চীন একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এর আগে এই অঞ্চলের দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছিল যে, চীন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে। এরপরই এ সোমবার এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করল চীন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতার বিরল প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রভাবশালী।
চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন প্রশিক্ষণধর্মী সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত জলসীমায় সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানে।
তিনি বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
তবে এ উৎক্ষেপণের তীব্র সমালোচনা করেছে অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে জাপান জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ না করার জন্য তারা চীনকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।
একই দিনে চীনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ছিংদাও উপকূলে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌমহড়া শুরুর কথা ছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত চীনের কাছে ৫০০টিরও বেশি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
