যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

প্রতিবেদন:

·

, ,

শিক্ষা ডেস্ক:

যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এসএসসি বাংলা (আবশ্যিক) ২য় পত্র পরীক্ষায় ২০০৯ জন পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি ও ২ জনের বহিষ্কার কেবল একটি দিনের পরিসংখ্যান নয়—এটি বড় এক বাস্তবতার ইঙ্গিত। ২৯৯টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে অংশ নেয় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬২ জন, যা অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও অনুপস্থিতির সংখ্যা উদ্বেগ তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতিকে সাম্প্রতিক সময়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্ন, এবং শিক্ষার্থীদের রাজপথমুখী কর্মসূচি শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়জুড়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, এমনকি অটো পাসের মতো সিদ্ধান্ত—এসবের প্রভাব শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব ও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিনের পড়াশোনার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। ফলে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে দ্বিধায় পড়ছে বা প্রস্তুতির অভাবে অনুপস্থিত থাকছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে অসদুপায়ের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে, যার প্রতিফলন বহিষ্কারের ঘটনায় দেখা যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, খুলনায় ১৮ হাজার ২৫১, যশোরে ১৮ হাজার ৫৭১, কুষ্টিয়ায় ১৬ হাজার ৩৫১সহ বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকলেও অনুপস্থিতির এই বড় সংখ্যা শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতাকে সামনে আনছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার মান, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষতা—সবকিছুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তাই কেবল পরীক্ষা নেওয়াই নয়, শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ