সারাদেশ

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সনাতনী কৃষি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে ফল চাষের পাশাপাশি দুম্বা, ভেড়া, ছাগল ও গরুর ডেইরি খামার থাকলেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এ চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে আট-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল।

    কৃষক হুমায়ুন জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় নয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই সা-আট লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এটি উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মূল্যায়ন
    উচ্চমূল্যের এই ফসলটি দেশে খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে, যা বৈচিত্র্যময় কৃষিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।’

    হুমায়ুনের এমন বৈচিত্র্যময় সাফল্য স্থানীয় তরুণদের সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ও আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদের প্রশাসক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ।

    সোমবার বিকালে শহরের আড়ুয়াপাড়ার দেবাশীষের বাসভবনে যান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন।

    এ সময় তিনি প্রয়াত সাংবাদিকের বাবার হাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু ও প্রচার সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্সিপাল সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক দেবাশীষের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন উদীয়মান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    দর্শনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা দর্শনা পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনা এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়।

    অভিযান সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তদারকি করার পাশাপাশি বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের অপরাধে মো: জামাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘মেসার্স রিমি ফুড’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরবর্তীতে একই অপরাধের পাশাপাশি খাবারে শিল্প লবণ ব্যবহার ও চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ‘মুসলিম ফাস্ট ফুড অ্যান্ড বেকারি’-কে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। একই সাথে বেকারিগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে এই ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  র‍্যালী ও  আলোচনা সভা

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় র‍্যালী আলোচনা সভা ও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ লা সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ র‍্যালী ও আলোচনা সভা করা হয়। এর আগে দিবসটি পালনে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠে বৃক্ষরোপন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম। সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান এবং পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, পৌর কৃষকদলের আহবায়ক মিলন হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান, পৌর যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জসিম উদ্দীন, সদস্য সচিব ইমন হাসান রকি প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুল নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।

  • যশোর কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি কবির হোসেন

    যশোর কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি কবির হোসেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন কবির হোসেন। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) রাত ৯টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এর আগে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ মাসুম খান। তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে এ থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

    নতুন ওসি কবির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে নতুন ওসিকে স্বাগত জানিয়ে থানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া এদিন রাতেই থানা চত্বরে এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী লিপা খাতুনও। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাসির উদ্দীন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

    দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, পৃথক এসব ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিয়ালগাড়া (তরককামাল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন (২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল (২৯)।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সড়কের দুই পাশে দু’টি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নেয়ার পর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাদের বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

  • টার্নওভারে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত

    টার্নওভারে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত

    টার্নওভারে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। গতকাল সোমবার প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

    সিগারেট, বিড়ি, চিবিয়ে খাওয়ার তামাক, ধোঁয়াবিহীন তামাক, গুল বা অন্য কোনো তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী; কার্বোনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি পানীয় প্রস্তুতকারী এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ও এনটিটিএন ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য নতুন িই করহার প্রযোজ্য হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্যান্য খাতে গ্রস প্রাপ্তির দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কোনো টার্নওভার কর প্রযোজ্য হবে না। দুই কোটি টাকার বেশি কিন্তু চার কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম টার্নওভার করহার হবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। চার কোটি টাকার বেশি হলে করহার হবে ১ শতাংশ।

    এর আগে অর্থ আইন, ২০২৬-এ টার্নওভার করহার ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর ফলে বড় ধরনের করের বোঝা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টার্নওভার করহারের বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার।

    টার্নওভার কর হলো ব্যবসার মোট বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেনের ওপর নির্ধারিত হারে প্রদেয় একটি কর, যা মুনাফা না থাকলেও পরিশোধ করতে হয়।

  • কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আনন্দ র‌্যালী, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় পৌরসভা চত্বর থেকে র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শুরু হয়।

    এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্ছু মোল্লা, সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, আব্দুল মুয়িদ বাবলু, জয়নাল আবেদীন মুরাদ হোসেন প্রমুখ।

    পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বড় বাজারে শেষ হয়।

  • কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

    কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়

    সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে সাধারণ ভোক্তার স্বস্তি ফেরাতে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর আমদানিতে বড় ধরনের শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে।

    দুটি পণ্যের আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমদানির উপর আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।

    শুল্ক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই দ্বিমুখী শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানি পর্যায়ে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্য দুটির খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    গত ১৭ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সকল পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।

    দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এরইপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

    এদিকে প্রজ্ঞাপনের সংযুক্ত শুল্ক টেবিল অনুযায়ী, কাস্টমস শুল্কায়নের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট পণ্য দুটির বিবরণ ও এইচ.এস. কোড নিম্নরূপভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কাঁচা মরিচের কাস্টমস শুল্কায়নের জন্য হেডিং ০৭.০৯ এর অধীনে এইচ.এস. কোড ০৭০৯.৬০.১৯ নির্ধারণ করা হয়েছে টমেটোর কাস্টমস শুল্কায়নের জন্য হেডিং ০৭.০২ এর অধীনে এইচ.এস. কোড ০৭০২.০০.১৯ নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • খেত খামার

    খেত খামার

    রাজারহাটে পানির অভাবে পাট পচানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

    রাজারহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ধান, ভুট্টা কিংবা অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট উৎপাদনে পরিশ্রম ও ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে পাট কাটার পর পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকলে কৃষকের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এতে পাটের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ে উৎপাদন ব্যয়।

    এক সময় গ্রাম অঞ্চলে দেখা যেতো পাটের তৈরি দড়ি, বস্তা, টোপা, বাজারের ব্যাগসহ গ্রামীণ বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র । কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। শহর-গ্রাম সব জায়গায় এখন প্লাস্টিকের দাপটে দিনে দিনে কমছে পাটের উৎপাদন। পাটপণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়া সত্বেও এতে মানুষের আগ্রহ কমছে। বাড়ছে পরিবেশের ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার।

    কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৩,৬৫৩ হেক্টর, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উৎপাদিত জমির পরিমাণ ৫৬৫ হেক্টর, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯৩ হেক্টর এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ২২৩ হেক্টর। গত তিন বছরে উৎপাদিত জমির পরিমাণ কমেছে ৩৪২ হেক্টর।

    বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যত্রতত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, এটি মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। বিভিন্ন পরিক্ষায়, মানুষের রক্তে এখন মাইক্রোপ্লাসটিক ধরা পড়ছে। যা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

    কৃষি কর্মকর্তা সাথী বেগম‌ বলেন, ‘কৃষকরা দিন দিন পাট উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এর অন্যতম কারণ, উৎপাদনের তুলনায় লাভ কম হওয়া সেই সঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার যা কিনা পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে।’

    পাট চাষী শ্রী সুভাষ চন্দ্র রায়‌ বলেন, ‘পাট চাষের শুরুতেই জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, আগাছা দমন ও পরিচর্যায় খরচ হয়। এরপর পাট কাটতে শ্রমিক, আঁটি বাঁধা, বহন এবং জাগ দেওয়ার জন্য আবার বাড়তি খরচ করতে হয়। অথচ বাজারে পাটের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী না থাকলে পুরো হিসাবই এলোমেলো হয়ে যায়।’

    কৃষক নির্মলেন্দু বাবু বলেন, ‘পাট বিক্রি করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা যায় না। মধ্যস্বত্বকারীরা মাঠে এসে কম দামে পাট কিনে নিয়ে যায়। পরবর্তী ধাপে একই পাটের দাম বাড়তে থাকে।’

    পাটপণ্য বিক্রেতা ছবর উদ্দিন বলেন, ‘বাবা আগত মুই পাট দিয়া দড়ি, গরুর টোপা, বস্তা, বাজারের ব্যাগ তৈরি করি বাজারত বিক্রি করছোং, কিন্তু এলা মানুষ এগলা না কিনিয়া প্লাস্টিকের জিনিস কিনে।’

    কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা পাট চাষে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। খরচের তুলনায় বাজার না থাকায় কিছুটা আগ্রহ কমছে তাদের।

    উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, ‘এ বছরে পাট উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ঘন ঘন বৃষ্টি। বৃষ্টি আগাম হওয়ায়, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে হওয়ায় পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণও হতে পারে।’

  • দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    দুমকিতে সরকারি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি রেকর্ডিয় রাস্তা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদার বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝ বরাবর সরকারি রাস্তা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো: সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রামিম প্যাদা এবং শাহজাহান প্যাদার স্ত্রী ডেইজি বেগম সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনায় লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি রাস্তার ওপর দেয়া বাঁশের বেড়া অপসারণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বিবাদী শাহজাহান প্যাদাকে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

    অভিযুক্ত শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। আমি অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের হাঁটার রাস্তার ব্যবস্থা করব, কিন্তু ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেবো না।’

    উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণ না করা হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের সিংড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে নিহত অটোচালকের বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

    এ সময় নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়ে মা আসমা বেগম ও স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬ হাজার টাকার চেক ও চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন ইউএনও।

    সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সিহাব উদ্দিন শান্ত প্রমুখ।

    ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত অটোচালকের পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।

    উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ভোগা বসন্তপুর রাস্তার পাশ থেকে অটোচালক আনোয়ার হোসেনের হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

  • ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার দুপুরের দিকে চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা এ সময় ওই ব্যাংক এজেন্টকে অস্ত্রের মুখে হাতকড়া পরিয়ে ছিনতাই করে।

    ভুক্তভোগী ব্যাংক এজেন্টের নাম আবদুর রহমান। তিনি ইসলামী ব্যাংক আবু মদিনা আউটলেট এজেন্ট শাখার ইনচার্জ ও এজেন্ট ব্যবসায়ী। আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ব্যাংক শাখা থেকে ক্যাশ ১২ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। চরহাজারী ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একটি প্রাইভেট কারে পাঁচজনের একদল দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে।

    আবদুর রহমানের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয়। এরপর তাঁর কাছে মাদক রয়েছে বলে দাবি করে তারা। একপর্যায়ে তাঁর গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জোর করে গাড়িতে তোলে। গাড়ির ভেতর তাঁর চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। টাকা ছিনতাইয়ের পর কবিরহাট উপজেলার নবীর দোকানের পাশে একটি স্থানে তাঁকে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    ‍স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবদুর রহমান সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় কালো জ্যাকেট ও সাধারণ পোশাক পরা পাঁচজন তাঁকে ঘিরে ধরে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁরা জানতে পারেন, আবদুর রহমান ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে তখনো পর্যন্ত লিখিত এজাহার বা আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    যশোরে মুরগির খামার: আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে কমেছে উৎপাদন খরচ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পলাশ কুমার মণ্ডলের মুরগির খামারে তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি আছে। খামারে তিনি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি খামারে না গিয়েও তাপমাত্রা, পানি, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে একজন শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। উৎপাদন খরচ প্রতি মাসে কমেছে ১৪–১৫ হাজার টাকা।

    পলাশ কুমার যশোরের অভয়নগরের বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশে জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের লক্ষ্যে শেড নির্মাণ করেন। সেখানে তিন বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর জন্য এটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। নিজের শ্রমঘণ্টা বেশি ব্যয় হচ্ছিল। যে কারণে তিনি তাঁর মৎস্য চাষে বেশি মনোনিবেশ করতে পারতেন না। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মীকে বেতন দিয়ে খামারে নিয়োজিত রাখতে হতো। ছয় মাস আগে তিনি খামারে আইওটি ডিভাইস সংযোজন করেছেন। এতে তাঁর নিজের কর্মঘণ্টা যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি একজন কর্মীর আর প্রয়োজন হচ্ছে না।

    পলাশ কুমার বলেন, ‘ছয় মাস আগেও আমার খামারে অতিরিক্ত একজন কর্মী রাখা লাগত। তাঁর বেতন দিতে হতো প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা। আইওটি ডিভাইস স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কম। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচ কমেছে।’

    পলাশ কুমারের স্ত্রী বিথী মণ্ডল বেসরকারি সংস্থা নবলোক পরিষদের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির একটি সমিতির সদস্য। সংস্থাটি বিনা মূল্যে পলাশের খামারে ডিভাইসটি স্থাপন করে দিয়েছে। এ ডিভাইসের কারণে এলাকায় প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের কাছে পলাশ কুমার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    সম্প্রতি বাগুটিয়া গ্রামে পলাশ কুমারের মুরগির খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতরে কিছু দূর পরপর পানির পাত্র ঝোলানো। সেই পাত্রের সঙ্গে পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে ছাদের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। পাশে আইওটি ডিভাইস স্থাপন করা। সেই ডিভাইসের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া আছে। সেই সংযোগের মাধ্যমে মুঠোফোন থেকে অ্যাপসের সাহায্যে পলাশ কুমার খামার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

    বাগুটিয়া গ্রামের খামারি ফয়সাল সরদার এবং বিবাগদী গ্রামের মোহাম্মদ আনারুল মোল্লা আইওটি ডিভাইস সম্পর্কে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ধারণা নিতে এসেছেন। ফয়সাল সরদার বলেন, আইওটি খরচ সাশ্রয়ের তেমনই একটি প্রযুক্তি। তবে এর জন্য সরকারকে বিনা মূল্যে বা কম খরচে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে।

    নবলোক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্যদের মধ্য থেকে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের তিনজন উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা হিসেবে আইওটি পোলট্রি প্রযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পলাশ একজন।

    নবলোক পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস বলেন, পিকেএসএফের (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন) আর্থিক সহায়তায় এ প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির মধ্যে একটি সফটওয়্যার ডিভাইস, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। এই প্রযুক্তি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

    স্থানীয় মুরগির খামারিদের ভাষ্য, সরকারকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে।

    অভয়নগরে ডিমপাড়া মুরগি ও মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির ৩০০টির বেশি খামার আছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র পলাশ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে তিনি ভালোই ফল পাচ্ছেন।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    এই সেই আইফোন, যার জন্য সন্তান বিক্রি করেন বাবা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টেকসই ও নিরাপত্তার জন্য সারাবিশ্বেই আইফোন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সেই বিলাসী শখ পূরণের অন্ধ মোহে এক বাবা তার নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কিনেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।

    অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।

    সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক

    মারুফ জানায়, ‘তিনি আইফোন-১৩ প্রো-ম্যাক্স মডেলের ব্যবহৃত ফোনটি একই এলাকার ইমরান নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় কেনেছেন। ফোন কেনার পর অবশিষ্ট ৪৫ হাজার টাকা তিনি নিজের দেনা পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে খরচ করে ফেলেছেন।’

    আলোচিত দেড় বছরের শিশু মুসার সুরক্ষার এগিয়ে এলেন ইউএনও

    এদিকে সন্তানকে বিক্রি করে আইফোন কেনার মতো চরম অনৈতিক কাজ করলেও তার মনে বিন্দুমাত্র অনুতাপ দেখা যায়নি। বরং নতুন আইফোন হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

    এর আগে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বের হন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় তিনি মুসাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি আইফোন কিনেছেন।

    ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেয় পুলিশ।

    এ ঘটনার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মে. মাহমুদ হাসান। শিশু মুসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া সহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    আলোচিত এ মামলায় গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলাটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

    সোমবার নির্ধারিত দিনে আদালত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। ওই রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। নিহত শিশুর বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

    গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়।

    একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

    শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী এ মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আজ প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

  • পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ট্রানজিশন পিয়ার বা সংযোগস্থলের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির একটি বাস উল্টে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে সেতুর সংযোগস্থলের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিটের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে যে, লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটি বাস উল্টে গেছে। ঢাকামুখী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস নামে বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।

    তিনি আরো জানান, সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দু’টি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

    আহতরা হলেন— মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), মো: লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদা উপজেলার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০), মাগুরা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা (৭), মাগুরা শ্রীপুরের সাইফ (২৩) ও ফরিদপুরের মধুখালি এলাকার মো: আরাফাত (১৩)।

    পদ্মা সেতুর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আক্তার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা আট-নয়জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত ১২ দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ জন শিশু, যার বড় একটি অংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একসাথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০টিরও বেশি শিশু। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও গলিপথে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এদিকে, কেবল ইনডোরই নয়, আউটডোরেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক এ শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনদের পদচারণায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মেঝেই ভরসা হয়ে উঠেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

    চার মাস বয়সী শিশু জাবেরের স্বজনরা জানায়, বাড়িতে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই অভিজ্ঞতা জীবননগর থেকে আসা এক মাসের শিশু রায়হানের বাবারও।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টির তারতম্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের মাত্র ২২টি বেড থাকলেও রোগী আসছে বহুগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    এ সময়ে শিশুদের ঘাম বসতে না দেয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ও অতিরিক্ত গরমে সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

    শিশুর দ্রুত শ্বাস নেয়া, বুক দেবে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    একইসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

  • পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামে পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদরের পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

    নিহতরা হলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (২৮) ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব মনশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে সফিউর রহমান শুভ (২৩)।

    নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওসি কামাল জানান, কলেজের পরীক্ষা শেষে হিরা ও সফিউরসহ নয় বন্ধু তিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

    তিনি আরও বলেন, আহতদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে হিরা ও সফিউরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে হিরার মৃত্যু হয় এবং শুভকে ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত


    চৌগাছা, (যশোর ) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের ইউনিট সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ সম্মেলন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক শামসুজ্জামান। বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাস্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক,সেক্রেটারী ডা.জিল্লুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন,দেশের সকল মানুষের নিকট জামায়াতের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। সাথে সাথে জনগণকে এ কথা বলতে হবে যে, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।সম্মেলনে উপজেলার প্রায় তিনশো ইউনিটের সভাপতি সেক্রেটারী যোগদান করেন।

  • বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন

    বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন

    বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির বিয়ে ইস্যুতে আবার তুমুল আলোচনা নেটদুনিয়ায়। নানা জল্পনা কল্পনা ঘুরছে মুখে মুখে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সম্ভাব্য বিয়ে নিয়ে এই গুঞ্জন।

    তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই আলোচনায় তিনি কি বিব্রত! বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জিও নিউজ বলেছে, বিলাওয়ালের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা ও তারিখ নির্ধারণ করতে তার পিতা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে লিশটেনস্টাইনে গেছেন। গুঞ্জন অনুযায়ী, এ বছরের শেষ দিকে বিলাওয়ালের বিয়ে হতে পারে। তার কথিত বাগদত্তা লিশটেনস্টাইনের রাজধানী ভাদুজের বাসিন্দা বলেও দাবি করা হচ্ছে।

    তবে এসব খবর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পিপিপি। বিলাওয়ালের মুখপাত্র ও করাচির মেয়র মুর্তজা ওয়াহাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পিপিপি চেয়ারম্যানের বাগদান বা বিয়ে নিয়ে প্রচারিত খবর ভুল ও ভিত্তিহীন। বিলাওয়াল কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ পর্যন্ত বাগদান বা বিয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি।

    ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবি এখনো যাচাই করা যায়নি। লিশটেনস্টাইন পশ্চিম ইউরোপের একটি ছোট্ট সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশটি সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এর রাজধানী ভাদুজ দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। বিলাওয়াল অতীতেও বিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তবে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা বিয়ের তারিখ সম্পর্কে কখনো ।

    ২০২২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সময় এক সাংবাদিক বিলাওয়ালের কাছে তার বিয়ের পরিকল্পনা জানতে চান। হাসতে হাসতে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, অবশ্যই, আমার বিয়ের পরিকল্পনা আছে। তবে কবে বিয়ে করবেন- এ প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেননি তিনি। এরও আগে ২০১৬ সালে বিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিলাওয়াল বলেছিলেন, তার ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে প্রথমে তার বোনদের মন জয় করতে হবে। তিনি তখন বলেছিলেন, সঠিক প্রার্থীকে প্রথমে আমার বোনদের মন জয় করতে হবে।

    আমাকে তাদের আস্থায় নিতে হবে। আর আমার বোনদের মন জয় করা যেকোনো মেয়ের জন্য খুব কঠিন কাজ। তবে এবার লিশটেনস্টাইনে কথিত বিয়ের আয়োজন নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি এখনো পাওয়া যায়নি।

  • নেপালে বন্যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি

    নেপালে বন্যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি

    ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় হন্যে হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন নেপালিরা। চলতি সপ্তাহের বন্যায় তাদের পুরো গ্রাম ভেসে গেছে। প্রিয়জনদের কোনো খবরের আশায় তারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    বন্যার কারণ সম্পর্কে পর্বতারোহী সানজিত সিং বাল জানান, এটি একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রায় এক কিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে নিচে নেমে আসে এবং খাড়া ঢাল বেয়ে নামার সময় প্রচুর পাথর ও কাদামাটি সঙ্গে নিয়ে আসে। নেপাল হিমালয় ও পর্বত গবেষক ধনঞ্জয় রেগমি জানান, বন্যার জলের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই এলাকায় তিনটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।

    নতুন করে কোনো পাথর ধসে পড়লে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে হলে হ্রদে জমা পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দিতে হবে। তবে এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্তমানে যা করা সম্ভব, তা হলো মানুষগুলোকে উঁচু স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং অপেক্ষা করা।

    বরফধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভূমিকা আছে কি না জানতে চাইলে স্নোস্কেপসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশুতোষ মিশ্র জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল তিনটি হ্রদের একটিতে ভাঙন তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, হ্রদগুলোর দায় মুখ্য নয়। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লাংটাং লেরুংয়ের ৭ হাজার মিটার উঁচু শৃঙ্গ থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি উত্তরের হিমবাহ ধসে পড়েছিল।

    তবে বন্যাকবলিতদের কাছে বন্যার কারণ বা দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকির চেয়েও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি হাতে এক ব্যক্তি বলেন, তারা আমাদের স্বজন হোক বা না হোক, যিনিই আটকে আছেন তাকে বাঁচাতে হবে। আমাদের স্বজন না হলেও অন্যদের বন্ধুদের রক্ষা করা হোক। তিনি আরও জানান, তার কেবল একজন ভাই নিখোঁজ, তবে অন্য সকল নেপালিও তাদের ভাই।

  • মধুখালীতে আমনের চারা কিনতে হাটে কৃষকের ভিড়

    মধুখালীতে আমনের চারা কিনতে হাটে কৃষকের ভিড়

    ফরিদপুরের মধুখালীর বিভিন্ন হাটে রোপা আমনের চারা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

    উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি হাট মধুখালী সদর ও কামারখালীতে রোপা আমনের চারা কিনতে কৃষকদের ভিড় দেখা গেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মধুখালী হাটে প্রতি বোঝা চারা ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া প্রতি বোঝা চারার জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

    হাটের চারা বিক্রেতা সামাদ শেখ বলেন, হাটে প্রচুর পরিমাণে ধানের চারা আসছে। কৃষকেরা নিজেদের পছন্দ ও জমির উপযোগিতা অনুযায়ী চারা কিনছেন।

    বাজারের খাজনা আদায়কারী মো. ইমন শেখ বলেন, হাটে চারার আমদানি ভালো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা কেনাবেচা চলছে। ভালো মানের চারার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেশি।

    মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুব ইলাহী জানান, রোপা আমনের বিরি-৮৭, বিরি-৩৭, বিরি-৭৫ ও বিনা-৭সহ বিভিন্ন জাতের ধান সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রোপণ করা হয়। আগাম ভাসমান চারা ও অন্যান্য পদ্ধতিতে আগস্টের শেষ পর্যন্ত উপজেলায় ৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে।

    তিনি জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে।

    সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই চারা রোপণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

  • নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

    নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির যৌথ আভিযানিক দল নাফ নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের কুলালপাড়া গ্রামের মরহুম কবির আহম্মেদের ছেলে জামাল হোসেন (৩৮), নোয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো: এমরান (২৫) ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো: ইসমাইল (২৪)।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদী পার হয়ে সাবরাং সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন তথ্যে বিজিবির আভিযানিক দল বিকেল ৩টার দিকে ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। সাড়ে ৪টার দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিয়ানমার সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবির নৌ-টহলদল থামার সংকেত দেয়।

    তবে পাচারকারীরা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় নৌকায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা কৌশলে নৌকাসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    পরবর্তীতে আটক পাচারকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরীরদ্বীপ-সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় প্লাস্টিকের বস্তাটি উদ্ধার করা হয়। বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীরা যতই কৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, নৌ-টহল এবং সমন্বিত আভিযানিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।’

  • নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডোমারে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় রাহাত (২) নামে এক শিশু ও কাশেম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ডোমার সদর ও সোনারায় ইউনিয়নে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা রবিয়াল ইসলামের দুই বছরের ছেলে রাহাত সকালে সবার অগোচরে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, সোনারায় ইউনিয়নের ভাঙ্গারির ঝাড় এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন নিজের ধানখেত দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান কাশেম আলী। তিনি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবীগঞ্জ বীজ আলু উৎপাদন খামারের সাবেক কর্মচারী ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে ধানখেত দেখতে যাওয়ার সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭ আপ) ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    আরও পড়ুন: ভারি বৃষ্টিপাতসহ আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়াপৃথক দুটি দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • নড়াইলে শেষ হলো সুলতান উৎসব

    নড়াইলে শেষ হলো সুলতান উৎসব

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ শেষ হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নড়াইলের সুলতান মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ ও ‘চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’য় বিজয়ীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় ডিবিসির নড়াইল প্রতিনিধি ফরহাদ খানসহ পাঁচজনকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সৌখিন আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন পেশার ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন।

    সাংবাদিক ফরহাদ খানের ছবির বিষয়বস্তু ‘রূপসী বাংলা’। নড়াইলের নড়াগাতী থানার পানিপাড়া এলাকায় অবস্থিত অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের লেক থেকে প্রাণ-প্রকৃতি নির্ভর ‘রূপসী বাংলা’ ছটি তোলা হয়। এদিকে, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ৫০জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

    এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সুলতান উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন-জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী ডিডি মল্লিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদ রহমানসহ সুলতানপ্রেমীরা।

    এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ড্রামা সার্কেল’, নড়াইলের পরিবেশনায় ‘এখনও কৃতদাস’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। এদিকে, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ গ্রামীণ মেলায় ব্যাপক লোক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

    গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুলতান মঞ্চ চত্বরে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

    বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ সুলতানকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

  • ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বেপরোয়া গতির অজ্ঞাতপরিচয় বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (29 আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া এলাকায় ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার হাসনহাটি গ্রামের চয়ন (২৩), নয়ন (২০) ও সিয়াম ওরফে সজীব (২২)। তারা তিনজনই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় তিন বন্ধু একই মোটরসাইকেলে চড়ে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে নওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাস তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চয়নের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন ও সিয়ামকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তাদের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মির্জা বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে পুলিশি টহল ও তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।’

    পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি টিভিএস অ্যাপাচি ফোরভি মডেলের ও সেটির রেজিস্ট্রেশন ছিল না।

    ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিন বন্ধুকে চাপা দেয়া অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।

    উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে ভাঙ্গা উপজেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

  • কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।

    রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে।

    নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫০), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৩০) ও মিলন মিয়ার মেয়ে জারা মনি (৫)।

    গুরুতর আহতরা হলেন বন্যা আক্তার (২৫), সিএনজি চালক কাজল মিয়া (৩০), বদিউল আলম (৫৫), প্রিয়া আক্তার (২০) ও সাকিবুল হাসান (৮)।

    আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলম জানান, আমার মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মজিদ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তাকে দেখার জন্য আমার পরিবারের লোকজন নিয়ে শুক্রবার কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামে আসি। রোববার দুপুরে তাড়াইল থেকে আমরা সিএনজিতে চড়ে আমাদের ব্যবসায়িক কর্মস্থল নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে যাওয়ার পথে দ্রুত গতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান আমাদের সিএনজিকে চাপা দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই আমার মেয়ের জামাই মিলন মিয়া মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আমার স্ত্রী রাবেয়া ও নাতনি জারা মনিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আমি, আমার মেয়ে বন্যা, সিএনজিচালক কাজল মিয়া, আমার বাড়ির প্রিয়া আক্তার ও সাকিবুল গুরুতর আহত হয়েছি।

    কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিলন মিয়া নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। রাবেয়া ও জারা মনি নামে অপর দুইজনকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত আরো পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

    কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, তিনিসহ হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • মহেশখালীতে অস্ত্রসহ আটক ২

    মহেশখালীতে অস্ত্রসহ আটক ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    কক্সবাজাররের মহেশখালীর ছোটমহেশখালী ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশের অভিযানে আটটি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

    আজ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে থানা মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট মো: অহিদুর রহমান এ তথ্য জানান

    আটকরা হলেন— পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরের হরিনখাইন দীঘির পাড় এলাকার মোতাহের হোসেনের চেলে মো: রুবেল মিয়া ও মহেশখালী উপজেলার ছোটমহেশখালীর ঠাকুরতলা এলাকার পরলোকগত মনিন্দ্র দের ছেলে মানিক দে।

    পিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুস সুলতান এবং ওসি (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীলের নেতৃত্বে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ছোটমহেশখালী ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে একটি সিএনজিচালিত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ট্র্যাভেল ব্যাগের ভিতর থেকে আটটি অস্ত্র উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এসময় অস্ত্র চালানের সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেন তারা। উদ্ধার ও জব্দকৃত অস্ত্রগুলো হল— দেশীয় তৈরী রাইফেল দুইটি, দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক পাঁচটি ও এলজি একটি।

    ওসি জানান, গত ২১ আগস্ট উপজেলার শাপলাপুর মিঠাছড়ি এলাকার গহীন পাহাড়ের ভিতরে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ একজনকে আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে অস্ত্র উদ্ধারে মহেশখালী বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে ঠাকুরতলা মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে আটটি অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়।

    ওসি আরো জানান, এই অস্ত্র উদ্ধার এবং চালানের সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অনেকদিন যাবত বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছিল। অপরাধীরা পুলিশের গতিবিধি টের পেয়ে সটকে পড়েন। অনেকদিন চোর-পুলিশ চোর-পুলিশ খেলা চলছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই হলো অপরাধীদের।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা দেবে এইচএসবিসি

    চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা দেবে এইচএসবিসি

    চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। সাত মাসব্যাপী এই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    এইচএসবিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ, পাহাড়ধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাজার হাজার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির উৎস ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে ব্র্যাক সাত মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে ছয় মাস মাঠপর্যায়ে কাজ এবং এক মাস চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য রাখা হয়েছে। কর্মসূচিতে মূলত তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই তিনটি খাত হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও জীবিকা।

    কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করা হবে।

    এইচএসবিসি জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল মেরামত ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ল্যাট্রিন মেরামত ও স্থাপন ও ৩০টি টিউবওয়েল সংস্কার করা হবে।

    এ ছাড়া জীবিকা পুনর্গঠনে ৩০০টি অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬০০ কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের দায়িত্ব শুধু ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যাংক কাজ করে, ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নেও ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে বাসস্থান, জীবিকা ও জরুরি সেবায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

    ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠন জরুরি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

    কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য আছে, এমন পরিবার ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকেও সহায়তার আওতায় আনা হবে।

    এইচএসবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়ানো ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

  • দামুড়হুদার ডিসি ইকোপার্কের মধ্যে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

    দামুড়হুদার ডিসি ইকোপার্কের মধ্যে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা শিবনগর গ্রামে ডিসি ইকোপার্কের ভেতর খেলার মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন ও ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ সংগঠন।

    মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা অন্যতম নিদর্শন ও ঐতিহ্য শিবনগর ডিসি ইকোপার্ক। পার্কের ভেতর খেলার মাঠ স্থাপন করার জন্য কিছু মানুষ চেষ্টা করছেন। কিন্তু পার্কে বর্তমানে অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী আছে। অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন মানসিক প্রশান্তির জন্য। যদি এখানে খেলার মাঠ হয় তবে এখানকার জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

    আমরা কেউ খেলার বিপক্ষে নয়। তরুণ ও যুবকদের জন্য খেলার বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না, কিন্তু জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে খেলার মাঠ স্থাপন ঠিক নয়। খেলার মাঠটি বিকল্প স্থানে হওয়া দরকার।

    স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবো। সেই সাথে খেলার জন্যও ব্যবস্থা করবো। ইকোপার্কের মধ্যে কোনো অবস্থায় খেলার মাঠ স্থাপন করতে দিবো না। অন্যত্র খেলার মাঠ স্থাপন করার জন্য কাজ করছি।’

    এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, চুয়াডাঙ্গা বড় সলুয়া নিউ ডিগ্রী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবিব শিপলু, মোফাজ্জল হোসেন, সাকিল আহমেদ, রুহিন আলীসহ সংগঠনের সদস্যরা ও সুশীল ব্যক্তিবর্গ।

  • আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান গিলানির

    আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান গিলানির

    আন্তর্জাতিক আইন সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী আইন ও নীতি নির্ধারণে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে দ্বিতীয় আন্তঃসংসদীয় স্পিকার্স সম্মেলনে (আইএসসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় গিলানি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শান্তি বেছে বেছে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বিশ্বের কোনো একটি স্থানে শান্তির জন্য হুমকি তৈরি হলে তা সর্বত্র শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

    গিলানি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সব রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিয়মকানুন তৈরিতে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সংসদকে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ন্যায্য আন্তর্জাতিক নীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

    শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি কূটনীতি ও সংলাপকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গিলানি বলেন, পাকিস্তান নিজে সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তাই সংঘাতের মূল্য সম্পর্কে পাকিস্তান ভালোভাবেই জানে এবং দেশটি শান্তির পথ বেছে নিয়েছে।

    আন্তঃসংসদীয় স্পিকার্স সম্মেলনকে আরও কার্যকর করার প্রস্তাবও দেন গিলানি। তিনি আইএসসিকে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, তথ্য অনুসন্ধান মিশন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব করেন।

    সম্মেলনের ফাঁকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে বৈঠক করেন গিলানি। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গিলানি পাকিস্তান সফরের জন্য কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

    পরে কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন গিলানি। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদীয় নেতারা নমপেনে শান্তি, সংলাপ ও সহযোগিতার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছেন।

  • কেঁচো সারে স্বাবলম্বী কুষ্টিয়ার শত নারী

    কেঁচো সারে স্বাবলম্বী কুষ্টিয়ার শত নারী

    কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া গ্রামের শতাধিক নারী বাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে আয় করছেন। নিজেদের জমি ও বাড়ির আঙিনায় উৎপাদিত সবজিতে এই সার ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়তি সার বিক্রি করছেন তাঁরা। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় একজনের হাত ধরে শুরু হওয়া উদ্যোগটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের শতাধিক নারীর মধ্যে।

    কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ধরে জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিত্তিপাড়া বাজার। সেখান থেকে পূর্ব দিকে আধা কিলোমিটার গেলেই বিত্তিপাড়া গ্রাম। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় সারি করে রাখা সিমেন্টের চাকে তৈরি হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। গোবর, সবজির উচ্ছিষ্ট ও কলাগাছের বাকল ব্যবহার করে তৈরি এ সার নিজেদের ফসল উৎপাদনে ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রি করছেন নারীরা।
    বিত্তিপাড়া গ্রামে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন গৃহবধূ জাহানারা খাতুন। ২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় দুটি সিমেন্টের চাক বসিয়ে তিনি গোবর ও কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরি শুরু করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতাও নেন তিনি।

    এখন তাঁর বাড়ির পেছনের টিনশেডে ৪০টি এবং বাড়ির সামনে আরও ১০টি চাক রয়েছে। নিজের গরুর গোবরের পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে গোবর সংগ্রহ করেন। এর সঙ্গে সবজির উচ্ছিষ্ট ও কলাগাছের বাকল মিশিয়ে তৈরি করেন সার।
    জাহানারা খাতুন বলেন, ‘কেঁচো সারেই আমাদের জীবন বদলে গেছে। কয়েক বছর আগেও বাড়িতে ছাপড়া ছিল। সেখানে দালান তুলেছি। গরু-ছাগল পালছি। সামান্য জমি আছে। সেখানে যা ধান হয়, তা দিয়ে আমাদের চলে যায়। তা ছাড়া বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি ফলাই। সরকারি নানা সহযোগিতা পেয়ে এতদূর এসেছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের অনেক নারী এখন জৈব সার তৈরি করছেন। তারাও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।’
    জাহানারা খাতুন জানান, প্রতিটি সিমেন্টের চাক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে কেনা হয়। এতে গোবর, সবজির উচ্ছিষ্ট ও কলাগাছের বাকল দেওয়ার পর কেঁচো ছাড়া হয়। ২০ থেকে ২৫ দিন চাক ঢেকে রাখার পর তৈরি হয় জৈব সার। এ সময় মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়।

    প্রতিটি চাক থেকে প্রায় ৩০ কেজি সার পাওয়া যায়। বর্তমানে মাসে প্রায় ৪০ মণ সার উৎপাদন করছেন জাহানারা। প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করলে মাসে প্রায় ২৪ হাজার টাকার সার উৎপাদন হয়। এর মধ্যে দুই থেকে তিন মণ নিজেদের জমিতে ব্যবহার করেন। বাকিটা বিক্রি করেন।
    বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁর বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে যান।
    বিত্তিপাড়া গ্রামের নারীরা শুধু সার বিক্রি করছেন না, নিজেদের উৎপাদিত সার দিয়ে বাড়ির আঙিনা ও কৃষিজমিতে সবজি চাষও করছেন।
    রিনা পারভীন ও নিলুফা ইয়াসমীন বলেন, ‘বিত্তিপাড়া গ্রামে সবজি ও অন্যান্য ফসলের আবাদ হয়। জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন নারীরা। প্রথমত নিজেদের ফসলের জমিতে এই সার ব্যবহার করা হয়। বাড়তি সার বিক্রি করে কিছু টাকা আয় হয়। সংসারের কাজে লাগে।’

    মনিরা খাতুন বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা আগের তুলনায় কম রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। জৈব সার দিয়ে বাড়ির আঙিনায় মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি ধান, ভুট্টা ও শসার ক্ষেতেও এই সার ব্যবহার করা হচ্ছে।
    উদ্যোক্তা নারীরা জানান, জৈব সার বিক্রির অর্থ দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া, স্কুলের পোশাকসহ পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাচ্ছেন তাঁরা। সার তৈরিতে স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ ব্যবহার হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম।

    বিত্তিপাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘পুরুষেরা অনেক সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। কিন্তু নারীরা বাড়িতে থেকে নানা কাজ করেন। তাই জৈব সার উৎপাদনের জন্য নারীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে সুবিধা পাওয়ায় নারীরা এখন নিজেরাই জৈব সার উৎপাদন করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এখন তারা এই সারের উপকারিতা বিষয়ে সচেতন।’
    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুন বলেন, ‘আমি একজন নারী। এতে নারীদের সঙ্গে মিশতে সহজ হয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে আমি ও আমার টিমের সদস্যরা নারীদের কী প্রয়োজন, সেটা জেনে মেটানোর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই গ্রামে একজন থেকে শুরু করে এখন শতাধিক নারী জৈব সার উৎপাদন করছেন। এটাই আমাদের জন্য বড় সাফল্য।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রণোদনা ও সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। প্রায় প্রতি বাড়িতে বস্তায় সবজি উৎপাদনের জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বস্তা ও বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলের গাছ বিতরণ করা হচ্ছে। নারীরা যাতে জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারেন এবং এই সার বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারেন, সে জন্য আমাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
    জাহানারা খাতুনের শুরু করা উদ্যোগ এখন বিত্তিপাড়া গ্রামের শতাধিক নারীর বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছে। নিজেদের ফসল উৎপাদনে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সার বিক্রি করে সংসারে অর্থ যোগ করছেন তাঁরা। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

  • সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    সাংবাদিক ওসমানের উপর সন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা।

    মহেশপুর ( ঝিনাইদাহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহ মহেশপুরে সস্তার হাইস্কুল মাঠে বিকাল পাঁচটার দিকে মহেশপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।

    স্থানীয় সূত্রে, জানা গেছে সস্তার হাইস্কুল মাঠে হুদো গ্রাম এবং শিবানন্দপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে নাটিমা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের উপর হুদো গ্রামের ছেলেরা আক্রমণ করে।
    সাংবাদিক শামীম ওসমান তখন রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তার মুঠোফোনে মারামারির এই দৃশ্যটি ধারণ করার জন্য ভিডিও করা শুরু করেন। এই বিষয়টি স্থানীয় হুদো গ্রামের ছাত্রদলের আনোয়ার ও তার সাথে থাকা ছেলেরা দেখে ফেলে। এবং সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ারের নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ, বিল্লাল ,সাব্বির সহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ অতর্কিত হামলা করে বসে সাংবাদিক ওসমানের উপর। শামীম ওসমান সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা বলে ,তোর সাংবাদিকতা ছুটাচ্ছি।এ সময় তারা তাদের হাতে থাকা হকিস্টিক, কালো কালারের পাইপ, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে এবং সামনে দিক থেকে সাংবাদিক শামীম ওসমানের উপর উপর্যুপরি হামলা করে। শামীম ওসমান রাস্তার উপর পড়ে যান ।আবার ওঠার চেষ্টা করে চলে যায়, তাকে আবার ধরে ফেলে এবং অমানবিক নির্যাতন করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সাংবাদিক শামীম ওসমানকে স্থানীয় জনগণ উদ্ধার করে মহেশপুর হসপিটালে নিয়ে আসে।
    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে সাংবাদিক শামীম ওসমানের মাথায় সাতটা সেলাই দেওয়া লাগছে। এবং তার দুই পা ও হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে যখম করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ সাংবাদিক সমাজ চরম উদ্বিগ্ন ,সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    এ,আরো

  • চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

    নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’

    চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

    এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

  • কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    কিশোরগঞ্জে জামায়াতের উদ্যোগে সিরাত কনফারেন্স

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে সিরাত কনফারেন্স আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কিশোরগঞ্জ শহর জামায়াতের উদ্যোগে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক মো: রমজান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: নাজমুল ইসলাম।

    আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাওলানা ড. ফয়জুল হক, মুফতি আহমদ শরীফ বিন আসাদ ও করিমগঞ্জ সোবহানিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী রিয়াদী।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কিশোরগঞ্জ শহর শাখার আমির মাওলানা আ ম ম আব্দুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি আবু নাছের মো: নয়িম।দ

    অনুষ্ঠানে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, মহানবীর আদর্শ আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে অনুসরণের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

    কনফারেন্সে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাতে খুলতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

    রাতে খুলতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

    কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় উজান ও ভাটি অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণে আজ শনিবার রাত ১০টা থেকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

    কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) রেকর্ড করা হয়েছে। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হ্রদের পানির সমতল বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার রাত ১০টা থেকে গেটগুলো ৬ ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

    কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ে খোলার সময় এবং পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

  • বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইব্রাহিম শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ইব্রাহিম উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়ারী গ্রামের মাঠের মধ্যে থাকা একটি সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সেচপাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘সকালে ভাতিজি তাল কুড়াতে গিয়ে মাঠের ধানখেতের মধ্যে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিমের হাতে বিদ্যুতের তার পেঁচানো ছিল এবং কোমরে একটি কাটিং প্লাস গোঁজা ছিল।’

    তার দাবি, সেচপাম্পের মোটর ও বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

    বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

    মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ওরফে আশাদুল (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত শাহাবুদ্দিন মরহুম ওহাব মন্ডলের ছেলে।

    পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মারুফ রহমান।

  • ডিসির গাছের চারা বিতরণ

    ডিসির গাছের চারা বিতরণ

    নেত্রকোনার মদনে সরকার ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতেই শিক্ষার্থীদের মাঝে এই চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।

  • কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার এক দিন পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন নিহতের মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

    মোজাম্মেল উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মরহুম নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মজিদের মেয়ে শাহানারার সাথে ১৭ বছর আগে বিয়ে হয় মোজাম্মেলের। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ও শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতেন।

    যৌতুকের টাকা না পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে শ্বশুর মজিদের মাথায় আঘাত করে মোজাম্মেল। এতে মজিদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো: লিটন মোড়ল মোজাম্মেলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। শনিবার সকালে মোজাম্মেল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাকির হোসেন মোজাম্মেলের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাতেই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    উল্লেখ, শুক্রবার কলা নিয়ে উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে যাওয়ার সময় ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে শ্বশুর মজিদকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল। নিহত মজিদ জামালপুর এলাকার মধ্যপাড়ার মরহুম আলকু মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সন্দেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহানারা (৫০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা— এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়ায় ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

    নিহত জাহানারা চুয়াডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ার মো: জামাল শেখের স্ত্রী। তিনি গত আট মাস ধরে স্বামীসহ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার রেলপাড়া এলাকায় মো: তৌফিকুল ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নিজ বসতঘরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জাহানারার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

    নিহতের স্বামী জামাল শেখ দাবি করেন, জাহানারা দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলি, লিভার ও পাকস্থলীসহ নানা জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ইতোপূর্বে তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারও করা হয়। দীর্ঘদিনের শারীরিক যাতনা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

    তবে নিহতের স্বজনরা মৃত্যুটিকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানাবিধ বিষয় ও পুত্রবধূর সাথে জাহানারার মনোমালিন্য চলছিল। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না— এ বিষয়ে নিহতের ভাইয়েরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, নিহত নারী দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিক কিছু মনোমালিন্যও ছিল। তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় প্রকৃত কারণ বের করতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ফুলবাড়ী, আনন্দবাস, নাজিরাকোনা ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দ মালামালের দুই কেজি ভারতীয় গাজা, ৭০ বোতল ভারতীয় মদ, ছয় হাজার পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, পাঁচ হাজার ১০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৬৯৬ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট এবং ৫৬ পিস ভারতীয় কসমেটিকস। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৯ লাখ দুই হাজার ৭৬০ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। ’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • খুলনায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

    খুলনায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কেডিএ নিউ মার্কেটে ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক জনসচেতনতামূলক সভা শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো, লি. খুলনার যৌথ আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেডিএ নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গাফফার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওজোপাডিকো লি-র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান।

    সভায় বক্তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বাসাবাড়িতে সৌর শক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

  • মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ওষুধ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চারজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

    তিনি জানান, ২৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপির সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার-৬৮/৪-এস হতে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া মাঠের একটি আমবাগানে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিবিহীন ৮৩০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৪ হাজার ৩৬০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খোসালপুর বিওপির হাবিলদার মো: আব্বাস হোসেনের নেতৃত্বে অপর এক বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৬০/৮০-আর হতে ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ পুরুষ, ১ নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৫৮-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

  • নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় অসন্তোষ

    নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় অসন্তোষ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসাইনের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের নির্ধারিত মতবিনিময় সভা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ইউএনও উপস্থিত না থাকায় অপেক্ষার পর সাংবাদিকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ইউএনও সেখানে উপস্থিত হন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টায় মতবিনিময় সভার সময় নির্ধারণ করা হয়। সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সভাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় তারা সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তারা জানতে পারেন, একই কক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টায় কৃষি বিভাগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে ৩টা ২৪ মিনিটের দিকে ইউএনও সভাকক্ষে উপস্থিত হন।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আপেল বলেন, নির্ধারিত সময়ে ইউএনও উপস্থিত না হওয়ায় সাংবাদিকরা সভা বর্জন করেন।

    তবে ইউএনও শামীম হোসাইন বলেন, “তারা সভা বর্জন করেছেন—এটা আপনাদের কাছ থেকেই জানলাম। আমার জানামতে, তারা অন্য একদিন সময় চেয়েছেন।”

  • নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সুলতান মঞ্চ চত্বরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪০০ শিশু উৎসবে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের পতাকাসহ ফুল-ফল, প্রকৃতি, গ্রামীণ পরিবেশ, সুলতানের প্রতিকৃতি, নৌকাবাইচ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় শিশুদের রঙতুলিতে উঠে আসে। এছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সৌখিন আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুক্রবার সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন-অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদ রহমান, নাজমুল হাসান লিজাসহ সুলতানপ্রেমীরা। দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

    বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ সুলতানকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

  • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

  • মানিকগঞ্জে বাসমোটরসাইকেলর সংঘর্ষে নিহত ১

    মানিকগঞ্জে বাসমোটরসাইকেলর সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো: জুবায়ের (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী মো: ইসরাফিল (১৭) আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঘিওর উপজেলার পুখরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুবায়ের মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা গ্রামের বাসিন্দা। আহত ইসরাফিল টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ষাটরাগান্দী গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের ও ইসরাফিল মোটরসাইকেল করে শিবালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুরে পুখরিয়া এলাকায় পৌঁছালে পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহনের একটি বাসের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুই আরোহী সড়কে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক জুবায়েরের মৃত্যু হয়। ইসরাফিল আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা আহত ইসরাফিলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জে পাঠান।

    বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • চাঁদপুরের পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস চট্টগ্রামের পটিয়ায় আটক

    চাঁদপুরের পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস চট্টগ্রামের পটিয়ায় আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুর সদরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসকে (৪৫) চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে সপরিবারে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার একটি দল পটিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বে পুলিশের দলটি অভিযান পরিচালনা করে।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপস) মো: লুৎফর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, পিন্টু দাসের সাথে তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের সবাইকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে। পিন্টুর বাড়ি চট্টগ্রামে এবং তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়।

    পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস গত ১০-১১ দিন ধরে সপরিবারে আত্মগোপনে ছিলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা নিয়ে হঠাৎ আত্মগোপনে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার কাছে স্বর্ণ বিক্রির টাকা পাওনা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আজও কয়েকজন তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে থানায় অভিযোগ করেছেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত শিশুদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

    ওসি একরামুল হোসাইন জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দেবীনগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কিছু শিশু। গোসলের একপর্যায়ে পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশী চালিয়ে একে এক পাঁচ শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে।

    তিনি জানান, মৃত পাঁচ শিশুই চর চাকলা এলাকার বাসিন্দা।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

  • নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলে দেশ এগিয়ে যাবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারের মেয়েরা যদি শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়, তাহলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই আমরা মা ও মেয়েদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এসব নারী ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের যদি আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আগামী দিনে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই ভালো থাকবে। মনের মধ্যে ক্রোধ না রেখে, সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তি মূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন স্তরে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে যেসব অনুদান দিচ্ছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনুদানের অর্থ দিয়ে সবজি চাষ, বাগান, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে, ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত ও চিকিৎসার খরচ বহন করা সহজ হবে। আমরা দেশের সকল পরিবারের মেয়েদের এসব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে সরকারি সহযোগিতায় প্রত্যেক পরিবারের স্বচ্ছলতা বাড়ে। একটি নারীকে স্বাবলম্বী করা মানে, পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ তৈরি ও অগ্রগামী করার বাস্তবতা স্থাপন হয়।

    ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, মন্ত্রীর পিএস ডা. জাবেদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাছুদ রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল বিতরণ করেন। এছাড়া ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, দুস্থ ১০৬ জন ব্যক্তি ও আদিবাসী ৬৪ জনসহ ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

  • সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক

    সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক

    চাঁদপুরের আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি ও ২ ছেলে তার সঙ্গে ছিলেন। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে সপরিবারে তাকে আটক করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযানটি পরিচালনা করে।

    জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, সিসিটিভিতে ট্রাকে মালামাল তোলার ফুটেজের সূত্র ধরে আমরা পিন্টু দাসকে সপরিবারে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এর আগে ২২ আগস্ট তিনি নিখোঁজ হন বলে আমরা জানতে পারি। পিন্টু দাসের সঙ্গে তার স্ত্রী রিমি ও দুই ছেলেও রয়েছেন।

    সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, দুই দিন অভিযানের পর অবশেষে সফল। মূলত ঋণের চাপেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান। আটকের পর তাকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ‘স্যার, কসম করেন’, গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী মোবারকের কথোপকথন

    ‘স্যার, কসম করেন’, গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী মোবারকের কথোপকথন

    ঘরের ফলস ছাদে অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে গলা কাটা মোবারক। দরজার বাইরে ছিল পুলিশ। ঘরে পুলিশ সদস্যরা ঢোকার চেষ্টা করতেই গুলি ছুড়তে থাকেন মোবারক। পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন তিনি। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। অভিযানের একপর্যায়ে মোবারককে প্রাণে বাঁচতে আত্মসমর্পণ করতে বলে পুলিশ। জবাবে মোবারক বলেন, ধরা দেওয়ার আগে তিনি নিজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।

    গত বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ‘সন্ত্রাসী’ মোবারককে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় মোবারকের সঙ্গে পুলিশের সদস্যদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য মোবারকের উদ্দেশে বলছেন,‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। আমরা খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।’

    তখন জবাবে মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য আবার বলেন, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। তোকে আমরা বাঁচানোর জন্য আসছি। তুই অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার এখান থেকে আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’

    গ্রেপ্তারের আগে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা মোবারকের কথোপকথন চলছে ছবি: ভিডিও থেকে

    এরপরও মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন পুলিশকে সরে যেতে বলেন।

    জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, যাব না। মোবারক, অস্ত্রটা দে। অস্ত্রটা ফেল। নিচে নাম, আগে নিচে নাম।’ একপর্যায়ে মোবারক বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’

    পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরুব্বির (ঘরে থাকা বৃদ্ধ) কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। মুরুব্বির কাছে অস্ত্রটা দে।’ পুলিশ সদস্যদের একজন তখন বলেন, ‘আমাদের কাছে কিন্তু চায়না রাইফেল, এসএমজি—সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেপ্তার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’

    জবাবে মোবারক বলেন, ‘স্যার, আমি একটু পরে বলব স্যার। একটা অনুরোধ…আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ তখন এক পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। কিছু করব না। অস্ত্র ফেলে দে। খোদার কসম, কিছু করব না আমরা। তোর কিচ্ছু হবে না।’

    জবাবে মোবারককে বলতে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য ঘরে থাকা বৃদ্ধকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুরুব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন। মুরুব্বি, অস্ত্র নিয়ে নেন।’

    মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মোবারকের সঙ্গে তাঁর তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মোবারককে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মোবারক অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের গুলি ছুড়তে থাকেন। মোবারকের ছোড়া গুলিতে তিনি নিজেসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোবারককে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ডুবন্ত শিশুকে উদ্ধারে দুই বোনের নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের

    ডুবন্ত শিশুকে উদ্ধারে দুই বোনের নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শেরপুরের নকলায় মৃগী নদীতে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার জমজ বোন সামিয়া আক্তার প্রাণে বেঁচে গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মারা যাওয়া লামিয়া আক্তার চরমধুয়া গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে। সে চরমধুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে লামিয়া ও তার জমজ বোন সামিয়া ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় তারা সিজদা (৮) নামে এক শিশুকে নদীর পানিতে ডুবে যেতে দেখে। তাকে উদ্ধারে দুই বোনই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা সিজদাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও লামিয়া পানিতে ডুবে যায়।

    পরে স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে লামিয়াকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সামিয়া আক্তারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ক্যাম্পে শনাক্ত হওয়া ৫০০ ছানি রোগীর লেন্সসহ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

    চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তিনি ক্যাম্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি রোগীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আহমেদ তাহের হামিদ আলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উল নবী সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বগুড়ার নেতৃবৃন্দের মধ্যে ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আফসারুল হাবিব রোজ, আমিনুল হক দেয়ান সজল ও ডা. ইউনুস আলী, আল-নূর চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাঈদ, আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ফ্রি ক্যাম্পিং ম্যানেজার মো. ওবায়দুজ্জামান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সুজন এবং গাবতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মজনুসহ চিকিৎসকরা।

    আয়োজকরা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ সময়মতো প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

  • রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

    রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি পাইপগানসহ চার কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল উপজেলার তারাবো পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।

    র‌্যাব-১১ জানায়, অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ওই পরিত্যক্ত ভবনে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি পাইপগান, তিন রাউন্ড গুলির খোসা ও চার কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব আরো জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলির খোসা ও গাঁজা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।