শিক্ষা ও সাহিত্য

  • গান গেয়ে ভাইরাল সেই ঢাবি শিক্ষককে অব্যাহতি

    গান গেয়ে ভাইরাল সেই ঢাবি শিক্ষককে অব্যাহতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাকে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    জানা যায়, বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি কর্তৃক সুপারিশ অনুযায়ী বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    সম্প্রতি অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি শাহ আব্দুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে ফেসবুকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পান। তার গাওয়া কয়েকটি গান দ্রুত ভাইরাল হলে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

  • জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু

    জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও জিপিএ-এর ভিত্তিতেই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বছরও নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না— শিক্ষার্থীরা আগের মতোই সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পাবে।

    গত রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কলেজ পরিদর্শকদের এক বৈঠকে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালার খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সব কলেজ পরিদর্শকই বিগত বছরগুলোর মতো এবারও জিপিএ-এর ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু রাখার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। তবে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। পরিদর্শকদের মতে, মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্কুলের ভর্তি আর কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। জিপিএ-র ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি করালে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হয় এবং এতে অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকে না। তাছাড়া, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে সশরীরে একাধিক কলেজে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম হিসেবে দেওয়া সম্ভব। এমনকি প্রথম ধাপে সুযোগ না পেলেও পরের ধাপে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সরাসরি কারিগরি সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মেধা তালিকা ও কলেজ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের সুযোগ নেই বললেই চলে।

    জানা যায়, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে জিপিএর ভিত্তিতে দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও মিশন বা চার্চ পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠান আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এগুলো হলো নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

  • গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জন্য ছাত্রদল নেতার তদবির

    গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জন্য ছাত্রদল নেতার তদবির

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হামিদুর রহমান তায়েফ সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২২ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার কনিকাড়া ব্রিজসংলগ্ন পৌর মেয়র মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, গ্রেফতারের পর তার মুক্তির জন্য ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তদবির বা সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    গ্রেফতার তায়েফ নবীনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী তোফায়েল সরকারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তায়েফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার ও ব্যানার বিভিন্ন স্থানে লাগানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি এলাকায় আলোচনায় আসেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গ্রেফতারের পর তায়েফকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করার জন্য উপজেলা ছাত্রদলের একটি অংশ তদবির চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।তবে কোন মামলায় তায়েফকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

  • শিক্ষার প্রধান সংকট: শিক্ষকের স্বাভাবিক জীবন চলার কষ্ট

    শিক্ষার প্রধান সংকট: শিক্ষকের স্বাভাবিক জীবন চলার কষ্ট

    সিদ্দিকুর রহমান

    স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও ভাবনাহীনভাবে চলছে রাষ্ট্র, সরকার ও আমলাতন্ত্র। তাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা—শিক্ষকরা সাধারণ মানুষ নয়; তাদের সবকিছু যেন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। বৃষ্টির পানির মতো তাদের খাওয়া-দাওয়া, চাওয়া-পাওয়া, অনায়াসে পাওয়া যায়। আমাদের দেশের মতো এমন নিকৃষ্ট ভাবনা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে দৃশ্যমান নয়। সব সরকারই অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিশুদের বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, পোশাক, নানা প্রকল্প অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার উন্নতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিশাল ভবন, অন্যান্য উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে একমাত্র অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া সব সরকারের আমলে শিশু শিক্ষা কম-বেশি উন্নতি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিশু শিক্ষাকে বিপর্যস্ত করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। আর কিছুদিন তারা ক্ষমতায় থাকলে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা সমৃদ্ধ না করে সুনাম বিনষ্ট করে এনজিওর হাতে তুলে দিতেন।

    আদিকালে বিশেষ করে শিশু শিক্ষা বৈঠকখানায়, কাছারি ঘরে, টিনের তৈরি ভাঙা বেড়ায়, মুলি বাঁশের চালে, কোনো কোনো স্থানে গোলপাতার ছাউনির ঘরে হতো। ভাঙা ঘরে একটুখানি বৃষ্টির আভাস পেলেই স্কুল ছুটি দিতে হতো। শিশু শিক্ষার এ রুগণ অবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম এরশাদ সরকারের আমল থেকে। এ ধারা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলে আসছে জ্যামিতিক গতিতে। অথচ শিক্ষার প্রাণ শিক্ষক; তাদের বেতন, ভাতা, জীবনযাপন মান পরিবর্তন তথা বেঁচে থাকার বিষয়ে কার্যক্রম চলছে অতি ধীরগতিতে। সারা বিশ্বে শিক্ষকদের পাশাপাশি আদালতের প্রতি সম্মান বা তাদের আদেশ-নির্দেশ মান্য করা সবার কাছে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলকভাবে করণীয়। বিশেষ করে আদালতের রায় সম্মানজনকভাবে মান্য না করে বা সময়ক্ষেপণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের দেশের আদালতের শীর্ষ হলো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ আদালতের রায় সবাই মানতে বাধ্য।আমাদের প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা ৯ মার্চ ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রাপ্তির পর থেকে মর্যাদা ও সব সরকারি কর্মচারীর মতো দশম গ্রেড পাওয়ার জন্য আবেদন-নিবেদন করে, না পেয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় নিতে হলো। রায় পাওয়ার পর গিঁটু লাগিয়ে সময়ক্ষেপণ কেন? প্রাথমিক শিক্ষকদের খানিকটা অপরাধের জন্য শাস্তির বিরোধিতা করছি না। তবে সর্বশেষ আদালতের রায়ের সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি গিঁটু লাগিয়ে দেওয়ার অপরাধের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের উপদেষ্টাসহ বর্তমান জড়িত সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা কাম্য। আদালতের রায় বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র ও গড়িমসি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনতিবিলম্বে রায় বাস্তবায়ন করে সময়ক্ষেপণের দায়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। প্রশাসনের গতি আনার জন্য এ জবাবদিহি অতীব জরুরি।সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডসহ ৩ দফা সমস্যা অনেকটা মীমাংসিত। বিষয়টি নিয়েও ইতিবাচক পদক্ষেপ অনেকটা ধীরগতি। প্রশাসন, সরকার যেন অনেকটা ঘুমের ঘোরে থেকে সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে এ মীমাংসিত বিষয়টি সমাধান করে প্রাথমিক শিক্ষার এ সমস্যা নিরসনে শিক্ষক সমাজের মুখে হাসি ফুটাতে। দৃশ্যমান এই, বড় বড় কাজ দেখিয়ে শিক্ষকদের অশান্তিতে ও অস্বস্তিকর অবস্থায় রেখে শিক্ষার মান উন্নয়নের কল্পনা শুধু স্বপ্ন। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ, সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, সব পাঠদান বহির্ভূত কাজের চাপ বন্ধসহ শিক্ষকদের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর সমান বেতন স্কেল দিয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করুন। শিক্ষকদের অবহেলায় রেখে যত কিছুই করেন না কেন, বাবুই পাখি কবিতার মতো—বাবুর মতো ষোল আনাই মিছে হতে বাধ্য। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার সমৃদ্ধির সঙ্গে সবার আগে আনতে হবে শিক্ষকের সমৃদ্ধি। এটা বাস্তব সত্য।

  • ছাত্রদলের দুপক্ষের হামলায় উত্তপ্ত বিএম কলেজ

    ছাত্রদলের দুপক্ষের হামলায় উত্তপ্ত বিএম কলেজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বরিশালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উভয় পক্ষই বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং সড়ক অবরোধ করে। এতে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে এ উত্তেজনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের জিয়া সড়কে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব আল আমিন মৃধার মধ্যে আকস্মিক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতুল কলেজের অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী।

    দুপুরের সেই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর আল আমিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অশ্বিনী কুমার হলে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে রাতুলসহ হলের সাধারণ ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    হলের ভেতরে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ছাত্রাবাস থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে আসেন এবং কলেজ সংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে ওই ব্যস্ততম সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    তবে ছাত্রদলের অপর অংশের দাবি, সোমবার সন্ধ্যার দিকে নগরীর জিয়া সড়ক এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিনের ওপর হামলা চালায় বিএম কলেজ ছাত্রদলের একাংশের নেতা রাতুল ও তার সহযোগীরা। খবর ছড়িয়ে পড়লে সদস্য সচিবের অনুসারীরা ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে। রাতুল লোকবল নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশসহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

    প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনা ও আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এসব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

    গতকাল রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। আজ সোমবার প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা যায়, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

    জানতে চাইলে আজ বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. লাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি-পদায়নে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সদস্যসচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।

    আন্তবিভাগ শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিভাগীয় উপপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে। একই বিভাগের মধ্যে, তবে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে, সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন বিভাগীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) বদলির আদেশ জারি করবেন।

    এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের পদায়ন ও কর্মরত শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বিভাগীয় উপপরিচালকের (প্রাথমিক শিক্ষা) কার্যালয়ে পাঠাবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই জেলার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন জেলা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে উপজেলা বা থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাবে। একই উপজেলা বা থানার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা আগে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ বদলির আদেশ পেয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

  • রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ছেলের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত

    রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ছেলের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত

    রাজশাহীতে পারিবারিক কলহের জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পড়ুয়া ছেলের লাঠির আঘাতে রেজাউল করিম (৬৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাবির সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে রাকিবুল তার মায়ের পক্ষ নেন। এ নিয়ে বাবার সাথে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রাকিবুল একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে রেজাউল গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। ঘটনার পর রাকিবুল মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

    পরিবারের সদস্যরা রেজাউলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। পারিবারিক কলহের জেরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিবুল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • আগামীতে সারাদেশে মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে সারাদেশে মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা একই প্রশ্নে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার যেসব বিষয় কমন, তাদের প্রশ্নও একই করা হবে। আমরা শিক্ষায় কোনো বৈষম্য চাই না’ সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের জনসংখ্যা কমছে, আমাদের বাড়ছে, এটা কোনো অভিশাপ নয়। এটাকে মানব সম্পদে রূপান্তর হতো তাহলে অভিশাপ বলতে হতো না। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতাম তাহলে সম্পদ হতো। আমরা কারিগরি শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

    শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা অবসরে চলে গেছেন হাইকোর্টের মামলার কারণে। ২০১৭ সালে এই সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু এতদিন কেউ এটি এড্রেস করেনি। আমি মন্ত্রী হওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকদের মামলা চলে, ফলে দেশে ৬৫ হাজারের মধ্যে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি পান না। আমি সংসদে বলার পর সেটি আদালতের নজরে এসেছে। ২ জুলাই এটি সমাধান হবে। এমপিও শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

    মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি মাসে ৫০০ কোটি টাকা বেতন দিতে হয়। আগের সরকার নিয়োগ দিয়েছে কিন্তু বেতনের ব্যবস্থা করেনি। এই শিক্ষকদের বেতনের বাজেট ছিল না।’ ভবিষ্যতে তাদের নিয়মিত বেতন হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি।

    ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আগামীতে ক্রমান্বয়ে আমরা শিক্ষায় জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ ক্রস করবো। কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো করতে হলে আপনাদের লেখাপড়া ছাড়া যা দরকার তা আপনাদের কাছে নেই। আমি প্রথম ব্লু-ইকোনোমির কথা প্রথম শুনেছিলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুখে। আমারা দেখেছি উনি ছাত্রদের কীভাবে উৎসাহিত করতেন, শুধু রাজনীতি নয় এর পাশাপাশি লেখাপড়াও করতে হবে।’

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে বগুড়া ইউনিভার্সিটি বিল পাস করেছি। সেখানে নতুন-নতুন বিষয় থাকবে। এই প্রথম ইউরোপ আমেরিকার মতো একটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে। নোয়াখালীতেও এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন সাহেবের কাছ থেকে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব আমরা পাবো বলে আশাকরি।’
    অনুষ্ঠানে ৪৯ জন কৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. গোলাম রব্বানী।

  • প্রাথমিকে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুখবর

    প্রাথমিকে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের মামলার সমাধান জুলাইয়ের ২ তারিখ হবে।তাহলে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবো।

    সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ডিনস ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষকদের মামলা চলমান থাকায় দেশে ৬৫ হাজারের মধ্যে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি পায়না। আমি সংসদে বলার পর সেটি আদালতের নজরে এসেছে। আগামী ২ জুলাই এটি সমাধান হবে। ফলে আমরা আগামী তিন মাসের ভেতরে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।

  • এইচএসসির শনিবারের পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

    এইচএসসির শনিবারের পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসির (উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট) শনিবারের পরীক্ষা নিয়ে সব জেলা প্রশাসককে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের শনিবারের পরীক্ষা ভিন্ন সূচিতে নেয়ার বিষয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (২২ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সব জেলার জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

    তে বলা হয়েছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারণে সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

    তবে শর্ত থাকে যে, এ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা শনিবার সকাল ১০টার আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবে ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের সাথে প্রবেশপত্রে বর্ণিত দ্রব্যের বাইরে কিছু থাকবে না। কোন অবস্থাতেই তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না এবং বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না।

  • প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি পরিচালনায় কমিটি চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন

    প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি পরিচালনায় কমিটি চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বদলি নিয়ে ভোগান্তি ও মন্ত্রণালয়ে তদবিরের ভিড় ঠেকাতে এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়। সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, পর্যালোচনা এবং নিষ্পত্তিকরণের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করছে সরকার।

    সোমবার (২২ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    বিস্তারিত আসছে….

  • পাঠদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    পাঠদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে। ক্লাসরুম এডুকেশন দিতে হবে, ক্রিয়েটিভ এডুকেশন আনতে হবে। শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতেই হবে।

    সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের শিক্ষকরা নিজের স্কুলে নিজের ছেলে-মেয়েকে পড়ান না, কতটা আত্মবিশ্বাস কম। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মানসিকতা। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেনো ওই প্রতিষ্ঠান বানাতে পারেন না – এই প্রশ্নটা আপনাকে করতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তার মতো আপনারাও সার্ভিসটা দেবেন নাকি? আপনারা ইনহাউজ কোচিং করান। এখানে মোড় দেন টু হান্ট্রেড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান রয়েছেন। আপনারা ইনহাউজ কোচিং না করলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো করবেন। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসির সিলেবাস শেষ হয়েছে, তাদের ইনহাউজ কোচিং করান। তাহলেই রেজাল্ট বাড়বে। সবাই মিলে ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কতজন স্কুলের শিক্ষক আছেন এখানে যিনি নিজের স্কুলেই নিজের সন্তানকে পড়ান? নিজের স্কুলে নিজের ছেলে-মেয়েকে পড়ান না কতটা আত্মবিশ্বাস কম। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মানসিকতা। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেনো ওই প্রতিষ্ঠান বানাতে পারেন না – এই প্রশ্নটা আপনাকে করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছেন? আমি জানি না এভাবে আর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এভাবে সাধারণ জীবন-যাপন করেন কিনা। আপনারা দেখেছেন কিনা। তিনি চান একটি যোগ্য প্রজন্ম। নকল প্রতিরোধ কে করেছিলেন? মিলন নাকি আপনারা? আগামী প্রজন্ম তৈরি কে করেছিলেন। আপনারাই তো করেন। প্লিজ আপনাদের স্কুলে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ান। আপনি কি মনে মনে করেন না, আপনি যেগ্য?

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাতারাতি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। আমি নতুন পদ্ধতিতে গেলাম। আমি বললাম আগেই ট্রের্নিংয়ে যেতে হবে। আমাদের এতো হাজার শিক্ষকে ট্রের্নিং দেয়ার সক্ষমতা নেই। তাই আমি দুই মাস ট্রের্নিংয়ের ব্যবস্থা করলাম। এরপর তারা জয়েন করবেন।

    মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। সেটা নিয়েও মামলা, আটকে দেয়। আরে কোথায় যাবো। যেইটা করি সেইটায় মামলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩০ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। আমার নিজেরও কয়েকটা মামলা রয়েছে। আদালত সুদৃষ্টি এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর। প্রতিটি মামলার জট খুলে যাবে। আমরা আস্তে-আস্ত শিক্ষক নিয়োগ শুরু করবো। এনটিআরসিএতে ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছেন। রংপুরের শিক্ষক কচুয়ায় চাকরি করছেন, কুমিল্লার শিক্ষক বরিশালে চাকরি করছেন, তারা সবাই বসে আছেন। যত শিগগির পারি ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করতে, আমরা এগুলো নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করছি।

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি ২‘শ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এরমধ্য থেকে আমি আশাকরি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষদের টাকা দেবো। আমাদের শুরুটা করতে হবে।

  • শিক্ষকদের নিয়েপরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    শিক্ষকদের নিয়েপরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশে ২০২৮ সালের পর কোনো প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ নীতি প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে শিশুকে। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে শেখা তাদের কাছে বোঝা না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে উঠে।

    সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর মাল্টিপারপাস হলে আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক এর যৌথ আয়োজনে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নীতিমালা শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি এনসিটিবিকে অযাচিত প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগতভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক যদি আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনোই অর্জন করা যাবে না।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ওয়ান-শিফটে রূপান্তরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই শিফটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ওয়ান-শিফট স্কুলে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম.তামিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা

    ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

    সোমবার (২২ জুন) দেশজুড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী আখ্যা দিয়ে তাদের সব কার্যক্রম কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দেন। শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের জনগণ হত্যা, গুম, নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর দেখতে চায় না।’

    তিনি আরও বলেন,‘ অতীতে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তারা যদি কোনোভাবে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করে, তাহলে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের আলোকে যেকোনো অগণতান্ত্রিক ও জনবিরোধী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে স্বৈরাচার বাংলাদেশের জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, হত্যা, গুম ও খুন করেছে, তাদের বাংলাদেশের মাটিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি আমাদের পাহারা দিতে হবে। ছাত্রলীগ যাতে বাংলাদেশ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ ২৩ তারিখ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করবে। তাদের মোকাবিলায় আমাদের ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে হবে।’

  • মাদক কারবারে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত: শিবির সভাপতি

    মাদক কারবারে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত: শিবির সভাপতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারের পুরো সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত: ছাত্রশিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘সরকারের পুরো সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকে তারা স্থিতিশীল থাকতে দেয় না। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমরা রাজাকার হয়ে যাই। সিলেটের ডিসি মাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার এক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।’

    সোমবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্লেম দেয় বাজেটে মাদকের দাম বাড়ানোর কারণে নাকি জামায়াত অখুশি। একটা ভুয়া ফেক ফটোকার্ড দেখে প্রধানমন্ত্রী এমন কথা বলেন। করুণা হয়, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বাজেটের নিয়ম সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আইন-কানুন সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে আমার ধারণা। তিনি রাষ্ট্র চালাচ্ছেন। মিথ্যা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

    সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।

    আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান এবং সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।

  • বহাল থাকছে বিসিএসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা

    বহাল থাকছে বিসিএসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাইভার মোট নম্বর ২০০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বর বহাল থাকবে।

    রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

    মন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের (এস.আর.ও. নং ৪১২-আই/২০২৪) মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনের বিধি ১৮-এর উপ-বিধি (১)-এর টেবিল অনুযায়ী ভাইভার এই নম্বর পরিমার্জন করা হয়। চলমান ৪৭তম বিসিএস থেকেই ১০০ নম্বরের এই নতুন নিয়মে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, বিশেষ বিসিএস হিসেবে পরিচিত ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসেও ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ মে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালা ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’-এর বিশেষ বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল। আসন্ন ৫০তম বিসিএস এবং এর পরবর্তী সব বিসিএস পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিএস পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও বৈষম্যহীন হবে বলে জানান তিনি।

  • জার্মানির ডাড স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

    জার্মানির ডাড স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জার্মানি সরকারের ‘ডাড হেলমুট-শ্মিট মাস্টার্স স্কলারশিপ’ এর আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন। উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশীদের জন্য এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি।

    জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস ডাডের সহযোগিতায় পরিচালিত এই বৃত্তির লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে মেধাবী ও গবেষণামুখী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা। বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতায় অবদান রাখতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আধুনিক গবেষণাগার, উচ্চমানের একাডেমিক পরিবেশ এবং জার্মান শিক্ষাব্যবস্থার উৎকর্ষ এই প্রোগ্রামকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

    কী কী সুবিধা থাকছে

    নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির আওতায় পাবেন একাধিক আর্থিক ও একাডেমিক সুবিধা—

    মাসিক ভাতা: পিএইচডি পর্যায়ে প্রায় ১,৩০০ ইউরো এবং মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ৯৩৪ ইউরো

    বিমা সুবিধা: স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা ও দায়বদ্ধতা বিমা

    ভ্রমণ ভাতা: নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে বিমানভাড়ার সহায়তা

    অতিরিক্ত সহায়তা: আবাসন ভাতা ও পারিবারিক ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা

    গবেষণা সুযোগ: আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ।

    প্রয়োজনীয় নথিপত্র

    আবেদনকারীদের নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে—

    অনলাইন আবেদন ফরম

    হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (CV)

    ইংরেজি দক্ষতার সনদ

    মোটিভেশন লেটার

    দুটি সুপারিশপত্র

    বৈধ পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র

    ব্যক্তিগত বিবৃতি

    আবেদনের যোগ্যতা

    আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের অবশ্যই—

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে

    মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য স্নাতক ডিগ্রি এবং পিএইচডির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে

    সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে

    ভালো ফলের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে

    প্রোগ্রাম অনুযায়ী ইংরেজি বা জার্মান ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে

    আবেদন প্রক্রিয়াআগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমে ডিএএডি বৃত্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ইউনিভার্সিটি অব গটিঙ্গেনের অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় সব নথি আপলোড করতে হবে। যাচাই শেষে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    আবেদন শেষ তারিখ: ১৫ নভেম্বর ২০২৬

  • ডিগ্রি নয়, মানুষ হওয়াই মূল লক্ষ্য: সাঈদ আল নোমান

    ডিগ্রি নয়, মানুষ হওয়াই মূল লক্ষ্য: সাঈদ আল নোমান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একজন মানবিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস-চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

    শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘ইডিউডিএস ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাঈদ আল নোমান বলেন, শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে কেবল ডিগ্রি নয়, বরং মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডিগ্রির চেয়েও বড় বিষয় হলো নিজেকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা এবং ভালো মানুষ হওয়া।

    বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের মানুষের উপকারে আসার মতো করে নিজেকে তৈরি করতে হবে। এটাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য। ক্যাম্পাসভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও চিন্তার বিস্তার ঘটায়।

    তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিতর্ক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে এবং সহমর্মিতা বাড়ায়, যা মানবিক সমাজ গঠনে সহায়ক।

    ইডিউডিএস ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হয় ‘ভোর হলে শহর জাগে, যুক্তি হলে মানুষ’ স্লোগানে। এটি আয়োজন করে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ইডিউডিএস)।

    প্রতিযোগিতায় দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৩২টি স্কুল-কলেজের বিতার্কিকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ইডিউডিএস’র সাধারণ সম্পাদক মেহেবুবা কবির। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজিম উদ্দিন। এতে উপস্থিত ছিলেন টাইটেল স্পনসর প্রত্যাশীর নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম, ও মেইসিজ’র শাখা ব্যবস্থাপক রিপা দে; বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, শাহাজালাল ইসলামি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাশেদ সরোয়ার, এছাড়া শিক্ষাবিদ, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

  • ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড

    ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে নিউজিল্যান্ড। নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। খবর এনডিটিভির।

    নতুন নীতিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ নামে একটি নতুন ভিসা চালু করা হয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে সর্বোচ্চ ছয় মাস নিউজিল্যান্ডে থেকে চাকরি করতে পারবেন।

    এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৫ থেকে ৭-এর পূর্ণকালীন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোর্সের মেয়াদ কমপক্ষে ২৪ সপ্তাহ হতে হবে। এছাড়া ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ৫ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার থাকতে হবে এবং স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

    তবে এই ভিসায় ব্যবসা শুরু করা যাবে না, পরিবারের সদস্যদের স্পনসর করা যাবে না এবং এটি জীবনে একবারই পাওয়া যাবে।

    এ ছাড়া পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। এখন যেসব শিক্ষার্থী লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করবেন, তারা এক বছরের ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা তার পড়াশোনা নিউজিল্যান্ডের গ্রিন লিস্টভুক্ত পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।

    গ্রিন লিস্ট হলো এমন পেশার তালিকা, যেখানে নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি রয়েছে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা এবং শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা দুটোই একবারের বেশি পাওয়া যাবে না। তাই শিক্ষার্থীদের কোর্স নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আগে থেকেই সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

  • ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত

    ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    রোববার (২১ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এ সময়জুড়ে কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তার মানবতাবাদী ও বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক

    ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

    সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “সবাইকে শুধু প্রথাগত উচ্চ শিক্ষা দিয়ে দেশে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না। আমাদের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করাসহ বিশ্ব নেতৃত্বে অবদান রাখতে পারে। আর সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার নতুন শিক্ষাব্যবস্থা সাজাচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে এখন থেকে স্কুল পর্যায় অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

    পরীক্ষাপদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, দেশে নতুন ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ পাস হয়েছে। এই আইনের আওতায় এখন থেকে পরীক্ষার হলে বা বাইরে যেকোনো ধরনের ‘ডিজিটাল নকল’ বা প্রযুক্তিগত জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অপরাধীদের কঠোর সাজার মুখোমুখি হতে হবে।

    রোটারি বাংলাদেশের এই লিডার্স ট্রেনিং সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রোটারিয়ান ও শিক্ষানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে রোটারির মতো সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সরকারের পাশাপাশি কাজ করার আহ্বান জানান।

  • মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু হবে; প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যমিক পর্যায়েও গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু হবে; প্রধানমন্ত্রী

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি চাই শুধু প্রাইমারি স্কুল না এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আমরা সেকেন্ডারি স্কুলে শুরু করবো। কাজেই তোমাদের ওয়েল প্রিপেয়ার্ড হতে হবে।

    শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেলাধুলা নয় এর পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই কিন্তু আমরা সুন্দর ও স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারবো।

    তিনি বলেন, আজকে ফুটবল ওর্য়াল্ডকাপ হচ্ছে। এখানে মেসি, রোনালদো ও এমবাপ্পে খেলছে, তোমাদের মধ্য থেকে এমন খেলোয়াড় তৈরি হতে হবে। আমরা এইম করছি, অলিম্পিকে আমাদের রেজাল্ট যেনো ভালো হয়।

    খেলা ছাড়লে হবে না। যে যে খেলা পছন্দ করবে সে সেই খেলা করতে হবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশকে একটা স্ট্রং বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি ফেমাস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের বলছি, তোমাদের শুধু খেললে চলবে না, তোমাদের মধ্যে অনেকেই আছো অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যত

    আগামীর বাংলাদেশ তোমাদেরকেই চালাতে হবে। আমরা তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের চেয়ে ভালোভাবে তোমাদের বাংলাদেশ চালাতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজকদের আমি বলবো আপনার গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এই খেলাকে যেনো তারা গিনেসবুকে দিতে পারেন।

    তিনি বলেন, আজ সারা বিশ্বে আমাদের ক্রিকেট টিমকে চেনে। তেমনি ফুটবল দিয়েও সারা বিশ্বের মানুষ আমাদের চিনবে। অন্যান্য খেলা দিয়েও চিনবে ইনশআল্লাহ। সারা বিশ্বের অ্যাম্বাসেডর হবে তোমরা। সবকিছু দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে। আমরা যারা বড় আছি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি আমাদের থেকে ডাবল, ত্রিপল এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে দেশকে। আমরা যখন ছোট ছিলাম এতো সুন্দর খেলতে পারতাম না। এখন কাজ হলো লেখাপড়া করতে হবে। শুধু লেখাপড়া করলেও হবে না। শুধু খেললেও হবে না একই সঙ্গে কালচারাল অ্যাক্টিভিসসহ সব চর্চা করতে হবে।

    আজকে এখানে যারা জিতেছে, রানার্সআপ হয়েছে তাদের আমাকে কনগ্রাচুলেট জানাতে হবে। আমি কনগ্রাচেলেট করতে চাই পুরো ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে। একই সঙ্গে শিক্ষক-অভিভাবকে কনগ্রাচেলেশন জানাই।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মামলার রায় ২ জুলাই

    প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মামলার রায় ২ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মামলাজটের কারণে আটকে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের পদোন্নতি। শূন্য থাকা এই পদগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব না হওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই সমসংখ্যক পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটিও এখন থমকে গেছে। এ অবস্থায় স্থবির হয়ে পড়া শিক্ষা প্রশাসনে গতি ফেরাতে শিক্ষা-সংক্রান্ত মামলাগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার সম্পন্ন বিশেষ বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৮ হাজার ৫৫৮টি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১ হাজার ১২০টি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ হাজার ৯১৪টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ভাগ্য।

    মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হলো—২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে জ্যেষ্ঠতার (গ্রেডেশন) তালিকা তৈরি, প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কেল প্রাপ্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের দাবি। এ নিয়ে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে হাইকোর্টে প্রথম একটি রিট দায়ের করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি রিট হয়। হাইকোর্ট এসব রিটের ওপর রায় দেওয়ার পর, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায় (সিভিল আপিল নং- ৭৩/২০২৩)।

    গত ১৮ জুন এই সিভিল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে এবং আপিল বিভাগ আগামী ২ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। মূলত এই একটি মামলার সঙ্গেই সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি এবং দেশের সমসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, আগামী ২ জুলাই কাঙ্ক্ষিত রায়টি হলে শিক্ষা খাতের এই বিশাল আইনি জটিলতা ও স্থবিরতার অবসান ঘটবে।

    সম্প্রতি জাতীয় সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে করা এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা খাতের মামলাজট নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    তিনি বলেন, আইনি জটিলতা ও মামলার বেড়াজালে আটকে থাকার কারণে আমরা শিক্ষক নিয়োগ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারছি না। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় চার মাস কেটে গেল। দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালত পাড়ায় এই মামলাগুলোর জট খোলার জন্য আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মামলাগুলো এখনও আপিল বিভাগের কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে, সারা দেশেই যে তীব্র শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে।

    সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, আপিল বিভাগে অন্তত পাঁচবার মামলাটি শুনানির চেষ্টা করা হলেও বেঞ্চ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ২ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই রায়টি হলে শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকাল

    একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকাল

    একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সার্জিক্যাল আইসিউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যাসহ মাল্টি অর্গান ফেইলিয়র নিয়ে ২৩ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাসায় ফিরে প্রায় দুই সপ্তাহ কিছুটা সুস্থ ছিলেন। ফের সমস্যা বাড়তে থাকায় ৪ জুন উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে ১৫ জুন পর্যন্ত রাখা হয়।

    কবির কন্যা পরমা বলেন, ‘বাবার কিডনি ফাংশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরিন করতে পারছিলেন না। ফলে পুরো শরীরে এসিড ছড়িয়ে পড়ে। সেইসঙ্গে হার্টবিট অনেক হাই হয়ে যায়। এর মধ্যে একটা মাইনর হার্ট অ্যাটাকও হয়।

    এমন অবস্থায় তাকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় সেখানে থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-এ নেওয়া হয়।

    কবি আল মুজাহিদী এক সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

    কবি আল মুজাহিদী কবিতা, উপন্যাস, শিশু সাহিত্য অনুবাদসহ অনেক শাখায় কাজ করেছেন। তার অনেকগুলো গ্রন্থও রয়েছে। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে- হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে উল্লেখযোগ্য।

    উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রূপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ।

    ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ।

    কালান্তরের যাত্রী নামে তার গবেষণা গ্রন্থও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিশু সাহিত্যগ্রন্থের মধ্যে ‘হালুম হুলুম’, ‘ তালপাতার সেপাই’, ‘ শেকল কাটে খাঁচার পাখি’, ‘ সোনার মাটি রূপোর মাটি’ ও ‘ ইস্টিশানে হুইসেল’ অন্যতম।

    কবি আল মুজাহিদীর সমাজ ও সমাজতত্ত্ব নামে প্রবন্ধগ্রন্থও রয়েছে। অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ কাইফি আজমির কবিতা’, ‘ পৃথিবীর কবিতা’, ‘ আহমদ ফরাজের কবিতা’, ‘ ঊর্দূ কবিতা’, ‘হিন্দি কবিতা’ ও ‘ হাইনরীশ হাইনে’র কবিতা।

    তার জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’, ‘ কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার’, ‘মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’, ‘ শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার’, ‘ জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’ , ‘বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক’ ও ‘ একুশে পদক’ পেয়েছেন।

  • পরীক্ষার ফল পরিবর্তন  করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড

    পরীক্ষার ফল পরিবর্তন করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা যাবে। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে সংগঠিতভাবে জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    এমন বিধান রেখে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্স—সংশোধন) অ্যাক্টের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বৈঠকে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বলা হয়, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১, ওই বছরের ১৫ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও সেটি কার্যকর করা হয়নি।

    জুয়া প্রতিরোধ আইন

    বৈঠকে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ হওয়ায় অনলাইন ও অফলাইন নানা ধরনের জুয়া কার্যক্রম বিস্তার লাভ করছে। ফলে জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস, আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করতে এসব জুয়া কার্যক্রমের ওপর সমসাময়িক উৎকর্ষিত প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে যথাযথ তত্ত্বাবধান ও আইনগত কাঠামো প্রদান করে রাষ্ট্রের সার্বিক নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭–এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া বৈঠকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে মাদক পাচার ও অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরন, মাদকসংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমে উদ্ভূত বাস্তব সমস্যাগুলো নিরসন করতে আইনটির কিছু ধারা সংযোজন ও সংশোধন করে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়।

  • এবার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের নিজ নামে স্কুল!

    এবার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের নিজ নামে স্কুল!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দুই ছেলে ও ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব উঠেছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জমা পড়ে। এরপর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে মতামত দিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সরকারী সচিব শিরিন আক্তার স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলেন, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে নামকরণের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরজমিন পরিদর্শন করে সুস্পষ্ট মতামত ও যৌক্তিকতাসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠাতে বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। এর

    আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও এক ভাতিজির নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ওই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ইউনিয়নের নাম স্থানীয় জনগণের মতামত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বগুড়ার শিবগঞ্জ এবং নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এই গেজেট প্রকাশিত হলে নতুন তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

    শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। অন্যদিকে নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন তিনটি ইউনিয়নে নামকরণ করা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।

    অভিযোগ উঠেছে মীর শাহে আলম তার পৈতৃক বাসভবন ‘মীরবাড়ী’র নামে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন। অন্যদিকে তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

    আর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রতিমন্ত্রীর এক ভাতিজিকে পরিবারের সদস্যরা ‘স্বর্ণ’ নামে ডাকেন। এ কারণে মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, তিনি নিজের সন্তানদের নামে কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করেন। এটি মিরাক্কেল বা কাকতালীয় ঘটনা।

  • সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের কড়া সতর্কবার্তা

    সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের কড়া সতর্কবার্তা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।সামাজিক গমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করা সকল সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক।

    অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন, যা নির্দেশিকার পরিপন্থী। এসব পোস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

    নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া এবং সেসব পোস্ট শেয়ার করাও সরকারি চাকরির আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি, অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    একই সঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সব বিভাগীয় উপ পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

  • পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নকল রোধে যুক্ত হচ্ছে নতুন সাজা

    পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নকল রোধে যুক্ত হচ্ছে নতুন সাজা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষা আইনে ডিজিটাল নকলের সাজা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে পরীক্ষার ফলাফল, মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত লিডার্স ট্রেনিং সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা বিশ্ব নেতৃত্ব দিতে পারে। আর বর্তমান সরকার, সেভাবেই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

    এহসানুল হক মিলন বলেন, সবাইকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না। সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে।

  • একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

    একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

    একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সার্জিক্যাল আইসিউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যাসহ মাল্টি অর্গান ফেইলিয়র নিয়ে ২৩ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাসায় ফিরে প্রায় দুই সপ্তাহ কিছুটা সুস্থ ছিলেন। ফের সমস্যা বাড়তে থাকায় ৪ জুন উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে ১৫ জুন পর্যন্ত রাখা হয়।

    বাড়িতে নিয়ে আসার একদিন পরেই অসুস্থ হয়ে পরায় ১৬ জুন ফের উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ৮৬ বছর বয়সী আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে শয্যাসায়ী। আল মুজাহিদী একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

    সাহিত্যের সকল শাখায় বিচরণকারী এই গুণী ব্যক্তিত্ব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কবিতা, উপন্যাস, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্যে অসংখ্য কালজয়ী কাজ উপহার দিয়েছেন।

    হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ‘যুদ্ধ নাস্তি’, ‘মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা’ প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। ‘প্রথম প্রেম’, ‘চাঁদ ও চিরকুট’, ‘প্রপঞ্চের পাখি’ – উপন্যাস ও গল্প ।

    সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ ছাড়াও জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুন মাসের বেতন বিল সাবমিটের নির্দেশ

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুন মাসের বেতন বিল সাবমিটের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুন মাসের বেতনের বিল সাবমিটের অপশন চালু করা হয়েছে। ২২ জুনের মধ্যে এ বিল অনলাইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে সাবমিট করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুন-২০২৬ মাসের এমপিও ইএফটি বিল সাবমিট অপশন চালু হয়েছে। নির্ধারিত সময় (২২ জুন) মধ্যে বিল সাবমিট সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ৮ জুন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। মন্ত্রণালয় অনুমোদনের পর সরকারি আদেশও (জিও) জারি করা হয়। এরপর শিক্ষকরা অন্যান্য কার্যক্রম শেষে টাকা হাতে পেয়েছেন।

    সূত্র জানায়, মোট ৩ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী ছিলেন। এর মধ্যে স্কুলের ৩ লাখ ৪ হাজার ৫৪১ জন ও কলেজের ৮৮ হাজার ২৪৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী ছিলেন।

  • ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

    ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্থান দিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত বিশ্ব সাহিত্য অভিধান দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ফরাসি জ্ঞানকোষ ও অভিধান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস–এর প্রকাশিত তথ্যভাণ্ডারে নজরুলকে বাংলা ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    লারুস–এর তথ্য অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম চুরুলিয়া, ১৮৯৯ -মৃত্যু ঢাকা, ১৯৭৭। বাংলা ভাষার একজন কবি এবং তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন “পোএৎ র‍্যবেল্” বা “বিদ্রোহী কবি” নামে। সেখানে তার সাহিত্যকর্মকে দেশপ্রেম, সামাজিক চেতনা ও মানবিক অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ গীতিকাব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে নজরুলের উল্লেখযোগ্য রচনার উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) এবং ‘ভাঙার গান’–এর নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।

    কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারীর মতে, ইউরোপের একটি স্বীকৃত ও দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্যভিত্তিক জ্ঞানকোষে নজরুলের অন্তর্ভুক্তি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক পরিচিতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

    তিনি বলেন, এটি কেবল একজন কবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ঐতিহ্যের বৈশ্বিক উপস্থিতিকেও নির্দেশ করে।

    কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের সভাপতি কবি সোহেল আহমদ বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার সাহিত্য আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

    তিনি আরও জানান, ফরাসি কমিউনিটির মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করতে তাদের সংগঠন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ফরাসি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস–এর দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর বিশ্বজুড়ে সাহিত্য, লেখক ও সাহিত্যধারার ওপর বিস্তৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য পরিচিত।

    এ এম

  • ক্যালকুলেটর-হাতঘড়ি নিয়ে এইচএসসি বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত

    ক্যালকুলেটর-হাতঘড়ি নিয়ে এইচএসসি বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত

    শিক্ষো ডেস্ক:

    আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সাধারণ ক্যালকুলেটরসহ নির্ধারিত ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এছাড়াও ব্যবহার করা যাবে নন প্রোগ্রামেবল কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি।

    বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নির্ধারিত মডেলগুলো হলো, এফএক্স-৮২এমএস, এফএক্স- ১০০এমএস, এফএক্স-৫৭০এমএস, এফএক্স-৯৯১এমএস, এফএক্স-৯৯১ইএস, এফএক্স-৯৯১ইএক্স, এফএক্স-৯৯১ইএস প্লাস, এফএক্স-৯৯১সিডাব্লিউ। উল্লেখিত মডেলের ক্যালকুলেটর ছাড়াও শিক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।

    প্রসঙ্গত, এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। রুটিন অনুযায়ী, শুরুর দিনে বাংলা প্রথম পত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৮ আগস্ট শেষ দিনে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা – ২য় পত্র, শিশু বিকাশ ২য় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। আবার দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

  • পরীক্ষায় ফি দিতে হবে না সরকারি প্রাথমিকে

    পরীক্ষায় ফি দিতে হবে না সরকারি প্রাথমিকে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে প্রাথমিকে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য আর বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষানীতি বজায় রাখা এবং অভিভাবকদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক দ্রুত অবহিত করবেন।

    মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল (স্কুলে খাবার) কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীবান্ধব আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে পরিবারগুলোর ব্যয় যতটা সম্ভব কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তারই অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    গত শনিবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, বরাদ্দ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পরীক্ষা নিতেই হবে, আর এর জন্য টাকা দরকার। কিন্তু এখন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি নেওয়া হবে না। ফি নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব।

    সচিবের এই অদ্ভুত ঘোষণার পরপর দৈনিক আমাদের বার্তা ও দৈনিক শিক্ষাডটকম পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদনে অভিভাবকদের মতামত তুলে ধরা হয়। যেখানে অভিভাবকরা সচিবের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

    তবে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলেন, নির্ধারিত ফি টাকার অঙ্কে খুব বেশি না হলেও বিষয়টি নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়া হলে তা অবৈতনিক শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

    দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। বছরে সাধারণত তিনটি পরীক্ষা—ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক অনুষ্ঠিত হয়।

  • এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

    এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর আশপাশের যানজট ও জনদূর্ভোগ কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত।

    বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ বিষয়টি জানানো হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে

    এতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর আশপাশের যানজট ও জনদূর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে কেবলমাত্র পরীক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রবেশের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা বহাল থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ করা হলো।

    প্রসঙ্গত, এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। রুটিন অনুযায়ী, শুরুর দিনে বাংলা প্রথম পত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৮ আগস্ট শেষ দিনে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা – ২য় পত্র, শিশু বিকাশ ২য় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। আবার দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

  • আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

    আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

    সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে হাজিরা দিতে আমগাছে উঠেছেন মোহাম্মদ আবু তাহের নামে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষক। নেটওয়ার্ক সংযোগ পেতে তিনি গাছে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

    সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    সম্প্রতি সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। যা ১৫ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী- প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়েছেন মোহাম্মদ আবু তাহের।

    এদিন আবু তাহের অনলাইনে হাজিরা দিতে যান। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক নেই। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজে পাশের পাহাড়ের চূড়ায় একটি আমগাছে ওঠে ডালে দাঁড়িয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। পরে কোনো রকম নেটওয়ার্ক পাওয়ায় অনলাইনে হাজিরা দিতে পারেন তিনি।

    আবু তাহের জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী হাজিরা দিতে গিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। তার বিদ্যালয়টি পাহাড়ের প্রায় কয়েকশ ফুট নিচে অবস্থিত। এদিন সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথমে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক পাননি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে চেষ্টা করেন। কিন্তু এতেও নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পাশের একটি আমগাছের ডালে ওঠে কোনোরকম নেটওর্য়াক পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

    তিনি বলেন, চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে বাধ্য হতে হয়েছে, চাকরি না থাকলে পরিবারে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ান চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে প্রথমদিন ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

    জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতলের শিক্ষকরা অনলাইন হাজিরা সহজে দিতে পারলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক কঠিন। রাঙামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগও স্থাপিত হয়নি। এমনকি জেলা সদরের অনেক এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। তাই পাহাড়ি এলাকার জন্য বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথমদিন (১৫ জুন) ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের অনলাইনে হাজিরা পাওয়া যায়নি।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    এ এম

  • মাদককাণ্ডে জাবির ২ নারী শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    মাদককাণ্ডে জাবির ২ নারী শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের একটি কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের ঘটনায় দুই নারী শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    একই সঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৬ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুজা তিথি এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসী।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’ লঙ্ঘন করেছেন। ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং আবাসিক হলে দেশি-বিদেশি যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, সেবন বা বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় তনুজা তিথি ও সানজিদা আমীর ইনিসীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তনুজা তিথির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে হল প্রশাসন। কক্ষটি তনুজা তিথির নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সানজিদা আমীর ইনিসী। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

  • গুচ্ছে মনোনীতদের ভর্তি শুরু ৭ জুন

    গুচ্ছে মনোনীতদের ভর্তি শুরু ৭ জুন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রথম পর্যায়ের সাবজেক্ট চয়েসের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই ফলাফলে মনোনীত শিক্ষার্থীদের আগামী রোববার (৭ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বুধবার (১০ জুন) রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে।

    শুক্রবার (৬ জুন) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার টাকা ভর্তি ফি পরিশোধ করে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে। কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর জিএসটি রোল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

    https://e7afef7b093c60f3cde948ee38cbeb5a.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.htmlএদিকে প্রথম মেরিট লিস্টে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে মনোনীত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন না করলে পরবর্তীতে গুচ্ছভুক্ত অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকবে না। একইভাবে, প্রাথমিক ভর্তি বাতিল করলে পরবর্তীতে গুচ্ছের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যও বিবেচিত হবেন না শিক্ষার্থীরা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু থাকাকালে কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি স্থায়ী (স্টপ মাইগ্রেশন) করলে তিনি আর স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবেন না।

    ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশনা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট এবং অনলাইন ভর্তি নির্দেশিকায় পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • জাবির শিক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর

    জাবির শিক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেট জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ, বেতন অবনমন, পদাবনতি ও বাধ্যতামূলক অবসরের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে প্রায় ১২ ঘণ্টা সিন্ডিকেট সভা চলে। রাত সাড়ে ৪টায় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিন্ডিকেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

    উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটি ও স্ট্রাকচার্ড কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না পান এবং কোনো দোষীও দায়মুক্তি না পান।

  • শিক্ষার ৪ স্তম্ভে পরিবর্তনের ঘোষণা

    শিক্ষার ৪ স্তম্ভে পরিবর্তনের ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য ৪টি মূল স্তম্ভ এবং ১টি নতুন উপাদানের কথা উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, স্ট্রিমসমূহের এলাইমেন্ট (সমন্বয়), প্রযুক্তির সংযোজনের (এআই ও ফিউচার জবস) ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকায় র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে Cambridge International Education আয়োজিত Cambridge Press and Assessment Bangladesh Limited, Launch Event 2026 অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এই ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ২৭টিরও বেশি ধরনের শিক্ষা ধারা বিদ্যমান। এসব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মাদরাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমমানের সুযোগ পায়।

    শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না। তিনি জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কেমব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ভুল চাহিদা দিলে এমপিও বন্ধ হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের

    ভুল চাহিদা দিলে এমপিও বন্ধ হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক শূন্যপদের ভুল চাহিদা দেয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কারণ দশার্নোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শূন্যপদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ঠিক সময়ে তথ্য সরবরাহ না করায় এ নোটিশ দেয়া হয়। কেনো এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত, বাতিল করা হবে না তার জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ শোকজ নোটিশ পাঠায়।

    নোটিশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন পরিচালক (সব), আঞ্চলিক কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো করা হয়। এই চিঠির প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক পরিচালকরা কলেজ পর্যায়ের সব শূন্যপদের সঠিকতা যাচাই পূর্বক উল্লিখিত তথ্য পাঠান। প্রাপ্ত প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক উল্লিখিত কারণে ২৩৭টি পদ ইনকারেক্ট বা ভুল চাহিদা দেয়া হয়েছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভুল চাহিদা প্রাপ্তিতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, অপরদিকে ভুল পদে কোন ব্যক্তি সুপারিশ, নিয়োগ প্রাপ্তির ফলে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। বিধায় উপর্যুক্ত ভুল চাদিহা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক যথাসময়ে তথ্য সরবরাহ না করায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ এর ১৮.১ (ঘ) মোতাবেক কেনো সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমপিও স্থগিত, বাতিল করা হবে না তার জবাব এবং গভর্নিং বডির সভাপতির পদশূন্য ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তার মতামত ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

  • বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা বই পাবে, আশা শিক্ষামন্ত্রীর

    বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা বই পাবে, আশা শিক্ষামন্ত্রীর

    বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পাঠ্যবই হাতে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আশা করছি, এ বছরে ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের বই পৌঁছে দেব। বইগুলি পরিমার্জিত বই এবং বইগুলোর কারিকুলাম অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৮ সালে আমরা নতুন কারিকুলাম নিয়ে নতুন সিলেবাস নিয়ে আমরা আসতে পারব।

    তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন হয়েছে। চারটি বিষয়ে আমরা বই নতুনভাবে দিচ্ছি এবং এ কর্মযজ্ঞ শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে এবার ২৫ ডিসেম্বরের আগেই তাদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে।

    আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে সুন্দরভাবে। প্রশ্নপত্র আউট (ফাঁস) হয়নি, নকল হয়নি এবং দুই মাসের ভেতরে আগামী ২০ জুলাইয়ের ভেতরে রেজাল্টও আউট (ফল প্রকাশ) হয়ে যাবে।

    এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, এর পরবর্তীতে সেশন জট এবং এই যে গ্যাপ রয়েছে আমাদের এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশনের, এই গ্যাপগুলোকে আমরা সমন্বয় সাধন করছি। আশা করছি, ২০২৮-এর মধ্যে আমাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই কলেজ অ্যাডমিশন এবং কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন…। এটাকে আমরা সিংক্রোনাইজ করছি। আমরা কোনো অবস্থায়ই অবহেলায় সময় কাটাব না আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এ যে সিংক্রোনাইজ করছি এসএসসি, এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি এডুকেশন, এখানে যেন ছেলেমেয়েরা বসে না থাকে এবং অযথা যেন কোচিং সেন্টারে যেতে না হয় এবং ক্রিয়েটিভ এডুকেশন, সৃজনশীল লেখাপড়া যেন তারা করতে পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সিলেবাস কারিকুলাম তৈরি করছি।

    অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  • জাকসু জিএসের আবেগঘন পোস্ট

    জাকসু জিএসের আবেগঘন পোস্ট

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে হলের সিট ছেড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন এক পোস্টে হল জীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন।

    সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর যথাসময়ে হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি স্মৃতিময় অধ্যায়। করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নান্দনিক আবাসিক হল মওলানা ভাসানী হলে ওঠেন এবং সেখানেই পড়াশোনা, খেলাধুলা, ক্লাবিংসহ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন।

    তিনি জানান, হলের করিডোর, খেলার মাঠ, কমনরুম, মসজিদ, ক্যান্টিন ও রিডিং রুমের প্রতিটি কোণায় তার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি হল প্রাঙ্গণের পরিচিত বিড়ালগুলোর সঙ্গেও গড়ে উঠেছে আন্তরিক সম্পর্ক।

    স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর বৃষ্টি, শীতের সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল সৌন্দর্য এবং গ্রীষ্মের বিকেলের কালবৈশাখির রূপ তিনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন এই হল থেকেই। হলের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিবেশ তার কাছে বিশেষ নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে।

    মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি আমার হলের সিট ছেড়ে দিচ্ছি। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার নিকটতম সময়ের মধ্যেই সবার উচিত হল ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নবীনদের জন্য আবাসন সংকট নিরসনে সহায়ক হবে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্ত একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত সিট হস্তান্তর ও সময়মতো হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ক্যাম্পাসে আরও মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

  • পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    পাঠ্যবই মুদ্রণে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্যবই মুদ্রণে এখনো সক্রিয় পুরোনো আওয়ামী সিন্ডিকেট। ১০-১২ জনের ওই চক্রটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে কৌশলে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়ে নিচ্ছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মুদ্রণকাজের সিংহভাগ। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র-মাঝারি মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। হতাশায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

    এনসিটিবি ও মুদ্রণশিল্পে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এনসিটিবি থেকে এ চক্রের হোতাদের বদলি করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার ফিরে এসে সক্রিয় হয়েছেন বিতর্কিত ওইসব কর্মকর্তারা।

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কিতদের মধ্যে রয়েছেনÑএনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস। তিনি আওয়ামী আমলের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ পানি জাহাঙ্গীর, শাহেদুল খবির, রতন কুমার ও নিজামুল হক সিন্ডিকেটেরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে এনসিটিবি থেকে বদলি করা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে এনসিটিবিতে তার পদায়নের পেছনে প্রভাবশালী মহল এবং শেখ হাসিনার পিয়ন পানি জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ অগ্রণী ও কর্ণফুলী প্রিন্টিং প্রেসের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের সংযোগ বয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    জানা যায়, ওই দুটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান আওয়ামী আমলে ৪০০ কোটি টাকার মালিক শেখ হাসিনার আলোচিত পিয়ন জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও কৌশলে বিশাল অঙ্কের কাজ করেছে। তারাই এখন পুরোনো সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফের নিজেদের লোক পদায়ন করতে ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।

    আগামী বছরের পাঠ্যবই মুদ্রণে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান। এনসিটিবি জানিয়েছে, বিনামূল্যের পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী ২০৬ থেকে ২২০ দিনের সুনির্দিষ্ট দরপত্র সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, লট বিভাজন ও দরপত্র আহ্বান গত ৩ জুন শুরু হয়েছে।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ২৮ জুন দরপত্র দাখিল ও উন্মুক্ত করা হবে, ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন, ২৭ আগস্টের মধ্যে দরপত্র অনুমোদন, ৩০ আগস্ট কার্যাদেশ জারি এবং ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২৯ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে শতভাগ পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে।

    এর মধ্যে ওই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা তাদের গোপনে সহযোগিতা করে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াটি নিজেদের অধীনে নিয়ে যেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেট এনসিটিবি হয়ে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিন্ডিকেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীরের সাঙ্গোপাঙ্গরা। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ভাই আনন্দ প্রিন্টার্সের মালিক রাব্বানী জব্বার, অগ্রণী অফসেট প্রিন্টার্সের মালিক, মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি এবং যুবলীগের নেতা জহুরুল ইসলাম, মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জুনায়েদুল্লাহ আল মাহফুজ প্রমুখ।

    এদিকে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া এনসিটিবির প্রধান দায়িত্ব হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ গুরুত্বপূর্ণ খাতটি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, এ কারণে চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা।

    টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটের কারসাজি অনুসন্ধানে জানা গেছে, এনসিটিবির বার্ষিক পাঠ্যবই মুদ্রণের বিশাল কাজের টেন্ডারে স্বচ্ছতার অভাব দীর্ঘদিনের। একটি নির্দিষ্ট চক্র গত কয়েক বছর ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেট আগেভাগেই টেন্ডারের কাজ ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয়। এ কারণে সাধারণ বা নতুন মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা দরপত্রে অংশগ্রহণ করলেও কৌশলী শর্তাবলি এবং রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কাজ পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়াও সিন্ডিকেটে জড়িতরা কৌশলে এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ছোট ছোট প্রেসকে বিভিন্ন অজুহাতে কালোতালিকাভুক্ত করে বাদ করে দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগী হাক্কানি প্রিন্টার্সের মালিক জহির মনি আমার দেশকে বলেন, বাঁধাই যন্ত্র না থাকার অজুহাতে আমার প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও বানোয়াট। আমাদের প্রেসে স্থায়ীভাবেই বাঁধাই যন্ত্র রয়েছে। কৌশলে আমাদের বাদ দিতেই উদ্দেশ্যপূর্ণ নোটিস দেওয়া হয়। এটা মূলত সিন্ডিকেট চক্রের ইশারায় করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এভাবে শুধু আমাদেরই নয়, সাধারণ অনেক প্রেস মালিককে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতেই এমনটি করা হচ্ছে।

    ভুক্তভোগী মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারে উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা বছরের পর বছর এ পেশায় আছি, কিন্তু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আমরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। বড় বড় ঠিকাদাররা সব কাজ ভাগ করে নেয় আর আমরা পড়ে থাকি কাজহীন । সিন্ডিকেটের সদস্যরা ছোট ব্যবসায়ীদের যতটুকু কাজ দেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় । রাজধানীর আরামবাগ, ফকিরাপুল, সূত্রাপুর ও বাংলাবাজার এলাকার বেশ কয়েকজন মুদ্রণ ব্যবসায়ী জানান, পাঠ্যবইয়ের কাজ না পাওয়ার কারণে তাদের প্রেসে কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের চাপে টেন্ডারগুলো এমনভাবে সাজানো হয়, যেখানে ছোট বা মাঝারি সক্ষমতার প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা অসম্ভব।

    একই সঙ্গে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে বিশাল সিন্ডিকেটে গড়ে শতকোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। এসব জানার পরও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এমনকি সিন্ডিকেটের অবৈধ চাপে নতি শিকার করে পুরোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।

    সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিকের বিনামূল্যের বই মুদ্রণে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ভিন্ন ভিন্ন প্রেস থেকে নিম্নমানের বই মুদ্রণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর প্রাথমিকের বই মুদ্রণেও নাহার প্রেস নামে একটি প্রেস থেকে নিম্নমানের কাগজে ছাপার অভিযোগ ওঠে। মাধ্যমিকের বই মুদ্রণে একই পরিবারের চার প্রেসের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ পায় খোদ এনসিটিবি।

    সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক একাধিক লটের বিপুলসংখ্যক বই মুদ্রণের কাজ পেয়েছিল কর্ণফুলী আর্ট প্রেস ও অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রেস পাঠ্যবই ছাপাতে সাড়ে আট হাজার টন কাগজ ব্যবহার করে। নিম্নমানের কাগজে বিপুলসংখ্যক বই ছাপিয়ে সরকার থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত প্রেসগুলো।

    এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ৩০ কোটির অধিক বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে সরকার। এসব পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ করেছে ১০৪টি বেসরকারি প্রেস । যার মধ্যে শুরু থেকেই কয়েকটি প্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

    সূত্র জানায়, কর্ণফুলী ও অগ্রণী নামের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ছাপানো ৫০ লাখ ফর্মা এবং নিম্নমানের রিসাইকেলকৃত কাগজে বই ছাপানোর কারণে বাইন্ডিং, কাটিং ও সরবরাহ স্থগিতও করেছিল তদারক প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি। শুধু তাই নয়, ছাপা হওয়া নিম্নমানের এসব বই ও ফর্মা ধ্বংস করার নির্দেশও দিয়েছিল ওই তদারককারী প্রতিষ্ঠান।

    ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বরাবরই বড় লটের কাজ পেয়ে থাকে তারা। এনসিটিবির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।

    বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবির উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয়। তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তারা যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

    বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ফিরে আসার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এনসিটিবির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।

    সম্প্রতি শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক বলেছেন, অতীতে যারা খারাপ কাজ করেছে বা শেষ মুহূর্তে এসে নিম্নমানের বই দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের এ বছর বই ছাপার কাজ দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী বছর যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

  • ইবতেদায়ি শিক্ষকদের লং মার্চে পুলিশের বাধা

    ইবতেদায়ি শিক্ষকদের লং মার্চে পুলিশের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্তির দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকদের লং মার্চে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

    রোববার (১৪ জুন) সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে থেবে কাফনের কাপড় পরে সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন তারা। এ সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন শিক্ষকরা।

    অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক কল্যাণ কমিটির ব্যানারে গত রোববার সকাল থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকরা।

    কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাজাহান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নুরুননবী, মহাসচিব মো. শামছুল আলম প্রমুখ।

    আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নীতিমালা অনুযায়ী গত ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করে যাব।

    মাদরাসার এ শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলেও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। এতে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    শিক্ষক নেতারা আরো বলেন, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এসব মাদরাসার শিক্ষকদের ভাতা দেওয়া শুরু হয় এবং ২০০১ খ্রিষ্টাব্দেশিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।

    শিক্ষকদের দাবি, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

    অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুদান অবিলম্বে ছাড় করার জোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

  • স্কুলে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি

    স্কুলে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম জানতে চান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেই বিতর্ক সহকারী শিক্ষক সংগীত পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে; তার বর্তমান অবস্থা কী?

    রোববার, ১৪ই জুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অসম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দল ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান জানিয়ে আসছে।

  • ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক হচ্ছে নারী শিক্ষা

    ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক হচ্ছে নারী শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারীদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারীদের পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী শিক্ষার প্রসার ও তাদের আত্মনির্ভরশীল করতে ডিগ্রি (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবৈতনিক অবৈতনিক করা হবে, পাশাপাশি রেজাল্ট অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরে পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে বর্তমান সরকার।

    নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোবে না, এ লক্ষ্যেই ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অবৈতনিক করা হবে, পাশাপাশি রেজাল্ট অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    এছাড়া গ্রামীণ মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক বিষয়ের ওপর আগের সরকার ট্যাক্স বসিয়েছিলো, বর্তমান সরকার বাজেটে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে।তিনি জানান, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্য অনেকে ক্ষেত্রে ট্যাক্স তুলে নেয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে হৃদরোগ, কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অর্ধেকে নামবে।

  • পরীক্ষার ফি নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    পরীক্ষার ফি নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় মেটাতে শ্রেণিভেদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ফি নেয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধান শিক্ষককে স্লিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় শিক্ষকদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়। তাই শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় না করে (শিক্ষার্থীদের থেকে) নির্ধারিত সীমার মধ্যে এ অর্থ নেওয়া যেতে পারে।

    শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গার্ল গাইডস হলদে পাখি সম্প্রসারণে পাখি ও প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ সম্মেলন হয়।

    সচিব জানান, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৫০ টাকা করে পরীক্ষা ফি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো অন্যায় কাজ নয়, কারণ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে স্লিপের বরাদ্দ সীমিত হলেও ভবিষ্যতের জন্য এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে বিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক বেশি অর্থ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    পরীক্ষা ফি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন হলে আমি নিজেই ব্যাখ্যা দেবো। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর চেয়ে বেশি হারে পরীক্ষা ফি নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দিয়ে পরীক্ষার মতো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

    সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (পরিকল্পনা) ছাইফুল ইসলাম, গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের হলদে পাখি কমিশনার বেলা রাণী সরকার, ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদ, রাজধানী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা, ইয়াসমিন আক্তার বানু ও রওশন আরা খান।

  • এমপিওর দাবিতে আমরণ অনশন

    এমপিওর দাবিতে আমরণ অনশন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেতন ছাড়ের দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মসূচির পর আমরণ অনশনে বসেছেন সংশ্লিষ্ট মাদরাসার শিক্ষকেরা।

    শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ৬ষ্ঠ দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

    অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক কল্যাণ কমিটির ব্যানারে গত রোববার সকাল থেকে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন এ শিক্ষকেরা।

    কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাজাহান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নুরুননবী, মহাসচিব মো. শামছুল আলম প্রমুখ।

    আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নীতিমালা অনুযায়ী গত ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করে যাব।

    মাদরাসার এ শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলেও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। এতে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এসব মাদরাসার শিক্ষকদের ভাতা দেওয়া শুরু হয় এবং ২০০১ খ্রিষ্টাব্দেশিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।

    এ শিক্ষকদের দাবি, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

    অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুদান অবিলম্বে ছাড় করার জোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা

    বি. এ

  • বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

    বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১০ প্রকল্পের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নতুন এমপিও প্রদান, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ এবং অনগ্রসর এলাকার ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে।

    এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ৪ হাজার নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ, অনগ্রসর এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষায় মোট বাজেট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

    বি. এ

  • পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা

    পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন অর্থবছরে অনগ্রসর এলাকায় ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে সরকার। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ অর্থবছরে ১০টি প্রকল্প বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবনা বাজেটে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১০ প্রকল্পের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নতুন এমপিও প্রদান, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ এবং অনগ্রসর এলাকার ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে।

    এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজারটি নতুন ভবন নির্মাণ, অনগ্রসর এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষায় মোট বাজেট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

  • শিগগিরই ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা

    শিগগিরই ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইবতেদাায় মাদরাসার এমপিও নীতিমালা আলাদা করে করা হবে। কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। খুব শিগরিই নীতিমালা করে ফেলা হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানায়, মাদরাসার এমপিও নীতিমালা দ্রুত করার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ইতোমধ্যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে নীতিমালা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। পরে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বি. এ

  • মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে  ‘অ্যালগরিদম’

    মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে ‘অ্যালগরিদম’

    আধুনিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শব্দ ‘অ্যালগরিদম’। অনেকের কাছেই শব্দটি এখন এক নেতিবাচক বা ভীতিজাগানিয়া অর্থ বহন করে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখব, পড়ব বা শুনব-তা নির্ধারণে সাহায্য করে এই অ্যালগরিদম। এর ফলে মানুষের নিজস্ব রুচি ও পক্ষপাতিত্ব আরো দৃঢ় হয় এবং তৈরি হয় আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’।

    শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।

    কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।

    ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।

    কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?

    আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।

    তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’

    অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।

    গাণিতিক রেসিপি

    জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’

    এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’

    মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।

    সূত্র:সূত্র: এনপিআর

    বি.এ

  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আসন্ন অর্থবছরে (২০২৬-২৭) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিলো ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    আজ বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে শিক্ষার বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, শিক্ষায় মোট বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, কারিগরিতে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মোট জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।

    যা মোট জাতীয় বাজেটের ১২ দশমিক এক শতাংশের মতো। বিদায়ী আওয়ামী লীগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তখন জাতীয় বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল।

    তখন জাতীয় বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ ৮৮ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি।

  • শিক্ষায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ যেভাবে

    শিক্ষায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাতগুলোর একটি ছিল শিক্ষা। তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আজ আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, সেখানে অবশ্যই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাক্রমকে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এমন পরিবেশ করতে চাই যাতে তারা আধুনিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে। আমরা কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।

  • শিক্ষায় এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

    শিক্ষায় এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে শিক্ষাখাতে টোটাল বাজেট এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। যা জিডিপির ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থ বছরে যা ছিলো ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শিক্ষায় মোট বাজেট ছিলো ৮৭ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    আরো জানা যায়, এ অর্থ বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

    এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মোট জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।

    যা মোট জাতীয় বাজেটের ১২ দশমিক এক শতাংশের মতো। বিদায়ী আওয়ামী লীগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তখন জাতীয় বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল।

    তখন জাতীয় বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ ৮৮ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি।

  • প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

    প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত বাজেট ছিল ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। ফলে বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করা হয়। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে এবার।

    প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সার্ভিসের জন্য পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিএনপি সরকার এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট পেশ। প্রথম বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। এটি দেশের ৫৫ তম বাজেট।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা

    দেশের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো শক্তিশালী করা, চিকিৎসার মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটের তুলনায় ২০ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বেশি।

    প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বরাদ্দ প্রস্তাব তুলে ধরবেন।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, আর মূল বাজেটে ছিল ১৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। নতুন বরাদ্দের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা।অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং মূল বাজেটে ছিল ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ বিভাগের জন্য ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

    স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত ব্যয় ছিল মাত্র ২ হাজার ১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বাজেটে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে।
    স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এডিপি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকৃত ব্যয় ছিল ৪১২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকায়।

    দুই বিভাগের সম্মিলিত উন্নয়ন বরাদ্দ হিসেবে মোট ৩৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো ও সেবার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নাট্যকলা

    প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নাট্যকলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দে নতুন কারিকুলামের আওতায় বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত করা হবে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু করা হবে।

    আজ বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা একদিকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করে।

    শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • এমপিওভুক্তির দাবিতে  শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা

    এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্তির দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, আজকের মধ্যে এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে পদযাত্রা করা হবে।

    আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সম্মিলিত ননএমপিও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আজ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির চতুর্থ দিন চলছে। পরে সংগঠনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বুধবার বেলা ১০টায় যথারীতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা বলেন অবিলম্বে সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। আমাদের বরাদ্দের টাকা অন্য খাতে খরচ হবে এটা অন্যায়। তিনি বলেন আজকের মাধ্যে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে আগামীকাল ১১ জুন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি করা হবে।

    প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার। তিনি বলেন শিক্ষকদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও বেশি। তিনি সরকারের নিকট অবিলম্বে দেশের সব নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনাজ আকতার রানু বলেন, বেতনহীন নন এমপিও শিক্ষকরা ফুটপাতে বসে থাকবে এটা বিরাট রাষ্ট্রীয় লজ্জা।

    বিশেষ অতিথীর কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ জাকির হোসেন আকন্দ বলেন আমরা নন এমপিও শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

    কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক গাজি হারুন অর রশিদ দ্রুত সব নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির দাবি জানান।

    নন-এমপিও সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. নাজমুস সাহাদাত আজাদী বলেন আমরা ২০-২৫ বছর যাবত নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি এই বৈষম্য দূর করে দ্রুত সময়ে এমপিওভুক্ত করা হোক।

    সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আব্দস সালামের সঞ্চালনায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আবতাবুল আলম, সমন্বয়ক সুপার ফরহাদ হোসেন বাবুল, সমন্বয়ক প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, সমন্বয়ক প্রভাষক হাবিবুল্লাহসহ সারাদেশ থেকে আসা জেলা ও উপজেলার নেতারা।

  • গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    গাংনীতে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বজ্রপাতে আলী হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছেন।

    নিহত আলী হোসেন পুরাতন মচমুড়া গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসি ইউনুস আলীর ছেলে। সে বাওট সোলাইমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার সময় পুরাতন মটমুড়া গ্রামে একটি মাঠে কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাতের সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটলে গুরুতর আহত হয় আলী হোসেন। তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বামন্দীর একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।