুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

    জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, গত অধিদপ্তরে সব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নয়টি সাধারণসহ মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে দৈব চয়নের ভিত্তিতে সারাদেশের মোট ২৬০টি প্রতিষ্ঠান এই গবেষণার আওতাভুক্ত হবে। আগামী সপ্তাহে এই গবেষণা শুরু হতে পারে।

    তিনি বলেন, ঝরে পড়া পরীক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হবে। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও গবেষণায় অংশ নেবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)।

    জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ঝরে পড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রথমবারের মতো শিক্ষাবোর্ডগুলোর উদ্যোগে এইচএসসি ও সমমানের বিপুল পরীক্ষার্থীর অংশ না নেওয়া বা ঝরে পড়ার প্রকৃত কারণসমূহ চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে এ বছর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই হার অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

    গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গত বছর নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি।

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ বছর এই বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি পরীক্ষার জন্য ফরমই পূরণ করেননি।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ইদানীং পাবলিক পরীক্ষায় ফরম পূরণ করার পরেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী বাড়ছে। যেমন গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগের বছর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী।

    শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এ প্রবণতার উল্লেখযোগ্য কারণ।

    সম্প্রতি সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এই দুর্বলতাগুলো বের করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।

  • যশোর বোর্ডে ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২,৫২৩

    যশোর বোর্ডে ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২,৫২৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশেষ প্রতিনিধি॥ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি ইংরেজি প্রথম পত্র (১০৭) আবশ্যিক পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বনের দায়ে দুই জন বহিষ্কার হয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া

    যায়নি।

    এ দিন পরীক্ষায় দুই হাজার ৫২৩ জন অনুপস্থিত ছিল। যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১০ জেলায় ২৪০টি কেন্দ্রে ৫৭৫টি কলেজের এক লাখ ১১ হাজার ২৫৪ জন পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা হলে উপস্থিত ছিল এক লাখ ৮ হাজার ৭৩১ জন। ফলে অনুপস্থিত ২৫২৩ জন। অনুপস্থিতির হার ছিল ২.২৭ শতাংশ। গতবছর এদিন অনুপস্থিত ছিল ১৯০৬ জন, গতবারের চেয়ে অনুপস্থিতির হার বেশি। গতবার অনুপস্থিতির ছিল ১.৬২ শতাংশ।

    এদিকে পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বনের দায়ে দুই জনকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদের একজন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়, তার রোল দর্শনা-২৮১-২০৯৩৪৩ এবং অন্যজন মাগুরার। তার রোল মাগুরা -৩৪৩-২৫৬৩৬৮।

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুুল মতিনের দপ্তর সূত্রে এ বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

  • প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন

    প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন

    চীন একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এর আগে এই অঞ্চলের দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছিল যে, চীন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে। এরপরই এ সোমবার এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করল চীন।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতার বিরল প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রভাবশালী।

    চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন প্রশিক্ষণধর্মী সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত জলসীমায় সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানে।

    তিনি বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

    তবে এ উৎক্ষেপণের তীব্র সমালোচনা করেছে অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে জাপান জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ না করার জন্য তারা চীনকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

    একই দিনে চীনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ছিংদাও উপকূলে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌমহড়া শুরুর কথা ছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত চীনের কাছে ৫০০টিরও বেশি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে গভীর রাতে পাথর বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুইবোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বড়বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সেতু (১৪) এবং আহত ছোটবোন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু (১২) আহত হয়েছে। তারা স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নলদী গ্রামের কাঁচামাল দোকানি হাফিজুর মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতুু রোববার রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুলে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি হাফিজুল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বসতঘরের উপর আচড়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকের পাথরগুলো সেতু ও মিতুর গায়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

  • জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

    এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।

  • ক্যাডেট কলেজের আদলে হবে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    ক্যাডেট কলেজের আদলে হবে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    শিক্ষা ডেস্ক:
    ক্যাডেট কলেজের আদলে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হবে আবাসিক এবং তাতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

    সরকারের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। ‘নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে।

    দেশে এখন পুরোপুরি আবাসিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। অল্প কিছু পুরোনো স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রাবাস রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে অনেক আবাসিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। সেগুলোর সংখ্যা কত, সে হিসাব পাওয়া যায়নি।

    ক্যাডেট কলেজ আছে ১২টি। তার মধ্যে ৯টি ছেলেদের এবং ৩টি মেয়েদের। ক্যাডেট কলেজ আবাসিক। সেখানে সপ্তম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পড়াশোনা হয় এইচএসসি পর্যন্ত।

    শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করছেন, সরকারিভাবে আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এর মাধ্যমে স্বল্প ও সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তানদের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে; কিন্তু কোথায় কোথায় এ ধরনের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, সেটির সমীক্ষা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের মতো হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল কিংবা দুর্গম ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকা এবং জনবহুল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আবাসিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে তা ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

  • হোয়াটসঅ্যাপের  তথ্য চুরি, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

    হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য চুরি, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

    ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর কারণে প্রতারকদেরও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে এই অ্যাপ। ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং লিংক, লটারির প্রলোভন কিংবা বিনিয়োগের নামে প্রতারণার মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। অনেক সময় এক ক্লিকেই আপনার তথ্য আর ব্যাংকের টাকা গায়েব হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহজনক বার্তা চেনার কয়েকটি সহজ উপায় জানা থাকলে অধিকাংশ প্রতারণাই এড়ানো সম্ভব।

    অচেনা কোনো নম্বর থেকে হঠাৎ বার্তা এলে সেটিকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখুন। বিশেষ করে যদি বার্তায় প্রশংসা, আকর্ষণীয় চাকরির অফার, মোটা অঙ্কের আয়ের প্রতিশ্রুতি বা জরুরি সাহায্যের কথা বলা হয়। প্রতারকেরা অনেক সময় ভুল নম্বরে বার্তা পাঠানোর ভান করে কথোপকথন শুরু করে। আবার কখনও নিজেদের নিয়োগকারী বা পরিচিত কারও বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। উদ্দেশ্য একটাই বিশ্বাস অর্জন করে পরে প্রতারণা করা। এ ধরনের বার্তার জবাব না দিয়ে নম্বরটি ব্লক ও রিপোর্ট করাই নিরাপদ।

    প্রতারকেরা এমন অনেক ওয়েবসাইট তৈরি করে, যা দেখতে ব্যাংক, সরকারি দপ্তর, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বা জনপ্রিয় অ্যাপের আসল ওয়েবসাইটের মতোই লাগে। অপরিচিত কারও পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। পরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংক হলেও আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বা ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলে না। প্রায় সময় ব্যাংক থেকে বলা হয় তারা কখনো এখন টেক্স করে না।

    কোনো ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বৈধ সেবাদাতা সংস্থা কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে ওটিপি চায় না। ওটিপি অন্য কাউকে জানিয়ে দিলে আপনার ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। একইভাবে কেউ যদি কলের সময় স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, তাতেও রাজি হবেন না। স্ক্রিন শেয়ার করলে আপনার ফোনে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপ, পাসওয়ার্ড, ওটিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তি দেখতে পারে।

    পরিচিতের বেশ ধরে টাকা চাইলে সাবধান

    সম্প্রতি একটি প্রতারণার কৌশল বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারকেরা নতুন নম্বর থেকে পরিবারের সদস্য যেমন ছেলে, মেয়ে বা ভাই-বোন পরিচয়ে বার্তা পাঠায়। এরপর জরুরি সমস্যার কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনুরোধ করে। এ ধরনের বার্তা পেলে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তির পরিচিত নম্বরে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।

    সন্দেহজনক নম্বর হলে রিপোর্ট করুন

    হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহজনক নম্বর রিপোর্ট করা খুবই সহজ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট চ্যাট খুলে উপরের নামের ওপর চাপ দিন। এরপর নিচে স্ক্রল করে ‘রিপোর্ট’ অপশন নির্বাচন করুন। চাইলে একই সঙ্গে নম্বরটি ব্লকও করতে পারবেন। রিপোর্ট করলে প্রেরক কোনো নোটিফিকেশন পায় না। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বার্তা হোয়াটসঅ্যাপের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়, যা প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

    নিরাপদ থাকতে সেটিংসে পরিবর্তন

    বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসিটড গিয়ে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস এবং সর্বশেষ অনলাইনের তথ্য শুধু পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য দৃশ্যমান রাখুন। এছাড়া কলস অপশনে গিয়ে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ সুবিধা চালু করলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বিরক্ত করবে না। সবশেষে ‘অ্যাকাউন্ট’ থেকে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে ছয় সংখ্যার একটি পিন সেট করুন। এতে কেউ আপনার নম্বর অন্য ডিভাইসে নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর কাজ করবে।

    হোয়াটসঅ্যাপে হ্যাক কিংবা এ থেকে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত হ্যাকাররা নতুন কৌশলে এসব করে যাচ্ছে। তাই সচেতন থাকার থেকে বড় সুরক্ষা আর কিছুই না।
    হোয়াটসঅ্যাপের এক ক্লিকেই তথ্যসহ টাকা চুরি, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

    ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর কারণে প্রতারকদেরও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে এই অ্যাপ। ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং লিংক, লটারির প্রলোভন কিংবা বিনিয়োগের নামে প্রতারণার মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। অনেক সময় এক ক্লিকেই আপনার তথ্য আর ব্যাংকের টাকা গায়েব হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহজনক বার্তা চেনার কয়েকটি সহজ উপায় জানা থাকলে অধিকাংশ প্রতারণাই এড়ানো সম্ভব।

    অচেনা কোনো নম্বর থেকে হঠাৎ বার্তা এলে সেটিকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখুন। বিশেষ করে যদি বার্তায় প্রশংসা, আকর্ষণীয় চাকরির অফার, মোটা অঙ্কের আয়ের প্রতিশ্রুতি বা জরুরি সাহায্যের কথা বলা হয়। প্রতারকেরা অনেক সময় ভুল নম্বরে বার্তা পাঠানোর ভান করে কথোপকথন শুরু করে। আবার কখনও নিজেদের নিয়োগকারী বা পরিচিত কারও বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। উদ্দেশ্য একটাই বিশ্বাস অর্জন করে পরে প্রতারণা করা। এ ধরনের বার্তার জবাব না দিয়ে নম্বরটি ব্লক ও রিপোর্ট করাই নিরাপদ।

    প্রতারকেরা এমন অনেক ওয়েবসাইট তৈরি করে, যা দেখতে ব্যাংক, সরকারি দপ্তর, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান বা জনপ্রিয় অ্যাপের আসল ওয়েবসাইটের মতোই লাগে। অপরিচিত কারও পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। পরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংক হলেও আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বা ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলে না। প্রায় সময় ব্যাংক থেকে বলা হয় তারা কখনো এখন টেক্স করে না।

    কোনো ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বৈধ সেবাদাতা সংস্থা কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে ওটিপি চায় না। ওটিপি অন্য কাউকে জানিয়ে দিলে আপনার ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। একইভাবে কেউ যদি কলের সময় স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, তাতেও রাজি হবেন না। স্ক্রিন শেয়ার করলে আপনার ফোনে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপ, পাসওয়ার্ড, ওটিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তি দেখতে পারে।

    পরিচিতের বেশ ধরে টাকা চাইলে সাবধান

    সম্প্রতি একটি প্রতারণার কৌশল বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারকেরা নতুন নম্বর থেকে পরিবারের সদস্য যেমন ছেলে, মেয়ে বা ভাই-বোন পরিচয়ে বার্তা পাঠায়। এরপর জরুরি সমস্যার কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনুরোধ করে। এ ধরনের বার্তা পেলে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তির পরিচিত নম্বরে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।

    সন্দেহজনক নম্বর হলে রিপোর্ট করুন

    হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহজনক নম্বর রিপোর্ট করা খুবই সহজ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট চ্যাট খুলে উপরের নামের ওপর চাপ দিন। এরপর নিচে স্ক্রল করে ‘রিপোর্ট’ অপশন নির্বাচন করুন। চাইলে একই সঙ্গে নম্বরটি ব্লকও করতে পারবেন। রিপোর্ট করলে প্রেরক কোনো নোটিফিকেশন পায় না। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বার্তা হোয়াটসঅ্যাপের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়, যা প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

    নিরাপদ থাকতে সেটিংসে পরিবর্তন

    বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসিটড গিয়ে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস এবং সর্বশেষ অনলাইনের তথ্য শুধু পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য দৃশ্যমান রাখুন। এছাড়া কলস অপশনে গিয়ে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ সুবিধা চালু করলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বিরক্ত করবে না। সবশেষে ‘অ্যাকাউন্ট’ থেকে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে ছয় সংখ্যার একটি পিন সেট করুন। এতে কেউ আপনার নম্বর অন্য ডিভাইসে নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর কাজ করবে।

    হোয়াটসঅ্যাপে হ্যাক কিংবা এ থেকে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত হ্যাকাররা নতুন কৌশলে এসব করে যাচ্ছে। তাই সচেতন থাকার থেকে বড় সুরক্ষা আর কিছুই না।
    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • র‍্যাগিংয়ের দায়ে জাবির ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

    র‍্যাগিংয়ের দায়ে জাবির ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৫৪তম ব্যাচের ১২ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করেন। এই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫(ঙ) ধারায় বর্ণিত ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যে কোনো জায়গায় টিজ, র‍্যাগিং, নির্যাতনমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা যাবে না’ নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ফলশ্রুতিতে, উক্ত অধ্যাদেশের ৪ (১) (খ) ধারা মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—সুভাশীষ রায় প্রান্ত, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. আবু আবতাহী অনিক, নাঈমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাঈম আহমেদ সজিব।

    উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন নবীন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানার পর প্রক্টরিয়াল টিম তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৫৪তম ব্যাচের ওই ১২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং অভিযুক্তরাও লিখিতভাবে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

  • লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া চলমান রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। আর এই পরীক্ষার মধ্যেই চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।

    ভোলার লালমোহনে প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে।

    মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান, শান্ত বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস হলেই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের পড়ালেখায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

    মিজানুর রহমান, আবু তাহের ও নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ভোলাবাসী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে লালমোহনে লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কিন্তু ঠিকমতোই আসছে। তবে বিলেও রয়েছে নানান অসঙ্গতি। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

    বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। এই কারণে পরীক্ষার সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত দুই দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন লাইনে ফল্ড হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক করার জন্য। একটানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ছে। বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ার মাটি নরম হয়ে গাছ পরে যাওয়াও একটি কারণ। তাছাড়া এমনিতে কোনো লোডশেডিং নেই।

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

    শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন রয়েছেন।

    এ সময় ১৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩০ জন।

    চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ শতাংশ নারী। এই বছর ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ।

    খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা তাদের লাশ উদ্ধার করে।

    তারা হলেন-টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আফনান (১১) এবং আনিছুর রহমানের ছেলে শামীম মিয়া (১৩)। তারা টঙ্গী সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

    টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসসূত্র জানায়, বেলা এগারোটার দিকে খেলাধুলা শেষে মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় তুরাগ নদে গোসল করতে নামেন তিন বন্ধু শামীম, আফনান ও শীপন। এসময় সাঁতার কাটতে গিয়ে আফনান ও শামীম তুরাগ নদের পানিতে তলিয়ে যায়। শীপন দ্রুত তুরাগ নদ থেকে উঠে চিৎকার করে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে দুইছাত্রকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এবিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদ থেকে দুইস্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে।

    এব্যাপারে নদীবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

    যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এসএসসি বাংলা (আবশ্যিক) ২য় পত্র পরীক্ষায় ২০০৯ জন পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি ও ২ জনের বহিষ্কার কেবল একটি দিনের পরিসংখ্যান নয়—এটি বড় এক বাস্তবতার ইঙ্গিত। ২৯৯টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে অংশ নেয় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬২ জন, যা অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও অনুপস্থিতির সংখ্যা উদ্বেগ তৈরি করছে।

    এই পরিস্থিতিকে সাম্প্রতিক সময়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্ন, এবং শিক্ষার্থীদের রাজপথমুখী কর্মসূচি শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়জুড়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, এমনকি অটো পাসের মতো সিদ্ধান্ত—এসবের প্রভাব শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব ও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিনের পড়াশোনার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। ফলে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে দ্বিধায় পড়ছে বা প্রস্তুতির অভাবে অনুপস্থিত থাকছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে অসদুপায়ের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে, যার প্রতিফলন বহিষ্কারের ঘটনায় দেখা যায়।

    পরিসংখ্যান বলছে, খুলনায় ১৮ হাজার ২৫১, যশোরে ১৮ হাজার ৫৭১, কুষ্টিয়ায় ১৬ হাজার ৩৫১সহ বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকলেও অনুপস্থিতির এই বড় সংখ্যা শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতাকে সামনে আনছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার মান, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষতা—সবকিছুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তাই কেবল পরীক্ষা নেওয়াই নয়, শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    ইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা প্রথমদিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারা দেশে অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ হাজার ৩২৭ জন।

    এদিন অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে প্রথমদিনের পরীক্ষায় বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল সাতজন। সে হিসাবে দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

    শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানায়।এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্র, মাদরাসায় সাধারণ বিভাগে আরবি প্রথমপত্র এবং বিজ্ঞা

    ন ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগে আরবি সাহিত্য ও কারিগরিতে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে রাজশাহী বোর্ডে একজন, কুমিল্লা বোর্ডে দুজন, বরিশাল বোর্ডে দুজন, দিনাজপুর বোর্ডে একজন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন বহিষ্কার হয়েছেন। ঢাকা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন। তাদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৯ জন।

    মাদরাসা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় মোট ৮৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ২০২ জন। এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী।

    অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৮৩ হাজার ২৬৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৮৬ জন। সেখানে বহিষ্কার হয়েছেন তিনজন পরীক্ষার্থী।

  • মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

    মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ শতাংশের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদই খালি পড়ে আছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট ১৫ হাজার ২৯৩টি। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ, প্রায় ১৮.৫৮ শতাংশ পদে কোনো শিক্ষক নেই।

    শিক্ষক সংকটের এই চিত্র কেবল সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই নয়, বিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ প্রশাসনিক পদেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে ৩৮৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষকের এই শূন্য পদের পাশাপাশি সহকারী প্রধান শিক্ষকের আরও ২৪৯টি পদ খালি পড়ে আছে।

    দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা না নিলে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

    নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি সরকার। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার সব স্তরে জোর দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা বেশি জোর পাবে। শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন অনেক হয়েছে। এখন দরকার গুণমান বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভালো শিক্ষক।

    দেশের শিক্ষা খাতে বিগত বছরগুলোতে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রচুর হলেও, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ইটের ওপর ইট গেঁথে ভবন নির্মাণ বা ভৌত অবকাঠামো বাড়ালেই শিক্ষার মান বাড়ে না; বরং শিক্ষার আসল মান বাড়াতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।

  • শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় বসছেন সুমাইয়া

    শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় বসছেন সুমাইয়া

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা দেওয়ার পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি সুমাইয়া আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী। এ সংক্রান্ত অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেন। একইসঙ্গে মন্ত্রী দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরইমধ্যে সুমাইয়ার ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে তিনি নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে ওই শিক্ষার্থীকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। আগের দিন বুধবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    সুমাইয়া আক্তার উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ওবাইদুল হক বাবুর মেয়ে। তিনি চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

    শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা নেই। ভাই অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়ালেখা করাচ্ছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল। আমি কী করব বুঝতে পারছি না।

    তিনি আরও বলেন, আমার কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়ার পরও কলেজ কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণের সময় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল করেছে। এ কারণে প্রবেশপত্র পাইনি।

    পরীক্ষাকেন্দ্র সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে জানতে চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দ্রুত লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবিরের অপচেষ্টা

    ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবিরের অপচেষ্টা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির, সুপারিশ ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটি একই সঙ্গে সাদা দল স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং মেধা, যোগ্যতা, সততা ও প্রচলিত বিধিবিধানের ভিত্তিতেই সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে তারা বিশ্বাস করে।

    আজ শুক্রবার ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানান।

    এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু ব্যক্তি সাদা দল এবং সাদা দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম ব্যবহার করে ঢাবি প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যক্তিগত তদবির, সুপারিশ এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাবি সাদা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, এসবের সাথে সাদা দলের কোনো সম্পর্ক নেই। সাদা দল কখনোই কোনো অনৈতিক আবদার বা সুপারিশ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এ ব্যাপারে সাদা দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারা বলেন, ঢাবি সাদা দল প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, গবেষণা-সুযোগ, বৃত্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একমাত্র মেধা, যোগ্যতা, সততা, স্বচ্ছতা ও প্রচলিত বিধিবিধানকে মানদ- হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। কোনো ব্যক্তি যদি যোগ্যতা ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো সুযোগ পাওয়ার অধিকারী হন, তবে তিনি অবশ্যই তা পাবেন। দলীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কারও জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাদা দলের অবস্থান সুস্পষ্ট।

    তারা আরো বলেন, সাদা দলের পক্ষ থেকে ঢাবি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি ভবিষ্যতে সাদা দল বা সাদা দলের কোনো নেতার নাম ব্যবহার করে কোনো সুপারিশ, তদবির বা ব্যক্তিগত দাবি উপস্থাপিত হলে তা গ্রহণ না করে সরাসরি সাদা দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সাদা দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের যেকোনো প্রচেষ্টা রোধে সবার সতর্ক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা আশা করছে সাদা দল।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আট জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন রয়েছেন।

    ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট পাঁচ হাজার ৭৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ২৬৭ জন।

    এর মধ্যে ৬২ দশমিক দুই শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক আট শতাংশ নারী রয়েছেন।
    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও কারও মৃত্যু হয়নি।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • নম্বর গোপন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট,  যত প্রশ্ন

    নম্বর গোপন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট, যত প্রশ্ন

    ‘নামে কী-বা আসে যায়’! তবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নামই হবে অ্যাপটি ব্যবহারের মূল বিষয়। এখন থেকে আপনার ফোন নম্বর নয়, ওই প্ল্যাটফর্মে ইউজারনেম ব্যবহার করেই কাজ চালানো যাবে।

    একটু ভেঙে বলতে গেলে, হোয়াটসঅ্যাপ একটি নতুন ফিচার আনতে চলেছে যেখানে আপনি ফোন নম্বর ব্যবহার করে চ্যাট করার বদলে চাইলে ইউজারনেম ব্যবহার করে কথা বলতে পারবেন।

    সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে বিশ্বব্যাপী এই নতুন ফিচার লঞ্চ করার মূল উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বজায় রাখা। যেমন, অনেকেই অপরিচিতদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই নিজেদের ফোন নম্বর শেয়ার করতে ইতস্তত বোধ করেন, অথচ যোগাযোগের সুবিধার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হতে চান। সেবিষয়ের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ।

    এখনো এই ফিচার চালু হয়নি, তবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে চলতি বছরেই তা শুরু হবে। শিগগিরই ব্যবহারকারীরা নিজেদের ‘ইউজারনেম’ বেছে সেটা ‘রিজার্ভ’ করে রাখার সুযোগ পাবেন।

    তবে ইউজারনেম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। যেকোনো সময় ইইজারনেম পাল্টানো বা ডিলিট করা যাবে। আর অবাঞ্ছিত বার্তা ব্লক বা রিপোর্ট করার বিকল্পও চালু থাকবে।

    ইউজারনেম ব্যবহারকে একদিকে যেমন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে রক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে, তেমনই এর নেতিবাচক দিক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ফিচারের অপব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি, প্রতারণা ইত্যাদির আশঙ্কা থেকে যায় বলে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে, ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউজারনেমের বিষয়টি নিয়ে ‘মেটা’কে একটা নোটিশ পাঠিয়েছে ভারত সরকার। এই নতুন ফিচার ও তার অপব্যবহার সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করা পর্যন্ত তা চালু না করার কথাও সেখানে বলা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

  • ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’, ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এল যে ভয়াবহ তথ্য

    ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’, ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এল যে ভয়াবহ তথ্য

    গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘প্রজনন গণহত্যা’ চালিয়ে আসছে ইসরাইল। চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস, নারী ও শিশুদের হত্যা এবং পরিবেশকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার পরিণতিতে দেখা দিচ্ছে বন্ধ্যত্ব। নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ‘ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ’-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলি নিধনযজ্ঞ শুরু হলে এই চর্চা আরও ত্বরান্বিত হয়। ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভব করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    গত সপ্তাহে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল বিষয়ক জাতিসংঘের শীর্ষ তদন্ত সংস্থা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, গাজায় হামলার প্রধান অংশ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

    জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর হওয়া ক্ষতির পুরো চিত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্নাইপার ও ড্রোনের মাধ্যমে নিখুঁত গুলি, আটক অবস্থায় নির্যাতন, প্রজননগত সহিংসতা এবং স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংসের মতো বিষয়গুলো।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও ৫ হাজার ১৬০ জন শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে।

    জাতিসংঘের নথিবদ্ধ করা একটি ঘটনায় দেখা যায়, আল-নাসর শিশু হাসপাতালে ইসরাইলি বাহিনী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে বিকল হয়ে যাওয়া লাইফ সাপোর্ট মেশিনের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় তাদের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

    গণহত্যার শুরুতে জাতিসংঘের হিসাবে গাজায় ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার ৫০০ শিশু জন্ম নিচ্ছিল। অনেকেরই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল, যা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কারণে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

    সে সময় গর্ভপাতের হার ৩০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। ব্যাপক অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা এবং প্রসবপূর্ব প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে অকাল জন্ম, কম ওজনের শিশু এবং প্রসবের সময় মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

    ‘একটি শিকারি রাষ্ট্র’

    প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় প্রস্তুত করা ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘এ প্রিডেটরি স্টেট: ইসরাইলি সিস্টেমিক সেক্সুয়ালাইজড অ্যান্ড জেন্ডারড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট প্যালেস্টাইনস’ (একটি শিকারি রাষ্ট্র: ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের পদ্ধতিগত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা)। এতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইল গাজায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটারি প্যাড ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক ফিলিস্তিনি নারী ‘মাসিক বন্ধ করতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ঘরে তৈরি প্যাড ব্যবহার করতে বাধ্য হন’।

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ইসরাইলের প্রকাশ করা গোপন নথি, ফিলিস্তিনিদের মৌখিক ইতিহাস, একাডেমিক গবেষণা, প্রামাণ্য দলিল, গণমাধ্যমের খবর, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নথি এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও বিবৃতি যুক্ত করা হয়েছে।

    গাজার বোমা বিধ্বস্ত হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অ্যানেসথেসিয়া বা জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম নেই। ফলে ফিলিস্তিনি নারীরা ভিড়ভাট্টাপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র, ঘরবাড়ি বা ধ্বংসস্তূপে ঘেরা রাস্তায় সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

    গাজায় কাজ করা আন্তর্জাতিক চিকিৎসকেরা অ্যানেসথেসিয়া ছাড়া সিজারিয়ানসহ নানা অস্ত্রোপচার করার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সদ্য মা হওয়া নারীরা ডায়াপার, খাবার, পানি ও শিশুর গুঁড়ো দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাচ্ছেন না, যা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় খুব সাধারণ বিষয়।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজার ওপর ইসরাইলের এই হামলা আংশিকভাবে ‘প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং অন্যান্য দৈনন্দিন অবকাঠামোর পদ্ধতিগত ধ্বংসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, অসম্ভব করে তুলেছে।’

    ইসরাইল গাজার প্রসূতি ওয়ার্ড ও আইভিএফ ক্লিনিকগুলো ধ্বংস করেছে। ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সাদা ফসফরাস এবং অন্যান্য বিষাক্ত অস্ত্রের ব্যবহার ‘প্রজননক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বংশানুক্রমিক প্রভাব ফেলবে’।

    হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মা বিধবা বা রাজবন্দিদের স্ত্রী হিসেবে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও রক্ষাকর্তা হিসেবে বেঁচে আছেন। অন্যদিকে পদ্ধতিগত উচ্ছেদ ও কারাবাসের কারণে আরও হাজার হাজার নারী তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাপক অনাহার, বাস্তুচ্যুতি এবং রোগের প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও গাজার ফিলিস্তিনি মায়েদের ওপর নতুন জীবনের জন্ম দেওয়া এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়ার মতো অসম্ভব দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

    ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ গাজার দুই নারী রানিয়া আবু আনজা এবং জোমানা আরাফার ঘটনা বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।

    আবু আনজা ১০ বছর ধরে আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার পর অবশেষে নাঈম ও উইসাম নামে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে এক ইসরাইলি বিমান হামলায় স্বামীসহ তার ওই দুই শিশু প্রাণ হারায়।

    জোমানা আরাফা যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার দুদিনের মাথায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ঘোষিত ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চলে’ আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় তার দুই শিশু এবং নিজ মাসহ নিহত হন। তার স্বামী নবজাতকদের জন্মনিবন্ধন আনতে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

    প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’ বা বিশাল ঘটনার সামান্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ওপর গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। প্রসূতি ওয়ার্ড, প্রসবপূর্ব চিকিৎসা কেন্দ্র, ফার্টিলিটি ক্লিনিক এবং নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

    গাজার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেখানে ইসরাইলের কঠোর খাদ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

    ফিলিস্তিনিদের বংশবৃদ্ধি নিয়ে ইসরাইলের ঐতিহাসিক ভয়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালে ইসরায়েলি ভূগোলবিদ আরনন সোফার সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল সবচেয়ে বড় যে হুমকির সম্মুখীন, তা হলো আরব নারীদের গর্ভ।’ তিনি দাবি করেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্মহার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

    ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৯-১৯৭৪) গোল্ডা মেয়ার মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘আরও একটি ফিলিস্তিনি শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে’—এই ভাবনা থেকেই তার দুঃস্বপ্ন শুরু হতো।

    ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভের এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেন, ‘এটি এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা ফিলিস্তিনিদের জীবন—দেহ, বসতবাড়ি, পরিবার, প্রজননগত অস্তিত্ব এবং এমনকি মৃতদেরও নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন এটা বোঝার সময় এসেছে যে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলো—যার মধ্যে এই প্রতিবেদনে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও অন্তর্ভুক্ত—কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো নির্যাতনের সমষ্টি নয়; বরং এটি আধিপত্য বিস্তার, নিপীড়ন এবং নিশ্চিহ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা।’

  • নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।এ বিষয়ে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

  • গাংনীর স্কুল ফিডিংয়ে পচা খাবার, দায় কার?

    গাংনীর স্কুল ফিডিংয়ে পচা খাবার, দায় কার?

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে।

    অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়। কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। এসব খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিও।

    গত ১ জুলাই গাংনী পৌর এলাকার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা ডিম পচা এবং পাউরুটিতে ছত্রাক থাকার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের নজরে আসে।

    এরপর অভিযোগ ওঠে, খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ ছিল। তবে বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খাদ্যের নিম্নমান নিয়ে শিক্ষকরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অবহিত করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    অভিভাবক আব্দুর রহিম বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রকৃত দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে অনিয়মই উৎসাহিত হতে পারে।”

    স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে নিম্নমানের বা নষ্ট খাদ্য সরবরাহ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, এ ঘটনায় কেবল প্রশাসনিক দায় নির্ধারণ নয়, খাদ্য সরবরাহ, সংরক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়াই তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিও-এর প্রতিনিধিরকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসির্ভ করেননি।

  • বর্জ্য থেকে জ্বালানি

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি

    তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের ফলে বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহর ও পৌর এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার টন গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পবর্জ্য জমা হচ্ছে। এসব বর্জ্যের বড় অংশ উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়, যা পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদাও ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্ব পাচ্ছে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রযুক্তি, যা একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা কমাতে পারে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানির নতুন উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বর্জ্যকে আর সমস্যা হিসেবে নয়, বরং মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

    কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি প্রযুক্তি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, তাপশক্তি অথবা জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। গৃহস্থালি বর্জ্য, খাদ্যবর্জ্য, কৃষিজ অবশিষ্টাংশ, পশুর বর্জ্য এবং শিল্পকারখানার কিছু বর্জ্য এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ বর্জ্য ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়, যার ফলে মিথেনসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। মিথেন গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে এই পরিবেশগত ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পেতে পারে।

    কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন হয়

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বর্জ্য পুড়িয়ে তাপশক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন। এছাড়া জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় বর্জ্যকে তরল বা গ্যাসীয় জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। খাদ্যবর্জ্য, গবাদিপশুর বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এসব প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা

    বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং অন্যান্য শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব। গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশুর বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় সফল হয়েছে। একইভাবে শহুরে বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে নতুন জ্বালানি উৎস তৈরি হবে।

    পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো পরিবেশ দূষণ কমানো। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকলে বায়ু, মাটি ও পানিদূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। বর্জ্যকে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে এসব ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পেতে পারে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

    যদিও বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথক্‌করণ এবং সংগ্রহের ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে জৈব ও অজৈব বর্জ্য একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন এবং পরিচালনার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এছাড়া দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও প্রয়োজন রয়েছে।

    সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে জনসচেতনতার ওপর। পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানাকে বর্জ্য পৃথক্‌করণে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে মানুষ বর্জ্যকে শুধু ফেলার বস্তু হিসেবে নয়, বরং সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে শেখে।

    ভবিষ্যতের সম্ভাবনাবিশ্বজুড়ে টেকসই জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রযুক্তি একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশেও সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এতে একদিকে শহর ও গ্রাম হবে আরো পরিচ্ছন্ন, অন্যদিকে জ্বালানির নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতি গঠনের পথে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী

    এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের পরীক্ষায় ১১ শিক্ষাবোর্ডের ২৪ হাজার ৭৮৪ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি দেখা গেছে মাদ্রাসা বোর্ডে।

    এদিন নকলসহ বিভিন্ন কারণে ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষক বহিস্কারের ঘটনা ঘটেনি।

    বৃহস্পতিবার সাধারণ ও কারিগরি বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র এবং কুরআন মাজিদ বিষয়ের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষা পর্ব। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। গত বারের তুলনায় যা ২২ হাজার ৭৬৬ জন বেশি।

    আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রথমদিনে সাধারণ ৯টি শিক্ষাবোর্ডের মোট ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন (২ দশমিক শূন্য এক শতাংশ)। আর কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে ও যশোর বোর্ডে ২ জনসহ মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ৮৫ হাজার ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন চার হাজার ৪৭৮ জন (৫ দশমিক ২৬ শতাংশ)। এই বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ৮৩ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন তিন হাজার ৭৩ জন (৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। এই বোর্ডেও একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন।

    সূত্রমতে, এবার দেশের সাধারণ সব শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা চলবে; আর ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টানারশিপ ফর অ্যাডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট অ্যান্ড মাল্টিপিলার গ্রান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    এহছানুল হক মিলন বলেন, আমার কাছে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। বিভাগটি আমাদের আপিল গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারব।

    তিনি বলেন, এর সঙ্গে আরও প্রায় ৭০ হাজার জন (এমপিওভুক্ত শিক্ষক-প্রভাষক) অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় খবর।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ সকালে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা ছিল, কিন্তু সম্ভবত আমাদের সহকর্মীরা মনে করেন যে আমাদের সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই সবাই এই কক্ষে বসে আছি। আগে এমনটা হতো না। অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে।

    এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ছাড়াও শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    চলতি বছর ইউনেস্কো ও ইউনিসেফ গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর অ্যাডুকেশনের (জিপিই) আওতায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রায় ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

  • আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর উদ্বোধন করেছেন। সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি এ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ পালনের শুভ সূচনা করা হয়।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। এর মেয়াদ চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত।প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের নিরাপত্তা নয়, কোনো প্রাণীই যেন হিংস্রতার শিকার না হয় সে ব্যপারে সরকার সচেষ্ট।

    এর আগে, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।

  • যশোর বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১৭ হাজার

    যশোর বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১৭ হাজার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের অধীনে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ৫৭০টি কলেজের ১ লাখ ১৭ হাজার ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৯৮৮ জন এবং ছাত্রী ৬০ হাজার ১৮৯ জন। ফলে এবারও ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুষ্ঠু, অবাধ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই বিষয়ভিত্তিক গুরুত্ব বিবেচনায় বোর্ডের একজন প্রতিনিধি ভিজিল্যান্স টিমে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

    যশোর বোর্ড সূত্র জানায়, এবছর এইচএসসি পরীক্ষা অংশ নেবেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১১৭ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৯৮৮ জন এবং ছাত্রী ৬০ হাজার ১৮৯ জন। গত বছর অংশ নিয়েছিলেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮০৯। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৫৮ হাজার ৬৩০ জন ও ছাত্র ছিল ৫৮ হাজার ১৭৯ জন। সেই হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৬৮ জন। আর ছাত্রী বেড়েছে ১ হাজার ৫৫৯ জন এবং ছাত্র কমেছে ১ হাজার ১৯১ জন।

  • এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

    এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এ পরীক্ষা শুরু হয়।

    এবার দেশের সাধারণ সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে ব্যাবহারিক পরীক্ষা।

    দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন, গতবারের তুলনায় যা ২২ হাজার ৭৬৬ জন বেশি।

    সাধারণ ৯ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এছাড়া মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন। সাধারণ ৯ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রী এবং কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডে ছাত্রের সংখ্যা বেশি।আজ সাধারণ ও কারিগরি বোর্ডে বাংলা এবং মাদরাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ বিষয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে পরীক্ষা পর্ব। এবার দুই হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টিই ঢাকায়। এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু করতে প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, খাতা সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটরের ব্যবহার, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেদিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    এদিকে গতকাল বুধবার সচিবালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে।

    শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে পরিবর্তন করছি, যেখা

    নে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষায় আনতে চাইছি।

    সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি মামলায় আপিল বিভাগ এ রায় দেয়। এর ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না।

    এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে।

  • দু’শো বছরের প্রাচীন ছয় গম্বুজ মসজিদ

    দু’শো বছরের প্রাচীন ছয় গম্বুজ মসজিদ

    ফিচার

    কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ।

    উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে দমদম এলাকার নৌ-খালের কোলঘেঁষে ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে চেঁড়াঘাট গ্রামের পৌনে দুইশ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কায়েম বিশ্বাসের মসজিদ’ নামেও পরিচিত।

    মসজিদের নামফলকে উল্লেখ রয়েছে, এর প্রতিষ্ঠাকাল বাংলা ১২৬৯ সন ও ইংরেজি ১৮৬২ সাল। প্রায় ১৬৪ বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটি এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। পাতলা আকৃতির ইট ও চুন-সুড়কির গাঁথুনিতে নির্মিত মসজিদটি ১২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে রয়েছে ৭টি দরজা, ১০টি পিলারের ওপর নির্মিত ছাদ, ৬টি গম্বুজ ও ১০টি মিনার। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার এই মসজিদে একসঙ্গে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সম্প্রতি বর্ধিত করা হয়েছে। নতুন সিঁড়ি নির্মাণ করে সম্প্রসারিত অংশের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যা সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।

    স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদের নির্মাতা কায়েম বিশ্বাস ছিলেন একজন প্রভাবশালী গাঁতিদার। সেসময় ভারতের মুর্শিদাবাদের জমিদার দুর্গাপদ চৌধুরীর সঙ্গে তার বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি আসে। পরবর্তীতে কৌশলে ক্ষমা প্রার্থনা করলে জমিদার শর্ত দেন, একটি মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।

    সেই শর্ত পূরণ করতেই কায়েম বিশ্বাস কলকাতা থেকে নির্মাণ শ্রমিক ও উপকরণ এনে নিজ গ্রাম চেড়াঘাটে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবু নসর এর লেখা ‘কলারোয়া উপজেলার ইতিহাস’ গ্রন্থেও এ মসজিদটির নির্মাণ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যায়।কয়েকজন মুসল্লি জানিয়েছেন, চেড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণ ও সংস্কারের চেষ্টা করছি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আরও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হোক, যাতে কলারোয়ার এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ নিদর্শন রক্ষা করা জরুরী।

  • মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর অভিযোগ

    মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি হেফজ মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং শিশুটির চিকিৎসা খরচ হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার (১১) জিয়ানগরের পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে অধ্যয়ন করছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’ করার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগে মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাকে হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এতে মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ও ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানানো হলে শিশুটির চাচা জামাল সরদারকে ডেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

    শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে নির্যাতনের বিষয় জানালে তারা শুধু ওষুধ খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো শিক্ষকের শাস্তি হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের রায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।’

    তবে সালিশকারীদের একজন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ‘খারাপ কাজ’ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

    মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে সভা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

  • শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ৩ শিক্ষার্থীকে  পেটানোর অভিযোগ

    শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ৩ শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বরিশাল নগরীর চরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আবু জাফর নামে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। এসময় থামাতে গিয়ে দুই শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করেন ওই ব্যক্তি।

    মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত তিন শিক্ষার্থীকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত আবু জাফরের ছেলে একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কয়েক দিন আগে সহপাঠীদের সঙ্গে তার ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবু জাফর বিদ্যালয়ে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, আবু জাফরের ছেলে মাশরাফি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দুই দিন আগে সহপাঠীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি মাশরাফি তার বাবাকে জানালে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আবু জাফর পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী সানীম, অভি শীল ও শাহাদাত হোসেনকে মারধর করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে শ্রেণিশিক্ষক শাহিন হোসেন ও শিক্ষক মহিউদ্দিনকেও মারধর করা হয়।

    ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদুল আলম তুহিন বলেন, আবু জাফর শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। তাকে থামাতে গেলে শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলেও তার আগেই অভিযুক্ত আবু জাফর পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর নিউজ ছড়ালেই আইনি ব্যবস্থা

    পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর নিউজ ছড়ালেই আইনি ব্যবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর নিউজ ছড়ালেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    বুধবার (১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষা নিয়ে কোন বিভান্ত ছড়ালে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেযা হবে।

    আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা।

    উল্লেখ্য এ বছর সব শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৯২ লাখ ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। মোট ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন। মোট ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে। মোট ৭৭ টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবেনা, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

  • পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে পুরনো মাফিয়াদের মহড়া

    পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে পুরনো মাফিয়াদের মহড়া

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) গত এক সপ্তাহে একাধিক মহড়া দিয়েছেন পাঠ্যবই ছাপার ঠিকাদার ও প্রেসমালিকদের একাংশ। মূল লক্ষ্য কাগজের কৃত্রিম সংকট ও নিয়ন্ত্রিত পিডিআই রিপোর্ট এবং ব্যাংক লোন অজুহাত দেখিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই আগের মতোই অধিক মুনাফা ও গোঁজামিল দিয়ে ছেপে ঠিকমতো বিলা আদায় করা। দোসরা জুলাইকে সামনে রেখে মহড়া দেওয়া হয়েছে। এদিন টেন্ডার ওপেনিং ডেট।

    এই চক্রটিই গত ১৭ বছর ধরে বই ছাপিয়ে ইচ্ছেমতো বিল জমা ও তা তুলে নিয়েছেন। তাদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তাদের আত্মীয়রা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কতিপয় আমলা ও এনসিটিবির কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সর্বশেষ এনসিটিবির সদস্য পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসানো হয়েছে। এতে সর্বাত্মক সহায়তা করেছে কয়েকটি নোট-গাইড কোম্পানী। শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র প্রিন্ট জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মহড়ার নেপথ্যে পাঞ্জেরী ও বারতুপা প্রেসের মালিক পক্ষ ছিলেন। অভিযোগ আছে পাঞ্জেরী প্রকাশনীতে পলাতক ঢাকার পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, দুবাইতে আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ অনেকের বেনামীতে বিনিয়োগ রয়েছে। গত ১৬ বছরে প্রায় সব ঘুষখোর আমলাকে লেখক তকমা দিয়েছে পাঞ্জেরী। পাঞ্জেরীর মালিকদের একজন বিদেশে পলাতক। মহড়া চক্রের নেপথ্যে আরো রয়েছেন কয়েকমাস এনসিটিবির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা একজন অতিরিক্ত সচিব, সাবেক উৎপাদন ও বিতরণ নিয়ন্ত্রক সম্পাদনা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা, প্রেস মালিকদের মধ্যে দুলাল সরকার, হেলালী, রাব্বানী জব্বার, ওসমান গণি, মো. নজরুল ইসলাম কাজলসহ অনেকে। অনেক দুর থেকে কলকাঠি নেড়েছেন কর্ণফুলী ও অগ্রনী এবং কচুয়া প্রেসের মালিকরা। বারতুপা, টাঙ্গাইল প্রেস, ফরাজী প্রেস এন্ড পাবলিকসেন্স, মুত্তাহিদা প্রিন্টার্স, সুবর্না প্রিন্টার্স, অটো প্রিন্টার্স, নিউ সুজন আর্ট প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রেস, বর্নশোভা প্রিন্টার্স, বর্ণশোভা, রাব্বিল প্রিন্টিং প্রেস, রেজা প্রিন্টার্স, সরকার প্রেস এন্ড পাবলিকেনন্স, সরকার প্রিন্টিং প্রেস, সরকার প্রেসসহ আরো অনেক প্রেসের মালিক।জানা যায়, গত কয়েকমাস ধরে এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। অথচ চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের বইয়ে বাড়তি ফর্মার জন্য কেন অনুমোদন নেওয়া হয়নি এমন অজুহাত দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ই ৭৩ জন প্রেস মালিককে তাদের প্রায় ৮৫ কোটি টাকার বিল আটকে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে পাঞ্জেরী প্রকাশনী একাধিক প্রভাবশালীকে ব্যবহার করেছে।

  • ৯ জুলাই প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ৯ জুলাই প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন যাবত এ ফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে ফল প্রকাশের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ফল প্রকাশ হবে। এরই মধ্যে অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস সিস্টেমে (লাইভ সার্ভার) ফল দেখার লিংকও উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে এবার সামনে এলো ফল প্রকাশের তারিখ। আগামী ৯ জুলাই প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

    বুধবার (১ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।

    প্রসঙ্গত, দেশের ৬১ জেলায় গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়াও রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ১৭, ১৮, ১৯ এবং ২০ এপ্রিল এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেন।

  • কোচিং সেন্টার বানাতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে

    কোচিং সেন্টার বানাতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যখন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে লেখাপড়া করে না তখন কোচিং সেন্টার দরকার হয়। যখন প্রতিষ্ঠানিকভাবে তারা ওই সময়টা কাজে লাগাতে পারে না তখন কোচিংয়ে যায়। কোচিং সেন্টার বানাতে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

    বুধবার (১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টারগুলোর বিষয়ে আমরা এগুলো সিক্রোনাইজ করছি। কোচিং ক্ষতিকর কিনা এগুলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে দেখার।

    ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডিজিটাল প্রশ্নও হ্যাকিং হয়ে যায়। আমি নিজে বিজি প্রেসে গিয়েছি। এক্সামিনারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তারা ঠিকভাবে খাতা দেখছে কিনা তা মনিটরিং করা হবে।

    দুর্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, যেখানে এমন পরিস্থিতি হবে সেখানের লোকাল প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমাদের এসএসসি পরীক্ষায় এমন পরিস্থিতি হয়েছিলো আপনারা দেখেছেন সেটা লোকাল প্রশাসন সামাল দিয়েছে।

    আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা।উল্লেখ্য এ বছর সব শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৯২ লাখ ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। মোট ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন। মোট ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে। মোট ৭৭ টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবেনা, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

  • এনডিটিভির বিশ্লেষণ

    এনডিটিভির বিশ্লেষণ

    রাহুল গান্ধীর ‘আউটসাইডার নীতি’, ক্ষোভ বাড়ছে কংগ্রেসে

    রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্বেই দলের ভেতর থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে— তিনি কংগ্রেসের খাঁটি নেতা-কর্মীদের চেয়ে বাইরের মানুষদের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

    এখানে ‘আউটসাইডার’ বা ‘বাইরের মানুষ’ বলতে সবসময় এমন কাউকে বোঝায় না যিনি গতকালই দলে যোগ দিয়েছেন। কখনো কখনো এর অর্থ হলো— যিনি ঐতিহ্যগত রাজ্য-স্তরের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকে এসেছেন। আবার কখনো এর অর্থ কোনো প্রযুক্তিবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট, সাবেক আমলা, পেশাজীবী, এনজিও-ভাবাপন্ন রাজনৈতিক কর্মী বা ব্যক্তিগত সহকারী— যারা জেলা কমিটি, যুব কংগ্রেস, প্রদেশ কংগ্রেস কিংবা অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির চেনা পথ মাড়িয়ে, উপদলীয় আনুগত্য বা নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজনীতিতে আসেননি।

    সহজ কথায়, এটি এমন একদল মানুষকে বোঝায় যাদের প্রতি রাহুলের অন্ধ বিশ্বাস আছে, কিন্তু মূল দল বা সাধারণ কর্মীদের মনে তাদের প্রতি কোনো সমীহ নেই।

    এর সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হলেন আম আদমি পার্টির সাবেক নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম।

    কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আম আদমি পার্টির সাবেক নেতা ও দলিত অ্যাক্টিভিস্ট রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে নির্বাচনি রাজ্য উত্তরপ্রদেশের ‘এআইসিসি ইনচার্জ’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিনাশ পান্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    গৌতম একই সঙ্গে কংগ্রেসের তফসিলি জাতি বিভাগেরও প্রধান এবং রাহুল গান্ধীর সামাজিক ন্যায়বিচার ও দলিত ভাবমূর্তি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের বহু হেভিওয়েট নেতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

    কংগ্রেসের জন্য উত্তরপ্রদেশ কোনো সাধারণ রাজ্য নয়। এটি সেই মাটি যেখানে একটি জাতীয় শক্তি হিসেবে কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, যেখানে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের রাজনীতি একসময় গণ-বৈধতা পেয়েছিল এবং এখানেই দলটির পতন সবচেয়ে বেশি অপমানজনক হয়েছে।

    ২০১৯ সালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন তাকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর আজ, দলটির উত্তরপ্রদেশের প্রধান চালিকাশক্তি হলেন রাজেন্দ্র পাল গৌতম— যিনি একজন নবাগত এবং এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক বা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির কোনো হেভিওয়েট নেতাও নন।

    এটি কেবল একটি সাধারণ নিয়োগ নয়, এটি আসলে একটি পরিষ্কার বার্তা। রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কংগ্রেসের পুরনো কাঠামোর ভবিষ্যৎ কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার বা উত্তরাধিকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি আরও বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে— মতাদর্শিক অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, দলিতদের কাছে পৌঁছানো এবং বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তিনি কোনো পরিশ্রান্ত ‘ইনসাইডার’ বা ঘরের মানুষের চেয়ে একজন নব্য দীক্ষিত ‘আউটসাইডার’কে বেশি বিশ্বাস করেন।

    এখন প্রশ্ন হলো— এটি রাহুলের রাজনৈতিক সাহস, নাকি সিদ্ধান্তহীনতার বিভ্রান্তি, নাকি নতুন এক ধরনের কোটারি বা বলয় কেন্দ্রিক রাজনীতি?

    রাহুল কেন ‘বাইরের মানুষ’দের বিশ্বাস করেন?

    রাহুল গান্ধীর এই আউটসাইডার প্রীতির পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে।

    যখন তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তার চারপাশে ছিল পুরনো কংগ্রেসের এক বিশাল বহর— জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা, উপদলীয় কোন্দলের পরিচালক, গান্ধী পরিবারের পুরোনো অনুগত, প্রদেশ কংগ্রেসের বলিষ্ঠ প্রবীণ দলনেতা এবং দিল্লির মধ্যস্থতাকারী; যারা দলের পুনরুজ্জীবনের কথা ভুলে কেবল নিজেদের টিকিয়ে রাখার বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

    তাদের অনেকেই রাহুলকে একজন যোগ্য ‘নেতা’ হিসেবে না দেখে কেবল ‘উত্তরাধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। তারা প্রকাশ্যে আনুগত্য দেখালেও গোপনে ছিলেন অবজ্ঞাপূর্ণ এবং সর্বদা সুযোগসন্ধানী। ফলে রাহুল কেন তাদের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবেন, তা বোঝা মোটেও কঠিন নয়।

    রাহুলের চোখে, এই পুরনো কংগ্রেস মানেই হলো ক্ষমতার সঙ্গে আপস, উচ্চবর্ণের আধিপত্য এবং বিজেপির মতো নরম হিন্দুত্বের রাজনীতি করা।

    অন্যদিকে, বাইরের মানুষরা তার কাছে কংগ্রেসের ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতির দ্বারা কলুষিত নন বলে মনে হয়। ঠিক এই কারণেই শশীকান্ত সেন্থিল, শচীন রাও, কৃষ্ণ আল্লাভারু, কে রাজু, প্রবীণ চক্রবর্তী, অলংকার সাওয়াই, কে বি বাইজু এবং কনিষ্ক সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা রাহুলের বলয়ে বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

    তবে এই মানুষগুলো সবাই এক প্রকৃতির নন। এই যেমন,

    শশীকান্ত সেন্থিল: সাবেক আইএএস অফিসার, যিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ওয়ার রুমের প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে তামিলনাড়ু থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    শচীন রাও: প্রশিক্ষণ ও মতাদর্শ বিষয়ক ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব দলের ভেতরের ভাবধারায় স্পষ্ট।

    কৃষ্ণ আল্লাভারু: ফুল-টাইম রাজনীতিতে আসার আগে করপোরেট সেক্টরে ছিলেন। রাহুলের যুব কংগ্রেসের হাত ধরে উঠে এসে এখন বড় সাংগঠনিক কাজ সামলাচ্ছেন।

    কে রাজু: সাবেক আমলা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাহুলের সামাজিক ন্যায়বিচার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

    প্রবীণ চক্রবর্তী: যিনি দলে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং পেশাদার ক্লাসের রাজনীতি নিয়ে এসেছেন।

    অলংকার সাওয়াই ও কে বি বাইজু: রাহুলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ইনার-অফিসের প্রতিনিধি— যারা মূলত সাক্ষাৎ, লজিস্টিকস, ইন্টেলিজেন্স এবং শেষ মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণ সামলান।

    কনিষ্ক সিং: রাহুলের একজন পুরোনো বিশ্বস্ত সহযোগী, যিনি অনেক আগে থেকেই এই ঘরানার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

    এর সঙ্গে অতীতে জি মোহন গোপাল, মোহন প্রকাশ এবং মধুসূদন মিস্ত্রির মতো নামগুলো যোগ করলে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা নকশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    রাহুল বারবার এমন কিছু মানুষকে খুঁজে নেন যারা নিজেদের ক্ষমতার জন্য কংগ্রেসের পুরনো প্রাদেশিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নন; বরং তারা সরাসরি রাহুলের কাছে দায়বদ্ধ। তারা রাহুলকে সেটাই বলেন যা রাহুল শুনতে ভালোবাসেন— অর্থাৎ, যারা দলটির পতন ডেকে এনেছে তাদের বাইপাস বা এড়িয়ে গিয়েও নতুন করে দল পুনর্গঠন করা সম্ভব। তবে কংগ্রেসের আজীবন একনিষ্ঠ কর্মীরা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখেন।

    তাদের মতে, সমস্যাটি এমন নয় যে ঘরের মানুষেরা রাহুলকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং আসল সমস্যা হলো— রাহুল ঘরের মানুষদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজ্য থেকে রাজ্যান্তরে এই একই ক্ষোভ বিরাজ করছে: যারা মোদির উত্থানের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোতে, ইডি-সিবিআইয়ের চাপ, বিজেপির আগ্রাসন, মতাদর্শগত আক্রমণ এবং একের পর এক পরাজয়ের মধ্যেও দল ছেড়ে যাননি— আজ তাদের অবহেলা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নবাগত বা রাহুলের ব্যক্তিগত অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    কংগ্রেসের অনুগত কর্মীরা এক অদ্ভুত অবহেলার শিকার। যখন কোনো প্রতিবাদ, পদযাত্রা, বুথ মিটিং, গ্রেফতার বরণ কিংবা সংবাদ সম্মেলনের মতো কঠিন লড়াইয়ের মাঠ তৈরি হয়, তখন তাদের ডাক পড়ে। কিন্তু যখন কোনো পদ দেওয়া হয়, রাজ্যসভার টিকিট বণ্টন করা হয়, নির্বাচনি ওয়ার রুম তৈরি হয় কিংবা কোনো রাজ্যের ইনচার্জ বেছে নেওয়া হয়, তখন তারা দেখেন যে অচেনা কিছু মুখ তাদের ডিঙিয়ে শীর্ষস্থানে বসে গেছে।

    এই যেমন, হরিয়ানার রাজ্যসভা নির্বাচন এই অসন্তোষকে স্পষ্ট করে দিয়েছিল। রাহুল শিবির এক প্রথাগত হেভিওয়েট হরিয়ানভি নেতাকে বাদ দিয়ে করমবীর সিং বৌদ্ধ নামের এক অপরিচিত দলিত মুখকে সমর্থন দেয়।

    এক নাটকীয় লড়াইয়ের পর বৌদ্ধ শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও, এই পুরো প্রক্রিয়া দলের ভেতরের অন্তর্ঘাত, বাতিল ভোট এবং কংগ্রেস বিধায়কদের ক্রস-ভোটিংয়ের নগ্ন রূপকে সামনে এনেছিল।

    রাহুলের সমর্থকদের কাছে এটি ছিল পুরনো ঘুণে ধরা ব্যবস্থার প্রমাণ; কিন্তু পুরনো ঘরানার নেতাদের মতে, এটি ছিল স্থানীয় ক্ষমতার সমীকরণকে অবজ্ঞা করার চরম পরিণতি।

    একই ফাটল দেখা গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশেও, যেখানে একজন নিরাপদ ও অভিজ্ঞ প্রবীণ প্রার্থীর চেয়ে রাহুলের অনুগত মীনাক্ষী নটরাজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তামিলনাড়ুতে প্রবীণ চক্রবর্তীর রাজ্যসভার মনোনয়নও রাহুলের এই পেশাদার রাজনীতিরই প্রতিফলন ছিল।

    তবে রাজনীতি কেবল প্রতীকের খেলা নয়; রাজনীতি হলো সবাইকে একসঙ্গে এক কামরায় ধরে রাখার শিল্প। বাইরের মানুষরা রাহুলকে হয়তো মুগ্ধ করতে পারেন, কিন্তু তারা সব সময় বিধায়কদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তারা চমৎকার কৌশলপত্র বা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে পারেন, কিন্তু জেলা সভাপতিদের বোঝাতে পারেন না। তারা জাতপাতভিত্তিক ন্যায়বিচার, সংবিধান, ডেটা বা দল সংস্কারের আধুনিক ভাষা বলতে পারেন, কিন্তু বালিয়ার ব্লক কমিটি, মোরেনার উপদল কিংবা রোহতকের বুথ নেটওয়ার্ক কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে— সেই বাস্তব খবর তারা রাখেন না।

    আর এখানেই কংগ্রেসের চিরাচরিত ট্র্যাজেডি: রাহুল সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেন যে পুরনো কলকব্জাগুলো ভেঙে গেছে, কিন্তু তিনি প্রায়শই এমন কিছু নতুন যন্ত্র দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করেন যার মাটি বা শেকড়ের সঙ্গে কোনো সংযোগই থাকে না।

    আজকের কংগ্রেসের ভেতর মূলত দুজন রাহুল গান্ধী বসবাস করেন।

    এক রাহুল বিকেন্দ্রীকরণ, দলিত প্রতিনিধিত্ব, যুবকদের কণ্ঠস্বর, অভ্যন্তরীণ সাহস এবং মতাদর্শিক স্পষ্টতার কথা বলেন।

    আর অন্য রাহুল এমন এক ব্যবস্থা পরিচালনা করেন যেখানে তার কাছে পৌঁছানোর রাস্তাটি একটি ছোট্ট বৃত্তের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতাদের চেয়ে অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় এবং যেখানে আজীবন অনুগত কর্মীরা কেবল আন্দাজ করার চেষ্টা করেন যে কোন দরজাটি দিয়ে ভেতরে ঢোকা সম্ভব।

    এই স্ববিরোধিতা রাহুলকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করেছে। একটি রাজনৈতিক দল কেবল পেশাদার উপদেষ্টা, মতাদর্শিক ধর্মান্তরিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত অনুগতদের দিয়ে পুনর্গঠন করা যায় না।

    ঠিক তেমনি, শুধু পুরনো ক্লান্ত ব্যবস্থাপকদের দিয়েও তা সম্ভব নয়। দলের জন্য সংস্কার এবং শেকড়— দুটোরই প্রয়োজন। এমন বাইরের মানুষ প্রয়োজন যিনি দক্ষতা আনবেন, আবার এমন ঘরের মানুষও প্রয়োজন যিনি দলের ইতিহাস ও স্মৃতি বয়ে চলবেন।

    কংগ্রেসের মূলধারার বাইরে তাকানোর রাহুলের এই প্রবৃত্তি একটি গভীর উপলব্ধি থেকেই এসেছে। তিনি দলের ভেতরের সুবিধাবাদী সংস্কৃতি, উপদলীয় ব্ল্যাকমেইল এবং স্থায়ী অকর্মণ্যতার প্রাচীর ভাঙতে চান। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, কেবল নিজের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাস করতে গিয়ে তিনি নিজেই এক নতুন সুবিধাবাদী বলয় তৈরি করছেন।

    ঠিক এই কারণেই দলের ভেতরের ক্ষোভ কিছুতেই কমছে না। একজন বিশ্বস্ত কর্মীর কষ্ট কেবল এটা নয় যে একজন বাইরের মানুষ পুরস্কৃত হচ্ছেন; তার আসল কষ্ট হলো— লড়াইয়ের মাঠে তিনি দরকারি, কিন্তু পুরস্কারের মঞ্চে তিনি অদৃশ্য এবং রণকৌশল নির্ধারণের সময় তিনি অপাংক্তেয়।

    যে দলটির কর্মীরা এক দশক ধরে কেবল ত্যাগই স্বীকার করে গেছেন, তাদের কাছে এই অবহেলার অনুভূতি ছোট কোনো আবেগ নয়— এটিই এখন বড় রাজনীতি হয়ে উঠছে।

    রাহুল হয়তো আগামী দিনে প্রমাণ করতে পারেন যে তার এই ‘আউটসাইডার রিপাবলিক’ বা বহিরাগতদের সাম্রাজ্যই একটি নতুন কংগ্রেস তৈরি করবে। তবে তার আগে তাকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যা প্রতিটি সাধারণ কংগ্রেস কর্মী আজ নীরবে নিজেকে জিজ্ঞেস করছেন: যদি দলের প্রতি আজীবন আনুগত্যের চেয়ে রাহুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈকট্যের মূল্য বেশি হয়, তবে আসলে কিসের পুনর্গঠন চলছে?

  • গৌরবের ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    গৌরবের ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার (০১ জুলাই)। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যে এবার দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

    ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান-বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।’ বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় উপাচার্য ভবন-সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বর থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুর ইসলামের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) চত্বরে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং, রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী আয়োজন হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবেন।

    সকাল সাড়ে ১০টায় টিএসসি মিলনায়তনে উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। পরে বিকেল ৩টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে প্যানেল আলোচনা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

    ১৯২১ সালে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি সময়ের পরিক্রমায় দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রশাসক ও রাষ্ট্রনায়কদের গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

  • ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন ভিপি

    ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন ভিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আজ ১০৬তম বছরে পদার্পণ করেছে। দিনকে ঢাবি কর্তৃপক্ষ দিবস হিসেবে পালন করছে।

    দিবসটি উপলক্ষে এরই মধ্যে ঢাবি কর্তৃপক্ষের তৈরি করা একটি ভিডিও নিজের প্রোফাইলে পোস্ট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে তিনি ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফিমেল জিমনেশিয়াম চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন।

    প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ফিমেল জিমনেশিয়াম।

    ডাকসুর উদ্যোগে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই জিমনেশিয়াম প্রস্তুত করা হয়েশারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় এখন থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা।

  • শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

    শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে— কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

    সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য এবং টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল সরকার কাজে লাগাতে চায়।

    ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দুপুরের বিরতিতে অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    মাদারীপুর জেলার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষার্থী বাজেট অধিবেশন দেখতে আসেন। দুপুরে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান ছিলেন তারা। নিজ কার্যালয় থেকে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন।
    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্মরণীয় এই অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়।

    মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বাজেট অধিবেশন দেখতে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডোনাভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং টেকেরহাট পপুলার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
    অধিবেশন দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে সংসদের ইতিহাস, স্থাপত্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

  • কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

    কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর করপোরেট করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, শিক্ষার মান উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি শিক্ষা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নতুন করহার: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    শর্ত সহজ হচ্ছে: নতুন অর্থবছরে কর কমানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান: ইউজিসি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে।

    খাতের দাবি: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কর কমানো বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শিক্ষাঙ্গন সরব

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শিক্ষাঙ্গন সরব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে রচনা, আবৃতি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভারও আয়োজন করতে হবে।

    রোববার (২৮ জুন) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য পাওয়া যায়। চিঠিটি সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষ্যে গত ৩ মে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন; সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা।

    আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সুবিধাজনক সময়ে রচনা, আবৃতি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে। এমতাবস্থায়, এ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালনের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে এ দপ্তরকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

  • ৫ জুলাই শুরু অনার্স ২য় বর্ষের ফরম পূরণ

    ৫ জুলাই শুরু অনার্স ২য় বর্ষের ফরম পূরণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হচ্ছে আগামী ৫ জুলাই থেকে। অনলাইনে এ কার্যক্রম চলবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত।

    সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আরো বলা হয়, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত, ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২ ও ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন এবং ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শুধুমাত্র Promoted শিক্ষার্থীরা F গ্রেড প্রাপ্ত কোর্সে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৯-৩০ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন যাচাই ও ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন করা যাবে। এরপর ২ আগস্ট থেকে ৩ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোনালী সেবার মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া যাবে।

    পরীক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় ফিসহ নিজ নিজ বিভাগে জমা দিতে হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

  • শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে “জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন; রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ; রাজধানীতে “শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ” শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    “জুলাই জাগরণ” ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন; সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন; সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে “জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ” শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    আরো কর্মসূচি হলো জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন; নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা; “জুলাই শহীদ স্মৃতি” ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে “লাল জুলাই” শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন; শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মত বিনিময়; জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন এবং ‘Echoes of July’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সব বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত করা হবে বলে জানানো ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরীফ ওসমান হাদীসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্র

    তিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারও বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    শিবির সভাপতি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আগামী ৩৬ দিনব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রশিবিরের জনশক্তি, ছাত্রসমাজ এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক এবং ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতারা।

  • সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

    সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

    রোববার সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের আয়োজনে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, মধ্যাহ্নভোজে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ২১ জন এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৬ জন অংশ নেন।

    জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারপ্রধানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

    উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

    এ ছাড়া, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন, উত্তর প্লাজায় ফটোসেশন এবং সংসদ অধিবেশন কক্ষে সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছে তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বান্দরবানের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বান্দরবানের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা

    বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে এ বিষয়ে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেন যে, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন তার সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালান। শুধু মার্চ-এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে আয় করেছেন ৪৯ হাজার টাকা। যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন সহকর্মীদের বেতন বাবদ। যেখানে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে একটি স্কুল টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে প্রধান শিক্ষক অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। বিষয়টি নজরে আসার পর রাতেই প্রধানমন্ত্রী স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।
    বাজেট বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন, সেই থানচির তিন্দু এলাকার সেই স্কুলটিকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। আজকে মহান সংসদে এ স্লিপটি পাঠিয়েছেন। আমি জানাতে চাই, স্কুলটি জাতীয়করণ করা হবে শিগগিরই।

    ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়লেও অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারেন না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালানো হয়ে পড়ে কঠিন। এই সংকট মোকাবিলায় ছুটির দিনগুলোতে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান থানচি-তিন্দু–-রেমাক্রী নদীপথে। পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করে যা আয় হয়, তার বড় অংশই চলে যায় শিক্ষকদের বেতনে।

  • এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

    আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    আজ শনিবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

    সভায় শিক্ষামন্ত্রী আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে কেন্দ্রসচিবদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। সভায় বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবেরাও অংশ নেন।

    সভায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮ জেলায় ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন শিক্ষার্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

  • ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় দুটি সামরিক বিমান পাঠাচ্ছে তুরস্ক

    ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় দুটি সামরিক বিমান পাঠাচ্ছে তুরস্ক

    তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফডিএ) ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সহায়তা জোরদারে দুটি সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

    এএফডিএ জানিয়েছে, তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান উদ্ধারকারী ও মানবিক সহায়তা দল বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইস্তাম্বুল, ইজমির ও দেনিজলি থেকে ৩৮ সদস্যের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা দল অংশ নেবে।

    এছাড়া বিমানটিতে পাঁচ সদস্যের জাতীয় মেডিকেল রেসকিউ টিম, তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের দুই সদস্যের মানবিক সহায়তা দল, দুটি অনুসন্ধানী কুকুর এবং তিনটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও উদ্ধার যানবাহনও পাঠানো হবে।

    অন্যদিকে, তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিমানে ২২ সদস্যের হিউম্যানিটারিয়ান এইড ব্রিগেড দল এবং তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে।

    এএফডিএ জানিয়েছে, দুটি বিমানই শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন শত শত মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরো বহু মানুষ।

  • কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলি, স্কুলছাত্রসহ আহত ৭ 

    কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলি, স্কুলছাত্রসহ আহত ৭ 

    কুমিল্লা নগরীতে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত প্রেম (১২) নামের এক স্কুলছাত্রকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতরা কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়া।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে কাঁটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের মহড়া দেয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে দাবির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    নাম প্রকাশে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্র প্রেমসহ অন্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। যারা গুলি চালিয়েছে তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারাই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই হামলা। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা এদের আটক করার দাবি জানাচ্ছি।
    বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছে। তবে ঘটনার পরই সন্ত্রাসীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশের অভিযান চলমান আছে।

  • মা-বোনসহ ঢাবির ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন নিহত

    মা-বোনসহ ঢাবির ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন নিহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা এবং দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত যুবক মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীরপাড়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ এবং একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে হকার যুবককে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর সময় তিনি মারা যান।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের তিন সদস্য হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরেক মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা কুমিল্লা জেলার হোমনা পৌরসভার লইট্রা গ্রামের মৃত হকার কামাল হোসেনের স্ত্রী ও মেয়ে। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও কয়েক বছর ধরে তারা লক্ষ্মীপুরে ভাড়া থাকেন।

    নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

    সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, গণপিটুনিতে আহত এক যুবকে হাসপাতালে নিয়ে আনা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর সময় মারা গেছেন।

    এর আগে সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) রাশেদুল জানিয়েছিলেন, ৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।

  • প্রশ্নফাঁসে এমন শাস্তি হবে যা সারা দেশ মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

    প্রশ্নফাঁসে এমন শাস্তি হবে যা সারা দেশ মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্নফাঁস হতে দেয়া যাবে না। প্রশ্নফাঁস যদি হয় তাহলে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এমন শাস্তি হবে যা সারাজীবন বাংলাদেশ মনে রাখবে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষায় কোনো রকম চালাকি চলে না।

  • একসাথে দুই মাসের বেতন পাবে মাদরাসা শিক্ষকরা: শিক্ষামন্ত্রী

    একসাথে দুই মাসের বেতন পাবে মাদরাসা শিক্ষকরা: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষকদের মে ও জুন—এই দুই মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে জুলাই মাসে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি জানি এক মাসের বেতন না পেলে কী দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এনটিআরসিএ থেকে মাদরাসায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের বেতনের বাজেট অ্যালোকেট করেনি। ফলে শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে।

    তিনি বলেন, আগের সরকার এটা জানতেন না যে বাজেট অ্যালোকেট করতে হবে। আমরা দেখেছি যতই সময় গিয়েছে ততই সমস্যা তৈরি করে গিয়েছে যাতে পরবর্তী সরকার কাজ না করতে পারে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। আমরা তা হতে দেবো না।

    তিনি আরও বলেন, আমার হাতে ১০০ কোটি টাকা ছিলো, আমি জনতা ব্যাংকে এই টাকা দিয়েছি। যাদের অ্যাকাউন্ট জনতা ব্যাংকে তারা বেতন পেয়েছেন। বাকিরা পাচ্ছেন না এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই দুঃখ প্রকাশ করার কথা ছিলো বিগত সরকারের তারা তা করেনি। এভাবে চলছে আমাদের বাংলাদেশ।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় রোধে শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। এজন্য শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ড. মিলন বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে আত্মপ্রেরণা ও পেশাগত মর্যাদা অর্জনের মানসিকতা থাকতে হবে।

    পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। অনেকেই ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে। তাই কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থেকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য এলাকাতেও শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

    চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

  • কুবির আইন বিভাগে তালা, শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

    কুবির আইন বিভাগে তালা, শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে না নেওয়া এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভাগে তালা ঝুলিয়ে বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ উত্থাপন করেন।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রকৌশল অনুষদের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগটিতে প্রায় আট মাসের সেশনজট বিদ্যমান। অনেক সময় পরীক্ষার আগের রাতে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয় এবং পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়েই কোর্স সম্পন্ন করা হয়। কারণ ছাড়াই অনলাইন ক্লাস নেওয়া, ইনকোর্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করা ইত্যাদি।

    এছাড়া শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একই কোর্সে একাধিক শিক্ষক দায়িত্ব পালন করায় সেমিস্টার দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিভাগে কোনো সুস্পষ্ট একাডেমিক রোডম্যাপ না থাকা, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস গ্রহণ না করা এবং বারবার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে তা পেছানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

    শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কখনো কখনো একই দিনে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করতে গেলে পদত্যাগের ভয় দেখানো, সনদপত্র আটকে রাখার হুমকি দেওয়া এবং মামলা করার ভয় প্রদর্শনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    কর্মসুচিতে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবি সমূহ হলো –

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স রেজাল্ট প্রকাশ করতে হবে, ৭ মাসের মধ্যে বাকি ২ সেমিস্টার শেষ করার সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স ও ফাইনাল পরীক্ষার পূর্ণ একাডেমিক রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষা শেষের ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে, শিক্ষক সংকট থাকলে গেস্ট টিচার দিয়ে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখতে হবে ও এসব বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং আন্দোলনের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ফল বা একাডেমিক ক্ষতি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    আইন বিভাগ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা সেলিম ছোঁয়া বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছিলো ইনকোর্স পরীক্ষার এক সপ্তাহ পর আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল হবে। সেই হিসেবে আগামীকাল ২৪ জুন আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল হবার কথা। কিন্তু আজকে এসে উনারা বলছেন ১টা কোর্সের প্রথম মিডটার্ম আবার দিতে হবে। আমরা যে বাকি ডিপার্টমেন্টের থেকে পিছিয়ে আছে, সেখানে ওনারা আমাদের সেমিস্টার পিছিয়ে নিচ্ছেন শুধু।

    বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া তাবাসসুম বলেন, গত কয়েক মাসে আমাদের বিভাগে একাধিকবার বিভাগীয় প্রধান পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তাদের নেওয়া কোর্সগুলোর ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কয়েক মাসের সেশনজটে পড়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এত কমসংখ্যক শিক্ষক নিয়ে বিভাগ পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভাগীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রো-ভিসি ম্যাডাম বিভাগে এসে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনেছেন। আগামী সোমবার থেকে তাদের পরীক্ষা শুরু হবে। এছাড়া পরবর্তী দুই সেমিস্টারের একাডেমিক রোডম্যাপ আগামীকালের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

    উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনেছি। এর মধ্যে যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভাগের শিক্ষক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • স্কুলের টিউবয়েলের পানি পান করে হাসপাতালে ৩২ শিক্ষার্থী

    স্কুলের টিউবয়েলের পানি পান করে হাসপাতালে ৩২ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টাঙ্গাইলে স্কুলের টিউবয়েলে থেকে পানি পান করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্ততো ৩২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে টাঙ্গাইলে নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের টিউবয়েলের পানির বিষক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

    এদিকে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় ২ জন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে এবং ৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে থাকতে বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ সকালে কে বা কাহারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারকৃত তরল কীটনাশক প্রয়োগের ফলে এমন ঘটেছে।

    দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সুধী সমাজের সকলে।