সারাদেশ

  • রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের গেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

    দুদিনের সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

    নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীরকে ঠাকুরগাঁওয়ে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার পর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।

    বিকালে তিনি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

    ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটি জেলা স্কুল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এসএসএফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারসহ বর্ণিল সাজে সেজেছে ঠাকুরগাঁও।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহিন জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা প্রশাসক রফিকুল হক জানান, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ। একই সময়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কসহ নানা কারণে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মাসে পরীক্ষা করা ২,১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। এ সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এইচআইভি সন্দেহে ৫৯৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

    চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক, যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মতো আচরণ থেকে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।

    তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য

    শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়াদুদুল তরফদার নাহিদ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সার্জারি করা রোগীদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি।

    সপ্তাহব্যাপী শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সি কয়েকজনকে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নওগাঁর নজিপুরের এক দম্পতিও ছিলেন। মাদকাসক্ত কয়েকজনের শরীরেও এইচআইভি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

    সাত বছরে ৯ মৃত্যু

    গত ২০ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এইচআইভিবিষয়ক সেমিনারে সংক্রমণের আরো তথ্য উঠে আসে।

    সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাত বছরে বগুড়ায় ৪,০৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে ১,৭৯৪ জনের। এ সময়ে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

    এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় ও বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

    সচেতনতায় গুরুত্বচিকিৎসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস বেলা ১১টার দিকে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    আহত উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে বাসটি সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছায় বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছায় আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে একটি র‍্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা চঞ্চল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবি, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক, ইতালি লিবর্ন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আফিল উদ্দিন দফাদার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, পাশাপোল ইউনিয়ন যুবনেতা জসিম উদ্দীন সরকার, পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবনেতা সুমন রেজা, পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হাকিম রেজা প্রমুখ ।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাব মোড় থেকে এক আনন্দ র‍্যালি বের হয়।

  • সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ছেলে মাহিন ইসলামকে (১০) বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবা ময়নুল হকের (৩৬) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) ইব্রাহিম আলী।

    নিহত ময়নুল হক বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিনের মতো ময়নুল ও তার ছেলে মাহিন তেলিয়ান বিলে পেলি জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার পর গোসলের একপর্যায়ে ময়নুলের ছেলে মাহিন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে বাবা ময়নুল চেষ্টা করলে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

    খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টার পরে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করি।

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ, আটক ২

    বিডি গ্লোবালা ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি। এ সময় দু’জনকে আটক করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, লাফার্জ, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, তামাবিল, লবিয়া, কালাইরাগ, সোনারহাট ও সংগ্রাম বিওপি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু-ছাগল, জিরা, প্রসাধনী সামগ্রী, সানগ্লাস, চকলেট, আতশবাজি, ফুচকা, বিভিন্ন ফল, বিড়ি, চিপস, কিসমিস, জুস, মোবাইলফোন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় রসুন ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বারকী নৌকাও জব্দ করা হয়। একইসাথে এ সময় দু’জন আসামিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬০ টাকা।

    শনিবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য ও দুই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটক আসামি ও পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

  • কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ

    কুষ্টিয়ায় সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবিতে আখ চাষি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড আখ চাষি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম হোসেন মালিথার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখ চাষি, শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে এই মিলটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের বেকারত্ব ও আখ চাষিদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুকরণ এখন সময়ের দাবি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সকল বন্ধ মিল কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। পুনরায় মিলটি চালু করে নির্ধারিত মূল্যে সঠিক উপায়ে চিনিসহ চিনিকেন্দ্রিক অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বর্তমান সরকার সৃষ্টি করতে পারলে কুষ্টিয়া সুগার মিল একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমি এই সুগার মিল পুনরায় চালুকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাজাহান আলী, পোড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আখ চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও কামরুজ্জামান মিথুন।

  • মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    মহেশপুরে জামাইয়ের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভাগ্নিজামাই লুৎফরের লাঠির আঘাতে মামাশ্বশুর রবিউল ইসলাম (৫২) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মরহুম আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে।

    পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রবিউলের ছেলে ও তার আত্মীয় লুৎফরের ছেলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জের ধরে লুৎফর ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউলের ছেলেকে মারধর করার জন্য হাতে লাঠি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

    একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম সামনে এসে বাধা দিলে লুৎফর তাকে লক্ষ্য করে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আঘাত করার পরপরই অভিযুক্ত লুৎফর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর পলাতক রয়েছেন।

    মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আজাদ রহমান জানান, শিশুদের খেলাধুলার সামান্য বিবাদ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লুৎফর আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    নৌকা বাইচ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে করতোয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই আদেশ জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

    উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সমঝোতা হলে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭-৯ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

    জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, কালীগঞ্জ নৌকা ঘাটে আমরা ৪-৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছ। পাল্টা পাল্টি অভিযোগের কারণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

  • শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    শৈলকূপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর, আহত ১২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে দোকানপাটসহ ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। শনিবার সকালে বগুড়া ইউনিয়নের দলিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম খান দিপু এবং বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দলিলপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

  • মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচ থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের লাখাইয়ে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে তল্লাশি চালিয়ে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ৪৫০ গ্রাম গাঁজাসহ সালেহা বেগম ওরফে আবুনী (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার সালেহা বেগম উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক সাহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সালেহা বেগমের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহজনক মনে হলে ঘরের ভেতর মুরগির খোঁয়াড়ের মাটি খুঁড়ে একটি ডিব্বা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিব্বাটি খুলে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ১২২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ৪৫০ গ্রাম।

    ঘটনার বিষয়ে এসআই মানিক সাহা জানান, প্রত্যক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সালেহা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

    এদিকে বসতবাড়ির মুরগির খোঁয়াড়ের মাটির নিচে কৌশলে মাদক লুকিয়ে রাখার এই অভিনব ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটি খুঁড়ে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে।

    লাখাই থানার ওসি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদক সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

  • তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    তালতলীতে সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার শিক্ষার্থীদের

    বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

    সম্প্রতি তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়ইতলীসহ আশেপাশের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, আমেনা আক্তার বলেন,দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরিভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

  • বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাহস ও দেশের জন্য আত্মনিবেদনের অনুপ্রেরণা জোগায়।

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। এ উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির কাছে অবস্থিত তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    কর্মসূচির শুরুতে বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা এবং শত্রুর মোকাবিলায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

    প্রতি বছর তাঁর শাহাদতবার্ষিকীতে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করা হয়।

  • সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    সারের দাবিতে শৈলকূপায় কৃষকদের সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডস্কে,

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রাসায়নিক সারের দাবিতে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় কৃষকরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা সার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার ‘মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ’-এ যান।

    এ সময় ডিলারের লোকজন সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়াগঞ্জ-শৈলকূপা সংযোগ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ করেন।

    প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গন্তব্যমুখী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার সরবরাহের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সার নিয়ে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পরে কৃষকরা সার পেয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

  • কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    কবরস্থান থেকে পীরের মরদেহ তুলে দরবারে দাফনের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত দরবার প্রধান আবদুর রহমান ওরফে ‘পীর’ শামীমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার নিজস্ব দরবার শরিফে পুনরায় দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

    নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার একটি স্থানীয় কবরস্থানে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় তার ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নতুন করে কবর তৈরি করে তা দাফন করা হয়।

    নিহত দরবার প্রধানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কবর স্থানান্তরের আলামত মিলেছে। দরবারের নতুন কবরে কঙ্কালসদৃশ অবশেষ দেখা গেছে। তবে সেটি শামীমেরই মরদেহ কি না, তা আইনগত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং প্রাপ্ত নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, দরবার চত্বরে একটি কবর খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো কঙ্কাল দাফন করা হয়েছে। কঙ্কালটি শামীমের কি না, তা আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ঘটনাটি সত্য হলে মরদেহ আগের কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

  • ফুল নয়, বাজারে এখন শাপলা সবজি

    ফুল নয়, বাজারে এখন শাপলা সবজি

    বর্ষা এলেই খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানিতে ফুটে ওঠে শাপলা। বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির চিরচেনা এই ফুল এখন শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি সবজি হিসেবেও। বাজারে আঁটি বাঁধা তাজা শাপলা কিনছেন ক্রেতারা। প্রতি আঁটি শাপলা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, সালথা, মধুখালীসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ভোর থেকেই অন্যান্য সবজির পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে শাপলার পসরা। জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার বিক্রেতারা।

    বিক্রেতাদের জন্য বর্ষাকালের এই শাপলা বাড়তি আয়ের একটি সহজ মাধ্যম। অন্যদিকে স্থানীয়দের অনেকের কাছে এটি মৌসুমি ও পরিচিত খাবার। শাপলা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তরকারি রান্নার পাশাপাশি মাছের সঙ্গেও রান্না করা হয়।

    গোপালগঞ্জ থেকে শাপলা নিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন নুরুল আলম। তিনি বলেন, “বর্ষার সময় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন জলাশয়, বিল ও ঝিল থেকে শাপলা তুলে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসি। প্রতি আঁটি ১০ টাকা করে বিক্রি করি। মানুষ শাপলা কিনে রান্না করে খায়। বিক্রি করে আমাদেরও কিছু আয় হয়।”

    শাপলার ক্রেতা সন্দীপন চক্রবর্ত্তী বলেন, “শাপলা আমাদের গ্রামবাংলার পরিচিত খাবার। শাপলা দিয়ে তরকারি রান্না করা যায়, মাছের সঙ্গেও রান্না করা যায়। বাজারে তাজা শাপলা দেখলে কিনতে ইচ্ছে করে। দামও তুলনামূলক কম।”

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্তী বলেন, “শাপলা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা একটি ফুল। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বর্ষাকালে খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে ভরে গেলে সেখানে প্রচুর শাপলা ফুটত। তখন শাপলা শুধু ফুল হিসেবে নয়, সবজি হিসেবেও মানুষের খাবারের অংশ ছিল। এখন বাজারে শাপলা বিক্রি হতে দেখে পুরোনো সেই গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা মনে পড়ে।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্ষাকালে জলাশয়ে জন্ম নেওয়া শাপলা সহজেই সংগ্রহ করা যায়। ফলে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ বাড়তি খরচ ছাড়াই শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এতে একদিকে ক্রেতারা স্বল্পমূল্যে মৌসুমি সবজি পান, অন্যদিকে বিক্রেতাদেরও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।”

  • বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পাখির কিচিরমিচির কলতানে এক সময় গ্রাম বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই গ্রামের বাগানগুলোতে পাখির কলতানে মুখরিত হতো। দেশের গ্রাম বাংলায় শ্যামল প্রকৃতিতে হরেক রকম পাখির উপস্থিতি আরো মনোরম করে তুলতো বৃহত্তর কুষ্টিয়ার গ্রাম বাংলাকে। স্থায়ী বসবাসকারী পাখি আর মৌসুমী অতিথি ২২১ প্রজাতির পাখি যোগ হয় পাখিদের কাঁতারে। এদের মধ্যে যেসব পাখির নাম আমরা সর্বাধিক শুনেছি এবং দেখেছি গ্রাম বাংলায় অবাধ বিচরণ করতে।

    তাদের মধ্যে দোয়েল, শ্যামা, ময়না, টিয়া, শালিক, কোকিল, পেঁচা, চড়ুই, মাছরাঙা, ঘুঘু, পাপিয়া, ময়ুর, সারস, ডাহুক, চিল, ঈগল, শকুন, পানকৌড়ি, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, চাতক, বাবুই, বক, বউ কথা কও, হলুদিয়া, কানা কুকো, টুনটুনি, ফিঙে, পায়রাসহ নানা প্রজাতির পাখি।

    বর্তমানে অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ কারণে। এর মধ্যে মানুষের সৃষ্ট কারণসমূহই প্রধান। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বনাঞ্চল। পাখিরা হারাচ্ছে তাদের আবাসস্থল। নদী পৃষ্ঠের লবণাক্ততা ও কীটনাশকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পাখির খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নদী অঞ্চলে লবণাক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

    অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে পাখি তার প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে, অপরদিকে বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। মানিকজোর, সবুজ ঘুঘু, হারগিলা, শঙ্খচিল, ভুবনচিল, মদনটাক, ময়ূর, ঈগল, শকুন, বক,বাদুর বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

    এ দেশে শকুনের যেকটি প্রজাতি আছে, তার মধ্যে বাংলা শকুন ছাড়া বাকি সব জাতের শকুন হারিয়ে গেছে। শকুনের খাবার ও আবাসস্থল নেই। যার ফলে বাংলা শুকুন হারিয়ে যাচ্ছে। শকুনরা সাধারণত পুরোনো বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। পুরোনো বড় বড় গাছ নিধন করে ফেলায় পরিবেশের বন্ধু শকুন হারিয়ে গেছে।

    দেশে ৪৩ প্রজাতির চিল, বাজ, ঈগল ও শকুন পাখি দেখা যেতো। এরা খাবার হিসাবে ইঁদুর, মাছ, ব্যাঙ, ছোট সাপ, পোকামাকড় পছন্দ করে। নদী-নালা ও জলাশয়ের পাশের বড় গাছে বসবাস করত এরা। নদী-নালা ও জলাশয়ের দূষণের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের শঙ্খচিল।

    বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় যত ধরনের ঘুঘু দেখা যায়, তার মধ্যে সবুজ ঘুঘু সবচেয়ে সুন্দর। ছায়াঘেরা বনের নির্জনে খুব সকালে ও শেষ বিকেলে এরা খাবার খুঁজে বেড়াতো যা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বাকি সময় বৃক্ষের ডালে বসে সময় কাটাতো। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনে এখন ঘুঘুর বিচরণ চোখে পড়ে না । গ্রামীণ জনপদে ঘুঘু দেখা গেলেও সবুজ ঘুঘুর দেখা মেলে না। যাও দেখা যায় শিকারীদের কারণে তা মারা পড়ছে প্রতিদিনই।

    বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনে বাংলাদেশে পাখি শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করেও পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

    পাখি শিকারী আইন থাকলেও এর নেই কোন প্রয়োগ ফলে পাখি শিকারীরা নির্বিঘ্নে পাখি শিকার করে চলেছে। সংশি¬ষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় পাখি শিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারীরা ইয়ারগান দিয়ে জেলার হাওড় বাওড় খাল বিলে অবস্থানরত অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন পাখি নির্বিঘ্নে মেরে ফেলছে। জেলার নদ-নদী ও বন জঙ্গলে অতিথি পাখির যখন আগমন হতে শুরু করে ঠিক সেই সময়ই পাখি শিকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিনই বিভিন্নভাবে পাখি ধরে জেলার বাবর আলী গেটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে বহু প্রজাতির পাখি। পাখি শিকারী বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কুষ্টিয়ার পাখিপ্রেমীসহ জেলার সুশীল সমাজ।

  • কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে ২দিন ব্যাপী জামায়াতের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া শরীয়াতুল্লাহ এতিমখানায় মরহুম আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে এ শিক্ষা শিবির শুরু হয়।

    দুদিন ব্যাপী শিক্ষা শিবির উদ্বোধন করেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে এম আলী মুহসীন।

    অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর প্রফেসর ড. আকতার হোসাইন।

    জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আত্মগঠন ও মান উন্নয়নের উপর বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতি সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে সহীহ তালিমুল কোরআন ক্লাস গ্রহণ করেন তালিমুল কোরআন বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেল ওস্তাদ ড. শহিদুল ইসলাম বারী, সকল জামায়াত কর্মীই আদর্শ সমাজ কর্মী বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, দারসুল হাদিস পেশ করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ও ভাষা সাহিত্যে বিভাগের প্রফেসর ড. একে এম মফিজুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে অতিথি রয়েছেন ঢাকা বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব পিএইচডি গবেষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষা শিবিরে প্রায় ২শত কর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

  • বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে চুরি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ১ নম্বর পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভোরে মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাসিদুল দাঁত ব্রাশ করতে বের হয়ে এবং একই সময়ে এক নারী দানবাক্সে ১০০ টাকা দিতে এসে তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিনকে জানান।

    খবর পেয়ে কমিটির ক্যাশিয়ার ঘটনাস্থলে এসে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দানবাক্সের কাছে আসে। মাত্র ৭ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে তারা দানবাক্সের তালা ভেঙে ব্যাগে টাকা ভরে নিয়ে চলে যায়। তবে মুখে কাপড় থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিন বলেন, “আমি পাশের মাদ্রাসায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছিলাম। ফোন পেয়ে এসে দেখি দানবাক্সের তালা ভাঙা এবং ভেতরের সব টাকা নিয়ে গেছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর তিন মাস ধরে দানবাক্সটি খোলা হয়নি। এর আগে তিন মাস পর একবার দানবাক্স খুলে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। চোরদের শনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কেউ তথ্য দিয়ে চোর শনাক্তে সহায়তা করলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে।

    মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান দুলাল বলেন, মসজিদে বিভিন্ন দান-অনুদান আসে। প্রতি শুক্রবারও মুসল্লিরা দান করেন। এসব অর্থ দানবাক্সে জমা রাখা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে দুই ব্যক্তি দানবাক্সের কাছে এসে তালা ভাঙে এবং ভোর ৪টা ৫ মিনিটে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে চলে যায়। মুখে কাপড় থাকায় তাদের চেহারা শনাক্ত করা যায়নি।

    বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

  • সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান অবস্থায় চালককে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার শিকার চালকের নাম শহীদুল ইসলাম (৫০)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মরহুম তসির উদ্দিনের ছেলে।

    শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার স্বামী আর বাড়ি ফেরেন নাই। শনিবার সকালে জানতে পারি, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর অটোরিকশা অজ্ঞান পার্টি নিয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ দিনে সৈয়দপুর শহরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা হারিয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ও ভ্যান, মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দু’জন যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

    লাগাতার এ ধরনের অপরাধ সঙ্ঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন মহলের মন্তব্য সৈয়দপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একেবারে নির্বিকার এবং তাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো সার্বিক অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

  • তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভোলার তজুমদ্দিনে বজ্রপাতে নজরুল ইসলাম মনজু (৫৩) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনার বুকে জেগে উঠা বাসন চরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম বদিউজ্জামানের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কৃষক মনজু নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

    পরে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, বজ্রপাতে কৃষক নজরুল ইসলাম মনজু নিহত হওয়ার ঘটনায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ চর ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করায় কৃষকরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা বজ্রপাতের সময় কৃষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এবং বজ্রপাত সহনশীল তাল গাছে লাগানোর দাবি জানান।

  • আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    আনোয়ারায় মাদক সেবনে দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বটতলী নতুন গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আকতার কবির (৩৬) ও হান্নান (২২)।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে আকতার ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড ও ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনার কয়রায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মো: খালিদ হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবরা গ্রামের মো: তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সানজিদা খাতুনের সাথে খালিদের বিয়ে হয়েছিল।

    নিহত খালিদ হাসান কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা গ্রামের মো: আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খালিদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিদের স্ত্রী টয়লেট থেকে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তিনি স্বামী খালিদকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে কয়রা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রাশেদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে।

  • সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    সাতক্ষীরায় জনদুর্ভোগ কমাতে জামায়াতের যুব বিভাগের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটির দুই পাশে সাময়িক সংস্কারকাজ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগের সদস্যরা।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এ সংস্কারকাজে অংশ নেন। তাঁরা ব্রিজের দুই পাশে জমে থাকা কাদা সরিয়ে ইট বিছিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পথচারীদেরও হেঁটে চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তাঁরা।

    রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমাতে নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। এলাকাটি কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুব বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    এলাকাবাসী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশের সড়ক দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

    চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।

    আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।

    মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।

    পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’

  • মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশ গড়তে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে দেশ গড়তে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    মেধা, সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীর ফরিদ।

    তিনি বলেন, শুধু মেধা দিয়ে জীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সঙ্গে নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

    শুক্রবার সকালে যশোরের চৌগাছা পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের হলরুমে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চৌগাছা উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    ডা. ফরিদ বলেন, ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    আয়োজকরা জানান, চলতি বছর চৌগাছা উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন এবং কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ প্রাপ্ত ১২০ জন শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

  • যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তির পাঁয়তারা করতে চায় তাদেরকে বয়কট করবো বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কেউ কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই। ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তির রেখা, রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ধর্ম রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা লাভের মাধ্যম হতে পারে না। ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তি করতে চাইবে, অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, তিনি যে রাজনৈতিক দলের নেতা হোক না কেন, বা যে ধর্মের বিশ্বাসী হোক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ করবো। এ ক্ষেত্রে সরকার রাষ্ট্র তো থাকবেই; সামাজিকভাবেও বয়কট করবো।’

    ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে কেউ বঞ্চিত হবে না এটি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিছক একটি বিশ্বাস, একটি চেতনা। এই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চিত করছে- কোনো ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজের কোনো মানুষ পিছিয়ে পড়বে না, ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধা নিতে না পারে; কেউ যেন বঞ্চিত না হতে পারে সেটিও নিশ্চিত করছে বর্তমান সরকার। এই বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে বা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারলে- যেই আশায় আমরা বুঁক বেধেছি ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর সেই আশা নিশ্চয়ই দুরাশায় পরিণত হবে না।’

    জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ প্রমুখ।

    বক্তব্য শেষে অতিথিরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। পরে টাউন হল ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের দড়াটানা, গাড়িখানা হয়ে টাউন হল ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

    এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে দিনভর উৎসবমুখর বিরাজ করছে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভিতর। বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে চলছে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও আলোচনা সভা।

    এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এ উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করবে।

  • অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    অভয়নগরে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কা, ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজাদ গাজী (৬৫) ও একই গ্রামের মালেক সরদারের স্ত্রী আসিরন বিবি (৬৫)। সম্পর্কে তারা ফুফু-ভাতিজা।

    হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আমজাদ গাজী তার ফুফু আসিরন বিবিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সকাল সোয়া ১১টার দিকে তারা চেঙ্গুটিয়া এলাকায় মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে পৌঁছান। সেখানে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকটি ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল।

    মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সারির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন আমজাদ গাজী ও আসিরন বিবি।

    স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ফেরদৌস শান্ত বলেন, দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। কিছুক্ষণ পর অন্যজনও মারা যান।

    নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, দ্রুতগতির গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • শ্রদ্ধা-সম্প্রীতিতে গড়ে উঠুক বাংলাদেশ; ডা. ফরিদ এমপি

    শ্রদ্ধা-সম্প্রীতিতে গড়ে উঠুক বাংলাদেশ; ডা. ফরিদ এমপি

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    ‘সাম্প্রদায়িক নয়, সম্প্রীতির চৌগাছা গড়তে চাই’ বলেছেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলে উদ্দীন ফরিদ। তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়িক নয় গড়ে উঠুক সম্প্রতির বাংলাদেশ।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) যশোরের চৌগাছায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    চৌগাছা পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বেলা ১২টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. মোসলে উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।

    বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল। উপজেলা পূজা মণ্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম প্রমুখ।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    আলোচনা সভা শেষে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে ফিরে আসে।

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। এ কারণে দিনটি শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়

  • চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    চার দিন পর মিলল বৃদ্ধার মরদেহ, কোমরে বালির বস্তা বাঁধা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় হাসনা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া এলাকার জিকে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসনা খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের করিম আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে হাসনা খাতুনের শেষ কথা হয়। এরপর তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঘরে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

    আরও পড়ুন: নাইজারে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ সেনাসহ নিহত ২২

    শুক্রবার সকালে গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খালে ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটি হাসনা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।

    স্বজনদের অভিযোগ, হাসনা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    চার দিন নিখোঁজ থাকার পর কোমরে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, নিহতের ছেলে থানায় জিডি করার পরদিন আজ খালের পানি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল ও বেনাপোল চেকপোস্ট (আইসিপি) টহলদল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়।

    অভিযানে ভারতীয় ১৩৮টি শাড়ি, ৮২ গজ জিন্সের থান কাপড়, ৬৯ প্যাকেট ফুসকা, ৪ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ১৬৫টি চকলেট এবং ৪২৭টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।

    ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    কারারক্ষী ও আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা : সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জেলের বন্দীদের জামিনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো: আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো: সুরুজ (২৬)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

    গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের প্রতারণার কৌশলটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। এরপর কৌশলে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করত।

    আসামিদের তথ্য পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের কারারক্ষী ‘সাইফুল’ পরিচয় দিত। তারা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস করাত যে, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার এক আইনজীবী ‘সিরাজের’ মাধ্যমে হয়েছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা আইনজীবী পরিচয়ধারী অপর সদস্যের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে, সে অত্যন্ত নরম স্বরে কথা বলে জামিন নিশ্চিত হওয়ার ভুয়া খবর দিত এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় কম দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলত। ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে, প্রতারকরা মুহূর্তের মধ্যে টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা থেকে চম্পট দিত।

    ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় রুজু হওয়া একটি বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো: আকতার হোসেন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কারো সম্পর্কে নিশ্চিত না জেনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে বা ফোনে কারো পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রতারিত হলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে।’

  • মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি শহীদ হন।

    মীর কাসেম আলী ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা, দানবীর ও ইসলামপন্থী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রদূত। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

    বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। তবুও ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কাশিমপুর কারাগারে রায় কার্যকর করা হয়।

    তাঁর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সমর্থকগোষ্ঠী দোয়া মাহফিল, কুরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

    এ,আর

  • নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট অ্যাকাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোনো বিষধর সাপ মোন্নাফকে দংশন করে। একা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    মোন্নাফের স্কুলের শিক্ষক সুমন রায় বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। কিন্তু এভাবে তার‌ মৃত্যু হবে এটা ভাবিনি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধুরাও শোকাহত হয়ে পড়েছে।

    পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    দর্শনায় চাঁদা না দেয়ায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

    অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

    এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ২০

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও সেবাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেয়াবাগান এলাকায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে কুষ্টিয়া থেকে গড়াই পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কেয়াবাগান এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়।

    এ সময় বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্থানীয় সেবাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেন বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছে। আহত যাত্রীদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৪ থেকে ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।

    বক্তারা আরো বলেন, মুন্নির মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তাই কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক আব্দুল গনি। সমাজসেবক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নুরুল ওয়াহিদ, রাজনীতিবিদ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আহমদ রিয়াজ, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম, বড়লেখা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সমাজসেবক খালেদ আহমদ, রবিউল ইসলাম সুহেল, শাহিন আহমদ, সুরমান আহমদ ও শিপার আহমদ, সাংবাদিক হাসান শামীম ও ফয়ছল আহমদ সাগর, ছাত্রনেতা তানিম আহমদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।

    মুন্নির পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও ভাই মাছুম আহমদ।

    পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। পরে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এক মুরব্বি ফোন করে তাকে জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

    পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বিমের সাথে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

    মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তারা। একইসাথে মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

  • হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি : আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে হঠাৎ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরানের স্বপ্ন।

    বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই মনোহারি দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা-পয়সা ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাড সংলগ্ন একটি মনোহারি দোকানে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপের ব্যবসা শুরু করেন ইমরান মিয়া। ওই দোকান থেকে হোসেনপুর ও আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য সরবরাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকানটি তালাবদ্ধ করে তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। পরে গভীর রাতে এক রিকশাচালক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পেয়ে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।

    দোকান মালিক মোবাইলে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, ‘দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আমার ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো: শামসুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন হাসপাতালে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাজী বিরিয়ানি হাউজের খাবার খেয়ে গত চারদিনে শিশুসহ অন্তত ২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্রেতারা বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হন। একই দোকানের খাবার খেয়ে একাধিক পরিবারের সকল সদস্য একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গার ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান ক্রেতারা। তা খাওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অসুস্থদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন জোড়গাছা গ্রামের মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তার দুই ছেলে তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮)। রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩)। রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) ও আত্মীয় সুবর্ণা খাতুন (২১)। চিলাভালকী গ্রামের সোনিয়া খাতুন (২২), সাবিনা খাতুন (৩২), জনি (১১) ও রনি (১৫)।

    এছাড়া হাপানিয়া, গৌরীহ্রদ ও খাসকররা গ্রামের শিরিনা খাতুন (৪০), নুসরাত জাহান (১৬), পারুলা বেগম (৪২), পরিছন নেছা (৪৫), আইভি খাতুন (২৩), জিসান (৫) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশু জায়ান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো অন্তত ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি জানান, ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ও তাদের চিকিৎসা চলছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রহস্যজনকভাবে খাবার রান্না করা হতো, যেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হতো না। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বা খাদ্য নিরাপত্তার কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্স সম্বল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান।

    ঘটনার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার বিকেলে দোকানটিতে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত সব প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল সতর্কতায় সন্তুষ্ট নন; অনতিবিলম্বে লাইসেন্সহীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও খাবারের মান পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    চৌগাছায় শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনবাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ-ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, এমপি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ
    জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় চৌগাছা
    পৌরসভার হালদারপাড়ার রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ
    পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ উপলক্ষে আলোচনা
    সভা করা হয়।
    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ
    সদস্য ডা.মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
    সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে এটাই
    দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পার¯পরিক সম্প্রীতি,
    সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চৌগাছা উপজেলা শাখার
    আহ্বায়ক শ্রী গোবিন্দ কুমার রাহা। উপজেলা পূজা মন্ডপ কমিটির সাধারণ
    সম্পাদক শ্রী অভিজিৎ কুমার রায়ের পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন পূজা
    উদযাপন পরিষদ চৌগাছা উপজেলার সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল।বিশেষ অতিথির
    বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, সহকারী কমিশনার
    (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জি. এম. এ. মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ওসি
    মামুনুর রশিদ পিপিএম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ,
    সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ ও সাংবাদিক এম এ রহিম, শুভ জন্মাষ্টমী
    উদযাপন উপকমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক শ্রী ধীরেন্দ্র নাথ দে, সদস্য সচিব শ্রী
    নির্মল কুমার কুন্ডু, শ্রী রণজিত কুমার বিশ্বাস, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান
    ঐক্যপরিষদ, চৌগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শ্রী অনন্ত সরকার, বাংলাদেশ পূজা
    উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি শ্রী নিমাই কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের
    নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি র‌্যালী পৌর শহর
    প্রদক্ষিণ করে।
    জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যসনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের
    কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই এ দিনটি
    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ
    প্রার্থনা করা হয়।

  • চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    চৌগাছায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা দিলো ছাত্রশিবির

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের চৌগাছায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তোমাদের মেধা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সততা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু মেধা দিয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; মেধার সাথে নৈতিকতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এহসানুল কাদের ইমরোজ। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলফাজ হুসাইনের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ ক্যাম্পাস সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী।

    এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান প্রমুখ।

    সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্নব বিশ্বাস পাপন ও তাজরিন নাহার অর্থি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    এ বছর উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৬ জন, ২১টি মাদরাসা থেকে পাঁচজন ও কারিগরি বিভাগ থেকে তিনজনসহ মোট ১৩৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

    সিলেট সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

    আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে থাকা দলটির সিলেট মহানগর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে কেন্দ্র।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী সিলেট মহানগরীর থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করা হয়।

    একই সঙ্গে জামায়াতের দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নগরীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনি মাঠে নামার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সিলেট সিটিকে একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য মডেল নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্র থেকে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    সততা ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীক হিসেবে প্রার্থীর বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সমাবেশ থেকেই অতিসত্বর সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় সাংগঠনিক গণসংযোগ জোরদার করার প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

  • জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শাহবান আহমদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তানিশা নামে আরো এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু শাহবান আহমদ ওই গ্রামের কাশেম আলী মাস্টারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শাহবান ও তানিশা পরিবারের সবার অজান্তে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফারুক আহমদের বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক নারী তানিশাকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেন। তবে সেই সময় শাহবানকে দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানির নিচ থেকে শাহবানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    অন্যদিকে আহত তানিশাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

    গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

    বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

    মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

  • রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    রাজবাড়ীতে পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর কালুখালীতে পাটবোঝাই ভ্যানের সাথে ধাক্কায় মো: সিরাজুল শেখ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে (৩ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সিরাজুল শেখ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহমীরপুর গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শাহমীরপুর গ্রাম থেকে সাত-আটজন ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে কালুখালী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। কালুখালী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে তাদের সেখান থেকে বাসযোগে ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবারে ওরস শরীফে যাওয়ার কথা ছিল।

    পথে বেলা ১১টার দিকে কালুখালীর হরিনবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী ভ্যানটির সাথে অপর একটি পাটবোঝাই ভ্যানের ধাক্কা লাগে। এতে ভ্যানে থাকা সিরাজুল ছিটকে পড়ে যান। এ সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে ফরিদপুরেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজুলের মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) গোলাম মোস্তফা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির বাড়ি পাংশা থানায়, তাই মামলা পাংশা থানায় হবে।

  • ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    ফেনীতে অপহরণ-চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কারাগারে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর দাগনভূঞায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো: জাহিদ হোসাইনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত হোসাইন মিনার জানান, জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি।

    তিনি জানান, জামিনে গিয়ে ফটিক অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে।

  • পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    পুলিশের পিকআপ উল্টে এক কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাদারীপুরে মারামারি মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের পিকআপ উল্টে আব্দুস সালাম (৫১) নামে এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও চার পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুস সালাম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকরমশি গ্রামের আব্দুল বারেক ভূইয়ার ছেলে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে মাদারীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে মারামারি মামলার চার আসামি রজ্জব, জহিরুল ইসলাম, মিজান ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানায় নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পথে পিকআপটি মঠেরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ইমা আক্তার নামে এক শিশু হঠাৎ রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যায়।

    শিশুটিকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক পিকআপটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

    এতে পিকআপে থাকা কনস্টেবল আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক (৪৫), কনস্টেবল সোহেল মাতুব্বর (৩৫), কনস্টেবল শামীম মিয়া (৩৪), কনস্টেবল হাসান হোসেন (২৫) ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম (৩২)।

    আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর আড়াই শ’ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত চার পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

    মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, আসামি নিয়ে ফেরার পথে একটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পুলিশের এক সদস্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    ২৯ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর ও আইসিপি বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ৩০ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ছাড়া ৩৪ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, ২৫ পিস ভারতীয় চকলেট, একটি ভারতীয় কম্বল এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা এসব অবৈধ পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

    তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

    বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • যুক্তরাজ্যে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান বর্জনের আহ্বান প্রবাসী সংগঠনগুলোর

    যুক্তরাজ্যে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান বর্জনের আহ্বান প্রবাসী সংগঠনগুলোর

    ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতের যুক্তরাজ্য সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। দেশটির ২০টির বেশি ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের সংগঠন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক ব্রিটিশ প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় গ্রুপকে তার অনুষ্ঠান বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বহুত্ববাদী ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

    ধর্মীয় নিপীড়নে আরএসএসের ভূমিকার সমালোচনা করেছে তারা। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন অফিসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত ডেভিড স্মিথ এমপি এবং সংশ্লিষ্ট অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান জিম শ্যাননকে আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিন্দা এবং সংগঠনটির সদস্য ও সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

    যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ২০টিরও বেশি সংগঠন অভিযোগ করেছে, ভগবতের সফর যুক্তরাজ্যে আরএসএসের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের একটি প্রচারণার অংশ। সংগঠনগুলোর দাবি, তার সফর আরএসএস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করতে পারে এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, সামাজিক মেরুকরণ ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ বাড়াতে পারে।

    লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকেও ভাগবতের অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেটার লন্ডন অথরিটির নিয়ন্ত্রিত কোনো ভেন্যু ব্যবহার না করার এবং লন্ডনে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা মোকাবিলায় মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    এদিকে লেবার এমপি নাদিয়া হুইটমোর মোহন ভগবতের সফর নিয়ে সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পর্কে সংসদে লিখিত প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাজ্যের ‘আনঅ্যাকসেপ্টেবল বিহেভিয়ার’ নীতির আওতায় বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি জনস্বার্থ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর কি না, সরকার এ বিষয়ে মূল্যায়ন করেছে কি না—তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

    ২ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভাগবতের যুক্তরাজ্য সফরের কথা রয়েছে, যদিও তার যুক্তরাজ্য সফর সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এর আগে তার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরও বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে পড়ে।

  • নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: সুমন শেখ (৪৪) ও নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মো: হিরু হাজরা (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দু’জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম।

    নিহত সুমন শেখ উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মহর আলী শেখের ছেলে এবং মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর হিরু হাজরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের তৈয়ব আলী হাজরার ছেলে এবং ডাব-নারিকেলের ব্যবসায়ী।

    উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম শামিম হাসান জানান, নিহত সুমন শেখ মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

    নিহত সুমনের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, তিনি (সুমন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে থাকা গরুর খামারের বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রাসেল শিকদার বলেন, হিরু হাজরা পেশায় একজন ডাব-নারিকেল ব্যবসায়ী। সকালে তিনি উপজেলার ছোট বুইচাকাঠী গ্রামে তার বাড়ির কাছের একটি বাড়িতে ডাব ও নারিকেল পাড়তে যান। গাছে ওঠার পর সেই গাছ থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো: সাকিল খান বলেন, নিহত সুমন শেখ ও হিরু হাজরাকে তাদের স্বজনরা মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

  • পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে লোনা পানি অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সড়কটি দুই কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমফান প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

    ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।

    কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজনিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় দুই-তিন শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ রীতিমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।

    স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মাণাধীন সড়ক ভাঙনের কারণ হলেও এর জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এই সঙ্কট। তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু হবে।

    উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

  • চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এ বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফারজানা ইসলাম।

    সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুবিধাভোগীদের ১১ জনকে ৩ হাজার করে, ৬ জনকে ৫ হাজার করে ও ৫ জনকে ৭ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলামমোর্শেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, উপজেলা জামাতেরনায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ।

    এ সময় সভাপতি বলেন , সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থেবাইসাইকেল এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান তাদের স্বাবলম্বী হওয়ারপথকে আরও সহজ করবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলোরঅর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম দফায় মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

    প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “এই কসাইখানায় প্রথমে ইসলাম ধর্মের রীতিতে সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। পরে মাংস প্রস্তুত পর্যন্ত বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”

    কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিন এবং সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। আধুনিক মানের এই কসাইখানা চালুর মাধ্যমে একদিকে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।

    অন্যদিকে ভোক্তারা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত মাংস এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এ কসাইখানা চালু হলে শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

    প্রাণী সম্পদবিভিাগের কর্মকর্তাদের দাবী, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেখানে–সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগবালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকৃত মাংস খেতে পারবে জেলাবাসী। এছাড়া এখানে জবাই করা পশুর চামড়াও থাকবে নিখুঁত।

    অপরদিকে মেশিনে পশু জবাই করা ও হালাল মাংস প্রসঙ্গে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, একটি হালাল পশুর খাবার অনেক সময় হারাম হয়ে যায়। আল্লাহর নামে জবাই করা ব্যতিত হালাল পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। তাই আল্লাহর নামে পশু জবাই হতে হবে।

    এছাড়াও হালাল প্রাণীর অনেক কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর ৮টি অংশ খাওয়া নিষেধ। এর মধ্যে

    ১. পুরুষ লিঙ্গ, ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. মুত্রথলি, ৪. মেরুদন্ডের ভেতরের মগজ বা সাদা রগ, ৫. পিত্ত, ৬. অন্ডকোষ, ৭. চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, ৮. প্রবাহিত রক্ত। তবে এগুলোর মধ্যে প্রবাহিত রক্ত অকাট্য হারাম, বাকিগুলো মাকরুহে তাহরিমি।

    আধুনিক কসাইখানায় পশুর মাংস প্রস্তুত হোক এতে কোন সমস্যা নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করবেন এ দাবী জেলার হক্কানী উলামায়েকেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজের। এগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এ প্রত্যাশা জেলার সুশীল সমাজের।

  • বৃটেনে ফের বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিতর্ক

    বৃটেনে ফের বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিতর্ক

    রাশিয়ার সঙ্গে বৃটেনের উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে দেশটিতে আবারও বাধ্যতামূলক সেনাসেবা চালু হতে পারে এমন আশঙ্কা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা পুনরায় চালুর কোনো সিদ্ধান্ত সরকার ঘোষণা করেনি। তবে এরই মধ্যে দেশটির ১৩টি শান্তি ও ধর্মীয় সংগঠনের জোট সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করার আহ্বান জানিয়েছে।

    ‘দ্য এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবদেন বলেছে ফোর্সেসওয়াচ, পিস প্লেজ ইউনিয়ন ও বৃটেনের কোয়েকারদের মতো সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোটটি এ বিষয়ে একটি আবেদন শুরু করেছে।
    তাদের দাবি, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা চালু করা উচিত নয়।

    ফোর্সেসওয়াচের পক্ষ থেকে এমা স্যাংস্টার বলেন, বৃটেনের তরুণদের ওপর এখন বাধ্যতামূলক সেনাসেবার আশঙ্কা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। জাতীয় সেবা তরুণদের জন্য উপকারী এমন ধারণা প্রচার করা হলেও এর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি এবং যুদ্ধের নৈতিক দায় জড়িয়ে রয়েছে।

    তিনি বলেন, সামরিকীকরণনির্ভর নিরাপত্তা প্রকৃত মানবনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে- তারা এমনটা মনে করেন না। তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রের সামরিক সেবায় নিয়োজিত করারও বিরোধিতা করেন তারা।
    এদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য বৃটেনের প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা নিয়ে শান্তিকর্মীদের প্রচারণাও গতি পেয়েছে।
    বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা নিয়ে বৃটেনে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে তৎকালীন কনজারভেটিভ পার্টি ১৮ বছর বয়সীদের জন্য সামরিক বা বেসামরিক জাতীয় সেবার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল। অন্যদিকে লেবার সরকার সামরিক বাহিনীতে তরুণদের জন্য ‘গ্যাপ ইয়ার’-এর মতো সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে।
    তবে সামরিক প্রশিক্ষণে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং আইন করে নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা নেই। দেশটির সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থানও ছিল, বৃটেনে পেশাদার ও স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।
    বাধ্যতামূলক সেনাসেবা নিয়ে তরুণদের মনোভাবও বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউগভের ৩ হাজার ৪৪ জনের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের কম বয়সীদের ৩৮ শতাংশ নতুন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন।

    বৃটেনের সরাসরি আক্রমণ আসন্ন হলেও ৩০ শতাংশ সেনাসেবায় যেতে অস্বীকৃতি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
    অন্যদিকে জরিপে ৭২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বাধ্যতামূলক সেনাসেবা চালু করা হলে তা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এতে সামরিক সেবায় অংশগ্রহণের প্রশ্নে বৃটিশ সমাজে মতভেদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
    একদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    শান্তি আন্দোলনের সংগঠনগুলোর দাবি, বাধ্যতামূলক সেনাসেবা তরুণদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করবে। তাদের মতে, সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেয়া একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। কাউকে জোর করে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
    বৃটেনে বাধ্যতামূলক সেনাসেবার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬ সালে সামরিক সেবা আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা চালু করা হয়। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৯৩৯ সালে আবার ব্যাপকভাবে সেনাসেবা বাধ্যতামূলক করা হয়। দ্বিতীয় দফার এ ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ১৯৬০ সালে বিলুপ্ত হয়।

  • শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার নাদপাড়া যুব মিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি নাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাতলা গাড়ি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: কবির উদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী মেম্বার জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে আসার পথে বাঁশগ্রাম নামক স্থানে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

    এই ব্যাপারে শৈলকূপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসরত অবস্থায় মোসা: রাবেয়া খাতুন নামে নাদপাড়া স্কুলের এক শিক্ষিকা মারা গেছে বলে শুনেছি।

  • সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    সাংবাদিক কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সম্মানজনক ফিলিপস পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন।

    কাজিম রেজার বড় ভাই ও নয়া দিগন্তের সিনিয়র সাব এডিটর সৈয়দ মুসা রেজা জানিয়েছেন, আজ মাগরিবের নামাজের পর প্রেস ক্লাবে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতে রাজধানীর বাসাবোর কদমতলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হবে।

    সৈয়দ গোলাম বতুল কাজিম রেজা টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা কাজিম নুরী ও চাঁদপুরের প্রথম নারী শিক্ষিকা সৈয়দা সাইয়েদা বানু দম্পতির সন্তান। তার দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কর্মরত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন : ব্যথানাশক ওষুধ ও ইনজেকশনে ঝুঁকছে তরুণরা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ধরন ও ব্যবহারে এসেছে এক আশঙ্কাজনক পরিবর্তন।

    ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি জেলাজুড়ে এখন মারাত্মকভাবে বেড়েছে ট্যাপেন্টাডলের মতো নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের বিস্তার।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও মাদকের এ রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও, পরবর্তী এক বছরে শুধু ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪৮৫টিতে। একই সময়ে বিজিবি ১০ হাজার৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উদ্ধার অভিযান ও নজরদারির কৌশলের ওপর মাদকের পরিমাণ নির্ভর করলেও, বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ হওয়ার ঘটনাটি মাদকের নতুন এই প্রবণতাকেই সামনে আনছে।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ট্যাপেন্টাডল’ ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার শুরু করায় ২০২০ সালে সরকার এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে।

    অন্যদিকে, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে এসব ওষুধজাত নেশাদ্রব্য মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করছে। তবে এর বিস্তার এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে—সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে জেলার অভ্যন্তরে।

    মাদকের এই নতুন রূপান্তরের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। সম্প্রতি জীবননগরে এক সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

    মাদক দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, ‘কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি আত্মসমর্পণের সুযোগও দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু জানান, ‘সামারি ট্রায়াল’ বা দ্রুত বিচার চালু থাকায় অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে।’